জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল হাদীস (Ulumul Hadith) – 201303, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪২ মিনিট পড়ার সময়
১০ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۴ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علوم الحديث
[উলূমুল হাদীস]
বিষয় কোড: ২০১৩০৩ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: اجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن اربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٥ × ٤ = ٦٠

١- عَرِّفْ عِلْمَ مُصْطَلَحِ الْحَدِيثِ – ثُمَّ بَيِّنْ نَشْأَتَهُ وَتَطَوُّرَهُ عَبْرَ الْقُرُونِ –

[১. উসূল বা মুসত্বালাহুল হাদীসের পরিচয় দাও। অতঃপর যুগ পরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

হাদীসের বিশুদ্ধতা রক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মুসলিম মনীষীগণ যে অনন্য বৈজ্ঞানিক শাস্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, তা ইসলামি জ্ঞানতত্ত্বে ‘ইলমু মুসত্বালাহিল হাদীস’ (علم مصطلح الحديث) বা ‘উলূমুল হাদীস’ নামে সুপরিচিত। বিশ্বের কোনো ধর্মে বা জাতির ইতিহাসে এমন সূক্ষ্ম ও প্রামাণ্য শাস্ত্রের নজির নেই।

মুসত্বালাহুল হাদীসের সংজ্ঞা

পারিভাষিক সংজ্ঞা: হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)-এর মতে: “ইলমু মুসত্বালাহিল হাদীস হলো এমন কতিপয় সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও মূলনীতির সমষ্টি, যার মাধ্যমে হাদীসের সনদ (বর্ণনাসূত্র) ও মতন (মূল বক্তব্য)-এর অবস্থা এবং তা গ্রহণ (মাকবুল) কিংবা বর্জন (মারদুদ) করার বিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।”

যুগ পরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

  1. নবীযুগ ও সাহাবীযুগ (বীজ বপন ও সতর্কতা): রাসূলুল্লাহ (স.)-এর জীবদ্দশায় সাহাবীগণ সরাসরি তাঁর থেকে দ্বীন শিখেছেন। তবে হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর এবং কারবালার ঘটনার পর যখন রাজনৈতিক ও দলগত বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে, তখন সাহাবায়ে কিরাম (যেমন ইবনে আব্বাস ও আবু বকর রা.) কোনো হাদীস গ্রহণের পূর্বে সাক্ষী ও কসম তলব করতেন।
  2. তাবেঈযুগ (ইসনাদ যাচাইয়ের সূচনা): ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.) ঘোষণা করেন: “পূর্বে মানুষ সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত না, কিন্তু ফিতনা দেখা দেওয়ার পর সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়।” এ যুগে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও ইমাম যুহরী (রহ.) হাদীস ও সনদের মূলনীতি চর্চা শুরু করেন।
  3. হিজরী দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতক (নিয়মতান্ত্রিক বিকাশ): এ যুগে ইমাম শাফেঈ (রহ.) তাঁর অমর গ্রন্থ ‘আর-রিসালাহ’-তে সর্বপ্রথম হাদীস সহীহ হওয়ার শর্তাবলি লিখিত রূপ দেন। এরপর ইমাম আহমাদ, আলী ইবনুল মাদীনী এবং ইমাম বুখারী ও মুসলিম (রহ.) ইলমে রিজাল ও ইললে হাদীসকে চূড়ান্ত মর্যাদায় উন্নীত করেন।
  4. হিজরী চতুর্থ শতক (স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে সংকলন): এ যুগে কাদী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুযী (মৃত্যু ৩৬০ হি.) সর্বপ্রথম উলূমুল হাদীসের ওপর স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেন: ‘আল-মুহাদ্দিছুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়াঈ’
  5. হিজরী পঞ্চম থেকে সপ্তম শতক (পূর্ণাঙ্গ সংকলন ও সংস্কার): খতীব বাগদাদী (রহ.) ‘আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ’ রচনা করে এ শাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করেন। এরপর হিজরী সপ্তম শতকে ইমাম ইবনুস সালাহ (রহ.) তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ ‘মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ’ রচনা করে উলূমুল হাদীসের ৬৫টি শাখাকে একত্রিত করেন।
  6. পরবর্তী যুগ (শরাহ ও তাহকীক): হাফেয ইরাকী, হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) রচিত ‘নুখবাতুল ফিকার’ ও তার ব্যাখ্যা ‘নুযহাতুন নাযার’ এবং ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর ‘তাদরীবুর রাবী’ এ শাস্ত্রকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

উপসংহার

ইলমু মুসত্বালাহিল হাদীস যুগ যুগ ধরে আল্লাহর রাসূল (স.)-এর পবিত্র সুন্নাহকে মানবীয় বিকৃতি থেকে অবিকৃত রাখার চিরন্তন দুর্গ হিসেবে কাজ করেছে।


٢- عَرِّفِ السَّنَدَ وَالْمَتْنَ – وَكَمْ قِسْمًا لِلْحَدِيثِ بِاعْتِبَارِ السَّنَدِ؟ بَيِّنْ بِالتَّفْصِيلِ –

[২. সনদ ও মতনের সংজ্ঞা দাও। সনদ অনুযায়ী হাদীস কত প্রকার ও কী কী? বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

সনদ ও মতনের সংজ্ঞা

প্রতিটি হাদীস দুটি মৌলিক অংশের সমন্বয়ে গঠিত: সনদ ও মতন।

  • আস-সানাদ (السَّنَد): শাব্দিক অর্থ ভরসা বা অবলম্বন। পারিভাষিক অর্থে, মূল বক্তব্য (মতন) পর্যন্ত পৌঁছার জন্য ধারাবাহিক বর্ণনাকারীদের যে পরম্পরা বা নামতালিকা উল্লেখ করা হয়, তাকে সনদ বলে। একে ইসনাদও বলা হয়।
  • আল-মাতন (الْمَتْن): শাব্দিক অর্থ শক্ত ও সুউচ্চ ভূমি। পারিভাষিক অর্থে, সনদের শেষ প্রান্তে যে মূল বাণী, কর্ম বা বিবরণ উল্লেখিত থাকে, তাকে মতন বলে।

সনদের পরিসমাপ্তি (منتهى السند) অনুযায়ী হাদীসের প্রকারভেদ

সনদের সমাপ্তি কার দিকে হয়েছে—তার ওপর ভিত্তি করে হাদীস প্রধানত চার প্রকার:

  1. হাদীসে কুদসী (الحديث القدسي): যে হাদীসের ভাষা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর কিন্তু এর অর্থ ও মর্ম সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণিত (যেমন: قال رسول الله فيما يرويه عن ربه)।
  2. হাদীসে মারফূ (الحديث المرفوع): যে হাদীসের সনদ বা সম্বন্ধ সরাসরি নবী করীম (স.) পর্যন্ত পৌঁছেছে—চাই তা তাঁর বাণী, কর্ম, মৌন সম্মতি বা গুণাবলি হোক। এটি সনদের দিক দিয়ে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ।
  3. হাদীসে মাওকূফ (الحديث الموقوف): যে হাদীসের সনদ কোনো সাহাবীর ওপর গিয়ে শেষ হয়েছে এবং তা রাসূল (স.) পর্যন্ত পৌঁছায়নি; অর্থাৎ যা কোনো সাহাবীর কথা বা আমল।
  4. হাদীসে মাক্বতূ (الحديث المقطوع): যে বর্ণনা কোনো তাবেঈ বা তাবে-তাবেঈর কথা বা কাজের বিবরণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

সনদের ধারাবাহিকতা ও সংযোগের দিক দিয়ে প্রকারভেদ

  • মুত্তাসিল (المتصل): যার সনদের প্রতিটি স্তরে রাবী সরাসরি তাঁর উস্তাদ থেকে শুনেছেন, কোনো ব্যক্তি মাঝে বাদ পড়েনি।
  • মুনকাতে (المنقطع): যার সনদের মাঝখান থেকে কোনো এক বা একাধিক রাবী বাদ পড়েছে।
  • মু’আল্লাক (المعلق): সনদের শুরু থেকে এক বা একাধিক রাবী বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • মুদাল (المعضل): সনদের মাঝখান থেকে পরপর দুইজন বা ততোধিক রাবী বাদ পড়েছে।
  • মুরসাল (المرسل): তাবেঈ সরাসরি সাহাবীর নাম বাদ দিয়ে রাসূল (স.)-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

٣- مَا مَعْنَى الْمُدَلَّسِ؟ وَكَمْ قِسْمًا لَهُ؟ وَمَا حُكْمُهُ؟ ثُمَّ بَيِّنِ الِاخْتِلَافَ بَيْنَ الْعُلَمَاءِ فِي قَبُولِ رِوَايَةِ الْمُدَلِّسِ –

[৩. মুদাদ্দাস-এর অর্থ কী? এটা কত প্রকার এবং এর হুকুম কী? অতঃপর মুদাদ্দাসের বর্ণনা গ্রহণ সম্পর্কে ওলামাদের মতভেদ বর্ণনা কর।]

মুদাদ্দাসের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ

শাব্দিক অর্থ: ‘মুদাদ্দাস’ শব্দটি ‘তাদ্লীস’ (التدليس) থেকে এসেছে। এর মূল ধাতু ‘দুলাস’ (الدلس) অর্থ অন্ধকার। বাণিজ্যের পরিভাষায় পণ্যের ত্রুটি গোপন করে ক্রেতাকে অন্ধকার বা বিভ্রান্তিতে ফেলার কাজকে তাদলীস বলে।

পারিভাষিক অর্থ: হাদীসশাস্ত্রে, “সনদের কোনো বাস্তব ত্রুটি বা দুর্বলতাকে গোপন করে বাহ্যিকভাবে সনদটিকে উত্তম ও ত্রুটিমুক্ত রূপ দেওয়ার অপচেষ্টাকে তাদলীস এবং উক্ত হাদীসকে মুদাদ্দাস বলা হয়।”

তাদলীসের প্রধান প্রকারভেদ

  1. তাদলীসুল ইসনাদ (تدليس الإسناد): রাবী তাঁর সমসাময়িক এমন কোনো উস্তাদ—যার সাথে তাঁর সাক্ষাৎ রয়েছে—তাঁর থেকে এমন কোনো হাদীস সরাসরি না শুনেও এমন দ্ব্যর্থবোধক শব্দে (যেমন: عن বা قال) বর্ণনা করেন যা শুনলে মনে হয় তিনি নিজেই সরাসরি শুনেছেন।
  2. তাদলীসুশ শুয়ূখ (تدليس الشيوخ): রাবী তাঁর উস্তাদকে এমন কোনো অপরিচিত নাম, উপাধি বা কুনিয়াত দিয়ে উল্লেখ করেন যার দ্বারা মানুষ তাঁকে চিনতে না পারে, যাতে উস্তাদের দুর্বলতা বা কম বয়সের বিষয়টি গোপন থাকে।
  3. তাদলীসুত তাসবিয়াহ (تدليس التسوية): সনদের দুই নির্ভরযোগ্য রাবীর মাঝে অবস্থিত একজন দুর্বল রাবীকে বাদ দিয়ে এমনভাবে সনদ সাজানো যাতে পুরো সনদটিই বিশ্বস্ত মনে হয়। এটি তাদলীসের নিকৃষ্টতম প্রকার।

মুদাদ্দাসের বর্ণনা গ্রহণের ব্যাপারে ওলামাদের মতভেদ

  • প্রথম মত (চরমপন্থী): যারা কোনো রাবী জীবনে একবারও তাদলীস করেছেন বলে প্রমাণিত হলে তাঁর কোনো হাদীসই আর গ্রহণ করেন না।
  • দ্বিতীয় মত (শিথিলপন্থী): সর্বাবস্থায় তাঁর রেওয়ায়েত গ্রহণ করা।
  • তৃতীয় মত (জমহুর মুহাদ্দিসীনদের মধ্যমপন্থা ও বিশুদ্ধতম সিদ্ধান্ত):

    যদি মুদাদ্দাস রাবী নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ) হন, তবে দেখতে হবে তিনি বর্ণনায় কী শব্দ ব্যবহার করেছেন:

    • যদি তিনি সরাসরি শ্রবণের সুস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করেন (যেমন: سمعت বা حدثنا), তবে তাঁর হাদীস সহীহ ও গ্রহণযোগ্য
    • আর যদি তিনি সন্দেহযুক্ত শব্দ ব্যবহার করেন (যেমন: عن বা قال), তবে তাঁর বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত ও অগ্রহণযোগ্য হবে।

٤- مَا هُوَ الْخَبَرُ الْمَقْبُولُ الْآحَادُ؟ وَكَمْ قِسْمًا لَهُ؟ بَيِّنْ كُلَّ قِسْمٍ بِالْأَمْثِلَةِ –

[৪. খবরে মাকবুল আহাদ কাকে বলে? এটা কত প্রকার? উদাহরণসহ প্রত্যেক প্রকারের বর্ণনা দাও।]

খবরে মাকবুল আহাদের সংজ্ঞা

যে আহাদ (মুতাওয়াতির নয় এমন) হাদীস শরিয়তের দলিল হিসেবে গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করেছে এবং যার ওপর আমল করা ওয়াজিব, তাকে ‘আল-খাবারুল মাকবুল’ (الخبر المقبول) বলা হয়।

খবরে মাকবুলের প্রকারভেদ

হাফেয ইবনে হাজার (রহ.)-এর মতে খবরে মাকবুল মূল বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধানত চার প্রকার:

  1. সহীহ লিযাতিহী (صحيح لذاته – স্বকীয়ভাবে বিশুদ্ধ): যে হাদীসে সনদের ধারাবাহিকতা, রাবীদের ন্যায়পরায়ণতা, পূর্ণ স্মৃতিশক্তি, বিরুদ্ধাচরণহীনতা ও সূক্ষ্ম দোষহীনতা—এই পাঁচটি শর্ত নিজ সনদের গুণেই পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান।

    উদাহরণ: ইমাম বুখারী বর্ণিত: إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ (সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)।
  2. সহীহ লিগায়রিহী (صحيح لغيره – অপরের সমর্থনে বিশুদ্ধ): মূলত এটি এমন একটি হাসান লিযাতিহী হাদীস, যার রাবীর স্মৃতিশক্তিতে সামান্য ঘাটতি ছিল, কিন্তু একাধিক ভিন্ন সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে সেই দুর্বলতা দূরীভূত হয়ে তা সহীহের স্তরে উন্নীত হয়েছে।

    উদাহরণ: মুহাম্মাদ ইবনে আমর বর্ণিত হাদীস: “যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর মনে না করতাম, তবে প্রতি নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।”
  3. হাসান লিযাতিহী (حسن لذاته – স্বকীয়ভাবে উত্তম): যে হাদীসের রাবীর সততা ও সনদের সংযোগ নিশ্চিত, কোনো ত্রুটি নেই, কেবল রাবীর স্মৃতিশক্তির মান সহীহ হাদীসের তুলনায় কিছুটা কম।

    উদাহরণ: বাহয ইবনে হাকীম তাঁর পিতা ও তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত বহু মাসায়েলের হাদীস।
  4. হাসান লিগায়রিহী (حسن لغيره – অপরের সমর্থনে উত্তম): এমন যয়ীফ হাদীস যার দুর্বলতা রাবীর মিথ্যাবাদিতা বা ফাসেকীর কারণে নয় বরং স্মৃতিশক্তির সামান্য ত্রুটি বা মুরসালের কারণে হয়েছিল, অতঃপর অন্য এক বা একাধিক সমপর্যায়ের সনদে তা সমর্থিত হয়ে গ্রহণের উপযোগী হয়েছে।

٥- مَا الْمُرَادُ بِالطَّعْنِ فِي الرَّاوِي؟ وَمَا أَسْبَابُ الطَّعْنِ؟ بَيِّنْ مُفَصَّلًا وَمُمَثَّلًا –

[৫. রাবীর ওপর অপবাদ বা ত্রুটি (আত-তা’ন ফির রাবী) দ্বারা কী উদ্দেশ্য? এর কারণগুলো কী কী? উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

আত-তা’ন ফির রাবী (الطعن في الراوي)-এর পরিচয়

উলূমুল হাদীসে ‘তা’ন ফির রাবী’ অর্থ হলো কোনো বর্ণনাকারীর সততা, ধার্মিকতা (আদালাত) কিংবা তাঁর স্মৃতিশক্তি ও মেধার (দ্বাবত) ওপর নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসগণের পক্ষ থেকে কোনো দোষ বা ত্রুটি চিহ্নিত করে তাঁর বর্ণনাকে প্রশ্নবিদ্ধ বা অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা।

তা’নের দশটি প্রধান কারণ (أسباب الطعن العشرة)

হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) তা’নের কারণসমূহকে দুটি প্রধান ভাগে মোট ১০টিতে বিন্যস্ত করেছেন:

(ক) রাবীর আদালাত বা সততার সাথে সংশ্লিষ্ট ৫টি কারণ:

  1. আল-কিযব (الكذب – মিথ্যাবাদিতা): রাসূলুল্লাহ (স.)-এর নামে জেনেশুনে মিথ্যা হাদীস রচনা করা। এরূপ রাবীর হাদীসকে ‘মওদূ’ (الموضوع) বলা হয়।
  2. আত-তুহমাতু বিল কিযব (التهمة بالكذب – মিথ্যাবাদিতার অপবাদ): সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যা বলার অভ্যাস থাকা। এরূপ রাবীর হাদীসকে ‘মাতরূক’ (المتروك) বলে।
  3. আল-ফিসক্ব (الفسق – পাপাচার): প্রকাশ্যে শরিয়তবিরোধী কবীরা গোনাহে লিপ্ত থাকা।
  4. আল-বিদআহ (البدعة – ধর্মীয় বিভ্রান্তি): আকিদাগত বিদআতে লিপ্ত হওয়া এবং তার দিকে মানুষকে আহ্বান করা।
  5. আল-জাহালাহ (الجهالة – অজ্ঞাতনামা হওয়া): রাবীর নাম, পরিচয় বা চরিত্র সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য আলেমদের অজ্ঞাত থাকা। এরূপ হাদীসকে ‘মুবহাম’ বলে।

(খ) রাবীর দ্বাবত বা স্মৃতিশক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট ৫টি কারণ:

  1. কাসরাতুল গালাত (كثرة الغلط – অতিরিক্ত ভুল করা): বর্ণনায় মাত্রাতিরিক্ত ভুলভ্রান্তি করা। এরূপ হাদীসকে ‘মুনকার’ (المنكر) বলে।
  2. শিদ্দাতুল গাফলাহ (شدة الغفلة – চরম অসচেতনতা): হাদীস গ্রহণের সময় উদাসীন থাকা।
  3. আল-ওয়াহম (الوهم – বিভ্রান্তি বা ভ্রান্তি): কোনো ভিত্তিহীন ধারণার বশবর্তী হয়ে সনদ বা মতনে গড়মিল করা। এর কারণে হাদীস ‘মুআল্লাল’ (المعلل) হয়।
  4. মুখালাফাতুস সিক্বাত (مخالفة الثقات – নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা): নিজের চেয়ে অধিকতর বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের বিপরীত বর্ণনা দেওয়া। ফলে হাদীস ‘শায’ (الشاذ) বা ‘মুদরাজ’ হয়।
  5. সু’উল হিফয (سوء الحفظ – স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা): বার্ধক্য বা অন্ধত্বের কারণে স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়া। এরূপ হাদীসকে ‘মুখতালিফ’ বলা হয়।

٦- الْمُتَابَعَةُ وَالشَّاهِدُ مَا هُمَا؟ وَمَا الْفَرْقُ بَيْنَهُمَا؟ وَكَمْ قِسْمًا لِلْمُتَابَعَةِ؟ وَمَتَى يُقَالُ ‘مِثْلَهُ’ وَمَتَى يُقَالُ ‘نَحْوَهُ’؟

[৬. আশ-শাহিদ ও আল-মুতাবাআহ কাকে বলে? উভয়ের মধ্যে পার্থক্য কী? মুতাবাআহ কত প্রকার? কখন ‘মিছলাহু’ এবং কখন ‘নাহওয়াহু’ বলা হয়?]

আল-মুতাবাআহ ও আশ-শাহিদের সংজ্ঞা

  • আল-মুতাবাআহ (المتابعة): কোনো একক বর্ণনাকারী যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, যদি একই সাহাবী থেকে অপর কোনো রাবীও সেই একই হাদীস বর্ণনা করে তাঁর সমর্থন জোগান, তবে সেই সহায়ক বর্ণনাকে ‘মুতাবাআহ’ বলা হয়।
  • আশ-শাহিদ (الشاهد): যদি মূল হাদীসের বক্তব্যকে অন্য কোনো পৃথক সাহাবী থেকে বর্ণিত অপর কোনো হাদীস সমর্থন করে, তবে সেই সাহায্যকারী রেওয়ায়েতকে ‘শাহিদ’ বলা হয়।

উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য

মুতাবাআতের ক্ষেত্রে মূল সাহাবী একজনই থাকেন, কেবল তাঁর অধস্তন রাবীদের মধ্যে সহায়ক পাওয়া যায়; অপরদিকে শাহিদের ক্ষেত্রে মূল সাহাবীই ভিন্ন হন।

মুতাবাআতের প্রকারভেদ

  1. মুতাবাআতে তাম্মাহ (متابعة تامة – পূর্ণাঙ্গ সমর্থন): যদি মূল রাবীর সরাসরি উস্তাদের স্তরেই অপর একজন বিশ্বস্ত রাবী তাঁর সাথে ঐক্যমত পোষণ করে হাদীসটি বর্ণনা করেন।
  2. মুতাবাআতে ক্বাছিরাহ (متابعة قاصرة – আংশিক সমর্থন): যদি সরাসরি উস্তাদের স্তরে নয়, বরং সনদের ওপরের কোনো স্তরে গিয়ে সমর্থন পাওয়া যায়।

‘মিছলাহু’ (مِثْلَهُ) এবং ‘নাহওয়াহু’ (نَحْوَهُ) ব্যবহারের নিয়ম

  • মিছলাহু (مثله – এর হুবহু অনুরূপ): মুহাদ্দিসগণ তখন বলেন যখন দ্বিতীয় সনদের হাদীসের শব্দ ও ভাষা পূর্ববর্তী হাদীসের সাথে শতভাগ অবিকল ও সমার্থক হয়।
  • নাহওয়াহু (نحوه – এর ভাবার্থের অনুরূপ): মুহাদ্দিসগণ তখন বলেন যখন দ্বিতীয় হাদীসের মূল ভাব ও মর্মার্থ একই থাকে কিন্তু শব্দ চয়নে সামান্য ভিন্নতা থাকে।

مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ٥ × ٤ = ٢٠

٧- مَا شُرُوطُ الشَّيْخَيْنِ فِي رِوَايَةِ الْحَدِيثِ؟

[৭. হাদীস বর্ণনায় ইমাম বুখারী ও মুসলিমের শর্তগুলো কী কী?]

শাইখাইন (ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম)-এর মূল শর্তাবলি

  1. সনদের ধারাবাহিক সংযোগ: উভয়ের নিকট সনদ সম্পূর্ণ মুত্তাসিল হতে হবে।
  2. রাবীর সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্যতা: উভয়েই কেবল শীর্ষ পর্যায়ের সিক্বাহ, আদেল ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন রাবীদের হাদীস গ্রহণ করেছেন।
  3. সাক্ষাৎ প্রমাণের পার্থক্য:
    • ইমাম বুখারীর শর্ত: রাবী ও তাঁর উস্তাদের মাঝে সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি জীবনে অন্তত একবার হলেও সরাসরি সাক্ষাৎ প্রমাণিত (ثبوت اللقاء) হতে হবে।
    • ইমাম মুসলিমের শর্ত: উভয়ের একই যুগের হওয়া (মুআসারাত) এবং পরস্পরের সাক্ষাৎ সম্ভবপর হওয়াই যথেষ্ট, যদি তারা তাদলীসের অপবাদমুক্ত হন।
  4. রাবীর স্তরের অগ্রাধিকার: বুখারী (রহ.) প্রথম স্তরের রাবীদের এবং মুসলিম (রহ.) দ্বিতীয় স্তরের রাবীদের রেওয়ায়েতও ব্যাপকভাবে স্থান দিয়েছেন।

٨- اكْتُبْ أَلْفَاظَ الْجَرْحِ بِالتَّرْتِيبِ –

[৮. আল-জারহ (রাবীর ত্রুটি প্রকাশক)-এর শব্দগুলো ধারাবাহিকভাবে লেখ।]

জারহের ছয়টি স্তর (তীব্রতা থেকে লঘুতায়)

  1. চরমতম স্তর (মিথ্যা রটনা): أَكْذَبُ النَّاسِ (মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী), رُكْنُ الْكَذِبِ (মিথ্যার মূল স্তম্ভ)।
  2. জালকারী বা মিথ্যুক: دَجَّالٌ (প্রতারক), وَضَّاعٌ (হাদীস জালকারী), كَذَّابٌ (মিথ্যাবাদী)।
  3. মিথ্যার অপবাদযুক্ত: مُتَّهَمٌ بِالْكَذِبِ (মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত), مَتْرُوكٌ (পরিত্যক্ত)।
  4. অত্যন্ত দুর্বল: مُنْكَرُ الْحَدِيثِ (হাদীস অস্বীকৃত), وَاهٍ جِدًّا (অত্যন্ত দুর্বল)।
  5. দলিলযোগ্য নয়: ضَعِيفٌ (দুর্বল), لَا يُحْتَجُّ بِهِ (এ দ্বারা দলিল দেওয়া যাবে না)।
  6. সামান্য শিথিলতা: فِيهِ مَقَالٌ (তার ব্যাপারে সমালোচনা আছে), لَيِّنُ الْحَدِيثِ (বর্ণনায় কিছুটা নমনীয়তা বা অসতর্কতা রয়েছে)।

٩- تَحَدَّثْ مَرَاتِبَ الصَّحِيحِ –

[৯. আস-সহীহ-এর স্তরগুলো আলোচনা কর।]

সহীহ হাদীসের সাতটি স্তর (উচ্চ থেকে নিম্নে)

  1. মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه): যে হাদীস ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম উভয়েই নিজ কিতাবে যৌথভাবে বর্ণনা করেছেন। এটি সর্বোচ্চ স্তরের সহীহ।
  2. কেবল ইমাম বুখারী বর্ণিত: যা কেবল বুখারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
  3. কেবল ইমাম মুসলিম বর্ণিত: যা কেবল মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
  4. উভয়ের শর্তানুযায়ী সহীহ: বুখারী ও মুসলিম কেউই উল্লেখ করেননি কিন্তু তাঁদের যৌথ শর্তানুযায়ী সহীহ (যেমন হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে এনেছেন)।
  5. কেবল বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ: বুখারীর একক শর্ত পূরণ করেছে এমন হাদীস।
  6. কেবল মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ: মুসলিমের একক শর্ত পূরণ করেছে এমন হাদীস।
  7. অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ইমামদের নিকট সহীহ: যা শাইখাইনের শর্তে নয় কিন্তু ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান বা তিরমিযীর শর্তে সহীহ।

١٠- مَا الضَّبْطُ؟ وَكَمْ قِسْمًا لَهُ؟ بَيِّنْ مُفَصَّلًا –

[১০. দ্বাবত কাকে বলে? এটা কত প্রকার? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

দ্বাবতের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

সংজ্ঞা: কোনো রাবী উস্তাদের কাছ থেকে হাদীস যেভাবে শুনেছেন বা গ্রহণ করেছেন, ঠিক সেভাবেই কোনো প্রকার বিকৃতি, সংযোজন বা বিয়োজন ছাড়া অপরিবর্তিত রেখে সংরক্ষণ করার নির্ভরযোগ্য সামর্থ্যকে ‘দ্বাবত’ (الضبط) বলে।

দ্বাবত দুই প্রকার:

  1. দ্বাবতুস সাদর (ضبط الصدر – স্মৃতিপটের হিফজ): হাদীস শ্রবণ করার মুহূর্ত থেকে শুরু করে অন্যের কাছে বর্ণনা করা পর্যন্ত মনের স্মৃতিপটে এমনভাবে মুখস্থ রাখা যাতে যে কোনো সময় চাইলে তিনি নির্ভুলভাবে তা বর্ণনা করতে পারেন।
  2. দ্বাবতুল কিতাব (ضبط الكتاب – পাণ্ডুলিপির সংরক্ষণ): উস্তাদের কাছ থেকে শুনে নিজের কিতাবে নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং সেই পাণ্ডুলিপিকে চুরি, অন্য কারও দ্বারা রদবদল বা নষ্ট হওয়া থেকে সযত্নে রক্ষা করা।

١١- مَا هُوَ الْخَبَرُ الْمَشْهُورُ؟ بَيِّنْ حُكْمَهُ –

[১১. খবরে মাশহুর কী? এর হুকুম বর্ণনা কর।]

সংজ্ঞা

যে হাদীসের সনদের প্রতিটি স্তরে কমপক্ষে তিনজন বা ততোধিক রাবী বর্ণনা করেছেন কিন্তু তা মুতাওয়াতির হাদীসের সীমায় (বিপুল সংখ্যায়) পৌঁছেনি, তাকে ‘খবরে মাশহুর’ (الخبر المشهور) বা ‘মুসতাফীয’ বলা হয়।

হুকুম

খবরে মাশহুর স্বতঃসিদ্ধভাবে সহীহ হওয়া আবশ্যক নয়। যদি এর সনদের শর্তাবলি পূরণ হয় তবে তা সহীহ হিসেবে আমলযোগ্য হবে, অন্যথায় হাসান বা যয়ীফও হতে পারে। হানাফী উসূলবিদদের মতে, খবরে মাশহুর দ্বারা কুরআনের সাধারণ আম বিধানকে খাস (নির্দিষ্ট) করা বা অতিরিক্ত শর্তারোপ করা জায়েজ।


١٢- عَلِّقْ عَلَى اثْنَيْنِ مِنَ التَّالِيَةِ : الْمَوْقُوفُ ، الْمُنْقَطِعُ ، الْمَتْرُوكُ ، الْحَافِظُ –

[১২. নিম্নোক্ত যে-কোনো দুটি শব্দের টীকা লেখ: আল-মাওকূফ, আল-মুনকাতে, আল-মাতরূক, আল-হাফেয।]

১. আল-মাওকূফ (الْمَوْقُوفُ)

যে বর্ণনা কোনো সাহাবীর কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি হিসেবে তাঁর ওপরই থেমে যায় এবং রাসূলুল্লাহ (স.) পর্যন্ত পৌঁছে না, তাকে হাদীসে মাওকূফ বলা হয়। এটি মূলত সাহাবীর ফতোয়া বা আমল। তবে সাহাবী যদি এমন কোনো গায়েবী বিষয় বলেন যা মানব বুদ্ধির অতীত, তবে তা হুকমান মারফূ (রাসূল স.-এর বাণী সমতুল্য) বলে গণ্য হয়।

২. আল-মুনকাতে (الْمُنْقَطِعُ)

যে হাদীসের সনদের মাঝখান থেকে কোনো একজন রাবী বাদ পড়ে যায় অথবা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে একাধিক রাবী বিচ্ছিন্নভাবে বাদ পড়ে যায়, তাকে মুনকাতে হাদীস বলা হয়। এটি সনদের বিচ্ছিন্নতার কারণে যয়ীফ হাদীসের একটি অন্যতম প্রকার।

৩. আল-মাতরূক (الْمَتْرُوكُ)

যে হাদীসের রাবী সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত অথবা তাঁর স্মৃতিতে চরম ভ্রান্তি ও ফাসেকী বিদ্যমান, তাঁর হাদীসকে মাতরূক (পরিত্যক্ত) বলে। মওদূ হাদীসের ঠিক পরেই এর অবস্থান এবং এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্তরের যয়ীফ।

৪. আল-হাফেয (الْحَافِظُ)

হাদীসশাস্ত্রের এক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ উপাধি। যে মনীষী সনদ ও মতনসহ লক্ষাধিক হাদীস মুখস্থ রাখেন এবং অধিকাংশ রাবীর জীবনী, গুণাগুণ, দোষ-ত্রুটি ও স্তর সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য রাখেন, তাঁকে ‘আল-হাফেয’ বলা হয় (যেমন হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী, হাফেয যাহাবী রহ.)।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উলূমুল হাদীস বিষয়ের বিষয় কোড কত?

আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উলূমুল হাদীস বিষয়ের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৩ এবং পরীক্ষা কোড হলো ২০৩।

২. উলূমুল হাদীসের ওপর সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র কিতাব কে রচনা করেন?

চতুর্থ হিজরীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস কাদী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুযী (রহ.) সর্বপ্রথম ‘আল-মুহাদ্দিছুল ফাসিল’ নামক স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেন।

৩. হাদীসে মুদাদ্দাস গ্রহণের ক্ষেত্রে জমহুর মুহাদ্দিসদের নীতি কী?

যদি মুদাদ্দাস রাবী বিশ্বস্ত হন এবং সরাসরি শ্রবণের শব্দ (যেমন حدثنا) ব্যবহার করেন তবে তা গ্রহণ করা হয়; কিন্তু ‘আন’ (عن) দিয়ে বর্ণনা করলে তা গৃহীত হয় না।

৪. খবরে মাকবুল মূলত কত প্রকার?

খবরে মাকবুল মূল বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে চার প্রকার: সহীহ লিযাতিহী, সহীহ লিগায়রিহী, হাসান লিযাতিহী এবং হাসান লিগায়রিহী।

৫. ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের শর্তের প্রধান পার্থক্য কী?

ইমাম বুখারী রাবী ও উস্তাদের মাঝে সরাসরি সাক্ষাৎ অকাট্য প্রমাণিত হওয়াকে শর্ত করেছেন; অপরদিকে ইমাম মুসলিম সমসাময়িক হওয়া এবং সাক্ষাৎ সম্ভবপর হওয়াই যথেষ্ট মনে করেছেন।

৬. হাদীসশাস্ত্রে ‘আল-হাফেয’ কাকে বলা হয়?

যিনি সনদ ও মতনসহ কমপক্ষে এক লক্ষ হাদীস মুখস্থ রাখেন এবং রাবীদের বিস্তারিত জীবনী ও দোষত্রুটি সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন, তাঁকে আল-হাফেয বলা হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *