ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2022
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن)
বিষয় কোড: 201205 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: مجموعة (الف) হতে চারটি এবং مجموعة (ب) হতে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) – ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি
١- عرف أسباب النزول- ثم بين فوائد معرفتها مع بيان الصيغ المشهورة فيها-
[১. أسباب النزول এর পরিচয় দাও। أسباب النزول সম্পর্কে জানার উপকারিতা উল্লেখপূর্বক এ বিষয়ে বর্ণিত প্রসিদ্ধ صيغة গুলোর বর্ণনা দাও।]
ক. আসবাবুন নুযূল (أسباب النزول)-এর পরিচয়:
- শাব্দিক অর্থ: ‘আসবাব’ হলো ‘সাবাব’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ কারণ বা উপলক্ষ। ‘নুযূল’ অর্থ অবতরণ করা। সুতরাং ‘আসবাবুন নুযূল’ অর্থ অবতরণের কারণ বা প্রেক্ষাপট।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা যারক্বানী (রহ.) বলেন—
ما نزلت الآية أو الآيات أيام وقوعه تحدثت عنه أو بينت حكمه أو جوابا عن سؤال
“যে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট আয়াত বা আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়ে উক্ত ঘটনার বিবরণ দিয়েছে অথবা কোনো বিধান নির্ধারণ করেছে কিংবা সাহাবী বা কাফেরদের কোনো প্রশ্নের জবাব হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, তাকে আসবাবুন নুযূল বা শানে নুযূল বলে।”
খ. আসবাবুন নুযূল জানার ফাওয়ায়েদ বা উপকারিতা:
- কুরআনের সঠিক অর্থ অনুধাবন: ইমাম ওয়াহিদী (রহ.) বলেন: আয়াতের অবতরণের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা না জেনে তার প্রকৃত ব্যাখ্যা জানা অসম্ভব।
- আয়াত থেকে ভুল ধারণা নিরসন: কোনো আয়াতের আপাত অর্থ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হলে শানে নুযূল তা দূর করে। যেমন: ‘ফা আইনামা তুওয়াল্লূ ফাসাম্মা ওয়াজহুল্লাহ’—এই আয়াতের শানে নুযূল না জানলে যে কেউ যে কোনো দিকে মুখ করে নামায পড়া বৈধ মনে করতে পারত, কিন্তু শানে নুযূল জানায় এটি ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে দিকভ্রান্ত মুসাফিরের নফল নামায সংক্রান্ত।
- শরীয়তের বিধানের অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা (হিকমত) জানা: আল্লাহ কেন এই বিধান দিলেন তার বাস্তবতা অনুধাবন করা যায়।
- আয়াত সহজে মুখস্থ ও স্মৃতিতে ধারণ: কোনো ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াত মানুষের অন্তরে গভীরভাবে দাগ কাটে।
গ. শানে নুযূল বর্ণনার প্রসিদ্ধ সীগাহ বা শব্দমালা (صيغ أسباب النزول):
- সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন সীগাহ (الصيغة الصريحة): যখন রাবী বলেন—‘সাবাবু নুযূলি হাযিহিল আয়াহ কাযা…’ (এই আয়াতের নাযিলের কারণ হলো এই…) অথবা ‘হাদ্দাছা কাযা… ফানাযালাত হাযিহিল আয়াহ’ (এমন এক ঘটনা ঘটল… অতঃপর এই আয়াত নাযিল হলো) কিংবা ‘সুঈলা রাসূলুল্লাহি ﷺ ‘আন কাযা… ফানাযালাত’। এটি অকাট্যভাবে শানে নুযূল প্রমাণ করে।
- সম্ভাব্য বা পরোক্ষ সীগাহ (الصيغة المحتملة): যখন রাবী বলেন—‘নাযালাত হাযিহিল আয়াহ ফী কাযা’ (এই আয়াত অমুক বিষয়ে নাযিল হয়েছে)। এটি কখনো শানে নুযূল হতে পারে, আবার কখনো কেবল আয়াতের হুকুম ও সাধারণ তাফসীরও হতে পারে।
٢- ما المراد بنزول القرآن على سبعة أحرف؟ وما الحكمة فيه؟ بين بالإيضاح-
[২. نزول القرآن على سبعة أحرف এর মর্মার্থ কী? এর হিকমাত বা গূঢ়রহস্য কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]
ক. ‘সাব’আতু আহরুফ’ (সাত হরফে কুরআন নাযিল)-এর মর্মার্থ:
হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “ইন্না হাযাল কুরআনা উনযিলা ‘আলা সাব’আতি আহরুফিন, ফাক্বরা’ঊ মা তায়াসসারা মিনহু” (নিশ্চয় এই কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হয়েছে, অতএব তোমাদের পক্ষে যা সহজ হয় তা পাঠ কর)।
মুহাদ্দিস ও ওলামায়ে কেরামের মতে ‘সাব’আতু আহরুফ’ দ্বারা তৎকালীন আরবের প্রসিদ্ধ সাতটি বিশুদ্ধ আঞ্চলিক উপভাষা (লুগাত) অথবা ক্বিরাআতের সাতটি পরিবর্তনের রূপ (যেমন ই’রাবের ভিন্নতা, হরফের ভিন্নতা, একবচন-বহুবচনের ভিন্নতা, আগে-পিছে হওয়া ইত্যাদি) বোঝানো হয়েছে। সেই সাতটি বিশুদ্ধ গোত্রীয় উপভাষা হলো: কুরাইশ, হুযাইল, সাক্বীফ, হাওয়াযিন, কিনানাহ, তামীম এবং ইয়ামান গোত্র।
খ. সাত হরফে কুরআন নাযিলের হিকমত ও গূঢ় রহস্য:
- উম্মতের জন্য সহজীকরণ ও দয়া: তৎকালীন আরবের অধিকাংশ মানুষ ছিল নিরক্ষর (উম্মী)। বয়োবৃদ্ধ, নারী ও দূরবর্তী গোত্রের মানুষের জন্য কেবল একটি আঞ্চলিক ভাষায় উচ্চারণ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আল্লাহ তাঁদের জিহ্বার উচ্চারণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাত হরফে পাঠের অনুমতি দিয়ে ইসলামকে সহজ করে দিয়েছিলেন।
- কুরআনের অলৌকিকত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ: আরবের প্রতিটি গোত্র তাদের নিজ নিজ বিশুদ্ধ উপভাষায় পাঠ করা সত্ত্বেও কেউই কুরআনের অনুরূপ একটি সূরা রচনায় সক্ষম হয়নি; যা প্রমাণ করে সব উপভাষাতেই কুরআন অতুলনীয় মু’জিযা।
- অর্থের গভীরতা ও বিধানের সমৃদ্ধি: বিভিন্ন ক্বিরাআতের রূপান্তরের মাধ্যমে বহুবিধ ফিকহী বিধান ও অন্তর্নিহিত অর্থ সহজে উন্মোচিত হয় (যেমন: ‘ফাগসিলূ উজূহাকুম… ওয়া আরজুলাকুম’)।
٣- تحدث عن المنطوق والمفهوم- وكم قسما لهما؟ وما آراء العلماء في الاحتجاج بالمفهوم؟ بين مفصلا-
[৩. منطوق ও مفهوم সম্পর্কে আলোচনা কর। منطوق ও مفهوم কত প্রকার? مفهوم কে দলিল হিসেবে গ্রহণে ওলামাদের মতামত কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ক. মানতূক্ব ও মাফহূম-এর পরিচয়:
- আল-মানতূক্ব (المنطوق): বাক্যের উচ্চারিত ও সুস্পষ্ট লিখিত শব্দ থেকে সরাসরি যে অর্থ বোঝা যায়, তাকে মানতূক্ব বলে। যেমন: ‘আহাল্লাল্লাহুল বাই’আ ওয়া হাররামার রিবা’—এখানে সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় হালাল এবং সুদ হারাম বোঝা যাচ্ছে।
- আল-মাফহূম (المفهوم): বাক্যের সরাসরি উচ্চারিত শব্দ নয়, বরং তার মর্ম, যুক্তি ও ইঙ্গিত থেকে যে অর্থ অনুধাবন করা যায়, তাকে মাফহূম বলে। যেমন: পিতা-মাতাকে ‘উহ’ (أفّ) শব্দ বলতে নিষেধ করার মানতূক্ব থেকে বোঝা যায় তাঁদের প্রহার করা আরও মারাত্মক হারাম—এটি হলো মাফহূম।
খ. এদের প্রকারভেদ:
- মাফহূম প্রধানত দুই প্রকার:
- মাফহূমে মুওয়াফাক্বাহ (المفهوم الموافقة): অনুচ্চারিত বিষয়ের হুকুম যখন উচ্চারিত বিষয়ের হুকুমের সাথে সম্পূর্ণ একরূপ হয়। যেমন পিতা-মাতাকে কষ্ট দেওয়ার হুকুম।
- মাফহূমে মুখালাফাহ (المفهوم المخالفة): অনুচ্চারিত বিষয়ের হুকুম যখন উচ্চারিত বিষয়ের বিপরীত হয়। যেমন: ‘ফী সাইমিতিল গানামি যাকাতুন’ (বিচরণের পশুর ওপর যাকাত ফরজ)—এর মাফহূম হলো ঘরে পালিত পশুর ওপর যাকাত ফরজ নয়। মাফহূমে মুখালাফাহ আবার শর্ত, সিফাত, গায়াত, আদাদ ও লাক্বাব-এ বিভক্ত।
গ. মাফহূমে মুখালাফাহ দ্বারা দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে ওলামাদের মতামত:
- জমহুর ফুক্বাহা (শাফেঈ, মালিকী ও হাম্বলী মাযহাব): নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে মাফহূমে মুখালাফাহ (বিশেষত মাফহূমে শারত্ব, সিফাত ও গায়াত) শরীয়তের অকাট্য দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
- ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও হানাফী মাযহাব: হানাফী উসূলে ফেক্বাহবিদদের মতে শরয়ী বিধান প্রণয়নে মাফহূমে মুখালাফাহ কোনো স্বতন্ত্র দলীল নয়; কারণ কোনো বিশেষ গুণের উল্লেখ অন্য কারণের জন্যও হতে পারে (যেমন বাস্তবতার বর্ণনা বা তাকীদ)। তবে মাফহূমে মুওয়াফাক্বাহ সর্বসম্মতভাবে দলীল হিসেবে গণ্য।
٤- ما الرسم العثماني؟ هل يجب اتباع الرسم العثماني في كتابة القرآن الكريم؟ اكتب حكم كتابة القرآن بغير الرسم العثماني مع بيان اختلاف العلماء فيه-
[৪. الرسم العثماني কী? কুরআনুল কারিম লেখার ক্ষেত্রে উসমানি লিপিকলা অনুসরণ কি ওয়াজিব? উসমানি লিপিকলা ব্যতীত কুরআন লেখার বিধান উলামাদের মতানৈক্যসহ আলোচনা কর।]
ক. রসমুল উসমানী (الرسم العثماني)-এর পরিচয়:
তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর খেলাফতকালে প্রখ্যাত সাহাবী যায়দ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে গঠিত কুরআন সংকলন বোর্ড যে সুনির্দিষ্ট বানানরীতি, হস্তলিপি ও নিয়মে পবিত্র কুরআনের মাসহাফসমূহ প্রতিলিপি করেছিলেন, তাকে আর-রসম আল-উসমানী বা ‘রসমুল মাসহাফ’ বলা হয়।
খ. রসমুল উসমানী অনুসরণ কি ওয়াজিব?:
এ বিষয়ে জমহুর সালাফ ও খালাফের ওলামায়ে কেরামের মতে—কুরআন প্রতিলিপি ও মুদ্রণে রসমুল উসমানী হুবহু অক্ষুণ্ণ রাখা ওয়াজিব। এতে কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা নিজস্ব বানানরীতি প্রয়োগ করা জায়েয নেই। ইমাম মালিক (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: নতুন প্রচলিত ব্যাকরণিক বানানে কি কুরআন লেখা যাবে? তিনি বলেছিলেন: “না, বরং সাহাবীগণ যেভাবে লিখেছেন সেই প্রথম প্রাচীন উসমানী রীতিতেই লিখতে হবে।”
গ. উসমানী রীতি ব্যতীত প্রচলিত বানানে কুরআন লেখার বিধান ও মতভেদ:
- প্রথম অভিমত (জমহুর আলেম ও চার মাযহাবের ইমামগণ): রসমুল উসমানী হলো ‘তাওক্বীফী’ (ঐশী নির্দেশিত ও সাহাবীদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত)। সুতরাং সাধারণ আধুনিক বানানে কুরআন লেখা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয।
- দ্বিতীয় অভিমত (আল্লামা ইবনে খালদূন ও কয়েকজন আধুনিক গবেষক): এটি তাওক্বীফী নয়, বরং সাহাবীদের তৎকালীন প্রচলিত লিপিকলা। অতএব সাধারণ মানুষের সঠিক উচ্চারণের সুবিধার্থে আধুনিক বানানে লেখা জায়েয।
- মধ্যম অভিমত (আল-ইয্য ইবনে আব্দুস সালাম ও ইমাম যারক্বানী): সাধারণ শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য ব্যক্তিগত খাতায় আধুনিক নিয়মে লেখা জায়েয হলেও পূর্ণাঙ্গ কুরআন মুদ্রণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে উসমানী রসম ছাড়া অন্য কোনো রীতি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
٥- ما معنى القسم لغة واصطلاحًا؟ كم نوعًا للقسم وما صيغته؟ اذكر فوائد القسم في القرآن الكريم-
[৫. القسم এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? قسم কত প্রকার এবং এর صيغة কী কী? কুরআনুল কারিমে قسم এর উপকারিতাসমূহ বর্ণনা কর।]
ক. আল-ক্বাসাম (القسم)-এর পরিচয়:
- শাব্দিক অর্থ: শপথ করা, কসম খাওয়া বা হলফ করা।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: কোনো বক্তব্যের গুরুত্ব ও দৃঢ়তা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে কোনো সম্মানিত সত্তা বা বস্তুর উসিলা দিয়ে বাক্য জোরদার করাকে ক্বাসাম বলে।
খ. ক্বাসামের প্রকারভেদ ও সীগাহ:
ক্বাসাম প্রধানত দুই প্রকার:
- ক্বাসামে যাহির বা স্পষ্ট (القسم الظاهر): যাতে ক্বাসামের ফে’ল বা হরফ এবং মুক্বাসাম বিহী স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। যেমন: ﴿فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ﴾ অথবা ﴿وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا﴾।
- ক্বাসামে মুদ্বমার বা প্রচ্ছন্ন (القسم المضمر): যাতে ক্বাসামের হরফ উহ্য থাকে কিন্তু বাক্যের লামে তাকীদ বা নূনে সাক্বীলাহ দ্বারা তা বোঝা যায়। যেমন: ﴿لَتُبْلَوُنَّ فِي أَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ﴾ (অর্থাৎ আল্লাহর শপথ! তোমরা অবশ্যই পরীক্ষিত হবে)।
ক্বাসামের হরফসমূহ (أحرف القسم): ৩টি—ওয়াও (و), বা (ب), এবং তা (ت)। যেমন: ওয়াল্লাহি, বিল্লাহি, তাল্লাহি।
গ. কুরআনে ক্বাসাম ব্যবহারের উপকারিতা (فوائد القسم):
- সংবাদকে সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত করা: অস্বীকারকারী বা দ্বিধান্বিত শ্রোতার মনের সংশয় দূর করার জন্য কসমের মাধ্যমে তাকীদ প্রদান।
- মুক্বাসাম বিহীর মর্যাদা ও কুদরত প্রকাশ: আল্লাহ তা’আলা যখন সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, সময় বা ফলের কসম খান, তখন এর দ্বারা সৃষ্টির অপরিসীম গুরুত্ব ও ঐশী কুদরত মানবজাতির সামনে উন্মোচিত হয়।
- মুক্বাসাম আলাইহ (যার ওপর কসম খাওয়া হয়েছে)-এর গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা: যেমন মানুষের চূড়ান্ত সাফল্য বা আখেরাতের জবাবদিহিতা তুলে ধরা।
٦- أذكر فوائد قصص القرآن الكريم وآثارها في تقوية الإيمان وتهذيب الأخلاق-
[৬. কুরআনুল কারিমে বর্ণিত কাহিনীসমূহের উপকারিতা এবং ঈমান সুদৃঢ়করণ ও নৈতিকতা গঠনে এর প্রভাব আলোচনা কর।]
ভূমিকা: পবিত্র কুরআনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে পূর্ববর্তী নবী, রাসূল ও অবাধ্য জাতিসমূহের সত্য ঘটনা ও ঐতিহাসিক কাহিনী (ক্বাসাসুল কুরআন) বর্ণিত হয়েছে। এটি কোনো কাল্পনিক উপন্যাস নয়; বরং সত্য ও শিক্ষণীয় ইতিহাসের অকাট্য দলিল।
ক. কুরআনী কাহিনীর প্রধান প্রধান উপকারিতা:
- নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণ: নিরক্ষর নবী মুহাম্মদ ﷺ কোনো ইতিহাসগ্রন্থ পাঠ না করেও হাজার বছর পূর্বের নবীদের সঠিক ও নিখুঁত ইতিহাস বর্ণনা করে নিজের রিসালাত প্রমাণ করেছেন।
- উম্মতের জন্য বাস্তব শিক্ষা ও দৃষ্টান্ত: সত্যের অনুসারীদের বিজয় এবং অহংকারী জালেমদের (যেমন নমরূদ, ফেরাউন, ক্বারূন) শোচনীয় পরিণতি তুলে ধরা।
- রাসূলুল্লাহ ﷺ ও মুমিনদের চিত্তে সান্ত্বনা ও দৃঢ়তা দান: কুরাইশদের অত্যাচারে জর্জরিত মুসলিমদের অন্তরে ধৈর্য ধারণের অনুপ্রেরণা যোগানো (‘নাকুচ্ছু আলাইকা মিন আম্বা-ইর রুসুলি মা নুসাব্বিতু বিহী ফুআ-দাক’)।
খ. ঈমান সুদৃঢ়করণ ও চরিত্র গঠনে প্রভাব:
- আদর্শ চরিত্রের অনুকরণ: হযরত ইউসুফ (আ.)-এর পবিত্র চরিত্র ও চারিত্রিক নিষ্কলঙ্কতা, ইবরাহীম (আ.)-এর চরম ত্যাগ, এবং আইয়ূব (আ.)-এর অটল ধৈর্যের কাহিনী মুমিনের নৈতিক চরিত্রকে নিষ্কলুষ করে তোলে।
- পাপের ভয় ও আল্লাহর ভয় সঞ্চার: সমকামী কওমে লূত, মাপে কম দেওয়া কওমে শু’আইব এবং অহংকারী কওমে ‘আদ ও সামূদের ওপর প্রেরিত ঐশী গযবের বর্ণনা শুনে মানুষ পাপাচার বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
٧- عرف المحكم والمتشابه- ثم بين الحكمة في ورود الآيات المتشابهات في القرآن الكريم-
[৭. المحكم ও المتشابه এর পরিচয় দাও। কুরআনুল কারিমে الآيات المتشابهات অবতীর্ণ হওয়ার হিকমাত বর্ণনা কর।]
ক. মুহকাম ও মুতাশাবিহ-এর পরিচয়:
- আল-মুহকাম (المحكم): যে আয়াতের অর্থ সুস্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও প্রকাশ্য এবং যা বোঝার জন্য কোনো প্রকার রূপক বা ব্যাখ্যার জটিলতায় পড়তে হয় না, তাকে মুহকাম বলে। যেমন হালাল-হারাম, সালাত, সাওম ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধিবিধান। কুরআনে বলা হয়েছে: ‘হুন্না উম্মুল কিতাব’ (এগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি)।
- আল-মুতাশাবিহ (المتشابه): যে আয়াতের প্রকৃত অর্থ ও স্বরূপ মানুষের বাহ্যিক জ্ঞানের অগম্য অথবা যার একাধিক অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং একমাত্র গভীর জ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে অথবা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস সমর্পণের মাধ্যমে সমাধান মেলে, তাকে মুতাশাবিহ বলে। যেমন—হুরুফে মুকাত্তা’আত (আলিফ-লাম-মীম), আল্লাহর হাত, পা, চেহারা, আরশে সমাসীন হওয়া সংক্রান্ত আয়াতসমূহ।
খ. মুতাশাবিহাত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার ঐশী হিকমত:
- বান্দার খাঁটি ঈমান ও আত্মসমর্পণের পরীক্ষা: মুমিন ব্যক্তি না দেখেও আল্লাহর প্রতিটি বাণীর ওপর নিঃশর্ত বিশ্বাস স্থাপন করে বলবে: “আ-মান্না বিহী কুল্লুম মিন ইন্দি রব্বিনা” (আমরা এতে ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে); পক্ষান্তরে অন্তরে বক্রতা সম্পন্ন ব্যক্তি ফিতনা সৃষ্টি করবে।
- মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ: মহাবিশ্বের বহু বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ মানব মস্তিষ্কের নাগালের বাইরে—এই সত্য স্বীকার করে মানুষ অহংকারমুক্ত হয়।
- আলেমদের গবেষণার সুযোগ ও মর্যাদা বৃদ্ধি: গভীর জ্ঞানের অধিকারী ওলামায়ে কেরাম চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে এর রূপক সৌন্দর্য উন্মোচন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন।
٨- ما المراد بالإسرائيليات في تفسير القرآن؟ اذكر أسباب دخولها في كتب التفاسير مع بيان موقف العلماء منها-
[৮. কুরআনের তাফসির الإسرائيليات বলতে কী বোঝায়? তাফসির গ্রন্থসমূহে الإسرائيليات অনুপ্রবেশের কারণ বর্ণনপূর্বক এ ব্যাপারে আলেমগণের অবস্থান আলোচনা কর।]
ক. আল-ইসরাঈলিয়াত (الإسرائيليات)-এর পরিচয়:
তাফসীর ও হাদীসের পরিভাষায়—ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ (তাওরাত, তালমুদ ও ইঞ্জিল) এবং বনি ইসরাঈলীদের প্রাচীন লোকগাথা ও উপকথা থেকে যে সমস্ত বর্ণনা তাফসীর সাহিত্যে প্রবেশ করেছে, তাকে ইসরাঈলিয়াত বলে।
খ. তাফসীর গ্রন্থে ইসরাঈলিয়াতের অনুপ্রবেশের কারণ:
- পবিত্র কুরআন ঐতিহাসিক ঘটনাকে বিস্তারিত রূপ (যেমন পাত্র-পাত্রীর নাম, সময়, গাছের নাম বা আয়তন) না দিয়ে কেবল শিক্ষণীয় দিকটি সংক্ষেপে তুলে ধরেছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক অনুসন্ধিৎসা মেটানোর জন্য কিছু তাবেয়ী ও পরবর্তী লেখক আহলে কিতাবদের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
- বহু ইহুদি ও খ্রিস্টান পণ্ডিত (যেমন কা’ব আল-আহবার, ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ) ইসলাম গ্রহণের পর তাদের পূর্বের কিতাবের কাহিনীগুলো ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে সাহাবী ও তাবেয়ীদের সামনে আলোচনা করতেন, যা পরবর্তীতে সনদসহ তাফসীরে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।
গ. ইসরাঈলিয়াতের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের অবস্থান:
আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) সহ শীর্ষস্থানীয় মুফাসসিরগণের মতে ইসরাঈলী বর্ণনা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত:
- যা কুরআন ও সহীহ হাদীসের সাথে মিলে যায়: এটি গ্রহণযোগ্য ও সত্য বলে বিশ্বাস করা জায়েয।
- যা কুরআন, হাদীস বা ইসলামী আক্বীদার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক (যেমন নবীদের ওপর পাপের মিথ্যা অপবাদ): এটি সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যাত ও বাতিল। এটি প্রচার করাও হারাম।
- যা ইসলামী শরীয়তে সত্যায়নও করা হয়নি এবং অস্বীকারও করা হয়নি (নিরপেক্ষ তথ্য): এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশ হলো: “লা তুসাদ্দিক্বূ আহলাল কিতাবি ওয়ালা তুকাযযিবূহুম” (তোমরা তাদের সত্যও বলবে না, আবার মিথ্যাও বলবে না); এটি কেবল কাহিনী হিসেবে উল্লেখ করা জায়েয কিন্তু আক্বীদা গঠন করা যাবে না।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি
٩- اذكر خمسة من أشهر المؤلفات في علوم القرآن مع ذكر أسماء مؤلفيها-
[৯. লেখকের নাম উল্লেখপূর্বক পাঁচটি علوم القرآن বিষয়ক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের নাম লেখ।]
| ক্রম | উলূমুল কুরআন বিষয়ক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের নাম | রচয়িতা বা লেখকের নাম |
|---|---|---|
| ১ | আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন (الإتقان في علوم القرآن) | ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.) [মৃ. ৯১১ হি.] |
| ২ | আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন (البرهان في علوم القرآن) | ইমাম বদরুদ্দীন আল-যারকাশী (রহ.) [মৃ. ৭৯৪ হি.] |
| ৩ | মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন (مناهل العرفان) | শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল আযীম আয-যারক্বানী (রহ.) |
| ৪ | মাবাহিস ফী উলূমিল কুরআন (مباحث في علوم القرآن) | শায়খ মান্না’ আল-ক্বাত্তান (রহ.) |
| ৫ | মুকাদ্দামাতুন ফী উসূলিত তাফসীর (مقدمة في أصول التفسير) | ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) [মৃ. ৭২৮ হি.] |
١٠- ما المراد بجدل القرآن؟ بين طريقة القرآن في المجادلة-
[১০. جدل القرآن দ্বারা উদ্দেশ্য কী? مجادلة এর ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি আলোচনা কর।]
- জাদালুল কুরআনের অর্থ: বাতিলপন্থীদের ভ্রান্ত আক্বীদা খণ্ডন করতে এবং সত্য দ্বীন প্রতিষ্ঠায় পবিত্র কুরআনে যুক্তি, প্রমাণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বিতর্কের যে অনুপম শৈলী ব্যবহৃত হয়েছে, তাকে জাদালুল কুরআন বলে।
- কুরআনের বিতর্কের পদ্ধতি: কুরআনের মূলনীতি হলো: “ওয়াজা-দিলহুম বিল্লাতী হিয়া আহসান” (উত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর)। কুরআন প্রতিপক্ষের যুক্তিকেই তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয় (ইলযামুল খুসূম), প্রকৃতি ও বাস্তবতার উদাহরণ দিয়ে নির্বাক করে দেয় (যেমন নমরূদের সাথে ইবরাহীম আ.-এর বিতর্ক)।
١١- ما حكم كتابة القرآن الكريم بغير اللغة العربية؟ بين-
[১১. আরবি ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষায় কুরআনুল কারিম লেখার বিধান কী? বর্ণনা কর।]
আরবি হরফ ব্যতীত অন্য কোনো হরফ বা লিপিতে (যেমন বাংলা বা রোমান হরফে) মূল কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াত লিপিবদ্ধ করা সর্বসম্মতভাবে নাজায়েয ও হারাম। কারণ কোনো অনারবি হরফ দিয়ে আরবি মাখরাজ ও সিফাত (যেমন: ع, ح, ص, ض, ط, ظ ইত্যাদি) নির্ভুলভাবে উচ্চারণ করা অসম্ভব, যার ফলে অর্থের বিকৃতি ঘটে কুফরীর আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে আরবি মূল আয়াতের সাথে পৃথকভাবে অন্য ভাষায় অনুবাদ ও তাফসীর লেখা সম্পূর্ণ জায়েয ও প্রশংসনীয়।
١٢- اكتب أسماء القراء السبعة-
[১২. القراء السبعة এর নামগুলো লেখ।]
মুতাওয়াতির সাব’আহ ক্বিরাআতের সুবিখ্যাত ৭ জন ইমামের নাম ও তাঁদের কেন্দ্রসমূহ:
- ইমাম নাফি’ আল-মাদানী (রহ.) — মদীনা মুনাওয়ারা (রাবী: ক্বালূন ও ওয়ারশ)।
- ইমাম ইবনে কাসীর আল-মাক্কী (রহ.) — মক্কা মুকাররামা (রাবী: বাযযী ও কুনবুল)।
- ইমাম আবু আমর আল-বাসরী (রহ.) — বসরা (রাবী: দূরী ও সূসী)।
- ইমাম ইবনে আমির আশ-শামী (রহ.) — দামেশক/সিরিয়া (রাবী: হিশাম ও ইবনে যাকওয়ান)।
- ইমাম আসিম আল-কূফী (রহ.) — কূফা (রাবী: শু’বা ও হাফস—আমাদের দেশে হাফসের ক্বিরাআত প্রচলিত)।
- ইমাম হামযাহ আল-কূফী (রহ.) — কূফা (রাবী: খালাফ ও খাল্লাদ)।
- ইমাম আল-কিসাঈ আল-কূফী (রহ.) — কূফা (রাবী: আবুল হারিস ও দূরী)।
١٣- اذكر أنواع أمثال القرآن الكريم-
[১৩. أمثال القرآن الكريم এর প্রকারসমূহ লেখ।]
কুরআনে বর্ণিত দৃষ্টান্ত বা উপমাসমূহ প্রধানত তিন প্রকার:
- আমসালে যাহেরাহ (الأمثال الظاهرة – প্রকাশ্য উপমা): যাতে উপমাবাচক হরফ ও সাদৃশ্য স্পষ্ট থাকে। যেমন মুনাফিকদের আগুনের আলো বা বৃষ্টির সাথে তুলনা।
- আমসালে কামিনাহ (الأمثال الكامنة – প্রচ্ছন্ন উপমা): যাতে সরাসরি উপমার শব্দ থাকে না কিন্তু অর্থগতভাবে প্রবাদের মতো কাজ করে। যেমন: ‘খাইরুল উমুরি আওসাতুহা’-এর ভাব রয়েছে কুরআনের আয়াতে: “লা ফারিদুন ওয়ালা বিকরুন ‘আওয়ানুম বাইনা যালিকা”।
- আমসালে মুরসালাহ (الأمثال المرسلة – উন্মুক্ত উপমা): কুরআনের এমন কিছু সংক্ষিপ্ত বাক্য যা স্বয়ং স্বাধীন প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছে। যেমন: “আল-আ-না হিসহিসাল হাক্ব” (এখন সত্য প্রকাশিত হয়েছে)।
١٤- هل يوجد المجاز والكناية في القرآن الكريم؟ أوضح بالمثال-
[১৪. কুরআনুল কারিমে কি مجاز ও كناية পাওয়া যায়? উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
হ্যাঁ, জমহুর মুফাসসির ও বালাগাতবিদদের মতে কুরআনে মাজায ও কিনায়াহ অত্যন্ত অলঙ্কৃতভাবে বিদ্যমান:
- মাজাযের উদাহরণ: সূরা ইউসুফে এসেছে: ﴿وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ﴾ (জনপদকে জিজ্ঞেস করুন)। এখানে জনপদকে নয় বরং জনপদের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে (মাজাযে মুরসাল)।
- কিনায়াহর উদাহরণ: যৌনমিলনকে শালীনভাবে বোঝাতে কুরআনে বলা হয়েছে: ﴿أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ﴾ (অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছ)।
١٥- اكتب أسماء أشهر الرواة للإسرائيلية في التفسير-
[১৫. তাফসির শাস্ত্রে ইসরাঈলী রেওয়ায়াত বর্ণনাকারী প্রসিদ্ধ রাবিদের নাম লেখ।]
তাফসীর সাহিত্যে ইসরাঈলী বর্ণনা সর্বাধিক পরিচালনাকারী ৪ জন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব:
- কা’ব আল-আহবার (كعب الأحبار): ইয়ামানের সাবেক ইহুদি রাব্বাই যিনি হযরত উমর (রা.)-এর যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন।
- ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (وهب بن منبه): প্রখ্যাত তাবিঈ যিনি প্রাচীন কিতাবসমূহের জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন।
- আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (عبد الله بن سلام): মদীনার শীর্ষস্থানীয় ইহুদি পণ্ডিত যিনি ইসলাম গ্রহণের পর বিশ্বস্ত সাহাবী হন।
- মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক্ব (محمد بن إسحاق): প্রসিদ্ধ সীরাত ও ইতিহাস সংকলক।
١٦- ماذا تعلم عن الموضوعات في تفسير القرآن الكريم؟ بين-
[১৬. তাফসিরুল কুরআন-এ الموضوعات বলতে কী বোঝ? বর্ণনা কর।]
তাফসীর শাস্ত্রে ‘আল-মাওদূ’আত’ (الموضوعات) বলতে বোঝায় মনগড়া, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট রেওয়ায়েত বা হাদীস, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামে মিথ্যা আরোপ করে তাফসীরগ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সূরার অতিরিক্ত ফযীলত নিয়ে এক শ্রেণির বিভ্রান্ত লোক স্বঘোষিত পুণ্য অর্জনের লোভে বহু মিথ্যা হাদীস রচনা করেছিল। ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম এবং পরবর্তীতে আল্লামা ইবনুল জাওযী ‘কিতাবুল মাওদূ’আত’ রচনার মাধ্যমে এসব ভিত্তিহীন বর্ণনা চিহ্নিত করে কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধতা রক্ষা করেছেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. উলূমুল কুরআন বলতে কী বোঝায়?
পবিত্র কুরআনের অবতরণ, সংরক্ষণ, শানে নুযূল, মাক্কী-মাদানী, মুহকাম-মুতাশাবিহ, ক্বিরাআত এবং অলৌকিকত্ব সম্পর্কিত যাবতীয় মৌলিক শাস্ত্রীয় জ্ঞানকে উলূমুল কুরআন বলে।
২. কুরআনের শানে নুযূল জানার প্রধান গুরুত্ব কী?
শানে নুযূল জানার মাধ্যমে আয়াতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সুস্পষ্ট হয়, ফলে ভুল ব্যাখ্যা বা ভ্রান্ত ধারণা নিরসন হয়ে আয়াতের সঠিক বিধান অনুধাবন করা যায়।
৩. সাত হরফে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মূল রহস্য কী?
তৎকালীন আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরক্ষর মানুষের উচ্চারণের সুবিধা ও উম্মতের প্রতি আল্লাহর অপার অনুগ্রহ হিসেবে কুরআনকে সাতটি বিশুদ্ধ উপভাষায় পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
৪. রসমুল উসমানী কেন অক্ষুণ্ণ রাখা আবশ্যক?
রসমুল উসমানী সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত ইজমা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এটি অক্ষুণ্ণ রাখলে কুরআনের শব্দ বা বানানের কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তনের সম্ভাবনা চিরতরে বন্ধ থাকে।
৫. তাফসীরে ইসরাঈলিয়াত গ্রহণের মূলনীতি কী?
কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো ইসরাঈলী বর্ণনা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয; কেবল কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত বর্ণনা গ্রহণীয় এবং নিরবচ্ছিন্ন তথ্য যাচাইহীনভাবে উল্লেখ করা যায় মাত্র।
৬. বিখ্যাত ‘আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
এই অমর গবেষণা গ্রন্থের রচয়িতা হলেন দশম হিজরী শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বহুশাস্ত্রবিদ ইমাম জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতী (রহ.)।