জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি (Society and Culture of Bangladesh) – 205207, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪০ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি (Society and Culture of Bangladesh)
বিষয় কোড: 205207 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

২০২১ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষের ‘বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি’ (বিষয় কোড: 205207) পরীক্ষায় বাঙালি জনগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক উৎস, সমাজ গঠনে পরিবারের মৌলিক ভূমিকা, গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর আধুনিক রূপান্তর, নগর সমাজের স্তরবিন্যাস, নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিবন্ধকতাসমূহ, সমাজে ইসলাম ধর্মের গভীর প্রভাব, কৃষি কাঠামো এবং ইসলাম ও আধুনিকতার তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নিচে প্রতিটি প্রশ্নের প্রমিত সমাজতাত্ত্বিক ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান লিপিবদ্ধ করা হলো।

ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)

১। বাংলাদেশের মানুষের জাতিতাত্ত্বিক পরিচয় দাও।

[Give the ethnological identity of the people of Bangladesh.]

উত্তর:

ভূমিকা: নৃতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের মানুষ কোনো একক বিশুদ্ধ রক্তের বা নির্দিষ্ট একটি আদিম নরগোষ্ঠীর বংশধর নয়; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন নরগোষ্ঠী ও নৃ-তাত্ত্বিক ধারার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এক সংকর বা মিশ্র জাতি (Hybrid / Composite Nation)। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার যথার্থই বলেছেন, “বাঙালি একটি শংকর জাতি।”

বাঙালি জাতির নৃ-তাত্ত্বিক গঠন ও প্রধান উপাদানসমূহ:
নৃতত্ত্ববিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের (যেমন: রিজলে, বিরজা শঙ্কর গুহ, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়) গবেষণায় বাঙালির রক্তের মধ্যে চারটি প্রধান ধারার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে:

১. নেগ্রিটো (Negrito): এরা ছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগে বাংলার আদিমতম অধিবাসী। খর্বকায় গড়ন, কুঁকড়ানো চুল, কালো ত্বক ও চ্যাপ্টা নাকবিশিষ্ট এই গোষ্ঠীর রক্তের প্রভাব আধুনিক কালেও বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলের মানুষের দৈহিক গঠনে পরিলক্ষিত হয়।

২. অস্ট্রিক বা আদি-অস্ট্রালয়েড (Proto-Australoid): নেগ্রিটোদের পর ইন্দোচীন ও আসাম হয়ে বাংলায় আগমন ঘটে অস্ট্রিক জাতির। এরাই মূলত বাংলার কৃষিভিত্তিক আদিম সমাজ ও সংস্কৃতির ভিত্তি স্থাপন করে। এদের ভাষা থেকেই সাঁওতালি, মুন্ডা, খাসিয়া ভাষার উদ্ভব। ধান, সুপারি, পান, কলা ও হলুদ চাষ এবং লাঙল ব্যবহারের কৌশল এই অস্ট্রিকদেরই দান। বাঙালির দৈহিক বৈশিষ্ট্যে অস্ট্রিক রক্তের প্রভাব সবচেয়ে সুগভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।

৩. দ্রাবিড় (Dravidian): ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আগত উন্নত কৃষিকাজ ও তাম্রযুগের সভ্যতার অধিকারী দ্রাবিড়রা অস্ট্রিকদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং তাদের সাথে রক্ত ও সংস্কৃতিতে একীভূত হয়ে যায়। বাংলার লোকধর্মের অনেক রীতিনীতি দ্রাবিড়দের অবদান।

৪. মঙ্গোলয়েড (Mongoloid): তিব্বত ও মিয়ানমার থেকে আগত পীত বর্ণের, চ্যাপ্টা নাক ও বাদামি চোখের অধিকারী এই নরগোষ্ঠীর মিশ্রণ ঘটে বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব বাংলায়। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা এবং গারো ও খাসিয়াদের মধ্যে এই রক্তের প্রাধান্য স্পষ্ট।

৫. আর্য ও সেমেটিক আগমন (Nordic, Mediterranean and Semitic): খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষে বাংলায় ইন্দো-আর্যদের আগমন ঘটে। পরবর্তীতে মধ্যযুগে দীর্ঘ মুসলিম শাসনামলে আরব, পারসিক, তুর্কি, আফগান এবং মুঘল মুসলিমদের আগমন ঘটে। তারা স্থায়ীভাবে বাংলায় বসতি স্থাপন করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে এক নতুন সমৃদ্ধ বাঙালি মুসলিম সমাজ বিনির্মাণ করে।

উপসংহার: অস্ট্রিক-দ্রাবিড় ভিত্তিমূলের ওপর আর্য ও ইসলামি সেমেটিক সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয়েই আজকের সুমহান ও আত্মমর্যাদাশীল বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় গঠিত হয়েছে।

২। বাংলাদেশের পরিবারের কার্যাবলি আলোচনা কর।

[Discuss the functions of family in Bangladesh.]

উত্তর:

ভূমিকা: সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট ম্যাকাইভারের মতে, মানবসমাজের ক্ষুদ্রতম ও সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী মৌলিক প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার (Family)। বাংলাদেশে পরিবার কেবল স্বামী-স্ত্রীর জৈবিক সম্পর্কের বন্ধন নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা, মূল্যবোধ চর্চা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রধানতম দুর্গ।

পরিবারের প্রধান কার্যাবলি:

১. জৈবিক কার্যাবলি (Biological Function): বিবাহ নামক সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তির মাধ্যমে নারী-পুরুষের বৈধ মিলন, যৌনাকাঙ্ক্ষার সুশৃঙ্খল চরিতার্থকরণ এবং বৈধ সন্তান প্রজননের মাধ্যমে মানব বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা পরিবারের প্রধান কাজ।

২. সন্তানের লালন-পালন ও জৈবিক নিরাপত্তা: মানবশিশু জন্মের পর দীর্ঘকাল সম্পূর্ণ অসহায় থাকে। পরিবারের গভীর স্নেহ, মমতা, পরিচর্যা ও খাদ্য সংস্থানের মাধ্যমেই একটি নবজাতক ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে।

৩. সামাজিকীকরণ কার্যাবলি (Socialization): পরিবার হলো শিশুর প্রাথমিক ও সর্বোত্তম শিক্ষালয়। সত্যবাদিতা, সততা, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, ছোটদের স্নেহ, ধর্মীয় অনুশাসন, ভাষা শিক্ষা এবং সমাজের রীতি-নীতি শিশু সর্বপ্রথম মায়ের কোল ও পারিবারিক পরিবেশ থেকেই গ্রহণ করে।

৪. অর্থনৈতিক কার্যাবলি: গ্রামীণ বাংলাদেশে যৌথ পরিবার ছিল একটি একক উৎপাদন ও ভোগের ইউনিট। কৃষিকাজ, গৃহস্থালি পণ্য তৈরি ও সম্পদ সঞ্চয়ে পরিবারের সকল সদস্য যৌথভাবে অংশ নেয়। আধুনিক যুগেও সদস্যদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষার যাবতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পরিবারই জোগান দেয়।

৫. মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা: আধুনিক যান্ত্রিক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ জীবনে ক্লান্তি ও হতাশা দূর করতে পরিবার হলো পরম আশ্রয়ের স্থল। পরিবারের সদস্যদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন মানুষকে বিষণ্ণতা থেকে রক্ষা করে।

৬. ধর্মীয় ও বিনোদনমূলক কার্যাবলি: নামাজ, রোজা, পারিবারিক দোয়া, ঈদ ও পূজার আনন্দ উদযাপনে পরিবার মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গল্পগুজব, পারিবারিক আড্ডা ও ভ্রমণের মাধ্যমে এটি নির্মল মানসিক আনন্দের খোরাক জোগায়।

উপসংহার: তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের অভিঘাতে যৌথ পরিবারের কাঠামো দুর্বল হলেও বাংলাদেশে পরিবারের নৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব এখনো অপরাজেয়।

৩। বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো আলোচনা কর।

[Discuss the recent changes in rural power structure of Bangladesh.]

উত্তর:

ভূমিকা: ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ নিয়ন্ত্রিত হতো বংশমর্যাদা, বিশাল ভূমির মালিকানা এবং ধর্মীয় প্রবীণ মুরব্বিদের নিয়ে গঠিত ‘সমাজ’ ও অনানুষ্ঠানিক সালিশি সভার মাধ্যমে। তবে গত তিন দশকে বহুমুখী আর্থসামাজিক রূপান্তর, শিক্ষার বিস্তার, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকাশ এবং রেমিট্যান্সের প্রভাবে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে এক আমূল ও যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর সাম্প্রতিক প্রধান পরিবর্তনসমূহ:

১. ভূমির একচেটিয়া আধিপত্যের অবক্ষয়: অতীতে গ্রামীণ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বৃহৎ ভূস্বামী (জোতদার/তালুকদার/মীরবহর)। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে জমি খণ্ডবিখণ্ড হওয়ায় এবং অকৃষি আয়ের বিস্তার ঘটায় কেবল ভূমির মালিকানার ওপর ভিত্তি করে আর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

২. রেমিট্যান্স ও নব্য ধনীদের উত্থান: মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকায় কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স গ্রামীণ সমাজে চরম অর্থনৈতিক গতিশীলতা এনেছে। পূর্বে যারা নিম্নবিত্ত ছিলেন, তাদের সন্তানরা প্রবাসী আয়ে পাকা দালান নির্মাণ, জমি ক্রয় এবং ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করে গ্রামীণ রাজনীতির শীর্ষ নীতিনির্ধারকে পরিণত হচ্ছেন।

৩. স্থানীয় সরকার ও দলীয় রাজনীতির প্রভাব: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরাসরি দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় শাখা ও যুব সংগঠনগুলো গ্রামে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। সনাতন মাতব্বরদের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত তরুণ নেতা ও দলীয় কর্মীদের প্রভাব এখন অনেক বেশি।

৪. শিক্ষার প্রসার ও পেশাজীবীদের ভূমিকা: গ্রামে বিএ, এমএ পাস শিক্ষিত তরুণ, মাদ্রাসা শিক্ষক, স্কুল শিক্ষক, ডাক্তার ও ব্যবসায়ীরা নতুন নেতৃত্ব হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন। প্রাচীন বংশকৌলীন্যের স্থান দখল করেছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক যোগাযোগ।

৫. এনজিও ও নারীদের সচেতনতা: ক্ষুদ্রঋণ, এনজিও সচেতনতা এবং স্থানীয় সরকারে সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদের কারণে গ্রামীণ নারীরা পূর্বে চার দেয়ালে বন্দি থাকলেও এখন গ্রামের সালিশ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে মতামত প্রকাশ করছেন।

৬. ডিজিটাল যোগাযোগ ও প্রযুক্তির ভূমিকা: স্মার্টফোন ও ফেসবুকের মাধ্যমে গ্রামের যেকোনো অন্যায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে প্রশাসনের নজরে আসায় সনাতন সালিশদারদের একতরফা স্বৈরাচারী ফতোয়া বা প্রভাব ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

উপসংহার: বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো আজ ঐতিহ্যবাহী বংশমর্যাদাভিত্তিক বন্ধুবৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে মেধা, সম্পদ, রাষ্ট্রীয় সংযোগ ও রাজনীতিকেন্দ্রিক এক আধুনিক উন্মুক্ত রূপ পরিগ্রহ করেছে।

৪। বাংলাদেশের নগর সমাজের সামাজিক স্তরবিন্যাস আলোচনা কর।

[Discuss the social stratification of urban society of Bangladesh.]

উত্তর:

ভূমিকা: অর্থনৈতিক অবস্থান, পেশা, শিক্ষা, ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মানের ভিত্তিতে সমাজকে বিভিন্ন অসম স্তরে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে সামাজিক স্তরবিন্যাস (Social Stratification) বলে। বাংলাদেশের শহর অঞ্চলে (বিশেষত ঢাকা ও চট্টগ্রামে) দ্রুত শিল্পায়ন ও পুঁজিবাদের প্রসারের ফলে এক অত্যন্ত জটিল ও স্পষ্ট শ্রেণিভেদ পরিলক্ষিত হয়।

নগর সমাজের প্রধান সামাজিক স্তরসমূহ:

১. উচ্চবিত্ত বা অভিজাত শ্রেণি (Upper Class):
উচ্চ-উচ্চবিত্ত (The Elites): বৃহৎ শিল্পপতি, বহুজাতিক করপোরেট মালিক, রিয়েল এস্টেট টাইকুন, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং উচ্চ আমলাবর্গ। তারা গুলশান, বনানী, বারিধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন, তাদের সন্তানরা ইংরেজি মাধ্যমে বিদেশে পড়াশোনা করে এবং জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের।
নিম্ন-উচ্চবিত্ত: সফল ব্যবসায়ী, শীর্ষ ডাক্তার, প্রকৌশলী ও কনসালট্যান্ট।

২. মধ্যবিত্ত শ্রেণি (Middle Class – নগর সমাজের মেরুদণ্ড):
উচ্চ-মধ্যবিত্ত: বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তাদের নিজস্ব ফ্ল্যাট ও গাড়ি থাকে এবং সামাজিক মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
মধ্য-মধ্যবিত্ত: কলেজ শিক্ষক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক, মাঝারি ব্যবসায়ী। তারা মানসম্মত জীবনযাত্রার জন্য অবিরাম সংগ্রাম করেন।
নিম্ন-মধ্যবিত্ত: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, বিক্রয় প্রতিনিধি। এরা মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় শিকার, যারা লোকলজ্জার ভয়ে কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না।

৩. শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত শ্রেণি (Working Class):
কারখানার শ্রমিক, বাস-ট্রাকের চালক, মেকানিক, ক্ষুদ্র দোকানদার এবং নিম্নপদের টেকনিশিয়ান। তারা কোনোমতে খেয়ে-পরে জীবনযাপন করেন এবং সন্তানদের শিক্ষার জন্য সংগ্রাম করেন।

৪. প্রান্তিক ও বস্তিবাসী শ্রেণি (Urban Poor / Underclass):
রিকশাচালক, দিনমজুর, হকার, গৃহকর্মী এবং বর্জ্য সংগ্রাহক (টোকাই)। এরা শহরের অস্বাস্থ্যকর বস্তি বা ফুটপাতে মানবেতর অবস্থায় বসবাস করে। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে এরা চরমভাবে বঞ্চিত।

উপসংহার: বাংলাদেশের নগর সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার এই আকাশচুম্বী অর্থনৈতিক বৈষম্য সামাজিক সংঘাত ও মানসিক অস্থিরতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৫। বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতাসমূহ আলোচনা কর।

[Discuss the main obstacles of women empowerment of Bangladesh.]

উত্তর:

ভূমিকা: নারীর ক্ষমতায়ন বলতে বোঝায় সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, সম্পদের সমান অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা। তৈরি পোশাক খাত ও প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলাদেশের নারীদের ঈর্ষণীয় অগ্রগতি সত্ত্বেও বহুমুখী প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক বাধার কারণে নারীর ক্ষমতায়ন এখনো পূর্ণতা পায়নি।

প্রধান প্রধান প্রতিবন্ধকতাসমূহ:

১. পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির স্থবিরতা: আমাদের সমাজে এখনো বহুলাংশে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য বিরাজমান। পুরুষতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থায় কন্যা শিশুকে এখনো অর্থনৈতিক দায় এবং পুত্র সন্তানকে পরিবারের ভবিষ্যৎ সহায়ক ভাবা হয়।

২. বাল্যবিবাহ ও ড্রপ-আউট: আইন থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ ও বস্তি এলাকায় দরিদ্র পিতামাতা সামাজিক নিরাপত্তার অজুহাতে নাবালিকা বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেন। এর ফলে মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যায়।

৩. সম্পত্তিতে অসম অধিকার: সমাজে প্রচলিত ভূমি ও স্থাবর সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইন নারীদের জন্য পুরুষের সমানুপাতিক নয়। বহু ক্ষেত্রে নারীরা তাদের ন্যায্য পৈতৃক সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হন, ফলে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দুর্বল থাকে।

৪. যৌন হয়রানি ও নিরাপত্তার অভাব: রাস্তাঘাটে ইভটিজিং, গণপরিবহনে হয়রানি, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এবং সাইবার স্পেসে নারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার তাদের মুক্ত চলাফেরা ও আত্মবিকাশে মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক বাধা সৃষ্টি করে।

৫. দ্বৈত কাজের বোঝা ও মানসিক চাপ: কর্মজীবী নারীদের ঘরের বাইরে সমান তালে অফিস করতে হয় এবং বাসায় ফিরে রান্না, সন্তান লালন-পালন ও গৃহস্থালির সমস্ত কাজ একাকী সামলাতে হয়; পারিবারিক কাজে পুরুষদের সহযোগিতার সংস্কৃতি এখনো পর্যাপ্ত গড়ে ওঠেনি।

৬. ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও কুসংস্কার: ধর্মের প্রকৃত চেতনা নারীদের শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদাকে উৎসাহিত করলেও একশ্রেণির ধর্মান্ধ মহল ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের গৃহে বন্দি রাখার এবং তাদের নেতৃত্বকে খাটো করার চেষ্টা চালায়।

উপসংহার: পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমান অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত না করলে একটি বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব।

৬। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার উপর ইসলাম ধর্মের প্রভাব বর্ণনা কর।

[Discuss the impact of Islam in the social system of Bangladesh.]

উত্তর:

ভূমিকা: বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় নব্বই শতাংশের অধিক মানুষ মুসলিম। ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে সুফি-সাধক, আউলিয়া এবং দরবেশদের মানবতাবাদী ও আধ্যাত্মিক প্রচারের মাধ্যমে বাংলায় ইসলামের শুভ সূচনা ঘটে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সমাজকাঠামো, মূল্যবোধ, ভাষা, পারিবারিক বন্ধন এবং লোকজ আচারের প্রতিটি রন্ধ্রে ইসলাম ধর্মের প্রভাব অত্যন্ত সুগভীর ও চিরস্থায়ী।

সমাজব্যবস্থার ওপর ইসলামের বহুমুখী প্রভাবসমূহ:

১. সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা: প্রাচীন বাংলার কঠোর জাতপাত, অস্পৃশ্যতা এবং ব্রাহ্মণ্য বর্ণবৈষম্যের শিকার নিপীড়িত নিম্নবর্ণের সাধারণ মানুষ ইসলাম ধর্মের সর্বজনীন সাম্য ও একত্ববাদের (তাওহিদ) ছোঁয়ায় মুক্তির সন্ধান পায়। ধনী-দরিদ্রের পাশাপাশি মসজিদে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় সামাজিক ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

২. দৈনন্দিন জীবনাচার ও শিষ্টাচার: বাঙালির দৈনন্দিন কথপোকথনে ‘সালাম’ (আসসালামু আলাইকুম), ‘ইনশাআল্লাহ’, ‘মাশাআল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দসমূহ জাতীয় অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহার, মেহমানদারি এবং প্রতিবেশীর হকের প্রতি সচেতনতা মূলত ইসলামি মূল্যবোধেরই শিক্ষা।

৩. উৎসব ও লোকসংস্কৃতি: বাঙালি সমাজের প্রধান জাতীয় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এছাড়া শবে বরাত, শবে কদর, মিলাদ মাহফিল এবং ওয়াজ মাহফিল গ্রামীণ সমাজের প্রধান ধর্মীয় ও বিনোদনমূলক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। শীতকালে গ্রামে গ্রামে আয়োজিত তাফসির ও ওয়াজ মাহফিল গ্রামীণ অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সংহতিকে পুনরুজ্জীবিত করে।

৪. ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ: বাংলা ভাষায় আরবি, ফার্সি ও উর্দু শব্দের এক সুবিশাল ভাণ্ডার প্রবেশ করেছে (যেমন: আইন, আদালত, কলম, কাগজ, হাকিম, ইনসাফ, কিতাব ইত্যাদি)। মধ্যযুগে মুসলিম কবিরা ইউসুফ-জোলেখা, লায়লী-মজনুর মতো কালজয়ী রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।

৫. শিক্ষা ও নৈতিক কাঠামো: গ্রামে মক্তব ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা শিশুর প্রথম অক্ষরজ্ঞান ও নীতিশিক্ষা দেয়। আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসাগুলো দেশের ধর্মীয় অনুশাসন ও চরিত্রবান জনশক্তি গঠনে অসামান্য ভূমিকা রেখে চলেছে।

৬. দানশীলতা ও সমাজকল্যাণ: যাকাত, ফিতরা, সাদাকা এবং ওয়াকফ সম্পত্তির মাধ্যমে হাসপাতাল, এতিমখানা, মাদ্রাসা ও মুসাফিরখানা পরিচালিত হচ্ছে, যা সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রধান আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

উপসংহার: বাংলাদেশের সমাজজীবনে ইসলাম কোনো চাপিয়ে দেওয়া আচার নয়; বরং তা এ দেশের মাটির সাথে মিশে গিয়ে এক সুকোমল ও উদার সমন্বয়বাদী ঐতিহ্যের রূপ ধারণ করেছে।

খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)

৭। বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর প্রকৃতি আলোচনা কর।

[Discuss the nature of rural power structure of Bangladesh.]

উত্তর:
বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো মূলত দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী—একটি হলো অনানুষ্ঠানিক কাঠামো এবং অন্যটি হলো আনুষ্ঠানিক কাঠামো
১. অনানুষ্ঠানিক কাঠামো: এটি বংশমর্যাদা, রক্তসম্পর্ক, গোষ্ঠী সংহতি এবং ধর্মীয় শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়। এর প্রধান অঙ্গ হলো ‘সমাজ’ ও প্রবীণ মুরব্বিদের নিয়ে গঠিত ‘সালিশ’ পরিষদ, যা গ্রামের পারিবারিক বিবাদ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মেটায়।
২. আনুষ্ঠানিক কাঠামো: এটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং স্থানীয় প্রশাসনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমানে রাজনৈতিক দলীয় প্রভাব এবং অর্থনৈতিক অর্থের সংযোগে গ্রামীণ ক্ষমতা ক্রমশ আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।

৮। সুশীল সমাজ বলতে কী বুঝ?

[What is meant by civil society?]

উত্তর:
রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক মুনাফালোভী বাজারের বাইরে অবস্থানকারী সচেতন, স্বাধীন, বিবেকবান ও অরাজনৈতিক নাগরিক সংগঠনসমূহের সামগ্রিক মেলবন্ধনকে ‘সুশীল সমাজ’ (Civil Society) বলা হয়। এতে বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, প্রবীণ সাংবাদিক, পরিবেশবাদী গোষ্ঠী, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সমিতি অন্তর্ভুক্ত থাকে। সুশীল সমাজের মূল কাজ হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে গঠনমূলক পরামর্শ ও চাপ প্রদান করা।

৯। কৃষি কাঠামো কী?

[What is agrarian structure?]

উত্তর:
কৃষিপ্রধান সমাজে কৃষিজমির মালিকানা, ভোগদখল, জমি চাষের পদ্ধতি এবং জমিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আর্থসামাজিক শ্রেণি ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের সামগ্রিক সুশৃঙ্খল বিন্যাসকেই কৃষি কাঠামো (Agrarian Structure) বলা হয়। বাংলাদেশের কৃষি কাঠামোতে প্রধানত তিনটি পক্ষ জড়িত: (১) অনুপস্থিত বা প্রত্যক্ষ জমির মালিক (জোতদার/ভূমিমালিক), (২) প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক, এবং (৩) ভূমিহীন বর্গাচাষী ও কৃষি দিনমজুর। কৃষি কাঠামোর সংস্কার যেমন: ভূমির বণ্টন, বর্গাচাষীর ন্যায্য অংশ ও কৃষিঋণের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গ্রামীণ অর্থনীতি গভীরভাবে নির্ভরশীল।

১০। ‘ইসলাম ও আধুনিকতা’ সম্পর্কে একটি ধারণা দাও।

[Give an idea about ‘Islam and Modernism’.]

উত্তর:
‘ইসলাম ও আধুনিকতা’ বলতে বোঝায় ইসলামের চিরন্তন, অপরিবর্তনীয় ঐশী মূলনীতিগুলোকে (আকিদা, ইবাদত ও নৈতিক মূল্যবোধ) অক্ষুণ্ণ রেখে সমকালীন যুগের আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গণতান্ত্রিক মানবিক অগ্রগতিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ ও সমন্বয় করা। ইসলাম কোনো স্থবির বা পশ্চাৎপদ ধর্ম নয়; বরং কুরআন মানুষকে সর্বদা চিন্তা, গবেষণা ও সৃষ্টিশীলতার নির্দেশ দেয়। আধুনিকতা যদি হয় অন্ধ পশ্চিমা ভোগবাদ, অশ্লীলতা ও খোদাদ্রোহিতা—তবে ইসলাম তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু আধুনিকতা যদি হয় বিজ্ঞানচর্চা, ন্যায়বিচার, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও মানবাধিকার—তবে ইসলাম তার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমকালীন মুসলিম পণ্ডিতদের মতে ‘ইজতিহাদ’-এর মাধ্যমে ইসলামের চিরন্তন আলোয় আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হলো ইসলাম ও আধুনিকতার সার্থক মেলবন্ধন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: বাঙালি জাতিকে কেন একটি ‘সংকর জাতি’ বলা হয়?

উত্তর: বাঙালি কোনো একক রক্তের জাতি নয়; বরং প্রাগৈতিহাসিক নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, মঙ্গোলয়েড এবং পরবর্তীতে আর্য ও মুসলিমদের দীর্ঘ রক্ত ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বলে একে সংকর জাতি বলা হয়।

প্রশ্ন ২: পরিবারের সবচেয়ে প্রাথমিক ও মৌলিক দায়িত্ব কী?

উত্তর: বৈধ উপায়ে মানব বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং নবজাতক শিশুকে পরম স্নেহে লালন-পালন করে প্রাথমিক সামাজিকীকরণ সম্পন্ন করা।

প্রশ্ন ৩: গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে সাম্প্রতিক সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণ কী?

উত্তর: প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল রেমিট্যান্স এবং অকৃষি ব্যবসার বিকাশ, যা সনাতন বংশমর্যাদা ও ভূস্বামীদের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে দিয়েছে।

প্রশ্ন ৪: সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: সম্পত্তি, পেশা, শিক্ষা ও ক্ষমতার ভিত্তিতে সমাজকে বিভিন্ন উঁচু-নিচু শ্রেণি বা স্তরে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে সামাজিক স্তরবিন্যাস বলে।

প্রশ্ন ৫: বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য কোন ক্ষেত্রে দেখা যায়?

উত্তর: তৈরি পোশাক শিল্পে লাখ লাখ নারীর স্বাবলম্বিতা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েদের শতভাগ অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় সরকারে নারীদের সংরক্ষিত প্রতিনিধিত্ব।

প্রশ্ন ৬: বাঙালি সংস্কৃতিতে সুফি সাধকদের সবচেয়ে বড় অবদান কী?

উত্তর: জাতপাত ও বর্ণভেদহীন উদার ইসলামি সাম্য ও মানবিক ভ্রাতৃত্ব প্রচারের মাধ্যমে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তি স্থাপন করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *