ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن)
বিষয় কোড: ২০৩২০৫
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
مجموعة (أ) – ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলী
١- عرف علوم القرآن، واذكر نشأة هذا العلم ومراحل تدوينه وأهم المصنفات فيه-
[১. উলূমুল কুরআনের পরিচয় দাও, এর উৎপত্তি, সংকলনের পর্যায়সমূহ এবং এ শাস্ত্রের প্রধান প্রধান গ্রন্থাবলী উল্লেখ কর।]
ভূমিকা
পবিত্র কুরআন হলো মানবজাতির হিদায়াতের চিরন্তন সনদ। কুরআনের ভাষা, নাযিলের প্রেক্ষাপট, সংকলন, কিরাত, নাসিখ-মানসূখ, ই’জায ও তাফসীরের মতো বহুবিধ বৈজ্ঞানিক ও তত্ত্বীয় জ্ঞানকে সুসংহতভাবে আলোচনা করার শাস্ত্রীয় নামই হলো ‘উলূমুল কুরআন’।
১. উলূমুল কুরআনের সংজ্ঞা (تعريف علوم القرآن)
- আভিধানিক বিশ্লেষণ: ‘উলূম’ (علوم) শব্দটি ‘ইলম’ (علم) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞানসমূহ বা বিজ্ঞান। আর ‘আল-কুরআন’ (القرآن) হলো আল্লাহর নাযিলকৃত শাশ্বত কালাম।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা বদরুদ্দীন যারকাশী ও ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.)-এর মতে: “عُلُومُ الْقُرْآنِ هِيَ الْعُلُومُ الْمُتَعَلِّقَةُ بِالْقُرْآنِ الْكَرِيمِ مِنْ حَيْثُ نُزُولُهُ، وَتَرْتِيبُهُ، وَجَمْعُهُ، وَكِتَابَتُهُ، وَقِرَاءَتُهُ، وَتَفْسِيرُهُ، وَإِعْجَازُهُ، وَنَاسِخُهُ وَمَنْسُوخُهُ” অর্থাৎ, উলূমুল কুরআন হলো এমন একটি শাস্ত্র যার মধ্যে কুরআন নাযিল, সংকলন, বিন্যাস, কিরাত, তাফসীর, অলৌকিকত্ব, নাসিখ-মানসূখ, শানে নুযূল ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় সুবিন্যস্তভাবে আলোচনা করা হয়।
২. এ শাস্ত্রের উৎপত্তি ও সংকলনের পর্যায়সমূহ (نشأته ومراحل تدوينه)
- নবুওয়াত ও সাহাবী যুগ: প্রাথমিক যুগে উলূমুল কুরআন আলাদা গ্রন্থাকারে সংকলিত ছিল না। সাহাবীগণ নবীজী (সা.)-এর সরাসরি সান্নিধ্য ও তাঁদের নিজস্ব বিশুদ্ধ আরবি ভাষার যোগ্যতায় কুরআন সরাসরি বুঝতেন।
- তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ী যুগ (হি. ২য়-৩য় শতাব্দী): আজমীদের মধ্যে ইসলাম বিস্তারের ফলে কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ে পৃথক পৃথক গ্রন্থ রচিত হতে থাকে। যেমন—আলী ইবনুল মাদীনী রচনা করেন আসবাবুন নুযূল, আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম রচনা করেন আন-নাসিখ ওয়াল মানসূখ ও ফাযায়েলুল কুরআন।
- স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে সংকলন (হি. ৭ম শতাব্দী ও পরবর্তী): বিভিন্ন শাখা-প্রশাখাকে একত্র করে একটি সমন্বিত শাস্ত্র হিসেবে ‘উলূমুল কুরআন’ সংকলিত হয়। সর্বপ্রথম আবু বকর আল-আদফাবী (মৃত্যু ৩৮৮ হি.) আল-ইসতিগনা ফি উলূমিল কুরআন রচনা করেন।
৩. উলূমুল কুরআনের প্রধান প্রধান ঐতিহাসিক গ্রন্থাবলী (أهم المصنفات)
- আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন (البرهان في علوم القرآن): ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী (রহ.) (মৃত্যু ৭৯৪ হি.) রচিত এক সুবিশাল আকর গ্রন্থ, যাতে উলূমুল কুরআনের ৪৭টি শাখা আলোচনা করা হয়েছে।
- আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন (الإتقان في علوم القرآن): ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) (মৃত্যু ৯১১ হি.) রচিত এক অতুলনীয় ও প্রামাণ্য বিশ্বকোষ, যেখানে ৮০টি বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা সন্নিবেশিত হয়েছে।
- মানাহিলুল ইরফান ফি উলূমিল কুরআন: আধুনিক যুগের প্রখ্যাত মিসরীয় গবেষক মুহাম্মদ আব্দুল আজিম যারকানী রচিত এক যুগান্তকারী গবেষণাধর্মী গ্রন্থ।
- মাবাহিস ফি উলূমিল কুরআন: ড. মান্না আল-কাত্তান রচিত সমকালীন বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক পঠিত পাঠ্যবই।
উপসংহার
উলূমুল কুরআন হলো পবিত্র কুরআনের সঠিক মর্ম অনুধাবনের প্রবেশদ্বার। এই শাস্ত্রের জ্ঞান ব্যতীত কুরআনের যথাযথ তাফসীর করা অসম্ভব।
٢- تحدث عن الوحي: معناه لغة واصطلاحاً، وكيفية نزوله على رسول الله ﷺ، ودفع الشبهات حوله-
[২. ওহীর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ওহী নাযিলের পদ্ধতিসমূহ আলোচনা কর এবং এ সংক্রান্ত সংশয় নিরসন কর।]
ভূমিকা
ইসলামের সকল আকীদা ও শরীয়তের মূল ভিত্তি হলো ওহী। ওহী হলো সৃষ্টি ও স্রষ্টার মধ্যবর্তী যোগাযোগের একমাত্র নির্ভুল ও অকাট্য ঐশী মাধ্যম।
১. ওহীর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
- আভিধানিক অর্থ: আরবি ‘আল-ওয়াহী’ (الوحي) শব্দের অর্থ অতি গোপনে ও দ্রুততার সাথে অপরের কাছে কোনো বার্তা বা ইঙ্গিত পৌঁছে দেওয়া (الإعلام السريع الخفي)।
- পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহ তাঁর মনোনীত কোনো নবী বা রাসূলের কাছে মানবজাতির দিকনির্দেশনার জন্য কোনো হুকুম বা বার্তা সরাসরি কিংবা ফেরেশতার মাধ্যমে অতি গোপনে প্রেরণ করাকে ওহী বলা হয়।
২. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ওহী নাযিলের বিভিন্ন পদ্ধতি (كيفية نزول الوحي)
সহীহ বুখারীর ১ম হাদিস অনুযায়ী ওহী মূলত বিভিন্ন পন্থায় অবতীর্ণ হতো:
- ঘণ্টাধ্বনির মতো ওহী (مثل صلصلة الجرس): এটি ছিল নবীজীর জন্য সবচেয়ে কষ্টকর মাধ্যম। প্রচণ্ড শব্দের মতো গমগম আওয়াজ হতো এবং ওহীর ভারে তীব্র শীতেও তাঁর কপাল থেকে মুক্তার দানার মতো ঘাম ঝরত। ওহী সমাপ্ত হলে তিনি তা সম্পূর্ণ মুখস্থ পেতেন।
- ফেরেশতার মানব রূপ ধারণ: হযরত জিবরাঈল (আ.) মানুষের রূপ ধরে আসতেন। অধিকাংশ সময় তিনি সুন্দর অবয়বের সাহাবী হযরত দিহয়া কালবী (রা.)-এর বেশে আগমন করতেন (যেমন হাদীসে জিবরাঈল)।
- জিবরাঈল (আ.)-এর আসল রূপ দর্শন: সমগ্র দিগন্ত বিস্তৃত ছয়শত ডানাবিশিষ্ট আসমানী মূল অবয়বে জিবরাঈল (আ.)-কে দর্শন। নবুওয়াতি জীবনে নবীজী দুইবার এই রূপে দেখেছেন—একবার হেরাগুহা থেকে ফেরার পথে, আরেকবার মেরাজের রাতে সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে।
- সত্য স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة): নবুওয়াতের প্রারম্ভে ছয় মাস নবীজী যে স্বপ্ন দেখতেন তা সকালের সূর্যের আলোর মতো বাস্তবায়িত হতো।
- অন্তরে প্রক্ষিপ্ত হওয়া (النفث في الروع): ফেরেশতা দৃষ্টিগোচর না হয়ে সরাসরি নবীজীর পবিত্র অন্তরে আল্লাহর বাণী স্থাপন করে দেওয়া।
- পর্দার অন্তরাল থেকে সরাসরি কথোপকথন: মেরাজের রাতে কোনো মাধ্যম ছাড়া সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলা।
৩. ওহী সংক্রান্ত প্রাচ্যবিদদের সংশয় নিরসন (دفع الشبهات)
- মৃগীরোগের অপবাদ খণ্ডন: ওরিয়েন্টালিস্টরা দাবি করে ওহী ছিল মৃগীরোগের আবেশ। অথচ মৃগীরোগে মানুষের স্মরণশক্তি ও চিন্তাশক্তি লোপ পায়, প্রলাপ বকে; কিন্তু নবীজীর ওপর ওহী নাযিলের পর তিনি এমন সাহিত্যসমৃদ্ধ, বিজ্ঞানসম্মত ও নিখুঁত আইনসংবলিত কুরআন পরিবেশন করতেন যা বিশ্বের কোনো কবি-সাহিত্যিক মিলাতে পারেনি।
- হ্যালুসিনেশন বা কল্পনার অভিযোগ খণ্ডন: ওহীর সময় তাঁর সাথে থাকা সাহাবীগণও বিভিন্ন আলামত প্রত্যক্ষ করতেন—যেমন তাঁর উটনী ওহীর ভারে বসে যেত, পাশে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শোনা যেত এবং দিহয়া কালবীর বেশে জিবরাঈলকে অনেক সাহাবীও দেখেছেন। অতএব এটি কোনো কাল্পনিক ঘটনা ছিল না।
উপসংহার
ওহী হলো নিখাদ খোদায়ী মহাসত্য, যার বিশুদ্ধতা ও সংরক্ষণ স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে নিশ্চিত করেছেন।
٣- اكتب عن جمع القرآن الكريم وتدوينه في عهد النبي ﷺ وأبي بكر وعثمان رضي الله عنهما-
[৩. নবীজী (সা.), হযরত আবু বকর এবং হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে পবিত্র কুরআন সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণের ইতিহাস লেখ।]
ভূমিকা
পবিত্র কুরআন পৃথিবীর একমাত্র ঐশী কিতাব যা অক্ষুণ্ণ ও অবিকৃত অবস্থায় কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন: “إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ” (নিশ্চয় আমিই এই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক—সূরা আল-হিজর: ৯)। তবে এই ঐশী সংরক্ষণের পেছনে মানবীয় তিনটি ঐতিহাসিক সংকলন প্রক্রিয়া ভূমিকা রেখেছিল।
১. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কুরআন সংকলন ও সংরক্ষণ
- মুখস্থকরণের মাধ্যমে (في الصدور): এটিই ছিল প্রধান মাধ্যম। নবীজী নিজে ওহী মুখস্থ করতেন এবং হাজার হাজার সাহাবী পূর্ণ কুরআন ও বিভিন্ন অংশ হিফজ করেছিলেন।
- লিখিত আকারে সংরক্ষণ (في السطور): যখনই কোনো আয়াত নাযিল হতো, নবীজী ওহী লেখকদের (কাতিবুল ওহী—যেমন যায়েদ ইবনে সাবিত, আলী, উবায় ইবনে কা’ব প্রমুখ) ডেকে তা নির্দিষ্ট সূরার অমুক স্থানে রাখার হুকুম দিতেন। এগুলো খেজুরের ডাল, পাথরের ফলক, চামড়ার টুকরা ও চওড়া হাড়ে লিখে রাখা হতো। তবে সে যুগে সমগ্র কুরআন একটি বাঁধাইকৃত কিতাবে সংকলিত ছিল না, কারণ ওহী নাযিল তখনো অব্যাহত ছিল।
২. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর আমলে সংকলন (১২ হিজরি)
- পটভূমি: ইয়ামামার যুদ্ধে ভণ্ড নবী মুসায়লামার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রায় ৭০ জন শীর্ষস্থানীয় হাফেজে কুরআন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন। এতে হযরত উমর (রা.) গভীরভাবে শঙ্কিত হয়ে খলিফা আবু বকর (রা.)-কে সমগ্র কুরআন এক মলাটে গ্রন্থাকারে সংকলনের প্রস্তাব দেন।
- সংকলন প্রক্রিয়া: হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠিত হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রে দুটি প্রমাণ চাওয়া হতো—সাহাবীদের স্মৃতি থেকে মুখস্থ পাঠ এবং নবীজীর সামনে সরাসরি লিখিত রূপের দুজন চাক্ষুষ সাক্ষী। এভাবে তৈরি করা হয় মূল প্রামাণ্য পাণ্ডুলিপি, যা আবু বকর (রা.) ও পরে উমর (রা.) এবং উমর (রা.)-এর ওফাতের পর উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.)-এর হেফাজতে রক্ষিত থাকে।
৩. হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর আমলে কুরআনের প্রমিতকরণ (২৫ হিজরি)
- পটভূমি: আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান অভিযানে সিরিয়া ও ইরাকের মুসলিম সেনাদের মধ্যে বিভিন্ন কিরাত ও উপভাষা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। সেনাপতি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) মদিনায় এসে খলিফাকে উম্মাহর মধ্যে মতভেদের ভয়াবহতা অবহিত করেন।
- পদক্ষেপ: হযরত উসমান (রা.) হাফসা (রা.)-এর কাছ থেকে মূল সহীফাটি আনেন এবং যায়েদ ইবনে সাবিত, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর, সাঈদ ইবনুল আস ও আব্দুর রহমান ইবনুল হারিস (রা.)-কে নিয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে কুরাইশ উপভাষার ভিত্তিতে হুবহু ৭টি বা ৮টি প্রমিত অনুলিপি তৈরি করান। এই কপিগুলো মক্কা, মদিনা, বসরা, কুফা, দামেস্ক ও ইয়েমেনে প্রেরণ করেন এবং ব্যক্তিগত অন্যান্য অসম্পূর্ণ বা ব্যাখ্যামূলক কপিগুলো আগুনে পুড়িয়ে অভিন্ন পাঠ নিশ্চিত করেন। এজন্য তাঁকে ‘জামেউল কুরআন’ (جامع القرآن) বলা হয়।
উপসংহার
সাহাবায়ে কেরামের এই অনন্য ও সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার ফলেই আজ হাজার বছর পরও পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের কুরআনের একটি নুক্তা বা হরকতেও কোনো তফাত নেই।
٤- بين المكي والمدني: تعريفه، وضوابطه، وخصائص كل منهما، وفوائد معرفته-
[৪. মাক্কী ও মাদানী সূরার সংজ্ঞা, নির্ণয়ের মূলনীতি, বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর জ্ঞান অর্জনের উপকারিতা বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
কুরআনের সূরা ও আয়াতসমূহকে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক প্রেক্ষিতে দুটি প্রধান ধারায় বিন্যস্ত করা হয়েছে—মাক্কী ও মাদানী। এটি উলূমুল কুরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১. মাক্কী ও মাদানীর সংজ্ঞা (تعريف المكي والمدني)
ওলামায়ে কেরামের নিকট সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সর্বসম্মত মত হলো সময়ভিত্তিক সংজ্ঞা:
- মাক্কী (المكي): হিজরতের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর নাযিলকৃত সকল আয়াত ও সূরা মাক্কী—তা মক্কায় নাযিল হোক বা মক্কার বাইরে (যেমন তায়েফ, হুদাইবিয়া বা মিরাজের রাতে)।
- মাদানী (المدني): হিজরতের পর নাযিলকৃত সকল আয়াত ও সূরা মাদানী—তা মদিনায় নাযিল হোক বা মদিনার বাইরে (এমনকি মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় বা বিদায় হজে আরাফাতের ময়দানে নাযিল হলেও তা মাদানী)।
২. মাক্কী ও মাদানী সূরার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (الخصائص والضوابط)
- মাক্কী সূরার বৈশিষ্ট্য:
- আকীদা, তাওহীদ, রিসালাত, কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা প্রাধান্য পায়।
- শব্দচয়ন অত্যন্ত জোরালো, শক্তিশালী, প্রাঞ্জল ও ছন্দময়। আয়াতগুলো অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত।
- পৌত্তলিকদের কুসংস্কার খণ্ডন এবং পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহের ইতিহাস বর্ণনা।
- সাধারণত সম্বোধনে “يَا أَيُّهَا النَّاسُ” (হে মানবজাতি!) ব্যবহৃত হয়েছে।
- যে সূরায় সিজদার আয়াত এবং ‘কাল্লা’ (كَلَّا) শব্দ আছে তা নিশ্চিতভাবে মাক্কী।
- মাদানী সূরার বৈশিষ্ট্য:
- শরীয়তের ব্যবহারিক বিধিবিধান—সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ, জিহাদ, হুদুদ ও পারিবারিক আইনের বিস্তারিত বর্ণনা।
- আয়াত ও সূরাগুলো অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ও ব্যাখ্যাধর্মী।
- আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) এবং মুনাফিকদের মুখোশ উন্মোচন ও তাদের সাথে বিতর্ক।
- সাধারণত মুমিনদের প্রতি সম্বোধনে “يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا” (হে মুমিনগণ!) ব্যবহৃত হয়েছে।
৩. মাক্কী-মাদানী জ্ঞানের উপকারিতা (فوائد معرفته)
- নাসিখ ও মানসূখ নির্ণয়: পরবর্তী মাদানী বিধান দ্বারা পূর্ববর্তী মাক্কী সাময়িক বিধান রহিত হয়েছে কিনা তা জানা যায়।
- শরীয়তের ক্রমবিকাশ ও হেকমত অনুধাবন: কীভাবে ধাপে ধাপে মানুষের মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করে বিধান কার্যকর করা হয়েছে (যেমন মদের নিষেধাজ্ঞা) তা জানা যায়।
- দাওয়াতি কৌশলের পথনির্দেশ: সমকালীন সমাজে আগে আকীদা সংস্কার করতে হবে না বিধিবিধান দিতে হবে, তার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
উপসংহার
মাক্কী ও মাদানী সূরার সঠিক জ্ঞান কুরআনের তফসীর ও ফিকহী ইস্তিম্বাতের অপরিহার্য শর্ত।
٥- تحدث عن أسباب النزول: أهميتها، وطرق معرفتها، وقاعدة “العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب”-
[৫. শানে নুযূলের গুরুত্ব, জানার উপায় এবং “শব্দের ব্যাপকতাই বিবেচ্য, বিশেষ কারণ নয়”—এই উসূলটি ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা
কুরআনের অনেক আয়াত কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, সাহাবীদের উত্থাপিত প্রশ্ন বা সমকালীন সমস্যার সমাধান হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ‘আসবাবুন নুযূল’ বা শানে নুযূল বলা হয়।
১. শানে নুযূল জানার গুরুত্ব (أهمية معرفة سبب النزول)
- আয়াতের সঠিক মর্মোদ্ধার: অনেক আয়াতের বাহ্যিক শব্দ জটিল মনে হলেও তার পেছনের প্রেক্ষাপট জানলে অর্থ সূর্যের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন ইমাম ওয়াহিদী বলেন: “শানে নুযূল ও ঘটনা অবগত না হয়ে কোনো আয়াতের তাফসীর করা অসম্ভব।”
- হুকুমের অন্তর্নিহিত হিকমত অনুধাবন: আল্লাহ কেন এই বিধান দিলেন তার পেছনের ন্যায়পরায়ণতা ও কল্যাণবোধ স্পষ্ট হয়।
- সংশয় ও ভুল ব্যাখ্যার অপনোদন: সূরা বাকারার ১১৫ নম্বর আয়াত “فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ” দেখে কেউ যেন মনে না করে যে যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে মুখ করে নামায পড়া যায়; বরং এর শানে নুযূল জানা থাকলে বোঝা যায় এটি সফরকালীন নফল সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২. শানে নুযূল জানার প্রামাণ্য উপায় (طرق معرفته)
শানে নুযূল মানুষের যুক্তি, কিয়াস বা অনুমানের বিষয় নয়। এটি জানার একমাত্র উপায় হলো সহীহ সূত্রে বর্ণিত সাহাবী ও তাবেয়ীগণের প্রত্যক্ষ রেওয়ায়েত। কারণ সাহাবায়ে কেরাম ওহী নাযিলের চাক্ষুষ প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
৩. বিখ্যাত উসূল: “العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب”
উসূলে তাফসীরের এক সর্বসম্মত কালজয়ী মূলনীতি হলো—“আল-ইবরাতু বি-উমুমিল লাফযি লা বি-খুসূসিস সাবাব”। অর্থাৎ, কোনো আয়াত নাযিলের পেছনে কোনো বিশেষ কারণ বা ব্যক্তি থাকলেও বিধানটি কেবল সেই ব্যক্তির জন্য সীমিত থাকবে না, বরং শব্দের ব্যাপকতার ভিত্তিতে কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
উদাহরণ: ব্যভিচারের অপবাদের শাস্তি (কযফ) এবং লি’আনের আয়াতসমূহ হেলাল ইবনে উমাইয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হলেও এর বিধান কিয়ামত পর্যন্ত সকল মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনুরূপভাবে চুরির শাস্তির আয়াত নির্দিষ্ট এক চোরের চুরির ঘটনায় নাযিল হলেও তা সকল চোরের জন্য সাধারণ আইন।
উপসংহার
শানে নুযূল কুরআনকে বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করে জীবন্ত ও গতিশীল রূপ প্রদান করে।
٦- اكتب عن إعجاز القرآن الكريم: معناه، ووجوه الإعجاز (البياني، العلمي، التشريعي، الغيبي)-
[৬. কুরআনের ই’জাযের (মুজিযা) অর্থ এবং এর বিভিন্ন দিক (আলংকারিক, বৈজ্ঞানিক, আইনগত ও ভবিষ্যৎবাণীমূলক) আলোচনা কর।]
ভূমিকা
কুরআনুল কারীম সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন্ত অলৌকিক মুজিযা। এর সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিধান ও ভবিষ্যৎবাণী মানবজাতিকে চিরকালের জন্য হতবাক ও অক্ষম করে দিয়েছে।
১. ই’জাযের অর্থ (مفهوم الإعجاز)
‘ই’জায’ (الإعجاز) শব্দের অর্থ অক্ষম করা, অপারগ করে দেওয়া। শরীয়তের পরিভাষায়, নবী ও রাসূলগণের দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য নবুওয়াতের সাথে সংগতিপূর্ণ এমন অলৌকিক নিদর্শন প্রদর্শন করা, যার অনুরূপ কোনো কিছু উপস্থাপনে মানবজাতি সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে যায়। কুরআন মক্কার বাঘা বাঘা কবি-সাহিত্যিকদের অনুরূপ একটি সূরাও বানিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল, কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ তা পারেনি।
২. কুরআনের ই’জাযের প্রধান প্রধান দিকসমূহ (وجوه الإعجاز)
- ১. আলংকারিক ও সাহিত্যিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز البياني):
কুরআনের শব্দচয়ন, ব্যাকরণিক সৌন্দর্য, প্রাঞ্জলতা, সুরঝংকার ও বালাগাত এত উচ্চমানের যে চরম শত্রু কাফেররাও এর তিলাওয়াত শুনে স্তব্ধ হয়ে যেত। উতবা ইবনে রাবীআ কুরআনের কিছু আয়াত শুনেই কাঁপতে কাঁপতে ফিরে গিয়ে বলেছিল: “এটি কোনো মানুষের কথা হতে পারে না।”
- ২. বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي):
আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে যখন বিজ্ঞানের কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না, তখন কুরআন এমন সব মহাজাগতিক সত্য উন্মোচন করেছে যা বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করছে। যেমন—মহাবিশ্ব সৃষ্টির মহাবিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং), মহাবিশ্বের ক্রমাগত সম্প্রসারণ (সূরা যারিয়াত: ৪৭), মাতৃগর্ভে ভ্রূণের নিখুঁত পর্যায়ক্রমিক বিকাশ (সূরা আল-মুমিনূন: ১২-১৪), এবং পর্বতমালার পেরেকসদৃশ ভারসাম্য বিধান।
- ৩. আইনগত ও বিধানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز التشريعي):
কুরআন মানবজাতিকে এমন এক সুবিচারপূর্ণ, ভারসাম্যময় ও চিরন্তন সংবিধান উপহার দিয়েছে, যার পারিবারিক, অর্থনৈতিক (সুদমুক্ত অর্থনীতি, যাকাত), বিচারিক ও রাষ্ট্রীয় আইন আধুনিক কোনো মানব-রচিত আইনের চেয়ে কোটি গুণ শ্রেষ্ঠ ও শান্তির নিশ্চয়তাদাতা।
- ৪. ভবিষ্যৎবাণী ও অদৃশ্য বিষয়ক অলৌকিকত্ব (الإعجاز الغيبي):
কুরআনে বর্ণিত সকল ঐতিহাসিক ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যেমন রোমানদের ওপর পারসিকদের বিজয়ের পর কুরআনের অগ্রিম ঘোষণা যে কয়েক বছরের মধ্যেই আবার রোমানরা পারসিকদের পরাজিত করবে (সূরা আর-রূম), যা বদরের যুদ্ধের বছর হুবহু সংঘটিত হয়েছিল। এছাড়া ফেরাউনের লাশকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিদর্শনের জন্য অক্ষত রাখার ঘোষণা (সূরা ইউনুস: ৯২)।
উপসংহার
কুরআনের ই’জায কেবল কোনো একটি যুগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিটি যুগেই বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে কুরআনের অলৌকিকত্বের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
٧- بين الناسخ والمنسوخ في القرآن الكريم: تعريفه، وشروطه، وأقسامه، وحكمة النسخ-
[৭. কুরআনে নাসিখ ও মানসূখের সংজ্ঞা, শর্তাবলী, প্রকারভেদ এবং বিধান রহিতকরণের খোদায়ী প্রজ্ঞা বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
ইসলাম একটি বাস্তববাদী ও ক্রমানুসারী জীবনবিধান। মানবজাতির মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে মহান আল্লাহ কিছু বিধানের পরিবর্তন সাধন করেছেন, যা উলূমুল কুরআনে ‘নাসখ’ বা বিধান রহিতকরণ নামে পরিচিত।
১. নাসখ-এর সংজ্ঞা (تعريف النسخ)
- আভিধানিক অর্থ: বিলুপ্ত করা (الإزالة), পরিবর্তন করা (التبديل), অথবা স্থানান্তর করা (النقل)।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: “رَفْعُ حُكْمٍ شَرْعِيٍّ بِدَلِيلٍ شَرْعِيٍّ مُتَرَاخٍ عَنْهُ” অর্থাৎ, পরবর্তী কোনো শরয়ী দলিলের মাধ্যমে পূর্ববর্তী কোনো শরয়ী বিধান সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার বা রহিত করাকে নাসখ বলে। যে দলিল রহিত করে তাকে ‘নাসিখ’ (الناسخ) এবং যা রহিত হয় তাকে ‘মানসূখ’ (المنسوخ) বলে।
২. নাসখ সংঘটিত হওয়ার শর্তাবলী (شروط النسخ)
- রহিতকৃত বিধানটি কোনো মৌলিক আকীদা বা তাওহীদ সংক্রান্ত হতে পারবে না; বরং তা কেবল শরয়ী শাখা-প্রশাখাগত হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- নাসিখ দলিলটি মানসূখ দলিলের চেয়ে সময়গতভাবে পরবর্তী হতে হবে।
- উভয় দলিলের মাঝে দৃশ্যত এমন বৈপরীত্য থাকবে যা অন্য কোনো উপায়ে সমন্বয় (তাতবীক) করা সম্ভব নয়।
- নাসিখ দলিলটি মানসূখ দলিলের সমমানের বা অধিক শক্তিশালী হতে হবে।
৩. কুরআনে নাসখ-এর প্রকারভেদ (أقسام النسخ)
- ১. তেলাওয়াত ও বিধান উভয়টি রহিত: যার তেলাওয়াতও কুরআনে নেই এবং বিধানও কার্যকর নেই (যেমন প্রাপ্তবয়স্কদের দশবার দুধপান সংক্রান্ত হাদিসের বর্ণনা)।
- ২. তেলাওয়াত বহাল কিন্তু বিধান রহিত: এটিই সর্বাধিক প্রচলিত। কুরআনে তেলাওয়াত বিদ্যমান কিন্তু হুকুম কার্যকর নেই। যেমন বিধবা নারীর এক বছর ভরণপোষণ ও অবস্থানের বিধান (সূরা বাকারা: ২৪০), যা চার মাস দশ দিনের ইদ্দতের আয়াত (সূরা বাকারা: ২৩৪) দ্বারা রহিত হয়েছে।
- ৩. বিধান বহাল কিন্তু তেলাওয়াত রহিত: বিধান কার্যকর আছে কিন্তু কুরআনে তার তেলাওয়াত নেই। যেমন বিবাহিত ব্যভিচারীর রজম বা পাথর নিক্ষেপের শাস্তি।
৪. বিধান পরিবর্তনের খোদায়ী হিকমত (حكمة النسخ)
- বান্দাদের প্রতি দয়া ও সহজীকরণ (التيسير والرحمة): মানুষের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে কঠোরতা থেকে সহজ বিধান প্রবর্তন।
- শরীয়তের পূর্ণাঙ্গতা বিধান: মাক্কী দুর্বল অবস্থা থেকে মদিনার সুসংহত রাষ্ট্রের পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় আইনের পূর্ণতা দান।
- ঈমানী পরীক্ষা: আল্লাহর প্রতিটি নির্দেশের সামনে বান্দার নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের গভীরতা যাচাই করা।
উপসংহার
নাসিখ ও মানসূখের সঠিক উপলব্ধি ছাড়া ফতোয়া প্রদান মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এ কারণেই হযরত আলী (রা.) এক বক্তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “তুমি কি নাসিখ ও মানসূখ চেন?” সে বলল: “না।” তিনি বললেন: “তাহলে তুমি নিজেও ধ্বংস হলে এবং অপরকেও ধ্বংস করলে।”
٨- تحدث عن التفسير: نشأته وتطوره، والفرق بين التفسير والتأويل، وأقسام التفسير (بالمأثور وبالرأي)-
[৮. তাফসীর শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, তাফসীর ও তাবীল-এর পার্থক্য এবং তাফসীর বিল মা’ছূর ও তাফসীর বির রায়-এর বিশদ বিবরণ দাও।]
ভূমিকা
পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের সঠিক অর্থ, তাৎপর্য, অন্তর্নিহিত শিক্ষা ও বিধান উন্মোচনের শাস্ত্রীয় নাম হলো ‘ইলমুত তাফসীর’। এটি ইসলামী উলূমের মুকুটমণি স্বরূপ।
১. তাফসীর ও তাবীল-এর পার্থক্য (الفرق بين التفسير والتأويل)
- তাফসীর (التفسير): তাফসীর শব্দের অর্থ উন্মুক্ত করা, স্পষ্ট করা। পরিভাষায়—কুরআনের প্রত্যক্ষ শাব্দিক অর্থ, শানে নুযূল ও ঐতিহাসিক বর্ণনাভিত্তিক স্পষ্ট ব্যাখ্যাকে তাফসীর বলে। এটি মূলত রেওয়ায়েত বা বর্ণনানির্ভর।
- তাবীল (التأويل): তাবীল শব্দের অর্থ প্রত্যাবর্তিত করা। পরিভাষায়—শব্দের সম্ভাব্য একাধিক অর্থের মধ্য থেকে বিশেষ যুক্তি, প্রসঙ্গের সামঞ্জস্য ও ইশারা অনুযায়ী কোনো গভীর ও অন্তর্নিহিত অর্থ গ্রহণ করাকে তাবীল বলে। এটি মূলত দিরায়াত বা বিশ্লেষণনির্ভর।
২. তাফসীর শাস্ত্রের ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ (نشأة التفسير وتطوره)
- ১. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ: তিনিই ছিলেন প্রথম ও প্রধান মুফাসসির। কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতগুলো সাহাবীগণ সরাসরি তাঁর কাছ থেকে বুঝে নিতেন।
- ২. সাহাবায়ে কেরামের যুগ: সাহাবীদের মধ্যে শীর্ষ মুফাসসির ছিলেন চার খলিফা, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (যাঁকে ‘সুলতানুল মুফাসসিরীন’ বলা হয়), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও উবায় ইবনে কা’ব (রা.)।
- ৩. তাবেয়ী যুগ: মক্কা, মদিনা ও ইরাকে তিনটি বিখ্যাত তাফসীর স্কুল গড়ে ওঠে। মক্কায় ইবনে আব্বাসের শিষ্যরা (মুজাহিদ, আতা, ইকরামা), মদিনায় উবায় ইবনে কাবের শিষ্যরা (যায়েদ ইবনে আসলাম) এবং কুফায় ইবনে মাসউদের শিষ্যরা (আলকামা, আসওয়াদ) নেতৃত্ব দেন।
- ৪. স্বতন্ত্র গ্রন্থ সংকলন যুগ: তৃতীয় হিজরি শতকে ইমাম ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহ.) ‘জামেউল বায়ান’ রচনার মাধ্যমে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তাফসীর গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।
৩. তাফসীরের প্রধান দুই ধারা
- ১. তাফসীর বিল মা’ছূর বা রেওয়ায়েতভিত্তিক তাফসীর (التفسير بالمأثور):
কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআনের অন্যান্য আয়াত, সহীহ হাদিস, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনদের বক্তব্যের মাধ্যমে করা।
প্রধান গ্রন্থসমূহ: তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে ইবনে কাসীর, এবং ইমাম সুয়ূতীর আদ-দুররুল মানসূর। - ২. তাফসীর বির-রায় বা যুক্তিনির্ভর তাফসীর (التفسير بالرأي):
আরবি ব্যাকরণ, যুক্তি, বালাগাত ও উসূলে শরীয়াহর আলোকে ইজতিহাদের মাধ্যমে তাফসীর করা। এটি দুই প্রকার:
– রায় মাহমুদ (প্রশংসনীয়): যা শরীয়তের দলিলের সাথে সংগতিপূর্ণ (যেমন: তাফসীরে কাবীর ইমাম রাযী, তাফসীরে কাশশাফ, তাফসীরে বায়যাবী)।
– রায় মাযমুম (নিন্দনীয়): যা মনগড়া ও বাতিল মতাদর্শের সমর্থনে করা হয় (যেমন মু’তাযিলা ও বাতেনীদের বিকৃত তাফসীর)।
উপসংহার
পবিত্র কুরআনের অফুরন্ত রহমত ও হেদায়েত লাভের জন্য সহীহ তাফসীর চর্চা অপরিহার্য।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নাবলী
٩- ما هي نزول القرآن منجماً (مفرقاً) والحكمة من ذلك؟
[৯. কুরআন পর্যায়ক্রমে (কিস্তিতে) নাযিলের তাৎপর্য ও এর অন্তর্নিহিত হিকমত কী?]
কুরআনুল কারীম পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের মতো একবারে সম্পূর্ণ নাযিল হয়নি; বরং নবুওয়াতের দীর্ঘ তেইশ বছরে প্রয়োজন ও ঘটনার প্রেক্ষিতে ধাপে ধাপে অবতীর্ণ হয়েছে। এর প্রধান হিকমতসমূহ হলো:
- নবীজী (সা.)-এর অন্তরকে সুদৃঢ় রাখা: কাফেরদের তীব্র বিরোধিতা ও শোকের মুহূর্তে সান্ত্বনা দান (সূরা ফুরকান: ৩২)।
- কুরআন হিফজ ও আমল সহজকরণ: যাতে সাধারণ মানুষ অল্প অল্প করে মুখস্থ করতে ও ধারণ করতে পারে।
- শরীয়তের বিধিবিধানের পর্যায়ক্রমিক প্রয়োগ: তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইন না চাপিয়ে সমাজকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করা (যেমন মদ নিষিদ্ধকরণ)।
- সমকালীন প্রশ্নের বাস্তব সমাধান প্রদান: সাহাবীদের প্রশ্ন ও পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক ঐশী ফায়সালা দেওয়া।
١٠- عرف المحكم والمتشابه واذكر موقف العلماء منهما-
[১০. মুহকাম ও মুতাশাবিহের পরিচয় দাও এবং এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ কর।]
সূরা আলে ইমরানের ৭ নম্বর আয়াত অনুযায়ী কুরআনের আয়াত দুই প্রকার:
- মুহকাম (المحكم): যার অর্থ অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যাতে কোনো রূপক বা ব্যাখ্যার জটিলতা নেই এবং যা মানা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক (যেমন হালাল-হারাম ও নামাযের বিধান)। এটিই কিতাবের মূল ভিত্তি (উম্মুল কিতাব)।
- মুতাশাবিহ (المتشابه): যার প্রকৃত মর্মার্থ মানুষের সাধারণ জ্ঞানের বাইরে বা যার একাধিক রূপক অর্থ হতে পারে (যেমন হরূফে মুকাত্তা’আত: আলিফ-লাম-মীম, এবং আল্লাহর হাত, চেহারা, আরশে সমাসীন হওয়া সংক্রান্ত আয়াত)।
- আলেমদের অবস্থান: সালাফে সালেহীন মুতাশাবিহাতের বাহ্যিক শব্দের ওপর ঈমান আনতেন এবং কোনো রূপ বা সাদৃশ্য আরোপ না করে এর অন্তর্নিহিত রূপ আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতেন (তাফবীদ)। আর পরবর্তী খালাফ আলেমগণ ভ্রান্ত দলের সংশয় দূর করতে রূপক অর্থ গ্রহণ করেছেন (তাবীল)।
١١- اكتب عن الأحرف السبعة وعلاقتها بالقراءات السبع المتواترة-
[১১. ‘আহরুফে সাব’আ’ (সাত উপভাষা) এবং এর সাথে মুতাওয়াতির সাত ক্বিরাআতের সম্পর্ক লেখ।]
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “কুরআন সাতটি হরফে নাযিল হয়েছে।” ‘আহরুফে সাব’আ’ বলতে আরবের তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় সাতটি প্রধান আরবি উপভাষাকে বোঝায় (যেমন কুরাইশ, হুযাইল, তামিম ইত্যাদি), যাতে করে বিভিন্ন অঞ্চলের আরবরা সহজে তিলাওয়াত করতে পারে। আর ‘ক্বিরাআতে সাব’আ’ হলো পরবর্তীকালে উসমানী সহীফার রসমুল খতের সাথে সংগতি রেখে সাতজন শীর্ষ মুকাররি (যেমন নাফে, আসিম, ইবনে কাসীর প্রমুখ) কর্তৃক বর্ণিত বিশুদ্ধ মুতাওয়াতির পাঠপদ্ধতি। ক্বিরাআতের এই পাঠপদ্ধতিগুলো মূল আহরুফে সাব’আরই অংশবিশেষ।
١٢- ما هو الفرق بين القرآن والحديث القدسي والحديث النبوي؟
[১২. কুরআন, হাদিসে কুদসী এবং হাদিসে নববীর মধ্যকার পার্থক্যসমূহ কী কী?]
| বিষয় | পবিত্র কুরআন | হাদিসে কুদসী | হাদিসে নববী |
|---|---|---|---|
| শব্দ ও অর্থ | শব্দ ও অর্থ উভয়ই আল্লাহর ওহী | অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে, শব্দ নবীজীর | শব্দ ও অভিব্যক্তি সম্পূর্ণ নবীজীর |
| নামাযে তিলাওয়াত | ফরয ও এর দ্বারা ইবাদত হয় | নামাযে পড়া বৈধ নয় | নামাযে পড়া বৈধ নয় |
| মুজিযা বা চ্যালেঞ্জ | চিরন্তন মুজিযা ও চ্যালেঞ্জযুক্ত | মুজিযা নয় এবং কোনো চ্যালেঞ্জ নেই | মুজিযা নয় |
| পবিত্রতা স্পর্শ | অজু ছাড়া স্পর্শ করা হারাম | অজু ছাড়াও স্পর্শ করা বৈধ | অজু ছাড়াও স্পর্শ করা বৈধ |
١٣- اكتب عن شروط المفسر وآدابه-
[১৩. একজন যোগ্য মুফাসসিরের আবশ্যকীয় শর্তাবলী ও শিষ্টাচারসমূহ লেখ।]
কুরআনের তাফসীর করার জন্য একজন মুফাসসিরের নিম্নোক্ত শর্তাবলী ও গুণাবলী থাকা বাধ্যতামূলক:
- বিশুদ্ধ আকিদা ও নিষ্ঠা: বিদয়াত ও কুসংস্কারমুক্ত সহীহ আহলুস সুন্নাহর আকিদা পোষণ করা।
- আরবি ভাষায় পাণ্ডিত্য: আরবি অভিধান (লুগাত), নাহু, সারফ, বালাগাত (মা’আনী, বায়ান, বাদী) শাস্ত্রে পূর্ণ দখল।
- উলূমুল কুরআনের জ্ঞান: শানে নুযূল, নাসিখ-মানসূখ, মাক্কী-মাদানী এবং ক্বিরাআতের সূক্ষ্ম জ্ঞান।
- হাদিস ও ফিকহের উসূলে দক্ষতা: সহীহ ও যয়ীফ হাদিস চেনার যোগ্যতা এবং উসূলে ফিকহের নীতিমালায় পারদর্শী হওয়া।
- আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া: পার্থিব স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে আল্লাহর ভয়ে সত্য কথা বলার নৈতিক সাহস।
١٤- ما هي قصة ترجمة القرآن الكريم وحكم ترجمته؟
[১৪. পবিত্র কুরআনের ভাষান্তরের ইতিহাস ও বিভিন্ন ভাষায় এর শরয়ী বিধান কী?]
নবীজী (সা.)-এর জীবদ্দশায় হযরত সালমান ফারসি (রা.) পারস্যের নওমুসলিমদের জন্য সূরা ফাতিহার ফারসি তরজমা করেছিলেন। ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী, পবিত্র কুরআনের ‘শাব্দিক বা হুবহু প্রতিলিপি অনুবাদ’ (الترجمة الحرفية) সম্পূর্ণ অসম্ভব ও নাজায়িয; কারণ কুরআনের অলৌকিক আরবি শব্দের হুবহু প্রতিশব্দ অন্য কোনো ভাষায় তৈরি করা মানবীয় ক্ষমতার বাইরে। তবে সাধারণ মানুষকে কুরআনের অর্থ ও শিক্ষা বোঝানোর জন্য ‘ভাবানুবাদ বা তাফসীরধর্মী ভাষান্তর’ (الترجمة التفسيرية) করা কেবল জায়িযই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী দাওয়াতের জন্য ফরযে কিফায়াহ।
١٥- تحدث عن أسلوب القسم في القرآن الكريم والحكمة منه-
[১৫. পবিত্র কুরআনে শপথের (কাসাম) শৈলী ও এর খোদায়ী তাৎপর্য আলোচনা কর।]
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিজের পবিত্র সত্তা (فَلَا أُقْسِمُ بِرَبِّ الْمَشَارِقِ), নিজের সৃষ্টিজগত যেমন সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন, ফজর, আসর, ডুমুর ও জলপাই ফলের শপথ করেছেন। আরবরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে দৃঢ় করার জন্য শপথের রীতি ব্যবহার করত। কুরআনে শপথের হিকমত হলো: বান্দার অন্তরে বর্ণিত বিষয়ের গুরুত্ব, সত্যতা ও অপরিহার্যতা গভীরভাবে প্রতিষ্ঠা করা; এবং শপথকৃত সৃষ্টির মহিমা ও নিখুঁত নিদর্শনের দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্রষ্টার একত্ববাদের প্রমাণ উপস্থাপন করা।
١٦- اكتب نبذة عن أمثال القرآن الكريم وأهميتها في ترسيخ المعاني-
[১৬. কুরআনের দৃষ্টান্ত বা উপমাবলী (আমছালুল কুরআন) এবং ভাবার্থ সুদৃঢ়করণে এর গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখ।]
কুরআনে কোনো জটিল বা বিমূর্ত ভাবার্থকে মানুষের সহজ উপলব্ধির জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান কোনো জিনিসের সাথে উপমা দিয়ে বোঝানোকে ‘আমছালুল কুরআন’ বলা হয়। যেমন—মুনাফিকদের অবস্থা বোঝাতে অন্ধকারে অগ্নিকুণ্ড ও বজ্রসহ বৃষ্টির উপমা (সূরা বাকারা), এবং রিয়াকারী বা লোকদেখানো দানকে পাথরের ওপর জমানো মাটির সাথে তুলনা করা। কুরআনের উপমার গুরুত্ব হলো: এটি মানুষের মননশীল বুদ্ধিকে জাগ্রত করে, অস্পষ্ট বিষয়কে চোখের সামনে মূর্ত করে তোলে এবং হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আল্লাহ বলেন: “وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ” (এ সকল উপমা আমি মানুষের জন্য পেশ করি, কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তিরা ব্যতীত কেউ তা বোঝে না—সূরা আল-আনকাবূত: ৪৩)।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: উলূমুল কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ দুটি ক্লাসিক্যাল বিশ্বকোষ গ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশীর ‘আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন’ এবং ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতীর ‘আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন’।
প্রশ্ন ২: হযরত উসমান (রা.)-কে ‘জামেউল কুরআন’ বলা হয় কেন?
উত্তর: তিনি কুরাইশ উপভাষার প্রমিত পাঠ অনুযায়ী কুরআনের কপি তৈরি করে সমগ্র মুসলিম জাহানে ছড়িয়ে দিয়ে উম্মাহর কুরআনীয় ঐক্য রক্ষা করেছিলেন।
প্রশ্ন ৩: মাক্কী ও মাদানী সূরার সর্বসম্মত সময়ভিত্তিক মানদণ্ড কী?
উত্তর: হিজরতের পূর্বে নাযিলকৃত সকল আয়াত মাক্কী এবং হিজরতের পরে নাযিলকৃত সকল আয়াত মাদানী হিসেবে গণ্য।
প্রশ্ন ৪: শানে নুযূল জানার প্রামাণ্য মাধ্যম কোনটি?
উত্তর: ওহী নাযিলের প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবায়ে কেরাম এবং নির্ভরযোগ্য তাবেয়ীগণের মাধ্যমে বর্ণিত সহীহ রেওয়ায়েত।
প্রশ্ন ৫: নাসিখ ও মানসূখ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পরবর্তী শরয়ী দলিলের মাধ্যমে পূর্ববর্তী কোনো সাময়িক শরয়ী বিধান পরিবর্তন বা রহিত হওয়াকে নাসখ বলা হয়।
প্রশ্ন ৬: সাহাবীদের মধ্যে তাফসীর শাস্ত্রের প্রধান ইমাম কে ছিলেন?
উত্তর: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), যাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়ার বরকতে ‘সুলতানুল মুফাসসিরীন’ বলা হয়।