জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন (Political Science and Public Administration) – 201307, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬২ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۰ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علم السياسة والإدارة العامة
[রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন]
বিষয় কোড: ২০১৩০৭ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: أجب عن اثنين من مجموعة (أ) وعن اثنين من مجموعة (ب) وعن اثنين من مجموعة (ج) وعن اثنين من مجموعة (د)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে ২টি, (খ) অংশ থেকে ২টি, (গ) অংশ থেকে ২টি এবং (ঘ) অংশ থেকে ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


علم السياسة [রাষ্ট্রবিজ্ঞান]

مجموعة (أ) : [ক-অংশ (রচনামূলক)]

أجب عن اثنين من الأسئلة التالية (لكل سؤال ١٥ درجة) :
[নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫) :]


১. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও এর ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ

السؤال:
١- عرف العلم السياسي ثم بين نشأته-

[রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর ক্রমবিকাশ বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম প্রাচীন, গতিশীল ও মৌলিক শাখা। মানব সভ্যতার সূচনা থেকেই সামাজিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চর্চা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা:
‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Political Science’। এটি গ্রিক শব্দ ‘Polis’ (নগর বা নগররাষ্ট্র) এবং ‘Polites’ (নাগরিক) থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
– প্রামাণ্য সংজ্ঞাসমূহ:
১. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল (Aristotle): তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Politics’-এ বলেছেন, “মানুষ স্বভাবতই রাজনৈতিক জীব এবং রাষ্ট্র হলো মানুষের সর্বজনীন কল্যাণের জন্য গঠিত সর্বোচ্চ সামাজিক প্রতিষ্ঠান।”
২. অধ্যাপক গার্নার (Prof. J. W. Garner): রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, “Political Science begins and ends with the State”—অর্থাৎ ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শুরু ও সমাপ্তি রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করেই’।
৩. পল জ্যানেট (Paul Janet): “রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সমাজবিজ্ঞানের সেই শাখা, যা রাষ্ট্রের ভিত্তি এবং সরকারের মূলনীতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করে।”
৪. ইসলামি দৃষ্টিকোণ: ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আল্লামা আল-মাওয়ার্দী (রহ.)-এর মতে, সিয়াসাত বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো নবুওয়াতের উত্তরাধিকার হিসেবে দ্বীন রক্ষা এবং পার্থিব দুনিয়ার সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ:
১. প্রাচীন গ্রিক যুগ: খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স ও স্পার্টার নগররাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্লেটোর ‘The Republic’ এবং অ্যারিস্টটলের ‘The Politics’ গ্রন্থের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক শাস্ত্রীয় মর্যাদা লাভ করে।
২. রোমান যুগ: রোমান চিন্তাবিদ সিসারো ও সেনেকা রোমান আইনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রচিন্তাকে নতুন মাত্রা দেন।
৩. মধ্যযুগ ও ইসলামি যুগ: ইউরোপে যখন অন্ধকার যুগ চলছিল, তখন মুসলিম বিশ্বে স্বর্ণযুগে ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অভাবনীয় বিকাশ ঘটে। আল-ফারাবী (‘আল-মাদীনাতুল ফাযিলাহ’), আল-মাওয়ার্দী (‘আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ’), ইমাম গাযযালী (‘নাসীহাতুল মুলূক’) এবং সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন (‘মুকাদ্দিমা’) রাষ্ট্রের উত্থান-পতন ও ‘আসাবিয়াহ’ তত্ত্ব প্রবর্তন করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন করেন।
৪. আধুনিক যুগ: ইউরোপের রেনেসাঁ পরবর্তীকালে মেকিয়াভেলি (‘The Prince’), টমাস হবস, জন লক ও রুশোর ‘সামাজিক চুক্তি মতবাদ’ এবং পরবর্তীতে মন্ট্যাস্কু ও জন স্টুয়ার্ট মিলের তত্ত্ব আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গতিপথ তৈরি করে। বিংশ শতাব্দীতে আচরণবাদী বিপ্লব ও আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, তুলনামূলক রাজনীতি ও নীতিবিশ্লেষণের পূর্ণাঙ্গ আধুনিক রূপ ধারণ করেছে।


২. রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদানসমূহ ও আধুনিক রাষ্ট্রের অনন্য বৈশিষ্ট্য

السؤال:
٢- كم أساسًا للدولة وما هى؟ تحدث من مزايا الدولة الحديثة-

[রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদান কয়টি ও কী কী? আধুনিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
রাষ্ট্র হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে আইনগতভাবে সুসংগঠিত এমন এক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যার নিজস্ব সরকার ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব রয়েছে এবং যা জনগণের জীবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ সাধন করে।

রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদানসমূহ:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক গার্নারের মতে, রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য মৌলিক উপাদান হলো ৪টি:
১. জনসমষ্টি (Population): রাষ্ট্র গঠনের প্রথম অপরিহার্য জৈবিক উপাদান হলো জনগণ। কোনো জনশূন্য মরুভূমি রাষ্ট্র হতে পারে না। তবে রাষ্ট্রের জনসংখ্যা কত হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (Fixed Territory): একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা থাকতে হবে, যার মধ্যে ভূ-পৃষ্ঠ, জলসীমা এবং আকাশসীমা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। স্থায়ী ভূখণ্ড ছাড়া যাযাবর জাতি রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না।
৩. সরকার (Government): রাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশ ও বাস্তবায়নের মূল প্রশাসনিক মাধ্যম হলো সরকার। সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগ থাকে: আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
৪. সার্বভৌমত্ব (Sovereignty): এটি রাষ্ট্রের সর্বপ্রধান ও প্রাণভোমরা সদৃশ উপাদান। সার্বভৌমত্ব বলতে রাষ্ট্রের চরম, অবাধ ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। এর দুটি দিক রয়েছে: অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব (দেশের অভ্যন্তরে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা) এবং বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব (বিদেশি রাষ্ট্রের আধিপত্য ও হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা)।

আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. কল্যাণমুখী রূপ (Welfare State): আধুনিক রাষ্ট্র কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বা কর আদায়ের পুলিশি রাষ্ট্র নয়; বরং এটি নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানকারী জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
২. আইনের শাসন ও মানবাধিকার: আইনের দৃষ্টিতে ধনী-দরিদ্র সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রদান আধুনিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
৩. গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনমতের প্রতিফলন: মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন এবং নীতি নির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম মাপকাঠি।
৪. বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার: তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আধুনিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
৫. টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সচেতনতা: অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ সংরক্ষণ আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


৩. আইনের পরিচয়, আইনের উৎসসমূহ ও ইসলামি দৃষ্টিকোণ

السؤال:
٣- ما المراد بالقانون؟ وكم مصدرًا للقانون وما هى؟ تحدث على ضوء الإسلام –

[আইন বলতে কী বুঝ? আইনের উৎস কয়টি ও কী কী? ইসলামের দৃষ্টিতে বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
আইন হলো সামাজিক শৃঙ্খলার রক্ষাকবচ। আইনবিহীন মানব সমাজ অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়।

আইনের পরিচয়:
‘আইন’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law’, যা টিউটনিক শব্দ ‘Lag’ (স্থির বা অপরিবর্তনীয়) থেকে এসেছে।
– অধ্যাপক হল্যান্ড (Holland): “আইন হলো সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যকর মানবীয় বাহ্যিক আচরণের সাধারণ নিয়ম।”
– উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson): “আইন হলো প্রতিষ্ঠিত চিন্তাধারা ও অভ্যাসের সেই অংশ, যা রাষ্ট্রীয় শক্তির দ্বারা সমর্থিত ও বলবৎযোগ্য।”

সাধারণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আইনের উৎসসমূহ:
প্রখ্যাত আইনবিজ্ঞানী হল্যান্ডের মতে সাধারণ আইনের প্রধান উৎস ৬টি:
১. প্রথা ও রীতিনীতি (Customs): প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা সামাজিক অভ্যাস যা কালক্রমে আইনে পরিণত হয়।
২. ধর্ম (Religion): প্রাচীন ও মধ্যযুগের প্রায় সকল আইনই ধর্মীয় অনুশাসন থেকে গৃহীত হয়েছে।
৩. বিচারকের রায় (Judicial Decisions): প্রচলিত আইনের অস্পষ্টতায় বিচারকদের প্রদত্ত যুগান্তকারী রায় পরবর্তী মামলার জন্য নজির বা আইনে পরিণত হয়।
৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা (Scientific Commentaries): খ্যাতনামা আইনজ্ঞদের প্রামাণ্য গ্রন্থ ও ব্যাখ্যা আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে।
৫. ন্যায়পরায়ণতা (Equity): লিখিত আইনের ঘাটতি থাকলে বিচারক নিজস্ব বিবেক ও ন্যায়বোধ দ্বারা সিদ্ধান্ত দেন।
৬. আইনসভা (Legislation): আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভার দ্বারা প্রণীত বিধিবদ্ধ আইনই হলো সবচেয়ে প্রধান ও প্রত্যক্ষ উৎস।

ইসলামের দৃষ্টিতে আইনের উৎস (مصادر الشريعة الإسلامية):
ইসলামে আইনের সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র উৎস হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। ইসলামি শরিয়তে আইনের মৌলিক উৎস ৪টি:
১. আল-কুরআন (القرآن الكريم): ইসলামি আইনের প্রধানতম, শাশ্বত ও মূল উৎস, যাতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের মৌলিক নীতিমালা দ্ব্যর্থহীনভাবে বিধৃত হয়েছে।
২. সুন্নাহ বা হাদিস (السنة النبوية): রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথা, কর্ম ও অনুমোদন যা কুরআনের বিধানাবলিকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োগিক রূপ দান করে।
৩. ইজমা (الإجماع): রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগে ইসলামি উম্মাহর বিজ্ঞ মুজতাহিদগণের কোনো শরয়ী বিষয়ে সর্বসম্মত ঐক্যমত।
৪. কিয়াস (القياس): কুরআন ও সুন্নাহর মূল নসের অভিন্ন ইল্লত বা কার্যকারণের ওপর ভিত্তি করে নতুন উদ্ভূত সমস্যার শরয়ী সমাধান উদ্ভাবন করা।


৪. গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের তুলনামূলক পার্থক্য

السؤال:
٤- اذكر الفرق بين الديمقراطية والدكتاتورية-

[গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।]

ভূমিকা:
আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শাসন ব্যবস্থার দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও মেরুকৃত রূপ হলো গণতন্ত্র (Democracy) এবং একনায়কতন্ত্র (Dictatorship)।

তুলনার বিষয় গণতন্ত্র (Democracy) একনায়কতন্ত্র (Dictatorship)
১. ক্ষমতার উৎস ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ। সরকার জনগণের সম্মতিতে গঠিত ও পরিচালিত হয়। ক্ষমতার উৎস একক ব্যক্তি, দল বা সামরিক শক্তি; যা বলপ্রয়োগে অধিষ্ঠিত।
২. জবাবদিহিতা সরকার সংসদ, বিচার বিভাগ ও জনগণের নিকট পূর্ণ জবাবদিহি করতে বাধ্য। সরকার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি করে না; শাসকই সর্বেসর্বা।
৩. মৌলিক অধিকার নাগরিকের বাকস্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষিত। নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়; সংবাদপত্রের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ থাকে।
৪. বিরোধী দলের অবস্থান বিরোধী দলকে গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও ছায়া সরকার হিসেবে সম্মান করা হয়। বিরোধী মত ও দলকে কঠোর হস্তে দমন, নিষিদ্ধ ও নিশ্চিহ্ন করা হয়।
৫. আইনের শাসন আইন সবার ঊর্ধ্বে; শাসক ও সাধারণ নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। শাসকের মুখের কথাই আইন; বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে শাসকের আজ্ঞাবহ।
৬. সরকার পরিবর্তন নিয়মিত, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তিত হয়। রক্তক্ষয়ী বিপ্লব, সামরিক অভ্যুত্থান বা শাসকের মৃত্যু ছাড়া পরিবর্তন অসম্ভব।

مجموعة (ب) : [খ-অংশ (সংক্ষিপ্ত)]

أجب عن اثنين من الأسئلة التالية (لكل سؤال ٥ درجات) :
[নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫) :]


৫. স্বাধীনতার পরিচয় ও আইনের সাথে স্বাধীনতার সম্পর্ক

السؤال:
٥- ما المراد بالحرية؟ هل الحرية تحت ضبط القانون؟ بين-

[স্বাধীনতা বলতে কী বুঝ? স্বাধীনতা কি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? বর্ণনা কর।]

স্বাধীনতার পরিচয়:
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা (Liberty) বলতে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অবাধ অধিকারকে বোঝায়। কিন্তু পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অবাধ স্বেচ্ছাচারিতাকে স্বাধীনতা বলা হয় না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লাস্কির মতে, স্বাধীনতা হলো এমন এক সামাজিক পরিবেশের সংরক্ষণ যেখানে প্রতিটি মানুষ তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়, অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে।

স্বাধীনতা কি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত:
হ্যাঁ, স্বাধীনতা অবশ্যই আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জন লক তাঁর বিখ্যাত উক্তিটিতে বলেছেন: “Where there is no law, there is no freedom”—অর্থাৎ ‘যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না’।
১. আইন না থাকলে সমাজে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ বা অরাজকতা সৃষ্টি হবে, ফলে দুর্বলের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হবে।
২. আইন নাগরিকের অধিকারের সীমা নির্ধারণ করে এবং একজনের স্বাধীনতার চর্চা যেন অপরের জন্য বিপদের কারণ না হয় তা নিশ্চিত করে। সুতরাং আইন স্বাধীনতার শত্রু নয়, বরং প্রধান রক্ষক ও পৃষ্ঠপোষক।


৬. আদর্শ সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ

السؤال:
٦- اكتب خصائص الدستور النموذجي-

[আদর্শ সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও মৌলিক দলিল, যার ওপর ভিত্তি করে সরকার পরিচালিত হয়। একটি আদর্শ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. সুস্পষ্টতা ও প্রাঞ্জলতা (Clarity): সংবিধানের ভাষা অত্যন্ত সহজ, প্রাঞ্জল ও দ্ব্যর্থহীন হতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ ও আদালত সহজে তা উপলব্ধি করতে পারে।
২. মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্তি (Fundamental Rights): সংবিধানে স্পষ্টভাবে নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
৩. সুসংহত কাঠামো ও পূর্ণাঙ্গতা (Comprehensiveness): সরকারের তিনটি অঙ্গের (আইন, শাসন ও বিচার) ক্ষমতা, কার্যাবলি ও পারস্পরিক সম্পর্কের ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা থাকতে হবে।
৪. অনমনীয়তা ও নমনীয়তার সমন্বয় (Balance of Rigidity and Flexibility): সংবিধান এমন অতিরিক্ত কঠোর হওয়া উচিত নয় যাতে যুগের প্রয়োজনে সংস্কার না করা যায়, আবার এমন নমনীয়ও হওয়া উচিত নয় যাতে ক্ষমতাসীন দল খেয়ালখুশি মতো তা বিকৃত করতে পারে।
৫. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা (Independence of Judiciary): সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগের অকাট্য নিশ্চয়তা থাকতে হবে।


৭. সমতার পরিচয় ও আদর্শ রাষ্ট্রে সমতার বিভিন্ন দিক

السؤال:
٧- ما المراد بالمساواة؟ اكتب جوانب المساواة في الدولة المثالية-

[সমতা বলতে কী বুঝ? আদর্শ রাষ্ট্রে সমতার দিকসমূহ লেখ।]

সমতার পরিচয়:
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘সমতা’ (Equality) বলতে সকলের জন্য অভিন্ন বেতন বা একরকম অবস্থা বোঝায় না; বরং সমতা হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজে সকল বিশেষ সুযোগ-সুবিধার বিলোপ সাধন এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা।

আদর্শ রাষ্ট্রে সমতার বিভিন্ন দিক:
১. রাজনৈতিক সমতা: সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় নীতিতে মতামত প্রকাশের সমান সুযোগ।
২. আইনগত সমতা: আইনের চোখে সবাই সমান এবং সমান আইনি সুরক্ষার অধিকার লাভ (Equality before Law)।
৩. সামাজিক সমতা: কোনো বংশীয় আভিজাত্য, জাতিভেদ বা বর্ণবৈষম্য না থাকা; সমাজে সবার মানবিক মর্যাদার স্বীকৃতি।
৪. অর্থনৈতিক সমতা: সম্পদের সুষম বণ্টন, ন্যূনতম জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা এবং শোষণমুক্ত অর্থনৈতিক পরিবেশ প্রদান।


৮. ইসলামি রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ

السؤال:
٨- بين مزايا الدولة الإسلامية مفصلًا-

[ইসলামি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিত লেখ।]

ইসলামি রাষ্ট্র কোনো সংকীর্ণ থিওক্রেসি বা ধর্মযাজকতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, বরং এটি একটি শাশ্বত কল্যাণমুখী ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. আল্লাহর সার্বভৌমত্ব (হাকিমিয়্যাত): চরম ও পরম আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ; মানুষ তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে শরিয়তের অধীন থেকে শাসন পরিচালনা করে।
২. শুরা বা পরামর্শভিত্তিক শাসন (الشورى): রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ যোগ্য ব্যক্তিদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে গৃহীত হয় (সূরা আশ-শূরা: ৩৮)।
৩. আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার (عدل وإنصاف): ইসলামি রাষ্ট্রে খলিফা থেকে শুরু করে সাধারণ প্রজা সবার জন্য একই আইন প্রযোজ্য। কোনো নিরপরাধের ওপর অবিচার করার কোনো সুযোগ নেই।
৪. জনকল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা: বাইতুল মালের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্র, এতিম ও অমুসলিম নাগরিকদের সার্বিক মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করা হয়।
৫. সংখ্যালঘুদের পূর্ণ অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা: ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম জিম্মিদের জান, মাল ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রদান করা হয়।


الإدارة العامة [লোক প্রশাসন]

مجموعة (ج) : [গ-অংশ (রচনামূলক)]

أجب عن اثنين من الأسئلة التالية (لكل سؤال ١٥ درجة) :
[নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫) :]


৯. লোক প্রশাসনের সংজ্ঞা এবং লোক প্রশাসন ও বেসরকারি প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য

السؤال:
٩- عرف الإدراة العامة- ثم اذكر الفرق بينها وبين الإدارة غير الحكومة-

[লোক প্রশাসনের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর লোক প্রশাসন ও বেসরকারি প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।]

ভূমিকা:
আধুনিক রাষ্ট্রে সরকারের গৃহীত নীতিমালা বাস্তবায়ন ও জনগণের দৈনন্দিন সেবায় নিয়োজিত প্রধান চালিকাশক্তি হলো লোক প্রশাসন (Public Administration)।

লোক প্রশাসনের সংজ্ঞা:
‘লোক প্রশাসন’ শব্দটিতে ‘লোক’ অর্থ জনগণ বা সরকারি এবং ‘প্রশাসন’ অর্থ কোনো লক্ষ্য অর্জনে মানবীয় ও বৈষয়িক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় সাধন।
– উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson): লোক প্রশাসনের জনক উইলসন বলেন, “Public Administration is detailed and systematic application of law”—অর্থাৎ ‘আইনের বিস্তারিত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রয়োগই হলো লোক প্রশাসন’।
– এল. ডি. হোয়াইট (L. D. White): “সরকারি নীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যাবতীয় কর্মকাণ্ডই লোক প্রশাসন।”

লোক প্রশাসন ও বেসরকারি প্রশাসনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য:

তুলনার ক্ষেত্র লোক প্রশাসন (Public Admin) বেসরকারি প্রশাসন (Private Admin)
১. মূল উদ্দেশ্য জনসেবা ও সর্বজনীন জনকল্যাণ সাধন করা; মুনাফা অর্জন মূল লক্ষ্য নয়। ব্যবসায়িক মুনাফা ও আর্থিক লাভ সর্বোচ্চ করা প্রধান উদ্দেশ্য।
২. জবাবদিহিতা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনসভা ও আদালতের নিকট সরাসরি জবাবদিহি করতে হয়। কেবল নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ বা মালিকপক্ষের নিকট দায়বদ্ধ থাকে।
৩. কাজের পরিধি সমগ্র রাষ্ট্রের সর্বস্তরের জনগণের জন্য সর্বজনীন ও সুবিশাল পরিধি। সীমিত গণ্ডি ও নির্দিষ্ট গ্রাহক বা প্রাতিষ্ঠানিক আওতায় সীমাবদ্ধ।
৪. নীতি ও আইনের কড়াকড়ি কঠোর সাংবিধানিক আইন, সরকারি বিধিবিধান ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য থাকে। অধিকতর নমনীয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত পরিবর্তনশীল।
৫. অর্থায়নের উৎস জনগণের ট্যাক্স, শুল্ক ও রাষ্ট্রীয় বাজেট দ্বারা অর্থায়ন পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, শেয়ার ও বাণিজ্যিক আয় দ্বারা পরিচালিত হয়।

১০. ইসলামি প্রশাসনের সংজ্ঞা, এর অপরিসীম গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

السؤال:
١٠- عرف الإدارة الإسلامية ثم بين أهميتها ومزاياها-

[ইসলামি প্রশাসনের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
ইসলামি প্রশাসন হলো কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত এমন এক অনুপম প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যা ইহকালীন কল্যাণ ও পারকালীন মুক্তির অপূর্ব সমন্বয় সাধন করে।

ইসলামি প্রশাসনের সংজ্ঞা:
শরিয়তের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে জনগণের সামগ্রিক সেবা প্রদান, ন্যায়বিচার কায়েম করা, অন্যায়ের প্রতিরোধ করা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে ‘ইসলামি প্রশাসন’ (الإدارة الإسلامية) বলা হয়।

ইসলামি প্রশাসনের গুরুত্ব:
১. আমানত রক্ষা ও দুর্নীতির অবসান: ইসলামে প্রশাসনিক পদমর্যাদাকে ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম নয়, বরং একটি পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসূল (সা.) বলেছেন: “যখন আমানতের খেয়ানত করা হবে, তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করো।” ফলে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ থাকে না।
২. পারলৌকিক জবাবদিহিতা: সরকারি কর্মকর্তা কেবল পার্থিব নিরীক্ষককেই ভয় করে না, বরং তিনি বিশ্বাস করেন নির্জনে ফাঁকি দিলেও আল্লাহর গোপন আদালত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। এই চেতনা প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করে।
৩. প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হক আদায়: সমাজের অসহায়, এতিম ও দরিদ্রের দুয়ারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দেওয়াকে খলিফাগণ তাঁদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব মনে করতেন।

ইসলামি প্রশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. শুরা বা পরামর্শের প্রাধান্য: একনায়কতান্ত্রিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে অভিজ্ঞ ও মুত্তাকী পরামর্শকদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
২. যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ: স্বজনপ্রীতি বা ঘুষ নয়, বরং কঠোরভাবে ‘আল-কাভীয়ুল আমীন’ (দক্ষ ও বিশ্বস্ত) নীতিতে প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
৩. সহমর্মিতা ও উদারতা: অধীনস্থ কর্মচারীদের প্রতি সদয় আচরণ ও তাদের সক্ষমতার বেশি কাজের চাপ না দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৪. স্বাধীন ও কার্যকর ন্যায়বিচার: প্রশাসনের শীর্ষ শাসকও সাধারণ নাগরিকের দায়ের করা মামলায় কাজীর আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য থাকতেন।


১১. ইসলামি সমাজের সংজ্ঞা ও এর বিস্তারিত বৈশিষ্ট্যসমূহ

السؤال:
١١- عرف المجتمع الإسلامي ثم بين خصائصه مفصلًا-

[ইসলামি সমাজের সংজ্ঞা দাও। ইসলামি সমাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ফলে ইসলামে সমাজ ব্যবস্থা কেবল মানুষের বসবাসের যৌথ ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ঐশী আদর্শ ও মূল্যবোধের বাস্তব রূপায়ন।

ইসলামি সমাজের সংজ্ঞা:
যে সমাজের সামগ্রিক আচার-আচরণ, রীতিনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং যার নাগরিকরা এক আল্লাহর ইবাদত ও সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের ডোরে আবদ্ধ থাকে, তাকে ‘ইসলামি সমাজ’ (المجتمع الإسلامي) বলে।

ইসলামি সমাজের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. তাওহীদের ভিত্তি: ইসলামি সমাজের মূল আত্মা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। সকল ক্ষমতা, সার্বভৌমত্ব ও বিধানদাতার মালিকানা এক আল্লাহর।
২. উম্মাহর সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব (الأخوة الإسلامية): ভৌগোলিক বা জাতিগত সীমানা পেরিয়ে সকল মুমিন ভাই ভাই (সূরা আল-হুজুরাত: ১০)। রাসূল (সা.) বলেছেন: “মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতা একটি দেহের মতো; একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে পুরো শরীর জ্বরে আক্রান্ত হয়।”
৩. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের প্রতিরোধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر): এটি সমাজের অন্যতম প্রধান সামষ্টিক দায়িত্ব। সমাজকে সব ধরণের অনাচার ও অনৈতিকতা থেকে মুক্ত রাখার জন্য সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ জারি থাকে।
৪. ইনসাফ ও সামাজিক সুবিচার: কোনো মানুষ তার বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে বিচার্য হবে না; আল্লাহভীতি বা তাকওয়াই হলো শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মানদণ্ড।
৫. পারিবারিক পবিত্রতা ও নৈতিক শৃঙ্খল: পরিবার হলো সমাজের ভিত্তি। ইসলামি সমাজ বিয়ে সহজ করে এবং যেনা-ব্যভিচার, মাদক ও অশ্লীলতার মূলোৎপাটন করে পরিবারের পবিত্রতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
৬. অমুসলিমদের নিরাপত্তা ও অধিকার: ইসলামি সমাজে অমুসলিম সংখ্যালঘু নাগরিকরা পূর্ণ নাগরিক অধিকার, জান-মালের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় উপাসনার স্বাধীনতা ভোগ করে।


১২. আমিরুল মুমিনীন হযরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতের প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্যসমূহ

السؤال:
١٢- اكتب مزايا الخلافة لأمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضى الله عنه-

[আমিরুল মু’মিনীন ওমর (রা) এর খিলাফতের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

ভূমিকা:
মানব ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। তাঁর ১০ বছরের শাসনামল (১৩-২৩ হিজরি) ছিল সুশাসন, আইনের শাসন ও আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোর স্বর্ণযুগ।

হযরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতের প্রধান প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. মজলিসে শুরার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: তিনি সিনিয়র ও অভিজ্ঞ সাহাবিদের নিয়ে ‘মজলিসে শুরা’ গঠন করেন এবং যে কোনো রাষ্ট্রীয় সংকট ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরামর্শের মাধ্যমে গ্রহণ করতেন।
২. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রদেশ গঠন: বিশাল ইসলামি সাম্রাজ্যকে তিনি সুশৃঙ্খল ৮টি প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং প্রতি প্রদেশে ওয়ালী (গভর্নর), আমিল (রাজস্ব কর্মকর্তা) ও ক্বাজী (বিচারক) নিয়োগ করেন।
৩. স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা: শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ পৃথক করে স্বাধীন কাজীদের নিয়োগ দেন। বিচারক নিয়োগের সময় তিনি তাঁদের জন্য ঐতিহাসিক নির্দেশনামা জারি করেছিলেন।
৪. দেওয়ান ও সরকারি দপ্তরের প্রবর্তন:
– দেওয়ানুল খারাজ: অর্থ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা দপ্তর।
– বাইতুল মাল: রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান।
– দেওয়ানুল জুনদ: নিয়মিত সেনাবাহিনীর তালিকাভুক্তকরণ ও নিয়মিত বেতনভাতা প্রদান।
৫. হিজরি সন প্রবর্তন: ইসলামের ইতিহাস ও সরকারি চিঠিপত্রের সুবিধার জন্য তিনি ১৬ হিজরিতে ঐতিহাসিক হিজরি সন গণনা শুরু করেন।
৬. জননিরাপত্তা ও পুলিশি ব্যবস্থা: রাতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের অবস্থা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করতে তিনি নিয়মিত নৈশ টহল (আস্-আস) দিতেন।
৭. দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা: শিশুদের দুধ ছাড়ার পূর্বেই তাদের জন্য বাইতুল মাল থেকে বিশেষ ভাতা নির্ধারণ করেন এবং যুদ্ধাহত ও বৃদ্ধ অমুসলিম জিম্মিদের জন্যও পেনশন ব্যবস্থা চালু করেন।
৮. শাসকদের ওপর কঠোর নজরদারি: কোনো গভর্নর বা প্রশাসক নিয়োগের পূর্বে তাঁর সম্পদের তালিকা নেওয়া হতো এবং হজ মৌসুমে জনগণের সামনে তাঁদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হতো।


مجموعة (د) : [ঘ-অংশ (সংক্ষিপ্ত)]

أجب عن اثنين من الأسئلة التالية (لكل سؤال ٥ درجات) :
[নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫) :]


১৩. লোক প্রশাসন ও সমাজবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্ক ও পার্থক্য

السؤال:
١٣- اذكر الفرق بين الإدارة العامة وعلم الاجتماع-

[লোক প্রশাসন ও সমাজবিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।]

পারস্পরিক সম্পর্ক:
সমাজবিজ্ঞান (Sociology) হলো সামগ্রিক মানব সমাজ, সামাজিক সম্পর্ক ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান; আর লোক প্রশাসন হলো সেই সমাজের ভেতর রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও মানব ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞান। প্রশাসনকে সফল হতে হলে সমাজের রীতিনীতি ও মানসিকতা বুঝতে হয়।

মৌলিক পার্থক্যসমূহ:
১. আওতা ও পরিধি: সমাজবিজ্ঞানের পরিধি সমগ্র মানব সমাজ ও তার সমস্ত সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তৃত; পক্ষান্তরে লোক প্রশাসনের পরিধি কেবল সরকারি নীতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ।
২. পদ্ধতিগত পার্থক্য: সমাজবিজ্ঞান মূলত বর্ণনামূলক ও তাত্ত্বিক আলোচনা করে; আর লোক প্রশাসন ব্যবহারিক, প্রায়োগিক ও কাঠামোগত প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে।
৩. লক্ষ্য: সমাজবিজ্ঞানের লক্ষ্য সমাজের গতিপ্রকৃতি ও সম্পর্ক আবিষ্কার করা; আর লোক প্রশাসনের লক্ষ্য হলো সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে জনসেবা নিশ্চিত করা।


১৪. ইসলামি রাষ্ট্রে বিচারকদের (ক্বাজী) অপরিহার্য গুণাবলি

السؤال:
١٤- تحدث عن صفات القضاة فى الحكومة الإسلامية-

[ইসলামি রাষ্ট্রে বিচারকদের গুণাবলি বর্ণনা কর।]

ইসলামি বিচার ব্যবস্থায় ক্বাজী বা বিচারকের দায়িত্ব অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সংবেদনশীল। ফকীহগণের মতে বিচারকের প্রধান গুণাবলি হলো:
১. কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের প্রাজ্ঞ জ্ঞান: শরিয়তের মূল উৎসসমূহ এবং ইজতিহাদের যোগ্যতা থাকা আবশ্যক।
২. ন্যায়পরায়ণতা ও তাকওয়া (عدالة وتقوى): ব্যক্তিগত জীবনে বিশ্বস্ত, মুত্তাকী এবং সকল প্রকার ফিসক্ব ও কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র থাকা।
৩. নিরপেক্ষতা ও সমদৃষ্টি: আদালতে বাদী ও বিবাদী উভয়ের প্রতি বসা, তাকানো ও কথা বলার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সমতা বজায় রাখা।
৪. মানসিক স্থৈর্য ও ধৈর্য: রাসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন: “ক্রোধ বা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিচারক যেন বিচারকার্য না পরিচালনা করেন।”
৫. স্বার্থ ও উৎকোচমুক্ত থাকা: কোনো প্রকার উপঢৌকন বা ঘুষ গ্রহণ সম্পূর্ণ হারাম এবং শাসক বা প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে প্রভাবিত না হওয়া।


১৫. রাজস্ব প্রশাসনের পরিচয় এবং ইসলামি রাজস্ব প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য

السؤال:
١٥- ما المراد بإدارة الإيرادات؟ اذكر خصائص إدارة الإيرادات الإسلامية-

[রাজস্ব প্রশাসন বলতে কী বুঝ? ইসলামি রাজস্ব প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।]

রাজস্ব প্রশাসনের পরিচয়:
রাষ্ট্রের যাবতীয় আয়-উপার্জন সংগ্রহ, কর নির্ধারণ, শুল্ক ব্যবস্থাপনা এবং তা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে সুপরিকল্পিতভাবে বণ্টনের প্রশাসনিক শাখাকে ‘রাজস্ব প্রশাসন’ (Revenue Administration) বলা হয়।

ইসলামি রাজস্ব প্রশাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সুনির্দিষ্ট ও শাশ্বত আয়ের খাত: ইসলামি রাজস্বের মূল খাতসমূহ শরিয়ত নির্ধারিত; যেমন—যাকাত, উশর (কৃষি কর), খারাজ (ভূমি রাজস্ব), জিজিয়া, গানিমাত ও ফাই।
২. যাকাত তহবিলের পবিত্রতা: যাকাতের অর্থ সাধারণ সরকারি ব্যয়ে খরচ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; এটি কেবল কুরআনে নির্দেশিত আটটি নির্দিষ্ট খাতেই ব্যয় হয়।
৩. ন্যায্যতা ও সহনশীলতা: কৃষকের ফসলের উৎপাদন না হলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে রাজস্ব মওকুফ করার ঐতিহাসিক নজির ইসলামে বিদ্যমান। প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয় না।
৪. বাইতুল মালের স্বায়ত্তশাসন: রাষ্ট্রীয় কোষাগার খলিফার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং তা জনগণের আমানত হিসেবে রক্ষিত থাকে।


১৬. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ইসলামি প্রশাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ

السؤال:
١٦- اكتب مزايا الإدارة الإسلامية فى عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم-

[রাসূলুল্লাহ (স) এর যুগে ইসলামি প্রশাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর বিশ্ব ইতিহাসের প্রথম আদর্শ ও লিখিত সংবিধানভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্যাবলি:
১. মদিনা সনদ (বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান): বিভিন্ন জাতি, গোত্র ও ধর্মের সমন্বয়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের এক ঐতিহাসিক চুক্তি প্রণয়ন।
২. মসজিদে নববী—প্রশাসনের কেন্দ্রীয় সচিবালয়: কোনো আড়ম্বরপূর্ণ রাজপ্রাসাদ নয়; বরং মসজিদে নববী থেকেই রাষ্ট্রীয় সামরিক অভিযান, কূটনৈতিক দূত প্রেরণ ও বিচারকার্য পরিচালিত হতো।
৩. কূটনৈতিক পত্র যোগাযোগ: রোম, পারস্য, আবিসিনিয়া ও মিশরের সম্রাটদের নিকট ইসলামের দাওয়াত সংবলিত রাষ্ট্রীয় মোহরাঙ্কিত পত্র প্রেরণ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি প্রতিষ্ঠা।
৪. আমানতদার আমিল ও সেনাপতি নিয়োগ: কোনো স্বজনপ্রীতি ছাড়া কেবল যোগ্যতা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনের শাসক এবং তরুণ উসামা বিন যায়েদ (রা.)-কে সেনাপতি নিয়োগ।
৫. হিসবাহ বা বাজার তদারকি ব্যবস্থা: বাজারে নিত্যপণ্যের মজুদদারি, ওজনে কারচুপি ও ধোঁকা প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা চালু করা।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন (২০১৩০৭) পরীক্ষার প্রশ্ন বিন্যাস কেমন?

এ বিষয়ে মোট পূর্ণমান ৮০ এবং সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র ৪টি অংশে বিভক্ত: (ক) রাষ্ট্রবিজ্ঞান রচনামূলক ৪টি থেকে ২টি (মান ৩০), (খ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংক্ষিপ্ত ৪টি থেকে ২টি (মান ১০), (গ) লোক প্রশাসন রচনামূলক ৪টি থেকে ২টি (মান ৩০), এবং (ঘ) লোক প্রশাসন সংক্ষিপ্ত ৪টি থেকে ২টি (মান ১০)। মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

২. রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য মৌলিক উপাদান কয়টি ও কী কী?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রামাণ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক উপাদান চারটি: ১. নির্দিষ্ট জনসমষ্টি (Population), ২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (Territory), ৩. সরকার (Government), এবং ৪. সার্বভৌমত্ব (Sovereignty)। এর মধ্যে সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও প্রাণভোমরা সদৃশ উপাদান।

৩. লোক প্রশাসন ও বেসরকারি প্রশাসনের প্রধান পার্থক্য কী?

লোক প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের সর্বজনীন কল্যাণ সাধন ও জনসেবা এবং এটি আইনসভা ও জনগণের নিকট প্রত্যক্ষভাবে দায়বদ্ধ থাকে। পক্ষান্তরে বেসরকারি প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক মুনাফা সর্বোচ্চ করা এবং এটি তার মালিক বা পরিচালনা পর্ষদের নিকট দায়বদ্ধ থাকে।

৪. ইসলামি শরিয়তে আইনের মূল উৎস কয়টি ও কী কী?

ইসলামি শরিয়তে আইনের মৌলিক উৎস চারটি: ১. আল-কুরআন (আল্লাহর কালাম), ২. আস-সুন্নাহ (রাসূলের বাণী ও কর্ম), ৩. আল-ইজমা (উম্মাহর বিজ্ঞ মুজতাহিদগণের ঐকমত্য), এবং ৪. আল-কিয়াস (যৌক্তিক সাদৃশ্যমূলক উপমা ও ইজতিহাদ)।

৫. খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকে কেন সুশাসনের মডেল বলা হয়?

হযরত ওমর (রা.) স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, দেওয়ান ও বাইতুল মাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, হিজরি সনের প্রবর্তন, সামরিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন ব্যবস্থা চালু করে আইনের সমতার এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

৬. ইসলামি প্রশাসনে ক্বাজী বা বিচারকের প্রধান যোগ্যতা কী?

ইসলামি বিচার ব্যবস্থায় বিচারককে কুরআন ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞানে পারদর্শী, ব্যক্তিগত জীবনে তাকওয়াবান ও ন্যায়পরায়ণ, সকল প্রকার ঘুষ বা উপঢৌকন থেকে মুক্ত এবং আদালতের কাঠগড়ায় ধনী-দরিদ্রের মাঝে সমদৃষ্টি পোষণকারী হতে হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *