জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

বাংলার ইতিহাস (১৫৭৬ খ্রি. পর্যন্ত) (History of Bengal up to 1576 A.D.) – 205203, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪১ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: বাংলার ইতিহাস (১৫৭৬ খ্রি. পর্যন্ত) (History of Bengal up to 1576 A.D.)
বিষয় কোড: 205203 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

২০২১ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষের ‘বাংলার ইতিহাস (১৫৭৬ খ্রি. পর্যন্ত)’ (বিষয় কোড: 205203) পরীক্ষায় প্রাচীন বাংলার ভৌগোলিক প্রভাব, গৌড়াধিপতি শশাঙ্কের উত্থান ও রাজ্য বিস্তার, সেন বংশের শেষ শক্তিশালী শাসক লক্ষ্মণ সেন, দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার স্বাধীন চন্দ্র রাজবংশ, বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় এবং মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবুরের কৃতিত্ব সংশ্লিষ্ট রচনামূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নিম্নে প্রতিটি প্রশ্নের প্রমিত ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান লিপিবদ্ধ করা হলো।

ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)

১। প্রাচীন বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান ও অঞ্চলের ইতিহাস সংস্কৃতিকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?

[How the geographical location of ancient Bengal influenced its history and culture?]

উত্তর:

ভূমিকা: প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল যথার্থই বলেছিলেন যে, কোনো অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান সে অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক চরিত্র গঠন করে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বদ্বীপ (Delta) হিসেবে পরিচিত বাংলা ভূখণ্ডের জলবায়ু, অসংখ্য নদীনালা এবং প্রাকৃতিক সীমারেখা এ দেশের রাজনৈতিক ভাগ্য ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।

ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর ভৌগোলিক প্রভাবসমূহ:

১. রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও দিল্লির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ:
বাংলা উত্তর ভারতের কেন্দ্রীয় রাজধানী দিল্লি থেকে বহু দূরে অবস্থিত ছিল। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং মাঝখানে রাজমহলের দুর্লঙ্ঘ্য গিরিপথ (তেলিয়াগড় ও শিক্রিগলি) এবং পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো উত্তাল নদ-নদীর উপস্থিতির কারণে দিল্লির শাসকরা বাংলায় সহজে আধিপত্য বজায় রাখতে পারত না। বর্ষাকালে উত্তর ভারতের অশ্বারোহী বাহিনী বাংলার কর্দমাক্ত পথ ও নদীর কারণে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ত। ফলে মধ্যযুগে প্রায় দুইশত বছর বাংলা স্বাধীন সালতানাত হিসেবে নিজস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল।

২. নদীমাতৃক চরিত্র ও নৌ-যুদ্ধের প্রাধান্য:
অসংখ্য নদ-নদীর জালের মতো বিস্তৃতির কারণে বাংলার মানুষের প্রধান বাহন ছিল নৌকা। প্রাচীন যুগ থেকেই বাঙালিরা দক্ষ নাবিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। সেন ও সুলতানি আমলে শক্তিশালী নৌবাহিনী (নওয়ারা) গড়ে ওঠে এবং বারোভুঁইয়ারা মুঘলদের বিরুদ্ধে নৌযুদ্ধেই শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছিলেন।

৩. কৃষি প্রাচুর্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি:
নদীবিধৌত পলিমাটির উর্বরতার কারণে বাংলায় ধান, পাট, তুলা ও আখের বিপুল ফলন হতো। এই অফুরন্ত খাদ্যের প্রাচুর্যের ফলেই বাংলা কখনোই দুর্ভিক্ষের স্থায়ী শিকারে পরিণত হয়নি এবং বিদেশি বণিকদের বাণিজ্যের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল।

৪. সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও উদার মানসিকতা:
উত্তর ভারতের কঠোর শুষ্ক জলবায়ুর তুলনায় বাংলার মৃদু আর্দ্র আবহাওয়া বাঙালির মনকে কোমল, সুরপ্রধান ও কাব্যময় করে তুলেছে। বাউল গান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি এবং মঙ্গলকাব্যের মূর্ছনা এই নদীর কলতানেরই দান। প্রকৃতির উন্মুক্ততা বাঙালির মাঝে ধর্মীয় গোঁড়ামির বদলে সুফিবাদ ও ভক্তি আন্দোলনের মতো উদার সমন্বয়বাদী সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।

উপসংহার: বাংলার ইতিহাস মূলত তার ভূগোলেরই প্রতিচ্ছবি। নদীর উর্বরতা যেমন সমৃদ্ধি এনেছে, তেমনি নদীর প্রাচীর এ জাতিকে চিরকাল স্বাধীনতা রক্ষার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

২। শশাঙ্ক কে ছিলেন? তাঁর রাজ্য বিস্তার সম্পর্কে আলোচনা কর।

[Who was Sasanka? Discuss the expansion of his Empire.]

উত্তর:

ভূমিকা: সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধে প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজা শশাঙ্ক (আনুমানিক ৬০৬-৬৩৭ খ্রি.) এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনিই হলেন বাংলার প্রথম ঐতিহাসিক ও সার্বভৌম স্বাধীন নৃপতি, যিনি বহুধা বিভক্ত ক্ষুদ্র জনপদগুলোকে একটি শক্তিশালী একক সাম্রাজ্যের অধীনে আনয়ন করে ‘গৌড় সাম্রাজ্য’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

শশাঙ্কের প্রাথমিক পরিচয় ও উত্থান:
শশাঙ্কের প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি প্রথমে গুপ্ত সম্রাট মহাসেনগুপ্তের অধীন রোতাসগড়ের একজন সামন্ত বা মহাসামন্ত ছিলেন। পরবর্তীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের চরম অবক্ষয়ের সুযোগে তিনি নিজ সামরিক দক্ষতায় উত্তর ও পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন সামন্তদের পরাস্ত করে স্বাধীন গৌড় রাষ্ট্রের সিংহাসন দখল করেন। তিনি মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী ‘কর্ণসুবর্ণ’-কে তার রাজকীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন।

শশাঙ্কের রাজ্য বিস্তার ও সামরিক অভিযান:
শশাঙ্ক বাংলার সীমানা অতিক্রম করে উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট হন:
১. মগধ ও উড়িষ্যা বিজয়: শশাঙ্ক প্রথমেই পার্শ্ববর্তী মগধ অধিকার করেন এবং উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোদ অঞ্চল জয় করে চিল্কা হ্রদ পর্যন্ত নিজ সাম্রাজ্যের সীমানা বর্ধিত করেন। শিলালিপিতে তাকে ‘মহারাজাধিরাজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. কনৌজ ও থানেশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: সমকালীন উত্তর ভারতের প্রধান রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল কনৌজ (মৌখরী বংশ) এবং থানেশ্বর (পুষ্যভূতি বংশ)। তারা বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হয়ে গৌড়ের জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। শশাঙ্ক মালবের রাজা দেবগুপ্তের সাথে এক সামরিক মিত্রজোট গড়ে তোলেন।
৩. গ্রহবর্মা ও রাজ্যবর্ধন হত্যা: দেবগুপ্ত ও শশাঙ্কের যৌথ বাহিনী কনৌজ আক্রমণ করে রাজা গ্রহবর্মাকে হত্যা করে। এরপর থানেশ্বরের নবীন রাজা রাজ্যবর্ধন অগ্রসর হলে শশাঙ্ক এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রাজ্যবর্ধনকে পরাস্ত ও হত্যা করেন।
৪. হর্ষবর্ধনের সাথে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: ভ্রাতা রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর পর থানেশ্বরের সিংহাসনে বসেন ভারতের বিখ্যাত সম্রাট হর্ষবর্ধন। হর্ষবর্ধন কামরূপের (আসাম) রাজা ভাস্করবর্মণের সাথে শশাঙ্কবিরোধী যৌথ অক্ষচুক্তি গঠন করেন। বিশাল দুই দিক থেকে আক্রমণ সত্ত্বেও শশাঙ্ক অসীম রণনৈপুণ্যে নিজের জীবিতাবস্থায় গৌড় ও কর্ণসুবর্ণের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন।

উপসংহার: শশাঙ্ক ছিলেন স্বাধীনচেতা ও কূটকৌশলী জাতীয় নায়ক। তার মৃত্যুর পরপরই গৌড় সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে বাংলায় এক শতাব্দীর চরম অরাজকতা ও মাৎসন্যায় দেখা দেয়।

৩। লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল বর্ণনা কর।

[Describe the reign of Lakshman Sen.]

উত্তর:

ভূমিকা: বল্লাল সেনের সুযোগ্য পুত্র লক্ষ্মণ সেন (আনুমানিক ১১৭৮-১২০৬ খ্রি.) ছিলেন প্রাচীন বাংলার সেন রাজবংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং একই সাথে শেষ সার্বভৌম নৃপতি। তিনি প্রায় ষাট বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং সুদীর্ঘ প্রায় আটাশ বছর রাজত্ব করেন। তার রাজত্বকাল একই সাথে সামরিক পরাক্রম, সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ এবং পরিশেষে মুসলিম অভিযানের ফলে পতনের দ্বিমুখী বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত।

লক্ষ্মণ সেনের সামরিক সাফল্য:
সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি সেন সাম্রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তৃত করেন:
১. তিনি গয়া ও প্রয়াগ (এলাহাবাদ) পর্যন্ত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে বিজয়স্তম্ভ স্থাপন করেন।
২. উড়িষ্যার কলিঙ্গ ও কামরূপের বিরুদ্ধে সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
৩. তিনি ‘পরমবৈষ্ণব’, ‘অরিরাজ-মর্দন-শঙ্কর’ এবং ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন। পিতার মতো তিনিও রাজধানী বিক্রমপুর ও নদীয়ায় রাজদরবার পরিচালনা করতেন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতির চরম পৃষ্ঠপোষকতা:
লক্ষ্মণ সেন নিজে একজন উচ্চমানের কবি ছিলেন। তার রাজদরবার ছিল ভারতীয় ধ্রুপদী পণ্ডিতদের মিলনমেলা, যা ‘পঞ্চরত্ন’ নামে খ্যাত ছিল:
– জয়দেব: বিশ্ববিখ্যাত প্রেমকাব্য ‘গীতগোবিন্দম’-এর রচয়িতা।
– ধোয়ী: কালজয়ী দূতকাব্য ‘পবনদূত’-এর রচয়িতা।
– শরণ, গোবর্ধন ও উমাপতিধর: সংস্কৃত কাব্যের অদ্বিতীয় পণ্ডিত।
এছাড়া তার প্রধান ধর্মাধিকারিক ও প্রধানমন্ত্রী হলায়ুধ রচনা করেন বিখ্যাত স্মৃতিগ্রন্থ ‘ব্রাহ্মণসর্বস্ব’।

বখতিয়ার খলজির নদীয়া আক্রমণ ও লক্ষ্মণ সেনের পতন:
১২০৪-১২০৫ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বিহার জয়ের পর অতর্কিতে মাত্র ১৮ জন দুর্ধর্ষ অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ঘোড়া ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে নদীয়া রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করেন। অশীতিপর বৃদ্ধ রাজা লক্ষ্মণ সেন মধ্যাহ্নভোজনে রত ছিলেন। অতর্কিত আক্রমণের আকস্মিকতায় এবং প্রাসাদ রক্ষীদের অনুপস্থিতিতে তিনি নদীয়ার পেছনের খিড়কি দুয়ার দিয়ে নৌপথে পূর্ববঙ্গের রাজধানী বিক্রমপুরে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে উত্তর ও পশ্চিম বাংলায় সেন শাসনের অবসান ঘটে এবং মুসলিম শাসনের ঐতিহাসিক সূচনা হয়। বিক্রমপুরে লক্ষ্মণ সেন আরও কিছুদিন স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

৪। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার চন্দ্র বংশের ইতিহাস বর্ণনা কর।

[Narrate the history of the Chandra dynasty of South-Eastern Bengal.]

উত্তর:

ভূমিকা: দশম ও একাদশ শতাব্দীতে যখন উত্তর ও পশ্চিম বাংলায় পাল সাম্রাজ্য দুর্বলতার মুখোমুখি হচ্ছিল, তখন দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার বঙ্গ ও সমতট অঞ্চলে (বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা, ফরিদপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম) এক গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীন রাজবংশ হিসেবে ‘চন্দ্র বংশ’ (Chandra Dynasty) আত্মপ্রকাশ করে। ময়নামতির লালমাই পাহাড়ে প্রাপ্ত তাম্রশাসনসমূহ থেকে তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায়।

চন্দ্র বংশের উৎপত্তি ও প্রধান শাসকবর্গ:
চন্দ্র রাজারা মূলত রোহিতাগিরি (সম্ভবত লালমাই পাহাড় অঞ্চল)-র অধিবাসী ছিলেন এবং তারা গভীর বৌদ্ধ ধর্মানুসারী ছিলেন।
১. ত্রৈলোক্যচন্দ্র (৯০০-৯৩০ খ্রি.): তিনি চন্দ্র বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হরিকেল ও সমতটের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেন।
২. শ্রীচন্দ্র (৯৩০-৯৭৫ খ্রি.): তিনি ছিলেন চন্দ্র বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধিক পরাক্রমশালী সম্রাট। তিনি সুদীর্ঘ ৪৫ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে শাসন পরিচালনা করেন। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সকল সামন্তকে দমন করে কামরূপ পর্যন্ত নিজ আধিপত্য বিস্তার করেন। শ্রীচন্দ্রের শাসনামলে চন্দ্র সাম্রাজ্য রাজনৈতিক সংহতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছেছিল। তিনি বিক্রমপুরকে তার প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র বানান।
৩. কল্যাণচন্দ্র ও লড়হচন্দ্র: শ্রীচন্দ্রের পর কল্যাণচন্দ্র পালদের সাথে মিত্রতা বজায় রেখে বহিরাগত আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেন। লড়হচন্দ্র ছিলেন অত্যন্ত বিদ্যোৎসাহী ও ধর্মপ্রাণ শাসক।
৪. গোবিন্দচন্দ্র: তিনি ছিলেন চন্দ্র বংশের শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা। ১০২১-১০২৩ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের পরাক্রান্ত চোল সম্রাট প্রথম রাজেন্দ্র চোল বাংলা আক্রমণ করলে গোবিন্দচন্দ্র সাহসিকতার সাথে চোল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন (তিরুমালয় শিলালিপিতে এর উল্লেখ রয়েছে)। এর কিছুকাল পরেই বর্মণ রাজবংশের উত্থানে চন্দ্র শাসনের সমাপ্তি ঘটে।

সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবদান:
চন্দ্র রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের তান্ত্রিক ও মহাযান শাখার পরম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ময়নামতির আনন্দ বিহার ও শালবন বিহার তাদের যুগেরই স্থাপত্য নিদর্শন। তবে প্রজাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় তারা কোনো হস্তক্ষেপ করেননি এবং বহু ব্রাহ্মণ পণ্ডিতকেও ভূমি দান করেছিলেন।

৫। ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবুরের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।

[Evaluate the achievements of Babur as the founder of the Mughal Empire in India.]

উত্তর:

ভূমিকা: মধ্য এশিয়ার ফারগানার এক ভাগ্যবিড়ম্বিত রাজপুত্র থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবুর (১৫২৬-১৫৩০ খ্রি.)-এর জীবন এক রোমাঞ্চকর মহাকাব্য। পিতার দিক থেকে তিনি ছিলেন তৈমুর লং-এর পঞ্চম এবং মাতার দিক থেকে চেঙ্গিস খানের চতুর্দশ বংশধর। তার অসাধারণ সামরিক মেধা, অদম্য মনোবল ও রণকৌশল ভারতে তিনশত বছরের মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করে।

বাবুরের প্রধান ঐতিহাসিক কৃতিত্বসমূহ:

১. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬ খ্রি.):
১৫২৬ সালের ২১ এপ্রিল পানিপথের ঐতিহাসিক প্রান্তরে বাবুরের মাত্র ১২,০০০ সৈন্যের সুশৃঙ্খল বাহিনী দিল্লির শেষ লোদি সুলতান ইব্রাহিম লোদির এক লক্ষাধিক সৈন্য ও এক হাজার যুদ্ধহস্তীর বিশাল বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করে। এ যুদ্ধে বাবুরের জয়ের মূল কারণ ছিল:
– ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নত আগ্নেয়াস্ত্র ও কামানের (Artillery) ব্যবহার (ওস্তাদ আলী ও মোস্তফার নেতৃত্বে)।
– মধ্য এশীয় বিখ্যাত ‘তুলঘুমা’ (Tulghuma) রণকৌশল এবং রুমি পদ্ধতি (শকট ব্যূহ)।
ইব্রাহিম লোদি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন এবং দিল্লি ও আগ্রা অধিকারের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি রচিত হয়।

২. খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭ খ্রি.) ও রাজপুত পরাভব:
পানিপথের চেয়েও কঠিন পরীক্ষা ছিল মেবারের দুর্ধর্ষ বীর রানা সাঙ্গার নেতৃত্বে গঠিত রাজপুত কনফেডারেশনের মোকাবিলা করা। রানা সাঙ্গার বিশাল বাহিনীর সামনে মুঘল সেনারা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে বাবুর সৈন্যদের মাঝে ধর্মীয় উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেন, মদপান চিরতরে বর্জনের শপথ নেন এবং ঐতিহাসিক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। ১৫২৭ সালের খানুয়ার যুদ্ধে রানা সাঙ্গা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। বাবুর ‘গাজি’ উপাধি ধারণ করেন এবং ভারতে মুঘলদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়।

৩. ঘর্ঘরার যুদ্ধ (১৫২৯ খ্রি.):
বাংলার সুলতান নসরত শাহ এবং বিহারের আফগানদের যৌথ মৈত্রীজোটকে ঘর্ঘরা নদীর যুদ্ধে পরাজিত করে বাবুর উত্তর ভারতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাটে পরিণত হন।

৪. সাহিত্যে অবদান — ‘তুজুক-ই-বাবুরি’:
বাবুর্ কেবল তরবারির বীর ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চমানের সাহিত্যিক। তুর্কি ভাষায় রচিত তার আত্মজীবনী ‘তুজুক-ই-বাবুরি’ (বাবরনামা) বিশ্ব সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ। এতে সমকালীন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভৌগোলিক রূপরেখা, উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের এক জীবন্ত নিরপেক্ষ বিবরণ রয়েছে।

উপসংহার: মাত্র চার বছরের শাসনামলে ১৫৩০ সালে বাবুরের অকালমৃত্যু ঘটলেও তিনি ভারতে যে নতুন রাজবংশের বীজ বপন করেছিলেন, তা পরবর্তীতে আকবর ও শাহজাহানের হাতে এক বিশ্ববিশ্রুত সভ্যতায় রূপ নিয়েছিল।

৬। বখতিয়ার খলজি কে ছিলেন? বখতিয়ার খলজির সহজ বাংলা জয়ের কারণ কী?

[Who was Bakhtiyar Khalzi? What are the causes that led Bakhtiyar to invade Bengal easily?]

উত্তর:

বখতিয়ার খলজির পরিচয়:
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি ছিলেন আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক হেলমান্দ) অঞ্চলের খলজি উপজাতির এক ভাগ্যান্বেষী আফগান তুর্কি যোদ্ধা। খর্বকায় গড়ন ও দীর্ঘ বাহুর অধিকারী বখতিয়ার প্রাথমিক জীবনে শারীরিক ত্রুটির কারণে গজনি ও দিল্লির সামরিক বিভাগে চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে অযোধ্যার সুবেদার হুসামুদ্দিনের অধীনে মির্জাপুর জেলার ভগবত ও ভিউলী পরগনার জায়গির লাভ করে তিনি নিজস্ব সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন এবং ১২০৩ সালে ওদন্তপুরী ও নালন্দা বৌদ্ধ বিহার জয়ের মাধ্যমে বিহারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। অতঃপর ১২০৪-১২০৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঐতিহাসিক বাংলা জয় করেন।

বখতিয়ার খলজির সহজ বাংলা জয়ের কারণসমূহ:
বখতিয়ার খলজি মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে নদীয়ার মতো সুরক্ষিত রাজধানী এত সহজে জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন নিম্নোক্ত ঐতিহাসিক কারণে:
১. অভিনব রণকৌশল ও অতর্কিত আক্রমণ (Surprise Element): বখতিয়ার প্রচলিত সামরিক পথ পরিহার করে ঝাড়খণ্ডের দুর্গম অরণ্য ও পাহাড়ি পথ ধরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হন। ফলে নদীয়া সীমান্তে কোনো সতর্ক সংকেত পৌঁছায়নি। তিনি নগরদ্বারে পৌঁছে সৈন্যদের ঘোড়া ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে প্রবেশ করান, ফলে প্রহরীরা কোনো প্রতিরোধ তৈরি করেনি।
২. রাজা লক্ষ্মণ সেনের বার্ধক্য ও দুর্বল নেতৃত্ব: সমকালে রাজা লক্ষ্মণ সেন ছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ (প্রায় ৮০ বছর বয়স্ক)। রাজদরবারে কোনো সক্রিয় সমরপ্রস্তুতি ছিল না।
৩. ব্রাহ্মণ ও পণ্ডিতদের দৈববাণী ও কুসংস্কার: মিনহাজ-ই-সিরাজের ‘তাবাকাত-ই-নাসিরি’-র বিবরণ অনুযায়ী, সমকালীন দরবারি জ্যোতিষী ও পণ্ডিতরা প্রাচীন শাস্ত্রমতে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এক খর্বকায় ও দীর্ঘবাহু তুর্কি সেনাপতি কর্তৃক নদীয়া বিজিত হবে। বখতিয়ারের শারীরিক গঠন হুবহু মিলে যাওয়ায় যুদ্ধের আগেই রাজদরবারের অভিজাত ও ব্যবসায়ীদের একাংশ ভয়ে শহর ত্যাগ করে পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যায়, যা সৈন্যদের মনোবল ভেঙে দেয়।
৪. গুপ্তচর ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা: সেন সাম্রাজ্যের সীমান্ত পাহারা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এতটাই অকার্যকর ছিল যে তুর্কি বাহিনী নদীয়া প্রাসাদের খিড়কি দুয়ারে পৌঁছা পর্যন্ত সেনাপতিরা কিছুই টের পায়নি।
৫. সেন শাসনের অভ্যন্তরীণ সামাজিক অবক্ষয়: সেনদের কঠোর বর্ণবৈষম্যবাদী অনুশাসনের ফলে সাধারণ প্রজাদের সাথে রাজন্যবর্গের কোনো আত্মিক যোগাযোগ ছিল না; ফলে বহিরাগত আক্রমণের সময় কোনো গণপ্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।

উপসংহার: নদীয়া বিজয়ের পর বখতিয়ার গৌড় বা লখনৌতি অধিকার করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন এবং খুতবা পাঠ ও মুদ্রা জারির মাধ্যমে বাংলায় সাড়ে পাঁচ শতকের মুসলিম শাসনের স্থায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)

৭। সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি বিশ্লেষণ কর।

[Analyze the religious policy of Emperor Akbar.]

উত্তর:
মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি ছিল পরমতসহিষ্ণুতা, সমন্বয়বাদ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক অনন্য নিদর্শন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে কেবল তরবারির জোরে অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতকে শাসন করা সম্ভব নয়। তার ধর্মনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল:
১. ‘সুলহ-ই-কুল’ (সবার জন্য শান্তি): সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা।
২. বৈষম্যমূলক কর প্রত্যাহার: ১৫৬৩ সালে তীর্থযাত্রী কর এবং ১৫৬৪ সালে অমুসলিমদের ওপর আরোপিত ‘জিজিয়া কর’ সম্পূর্ণ বাতিল করেন।
৩. ইবাদতখানা স্থাপন (১৫৭৫): ফতেহপুর সিক্রিতে বিভিন্ন ধর্মের (ইসলাম, হিন্দু, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টান) পণ্ডিতদের সাথে ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্কের জন্য উন্মুক্ত পরিষদ গঠন।
৪. দীন-ই-ইলাহী (১৫৮২): সকল ধর্মের সারসংক্ষেপ নিয়ে তিনি একটি নৈতিক আদর্শিক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। যদিও এটি কোনো নতুন ধর্ম ছিল না, তবে এটি দরবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

৮। সংক্ষেপে প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর বর্ণনা দাও।

[Briefly describe the Janapadas of ancient Bengal.]

উত্তর:
প্রাচীন যুগে বাংলা কোনো একক অখণ্ড রাষ্ট্র ছিল না; বরং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন অঞ্চলে বিভক্ত ছিল, যেগুলোকে ‘জনপদ’ বলা হতো। প্রধান জনপদগুলো হলো:
১. গৌড়: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ কেন্দ্রিক এই জনপদ।
২. বঙ্গ: বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও বিক্রমপুর অঞ্চল। পরবর্তীতে এই বঙ্গের নাম থেকেই সমগ্র ‘বাঙ্গালাহ’ বা ‘বাংলাদেশ’-এর উৎপত্তি।
৩. পুণ্ড্র: উত্তরবঙ্গের বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী অঞ্চল; যার রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর (আধুনিক মহাস্থানগড়)।
৪. রাঢ়: পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরবর্তী বর্ধমান ও মেদিনীপুর অঞ্চল।
৫. সমতট ও হরিকেল: কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল ছিল সমতট এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল ছিল হরিকেল।

৯। পাল বংশের পতনের কারণসমূহ সংক্ষেপে লিখ।

[Write down briefly the causes of the downfall of the Pala dynasty.]

উত্তর:
সুদীর্ঘ চারশত বছরের গৌরবোজ্জ্বল পাল সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণগুলো হলো:
১. দুর্বল ও অযোগ্য উত্তরাধিকারী: দেবপালের পর অধিকাংশ শাসকই ছিলেন দুর্বল, আরামপ্রিয় ও সামরিক দূরদৃষ্টিহীন।
২. কৈবর্ত বিদ্রোহ: দ্বিতীয় মহীপালের সময় সংঘটিত প্রজা ও সামন্ত বিদ্রোহ পালদের কেন্দ্রীয় শক্তিকে পঙ্গু করে দেয়।
৩. বহিরাগত আক্রমণ: দক্ষিণাত্যের চোল ও কলচুরি রাজাদের ধারাবাহিক আক্রমণ পাল সাম্রাজ্যকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
৪. সেন বংশের উত্থান: দক্ষিণাত্যের কর্ণাটক থেকে বাংলায় আগত সেন রাজারা পালদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে অন্তিম আঘাত হানে এবং দ্বাদশ শতকে বিজয় সেনের হাতে পাল বংশের চির অবসান ঘটে।

১০। হাবসী শাসনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের বিবরণ দাও।

[Give an account of the history of Habsi rule.]

উত্তর:
১৪৮৭ থেকে ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলায় ক্রীতদাস বংশোদ্ভূত আবিসিনীয় বা ইথিওপিয়ান হাবশিদের যে স্বল্পমেয়াদি শাসন পরিচালিত হয়, তাকে ‘হাবসি শাসন’ বলা হয়। পরবর্তীতে ইলিয়াস শাহী সুলতান বারবাক শাহের আমলে সামরিক কাজের জন্য বিপুল সংখ্যক হাবশি সৈন্য ও খোজা কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। কালক্রমে তারা উচ্চ রাজপদে আসীন হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৪৮৭ সালে হাবসি খোজা সুলতান শাহজাদা শেষ ইলিয়াস শাহী সুলতান ফাতাহ শাহকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তী ছয় বছরে চারজন হাবসি সুলতান (শাহজাদা বারবাক, সাইফুদ্দীন ফিরোজ, দ্বিতীয় নাসিরুদ্দীন মাহমুদ এবং সিদি বদর মুজাফফর শাহ) রক্তক্ষয়ী ক্ষমতা বদলের মাধ্যমে শাসন করেন। পরিশেষে ১৪৯৩ সালে তাদের অত্যাচার ও অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে উজির সৈয়দ হোসেন (সুলতান আলাউদ্দীন হুসেন শাহ) হাবসিদের পরাস্ত করে মহান হুসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন সার্বভৌম রাজার নাম কী?

উত্তর: সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধে আবির্ভূত গৌড়াধিপতি রাজা শশাঙ্ক হলেন প্রাচীন বাংলার সর্বপ্রথম স্বাধীন সার্বভৌম নৃপতি।

প্রশ্ন ২: লক্ষ্মণ সেনের রাজদরবারের সুবিখ্যাত ‘পঞ্চরত্ন’ কারা ছিলেন?

উত্তর: লক্ষ্মণ সেনের রাজদরবারের পাঁচজন শ্রেষ্ঠ সংস্কৃত কবি ও পণ্ডিত ছিলেন জয়দেব, ধোয়ী, শরণ, গোবর্ধন এবং উমাপতিধর।

প্রশ্ন ৩: বখতিয়ার খলজি কত সালে নদীয়া আক্রমণ করেন?

উত্তর: বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগে (বা ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে) অতর্কিত অভিযানের মাধ্যমে নদীয়া জয় করেন।

প্রশ্ন ৪: পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবুরের সামরিক বিজয়ের প্রধান কৌশল কী ছিল?

উত্তর: ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নত কামান ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং মধ্য এশীয় ‘তুলঘুমা’ ও রুমি শকট ব্যূহ রণকৌশল প্রয়োগ।

প্রশ্ন ৫: দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন চন্দ্র রাজবংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন?

উত্তর: চন্দ্র রাজবংশের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে পরাক্রমশালী সম্রাট ছিলেন রাজা শ্রীচন্দ্র (শাসনকাল ৯৩০-৯৭৫ খ্রি.)।

প্রশ্ন ৬: বাংলার ইতিহাস থেকে হাবসি শাসনের অবসান কে ঘটিয়েছিলেন?

উত্তর: ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে হাবসিদের অপশাসন ও রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ দমন করে মহান হুসেন শাহী রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আলাউদ্দীন হুসেন শাহ এর অবসান ঘটান।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *