ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: إعجاز القرآن والعلوم الحديثة في القرآن (ই’জাযুল কুরআন ওয়াল উলূমুল হাদীছা ফিল কুরআন)
বিষয় কোড: ২০১৮০৭ | পরীক্ষা কোড: ২০৮ | প্রশ্নপত্র কোড: ১১৭
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
القسم الأول : إعجاز القرآن الكريم (প্রথম অংশ – কুরআনের অলৌকিকত্ব ও চ্যালেঞ্জ) [পূর্ণমান: ৪০]
مجموعة (الف) : الأسئلة التحريرية والتأصيلية (গ্রুপ ‘ক’ – বিশদ রচনামূলক প্রশ্নাবলি) [মান: ২ × ১৫ = ৩০]
١- “البلغاء عاجزون عن الإتيان بمثل القرآن الكريم” – اثبت بالأدلة النقلية والعقلية-
[“সাহিত্যিকগণ কুরআনুল কারীমের অনুরূপ আনয়নে অক্ষম”—কুরআন-সুন্নাহ ও যুক্তি দ্বারা প্রমাণ কর।]
১. ভূমিকা:
পবিত্র কুরআন কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং এটি বিশ্বমানবতার জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের এক চিরন্তন ও জীবন্ত মুজিযা (المعجزة الخالدة)। যে যুগে আরবের কবি ও অলঙ্কারবিদগণ তাদের সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্ব, প্রাঞ্জল ভাষা ও বিশুদ্ধ বাকপটুতার চরম শিখরে আরোহণ করেছিলেন, ঠিক সে যুগেই কুরআন তাদের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। তৎকালীন আরব সাহিত্যিকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তারা কুরআনের একটি সূরার সমকক্ষ সাহিত্য রচনায় চূড়ান্তভাবে অক্ষম ও ব্যর্থ হয়েছিল।
২. কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলসমূহ (الأدلة النقلية):
- মানব ও জিন জাতির সম্মিলিত অক্ষমতা ঘোষণা: আল্লাহ তাআলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ঘোষণা করেছেন—
«قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَىٰ أَن يَأْتُوا بِمِثْلِ هَٰذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا» [সূরা আল-ইসরা: ৮৮]
“বলুন: সমগ্র মানবজাতি ও জিন সম্প্রদায় যদি একত্রিত হয়ে এই কুরআনের অনুরূপ রচনা করার চেষ্টা করে, তবুও তারা এর সমকক্ষ কিছু আনতে পারবে না; যদিও তারা পরস্পরের পরম সাহায্যকারী হয়।” - দশটি সূরা রচনার চ্যালেঞ্জ: অতঃপর আল্লাহ তাদের অক্ষমতা দেখে চ্যালেঞ্জ সহজ করে বললেন—
«أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ» [সূরা হুদ: ১৩]
“তারা কি বলে যে সে এটি নিজে তৈরি করেছে? বলুন: তবে তোমরা এর অনুরূপ স্বরচিত দশটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” - একটিমাত্র সূরার চ্যালেঞ্জ: সর্বশেষে কুরআন তাদের চূড়ান্ত অসহায়ত্বের সামনে এনে দাঁড় করায়—
«وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ – فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَن تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ» [সূরা আল-বাকারা: ২৩-২৪]
“আর আমি আমার বান্দার ওপর যা নাজিল করেছি তাতে যদি তোমাদের বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে, তবে এর সমকক্ষ একটিমাত্র সূরা রচনা করে নিয়ে এসো… আর যদি তোমরা তা না পারো—এবং নিশ্চিতভাবেই কখনো পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।”
৩. ঐতিহাসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি (الأدلة العقلية):
- মর্যাদা রক্ষার তাগিদ সত্ত্বেও নিরবতা: আরবরা তাদের ভাষা ও শ্রেষ্ঠত্বের অহমিকায় এতটাই উগ্র ছিল যে, সামান্য কবিতার ওপর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু করে দিত। কুরআন তাদের ধর্ম, দেব-দেবী ও পূর্বপুরুষদের আকিদাকে বাতিল ঘোষণা করছিল। তাদের অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য মাত্র তিন লাইনের একটি সূরার জবাব তৈরি করা ছিল যুদ্ধের চেয়েও সহজ। কিন্তু আরবের শীর্ষ কবি লবিদ, যুহাইর ও ইমরুল কায়েসের মতো পণ্ডিতদের যুগের চরম বাগ্মীরা সাহিত্য দিয়ে মোকাবেলা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে অস্ত্রের আশ্রয় নিয়েছিল। এটিই তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পরাজয়ের অকাট্য প্রমাণ।
- অতুলনীয় সুর ও ছন্দের কাঠামো: কুরআন গদ্যও নয়, পদ্যও নয়; এর শব্দবিন্যাস, ধ্বনিমাধুর্য এবং অভ্যন্তরীণ ছন্দ এমন এক অনন্য শৈলী বহন করে যা মানুষের তৈরি সাহিত্যের সমস্ত সীমাকে অতিক্রম করে গেছে। ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা কাফের অবস্থায় কুরআন শুনে স্তব্ধ হয়ে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল: «وَإِنَّ لَهُ لَحَلَاوَةً، وَإِنَّ عَلَيْهِ لَطَلَاوَةً، وَإِنَّهُ لَيَعْلُو وَلَا يُعْلَى عَلَيْهِ» (আল্লাহর কসম! এতে রয়েছে এক পরম মিষ্টতা, এর ওপরে রয়েছে এক অপূর্ব শোভা, এটি সদা বিজয়ী থাকে, একে কখনো পরাভূত করা যায় না)।
٢- من هم المستشرقون وما شبهاتهم حول القرآن الكريم؟ بين مع الرد عليهم بالأدلة-
[مستشرقون কারা? কুরআনুল কারীমের ব্যাপারে তাদের সন্দেহ ও অভিযোগগুলো কী? দলিলসহ তাদের প্রত্যুত্তর বর্ণনা কর।]
১. প্রাচ্যবিদ বা মুস্তাশরিকীনদের পরিচয় (تعريف المستشرقين):
‘মুস্তাশরিক’ (المستشرق / Orientalist) পরিভাষাটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—যারা মূলত পাশ্চাত্য বা ইউরোপীয় অমুসলিম পণ্ডিত, কিন্তু প্রাচ্য বিশেষ করে ইসলামি সংস্কৃতি, ভাষা, কুরআন, হাদিস ও ইসলামি ইতিহাস নিয়ে সুপরিকল্পিত একাডেমিক অধ্যয়ন ও গবেষণা করে থাকেন। ক্রুসেডের পরাজয়ের পর থেকে আধুনিক ঔপনিবেশিক যুগ পর্যন্ত ইসলামকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং মুসলমানদের ঈমানে ফাটল ধরানোই ছিল অধিকাংশ প্রাচ্যবিদের প্রধান গোপন উদ্দেশ্য।
২. কুরআনের বিরুদ্ধে প্রাচ্যবিদদের প্রধান প্রধান সংশয় ও অভিযোগসমূহ:
- কুরআন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর স্বরচিত বাণী: গোল্ডজিহার, মার্গোলিউথ ও নোল্ডেকে দাবি করে যে, মুহাম্মদ ﷺ ছিলেন একজন প্রতিভাবান কবি বা দার্শনিক; তিনি মৃগীরোগ বা গভীর ধ্যানের ঘোরে এই সাহিত্য রচনা করেছেন।
- ইহুদি ও খ্রিস্টানদের আসমানি কিতাব থেকে চুরির অভিযোগ: তারা অভিযোগ করে যে, মক্কার বাণিজ্য সফরে গিয়ে মুহাম্মদ ﷺ ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল, বাহিরা খ্রিস্টান ভিক্ষু এবং ইহুদি রাব্বিদের কাছ থেকে তাওরাত ও ইঞ্জিলের গল্প শুনে পরে কুরআনে সংযোজন করেছেন।
- কুরআনের সংকলনে সন্দেহ ও তারতম্যের দাবি: আর্থার জেফরি প্রমুখ দাবি করেন যে, বর্তমান উসমানী মুসহাফে অনেক কিছু সংযোজন বা বিয়োজন ঘটেছে এবং সাহাবীদের ব্যক্তিগত মুসহাফে ভিন্নতা ছিল।
৩. দলিলের আলোকে প্রাচ্যবিদদের অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব:
- উম্মী নবীর বিস্ময়কর অলৌকিকতা: রাসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন সম্পূর্ণ নিরক্ষর (নবী উম্মী); তিনি কোনো মানুষের কাছে পাঠ গ্রহণ করেননি, কোনো কিতাব পড়েননি (وَمَا كُنتَ تَتْلُو مِن قَبْلِهِ مِن كِتَابٍ)। একজন নিরক্ষর ব্যক্তির মুখ থেকে এমন একটি মহাকাব্যিক কিতাব নিঃসরিত হওয়া—যা গোটা আরব জাহানের সাহিত্যিকদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছিল—প্রমাণ করে যে এটি কোনো মানবিক সৃষ্টি নয়, বরং সরাসরি রব্বুল আলামিনের ওহি।
- আহলুল কিতাবের বিকৃতির বিপরীতে কুরআনের বিশুদ্ধতা: তাওরাত ও ইঞ্জিলে নবীদের চরিত্রহননকারী যেসব অশোভন বিকৃতি (যেমন লুত আ.-এর মদপান ও ব্যভিচার, হারুন আ.-এর গোবৎস পূজা) বিদ্যমান ছিল, কুরআন তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে নবীদের নিষ্পাপ পবিত্রতা প্রতিষ্ঠা করেছে। নকল করলে এই মৌলিক সংশোধনী কখনো সম্ভব ছিল না।
- মুতাওয়াতির সনদে সংরক্ষিত পাঠ: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবদ্দশাতেই শত শত সাহাবী পূর্ণ কুরআন মুখস্থ (হিফজ) করেছিলেন এবং ওহি লেখকদের মাধ্যমে তা লিখিতভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল। বিশ্বের পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত আজ পর্যন্ত প্রতিটি হরফ ও নুক্তাসহ একটিমাত্র অবিকল কুরআন সংরক্ষিত রয়েছে, যা তাদের সংকলন বিকৃতির দাবিকে ধূলিসাৎ করে দেয় (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ)।
٣- بين حكمة التحدى فى القرآن الكريم- ثم اذكر أنواعه بالأمثلة-
[কুরআনুল কারীমে চ্যালেঞ্জের তাৎপর্য বর্ণনা কর। অতঃপর উদাহরণসহ তার প্রকারসমূহ উল্লেখ কর।]
১. কুরআনিক চ্যালেঞ্জ (التحدي)-এর অন্তর্নিহিত হিকমত ও উদ্দেশ্য:
- রিসালাতের সত্যতা অকাট্যভাবে প্রমাণ: কাফেরদের এই দাবি বাতিল করা যে কুরআন কোনো মানবীয় শিল্পকর্ম। সৃষ্টির চূড়ান্ত অক্ষমতা প্রমাণের মাধ্যমেই স্রষ্টার ওহির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিরোধীদের নির্বাক ও নিরুত্তর করা (إفحام الخصوم وإلزامهم الحجة): কুরআন বিরোধীদের সামনে সমস্ত অজুহাত বন্ধ করে তাদের চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে দেওয়া।
- চিরন্তন প্রামাণিকতা: মুজিজাটি যেন কেবল রাসুলের সমসাময়িকদের জন্য নয়, বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত যুগের মানবজাতির জন্য এক জীবন্ত ও চ্যালেঞ্জিং দলিল হিসেবে বিদ্যমান থাকে।
২. কুরআনিক চ্যালেঞ্জের পর্যায় ও প্রকারভেদ (أنواع التحدي ومراحله):
কুরআনুল কারীমের চ্যালেঞ্জটি ছিল ক্রমান্বয়ে সহজীকরণ ও ধাপভিত্তিক (التحدي بالتدرج):
- সমগ্র কুরআনের অনুরূপ রচনার চ্যালেঞ্জ (التحدي بالقرآن كله):
«فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِّثْلِهِ إِن كَانُوا صَادِقِينَ» [সূরা আত-তূর: ৩৪]
সর্বপ্রথম আল্লাহ সমগ্র কুরআনের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব রচনা করে নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। - দশটি সূরা রচনার চ্যালেঞ্জ (التحدي بعشر سور):
«فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ» [সূরা হুদ: ১৩]
যখন তারা পুরো কিতাব আনতে পারল না, তখন তাদের সুযোগ দেওয়া হলো—তোমরা সত্য না পারো তবে কাল্পনিক হলেও দশটি সূরা তৈরি করে নিয়ে এসো। - একটিমাত্র সূরার অনুরূপ রচনার চ্যালেঞ্জ (التحدي بسورة واحدة):
«فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ» [সূরা আল-বাকারা: ২৩, সূরা ইউনুস: ৩৮]
সর্বশেষে মাত্র তিনটি আয়াতবিশিষ্ট সূরা কাওসারের মতো একটিমাত্র ক্ষুদ্রতম সূরা রচনার আহ্বান জানানো হয়, যেখানেও সমগ্র বিশ্ব আজ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে পরাস্ত।
٤- اذكر عقيدة أهل الصرفة فى إعجاز القرآن الكريم- ثم بين كيفية الرد عليهم فى الإعجاز-
[إعجاز এর বিষয়ে أهل الصرفة এর আকিদা উল্লেখ কর। অতঃপর إعجاز বিষয়ে তাদের খণ্ডনপদ্ধতি বর্ণনা কর।]
১. আহলুস সারফাহ (أهل الصرفة)-এর আকিদা ও অভিমত:
মুতাযিলা সম্প্রদায়ের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ আবু ইসহাক্ব আন-নাজ্জাম এবং মুরতাযা শিয়াদের প্রবক্তা শরীফ আল-মুরতাযা ‘সারফাহ’ (الصرفة)-এর মতবাদ প্রচার করেন। ‘সারফাহ’ শব্দের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া বা প্রতিরোধ করা।
তাদের আকিদা: আরবরা ভাষাগত দিক থেকে কুরআনের সমকক্ষ রচনা করার সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক যোগ্যতা ও সামর্থ্য রাখত। কিন্তু যখনই তারা কুরআনের মোকাবিলা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিল, আল্লাহ তাআলা একটি অলৌকিক শক্তির মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্ক ও বাকশক্তি থেকে সেই সাহিত্যিক যোগ্যতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন এবং তাদের বাধাগ্রস্ত করেছিলেন। অর্থাৎ অলৌকিকত্ব কুরআনের অভ্যন্তরীণ শব্দ ও অর্থে নয়, বরং মানুষের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার মধ্যে নিহিত।
২. আহলুস সারফাহর মতবাদের অকাট্য খণ্ডন (الرد على مذهب الصرفة):
ইমাম আল-বাত্তাল্লানী, কাযী আব্দুল জব্বার ও ইমাম আল-খাত্তাবী (রহ.) আহলুস সারফাহর এই মতবাদকে ভ্রান্ত প্রমাণ করেছেন:
- কুরআনের ঘোষণার পরিপন্থী: আল্লাহ তাআলা বলেছেন—«لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ» (তারা এর সমকক্ষ আনতে পারবে না)। যদি তাদের ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়াই মুজিজা হতো, তবে কুরআনকে ‘মুজিযা’ না বলে মানুষের শক্তি হরণকে মুজিজা বলা হতো। এতে কুরআনের নিজস্ব ভাষাগত শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করা হয়।
- চ্যালেঞ্জের অসারতা দেখা দেয়: কাউকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে যদি বলা হয়—”দৌড়ে দেখাও, নতুবা তুমি অক্ষম”—তবে এটি কোনো কৃতিত্বের চ্যালেঞ্জ হতে পারে না। আরবরা যদি স্বাভাবিকভাবেই অক্ষম হতো তবে চ্যালেঞ্জের কোনো অর্থই থাকত না। কুরআনের অলৌকিকত্ব তাঁর স্বকীয় শব্দের সৌন্দর্য, অর্থের গভীরতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের শীর্ষতায় প্রতিষ্ঠিত, যা মানবীয় শক্তির বাইরে।
- সাহাবীদের সর্বসম্মত আমলের বিপরীত: আরবের শীর্ষ কবি ও সাহাবীগণ কুরআনের নিজস্ব ভাষার সুর, লালিত্য ও গাম্ভীর্য দেখেই সিজদায় লুটিয়ে পড়েছিলেন; কোনো জোরপূর্বক অলৌকিক বাধার কারণে নয়। সুতরাং ‘সারফাহ’ মতবাদটি সর্বসম্মতভাবে বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য।
مجموعة (ب) : الأسئلة الموجزة (গ্রুপ ‘খ’ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি) [মান: ২ × ৫ = ১০]
٥- علّق على—”أن القرآن الكريم معجزة خالدة للنبى صلى الله عليه وسلم”-
[টীকা লেখ—”কুরআনুল কারীম নবিজীর (স) এর শাশ্বত মুজিযা”।]
পূর্ববর্তী সমস্ত নবীদের মুজিযা (যেমন মূসা আ.-এর লাঠি, ঈসা আ.-এর মৃতকে জীবিত করা) ছিল ক্ষণস্থায়ী এবং চাক্ষুষ। তাঁদের ইন্তেকালের সাথে সাথে সেই মুজিযাগুলো ইতিহাস হয়ে গেছে, পরবর্তী মানবজাতি তা সরাসরি পরীক্ষা করতে পারে না।
কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রধান মুজিযা ‘আল-কুরআন’ হলো এক অনন্তকাল স্থায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক মুজিযা (المعجزة الخالدة العقلية)। রাসুল ﷺ ইরশাদ করেছেন—
«مَا مِنَ الأَنْبِيَاءِ نَبِيٌّ إِلَّا أُعْطِيَ مِنَ الآيَاتِ مَا مِثْلُهُ آمَنَ عَلَيْهِ البَشَرُ، وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَاهُ اللَّهُ إِلَيَّ، فَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ القِيَامَةِ» [সহিহ বুখারী: ৪৯৮১]
আজ চৌদ্দশত বছর পরও কুরআন অবিকল সংরক্ষিত থেকে বিশ্বমানবতাকে চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছে এবং বিজ্ঞান ও দর্শনের অগ্রগতির সাথে সাথে এর নিত্যনতুন অলৌকিকত্ব উন্মোচিত হচ্ছে।
٦- بين شروط الإعجاز القرآنى مع بيان موضوعه عند المحققين-
[الإعجاز القرآنى এর আলোচ্য বিষয় উল্লেখপূর্বক গবেষকগণের মতানুসারে এর শর্তসমূহ বর্ণনা কর।]
১. মুজিযা হওয়ার অপরিহার্য চারটি শর্ত (شروط الإعجاز):
- তা অবশ্যই মানবীয় স্বাভাবিক কার্যকারণ ও প্রকৃতির নিয়মের ব্যতিক্রম (خارق للعادة) হতে হবে।
- তা নবুয়তের দাবির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে (مقرون بدعوى النبوة)।
- নবীর দাবির হুবহু অনুকূলে ও সমর্থনসূচক হতে হবে (مطابق للدعوى)।
- সমগ্র সৃষ্টির জন্য তার সমকক্ষ কিছু আনার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ থাকতে হবে এবং বিরোধীরা তা প্রতিরোধে সম্পূর্ণ অক্ষম হতে হবে (سالم عن المعارضة)।
২. ই’জাযুল কুরআনের মূল আলোচ্য বিষয় (موضوعه):
গবেষকদের মতে এর মূল আলোচ্য বিষয় হলো স্বয়ং পবিত্র কুরআনুল কারীমের বাণী—এর শব্দবিন্যাস (নাজম), প্রাঞ্জল অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত), বিধিবিধানের ভারসাম্য (তাশরী’), বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নিখুঁত ঐতিহাসিক ভবিষ্যতবাণী।
٧- بين وجه الإعجاز التشريعى بالأدلة والأمثلة مختصرًا-
[وجه الإعجاز التشريعى এর উদাহরণসমূহ দলিলসহ সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা কর।]
কুরআনুল কারীমের এক বিস্ময়কর দিক হলো তার আইনি অলৌকিকত্ব (الإعجاز التشريعي)। একটি নিরক্ষর মরুময় সমাজে অবতীর্ণ এই কিতাব এমন এক পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ পারিবারিক, দেওয়ানি, ফৌজদারি ও আন্তর্জাতিক আইন উপহার দিয়েছে যা মানুষের তৈরি শত শত বছরের সংবিধানের চেয়েও নিখুঁত:
- উত্তরাধিকার আইন (علم الفرائض): সূরা নিসার ১১-১২ আয়াতে পিতা-মাতা, সন্তান, স্ত্রী ও আত্মীয়দের যে অনুপম গাণিতিক বণ্টনের বিধান দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্বের সেরা আইনবিদদের স্তম্ভিত করে।
- অপরাধ দমন ও সামাজিক নিরাপত্তা: হদ্দ, কিসাস ও দিয়াতের বিধান সমাজের সন্ত্রাস ও ব্যভিচার চিরতরে নির্মূল করে (وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ)।
- সুদমুক্ত অর্থনৈতিক ইনসাফ: সুদকে সম্পূর্ণ হারাম করে এবং যাকাত ও সাদাকাকে বাধ্যতামূলক করে সম্পদের কেন্দ্রীভবন রোধ করার অর্থনীতি আজও বিশ্ব অর্থনীতির একমাত্র মুক্তি সনদ।
٨- كيف تحدى القران كفار عصره؟ بين مع ذكر الايات القرآنية المتعلقة بالتحدى-
[আল-কুরআন কীভাবে সে যুগের কাফেরদের চ্যালেঞ্জ করেছিল? সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ উল্লেখপূর্বক বর্ণনা কর।]
আল-কুরআন সে যুগের কাফেরদের তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অহংকারের জায়গা—’আরবি সাহিত্য ও কাব্যের’ ওপর সরাসরি আঘাত হেনে চ্যালেঞ্জ করেছিল। কুরআন তাদের ক্রমান্বয়ে সুযোগ দিয়েছিল:
- প্রথমে পুরো কুরআনের মতো গ্রন্থ রচনার চ্যালেঞ্জ: «فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِّثْلِهِ إِن كَانُوا صَادِقِينَ» [সূরা আত-তূর: ৩৪]।
- অতঃপর দশটি সূরার চ্যালেঞ্জ: «قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ» [সূরা হুদ: ১৩]।
- সর্বশেষে একটিমাত্র সূরার চ্যালেঞ্জ: «فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ» [সূরা আল-বাকারা: ২৩]। আরবরা কাঁপতে কাঁপতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, কিন্তু কুরআনের একটি সূরার সমকক্ষ সাহিত্য তৈরি করতে পারেনি।
القسم الثاني : العلوم الحديثة في القرآن الكريم (দ্বিতীয় অংশ – আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআন) [পূর্ণমান: ৪০]
مجموعة (الف) : الأسئلة التحريرية الشاملة (গ্রুপ ‘ক’ – বিশদ রচনামূলক প্রশ্নাবলি) [মান: ২ × ১৫ = ৩০]
٩- كيف نشأ الكون؟ تحدث عن الانفجار العظيم فى ضوء القرآن الكريم وسائنس-
[বিশ্ব কীভাবে সৃষ্টি হলো? কুরআনুল কারীম ও সাইন্সের আলোকে বিগ ব্যাং সম্পর্কে আলোচনা কর।]
১. আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্ব (Big Bang Theory):
আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের (যেমন এডউইন হাবল ও স্টিফেন হকিং) দীর্ঘ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, আজ থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে এই সুবিশাল মহাবিশ্ব একটি অতিপারমাণবিক পরম বিন্দুতে (Singularity) পুঞ্জীভূত ও সংকুচিত অবস্থায় ছিল। অতঃপর এক মহাবিস্ফোরণ বা মহাপ্রসারণের (Big Bang) মাধ্যমে স্থান, কাল ও পদার্থের সৃষ্টি হয় এবং মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হতে শুরু করে।
২. পবিত্র কুরআনে বিগ ব্যাং ও মহাবিশ্ব সৃষ্টির অকাট্য ঘোষণা:
আজকের আধুনিক বিজ্ঞান যে সত্য মাত্র বিংশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপ ও গণিতের সাহায্যে আবিষ্কার করেছে, পবিত্র কুরআনুল কারীম চৌদ্দশত বছর পূর্বে তা সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে:
«أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ» [সূরা আল-আম্বিয়া: ৩০]
“অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে একাকার (সংকুচিত) ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক (বিস্ফোরিত/প্রসারিত) করে দিলাম; এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?”
- ‘রাতক্ব’ (رَتْقًا)-এর তাৎপর্য: আরবি ভাষায় ‘রাতক্ব’ অর্থ কোনো বস্তুকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্রভাবে একত্রে সংযুক্ত ও সংকুচিত রাখা। এটি বিজ্ঞানের আদি পুঞ্জীভূত বিন্দুকে হুবহু নির্দেশ করে।
- ‘ফাতক্ব’ (فَتَقْنَاهُمَا)-এর তাৎপর্য: ‘ফাতক্ব’ অর্থ সজোরে বিদীর্ণ বা উন্মুক্ত করে পৃথক করা, যা বিগ ব্যাং মহাবিস্ফোরণের অবিকল প্রতিচ্ছবি।
- মহাবিশ্বের সম্প্রসারণশীলতা (Expanding Universe): কুরআন আরও ঘোষণা করে—
«وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ» [সূরা আয-যারিয়াত: ৪৭]
“আমি নিজ কুদরতে আকাশমণ্ডল নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয়ই আমি একে ক্রমাগত সম্প্রসারিত করে চলেছি।” এটি প্রমাণ করে যে কুরআন কোনো মানবীয় গ্রন্থ নয়, বরং মহাবিশ্বের প্রকৃত স্রষ্টারই বাণী।
١٠- السماء موجودة أم لا؟ تحدث عن خلق السماء و حقيقتها فى ضوء القرآن الكريم-
[আকাশের অস্তিত্ব আছে নাকি নেই? আকাশের সৃষ্টি ও প্রকৃতি সম্পর্কে কুরআনুল কারীমের আলোকে আলোচনা কর।]
১. আকাশের অস্তিত্ব ও কুরআনিক দর্শন:
কিছু আধুনিক বিভ্রান্ত মানুষ মনে করে যে ‘আকাশ’ বলতে কিছু নেই, কেবল মহাশূন্যের নীল রং দেখা যায়। কিন্তু পবিত্র কুরআন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, আকাশ কোনো কাল্পনিক শূন্যতা নয়; বরং এটি এক সুদৃঢ়, সুরক্ষিত ও বাস্তব সৃষ্টিগত অস্তিত্ব (سقف محفوظ)।
২. কুরআনের আলোকে আকাশের সৃষ্টি ও হাকিকত:
- ধোঁয়াশা বা গ্যাসীয় পর্যায় থেকে সৃষ্টি: আল্লাহ তাআলা আদি আকাশে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের ধোঁয়াশা থেকে সৃষ্টি প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়েছেন—
«ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ» [সূরা ফুসসিলাত: ১১]
“অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন, যা ছিল ধূম্রকুঞ্জ (ধোঁয়া/গ্যাসীয় পিণ্ড)।” আধুনিক বিজ্ঞান স্বীকার করে যে মহাবিশ্বের তারকারাজি গ্যাসীয় নেবুলা ও ধোঁয়া থেকেই ঘনীভূত হয়েছে। - সাত আসমানের সুশৃঙ্খল স্তর: আল্লাহ সাতটি স্তরে আকাশ বিন্যস্ত করেছেন (فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ)। প্রথম বা নিকটবর্তী আকাশকে কোটি কোটি দৃশ্যমান গ্যালাক্সি ও নক্ষত্র দিয়ে সাজিয়েছেন (إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ)।
- অদৃশ্য স্তম্ভ ও সুরক্ষিত ছাদ:
«خَلَقَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا» [সূরা লুকমান: ১০]
“তিনি আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন এমন স্তম্ভ ছাড়া যা তোমরা দেখতে পাও।” বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে মহাকর্ষ বল (Gravitational Force)-এর অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্র শূন্যে পরস্পরের ভারসাম্য রক্ষা করে দাঁড়িয়ে আছে। - বায়ুমণ্ডল ও ওজোন স্তরের ঢাল: প্রথম আকাশের বায়ুমণ্ডল ক্ষতিকর মহাজাগতিক রশ্মি ও উল্কাপিণ্ড থেকে পৃথিবীকে ছাতার ন্যায় রক্ষা করছে, যার উল্লেখ কুরআনে এসেছে: «وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَّحْفُوظًا» (এবং আমি আকাশকে একটি সুরক্ষিত ছাদ বানিয়েছি)।
١١- تحدث عن علم الفيزياء في ضوء قوله تعالى “ومن كل شيئ خلقنا زوجين”-
[আল্লাহ তা’য়ালার বাণী: ومن كل شيئ خلقنا زوجين এর আলোকে পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা কর।]
১. আয়াতটির গভীর দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এক সর্বজনীন প্রাকৃতিক নীতি ঘোষণা করেছেন—
«وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ» [সূরা আয-যারিয়াত: ৪৯]
“আর আমি প্রতিটি বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারো।”
২. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে জোড় বা যুগল সৃষ্টিতত্ত্ব (Duality and Symmetry in Physics):
প্রাচীনকালে মানুষ মনে করত কেবল নর-নারী বা পুরুষ-স্ত্রী উদ্ভিদের মধ্যেই জোড়া রয়েছে। কিন্তু বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে মহাবিশ্বের মূল কণা থেকে শুরু করে প্রতিটি সৃষ্টিতেই এই ‘যুগল নীতি’ (Pairing System) বিদ্যমান:
- পারমাণবিক চার্জের যুগল (Electric Charges): পদার্থের মূলভিত্তি পরমাণুর অভ্যন্তরে ধনাত্মক চার্জ (Proton) এবং ঋণাত্মক চার্জ (Electron)-এর চমৎকার যুগল সমন্বয়।
- পদার্থ ও প্রতি-পদার্থ (Matter and Antimatter): নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী পল ডিরাক ১৯২৮ সালে প্রমাণ করেন যে প্রতিটি মৌলিক কণার একটি বিপরীত প্রতি-কণা (Antiparticle) রয়েছে; যেমন ইলেকট্রনের বিপরীতে পজিট্রন (Positron), কোয়ার্কের বিপরীতে অ্যান্টিকোয়ার্ক। কণা ও প্রতিকণার মিলনে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- তরঙ্গ-কণা দ্বৈততা (Wave-Particle Duality): কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে আলো ও পদার্থ একই সাথে কণা (Particle) এবং তরঙ্গ (Wave) উভয় রূপে যুগল আচরণ করে।
- চৌম্বকীয় যুগল (Magnetic Poles): চুম্বকের উত্তর মেরু (North Pole) এবং দক্ষিণ মেরু (South Pole) সর্বদা যুগল অবস্থায় থাকে; কখনোই একক মেরু পাওয়া যায় না।
- উপসংহার: সমস্ত সৃষ্টি জোড়ায় জোড়ায় মুখাপেক্ষী ও অপূর্ণ; একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলাই হলেন একক, অদ্বিতীয় ও মুখাপেক্ষাহীন (আল-আহাদ, আস-সামাদ)।
١٢- تحدث عن زلزلة الأرض فى ضوء القرآن الكريم والعلوم الحديثة-
[ভূমিকম্প সম্পর্কে কুরআনুল কারীম ও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা কর।]
১. আধুনিক ভূতত্ত্ববিজ্ঞানে ভূমিকম্পের কারণ (Seismology & Plate Tectonics):
আধুনিক ভূতত্ত্ববিদ্যায় প্রমাণিত হয়েছে যে পৃথিবীর ভূত্বক (Crust) কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলো যখন ম্যান্টেলের ওপর সঞ্চালিত হয়ে পরস্পরের সাথে ধাক্কা খায় বা পিছলে যায়, তখন তাদের সীমানায় প্রচণ্ড শক্তির সঞ্চয় ঘটে। একপর্যায়ে সেই স্থিতিস্থাপক শক্তি ফল্ট লাইনে মহাবিস্ফোরণের ন্যায় তরঙ্গাকারে মুক্ত হয়, যাকে আমরা ভূমিকম্প বলি।
২. পবিত্র কুরআনে ভূমিকম্পের বিশদ বিবরণ:
- পাহাড়ের পেরেক বা কীলক ভূমিকা: আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে অতিরিক্ত কম্পন থেকে শান্ত রাখতে সুবিশাল পর্বতমালা সৃষ্টি করেছেন—
«وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ» [সূরা আন-নাহল: ১৫]
“এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে হেলেদুলে না পড়ে (কম্পিত না হয়)।” আধুনিক বিজ্ঞানে প্রমাণিত হয়েছে যে পর্বতমালার শিকড় ভূত্বকের গভীরে রোপিত থেকে টেকটোনিক প্লেটগুলোকে স্থিতিশীল রাখে (Isostasy Theory)। - কিয়ামতের মহাকম্পন ও ভূগর্ভের রহস্য উন্মোচন: সূরা যিলযালে কিয়ামতের ভয়াবহ ভূমিকম্পের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে—
«إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا – وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا»
“যখন পৃথিবী তার চূড়ান্ত প্রকম্পনে প্রকম্পিত হবে এবং পৃথিবী তার ভেতরের সমস্ত ভার বা বোঝা বাইরে বের করে দেবে।” ভূকম্পন তরঙ্গের মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরে ভারী খনিজ ও গলিত লাভা নির্গত হওয়ার দৃশ্য আধুনিক ভূকম্পনবিদ্যার সাথে হুবহু মিলে যায়। - নৈতিক সতর্কতা: পার্থিব ভূমিকম্প হলো আল্লাহর মহাশক্তির নিদর্শন এবং মানুষের জন্য তওবা ও আত্মসংশোধনের সুস্পষ্ট ঐশী সতর্কবার্তা।
مجموعة (ب) : الأسئلة الموجزة (গ্রুপ ‘খ’ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি) [মান: ২ × ৫ = ১০]
١٣- ما العلوم؟ هل القرآن الكريم مخالف للعلوم الحديثة؟ بين-
[বিজ্ঞান কী? কুরআনুল কারীম কি আধুনিক বিজ্ঞানের বিরোধী? আলোচনা কর।]
১. বিজ্ঞানের সংজ্ঞা:
‘বিজ্ঞান’ (Science / العلم) হলো পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও সুসংগত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাকৃতিক জগতের কার্যকারণ ও নিয়ামাবলি সম্পর্কিত সুশৃঙ্খল বাস্তব জ্ঞান।
২. কুরআন কি আধুনিক বিজ্ঞানের বিরোধী?
কখনোই নয়; কুরআন এবং প্রমাণিত বিজ্ঞানের মাঝে কোনো বৈরিতা বা সংঘাত নেই। কারণ প্রকৃতির সমস্ত আইন এবং পবিত্র কুরআনের আয়াত—উভয়ের রচয়িতা স্বয়ং একক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। কুরআনে ৭৫০টিরও বেশি আয়াত রয়েছে যা মানুষকে মহাবিশ্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, উদ্ভিদ ও চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার তাগিদ দেয়। তবে বিজ্ঞানের কোনো পরিবর্তনশীল ক্ষণস্থায়ী অনুমান বা থিওরি যদি কুরআনের অকাট্য আকিদার বিরোধী হয়, তবে ত্রুটি বিজ্ঞানের মানবীয় অনুমানের, কুরআনের নয়। সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে কুরআন শতভাগ সংগতিপূর্ণ।
١٤- اذكر أسماء الحيوانات المذكورة فى القرآن الكريم مدللا-
[কুরআনুল কারীমে উল্লেখিত প্রাণীসমূহের নাম দলিলসহ উল্লেখ কর।]
পবিত্র কুরআনুল কারীমে মানুষের শিক্ষা ও দৃষ্টান্ত হিসেবে বহু প্রাণীর নাম উল্লেখিত হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি প্রধান প্রাণী:
- البقرة (গাভী): «إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تَذْبَحُوا بَقَرَةً» [সূরা আল-বাকারা: ৬৭]
- الإبل / الجمل (উট): «أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ» [সূরা আল-গাশিয়া: ১৭]
- الخيل والبغال والحمير (ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা): «وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا» [সূরা আন-নাহল: ৮]
- النحل (মৌমাছি): «وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ» [সূরা আন-নাহল: ৬৮]
- النمل (পিঁপড়া): «قَالَتْ نَمْلَةٌ يَا أَيُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوا مَسَاكِنَكُمْ» [সূরা আন-নামল: ১৮]
- العنكبوت (মাকড়সা): «مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنكَبُوتِ» [সূরা আল-আনকাবুত: ৪১]
- الفيل (হাতি): «أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ» [সূরা আল-ফীল: ১]
١٥- تحدث عن السرعة اللحظية في ضوء قوله تعالى “تولج الليل في النهار وتولج النهار في الليل”-
[আল্লাহর বাণী: تولج الليل في النهار وتولج النهار في الليل এর আলোকে আহ্নিক গতি সম্পর্কে আলোচনা কর।]
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে দিন ও রাতের আবর্তনের নিখুঁত বৈজ্ঞানিক রূপ তুলে ধরেছেন—
«تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ» [সূরা আলে ইমরান: ২৭]
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: ‘ঈলাজ’ (الإيلاج) শব্দের অর্থ হলো এক বস্তুকে অতি মসৃণ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে অপর বস্তুর ভেতরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করানো। পৃথিবী যদি সমতল হতো, তবে দিন ও রাতের রূপান্তর ঘটত এক নিমেষে বাতির সুইচের মতো। কিন্তু পৃথিবী গোলকাকার এবং তা নিজ অক্ষের ওপর অবিরাম ঘূর্ণায়মান (আহ্নিক গতি)। এর ফলে পৃথিবীর এক অংশ ক্রমান্বয়ে সূর্যের আলোতে প্রবেশ করে এবং অপর অংশ ধীরে ধীরে অন্ধকারে বিলীন হয়। পৃথিবীর এই সুনির্দিষ্ট ঘূর্ণন গতি এবং প্রতি মুহূর্তে দিন-রাতের পরিবর্তনের সীমান্তরেখায় যে রূপান্তর ঘটে, তা এই আয়াতে অত্যন্ত নিখুঁত বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
١٦- ما الصفائح التكتونية؟ إلام أشير فى هذه الآية الكريمة “وترى الجبال تحسبها جامدة وهى تمر مر السحاب”؟ بين-
[ভূত্বকীয পাত (Tectonic Plate) কী? وترى الجبال تحسبها جامدة وهى تمر مر السحاب আয়াতটিতে কীসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? বর্ণনা কর।]
১. টেকটোনিক প্লেট (الصفائح التكتونية)-এর পরিচয়:
পৃথিবীর বহির্ভাগ বা ভূত্বক কোনো অখণ্ড কঠিন গোলক নয়; বরং এটি প্রায় এক ডজন বিশাল বিশাল গতিশীল পাথুরে খণ্ডে বিভক্ত, যাদের টেকটোনিক প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমার ওপর প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সন্তরণ বা চলাচল করছে (Continental Drift)।
২. আয়াতটির বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত:
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—
«وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ» [সূরা আন-নামল: ৮৮]
“আর আপনি পর্বতমালা দেখে মনে করেন তা অটল ও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ মেঘমালার মতো সেগুলোও প্রতিনিয়ত চলমান। এটি আল্লাহরই নিখুঁত সৃষ্টিশৈলী, যিনি সবকিছুকে সুদৃঢ় করেছেন।”
- মানুষের খালি চোখে পাহাড়কে চিরস্থায়ী ও অনড় মনে হলেও ভূত্বকীয় পাতের (Plate Tectonics) সঞ্চালনের কারণে পুরো ভূখণ্ড এবং তার ওপর প্রতিষ্ঠিত পর্বতমালা মেঘের মতো অতি ধীর গতিতে সর্বদা সঞ্চালিত হচ্ছে।
- একই সাথে পৃথিবী তার নিজ অক্ষে ও কক্ষপথে মহাশূন্যে প্রচণ্ড বেগে ঘূর্ণায়মান হওয়ায় পর্বতের এই গতিশীলতা মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টার চরম অলৌকিক কুদরতকেই নির্দেশ করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ৪র্থ বর্ষের إعجاز القرآن والعلوم الحديثة في القرآن বিষয়ের কোড ও প্রশ্নের বিন্যাস কী?
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে এই বিষয়ের কোড হলো ২০১৮০৭ (পরীক্ষা কোড ২০৮, প্রশ্নপত্র কোড ১১৭)। মোট ৮০ নম্বরের পরীক্ষাটি দুটি ভাগে বিভক্ত: প্রথম অংশ ‘ই’জাযুল কুরআন’ (৪০ নম্বর) এবং দ্বিতীয় অংশ ‘কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান’ (৪০ নম্বর)।
২. কুরআনের ‘তাহাদ্দী’ বা চ্যালেঞ্জের তিনটি প্রধান পর্যায় কী ছিল?
প্রথমে পুরো কুরআনের অনুরূপ কিতাব রচনার চ্যালেঞ্জ (সূরা তূর: ৩৪), অতঃপর দশটি কাল্পনিক সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ (সূরা হুদ: ১৩), এবং সর্বশেষে একটিমাত্র ক্ষুদ্রতম সূরার অনুরূপ রচনার চ্যালেঞ্জ (সূরা বাকারা: ২৩)।
৩. ই’জাযুল কুরআনে ‘আহলুস সারফাহ’-এর ভ্রান্ত মতবাদ কী ছিল?
আহলুস সারফাহ মনে করত যে আরবরা কুরআনের মতো রচনা করতে সক্ষম ছিল, কিন্তু আল্লাহ অলৌকিকভাবে তাদের শক্তি হরণ করেছিলেন। আহলে সুন্নাত এই মত খণ্ডন করে প্রমাণ করেছে যে অলৌকিকত্ব কুরআনের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ভাষা ও অর্থের শ্রেষ্ঠত্বে নিহিত।
৪. বিজ্ঞানের ‘বিগ ব্যাং’ তত্ত্বের সাথে সূরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতের সামঞ্জস্য কী?
সূরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে আকাশ ও পৃথিবী ‘রাতক্ব’ (একত্রে পুঞ্জীভূত/সংকুচিত) ছিল এবং পরে আল্লাহ ‘ফাতক্ব’ (বিস্ফোরিত/পৃথক) করেছেন; যা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিগ ব্যাং মডেলের হুবহু অনুরূপ।
৫. পদার্থবিজ্ঞানের ‘পেয়ার প্রোডাকশন’ বা যুগল সৃষ্টির সাথে সূরা যারিয়াতের ৪৯ নম্বর আয়াতের সম্পর্ক কী?
সূরা যারিয়াতের ৪৯ আয়াতে প্রতিটি সৃষ্টি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে; যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের পজিটিভ-নেগেটিভ চার্জ, কণা-প্রতিকণা (Matter-Antimatter) এবং চুম্বকের উত্তর-দক্ষিণ মেরুর যুগল সৃষ্টির সাথে শতভাগ মিলে যায়।
৬. টেকটোনিক প্লেট ও মহাদেশীয় সঞ্চালনের প্রমাণে সূরা নামলের ৮৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা কী?
সূরা নামলের ৮৮ আয়াতে বলা হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে পাহাড় স্থির মনে হলেও তা মেঘের মতো সর্বদা চলমান; যা আধুনিক ভূতত্ত্ববিজ্ঞানের ভূত্বকীয় পাত সঞ্চালন (Plate Tectonics) ও পৃথিবীর ঘূর্ণনের এক অনন্য বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব।