اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ۲۰۲۱ م
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة الحديث
[দিরাসাতুল হাদিস]
বিষয় কোড: ২০১৩০৪ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) : [ক-বিভাগ (হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন)]
أجب عن خمسة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ١٤ درجة: الحديث ٦ + أ ٤ + ب ٤) :
[নিচের যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৪: হাদিস ৬ + ক ৪ + খ ৪) :]
১. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
الحديث:
عن ابن عباس رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس وكان أجود ما يكون فى رمضان حين يلقاه جبريل وكان يلقاه فى كل ليلة من رمضان فيدارسه القرآن فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة-
[ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল। আর রমযান মাসে তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন যখন জিব্রাঈল (আ.) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন; আর রমযানের প্রতি রাতে জিব্রাঈল (আ.) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ ও দানে মুক্ত বাতাস বা প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন।]
(الف) ما معنى الوحى؟ بين أقسامه مفصلا-
[(ক) ওহির অর্থ কী? এর প্রকারভেদসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা কর:]
ওহির শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
‘ওহি’ (الوحي) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো গোপন ইশারা, অন্তরে কোনো বার্তা প্রক্ষেপ করা এবং দ্রুত সংকেত পাঠানো। শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হিদায়াত ও পথপ্রদর্শনের নিমিত্তে তাঁর মনোনীত নবী ও রাসূলগণের ওপর যে ঐশী বাণী অবতীর্ণ করেন, তাকে ‘ওহি’ বলে।
ওহির মূল প্রকারভেদ:
১. পদ্ধতিগত দিক থেকে ওহির প্রকারভেদ (সূরা আশ-শূরা: ৫১):
– অন্তরে ইলহাম বা সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে (إلهاما أو رؤيا صادقة): জাগ্রত বা ঘুমন্ত অবস্থায় কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি নবীর অন্তরে কোনো নির্দেশ ঢেলে দেওয়া। নবীদের স্বপ্ন ওহির অন্তর্ভুক্ত।
– পর্দার অন্তরাল থেকে সরাসরি কথোপকথন (من وراء حجاب): আল্লাহ সরাসরি কথা বলেন কিন্তু কোনো চাক্ষুষ দর্শন ছাড়া অন্তরাল থেকে (যেমন হযরত মূসা আ.-এর সাথে তুর পাহাড়ে)।
– ফেরেশতার মাধ্যমে (بواسطة الملك): হযরত জিব্রাঈল (আ.) আল্লাহর নির্দেশক্রমে দৃশ্যমান বা অদৃশ্যভাবে আগমন করে ওহি পৌঁছে দিতেন।
২. শরয়ী মর্যাদা ও পাঠের দিক থেকে প্রকারভেদ:
– ওহিয়ে মাতলু (الوحي المتلو): যে ওহির শব্দ ও অর্থ উভয়টিই আল্লাহর এবং যা নামাযে তিলাওয়াত করা হয়—অর্থাৎ পবিত্র কুরআনুল কারীম।
– ওহিয়ে গায়রে মাতলু (الوحي غير المتلو): যে ওহির মূল মর্ম আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কিন্তু ভাষা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব এবং যা নামাযে তিলাওয়াত করা হয় না—অর্থাৎ হাদিসে নববী।
(ب) اشرح “كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس”-
[(খ) “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল”—এর ব্যাখ্যা কর:]
১. ‘আল-জূদ’ (الـجود)-এর তাৎপর্য: ‘জূদ’ অর্থ অকৃপণভাবে কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই অন্যকে নিজের শ্রেষ্ঠ সম্পদ অকাতরে দান করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদারহৃদয় ও দানশীল ব্যক্তিত্ব। কেউ তাঁর কাছে কোনো কিছু চাইলে তিনি কখনো ‘না’ বলতেন না।
২. রমযানের বিশেষ আধ্যাত্মিকতা ও কুরআনের প্রভাব: পবিত্র রমযান মাস রহমত ও বরকতের মাস এবং এ মাসে জিব্রাঈল (আ.)-এর সাথে কুরআন মুদারাসা (পরস্পর তিলাওয়াত ও শ্রবণ) হতো। কুরআনের বাণী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র আত্মাকে আল্লাহর ভালোবাসায় এত উদ্বেলিত করত যে তিনি অসহায় ও অভাবীদের মাঝে সর্বস্ব বিলিয়ে দিতেন।
৩. প্রবহমান বাতাসের উপমা (الريح المرسلة): মুক্ত বাতাস যেমন কোনো বাধা মানে না, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর বৃষ্টি ও স্নিগ্ধতা বর্ষণ করে, ঠিক তেমনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দান ছিল জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত অভাবীর জন্য বাধাহীন ও সর্বব্যাপী।
২. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
الحديث:
عن معاوية رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من يرد الله به خيرا يفقهه فى الدين وإنما أنا قاسم والله يعطى ولن تزال هذه الأمة قائمة على أمر الله لا يضرهم من خالفهم حتى يأتى أمر الله-
[মুআবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা ও সঠিক সমঝ দান করেন। আর নিশ্চয়ই আমি বণ্টনকারী মাত্র এবং আল্লাহই দানকারী। আর এ উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর হুকুমের ওপর সুদৃঢ় থাকবে; বিরোধিতাকারীরা তাদের কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) উপস্থিত হয়।]
(الف) عرف العلم لغة وشرعًا ثم بين أقسامه مفصلا-
[(ক) ইলমের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর:]
ইলমের সংজ্ঞা:
‘ইলম’ (العلم) শব্দের আভিধানিক অর্থ কোনো বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ জানা, উপলব্ধি করা ও অবগত হওয়া। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) প্রদত্ত কুরআন ও সুন্নাহর প্রামাণ্য জ্ঞান যা মানুষকে সৎপথ প্রদর্শন করে এবং হালাল-হারামের নির্দেশনা দেয়, তাকে ইলম বলে।
ইলমের প্রধান প্রকারভেদ:
১. ফরযে আইন (فرض عين): দ্বীনের ওই সমস্ত মৌলিক জ্ঞান যা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর ওপর ব্যক্তিগতভাবে অর্জন করা ফরজ; যেমন—আকাইদের মৌলিক বিষয়, পবিত্রতা ও নামাযের নিয়ম, যাকাতের নিসাব ও হালাল-হারামের সীমা জানা।
২. ফরযে কিফায়াহ (فرض كفاية): দ্বীনের গভীর শাস্ত্রীয় জ্ঞান ও গবেষণামূলক ইলম (যেমন—উসূলে ফিকহ, হাদিসের সনদ বিশ্লেষণ, জটিল উত্তরাধিকার আইন ইত্যাদি), যা সমাজের একদল মানুষ অর্জন করলে বাকিরা দায়মুক্ত হয়; কিন্তু কেউই অর্জন না করলে সবাই গুনাহগার হয়।
৩. মুবাহ ও প্রশংসনীয় জাগতিক বিদ্যা: চিকিৎসা বিজ্ঞান, গণিত, প্রকৌশল ও কৃষি ইত্যাদি প্রযুক্তিগত জ্ঞান যা সমাজ ও মানবজাতির কল্যাণে আবশ্যক।
৪. হারাম বা অপবিদ্যা: জাদুবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র ও কুফরি দর্শন যা মানুষের ঈমান ও সমাজের শান্তি ধ্বংস করে।
(ب) اشرح قوله صلى الله عليه وسلم : من يرد الله به خيرًا يفقهه فى الدين-
[(খ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন”—এর ব্যাখ্যা কর:]
১. ‘তাফাক্কুহ ফিদ্দীন’ (الفقه في الدين)-এর প্রকৃত অর্থ: সাধারণ তথ্য জানাকে ফিকহ বলে না; ফিকহ হলো দ্বীনের মূল উদ্দেশ্য, প্রজ্ঞা ও বিধিবিধানের অন্তর্নিহিত রহস্য উপলব্ধি করা। এর মাধ্যমে মানুষ পার্থিব মোহের ঊর্ধ্বে উঠে আখেরাতমুখী হয়।
২. খায়র বা পরম কল্যাণের চিহ্ন: ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা পার্থিব প্রাচুর্য আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়; কারণ এগুলো কাফেরদেরও দেওয়া হয়। কিন্তু খাঁটি দ্বীনি ইলম ও আমলের তাওফিক আল্লাহ কেবল তাঁর প্রিয় খাঁটি বান্দাদেরই দান করেন। যে ব্যক্তি দ্বীনের সহীহ সমঝ লাভ করেছে, সে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত শ্রেষ্ঠ কল্যাণ লাভ করেছে।
৩. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
الحديث:
عن معاذ بن جبل قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معاذ! أتدرى ما حق الله على العباد؟ قال : الله ورسوله أعلم، قال : أن يعبد الله ولا يشرك به شيئ، قال : أتدرى ما حقهم عليه إذا فعلوا ذالك، فقال : الله ورسوله أعلم، قال : أن لا يعذبهم-
[মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন: হে মুয়াজ! তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর কী অধিকার বা হক রয়েছে? আমি নিবেদন করলাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: আল্লাহর হক হলো বান্দা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না। অতঃপর বললেন: তুমি কি জানো তারা যদি তা পালন করে তবে আল্লাহর ওপর তাদের কী হক রয়েছে? আমি নিবেদন করলাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: আল্লাহর ওপর তাদের হক হলো তিনি তাদের আযাব বা শাস্তি দেবেন না।]
(الف) عرف الشرك مع بيان أقسامه مفصلًا-
[(ক) শিরকের সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর:]
শিরকের সংজ্ঞা:
‘শিরক’ (الشرك) শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা বা সমকক্ষ নির্ধারণ করা। শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সত্তা (জাত), গুণাবলি (সিফাত), ক্ষমতা ও ইবাদতের কোনো ক্ষেত্রে অন্য কোনো সৃষ্টিকে আল্লাহর সমকক্ষ বা অংশীদার মনে করাকে শিরক বলে। এটি ক্ষমার অযোগ্য সর্বপ্রধান মহাপাপ (জুলমুন আযীম)।
শিরকের প্রকারভেদ:
১. শিরকে আকবার (الشرك الأكبر বা বড় শিরক): যা মানুষকে সরাসরি ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয় এবং যার পরিণতি চিরস্থায়ী জাহান্নাম। যেমন—আল্লাহ ছাড়া কোনো পীর, কবর, গাছ বা প্রতিমাকে সেজদা করা, তাদের নামে মানত বা কুরবানি করা কিংবা কাউকে আল্লাহর মতো সন্তানদাতা বা গায়েবদাতা মনে করা।
২. শিরকে আসগার (الشرك الأصغر বা ছোট শিরক): যা কবিরা গুনাহ কিন্তু সরাসরি ঈমান নষ্ট করে না। এর মধ্যে প্রধান হলো ‘রিয়া’ (الرياء) বা লোকদেখানো আমল এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম খাওয়া।
৩. শিরকে খাফী (الشرك الخفي বা গুপ্ত শিরক): আমলের ভেতরে অলক্ষ্যে আত্মগর্ব ও প্রদর্শনেচ্ছার সংমিশ্রণ ঘটা।
(ب) اشرح قوله صلى الله عليه وسلم : ‘أن لا يعذبهم’-
[(খ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না”—এর ব্যাখ্যা কর:]
১. আল্লাহর ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই: আল্লাহর ওপর কেউ কোনো কিছু বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব) করতে পারে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নিজ দয়া ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন যে, যে বান্দা কোনো শিরক না করে একনিষ্ঠ তাওহীদের ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের আযাব দেবেন না।
২. মুত্তাকী ও গুনাহগার মুমিনের অবস্থা: কোনো মুমিন যদি শিরকমুক্ত থাকে তবে আল্লাহ চাইলে তাকে নিজ ক্ষমায় সরাসরি জান্নাত দেবেন; আর যদি কোনো কবিরা গুনাহের কারণে শাস্তি ভোগও করতে হয়, তবুও সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না, ঈমানের বরকতে পরিশেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
৪. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
الحديث:
عن أبى هريرة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال : خمس من الفطرة – الختان وحلق العانة ونتف الإبط وتقليم الأظفار وأخذ الشارب-
[আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত—খতনা করা, নাভির নিচের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা, বগলের পশম উপড়ানো বা পরিষ্কার করা, নখ কাটা এবং গোঁফ ছোট বা ছাঁটাই করা।]
(الف) ما معنى الفطرة؟ اشرح قوله صلى الله عليه وسلم “كل مولود يولد على الفطرة”-
[(ক) ফিতরাত শব্দের অর্থ কী? রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “প্রতিটি নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে”—এর ব্যাখ্যা কর:]
ফিতরাতের অর্থ:
‘ফিতরাত’ (الفطرة) শব্দের মূল অর্থ নিখুঁত সৃষ্টি, স্বভাবজাত মানবিক ধর্ম ও নিষ্কলুষ প্রকৃতি। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তাআলা মানুষকে জন্মগতভাবে যে নিষ্পাপ প্রকৃতি, তাওহীদের গ্রহণক্ষমতা ও নিষ্কলুষ স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তাকে ফিতরাত বলে।
হাদিসের তাৎপর্য:
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “প্রতিটি নবজাতক সন্তান স্বভাবজাত ধর্ম ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করে; অতঃপর তার পিতামাতাই তাকে ইহুদি বানায়, খ্রিস্টান বানায় কিংবা অগ্নিপূজক বানায়।” (সহীহ বুখারী)। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষের অন্তরে জন্মগতভাবেই সত্যকে গ্রহণ করার মানসিক বীজ রোপিত থাকে। পরবর্তী পরিবেশ ও সমাজের ভ্রান্ত প্রভাবে মানুষ দিকভ্রান্ত হয়।
(ب) اكتب نبذة من حياة أبى هريرة رضى الله عنه-
[(খ) হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত লেখ:]
নাম ও পরিচয়: তাঁর নাম আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। তিনি ইয়েমেনের দাওস গোত্রের সন্তান। বিড়ালছানার প্রতি গভীর মমত্ববোধের কারণে নবীজী (সা.) তাঁকে ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়ালছানার পিতা) উপনামে ডাকেন।
ইসলাম ও হাদিস চর্চা: ৭ম হিজরিতে খায়বার বিজয়ের সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে মসজিদে নববীর সুফফায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করে সার্বক্ষণিক রাসূল (সা.)-এর সান্নিধ্যে কাটান। রাসূল (সা.)-এর বরকতময় দোয়ার কারণে তিনি অসাধারণ স্মরণশক্তি লাভ করেন। সমস্ত সাহাবীদের মধ্যে তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী (৫,৩৭৪টি হাদিস)।
ওফাত: তিনি হিজরি ৫৭ বা ৫৯ সনে মদিনা মুনাওয়ারায় প্রায় ৭৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাক্বীতে সমাহিত হন।
৫. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
الحديث:
عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ما تصدق أحد بصدقة من طيب ولا يقبل الله إلا الطيب إلا أخذها الرحمن بيمينه وإن كانت تمرةً تربو فى كف الرحمن حتى تكون أعظم من الجبل كما يربى أحدكم فُلُوَّهُ أو فَصِيلَهُ-
[আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: কোনো ব্যক্তি যখন কোনো হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে সাদকা করে—আর আল্লাহ পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না—তখন পরম দয়াময় রহমান তা স্বীয় ডান হাতে গ্রহণ করেন; যদিও তা একটি সামান্য খেজুর পরিমাণও হয়। অতঃপর তা রহমানের হাতের তালুতে বৃদ্ধি পেতে থাকে, এমনকি তা এক সুবিশাল পর্বতের চেয়েও বড় হয়ে যায়—যেভাবে তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বা উটের শাবককে লালন-পালন করে বড় করে তোলে।]
(الف) ما المعنى الصدقة؟ بين فضائل الصدقة فى سبيل الله مفصلا-
[(ক) সাদকার অর্থ কী? আল্লাহর পথে সাদকা করার ফজিলতসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর:]
সাদকার অর্থ:
‘সাদকা’ (الصدقة) শব্দটি ‘সিদক্ব’ (সত্যবাদিতা) থেকে উদ্ভূত। এটি বান্দার ঈমানের সত্যতার বাস্তব প্রমাণ। শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অভাবী ও অসহায় মানুষকে অর্থ, সম্পদ বা যেকোনো বৈধ উপকার নিঃস্বার্থভাবে দান করাকে সাদকা বলে।
সাদকার ফজিলতসমূহ:
১. আল্লাহর অসন্তোষ ও গযব নির্বাপণ: হাদিস শরীফে এসেছে: “গোপন সাদকা আল্লাহর ক্রোধকে নির্বাপিত করে এবং অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করে।” (তিরমিযী)।
২. সম্পদের প্রাচুর্য ও বরকত বৃদ্ধি: সাদকা করলে কখনো সম্পদ কমে না; বরং আল্লাহ তাতে বহু গুণ বরকত ও সমৃদ্ধি দান করেন।
৩. কিয়ামতের ময়দানে আরশের ছায়া: যে ব্যক্তি গোপন দান করে যাতে তার বাঁ হাতও জানতে পারে না ডান হাত কী দান করেছে, সে কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে।
৪. গুনাহ মোচন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি: পানি যেভাবে আগুনকে নিভিয়ে দেয়, সাদকা তেমনি মানুষের গুনাহকে মিটিয়ে দেয়।
(ب) اشرح قوله صلى الله عليه وسلم : “لا يقبل الله الا الطيب”-
[(খ) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “আল্লাহ পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না”—এর ব্যাখ্যা কর:]
১. ‘ত্বাইয়্যিব’ (الطيب)-এর অর্থ: ‘ত্বাইয়্যিব’ অর্থ হালাল, খাঁটি, পবিত্র ও শরিয়তসম্মত।
২. ব্যাখ্যা: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং পবিত্র এবং তিনি সকল ত্রুটি ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি সুদ, ঘুষ, চুরি, দুর্নীতি বা হারাম উপায়ে অর্জিত কোটি কোটি টাকাও আল্লাহর পথে দান করে, তা আল্লাহর দরবারে বিন্দুমাত্র কবুল হবে না; বরং তা তার জন্য আজাবের কারণ হবে। পক্ষান্তরে হালাল উপার্জনের মাত্র একটি ক্ষুদ্র খেজুর বা এক টাকাও আল্লাহর কাছে এক পাহাড় সমান সওয়াবে রূপান্তরিত হয়।
৬. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
الحديث:
عن محمد بن عمرو قال : سألنا جابرًا عن وقت صلوة النبى صلى الله عليه وسلم فقال : كان يصلى الظهر بالهاجرة والعصر والشمس حية والمغرب إذا غربت الشمس والعشاء إذا كثر الناس عجّل وإذا قلّوا أخّر والصبح بغلس-
[মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: নবীজী যোহরের নামায ঠিক দুপুরের প্রচণ্ড গরমে বা মধ্যাহ্নে সূর্য ঢলে পড়ার পর আদায় করতেন; আর আসরের নামায আদায় করতেন এমন সময় যখন সূর্য উজ্জ্বল ও প্রখর থাকত; এবং মাগরিবের নামায আদায় করতেন সূর্য ডোবার সাথে সাথে; আর এশার নামাযের ক্ষেত্রে যখন দেখতেন মুসল্লিদের সমাগম বেশি হয়েছে তখন তাড়াতাড়ি আদায় করতেন এবং যখন মুসল্লিদের সংখ্যা কম দেখতেন তখন কিছুটা বিলম্ব করতেন; আর ফজরের নামায আদায় করতেন অন্ধকারের শেষ ভাগে (গালাসে)।]
(الف) بين أوقات الصلوة بالأدلة-
[(ক) দলিলসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময়সীমা বর্ণনা কর:]
১. ফজর: সুবহে সাদিক (ভোরের পূর্ব দিগন্তে শুভ্র রেখা প্রকাশ) থেকে শুরু হয়ে সূর্যোদয়ের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত।
২. যোহর: ঠিক দ্বিপ্রহরে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার পর থেকে শুরু হয়ে কোনো বস্তুর আসল ছায়া ব্যতীত তার ছায়া সমপরিমাণ (বা হানাফী মতে দ্বিগুণ) হওয়া পর্যন্ত।
৩. আসর: যোহরের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। তবে রোদ হলুদ বর্ণ ধারণ করার পূর্বেই আদায় করা মুস্তাহাব।
৪. মাগরিব: সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমাকাশের লাল আভা (বা হানাফী মতে সাদা আভা) অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।
৫. এশা: মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত। রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরি করে পড়া উত্তম।
– দলিল: জিব্রাঈল (আ.) দুই দিন এসে রাসূল (সা.)-কে প্রতিটি ওয়াক্তের শুরু ও শেষ সীমায় ইমামতি করে সময়সীমা শিক্ষা দিয়েছিলেন (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।
(ب) اكتب سيرة جابر رضى الله عنه موجزًا-
[(খ) হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ:]
নাম ও বংশ: তাঁর নাম জাবির, পিতার নাম আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম আল-আনসারী। তিনি মদিনার খাযরাজ গোত্রের সন্তান। তাঁর পিতা ওহুদ যুদ্ধে বীরদর্পে শহীদ হয়েছিলেন।
মর্যাদা ও হাদিস বর্ণনা: তিনি আকাবার দ্বিতীয় শপথে তরুণ বয়সে উপস্থিত ছিলেন। খন্দকের যুদ্ধসহ রাসূল (সা.)-এর সাথে ১৯টি সামরিক অভিযানে অংশ নেন। তিনি ছিলেন সাহাবীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় মুফতি ও হাদিস বর্ণনাকারী (বর্ণিত হাদিস ১,৫৪০টি)। মসজিদে নববীতে তাঁর হাদিসের একটি বিখ্যাত শিক্ষাবলয় ছিল।
ওফাত: তিনি মদিনায় সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষ ইন্তেকালকারী প্রবীণ সাহাবি। হিজরি ৭৪ বা ৭৮ সনে ৯৪ বছর বয়সে তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন।
৭. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
الحديث:
عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من صلّى صلوة لم يقرء فيها بأم القرآن فهى خداج فهى خداج فهى خداج غير تمام-
[আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি এমন কোনো নামায আদায় করল যাতে উম্মুল কুরআন (সূরা আল-ফাতিহা) পাঠ করল না, তবে তার সেই নামায অপূর্ণাঙ্গ, অপূর্ণাঙ্গ, অপূর্ণাঙ্গ—তা অসম্পূর্ণ রইল।]
(الف) اذكر أسماء سورة الفاتحة مع بيان وجه تسميتها بها-
[(ক) সূরা আল-ফাতিহার বিভিন্ন নাম এবং নামকরণের কারণ উল্লেখ কর:]
সূরা আল-ফাতিহার বহু নাম রয়েছে, যা এর সীমাহীন মর্যাদার পরিচায়ক:
১. আল-ফাতিহা (الفاتحة): এর অর্থ ‘উদ্বোধক’ বা ‘উন্মোচনকারী’। কুরআনুল কারীম এই সূরা দিয়ে শুরু হয়েছে এবং নামাযও এই সূরা দিয়ে শুরু হয় বিধায় একে ফাতিহা বলা হয়।
২. উম্মুল কুরআন বা উম্মুল কিতাব (أم القرآن): ‘উম্ম’ অর্থ মূল বা কেন্দ্র। সমগ্র কুরআনের মূল নির্যাস, তাওহীদ, হিদায়াত ও আখেরাতের দাওয়াত এ সূরায় সংক্ষিপ্তাকারে সন্নিবেশিত থাকায় একে উম্মুল কুরআন বলে।
৩. আস-সাবউল মাছানী (السبع المثاني): এর আয়াত সংখ্যা সাত এবং প্রতিটি নামাযের রাকাতে এটি বারবার আবৃত্তি বা তিলাওয়াত করা হয়।
৪. সূরাতুস সালাত (سورة الصلاة): এই সূরা পাঠ ছাড়া নামায পূর্ণ হয় না এবং হাদিসে কুদসিতে একে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার নামায বলা হয়েছে।
৫. আশ-শিফা ও আল-ওয়াফিয়াহ (الشفاء): অন্তরের ও শারীরিক ব্যাধি নিরাময়ের রুকইয়াহ হিসেবে এর বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
(ب) اذكر حكم قراءة سورة الفاتحة فى الصلوة-
[(খ) নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠের শরয়ী হুকুম বর্ণনা কর:]
১. ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও আহমদ (রহ.)-এর মত: প্রত্যেক নামাযীর জন্য (একাকী, ইমাম কিংবা মুক্তাদী সর্বাবস্থায়) এবং প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা ফরজ (রুকন)। সূরা ফাতিহা না পড়লে নামায বাতিল হয়ে যাবে। তাঁরা উল্লিখিত হাদিস এবং “লা সালাতা লিমান লাম ইয়াক্বরা বিফাতিহাতিল কিতাব” দিয়ে দলিল দেন।
২. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও হানাফী মাযহাবের মত: নামাযে সাধারণভাবে কুরআনের যেকোনো আয়াত তিলাওয়াত করা ফরজ (সূরা মুযযাম্মিল: ২০); আর সুনির্দিষ্টভাবে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব। ভুলবশত বাদ পড়লে সাহু সেজদা দ্বারা নামায পূর্ণ হবে। আর জামাতে ইমামের পেছনে মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে না; ইমামের কিরাত মুক্তাদীর কিরাত হিসেবে যথেষ্ট হবে (সূরা আল-আরাফ: ২০৪)।
৮. হাদিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর
الحديث:
عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إذا كانت أول ليلة من رمضان صفدت الشياطين ومردة الجن وغلقت أبواب النار فلم يفتح منها باب وفتحت أبواب الجنة فلم يغلق منها باب ونادى منادٍ يا باغى الخير أقبل ويا باغى الشر أقصر والله عتقاء من النار وذالك فى كل ليلة-
[আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যখন রমযানের প্রথম রজনী উপস্থিত হয়, তখন শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় যার একটি দরজাও খোলা হয় না, এবং জান্নাতের সমস্ত দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় যার একটি দরজাও রুদ্ধ করা হয় না; আর একজন আহ্বানকারী ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকে: হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও; আর হে অকল্যাণের অনুগামী! নিবৃত্ত হও। আর এ মাসে প্রতি রাতেই আল্লাহর পক্ষ থেকে বহু জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয়।]
(الف) عرف الصوم ثم بين أهمية الصوم-
[(ক) রোযার সংজ্ঞা দাও। অতঃপর রোযার গুরুত্ব বর্ণনা কর:]
রোযার সংজ্ঞা:
‘সাওম’ (الصوم) শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা বা আত্মনিয়ন্ত্রণ করা। শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ সকল প্রকার পানাহার ও যৌনমিলন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখাকে রোযা বলে।
রোযার গুরুত্ব:
১. তাকওয়া অর্জনের প্রধান মাধ্যম: আল্লাহ বলেন: “তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়াবান হতে পারো।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)।
২. প্রবৃত্তির দমন ও আত্মশুদ্ধি: ক্ষুধা ও পিপাসার মাধ্যমে মানুষ নিজের নফস ও রিপুকে পরাভূত করে আধ্যাত্মিক পূর্ণতা লাভ করে।
৩. সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান: হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন: “রোযা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”
৪. সামাজিক সহানুভূতি: অনাহারের কষ্ট স্বচক্ষে উপলব্ধি করে ধনীরা দরিদ্রদের ক্ষুধার জ্বালা বুঝতে পারে।
(ب) حقق الكلمات الآتية : غلقت، باغى، ليلة-
[(খ) শব্দ বিশ্লেষণ (তাহক্বীক্ব) কর: غلقت، باغى، ليلة:]
১. غُلِّقَتْ (গুল্লিক্বাত):
– সীগাহ: ওয়াহেদ মুয়ান্নাস গায়েব (واحد مؤنث غائب)।
– বাহাস: বাবে তাফঈল থেকে ফেলে মাযী মাজহূল (فعل ماض مجهول)।
– মাদ্দা: غ – ل – ق (গায়ন-লাম-ক্বাফ)।
– অর্থ: দৃঢ়ভাবে বন্ধ বা রুদ্ধ করে দেওয়া হলো।
২. بَاغِيَ (বাগিয়া):
– সীগাহ: ওয়াহেদ মুযাক্কার (واحد مذكر)।
– বাহাস: ইসমুল ফায়েল (اسم الفاعل), এখানে মুনাদা মুদাফ হওয়ায় যবরযুক্ত হয়েছে।
– মাদ্দা: ب – غ – ي (বা-গায়ন-ইয়া), বাবে যারাবা থেকে।
– অর্থ: হে অন্বেষণকারী বা হে অন্বেষক/সন্ধানী।
৩. لَيْلَةٌ (লাইলাতুন):
– ইসম: ইসমুস সরফ বা যরফে যামান (ظرف زمان), একবচন, এর বহুবচন হলো ‘লায়ালিন’ (ليال)।
– অর্থ: একটি নির্দিষ্ট রাত বা রজনী।
مجموعة (ب) : [খ-বিভাগ (হাদিস শাস্ত্রীয় পর্যালোচনা)]
أجب عن واحد مما يلى (لكل سؤال ١٠ درجات) :
[নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০) :]
৯. সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের তুলনামূলক শাস্ত্রীয় পর্যালোচনা
السؤال:
٩- وازن بين الصحيحين مفصلا-
[সহীহাইন (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)-এর মধ্যে তুলনামূলক শাস্ত্রীয় পর্যালোচনা কর:]
ভূমিকা:
হাদিস সাহিত্যের ইতিহাসে পবিত্র কুরআনের পর পৃথিবীর বুকে সর্বাধিক বিশুদ্ধতম দুটি কিতাব হলো ইমাম বুখারী (রহ.)-এর ‘সহীহুল বুখারী’ এবং ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর ‘সহীহ মুসলিম’। এ দুটি গ্রন্থকে একত্রে ‘সহীহাইন’ (الصحيحان) বলা হয়।
তুলনামূলক শাস্ত্রীয় পর্যালোচনা:
| তুলনার ক্ষেত্র | সহীহুল বুখারী (ইমাম বুখারী রহ.) | সহীহ মুসলিম (ইমাম মুসলিম রহ.) |
|---|---|---|
| ১. সনদের কঠোরতা ও বিশুদ্ধতা | সনদের ধারাবাহিকতা ও রাবীদের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে চাক্ষুষ ঐতিহাসিক প্রমাণ (ثبوت اللقاء) শর্তযুক্ত করেছেন, যা শাস্ত্রের সবচেয়ে কঠোর শর্ত। | সমসাময়িক হওয়া এবং সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকাকেই (المعاصرة مع إمكان اللقاء) যথেষ্ট মনে করেছেন। |
| ২. সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব | জমহুর মুহাদ্দিসীনদের সর্বসম্মত ঐকমত্যে সহীহ বুখারী সনদ ও রাবীর গুণগত মানের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ (أصح الكتب بعد كتاب الله)। | মাগরিবের কিছু উলামা এর বিন্যাসের কারণে প্রশংসা করলেও সামগ্রিক বিশুদ্ধতায় বুখারীর পরেই এর স্থান। |
| ৩. গ্রন্থনা ও সংকলন পদ্ধতি | একটি হাদিসের ফিকহি হুকুম অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যায়ে সনদের পুনরাবৃত্তিসহ খণ্ড খণ্ড করে উল্লেখ করেছেন। | হাদিসের পুনরাবৃত্তি না করে একটি নির্দিষ্ট হাদিসের সমস্ত সনদ ও পাঠভেদ এক স্থানে চমৎকারভাবে সন্নিবেশ করেছেন। |
| ৪. ফিকহী গভীরতা (তারাজিমুল আবওয়াব) | ইমাম বুখারীর ফিকহি প্রজ্ঞা নিহিত তাঁর অধ্যায় শিরোনামে (فقه البخاري في تراجمه)। শিরোনামেই গভীর ইজতিহাদ প্রকাশ করেছেন। | ইমাম মুসলিম কোনো অধ্যায় শিরোনাম দেননি; বর্তমান প্রচলিত শিরোনামগুলো পরবর্তীকালে ইমাম নববী (রহ.) সংযোজন করেছেন। |
সারসংক্ষেপ: বিশুদ্ধতার দিক থেকে সহীহ বুখারী অগ্রগণ্য, আর সংকলনের চমৎকার বিন্যাস ও পাঠভেদ খোঁজার ক্ষেত্রে সহীহ মুসলিম সহজতর।
১০. ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর জীবনচরিত ও ‘সুনানে ইবনে মাজাহ’-এর পদ্ধতি
السؤال:
١٠- اكتب ترجمة ابن ماجه رحمه الله ثم بين منهجه فى كتابه السنن-
[ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর জীবনী লেখ এবং তাঁর সংকলিত সুনান গ্রন্থের অনন্য পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর:]
সংক্ষিপ্ত জীবনী:
১. নাম ও জন্ম: তাঁর নাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ, উপনাম আবু আব্দুল্লাহ, এবং ‘ইবনে মাজাহ’ নামে খ্যাত। তিনি হিজরি ২০৯ সনে পারস্যের ঐতিহাসিক কাজভীন নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
২. জ্ঞানার্জন ও সফর: হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি খোরাসান, ইরাক, হেজাজ, সিরিয়া ও মিশর দীর্ঘকাল পরিভ্রমণ করেন। তিনি ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবা ও আলী ইবনে মুহাম্মদ আত-তানাফিসীর সান্নিধ্য লাভ করেন।
৩. ওফাত: তিনি হিজরি ২৭৩ সনে ৬৪ বছর বয়সে কাজভীনে ইন্তেকাল করেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থের সংকলন পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ (منهجه):
১. সিহাহ সিত্তার অন্তর্ভুক্তকরণ: হাফেজ ইবনুল কায়সারানী ও আল্লামা মিযযীর গবেষণায় সুনানে ইবনে মাজাহকে সিহাহ সিত্তার ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ৩২টি কিতাব, ১,৫১৫টি অধ্যায় এবং ৪,৩৪১টি হাদিস রয়েছে।
২. চমৎকার ফিকহি বিন্যাস (حسن الترتيب): সিহাহ সিত্তার সমস্ত কিতাবের মধ্যে অধ্যায়ের ধারাবাহিকতা ও ফিকহি বিন্যাসের দিক থেকে সুনানে ইবনে মাজাহ অনন্য ও অতুলনীয়। একজন ফকীহ অতি দ্রুত যেকোনো বিষয়ের হাদিস সহজে খুঁজে পান।
৩. যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ (الزوائد): সিহাহ সিত্তার অন্য পাঁচটি কিতাবে যে সমস্ত হাদিস উল্লেখ নেই, এমন প্রায় ১,৩৩৯টি বিরল হাদিস ইমাম ইবনে মাজাহ এককভাবে সংকলন করেছেন, যা হাদিস গবেষকদের জন্য অমূল্য পাথেয়।
৪. সনদের স্তরভেদ: এ কিতাবে সহীহ ও হাসান হাদিসের পাশাপাশি কিছু যয়ীফ বা মুনকার হাদিসও স্থান পেয়েছে, যা মুহাদ্দিসগণ সতর্কতার সাথে ব্যাখ্যা করেছেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষের দিরাসাতুল হাদিস (২০১৩০৪) পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় কত?
দিরাসাতুল হাদিস পরীক্ষায় মোট পূর্ণমান ৮০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ‘ক’ বিভাগে ৮টি হাদিসভিত্তিক প্রশ্ন থেকে ৫টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ১৪ নম্বর = ৭০ নম্বর); এবং ‘খ’ বিভাগে ২টি হাদিস শাস্ত্রীয় প্রশ্ন থেকে ১টির উত্তর দিতে হয় (মান ১০ নম্বর)।
২. রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দানের গতি কার সাথে উপমা দেওয়া হয়েছে?
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দানের উদারতা ও ক্ষিপ্রতা কল্যাণবাহী প্রবহমান বাতাসের (الريح المرسلة) চেয়েও অধিক উন্মুক্ত ও সীমাহীন হতো; কারণ এ মাসে জিব্রাঈল (আ.)-এর সাথে কুরআন মুদারাসা হতো।
৩. মানুষের স্বভাবজাত ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি পরিচ্ছন্নতা কী কী?
সহীহ হাদিস অনুযায়ী পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের সুন্নাত: ১. খতনা করা, ২. নাভির নিচের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা, ৩. বগলের পশম উপড়ানো বা পরিষ্কার করা, ৪. নখ কাটা এবং ৫. গোঁফ ছোট বা ছাঁটাই করা।
৪. হাদিসের আলোকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মধ্যে এশার ওয়াক্তের মুস্তাহাব সময় কোনটি?
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) জামাতে মুসল্লিদের সমাগম বেশি দেখলে এশার নামায আগে আদায় করতেন, আর উপস্থিতি কম দেখলে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কিছুটা বিলম্ব করে আদায় করাকে উত্তম মনে করতেন।
৫. সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে কার গ্রহণযোগ্যতা অগ্রগণ্য?
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের জমহুর মুহাদ্দিসগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সনদের ধারাবাহিকতা ও রাবীদের সাক্ষাতের কঠোরতম শর্তের কারণে সহীহুল বুখারী সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ। তবে চমৎকার বিন্যাস ও পাঠভেদের সহজলভ্যতায় সহীহ মুসলিম অনন্য।
৬. সুনানে ইবনে মাজাহর সবচেয়ে অনন্য স্বাতন্ত্র্য কী?
সুনানে ইবনে মাজাহর প্রধান স্বাতন্ত্র্য হলো এর অপূর্ব ফিকহি অধ্যায় বিন্যাস এবং অন্য পাঁচ কিতাবে নেই এমন ১,৩৩৯টি বিরল হাদিস (যাওয়ায়েদ) এককভাবে সন্নিবেশ করা, যা গবেষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।