জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর বিস-সানাদ (At-Tafsir bis-Sanad) – 201301, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৯ মিনিট পড়ার সময়
৬ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ۲۰۲۱ م
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بالسند
[আত-তাফসীর বিস-সানাদ]
বিষয় কোড: ২০১৩০১ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) : [ক-বিভাগ (তাফসীর ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন)]

أجب عن خمسة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ١٤ درجة: الآيات ٦ + أ ٤ + ب ٤) :
[নিচের যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৪: আয়াত ৬ + ক ৪ + খ ৪) :]


১. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وما من دابة فى الأرض إلا على الله رزقها ويعلم مستقرها ومستودعها كل فى كتاب مبين- وهو الذى خلق السموات والأرض فى ستة أيام وكان عرشه على الماء ليبلوكم أيكم أحسن عملا، ولئن قلت إنكم مبعوثون من بعد الموت، ليقولن الذين كفروا إن هذا إلا سحر مبين-

[আর জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত নয়; তিনি জানেন তাদের স্থায়ী আবাসস্থল এবং সাময়িক অবস্থানের স্থান। সবকিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর তিনিই সেই সত্তা যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, আর তখন তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর; যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে সর্বোত্তম। আর যদি আপনি বলেন: নিশ্চয়ই মৃত্যুর পর তোমাদের পুনরায় জীবিত করা হবে, তবে কাফেররা অবশ্যই বলবে: এটি তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।]

(الف) ما معنى الرزق؟ هل الحرام رزق أم لا؟ بين-

[(ক) রিজিকের অর্থ কী? হারাম বস্তু কি রিজিকের অন্তর্ভুক্ত কি না? ব্যাখ্যা কর:]

রিজিকের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ:
আরবি ‘রিজিক’ (الرزق) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, অংশ, জীবিকা বা খাদ্য। শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তাআলা কোনো প্রাণীকে তার জীবনধারণ ও উপকারের জন্য যে সমস্ত খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও সামগ্রী দান করেন এবং যা সে ভোগ করে, তাকে ‘রিজিক’ বলা হয়।

হারাম কি রিজিক হিসেবে গণ্য:
এ বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং মু’তাজিলাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে:
১. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা: হালাল ও হারাম উভয় প্রকার সামগ্রীই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত (الحرام رزق كالـحلال)। মানুষ যা কিছু খেয়ে বা ভোগ করে জীবন ধারণ করে, তা আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে তার রিজিক। তবে হালাল উপায়ে তা গ্রহণ করা পুণ্য ও প্রশংসনীয় এবং হারাম উপায়ে তা গ্রহণ করা গুনাহ ও শাস্তির কারণ। আল্লাহ রিজিকদাতা হলেও মানুষকে হারাম পথ বর্জন করে হালাল উপার্জনের আদেশ দিয়েছেন।
২. মু’তাজিলাদের বিভ্রান্তি: মু’তাজিলারা দাবি করে যে হারাম বস্তু রিজিক হতে পারে না। কারণ আল্লাহ কোনো বান্দাকে হারামের আদেশ দেন না। কিন্তু তাদের এই অভিমত ভুল; কেননা কোনো ব্যক্তি যদি আজীবন চুরি করা মাল বা হারাম খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে, তবে তাদের যুক্তি অনুযায়ী ওই লোকটির কোনো রিজিকই আল্লাহ দেননি বলে দাবি করতে হয়, যা অবাস্তব ও কুরআনবিরোধী।

(ب) اشرح قوله تعالى : “خلق السموات والأرض فى ستة أيام”-

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন”—এর ব্যাখ্যা লেখ:]

আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিনকে ছয় দিনে (في ستة أيام) সৃষ্টি করেছেন। মুফাসসিরীনে কিরাম এর নিম্নোক্ত ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
১. ‘আইয়াম’ বা দিনের স্বরূপ: সৃষ্টিজগতের প্রাথমিক পর্যায়ে সূর্য বা চন্দ্রের আবর্তন ছিল না। সুতরাং এখানে ‘ছয় দিন’ বলতে আমাদের চব্বিশ ঘণ্টার প্রচলিত দিন নয়; বরং মহাজাগতিক সৃষ্টির ছয়টি দীর্ঘ সময়কাল বা পর্যায় (Six Epochs/Eras)-কে বোঝানো হয়েছে। কুরআনে অন্যত্র বলা হয়েছে আল্লাহর নিকট একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান (সূরা আল-হাজ্জ: ৪৭)।
২. ধাপে ধাপে সৃষ্টির রহস্য ও শিক্ষা: আল্লাহ তাআলা কেবল ‘কুন’ (হও) বলেই নিমেষের মধ্যে সমগ্র মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে পারতেন। তা সত্ত্বেও ছয় ধাপে সৃষ্টি করার মূল রহস্য হলো বান্দাদের পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা, ধৈর্য ও নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষা দেওয়া।
৩. সূরা ফুসসিলাতের তাফসীর: জমিন সৃষ্টিতে দুই দিন, জমিনে পর্বতমালা ও উদ্ভিদ-জীবিকা নির্ধারণে দুই দিন এবং সাত আসমান বিন্যাসে দুই দিন—মোট ছয় দিনে এই নিখুঁত মহাবিশ্ব নির্মিত হয়েছে।


২. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
أم يقولون افتراه، قل فأتوا بعشر سور مثله مفتريت وادعوا من استطعتم من دون الله إن كنتم صدقين- فإلم يستجيبوا لكم فاعلموا أنما أنزل بعلم الله وأن لا إله إلا هو فهل أنتم مسلمون- من كان يريد الحيوة الدنيا وزينتها نوف إليهم أعمالهم فيها وهم فيها لا يبخسون-

[তারা কি বলে যে, তিনি নিজে এটি রচনা করেছেন? বলুন: তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে এর অনুরূপ দশটি স্বরচিত সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ব্যতীত যাকে পারো ডেকে নাও। অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো—এটি তো কেবল আল্লাহর জ্ঞানেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; অতএব তোমরা কি এখন আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হবে? যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার শোভা-সৌন্দর্য কামনা করে, আমি দুনিয়াতেই তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিয়ে দিই এবং সেখানে তাদের বিন্দুমাত্র হক নষ্ট করা হয় না।]

(الف) كيف تحدّى القرآن كفار عصره بمثل هذه الأية؟ بين-

[(ক) কুরআন কীভাবে এই আয়াতের মাধ্যমে তৎকালীন কাফেরদের চ্যালেঞ্জ করেছিল? ব্যাখ্যা কর:]

তৎকালীন আরবরা ছিল আরবি ভাষা, সাহিত্য ও বালাগাতের চরম শীর্ষে অধিষ্ঠিত। কুরআন তাদেরকে অলৌকিক চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল:
১. ধাপে ধাপে সহজতর চ্যালেঞ্জ: প্রথমে কুরআন সমগ্র কুরআনের মতো একটি পূর্ণ কিতাব রচনার চ্যালেঞ্জ দেয় (সূরা আল-ইসরা: ৮৮)। কাফেররা অক্ষম হলে এই আয়াতে (সূরা হূদ: ১৩) মাত্র দশটি সূরা তৈরি করার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়। পরিশেষে তাদের আরও ছাড় দিয়ে মাত্র একটি সূরার (সূরা আল-বাকারা: ২৩) চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়।
২. সকলের সহযোগিতার উন্মুক্ত আহ্বান: কুরআন চ্যালেঞ্জে বলে যে, তোমরা একা না পারলে তোমাদের সমস্ত সাহায্যকারী, দার্শনিক ও প্রতিমাগুলোকে ডেকে নাও। আরবের বাঘা বাঘা কবি-সাহিত্যিকরা এই চ্যালেঞ্জের মুখে চরমভাবে পরাভূত ও নির্বাক হয়ে যায়, যা কুরআনের শাশ্বত মোজেজা প্রমাণ করে।

(ب) ما معنى الإسلام والمسلم؟

[(খ) ইসলাম ও মুসলিম শব্দের অর্থ কী?]

ইসলামের অর্থ:
‘ইসলাম’ (الإسلام) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো শান্তি স্থাপন করা, নিরাপত্তা লাভ করা এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বের সামনে সম্পূর্ণ নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য করা। পরিভাষায়, মহান আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর প্রেরিত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সমস্ত বিধানকে হৃদয়ে ধারণ করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা তা পালন করাই হলো ইসলাম।

মুসলিমের অর্থ:
‘মুসলিম’ (المسلم) হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে স্বীয় নফস ও প্রবৃত্তিকে সমর্পণ করেছে। হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন: “প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।” (সহীহ বুখারী)।


৩. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
لقد كان في يوسف وإخوته أيت للسائلين- إذ قالوا ليوسف وأخوه أحب إلى أبينا منا ونحن عصبة إن أبانا لفى ضلل مبين- اقتلوا يوسف أو اطرحوه أرضا يخل لكم وجه أبيكم وتكونوا من بعده قوما صلحين- قال قائل منهم لا تقتلوا يوسف وألقوه في غيبت الجب يلتقطه بعض السيارة إن كنتم فعلين-

[অবশ্যই ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় অনুসন্ধানকারীদের জন্য বহু শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে। যখন তারা বলল: ইউসুফ ও তার ভাই (বেনিয়ামিন) আমাদের পিতার নিকট আমাদের চেয়েও অধিক প্রিয়, অথচ আমরা একটি শক্তিশালী সংহত দল; নিশ্চয়ই আমাদের পিতা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো কিংবা তাকে কোনো দূরবর্তী অচেনা জমিনে নিক্ষেপ করো, যাতে তোমাদের পিতার দৃষ্টি কেবল তোমাদের প্রতিই নিবদ্ধ হয় এবং এরপর তোমরা এক পুণ্যবান সম্প্রদায় হয়ে যাবে। তাদের মধ্য থেকে একজন প্রবক্তা বলল: তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না; বরং তাকে কোনো গভীর অন্ধকার কূপের তলায় নিক্ষেপ করো, যাতে কোনো কাফেলা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়—যদি তোমাদের কিছু করতেই হয়।]

(الف) ما الأيات في يوسف وإخوته للسائلين؟ بين-

[(ক) ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় অনুসন্ধানকারীদের জন্য কী কী শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে? বর্ণনা কর:]

মক্কার মুশরিকরা ইহুদিদের প্ররোচনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে পরীক্ষা করার জন্য ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনী সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল। এ ঘটনায় গভীর নিদর্শনাবলি রয়েছে:
১. গায়েবের অলৌকিক সংবাদ: নিরক্ষর নবী (সা.) কোনো কিতাব না পড়েও বনি ইসরাইলের প্রাচীন ইতিহাসের নিখুঁত বিবরণ ওহি মারফত দিয়ে সত্য নবুওয়াতের প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।
২. হিংসার মারাত্মক পরিণতি: ভাইদের অন্তরে হিংসা প্রবেশ করলে তা রক্ত সম্পর্কের মানুষকেও হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত করতে পারে।
৩. ধৈর্য ও আল্লাহর চূড়ান্ত ফয়সালা: ষড়যন্ত্রকারীরা যাকে কূপের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করেছিল, আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র চরিত্র ও ধৈর্যের বরকতে তাঁকেই মিশরের রাজসিংহাসনে সমাসীন করেছিলেন।

(ب) ما معنى العصبة فى الأية وما الفرق بينها وبين نفر وطائفة وفرقة ووفد وفئة؟

[(খ) আয়াতে ‘উসবাহ’ শব্দের অর্থ কী? এবং উসবাহ, নাফর, ত্বায়িফা, ফিরক্বা, ওয়াফদ ও ফিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী?]

‘উসবাহ’ (عصبة)-এর অর্থ:
আরবিতে ‘উসবাহ’ বলা হয় এমন শক্তিশালী ও সংহত দশ বা ততোধিক পুরুষের ঐক্যবদ্ধ দলকে, যারা একে অপরের সুরক্ষায় অবিচ্ছেদ্যভাবে পাশে দাঁড়ায়। ইউসুফ (আ.)-এর দশজন সৎ ভাই এই বাহুবল ও শক্তির গর্বে নিজেদের ‘উসবাহ’ বলেছিল।

অনুরূপ সমার্থক পরিভাষাসমূহের সূক্ষ্ম পার্থক্য:
১. উসবাহ (عصبة): সাধারণত ১০ থেকে ৪০ জনের এমন শক্তিশালী সুসংগঠিত দল যাদের মধ্যে রক্ত ও গোত্রীয় সংহতি থাকে।
২. নাফর (نفر): ৩ থেকে ৯ জন পর্যন্ত যেকোনো পুরুষের ক্ষুদ্র দলকে ‘নাফর’ বলা হয়।
৩. ত্বায়িফা (طائفة): কোনো দল বা সম্প্রদায়ের একাংশ, যা এক ব্যক্তি থেকে শুরু করে একটি বৃহৎ দল পর্যন্ত হতে পারে।
৪. ফিরক্বা (فرقة): কোনো বৃহৎ দল থেকে মতাদর্শগত বা ধর্মীয় কারণে বিচ্ছিন্ন হওয়া পৃথক গোষ্ঠী।
৫. ওয়াফদ (وفد): কোনো রাষ্ট্রীয় বা কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল যা আলোচনা বা সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
৬. ফিয়া (فئة): এমন এক সাহায্যকারী দল যা যুদ্ধের সময় পেছনে থেকে মূল বাহিনীকে আশ্রয় ও সমর্থন যোগায়।


৪. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وجاءو أباهم عشاء يبكون- قالوا يا أبانا إنا ذهبنا نستبق وتركنا يوسف عند متاعنا فأكله الذئب وما أنت بمؤمن لنا ولو كنا صدقين- وجاءو على قميصه بدم كذب، قال بل سولت لكم أنفسكم أمرا، فصبر جميل، والله المستعان على ما تصفون-

[আর তারা রাতের বেলা কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকট আসলো। তারা বলল: হে আমাদের পিতা! আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করতে চলে গিয়েছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের নিকট রেখে গিয়েছিলাম, অতঃপর বাঘে তাকে খেয়ে ফেলেছে; আর আপনি তো আমাদের বিশ্বাস করবেন না যদিও আমরা সত্যবাদী হই। আর তারা তার জামায় মিথ্যা রক্ত মেখে নিয়ে এসেছিল। তিনি বললেন: বরং তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি মন্দ বিষয়কে শোভন করে দেখিয়েছে; অতএব উত্তম ধৈর্যই আমার অবলম্বন, আর তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল।]

(الف) ما معنى الإيمان وما المراد بمؤمن فى الأية؟

[(ক) ঈমানের অর্থ কী এবং আয়াতে ‘মুমিন’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

ঈমানের অর্থ:
‘ঈমান’ শব্দের শাব্দিক অর্থ স্বীকৃতি দেওয়া, বিশ্বাস স্থাপন করা এবং বিশ্বাসযোগ্য মনে করা। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস ও তদানুযায়ী আমলকে ঈমান বলে।

আয়াতে ‘মুমিন’ (بمؤمن)-এর তাৎপর্য:
পবিত্র কুরআনের এই আয়াতে ‘وما أنت بمؤمن لنا’-এর ‘মুমিন’ শব্দটি পারিভাষিক ঈমান অর্থে আসেনি; বরং আভিধানিক অর্থে ‘মুসাদ্দিক্ব’ (مصدق) বা সত্যায়নকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ ভাইয়েরা বলেছিল: “আপনি তো আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না বা সত্য মনে করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই।”

(ب) اشرح قوله تعالى : “والله المستعان على ما تصفون”-

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “আর তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল”—এর ব্যাখ্যা কর:]

হযরত ইয়াকুব (আ.) যখন ইউসুফের রক্তমাখা জামা দেখলেন কিন্তু লক্ষ্য করলেন যে জামাটি অক্ষত রয়েছে, বাঘে খেলে জামা ছিঁড়ে যাওয়ার কথা ছিল—তখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে ছেলেরা মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। এই চরম মানসিক আঘাতের মুহূর্তে তিনি বললেন: “ওয়াল্লাহুল মুসতাআনু আলা মা তাসিফূন”
১. আল্লাহর ওপর পরম তাওয়াক্কুল: মানুষের কোনো আশ্রয় না পেয়ে তিনি একমাত্র মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভর করলেন। তিনি বিশ্বাস করলেন যে আল্লাহই তাঁর সন্তানকে রক্ষা করবেন।
২. সবরে জামিল (ধৈর্যশীলতা): কোনো প্রকার অধৈর্য বা আল্লাহদ্রোহী হাহাকার না করে নীরবে আল্লাহর সন্তুষ্টিতে শোক সহ্য করার অনুপম শিক্ষা এখানে দেওয়া হয়েছে।


৫. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وهو الذى مد الأرض وجعل فيها رواسى وأنهرا، ومن كل الثمرت جعل فيها زوجين اثنين يغشى اليل النهار، إن فى ذلك لآيات لقوم يتفكرون- وفى الأرض قطع متجورت وجنت من أعناب وزرع ونخيل صنوان وغير صنوان يسقى بماء واحد، ونفضل بعضها على بعض فى الأكل إن فى ذلك لآيت لقوم يعقلون-

[আর তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা ও নদ-নদী সৃষ্টি করেছেন, আর প্রত্যেক ফলমূল থেকে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায় দুটি করে প্রকার; তিনি রাতকে দিন দ্বারা আচ্ছাদিত করেন; নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। আর জমিনে রয়েছে সংলগ্ন বিভিন্ন ভূখণ্ড, আর আঙ্গুর বাগান, শস্যক্ষেত ও খেজুর গাছ—যার কিছু একাধিক কাণ্ডবিশিষ্ট এবং কিছু একক কাণ্ডবিশিষ্ট; যা একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়, অথচ স্বাদে ও গুণে আমি তাদের একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি; নিশ্চয়ই এতে বোধসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।]

(الف) ما الفائدة فى خلق الرواسى والأنهار والبحار؟

[(ক) পর্বতমালা, নদী ও সাগর সৃষ্টির উপকারিতা কী কী?]

আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিজগতের প্রতিটি উপাদানে মানবজাতির জন্য অপার কল্যাণ নিহিত রয়েছে:
১. পর্বতমালার উপকারিতা (رواسي): আল্লাহ পৃথিবীপৃষ্ঠে সুউচ্চ পর্বতমালা স্থাপন করেছেন পেরেকের মতো (আওতাদা), যাতে পৃথিবীর ভারসাম্য অক্ষুণ্ন থাকে এবং ভূত্বকের নড়াচড়া বা কম্পন প্রতিহত হয়। আধুনিক ভূবিজ্ঞান (Plate Tectonics) এই সত্যকে প্রমাণ করেছে। তদুপরি পাহাড়গুলো বৃষ্টির সঞ্চয়ক এবং বরফের আধার হিসেবে কাজ করে।
২. নদ-নদী ও সাগরের উপকারিতা (أنهارا وبحارا): মিঠা পানির নদীসমূহ কৃষিকাজ, বৃক্ষরোপণ ও প্রাণীকুলের তৃষ্ণা মেটায়। আর সাগর-মহাসাগর পৃথিবীর জলবায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, মাছ ও মুক্তার মতো প্রোটিন ও রত্নের ভাণ্ডার যোগায় এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের অবাধ জলপথ তৈরি করে।

(ب) ما المراد بقوله تعالى : “صنوان وغير صنوان”؟

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “সিনওয়ানুন ওয়া গাইরু সিনওয়ান”-এর অর্থ ও উদ্দেশ্য কী?]

শব্দার্থ ও মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা:
সিনওয়ান (صنوان): এমন গাছকে বোঝায় যার শিকড় বা মূল গোড়া একটি, কিন্তু তা থেকে একাধিক কাণ্ড বা ডালপালা ওপরের দিকে উঠে শাখা বিস্তার করে (যেমন একই মূল থেকে দুটি বা তিনটি খেজুর গাছ বের হয়)।
গাইরু সিনওয়ান (غير صنوان): এমন গাছ যার মূল একটি এবং কাণ্ডও একক ও স্বতন্ত্র হিসেবে সোজা ওপরে ওঠে।
তাওহীদের অলৌকিক প্রমাণ: একই মাটি, একই পানি ও একই বাতাসের সংস্পর্শে বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও একেক গাছের ফল একেক মিষ্টি, সুবাস ও গুণের অধিকারী হয়। কোনো অন্ধ প্রকৃতি এটি করতে পারে না; বরং একজন সর্বজ্ঞানী প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার অস্তিত্বই এর একমাত্র যৌক্তিক প্রমাণ।


৬. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
له معقبت من بين يديه ومن خلفه يحفظونه من أمر الله، إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم، وإذا أراد الله بقوم سوءا فلا مرد له وما لهم من دونه من وال- هو الذى يريكم البرق خوفا وطمعا وينشئ السحاب الثقال-

[মানুষের জন্য রয়েছে পাহারাদার ফেরেশতা দল—তার সামনে ও তার পেছনে, যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। আর আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়ের অকল্যাণ বা শাস্তির সংকল্প করেন, তখন তা প্রতিরোধ করার কেউ থাকে না এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোনো সাহায্যকারী অভিভাবক নেই। তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের ভয় ও আশারূপে বিদ্যুৎ দেখান এবং ভারী মেঘমালা সৃষ্টি করেন।]

(الف) من المعقبات من بين يديه ومن خلفه يحفظونه من أمر الله؟

[(ক) মানুষের সামনে ও পেছনে পাহারা দেওয়া ‘মুয়াক্কিবাত’ কারা, যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে হেফাজত করে?]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আলী (রা.)-এর তাফসীর অনুযায়ী ‘মুয়াক্কিবাত’ (معقبات) হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়োজিত রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতামণ্ডলী:
১. পালাবদলকারী ফেরেশতা: এদেরকে ‘মুয়াক্কিবাত’ বলা হয় কারণ তারা দিন ও রাতের পালায় নিয়মিত একের পর এক দায়িত্ব গ্রহণ করে (ফজর ও আসরের নামাযে তারা একত্রিত হন)।
২. মানুষের নিরাপত্তা বিধান: একজন মানুষের সাথে চারজন ফেরেশতা সার্বক্ষণিক থাকেন—সামনে ও পেছনে দুজন পাহারা দেন যাতে জিন-শয়তান বা আকস্মিক বিপদ থেকে মানুষটি রক্ষা পায়, আর ডানে ও বামে দুজন ‘কিরামান কাতিবীন’ ভালো ও মন্দ আমল লিপিবদ্ধ করেন। যখন আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের কোনো বিপদ আসে, তখন তাঁরা সরে যান।

(ب) اشرح قوله تعالى : “إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم”-

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে”—এর ব্যাখ্যা কর:]

এটি সমাজ পরিবর্তনের এক অকাট্য ঐতিহাসিক ও ঐশী বিধান (সুন্নাতুল্লাহ):
১. নেয়ামত বহাল থাকার নীতি: আল্লাহ কোনো জাতিকে যে সম্মান, নিরাপত্তা, সুস্থতা ও শান্তি দান করেন, তা তিনি অযথা কেড়ে নেন না যতক্ষণ না সেই জাতি নিজেরা পাপ, পাপাচার ও অকৃতজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের নৈতিক চরিত্রের অবনতি ঘটায়।
২. উন্নতি ও জাগরণের পূর্বশর্ত: পরাধীন, অনগ্রসর বা লাঞ্ছিত কোনো জাতি ততক্ষণ পর্যন্ত উন্নতি বা মুক্তি লাভ করতে পারে না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অন্তর, বিশ্বাস, কর্মপ্রচেষ্টা ও নৈতিক চরিত্রকে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী সংস্কার করতে ব্রতী হয়। কেবল অলস দোয়া নয়, বাস্তব আত্মত্যাগ ও আমূল পরিবর্তনের উদ্যম জরুরি।


৭. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وإذ تأذن ربكم لئن شكرتم لأزيدنكم ولئن كفرتم إن عذابى لشديد- وقال موسى إن تكفروا أنتم ومن فى الأرض جميعا فإن الله لغنى حميد- ألم يأتكم نبؤا الذين من قبلكم قوم نوح وعاد وثمود، والذين من بعدهم لا يعلمهم إلا الله، جاءتهم رسلهم بالبينت فردوا أيديهم فى أفواههم-

[আর স্মরণ করো, যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করলেন: যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেব; আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। আর মূসা বললেন: তোমরা এবং পৃথিবীর সমস্ত মানুষ মিলে যদি কুফরি করো, তবুও নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম অমুখাপেক্ষী ও সর্বপ্রশংসিত। তোমাদের নিকট কি তোমাদের পূর্ববর্তী নূহ, আদ ও সামূদ সম্প্রদায়ের এবং তাদের পরবর্তী জাতিসমূহের সংবাদ পৌঁছায়নি, যাদের সঠিক সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না? তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ আগমন করেছিলেন, কিন্তু তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে চেপে ধরেছিল।]

(الف) ما معنى الشكر والكفر؟

[(ক) শোকর ও কুফরের অর্থ কী?]

শোকরের অর্থ:
‘শোকর’ (الشكر) শব্দের অর্থ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা ও প্রকাশ করা। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিটি নেয়ামতকে অন্তরে স্বীকার করা, মুখে তাঁর প্রশংসা করা এবং সেই নেয়ামতকে একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করাকে শোকর বলে। শোকর মূলত তিনভাবে হয়: অন্তরে, মুখে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমলের মাধ্যমে।

কুফরের অর্থ:
‘কুফর’ (الكفر) শব্দের মূল অর্থ গোপন করা বা ঢেকে রাখা। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: ১. আল্লাহর তাওহীদ ও ওহিকে অস্বীকার করা (ঈমানহীনতা); এবং ২. ‘কুফরানে নেয়ামত’—অর্থাৎ আল্লাহর দানকৃত নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া ও তা পাপের কাজে ব্যবহার করা।

(ب) تحدث عن قوم نوح وعاد وثمود باختصار-

[(খ) নূহ, আদ ও সামূদ সম্প্রদায় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর:]

১. কওমে নূহ: হযরত নূহ (আ.) দীর্ঘ সাড়ে নয়শত বছর মূর্তিপূজা বর্জন করে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকায় আল্লাহর গযব হিসেবে মহাপ্লাবন নেমে আসে এবং ঈমানদারগণ বাদে সমস্ত পাপাচারী সলিলসমাধিতে নিমজ্জিত হয়।
২. কওমে আদ: ইয়েমেনের আহকাফ অঞ্চলে বসবাসকারী অত্যন্ত দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী জাতি। হযরত হূদ (আ.)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে শক্তির অহংকার করায় টানা সাত রাত ও আট দিনব্যাপী প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ঘূর্ণিবাতাস দ্বারা তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
৩. কওমে সামূদ: হিজর অঞ্চলে পাহাড় কেটে সুরক্ষিত প্রাসাদ নির্মাণকারী কারিগর জাতি। হযরত সালেহ (আ.)-এর মুজিযা হিসেবে প্রেরিত অলৌকিক উটনীকে হত্যা করায় বিকট বজ্রধ্বনি ও ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাধ্যমে তাদের নিশ্চিহ্ন করা হয়।


৮. আয়াত ও সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর

الآيات الكريمة:
وقالوا يأيها الذى نزل عليه الذكر إنك لمجنون- لو ما تأتينا بالملئكة إن كنت من الصدقين- ما ننزل الملئكة إلا بالحق وما كانوا إذا منظرين- إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحفظون- ولقد أرسلنا من قبلك فى شيع الأولين-

[আর তারা বলল: হে ওই ব্যক্তি যার ওপর যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে! নিশ্চয়ই তুমি একজন উন্মাদ। তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের নিকট ফেরেশতা নিয়ে আসছ না কেন? আমি ফেরেশতাদের কেবল সত্য ও চূড়ান্ত ফয়সালাসহ অবতীর্ণ করি এবং তখন কাফেরদের আর কোনো অবকাশ দেওয়া হবে না। নিশ্চয়ই আমিই এই যিকির অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি নিজেই এর সংরক্ষণকারী। আর নিশ্চয়ই আমি আপনার পূর্বেও প্রাচীন জাতিসমূহের বহু দলের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছিলাম।]

(الف) لم قالوا للنبى صلى الله عليه وسلم إنك لمجنون؟ وهل كان فيه جنون؟ وضح-

[(ক) তারা কেন নবী (সা.)-কে উন্মাদ বলেছিল? তাঁর মধ্যে কি উন্মাদনার লেশমাত্র ছিল? ব্যাখ্যা কর:]

কাফেররা নবী কারীম (সা.)-কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে এবং তাঁর দাওয়াতকে নস্যাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে উন্মাদ (মাজনুন) বলেছিল। কারণ তিনি তাদের শতাব্দীর পৌত্তলিক প্রথা ও দেব-দেবী বর্জন করে এক অদৃশ্য আল্লাহর ইবাদত করতে এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের বিশ্বাস করতে বলতেন, যা তাদের বস্তুবাদী মগজে ঢুকত না।

তাঁর উন্মাদনা সম্পূর্ণ অমূলক:
নবীজী (সা.)-এর মধ্যে কোনো প্রকার উন্মাদনা বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার লেশমাত্র ছিল না। নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই মক্কার ঘোর শত্রুরাও তাঁকে সর্বসম্মতভাবে ‘আল-আমীন’ (বিশ্বস্ত) ও ‘আস-সাদিক্ব’ (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত করেছিল। তিনি মানবজাতিকে যে কালজয়ী মহাকাব্যিক কুরআন এবং নিখুঁত সমাজ ও রাষ্ট্রনীতি উপহার দিয়েছিলেন, তা কোনো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীর দ্বারা অসম্ভব; বরং তিনি ছিলেন সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিত্ব।

(ب) ما معنى الذكر وما المراد بالذكر فى هذه الأيات الكريمة؟

[(খ) ‘যিকির’ শব্দের অর্থ কী এবং এই পবিত্র আয়াতসমূহে ‘যিকির’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

যিকিরের অর্থ:
আরবি ‘যিকির’ (الذكر) শব্দের আভিধানিক অর্থ স্মরণ করা, উপদেশ দান করা, সম্মান ও খ্যাতি।

আয়াতে যিকিরের উদ্দেশ্য:
উল্লিখিত আয়াতে ‘যিকির’ দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে ‘পবিত্র কুরআনুল কারীম’-কে বোঝানো হয়েছে। কুরআনকে যিকির বলা হয়েছে কারণ এটি মানুষকে আল্লাহর কথা স্মরণ করায়, অন্তরের মরিচা দূর করে উপদেশ দেয় এবং এর অনুসারীদের দুনিয়া ও আখেরাতে সুউচ্চ সম্মান দান করে। এর সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ গ্রহণ করেছেন।


مجموعة (ب) : [খ-বিভাগ (উসূলে তাফসীর)]

أجب عن واحد مما يلى (لكل سؤال ١٠ درجات) :
[নিচের যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০) :]


৯. আত-তাফসীর বিস-সানাদের পরিচয়, প্রকারভেদ ও মূলনীতিসমূহ

السؤال:
٩- ما معنى التفسير بالسند؟ اذكر أنواعه وقواعده مفصلا –

[আত-তাফসীর বিস-সানাদ (সনদভিত্তিক তাফসীর)-এর অর্থ কী? বিস্তারিতভাবে এর প্রকারভেদ ও মূলনীতিসমূহ বর্ণনা কর:]

ভূমিকা:
পবিত্র কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রামাণ্য, বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো সনদভিত্তিক তাফসীর, যা ইসলামি শাস্ত্রীয় পরিভাষায় ‘আত-তাফসীর বিল মা’সুর’ (التفسير بالمأثور) নামেও সমাদৃত।

আত-তাফসীর বিস-সানাদের সংজ্ঞা:

যে তাফসীর পদ্ধতিতে কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা কোনো মনগড়া যুক্তি বা রায়ের ওপর ভিত্তি না করে বরং অবিচ্ছিন্ন সনদ ও প্রামাণ্য সূত্রের মাধ্যমে কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবা ও তাবেয়ীগণের আছারের আলোকে সম্পাদন করা হয়, তাকে ‘আত-তাফসীর বিস-সানাদ’ বলে।

এর প্রধান প্রকারভেদসমূহ:

১. কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসীর (تفسير القرآن بالقرآن): এটি তাফসীরের সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ স্তর। কুরআনের এক স্থানের সংক্ষিপ্ত আয়াতকে অন্য স্থানের বিস্তারিত আয়াত দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
২. হাদিস দ্বারা কুরআনের তাফসীর (تفسير القرآن بالسنة): রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন কুরআনের প্রথম ও মূল ব্যাখ্যাকার। আয়াতের অস্পষ্ট বিধান তিনি সহীহ হাদিস মারফত উম্মাহকে স্পষ্ট করেছেন।
৩. সাহাবায়ে কিরামের বাণী দ্বারা তাফসীর (تفسير القرآن بأقوال الصحابة): সাহাবাগণ ওহির প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন। বিশেষ করে ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সনদযুক্ত আছার দ্বারা তাফসীর গ্রহণ করা।
৪. তাবেয়ীগণের আছার দ্বারা তাফসীর (تفسير القرآن بأقوال التابعين): মুজাহিদ, কাতাদাহ, হাসান বসরী প্রমুখ শীর্ষ তাবেয়ীদের বর্ণনাসমূহ।

আত-তাফসীর বিস-সানাদের মূলনীতি ও শর্তাবলি (قواعده):

১. সনদের বিশুদ্ধতা যাচাই: প্রতিটি বর্ণনার রাবী ও সনদের গ্রহণযোগ্যতা হাদিসের উসূল (জারহ ও তা’দীল) অনুযায়ী উত্তীর্ণ হতে হবে।
২. ইসরাঈলী বর্ণনা বর্জন: যে সমস্ত ইহুদি ও খ্রিস্টান পৌরাণিক কাহিনী সনদের নামে অনুপ্রবেশ করেছে এবং যা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর পরিপন্থী, তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করা।
৩. সহীহ হাদিসের ওপর নিজের রায়কে প্রাধান্য না দেওয়া: কোনো বিষয়ে সনদযুক্ত প্রামাণ্য হাদিস বিদ্যমান থাকলে নিজের ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি মতো ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ হারাম।


১০. আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.)-এর জীবনচরিত ও ‘তাফসীরুল কুরআনিল আযীম’-এর বৈশিষ্ট্য

السؤال:
١٠- اذكر نبذة من حياة المفسر العلام أبى الفداء اسمعيل بن كثير صاحب تفسير القرآن العظيم ثم بين مناهجه وخصائص تفسيره المذكور-

[তাফসীরুল কুরআনিল আযীমের লেখক আল্লামা আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে কাসীর (রহ.)-এর জীবনচরিত আলোচনা কর এবং তাঁর তাফসীরের পদ্ধতি ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর:]

ভূমিকা:
সনদভিত্তিক তাফসীর সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক সমাদৃত তাফসীরকারক হলেন ইমাম হাফেজ ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসীর আল-কুরাশী আদ-দিমাশক্বী (রহ.)।

সংক্ষিপ্ত জীবনী:

১. জন্ম ও লালন-পালন: তিনি হিজরি ৭০১ সনে (১৩০১ খ্রি.) সিরিয়ার বসরা অঞ্চলের ‘মিজদাল’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পিতৃহীন হয়ে তিনি বড় ভাইয়ের সাথে দামেস্কে গমন করেন।
২. শিক্ষা ও উস্তাদবৃন্দ: তিনি শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.), হাফেজ মিযযী এবং ইমাম জাহাবী (রহ.)-এর মতো যুগশ্রেষ্ঠ মনীষীদের সান্নিধ্যে হাদিস, তাফসীর ও ইতিহাসে সর্বোচ্চ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
৩. অন্যান্য বিখ্যাত রচনা: তাঁর জগদ্বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ ইসলামি ইতিহাসের অনন্য অমূল্য সম্পদ।
৪. ওফাত: ইলম ও তাফসীরের এই মহান খাদেম হিজরি ৭৭৪ সনে (১৩৭৩ খ্রি.) দামেস্কে ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং উস্তাদ ইবনে তাইমিয়ার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাফসীরুল কুরআনিল আযীম-এর পদ্ধতি ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. তাফসীর বিল মা’সুরের শ্রেষ্ঠ প্রতীক: ইমাম তাবারীর পর ইবনে কাসীরের তাফসীরই হলো হাদিস ও সনদভিত্তিক তাফসীরের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত গ্রন্থ।
২. কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসীর: তিনি কোনো আয়াত উল্লেখ করার পর সর্বপ্রথম কুরআনের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আয়াত এনে তার চমৎকার সমন্বয় ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
৩. সনদসহ হাদিসের উপস্থাপন ও মান নির্ণয়: তিনি প্রতিটি আয়াতের সমর্থনে সিহাহ সিত্তাহ ও মুসনাদে আহমাদের হাদিসসমূহ সনদসহ উল্লেখ করেন এবং রাবীদের দোষগুণ বিশ্লেষণ করে হাদিসের মান (সহীহ, যয়ীফ বা মুনকার) স্পষ্ট করে দেন।
৪. ইসরাঈলিয়াতের কঠোর সমালোচনা: ইবনে কাসীরের এক ঐতিহাসিক অবদান হলো তিনি তাফসীরের পাতায় ঢুকে পড়া ভিত্তিহীন ইসরাঈলী রূপকথা চিহ্নিত করে কঠোর ভাষায় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
৫. ফিকহি মতপার্থক্যের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা: আহকাম সংক্রান্ত আয়াতে ফকীহ চার ইমামের মতামত সনদসহ আলোচনা করে কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত তা সবিস্তারে প্রমাণ করেছেন।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষের আত-তাফসীর বিস-সানাদ (২০১৩০১) পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় কত?

আত-তাফসীর বিস-সানাদ পরীক্ষায় মোট পূর্ণমান ৮০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ‘ক’ বিভাগে ৮টি আয়াতভিত্তিক প্রশ্ন থেকে ৫টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ১৪ নম্বর = ৭০ নম্বর); এবং ‘খ’ বিভাগে ২টি তাফসীর শাস্ত্রীয় প্রশ্ন থেকে ১টির উত্তর দিতে হয় (মান ১০ নম্বর)।

২. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতে হারাম বস্তু কি মানুষের রিজিকের অন্তর্ভুক্ত?

হ্যাঁ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত আকিদা অনুযায়ী হালাল ও হারাম উভয় প্রকার সামগ্রীই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত; কারণ মানুষ যা খেয়ে জীবন ধারণ করে তা আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে তার রিজিক। তবে হারাম উপায়ে তা গ্রহণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৩. পবিত্র কুরআনে আসমান ও জমিনকে ‘ছয় দিনে’ সৃষ্টির তাৎপর্য কী?

মহাবিশ্ব সৃষ্টির সূচনায় চন্দ্র-সূর্যের পরিক্রমা না থাকায় এখানে ‘ছয় দিন’ বলতে আমাদের চব্বিশ ঘণ্টার দিন নয়; বরং মহাজাগতিক সৃষ্টির ছয়টি দীর্ঘ যুগ বা পর্যায়কালকে বোঝায়। মহান আল্লাহ মানবজাতিকে ধৈর্য ও পরিকল্পনা শেখানোর জন্য পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেছেন।

৪. সূরা হূদের ১৩ নম্বর আয়াতে কাফেরদের প্রতি কুরআনের চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

কুরআনকে মানব রচিত দাবিদার তৎকালীন আরব সাহিত্যিকদের প্রতি কুরআন চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল যে, তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে কুরআনের মতো অন্তত দশটি স্বরচিত সূরা তৈরি করে নিয়ে আসুক এবং তাদের সকল সাহায্যকারীকে সমবেত করুক। কিন্তু তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়।

৫. ‘আত-তাফসীর বিস-সানাদ’ বা আত-তাফসীর বিল মা’সুর বলতে কী বোঝায়?

যে তাফসীর পদ্ধতিতে নিজস্ব খেয়ালখুশির রায় বর্জন করে প্রামাণ্য সনদ ও সূত্রের মাধ্যমে কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবা ও তাবেয়ীগণের নির্ভরযোগ্য আছারের ভিত্তিতে আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে আত-তাফসীর বিস-সানাদ বলা হয়।

৬. হাফেজ ইবনে কাসীর (রহ.)-এর তাফসীরের সবচেয়ে প্রধান স্বাতন্ত্র্য কী?

তাফসীরে ইবনে কাসীরের সবচেয়ে বড় স্বাতন্ত্র্য হলো এটি কুরআন দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যার সর্বোত্তম নিদর্শন, এতে আয়াত সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহ সনদসহ এনে তাদের মান বিচার করা হয়েছে এবং ভিত্তিহীন ইসরাঈলী বর্ণনাগুলোকে কঠোরভাবে খণ্ডন করা হয়েছে।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *