জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

ইসলামি লোকপ্রশাসনের ক্রমবিকাশ (Development of Islamic Public Administration) – 205206, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪৩ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: ইসলামি লোকপ্রশাসনের ক্রমবিকাশ (Development of Islamic Public Administration)
বিষয় কোড: 205206 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

২০২১ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষের ‘ইসলামি লোকপ্রশাসনের ক্রমবিকাশ’ (বিষয় কোড: 205206) পরীক্ষায় ইসলামি রাষ্ট্রদর্শনে সার্বভৌমত্বের ধারণা ও নবুওয়তের সাংবিধানিক মর্যাদা, খিলাফতের ঐতিহাসিক উৎপত্তি ও বিবর্তন, উমাইয়াদের কেন্দ্রীয় প্রশাসন, খোলাফায়ে রাশেদীনের রাষ্ট্রীয় রাজস্বের উৎসসমূহ, আব্বাসীয় বিচার ব্যবস্থা এবং ভারতে মুঘল ও সুর সম্রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কারসমূহ বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নিচে প্রতিটি প্রশ্নের প্রমিত, পূর্ণাঙ্গ ও গবেষণাধর্মী সমাধান লিপিবদ্ধ করা হলো।

ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)

১। ইসলামের দৃষ্টিতে সার্বভৌমত্বের ধারণা দাও। মহানবি (স.) কী সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন?

[Give an idea of sovereignty from the Islamic point of view. Was the Prophet (Sm.) a sovereign?]

উত্তর:

ইসলামের দৃষ্টিতে সার্বভৌমত্বের (Sovereignty / সিইয়াদাহ) ধারণা:
পশ্চিমা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে (জিন বোদাঁ, টমাস হবস বা জন অস্টিনের সংজ্ঞানুযায়ী) সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চরম, অসীম, অবিভাজ্য ও হস্তান্তর-অযোগ্য পার্থিব আইনগত ক্ষমতা যা কোনো মানবীয় কর্তৃপক্ষ বা আইনসভার হাতে ন্যস্ত থাকে। কিন্তু ইসলামি রাষ্ট্রদর্শনে সার্বভৌমত্বের ধারণা পশ্চিমা দর্শন থেকে সম্পূর্ণ মৌলিক ও স্বতন্ত্র।
১. আল্লাহর নিরঙ্কুশ ও একক সার্বভৌমত্ব: ইসলামি রাজনৈতিক দর্শনে সার্বভৌমত্বের একমাত্র, নিরঙ্কুশ ও চূড়ান্ত মালিক হলেন সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ (আল্লাহর তাওহিদ ও হাকিমিয়্যাহ)। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “জেনে রেখো, সৃষ্টি যাঁর, সার্বভৌম বিধান ও হুকুমও একমাত্র তাঁরই।” (সুরা আল-আ’রাফ: ৫৪) এবং “সার্বভৌম কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহরই।” (সুরা ইউসুফ: ৪০)। কোনো মানুষ, রাজা, সংসদ বা পরিষদ আইনের চূড়ান্ত ও মৌলিক উৎস হতে পারে না।
২. মানুষের খিলাফত বা প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা: মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার অংশীদার বা মালিক নয়; বরং মানুষ হলো পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নকারী ‘খলিফা’ বা প্রতিনিধি (সুরা আল-বাকারাহ: ৩০)। মানুষ যে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তা আল্লাহর প্রদত্ত আমানত এবং শরিয়াহর পবিত্র সীমার (হুদুদুল্লাহ) মধ্যে থেকেই তা প্রয়োগ করতে হয়।

মহানবী (সা.) কি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন?
ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মৌলিক বা স্বাধীন সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন আল্লাহর সার্বভৌম ইচ্ছার প্রত্যক্ষ বার্তাবাহক, প্রধান রূপকার এবং সাংবিধানিক প্রতিনিধি।
১. ঐশী আদেশের অধীনতা: রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজস্ব খেয়ালখুশিমতো কোনো মৌলিক বিধান প্রণয়ন করেননি। কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে: “তিনি (মুহাম্মদ) নিজ প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না, যা বলেন তা কেবল তাঁর প্রতি প্রেরিত ওহি।” (সুরা আন-নাজম: ৩-৪)। সুতরাং মৌলিক আইনদাতা হিসেবে তিনি সার্বভৌম ছিলেন না; আইনদাতা ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ।
২. বাস্তবায়নকারী ও বিচারিক কর্তৃত্ব: তবে পার্থিব প্রশাসনিক ও বিচারিক দৃষ্টিকোণ থেকে মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে তিনি আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। মদিনা সনদের ২৩ ও ৪২ নম্বর ধারায় এবং কুরআনের নির্দেশনায় (সুরা আন-নিসা: ৬৫) তাকে চূড়ান্ত মধ্যস্থতাকারী ও ন্যায়বিচারক হিসেবে মান্য করা মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ করা হয়েছিল।
অতএব, তাত্ত্বিকভাবে সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহরই, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীন সর্বোচ্চ পার্থিব আইন বাস্তবায়নকারী ও বিচারক।

২। খিলাফতের উৎপত্তি ও বিকাশ আলোচনা কর।

[Discuss the origin and development of Khilafat.]

উত্তর:

ভূমিকা: আরবি ‘খিলাফত’ (Khilafah) শব্দের আভিধানিক অর্থ প্রতিনিধিত্ব, উত্তরাধিকার বা স্থলাভিষিক্ততা। ইসলামি পরিভাষায় খিলাফত বলতে বোঝায়—দ্বীনের হেফাজত এবং দুনিয়ার নীতিগত প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিচালনার ক্ষেত্রে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র প্রতিনিধি হিসেবে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব প্রদান করা।

খিলাফতের ঐতিহাসিক উৎপত্তি (সাকীফা বনি সায়েদা):
১১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব নির্ধারণ এক সংকটজনক মোড়ে উপনীত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে কাউকে পরবর্তী শাসক হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে যাননি। মদিনার আনসার সাহাবিগণ খলিফা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ‘সাকীফা বনি সায়েদা’ নামক স্থানে সমবেত হন। সেখানে মুহাজির সাহাবিদের পক্ষে হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.) ও আবু উবায়দা (রা.) উপস্থিত হন। সুদীর্ঘ পরামর্শ ও ঐতিহাসিক আলোচনার পর হযরত উমর (রা.) সর্বপ্রথম সর্বসম্মতভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আজীবন বিশ্বস্ততম সাথী হযরত আবু বকর (রা.)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। পরদিন মসজিদে নববীতে সাধারণ বায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এভাবেই ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামি খিলাফতের শুভ সূচনা ঘটে এবং আবু বকর (রা.) ‘খলিফাতু রাসুলিল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

খিলাফতের ধারাবাহিক ক্রমবিকাশ:
১. খোলাফায়ে রাশেদীনের স্বর্ণযুগ (৬৩২-৬৬১ খ্রি.): চার খলিফার আমল ছিল বিশুদ্ধ আদর্শিক খিলাফতের যুগ। পরামর্শ সভা (মজলিসুশ শুরা), সাধারণ বায়াত, শাসকের জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং বায়তুল মালের স্বচ্ছ বণ্টন ছিল এ যুগের মূলভিত্তি।
২. উমাইয়া খিলাফতের রাজতান্ত্রিক রূপান্তর (৬৬১-৭৫০ খ্রি.): আমীর মুয়াবিয়া (রা.) কর্তৃক দামেস্কে প্রতিষ্ঠিত উমাইয়া খিলাফতে উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রথা চালু হয়। শুরা ও বায়াতের বদলে রাজতন্ত্র, সামরিক আনুগত্য এবং বংশানুক্রমিক বংশগৌরব প্রাধান্য পায়। তবে এ যুগে ইসলামের সীমানা স্পেন থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
৩. আব্বাসীয় খিলাফতের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.): বাগদাদে আব্বাসীয়রা পারস্যের আমলাতান্ত্রিক মডেল গ্রহণ করে উজিরের পদ, সুসংগঠিত দিওয়ান (মন্ত্রণালয়) এবং ডাক ও বিচার ব্যবস্থার অভাবনীয় আধুনিকায়ন ঘটায়। এটি ছিল ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির স্বর্ণযুগ।
৪. কায়রো ও অটোমান খিলাফত: ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের বাগদাদ ধ্বংসের পর মামলুকরা কায়রোতে নামমাত্র আব্বাসীয় খলিফাদের বহাল রাখে। অবশেষে ১৫১৭ সালে উসমানীয় সুলতান প্রথম সেলিম খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং চারশত বছর ইস্তাম্বুল খিলাফতের কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ রাখে। অবশেষে ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ আধুনিক তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে খিলাফত বিলুপ্ত হয়।

৩। উমাইয়া আমলের কেন্দ্রীয় প্রশাসনব্যবস্থা বর্ণনা কর।

[Discuss the central administration of the Umayyads.]

উত্তর:

ভূমিকা: ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত উমাইয়া রাজবংশ মদিনা থেকে দামেস্কে রাজধানী স্থানান্তর করে বাইজেন্টাইন ও রোমান সাম্রাজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সুসংহত ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসন গড়ে তোলে।

উমাইয়া কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রধান অঙ্গসমূহ:

১. খলিফা: রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। উমাইয়া যুগে খলিফা কেবল একজন ধর্মীয় নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন বংশানুক্রমিক নিরঙ্কুশ সম্রাট। খলিফা আব্দুল মালিক রাজকীয় কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করতে আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করেন এবং নিজস্ব ইসলামি মুদ্রা (দিনার ও দিরহাম) জারি করেন।

২. কেন্দ্রীয় দিওয়ান বা সচিবালয় (পাঁচটি প্রধান দপ্তর):
উমাইয়া প্রশাসন মূলত পাঁচটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় দিওয়ানের মাধ্যমে পরিচালিত হতো:
দিওয়ানুল জান্দ (Diwan al-Jund – সামরিক বিভাগ): সৈন্যদের তালিকা সংরক্ষণ, অস্ত্রশস্ত্র বরাদ্দ ও বায়তুল মাল থেকে নিয়মিত বেতন প্রদানের কেন্দ্রীয় সামরিক দপ্তর।
দিওয়ানুল খারাজ (Diwan al-Kharaj – অর্থ ও রাজস্ব বিভাগ): সমগ্র সাম্রাজ্যের ভূমিকর (খারাজ), জিজিয়া, জাকাত ও শুল্কের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের কেন্দ্রীয় রেজিস্ট্রি।
দিওয়ানুর রাসায়েল (Diwan al-Rasa’il – রাজকীয় চিঠিপত্র বিভাগ): খলিফার সকল রাজকীয় ফরমান, নির্দেশনাবলি এবং বৈদেশিক ও প্রাদেশিক চিঠিপত্র আদান-প্রদানের কেন্দ্রীয় দপ্তর।
দিওয়ানুল খাতাম (Diwan al-Khatam – রাষ্ট্রীয় সিলমোহর বিভাগ): এটি আমীর মুয়াবিয়া (রা.) কর্তৃক উদ্ভাবিত এক যুগান্তকারী গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জালিয়াতি রোধে খলিফার প্রতিটি চিঠির অনুলিপি একটি বিশেষ রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে মূল চিঠিতে বিশেষ মোম ও রাজকীয় সিলমোহর দিয়ে সীলগালা করা হতো।
দিওয়ানুল বারীদ (Diwan al-Barid – ডাক ও যোগাযোগ বিভাগ): সাম্রাজ্যের বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চলের সাথে দ্রুততম সময়ে খবর আদান-প্রদানের জন্য রিলে ঘোড়া ও উটের ডাক সার্ভিস। এর প্রধান কর্মকর্তা ‘সাহিবুল বারীদ’ খলিফার সরাসরি গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করতেন।

৩. হাজিবের পদ (The Chamberlain): সাধারণ প্রজা ও কর্মকর্তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে খলিফাকে রক্ষা করার জন্য প্রাসাদের প্রবেশদ্বারে ‘হাজিব’ নিয়োগ করা হয়, যিনি দর্শনার্থীদের যাচাই করে খলিফার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দিতেন।

উপসংহার: উমাইয়াদের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, গতিশীল ও আমলাতান্ত্রিক, যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালের সুবিশাল আব্বাসীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নির্মিত হয়েছিল।

৪। খোলাফায়ে রাশেদূনের আমলে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আয়ের উৎসসমূহ আলোচনা কর।

[Discuss the various sources of income of the state under ‘Khulafa-i-Rashidin’.]

উত্তর:

ভূমিকা: খোলাফায়ে রাশেদীনের (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) যুগে ইসলামি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সমস্ত আর্থিক আয় বায়তুল মাল (পাবলিক ট্রেজারি)-এ জমা হতো। হযরত উমর (রা.)-এর সুশাসনে বায়তুল মাল এক পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। এই রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়ের উৎসসমূহ ছিল সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত এবং ইনসাফের ভিত্তিতে নির্ধারিত।

রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎসসমূহ:

১. যাকাত (Zakat): প্রাপ্তবয়স্ক সম্পদশালী ধনী মুসলমানদের নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চিত সম্পদের (নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকলে) ওপর শতকরা আড়াই (২.৫%) ভাগ হারে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কর। এটি ছিল নির্দিষ্ট খাতের জন্য সংরক্ষিত, যার মূল লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করা।

২. জিজিয়া (Jizya): ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও কর্মক্ষম পুরুষদের জানমাল ও ধর্মের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে ধার্যকৃত সামান্য বাৎসরিক নিরাপত্তামূলক কর। নারী, শিশু, বৃদ্ধ, সন্ন্যাসী ও দরিদ্রদের জিজিয়া থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হতো।

৩. খারাজ (Kharaj): বিজিত অমুসলিম অঞ্চলের কৃষিজমির ওপর উৎপাদিত ফসলের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ধার্যকৃত ভূমিকর। হযরত উমর (রা.) বিজিত ইরাক ও সিরিয়ার জমি আরব মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন না করে স্থানীয় মূল চাষীদের হাতেই বহাল রাখেন এবং তাদের ওপর ন্যায়সঙ্গত খারাজ ধার্য করে বায়তুল মালের স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করেন।

৪. উশর (Ushr): মুসলমানদের মালিকানাধীন কৃষিজমির উৎপন্ন ফসলের ওপর দেয় ভূমি রাজস্ব। প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টিতে সেচপ্রাপ্ত জমিতে উৎপন্ন ফসলের এক-দশমাংশ (১০%) এবং কৃত্রিম সেচের জমিতে এক-বিংশতি অংশ (৫%) উশর হিসেবে ধার্য হতো।

৫. গনিমত ও ফাই (Ghanimah and Fay):
গনিমত: কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে বিজিত যুদ্ধলব্ধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ। এর পাঁচ ভাগের চার ভাগ যুদ্ধরত সৈন্যদের মধ্যে বণ্টন করা হতো এবং এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস – ২০%) রাষ্ট্রীয় বায়তুল মালে জমা হতো (সুরা আল-আনফাল: ৪১)।
ফাই: কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বা সামরিক সংঘর্ষ ছাড়া বিনা প্রতিরোধে শত্রুর পরিত্যক্ত যে সম্পদ হস্তগত হতো, তার সমগ্র অংশই বায়তুল মালে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা হতো।

৬. উশুর (Ushur – শুল্ক কর): আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাফেলা ও বণিকদের পণ্য আমদানির ওপর ধার্যকৃত শুল্ক। হযরত উমর (রা.) সর্বপ্রথম ১০% হারে বিদেশি অমুসলিম বণিকদের ওপর এবং মুসলিম ব্যবসায়ীদের ওপর ২.৫% হারে সীমান্ত শুল্ক কার্যকর করেন।

৭. রিকাজ (Rikaz): খনিজ সম্পদ ও মাটির নিচে লুকায়িত প্রাচীন গুপ্তধনের ওপর রাষ্ট্রীয় পাওনা এক-পঞ্চমাংশ বা ২০%।

উপসংহার: খোলাফায়ে রাশেদীনের রাজস্ব ব্যবস্থা কোনো সাম্রাজ্যবাদী শোষণের হাতিয়ার ছিল না; বরং তা ছিল সুষম বণ্টন ও নাগরিক কল্যাণ নিশ্চিত করার এক ভারসাম্যপূর্ণ স্বর্গীয় ব্যবস্থা।

৫। আব্বাসীয় খিলাফতের বিচারব্যবস্থা আলোচনা কর।

[Discuss the Judicial system of the Abbasid Khilafat.]

উত্তর:

ভূমিকা: আব্বাসীয় খিলাফতে (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) ইসলামি বিচার প্রশাসন তার প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের চরম শিখরে আরোহণ করে। কুরআন, সুন্নাহ এবং ফিকহি মাযহাবসমূহের (হানাফি, মালেকি, শাফেঈ ও হাম্বলি) সুবিন্যস্ত বিধানের ওপর ভিত্তি করে এক অত্যন্ত উন্নত ও বহুস্তরীয় স্বাধীন বিচার বিভাগ গড়ে তোলা হয়েছিল।

আব্বাসীয় বিচার ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. কাজি-উল-কুজাত (Chief Justice) পদের উদ্ভাবন:
আব্বাসীয় খিলাফতের সবচেয়ে যুগান্তকারী বিচারিক সংস্কার হলো খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে ‘কাজি-উল-কুজাত’ (প্রধান বিচারপতি) পদের সৃষ্টি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর সুযোগ্য ছাত্র এবং প্রখ্যাত ফকিহ ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের প্রথম প্রধান বিচারপতি। তিনি সাম্রাজ্যের সকল প্রাদেশিক কাজিদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও বিচারিক মান তদারকি করতেন।

২. কাজি আদালত ও যোগ্যতা: প্রতিটি প্রদেশ, জেলা ও প্রধান শহরে ‘কাজি’ নিয়োগ করা হতো। কাজি হতে হলে ফিকহ শাস্ত্রে অগাধ পণ্ডিত, মুজতাহিদ, চারিত্রিক সততা ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। আদালত মসজিদ বা সংলগ্ন ভবনে উন্মুক্তভাবে বসত এবং যে কেউ প্রবেশ করতে পারত।

৩. নাযিরুল মাজালিম আদালত (Board of Grievances): সাধারণ কাজিরা যখন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা, রাজপুত্র বা সামরিক জেনারেলদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করতে পারতেন না, তখন সর্বোচ্চ আপিল আদালত হিসেবে ‘মাজালিম আদালত’ বসত। স্বয়ং খলিফা বা প্রধান উজির প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে এ আদালতের সভাপতিত্ব করতেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষেধক।

৪. শুহুদ বা পেশাদার সাক্ষী ব্যবস্থা: বিচারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আদালতে অসৎ ও মিথ্যা সাক্ষ্য রোধের জন্য কাজির অধীনে ‘আদিল’ বা নিবন্ধিত নৈতিক চরিত্রের পেশাদার সাক্ষীদের তালিকা থাকত, যাদের সাক্ষ্য যাচাই করে রায় দেওয়া হতো।

৫. মুহতাসিব ও পুলিশি বিচার (হিসবাহ ও শুরাতা): বাজারে ও জনসমক্ষে প্রতারণা, ওজনে কারচুপি ও জনউপদ্রব রোধে ‘মুহতাসিব’ তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ বিচার করতেন। অপরদিকে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত ও শান্তি রক্ষার দায়িত্ব ছিল পুলিশ প্রধান বা ‘সাহিবুশ শুরাতা’-র ওপর।

উপসংহার: আব্বাসীয় বিচার ব্যবস্থা আইনের দৃষ্টিতে খলিফা ও সাধারণ ভিখারির সমতা নিশ্চিত করেছিল, যার ফলে বাগদাদের বিচারালয় বিশ্বজুড়ে ইনসাফের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।

৬। মুঘল সম্রাটের ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা কর।

[Discuss the power and functions of Mughal Emperor.]

উত্তর:

ভূমিকা: ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের (১৫২৬-১৮৫৮ খ্রি.) প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন স্বয়ং মুঘল সম্রাট। আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থ অনুযায়ী সম্রাট ছিলেন আল্লাহর ঐশী জ্যোতির প্রকাশ—‘ফার-ই-ইজাদী’ (Far-i-Izadi) এবং ‘জিল্লুল্লাহ’ (আল্লাহর ছায়া)। তিনি ছিলেন একাধারে সার্বভৌম আইনপ্রণেতা, প্রধান নির্বাহী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

মুঘল সম্রাটের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:

১. নির্বাহী ও প্রশাসনিক ক্ষমতা: সম্রাট ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান শাসক। সাম্রাজ্যের সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যেমন: প্রধান উজির (দেওয়ান-ই-আলা), মীর বখশী (সামরিক প্রধান), প্রধান সদর, সুবেদার, ফৌজদার এবং মনসবদারদের সরাসরি নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি বা বরখাস্ত করার একমাত্র ক্ষমতা সম্রাটের হাতে ছিল।

২. আইন প্রণয়ন ক্ষমতা (ফরমান জারি): যদিও রাষ্ট্র শরিয়াহ এবং প্রাচীন প্রথা দ্বারা পরিচালিত হতো, তথাপি সম্রাট রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যেকোনো প্রশাসনিক প্রবিধান বা ‘ফরমান’ (ফারমান-ই-শাহী) জারি করতে পারতেন, যা আইন হিসেবে সমগ্র সাম্রাজ্যে অলঙ্ঘনীয় ছিল।

৩. সামরিক ক্ষমতা ও সর্বাধিনায়কত্ব: সম্রাট ছিলেন মুঘল স্থলবাহিনী, গোলন্দাজ ও নৌবাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যুদ্ধ ঘোষণা, শান্তি চুক্তি সম্পাদন এবং সেনাপতি নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নিতেন। সম্রাট নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতেন।

৪. বিচারিক ক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক: সম্রাট ছিলেন সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ আপিল আদালত। প্রতি বুধবার সম্রাট নিজেই রাজকীয় এজলাসে বসে সাধারণ জনগণের ব্যক্তিগত অভিযোগের সরাসরি বিচার করতেন। জাহাঙ্গীরের বিখ্যাত ‘ন্যায়বিচারের শিকল’ (Chain of Justice) আগ্রা দুর্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল যাতে যেকোনো নিপীড়িত নাগরিক সরাসরি ঘণ্টা বাজিয়ে সম্রাটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

৫. দৈনন্দিন রুটিন ও জবাবদিহিতা: মুঘল সম্রাটরা বিলাসী হলেও অলস ছিলেন না। তাদের দিন শুরু হতো সূর্যোদয়ে ‘ঝরোকা দর্শন’ (Jharokha Darshan)-এর মাধ্যমে প্রজাদের দর্শন দান করে। এরপর ‘দেওয়ান-ই-আম’-এ সাধারণ প্রজাদের অভাব-অভিযোগ শুনতেন এবং ‘দেওয়ান-ই-খাস’-এ মন্ত্রীদের সাথে গোপন রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করতেন।

উপসংহার: যদিও মুঘল সম্রাট তাত্ত্বিকভাবে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রজাবৎসল ও সুশাসক; কারণ জনকল্যাণ ও শান্তি রক্ষা না করলে সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব টিকে থাকা অসম্ভব ছিল।

খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)

৭। ‘জিজিয়া’ সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

[Write in brief about ‘Jizia’.]

উত্তর:
‘জিজিয়া’ (Jizya) হলো একটি বাৎসরিক জনপ্রতি প্রতিরক্ষা কর, যা ইসলামি রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিকদের (জিম্মি) ওপর ধার্য করা হতো। এর বিনিময়ে রাষ্ট্র তাদের জানমাল, ব্যবসা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করত এবং তাদের সেনাবাহিনীতে যুদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা থেকে সম্পূর্ণ নিষ্কৃতি দিত। এটি কোনো শাস্তিমূলক বা বৈষম্যমূলক কর নয়। কেবল প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও উপার্জনক্ষম পুরুষের ওপর সামর্থ্য অনুযায়ী তিন স্তরে (১২, ২৪ বা ৪৮ দিরহাম) ধার্য করা হতো। নারী, শিশু, পঙ্গু, অন্ধ, উন্মাদ, সন্ন্যাসী ও নিঃস্ব দরিদ্রদের ওপর জিজিয়া সম্পূর্ণ মওকুফ ছিল। এমনকি রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে জিজিয়ার অর্থ ফেরত দেওয়ার ঐতিহাসিক নজির রয়েছে (যেমন: ইয়ারমুকের যুদ্ধে আবু উবায়দা রা.-এর পদক্ষেপ)।

৮। ‘মজলিস আল-শূরা’ সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

[Write in brief about ‘Majlis al-Shura’.]

উত্তর:
‘মজলিস আল-শূরা’ (Majlis al-Shura) হলো ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী ও নীতিনির্ধারণী পরামর্শ পরিষদ। কুরআনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা “এবং তাদের কাজকর্ম পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়” (সুরা আশ-শুরা: ৩৮)-এর ওপর ভিত্তি করে এটি প্রতিষ্ঠিত। খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে প্রবীণ, বিজ্ঞ, খোদাভীরু সাহাবিদের নিয়ে এই মজলিস গঠিত হতো। নতুন খলিফা নির্বাচন, যুদ্ধ ও শান্তি ঘোষণা, সেনাপতি ও গভর্নর নিয়োগ এবং বায়তুল মালের সম্পদ ব্যয়ের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খলিফাকে শূরার পরামর্শ গ্রহণ করতে হতো। এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার এক নিখুঁত ও নৈতিক ইসলামি রূপরেখা।

৯। শেরশাহের প্রশাসনিক সংস্কার সম্পর্কে টীকা লিখ।

[Write a short note about the administrative reforms of Sher Shah.]

উত্তর:
১৫৪০ থেকে ১৫৪৫ মাত্র পাঁচ বছরের সংক্ষিপ্ত শাসনামলে দূরদর্শী সুর সম্রাট শেরশাহ সুরি ভারতীয় উপমহাদেশে এক চিরস্মরণীয় প্রশাসনিক সংস্কার সম্পাদন করেন। তিনি সমগ্র সাম্রাজ্যকে ৪৭টি ‘সরকার’ (জেলা) এবং প্রতিটি সরকারকে একাধিক ‘পরগনা’য় বিভক্ত করেন। কৃষকদের সুরক্ষায় তিনি জমি জরিপ করে জমির স্বত্ব স্বীকার করে ‘পাট্টা’ প্রদান এবং রাজস্ব প্রদানের অঙ্গীকারপত্র ‘কবুলিয়ত’ প্রথা চালু করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি সোনারগাঁও থেকে লাহোর ও পেশোয়ার পর্যন্ত ১৫০০ মাইল দীর্ঘ ঐতিহাসিক ‘সড়ক-ই-আজম’ (গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড) নির্মাণ করেন এবং প্রতি দুই মাইল অন্তর ১,৭০০টি সরাইখানা ও ডাকচৌকি স্থাপন করেন। তিনি বিশুদ্ধ রৌপ্যমুদ্রা ‘রুপি’ প্রবর্তন করেন যা আধুনিক ভারতীয় মুদ্রার উৎস।

১০। মনসবদারী প্রথার উপর একটি নিবন্ধ লিখ।

[Write an essay on the Mansabdari system.]

উত্তর:
১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর তার সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনকে একটি সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য যে অনন্য পদমর্যাদা ভিত্তিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামো প্রবর্তন করেন, তাকে ‘মনসবদারী প্রথা’ (Mansabdari System) বলা হয়। ‘মনসব’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা স্থান।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. জাত ও সওয়ার (Zat and Sawar): প্রতিটি মনসবদারের দুটি পদমর্যাদা থাকত। ‘জাত’ দ্বারা মনসবদারের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও বেতন নির্ধারিত হতো, আর ‘সওয়ার’ দ্বারা তাকে কতজন সুসজ্জিত অশ্বারোহী সেনা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হবে তা নির্দেশ করত।
২. মনসবের স্তরবিন্যাস: আকবরের আমলে মনসবদারদের ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ (সাধারণত রাজপুত্রদের জন্য) সৈন্যের ৬৬টি স্তর ছিল, যার মধ্যে ৩৩টি কার্যকর ছিল।
৩. বংশানুক্রমিক নয়: মনসবদার পদটি বংশানুক্রমিক ছিল না; সম্পূর্ণ যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি হতো এবং মনসবদারের মৃত্যুর পর তার সমস্ত সম্পত্তি রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করত (জবতি প্রথা)। মনসবদারদের নগদ বেতন অথবা ‘জায়গির’ বরাদ্দ দেওয়া হতো। এ ব্যবস্থা মুঘল সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ছিল।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ইসলামের প্রথম প্রধান বিচারপতি (কাজি-উল-কুজাত) কে ছিলেন?

উত্তর: আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের শাসনামলে প্রখ্যাত ফকিহ ও ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রধান ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) প্রথম ‘কাজি-উল-কুজাত’ নিযুক্ত হন।

প্রশ্ন ২: ইসলামি রাষ্ট্রদর্শনে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী কে?

উত্তর: ইসলামি বিশ্বাস ও রাষ্ট্রদর্শনে চূড়ান্ত ও নিরঙ্কুশ সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র ও অদ্বিতীয় মালিক হলেন সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ।

প্রশ্ন ৩: ‘সড়ক-ই-আজম’ বা গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের নির্মাতা কে?

উত্তর: সুর রাজবংশের মহান আফগান শাসক সম্রাট শেরশাহ সুরি সোনারগাঁও থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত ঐতিহাসিক ‘সড়ক-ই-আজম’ নির্মাণ করেন।

প্রশ্ন ৪: উমাইয়া আমলে রাষ্ট্রীয় চিঠিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার দপ্তরের নাম কী ছিল?

উত্তর: চিঠিপত্রের অনুলিপি সংরক্ষণ ও রাজকীয় সিলমোহরযুক্ত সীলগালা করার দপ্তরকে ‘দিওয়ানুল খাতাম’ (Diwan al-Khatam) বলা হতো।

প্রশ্ন ৫: মনসবদারী প্রথা কে প্রবর্তন করেন?

উত্তর: মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনকে সুশৃঙ্খল করতে মনসবদারী প্রথা প্রবর্তন করেন।

প্রশ্ন ৬: খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে অমুসলিম কৃষিজমির ওপর ধার্য করকে কী বলা হতো?

উত্তর: খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে বিজিত অঞ্চলের অমুসলিমদের কৃষিজমির ওপর ধার্যকৃত ভূমিকরকে ‘খারাজ’ (Kharaj) বলা হতো।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *