ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি (Society and Culture of Bangladesh)
বিষয় কোড: 205207 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
২০২০ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষের ‘বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি’ (বিষয় কোড: 205207) পরীক্ষায় সমকালীন সমাজকাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, গ্রামীণ ও নগর জীবনের বৈচিত্র্য, শিল্পায়ন ও সামাজিক পরিবর্তন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও এনজিওদের ভূমিকা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সম্পর্কিত গভীর সমাজতাত্ত্বিক প্রশ্নাবলি স্থান পেয়েছে। নিম্নে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি প্রশ্নের প্রমিত, পূর্ণাঙ্গ ও অ্যাকাডেমিক মানসম্পন্ন সমাধান উপস্থাপন করা হলো।
ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন)
১। বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার তুলনামূলক চিত্র আলোচনা কর।
[Discuss the comparative picture of Islamic education and secular/general education in Bangladesh.]
উত্তর:
ভূমিকা: বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় দুটি প্রধান ধারা যুগপৎভাবে সক্রিয় রয়েছে: একটি হলো সাধারণ বা আধুনিক সেকুলার শিক্ষা এবং অপরটি হলো মাদ্রাসা বা ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষা ধারা। এ দুটি ধারার উদ্দেশ্য, পাঠ্যক্রম, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক ভূমিকার মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য ও কিছু পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বিদ্যমান।
১. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগত পার্থক্য:
– ইসলামি শিক্ষা: এর মূল উদ্দেশ্য হলো পার্থিব জীবনের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও ইসলামি নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে আখেরাতমুখী আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা।
– সাধারণ শিক্ষা: এর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের প্রায়োগিক পাঠদানের মাধ্যমে বৈষয়িক দক্ষতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন।
২. পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদানের বিষয়বস্তু:
– মাদ্রাসা শিক্ষা: এটি মূলত আলিয়া ও কওমি—এই দুই উপশাখায় বিভক্ত। আলিয়া মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে ইসলামি ধর্মতত্ত্বের (কুরআন, তাফসির, হাদিস, আরবি সাহিত্য) পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান সমন্বয় করা হয়েছে। তবে কওমি মাদ্রাসার দারসে নিজামিতে বিশুদ্ধ ইসলামি উলুমের ওপর নিরঙ্কুশ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
– সাধারণ শিক্ষা: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) নিয়ন্ত্রিত এই ধারায় বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার বিষয়সমূহ (পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি, বিশ্ব সাহিত্য) প্রাধান্য পায়; ধর্মীয় শিক্ষা এখানে একটি ঐচ্ছিক বা একক সহায়ক বিষয় হিসেবে থাকে।
৩. অবকাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা:
ঐতিহাসিকভাবে সাধারণ ধারার স্কুল, কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সরকারি বাজেট, ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং গবেষণায় অগ্রাধিকার পেয়ে এসেছে। অপরদিকে সাম্প্রতিককালে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, কামিল স্তরকে স্নাতকোত্তর সমমান প্রদান এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করা হয়েছে।
৪. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মক্ষেত্র:
পূর্বে সাধারণ শিক্ষার শিক্ষার্থীরা কর্পোরেট ও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে একচ্ছত্র প্রাধান্য পেত এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা কেবল ইমামতি, মোয়াজ্জিন বা ধর্মীয় শিক্ষকতায় সীমাবদ্ধ ভাবা হতো। তবে বর্তমানে সমন্বিত সিলেবাসের কারণে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতিত্ব প্রদর্শন করছে এবং বিসিএস ক্যাডার সহ জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অবদান রাখছে।
উপসংহার: বাংলাদেশের সমাজ ও জাতীয় উন্নয়নে একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থা গঠনের জন্য আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সাথে ধর্মীয় নৈতিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে উভয় ধারার মধ্যে ব্যবধান হ্রাস করা সময়ের দাবি।
২। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন ও নগর জীবনের বৈশিষ্ট্যসমূহের তুলনামূলক আলোচনা কর।
[Discuss the comparative characteristics of rural life and urban life in Bangladesh.]
উত্তর:
ভূমিকা: বাংলাদেশ মূলত নদীমাতৃক ও গ্রামপ্রধান একটি দেশ হলেও দ্রুতগতির নগরায়ণের ফলে গ্রাম ও শহরের জীবনযাত্রায় গভীর সমাজতাত্ত্বিক বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। গ্রামীণ জীবন ও নগর জীবন এই দেশের সমাজকাঠামোর দুটি প্রধান স্তম্ভ।
গ্রামীণ ও নগর জীবনের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সামাজিক সম্পর্ক ও মিথস্ক্রিয়া:
– গ্রামীণ জীবন: গ্রামে চার্লস কুলি বর্ণিত ‘প্রাথমিক দল’ (Primary Group)-এর আধিপত্য দেখা যায়। এখানে মানুষের মধ্যে প্রত্যক্ষ, আন্তরিক, পারস্পরিক সহানুভূতিশীল ও মুখোমুখি (Face-to-face) সম্পর্ক বিদ্যমান। সুখ-দুঃখে প্রতিবেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে।
– নগর জীবন: শহরে ‘মাধ্যমিক দল’ (Secondary Group)-এর প্রাধান্য। শহরের সম্পর্ক মূলত চুক্তিভিত্তিক, যান্ত্রিক, আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থকেন্দ্রিক। একই ভবনের ফ্ল্যাটে বছরের পর বছর বসবাস করেও অনেকে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাকে চেনেন না।
২. অর্থনৈতিক ভিত্তি ও পেশাগত রূপরেখা:
– গ্রাম: প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি হলো কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন ও কুটির শিল্প। শ্রমের গতিশীলতা তুলনামূলকভাবে কম।
– শহর: শিল্প, কারখানা, কর্পোরেট ব্যবসা, ব্যাংকিং, ফ্রিল্যান্সিং এবং আনুষ্ঠানিক সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল। এখানে পেশাগত বৈচিত্র্য ও আয়ের অসমতা অত্যন্ত প্রকট।
৩. পারিবারিক কাঠামো:
– গ্রাম: ঐতিহ্যগতভাবে যৌথ পরিবার ও বর্ধিত পরিবারের প্রাধান্য বেশি, যেখানে বয়োজ্যেষ্ঠ মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত সর্বজনীন মান্যতা পায়।
– শহর: অর্থনৈতিক চাপ ও আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের কারণে একক বা অণু পরিবার (Nuclear Family) গড়ে উঠেছে।
৪. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কৃতি:
– গ্রাম: অনানুষ্ঠানিক সামাজিক নিয়ন্ত্রণ যেমন: ধর্মীয় মূল্যবোধ, লোকপ্রথা, লোকরীতি, লোকলজ্জা এবং সমাজের মুরব্বিদের সালিশির ভূমিকা অত্যন্ত শক্তিশালী।
– শহর: সামাজিক নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ, আদালত, আইন ও আনুষ্ঠানিক নজরদারির ওপর নির্ভর করতে হয়। সংস্কৃতি এখানে কসমোপলিটান বা বিশ্বায়িত।
৫. নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ:
– গ্রাম: নির্মল বায়ু, সবুজ প্রান্তর ও দূষণমুক্ত পরিবেশ থাকলেও উচ্চমানের হাসপাতাল, আধুনিক শিক্ষা ও বিদ্যুতের শতভাগ স্থিতিশীলতায় এখনো শহরের চেয়ে পিছিয়ে।
– শহর: উন্নত যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও যানজট, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ এবং বস্তি সমস্যায় জর্জরিত।
উপসংহার: ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রসার এবং গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে গ্রাম ও শহরের চিরাচরিত ব্যবধান ক্রমশ কমে আসছে এবং গ্রামীণ জীবনেও আধুনিক নগরায়ণের প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে।
৩। সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর শিল্পায়নের প্রভাব আলোচনা কর।
[Discuss the impact of industrialization on society and culture.]
উত্তর:
ভূমিকা: কায়িক শ্রমভিত্তিক কৃষি সমাজ থেকে আধুনিক বিদ্যুৎ ও যন্ত্রচালিত উৎপাদন পদ্ধতিতে রূপান্তরের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াই হলো শিল্পায়ন (Industrialization)। বাংলাদেশে বিশেষত তৈরি পোশাক (RMG), ওষুধ শিল্প, চামড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পের বিকাশের ফলে সমগ্র সমাজ ও সংস্কৃতির চিরাচরিত রূপরেখায় এক ব্যাপক রূপান্তর সূচিত হয়েছে।
সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর ইতিবাচক প্রভাবসমূহ:
১. নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়ন: বাংলাদেশে শিল্পায়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান সামাজিক প্রভাব হলো তৈরি পোশাক খাতে লাখ লাখ গ্রামীণ নারীর কর্মসংস্থান। পূর্বে চার দেয়ালে আবদ্ধ গ্রামীণ নারীরা আজ স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন এবং বাল্যবিবাহের হার নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
২. পেশাগত গতিশীলতা ও শ্রেণি ব্যবস্থার পরিবর্তন: শিল্পায়ন ঐতিহ্যগত বংশানুক্রমিক জাতপাত ও পেশা ভেঙে দিয়েছে। একজন সাধারণ কৃষকের সন্তান আজ কারখানার ব্যবস্থাপক বা প্রকৌশলী হতে পারছে, যা একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম দিয়েছে।
৩. দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: শিল্পাঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে নতুন নতুন উপশহর, ফ্লাইওভার, আধুনিক আবাসন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
৪. শিক্ষার হার ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি: শিল্পের চাহিদা মেটাতে কারিগরি শিক্ষা, কম্পিউটার জ্ঞান ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে।
সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাবসমূহ:
১. যৌথ পরিবারের ভাঙন ও নিঃসঙ্গতা: কাজের তাগিদে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসায় যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে পরিণত হচ্ছে। প্রবীণরা পরিবারে অবহেলিত হয়ে বৃদ্ধাশ্রমমুখী হচ্ছেন এবং শিশুদের মধ্যে সামাজিকীকরণ ব্যাহত হচ্ছে।
২. বস্তি সমস্যা ও অপরাধের বিস্তার: অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে শহরে বিপুল দরিদ্র শ্রমিকের আগমন ঘটছে, যারা অস্বাস্থ্যকর বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করে। ফলে মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩. পরিবেশ বিপর্যয়: অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্যে নদী দূষণ (যেমন: বুড়িগঙ্গা, তুরাগ নদী) এবং কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
৪. ভোগবাদী সংস্কৃতি ও মানসিক চাপ: ঐতিহ্যবাহী আত্মীয়তার সম্পর্ক ও লোকজ আনন্দ উৎসবের বদলে পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী প্রতিযোগিতার মানসিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজে হতাশা ও মানসিক অবসাদ সৃষ্টি করছে।
উপসংহার: অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য শিল্পায়ন অপরিহার্য হলেও এর সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করতে সুপরিকল্পিত পরিবেশবান্ধব শিল্পনীতি গ্রহণ করা আবশ্যক।
৪। গ্রামীণ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ আলোচনা কর।
[Discuss the various steps taken by the Government of Bangladesh for rural development.]
উত্তর:
ভূমিকা: বাংলাদেশের জনসংখ্যার সিংহভাগ মানুষ এখনো গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তৎপরবর্তী সরকারসমূহ গ্রামীণ অর্থনীতিকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে। পল্লী অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং বৈষম্য দূরীকরণে বাংলাদেশ সরকার বহুমুখী যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রধান পদক্ষেপসমূহ:
১. ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ মেগা প্রকল্প: গ্রামীণ জনগণকে শহরের মতো উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি গ্রামে পাকা সড়ক, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
২. কৃষি আধুনিকায়ন ও ভর্তুকি প্রদান: কৃষকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক এবং সেচযন্ত্রে সরাসরি আর্থিক ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। দশ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা এবং ‘কৃষি কার্ড’ প্রদানের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সহায়তা কৃষকের দ্বারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Social Safety Net): গ্রামীণ দরিদ্র, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে:
– বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা কর্মসূচি।
– মাতৃত্বকালীন ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি।
– কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), টেস্ট রিলিফ (টিআর) এবং অতিদরিদ্রদের জন্য ১০০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচি।
৪. ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’ ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক: গ্রামীণ প্রতিটি পরিবারকে ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী ইউনিটে পরিণত করার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র সঞ্চয় সমিতি গঠন এবং তাদের সহজ শর্তে জামানতবিহীন কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের জন্য ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
৫. আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন: “মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না”—এই অঙ্গীকারের আওতায় সমগ্র বাংলাদেশের হাজার হাজার গ্রামীণ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা বাড়ি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
৬. পল্লী বিদ্যুতায়ন ও ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার: ‘শতভাগ বিদ্যুতায়ন’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দুর্গম চরাঞ্চলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (UDC) মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ জন্মনিবন্ধন, জমির পর্চা এবং পাসপোর্টের আবেদন ঘরে বসেই করতে পারছে।
উপসংহার: সরকারের বহুমুখী ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল আজ এক বৈপ্লবিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
৫। সামাজিক উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)-এর ভূমিকা পর্যালোচনা কর।
[Review the role of Non-Governmental Organizations (NGOs) in social development.]
উত্তর:
ভূমিকা: ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্বাসন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বেসরকারি সংস্থা (NGO – Non-Governmental Organization)-সমূহ এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে। সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর পাশাপাশি ব্র্যাক (BRAC), গ্রামীণ ব্যাংক, আশা (ASA), প্রশিকা ইত্যাদি দেশীয় এনজিও আজ বিশ্ব দরবারে সামাজিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে প্রশংসিত।
সামাজিক উন্নয়নে এনজিওদের বহুমুখী ভূমিকা:
১. ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন (Microfinance): প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত গ্রামীণ দরিদ্র নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের কোনো প্রকার স্থাবর জামানত ছাড়া দলভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এনজিওগুলো। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল সারা বিশ্বে স্বীকৃত ও নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত।
২. প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রসার: ঝরে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এক কক্ষবিশিষ্ট স্কুল, ব্র্যাক প্রাইমারি স্কুল এবং আনন্দ স্কুল পরিচালনার মাধ্যমে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে এনজিওরা অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।
৩. প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা: ডায়রিয়া প্রতিরোধে ওরস্যালাইন তৈরি প্রশিক্ষণ, শিশু ও প্রসূতি মায়েদের ইপিআই টিকাদান, নিরাপদ স্যানিটেশন (টয়লেট বিতরণ) এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী গ্রামীণ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে এনজিও স্বাস্থ্যকর্মীরা ফ্রন্টলাইনে কাজ করেছেন।
৪. নারীর ক্ষমতায়ন ও আইনি সচেতনতা: নারীদের ঋণ প্রদান, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ (হস্তশিল্প, হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই), যৌতুক ও বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক সচেতনতা এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করে নারীদের সমাজে মর্যাদাবান করেছে।
৫. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজন: বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং লবণাক্ত সহনশীল কৃষিপদ্ধতি প্রবর্তনে এনজিওরা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এনজিও কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা বা সমালোচনা:
যদিও এনজিওদের অবদান বিশাল, তথাপি উচ্চ সুদের হার আদায়, ঋণের কিস্তি পরিশোধে মানসিক চাপ এবং অনেক ক্ষেত্রে দাতাগোষ্ঠীর পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগও উত্থাপিত হয়ে থাকে।
উপসংহার: সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের পরিপূরক হিসেবে এনজিওদের ভূমিকা সামাজিক অগ্রগতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৬। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা কর।
[Discuss the steps taken by the Government of Bangladesh for women empowerment.]
উত্তর:
ভূমিকা: মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজকে পশ্চাৎপদ রেখে একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। বাংলাদেশ সরকার সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ায় এক অগ্রণী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রধান পদক্ষেপসমূহ:
১. রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন:
– জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের পাশাপাশি সাধারণ আসনেও নারীদের প্রত্যক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নারীদের সফল নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।
– স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও পৌরসভা) সরাসরি ভোটে তিন নারী সদস্যের পদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক অগ্রগতি:
– দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রদান কর্মসূচি।
– মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তির নিশ্চয়তা। এর ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লিঙ্গসমতা (Gender Parity) অর্জিত হয়েছে।
৩. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান:
– নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন স্বল্প সুদে ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই তহবিলের মাধ্যমে বিশেষ ক্ষুদ্রঋণ বরাদ্দ।
– সরকারি চাকরিতে বিশেষ সুবিধা ও নিয়োগ বৃদ্ধি। পুলিশ, বিচার বিভাগ, বিসিএস ক্যাডার এবং সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের কমিশন পদে ব্যাপকভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
– প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৬০ শতাংশ নারী কোটা কার্যকর রয়েছে।
৪. আইনি সুরক্ষা ও নীতি প্রণয়ন:
– ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১’ প্রণয়ন।
– ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০’ এবং ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ কার্যকর প্রয়োগ।
– কর্মজীবী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি পূর্ণ বেতনে ৬ মাসে উন্নীতকরণ।
৫. সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা:
কর্মজীবী মায়েদের শিশুদের জন্য প্রতিটি জেলায় ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন, দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ পুষ্টিভাতা প্রদান এবং নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (OCC) স্থাপন করা হয়েছে।
উপসংহার: সরকারের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের নারীরা আজ গৃহকোণ থেকে বেরিয়ে মহাকাশ গবেষণা, এভারেস্ট জয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা মিশনেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন)
৭। পরিবার কী? পরিবারের বিভিন্ন প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা কর।
[What is family? Briefly discuss the types of family.]
উত্তর:
সংজ্ঞা: সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের মতে, পরিবার হলো সুনির্দিষ্ট যৌন সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এমন একটি ক্ষুদ্র প্রাথমিক সামাজিক সংগঠন, যা সন্তান উৎপাদন, লালন-পালন ও প্রাথমিক সামাজিকীকরণের দায়িত্ব পালন করে। বিবাহ, রক্তসম্পর্ক বা দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়।
প্রকারভেদ:
১. সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে: (ক) একক বা অণু পরিবার: কেবল স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তানদের নিয়ে গঠিত পরিবার। (খ) যৌথ পরিবার: যেখানে কয়েক প্রজন্মের রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়রা (দাদা-দাদি, পিতামাতা, চাচা-ফুফু) একত্রে একান্নভুক্তভাবে বসবাস করে। (গ) বর্ধিত পরিবার: মূল পরিবারের সাথে অন্যান্য দূরবর্তী আত্মীয়রা যুক্ত থাকলে।
২. কর্তৃত্বের ভিত্তিতে: (ক) পিতৃতান্ত্রিক পরিবার: যেখানে পিতা বা পুরুষ পরিবারের প্রধান এবং বংশমর্যাদা পিতার সূত্রে নির্ধারিত হয় (বাংলাদেশে প্রধান)। (খ) মাতৃতান্ত্রিক পরিবার: যেখানে মাতা পরিবারের প্রধান (যেমন: গারো ও খাসিয়া উপজাতি)।
৩. বিবাহের ভিত্তিতে: একক বিবাহভিত্তিক (Monogamous) এবং বহুবিবাহভিত্তিক (Polygamous) পরিবার।
৮। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতিদের সামাজিক বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লেখ।
[Write briefly about the social characteristics of ethnic minorities/tribes in Bangladesh.]
উত্তর:
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতল অঞ্চলের প্রায় অর্ধশত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (যেমন: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, খাসিয়া) নিজস্ব স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করে। তাদের প্রধান সামাজিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. গোত্রীয় সংহতি ও সমাজকাঠামো: তারা গভীর গোত্রীয় আনুগত্য মেনে চলে। অধিকাংশ গোত্র পিতৃতান্ত্রিক হলেও গারো ও খাসিয়ারা মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থার অনুসারী, যেখানে পরিবারের কনিষ্ঠ কন্যা সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হয়।
২. স্বতন্ত্র উৎসব ও ধর্মাচার: তাদের সামাজিক জীবন বিভিন্ন ঋতুভিত্তিক উৎসবে মুখরিত, যেমন: চাকমাদের ‘বিঝু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ (একত্রে বৈসাবি) এবং গারোদের ‘ওয়ানগালা’ নবান্ন উৎসব।
৩. অর্থনৈতিক জীবন: ঐতিহ্যবাহী পাহাড়িরা প্রধানত পরিবেশবান্ধব ‘জুম চাষ’ এবং সমতলের নৃগোষ্ঠী বনজ সম্পদ ও সাধারণ কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
৯। সুশীল সমাজ (Civil Society) বলতে কী বোঝায়?
[What is meant by Civil Society?]
উত্তর:
রাষ্ট্র এবং পরিবারের মধ্যবর্তী বলয়ে অবস্থানকারী সচেতন, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বাধীন নাগরিক সংগঠন বা গোষ্ঠীর সামগ্রিক সংহতিকে ‘সুশীল সমাজ’ (Civil Society) বলা হয়। এতে বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক সমিতি অন্তর্ভুক্ত থাকে। সুশীল সমাজের মূল কাজ হলো সরকারের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন রক্ষায় সোচ্চার হওয়া, দুর্নীতি প্রতিরোধে জনমত গঠন করা এবং রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সেতুবন্ধন তৈরি করা।
১০। শিশু স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সুরক্ষার গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখ।
[Write briefly about the importance of child health education and protection.]
উত্তর:
আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক ও সমাজ বিনির্মাতা। তাই একটি সমৃদ্ধ ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে শিশু স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সুরক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম:
১. শারীরিক ও মানসিক বিকাশ: শৈশবের সঠিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা শিশুকে ভবিষ্যৎ জীবনে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি, খর্বকায়ত্ব ও অপুষ্টি থেকে রক্ষা করে।
২. শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা: পথশিশু ও দরিদ্র শিশুদের শিশুশ্রম, শারীরিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ও পাচার রোধে সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
৩. স্বচ্ছ স্যানিটেশন অভ্যাস: শৈশবে হাত ধোয়া, দাঁত ব্রাশ ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা দিলে তা আজীবন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করে এবং শিশু মৃত্যুহার হ্রাস করে। শিশু সুরক্ষায় বিনিয়োগ হলো একটি জাতির মানবসম্পদের সর্বোত্তম বিনিয়োগ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত?
উত্তর: বাংলাদেশের গারো এবং খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে ঐতিহ্যগত মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
প্রশ্ন ২: ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কী?
উত্তর: গ্রামীণ জনগণের কাছে শহরের আধুনিক সকল নাগরিক সুবিধা যেমন পাকা সড়ক, ইন্টারনেট, স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন পৌঁছে দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রশ্ন ৩: গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস হলেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
প্রশ্ন ৪: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীদের কোটা কত শতাংশ?
উত্তর: বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে নারী প্রার্থীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রশ্ন ৫: প্রাথমিক দল (Primary Group)-এর ধারণা কোন সমাজবিজ্ঞানী প্রদান করেন?
উত্তর: আমেরিকান বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী চার্লস হর্টন কুলি (C.H. Cooley) সর্বপ্রথম ‘প্রাথমিক দল’ প্রত্যয়টি প্রবর্তন করেন।
প্রশ্ন ৬: বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান নৃগোষ্ঠীর যৌথ উৎসবের নাম কী?
উত্তর: ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমাদের ‘বিঝু’ উৎসবের আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত সম্মিলিত উৎসবের নাম ‘বৈসাবি’।