اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۰ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دفع الشبهات المزعومة حول القرآن الكريم
[দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারীম]
বিষয় কোড: ২০১৩০৬ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) : [ক-বিভাগ]
أجب عن أربعة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ١٥ درجة) :
[নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১৫) :]
১. আল-কুরআন ঘিরে অমূলক সন্দেহের পরিচয়, কালপরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
السؤال:
١- ماذا تعرف عن الشبهات حول القرآن؟ اكتب نشأتها وتطورها عبر العصور-
[আল-কুরআন সংক্রান্ত অমূলক সন্দেহ বা শুবুহাত সম্পর্কে কী জান? কাল পরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ লেখ।]
ভূমিকা:
পবিত্র কুরআনুল কারীম হলো বিশ্বজাহানের প্রতিপালক মহান আল্লাহর শাশ্বত ও অলৌকিক বাণী। নবুওয়াতের সূচনালগ্ন থেকেই ইসলামের বিরোধীরা কুরআনকে মানবসমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ ও অমূলক সন্দেহের অবতারণা করে আসছে। ইসলামি জ্ঞানজগতে একে ‘শুবুহাত হাওলাল কুরআন’ (الشبهات حول القرآن) বলা হয়।
শুবুহাত বা অমূলক সন্দেহের পরিচয়:
আরবি ‘শুবহাহ’ (شبهة) শব্দের আভিধানিক অর্থ অস্পষ্টতা, সংশয় বা ভ্রান্তি (ما التبس أمره)। পারিভাষিক অর্থে, অসৎ উদ্দেশ্যে বা অজ্ঞতাবশত পবিত্র কুরআনুল কারীমের সত্যতা, অলৌকিকত্ব, সংরক্ষণ, ভাষা ও ঐতিহাসিক বিশুদ্ধতা সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টির নিমিত্তে যে সমস্ত ভিত্তিহীন অভিযোগ ও যুক্তি দাঁড় করানো হয়, তাকে কুরআন সম্পর্কিত শুবুহাত বলা হয়।
কালপরিক্রমায় শুবুহাতের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:
১. মাক্কী যুগ (নবুওয়াতের সূচনাপর্ব):
মক্কার কাফের-মুশরিকরা কুরআনের ভাষা ও সাহিত্যের চরম অলৌকিকত্ব দেখে হতভম্ব হয়ে অপবাদ রটাতে থাকে।
– তারা কখনো রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে গণক (কাহিন), কখনো কবি (শায়ির), আবার কখনো উন্মাদ (মাজনুন) বলে প্রচার করত।
– তারা দাবি করত এটি অতীত যুগের রূপকথা (আসাতিরুল আওয়ালীন) কিংবা রোমান খ্রিস্টান কোনো গোলামের শেখানো বাক্য। পবিত্র কুরআন তাদের এসব অভিযোগ উদ্ধৃত করে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তা খণ্ডন করেছে (যেমন সূরা আল-ফুরকান: ৪-৫; সূরা আন-নাহল: ১০৩)।
২. মাদানী যুগ (ইহুদি ও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র):
মদিনার ইহুদি পণ্ডিত ও মুনাফিকরা তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিকৃত তথ্যের সাথে কুরআন মিলিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি করতে চায়। বিশেষ করে কিবলা পরিবর্তন, শরিয়তের হুকুমের নাসখ (রহিতকরণ) নিয়ে তারা কুরআনের প্রামাণ্যতায় সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল।
৩. উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগ (প্রাচীন দর্শন ও বাতেনী ফিরক্বা):
গ্রিক, পারসিক ও ভারতীয় দর্শনের অনুপ্রবেশ এবং বাতেনী, যানাদিকা ও চরমপন্থী ফিরক্বার আত্মপ্রকাশের ফলে কুরআনের অপব্যাখ্যার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। ইবনে মুকাফফা, বাশার ইবনে বুরদ প্রমুখ নাস্তিক দার্শনিক কুরআনের সাহিত্যিক মুজিযার মুকাবিলা করার অপচেষ্টা চালিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
৪. ক্রুসেড পরবর্তী মধ্যযুগ (খ্রিস্টান পাদ্রীদের বিষোদগার):
মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ক্রুসেডে সামরিক পরাজয়ের পর ইউরোপীয় পাদ্রী ও ধর্মযাজকরা ল্যাটিন ভাষায় কুরআন বিকৃত করে অনুবাদ করে এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অপপ্রচার ছড়াতে থাকে।
৫. আধুনিক যুগ (প্রাচ্যবিদ ও ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র):
অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ওরিয়েন্টালিজম’ বা প্রাচ্যবিদদের প্রাতিষ্ঠানিক উত্থান ঘটে। গোল্ডজিহার, নোল্ডেকে, শacht, আর্থার জেফারি প্রমুখ প্রাচ্যবিদ আধুনিক বিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহাসিক সমালোচনার নামে কুরআনের সংকলন, সাবআতু আহরুফ, কেরাত এবং গ্রন্থনা নিয়ে সুদূরপ্রসারী বুদ্ধিবৃত্তিক অপপ্রচার শুরু করে। বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলারগণ এই সমস্ত অমূলক সন্দেহের দাঁতভাঙা বৈজ্ঞানিক ও দলিলভিত্তিক জবাব দিয়ে কুরআনের অভ্রান্ততা প্রমাণ করে চলেছেন।
২. কুরআন সংকলন সম্পর্কে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ ও এর উপযুক্ত খণ্ডন
السؤال:
٢- اذكر الشبهات المزعومة حول جمع القرآن- وكيف ترد عليها؟
[কুরআন সংকলনের ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ উল্লেখ কর। তুমি তা কীভাবে খণ্ডন করবে?]
ভূমিকা:
কুরআন সংরক্ষণের প্রতিটি স্তর ছিল আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ধন্য। কিন্তু প্রাচ্যবিদ ও ইসলামবিদ্বেষীরা হযরত আবু বকর (রা.) ও উসমান (রা.)-এর সংকলন নিয়ে ভিত্তিহীন সন্দেহ উত্থাপন করে থাকে।
উত্থাপিত প্রধান সন্দেহসমূহ:
১. সন্দেহ ১ (দেরিতে সংকলন): রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়নি; বরং ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফিজের শাহাদাতের পর আবু বকর (রা.) সংকলন করায় বহু আয়াত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
২. সন্দেহ ২ (একক সাক্ষী বিতর্ক): সূরা আত-তাওবার শেষ দুটি আয়াত (لقد جاءكم رسول…) কেবল একজন সাহাবি আবু খুযাইমা (রা.)-এর নিকট পাওয়া গিয়েছিল; অতএব এটি মুতাওয়াতির সনদে সংরক্ষিত ছিল না।
৩. সন্দেহ ৩ (অন্যান্য মুসহাফ পোড়ানো): হযরত উসমান (রা.) নিজস্ব একক প্রতিলিপি রেখে সাহাবিদের অন্যান্য ব্যক্তিগত মুসহাফ (যেমন ইবনে মাসউদ ও উবাই বিন কাবের মুসহাফ) পুড়িয়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে ভিন্ন পাঠ মুছে ফেলা হয়েছে।
প্রামাণ্য ও যুক্তিনির্ভর খণ্ডন:
১. প্রথম সন্দেহের খণ্ডন:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই ওহির প্রতিটি বাক্য অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সাথে সাহাবায়ে কিরামদের দ্বারা ওহি লেখক কাতিবগণের মাধ্যমে চামড়া, পাথর ও খেজুর পাতায় হুবহু লিপিবদ্ধ করা হতো। জিব্রাঈল (আ.)-এর নির্দেশে স্বয়ং নবীজী আয়াতের ক্রম নির্ধারণ করে দিতেন। তদুপরি হাজার হাজার সাহাবি তা পুরোপুরি মুখস্থ করেছিলেন। আবু বকর (রা.) কোনো নতুন কুরআন তৈরি করেননি; বরং বিভিন্ন বস্তুতে লিখিত ওহিগুলোকে অত্যন্ত কঠোর শর্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে দুই মলাটের মাঝে একত্রিত করেছিলেন মাত্র।
২. দ্বিতীয় সন্দেহের খণ্ডন:
আবু খুযাইমা (রা.)-এর নিকট আয়াতটি একক লিখিত লিপিতে পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু মৌখিকভাবে এটি শত শত হাফিজ সাহাবির অন্তরে মুখস্থ সংরক্ষিত ছিল। হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) শর্ত করেছিলেন যে, মুখস্থ থাকার পাশাপাশি দুই জন চাক্ষুষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে লিখিত পাণ্ডুলিপির মিল থাকতে হবে। আবু খুযাইমা (রা.)-এর লিখিত কপিটি একা পাওয়া গেলেও স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) আবু খুযাইমার একার সাক্ষ্যকে দুই জনের সাক্ষ্যের সমান মর্যাদা দিয়েছিলেন (সহীহ বুখারী)। ফলে এর গ্রহণযোগ্যতা শতভাগ অকাট্য।
৩. তৃতীয় সন্দেহের খণ্ডন:
হযরত উসমান (রা.) কোনো ব্যক্তিগত নতুন কুরআন তৈরি করেননি; বরং আবু বকর (রা.) কর্তৃক সংকলিত ও উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.)-এর নিকট রক্ষিত মূল প্রামাণ্য নুসখা থেকে অবিকল অনুলিপি তৈরি করে প্রধান প্রদেশগুলোতে পাঠিয়েছিলেন। অন্যান্য ব্যক্তিগত কপিতে সাহাবিদের নিজস্ব ব্যক্তিগত তাফসীর ও নোট মিশ্রিত ছিল, যা অনারবদের বিভ্রান্ত করছিল। উম্মাহর সর্বসম্মত ইজমার ভিত্তিতেই উসমান (রা.) ব্যক্তিগত কপিগুলো বিলুপ্ত করে এক ক্বিরাত ও রসমুল খতের ওপর উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সমস্ত সাহাবি এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
৩. আল-কুরআনের ‘নাসখ’ (রহিতকরণ) সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের সন্দেহ ও এর পর্যালোচনা
السؤال:
٣- ما شبهات المستشرقين حول النسخ في القرآن الكريم؟ تحدث مع الرد عليها-
[আল-কুরআনের ‘নাসখ’ এর ব্যাপারে প্রাচ্যবিদদের সন্দেহগুলো কী? তা আলোচনপূর্বক খণ্ডন কর।]
ভূমিকা:
‘নাসখ’ বা শরিয়তের একটি হুকুমকে পরবর্তী হুকুম দ্বারা রহিত করা মহান আল্লাহর প্রজ্ঞাময় প্রতিপালনের এক অনুপম নিদর্শন। কিন্তু প্রাচ্যবিদরা এটিকে ত্রুটি হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালায়।
প্রাচ্যবিদদের উত্থাপিত সন্দেহসমূহ:
১. জ্ঞান ও সিদ্ধান্তের পরিবর্তন (বাদা): প্রাচ্যবিদদের (যেমন গোল্ডজিহার) দাবি হলো, পূর্বের কোনো বিধান বাতিল করে নতুন বিধান প্রবর্তন করার অর্থ হলো পূর্ববর্তী আদেশের অসাড়তা প্রকাশ পাওয়া। এতে প্রমাণিত হয় যে আল্লাহর পূর্বে কোনো বিষয়ে জ্ঞান ছিল না এবং পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন (বাদা বা الرجوع عن جهل)।
২. পরস্পরবিরোধিতা: তারা দাবি করে যে কুরআনে যদি কিছু আয়াত অপর আয়াতকে বাতিল করে, তবে কুরআন আর শাশ্বত ও বৈপরীত্যহীন থাকে না।
যুক্তিনির্ভর ও প্রামাণ্য খণ্ডন:
১. ‘নাসখ’ কোনো অজ্ঞতা নয়, বরং সময়ের প্রয়োজনে বিধানের পরিবর্তন:
নাসখ অর্থ আল্লাহর অজ্ঞতা নয়; বরং আল্লাহ শুরু থেকেই জানতেন যে প্রথম বিধানটির মেয়াদ কতদিন থাকবে এবং কোন অনুকূল পরিবেশে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ বিধানটি জারি করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন বিজ্ঞ চিকিৎসক কোনো রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসায় এক ধরণের ওষুধ দেন, আর রোগ কিছুটা নিরাময় হলে অন্য পুষ্টিকর ওষুধ দেন। একে চিকিৎসকের অজ্ঞতা বলা যায় না; বরং এটি তার গভীর চিকিৎসা-দক্ষতার প্রমাণ। মানবজাতির আধ্যাত্মিক পরিক্রমা ও সামাজিক সংস্কারেও আল্লাহ তাআলা পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি (তাদরীজ) অবলম্বন করেছিলেন (যেমন মদের নিষেধাজ্ঞা তিন ধাপে অবতীর্ণ হওয়া)।
২. কুরআনের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১০৬ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট ইরশাদ করেছেন: “আমি কোনো আয়াত রহিত করলে কিংবা তা বিস্মৃত করিয়ে দিলে, তা অপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমমানের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জানো না যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান?”
নাসখ কেবল ফিকহি আদেশ-নিষেধ ও শাখাগত আহকামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কোনো ঐতিহাসিক সংবাদ, আকিদা-বিশ্বাস কিংবা মৌলিক নৈতিকতার ক্ষেত্রে কখনো নাসখ প্রযোজ্য হয় না। অতএব, নাসখ কুরআনের শাশ্বত প্রজ্ঞার প্রমাণ, কোনো দুর্বলতা নয়।
৪. নবীগণের নিষ্পাপত্ব (ইসমাতুল আম্বিয়া) সম্পর্কে সন্দেহবাদীদের অভিযোগ ও তার খণ্ডন
السؤال:
٤- كيف ترد الشبهات عن الزاعمين حول عصمة الأنبياء؟ بين بالدلائل-
[নবিগণের নিষ্পাপ হওয়া সম্পর্কে সন্দেহবাদীদের অভিযোগ তুমি কীভাবে খণ্ডন করবে? দলিলসহ বর্ণনা কর।]
ভূমিকা:
আম্বিয়ায়ে কিরাম হলেন মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শ ও শিক্ষক। তাঁদের নিষ্পাপ বা সুরক্ষিত হওয়া (عصمة الأنبياء) ইসলামি আকিদার এক মৌলিক রুকন। কিন্তু বিভ্রান্ত সমালোচকরা কুরআনের কিছু আয়াতে নবীদের ইস্তিগফার ও ভুলের বর্ণনাকে অপব্যাখ্যা করে তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চায়।
সন্দেহবাদীদের অভিযোগসমূহ:
১. হযরত আদম (আ.) নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিলেন (وعصى آدم ربه فغوى)।
২. হযরত ইউনুস (আ.) রাগ করে জাতির নিকট থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং মাছের পেটে বন্দি হয়েছিলেন।
৩. হযরত মূসা (আ.) এক মিশরীয় কিবতীকে এক ঘুঁষি মেরে হত্যা করেছিলেন।
৪. শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্বাপর ত্রুটি ক্ষমা করার কথা কুরআনে বলা হয়েছে (ليغفر لك الله ما تقدم من ذنبك وما تأخر)।
শরয়ী দলিলসহ বলিষ্ঠ খণ্ডন:
১. আদম (আ.)-এর ঘটনা:
হযরত আদম (আ.) কোনো জেনেশুনে বিদ্রোহ করেননি; বরং শয়তানের মিথ্যা শপথের ফাঁদে পড়ে ভুলবশত (নিসিয়ান) এবং উত্তমটি নির্বাচনে ইজতিহাদী ত্রুটির শিকার হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছেন: “আমি ইতোপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল; আর আমি তার মধ্যে কোনো সংকল্পের দৃঢ়তা (পাপের ইচ্ছা) পাইনি।” (সূরা ত্বাহা: ১১৫)। ভুলবশত সংঘটিত কাজ শরিয়তে পাপ হিসেবে গণ্য হয় না।
২. ইউনুস (আ.) ও মূসা (আ.)-এর ঘটনা:
– হযরত মূসা (আ.) কাউকে হত্যা করতে চাননি; তিনি এক মজলুম বনি ইসরাইলকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রমণকারীকে নিবৃত্ত করতে একটি আঘাত করেছিলেন। অনিচ্ছাকৃত আঘাতে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাকে কোনোভাবেই অপরাধ বা পাপ বলা যায় না।
– হযরত ইউনুস (আ.) আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেননি; বরং কাফেরদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে আল্লাহর আযাব আসন্ন ভেবে অনুমতি আসার আগেই হিজরতের ইজতিহাদ করেছিলেন, যা ছিল ‘তারকে আওলা’ (উত্তম তরিকা ত্যাগ করা)।
৩. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শানে ইস্তিগফারের তাৎপর্য:
নবীগণের ইস্তিগফার কোনো গুনাহের কারণে নয়; বরং আল্লাহর নৈকট্যের সুউচ্চ স্তরসমূহে আরোহণের পর পূর্বের স্তরকে নিজের জন্য অপূর্ণাঙ্গ মনে করে অধিক বিনয় প্রকাশের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নাজমে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন: “তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কোনো কথা বলেন না; তা তো কেবল ওহি যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।”
অতএব, আম্বিয়ায়ে কিরাম নবুওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে, কবিরা গুনাহ থেকে এবং ইচ্ছাকৃত সগিরা গুনাহ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্পাপ ও সুরক্ষিত।
৫. প্রাচ্যবিদদের ধারণা অনুযায়ী আপাত সাংঘর্ষিক পাঁচটি আয়াত ও তাদের সমন্বয়
السؤال:
٥- اذكر خمس آيات متناقضة بزعم المستشرقين- ثم أثبت أنها غير متناقضة-
[প্রাচ্যবিদদের ধারণা অনুযায়ী পাঁচটি পরস্পর সাংঘর্ষিক আয়াত উল্লেখ কর। অতঃপর প্রমাণ কর যে, এগুলো সাংঘর্ষিক নয়।]
ভূমিকা:
পবিত্র কুরআনুল কারীমে কোনো প্রকার বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি নেই। আল্লাহ তাআলা নিজেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন: “যদি এ কিতাব আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে বহু অসঙ্গতি বা বৈপরীত্য দেখতে পেত।” (সূরা আন-নিসা: ৮২)। প্রাচ্যবিদরা প্রেক্ষাপট ও ভাষার মারপ্যাঁচ না বুঝে আপাত বিরোধের দাবি তোলে।
আপাত সাংঘর্ষিক পাঁচটি বিষয় ও আয়াতসমূহের নিখুঁত সমন্বয়:
১. কিয়ামতের দিনে পারস্পরিক প্রশ্ন করা বা না করা:
– আপাত বিরোধ: এক আয়াতে বলা হয়েছে: “সেদিন তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বংশমর্যাদা থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে না।” (সূরা আল-মুমিনুন: ১০১)। আবার অন্য আয়াতে বলা হয়েছে: “তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকবে।” (সূরা আস-সাফফাত: ২৭)।
– সমন্বয়: কিয়ামত একটি দীর্ঘ সময়ব্যাপী দিবস। এর বিভিন্ন পর্যায় থাকবে। প্রথম শিংগায় ফুৎকারের চরম ভীতি ও হিসাবের মুহূর্তে ভয়ে কেউ কাউকে জিজ্ঞাসা করার মতো অবস্থায় থাকবে না; আর পরবর্তীতে হাশরের ময়দানে বা জান্নাতে প্রবেশ করে তারা পরস্পরের কুশল জিজ্ঞাসা করবে। সুতরাং কোনো বৈপরীত্য নেই।
২. মানুষ সৃষ্টির উপাদান:
– আপাত বিরোধ: কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছে মানুষকে ‘মাটি’ (তুরাব), ‘কাদা’ (ত্বীন), ‘শুষ্ক ঠনঠনে মাটি’ (সালসালিন কাল ফাখখার) এবং ‘তুচ্ছ পানি বা বীর্য’ (মা-ইন মাহীন) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
– সমন্বয়: এগুলো কোনো পরস্পরবিরোধী তথ্য নয়; বরং সৃষ্টির বিভিন্ন ধারাবাহিক পর্যায়। মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.)-কে ধাপে ধাপে শুষ্ক মাটি থেকে কাদামাটি এবং খামির বানিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে; আর তাঁর পরবর্তী বংশধরদেরকে বীর্যবিন্দু বা শুক্রাণু থেকে সৃষ্টি করা হচ্ছে।
৩. দ্বীন গ্রহণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি আছে কি নেই:
– আপাত বিরোধ: সূরা আল-বাকারার ২৫৬ আয়াতে বলা হয়েছে: “দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।” অথচ সূরা আত-তাওবার ৫ আয়াতে বলা হয়েছে: “মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো।”
– সমন্বয়: দ্বীন বা ঈমান গ্রহণের ক্ষেত্রে কাউকে জোরপূর্বক অন্তরে বিশ্বাস করানোর কোনো সুযোগ নেই। আর যুদ্ধের নির্দেশ ছিল ওই সমস্ত চুক্তিভঙ্গকারী ও আগ্রাসী মুশরিকদের বিরুদ্ধে যারা মুসলমানদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করেছিল। এটি প্রতিরক্ষামূলক রাষ্ট্রীয় যুদ্ধ, ধর্ম জোর করার জন্য নয়।
৪. কিয়ামতের দিনের সময়কাল:
– আপাত বিরোধ: সূরা আস-সাজদার ৫ আয়াতে বলা হয়েছে কিয়ামতের সময়কাল ‘এক হাজার বছর’ (ألف سنة), আর সূরা আল-মাআরিজের ৪ আয়াতে বলা হয়েছে ‘পঞ্চাশ হাজার বছর’ (خمسين ألف سنة)।
– সমন্বয়: এটি মানুষের অবস্থার পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে। কাফের ও পাপাচারীদের কাছে চরম শাস্তির তীব্রতার কারণে সেই দিনটি পঞ্চাশ হাজার বছরের মতো দীর্ঘ মনে হবে; আর মুমিন ও নেককারদের জন্য তা এক ওয়াক্ত নামাযের মতো অতি স্বল্প সময়ে শেষ হয়ে যাবে।
৫. আসমান ও জমিন সৃষ্টির সময়কাল ও ক্রম:
– আপাত বিরোধ: সূরা আন-নাযিআতে বলা হয়েছে আকাশ সৃষ্টির পর জমিন বিস্তৃত করা হয়েছে; আর সূরা ফুসসিলাতে পূর্বে জমিন এবং পরে আসমান সৃষ্টির উল্লেখ এসেছে।
– সমন্বয়: জমিনের মূল খনিজ ও উপাদান প্রথমে সৃষ্টি করা হয়েছে, অতঃপর সাত আসমান নির্মাণ সুবিন্যস্ত করা হয়েছে এবং সর্বশেষে জমিনকে বিছিয়ে তা থেকে উদ্ভিদ ও পানির প্রস্রবণ বের করা হয়েছে (দাহাহা)। বিজ্ঞ মুফাসসিরগণ এটিকে চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
৬. আল-কুরআনের নাহবী ভুল সংক্রান্ত প্রাচ্যবিদদের অপবাদ ও পাঁচটি ভুলের প্রামাণ্য সমাধান
السؤال:
٦- كم موضعا عيّنه المستشرقون عن الأخطاء النحوية فى القرآن الكريم؟ اذكر خمسا منها مع حل الأخطاء المزعومة-
[আল-কুরআনে নাহবী ভুলের ব্যাপারে কতগুলো স্থান প্রাচ্যবিদরা চিহ্নিত করেছে? উত্থাপিত ভুলগুলোর মধ্যে পাঁচটির সমাধান দাও।]
ভূমিকা:
কুরআন অবতীর্ণের মাধ্যমেই আরবি ব্যাকরণ ও ভাষাশৈলী তার পূর্ণাঙ্গ মানদণ্ড লাভ করেছে। প্রাচ্যবিদরা (যেমন নোল্ডেকে ও অন্যান্যরা) কুরআনে প্রায় এক শতাধিক স্থানে ব্যাকরণগত বা নাহবী ভুল রয়েছে বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। তাদের এই দাবি মূলত শাস্ত্রীয় আরবির উচ্চাঙ্গের অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাচীন লুঘাত সম্পর্কে চরম অজ্ঞতার ফল।
পাঁচটি বহুল আলোচিত অভিযোগ ও তাদের আরবি ব্যাকরণগত সমাধান:
১. সূরা ত্বাহার ৬৩ নম্বর আয়াত:
– উত্থাপিত অভিযোগ: আয়াতে এসেছে: “إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ”। অভিযোগকারীরা বলে, ‘ইন্না’ (إنّ) হরফে মুসাব্বাহা বিল ফেল তার ইসমকে নসব (যবর) দেয়; অতএব ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘হাযাইনি’ (هذين) হওয়া উচিত ছিল, ‘হাযানি’ নয়।
– সমাধান: এখানে ‘ইন’ (إِنْ) শব্দটি ‘মুখাফফাফা মিনাস সাক্বীলাহ’ (হালকা করা হয়েছে); ফলে তার আমল বাতিল হয়ে গেছে। তদুপরি প্রাচীন বিশুদ্ধ আরবি গোত্র ‘বনু হারিস ইবনে কাব’ ও ‘কিনানা’ গোত্রের নিজস্ব ব্যাকরণগত লুঘাত বা ক্বিরাত অনুযায়ী মুসান্না বা দ্বিবচনের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় (রফা, নসব ও জর) আলিফ বহাল থাকে। এটি আরবির উচ্চাঙ্গের ফাসাহাতের নিদর্শন।
২. সূরা আল-বাকারার ১৭৭ নম্বর আয়াত:
– উত্থাপিত অভিযোগ: আয়াতে গুণাবলি বর্ণনার সময় এসেছে: “وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ…”। এখানে পূর্বের শব্দগুলো পেশযুক্ত হলেও হঠাৎ ‘ওয়াস সাবিরীনা’ (والصابرين) যবরযুক্ত কেন হলো?
– সমাধান: এটি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের এক অনুপম রীতি যাকে ‘আল-ক্বতউ’ (القطع للمدح) বা প্রশংসার উদ্দেশ্যে বাক্যের ধারাবাহিকতা ভেঙে নসব দেওয়া বলা হয়। এখানে উহ্য ক্রিয়াপদ ‘আহমাদু’ বা ‘আখুসু’ (أخص الصابرين—আমি বিশেষভাবে ধৈর্যশীলদের প্রশংসা করছি) মেনে নসব হয়েছে, যাতে চরম সংকটে ধৈর্যধারণের বিশেষ মর্যাদার প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
৩. সূরা আল-হুজুরাতের ৯ নম্বর আয়াত:
– উত্থাপিত অভিযোগ: আয়াতে এসেছে: “وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا”। অভিযোগ হলো, ‘ত্বায়িফাতানি’ শব্দটি দ্বিবচন (মুসান্না), কিন্তু ক্রিয়াপদ আনা হয়েছে বহুবচনে ‘ইক্বতাতালূ’ (اقتتلوا), যা ব্যাকরণবিরোধী।
– সমাধান: ‘ত্বায়িফা’ (দল) শব্দের বাহ্যিক রূপ দ্বিবচন হলেও তার মূল মর্মার্থ হলো বহু মানুষের সমষ্টি। আরবি ব্যাকরণে শব্দের অর্থ ও মর্মের প্রতি লক্ষ্য রেখে (حمل على المعنى) বহুবচনের সর্বনাম ও ক্রিয়া ব্যবহার করা অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও মার্জিত ভাষা।
৪. সূরা আল-মায়েদার ৬৯ নম্বর আয়াত:
– উত্থাপিত অভিযোগ: আয়াতে এসেছে: “إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ”। ‘ইন্না’-এর পরবর্তী সমস্ত শব্দ নসব হওয়ার কথা থাকলেও ‘ওয়াস সাবিঊনা’ (والصابئون) পেশযুক্ত কেন হলো?
– সমাধান: ইমাম সীবওয়াইহ ও কুফার নাহবীদের মতে এটি ‘আতফ আলাল মাহাল’ (العطف على المحل) হয়েছে। অর্থাৎ ইন্না যুক্ত হওয়ার পূর্বে মূল বাক্যটি ছিল মুবতাদা (যা সর্বদা পেশযুক্ত থাকে)। তাছাড়া বাক্যটিতে অগ্র-পশ্চাত (তাক্বদীম ও তাখীর) রয়েছে; মূল গঠন হলো: ‘ওয়াস সাবিঊনা কাযালিক’।
৫. সূরা আল-মুনাফিকুনের ১০ নম্বর আয়াত:
– উত্থাপিত অভিযোগ: আয়াতে এসেছে: “فَأَصَّدَّقَ وَأَكُنْ مِنَ الصَّالِحِينَ”। এখানে ‘ফা-আসসাদ্দাক্বা’ শব্দে নসব হওয়ার পর তার ওপর আতফ হওয়া শব্দটিতে জযম হয়ে ‘ওয়াকুন’ (وأكن) কেন হলো?
– সমাধান: এটি শর্তের মূল অবস্থানের ওপর আতফ হয়েছে (العطف على موضع الفاء)। কারণ ‘লাওলা আখখারতানী’ বাক্যটি মূলত শর্তের অর্থ প্রকাশ করে (إن أخرتني أصدق وأكن)। সুতরাং ব্যাকরণের কোনো ভুল নেই; বরং এটি বিশুদ্ধ অলঙ্কারশাস্ত্রীয় প্রয়োগ।
مجموعة (ب) : [খ-বিভাগ]
أجب عن أربعة من الأسئلة التالية (لكل سؤال ٥ درجات) :
[নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫) :]
৭. ওহি অবতরণ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ও তার খণ্ডন
السؤال:
٧- ما الشبهات حول نزول الوحى؟ وكيف ترد عليها؟
[ওহি অবতরণ সম্পর্কে সন্দেহগুলো কী? তুমি কীভাবে তা খণ্ডন করবে?]
উত্থাপিত সন্দেহ:
পশ্চিমা বস্তুবাদী গবেষক ও প্রাচ্যবিদরা দাবি করে যে, ওহি কোনো আসমানী ও অলৌকিক বার্তা ছিল না। তাদের মতে রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃগী রোগে (Epilepsy) আক্রান্ত ছিলেন এবং ঘোরের মধ্যে তিনি যেসব দৃশ্য দেখতেন তাকে ওহি বলে মনে করতেন; অথবা তাঁর গভীর ধ্যান ও অন্তর্দৃষ্টির ফল ছিল এই ওহি।
উপযুক্ত খণ্ডন:
১. মৃগী রোগীর বৈজ্ঞানিক লক্ষণ: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রমাণ করে যে, মৃগী রোগী খিঁচুনির সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং অর্থহীন প্রলাপ বকে; সুস্থ হওয়ার পর তার কিছুই মনে থাকে না। পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ওহি অবতরণের সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হতেন এবং তিনি এমন এক আইনগ্রন্থ ও মহাকাব্যিক কুরআন মানবজাতিকে উপহার দিতেন যা তৎকালীন সমগ্র আরবের শীর্ষ সাহিত্যিকদের স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। কোনো মানসিক রোগীর পক্ষে এমন ত্রুটিহীন কালজয়ী জীবনবিধান রচনা অসম্ভব।
২. বহির্জাগতিক বাস্তবতা: ওহি অবতরণের সময় উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম উটের ভারী হওয়া এবং ঘণ্টার মতো গম্ভীর ধ্বনি প্রত্যক্ষ করতেন এবং কখনো জিব্রাঈল (আ.)-কে মানুষের বেশে চাক্ষুষ দেখতেন। অতএব ওহি নিছক মানসিক কল্পনা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট আসমানী বাস্তবতা।
৮. ফেরেশতাদের নিষ্পাপত্ব সংক্রান্ত সন্দেহ ও তার নিরসন
السؤال:
٨- تحدث عن الشبهات حول عصمة الملائكة مع الرد عليها-
[ফেরেশতাদের নিষ্পাপ সম্পর্কে সন্দেহগুলো খণ্ডনসহ আলোচনা কর।]
উত্থাপিত সন্দেহ:
সমালোচকরা দাবি করে যে ফেরেশতারা পুরোপুরি নিষ্পাপ নয়। দলিল হিসেবে তারা ইবলিসের অবাধ্য হয়ে সিজদা না করা এবং বাবেল শহরের দুই ফেরেশতা ‘হারূত ও মারূত’-এর নারী ও মদের ফাঁদে পড়ে পাপকাজে লিপ্ত হওয়ার ইসরাঈলী কাহিনীর অবতারণা করে।
উপযুক্ত খণ্ডন:
১. ইবলিস ফেরেশতা ছিল না: পবিত্র কুরআনে সূরা আল-কাহাফের ৫০ নম্বর আয়াতে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে: “সে (ইবলিস) ছিল জিনদের একজন; সে তার রবের নির্দেশের অবাধ্য হয়েছিল।” জিনদের প্রবৃত্তি ও স্বাধীন ইচ্ছা আছে, কিন্তু ফেরেশতাদের কোনো প্রবৃত্তি নেই।
২. হারূত ও মারূতের প্রকৃত উদ্দেশ্য: হারূত ও মারূত কোনো পাপে লিপ্ত হননি। তাঁরা মানবজাতিকে জাদুর অনিষ্টতা সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য আল্লাহর নির্দেশে পরীক্ষাস্বরূপ প্রেরিত হয়েছিলেন। কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে: “তারা কাউকে জাদু শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না বলত: আমরা তো পরীক্ষাস্বরূপ, কাজেই তোমরা কুফরি করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ১০২)।
আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন: “আল্লাহ তাঁদের যে নির্দেশ দেন তাঁরা তার অবাধ্য হন না এবং তাঁরা যা আদিষ্ট হন তা-ই পালন করেন।” (সূরা আত-তাহরীম: ৬)। অতএব সমস্ত ফেরেশতা নিষ্পাপ ও পবিত্র।
৯. আল-কুরআনের ই’জায (অলৌকিকত্ব)-এর পরিচয় ও কয়েকটি দিক
السؤال:
٩- ما المراد بإعجاز القرآن الكريم؟ بين بعض وجوه الإعجاز فى القرآن الكريم موجزًا-
[إعجاز القرآن বলতে কী বুঝায়? আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের কয়েকটি দিক সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
ই’জাযুল কুরআনের সংজ্ঞা:
‘ই’জায’ (الإعجاز) শব্দের অর্থ অপারগ করা বা অক্ষম করে দেওয়া। ইসলামি পরিভাষায়, বিশ্বমানব ও জিনজাতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পবিত্র কুরআনের অনুরূপ একটি সূরা বা আয়াত রচনার ক্ষেত্রে তাদের সম্পূর্ণ অক্ষম ও পরাভূত করার অলৌকিক গুণকে ‘ই’জাযুল কুরআন’ বলে।
কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রধান দিকসমূহ:
১. ভাষাগত ও সাহিত্যিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز البلاغي واللغوي): আরবের শীর্ষস্থানীয় কবি-সাহিত্যিকদের অহংকার চূর্ণ করে কুরআনের ছন্দ, প্রাঞ্জলতা ও অতুলনীয় বাচনভঙ্গি বিশ্বকে চিরতরে নির্বাক করে রেখেছে।
২. ভবিষ্যদ্বাণী ও অদৃশ্যের সংবাদ (الإعجاز الغيبي): রোমানদের ঐতিহাসিক বিজয় (সূরা আর-রূম), আবু লাহাবের কুফর অবস্থায় মৃত্যু এবং মক্কা বিজয়ের মতো বহু নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী হুবহু বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে।
৩. বৈজ্ঞানিক সত্যতার অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي): ভ্রূণতত্ত্বের পর্যায়ক্রমিক বিকাশ (সূরা আল-মুমিনুন: ১২-১৪), পর্বতমালার পেরেকসদৃশ কার্যকারিতা, মহাশূন্যের ক্রমাগত সম্প্রসারণ এবং মহাসাগরের অভ্যন্তরীণ অদৃশ্য পর্দা সংক্রান্ত আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা কুরআন চৌদ্দশত বছর পূর্বেই নির্ভুলভাবে বর্ণনা করেছে।
৪. আইন ও ন্যায়বিচারের পূর্ণাঙ্গতা (الإعجاز التشريعي): ব্যক্তিগত চরিত্র থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রনীতি পর্যন্ত একটি ভারসাম্যপূর্ণ, শাশ্বত ও বৈষম্যহীন জীবনবিধান উপহার দিয়েছে কুরআন।
১০. ‘সাবআতু আহরুফ’ (সাত উপভাষা/রীতিতে কুরআন অবতীর্ণ)-এর তাৎপর্য
السؤال:
١٠- اشرح : أنزل القرآن على سبعة أحرف-
[ব্যাখ্যা কর: أنزل القرآن على سبعة أحرف]
হাদিসের মূল পাঠ ও ভাবার্থ:
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের একাধিক সহীহ বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف، فاقرءوا ما تيسر منه”—অর্থাৎ ‘নিশ্চয়ই এ কুরআন সাতটি হরফে (উপভাষা বা রীতিতে) অবতীর্ণ হয়েছে; অতএব এর মধ্য থেকে যা তোমাদের জন্য সহজ হয়, তোমরা তা পাঠ করো।’
তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা:
১. উম্মতের জন্য সহজীকরণ: তৎকালীন আরব উপদ্বীপে কুরাইশ, হুযাইল, সাকীফ, হাওয়াযিন, তামীম প্রভৃতি বিভিন্ন গোত্র বাস করত। তাদের উচ্চারণভঙ্গি ও বাচনভঙ্গিতে কিছুটা আঞ্চলিক পার্থক্য ছিল। অনারব, বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য একই কঠিন উপভাষায় কুরআন তিলাওয়াত কষ্টকর হতো বিধায় আল্লাহর আদেশে রাসূল (সা.) উম্মতের সুবিধার্থে সাতটি বিশুদ্ধ উপভাষায় তিলাওয়াতের অনুমতি লাভ করেন।
২. মুহাদ্দিস ও উলামাদের অভিমত: আল্লামা ইবনে কুতায়বা ও ইমাম জাযারী (রহ.)-এর মতে ‘সাত হরফ’ বলতে শব্দের মৌলিক অর্থের বিকৃতি ছাড়া উচ্চারণ, নসব-রফা-জর, একবচন-বহুবচন, আগ-পিছ এবং সমার্থক শব্দের লঘু পরিবর্তনের সাতটি গ্রহণযোগ্য রূপকে বোঝায়।
৩. সাত হরফ ও প্রচলিত সাত ক্বিরাতের সম্পর্ক: সাধারণ মানুষের ধারণা সাত হরফ মানেই সাত ক্বিরাত; এটি সম্পূর্ণ ভুল। উসমান (রা.) কুরাইশ উপভাষার মূল রসমুল খত বহাল রেখে একটি মুসহাফের ওপর উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করেন, যার ভেতরে সাত হরফের এমন সারবস্তু বিদ্যমান রয়েছে যা নুকতা ও হরকতহীন লিপিতে তিলাওয়াতের সুযোগ দিত।
১১. আল-কুরআন বিকৃতি (তাহরীফে কুরআন) সংক্রান্ত ভিত্তিহীন সন্দেহসমূহ
السؤال:
١١- اذكر الشبهات حول تحريف القرآن-
[আল-কুরআন বিকৃতি সম্পর্কে সন্দেহগুলো উল্লেখ কর।]
সন্দেহবাদীদের মূল অভিযোগসমূহ:
ইসলামের চরম শত্রু ও শিয়া উগ্রবাদী পণ্ডিতগণ কুরআনের বিকৃতি সম্পর্কে যেসব ভিত্তিহীন দাবি তোলে তা হলো:
১. শব্দগত পরিবর্তনের অভিযোগ: তারা দাবি করে যে উসমানী সংকলনের সময় সাহাবায়ে কিরাম হযরত আলী (রা.)-এর খেলাফত ও আহলে বায়তের ফজিলত সংক্রান্ত বহু আয়াত এবং কোনো কোনো সূরা বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
২. মুসহাফের ভিন্নতা: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মুসহাফে সূরা আল-ফাতিহা এবং মুআউওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক্ব ও নাস) ছিল না বলে কিছু দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন (শায) বর্ণনার অপব্যাখ্যা করে প্রচার করা হয়।
৩. ছাগলে আয়াত খেয়ে ফেলার দুর্বল আখ্যান: রজম বা পাথর মেরে ব্যভিচারীর মৃত্যুদণ্ডের লিখিত পাতা আয়িশা (রা.)-এর খাটের নিচ থেকে ছাগলে খেয়ে ফেলেছিল বলে একটি জাল বা মওকুফ বর্ণনাকে পুঁজি করে দাবি করা হয় যে কুরআনের আয়াত বিনষ্ট হয়েছে।
বাস্তবতা ও অলৌকিক সুরক্ষা:
কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব কোনো মানুষের নয়, স্বয়ং মহান আল্লাহর। ইরশাদ হয়েছে: “নিশ্চয়ই আমিই এই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি নিজেই এর সংরক্ষণকারী।” (সূরা আল-হিজর: ৯)। কোনো একক কাগজ নষ্ট হলেও হাজার হাজার হাফিজের অন্তরে কুরআন অবিকল সংরক্ষিত ছিল। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মুসহাফে একটি হরফ বা নুকতারও কোনো হেরফের নেই।
১২. সংক্ষেপ টীকা: যে কোনো দুটি
السؤال:
١٢- علق على اثنين مما يلى :
(أ) الشبهات حول تواتر القرآن الكريم؛
(ب) الشبهات حول التكرار في القرآن؛
(ج) الشبهات حول حقوق النساء في القرآن الكريم؛
(د) الشبهات الزيادة والنقصان في القرآن الكريم-
[যে কোনো দুটি বিষয়ে টীকা লেখ: (ক) আল-কুরআনের তাওয়াতুর সংক্রান্ত সন্দেহ; (খ) কুরআনে পুনরাবৃত্তি সংক্রান্ত সন্দেহ; (গ) কুরআনে নারীর অধিকার সংক্রান্ত সন্দেহ; (ঘ) কুরআনে সংযোজন ও বিয়োজনের সন্দেহ।]
(ক) আল-কুরআনের তাওয়াতুর সংক্রান্ত সন্দেহ (الشبهات حول تواتر القرآن الكريم):
ইসলামি পরিভাষায় ‘তাওয়াতুর’ হলো এমন অকাট্য ধারাবাহিক বর্ণনা যা প্রতিটি যুগে এত বিপুল সংখ্যক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন হওয়ার কোনো যৌক্তিক সম্ভাবনা থাকে না। বিরোধীরা দাবি করে যে, কুরআন কেবল কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সংকলিত হয়েছিল।
খণ্ডন: এটি ঐতিহাসিক সত্যের চরম পরিহাস। কুরআন অবতীর্ণের প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে লক্ষ লক্ষ হাফিজের মাধ্যমে শব্দে শব্দে মুখস্থ ও শ্রুতিপরম্পরায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়ে আসছে। লিখিত পাণ্ডুলিপির চেয়েও মৌখিক তাওয়াতুর ছিল কুরআনের প্রধান শক্তি। ফলে এর তাওয়াতুর নিয়ে সন্দেহ করা সূর্যকে অস্বীকার করার মতোই বাতুলতা।
(খ) কুরআনে পুনরাবৃত্তি সংক্রান্ত সন্দেহ (الشبهات حول التكرار في القرآن):
সমালোচকরা বলে থাকে কুরআনে একই ঘটনা (যেমন হযরত মূসা ও ফিরাউনের ঘটনা) এবং একই বাক্য (যেমন সূরা আর-রহমানে فبأي آلاء ربكما تكذبان ৩১ বার) বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যা সাহিত্যের মান ক্ষুণ্ন করে।
খণ্ডন: আরবি উচ্চাঙ্গের বালাগাত ও অলঙ্কারশাস্ত্রে পুনরাবৃত্তি (ইত্নাব বা তাকরার) হলো কোনো বিষয়ের গুরুত্ব বৃদ্ধি, সতর্কবাণী উচ্চারণ এবং অন্তরে তা গভীরভাবে বদ্ধমূল করার এক অতুলনীয় কৌশল। কুরআনে যখনই কোনো কাহিনীর পুনরাবৃত্তি হয়েছে, প্রতিবারই সেখানে নতুন দৃষ্টিকোণ, বিশেষ শিক্ষা ও ভিন্ন আঙ্গিকে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। সূরা আর-রহমানের প্রতিটি নেয়ামত স্মরণের পর আল্লাহর কৃতজ্ঞতার তাগিদ মানুষকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।
(গ) কুরআনে নারীর অধিকার সংক্রান্ত সন্দেহ (الشبهات حول حقوق النساء):
পশ্চিমা নারীবাদীরা অভিযোগ তোলে যে ইসলাম নারীকে অবমূল্যায়ন করেছে; যেমন—উত্তরাধিকারে পুরুষের অর্ধেক সম্পদ দেওয়া, বহুবিবাহের অনুমতি এবং সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে দুইজন নারী সমান একজন পুরুষ নির্ধারণ করা।
খণ্ডন: ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা ও সুরক্ষা দিয়েছে তা অন্য কোনো ধর্মে নেই। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীর ওপর সংসারের কোনো অর্থনৈতিক দায়দায়িত্ব নেই; ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পুরুষের। ফলে অর্ধেক পেলেও নারীর সম্পূর্ণ অংশই তার নিজস্ব সঞ্চয় হিসেবে থেকে যায়। আর সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ও আইনি জটিলতায় নারীকে প্ররোচনা ও মানসিক চাপ থেকে রক্ষার জন্য সহায়ক হিসেবে দ্বিতীয় নারীর বিধান রাখা হয়েছে। জাহেলি যুগে জীবন্ত কবর দেওয়া নারীকে ইসলাম মা, কন্যা, বোন ও স্ত্রীর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার আসনে আসীন করেছে।
(ঘ) কুরআনে সংযোজন ও বিয়োজনের সন্দেহ (الشبهات حول الزيادة والنقصان):
বিরোধীরা দাবি করে যে কুরআনে বিভিন্ন যুগে আয়াত সংযোজন বা বিয়োজন করা হয়েছে।
খণ্ডন: প্রাচীনতম তাশখন্দ পাণ্ডুলিপি, তোপকাপি প্রাসাদের পাণ্ডুলিপি এবং বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত সবচেয়ে প্রাচীন কুরআনিক পাণ্ডুলিপির কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে আধুনিক বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে বর্তমান বিশ্বের কোটি কোটি কুরআনের সাথে সপ্তম শতকের পাণ্ডুলিপির একটি হরফেরও কোনো পার্থক্য নেই। এটি অলৌকিক সুরক্ষা ও অপরিবর্তনীয়তার অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষের দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ (২০১৩০৬) পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় কত?
দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ পরীক্ষার পূর্ণমান ৮০ এবং মোট সময় ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্র দুটি বিভাগে বিভক্ত: ‘ক’ বিভাগে ৬টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন থেকে ৪টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ১৫ নম্বর = ৬০ নম্বর); এবং ‘খ’ বিভাগে ৬টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থেকে ৪টির উত্তর দিতে হয় (প্রতিটি ৫ নম্বর = ২০ নম্বর)।
২. আল-কুরআনের ‘নাসখ’ বা হুকুম রহিতকরণ কি আল্লাহর অজ্ঞতার প্রমাণ?
না, এটি কখনোই আল্লাহর অজ্ঞতা নয়। বরং স্থান-কাল ও সমাজের মানসিক প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা (তাদরীজ) বজায় রেখে বান্দার সার্বিক কল্যাণে একটি সাময়িক হুকুমের বদলে পূর্ণাঙ্গ হুকুম প্রবর্তন করা আল্লাহর পরম প্রজ্ঞার পরিচায়ক। নাসখ কেবল ফিকহি শাখাগত আহকামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, মৌলিক আকিদায় নয়।
৩. আম্বিয়ায়ে কিরাম কি পাপকাজ থেকে সম্পূর্ণ নিষ্পাপ ছিলেন?
হ্যাঁ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অকাট্য আকিদা অনুযায়ী সমস্ত নবী ও রাসূলগণ নবুওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে এবং সকল প্রকার কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্পাপ ও সংরক্ষিত (মা’সূম)। কুরআনে তাঁদের যেসব ভুলের কথা উল্লেখ আছে তা কোনো পাপ ছিল না, বরং উত্তমটি নির্বাচন সংক্রান্ত মানবিক ইজতিহাদী ভুল ছিল।
৪. প্রাচ্যবিদরা কেন কুরআনে নাহবী বা ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে বলে দাবি করে?
প্রাচ্যবিদরা প্রাচীন আরবের সমৃদ্ধ উপভাষা, আরবির অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এবং উচ্চাঙ্গের শৈল্পিক রীতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকার কারণে সাধারণ ব্যাকরণিক ছাঁচে কুরআনকে মেলাতে গিয়ে ভুল অভিযোগ করে। মূলত কুরআনের ভাষা হলো শাস্ত্রীয় আরবির সর্বোচ্চ মানদণ্ড।
৫. ‘কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হয়েছে’—এর মূল তাৎপর্য কী?
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় তৎকালীন আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন গোত্রের মানুষের আঞ্চলিক উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গির ভিন্নতা বিবেচনা করে উম্মতের সহজীকরণের উদ্দেশ্যে সাতটি বিশুদ্ধ ও স্বীকৃত রীতি বা উপভাষায় তিলাওয়াতের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যাকে সাবআতু আহরুফ বলা হয়।
৬. আল-কুরআনের তাওয়াতুর কীভাবে এর অবিকল সংরক্ষণের প্রমাণ দেয়?
তাওয়াতুর হলো কোনো সংবাদ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিপুল সংখ্যক সত্যবাদী মানুষের মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়া। কুরআন নাজিলের পর থেকে প্রতিটি যুগে কোটি কোটি হাফিজ ও পাঠকের মাধ্যমে শব্দে শব্দে সংরক্ষিত হয়ে আসছে, যার ফলে এতে কোনো প্রকার সংযোজন বা বিয়োজনের অবকাশ নেই।