জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারীম (Daf’ush Shubuhatil Maz’umah Hawlal Quranil Karim) – 201306, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৮ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৬

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف ، لعام ۲۰۲۱ م

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১

القرآن والدراسات الإسلامية (আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)

دفع الشبهات المزعومة حول القرآن الكريم (দাফ’উশ শুবুহাতিল মায’ঊমাহ হাওলাল কুরআনিল কারীম)

বিষয় কোড: ২০১৩০৬

সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)-

[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ হতে চারটি এবং (ب) অংশ হতে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান।]


مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ৪ × ১৫ = ৬০)

১ নম্বর প্রশ্ন

ما المراد بالشبهات حول القرآن؟ بين نشأتها وتطورها عبر العصور-

[১. الشبهات حول القرآن বলতে কী বোঝায়? কালপরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

الشبهات حول القرآن (কুরআন বিষয়ক সংশয়)-এর সংজ্ঞা

ভাষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে ‘শুবুহাত’ (الشبهات) শব্দটি ‘শুবহাহ’ (شبهة)-এর বহুবচন, যার অর্থ সন্দেহ, সংশয়, দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা এমন কোনো অস্পষ্ট বিষয় যা সত্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। পারিভাষিক অর্থে আল-কুরআনের ঐশী প্রামাণিকতা, অলৌকিকত্ব, সংকলন, সংরক্ষণ কিংবা বিধানাবলি সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে কাফির, মুনাফিক, প্রাচ্যবিদ (Orientalists) ও ইসলামবিরোধীদের উত্থাপিত মিথ্যা, অমূলক ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার বা যুক্তিকেই ‘আশ-শুবুহাতু হাওলাল কুরআন’ বলা হয়।

কালপরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

কুরআন বিরোধী শুবুহাত বা সন্দেহের ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন। যুগভেদে এর প্রেক্ষাপট ও প্রচারকদের রূপ পরিবর্তিত হলেও মূল উদ্দেশ্য ছিল একই। নিম্নে বিভিন্ন যুগে এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ তুলে ধরা হলো:

  • নবুওয়াতী যুগ (মাক্কী ও মাদানী পর্ব): কুরআন নাযিলের সূচনাতেই কুরাইশ পৌত্তলিকরা একে জাদু (سحر), কবিতা (شعر), অসার প্রলাপ বা প্রাচীন রূপকথা (أساطير الأولين) আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালায়। আল্লাহ তাআলা কুরআনেই তাদের অপবাদের কথা উল্লেখ করেছেন: وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَىٰ عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا (সূরা আল-ফুরকান: ৫)। মাদানী যুগে মুনাফিক ও ইহুদি পণ্ডিতরা কিবলা পরিবর্তন ও শরীয়তের বিধান নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির অপচেষ্টা করে।
  • খোলাফায়ে রাশেদীন ও উমাইয়া যুগ: হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে যখন আঞ্চলিক উপভাষা জনিত মতভেদ দূর করে কুরাইশ রীতিতে কুরআন একত্র করা হয়, তখন সাবায়ী ষড়যন্ত্রকারীরা কুরআনের পাঠ ও বিন্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে।
  • আব্বাসীয় যুগ ও দর্শন চর্চার প্রভাব: আব্বাসীয় খেলাফতের আমলে গ্রিক দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার অবাধ অনুবাদের ফলে মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে এবং ‘খালকে কুরআন’ (কুরআন সৃষ্টির তত্ত্ব) নিয়ে গভীর ধর্মতাত্ত্বিক সংকট তৈরি হয়। এ যুগে মুসলিম উলামায়ে কিরাম কলমী জেহাদের মাধ্যমে জাহমিয়্যাহ ও মু’তাযিলাদের যুক্তির দাঁতভাঙা জবাব প্রদান করেন।
  • ঔপনিবেশিক যুগ ও প্রাচ্যবিদদের (Orientalists) আক্রমণ: আধুনিক যুগে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের ছত্রছায়ায় ইসলামি চিন্তা ও কুরআনকে টার্গেট করে প্রাচ্যবিদদের একটি সংঘবদ্ধ দল আবির্ভূত হয়। নোল্ডেকে (Theodor Nöldeke), গোল্ডজিহার (Ignaz Goldziher), মার্গোলিউথ (D.S. Margoliouth) প্রমুখ গবেষক কৃত্রিম ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিক মানদণ্ড দাঁড় করিয়ে ওহী, কুরআন সংকলন, পাঠভেদ ও ব্যাকরণ নিয়ে সূক্ষ্ম ও পদ্ধতিগত শুবুহাত বা বিভ্রান্তি তৈরি করেন।
  • বর্তমান যুগ ও ডিজিটাল মিডিয়া: একবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা ইসলামোফোবিক চক্র, নাস্তিক্যবাদী প্ল্যাটফর্ম ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রাচীন প্রাচ্যবিদদের বানোয়াট যুক্তিগুলোকেই মুখরোচক করে তরুণ প্রজন্মের ঈমান ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুসলিম গবেষকগণ যুক্তিবাদী ও তথ্যপ্রমাণভিত্তিক তাফসীর সাহিত্যের মাধ্যমে এসব সন্দেহের সন্তোষজনক অপনোদন করে চলেছেন।

২ নম্বর প্রশ্ন

اذكر الشبهات المزعومة حول نزول الوحى – ثم تحدث مع الرد عليها-

[২. نزول الوحى এর ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ উল্লেখ কর। অতঃপর তা খণ্ডনপূর্বক আলোচনা কর।]

ওহী নাযিল সংক্রান্ত অমূলক সন্দেহসমূহ

ইসলামের শত্রু ও প্রাচ্যবিদরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী নাযিলের ঐশী সত্যতাকে অস্বীকার করতে বিভিন্ন মানসিক, জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক কাল্পনিক তত্ত্ব আবিষ্কার করেছে। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো নিম্নরূপ:

  1. মৃগীরোগের (Epilepsy) আবেশ: প্রাচ্যবিদদের দাবি হলো ওহী নাযিলের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘাম ঝরা এবং ভারী হওয়ার লক্ষণগুলো আসলে মৃগীরোগের আক্রমণের বাহ্যিক রূপ ছিল।
  2. স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিভা বা অন্তর্জাগতিক প্রজ্ঞা (Internal Genius): তাদের মতে, নবী করীম (সা.) কোনো বাহ্যিক ঐশী বাণী পাননি; বরং তিনি ছিলেন একজন প্রখর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কবি বা সমাজ সংস্কারক এবং কুরআনের বাণী তাঁর নিজস্ব অন্তর্জগতের ভাবাবেগের প্রকাশ।
  3. হ্যালুসিনেশন বা দৃষ্টিবিভ্রম (Hallucination): জিবরাঈল (আ.)-কে দর্শন ও তাঁর সাথে কথোপকথনকে তারা মস্তিষ্কের স্নায়বিক বিকার বা মনের অবচেতন কল্পনা বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করে।

সন্দেহসমূহের দালিলিক খণ্ডন

  • মৃগীরোগের ভিত্তিহীনতা: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বসম্মত নিয়ম অনুযায়ী মৃগীরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রলাপ বকে, স্মৃতিভ্রষ্ট হয় এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ভারসাম্য হারায়। অথচ ওহী নাযিলের মুহূর্তের পরপরই রাসূলুল্লাহ (সা.) যে অলৌকিক শব্দচয়ন, কালজয়ী আইন ও নির্ভুল জ্ঞানসম্ভার বিশ্ববাসীর সামনে পেশ করতেন, তা কোনো অসুস্থ বা বিকৃত মস্তিষ্কের পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব। তদুপরি মৃগীরোগে মানুষের বুদ্ধি লোপ পায়, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) আজীবন ছিলেন আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাবান ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
  • নিজস্ব প্রতিভার দাবি খণ্ডন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন উম্মী (নিরক্ষর)। তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বিদ্যাপীঠে শিক্ষা গ্রহণ করেননি। নিজস্ব প্রতিভাবলে চার দশক ধরে সাধারণ জীবনযাপন করার পর আকস্মিকভাবে চল্লিশ বছর বয়সে সমগ্র মানবজাতির চ্যালেঞ্জ স্বরূপ সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য ও আইনগ্রন্থ রচনা করা মানবীয় সামর্থ্যের চিরন্তন বিরোধী। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন: وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ (সূরা আন-নাজম: ৩-৪)।
  • জিবরাঈল (আ.)-এর বস্তুনিষ্ঠ উপস্থিতি: হযরত জিবরাঈল (আ.) কেবল নবীজির মানসপটে আবির্ভূত হতেন না; বরং অনেক সময় সাহাবায়ে কিরামও মানুষের বেশে তাঁকে স্বচক্ষে দেখেছেন। বিখ্যাত ‘হাদীসে জিবরাঈল’-এ হযরত উমর (রা.) বর্ণনা করেন যে, এক অপরিচিত শ্বেতশুভ্র ব্যক্তি এসে নবীজির সামনে বসে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন এবং সাহাবাগণ সবাই তাঁকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। অতএব একে দৃষ্টিভ্রম বলা চরম অবান্তর ও অজ্ঞতাপ্রসূত।

৩ নম্বর প্রশ্ন

بين الشبهات المزعومة حول جمع القرآن مع الرد عليها بالأدلة-

[৩. কুরআন সংকলনের ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ প্রমাণ সহকারে খণ্ডনপূর্বক বর্ণনা কর।]

কুরআন সংকলন বিষয়ক উত্থাপিত সন্দেহসমূহ

প্রাচ্যবিদ ও সংশয়বাদীরা আল-কুরআনের ইতিহাসকে বিকৃত করতে দাবি করে যে:

  1. রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বীয় জীবদ্দশায় পূর্ণাঙ্গ কুরআন লিখিত কিতাবাকারে সংকলন করে যাননি; সুতরাং তা পরবর্তী শাসকদের দ্বারা পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ ছিল।
  2. হযরত আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.)-এর আমলে বহু হাফেজ সাহাবী ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করায় কুরআনের কিছু অংশ চিরতরে হারিয়ে গেছে।
  3. হযরত উসমান (রা.) নিজস্ব পাঠরীতি চালু করতে গিয়ে অন্য সাহাবীদের (যেমন হযরত ইবনে মাসউদ ও উবাই ইবনে কা’ব) নির্ভরযোগ্য মুসহাফসমূহ জোরপূর্বক পুড়িয়ে ফেলেছিলেন।

প্রমাণসহ সন্দেহসমূহের খণ্ডন

  • নবীজির জীবদ্দশায় লিখিত ও মুখস্থ সংরক্ষণ: রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিটি আয়াত নাযিল হওয়ার সাথে সাথেই কাতিবানে ওহী (ওহী লেখক সাহাবীগণ)-কে ডেকে তা অবিকল লিপিবব্ধ করাতেন এবং কোন সূরার কোন আয়াতের পর তা বসবে তাও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিতেন। রমজান মাসে হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে তিনি পূর্ণ কুরআনের দাওর (পুনরাবৃত্তি) করতেন। সুতরাং লিখিত পাণ্ডুলিপি ও হাজারো সাহাবীর মুখস্থ স্মৃতিতে তা পূর্ণ সুরক্ষিত ছিল।
  • আবু বকর (রা.)-এর সংকলনের কঠোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি: হযরত আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশে যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) যখন কুরআন সংকলন করেন, তখন কেবল স্মৃতির ওপর নির্ভর করা হয়নি। প্রতিটি আয়াতের পক্ষে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে লিখিত হওয়ার ব্যাপারে ন্যূনতম দুজন নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হতো। কোনো আয়াত হারায়নি; বরং বিক্ষিপ্ত চামড়া, পাথর ও পাতার লিখিত খণ্ডগুলোকে একটি বাঁধাইকৃত কিতাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছিল মাত্র।
  • উসমান (রা.)-এর পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ঐক্য রক্ষা: হযরত উসমান (রা.) কোনো নতুন কুরআন উদ্ভাবন করেননি; বরং তিনি আবু বকর (রা.)-এর আমলে সংগৃহীত মূল প্রামাণ্য কপি থেকেই অনুলিপি তৈরি করেছিলেন। অনারব অঞ্চলে উপভাষাগত বিশৃঙ্খলা ও ভুল পাঠের ফিতনা রোধ করার জন্য উম্মতের সর্বসম্মত ঐকমত্যের (ইজমা) ভিত্তিতে তিনি কুরাইশ ভাষার প্রামাণ্য নুসখা সর্বত্র জারি করেন এবং ব্যক্তিগত টীকাযুক্ত খসড়া কপিগুলো দূর করেন। এতে সাহাবায়ে কিরাম সর্বান্তঃকরণে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। হযরত আলী (রা.) দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছিলেন: “উসমান কুরআন সম্পর্কে যা করেছেন, আমাদের সকলের পরামর্শ ও সম্মতিক্রমেই করেছেন।”

৪ নম্বর প্রশ্ন

اذكر الشبهات المزعومة حول الناسخ والمنسوخ- وكيف ترد عليها؟

[৪. ناسخ ও منسوخ এর ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ উল্লেখ কর। তুমি তা কীভাবে খণ্ডন করবে?]

নাসেখ ও মানসূখ বিষয়ক উত্থাপিত শুবুহাত

ইসলামবিরোধীরা কুরআনের বিধান রহিতকরণ (নাসখ) ব্যবস্থাকে নিয়ে প্রধানত দুটি অপবাদ আরোপ করে:

  1. আল্লাহর সিদ্ধান্তের পরিবর্তন বা অপূর্ণতা (البداء): তারা দাবি করে যে, আগের হুকুম পরিবর্তন করে নতুন হুকুম দেওয়া প্রমাণ করে যে পূর্বের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল এবং আল্লাহ পরবর্তীতে নতুন তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত বদলেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।
  2. কুরআনের অভ্যন্তরীণ বৈপরীত্য: তাদের মতে, নাসখের অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের মাঝে সাংঘর্ষিক ভাব বিদ্যমান।

সন্দেহের যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক খণ্ডন

নাসখ (نسخ) শব্দের অর্থ স্থানান্তর, অপসারণ বা দূরীকরণ। শরীয়তের পরিভাষায় এক বিধানের মেয়াদ শেষে প্রজ্ঞাময় আল্লাহর তরফ থেকে অন্য বিধানের প্রবর্তনকেই নাসখ বলা হয়। এর খণ্ডন নিম্নরূপ:

  • বাধা (البداء) ও নাসখের মৌলিক পার্থক্য: মানুষ যখন কোনো আইন বদলায়, তখন তা অনেক সময় অজ্ঞতা বা দূরদর্শিতার অভাবে বদলাতে হয়। কিন্তু আল্লাহর নাসখ ব্যবস্থা পূর্বনির্ধারিত ঐশী পরিকল্পনারই অংশ। তিনি প্রাক-অনন্তকাল থেকেই জানতেন কোন সমাজের জন্য কোন ক্রান্তিকালে কোন বিধান উপযোগী। যেমন একজন বিজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর রোগের তীব্রতা কমে এলে পূর্বের ঔষধ পরিবর্তন করে বলবর্ধক ঔষধ দেন। এটি চিকিৎসকের অজ্ঞতা নয়, বরং তাঁর পারদর্শিতা ও সুচিকিৎসার বহিঃপ্রকাশ।
  • উম্মতের জন্য পর্যায়ক্রমিক সহজীকরণ: জাহেলী সমাজের কঠিন পাপাচারে লিপ্ত মানুষকে রাতারাতি কঠিন বিধানের আওতায় আনা মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যয় ডেকে আনতো। মদ্যপান নিষিদ্ধকরণে পর্যায়ক্রমিক তিন স্তরের বিধান প্রবর্তন এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রথমে এর ক্ষতি ও উপকারের আলোচনা, অতঃপর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিষেধাজ্ঞা এবং পরিশেষে চূড়ান্ত হারাম ঘোষণা। নাসখ হলো বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর পরম দয়া ও প্রজ্ঞাপূর্ণ তারবিয়াত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا (সূরা আল-বাকারা: ১০৬)।
  • আকিদা ও মৌলিক বিধানে কোনো নাসখ নেই: তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত এবং পূর্ববর্তী নবীদের মৌলিক নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে কখনোই কোনো নাসখ বা রহিতকরণ ঘটেনি। কেবল শাখা-প্রশাখাগত শরীয়তী কার্যবিধিতে যুগ ও সমাজের উপযোগিতার খাতিরে কিছু পরিবর্তন এসেছিল।

৫ নম্বর প্রশ্ন

اكتب خمس آيات متناقضة بزعم المستشرقين- ثم أثبت أنها غير متناقضة-

[৫. প্রাচ্যবিদদের ধারণা অনুযায়ী পাঁচটি পরস্পর সাংঘর্ষিক আয়াত উল্লেখ কর। অতঃপর প্রমাণ কর যে, এগুলো সাংঘর্ষিক নয়।]

প্রাচ্যবিদদের কথিত সাংঘর্ষিক আয়াত ও সেগুলোর সমন্বয়

১. সৃষ্টিজগতের স্থায়িত্বকাল সংক্রান্ত তথাকথিত বৈপরীত্য

আপাত বিরোধ: কিছু আয়াতে এসেছে আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে ৬ দিনে (সূরা ইউনুস: ৩), আবার সূরা ফুসসিলাতের ৯-১২ আয়াতে হিসাব যোগ করলে দাঁড়ায় ৮ দিন (২+৪+২ দিন)।

সমন্বয়: সূরা ফুসসিলাতের ৪ দিন পৃথক অতিরিক্ত কোনো দিন নয়; বরং পৃথিবীর সৃষ্টি (২ দিন) এবং খাদ্য ও পর্বতমালা স্থাপনসহ সর্বমোট ৪ দিন। যেমন কেউ যদি বলে ‘আমি ঢাকা থেকে কুমিল্লা গেলাম ২ দিনে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গেলাম ৪ দিনে’, এর অর্থ পুরো যাত্রাপথ লেগেছে ৪ দিন, ৬ দিন নয়। সুতরাং মোট সৃষ্টির সময়কাল অভিন্নভাবে ৬ দিনই।

২. বিচার দিবসে পাপীদের জিজ্ঞাসা করা সংক্রান্ত আপাত দ্বন্দ্ব

আপাত বিরোধ: এক আয়াতে বলা হয়েছে: فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْأَلُ عَن ذَنبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ (সেদিন কোনো মানুষ ও জিনকে অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না – আর-রহমান: ৩৯)। অন্য আয়াতে এসেছে: فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ (তোমার রবের শপথ! অবশ্যই আমি তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব – আল-হিজর: ৯২)।

সমন্বয়: কিয়ামত দিবসের অবস্থা একরকম থাকবে না, এর পরিধি হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। ‘জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না’ এর অর্থ হলো তথ্য উদঘাটনের জন্য কোনো প্রশ্নের প্রয়োজন হবে না, কারণ আল্লাহ তাআলা সবকিছু জানেন। আর ‘জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’ এর অর্থ হলো তিরস্কার, ভর্ৎসনা ও তাদের ওপর হুজ্জত কায়েম করার প্রশ্ন।

৩. মানুষের সৃষ্টির উপাদান সংক্রান্ত সংশয়

আপাত বিরোধ: কুরআন কোথাও বলেছে মানুষকে মাটি (تراب) থেকে, কোথাও কাদা (طين) থেকে, কোথাও পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক ঠনঠনে মাটি (صلصال) থেকে, আবার কোথাও শুক্রবিন্দু (نطفة) থেকে তৈরি করা হয়েছে।

সমন্বয়: এগুলো কোনো পরস্পরবিরোধী তথ্য নয়; বরং একটি মৌলিক সৃষ্টি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায় (stages)। আদি মানব আদম (আ.)-কে প্রথমে শুষ্ক ধূলিকণা (তুরাব), পানিতে মিশিয়ে আঠালো কাদা (ত্বীন), শুকিয়ে ঠনঠনে কাদা (সালসাল) রূপ দেওয়া হয়। আর তাঁর বংশধর মানবজাতিকে সৃষ্টি করা হয় শুক্রবিন্দু থেকে।

৪. কুরআনে কি কোনো জবরদস্তি আছে?

আপাত বিরোধ: সূরা বাকারার ২৫৬ আয়াতে বলা হয়েছে: لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ (দ্বীনের মধ্যে কোনো জবরদস্তি নেই)। অপরদিকে যুদ্ধের আয়াতে বলা হয়েছে: فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ (মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা কর – তাওবা: ৫)।

সমন্বয়: ‘দ্বীনের ব্যাপারে জবরদস্তি নেই’ নীতিটি অন্তরের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে চিরন্তন বিধান। কাউকে তলোয়ারের মুখে মুসলমান বানানো ইসলামে নিষিদ্ধ। আর মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল যারা মুসলিমদের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছে, মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে এবং শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

৫. শাফাআত (সুপারিশ) সংক্রান্ত বিধান

আপাত বিরোধ: এক আয়াতে বলা হয়েছে কিয়ামতের দিন কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না (সূরা বাকারা: ৪৮)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে সুপারিশ কার্যকর হবে (সূরা ত্বাহা: ১০৯)।

সমন্বয়: যে শাফাআতকে অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো পৌত্তলিকদের ভ্রান্ত বিশ্বাস—যেখানে তারা ভাবত তাদের দেব-দেবী আল্লাহর মর্জির বিরুদ্ধেও জোরপূর্বক সুপারিশ করতে পারবে। আর যে শাফাআত সাব্যস্ত করা হয়েছে তা মহান আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল এবং তা একমাত্র মুমিন ও সজ্জন বান্দাদের সম্মানার্থে প্রদান করা হবে।

৬ নম্বর প্রশ্ন

كيف ترد الشبهات عن الزاعمين حول عصمة الرسول صلى الله عليه وسلم؟ بين بالأدلة-

[৬. রসূল (স) এর নিষ্পাপ হওয়া সম্পর্কে সন্দেহবাদীদের অভিযোগ তুমি কীভাবে খণ্ডন করবে? দলিলসহ বর্ণনা কর।]

ইসমাতুর রাসূল (রাসূলের নিষ্পাপত্ব) সংক্রান্ত উত্থাপিত অভিযোগ

সংশয়বাদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘ইসমত’ বা নিষ্পাপ সত্তাকে কলঙ্কিত করতে কুরআনের কিছু আয়াতে ব্যবহৃত শব্দের ভুল ব্যাখ্যা দেয়। যেমন:

  • সূরা মুহাম্মাদের ১৯ আয়াত: وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ (আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন)।
  • সূরা আল-ফাতহ-এর ২ আয়াত: لِّيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِن ذَنبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ (যাতে আল্লাহ আপনার পূর্বাপর ত্রুটি মার্জনা করেন)।
  • সূরা আবাসা-এর সূচনায় অন্ধ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-এর উপস্থিতিতে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা।

দলিলসহ অভিযোগসমূহের নিখুঁত খণ্ডন

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত আকিদা হলো—সকল নবী ও রাসূল নবুওয়াতের পূর্বে ও পরে যাবতীয় কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্পাপ (معصوم)। উল্লিখিত আয়াতসমূহের সঠিক ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:

  1. ‘যানব’ (ذنب) শব্দের ভাষাগত তাৎপর্য: আরবি ভাষায় ذنب কেবল শরীয়তসম্মত পাপকেই বোঝায় না; বরং কোনো উত্তম কাজের বিপরীতে অপেক্ষাকৃত কম উত্তম কাজ (ترك الأولى বা খিলাফে আওলা) সম্পাদন করলেও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রূপকভাবে ‘যানব’ বলা হয়। একটি সুপরিচিত মূলনীতি হলো: حَسَنَاتُ الْأَبْرَارِ سَيِّئَاتُ الْمُقَرَّبِينَ (সাধারণ পুণ্যবানদের পুণ্য কাজ নৈকট্যশীল বুজুর্গদের দৃষ্টিতে ত্রুটিতুল্য গণ্য হয়)। নবীজির মর্যাদা সৃষ্টির শীর্ষে হওয়ায় তাঁর জন্য সামান্যতম রীতির ব্যত্যয়ও আল্লাহর দৃষ্টিতে সতর্কতার কারণ হয়েছে।
  2. ইস্তিগফারের প্রকৃত অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমা প্রার্থনা কোনো গুনাহের কারণে ছিল না; বরং তা ছিল দাসত্বের সর্বোচ্চ প্রকাশ (عبودية) এবং আল্লাহর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন কৃতজ্ঞতার প্রতীক। তিনি দিনে সত্তরের অধিকবার ইস্তিগফার করে উম্মতকে তাওবা ও বিনয় শিক্ষা দিতেন।
  3. সূরা আবাসার ঘটনায় মানবিক অগ্রাধিকারের বিষয়: সূরা আবাসায় নবীজি কোনো অন্যায় বা পাপ করেননি। তিনি মক্কার শীর্ষ কুরাইশ নেতাদের ঈমানের দাওয়াত দিচ্ছিলেন যাতে তাদের মাধ্যমে হাজারো মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। অন্ধ সাহাবী বিষয়টি না জেনে আলোচনার মাঝে প্রশ্ন করায় নবীজি অপ্রস্তুত বোধ করেছিলেন। এটি ছিল কেবল কর্মপন্থার অগ্রাধিকারের একটি সূক্ষ্ম মানবিক মূল্যায়ন, কোনো চারিত্রিক অপরাধ নয়।
  4. কুরআনের অকাট্য সাক্ষ্য: আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর হাবীবের চারিত্রিক পবিত্রতার সনদ ঘোষণা করে বলেছেন: وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ (নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত – আল-কলম: ৪)। তিনি আরও বলেন: وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিরুদ্ধে পাপের অপবাদ আরোপ করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বাতুলতা মাত্র।

مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ৪ × ৫ = ২০)

৭ নম্বর প্রশ্ন

تحدث عن الشبهات حول الزيادة والنقصان في القرآن مع الرد عليها-

[৭. আল-কুরআনে বৃদ্ধি ও হ্রাস এর ব্যাপারে সন্দেহগুলো খণ্ডনপূর্বক আলোচনা কর।]

অভিযোগ: প্রাচ্যবিদ ও কিছু প্রান্তিক বাতিল দল দাবি করে যে, বর্তমান কুরআনে কিছু সূরা বা আয়াত কম রয়েছে (যেমন কথিত সূরা বিলায়াত বা রাজমের আয়াত বাদ পড়ার মিথ্যা দাবি) অথবা কোনো কোনো আয়াত মানুষের পক্ষ থেকে সংযোজন করা হয়েছে।

দালিলিক খণ্ডন:

  • ঐশী সংরক্ষণের নিশ্চয়তা: মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (নিশ্চয় আমিই কুরআন নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমি নিজেই এর সংরক্ষক – সূরা আল-হিজর: ৯)। মানব ইতিহাসের প্রতিটি প্রজন্মে লাখ লাখ হাফেজে কুরআনের সিনায় সিনায় এই কিতাব অপরিবর্তিতভাবে সংরক্ষিত।
  • তাওয়াতুর ও ইজমা: আল-কুরআন মুতাওয়াতির সনদে উম্মতের সর্বসম্মত ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়েছে। এর একটি হরফ কমানো বা বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা ধরা পড়ে যায়। কথিত হারিয়ে যাওয়া বা বাদ পড়ার বর্ণনাগুলো হয়তো মানসূখুত তিলাওয়াত (তিলাওয়াত রহিত আয়াত) ছিল অথবা সনদের বিচারে জাল ও ভিত্তিহীন বর্ণনা। অতএব আল-কুরআনে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন ঘটেনি।

৮ নম্বর প্রশ্ন

اذكر الشبهات حول التكرار في القرآن-

[৮. আল-কুরআনে পুনরাবৃত্তির ব্যাপারে সন্দেহগুলো উল্লেখ কর।]

অভিযোগ: প্রাচ্যবিদরা আপত্তি তোলে যে, আল-কুরআনে একই ঐতিহাসিক ঘটনা (যেমন মুসা আ. ও ফেরাউনের ঘটনা) এবং একই আয়াত (যেমন সূরা আর-রহমানে فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ৩১ বার এবং সূরা মুরসালাতে وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ ১০ বার) বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যা সাহিত্যের মানদণ্ডে ত্রুটিপূর্ণ।

সন্দেহ খণ্ডন ও পুনরাবৃত্তির অলৌকিক রহস্য:

  • আরবি অলংকারশাস্ত্রের নিয়ম: আরবি বালাগাত শাস্ত্রে পুনরাবৃত্তি (التكرار) কোনো ত্রুটি নয়; বরং তা গুরুত্বারোপ (التأكيد), ভীতি প্রদর্শন (التهويل) এবং অন্তরে কোনো ভাব গভীরতমভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি উচ্চাঙ্গের অলংকার।
  • প্রসঙ্গভেদে নতুন অর্থ প্রদান: সূরা আর-রহমানে প্রতিবার নিয়ামতের আলোচনার পর যখন فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ বলা হয়েছে, তখন প্রতিটি আয়াত তার পূর্ববর্তী সুনির্দিষ্ট নিয়ামতের দিকে ইঙ্গিত করে। সুতরাং বাহ্যিকভাবে শব্দ এক হলেও অর্থ ও প্রাসঙ্গিকতা সম্পূর্ণ নতুন ও স্বতন্ত্র।
  • হিদায়াত ও নসীহতের পুনরাবৃত্তি: কুরআন কোনো সাধারণ ইতিহাসগ্রন্থ বা উপন্যাস নয়; এটি মানবজীবনের জন্য হেদায়েতের সংবিধান। হেদায়েতের বার্তা মানব অন্তরে গভীরভাবে বদ্ধমূল করার জন্য একই ঐতিহাসিক ঘটনার বিভিন্ন দিক বিভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে।

৯ নম্বর প্রশ্ন

بين الشبهات حول الأخطاء النحوية في القرآن بإيجاز-

[৯. আল-কুরআনে নাহভী ভুলের ব্যাপারে সন্দেহগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

অভিযোগ: আধুনিক খ্রিষ্টান মিশনারি ও অজ্ঞ সমালোচকরা দাবি করে যে কুরআনে নাহু বা ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তারা পেশ করে সূরা নিসার ১৬২ আয়াতের وَالْمُقِيمِينَ الصَّلَاةَ (যেখানে পূর্বের শব্দ মারফূ হওয়া সত্ত্বেও এটি মানসূব হয়েছে) এবং সূরা বাকারার ১৭৭ আয়াতের وَالصَّابِرِينَ শব্দটিকে।

দালিলিক খণ্ডন:

  • কুরআনই আরবি ব্যাকরণের মূল উৎস: আরবি ব্যাকরণ কুরআনের ওপর শাসন করে না; বরং কুরআন নাযিলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী ও সিবওয়াইহ নাহু শাস্ত্র রচনা করেছেন। কুরাইশের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও অলংকারপূর্ণ ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সমকালীন আরবের কট্টর মুশরিক কবি-সাহিত্যিকরা নবুওয়াতের ঘোর বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও কুরআনের একটি হরফেও ব্যাকরণগত ভুল ধরার সাহস পায়নি।
  • বালাগাত শাস্ত্রের ‘ইখতিসাস’ ও ‘ইলতিফাত’: সূরা নিসার আয়াতে অন্যান্য গুণাবলি পেশ করার পর সালাত কায়েমকারীদের মর্যাদা বিশেষভাবে প্রকাশের জন্য বালাগাতের নিয়ম অনুযায়ী ক্রিয়াকে ঊহ্য রেখে নসব (نصب على الاختصاص বা المدح) দেওয়া হয়েছে—যার অর্থ ‘আমি বিশেষভাবে সালাত কায়েমকারীদের প্রশংসা করছি’। এটি ব্যাকরণের ভুল নয়; বরং আরবি উচ্চাঙ্গ সাহিত্যের অনুপম নিদর্শন।

১০ নম্বর প্রশ্ন

تحدث عن الشبهات حول عصمة الملائكة مع الرد عليها-

[১০. ফেরেশতাদের নিষ্পাপ হওয়া সম্পর্কে সন্দেহগুলো খণ্ডনপূর্বক আলোচনা কর।]

অভিযোগ: সংশয়বাদীরা হারুত ও মারুত ফেরেশতাদ্বয়ের যাদু শিক্ষা দেওয়া ও মানবীয় পাপে লিপ্ত হওয়ার ইসরাঈলি রূপকথা এবং ইবলিস কর্তৃক সিজদা অস্বীকার করার ঘটনা টেনে এনে ফেরেশতাদের নিষ্পাপত্ব (عصمة الملائكة) প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে।

দালিলিক খণ্ডন:

  • কুরআনের অকাট্য নীতি: কুরআন মাজীদে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ফেরেশতাগণ আল্লাহর হুকুমের অবাধ্যতা করার ক্ষমতাই রাখেন না: لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ (আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তারা তার অবাধ্য হয় না এবং যা আদেশ করা হয় তারা তাই করে – সূরা আত-তাহরীম: ৬)। তাদের মধ্যে কোনো কুপ্রবৃত্তি বা জৈবিক কামনা-বাসনা নেই।
  • হারুত-মারুতের ঘটনা: হারুত ও মারুত মানুষকে বিপথগামী করার জন্য যাদু শেখাননি; বরং তারা জনগণকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে বলতেন: ‘আমরা তো কেবল পরীক্ষার বস্তু, সুতরাং তোমরা কুফরি করো না’। তাদের সাথে ব্যভিচার বা মদ্যপানের যেসব আজগুবি গল্প কিছু অনির্ভরযোগ্য তাফসীরে এসেছে, সেগুলো সবই সনদবিহীন ইসরাঈলি রেওয়ায়েত এবং আকিদার মূলনীতির বিরোধী।
  • ইবলিস ফেরেশতা নয়: ইবলিস সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল কারণ সে ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না; বরং সে ছিল জিন জাতির অংশ। আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার করে দিয়েছেন: كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ (সে জিনদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, ফলে সে তার রবের আদেশের অবাধ্যতা করল – সূরা আল-কাহাফ: ৫০)। সুতরাং ফেরেশতাগণের নিষ্পাপত্বের আকিদা শতভাগ নিখুঁত ও সংরক্ষিত।

১১ নম্বর প্রশ্ন

ما المراد بإعجاز القرآن الكريم؟ بين بعض وجوه الإعجاز في القرآن الكريم موجزًا-

[১১. إعجاز القرآن বলতে কী বুঝায়? আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের কয়েকটি দিক সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

إعجاز القرآن (কুরআনের অলৌকিকত্ব)-এর সংজ্ঞা

‘ই’জায’ (إعجاز) শব্দটি ‘আ’জাযা’ (أعجز) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অন্যকে অক্ষম, পরাভূত বা অপারগ করে তোলা। পরিভাষায়, আল-কুরআন মহান আল্লাহর এমন এক অনন্য ও চিরন্তন ঐশী মুজিযা, যা মানব ও জিন জাতিকে এর সমকক্ষ একটি সূরা রচনার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে চিরতরে অপারগ ও স্তব্ধ করে দিয়েছে।

কুরআনের অলৌকিকত্বের কয়েকটি প্রধান দিক

  1. ভাষাগত ও শৈল্পিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز اللغوي والبياني): শব্দের অনুপম বিন্যাস, ছন্দ, মাধুর্য এবং গভীরতম বালাগাত যা তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ আরব কবি ও বাগ্মীদেরও সম্পূর্ণ পরাভূত করেছিল।
  2. অদৃষ্টের নির্ভুল সংবাদ (الإعجاز الغيبي): অতীতে ঘটে যাওয়া পূর্ববর্তী জাতি ও নবীদের নিখুঁত ইতিহাস বর্ণনা এবং ভবিষ্যতে রোমানদের বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী (সূরা আর-রূম: ১-৪) যা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।
  3. আইন ও বিধানের পূর্ণাঙ্গতা (الإعجاز التشريعي): ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক জীবনের জন্য এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ ও চিরন্তন ইনসাফভিত্তিক সংবিধান প্রদান, যার সমকক্ষ কোনো সংবিধান পৃথিবীর কোনো মানবমস্তিষ্ক প্রণয়ন করতে পারেনি।
  4. আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي): মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, ভ্রূণতত্ত্বের পর্যায়ক্রমিক বিকাশ, পানিচক্র এবং পর্বতমালাকে পৃথিবীর পেরেক হিসেবে স্থাপন সংক্রান্ত কুরআনের বক্তব্যগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের পরীক্ষিত সত্যের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১২ নম্বর প্রশ্ন

علق على اثنين مما يلى:

[১২. যে কোনো দুটি বিষয়ে টীকা লেখ:]

(الف) الشبهات حول تحريف القرآن الكريم (কুরআন বিকৃতির সন্দেহ)

কুরআনের বিশুদ্ধতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ইসলামবিরোধীরা দাবি করে যে আসমানী কিতাব তাওরাত ও ইঞ্জিলের ন্যায় আল-কুরআনেও বিকৃতি (তাহরীফ) ঘটেছে। কিন্তু এ দাবি সম্পূর্ণ অসার। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা সেই জাতির আলেমদের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন (بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِن كِتَابِ اللَّهِ), যার ফলে সেখানে মানবীয় বিকৃতি ঘটেছিল। কিন্তু কুরআনের হেফাজতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিজের কুদরতি হাতে রেখেছেন (إِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ)। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো মুদ্রিত বা হস্তলিখিত কুরআন মেলালে একটি হরফ বা নুকতারও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। এটিই কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক প্রমাণ।

(ب) الشبهات حول العلوم الكونية في القرآن الكريم (কুরআনে মহাজাগতিক বিজ্ঞানের সন্দেহ)

কিছু নাস্তিক্যবাদী সমালোচক কুরআনের বৈজ্ঞানিক বর্ণনাগুলোকে অবমূল্যায়ন করে দাবি করে এগুলো সপ্তম শতাব্দীর পৌরাণিক কল্পকাহিনী। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার কুরআনের প্রতিটি আয়াতের অলৌকিকত্ব প্রমাণ করছে। যেমন বিগ ব্যাং বা মহাবিশ্ব সৃষ্টির সূচনা (أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا – আম্বিয়া: ৩০), পানি থেকে সকল প্রাণের সৃষ্টি, এবং সৌরজগতের কক্ষপথে পরিভ্রমণ ইত্যাদি তথ্য চৌদ্দশত বছর পূর্বে কোনো নিরক্ষর মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল।

(ج) الشبهات حول تواتر القرآن الكريم (কুরআনের তাওয়াতুর সংক্রান্ত সন্দেহ)

সংশয়বাদীরা দাবি করতে চায় যে কুরআনের কিছু আয়াত খবরে ওয়াহিদ (একক ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত) দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। অথচ উম্মতের ঐকমত্য হলো আল-কুরআনের প্রতিটি আয়াত ও শব্দ ‘মুতাওয়াতির’ অর্থাৎ প্রতিটি যুগে এমন বিপুল সংখ্যক সাহাবী, তাবেয়ী ও হাফেজ তা বর্ণনা ও তিলাওয়াত করেছেন যাদের সবার পক্ষে মিথ্যা বা ভুলের ওপর একমত হওয়া যুক্তিগতভাবেই অসম্ভব। শায বা একক কিরআত কোনো অবস্থাতেই কুরআন হিসেবে গণ্য হয় না; সমগ্র কুরআন অকাট্য তাওয়াতুর দ্বারা সংরক্ষিত।

(د) الشبهات حول حقوق النساء في القرآن الكريم (কুরআনে নারীর অধিকার সংক্রান্ত সন্দেহ)

পশ্চিমা নারীবাদী ও ইসলামবিদ্বেষীরা বহুবিবাহ, উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে অংশ বণ্টন এবং হিজাবের বিধান টেনে এনে ইসলামকে নারী-অধিকার হরণকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে অপচেষ্টা চালায়। বস্তুত ইসলামই জাহেলী যুগে জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাশিশুকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে এবং সম্পত্তিতে নারীর সুনির্দিষ্ট আইনি অধিকার নিশ্চিত করেছে। উত্তরাধিকার আইনে পুরুষের দ্বিগুণ অংশের বিধানের কারণ হলো পরিবারের সকল ভরণপোষণ ও মোহরানার যাবতীয় অর্থনৈতিক দায়দায়িত্ব পুরুষের ওপর অর্পিত; নারীর সমুদয় অর্থ-সম্পদ তাঁর সম্পূর্ণ নিজস্ব ও দায়মুক্ত। ইসলাম নারীকে দিয়েছে নিরাপত্তা, সম্ভ্রম ও জান্নাতের সোপান।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ‘দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ’ কোর্সের মূল উদ্দেশ্য কী?

আল-কুরআনুল কারীমের সত্যতা ও ঐশী মর্যাদার বিরুদ্ধে প্রাচ্যবিদ ও ইসলামবিরোধীদের উত্থাপিত অমূলক সংশয়সমূহ কুরআন-সুন্নাহ ও বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তির আলোকে খণ্ডন করাই এ বিষয়ের মূল লক্ষ্য।

২. প্রাচ্যবিদরা কেন ওহী নাযিলকে মৃগীরোগ বা মস্তিষ্কের রোগ আখ্যা দেয়?

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত ও ঐশী যোগাযোগকে অস্বীকার করে একে কেবল পার্থিব স্নায়বিক বিকার হিসেবে প্রতিপন্ন করার কুৎসিত অপচেষ্টা হিসেবে তারা এই ভিত্তিহীন দাবি তোলে।

৩. কুরআন সংকলনে হযরত উসমান (রা.)-এর মূল অবদান কী ছিল?

তিনি উপভাষাগত বিভেদ ও বিভ্রান্তি দূর করতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে কুরাইশ ভাষার প্রামাণ্য নুসখার ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন এবং প্রামাণ্য মুসহাফ সর্বত্র প্রেরণ করেন।

৪. নাসখ বা বিধান রহিতকরণ কি আল্লাহর সিদ্ধান্তের অপূর্ণতা প্রমাণ করে?

না, এটি বান্দার মানসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মহান আল্লাহর বিশেষ প্রজ্ঞাপূর্ণ তারবিয়াত ও পর্যায়ক্রমিক সহজীকরণ নীতি, যা পূর্বনির্ধারিত ঐশী পরিকল্পনারই অংশ।

৫. কুরআনে ব্যাকরণগত ভুল থাকার দাবি কেন অযৌক্তিক?

কারণ কুরআন হলো আরবি ভাষার বিশুদ্ধতম মানদণ্ড, যা দেখে পরবর্তীকালে নাহুর নিয়মাবলি সংকলিত হয়েছে; তদুপরি সমকালীন চরম বিরোধী আরব কবিরাও এর কোনো ভুল ধরতে সক্ষম হয়নি।

৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য এ বিষয়ের প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?

প্রতিটি শুবুহাত বা সন্দেহের মূল বক্তব্য চিহ্নিত করে তার বিপরীতে কুরআনের আয়াত, সহীহ হাদীস এবং বালাগাত ও যুক্তিভিত্তিক খণ্ডনগুলো পয়েন্ট আকারে আত্মস্থ করা আবশ্যক।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *