জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-আক্বাইদুল ইসলামিয়্যাহ (Al-Aqaidul Islamiyyah) – 201305, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫১ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ۲۰۲۱ م
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الفرق الإسلامية وعقائدها
[আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আকাইদুহা]
বিষয় কোড: ২০১৩০৫ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) : [ক-বিভাগ (রচনামূলক)]

أجب عن أربعة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ١٥ درجة) :
[নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫) :]


১. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিমের জীবনে আক্বীদার গুরুত্ব

السؤال:
١- تحدث عن أهمية العقيدة فى حياة المسلم فى ضوء القرآن والسنة-

[কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুসলমানের জীবনে আক্বীদাহর গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
ইসলামের সামগ্রিক সৌধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশুদ্ধ আক্বীদার ওপর। আক্বীদা হলো গাছের মূল শিকড় আর নামায, রোযা ও অন্যান্য নেক আমল হলো তার শাখা-প্রশাখা। শিকড়হীন গাছ যেমন টিকে থাকতে পারে না, তেমনি বিশুদ্ধ আক্বীদাবিহীন কোনো আমলও আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।

পবিত্র কুরআনের আলোকে আক্বীদার অপরিসীম গুরুত্ব:

১. আমল কবুল হওয়ার একমাত্র ভিত্তি: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, শিরকমুক্ত ঈমান ও আকিদা না থাকলে দুনিয়ার সমস্ত আমল ধূলিসদৃশ হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে: “যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের কৃতকর্মসমূহ সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যেত।” (সূরা আল-আনআম: ৮৮)। সূরা আয-যুমারে বলা হয়েছে: “যদি তুমি শিরক করো, তবে অবশ্যই তোমার আমল বাতিল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
২. সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য তাওহীদ বাস্তবায়ন: মানব ও জিন সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো এক আল্লাহর দাসত্ব ও বিশ্বাস কায়েম করা (সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬)।
৩. পরকালীন মুক্তি ও চিরস্থায়ী নাজাত: জাহান্নামের অনন্ত আযাব থেকে চিরতরে মুক্তি এবং জান্নাত লাভের চাবিকাঠি হলো বিশুদ্ধ তাওহীদী আকিদা। সূরা আন-নিসার ৪৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।”

হাদিস শরীফের আলোকে আক্বীদার গুরুত্ব:

১. সর্বপ্রধান ও সর্বোত্তম আমল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উত্তর দিলেন: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি দৃঢ় ঈমান আনয়ন করা।” (সহীহ বুখারী)।
২. জান্নাত নিশ্চিতকরণ: সহীহ মুসলিমে হযরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল যে সে মনে-প্রাণে জানত আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
৩. নৈতিক চরিত্র ও অন্তরের প্রশান্তি: সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে—তা হলো অন্তর; অন্তর যদি বিশুদ্ধ আক্বীদা ও তাকওয়ায় শুদ্ধ হয় তবে গোটা শরীর ও চরিত্র শুদ্ধ থাকে। বিশুদ্ধ আকিদা একজন মুসলিমকে আল্লাহর সার্বক্ষণিক সান্নিধ্য ও মানসিক অবিচলতা দান করে।


২. সাহাবায়ে কিরামের যুগে আত্মপ্রকাশকারী ভ্রান্ত দলসমূহ ও তাদের প্রেক্ষাপট

السؤال:
٢- ما الفرق الضلالة التى ظهرت فى عهد الصحابة (رض)؟ اذكر خلفية ظهورها ونشاطاتها موجزًا-

[সাহাবায়ে কেরামের যুগে আত্মপ্রকাশ করা ভ্রান্ত দলগুলো কী কী? তাদের আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপট ও কার্যক্রম সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রথম ভাগে উম্মাহর মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্য বিদ্যমান ছিল। কিন্তু হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতের শেষার্ধে এবং হযরত আলী (রা.)-এর খেলাফতকালে কিছু রাজনৈতিক বিরোধ ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রের গর্ভ থেকে সর্বপ্রথম কয়েকটি বিভ্রান্ত দলের জন্ম হয়।

সাহাবাদের যুগে আত্মপ্রকাশকারী প্রধান তিনটি দল:

১. আল-খাওয়ারিজ (الخوارج – খারেজী সম্প্রদায়):
প্রেক্ষাপট: ৩৭ হিজরিতে সিফফীনের যুদ্ধে রক্তপাত এড়ানোর জন্য হযরত আলী (রা.) ও মুআবিয়া (রা.) যখন সালিশি বা তাহকীম মেনে নেন, তখন আলী (রা.)-এর দল থেকে একদল চরমপন্থী সৈনিক বের হয়ে যায়। তারা কূফার ‘হারূরা’ নামক স্থানে একত্রিত হয়।
কার্যক্রম: তারা ‘লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কারো বিধান দেওয়ার অধিকার নেই) স্লোগান দিয়ে হযরত আলী, মুআবিয়া, আমর ইবনুল আস (রা.) সহ সালিশি মান্যকারী সমস্ত সাহাবিকে কাফের ঘোষণা করে। তারা কবিরা গুনাহগারকে কাফের ফতোয়া দেয় এবং সাধারণ নিরপরাধ মুসলিম ও সাহাবিদের হত্যা করে রক্তপাত ঘটায়। পরিশেষে খারেজী ঘাতক ইবনে মুলজাম হযরত আলী (রা.)-কে নির্মমভাবে শহীদ করে।

২. আশ-শিয়া (الشيعة বা সাবায়িয়্যাহ):
প্রেক্ষাপট: ইয়েমেনি ইহুদি আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার গোপন ষড়যন্ত্রে হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং পরবর্তীতে আলী (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসার চরম সীমালঙ্ঘন করে এ দলের বীজ রোপিত হয়।
কার্যক্রম: তারা দাবি করে যে হযরত আলী (রা.) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সরাসরি অসিয়তকৃত খলিফা। উগ্র শিয়ারা আবু বকর ও উমর (রা.)-এর খেলাফতকে অন্যায় দাবি করে সাহাবাদের গালি দেয় এবং চরমপন্থীরা আলীকে খোদায়ী মর্যাদায় আসীন করতে চায় (যাদের হযরত আলী আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দিয়েছিলেন)।

৩. আল-ক্বাদরিয়্যাহ (القدرية – তাকদীর অস্বীকারকারী দল):
প্রেক্ষাপট: সাহাবাদের যুগের শেষভাগে বসরার মা’বাদ আল-জুহানী ও গায়লান দিমাশক্বী সর্বপ্রথম তাকদীর অস্বীকার করে নতুন ফিতনা সৃষ্টি করে।
কার্যক্রম: তারা দাবি করে যে আল্লাহর কোনো পূর্বনির্ধারিত তাকদীর নেই; মানুষ তার কাজের একক স্রষ্টা এবং কাজ ঘটার পরই কেবল আল্লাহ তা জানতে পারেন (الأمر أُنُف)। প্রবীণ সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) এই দলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন।


৩. খারেজী সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও বিশ্বাসগত প্রতিক্রিয়া

السؤال:
٣- تحدث عن الاضطرابات السياسية والتداعيات العقدية التى أحدثتها فرقة الخوارج فى المجتمع الإسلامي موضحًا-

[খারেজী সম্প্রদায় মুসলিম সমাজে যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও বিশ্বাসগত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল তা বিশদভাবে আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
ইসলামের ইতিহাসে খারেজীরা হলো প্রথম চরমপন্থী তাকফীরবাদী সশস্ত্র দল, যাদের অন্ধ ধর্মান্ধতা মুসলিম সমাজকে শতাব্দীর পর শতাব্দী রক্তাক্ত করেছে।

খারেজীদের দ্বারা সৃষ্ট রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাসমূহ:

১. বৈধ খেলাফতের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ: তারা আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (রা.)-এর খেলাফত অস্বীকার করে কূফার কাছে পৃথক সামরিক ক্যাম্প গড়ে তোলে এবং উম্মাহর বৈধ রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
২. নাহরাওয়ানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ (৩৮ হি.): হযরত আলী (রা.) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে পাঠিয়ে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তাদের প্রায় অর্ধেককে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু উগ্র বাকি অংশ যখন নিরপরাধ সাহাবি খাব্বাব ইবনুল আরাত (রা.) ও তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে, তখন আলী (রা.) নাহরাওয়ানের ময়দানে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের চূর্ণ করেন।
৩. পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা ও রাষ্ট্রনায়কদের হত্যা: নাহরাওয়ানের পরাজয়ের পর তারা মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য পরিকল্পনা করে একই দিনে হযরত আলী, হযরত মুআবিয়া ও হযরত আমর ইবনুল আস (রা.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এর ফলে হযরত আলী (রা.) শাহাদাতবরণ করেন।
৪. উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগে ক্রমাগত গৃহযুদ্ধ: নাফে ইবনুল আজরাক্ব (আজারেকা) ও নাজাত ইবনে আমেরের নেতৃত্বে খারেজীরা পরবর্তী একশত বছর মুসলিম জনপদে গেরিলা আক্রমণ, লুটতরাজ ও রক্তপাত অব্যাহত রেখেছিল।

খারেজীদের বিশ্বাসগত প্রতিক্রিয়া ও আকিদাগত বিভ্রান্তি:

১. তাকফীর বা ঢালাও কাফের ফতোয়া: তারা ঘোষণা করে যে কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি সরাসরি কাফের ও মুরতাদ। কোনো তওবা ব্যতীত সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
২. মুসলিমদের রক্ত ও সম্পদ হালাল মনে করা: তাদের আকিদা অনুযায়ী যে ব্যক্তি তাদের দলভুক্ত নয়, সে কাফের; ফলে তার জান ও মাল ছিনিয়ে নেওয়া বৈধ। অথচ তারা অমুসলিম জিম্মিদের অধিকার রক্ষার ভণ্ডামি করত।
৩. কুরআনের আক্ষরিক অপব্যাখ্যা: তারা গভীর ইলম না রেখে কুরআনের সাধারণ রূপক আয়াতগুলোকে নিজেদের উগ্র রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করত, যার কারণে আলী (রা.) বলেছিলেন: “বাক্যটি সত্য কিন্তু উদ্দেশ্য চরম বাতিল!”


৪. মু’তাজিলা সম্প্রদায়ের পরিচয়, তাদের মৌলিক পাঁচটি মূলনীতি ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ

السؤال:
٤- عرف المعتزلة ثم اذكر أصول عقائدهم وكتبهم المشهورة-

[মু’তাজিলা সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও। অতঃপর তাদের মৌলিক আকিদাহ ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ উল্লেখ কর।]

মু’তাজিলাদের পরিচয়:
মু’তাজিলা হলো হিজরি দ্বিতীয় শতকের সূচনালগ্নে বসরার প্রখ্যাত তাবেয়ী ইমাম হাসান আল-বসরী (রহ.)-এর জ্ঞান মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ওয়াসিল ইবনে আতা ও আমর ইবনে উবায়দ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধর্মতাত্ত্বিক দল। ওহির ওপর মানুষের মানবীয় বুদ্ধি ও যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়াই ছিল এদের মূল বৈশিষ্ট্য।

তাদের মৌলিক পাঁচটি আক্বীদা বা মূলনীতি (الأصول الخمسة):

১. আত-তাওহীদ (التوحيد): তাওহীদ রক্ষার নামে তারা আল্লাহর সমস্ত চিরন্তন সিফাত বা সত্তাগত গুণাবলি (যেমন—ইলম, কুদরত, কালাম ইত্যাদি) অস্বীকার করে এবং কুরআনকে আল্লাহর সৃষ্টি (মাখলুক) দাবি করে এবং পরকালে মুমিনদের আল্লাহর চাক্ষুষ দর্শন অসম্ভব বলে দাবি করে।
২. আল-আদল (العدل – ন্যায়বিচার): তাদের মতে মানুষ তার কর্মের স্বাধীন একক স্রষ্টা। ভালো ও মন্দ কাজের সাথে আল্লাহর ইচ্ছার কোনো সম্পর্ক নেই; কারণ পাপ সৃষ্টি করলে আল্লাহ অন্যায়কারী হবেন বলে তারা বিভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে।
৩. আল-ওয়াদ ওয়াল ওয়াইদ (الوعد والوعيد – প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী): তাদের মতে নেককারকে জান্নাত দেওয়া এবং কবিরা গুনাহগারকে জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া আল্লাহর ওপর অপরিহার্য ও বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব)। আল্লাহ চাইলে কোনো কবিরা গুনাহগারকে ক্ষমা করতে পারেন—এ বিশ্বাস তারা অস্বীকার করে।
৪. আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (المنزلة بين المنزلتين): কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি মুমিনও থাকে না আবার কাফেরও হয় না; বরং সে ঈমান ও কুফরের মধ্যবর্তী এক স্বতন্ত্র স্তরে (ফাসিক অবস্থায়) অবস্থান করে। তবে তওবা ছাড়া মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
৫. আল-আমরু বিল মা’রুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার: প্রয়োজনে তরবারি ও সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে শাসকের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করে নিজেদের মতবাদ চাপিয়ে দেওয়াকে তারা এর অংশ মনে করত।

মু’তাজিলাদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ:

১. ‘কিতাবুল ইন্টিস্নার’ (كتاب الانتصار): আবুল হুসাইন আল-খাইয়্যাত রচিত।
২. ‘আল-মুগনী ফী আবওয়াবিত তাওহীদ ওয়াল আদল’ (المغني): কাযী আব্দুল জব্বার আল-হামাযানী রচিত সুবিশাল গ্রন্থ।
৩. ‘শারহু উসূলিল খামসাহ’ (شرح الأصول الخمسة): কাযী আব্দুল জব্বার রচিত মূল আকিদার ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
৪. ‘আল-কাশশাফ’ (الكشاف): আল্লামা আবুল কাসিম যামাখশারী রচিত বিশ্ববিখ্যাত আলঙ্কারিক তাফসীর গ্রন্থ (যাতে মু’তাজিলা আকিদার সূক্ষ্ম সমাবেশ ঘটেছে)।


৫. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পরিচয় এবং আশআরিয়্যাহ ও মাতুরিদিয়্যাহ সম্প্রদায়

السؤال:
٥- من أهل السنة والجماعة؟ وما الأشعرية والماتريدية؟ بين موضحًا-

[আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত কারা? আশয়ারিয়্যাহ ও মাতুরিদিয়্যাহ কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পরিচয়:
‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত’ হলো মুসলিম উম্মাহর মূলধারা ও সর্ববৃহৎ অংশ (আস-সাওয়াদুল আযম)। যারা বিশ্বাস ও কর্মের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং খোলাফায়ে রাশেদীনসহ সম্মানিত সাহাবায়ে কিরামের সর্বসম্মত আদর্শের ওপর অবিচল রয়েছে, তাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ৭৩ দলের হাদিসে এদেরকেই ‘নাজাতপ্রাপ্ত দল’ (الفرقة الناجية) বলে ঘোষণা করেছেন।

আল-আশআরিয়্যাহ (الأشعرية):

১. প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশআরী (রহ.) (২৬০-৩২৪ হি.)। তিনি বিখ্যাত সাহাবি হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.)-এর বংশধর। প্রথম জীবনে তিনি ৪০ বছর মু’তাজিলা ছিলেন; পরবর্তীতে সত্যের সন্ধান পেয়ে মু’তাজিলা মতবাদ ত্যাগ করে কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে যুক্তিভিত্তিক আহলে সুন্নাতের আকিদা প্রতিষ্ঠা করেন।
২. বৈশিষ্ট্য: মু’তাজিলাদের অযৌক্তিক দর্শনের বিপরীতে কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুস্থ যুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে সুন্নাহর পক্ষে মজবুত দুর্গ গড়ে তোলেন। ইমাম গাযযালী, ইমাম বাকেল্লানী, ইমাম রাযী, ইবনে আসাকির ও ইমাম নববী (রহ.) এই ধারার অনুসারী ছিলেন। শাফেয়ী ও মালেকী মাযহাবের অধিকাংশ আলেম আশআরী আকিদার ধারক।

আল-মাতুরিদিয়্যাহ (الماتريدية):

১. প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাতুরিদী আস-সামারকান্দী (রহ.) (মৃত্যু ৩৩৩ হি.)। তিনি মধ্য এশিয়ার সমরকন্দের ‘মাতুরিদ’ মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
২. বৈশিষ্ট্য: তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ‘আল-ফিকহুল আকবার’ এবং হানাফী সালাফগণের আকিদাকে যুক্তি ও প্রমাণের আলোকে সুবিন্যস্ত করেন। মধ্য এশিয়া, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হানাফী ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণের বিশাল অংশ মাতুরিদী ধারার অনুসারী।
উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক: আশআরিয়্যাহ ও মাতুরিদিয়্যাহর মধ্যে কোনো মৌলিক আকিদাগত বিরোধ নেই; কেবল কয়েকটি পারিভাষিক ও শাখাগত বিষয়ে সামান্য মতভেদ রয়েছে। এ দুটি ধারা সালাফে সালেহীনের আকিদাকে রক্ষা করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মূল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাচীর হিসেবে ইতিহাসজুড়ে দায়িত্ব পালন করেছে।


৬. ‘আহলে কুরআন’ (কুরআনবাদী) সম্প্রদায়ের পরিচয়, ভ্রান্ত আক্বীদা ও আহলে সুন্নাতের অবস্থান

السؤال:
٦- من أهل القرآن؟ وما عقيدتهم؟ بين موقف أهل السنة والجماعة منهم-

[আহলে কুরআন কারা? তাদের আক্বীদাহ কী? তাদের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অবস্থান আলোচনা কর।]

‘আহলে কুরআন’ সম্প্রদায়ের পরিচয়:
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় হাদিস ও সুন্নাহকে অস্বীকারকারী একটি নব্য বিভ্রান্ত দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে, যারা নিজেদের প্রতারণামূলকভাবে ‘আহলে কুরআন’ (কুরআনবাদী) নামে পরিচয় দেয়। এদের প্রধান নেতাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ চকড়ালবী, আহমদ দ্বীন অমৃতসরী এবং পরবর্তীতে গোলাম আহমদ পারভেজ উল্লেখযোগ্য।

তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ:

১. সুন্নাহ ও হাদিসকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার: তাদের দাবি হলো, ইসলামে একমাত্র প্রমাণ্য বিধান হলো কুরআন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস কোনো শরয়ী হুজ্জত বা দলিল নয়; হাদিস মানা যাবে না।
২. শরিয়তের বিধানাবলিকে বাতিল করা: হাদিস অস্বীকার করার ফলে তারা নামাযের ওয়াক্ত, রাকাত সংখ্যা, রুকু-সেজদার নিয়ম, নামাযের তাসবীহ, যাকাতের নিসাব ও হজের আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছু নিজেদের মনগড়া যুক্তিতে ব্যাখ্যা করে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। যেমন তারা দাবি করে নামায কেবল সমাজকল্যাণমূলক আলোচনা সভা বা মিটিং।
৩. রাসূল (সা.)-এর মর্যাদাহানি: তাদের মতে রাসূল (সা.) কেবল একজন সাধারণ বার্তাবাহক ছিলেন, কুরআন পৌঁছানোর পর ব্যক্তিগতভাবে তাঁর আর কোনো আনুগত্যের প্রয়োজন নেই।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থান:

১. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী: রাসূলুল্লাহ (সা.) চৌদ্দশত বছর পূর্বেই এদের সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছিলেন: “সাবধান! এমন এক সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার কাছে আমার কোনো হাদিস পৌঁছলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট, এতে যা হালাল পেয়েছি তা-ই হালাল মানি আর যা হারাম পেয়েছি তা-ই হারাম মানি। সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই মতো শাশ্বত!” (আবু দাউদ, তিরমিযী)।
২. সর্বসম্মত কাফের ফতোয়া: পবিত্র কুরআনে শত শত আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।” (সূরা আল-হাশর: ৭)। অতএব, সহীহ সুন্নাহকে সম্পূর্ণ অস্বীকারকারী ব্যক্তি সরাসরি কুরআনের নির্দেশকেই অস্বীকার করে। ফলে সমস্ত মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এই তথাকথিত ‘আহলে কুরআন’ দলভুক্ত ব্যক্তিরা কাফের ও ইসলামের গণ্ডি বহির্ভূত।


مجموعة (ب) : [খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত)]

أجب عن أربعة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ٥ درجات) :
[নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫) :]


৭. অনৈক্য ও বিভেদের নিন্দায় কুরআনের তিনটি আয়াত ও অনুবাদ

السؤال:
٧- اكتب ثلاث آيات قرآنية في ذم الافتراق والاختلاف مع ترجمتها باللغة البنغالية-

[অনৈক্য ও বিভেদের প্রতি নিন্দাসূচক কুরআনের তিনটি আয়াত অর্থসহ লেখ:]

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য, দলবাজি ও বিভেদ সৃষ্টিকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন:

১. সূরা আলে ইমরান: ১০৩
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا
[আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে (কুরআন ও দ্বীনকে) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না।]

২. সূরা আল-আনআম: ১৫৯
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ
[নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোনো কাজের সাথেই আপনার কোনো সম্পর্ক নেই।]

৩. সূরা আল-আনফাল: ৪৬
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ
[আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে কলহ-বিবাদে লিপ্ত হয়ো না; অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।]


৮. শিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান প্রধান শাখা ও উপদল

السؤال:
٨- تحدث عن فروع الشيعة موجزًا-

[শিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শাখা ও উপদল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর:]

ইতিহাসে শিয়া সম্প্রদায় বহু উপদলে বিভক্ত হয়েছে। আল্লামা শাহরাস্তানী ও ইমাম আশআরীর মতে এদের প্রধান তিনটি শাখা হলো:
১. আল-ইমামিয়্যাহ বা ইসনা আশারিয়া (الإمامية الاثنا عشرية): এটি শিয়াদের সবচেয়ে বৃহৎ ও মূল ধারা (ইরান, ইরাক ও লেবাননের শিয়া)। তারা বারো জন নিষ্পাপ ইমামে বিশ্বাস করে এবং দ্বাদশ ইমাম অদৃশ্য গুহায় মাহদী রূপে আত্মগোপন করে আছেন বলে দাবি করে।
২. আল-ইসমাঈলিয়্যাহ বা সাবয়িয়্যাহ (الإسماعيلية): যারা ষষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সাদিকের পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাইলকে সপ্তম ইমাম মানে। এরা বাতেনী ব্যাখ্যার নামে শরিয়ত রহিত দাবি করে। এদের বর্তমান নেতা আগা খান।
৩. আয-যায়দিয়্যাহ (الزيدية): ইমাম যায়েদ ইবনে আলীর অনুসারী (ইয়েমেনের শিয়া)। এরা শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে মধ্যপন্থী। তারা আবু বকর ও উমর (রা.)-এর খেলাফতকে স্বীকার করে এবং কোনো উগ্র তাকফীরে বিশ্বাস করে না।


৯. বাহায়ী সম্প্রদায়ের পরিচয় ও তাদের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ

السؤال:
٩- عرف البهائية ثم بين عقائدها الأساسية-

[বাহায়ী সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও। অতঃপর তাদের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ বর্ণনা কর:]

পরিচয়:
বাহায়ী সম্প্রদায় হলো ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইরানে শিয়া বাতেনী মতবাদের গর্ভ থেকে হুসাইন আলী নূরী (যিনি নিজেকে ‘বাহাউল্লাহ’ বা আল্লাহর জ্যোতি দাবি করেন)-এর মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি ইসলামত্যাগী নতুন ধর্মীয় গোষ্ঠী।

মৌলিক বিশ্বাসসমূহ:
১. নবুওয়াতের দাবি ও খতমে নবুওয়াত অস্বীকার: তারা বিশ্বাস করে বাহাউল্লাহ সমস্ত ধর্মের মূল প্রতিশ্রুত অবতার এবং মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী নন।
২. নতুন কিতাব ও শরিয়ত: কুরআনের হুকুম রহিত দাবি করে তারা বাহাউল্লাহর রচিত ‘কিতাবুল আকদাস’ মান্য করে।
৩. নতুন কিবলা ও উপাসনা: মক্কার কাবার পরিবর্তে ইসরাইলের হাইফা/আক্কা নগরীতে তাদের বাহাউল্লাহর মাযারকে কিবলা মানে এবং ১৯ দিনে এক মাস ধরে বছরে ১৯ দিনের রোযা পালন করে। মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তারা সম্পূর্ণ কাফের ও অমুসলিম।


১০. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কাদিয়ানিদের খতমে নবুওয়াত অস্বীকারের খণ্ডন

السؤال:
١٠- فَنّد عقيدة القاديانية فى ختم النبوة مدعمًا بالأدلة من القرآن والسنة-

[কুরআন ও হাদিসের প্রমাণসহ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ‘খতমে নবুওয়াত’ বিষয়ক আক্বীদাহ খণ্ডন কর:]

মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি নিজেকে বুরুযী নবী দাবি করে খতমে নবুওয়াতের অকাট্য আকিদাকে অস্বীকার করেছে। কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা এর সমুচিত খণ্ডন:

১. কুরআনিক দলিল:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ইরশাদ করেছেন:
“مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ”
(মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী—খাতামুন নাবিয়্যীন)। আরবি ভাষার অকাট্য ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘খাতাম’ অর্থ মোহর বা যা দিয়ে কোনো কিছুর সমাপ্তি টানা হয়। অর্থাৎ তাঁর মাধ্যমে নবুওয়াতের প্রাসাদের সমাপ্তি ঘটেছে।

২. সুন্নাহর দলিল:
– সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মুতাওয়াতির হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই রিসালাত ও নবুওয়াত সমাপ্ত হয়ে গেছে; অতএব আমার পরে কোনো রাসূলও নেই এবং কোনো নবীও নেই।”
– তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন: “আনা খাতামুন নাবিয়্যীন, লা নাবিয়্যা বাদী” (আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না)। অতএব কাদিয়ানিদের নবুওয়াতের দাবি কুরআন-সুন্নাহর সাথে প্রকাশ্য কুফরি।


১১. তাকদীরের প্রশ্নে জাবারিয়া ও মুরজিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যকার পার্থক্য

السؤال:
١١- ما الفرق بين الجبرية والمرجئة فى الإيمان بالقدر؟ بين موضحًا-

[তাকদিরের প্রতি বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ‘জাবারিয়া’ ও ‘মুরজিয়া’ সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর:]

তাকদীর ও মানুষের কর্মের স্বাধীন ইচ্ছা নিয়ে সালাফদের যুগের পর দুটি চরমপন্থী দলের সৃষ্টি হয়:
১. আল-জাবারিয়্যাহ (الجبرية): এদের নেতা জাহম ইবনে সাফওয়ান। তারা বিশ্বাস করে মানুষের কোনো স্বাধীন ইচ্ছা বা কর্মক্ষমতা (ইখতিয়ার) নেই। মানুষ সম্পূর্ণ বাধ্য (মাজবুর); বাতাসে শুকনো পাতা যেভাবে ওড়ে মানুষও সেভাবে কর্ম করতে বাধ্য। তারা তাকদীরের চরম অপব্যাখ্যা করে মানুষের সমস্ত পাপের দায় আল্লাহর ওপর চাপিয়ে দেয়।
২. আল-মুরজিয়াহ (المرجئة): এরা ঈমান ও আমলকে সম্পূর্ণ পৃথক মনে করে। তাদের মতে, অন্তরে কেবল বিশ্বাস থাকলেই ঈমান পূর্ণ হয়ে যায়, কোনো আমলের প্রয়োজন নেই। ঈমান থাকলে কোনো পাপকাজে ক্ষতি হয় না (لا يضر مع الإيمان معصية)।
তাকদীরের ক্ষেত্রে পার্থক্য: জাবারিয়ারা মানুষের দায়িত্বহীনতাকে তাকদীরের চূড়ান্ত বাধ্যবাধকতা বলে প্রমাণ করতে চায়; আর মুরজিয়ারা পাপী বান্দার শাস্তিকে স্থগিত (ইরজা) করে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয় এবং আমলকে মূল্যহীন মনে করে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত উভয়ের মধ্যবর্তী সঠিক পথ অবলম্বন করে—মানুষের সীমিত ইচ্ছা ও কর্মক্ষমতা রয়েছে এবং তদানুযায়ী পরকালে বিচার হবে।


১২. আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (আসমা ওয়া সিফাত) সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের আকিদা

السؤال:
١٢- ما عقيدة أهل السنة والجماعة فى أسماء الله وصفاته؟ اذكر مفصلا-

[আল্লাহর নাম ও সিফাতের বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদাহ কী? বিস্তারিত আলোচনা কর:]

মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ (আসমাউল হুসনা) এবং তাঁর শাশ্বত গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নীতি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের মূলনীতি হলো:
“لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ” (কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।—সূরা আশ-শূরা: ১১)।

আহলে সুন্নাতের মূল চারটি মূলনীতি:
১. ইসবাত বা বিশ্বাস স্থাপন (الإثبات بلا تمثيل): কুরআন ও সহীহ সুন্নাহে আল্লাহর যে সমস্ত নাম ও গুণাবলি (যেমন—ইলম, কুদরত, হাত, চেহারা, আরশে সমাসীন হওয়া ইত্যাদি) সাব্যস্ত হয়েছে, তার প্রতি কোনো প্রকার সৃষ্টি বা মানুষের সাথে সাদৃশ্য না দিয়ে আল্লাহর মর্যাদার উপযোগী হিসেবে বিশ্বাস স্থাপন করা।
২. তাতীল বা অস্বীকার বর্জন (بلا تعطيل): জাহমিয়া বা মু’তাজিলাদের মতো আল্লাহর গুণাবলিকে অর্থহীন বা রূপক বলে উড়িয়ে না দেওয়া।
৩. তাকয়ীফ বা ধরণ অনুসন্ধান বর্জন (بلا تكييف): আল্লাহর গুণের ধরণ বা ‘কাইফিয়াত’ কেমন তা মানুষ জানতে পারে না; কারণ সৃষ্টির বুদ্ধি আল্লাহর স্বরূপ পরিবেষ্টন করতে পারে না। ইমাম মালিক (রহ.) বলেছিলেন: “ইস্তিওয়া (আরশে ওঠা) জানা আছে, কিন্তু এর কাইফিয়াত মানুষের বুদ্ধির অগম্য, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ নিয়ে গভীর প্রশ্ন করা বিদআত।”
৪. তাহরীফ বা বিকৃতি বর্জন (بلا تحريف): কোনো আয়াতের প্রকাশ্য শব্দার্থকে অপব্যাখ্যা করে বিকৃত না করা।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ৩য় বর্ষের আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ (২০১৩০৫) পরীক্ষার মান বণ্টন কেমন?

আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ পরীক্ষায় মোট পূর্ণমান ৮০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ‘ক’ বিভাগে ৬টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন থেকে ৪টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ১৫ নম্বর = ৬০ নম্বর); এবং ‘খ’ বিভাগে ৬টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থেকে ৪টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ৫ নম্বর = ২০ নম্বর)।

২. খারেজী সম্প্রদায়ের প্রধান রাজনৈতিক ও আকিদাগত বিভ্রান্তি কী ছিল?

খারেজীদের মূল ভ্রান্তি ছিল সিফফীনের সালিশি মানার কারণে হযরত আলী (রা.)-কে কাফের ঘোষণা করা এবং কবিরা গুনাহগার যে কোনো মুসলিমকে কাফের ও চিরস্থায়ী জাহান্নামী ফতোয়া দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে রক্তপাত ও বিদ্রোহকে ধর্মীয় কর্তব্য মনে করা।

৩. মু’তাজিলা সম্প্রদায়ের ‘পাঁচটি মূলনীতি’ কী কী?

মু’তাজিলাদের আকিদার মূল পাঁচটি স্তম্ভ হলো: ১. আত-তাওহীদ (আল্লাহর সিফাত অস্বীকার), ২. আল-আদল (মানুষের নিজ কর্মের একক স্রষ্টা হওয়া), ৩. আল-ওয়াদ ওয়াল ওয়াইদ (প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক মনে করা), ৪. আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (কবিরা গুনাহগারের মধ্যবর্তী অবস্থান), এবং ৫. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ।

৪. তথাকথিত ‘আহলে কুরআন’ দলটি কেন ইসলামের মূলধারা থেকে বিচ্যুত?

এই দলটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহীহ সুন্নাহ ও হাদিসকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। সুন্নাহ অস্বীকার করার কারণে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামায, নামাযের রাকাত, যাকাত ও শরিয়তের সমস্ত মৌলিক আমলকে বিকৃত করে বাতিল করে দেয়, যা সুস্পষ্ট কুফরি।

৫. কাদিয়ানিদের কেন অমুসলিম ও কাফের ঘোষণা করা হয়েছে?

কাদিয়ানিদের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সর্বশেষ নবী (খাতামুন নাবিয়্যীন) হওয়ার মৌলিক আকিদা অস্বীকার করে নিজেকে নবী দাবি করেছিল। খতমে নবুওয়াত অস্বীকার করায় সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তারা কাফের।

৬. আল্লাহর সিফাত বা গুণের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা কী?

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বিশ্বাস করে যে কুরআন ও সুন্নাহে আল্লাহর যে সমস্ত সিফাত সাব্যস্ত হয়েছে, সেগুলোর প্রতি কোনো প্রকার রূপক বিকৃতি (তাহরীফ), অস্বীকার (তাতীল), সৃষ্টির সাথে তুলনা (তামসীল) বা ধরণ নির্ধারণ (তাকয়ীফ) ছাড়াই আল্লাহর শানের উপযুক্ত হিসেবে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *