ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – ২০১৮
বিষয়: উচ্চতর আরবি (ঐচ্ছিক) তৃতীয় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৯)
[আরবি ব্যাকরণ, অনুবাদ ও রচনা (قواعد اللغة العربية والترجمة والمقالة)]
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০
ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০১৮-এর উচ্চতর আরবি ৩য় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৯ – আরবি ব্যাকরণ, অনুবাদ ও রচনা) মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের শতভাগ নির্ভুল, প্রামাণ্য ও বিস্তারিত সমাধান নিচে উপস্থাপন করা হলো। ইলমুন নাহু ও সরফের সূক্ষ্ম ব্যাকরণিক নিয়মাবলী, প্রামাণ্য আরবি সংজ্ঞা, আল-কুরআন ও হাদিসের শাহিদানুকূল দৃষ্টান্ত, বিশুদ্ধ বাক্যগঠন ও প্রাঞ্জল অনুবাদ এবং উচ্চমানের আরবি প্রবন্ধের সমন্বয়ে প্রতিটি উত্তর সাজানো হয়েছে যাতে ফাযিল পরীক্ষার্থীগণ সর্বোচ্চ নম্বর লাভ করতে সক্ষম হন।
কন্টেন্ট তালিকা / প্রশ্নসূচি
- ১. ما معنى النحو لغة واصطلاحا؟ تحدث عن موضوع النحو وغرضه، وسبب تسميته به [ইলমুন নাহুর পরিচয়, আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য ও নামকরণের কারণ]
- ২. عرف الكلمة واكتب انواعها واكتب علامات الاسم مع الامثلة [কালিমার পরিচয়, প্রকারভেদ ও ইসমের প্রধান আলামতসমূহ]
- ৩. عرف المبتدأ والخبر ثم تحدث عن المواضع التى يجب فيها حذف المبتدأ بالامثلة [মুবতাদা ও খবরের পরিচয় এবং মুবতাদা উহ্য থাকার স্থানসমূহ]
- ৪. ما المفعول به؟ متى يكون للفعل هذا المفعول؟ تحدث عن المواضع التى يجب فيها حذف عامل المفعول به بالامثلة [মাফ’উলে বিহির পরিচয় এবং আমেল উহ্য থাকার স্থানসমূহ]
- ৫. عرف المنصرف وغير المنصرف، ثم تحدث عن اسباب منع الصرف مع الامثلة [মুনসারিফ ও গাইরে মুনসারিফের পরিচয় এবং মানউস সারফের ৯টি কারণ]
- ৬. عرف اسم التفضيل، ثم تحدث عن طرق استعماله وعمله بالامثلة [ইসমুত তাফদিলের সংজ্ঞা, ব্যবহারের পদ্ধতি ও ব্যাকরণিক আমল]
- ৭. عرف الصفة المشبهة، ثم اذكر اوزانها بالامثلة [সিফাতে মুশাব্বাহার সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন ওযনসমূহ]
- ৮. عرف اسم الموصول، ثم تحدث عن اقسامه وعدده بالامثلة [ইসমে মাওসুলের পরিচয়, প্রকারভেদ, সংখ্যা ও গঠনরীতি]
- ৯. كم اداة للحروف المشبهة بالفعل؟ وما عملها؟ بين بالامثلة [হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’লের পরিচয়, সংখ্যা ও তাদের আমল]
- ১০. كم اداة لجوازم الفعل المضارع؟ بين بالتمثيل [ফে’লে মুদারে’কে জযমকারী অব্যয়সমূহের প্রকারভেদ ও বিশদ বিবরণ]
- ১১. অনুবাদ (আরবি থেকে বাংলা): ينبغي للإنسان أن يعرف شرف زمانه… অথবা، جعل الاسلام بر الوالدين…
- ১২. অনুবাদ (বাংলা থেকে আরবি): ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী… অথবা, রাবেয়া বসরী অতি দারিদ্র্যে জীবন যাপন করতেন…
- ১৩. আরবি প্রবন্ধ রচনা (مقالة بالعربية): بر الوالدين، واجبات الطلاب، اهمية اللغة العربية، الاخوة في الاسلام
১. ما معنى النحو لغة واصطلاحا؟ تحدث عن موضوع النحو وغرضه، وسبب تسميته به [ইলমুন নাহুর পরিচয়, আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য ও নামকরণের কারণ]
ভূমিকা:
আরবি ভাষা বিশুদ্ধভাবে বলা, পড়া ও লেখার জন্য যে জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য তাকে ‘ইলমুন নাহু’ (علم النحو) বলা হয়। এটি আরবি ব্যাকরণের মূল স্তম্ভ, যা ভাষার বাক্যবিন্যাস ও শেষ বর্ণের অবস্থা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।
১. নাহু-এর আভিধানিক অর্থ (معنى النحو لغة):
‘আন্-নাহু’ (النحو) শব্দটি আরবি মাসদার। অভিধানে এর একাধিক অর্থ রয়েছে। যেমন কবি একটি ছন্দোবদ্ধ শ্লোকে সংকলন করেছেন:
«قَصْدٌ وَمِثْلٌ وَجِهَةٌ مِقْدَارُ * وَقِسْمٌ وَبَعْضٌ كُلُّهَا أَنْحَاءُ»
প্রধান প্রধান অর্থগুলো নিম্নরূপ:
১. আল-ক্বাসদ (القصد): ইচ্ছা বা সংকল্প করা। যেমন: نَحَوْتُ نَحْوَكَ (আমি আপনার ইচ্ছা করলাম)।
২. আল-মিছল (المثل): সদৃশ বা মতো হওয়া। যেমন: زَيْدٌ نَحْوُ عَمْرٍو (যায়েদ আমরের মতো)।
৩. আল-জিহাহ (الجهة): দিক বা অভিমুখ। যেমন: سِرْتُ نَحْوَ الْمَسْجِدِ (আমি মসজিদের দিকে চললাম)।
৪. আল-মিকদার (المقدار): পরিমাণ। যেমন: عِنْدِي نَحْوُ أَلْفِ دِرْهَمٍ (আমার নিকট প্রায় এক হাজার দিরহাম রয়েছে)।
২. নাহু-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (معنى النحو اصطلاحا):
আল্লামা ইবনে হাজিব (রহ.) তাঁর বিশ্বখ্যাত ব্যাকরণ গ্রন্থ ‘আল-কাফিয়া’-তে নাহুর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন:
«النَّحْوُ عِلْمٌ بِأُصُولٍ يُعْرَفُ بِهَا أَحْوَالُ أَوَاخِرِ الْكَلِمِ الثَّلَاثِ إِعْرَابًا وَبِنَاءً، وَكَيْفِيَّةُ تَرْكِيبِ بَعْضِهَا مَعَ بَعْضٍ.»
সহজ ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ: “নাহু হলো এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান, যার সাহায্যে কালিমার তিনটি প্রকারের (ইসম, ফে’ল ও হরফ) শেষাক্ষরের অবস্থা—তা মু’রাব (পরিবর্তনশীল) না মাবনী (অপরিবর্তনশীল)—তা জানা যায় এবং একটি শব্দকে অপর শব্দের সাথে যুক্ত করে বাক্য গঠনের নিয়মাবলি নির্ণয় করা যায়।”
৩. নাহুর আলোচ্য বিষয় (موضوع النحو):
ইলমুন নাহুর আলোচ্য বিষয় হলো ‘কালিমাহ ও কালাম’ (الكلمة والكلام)—এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে তাদের শেষাক্ষরে কীভাবে ই’রাব (যম্মা, ফাতহা, কাসরা, সুকুন) বা বিনা (অপরিবর্তনশীলতা) প্রযোজ্য হয় এবং কীভাবে অর্থপূর্ণ বাক্য গঠিত হয়।
৪. নাহু শাস্ত্রের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা (غرض النحو):
১. ভাষাগত ভুল থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা: আরবি ভাষা বলা, পড়া ও লেখার ক্ষেত্রে শাব্দিক ও ব্যাকরণিক ভুল (লাহন) থেকে জিহ্বাকে সুরক্ষিত রাখা।
২. কুরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ অনুধাবন: পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনাবলী এবং তাদের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী কোনো ভুল ব্যাখ্যা ছাড়া যথাযথভাবে বোঝা।
৩. আরবি সাহিত্যের সঠিক রসাস্বাদন: জাহেলী যুগের কবিতা ও ক্লাসিক্যাল সাহিত্যের আলঙ্কারিক অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা।
৫. নামকরণের ঐতিহাসিক কারণ (سبب تسميته به):
ইসলামের দ্রুত বিস্তৃতির যুগে অনারবদের ইসলামে প্রবেশের ফলে সাধারণ মানুষের মুখে আরবি উচ্চারণে ভুলভ্রান্তি দেখা দেয়। একদা হযরত আলী (রা.) এক ব্যক্তিকে কুরআনের আয়াতে ভুল ই’রাব পড়তে শোনেন। তখন তিনি ব্যাকরণের মৌলিক ভিত্তি (কালিমা ও তার তিন প্রকার) একটি কাগজে লিখে তাঁর প্রিয় ছাত্র আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালীকে দেন এবং বলেন:
«انْحُ هَذَا النَّحْوَ يَا أَبَا الأَسْوَدِ» (হে আবুল আসওয়াদ! তুমি এই পদ্ধতি অনুসরণ করো এবং এর সম্প্রসারণ করো)। হযরত আলী (রা.)-এর মুখনিঃসৃত «انْحُ» (অনুসরণ করো) নির্দেশনার বরকত ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেই এই শাস্ত্রের নাম চিরতরে ‘ইলমুন নাহু’ হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ হয়ে যায়।
২. عرف الكلمة واكتب انواعها واكتب علامات الاسم مع الامثلة [কালিমার পরিচয়, প্রকারভেদ ও ইসমের প্রধান আলামতসমূহ]
১. কালিমার সংজ্ঞা (تعريف الكلمة):
– আভিধানিক অর্থ: ‘কালিমাহ’ (الكلمة) শব্দটি একবচন, বহুবচনে ‘কালিম’ (كَلِم) বা ‘কালিমাত’ (كَلِمَات)। এর মূল অর্থ হলো আঘাত করা, চিহ্ন রাখা বা কথা বলা।
– পারিভাষিক সংজ্ঞা: ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় কালিমার সংজ্ঞা হলো:
«الْكَلِمَةُ لَفْظٌ وُضِعَ لِمَعْنًى مُفْرَدٍ.»
অর্থাৎ, “কালিমা হলো এমন একক উচ্চারিত ধ্বনি (লাফজ), যা কোনো একক অর্থ প্রকাশের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।”
২. কালিমার প্রকারভেদ (أنواع الكلمة):
আরবি ভাষায় কালিমা প্রধানত তিন প্রকার:
১. আল-ইসম (الاسم – বিশেষ্য বা নামপদ): যে শব্দ অন্য শব্দের সাহায্য ছাড়াই নিজের অর্থ নিজে প্রকাশ করতে পারে এবং যার অর্থে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো কালের সংমিশ্রণ থাকে না; যেমন: رَجُلٌ (পুরুষ), قَلَمٌ (কলম), مَكَّةُ (মক্কা)।
২. আল-ফে’ল (الفعل – ক্রিয়া): যে শব্দ স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে এবং যার সাথে তিন কালের (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ) কোনো একটি কাল অপরিহার্যভাবে যুক্ত থাকে; যেমন: كَتَبَ (সে লিখেছে), يَكْتُبُ (সে লিখছে বা লিখবে), اُكْتُبْ (তুমি লেখো)।
৩. আল-হারফ (الحرف – অব্যয়): যে শব্দ অন্য শব্দের (ইসম বা ফে’ল) সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়া এককভাবে নিজের পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না; যেমন: مِنْ (হতে), فِي (মধ্যে), عَلَى (উপরে)।
৩. ইসমের বিশেষ আলামতসমূহ (علامات الاسم):
ইমাম ইবনে মালেক (রহ.) তাঁর ‘আলফিয়্যাহ’-তে বলেছেন: «بِالْجَرِّ وَالتَّنْوِينِ وَالنِّدَا وَأَلْ * وَمُسْنَدٍ لِلِاسْمِ تَمْيِيزٌ حَصَلْ»। ইসম চেনার প্রধান আলামতসমূহ নিচে প্রামাণ্য উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হলো:
| আলামত | ব্যাখ্যা ও বিবরণ | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. জার গ্রহণ করা (دخول حرف الجر) | শব্দের পূর্বে হরফে জার আসা বা শেষাক্ষরে কাসরা হওয়া। ফে’ল বা হরফে কখনো জার হয় না। | مَرَرْتُ بِزَيْدٍ، فِي الْمَسْجِدِ |
| ২. তানভীন হওয়া (التنوين) | শব্দের শেষে দুই যবর, দুই যের বা দুই পেশ যুক্ত হওয়া। | كِتَابٌ، قَلَمًا، رَجُلٍ |
| ৩. আলিফ-লাম যুক্ত হওয়া (دخول أل) | শব্দের শুরুতে নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক ‘আলিফ-লাম’ (أل) যুক্ত হওয়া। | الْقَمَرُ، الْكِتَابُ، الإِنْسَانُ |
| ৪. হরফে নিদা আসা (دخول حرف النداء) | শব্দের পূর্বে সম্বোধনসূচক অব্যয় (یا، أیا ইত্যাদি) আসা। | يَا رَبَّنَا، يَا مُحَمَّدُ |
| ৫. মুসনাদ ইলাইহি হওয়া (الإسناد إليه) | শব্দটি যদি বাক্যে কর্তা (ফায়েল) বা মুবতাদা হয়, যার দিকে কোনো বিধানের সম্বন্ধ করা হয়। | زَيْدٌ قَائِمٌ (যায়েদের দিকে দাঁড়ানো সম্বন্ধিত) |
| ৬. ইদাফাত হওয়া (الإضافة) | শব্দটি মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) হওয়া। | غُلَامُ زَيْدٍ، بَيْتُ اللَّهِ |
| ৭. তাসনিয়া ও জমা হওয়া | শব্দটির দ্বিবচন ও বহুবচন গঠন করা সম্ভব হওয়া। | مُسْلِمَانِ (দ্বিবচন), مُسْلِمُونَ (বহুবচন) |
| ৮. তাসগীর হওয়া (التصغير) | শব্দটির ক্ষুদ্রতাজ্ঞাপক রূপ তৈরি হওয়া। | رُجَيْلٌ (ক্ষুদ্র পুরুষ), كُتَيِّبٌ (ক্ষুদ্র পুস্তিকা) |
৩. عرف المبتدأ والخبر ثم تحدث عن المواضع التى يجب فيها حذف المبتدأ بالامثلة [মুবতাদা ও খবরের পরিচয় এবং মুবতাদা উহ্য থাকার স্থানসমূহ]
১. মুবতাদা ও খবরের সংজ্ঞা:
– মুবতাদা (المبتدأ): মুবতাদা হলো এমন ইসম, যা শাব্দিক আমেল (العوامل اللفظية) থেকে মুক্ত হয়ে কেবল মানসিক বা অর্থগত আমেল (ইবতিদা)-এর কারণে মারফু (পেশযুক্ত) হয় এবং যার সম্পর্কে বাক্যে কোনো তথ্য বা বিধান দেওয়া হয়। যেমন: «اللَّهُ رَبُّنَا» (আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক) বাক্যে ‘আল্লাহু’ হলো মুবতাদা।
– খবর (الخبر): খবর হলো এমন মারফু পদ, যা মুবতাদার সাথে যুক্ত হয়ে বাক্যের অর্থকে পরিপূর্ণ করে এবং যার মাধ্যমে শ্রোতার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়। যেমন উপরোক্ত বাক্যে ‘রাব্বুনা’ হলো খবর।
২. যেসব স্থানে মুবতাদা উহ্য রাখা ওয়াজিব (مواضع وجوب حذف المبتدأ):
আরবি ব্যাকরণের প্রামাণ্য নীতি অনুযায়ী প্রধানত চারটি স্থানে মুবতাদাকে উহ্য (حذف) রাখা ওয়াজিব বা আবশ্যকীয়:
১. খবর যখন প্রশংসা বা নিন্দার জন্য কর্তিত সিফাত হয় (القطع في النعت للمدح أو الذم):
সিফাত যখন কোনো সুপরিচিত মাওসুফের পরে আসে এবং বক্তা তাকে পূর্ববর্তী পদের ই’রাব অনুসরণ না করিয়ে বিশেষ প্রশংসা বা নিন্দার উদ্দেশ্যে মারফু বানায়, তখন সেখানে মুবতাদা উহ্য থাকে।
– প্রশংসার উদাহরণ: الحمدُ للهِ أهلُ الحمدِ। এখানে ‘আহলু’ মারফু হয়েছে, যার গোপন মুবতাদা হলো ‘হুয়া’ (أي: هُوَ أَهْلُ الْحَمْدِ)।
– নিন্দার উদাহরণ: أعوذُ باللهِ من الشيطانِ الرجيمُ। এখানে الرجيمُ মারফু পড়লে তাকদীর হবে: هُوَ الرَّجِيمُ।
২. খবর যখন এমন কোনো স্পষ্ট শপথবাক্য হয় (أن يكون الخبر صريحا في القسم):
খবরটি যদি এমন কোনো শব্দ বা বাক্য হয় যা কেবল কসম বা শপথের অর্থেই ব্যবহৃত হয়, তবে সেখানে মুবতাদা উহ্য রাখা ওয়াজিব।
– উদাহরণ: «فِي ذِمَّتِي لَأَفْعَلَنَّ الْخَيْرَ» (আমার জিম্মায় শপথ, আমি অবশ্যই কল্যাণমূলক কাজ করব)।
– তাকদীর: فِي ذِمَّتِي عَهْدٌ أو يَمِينٌ (আমার দায়িত্বে রয়েছে একটি প্রতিজ্ঞা বা শপথ)। এখানে ‘আহদুন’ বা ‘ইয়ামীনুন’ মুবতাদা উহ্য রয়েছে।
৩. খবর যখন এমন মাছদার হয় যা তার ফে’লের স্থলাভিষিক্ত (أن يكون الخبر مصدرا نائبا عن فعله):
যখন কোনো বাক্যে এমন একটি মারফু মাছদার খবর হিসেবে আসে যা তার আদেশসূচক বা সমর্থনসূচক ক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সেখানে মুবতাদা উহ্য রাখা আবশ্যক।
– কুরআনি উদাহরণ: আল্লাহ তাআলার বাণী—﴿فَصَبْرٌ جَمِيلٌ﴾ [সূরা ইউসুফ: ১৮]।
– তাকদীর: صَبْرِي صَبْرٌ جَمِيلٌ (আমার দায়িত্ব হলো সুন্দর ধৈর্যধারণ করা) অথবা أَمْرِي صَبْرٌ جَمِيلٌ। এখানে ‘সাবরী’ মুবতাদা উহ্য রয়েছে।
৪. নি’মা ও বি’সা-এর মাখসূস বিল-মাদহ বা মাখসূস বিষ-যাম্ম-এর ক্ষেত্রে:
‘নি’মা’ (প্রশংসাসূচক) এবং ‘বি’সা’ (নিন্দাসূচক) ক্রিয়ার পরে যখন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর নাম (মাখসূস) আসে এবং তাকে পরবর্তী খবর ধরা হয়:
– উদাহরণ: «نِعْمَ الرَّجُلُ زَيْدٌ» (যায়েদ কতই না উত্তম ব্যক্তি!)।
– তাকদীর: هُوَ زَيْدٌ (সে হয় যায়েদ)। এখানে ‘হুয়া’ মুবতাদা উহ্য রয়েছে আর যায়েদ হলো খবর।
৪. ما المفعول به؟ متى يكون للفعل هذا المفعول؟ تحدث عن المواضع التى يجب فيها حذف عامل المفعول به بالامثلة [মাফ’উলে বিহির পরিচয় এবং আমেল উহ্য থাকার স্থানসমূহ]
১. মাফ’উলে বিহির সংজ্ঞা (تعريف المفعول به):
মাফ’উলে বিহি হলো এমন একটি মারফু নয় বরং মানসুব (যবরযুক্ত) ইসম, যার ওপর কর্তার (ফায়েল) কৃতকর্ম বা ক্রিয়ার প্রভাব সরাসরি পতিত হয় এবং ক্রিয়ার গঠনে কোনো পরিবর্তন ঘটে না। যেমন: «كَتَبَ التِّلْمِيذُ الرِّسَالَةَ» (ছাত্রটি চিঠি লিখেছে)—এখানে ‘আর-রিসালাতা’ হলো মাফ’উলে বিহি।
২. কখন একটি ফে’লের মাফ’উলে বিহি প্রয়োজন হয়? (متى يكون للفعل هذا المفعول):
একটি ক্রিয়ার মাফ’উলে বিহি হওয়ার মূল শর্ত হলো ক্রিয়াটি অবশ্যই ‘ফে’লে মুতাআদ্দী’ (الفعل المتعدي – সকর্মক ক্রিয়া) হতে হবে।
– ফে’লে লাযিম (অকর্মক ক্রিয়া): যে ক্রিয়া কেবল ফায়েলকে নিয়ে অর্থ পূর্ণ করে এবং কর্মের প্রয়োজন হয় না (যেমন: قَامَ زَيْدٌ – যায়েদ দাঁড়িয়েছে)।
– ফে’লে লাযিমকে মুতাআদ্দী করার উপায়: ১. শুরুতে হামযায়ে তা’দিয়া যোগ করে (যেমন: أَكْرَمَ، أَخْرَجَ), ২. আইন কালিমায় তাশদীদ দিয়ে (যেমন: فَرَّحَ، عَلَّمَ), ৩. হরফে জারের মাধ্যমে (যেমন: ذَهَبَ بِهِ)।
৩. মাফ’উলে বিহির আমেল (ক্রিয়া) উহ্য রাখা ওয়াজিব হওয়ার স্থানসমূহ:
আরবি ব্যাকরণে প্রধানত পাঁচটি বিশেষ ক্ষেত্রে মাফ’উলে বিহির আমেলকে গোপন রাখা আবশ্যক:
| ক্ষেত্র বা অধ্যায় | শাব্দিক উদাহরণ | আমেল ও মূল তাকদীর | ব্যাখ্যা |
|---|---|---|---|
| ১. মুনাদা (باب النداء) | يَا عَبْدَ اللَّهِ | أَدْعُو عَبْدَ اللَّهِ (আমি আব্দুল্লাহকে ডাকছি) | হরফে নিদা নিজেই ‘আদ’ঊ’ ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়। |
| ২. তাহযীর বা সতর্কতা (باب التحذير) | إِيَّاكَ وَالأَسَدَ / الأَسَدَ الأَسَدَ | احْذَرْ نَفْسَكَ وَاحْذَرِ الأَسَدَ | বিপদ থেকে দ্রুত সতর্ক করার তাগিদে আমেল উহ্য রাখা ওয়াজিব। |
| ৩. ইগরা বা উৎসাহদান (باب الإغراء) | الصِّدْقَ الصِّدْقَ / الصَّلَاةَ وَالصِّيَامَ | الْزَمِ الصِّدْقَ (সত্যকে আঁকড়ে ধরো) | সৎকাজে উৎসাহিত করতে পুনরাবৃত্তি হলে আমেল বাদ পড়ে। |
| ৪. ইশতিগাল (باب الاشتغال) | زَيْدًا ضَرَبْتُهُ | ضَرَبْتُ زَيْدًا ضَرَبْتُهُ | পরবর্তী ক্রিয়াটি সর্বনামকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পূর্ববর্তী ক্রিয়া উহ্য থাকে। |
| ৫. বহুল প্রচলিত প্রবাদ (الأمثال السائرة) | كِلَابًا عَلَى الْبَقَرِ | أَرْسِلْ كِلَابًا عَلَى الْبَقَرِ | প্রবাদে শব্দসংক্ষেপের অলঙ্কারের জন্য আমেল উহ্য থাকে। |
৫. عرف المنصرف وغير المنصرف، ثم تحدث عن اسباب منع الصرف مع الامثلة [মুনসারিফ ও গাইরে মুনসারিফের পরিচয় এবং মানউস সারফের ৯টি কারণ]
১. মুনসারিফ ও গাইরে মুনসারিফের সংজ্ঞা:
– মুনসারিফ (الاسم المنصرف): যে ইসমের শেষাক্ষরে তিন প্রকার হরকত (যম্মা, ফাতহা, কাসরা) এবং তানভীন স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে পারে, তাকে মুনসারিফ বলে। যেমন: جَاءَ رَجُلٌ، رَأَيْتُ رَجُلًا، مَرَرْتُ بِرَجُلٍ।
– গাইরে মুনসারিফ (الاسم غير المنصرف): যে ইসমের মধ্যে তানভীন এবং যের (কাসরা) প্রবেশ করে না, বরং জার বা যেরের অবস্থায় ফাতহা (যবর) গ্রহণ করে, তাকে গাইরে মুনসারিফ বা আল-মামনূ’ মিনাস সারফ বলে। যেমন: جَاءَ أَحْمَدُ، رَأَيْتُ أَحْمَدَ، مَرَرْتُ بِأَحْمَدَ।
২. মানউস সারফ হওয়ার কারণসমূহ (أسباب منع الصرف التسعة):
আরবি ব্যাকরণে কোনো ইসম গাইরে মুনসারিফ হওয়ার জন্য মূল ৯টি কারণ (ফার’ঈয়্যাত) রয়েছে। কবি চমৎকার কবিতার ছন্দে এই ৯টি কারণ একত্র করেছেন:
«عَدْلٌ وَوَصْفٌ وَتَأْنِيثٌ وَمَعْرِفَةٌ * وَعُجْمَةٌ ثُمَّ جَمْعٌ ثُمَّ تَرْكِيبُ»
«وَالنُّونُ زَائِدَةٌ مِنْ قَبْلِهَا أَلِفٌ * وَوَزْنُ فِعْلٍ وَهَذَا الْقَوْلُ تَقْرِيبُ»
৯টি কারণের বিশদ বিবরণ ও উদাহরণ:
- ১. আদল (العدل): কোনো শব্দকে তার মূল রূপ থেকে পরিবর্তন করে অন্য ওযনে রূপান্তর করা; যেমন: عُمَرُ (আমের থেকে রূপান্তরিত), زُفَرُ।
- ২. ওয়াসফ (الوصف): শব্দের মৌলিক সত্তায় গুণ বা সিফাত থাকা; যেমন: أَحْمَرُ (লাল), سَكْرَانُ (মাতাল)।
- ৩. তানীস (التأنيث): শব্দটিতে স্ত্রীলিঙ্গের আলামত থাকা; যেমন: فَاطِمَةُ (গোল তা যুক্ত), زَيْنَبُ (অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গ), حَمْرَاءُ (আলিফে মামদুদা)।
- ৪. মারিফাহ বা আলমিয়্যাত (المعرفة / العلمية): শব্দটি কোনো ব্যক্তি, স্থান বা নির্দিষ্ট বস্তুর নাম (আলম) হওয়া; যেমন: إِبْرَاهِيمُ، مَكَّةُ।
- ৫. উজমা (العجمة): অনারব বা অ-আরবি ভাষার শব্দ হওয়া যা আরবিতে ব্যবহৃত হয়; যেমন: إِسْمَاعِيلُ، يُوسُفُ، فِرْعَوْنُ।
- ৬. জমা বা সিগায়ে মুনতাহাল জুমূ’ (الجمع الأقصى): এমন বহুবচন যার মাঝে একটি আলিফে তাকসীর থাকে এবং তার পরে দুটি হরফ বা মাঝে সাকিনযুক্ত তিনটি হরফ থাকে; যেমন: مَسَاجِدُ، مَصَابِيحُ।
- ৭. তারকীব (التركيب المزجي): দুটি শব্দকে কোনো সংযোজক অব্যয় ছাড়া একত্র করে একটি নামবাচক শব্দে পরিণত করা; যেমন: بَعْلَبَكُّ، حَضْرَمَوْتُ।
- ৮. অতিরিক্ত আলিফ ও নূন (الألف والنون الزائدتان): শব্দের মূল বর্ণের অতিরিক্ত হিসেবে শেষে আলিফ ও নূন যুক্ত হওয়া; যেমন: عُثْمَانُ، رَمَضَانُ، عَطْشَانُ।
- ৯. ওয়াযনে ফে’ল (وزن الفعل): কোনো ইসমের গঠন ফে’ল বা ক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট ওযনের অনুরূপ হওয়া; যেমন: أَحْمَدُ (أَفْعَلُ ওযনে), يَزِيدُ (يَفْعِلُ ওযনে)।
নিয়ম: গাইরে মুনসারিফ হতে হলে শব্দটিতে উপরোক্ত ৯টি কারণের যেকোনো দুটি কারণ বিদ্যমান থাকতে হবে, অথবা এমন একটি কারণ থাকতে হবে যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত (যেমন: আলিফে তানিস মাকসুরা/মামদুদা এবং সিগায়ে মুনতাহাল জুমূ’)।
৬. عرف اسم التفضيل، ثم تحدث عن طرق استعماله وعمله بالامثلة [ইসমুত তাফদিলের সংজ্ঞা, ব্যবহারের পদ্ধতি ও ব্যাকরণিক আমল]
১. ইসমুত তাফদিলের সংজ্ঞা (تعريف اسم التفضيل):
ইসমুত তাফদিল হলো ফে’ল থেকে গঠিত এমন এক প্রকার মুশতাক্ব ইসম (সাধিত শব্দ), যা أفْعَلُ (পুংলিঙ্গ) অথবা فُعْلَى (স্ত্রীলিঙ্গ) ওযনে এসে নির্দেশ করে যে—দুটি ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে একটি সাধারণ গুণ বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু তাদের একজনের মধ্যে সেই গুণটির মাত্রা অপরজনের তুলনায় অধিক বা শ্রেষ্ঠ।
– সংজ্ঞা: «اسْمٌ مُشْتَقٌّ عَلَى وَزْنِ أَفْعَلَ لِلدَّلَالَةِ عَلَى أَنَّ شَيْئَيْنِ اشْتَرَكَا فِي صِفَةٍ وَزَادَ أَحَدُهُمَا عَلَى الآخَرِ فِيهَا.»
– উদাহরণ: زَيْدٌ أَفْضَلُ مِنْ عَمْرٍو (যায়েদ আমরের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ)।
২. ইসমুত তাফদিল ব্যবহারের পদ্ধতিসমূহ (طرق استعماله):
আরবি বাক্যে ইসমুত তাফদিল চারটি ভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়:
| ব্যবহারের পদ্ধতি | ব্যাকরণিক নিয়ম | প্রামাণ্য উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১. মুজাররাদ (مِنْ সহযোগে) | আলিফ-লাম ও ইদাফাতমুক্ত হয়ে ‘مِنْ’ হরফে জার সহযোগে আসে। এক্ষেত্রে ইসমুত তাফদিল সর্বদা একবচন ও পুংলিঙ্গ থাকে। | زَيْدٌ أَكْبَرُ مِنْ عَمْرٍو، الزَّيْدَانِ أَكْبَرُ مِنْهُمَا، هِنْدٌ أَكْبَرُ مِنْ زَيْنَبَ |
| ২. আলিফ-লাম যুক্ত (المعرّف بأل) | মাওসুফের সাথে লিঙ্গ ও বচনে শতভাগ সামঞ্জস্য বজায় রাখা ওয়াজিব। এতে কখনো ‘مِنْ’ আসে না। | زَيْدٌ الأَفْضَلُ، الزَّيْدَانِ الأَفْضَلَانِ، هِنْدٌ الْفُضْلَى |
| ৩. নাকেরা ইসমের দিকে মুদাফ | ইসমুত তাফদিল সর্বদা একবচন ও পুংলিঙ্গ থাকবে, কিন্তু পরবর্তী মুদাফ ইলাইহি মাওসুফ অনুযায়ী হবে। | زَيْدٌ أَفْضَلُ رَجُلٍ، الزَّيْدَانِ أَفْضَلُ رَجُلَيْنِ |
| ৪. মারিফাহ ইসমের দিকে মুদাফ | এক্ষেত্রে দুটি নিয়মই বৈধ: একবচন ও পুংলিঙ্গ রাখা যাবে অথবা পূর্ববর্তী পদের সাথে লিঙ্গ ও বচনে মিল রাখা যাবে। | زَيْدٌ أَفْضَلُ الْقَوْمِ، الزَّيْدَانِ أَفْضَلَا الْقَوْمِ (أَوْ أَفْضَلُ) |
৩. ইসমুত তাফদিলের ব্যাকরণিক আমল (عمل اسم التفضيل):
১. জমিরে মুসতাতিরের রফা দেওয়া: ইসমুত তাফদিল সাধারণত তার ভেতরে লুক্কায়িত সর্বনামকে (ফায়েল হিসেবে) রফা প্রদান করে। যেমন: زَيْدٌ أَفْضَلُ (এর ভেতর ‘হুয়া’ সর্বনাম ফায়েল হিসেবে মারফু)।
২. ইসম জাহেরকে রফা দেওয়া (মাসআলায়ে কুহুল): ইসমুত তাফদিল সাধারণত প্রকাশ্য ইসমকে ফায়েল হিসেবে রফা দেয় না, কেবল একটি বিশেষ শর্তাধীন ক্ষেত্র ছাড়া—যাকে ব্যাকরণে ‘মাসআলাতুল কুহুল’ (مسألة الكحل) বলা হয়। যেমন:
«مَا رَأَيْتُ رَجُلًا أَحْسَنَ فِي عَيْنِهِ الْكُحْلُ مِنْهُ فِي عَيْنِ زَيْدٍ» (যায়েদের চোখের সুরমার চেয়ে অধিক সুন্দর সুরমা আমি অন্য কোনো পুরুষের চোখে দেখিনি)। এখানে ‘আল-কুহলু’ প্রকাশ্য ইসমটি ‘আহসানা’ ইসমুত তাফদিলের ফায়েল হয়ে মারফু হয়েছে।
৭. عرف الصفة المشبهة، ثم اذكر اوزانها بالامثلة [সিফাতে মুশাব্বাহার সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন ওযনসমূহ]
১. সিফাতে মুশাব্বাহার সংজ্ঞা (تعريف الصفة المشبهة):
সিফাতে মুশাব্বাহা হলো এমন এক প্রকার মুশতাক্ব ইসম, যা ফে’লে লাযিম (অকর্মক ক্রিয়া) থেকে গঠিত হয়ে মাওসুফের সাথে কোনো গুণের স্থায়ী ও অবিচ্ছেদ্য বিদ্যমানতা (সুবূত ও ইস্তিমরার) নির্দেশ করে।
– সংজ্ঞা: «هِيَ اسْمٌ مُشْتَقٌّ مِنَ الْفِعْلِ اللَّازِمِ لِلدَّلَالَةِ عَلَى ثُبُوتِ الصِّفَةِ وَاسْتِمْرَارِهَا لِصَاحِبِهَا دُونَ تَقْيِيدٍ بِزَمَانٍ.»
– নামকরণের কারণ: একে ‘মুশাব্বাহা বি-ইসমি আল-ফায়েল’ বলা হয়, কারণ এটি গঠন, অর্থ, মুসান্না ও জমা হওয়া এবং আমল করার ক্ষেত্রে ইসমুল ফায়েলের অনুরূপ সাদৃশ্য ধারণ করে।
২. সিফাতে মুশাব্বাহার বিখ্যাত ওযনসমূহ (أوزان الصفة المشبهة):
আরবি ভাষায় সিফাতে মুশাব্বাহার বহুবিধ ওযন রয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ ওযনগুলো নিচে প্রামাণ্য উদাহরণসহ তুলে ধরা হলো:
| ক্রম | ওযন (وزن) | অর্থগত তাৎপর্য | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১ | أَفْعَلُ (স্ত্রীলিঙ্গে فَعْلَاءُ) | রং (لون) বা শারীরিক খুঁত/সৌন্দর্য বোঝাতে | أَحْمَرُ – حَمْرَاءُ (লাল), أَعْمَى – عَمْيَاءُ (অন্ধ), أَحْوَرُ (ডাগর চোখ) |
| ২ | فَعْلَانُ (স্ত্রীলিঙ্গে فَعْلَى) | তৃষ্ণা, ক্ষুধা বা আবেগিক পূর্ণতা/শূন্যতা | عَطْشَانُ – عَطْشَى (তৃষ্ণার্ত), غَضْبَانُ – غَضْبَى (ক্রোধোন্মত্ত) |
| ৩ | فَعَلٌ | সাধারণ সহজাত স্বভাব | حَسَنٌ (সুন্দর), بَطَلٌ (বীর যোদ্ধা) |
| ৪ | فَعِلٌ | ক্ষণস্থায়ী বা মানসিক অবস্থা | فَرِحٌ (আনন্দিত), تَعِبٌ (ক্লান্ত), حَذِرٌ (সতর্ক) |
| ৫ | فَعْلٌ | স্থির গুণ বা কাঠিন্য | صَعْبٌ (কঠিন), سَهْلٌ (সহজ), عَذْبٌ (মিষ্ট) |
| ৬ | فُعْلٌ | স্বাদ বা অভ্যন্তরীণ গুণ | حُلْوٌ (মিষ্টি), صُلْبٌ (শক্ত), مُرٌّ (তিক্ত) |
| ৭ | فَعَالٌ | সাহসিকতা ও ব্যক্তিত্ব | شُجَاعٌ (সাহসী), جَبَانٌ (কাপুরুষ), فُرَاتٌ (সুমিষ্ট পানি) |
| ৮ | فَعِيلٌ | উচ্চ নৈতিক চরিত্র ও মর্যাদা | كَرِيمٌ (দয়ালু), شَرِيفٌ (ভদ্র), عَلِيمٌ (জ্ঞানী), جَمِيلٌ (সুন্দর) |
৩. সিফাতে মুশাব্বাহার ব্যাকরণিক আমল ও শর্তাবলী (عمل الصفة المشبهة):
সিফাতে মুশাব্বাহা তার পরবর্তী ইসমকে তিনটি ভিন্ন অবস্থায় আমল দিতে পারে:
১. রফা (رفع) প্রদান: পরবর্তী পদটি যখন তার অন্তর্নিহিত ফায়েল হয়; যেমন: زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهُهُ (যায়েদের চেহারা সুন্দর)। এখানে ‘ওয়াজহুহু’ মারফু হয়েছে।
২. নসব (نصب) প্রদান: পরবর্তী পদটি অনির্দিষ্ট হলে তাময়ীয (تمييز) হিসেবে নসব পায়, যেমন: زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهًا; অথবা নির্দিষ্ট হলে ‘মুশাব্বাহ বিল মাফ’উল’ হিসেবে নসব গ্রহণ করে, যেমন: زَيْدٌ الْحَسَنُ الْوَجْهَ।
৩. জার বা যের (جر) প্রদান: পরবর্তী পদের দিকে ইদাফাত বা সম্বন্ধ করার মাধ্যমে, যেমন: زَيْدٌ حَسَنُ الْوَجْهِ। এটিই আরবি ভাষায় সর্বাধিক প্রাঞ্জল ও প্রচলিত রূপ।
বিশেষ জ্ঞাতব্য যে, সিফাতে মুশাব্বাহা কখনো সরাসরি মাফ’উলে বিহি গ্রহণ করতে পারে না, কারণ এটি মৌলিকভাবেই ফে’লে লাযিম (অকর্মক ক্রিয়া) থেকে গঠিত হয়।
৮. عرف اسم الموصول، ثم تحدث عن اقسامه وعدده بالامثلة [ইসমে মাওসুলের পরিচয়, প্রকারভেদ, সংখ্যা ও গঠনরীতি]
১. ইসমে মাওসুলের সংজ্ঞা (تعريف اسم الموصول):
ইসমে মাওসুল হলো এমন এক প্রকার মাবনী ইসম বা অনির্দিষ্ট সর্বনাম, যা নিজে এককভাবে কোনো পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না যতক্ষণ না তার পরে একটি সম্পর্কযুক্ত পূর্ণাঙ্গ বাক্য (সিলাহ) আসে, যার মধ্যে মাওসুলের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী একটি সর্বনাম (আয়েদ) বিদ্যমান থাকে।
– সংজ্ঞা: «اسْمٌ مُبْهَمٌ لَا يَتِمُّ مَعْنَاهُ إِلَّا بِجُمْلَةٍ بَعْدَهُ تُسَمَّى صِلَةً، تَشْتَمِلُ عَلَى ضَمِيرٍ يَعُودُ إِلَيْهِ يُسَمَّى عَائِدًا.»
– উদাহরণ: «جَاءَ الَّذِي نَجَحَ فِي الاِمْتِحَانِ» (যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে এসেছে)। এখানে ‘আল্লাযী’ হলো ইসমে মাওসুল, ‘নাজাহা’ হলো সিলাহ এবং তার ভেতরের লুক্কায়িত ‘হুয়া’ হলো আয়েদ।
২. ইসমে মাওসুলের প্রকারভেদ ও সংখ্যা (أقسامه وعدده):
ইসমে মাওসুল প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
(ক) আসমাউল মাওসুলাহ আল-খাসসাহ (الأسماء الموصولة الخاصة):
যেসব মাওসুল নির্দিষ্ট বচন (একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন) এবং নির্দিষ্ট লিঙ্গের (পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ) জন্য এককভাবে নির্ধারিত। এদের সংখ্যা প্রধানত ৮টি:
| পদ | ব্যবহার ও নির্দেশক | উদাহরণ |
|---|---|---|
| الَّذِي | একবচন পুংলিঙ্গ | جَاءَ الَّذِي عَلَّمَنِي (যিনি আমাকে শিখিয়েছেন তিনি এসেছেন) |
| اللَّذَانِ / اللَّذَيْنِ | দ্বিবচন পুংলিঙ্গ (রফার হালতে اللذان, নসব ও জরে اللذين) | نَجَحَ اللَّذَانِ اجْتَهَدَا (যে দুজন পরিশ্রম করেছিল তারা সফল হয়েছে) |
| الَّذِينَ / الأُلَى | বহুবচন পুংলিঙ্গ | أُحِبُّ الَّذِينَ يَصْدُقُونَ (যারা সত্য বলে আমি তাদের ভালোবাসি) |
| الَّتِي | একবচন স্ত্রীলিঙ্গ এবং অপ্রাণীবাচক বহুবচনের জন্য | جَاءَتِ الَّتِي حَفِظَتِ الْقُرْآنَ |
| اللَّتَانِ / اللَّتَيْنِ | দ্বিবচন স্ত্রীলিঙ্গ | حَضَرَتِ اللَّتَانِ فَازَتَا |
| اللَّاتِي / اللَّائِي / اللَّوَاتِي | বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ | ﴿وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ﴾ |
(খ) আসমাউল মাওসুলাহ আল-মুশতারাকাহ (الأسماء المشتركة / العامة):
যেসব মাওসুল কোনো সুনির্দিষ্ট লিঙ্গ বা বচনের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একই শব্দ একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন, পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ—সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রধান مشتركة মাওসুলসমূহ:
১. مَنْ (মান): কেবলমাত্র বিবেকবান সত্তার (العاقل) জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন: ﴿وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا﴾।
২. مَا (মা): অবোধ প্রাণী ও অচেতন বস্তুর (غير العاقل) জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন: ﴿مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ﴾।
৩. أَيٌّ (আইয়্যুন): বিবেকবান ও অবোধ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য; যেমন: أَكْرِمْ أَيَّهُمْ هُوَ أَفْضَلُ।
৪. ذُو (যূ): প্রাচীন তাইয়ি গোত্রের উপভাষায় ‘আল্লাযী’-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন: فَحَسْبِيَ ذُو عِنْدِي।
৫. ذَا (যা): প্রশ্নবোধক ‘মা’ বা ‘মান’-এর পরে আসলে মাওসুলের অর্থ দেয়; যেমন: مَاذَا فَعَلْتَ؟ (أي: ما الذي فعلت؟)।
৯. كم اداة للحروف المشبهة بالفعل؟ وما عملها؟ بين بالامثلة [হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’লের পরিচয়, সংখ্যা ও তাদের আমল]
১. পরিচয় ও সংখ্যা (التعريف والعدد):
হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’ল (الحروف المشبهة بالفعل) হলো এমন কতগুলো অব্যয় যা জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ (মুবতাদা ও খবর)-এর শুরুতে প্রবেশ করে। এদেরকে ‘ফে’লের সাদৃশ্যযুক্ত অব্যয়’ বলা হয় কারণ—শব্দ গঠনের দিক থেকে এগুলো ফে’লের ন্যায় ৩ বা ততোধিক অক্ষরের হয়, শেষাক্ষরে ফাতহা (যবর) থাকে, এবং এগুলো ক্রিয়ার মতোই তাকীদ (দৃঢ়তা), তাশবীহ (উপমা), তারাজ্জী (আশা) প্রভৃতি অর্থ প্রদান করে।
এই হরফগুলো সর্বমোট ৬টি: إِنَّ، أَنَّ، كَأَنَّ، لَكِنَّ، لَيْتَ، لَعَلَّ।
২. এদের ব্যাকরণিক আমল (عملها):
হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’ল জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর মুবতাদাকে নসব (যবর) প্রদান করে এবং তখন সেই মুবতাদাকে বলা হয় ‘ইসমুহা’ (اسمها); আর খবরকে রফা (পেশ) প্রদান করে এবং তখন তাকে বলা হয় ‘খাবারুহা’ (خبرها)।
– সংক্ষিপ্ত নিয়ম: «تَنْصِبُ الاِسْمَ وَتَرْفَعُ الْخَبَرَ»।
৩. ৬টি হরফের অর্থ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যাখ্যা:
| হরফ | মূল অর্থ ও কাজ | শাব্দিক ও কুরআনি উদাহরণ | বিশ্লেষণ |
|---|---|---|---|
| ১. إِنَّ (ইন্না) | বাক্যের শুরুতে এসে জোরালো নিশ্চয়তা ও দৃঢ়তা (التوكيد) বোঝায়। | ﴿إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾ | ‘আল্লাহ’ হলো ইন্নার ইসম (মানসুব) এবং ‘গাফুরুন’ হলো খবর (মারফু)। |
| ২. أَنَّ (আন্না) | বাক্যের মাঝখানে এসে কোনো তথ্যকে নিশ্চিত (التوكيد والربط) করে। | عَلِمْتُ أَنَّ الْعِلْمَ نُورٌ | ‘আল-ইলমা’ আন্নার ইসম এবং ‘নূরুন’ খবর। |
| ৩. كَأَنَّ (কাআন্না) | উপমা বা সদৃশতা (التشبيه المؤكد) প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। | كَأَنَّ الْمُعَلِّمَ أَبٌ | ‘আল-মুআল্লিমা’ কাআন্নার ইসম এবং ‘আবুন’ খবর। শিক্ষক যেন পিতার মতো। |
| ৪. لَكِنَّ (লাকিন্না) | পূর্ববর্তী বক্তব্যের ভুল বোঝাবুঝি দূরীকরণ বা সংশোধনে (الاستدراك) আসে। | الشَّمْسُ طَالِعَةٌ لَكِنَّ الْجَوَّ بَارِدٌ | ‘আল-জাওওয়া’ লাকিন্নার ইসম এবং ‘বারিদুন’ খবর। |
| ৫. لَيْتَ (লাইতা) | অসম্ভব বা সুদূরপরাহত কোনো আকাঙ্ক্ষা ও তীব্র আক্ষেপ (التمني) প্রকাশ করে। | ﴿يَا لَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا﴾ | হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম! |
| ৬. لَعَلَّ (লাআল্লা) | সম্ভাব্য ভালো কোনো কিছুর আশা (الترجي) বা ভয়ের আশঙ্কা (الإشفاق) বোঝায়। | ﴿لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا﴾ | ‘আল্লাহ’ লাআল্লার ইসম এবং পরবর্তী বাক্য খবর। |
১০. كم اداة لجوازم الفعل المضارع؟ بين بالتمثيل [ফে’লে মুদারে’কে জযমকারী অব্যয়সমূহের প্রকারভেদ ও বিশদ বিবরণ]
১. জাওয়াযিমুল মুদারে’-এর পরিচয়:
যেসব হরফ বা ইসমে শর্ত ফে’লে মুদারে’ (বর্তমান/ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া)-এর পূর্বে বসে তার শেষাক্ষরে জযম বা সুকুন (حالة الجزم) প্রদান করে, সেগুলোকে ‘জাওয়াযিমুল ফে’ল আল-মুদারে’ (جوازم الفعل المضارع) বলা হয়। এগুলো মোট দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: একটিমাত্র ফে’লকে জযমকারী অব্যয় (ما يجزم فعلا واحدا):
এই হরফগুলো সংখ্যায় ৪টি:
১. لَمْ (লাম): মুদারে’র শুরুতে এসে অর্থকে অতীতকালের নাবোধক করে দেয় এবং জযম দেয়। যেমন: ﴿لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ﴾।
২. لَمَّا (লাম্মা): অতীতকাল থেকে বর্তমান মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো কাজের অনগ্রসরতা বোঝায়। যেমন: ﴿كَلَّا لَمَّا يَقْضِ مَا أَمَرَهُ﴾।
৩. لَامُ الأَمْرِ (আদেশসূচক লাম): নামপুরুষ বা উত্তমপুরুষে আদেশ প্রদানের জন্য আসে। যেমন: ﴿لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ﴾।
৪. لَا النَّاهِيَةُ (নিষেধসূচক লা): কোনো কাজ করতে নিষেধ করার জন্য আসে। যেমন: ﴿لَا تُفْسِدُوا فِي الأَرْضِ﴾, لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا।
দ্বিতীয় প্রকার: দুটি ফে’লকে একসাথে জযমকারী শব্দসমূহ (ما يجزم فعلين):
এগুলোকে শর্তের অব্যয় (أدوات الشرط الجازمة) বলা হয়। এরা দুটি বাক্যকে যুক্ত করে; প্রথমটিকে ‘ফে’লে শর্ত’ (فعل الشرط) এবং দ্বিতীয়টিকে ‘জাযা বা জওয়াবে শর্ত’ (جواب الشرط) বলা হয়। এরা দুটি ফে’লকেই জযম দেয়। এদের সংখ্যা মোট ১১টি (মতান্তরে ১২টি):
| অব্যয়/শব্দ | তাৎপর্য ও অর্থ | উদাহরণ | শর্ত ও জাযা বিশ্লেষণ |
|---|---|---|---|
| ১. إِنْ (ইন) | মূল শর্তসূচক হরফ | ﴿إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ﴾ | تَنْصُرُوا হলো শর্ত, يَنْصُرْكُمْ হলো জাযা। |
| ২. إِذْمَا (ইযমা) | হরফ (হঠাৎ শর্তারোপ) | وَإِنَّكَ إِذْمَا تَأْتِ مَا أَنْتَ آمِرٌ بِهِ تَأْتِ | উভয় ফে’ল জযমপ্রাপ্ত হয়েছে। |
| ৩. مَنْ (মান) | বিবেকবান ব্যক্তির শর্ত | ﴿وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ﴾ | يَعْمَلْ শর্ত (সুকুন), يُجْزَ জাযা (হরফে ইল্লত বিলুপ্ত হয়ে জযম)। |
| ৪. مَا (মা) | অচেতন বস্তু বা কাজের শর্ত | ﴿وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ﴾ | تَفْعَلُوا শর্ত (নূন বিলুপ্ত), يَعْلَمْهُ জাযা (সুকুন)। |
| ৫. مَهْمَا (মাহমা) | যাই ঘটুক না কেন | ﴿مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ… فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ﴾ | تَأْتِنَا হলো শর্ত (ইয়া বিলুপ্ত)। |
| ৬. مَتَى (মাতা) | সময়ের শর্ত (যখনই) | مَتَى تَجْتَهِدْ تَنْجَحْ | উভয় ক্রিয়া জযমপ্রাপ্ত। |
| ৭. أَيَّانَ (আইয়্যানা) | সময়ের শর্ত | أَيَّانَ تُخْلِصْ فِي عَمَلِكَ تُؤْجَرْ | উভয় ক্রিয়া জযমপ্রাপ্ত। |
| ৮. أَيْنَ / أَيْنَمَا | স্থানের শর্ত (যেখানেই) | ﴿أَيْنَمَا تَكُونُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ﴾ | تَكُونُوا শর্ত, يُدْرِكْكُمُ জাযা। |
| ৯. أَنَّى (আন্না) | স্থান বা অবস্থার শর্ত | أَنَّى تَذْهَبْ تَجِدْ أَصْدِقَاءَ | উভয় ক্রিয়া জযমপ্রাপ্ত। |
| ১০. حَيْثُمَا | স্থানের শর্ত | حَيْثُمَا تَسْتَقِمْ يُقَدِّرْ لَكَ اللَّهُ نَجَاحًا | تَسْتَقِمْ শর্ত, يُقَدِّرْ জাযা। |
| ১১. أَيٌّ (আইয়্যুন) | যেকোনো বস্তু/ব্যক্তি | ﴿أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى﴾ | তাকদীর অনুযায়ী আমল করে। |
১১. অনুবাদ (আরবি থেকে বাংলা): ينبغي للإنسان أن يعرف شرف زمانه… অথবা، جعل الاسلام بر الوالدين…
মূল অনুচ্ছেদ:
«يَنْبَغِي لِلإِنْسَانِ أَنْ يَعْرِفَ شَرَفَ زَمَانِهِ، وَقَدْرَ وَقْتِهِ، فَلَا يُضَيِّعُ مِنْهُ لَحْظَةً فِي غَيْرِ طَاعَةٍ وَيُقَدِّمُ الأَفْضَلَ فَالأَفْضَلَ مِنَ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ، وَلْتَكُنْ نِيَّتُهُ فِي الْخَيْرِ قَائِمَةً، كَمَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ : نِيَّةُ الْمُؤْمِنِ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِهِ. وَقَدْ كَانَ جَمَاعَةٌ مِنَ السَّلَفِ، يُبَادِرُونَ اللَّحَظَاتِ، وَلَا يُضَيِّعُونَ الآنَاتِ، فَمَاتُوا، وَهُمْ فِي النَّاسِ أَحْيَاءٌ بِأَعْمَالِهِمْ مِنَ التَّصْنِيفِ وَالتَّأْلِيفِ.»
বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
“প্রত্যেক মানুষের জন্য উচিত সে যেন নিজের যুগের মর্যাদা ও সময়ের অপরিসীম মূল্য উপলব্ধি করে। অতএব সে যেন আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকাজ ব্যতীত সময়ের একটি মুহূর্তও অপচয় না করে, এবং কথা ও কাজের ক্ষেত্রে যা সর্বোত্তম ও সবচেয়ে কল্যাণকর তাকেই অগ্রাধিকার দেয়। আর তার অন্তরের নিয়ত যেন সর্বদা কল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে; যেমনটি পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: ‘মুমিনের সৎ নিয়ত তার বাস্তব কর্মের চেয়েও উত্তম।’ বস্তুত আমাদের পূর্বসূরি সালাফদের একদল মনীষী এমন ছিলেন, যাঁরা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সৎকাজে দ্রুত কাজে লাগাতেন এবং একটি ক্ষণও নষ্ট করতেন না। ফলে পার্থিব জীবনে তাঁরা মৃত্যুবরণ করলেও, নিজেদের অনন্য কিতাব রচনা ও গবেষণামূলক রচনাবলীর মাধ্যমে তাঁরা আজও মানুষের মাঝে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন।”
প্রাসঙ্গিক শব্দার্থ ও ব্যাকরণিক টীকা:
– يَنْبَغِي (ইয়ামবাগী): উচিত বা কর্তব্য হওয়া।
– شَرَفَ زَمَانِهِ (শারাফা যামানিহী): স্বীয় যুগের মর্যাদা ও আভিজাত্য।
– لَا يُضَيِّعُ (লা ইউদায়্যি’উ): সে যেন অপচয় না করে (নফি বা নাহির অর্থ)।
– السَّلَفِ (আস-সালাফ): পুণ্যবান পূর্বসূরি আলেম ও মনীষীগণ।
– الآنَاتِ (আল-আনাত): ক্ষণ বা মুহূর্তসমূহ (একবচনে أَنَى বা إِنًى)।
– التَّصْنِيفِ وَالتَّأْلِيفِ: পুস্তক রচনা ও জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ প্রণয়ন।
অথবা (বিকল্প অনুচ্ছেদ):
«جَعَلَ الإِسْلَامُ بِرَّ الْوَالِدَيْنِ مِنْ أَفْضَلِ الأَعْمَالِ وَأَحَبِّهَا إِلَى اللَّهِ وَإِذَا كَانَتِ الصَّلَاةُ عِمَادَ الدِّينِ فَالْبِرُّ يَلِيهَا فِي الْفَضْلِ كَمَا رَوَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ : سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ : الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا، قُلْتُ : ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: بِرُّ الْوَالِدَيْنِ.»
বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
“ইসলাম পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার ও সেবাকে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর নামায যদি হয় দ্বীনের স্তম্ভ, তবে ফজিলত ও মর্যাদার দিক থেকে পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারই নামাযের ঠিক পরবর্তী স্তরে অবস্থান করে। যেমনটি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম—আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন: ‘যথাযথ সময়ে নামায আদায় করা।’ আমি নিবেদন করলাম: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: ‘পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা।’“
শিক্ষা ও বার্তা:
পিতামাতার আনুগত্য ও সেবা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং আল্লাহর আনুগত্যের পরই মানুষের ওপর সর্বপ্রধান মানবিক ও দ্বীনি হক্ব। নামাযের পরেই পিতামাতার খেদমত জান্নাত লাভের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য পথ।
১২. অনুবাদ (বাংলা থেকে আরবি): ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী… অথবা, রাবেয়া বসরী অতি দারিদ্র্যে জীবন যাপন করতেন…
মূল অনুচ্ছেদ:
“১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিত পুরো দেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ আর ধ্বংসের বিভীষিকার মধ্যে নিপতিত করে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বাঙালি জাতি হাল ছেড়ে দেয়নি।”
বিশুদ্ধ আরবি রূপান্তর (بالعربية الفصحى):
«فِي لَيْلَةِ الْخَامِسِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ مَارِسَ عَامَ ١٩٧١م، شَنَّتْ قُوَّاتُ الِاحْتِلَالِ الْبَاكِسْتَانِيَّةِ هُجُومًا غَادِرًا وَمُفَاجِئًا عَلَى أَرْجَاءِ الْبِلَادِ كَافَّةً. وَبَيْنَمَا أَوْقَعُوا الْبِلَادَ فِي رُعْبِ الْقَتْلِ وَالنَّهْبِ وَإِشْعَالِ الْحَرَائِقِ وَالدَّمَارِ الشَّامِلِ، اعْتَقَلُوا زَعِيمَ الأُمَّةِ الْبَنْغَالِيَّةِ الَّذِي لَا نِزَاعَ فِيهِ، بَنْغَابَانْدَهُو الشَّيْخَ مُجِيبَ الرَّحْمَنِ، وَاقْتَادُوهُ أَسِيرًا إِلَى بَاكِسْتَانَ الْغَرْبِيَّةِ. وَرَغْمَ غِيَابِ بَنْغَابَانْدَهُو، الَّذِي هُوَ رُوحُ الِاسْتِقْلَالِ وَقَلْبُهُ النَّابِضُ، لَمْ يَسْتَسْلِمِ الشَّعْبُ الْبَنْغَالِيُّ لِلْيَأْسِ، وَلَمْ يَتَخَلَّ عَنْ كِفَاحِهِ الْبَاسِلِ.»
প্রাসঙ্গিক শব্দার্থ ও ব্যাকরণ বিশ্লেষণ:
– অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়া: شَنَّ هُجُومًا غَادِرًا وَمُفَاجِئًا (আকস্মিক বিশ্বাসঘাতকতামূলক আক্রমণ চালানো)।
– হানাদার বাহিনী: قُوَّاتُ الِاحْتِلَالِ / الْقُوَّاتُ الْغَاشِمَةُ।
– লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ: النَّهْبُ وَإِشْعَالُ الْحَرَائِقِ।
– অবিসংবাদিত নেতা: الزَّعِيمُ الَّذِي لَا نِزَاعَ فِيهِ / الزَّعِيمُ الأَوْحَدُ।
– হাল ছেড়ে দেয়নি: لَمْ يَسْتَسْلِمْ لِلْيَأْسِ (হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ করেনি)।
অথবা (বিকল্প অনুচ্ছেদ):
“রাবেয়া বসরী অতি দারিদ্র্যে জীবন যাপন করতেন। তাঁর কুটিরে একটামাত্র মাটির পাত্র ছিল। ওটা ছিল তাঁর পানি পান ও ওযু করার পাত্র। আর একটি ছিল মাদুর তিনি ঘুমাতেন। এসব দেখে এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন, যদি আপনি অনুমতি দেন তবে আমি আপনার ব্যবহারের জন্য কিছু সামগ্রী এনে দিতে পারি। রাবেয়া উত্তরে বললেন, আমার কোনো কিছুর অভাব নেই।”
বিশুদ্ধ আরবি রূপান্তর (بالعربية الفصحى):
«كَانَتْ رَابِعَةُ الْبَصْرِيَّةُ تَعِيشُ حَيَاةَ فَقْرٍ شَدِيدٍ وَزُهْدٍ تَامٍّ. فَلَمْ يَكُنْ فِي كُوخِهَا الْمُتَوَاضِعِ سِوَى إِنَاءٍ خَزَفِيٍّ وَاحِدٍ، كَانَتْ تَشْرَبُ مِنْهُ وَتَتَوَضَّأُ بِهِ، وَحَصِيرٍ بَسِيطٍ كَانَتْ تَنَامُ عَلَيْهِ. فَلَمَّا رَأَى رَجُلٌ حَالَهَا تِلْكَ، قَالَ لَهَا: لَوْ أَذِنْتِ لِي، لَأَحْضَرْتُ لَكِ بَعْضَ مَتَاعِ الدُّنْيَا وَحَاجِيَاتِهَا لِتَسْتَعِينِي بِهَا. فَأَجَابَتْهُ رَابِعَةُ بِقَلْبٍ مُطْمَئِنٍّ: إِنَّنِي لَسْتُ فِي حَاجَةٍ إِلَى شَيْءٍ، وَلَا يَنْقُصُنِي شَيْءٌ عَلَى الإِطْلَاقِ.»
সাহিত্যিক ভাবার্থ:
এ অনুচ্ছেদে রাবেয়া বসরী (রহ.)-এর পরম আত্মতুষ্টি (ক্বানাআত), দুনিয়াত্যাগ ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের অপার্থিব চিত্র ফুটে উঠেছে। পার্থিব সম্পদের অভাব তাঁর অন্তরের ঐশ্বর্যকে ক্ষুণ্ণ করতে পারেনি।
১৩. আরবি প্রবন্ধ রচনা (مقالة بالعربية): بر الوالدين، واجبات الطلاب، اهمية اللغة العربية، الاخوة في الاسلام
পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রবন্ধের শিরোনাম এসেছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চারটি প্রবন্ধের পূর্ণাঙ্গ উচ্চমানের আরবি রূপ উপস্থাপন করা হলো:
(الف) مقالة: بِرُّ الْوَالِدَيْنِ (পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার)
المقدمة : إن بر الوالدين والإحسان إليهما من أوجب الواجبات الدينية وأعظم الفضائل الأخلاقية التي حث عليها الإسلام الحنيف. لقد قرن الله تبارك وتعالى حقهما بحقه في التوحيد والعبادة في آيات محكمات من القرآن الكريم، مما يدل على المكانة الرفيعة للوالدين في ميزان الشريعة الإسلامية، فقال عز وجل: ﴿وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا﴾ [الإسراء: ٢٣].
فضل الأم ومكانتها : لقد حملت الأم وليدها وهناً على وهن، وتجرعت ألم المخاض وسهر الليالي لترعى طفلها وتغذيه بصحتها وحنانها. ولهذا خصها النبي صلى الله عليه وسلم بمزيد من الرعاية والبر، حين سأله رجل: من أحق الناس بحسن صحابتي؟ قال: «أمك»، قال: ثم من؟ قال: «أمك»، قال: ثم من؟ قال: «أمك»، قال: ثم من؟ قال: «ثم أبوك». فالجنة تحت أقدام الأمهات برضاهن ودعائهن المستجاب.
فضل الأب وجهوده : الأب هو عماد الأسرة وسندها الحامي، يكابد مشاق الحياة في الصباح والمساء لكسب الرزق الحلال وتوفير العيش الكريم لأولاده، وتعليمهم وتربيتهم على القيم النبيلة. وقد جعل النبي صلى الله عليه وسلم رضا الأب سبباً لرضا الخالق، فقال: «رضا الرب في رضا الوالد، وسخط الرب في سخط الوالد».
واجب الأبناء وحقوق الوالدين : يتجلى بر الوالدين في طاعتهما بالمعروف، وخفض جناح الذل لهما من الرحمة، وعدم التأفف أو رفع الصوت في وجههما، والإنفاق عليهما عند الكبر، والدعاء المستمر لهما بالمغفرة: ﴿رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا﴾. كما يمتد البر بعد وفاتهما بالاستغفار لهما، وإنفاذ عهدهما، وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما، وإكرام صديقهما.
الخاتمة : إن الوالدين هما بابان واسعان من أبواب الجنة، والبار بهما موعود بالبركة في العمر، وسعة الرزق، وحسن الخاتمة في الدنيا والآخرة.
(ب) مقالة: وَاجِبَاتُ الطُّلَّابِ (শিক্ষার্থীদের কর্তব্য ও দায়িত্ব)
المقدمة : الطلاب هم عماد الأمة وركيزتها الصلبة في الحاضر وبناة مجدها في المستقبل. إن نهضة الأمم وتقدم الشعوب لا يقاس بكثرة الثروات الطبيعية، بل بسواعد أبنائها المتعلمين وعقولهم المستنيرة بالعلم النافع والأخلاق الفاضلة. ولذلك تقع على عاتق الطالب مسؤوليات جسيمة وواجبات مقدسة.
الجد والاجتهاد في طلب العلم : إن الواجب الأول للطالب هو الإخلاص في طلب العلم، والحرص على استغلال الوقت الثمين في القراءة والبحث العلمي، والابتعاد عن الكسل وإضاعة الأوقات في الملهيات ومواقع التواصل الاجتماعي. فالعلم لا يعطيك بعضه حتى تعطيه كلك. قال تعالى: ﴿قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ﴾.
احترام المعلمين والأساتذة : لا يمكن لطالب أن ينال بركة العلم ونوره إلا بتوقير أساتذته ومعلميه الذين يحرقون أنفسهم كالشمعة ليضيئوا دروب الجيل بالمعرفة. يقول أمير الشعراء أحمد شوقي: «قُمْ لِلْمُعَلِّمِ وَفِّهِ التَّبْجِيلَا * كَادَ الْمُعَلِّمُ أَنْ يَكُونَ رَسُولَا».
التمسك بالأخلاق وحب الوطن : العلم بلا خلق شجرة بلا ثمر وسلاح فتاك في أيدي العابثين. لذا يجب على الطالب أن يتحلى بالصدق، والأمانة، والتواضع، والإيثار، وأن يغرس في قلبه حب وطنه والدفاع عن قضاياه والسعي لخدمة مجتمعه وأمته بكل إخلاص.
الخاتمة : إذا أدرك الطلاب واجباتهم وأدوا رسالتهم بأمانة وإتقان، استعادت الأمة مجدها وحضارتها وسادت بين الأمم بالعز والكرامة.
(ج) مقالة: أَهَمِّيَّةُ اللُّغَةِ الْعَرَبِيَّةِ (আরবি ভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদা)
المقدمة : اللغة العربية هي سيدة اللغات وأشرفها على الإطلاق، اختارها الله سبحانه وتعالى من بين سائر لغات الأرض لتكون وعاءً لكتابه الخالد، ومعجزة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم إلى الإنس والجن أجمعين، فقال تعالى: ﴿إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ﴾ [يوسف: ٢].
لغة القرآن والعبادة : إن ارتباط اللغة العربية بالإسلام جعل منها لغة عالمية مقدسة؛ فالصلوات لا تصح إلا بها، والأذان يرفع بها، وتلاوة آيات الذكر الحكيم لا تجوز إلا بحروفها. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «إن اللغة العربية من الدين، ومعرفتها فرض واجب، فإن فهم الكتاب والسنة فرض، ولا يفهم إلا باللغة العربية».
الخصائص البلاغية والجمالية : تتميز لغة الضاد باتساع مفرداتها، ودقة معانيها، وإيجازها المدهش، وتنوع أوزانها واشتقاقاتها، وغنى قوالبها الصرفية والنحوية. هي لغة الفصاحة والبيان والشعر الرصين الذي أدهش فصحاء العرب والعالم عبر العصور.
لغة الحضارة والتاريخ : ظلت اللغة العربية على مدى أكثر من ثمانية قرون لغة العلم والتجارة والطب والفلسفة في العالم، وعبرها انتقلت علوم اليونان والشرق إلى أوروبا لتوقظها من ظلمات العصور الوسطى.
الخاتمة : إن الحفاظ على اللغة العربية وتعلمها ونشرها ليس مجرد ترف ثقافي، بل هو واجب شرعي وقومي لحفظ هوية الأمة ووحدتها الإسلامية الخالدة.
(د) مقالة: الأُخُوَّةُ فِي الإِسْلَامِ (ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য)
المقدمة : أسس الإسلام رابطة إنسانية عظمى تعلو فوق فوارق النسب، واللون، واللغة، والحدود الجغرافية، وهي رابطة “الأخوة الإيمانية”. لقد جعل القرآن الكريم الإيمان والتوحيد أصلاً جامعاً للمؤمنين جميعاً، فقال جل جلاله: ﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾ [الحجرات: ١٠].
حقيقة الأخوة في السنة النبوية : صور النبي صلى الله عليه وسلم مجتمع المؤمنين في تكاتفهم وتعاطفهم بأروع تمثيل، فقال: «مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى». وقال أيضاً: «الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا» وشبك بين أصابعه.
مظاهر الأخوة وثمارها : من مقتضيات الأخوة الإسلامية: إفشاء السلام، وعيادة المريض، وإعانة المحتاجين والفقراء، ونصرة المظلوم، وكف الأذى، والستر على عيوب المسلمين، وسلامة الصدور من الغل والحسد والبغضاء. ولعل أعظم تطبيق تاريخي لهذه الأخوة هو ما صنعه النبي صلى الله عليه وسلم من المؤاخاة بين المهاجرين والأنصار في المدينة المنورة.
الخاتمة : في عالمنا المعاصر الذي تمزقه الصراعات والنزعات العنصرية والمادية، تبرز الأخوة الإسلامية كطوق نجاة لتحقيق السلم المجتمعي، والعدالة، والوحدة المنشودة بين شعوب الأرض قاطبة.
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের (বিষয় কোড ৪০৯) মূল বিষয়বস্তু কী?
৪০৯ কোডের উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রটি মূলত ‘আরবি ব্যাকরণ (ইলমুন নাহু ও সরফ), বাংলা-আরবি উভয়মুখী ব্যবহারিক অনুবাদ এবং সমকালীন ও ঐতিহ্যবাহী বিষয়ের ওপর আরবি প্রবন্ধ রচনা’র ওপর নির্ধারিত।
২. ইলমুন নাহু শাস্ত্রের মূল আলোচ্য বিষয় এবং নামকরণের ঐতিহাসিক কারণ কী?
নাহুর মূল আলোচ্য বিষয় হলো ‘কালিমাহ ও কালাম’। হযরত আলী (রা.) তাঁর শিষ্য আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালীকে ব্যাকরণের খসড়া দিয়ে বলেছিলেন «انح هذا النحو» (তুমি এই পদ্ধতি অনুসরণ করো); সেখান থেকেই এই শাস্ত্রের নাম ‘নাহু’ হয়েছে।
৩. গাইরে মুনসারিফ বা মামনূ’ মিনাস সারফ কী এবং এর ই’রাব কেমন হয়?
যেসব ইসমের মধ্যে তানভীন ও যের (কাসরা) প্রবেশ করে না তাদের গাইরে মুনসারিফ বলে। এরা রফার হালতে পেশ, নসবের হালতে যবর এবং জারের (যেরের) হালতেও যবর (ফাতহা) গ্রহণ করে।
৪. সিফাতে মুশাব্বাহা ও ইসমুল ফায়েলের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
ইসমুল ফায়েল কোনো কাজের অস্থায়ী বা পরিবর্তনশীল অবস্থা নির্দেশ করে, পক্ষান্তরে সিফাতে মুশাব্বাহা মাওসুফের সাথে গুণের চিরস্থায়ী ও অবিচ্ছেদ্য অবস্থান (সুবূত ও ইস্তিমরার) প্রকাশ করে।
৫. হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’ল কয়টি এবং বাক্যে এদের আমল কী?
হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’ল মোট ৬টি (إنَّ، أنَّ، كأنَّ، لكنَّ، ليتَ، لعلَّ)। এরা জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর মুবতাদাকে নসব (যবর) দেয় এবং খবরকে রফা (পেশ) প্রদান করে।
৬. ফে’লে মুদারে’কে জযমকারী অব্যয়সমূহকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
জাওয়াযিমুল মুদারে’ দুই ভাগে বিভক্ত: এক প্রকার কেবল একটিমাত্র ক্রিয়াকে জযম দেয় (যেমন: لم، لما، لام الأمر، لا الناهية); এবং অপর প্রকার শর্ত ও জাযা হিসেবে দুটি ক্রিয়াকে একসাথে জযম দেয় (যেমন: إن، من، ما، أينما ইত্যাদি)।

