اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۰ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الإسلام والأديان الأخرى
[আল ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা (ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম)]
বিষয় কোড: ২০১৩০৮ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) : [ক-বিভাগ (রচনামূলক)]
أجب عن أربعة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ١٥ درجة) :
[নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫) :]
১. দ্বীনের পরিচয় ও মানবজীবনে দ্বীনের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা
السؤال:
١- ما معنى الدين؟ تحدث عن حاجة الناس إلى الدين مفصلًا-
[الدين অর্থ কী? মানুষের জন্য দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা:
মানব সৃষ্টির সূচনা থেকেই ধর্ম বা দ্বীন মানুষের অস্তিত্বের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বস্তুবাদী উন্নতি যতই হোক না কেন, মানুষের আত্মিক শান্তি, নৈতিক শৃঙ্খলা ও জীবনের চরম লক্ষ্য অর্জনে দ্বীনের বিকল্প নেই।
দ্বীনের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
আভিধানিক অর্থ:
আরবি ‘দ্বীন’ (الدين) শব্দটি বহু অর্থবোধক। এর মূল ধাতু ‘দানা’ (دان) থেকে এসেছে। এর অর্থ আনুগত্য স্বীকার করা (الطاعة والإنقياد), প্রতিদান বা প্রতিফল প্রদান (الجزاء والحساب—যেমন মালিকি ইয়াওমিদ্দীন), নিয়ম বা পদ্ধতি (العادة والمذهب), এবং বিচার বা শাসন (القضاء والحكم)।
পারিভাষিক অর্থ:
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী ও রাসূলগণের মাধ্যমে মানবজাতির হিদায়াত ও সার্বিক কল্যাণের নিমিত্তে যে ঐশী বিশ্বাস, ইবাদত, নৈতিক বিধিবিধান ও জীবনব্যবস্থা অবতীর্ণ করেছেন, তাকে ‘দ্বীন’ বলে।
আল্লামা আল-জুরজানী (রহ.) বলেন: “দ্বীন হলো এমন এক ঐশী বিধান, যা বিবেকবান মানুষদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকর্ম ও কল্যাণের দিকে এবং পরকালীন চিরন্তন মুক্তির দিকে পরিচালিত করে।”
মানবজীবনে দ্বীনের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা:
১. মানব প্রকৃতির দাবি (ফিতরাত): মানুষ কেবল রক্ত-মাংসের শরীর নয়; তার একটি আধ্যাত্মিক সত্তা বা রুহ রয়েছে। রুহের খোরাক হলো আল্লাহর ইবাদত ও দ্বীন। দ্বীনহীন মানুষ আত্মিক তৃপ্তিহীন পশুতে পরিণত হয়। আল্লাহ বলেন: “সুতরাং তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো; এটিই আল্লাহর সেই ফিতরাত যার ওপর তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আর-রূম: ৩০)।
২. সৃষ্টির রহস্য ও জীবনের উদ্দেশ্য জানা: বিজ্ঞান আমাদের বলতে পারে পৃথিবী ‘কীভাবে’ কাজ করে, কিন্তু ‘কেন’ মানুষ সৃষ্টি হয়েছে এবং মৃত্যুর পর তার কী পরিণতি হবে—তা একমাত্র ঐশী দ্বীনই স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়।
৩. নৈতিক চরিত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা: পার্থিব পুলিশ বা আদালত কেবল প্রকাশ্যে ঘটিত অপরাধ দমন করতে পারে। কিন্তু মনের ভেতরের লোভ, হিংসা, অহংকার দমন এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে মানুষকে ন্যায়পরায়ণ রাখার জন্য আল্লাহর বিচার দিবসের ভয়ই হলো সবচেয়ে বড় নৈতিক অনুশাসন।
৪. হতাশা ও আত্মহত্যার প্রতিরোধ: জীবনে ব্যর্থতা, শোক ও বিপদে নাস্তিক্যবাদ মানুষকে চরম হতাশা ও আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়; পক্ষান্তরে দ্বীনদার মানুষ তাকদীরে বিশ্বাস ও আল্লাহর রহমতের ভরসায় পরম মানসিক প্রশান্তি ও সান্ত্বনা লাভ করে।
৫. আদর্শ সমাজ ও পারিবারিক শৃঙ্খল বিনির্মাণ: দ্বীন পারস্পরিক সহানুভূতি, মা-বাবার সেবা, আত্মীয়তার হক এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বাধ্যতামূলক করে একটি সুশৃঙ্খল মানবিক সমাজ গঠন করে।
২. ইসলামের পরিচয় ও ইসলামের সামাজিক সৌন্দর্যের রূপরেখা
السؤال:
٢- عرف الإسلام ثم تحدث عن محاسن الإسلام الاجتماعية-
[الإسلام এর পরিচয় দাও। অতঃপর ইসলামের সামাজিক সৌন্দর্য সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা:
ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম, সাম্যের ধর্ম এবং মানবতার সার্বিক মুক্তির শাশ্বত সনদ। এর সামাজিক রূপরেখা সমগ্র মানবজাতিকে এক অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
ইসলামের পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ:
‘ইসলাম’ (الإسلام) শব্দটি আরবি ‘সিলম’ (السلم) বা ‘সালামাত’ (السلامة) শব্দমূল থেকে এসেছে, যার অর্থ শান্তি, নিরাপত্তা, সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা এবং আনুগত্য স্বীকার করা।
পারিভাষিক অর্থ:
মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে আনীত যাবতীয় আদেশ-নিষেধ নিঃশর্তভাবে মেনে নেওয়া এবং কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করার নাম হলো ইসলাম।
ইসলামের অনন্য সামাজিক সৌন্দর্যসমূহ (محاسن الإسلام الاجتماعية):
১. শ্রেণিহীন সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব (الأخوة العالمية): ইসলাম ভৌগোলিক সীমা, গায়ের বর্ণ ও ভাষার প্রাচীর ভেঙে দিয়ে এক অভিন্ন বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব কায়েম করেছে। মসজিদে ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করে।
২. বংশীয় আভিজাত্য ও বর্ণবাদের মূলোৎপাটন: বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন: “কোনো আরবের ওপর অনারবের এবং অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের এবং কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো প্রাধান্য নেই—একমাত্র তাকওয়া ব্যতীত।” নিগ্রো কৃতদাস হযরত বিলাল (রা.)-কে ইসলামের সর্বোচ্চ মুয়াজ্জিন ও সম্মানিত সাহাবির মর্যাদা দেওয়া এর জীবন্ত প্রমাণ।
৩. নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা: জাহেলি যুগে জীবন্ত প্রোথিত হওয়া নারীকে ইসলাম মা হিসেবে জান্নাতের মাধ্যম, কন্যা হিসেবে রহমতের কারণ এবং স্ত্রী হিসেবে অর্ধাঙ্গিনীর সম্মান ও উত্তরাধিকারের মালিকানা দিয়েছে।
৪. প্রতিবেশীর অধিকার ও মানবিক দায়িত্ব: রাসূল (সা.) বলেছেন: “জিব্রাঈল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি উপদেশ দিচ্ছিলেন যে আমার মনে হচ্ছিল হয়তো প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেওয়া হবে!” তদুপরি তিনি নির্দেশ দিয়েছেন: “সে প্রকৃত মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে।”
৫. যাকাত ও সাদকার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিচার: সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করতে বিত্তবানদের ওপর যাকাত ফরজ করা হয়েছে, যা ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার শ্রেণিবিদ্বেষ চিরতরে দূর করে ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করে।
৬. অমুসলিমদের প্রতি সামাজিক সুবিচার: ইসলামি সমাজে অমুসলিম সংখ্যালঘু নাগরিকদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা, রক্তের নিরাপত্তা এবং সম্প্রীতির অকাট্য নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
৩. “ইসলাম সর্বযুগ ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী” — এর যৌক্তিক ও প্রামাণ্য বিশ্লেষণ
السؤال:
٣- أثبت أن الإسلام صالح لكل زمان ومكان-
[প্রমাণ কর যে, ইসলাম প্রত্যেক যুগ ও স্থানের জন্য উপযুক্ত।]
ভূমিকা:
ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট শতাব্দী বা কোনো বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চলের জন্য অবতীর্ণ ধর্ম নয়; বরং এটি হলো কিয়ামত অবধি সমগ্র মানবজাতির জন্য একমাত্র গ্রহণযোগ্য ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা (صالح لكل زمان ومكان)।
যৌক্তিক ও প্রামাণ্য দলিলসমূহ:
১. ঐশী ঘোষণা ও খতমে নবুওয়াত:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়েদা: ৩)। দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর আর কোনো নতুন ওহির প্রয়োজন নেই; কারণ এটি অনাগত সমস্ত সমস্যার সমাধানের মূলনীতি নিজের মধ্যে ধারণ করে আছে। রাসূল (সা.) হলেন ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’ এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত (রহমাতুল্লিল আলামীন)।
২. মৌলিক কাঠামোর স্থায়িত্ব এবং প্রয়োগে গতিশীলতা (الثبات والمرونة):
ইসলামের মূল আকাইদ, ইবাদত এবং হালাল-হারামের নৈতিক মূলনীতিসমূহ চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয় (সাবিত)। কিন্তু মুআমালাত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলাম এমন এক গতিশীল কাঠামো দিয়েছে যা যেকোনো আধুনিক যুগে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।
৩. ইজতিহাদ ও উসূলে ফিকহের অলৌকিক ক্ষমতা:
যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন নতুন জটিল বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয় (যেমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন, টেস্টটিউব বেবি, শেয়ার বাজার, ডিজিটাল ব্যাংকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি)। ইসলামি শরিয়তের ‘কিয়াস’, ‘ইস্তিসলান’, ‘উরফ’ ও ‘ইজতিহাদ’-এর সমৃদ্ধ মূলনীতি প্রয়োগ করে বিজ্ঞ ফকীহগণ কুরআন-সুন্নাহর নসের সাথে সঙ্গতি রেখে আধুনিক যেকোনো বিষয়ের সমাধান বের করতে পারেন।
৪. মানুষের স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যতা (ফিতরাত):
মানুষের মৌলিক প্রবৃত্তি—ক্ষুধা, তৃষ্ণা, বিচারবোধ, পারিবারিক চাহিদা ও আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা—পাথর যুগে যেমন ছিল, মহাশূন্যের যুগেও ঠিক একই রকম। ইসলাম সরাসরি মানুষের এই চিরন্তন ফিতরাতের সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় এটি কখনো অচল বা সেকেলে হয় না।
৫. চরমপন্থা ও শৈথিল্যবাদের মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ পথ (উম্মাতে ওয়াসাত):
ইসলাম বৈরাগ্যবাদ সমর্থন করে না, আবার বস্তুবাদী ভোগবাদেও অন্ধ হতে দেয় না। এটি ইহকাল ও পরকাল, বিজ্ঞান ও নৈতিকতার এক অনুপম সমন্বয়কারী ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম, যা বিশ্বজনীন যেকোনো সমাজের উপযোগী।
৪. ইসলামের আকিদাগত অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ
السؤال:
٤- اذكر خصائص الإسلام العقدية مفصلًا-
[ইসলামের আকিদাগত বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা:
বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের সাথে ইসলামি আকিদার মূল পার্থক্য হলো এর নির্ভুল ঐশী বিশুদ্ধতা ও যৌক্তিক ভিত্তি। ইসলামি আকিদার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বিস্তারিত আলোচিত হলো:
১. বিশুদ্ধ ও আপসহীন তাওহীদ (التوحيد الخالص):
ইসলামি আকিদার কেন্দ্রবিন্দু হলো নিরঙ্কুশ তাওহীদ। ইসলামে কোনো অবতারবাদ, ত্রিত্ববাদ (Trinity), বহু ঈশ্বরবাদ বা মূর্তিপূজার কোনো স্থান নেই। আল্লাহ তাআলা সত্তা, গুণাবলি ও ইবাদতের ক্ষেত্রে একক ও অদ্বিতীয় (সূরা আল-ইখলাস)। কোনো সৃষ্টি তাঁর সমকক্ষ বা অংশীদার হতে পারে না।
২. ওহিভিত্তিক প্রামাণিকতা (التوقيفية والغيبية):
ইসলামি আকিদা মানুষের কল্পনাপ্রসূত কোনো দর্শন বা রূপকথা নয়; বরং এটি সরাসরি আল্লাহর অবতীর্ণ ওহি (কুরআন) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রামাণ্য সহীহ সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে কোনো নতুন মনগড়া মতবাদের সংযোজন বা বিয়োজনের অধিকার কারো নেই।
৩. সহজবোধ্যতা ও স্পষ্টতা (الوضوح والسهولة):
ইসলামি আকিদা অত্যন্ত সহজ, সরল ও স্বাভাবিক। একজন সাধারণ রাখালও যেমন বুঝতে পারে যে এ মহাবিশ্বের একজন মহান স্রষ্টা রয়েছেন, তেমনি একজন বিজ্ঞানীও তা অনুভব করতে পারেন। এতে খ্রিস্টান ধর্মের ‘ত্রিত্ববাদ’ বা হিন্দুদের জটিল পৌরাণিক কাহিনীর মতো বিভ্রান্তিকর কোনো অন্ধ বিশ্বাস নেই।
৪. বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিক সামঞ্জস্য (موافقة العقل السليم):
ইসলাম অন্ধ বিশ্বাসকে প্রশ্রয় দেয় না; বরং কুরআন মানুষকে বিশ্বজগৎ, সৃষ্টি ও জীবন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানিয়েছে (সূরা আলে ইমরান: ১৯০-১৯১)। সুস্থ বিবেক কখনো বিশুদ্ধ তাওহীদ ও আখেরাতকে অসম্ভব মনে করে না।
৫. পরকালীন জবাবদিহিতা ও কর্মফল (الجزاء والحساب):
ইসলামি আকিদার অন্যতম স্তম্ভ হলো আখেরাত, পুনরুত্থান ও কিয়ামত। পৃথিবীতে যে মানুষ ভালো কাজ করবে সে জান্নাত লাভ করবে এবং যে অন্যায়-অবিচার করবে সে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। এই বিশ্বাস মানুষকে সত্যবাদী, আমানতদার ও সংযমী বানায়।
৬. মাঝারি ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি:
ইসলামি আকিদা মানুষকে একদিকে আল্লাহর রহমতের আশাবাদী করে, অন্যদিকে তাঁর আযাব ও শাস্তির ভয়ে সতর্ক রাখে (بین الخوف والرجاء)।
৫. ইহুদি ধর্মের পরিচয়, এর উৎপত্তির ইতিহাস ও মৌলিক বিশ্বাসসমূহ
السؤال:
٥- عرف اليهودية ثم بين تاريخ نشأتها وعقائدها الأساسية-
[ইহুদী ধর্মের পরিচয় দাও। অতঃপর এর উৎপত্তির ইতিহাস ও মৌলিক বিশ্বাসসমূহ বর্ণনা কর।]
ইহুদি ধর্মের পরিচয়:
‘ইহুদি ধর্ম’ (اليهودية – Judaism) হলো হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর চতুর্থ পুত্র ‘ইয়াহুদা’ (Judah)-এর নামানুসারে পরিচিত একটি প্রাচীন ধর্মবিশ্বাস। বনি ইসরাইল বা হিব্রু জাতির অনুসারীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাই হলো ইহুদি ধর্ম।
উৎপত্তির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
১. সূচনাপর্ব: হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর পৌত্র হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর অপর নাম ছিল ‘ইসরাইল’। তাঁর বারো পুত্রের বংশধরদেরকে ‘বনি ইসরাইল’ বলা হয়। তারা মিশরে ফেরাউনের অত্যাচারে দাসত্বে শৃঙ্খলিত ছিল।
২. হযরত মূসা (আ.) ও তাওরাত লাভ: আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মহান আল্লাহ হযরত মূসা (আ.)-কে ফেরাউনের কবল থেকে বনি ইসরাইলকে মুক্ত করার নির্দেশ দেন। লোহিত সাগর অতিক্রমের পর সিনাই পর্বতে হযরত মূসা (আ.) ঐতিহাসিক ‘দশটি আদেশ’ (Ten Commandments) এবং ওহিভিত্তিক আসমানী কিতাব ‘তাওরাত’ লাভ করেন।
৩. পরবর্তী বিচ্যুতি ও সাম্রাজ্য: হযরত দাউদ ও সুলাইমান (আ.)-এর যুগে জেরুজালেমে ‘হায়কালে সুলাইমানী’ নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ব্যাবিলনীয় সম্রাট বখতেনাসার (Nebuchadnezzar) খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে জেরুজালেম ধ্বংস করে ইহুদিদের বন্দি করে নিয়ে যায়। এই নির্বাসনের সময় তারা তাওরাত হারিয়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে আলেমদের স্মৃতি ও লোককথা মিলিয়ে বিকৃত আকারে তা সংকলন করে।
ইহুদিদের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ:
১. একক জাতীয় ঈশ্বর ‘ইয়াহওয়েহ’ (Yahweh): তারা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করার দাবি করলেও তাদের ঈশ্বর কেবল বনি ইসরাইলের জাতীয় ঈশ্বর। তাদের বিকৃত ধারণায় ঈশ্বর বিশ্রামের প্রয়োজনে ক্লান্ত হন বা মানুষের সাথে কুস্তি লড়েন (নাউযুবিল্লাহ)।
২. নির্বাচিত জাতি তত্ত্ব (Chosen People): ইহুদিরা চরম বর্ণবাদী বিশ্বাস পোষণ করে যে, কেবল তারাই আল্লাহর প্রিয় মনোনীত জাতি (شعب الله المختار); আর পৃথিবীর অন্য সকল অ-ইহুদি (Gentiles) তাদের দাস হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে।
৩. হযরত উজাইর (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র দাবি: পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৩০ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে যে, ইহুদিরা হযরত উজাইর (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলে শিরকে লিপ্ত হয়েছিল।
৪. পরবর্তী নবীগণকে অস্বীকার ও হত্যা: তারা শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং হযরত ঈসা (আ.)-কে নবী হিসেবে মানতে অস্বীকার করে এবং অতীতে জাকারিয়া (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.) সহ বহু নবীকে হত্যা করেছিল।
৫. প্রতিশ্রুত মসীহের অপেক্ষা: তারা বিশ্বাস করে শেষ যুগে এক রাজনৈতিক মসীহ এসে সমগ্র বিশ্বে ইহুদি সাম্রাজ্য কায়েম করবে (যাকে ইসলামে ‘দাজ্জাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে)।
৬. খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থসমূহ এবং এগুলোর বিকৃতির প্রামাণ্য বিবরণ
السؤال:
٦- اكتب ما تعرف عن الكتب المقدسة للنصرانية وما اعتراها من تحريف-
[খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থসমূহ এবং এগুলোর বিকৃতি সম্পর্কে যা জান লেখ।]
খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থের পরিচয়:
খ্রিস্টানদের মূল ধর্মগ্রন্থের সামগ্রিক নাম হলো ‘বাইবেল’ (The Bible)। এটি দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত:
১. পুরাতন নিয়ম (Old Testament): এতে হযরত ঈসা (আ.)-এর পূর্ববর্তী নবীগণের কিতাবসমূহ—বিশেষত ইহুদিদের তাওরাত (তোরাহ), জবুর (সামস) এবং অন্যান্য ভাববাদীদের পুস্তিকাসহ মোট ৩৯টি বা ৪৬টি পুস্তক রয়েছে।
২. নতুন নিয়ম (New Testament): এতে হযরত ঈসা (আ.)-এর জীবনী ও বাণীভিত্তিক চারটি প্রধান সুসমাচার (গসপেল)—মথি (Matthew), মার্ক (Mark), লূক (Luke) ও যোহন (John)—এবং প্রেরিতদের কার্যবিবরণী ও পত্রাবলি মিলিয়ে মোট ২৭টি পুস্তক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থসমূহের ঐতিহাসিক বিকৃতি ও তাহরীফ:
পবিত্র কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে খ্রিস্টান ও ইহুদি পণ্ডিতরা নিজেদের ধর্মগ্রন্থসমূহকে বিকৃত করেছে (সূরা আল-বাকারা: ৭৯)। আধুনিক পশ্চিমা গবেষকরাও স্বীকার করেছেন যে বর্তমান বাইবেল আদি মূল পাণ্ডুলিপির প্রতিনিধিত্ব করে না। এর প্রমাণসমূহ:
১. মূল ভাষার বিলুপ্তি: হযরত ঈসা (আ.) কথা বলতেন ‘আরামাইক’ ভাষায়। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় কোনো ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ হয়নি। বিদ্যমান চার ইঞ্জিল ঈসা (আ.)-এর অন্তর্ধানের বহু দশক পরে গ্রিক ভাষায় বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মাধ্যমে রচিত হয়েছে। ফলে যিশুর নিজস্ব মুখনিসৃত একটি বাক্যও আজ অবিকল সংরক্ষিত নেই।
২. সেন্ট পলের পৌত্তলিক দর্শনের অনুপ্রবেশ: সেন্ট পল (যিনি কখনো ঈসা আ.-কে দেখেননি) গ্রিক ও রোমান পৌত্তলিক দর্শনের সাথে আপস করে একত্ববাদী খ্রিস্টধর্মের মধ্যে ‘ত্রিত্ববাদ’ (Trinity), ‘যিশুর ঈশ্বরত্ব’ এবং ‘আদি পাপের প্রায়শ্চিত্তের রক্তবলি’ মতবাদ ঢুকিয়ে দেন।
৩. শত শত ইঞ্জিল থেকে জোরপূর্বক বাছাই: ৩২৫ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট কনস্টান্টাইনের আহবানে অনুষ্ঠিত ‘কাউন্সিল অব নাইসিয়া’ (Council of Nicaea)-তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচলিত প্রায় ৮০টি ইঞ্জিলের মধ্য থেকে পৌত্তলিক মতের সমর্থক মাত্র চারটি ইঞ্জিলকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয় এবং বাকি মূল একত্ববাদী ইঞ্জিলগুলো (যেমন বার্নাবাসের ইঞ্জিল) পুড়িয়ে ফেলা হয়।
৪. হাজার হাজার পাঠভেদ ও বৈপরীত্য: বিভিন্ন প্রাচীন গ্রিক পাণ্ডুলিপির মধ্যে হাজার হাজার ব্যাকরণিক ও ঐতিহাসিক বৈপরীত্য বিদ্যমান। যিশুর বংশতালিকা বর্ণনায় মথি ও লূকের মধ্যে চরম স্ববিরোধী তথ্য রয়েছে। এমনকি ত্রিত্ববাদের একমাত্র কথিত আয়াত (১ যোহন ৫:৭) পরবর্তীকালে জাল করে সংযোজন করা হয়েছিল বলে আধুনিক ‘রিভাইজড স্ট্যান্ডার্ড ভার্সন’ বাইবেল গবেষকরা তা বাদ দিয়েছেন।
مجموعة (ب) : [খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত)]
أجب عن أربعة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ٥ درجات) :
[নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫) :]
৭. তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পাঠের অপরিসীম গুরুত্ব
السؤال:
٧- بين أهمية دراسة مقارنة الاديان-
[তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর।]
ইসলামি গবেষক ও দাঈদের জন্য ‘তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব’ (مقارنة الأديان – Comparative Religion) অধ্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাস্ত্র। ইমাম আল-বিরুনী ও ইবনে হাযম আল-আন্দালুসী এ শাস্ত্রের অন্যতম অগ্রদূত। এর গুরুত্বসমূহ:
১. ইসলামের সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি: বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের পৌত্তলিকতা, কুসংস্কার ও বৈপরীত্যের তুলনায় ইসলামের তাওহীদ, যৌক্তিকতা ও সার্বজনীন সৌন্দর্যের অকাট্য শ্রেষ্ঠত্ব হৃদয়ঙ্গম করা যায়।
২. হিকমতের সাথে দাওয়াত পরিচালনা: ভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে তাদের ধর্মগ্রন্থের দলিল দিয়ে কথা বললে দাওয়াত অত্যন্ত কার্যকর হয়। শায়খ আহমদ দিদাত ও ড. জাকির নায়েক এ পদ্ধতির সফল প্রয়োগ দেখিয়েছেন।
৩. ইসলামোফোবিয়া ও বিভ্রান্তি দূরীকরণ: প্রাচ্যবিদ ও অমুসলিম প্রচারকরা ইসলামের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে, তাদের নিজস্ব গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে তা খণ্ডন করা সহজ হয়।
৪. আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংলাপ: বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও মানসিকতা বোঝার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হয়।
৮. ‘দ্বীন’ (الدين) ও ‘শরিয়ত’ (الشريعة)-এর মধ্যকার সম্পর্ক ও পার্থক্য
السؤال:
٨- ما الفرق بين الدين والشريعة؟ بين-
[الدين ও الشريعة এর মধ্যে পার্থক্য কী? আলোচনা কর।]
ইসলামি পরিভাষায় দ্বীন ও শরিয়ত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও এদের মধ্যে সূক্ষ্ম শাস্ত্রীয় পার্থক্য রয়েছে:
১. দ্বীন (الدين): দ্বীন হলো সকল নবী ও রাসূলগণের আনীত মূল বিশ্বাস ও তাওহীদের শাশ্বত ভিত্তি। আদম (আ.) থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবীর দ্বীন ছিল অভিন্ন—অর্থাৎ ইসলাম ও তাওহীদ। এতে কোনো পরিবর্তন বা নাসখ হয় না।
২. শরিয়ত (الشريعة): শরিয়ত হলো যুগের চাহিদা ও জাতির সক্ষমতা অনুযায়ী আল্লাহ প্রদত্ত আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নিয়মপদ্ধতি, হালাল-হারামের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা ও পারিবারিক-সামাজিক বিধিবিধান। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন নবীর যুগে শরিয়তের নিয়মে কিছু পরিবর্তন এনেছেন (যেমন মূসা আ.-এর শরিয়তের সাথে ঈসা আ.-এর শরিয়তের আহকামে কিছু তারতম্য ছিল)।
– পবিত্র কুরআনের দলিল: “আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি নির্দিষ্ট শরিয়ত ও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।” (সূরা আল-মায়েদা: ৪৮)।
সংক্ষেপে: দ্বীন হলো গাছের মূল শিকড় (যা সর্বদা এক), আর শরিয়ত হলো তার বিভিন্ন সময়ের উপযোগী শাখা-প্রশাখা।
৯. ইহুদি ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ
السؤال:
٩- ماذا تعرف عن الكتب المقدسة لليهودية؟ اكتب-
[ইহুদী ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ সম্পর্কে তুমি কী জান? লেখ।]
ইহুদিদের ধর্মীয় সাহিত্য মূলত দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
১. তানাক বা হিব্রু বাইবেল (Tanakh): এটি তিনটি বিভাগের আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত:
– তোরাহ (Torah): হযরত মূসা (আ.)-এর প্রতি অবতীর্ণ তাওরাত (আদিপুস্তক, যাত্রা পুস্তক, লেবীয় পুস্তক, গণনা পুস্তক ও দ্বিতীয় বিবরণ—এই ৫টি পুস্তক)।
– নেভীঈম (Nevi’im): প্রাচীন ভাববাদী ও নবীগণের বিবরণ সংবলিত ৮টি পুস্তক।
– কেতুভীম (Ketuvim): হযরত দাউদ (আ.)-এর জবুর (গীতসংহিতা), সুলাইমান (আ.)-এর হিতোপদেশসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কবিতার ১১টি পুস্তক। মোট ২৪টি হিব্রু পুস্তক।
২. তালমুদ (The Talmud): এটি ইহুদিদের মৌখিক ঐতিহ্য ও রাব্বিদের ফতোয়া-ব্যাখ্যার বিশাল সংকলন। এটি দুটি অংশে বিভক্ত: ‘মিশনাহ’ (মূল আইন) এবং ‘গেমারা’ (তার তাফসীর ও ব্যাখ্যা)। গোঁড়া ইহুদিদের কাছে তালমুদের গুরুত্ব লিখিত তোরাহর চেয়েও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি গণ্য হয়।
১০. হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস ও তার প্রমাণ
السؤال:
١٠- ما هى عقيدة المسلمين فى عيسى بن مريم؟ وما دليلها؟
[ঈসা (আ) সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস কী? এর প্রমাণ কী?]
মুসলমানদের অকাট্য আকিদা:
১. হযরত ঈসা (আ.) ছিলেন কোনো পিতা ব্যতীত কুমারী মা মরিয়মের গর্ভে আল্লাহর কুদরতি কালেমা দ্বারা জন্মলাভকারী মহান নবী ও রাসূল। তিনি কোনো ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র নন, বরং আল্লাহর সম্মানিত বান্দা ও রাসূল।
২. তাঁকে শূলে চড়িয়ে বা ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়নি; বরং ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে আল্লাহ তাঁকে সশরীরে জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন।
৩. কিয়ামতের পূর্বে তিনি দাজ্জাল নিধনের জন্য এবং উম্মতে মুহাম্মাদীর ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে মদিনায় দাফন হবেন।
কুরআনিক দলিল:
– সূরা আন-নিসার ১৫৭-১৫৮ আয়াতে আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা করেন: “অথচ তারা তাঁকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য সাদৃশ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল… বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের নিকট তুলে নিয়েছেন।”
– সূরা আলে ইমরানের ৫৯ আয়াতে বলা হয়েছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো; তিনি তাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করে বললেন: ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেল।”
১১. খ্রিস্টান ধর্মের উৎপত্তির ইতিহাস
السؤال:
١١- كيف نشأت النصرانية؟ بين موجزًا-
[খ্রিস্টান ধর্মের উৎপত্তি কীভাবে হলো? সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
উৎপত্তির সংক্ষিপ্ত পরিক্রমা:
১. হযরত ঈসা (আ.)-এর আগমন: বনি ইসরাইলের পথভ্রষ্টতা ও ইহুদি পণ্ডিতদের নৈতিক স্খলন দূর করার উদ্দেশ্যে রোমান শাসনাধীন ফিলিস্তিনে অলৌকিকভাবে হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম হয়। তিনি মাত্র তিন বছর তাঁর জাতি ও বারোজন শিষ্যের (হাওয়ারী) মাঝে বিশুদ্ধ তাওহীদ ও ইঞ্জিলের প্রচার করেন।
২. ইহুদিদের ষড়যন্ত্র ও তাঁর উত্তোলন: ইহুদি রাব্বিরা তাঁর দাওয়াতকে নিজেদের ক্ষমতার হুমকি মনে করে রোমান শাসক পন্তীয় পীলাতের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মিথ্যা অভিযোগ তোলে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে অলৌকিকভাবে আকাশে তুলে নেন।
৩. সেন্ট পলের রূপান্তর ও খ্রিস্টান ধর্মের মোড় পরিবর্তন: ঈসা (আ.)-এর বিদায়ের পর ইহুদি পণ্ডিত তার্সাসের শৌল (পরবর্তীতে ‘সেন্ট পল’) খ্রিস্টানদের ওপর চরম নির্যাতন চালাত। হঠাৎ সে দাবি করে যে দামেস্কের পথে যিশু তাকে দর্শন দিয়েছেন। এরপর পলই মূলত ঈসা (আ.)-এর মূল একত্ববাদী শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে রোমান পৌত্তলিকতার ছাঁচে আধুনিক খ্রিস্টধর্মের জন্ম দেন।
৪. রোমান সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রধর্ম: ৩১৩ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট কনস্টান্টাইনের মিলান ঘোষণার মাধ্যমে রোমান পৌত্তলিক সাম্রাজ্যে খ্রিস্টধর্ম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায় এবং দ্রুত ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
১২. হিন্দু ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ
السؤال:
١٢- ما هى العقائد الأساسية للهندوسية؟ بين بإيجاز-
[হিন্দু ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ কী? সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
হিন্দু ধর্ম (সনাতন ধর্ম) কোনো একক ঐতিহাসিক নবী বা প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রিক ধর্ম নয়; বরং এটি ভারতীয় উপমহাদেশের বহু প্রাচীন বিশ্বাস, রীতি ও দর্শনের এক মিশ্র রূপ। এর প্রধান মৌলিক বিশ্বাসসমূহ:
১. ব্রহ্ম ও বহু ঈশ্বরবাদ: তারা এক পরমাত্মা ‘ব্রহ্ম’-তে বিশ্বাস করলেও কার্যত লক্ষ লক্ষ দেব-দেবীর মূর্তিপূজা করে। তাদের মধ্যে প্রধান ত্রিমূর্তি হলো: ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা), বিষ্ণু (পালনকর্তা) ও শিব (সংহারকর্তা)।
২. অবতারবাদ (Avatars): তাদের বিশ্বাস, পৃথিবীতে অন্যায়-অধর্ম বেড়ে গেলে ঈশ্বর বিভিন্ন জীব বা মানুষের রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতরণ করেন (যেমন শ্রীকৃষ্ণ, রাম)।
৩. কর্মবাদ ও জন্মান্তরবাদ (Karma and Reincarnation): হিন্দু ধর্মের অন্যতম ভিত্তি হলো জন্মান্তরবাদ। মানুষের আত্মা অবিনশ্বর। মানুষ তার কৃতকর্ম অনুযায়ী মৃত্যুর পর ভালো বা নিকৃষ্ট যোনিতে (যেমন পশু-পাখি বা কীটপতঙ্গ) বারবার পুনর্জন্ম গ্রহণ করে।
৪. মোক্ষ লাভ (Moksha): জন্মের এই অনন্ত চক্র বা দুঃখময় পুনর্জন্মের শৃঙ্খল থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করে পরমাত্মার সাথে আত্মার লীন হয়ে যাওয়াকে মোক্ষ বলা হয়।
৫. বর্ণাশ্রম প্রথা (Caste System): প্রাচীন মনুসংহিতা অনুযায়ী সমাজ চার বর্ণে বিভক্ত: ব্রাহ্মণ (পূজারী ও পণ্ডিত), ক্ষত্রিয় (যোদ্ধা ও শাসক), বৈশ্য (ব্যবসায়ী) এবং শূদ্র (নিম্নবর্ণের সেবক)।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষের আল-ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা (২০১৩০৮) পরীক্ষার প্রশ্ন পদ্ধতি কেমন?
এ বিষয়ে মোট পূর্ণমান ৮০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ‘ক’ বিভাগে ৬টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন থেকে ৪টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ১৫ নম্বর = ৬০ নম্বর); এবং ‘খ’ বিভাগে ৬টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থেকে ৪টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ৫ নম্বর = ২০ নম্বর)।
২. ‘দ্বীন’ এবং ‘শরিয়ত’-এর মূল পার্থক্য কী?
দ্বীন হলো সকল নবীগণের যুগে অবতীর্ণ তাওহীদ ও মৌলিক বিশ্বাসের শাশ্বত ভিত্তি যা কখনোই পরিবর্তিত হয় না। পক্ষান্তরে শরিয়ত হলো স্থান-কাল ও জাতির প্রয়োজন অনুসারে আল্লাহ প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট ইবাদতের পদ্ধতি, হালাল-হারামের সীমারেখা ও আইনি বিধান, যা বিভিন্ন নবীর যুগে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।
৩. ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ ‘তানাক’ (Tanakh) কী কী নিয়ে গঠিত?
তানাক হলো হিব্রু বাইবেল যা তিনটি প্রধান অংশের সমষ্টি: ১. তোরাহ (হযরত মূসা আ.-এর তাওরাত), ২. নেভীঈম (নবীগণের ভাববাণী), এবং ৩. কেতুভীম (জবুরসহ ধর্মীয় সাহিত্য ও গান)। এছাড়া তাদের মৌখিক আইনের ব্যাখ্যাগ্রন্থকে তালমুদ বলা হয়।
৪. ইসলামি আকিদা অনুযায়ী হযরত ঈসা (আ.)-এর পরিণতি কী হয়েছিল?
ইসলামের অকাট্য আকিদা মতে হযরত ঈসা (আ.)-কে ইহুদিরা হত্যা বা ক্রুশবিদ্ধ করতে পারেনি; বরং আল্লাহ তাআলা তাঁকে সশরীরে জীবিত আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। কিয়ামতের পূর্বে তিনি দাজ্জাল বধ এবং ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে পৃথিবীতে পুনরায় অবতরণ করবেন।
৫. আধুনিক খ্রিস্টধর্মের বর্তমান রূপ কার চিন্তা থেকে এসেছে?
হযরত ঈসা (আ.)-এর বিদায়ের পর সেন্ট পল মূল একত্ববাদী তাওহীদের শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে রোমান পৌত্তলিক দর্শনের মিশ্রণে যিশুর ঈশ্বরত্ব, ত্রিত্ববাদ এবং আদি পাপের প্রায়শ্চিত্তের মতো মৌলিক আকিদা ঢুকিয়ে আধুনিক চার্চভিত্তিক খ্রিস্টধর্মের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন।
৬. হিন্দু ধর্মের ‘জন্মান্তরবাদ’ ও ‘মোক্ষ’ বলতে কী বোঝায়?
জন্মান্তরবাদ হলো মানুষের আত্মা অবিনশ্বর এবং মানুষ তার ইহকালীন পাপ-পুণ্যের ফল ভোগ করার জন্য মৃত্যুর পর বারবার বিভিন্ন যোনিতে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে। আর এই পুনর্জন্মের অনন্ত চক্র ও দুঃখময় বন্ধন থেকে চিরতরে মুক্তি পেয়ে পরমাত্মায় বিলীন হওয়াকে মোক্ষ বলা হয়।