জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর বিগায়রি সানাদ-২ (At-Tafsir bi-Ghayri Sanad-2) – 201302, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৫ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ۲۰۲۱ م
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بدون السند – ۲
[আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ-২]
বিষয় কোড: ২০১৩০২ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) : [ক-বিভাগ (তাফসীর ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন)]

أجب عن خمسة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ١٤ درجة: الترجمة ٦ + ب ٤ + ج ٤) :
[নিচের যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৪: অনুবাদ ৬ + খ ৪ + গ ৪) :]


১. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وهو الذى سخر البحر لتأكلوا منه لحما طريا وتستخرجوا منه حلية تلبسونها، وترى الفلك مواخر فيه ولتبتغوا من فضله ولعلكم تشكرون- وألقى فى الأرض رواسى أن تميد بكم وأنهارا وسبلا لعلكم تهتدون- وعلامات وبالنجم هم يهتدون-

[আর তিনিই সেই সত্তা যিনি সাগরকে বশীভূত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা মাংস (মাছ) খেতে পারো এবং তা থেকে বের করতে পারো অলঙ্কার (মুক্তা ও প্রবাল) যা তোমরা পরিধান করে থাকো; আর আপনি দেখতে পান নৌযানসমূহ তার বুক চিরে পানি কেটে চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। আর তিনি জমিনে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে, এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও পথসমূহ যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারো। আর বহু পথনির্দেশক চিহ্নসমূহও সৃষ্টি করেছেন এবং তারকারাজি দ্বারাও মানুষ পথ খুঁজে পায়।]

(ب) فسر قوله تعالى : “وألقى فى الأرض رواسى أن تميد بكم”-

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “আর তিনি জমিনে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে”—এর তাফসীর লেখ:]

১. ‘রাওয়াসী’ (رواسي)-এর অর্থ: ‘রাওয়াসী’ শব্দটি ‘রাসিয়াহ’-এর বহুবচন, যার অর্থ সুদৃঢ়, ভারী ও অটল পর্বতমালা।
২. ‘আন তামীদা বিকুম’ (أن تميد بكم)-এর তাৎপর্য: ‘মাদা-ইয়ামিদু’ অর্থ হেলে পড়া, আন্দোলিত হওয়া বা কেঁপে ওঠা। আল্লাহ জমিনের ওপর সুউচ্চ ও সুবিশাল পর্বতমালা পেরেকের মতো প্রোথিত করেছেন যাতে পৃথিবী তার নিজ অক্ষে ঘূর্ণন ও কক্ষপথে ভ্রমণের সময় ডানে-বামে কেঁপে না ওঠে এবং মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী স্থিরভাবে বসবাস করতে পারে।
৩. আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সঙ্গতি: আধুনিক ভূতত্ত্ববিজ্ঞান (Geology) প্রমাণ করেছে যে পাহাড়গুলোর ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে যতটুকু দৃশ্যমান, মাটির গভীরে তার চেয়ে কয়েক গুণ শিকড় প্রোথিত রয়েছে (Isostasy), যা ভূত্বকের টেকটনিক প্লেটগুলোকে সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখে। পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি কুরআনের এক পরম বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব।

(ج) من الذى سخر البحر؟ من خالق كل شيء؟ أثبت بالكتاب والسنة-

[(গ) সাগরকে কে বশীভূত করেছেন? সকল বস্তুর স্রষ্টা কে? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রমাণ কর:]

সাগর ও মহাসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালাকে বশীভূতকারী এবং মহাবিশ্বের দৃশ্য-অদৃশ্য সকল বস্তুর একমাত্র মহান স্রষ্টা হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

পবিত্র কুরআনের দলিল:
১. “আল্লাহই সমস্ত কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর ওপর কর্মবিধায়ক।” (সূরা আয-যুমার: ৬২)।
২. “তিনিই সেই সত্তা যিনি রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটছে।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ৩৩)।

সুন্নাহর দলিল:
সহীহ বুখারীতে হযরত ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “সর্বপ্রথম একমাত্র আল্লাহই ছিলেন, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো অস্তিত্বশীল বস্তু ছিল না; আর তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর, অতঃপর তিনি লাওহে মাহফুজে সমস্ত কিছু লিপিবদ্ধ করেন এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেন।” অতএব, সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও সমগ্র সৃষ্টিজগত একমাত্র আল্লাহর মহাশক্তির অধীন।


২. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وقضينا إلى بنى إسرائيل فى الكتاب لتفسدن فى الأرض مرتين ولتعلن علوا كبيرا- فإذا جاء وعد أولى هما بعثنا عليكم عبادًا لنا أولى بأس شديد فجاسوا خلال الديار، وكان وعدا مفعولا- ثم رددنا لكم الكرة عليهم وأمددناكم بأموال وبنين وجعلناكم أكثر نفيرا-

[আর আমি কিতাবে (তাওরাতে) বনি ইসরাইলকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তোমরা অবশ্যই জমিনে দুবার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমরা চরম ঔদ্ধত্য ও অহংকার প্রদর্শন করবে। অতঃপর যখন সেই দুটির প্রথমটির নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে আমার এমন কিছু বান্দা প্রেরণ করলাম যারা ছিল অত্যন্ত পরাক্রমশালী ও যুদ্ধংদেহী; অতঃপর তারা তোমাদের ঘরবাড়ির প্রতিটি কোণে কোণে তল্লাশি চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করল; আর এ অঙ্গীকার পূর্ণ হওয়ারই ছিল। অতঃপর আমি পুনরায় তোমাদের তাদের ওপর প্রাধান্য ফিরিয়ে দিলাম এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদের জনবল অধিকতর বৃদ্ধি করে দিলাম।]

(ب) فسر قوله تعالى : “لتفسدن فى الأرض مرتين”-

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা অবশ্যই জমিনে দুবার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে”—এর তাফসীর লেখ:]

বনি ইসরাইল জাতি অতীতে দুইবার চরম সীমা লঙ্ঘন ও পাপাচার করে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল:
১. প্রথম বিপর্যয়: বনি ইসরাইল তাওরাতের বিধান অস্বীকার করে প্রতিমাপূজা শুরু করে এবং আল্লাহর প্রেরিত নবী যাকারিয়া (আ.) ও অন্যান্য পয়গম্বরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে। এর শাস্তি হিসেবে আল্লাহ ৫৪৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলনের কুখ্যাত অত্যাচারী সম্রাট বখতেনাসার (Nebuchadnezzar)-কে তাদের ওপর লেলিয়ে দেন। সে জেরুজালেম সম্পূর্ণ ধ্বংস করে, হায়কালে সুলাইমানী ভস্মীভূত করে এবং লক্ষাধিক ইহুদিকে শৃঙ্খলিত করে ব্যাবিলনে দাস হিসেবে নির্বাসিত করে।
২. দ্বিতীয় বিপর্যয়: পারস্যের বাদশাহ সাইরাসের মাধ্যমে মুক্তি পেয়ে ইহুদিরা পুনরায় জেরুজালেমে ফিরে এসে ক্ষমতা লাভ করে। কিন্তু তারা আবার অবাধ্য হয়, নবী হযরত ইয়াহইয়া (আ.)-কে হত্যা করে এবং হযরত ঈসা (আ.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। এর শাস্তি হিসেবে ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সেনাপতি টাইটাস জেরুজালেম দ্বিতীয়বার আক্রমণ করে হাজার হাজার ইহুদিকে হত্যা করে এবং পুরো শহর মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।

(ج) ما معنى الفساد؟ بين أنواعه-

[(গ) ফাসাদ শব্দের অর্থ কী? ফাসাদের প্রকারভেদসমূহ আলোচনা কর:]

ফাসাদের অর্থ:
‘ফাসাদ’ (الفساد) শব্দের আভিধানিক অর্থ ধ্বংস হওয়া, ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, অরাজকতা ও পাপাচার। শরিয়তের দৃষ্টিতে আল্লাহর নির্ধারিত ন্যায়পরায়ণতা ও শরিয়তের বিধানের সীমা লঙ্ঘন করে সমাজে যে কোনো অন্যায়, অবিচার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাকে ফাসাদ বলে।

ফাসাদের প্রধান প্রকারভেদ:
১. আকিদাগত ফাসাদ (الفساد العقدي): আল্লাহর সাথে শিরক করা, কুফরি ছড়ানো, ওহির বিকৃতি এবং নবীদের অস্বীকার ও উপহাস করা।
২. নৈতিক ও চারিত্রিক ফাসাদ (الفساد الأخلاقي): ব্যভিচার, সমকামিতা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, মিথ্যাচার ও প্রতারণার বিস্তার।
৩. অর্থনৈতিক ফাসাদ (الفساد المالي): সুদ, ঘুষ, কালোবাজারি, মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ ও সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানো।
৪. সামাজিক ও রাজনৈতিক ফাসাদ (الفساد السياسي والاجتماعي): ক্ষমতার অপব্যবহার, খুন-খারাবি, সন্ত্রাস, বর্ণবাদ এবং সমাজে দুর্বলদের ওপর নির্যাতন চালানো।


৩. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
اقرأ كتابك، كفى بنفسك اليوم عليك حسيبا- من اهتدى فإنما يهتدى لنفسه ومن ضل فإنما يضل عليها، ولا تزر وازرة وزر أخرى، وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا- وإذا أردنا أن نهلك قرية أمرنا مترفيها ففسقوا فيها فحق عليها القول فدمرناها تدميرا-

[বলা হবে: তোমার আমলনামা পাঠ করো; আজ তোমার নিজের হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট। যে ব্যক্তি সৎপথ অবলম্বন করে, সে তো নিজের মঙ্গলের জন্যই সৎপথ অবলম্বন করে; আর যে পথভ্রষ্ট হয়, সে তো নিজের ধ্বংসের জন্যই পথভ্রষ্ট হয়। আর কোনো বহনকারী অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না; আর আমি কোনো সম্প্রদায়কে শাস্তি প্রদান করি না যতক্ষণ না তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করি। আর যখন আমি কোনো জনপদকে ধ্বংস করার সংকল্প করি, তখন তার প্রাচুর্যশালী বিলাসী লোকদের সৎকাজের আদেশ করি, কিন্তু তারা সেখানে পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়; অতঃপর তাদের ওপর শাস্তির বাণী অবধারিত হয়ে যায় এবং আমি তা সমূলে ধ্বংস করে দিই।]

(ب) فسر قوله تعالى : “اقرأ كتابك كفى بنفسك اليوم عليك حسيبا”-

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “তোমার আমলনামা পাঠ করো; আজ তোমার নিজের হিসাবের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট”—এর তাফসীর কর:]

কিয়ামতের বিচার দিবসে আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষের হাতে তার জীবদ্দশায় সম্পাদিত সমস্ত ভালো-মন্দ কাজের আমলনামা তুলে দেবেন।
১. অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন: সেদিন মানুষ তার জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভালো ও মন্দ কাজ আমলনামার পাতায় অক্ষরে অক্ষরে লিপিবদ্ধ দেখতে পাবে। কোনো সাক্ষী বা প্রমাণের অপেক্ষা থাকবে না; বান্দা নিজের চোখেই নিজের পাপ দেখতে পাবে।
২. ইনসাফের পরাকাষ্ঠা: আল্লাহ তাআলা পরম সুবিচারক। তিনি বান্দাকে নিজেই তার আমলনামা পড়তে বলবেন এবং বলবেন যে তুমি নিজেই ফয়সালা করো যে এই আমলের জন্য তোমার জান্নাত প্রাপ্য নাকি জাহান্নাম। বান্দা তখন নিজের বিরুদ্ধে কোনো অজুহাত বা আপত্তি পেশ করতে পারবে না।

(ج) وضح قوله تعالى : “وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا”-

[(গ) মহান আল্লাহর বাণী: “আর আমি কোনো সম্প্রদায়কে শাস্তি দিই না যতক্ষণ না রাসূল প্রেরণ করি”—এর ব্যাখ্যা কর:]

এটি মহান আল্লাহর বিচারিক ইনসাফ ও দয়ার এক অন্যতম মূলনীতি:
১. হুজ্জত কায়েমের নীতি: আল্লাহ কোনো জাতিকে অন্ধভাবে বা পূর্বসতর্কতা ছাড়া আকস্মিক ধ্বংস করেন না। তিনি প্রথমে তাদের নিকট সুস্পষ্ট হেদায়েত ও ওহিসহ নবী-রাসূল প্রেরণ করেন। নবীগণ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বাতলে দেন এবং ভালো কাজের সুসংবাদ ও পাপের শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেন।
২. ফাতরাতের যুগের হুকুম (আহলুল ফাতরাহ): যে সমস্ত মানুষের নিকট কোনো নবীর দাওয়াত বা ঐশী বাণী পৌঁছায়নি, তাদের ওপর আল্লাহ সরাসরি শিরক বা কুফরের শাস্তি চাপিয়ে দেবেন না; বরং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করবেন বলে মুহাদ্দিসগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।


৪. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
الحمد لله الذى أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجا- قيما لينذر بأسا شديدا من لدنه ويبشر المؤمنين الذين يعملون الصالحات أن لهم أجرا حسنا- ماكثين فيه أبدًا-

[সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় বান্দার ওপর এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং এতে কোনো বক্রতা বা অসংগতি রাখেননি। এটিকে এক সুপ্রতিষ্ঠিত ও সরল কিতাব বানিয়েছেন, যাতে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করতে পারে এবং সেই সমস্ত মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারে যারা নেক আমল সম্পাদন করে—যে তাদের জন্য রয়েছে এক সর্বোত্তম পুরস্কার (জান্নাত); যাতে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।]

(ب) بين سبب نزول سورة الكهف-

[(খ) সূরা আল-কাহাফ নাজিলের ঐতিহাসিক পটভূমি বর্ণনা কর:]

মক্কার কুরাইশ মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য তাদের দুজন প্রতিনিধি (নযর ইবনুল হারিস ও উক্ববা বিন আবি মুআইত)-কে মদিনার ইহুদি পণ্ডিতদের নিকট পাঠায় পরামর্শের জন্য।
ইহুদি পণ্ডিতরা বলল: তোমরা মুহাম্মদকে তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন করো; যদি সে এগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারে তবে সে সত্য নবী, আর যদি না পারে তবে সে একজন ভণ্ড:
১. প্রাচীনকালের সেই যুবকদের ঘটনা কী ছিল যারা নিজেদের ঈমান রক্ষার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল?
২. সেই পরিভ্রমণকারী বাদশাহর পরিচয় কী যিনি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত ভ্রমণ করেছিলেন (যুলকারনাইন)?
৩. ‘রুহ’ বা আত্মার স্বরূপ কী?
মুশরিকরা এসে রাসূল (সা.)-কে এই তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করল। রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ চান) না বলে পরদিন উত্তর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। ফলে ওহি আসা সাময়িকভাবে পনেরো দিন বন্ধ রইল। অতঃপর জিব্রাঈল (আ.) এসে এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব সম্বলিত সূরা আল-কাহাফ অবতীর্ণ করেন।

(ج) اكتب عشرة دروس من سورة الكهف-

[(গ) সূরা আল-কাহাফ থেকে দশটি শিক্ষণীয় বিষয় সংক্ষেপে লেখ:]

১. ঈমানের হেফাজতের জন্য আত্মত্যাগ: আসহাবে কাহাফের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশেও নিজের তাওহীদী বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রাখা।
২. দুনিয়ার মোহের ক্ষণস্থায়িত্ব: দুই বাগানওয়ালার ঘটনার মাধ্যমে সম্পদের অহংকার বর্জন ও সবকিছুর মালিকানা আল্লাহর—এ বিশ্বাস রাখা।
৩. ইলম অর্জনে চরম বিনয় ও ধৈর্য: হযরত মূসা ও খিযির (আ.)-এর ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষকের প্রতি সম্মান ও অজানা বিষয়ে ধৈর্য ধারণের শিক্ষা।
৪. ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রনায়কের দায়িত্ব: বাদশাহ যুলকারনাইনের মতো ক্ষমতার অহংকার না করে আল্লাহর ভয়ে দুর্বলদের নিরাপত্তা ও ইনসাফ কায়েম করা।
৫. ইয়াজুজ-মাজুজের ফেতনা প্রতিরোধ: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিগত ও বাস্তবমুখী সুরক্ষার দেওয়াল নির্মাণ করা।
৬. দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপত্তা: সূরার প্রথম বা শেষ দশ আয়াত মুখস্থ ও আমলের মাধ্যমে শেষ যামানার ফেতনা থেকে সুরক্ষা লাভ।
৭. ইনশাআল্লাহ বলার গুরুত্ব: ভবিষ্যৎ কোনো কাজের সংকল্প করলে সর্বদা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া।
৮. পাপীদের জন্য আমলনামার ভয়াবহতা: কিয়ামতের দিন আমলনামা দেখে পাপাচারীদের চরম আতঙ্কিত হওয়ার অনুভূতি উপলব্ধি করা।
৯. নেক আমলের শর্ত: আমল কবুল হতে হলে শিরকমুক্ত খাঁটি নিয়ত থাকা অপরিহার্য।
১০. পুনরুত্থানের নিশ্চিত সত্যতা: ৩০০ বছর পর আসহাবে কাহাফকে জাগিয়ে তুলে আল্লাহ প্রমাণ করেছেন যে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সম্পূর্ণ সত্য।


৫. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وترى الشمس إذا طلعت تزاور عن كهفهم ذات اليمين وإذا غربت تقرضهم ذات الشمال وهم فى فجوة منه، ذلك من آيات الله، من يهد الله فهو المهتد ومن يضلل فلن تجد له وليًا مرشدًا-

[আর আপনি সূর্যকে দেখতে পেতেন—যখন তা উদিত হতো তখন তাদের গুহা থেকে ডান দিকে হেলে যেত, আর যখন তা অস্ত যেত তখন তাদের বাঁ পাশ দিয়ে অতিক্রম করত; অথচ তারা গুহার একটি প্রশস্ত উন্মুক্ত চত্বরে অবস্থান করছিল। এটি আল্লাহর অনন্য নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন আপনি কখনোই তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না।]

(ب) فسر قوله تعالى : “من يهد الله فهو المهتد ومن يضلل فلن تجد له وليًا مرشدًا” ثم بين المراد ب ‘بالمرشد’ فى هذه الآية-

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন সে-ই পথপ্রাপ্ত…”—এর তাফসীর কর এবং আয়াতে ‘মুর্শিদ’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট কর:]

তাফসীর:
হেদায়েত ও পথভ্রষ্টতার মূল নিয়ন্ত্রক একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলা। যে ব্যক্তি সত্য অনুসন্ধানী মন নিয়ে হিদায়াত কামনা করে, আল্লাহ তাকে সঠিক পথের দিশা দেন; আর যে ব্যক্তি অহংকার ও একগুঁয়েমির কারণে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, আল্লাহ তাকে তার পথভ্রষ্টতার ওপর ছেড়ে দেন।

‘মুর্শিদ’ (مرشدا)-এর তাৎপর্য:
আয়াতে ‘মুর্শিদ’ বলতে এমন একজন হিতাকাঙ্ক্ষী অভিভাবক, পথপ্রদর্শক বা শিক্ষককে বোঝানো হয়েছে যিনি ভ্রান্ত মানুষকে সত্য, ন্যায় ও নাজাতের সঠিক পথ দেখাতে সক্ষম। আল্লাহ যাকে গোমরাহীর মোহরে আবদ্ধ করেন, গোটা বিশ্বের কেউ তাকে হিদায়াত করার ক্ষমতা রাখে না।

(ج) اكتب قصة أصحاب الكهف موجزًا-

[(গ) আসহাবে কাহাফের কাহিনী সংক্ষেপে লেখ:]

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের কুখ্যাত মূর্তিপূজক সম্রাট ডিকিয়ানুস (Decius)-এর শাসনামলে এফিসাস নগরীর কয়েকজন সম্ভ্রান্ত রাজপরিবারের যুবক এক আল্লাহর তাওহীদের ওপর ঈমান আনেন। সম্রাট তাদের মূর্তিপূজা করতে বাধ্য করলে এবং অন্যথায় হত্যার হুমকি দিলে তারা ঈমান রক্ষার খাতিরে গোপনে শহর ছেড়ে পালিয়ে যান এবং নিকটবর্তী এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। তাদের সাথে একটি বিশ্বস্ত কুকুরও ছিল।
গুহায় প্রবেশ করে তারা আল্লাহর নিকট আশ্রয় ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর গভীর অলৌকিক নিদ্রা ঢেলে দেন। সূর্যরশ্মি এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো যাতে তাঁদের শরীর পচে নষ্ট না হয় এবং ফেরেশতারা তাঁদের ডানে-বামে পাশ ফেরাতেন। এভাবে দীর্ঘ ৩০৯ সৌর/চন্দ্র বছর পর আল্লাহ তাঁদের পুনরায় জীবিত জাগ্রত করেন। তাদের একজন যখন প্রাচীন রৌপ্যমুদ্রা নিয়ে শহরে খাবার কিনতে যায়, তখন সবাই বুঝতে পারে যে এরা শত শত বছর পূর্বের সেই পুণ্যবান যুবক। এই ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ তৎকালীন সমাজে পুনরুত্থানের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।


৬. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
كهيعص- ذكر رحمت ربك عبده زكريا- إذ نادى ربه نداء خفيا- قال رب إنى وهن العظم منى واشتعل الرأس شيبا ولم أكن بدعائك رب شقيا- وإنى خفت الموالى من وراءى وكانت امرأتى عاقرا فهب لى من لدنك وليًا-

[কাফ-হা-ইয়া-আইন-সোয়াদ। এটি আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহের বিবরণ স্বীয় বান্দা জাকারিয়ার প্রতি। যখন সে তার প্রতিপালককে একান্তে নিভৃতে ডেকেছিল। সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার অস্থিসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বার্ধক্যের কারণে আমার মস্তক শুভ্রতায় প্রজ্বলিত হয়েছে; আর হে আমার রব! আপনাকে ডেকে আমি কখনো ব্যর্থ বা নিরাশ হইনি। আর নিশ্চয়ই আমি আমার মৃত্যুর পর আমার পরবর্তী বংশধরদের ব্যাপারে আশঙ্কা পোষণ করছি, আর আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা; অতএব আপনি নিজ অনুগ্রহে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন।]

(ب) فسر قوله تعالى : ‘كهيعص’ وما الحروف المقطعات؟ بين –

[(খ) ‘কাফ-হা-ইয়া-আইন-সোয়াদ’-এর তাফসীর কর এবং হুরুফে মুকাত্তাআত কী তা বর্ণনা কর:]

হুরুফে মুকাত্তাআতের পরিচয়:
পবিত্র কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে বিচ্ছিন্নভাবে পঠিত হরফসমূহকে ‘হুরুফে মুকাত্তাআত’ (الحروف المقطعة) বলা হয়। এগুলো যুক্তাক্ষর নয়, বরং পৃথক পৃথক হরফ হিসেবে তিলাওয়াত করা হয় (যেমন: কাফ, হা, ইয়া, আইন, সোয়াদ)।
তাফসীর ও তাৎপর্য:
১. রহস্যময় ঐশী নিদর্শন: জমহুর সাহাবা ও সালাফে সালেহীনের মতে, এগুলো মুতাশাবিহাত বা রূপক আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার সুনির্দিষ্ট ভেদ ও অর্থ একমাত্র আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত আছেন।
২. কুরআনের অলৌকিক চ্যালেঞ্জ: এই হরফগুলো আরবের সাধারণ ভাষার হরফ। আল্লাহ কাফেরদের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তোমরা যে বর্ণমালা দিয়ে কথা বলো সেই বর্ণমালা দিয়েই এই কুরআন রচিত, তবুও তোমরা এর মতো একটি সূরাও রচনা করতে সম্পূর্ণ অক্ষম।

(ج) من هو زكريا عليه السلام؟ اكتب قصة ولادة يحيى عليه السلام-

[(গ) হযরত জাকারিয়া (আ.) কে ছিলেন? হযরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর অলৌকিক জন্মবৃত্তান্ত সংক্ষেপে লেখ:]

হযরত জাকারিয়া (আ.)-এর পরিচয়:
হযরত জাকারিয়া (আ.) ছিলেন বনি ইসরাইলের একজন প্রখ্যাত ও সম্মানিত নবী এবং হযরত সুলাইমান (আ.)-এর বংশধর। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসের প্রধান ইমাম ও ধর্মযাজক ছিলেন এবং উম্মুল মুমিনীন মরিয়ম (আ.)-এর লালন-পালনের অভিভাবক ছিলেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন।

হযরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর জন্মকাহিনী:
হযরত জাকারিয়া (আ.) প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়েছিলেন এবং তাঁর স্ত্রীও ছিলেন আজীবন বন্ধ্যা। তিনি মরিয়মের হুজরায় অসময়ের অলৌকিক জান্নাতী ফলমূল দেখে উদ্বুদ্ধ হন যে আল্লাহ যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন। তিনি নিভৃতে আল্লাহর কাছে এক যোগ্য উত্তরসূরির দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে জিব্রাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে সুসংবাদ দেন যে তাঁকে এক পুত্রসন্তান দান করা হবে যার নাম হবে ‘ইয়াহইয়া’—যে নামের মানুষ ইতিপূর্বে পৃথিবীতে কেউ ছিল না। জাকারিয়া (আ.) নিদর্শন চাইলে আল্লাহ বলেন যে তিন দিন তিনি ইশারা ছাড়া মানুষের সাথে কথা বলতে পারবেন না। অতঃপর বন্ধ্যা মাতার গর্ভে পরম অলৌকিকভাবে নবী হযরত ইয়াহইয়া (আ.) জন্মগ্রহণ করেন।


৭. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وما تلك بيمينك يا موسى- قال هى عَصَايَ أتوكؤا عليها وأهش بها على غنمى ولى فيها مآرب أخرى- قال ألقها يا موسى- فألقها فإذا هى حية تسعى-

[আর হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী? মূসা বললেন: এটা আমার লাঠি; আমি এর ওপর ভর দিই, এর দ্বারা আমার মেষপালের জন্য পাতা পেড়ে ঝরিয়ে দিই এবং এতে আমার আরও বহুবিধ প্রয়োজন সাধিত হয়। আল্লাহ বললেন: হে মূসা! ওটা নিক্ষেপ করো। অতঃপর মূসা তা নিক্ষেপ করলেন, আর সাথে সাথে তা একটি দ্রুত ছুটে চলা সাপে পরিণত হলো!]

(ب) فسر قوله تعالى : “وما تلك بيمينك يا موسى”-

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী?”—এর তাফসীর লেখ:]

তুর পাহাড়ে যখন হযরত মূসা (আ.) নবুওয়াত লাভ করেন এবং আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথনের (কালামুল্লাহ) সৌভাগ্য লাভ করেন, তখন আল্লাহ তাআলা এই স্নেহমাখা প্রশ্নটি করেন।
১. প্রশ্নটির অন্তর্নিহিত রহস্য: আল্লাহ তো সর্বজ্ঞানী, তিনি জানতেন মূসার হাতে লাঠি রয়েছে। এই প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য ছিল মূসা (আ.)-কে তাঁর হাতের পরিচিত সাধারণ কাঠের লাঠির কথা স্বীকার করিয়ে নেওয়া, যাতে কিছুক্ষণ পর সেটি যখন ভয়ানক জীবন্ত সাপে রূপান্তরিত হবে, তখন মূসা (আ.) যেন অলৌকিক মুজিযার সত্যতা চাক্ষুষ উপলব্ধি করতে পারেন এবং নিশ্চিত হন যে এটি কোনো কল্পনা বা দৃষ্টিবিভ্রম নয়।
২. প্রেমময় কথোপকথনের তৃপ্তি: মূসা (আ.) আল্লাহর সাথে কথা বলার আনন্দ দীর্ঘায়িত করার জন্য কেবল ‘লাঠি’ না বলে তার বিভিন্ন উপযোগিতার বিবরণ সবিস্তারে বর্ণনা করেছিলেন।

(ج) اكتب معجزات موسى عليه السلام بالإيجاز-

[(গ) হযরত মূসা (আ.)-এর প্রধান মুজিযাসমূহ সংক্ষেপে লেখ:]

আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আ.)-কে বনি ইসরাইল ও ফেরাউনের বিরুদ্ধে বহু প্রকাশ্য মুজিযা দান করেছিলেন, যার মধ্যে নয়টি প্রধান নিদর্শন (تسع آيات بينات) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
১. লাঠির অজগরে রূপান্তর (عصا): লাঠি মাটিতে ফেললেই বিশাল সাপ হয়ে জাদুকরদের মিথ্যা ভেল্কিবাজি গিলে ফেলত।
২. উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় হাত (يد بيضاء): বগলে হাত দিয়ে বের করলে তা কোনো রোগ ছাড়া সূর্যের মতো দ্যুতিময় আলো ছড়াত।
৩. লোহিত সাগরে বারোটি শুষ্ক পথ সৃষ্টি: লাঠির আঘাতে সাগরের পানি প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে গিয়ে বনি ইসরাইলের পারাপারের পথ তৈরি হওয়া এবং ফেরাউনের সদলবলে সলিল সমাধি।
৪. পাথর থেকে বারোটি পানির ঝর্ণাধারা উৎসারিত হওয়া: সিনাই মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত জাতির জন্য লাঠির আঘাতে পাথর থেকে সুপেয় পানি বের হওয়া।
৫. আসমান থেকে মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ হওয়া: কোনো পরিশ্রম ছাড়া আসমানী মিষ্টি খাবার ও ভুনা পাখির মাংস লাভ।
৬. মিশরের ওপর পাঁচ প্রকার আযাবের মুজিযা: পঙ্গপাল, ব্যাঙ, উকুন, তুফান এবং নদীর পানি রক্তে পরিণত হওয়া।


مجموعة (ب) : [খ-বিভাগ (উসূলে তাফসীর ও মুফাসসির)]

أجب عن واحد مما يلى (لكل سؤال ١٠ درجات) :
[নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০) :]


৮. ইমাম আবু হাইয়্যান আল-আন্দালুসী (রহ.) ও ‘আল-বাহরুল মুহীত’ তাফসীর

السؤال:
٨- اكتب نبذة عن حياة أبي حيان الأندلسي (رح) ومزايا تفسيره البحر المحيط-

[ইমাম আবু হাইয়্যান আল-আন্দালুসী (রহ.)-এর জীবনচরিত আলোচনা কর এবং তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘আল-বাহরুল মুহীত’-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর:]

ভূমিকা:
আরবি ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র ও ভাষাতাত্ত্বিক তাফসীর সাহিত্যের অবিসংবাদিত ইমাম হলেন ইমাম আসীরুদ্দীন আবু হাইয়্যান আল-আন্দালুসী (রহ.)।

সংক্ষিপ্ত জীবনী:

১. নাম ও জন্ম: তাঁর নাম মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী, উপনাম আবু হাইয়্যান, উপাধি আসীরুদ্দীন। তিনি হিজরি ৬৫৪ সনে (১২৫৬ খ্রি.) মুসলিম স্পেনের (আন্দালুসিয়া) ঐতিহাসিক গ্রানাডা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
২. জ্ঞানার্জন ও ভ্রমণ: তিনি আন্দালুসে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে উত্তর আফ্রিকা, মিশর, সিরিয়া ও হিজায পরিভ্রমণ করেন এবং সমকালীন শীর্ষ আলেমগণের সান্নিধ্য লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি কায়রোতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং সেখানে অধ্যাপনা শুরু করেন।
৩. পাণ্ডিত্য: তিনি ছিলেন একাধারে যুগশ্রেষ্ঠ নাহবী (ব্যাকরণবিদ), ভাষাবিদ, মুহাদ্দিস, ক্বারী ও মুফাসসির। ইমাম সীবওয়াইহের পর ব্যাকরণে তাঁর মতো权威 ব্যক্তি বিরল।
৪. ওফাত: তিনি হিজরি ৭৪৫ সনে (১৩৪৪ খ্রি.) কায়রোতে ৯১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাবুন নাসরের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তাফসীরে ‘আল-বাহরুল মুহীত’ (البحر المحيط)-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক শ্রেষ্ঠত্ব: আল-বাহরুল মুহীত হলো কুরআনের নাহবী ইরাব, সরফ ও বাক্যগঠন বিশ্লেষণের এক সুবিশাল মহাসমুদ্র। প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তি ও ব্যাকরণিক অবস্থান তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
২. ক্বিরাতের বৈচিত্র্য ও পর্যালোচনা: সাত ক্বিরাত এবং বিরল বা শায ক্বিরাতসমূহের বিস্তারিত বিবরণ ও আরবির বিভিন্ন গোত্রীয় উপভাষার সাথে তার সামঞ্জস্য তিনি চমৎকারভাবে প্রমাণ করেছেন।
৩. মু’তাজিলাদের মত খণ্ডন: আল্লামা যামাখশারী তাঁর ‘কাশশাফ’ তাফসীরে যে সমস্ত স্থানে মু’তাজিলা মতবাদ ঢুকিয়েছিলেন, ইমাম আবু হাইয়্যান ব্যাকরণ ও দলিলের মাধ্যমে যামাখশারীর সেই সমস্ত বিভ্রান্তিকর যুক্তি খণ্ডন করে আহলে সুন্নাতের আকিদা সমুন্নত রেখেছেন।
৪. অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সৌন্দর্য (বালাগাত): কুরআনের রূপক, উপমা ও আলঙ্কারিক বাচনভঙ্গির গভীর রহস্য তিনি উন্মোচন করেছেন।


৯. তাফসীর ও তাবীল-এর সংজ্ঞা, পার্থক্য এবং মুফাসসিরের অপরিহার্য শর্তাবলি

السؤال:
٩- ما التفسير والتأويل؟ وكم شرطا للمفسر؟ بين موضحا-

[তাফসীর ও তাবীলের সংজ্ঞা কী? এদের মধ্যে পার্থক্য কী? একজন মুফাসসিরের কয়টি শর্ত রয়েছে? স্পষ্ট করে বর্ণনা কর:]

তাফসীর ও তাবীলের সংজ্ঞা ও পার্থক্য:

১. তাফসীর (التفسير): ‘ফাসর’ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ উন্মোচন করা, স্পষ্ট করা বা ব্যাখ্যা করা। পরিভাষায়, মানবীয় সক্ষমতা অনুযায়ী কুরআনের শব্দের গঠন, অর্থ, হুকুম এবং ওহি অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করাকে তাফসীর বলে।
২. তাবীল (التأويل): ‘আওল’ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ মূল উৎসে ফিরে যাওয়া। পরিভাষায়, কোনো আয়াত থেকে তার প্রকাশ্য আক্ষরিক অর্থের চেয়েও গভীর কোনো সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ অর্থ অনুসন্ধান করা যা কুরআন ও সুন্নাহর অন্য নসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
পার্থক্য: ইমাম মাতুরিদী (রহ.) বলেন: তাফসীর হলো কোনো আয়াতের অর্থ সম্পর্কে নিশ্চিত রায় দেওয়া যে আল্লাহর উদ্দেশ্য এটাই (যা সাহাবাদের আছারের ওপর নির্ভরশীল); আর তাবীল হলো সম্ভাব্য একাধিক অর্থের মধ্য থেকে একটিকে যুক্তিসঙ্গতভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া।

একজন মুফাসসিরের অপরিহার্য শর্ত ও যোগ্যতাসমূহ:

পবিত্র কুরআনের মতো ঐশী গ্রন্থের তাফসীর যে কেউ নিজের বুদ্ধিমতো করতে পারে না। আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) ‘আল-ইতক্বান’ গ্রন্থে একজন মুফাসসিরের জন্য ১৫টি শাস্ত্রীয় বিষয়ে পাণ্ডিত্য অপরিহার্য শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন:
১. বিশুদ্ধ আরবি ভাষার জ্ঞান (اللغة): শব্দের মূল ধাতু ও প্রয়োগরীতি জানা।
২. নাহু ও সরফের জ্ঞান (النحو والصرف): ব্যাকরণ ও বাক্য গঠনের নিয়মনীতি না জানলে অর্থের মারাত্মক বিকৃতি ঘটে।
৩. বালাগাতের তিন শাখা: ইলমুল মাআনী, ইলমুল বায়ান এবং ইলমুল বাদী—এর পূর্ণ জ্ঞান থাকা।
৪. উসূলে ফিকহ ও ফিকহের জ্ঞান: সাধারণ ও বিশেষ (আম ও খাস), মুজমাল ও মুফাসসাল বিধান উদ্ভাবনের ক্ষমতা।
৫. আসবাবুন নুযূলের জ্ঞান: কোন প্রেক্ষাপটে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল তা জানা।
৬. নাসিখ ও মানসূখের জ্ঞান: কোন বিধান বহাল আছে এবং কোনটি রহিত হয়েছে তা সম্যক অবগত হওয়া।
৭. হাদিস ও উসূলে হাদিসের প্রজ্ঞা: সহীহ ও দুর্বল সনদ চেনার দক্ষতা।
৮. পরিশুদ্ধ আকিদা ও তাকওয়া: বিদআত ও কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হওয়া এবং আল্লাহর আনুগত্যে নিবেদিতপ্রাণ মুত্তাকী হওয়া।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আত-তাফসীর বিদূনিস সানাদ-২ (২০১৩০২) পরীক্ষার মান বণ্টন কেমন?

এ বিষয়ে মোট পূর্ণমান ৮০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ‘ক’ বিভাগে ৭টি আয়াতভিত্তিক প্রশ্ন থেকে ৫টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ১৪ নম্বর = ৭০ নম্বর); এবং ‘খ’ বিভাগে ২টি শাস্ত্রীয় প্রশ্ন থেকে ১টির উত্তর দিতে হয় (মান ১০ নম্বর)।

২. পৃথিবীতে পর্বতমালা সৃষ্টি করার প্রধান উপকারিতা কী?

পবিত্র কুরআন স্পষ্ট করেছে যে আল্লাহ তাআলা ভূত্বকের ওপর সুদৃঢ় পর্বতমালা পেরেকের মতো স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী মানুষকে নিয়ে হেলে না পড়ে এবং এর ভারসাম্য অক্ষুণ্ন থাকে। আধুনিক ভূবিজ্ঞানও পর্বতমালার গভীর শিকড় ও ভারসাম্য রক্ষার এই সত্যকে সমর্থন করেছে।

৩. সূরা আল-কাহাফে আসহাবে কাহাফ গুহায় কত বছর ঘুমন্ত ছিলেন?

কুরআনের সুস্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী আসহাবে কাহাফের ঈমানদার যুবকগণ গুহায় তিনশত সৌর বছর এবং চন্দ্র বছর হিসেবে আরও নয় বছর—অর্থাৎ মোট তিনশত নয় (৩০৯) বছর অলৌকিক নিদ্রায় নিমগ্ন ছিলেন।

৪. সূরা বনি ইসরাইলে বনি ইসরাইলের কয়টি ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের কথা বলা হয়েছে?

সূরা বনি ইসরাইলে তাদের চরম অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে দুটি ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথম বিপর্যয়ে ব্যাবিলনীয় বাদশাহ বখতেনাসার এবং দ্বিতীয় বিপর্যয়ে রোমান জেনারেল টাইটাস জেরুজালেম আক্রমণ করে তাদের নিশ্চিহ্ন ও দাসত্বে বন্দি করেছিল।

৫. ‘তাফসীর’ এবং ‘তাবীল’-এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

তাফসীর হলো আয়াতের প্রকাশ্য শব্দার্থ, ব্যাকরণ ও ওহির পটভূমি অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট করা। আর তাবীল হলো আয়াতের একাধিক সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ রূপক অর্থের মধ্য থেকে সবচেয়ে সঙ্গতিপূর্ণ অর্থকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা।

৬. তাফসীরে ‘আল-বাহরুল মুহীত’-এর রচয়িতা কে এবং এর বৈশিষ্ট্য কী?

এর রচয়িতা হলেন আন্দালুসের প্রখ্যাত ব্যাকরণবিদ ইমাম আবু হাইয়্যান আল-আন্দালুসী (রহ.)। এ তাফসীরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কুরআনের নাহবী ইরাব, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, ক্বিরাত ও ভাষাতাত্ত্বিক পর্যালোচনার এক সুবিশাল প্রামাণ্য বিশ্বকোষ।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *