জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

মুসত্বলাহুল হাদীস (Mustalahul Hadith) – 202101, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
22 September, 2026
৪৮ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: মুসত্বলাহুল হাদীস (Mustalahul Hadith)
বিষয় কোড: 202101 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

২০২৪ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মুসত্বলাহুল হাদীস (Mustalahul Hadith – 202101) পরীক্ষাটি উসূলে হাদীস, হাদীসের পারিভাষিক প্রকারভেদ, সনদের ধারাবাহিকতা ও বিচ্ছিন্নতা, মুতাওয়াতির ও আহাদ, সহীহ-হাসান-যয়ীফের শর্তাবলি, তাদলীস এবং রাবীর জারহ ও তা’দীল মূল্যায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নপত্রটিতে দুটি গ্রুপ রয়েছে: مجموعة (أ) বা রচনামূলক অংশ (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, মান ৪ × ১৫ = ৬০) এবং مجموعة (ب) বা সংক্ষিপ্ত উত্তর অংশ (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, মান ৪ × ৫ = ২০)। শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণ্য প্রস্তুতির জন্য নিচে প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত সমাধান সুবিন্যস্তভাবে তুলে ধরা হলো।

مجموعة (أ): রচনামূলক প্রশ্ন (যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: মান ৪ × ১৫ = ৬০)

١- ما معنى مصطلح الحديث لغة واصطلاحا؟ وما المراد بعلم مصطلح الحديث؟ ثم بين نشأته وتطوره-

[১. মুসত্বলাহুল হাদীস-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? ইলমে মুসত্বলাহুল হাদীস দ্বারা কী উদ্দেশ্য? অতঃপর এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় মৌলিক উৎস হলো পবিত্র সুন্নাহ বা হাদীস। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে বিকৃতি, জালিয়াতি এবং ভুলের সংমিশ্রণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে মুহাদ্দিসগণ যে সুসংবদ্ধ বৈজ্ঞানিক শাস্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, তা-ই ‘মুসত্বলাহুল হাদীস’ বা উসূলে হাদীস নামে পরিচিত।

মুসত্বলাহুল হাদীসের আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয়

আভিধানিক অর্থ: ‘মুসত্বলাহ’ (مصطلح) শব্দটি বাবে ইফতি’আল থেকে ইসমে মাফ’ঊল, যার অর্থ পরিভাষা, নির্ধারিত রীতি বা বিশেষ দলের ঐকমত্য। আর ‘হাদীস’ (حديث) শব্দের অর্থ নতুন, কথা বা বার্তা। সুতরাং শব্দগতভাবে মুসত্বলাহুল হাদীস অর্থ হাদীস শাস্ত্রের বিশেষ পরিভাষাসমূহ।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.) বলেন:
“علم بأصول وقواعد يعرف بها أحوال السند والمتن من حيث القبول والرد”
(ইলমে মুসত্বলাহুল হাদীস হলো এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে সনদ ও মতনের অবস্থা জানা যায়—হাদীসটি গ্রহণযোগ্য (মাকবূল) নাকি বর্জনীয় (মারদূদ)।)

ইলমে মুসত্বলাহুল হাদীসের উদ্দেশ্য ও আলোচ্য বিষয়

উদ্দেশ্য (غرض): সহীহ ও বিশুদ্ধ হাদীসকে যয়ীফ ও জাল হাদীস থেকে পৃথক করা, যাতে শরীয়তের বিধান প্রণয়নে কেবল প্রামাণ্য হাদীসের ওপর নির্ভর করা যায় এবং বিভ্রান্তি প্রতিহত করা সম্ভব হয়।
আলোচ্য বিষয় (موضوع): গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনীয়তার মানদণ্ডে হাদীসের ‘সনদ’ (বর্ণনাকারী পরম্পরা) এবং ‘মতন’ (মূল বক্তব্য)।

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস

  1. নবীযুগ ও সাহাবী যুগ: এ যুগে মূলনীতির লিখিত রূপ ছিল না, কিন্তু মৌখিক সতর্কতা ছিল সর্বোচ্চ। সাহাবায়ে কেরাম বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য তলব করতেন (যেমন হযরত আবু বকর ও হযরত উমর রাযি.) অথবা শপথ নিতেন (যেমন হযরত আলী রাযি.)।
  2. তাবেয়ী যুগ ও ফিতনার সূচনা: হযরত উসমান (রাযি.)-এর শাহাদাত এবং রাজনৈতিক উপদল সৃষ্টির পর ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন: “سموا لنا رجالكم” (তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো), ফলে সনদের যাচাই শুরু হয়।
  3. গ্রন্থায়নের যুগ (তৃতীয় শতাব্দী): ইমাম শাফিয়ী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ‘আর-রিসালাহ’ (الرسالة) গ্রন্থে সর্বপ্রথম উসূলে হাদীসের মৌলিক শর্তাবলি (যেমন—মুত্তাসিল সনদ, রাবীর ন্যায়পরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তি) লিপিবদ্ধ করেন।
  4. স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে উন্মেষ (চতুর্থ শতাব্দী): সর্বপ্রথম কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুযী (মৃত্যু ৩৬০ হি.) ‘আল-মুহাদ্দিছুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়াঈ’ (المحدث الفاصل بين الراوي والواعي) রচনা করে এ শাস্ত্রকে স্বতন্ত্র রূপ দেন।
  5. পরবর্তী বিকাশ ও শিখর স্পর্শ: হাকিম নিশাপুরী ‘মা’রিফাতু উলূমিল হাদীস’, খতীব বাগদাদী ‘আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ’, ইবনুস সালাহ ‘মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ’ এবং হাফিজ ইবনে হাজার ‘নুখবাতুল ফিকার’ রচনা করে এ শাস্ত্রকে চূড়ান্ত পূর্ণতা দান করেন।

٢- ما الحديث المتواتر؟ بين شروطه وأقسامه وحكمه موضحا-

[২. হাদীসে মুতাওয়াতির কাকে বলে? এর শর্তাবলি, প্রকারভেদ ও হুকুম সুস্পষ্টভাবে আলোচনা কর।]

মুতাওয়াতির হাদীসের সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থ: ‘মুতাওয়াতির’ (المتواتر) শব্দটি তাওয়াতুর থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ একের পর এক বিরতিহীনভাবে আগমন করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: “هو ما رواه جمع غفير تحيل العادة تواطؤهم على الكذب عن مثلهم من أول السند إلى منتهاه وكان مستند انتهائهم الحس”
(যে হাদীসকে সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে এমন বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যাদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব এবং তাদের বর্ণনার ভিত্তি ছিল প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতি।)

মুতাওয়াতির হওয়ার শর্তাবলি

  1. বিপুল বর্ণনাকারী (جمع كثير): সনদের প্রতিটি স্তরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাবী থাকতে হবে (উসূলে ফিকাহবিদদের মতে সর্বনিম্ন ৪, ৫, ১০, ১২ বা তদূর্ধ্ব)।
  2. মিথ্যার অসম্ভবতা: বর্ণনাকারীদের সততা, ভিন্ন ভিন্ন বাসস্থান ও পরিস্থিতির কারণে তাদের একযোগে মিথ্যা রটনা করা স্বভাবত অসম্ভব হতে হবে।
  3. ধারাবাহিকতা: সনদের প্রথম স্তর (সাহাবী) থেকে শেষ স্তর (সংকলক) পর্যন্ত সকল স্তরেই এই সংখ্যাধিক্য বজায় থাকতে হবে।
  4. ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ভিত্তি (المستند الحسي): বর্ণনাটি যুক্তিভিত্তিক নয়, বরং দেখা (যেমন: سمعنا বা رأينا) বা শোনার মতো প্রত্যক্ষ অনুভূতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

মুতাওয়াতির হাদীসের প্রকারভেদ

প্রকার সংজ্ঞা প্রামাণ্য উদাহরণ
১. মুতাওয়াতিরে লাফযী (لفظي) যে হাদীসের মূল শব্দ ও অর্থ উভয়টিই অভিন্নভাবে বিপুল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস: “من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار” (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)। এটি ৬২ জনেরও বেশি সাহাবী থেকে বর্ণিত।
২. মুতাওয়াতিরে মা’নাবী (معنوي) যেসব বর্ণনার শব্দাবলি ভিন্ন কিন্তু একটি অভিন্ন মূল অর্থ বিপুল সূত্রে প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক দোয়ায় হাত ওঠানোর হাদীস। প্রায় ১০০টি পৃথক ঘটনায় হাত তোলার বিষয়টি প্রমাণিত।

মুতাওয়াতির হাদীসের হুকুম

মুতাওয়াতির হাদীস নিশ্চিত ও অকাট্য জ্ঞান (العلم اليقيني الضروري) প্রদান করে। এটি সরাসরি মানা ওয়াজিব এবং এর সত্যতা সূর্যের আলোর মতোই সন্দেহাতীত। মুতাওয়াতির হাদীসের কোনো বর্ণনাকারীর ব্যক্তিগত জীবনী বা বিশ্বস্ততা পরীক্ষা (জারহ-তা’দীল) করার প্রয়োজন হয় না, কারণ বিপুল সংখ্যাই তার সত্যতার প্রমাণ। মুতাওয়াতির হাদীস অস্বীকারকারী কাফির বলে গণ্য হতে পারে।


٣- عرف الحديث الصحيح والحسن والضعيف ثم اذكر شروط الحديث الصحيح-

[৩. হাদীসে সহীহ, হাসান ও যয়ীফের পরিচয় দাও। অতঃপর হাদীসে সহীহের শর্তাবলি উল্লেখ কর।]

সহীহ, হাসান ও যয়ীফের পরিচয়

  1. সহীহ হাদীস (الحديث الصحيح): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা বিদ্যমান, প্রত্যেক বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ (আদিল) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (তাম্মুদ দ্বাবত), এবং হাদীসটি কোনো গোপন ত্রুটি (শায) ও সূক্ষ্ম দোষ (ইল্লাত) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
  2. হাসান হাদীস (الحديث الحسن): সহীহ হাদীসের সমস্ত গুণাবলি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো স্তরের বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তি (দ্বাবত) সামান্য শিথিল বা হালকা হয়, তবে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়।
  3. যয়ীফ হাদীস (الحديث الضعيف): যে হাদীসে সহীহ বা হাসান হাদীসের গ্রহণযোগ্যতার আবশ্যকীয় শর্তাবলি অনুপস্থিত থাকে, তাকে যয়ীফ বা দুর্বল হাদীস বলে।

হাদীসে সহীহের পাঁচটি মৌলিক শর্ত

ইমাম ইবনুস সালাহ ও হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.) সহীহ হাদীসের জন্য ৫টি শর্ত নির্ধারণ করেছেন:

  1. ১. সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال السند): সংকলক থেকে শুরু করে রাসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত সনদের প্রতিটি রাবী তাঁর ঊর্ধ্বমুখী শায়খ থেকে সরাসরি শ্রবণ বা গ্রহণ করবেন; মাঝে কোনো রাবী উহ্য থাকতে পারবে না।
  2. ২. রাবীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الرواة): সনদের প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম, বিবেকবান, তাকওয়াসম্পন্ন হতে হবে; তিনি ফাসিকি, কবিরা গুনাহ এবং ব্যক্তিত্ব হানিকর আচরণ থেকে মুক্ত থাকবেন।
  3. ৩. পূর্ণ সংরক্ষণ ক্ষমতা (تمام الضبط): বর্ণনাকারীর স্মৃতিশক্তি হতে হবে নিখুঁত। তিনি যা শুনেছেন তা মুখস্থ রাখতে বা কিতাবে নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করতে পুরোপুরি সক্ষম হতে হবে।
  4. ৪. শায মুক্ত হওয়া (السلامة من الشذوذ): কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তাঁর চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বর্ণনাকারীদের বিবরণের বিপরীত বর্ণনা করতে পারবেন না।
  5. ৫. সূক্ষ্ম দোষমুক্ত হওয়া (السلامة من العلة القادحة): হাদীসের মধ্যে এমন কোনো গোপন ত্রুটি থাকা চলবে না যা আপাতদৃষ্টিতে সহীহ মনে হলেও গভীর পর্যালোচনায় হাদীসের বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে।

٤- عرف الخبر الضعيف والموضوع مع ذكر حكمهما- ثم بين أسباب وضع الحديث مفصلا-

[৪. খবরে যয়ীফ ও মাওযূ-এর পরিচয় এবং উভয়ের হুকুম উল্লেখ কর। অতঃপর হাদীস জালকরণের কারণসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]

যয়ীফ ও মাওযূ-এর পরিচয় ও হুকুম

১. খবরে যয়ীফ (الخبر الضعيف): যাতে সহীহ ও হাসানের শর্তাবলির ঘাটতি রয়েছে। এর হুকুম হলো—আকাইদ ও হালাল-হারামের বিধানে এটি গ্রহণযোগ্য নয়; তবে ফাযায়েলে আমল বা সৎকাজের উৎসাহ প্রদানে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ করা যায়।
২. খবরে মাওযূ বা জাল হাদীস (الخبر الموضوع): রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্বকপোলকল্পিত মিথ্যা রচনা করা। এর হুকুম হলো—এটি হাদীস নয়, চরমতম মিথ্যাচার। এর জালিয়াত সম্পর্কে অবগত হয়ে সতর্ক করা ব্যতীত সাধারণ মানুষের কাছে তা বর্ণনা করা সম্পূর্ণ হারাম।

হাদীস জালকরণের কারণসমূহ (أسباب وضع الحديث)

  1. ইসলামের ক্ষতিসাধন ও যিন্দিকদের ষড়যন্ত্র: ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের আকীদাহ বিকৃত করতে মিথ্যা হাদীস বানাত। যেমন আব্দুল করীম ইবনে আবিল আওজা ফাঁসির পূর্বে স্বীকার করেছিল যে সে চার হাজার জাল হাদীস তৈরি করেছিল।
  2. রাজনৈতিক ও মাযহাবী মতপার্থক্য: রাজনৈতিক দল (শিয়া, খারেজী) এবং অন্ধ মাযহাবী অনুসারীরা নিজেদের দলনেতা বা মতবাদের সমর্থনে জাল হাদীস তৈরি করত।
  3. নেক নিয়তে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ (জাহিল আবিদদের কাজ): একদল অজ্ঞ সূফী ও দরবেশ মানুষকে কুরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন সূরার বানোয়াট ফজিলত বানিয়ে প্রচার করত (যেমন নূহ বিন আবি মরিয়ম)।
  4. শাসকদের তোষামোদ ও পার্থিব সুবিধা লাভ: বাদশাহদের সন্তুষ্ট করে পুরস্কার লাভের উদ্দেশ্যে অনেকে জাল করত। যেমন গিয়াস বিন ইব্রাহিম খলিফা মাহদীর কবুতর ওড়ানো দেখে হাদীসে “أو جناح” (অথবা ডানা) শব্দটি যোগ করেছিল।
  5. কাহিনীকার ও বক্তাদের জনপ্রিয়তা অর্জন: পেশাদার ওয়ায়েজরা ওয়াজ মাহফিলে মানুষের আবেগ ও অশ্রু ঝরাতে চমকপ্রদ ও আজব গল্প বানিয়ে হাদীস হিসেবে চালাত।

٥- ما المراد بالسقط الظاهر في الإسناد؟ اذكر أنواع الحديث المردود بسبب السقط الظاهر في الإسناد مفصلا-

[৫. সনদে দৃশ্যমান বিচ্ছিন্নতা (আস-সাকত্বুয যাহির) দ্বারা কী বোঝায়? এর কারণে প্রত্যাখ্যাত (মারদূদ) হাদীসের প্রকারসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

আস-সাকত্বুয যাহিরের পরিচয়

হাদীসের সনদের বর্ণনাকারী পরম্পরা থেকে কোনো রাবীর নাম বাদ পড়াকে ‘সাকত্ব’ (سقط) বলা হয়। আর যে বাদ পড়া বা বিচ্ছিন্নতা শাস্ত্রীয় ইতিহাস ও রাবীর জন্ম-মৃত্যুর তারিখ পর্যালোচনার মাধ্যমে সহজেই ধরা পড়ে (যেমন—উভয়ের মাঝে সাক্ষাত অসম্ভব হওয়া), তাকে দৃশ্যমান বিচ্ছিন্নতা বা السقط الظاهر বলে।

দৃশ্যমান বিচ্ছিন্নতার কারণে মারদূদ হাদীসের প্রকারসমূহ

প্রকার সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য স্থান ও স্বরূপ
১. মুআল্লাক্ব (المعلق) সনদের শুরুর দিক থেকে (সংকলকের দিক) এক বা একাধিক রাবী ধারাবাহিকভাব বাদ পড়লে। যেমন ইমাম বুখারী বললেন: “وقال مالك عن نافع عن ابن عمر” (অথচ ইমাম বুখারী ও ইমাম মালিকের মাঝে এক স্তরের ব্যবধান রয়েছে)।
২. মুরসাল (المرسل) সনদের শেষ প্রান্ত থেকে সাহাবীর নাম বাদ দিয়ে কোনো তাবেয়ী সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করলে। যেমন প্রখ্যাত তাবেয়ী সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব বললেন: “قال رسول الله ﷺ…”।
৩. মু’দাল (المعضل) সনদের যেকোনো স্থান থেকে পরপর দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়লে। এটি অত্যন্ত দুর্বল হাদীস, কারণ মধ্যবর্তী একাধিক রাবীর অবস্থা অজ্ঞাত থেকে যায়।
৪. মুনক্বাতি’ (المنقطع) সনদের মাঝখান থেকে যেকোনো এক স্থানে একজন রাবী, অথবা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে একাধিক রাবী উহ্য থাকলে। এটিও এক প্রকার বিচ্ছিন্ন সনদ এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়।

٦- عرف التدليس مع ذكر حكمه وآراء المحدثين في قبول رواية المدلس بالإيضاح-

[৬. তাদলীসের পরিচয় দাও এবং এর হুকুম ও মুদাল্লিসের বর্ণনা গ্রহণের ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মতামত বিশদভাবে উল্লেখ কর।]

তাদলীসের সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থ: ‘তাদলীস’ (التدليس) শব্দটি এসেছে ‘দুলাস’ (الدلس) থেকে, যার অর্থ অন্ধকার। পণ্য বিক্রির সময় ক্রেতার কাছে পণ্যের দোষ গোপন করাকে তাদলীস বলে।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: সনদের কোনো গোপন দোষ বা দুর্বলতা আড়াল করে বাহ্যিকভাবে সনদকে চিত্তাকর্ষক ও শক্তিশালী রূপে উপস্থাপন করার নাম তাদলীস। প্রধানত তাদলীস দুই প্রকার: (১) তাদলীসুল ইসনাদ: সমসাময়িক শায়খ থেকে এমন বর্ণনা করা যা সরাসরি শোনেননি, অথচ দ্ব্যর্থবোধক শব্দ (যেমন قال বা عن) ব্যবহার করা; (২) তাদলীসুশ শুয়ূখ: নিজের শায়খের অপরিচিত নাম বা উপাধি দিয়ে বর্ণনা করা যাতে কেউ চিনতে না পারে।

তাদলীসের হুকুম

তাদলীস অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয় কাজ। ইমাম শু’বা (রহ.) তীব্র ভাষায় বলতেন: “التدليس أخو الكذب” (তাদলীস হলো মিথ্যার ভাই)। কারণ এতে তথ্য গোপন করা হয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

মুদাল্লিসের বর্ণনা গ্রহণের ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মতামত

  1. কঠোর অভিমত (مذهب الرد مطلقا): একদল মুহাদ্দিসের মতে, কোনো বর্ণনাকারী একবার তাদলীস করলে তার সমস্ত বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত হবে।
  2. উদার অভিমত: যদি মুদাল্লিস ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য হন, তবে তাঁর সমস্ত বর্ণনা গৃহীত হবে।
  3. অগ্রগণ্য ও জমহুর অভিমত (التفصيل المعتمد): অধিকাংশ মুহাক্কিক মুহাদ্দিসের মতে—
    • মুদাল্লিস রাবী যদি স্পষ্ট শ্রবণবোধক শব্দ (যেমন: سمعت বা حدثنا) ব্যবহার করেন, তবে তাঁর হাদীস গ্রহণযোগ্য (সহীহ)।
    • আর যদি তিনি সংশয়যুক্ত শব্দ (যেমন: عن বা قال) ব্যবহার করেন, তবে যতক্ষণ না অন্য সূত্রে তাঁর সরাসরি শ্রবণ প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ তাঁর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবে না।

٧- ما هو السند والإسناد؟ وضح العبارة الآتية: “الإسناد من الدين لولا الإسناد لقال من شاء ما شاء”-

[৭. সনদ ও ইসনাদ কী? “ইসনাদ দ্বীনের অংশ, যদি ইসনাদ না থাকত তবে যার যা ইচ্ছা তা-ই বলত”—উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।]

সনদ ও ইসনাদের পরিচয়

সনদ (السند): আভিধানিক অর্থ অবলম্বন বা ভিত্তি। পরিভাষায়—হাদীসের মূল বক্তব্য (মতন) পর্যন্ত পৌঁছানোর বর্ণনাকারী পরম্পরাকে (سلسلة الرجال الموصلة للمتن) সনদ বলে।
ইসনাদ (الإسناد): হাদীসকে তার মূল বক্তা পর্যন্ত বর্ণনাকারী পরম্পরা সহকারে সংযুক্ত করাকে ইসনাদ বলা হয়। বহু ক্ষেত্রে সনদ ও ইসনাদ সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের ঐতিহাসিক উক্তির ব্যাখ্যা

বিখ্যাত তাবে-তাবেয়ী ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন:
“الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء” (ইসনাদ হলো দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত)।

উক্তির তাৎপর্য ও বিশ্লেষণ:

  • দ্বীন সংরক্ষণের প্রাচীর: পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোতে সনদ না থাকার কারণে মানুষের মনগড়া কথা ধর্মে ঢুকে গিয়ে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মাদীকে ‘ইসনাদ’ নামক অনন্য নিয়ামত দান করেছেন, যা দিয়ে প্রতিটি বাণীর সত্যতা শত শত বছর ধরে যাচাই করা যায়।
  • স্বার্থান্বেষীদের অপচেষ্টা রোধ: যদি সনদ তলব করার নিয়ম না থাকত, তবে মিথ্যাবাদী, ভণ্ড ও কাফিররা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বানোয়াট কথাকে নবীজির বাণী বলে দাবি করত এবং সাধারণ মানুষ তা প্রতিরোধ করতে পারত না।
  • ঐতিহাসিক প্রামাণ্যতা: প্রতিটি তথ্যের উৎস অনুসন্ধান করার এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সমগ্র মানব ইতিহাসের একমাত্র ইসলামী উম্মাহর নিজস্ব অহংকার। তাই ইসনাদ রক্ষা করা সরাসরি দ্বীন রক্ষা করার শামিল।

٨- عرف المصطلحات الآتية: المعلق، الأثر، العزيز، العادل، المنقطع-

[৮. নিম্নোক্ত পরিভাষাগুলোর পরিচয় দাও: আল-মুআল্লাক্ব, আল-আছার, আল-আযীয, আল-আদিল, আল-মুনক্বাতি।]

  1. আল-মুআল্লাক্ব (المعلق): যে হাদীসের সনদের শুরু থেকে (গ্রন্থকারের দিক থেকে) এক বা একাধিক বর্ণনাকারীকে সম্পূর্ণ উহ্য রেখে সরাসরি ঊর্ধ্বমুখী শায়খ বা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাম উল্লেখ করা হয়, তাকে মুআল্লাক্ব হাদীস বলে।
  2. আল-আছার (الأثر): আভিধানিক অর্থ চিহ্ন বা অবশিষ্টাংশ। পরিভাষায়—সাহাবী ও তাবেয়ীগণের বাণী, কর্ম ও ফতোয়াকে সাধারণভাবে ‘আছার’ বলা হয়। অনেকে এটিকে হাদীসের সমার্থকও বলেন।
  3. আল-আযীয (العزيز): আভিধানিক অর্থ বিরল বা শক্তিশালী। পরিভাষায়—যে হাদীসের সনদের যেকোনো একটি স্তরে অন্ততপক্ষে দুইজন বর্ণনাকারী বিদ্যমান থাকেন (দুইয়ের কম নয়), তাকে হাদীসে আযীয বলে।
  4. আল-আদিল (العادل): এমন ব্যক্তি যিনি স্বভাবগতভাবে তাকওয়াসম্পন্ন, কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকেন, সগিরা গুনাহের ওপর অবিচল থাকেন না এবং সমাজের প্রচলিত মুরুওয়াত বা ব্যক্তিত্ব হানিকর আচরণ পরিহার করে চলেন। তাঁর বর্ণনা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য।
  5. আল-মুনক্বাতি’ (المنقطع): সনদের মাঝখান থেকে যেকোনো এক স্থানে একজন রাবীর নাম বিলুপ্ত হলে তাকে মুনক্বাতি’ হাদীস বলে। এটি এক প্রকার দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য হাদীস।

مجموعة (ب): সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: মান ৪ × ৫ = ২০)

٩- عرف الإسناد العالي مع ذكر أهميته-

[৯. ইসনাদে আলী-এর পরিচয় এবং এর গুরুত্ব উল্লেখ কর।]

ইসনাদে আলীর পরিচয়: যে সনদে বর্ণনাকারী এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মধ্যকার মধ্যবর্তী রাবীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়, তাকে ‘ইসনাদে আলী’ (العالي) বা উচ্চমানের সনদ বলে।
গুরুত্ব: মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীর সংখ্যা যত কম হবে, বর্ণনায় ভুলভ্রান্তি, বিস্মৃতি ও ত্রুটির সম্ভাবনা তত হ্রাস পাবে এবং হাদীসের নির্ভরযোগ্যতা তত বৃদ্ধি পাবে। মুহাদ্দিসগণ দূর-দূরান্তে সফর করে একটি স্তর কমিয়ে ইসনাদে আলী অর্জনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেন।


١٠- عرف الراوي- ثم بين وجوه الطعن في الراوي التي تتعلق بالضبط-

[১০. রাবীর পরিচয় দাও। অতঃপর রাবীর যব্ত (স্মৃতিশক্তি/সংরক্ষণ ক্ষমতা) সম্পর্কিত সমালোচনার দিকগুলো আলোচনা কর।]

রাবীর পরিচয়: যিনি সনদ সহকারে হাদীসের মতন অপর ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করেন, তাকে রাবী (الراوي) বা বর্ণনাকারী বলে।
যব্ত সম্পর্কিত ৫টি ত্রুটি (طعن في الضبط):
১. কাসরাতুল গাফলাহ (كثرة الغفلة): অসতর্কতা ও অমনোযোগিতার আধিক্য।
২. ফাহশুল গালাত (فحش الغلط): বর্ণনায় মাত্রাতিরিক্ত ভুল করা।
৩. ওয়াহাম (الوهم): ভ্রম ও সন্দেহের শিকার হয়ে মুরসালকে মাওসূল বা এক রাবীকে অন্য রাবী মনে করা।
৪. মুখালাফাতুস সিকাত (مخالفة الثقات): নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিপরীত বর্ণনা করা।
৫. সুউল হিফয (سوء الحفظ): দুর্বল স্মৃতিশক্তি, যার কারণে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করতে না পারা।


١١- اكتب آداب رواية الحديث-

[১১. হাদীস বর্ণনার আদব ও শিষ্টাচারসমূহ লেখ।]

হাদীস বর্ণনাকারীর জন্য নিম্নোক্ত আদবগুলো রক্ষা করা আবশ্যক:
১. একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীন প্রচারের খালেস নিয়তে হাদীস পাঠদান করা।
২. হাদীসের মজলিসে পবিত্রতা অর্জন করা, উত্তম পোশাক পরিধান করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা (যেমনটি ইমাম মালিক করতেন)।
৩. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণীর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা এবং উচ্চৈঃস্বরে কথা না বলা।
৪. শ্রোতাদের বোধগম্য ভাষায় ধীরে ধীরে স্পষ্ট উচ্চারণে হাদীস বর্ণনা করা।
৫. কোনো ভুল বা সন্দেহ হলে বিনম্র চিত্তে তা সংশোধন করা এবং যোগ্যতর আলেম উপস্থিত থাকলে তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া।


١٢- عرف الحديث المرسل بالمثال-

[১২. উদাহরণসহ হাদীসে মুরসাল-এর পরিচয় দাও।]

সংজ্ঞা: কোনো তাবেয়ী যদি সাহাবীর মাধ্যম উল্লেখ না করে সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দিকে সম্বন্ধ করে হাদীস বর্ণনা করেন, তবে তাকে হাদীসে মুরসাল (المرسل) বলে।
উদাহরণ: ইমাম সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহ.) বলেন:
“أن رسول الله ﷺ نهى عن بيع المزابنة” (নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ ﷺ মুযাবানা ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন)। এখানে তাবেয়ী ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মধ্যবর্তী সাহাবীর নাম উহ্য থাকায় এটি মুরসাল।


١٣- عرف المحدث والحافظ والحجة والحاكم-

[১৩. মুহাদ্দিস, হাফিজ, হুজ্জাহ ও হাকিম-এর পরিচয় দাও।]

পদবি শাস্ত্রীয় যোগ্যতা ও সংজ্ঞা
১. মুহাদ্দিস (المحدث) যিনি হাদীসের সনদ, মতন, রাবীগণের জীবনী এবং নির্ভরযোগ্যতার নিয়মাবলি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন।
২. হাফিজ (الحافظ) যিনি সনদ ও মতনসহ কমপক্ষে এক লক্ষ হাদীস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মুখস্থ ও আয়ত্ত করেছেন।
৩. হুজ্জাহ (الحجة) যিনি কমপক্ষে তিন লক্ষ হাদীস সনদ ও রাবীদের বিস্তারিত বিবরণসহ আয়ত্ত করেছেন।
৪. হাকিম (الحاكم) যিনি সনদের প্রায় সকল হাদীস এমনভাবে আয়ত্ত করেছেন যে খুব সামান্য হাদীসই তাঁর জ্ঞানের বাইরে রয়েছে।

١٤- بين حكم رواية الحديث الضعيف والعمل به-

[১৪. যয়ীফ হাদীস বর্ণনা করা ও তার ওপর আমল করার হুকুম আলোচনা কর।]

বর্ণনার হুকুম: জাল না হলে যয়ীফ হাদীস ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন’ এই নিশ্চিত বাক্য পরিহার করে “روي عنه” (বর্ণিত আছে) ইত্যাদি সতর্কতামূলক শব্দে বর্ণনা করা জায়েজ।
আমলের হুকুম: আকীদাহ ও হালাল-হারামের বিধানে যয়ীফ হাদীস প্রযোজ্য নয়। তবে হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানীর প্রদত্ত ৩টি শর্তে ফযিলতের ক্ষেত্রে আমল করা জায়েজ:
১. দুর্বলতা তীব্র বা চরম পর্যায়ের না হওয়া (যেমন রাবী কাযযাব বা মাতরূক না হওয়া)।
২. হাদীসটি শরীয়তের কোনো প্রতিষ্ঠিত সাধারণ মূলনীতির অধীনে হওয়া।
৩. আমল করার সময় এটি নবীজির নিশ্চিত বাণী হিসেবে দৃঢ়বিশ্বাস না রাখা, বরং সতর্কতামূলক আমল মনে করা।


١٥- ما المتابع والشاهد؟ بين بالأمثلة-

[১৫. মুতাবাঈ ও শাহিদ কাকে বলে? উদাহরণসহ স্পষ্ট কর।]

মুতাবাঈ (المتابع): কোনো বর্ণনাকারীর হাদীসের সাথে যদি অন্য কোনো সূত্রের রাবীর বর্ণনা একই সাহাবী থেকে মিলে যায়, তবে সেই সমার্থক সহায়ক বর্ণনাকে মুতাবাঈ বলে।
শাহিদ (الشاهد): যদি অন্য কোনো সূত্রে অন্য কোনো ভিন্ন সাহাবী থেকে মূল অর্থ সমর্থক হাদীস পাওয়া যায়, তবে তাকে শাহিদ বলে।
উদাহরণ: ইবনে উমর (রাযি.) বর্ণিত “الشهر تسع وعشرون” হাদীসটির সমর্থনে আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত অনুরূপ হাদীসটি হলো ‘শাহিদ’।


١٦- اذكر طرق تحمل الحديث بالإيجاز-

[১৬. হাদীস ধারণের পদ্ধতিসমূহ (তুরুক্বে তাহাম্মুলিল হাদীস) সংক্ষেপে উল্লেখ কর।]

মুহাদ্দিসগণের নিকট হাদীস গ্রহণের আটটি প্রামাণ্য পদ্ধতি নিম্নরূপ:
১. সামা’ (السماع): উস্তাদের মুখ থেকে সরাসরি শুনে গ্রহণ করা।
২. ক্বিরাআত (القراءة على الشيخ): উস্তাদের সামনে ছাত্র কর্তৃক পাঠ করে অনুমোদন নেওয়া।
৩. ইজাযত (الإجازة): উস্তাদ কর্তৃক নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট কিতাব বর্ণনার অনুমতি প্রদান।
৪. মুনাওয়ালাহ (المناولة): উস্তাদ স্বহস্তে ছাত্রকে কিতাব অর্পণ করে বর্ণনার অনুমতি দেওয়া।
৫. কিতাবাহ (المكاتبة): উস্তাদ কর্তৃক লিখে দূরবর্তী ছাত্রের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া।
৬. ই’লাম (إعلام الشيخ): উস্তাদ ছাত্রকে অবগত করা যে এটি আমার বর্ণিত হাদীস।
৭. ওয়াসিয়্যত (الوصية): মৃত্যুর সময় কারো জন্য হাদীসের কিতাব অসিয়ত করে যাওয়া।
৮. বিজাদাহ (الوجادة): উস্তাদের লিখিত পাণ্ডুলিপি নির্ভরযোগ্য সূত্রে খুঁজে পাওয়া।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

মুসত্বলাহুল হাদীস পাঠের মূল উদ্দেশ্য কী?

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামে প্রচলিত হাদীসসমূহের সনদ ও মতন পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে বিশুদ্ধ বর্ণনাকে দুর্বল ও জাল বর্ণনা থেকে পৃথক করাই এ শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।

সহীহ হাদীস হওয়ার প্রধান শর্ত কয়টি?

সহীহ হাদীসের মৌলিক শর্ত পাঁচটি: সনদের অবিচ্ছিন্নতা, বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা, পূর্ণ সংরক্ষণ ক্ষমতা, শায মুক্ত হওয়া এবং গোপন সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) থেকে মুক্ত থাকা।

মুতাওয়াতির হাদীসের হুকুম কী?

মুতাওয়াতির হাদীস নিশ্চিত ও অকাট্য জ্ঞান দান করে। এর ওপর আমল করা অপরিহার্য এবং কোনো পরীক্ষা ছাড়াই তা সরাসরি গ্রহণীয়।

তাদলীসকারী রাবীর হাদীস কি গ্রহণযোগ্য?

মুদাল্লিস রাবী যদি স্পষ্ট শ্রবণবোধক শব্দ (যেমন ‘হাদ্দাসানা’) দ্বারা বর্ণনা করেন তবে তা গৃহীত হবে, কিন্তু ‘আন’ বা অস্পষ্ট শব্দে বর্ণনা করলে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।

হাদীসের ক্ষেত্রে সনদ ও মতনের পার্থক্য কী?

রাসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত পৌঁছানোর বর্ণনাকারী পরম্পরাকে সনদ বলে, আর সনদের সমাপ্তিতে যে মূল বাণী বা বক্তব্য উচ্চারিত হয় তাকে মতন বলে।

যয়ীফ হাদীসের ওপর আমল করার বিধান কী?

আকাইদ ও হালাল-হারাম ব্যতীত কেবল ফাযায়েলে আমলের ক্ষেত্রে তিনটি শর্তে (চরম দুর্বল না হওয়া, মূল শরীয়তের অনুকূল হওয়া এবং দৃঢ় বিশ্বাস না রাখা) যয়ীফ হাদীসের ওপর আমল করা জায়েজ।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *