জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আদ-দা’ওয়াহ ওয়া আদ-দুয়াত ফিল আসরিল হাদিস (Ad-Dawah wad-Duat fil-Asril-Hadith) – 203404, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬৫ মিনিট পড়ার সময়
১১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: 204 | প্রশ্নপত্র কোড: 168
اختبار السنة الرابعة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الدعوة والدعاة في العصر الحديث
[আদ-দা’ওয়াহ ওয়া আদ-দুয়াত ফিল আসরিল হাদীস]
বিষয় কোড: 203404
الوقت: ٤ ساعات [সময়: ৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة: ٨٠ [পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য : (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) [বিভাগ ‘ক’ – রচনামূলক প্রশ্নাবলী]

মান: ১৫ × ৪ = ৬০

١- ما معنى الدعوة لغة واصطلاحاً؟ بين أهمية الدعوة الإسلامية في الحياة البشرية-

[১. الدعوة এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? মানব জীবনে ইসলামি দাওয়ার গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ইসলাম একটি সার্বজনীন ও প্রচারমুখী ধর্ম। মানবজাতিকে অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও পাপের অন্ধকার থেকে বের করে সত্য, ন্যায় ও আল্লাহর একত্ববাদের পথে আহ্বান জানানোর প্রক্রিয়াকেই দাওয়াহ বলা হয়। নবী-রাসূলগণের আগমনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল দাওয়াত ইলাল্লাহ। মানব ইতিহাসের প্রতিটি যুগে দাওয়াত মানবজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে নৈতিক ও আত্মিক উৎকর্ষ দান করেছে।

দাওয়াহ (الدعوة)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ

শাব্দিক অর্থ: ‘দাওয়াহ’ (الدعوة) শব্দটি আরবি د-ع-و (দা’আ-ইয়াদ’উ) মূলধাতু থেকে নির্গত একটি মাসদার বা ভাবমূল। এর আভিধানিক অর্থ হলো—আহ্বান করা (النداء), নিমন্ত্রণ জানানো (الاستدعاء), উৎসাহিত করা (الترغيب), তলব করা, প্রার্থনা করা বা সাহায্য চাওয়া। আরবি প্রবাদে বলা হয়: “دعا فلاناً إلى كذا” অর্থাৎ সে অমুককে অমুক কাজের দিকে আহ্বান জানাল।

পারিভাষিক অর্থ: ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় ‘দাওয়াত’ হলো—আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ইসলামকে মানবজাতির সামনে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা, মানুষকে আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্যের দিকে আহ্বান জানানো এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে কুরআন-সুন্নাহর বিধান বাস্তবায়নের সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো।

বিখ্যাত ইসলামি মনীষী ও মুফাসসিরদের সংজ্ঞায়নে:

  • ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.): “দাওয়াত ইলাল্লাহ হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন এবং তাঁর রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা, তার আনুগত্য করা ও তার প্রচারের আহ্বান জানানো।”
  • শায়খুল ইসলাম মুস্তফা মাশহুর: “দাওয়াত হলো ইসলামের বাণী সকল মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়া, তাদের দ্বীনের বুঝ প্রদান করা এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাদের সংগঠিত করা।”

মানবজীবনে ইসলামি দাওয়াহর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব

মানবজাতির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও পারলৌকিক জীবনে ইসলামি দাওয়াহর অপরিহার্য গুরুত্ব নিম্নরূপ:

  1. আল্লাহর নির্দেশ পালন ও নববী উত্তরাধিকার (الواجب الشرعي): দাওয়াত কোনো ঐচ্ছিক কাজ নয়, বরং প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

    وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ

    “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)

  2. মানবজাতিকে গোমরাহী থেকে নাজাত প্রদান: দাওয়াত ব্যতীত মানবজাতি শিরক, কুফর, পৌত্তলিকতা ও নৈতিক স্খলনের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। যুগে যুগে আম্বিয়ায়ে কেরাম দাওয়াতের মাধ্যমেই পথহারা মানুষকে হেদায়েতের আলোকবর্তিকা দেখিয়েছেন।
  3. ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন: দাওয়াতের মাধ্যমে ব্যক্তি সংশোধন হয়। ব্যক্তির সংশোধনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজ থেকে অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতি, অবিচার ও শোষণ দূরীভূত হয়ে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়।
  4. আখেরাতের জবাবদিহিতা ও মুক্তির সোপান: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালার দরবারে দায়মুক্ত হওয়ার জন্য দাওয়াতি দায়িত্ব পালন অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “بلغوا عني ولو آية” (আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও মানুষের কাছে পৌঁছে দাও)। (সহিহ বুখারি)
  5. বালা-মুসিবত ও ঐশী গজব থেকে সুরক্ষা: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ছেড়ে দিলে সমাজের ওপর আল্লাহর গজব অবধারিত হয়। সমাজকে সামগ্রিক ধ্বংস থেকে রক্ষা করার একমাত্র ঢাল হলো ইসলামি দাওয়াত।

উপসংহার

ইসলামি দাওয়াত মানবজীবনের প্রাণবায়ুর ন্যায়। দাওয়াতের অভাবে মানব সভ্যতা আত্মিক মৃত্যু ও বর্বরতায় নিমজ্জিত হয়। অতএব, সমকালীন প্রেক্ষাপটে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করে দাওয়াতি ময়দানকে গতিশীল রাখা সকল মুসলিমের ঈমানি দায়িত্ব।


٢- تحدث عن الدعوة الإسلامية في عهد الخلافة العثمانية-

[২. ওসমানী খেলাফত আমলে ইসলামি দাওয়া সম্পর্কে আলোচনা কর।]

ভূমিকা

উসমানীয় বা ওসমানী খেলাফত (১২৯৯–১৯২৪ খ্রি.) ছিল ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী, প্রতাপশালী ও বৈশ্বিক সাম্রাজ্য। এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে উসমানীয় খলিফাগণ ইসলামের পতাকা সমুন্নত রেখেছিলেন। তাদের সুপরিকল্পিত শাসননীতি, সামরিক বিজয় ও দাওয়াতি তৎপরতার ফলে ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রে লাখ লাখ মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল।

উসমানীয় যুগে ইসলামি দাওয়াতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও পদ্ধতিসমূহ

  1. ইউরোপের বুকে ইসলামের প্রচার ও ফাতহুল কুসতুনতুনিয়া (কনস্টান্টিনোপল বিজয়): ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুসংবাদ বাস্তবায়ন করেন। এরপর বলকান অঞ্চল, গ্রিস, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় উসমানীয় সুলতানদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বসনিয়া ও আলবেনিয়ার সিংহভাগ জনগোষ্ঠী স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করে।
  2. সুফি তরিকা ও খানকাহসমূহের দাওয়াতি ভূমিকা: উসমানীয় দাওয়াতের মূল চালিকাশক্তি ছিল নকশবন্দিয়া, মেভলেভি ও বেকতাশি সুফি তরিকা। সুফি দরবেশ ও সাধকগণ ইউরোপের বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে ‘জাবিয়া’ ও ‘তেক্কে’ (খানকাহ) স্থাপন করে আত্মিক শুদ্ধি, সেবা এবং অনুপম নৈতিক আচরণের মাধ্যমে স্থানীয় অমুসলিমদের ইসলামে আকৃষ্ট করেন।
  3. ন্যায্য বিচার ও ‘মিল্লাত’ পদ্ধতির মাধ্যমে ধর্মীয় সহাবস্থান: উসমানীয় খিলাফতে ‘মিল্লাত ব্যবস্থা’ (Millet System) চালু ছিল, যার মাধ্যমে ইহুদি, অর্থোডক্স খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়কে পূর্ণ ধর্মীয়, সামাজিক ও বিচারিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। ইউরোপের গির্জাগুলোর বর্বর দমন-পীড়ন ও করের তুলনায় উসমানীয় ইনসাফ দেখে সাধারণ খ্রিস্টানরা ব্যাপকভাবে ইসলামের প্রতি অনুরক্ত হয়।
  4. পবিত্র হারামাইন শরিফাইনের হেফাজত ও খিদমত: ১৫১৭ সালে সুলতান সেলিম ইয়াভুজ মিসর বিজয়ের পর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ‘খাদিমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন’ উপাধিতে ভূষিত হন। মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা, হাজীদের কাফেলা সুরক্ষা এবং হেজাজ রেলওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের দাওয়াত পুনরুজ্জীবিত করা হয়।
  5. ওয়াকফ ব্যবস্থা ও দাওয়াতি অবকাঠামো নির্মাণ: উসমানীয় সুলতানগণ ও ধনী ব্যক্তিবর্গ বিশাল আকারের ধর্মীয় ওয়াকফ গড়ে তোলেন। ইস্তাম্বুল, কায়রো, দামেস্ক ও জেরুজালেমে নির্মিত সুলেমানিয়া মসজিদ, সুলতান আহমদ মসজিদ এবং সংলগ্ন মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও লঙ্গরখানাগুলো ইসলামি দাওয়াত ও সামাজিক খিদমতের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছিল।
  6. আন্দালুসের নিপীড়িত মুসলিমদের উদ্ধার: স্পেনে যখন রিকনকুইস্তার মাধ্যমে মুসলিম ও ইহুদিদের ওপর বর্বর ইনকুইজিশন পরিচালিত হয়, তখন উসমানীয় নৌবাহিনী কামাল রইস ও খায়রুদ্দীন বার্বারোসার নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধার করে উসমানীয় সাম্রাজ্যে পুনর্বাসন করে ইসলামের মানবিক আদর্শ তুলে ধরে।

উসমানীয় দাওয়াতের সীমাবদ্ধতা ও পতনের কারণ

পরবর্তী যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পশ্চাদপদতা, দরবারি বিলাসিতা, পশ্চিমা ষড়যন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহের কারণে উসমানীয় দাওয়াত স্তিমিত হয়ে পড়ে। পরিশেষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক কর্তৃক খিলাফত বিলুপ্ত হয়।

উপসংহার

ওসমানী খিলাফত ইউরোপের ভূখণ্ডে ইসলামের যে সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছিল, তার ফলশ্রুতিতেই আজও বসনিয়া, কসোভো ও আলবেনিয়ার মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র ইউরোপের বুকে বিদ্যমান। উসমানীয় দাওয়াতি কৌশল ইসলামি ইতিহাসের এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।


٣- بين أحوال الدعوة الإسلامية الراهنة في جزيرة العرب بياناً شافياً-

[৩. জাজিরাতুল আরবে বর্তমান ইসলামি দাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

জাজিরাতুল আরব (আরব উপদ্বীপ) হলো ইসলামের সূতিকাগার। পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীর পুণ্যভূমি হওয়ায় বৈশ্বিক ইসলামি দাওয়াতের দিকনির্দেশনায় এ অঞ্চলের অবস্থান কেন্দ্রীয় ও সংবেদনশীল। বর্তমান যুগে আরব উপদ্বীপের দেশগুলোতে (সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইন ও ইয়েমেন) দাওয়াতি কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগতভাবে এক নতুন গতি ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

জাজিরাতুল আরবে বর্তমান দাওয়াতি পরিস্থিতির সামগ্রিক পর্যালোচনা

  1. সৌদি আরবের দাওয়াতি তৎপরতা:
    • মন্ত্রণালয় ও সংস্থা: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় (ওয়াজারা আল-শুউন আল-ইসলামিয়াহ) এবং ‘মাকতাব আদ-দাওয়াহ ওয়া আল-ইরশাদ’ (মাকতাবুল জালিয়াত)-এর মাধ্যমে বহুভাষায় বিশ্বব্যাপী দাওয়াত পরিচালিত হয়।
    • হারামাইনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীর খুতবা সরাসরি ইংরেজি, ফরাসি, উর্দু, বাংলাসহ ১০টির অধিক আন্তর্জাতিক ভাষায় সরাসরি অনুবাদ ও সম্প্রচারিত হচ্ছে।
    • বহিরাগত কর্মীদের মাঝে দাওয়াত: লাখ লাখ অমুসলিম ও ভিন্নভাষী অভিবাসী শ্রমিকদের মাঝে তাদের মাতৃভাষায় দাওয়াতি বইপত্র বিতরণ ও ক্লাসের মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছে।
    • ‘ভিশন ২০৩০’ ও সামাজিক রূপান্তর: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং ধর্মীয় পুলিশের কর্তৃত্ব হ্রাসের কারণে ঐতিহ্যবাহী দাওয়াতি বলয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।
  2. কাতার ও কুয়েতের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক দাওয়াহ:
    • কাতার ‘ফানার’ (ইসলামিক কালচারাল সেন্টার) এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক দাওয়াত ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ পরিচালনা করে। ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় স্টেডিয়াম ও হোটেলগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরার নজিরবিহীন দাওয়াতি উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়।
    • কুয়েত ‘জমিয়াতুল ইসলাহ আল-ইজতিমায়ি’ এবং সরকারি আওকাফ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মসজিদ নির্মাণ, দাওয়াতি একাডেমি পরিচালনা ও এতিম পুনর্বাসনে অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
  3. সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান:
    • ইউএই মূলত ধর্মীয় সহনশীলতা ও মধ্যমপন্থা (Wasatiyyah)-এর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আন্তর্জাতিক ফোরামের মাধ্যমে শান্তির বার্তা প্রচার করে। দুবাই ইসলামিক ইনফরমেশন সেন্টার নতুন মুসলিমদের পুনর্বাসনে সক্রিয়।
    • ওমানে সুলতানি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ইবাদি ও সুন্নি আলেমদের যৌথ সংলাপে শান্তিপূর্ণ দাওয়াত এবং নৈতিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
  4. যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের করুণ পরিস্থিতি:
    • দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে দাওয়াতি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও হাদরামাউতের ঐতিহাসিক দাওয়াতি প্রতিষ্ঠান দারুল মুস্তফা এবং সানা ও এডেনের ঐতিহ্যবাহী আলেমগণ প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা ও দাওয়াত টিকিয়ে রেখেছেন।

সমকালীন চ্যালেঞ্জসমূহ

  • পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন ও অতি-আধুনিকায়ন: আধুনিক তরুণ প্রজন্মের মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভোগবাদী দর্শনের নেতিবাচক প্রভাব।
  • রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা: অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে স্বাধীন দাওয়াতি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

উপসংহার

জাজিরাতুল আরবের অর্থনৈতিক প্রাচুর্য ও পবিত্র স্থানসমূহের মর্যাদা দাওয়াতি তৎপরতাকে বিশ্বব্যাপী অনন্য প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশুদ্ধ নববী মানহাজের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের দাওয়াত সমকালীন বিশ্বের জন্য দিশারি হতে পারে।


٤- بين دور الدعاة الإسلامية في نشر الإسلام في بنغلاديش-

[৪. বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে ইসলামি দায়ীগণের ভূমিকা বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এ ভূখণ্ডে ইসলামের আগমন ও বিস্তৃতি কোনো সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে ঘটেনি; বরং আরব ও পারস্য থেকে আগত নিষ্ঠাবান দায়ী, সুফি-সাধক এবং দেশীয় সংস্কারক আলেমগণের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও অনুপম চারিত্রিক মাধুর্যের ফলেই কোটি কোটি মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিল।

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে দায়ীগণের ঐতিহাসিক ও সমকালীন ভূমিকা

  1. সূচনালগ্নের সুফি-দরবেশ ও দায়ীদের আত্মত্যাগ:
    • হযরত শাহ জালাল (রহ.): ৭ম হিজরির শুরুতে ৩৬০ জন আউলিয়াকে নিয়ে সিলেট অঞ্চলে আগমন করে রাজা গৌরগোবিন্দের জুলুমের অবসান ঘটান এবং সমগ্র আসাম ও সিলেট অঞ্চলে তাওহিদের বাণী প্রচার করেন।
    • হযরত শাহ পরান (রহ.), শাহ মাখদুম (রহ.) ও বাবা আদম শহীদ (রহ.): রাজশাহী, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষা ও মানবসেবার মাধ্যমে দাওয়াত পৌঁছে দেন।
    • হযরত খান জাহান আলী (রহ.): দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন ও বাগেরহাটে শত শত মসজিদ, রাস্তাঘাট এবং সুপেয় পানির জন্য বিশাল দিঘি খনন করে লোকসেবা ও দাওয়াতের অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
  2. ইসলামি পুনর্জাগরণ ও সংস্কার আন্দোলনের দায়ীগণ:
    • হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.): ১৯ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ শোষণ ও স্থানীয় কুসংস্কার দূর করতে ‘ফারায়েজি আন্দোলন’ গড়ে তোলেন।
    • মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.): নদীমাতৃক বাংলায় নৌকাযোগে হাজার হাজার মাইল ঘুরে বেদাত ও অনৈসলামিক রীতিনীতি দূর করে খাঁটি সুন্নাহভিত্তিক দাওয়াতের জোয়ার সৃষ্টি করেন।
  3. দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার আলেমগণ:
    দারুল উলুম দেওবন্দের সিলসিলায় গঠিত কওমি মাদ্রাসা এবং সরকারি পাঠ্যক্রমভুক্ত আলিয়া মাদ্রাসাসমূহ দেশের আনাচে-কানাচে লক্ষ লক্ষ আলেম ও দায়ী তৈরি করেছে। এই আলেমগণ মসজিদভিত্তিক ইমামত, মক্তব পরিচালনা এবং কুরআনের সহিহ তালিমের মাধ্যমে তৃণমূলের ঈমান হেফাজত করছেন।
  4. তাবলিগ জামায়াত ও তৃণমূল দাওয়াত:
    হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) প্রবর্তিত তাবলিগ জামায়াত বাংলাদেশে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ঘরে ঘরে গিয়ে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছে। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জমায়েতে পরিণত হয়েছে।
  5. ওয়াজ মাহফিল ও আধুনিক মিডিয়া ভিত্তিক দাওয়াত:
    শীত মৌসুমে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হাজার হাজার ঐতিহাসিক তাফসির ও ওয়াজ মাহফিল সাধারণ মানুষের ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত রাখে। বর্তমানে তরুণ শিক্ষিত দায়ীগণ ইউটিউব, ফেসবুক ও পডকাস্টের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষিত সমাজের সংশয় দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।

উপসংহার

দায়ীগণের রক্ত, ঘাম ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের মুসলিম বাংলাদেশ। আগামী দিনেও পাশ্চাত্য ভোগবাদ ও সেক্যুলার আগ্রাসন মোকাবেলায় দেশের দায়ীদের আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে নববী দাওয়াত অব্যাহত রাখতে হবে।


٥- اذكر الأحوال الراهنة للدعوة الإسلامية في مصر مفصلاً-

[৫. মিসরের বর্তমান ইসলামি দাওয়ার অবস্থা বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

আরব ও মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র বলা হয় প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিসরকে। ঐতিহাসিক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, হাজারো ঐতিহ্যের কায়রো নগরী এবং প্রথিতযশা আলেমদের উপস্থিতির কারণে মিসর সর্বদা বিশ্ব মুসলিমের দাওয়াতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সমকালীন বিশ্বে রাজনৈতিক পরিবর্তন, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখে মিসরের ইসলামি দাওয়াহ এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায় অতিক্রম করছে।

মিসরে বর্তমান দাওয়াতি পরিস্থিতির বহুমুখী চিত্র

  1. আল-আজহার আশ-শরিফ (جامع الأزهر الشريف)-এর বৈশ্বিক ভূমিকা:
    • আল-আজহার মিসরের রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী মধ্যমপন্থী ইসলাম (ইসলাম আল-ওয়াসাতিয়াহ)-এর প্রতিনিধিত্ব করে।
    • বর্তমানে শায়খুল আজহার ড. আহমদ আত-তায়্যিবের নেতৃত্বে আল-আজহার ইসলামভীতি (Islamophobia) দূরীকরণ, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং ফিলিস্তিন ও বৈশ্বিক মুসলিম মজলুমদের পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে দাওয়াত পরিচালনা করছে।
    • বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত হাজার হাজার শিক্ষার্থী আল-আজহারে বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজ নিজ দেশে দায়ী হিসেবে কাজ করছে।
  2. ওয়াকফ মন্ত্রণালয় (وزارة الأوقاف) ও রাষ্ট্রীয় মসজিদ নিয়ন্ত্রণ:
    • মিসরের লক্ষাধিক মসজিদের জুমার খুতবা বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে আওকাফ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নজরদারিতে থাকে। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অভিন্ন খুতবা (Unified Khutbah) পাঠ করা বাধ্যতামূলক।
    • লাইসেন্সবিহীন কোনো ব্যক্তির পক্ষে মসজিদে ওয়াজ বা দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে দায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ততা বাধাগ্রস্ত হলেও উগ্র মতবাদের অনুপ্রবেশ কিছুটা রোধ হয়েছে।
  3. দারুল ইফতা আল-মিসরিয়্যাহ (دار الإفتاء المصرية):
    মুফতি শওকি আল্লাম ও শীর্ষ মুফতিগণের নেতৃত্বে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত অনলাইন ফতোয়া সার্ভিস, বহুভাষিক ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যুবসমাজের বিভ্রান্তি নিরসনে প্রতিদিন হাজার হাজার ফতোয়া ও দাওয়াতি সমাধান প্রদান করা হচ্ছে।
  4. সালাফি আন্দোলন ও সুফি তরিকাগুলোর অবস্থান:
    • ইখওয়ানুল মুসলিমিনের ওপর ২০১৩ সালের পর থেকে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ায় রাজনৈতিক ইসলামি দাওয়াত চরমভাবে সংকুচিত হয়েছে।
    • অপরদিকে ‘আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া’ এবং আলেকজান্দ্রিয়ার সালাফি দাওয়াত সামাজিক ও শিক্ষা খাতে অরাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
    • মিসরের ঐতিহ্যবাহী সুফি তরিকাগুলো (যেমন শাযিলিয়া, রেফায়িয়া, বদভিয়া) রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে লক্ষাধিক অনুসারীর মাঝে জিকির, তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধিমূলক দাওয়াত বজায় রেখেছে।
  5. স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম:
    মিসরের শীর্ষস্থানীয় কারী ও আলেমগণের কুরআন তেলাওয়াত চ্যানেল এবং আল-আজহার টিভি বিশ্বজুড়ে কুরআন ও সুন্নাহর দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে।

উপসংহার

মিসরের সমকালীন দাওয়াত মূলত রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীনে মধ্যমপন্থা প্রচারের নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আল-আজহারের মর্যাদা ও সাধারণ মিসরীয়দের দ্বীনপ্রীতি এ দেশের দাওয়াতি সম্ভাবনাকে সর্বদা সমুন্নত রেখেছে।


٦- تحدث عن الحركات الاسلامية في باكستان مفصلاً-

[৬. পাকিস্তানের ইসলামি আন্দোলন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

১৯৪৭ সালে ‘পাকিস্তান কা মাতলাব কেয়া—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্লোগানের ভিত্তিতে ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তান। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামি আন্দোলন ও দাওয়াতি রাজনীতির প্রধান ক্ষেত্র হলো পাকিস্তান। এখানে কুরআন-সুন্নাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন এবং দ্বীনি শিক্ষা সুরক্ষায় বহুমুখী ইসলামি আন্দোলন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

পাকিস্তানের প্রধান প্রধান ইসলামি আন্দোলন ও তাদের কর্মপদ্ধতি

  1. জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান (جماعة إسلامية باكستان):
    • প্রতিষ্ঠা ও রূপরেখা: ১৯৪১ সালে বিশ্বখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি সুশৃঙ্খল, ক্যাডারভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইসলামি আন্দোলন।
    • অবদান: পাকিস্তানের ১৯৫৬ ও ১৯৭৩ সালের সংবিধানে ‘ইসলামি অনুচ্ছেদ’ (Islamic Provisions) এবং কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার পেছনে জামায়াতের গণআন্দোলন ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।
    • শাখা ও অঙ্গসংগঠন: ‘আল-খিদমত ফাউন্ডেশন’ পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ মানবিক ত্রাণ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামি জমিয়তে তালাবা ক্যাম্পাসগুলোতে ব্যাপক দাওয়াতি কাজ করে।
  2. জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (দেওবন্দি আন্দোলন):
    • দারুল উলুম দেওবন্দের চিন্তাধারায় বিশ্বাসী আলেমদের প্রতিনিধিত্বকারী দল। মাওলানা মুফতি মাহমুদ ও পরবর্তীতে মাওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে এদের ব্যাপক জনভিত্তি রয়েছে।
    • তারা মূলত হাজার হাজার দ্বীনি কওমি মাদ্রাসার নেটওয়ার্ক (ওয়াফাকুল মাদারিস আল-আরাবিয়া) পরিচালনা করে লক্ষ লক্ষ হাফেজ ও আলেম তৈরি করছে।
  3. বেরেলভি আন্দোলন ও দাওয়াত-ই-ইসলামী:
    • আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত (বেরেলভি) ঘরানার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তান (জেউপি) এবং সম্প্রতি তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শানে মানহানি রোধ ও তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
    • আমিরে আহলে সুন্নাত ইলিয়াস আত্তার কাদরী প্রতিষ্ঠিত ‘দাওয়াত-ই-ইসলামী’ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে বিশ্বব্যাপী মাদানি চ্যানেল ও সবুজ পাগড়ির মাধ্যমে সুফি ঘরানার নৈতিক দাওয়াত পরিচালনা করছে।
  4. আহলে হাদিস আন্দোলন (مركزي جمعية أهل حديث):
    আল্লামা এহসান এলাহী জহির ও অধ্যাপক সাজিদ মীরের নেতৃত্বে কুরআন ও সহিহ হাদিসের বিশুদ্ধ অনুসরণের দাওয়াত এবং শিরক-বিদআত প্রতিরোধে সক্রিয়।
  5. তাবলিগ জামায়াত (রায়উইন্ড মারকাজ):
    লাহোরের রায়উইন্ড মারকাজকে কেন্দ্র করে পরিচালিত পাকিস্তানের তাবলিগ জামায়াত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে সমাজের সব স্তরের লাখ লাখ মানুষকে মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত করছে। প্রতিবছর রায়উইন্ড ইজতেমায় বিশ্বের বহু দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।

পাকিস্তানের ইসলামি আন্দোলনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

  • উপদলীয় ও মাযহাবি সংকীর্ণতা: বিভিন্ন দল ও ফির্কার মাঝে পারস্পরিক সংঘাত ও আস্থার সংকট দাওয়াতের সার্বজনীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
  • পশ্চিমা ও সামরিক শক্তির চাপ: ইসলামি শরীয়াহ পূর্ণ বাস্তবায়নে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অব্যাহত হস্তক্ষেপ।

উপসংহার

পাকিস্তানের ইসলামি আন্দোলনসমূহ ইসলামি আকিদা ও সংস্কৃতি রক্ষায় এক দুর্ভেদ্য প্রাচীরস্বরূপ। পারস্পরিক মতপার্থক্য ভুলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে এ আন্দোলনসমূহ পাকিস্তানকে একটি প্রকৃত ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবে।


مجموعة (ب) [বিভাগ ‘খ’ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী]

মান: ৫ × ৪ = ২০

٧- اذكر خدمات محمد عبده في نشر الإسلام-

[৭. ইসলাম প্রচারে মুহাম্মদ আবদুহ-এর অবদানসমূহ উল্লেখ কর।]

উত্তর:

শায়খ মুহাম্মদ আবদুহ (১৮৪৯–১৯০৫ খ্রি.): মিসরের আধুনিক যুগের বিখ্যাত ইসলামি সংস্কারক, দার্শনিক এবং মিসরের প্রধান মুফতি (মুফতি আদ-দিয়ার আল-মিসরিয়্যাহ)। তিনি সাইয়্যেদ জামালুদ্দীন আফগানীর বিশিষ্ট শিষ্য ছিলেন। ইসলাম প্রচার ও সংস্কারে তাঁর অবদানসমূহ নিম্নরূপ:

  1. আল-আজহারের শিক্ষা সংস্কার: তিনি সনাতন পাঠ্যসূচির পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত, ভূগোল ও ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করে ইসলামি শিক্ষার আধুনিকায়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন।
  2. বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধ ও ইসলামের যৌক্তিক উপস্থাপন: তিনি পাশ্চাত্য দার্শনিক ও প্রাচ্যবিদদের ইসলামবিরোধী অভিযোগের দাঁতভাঙা জবাব দেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘রিসালাতুত তাওহিদ’ (رسالة التوحيد)-এ তিনি প্রমাণ করেন যে, ইসলাম ও মানব যুক্তির মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।
  3. তাফসির আল-মানার প্রণয়ন: তাঁর দেওয়া কোরআনের আধুনিক সমাজমুখী তাফসির তাঁর শিষ্য আল্লামা রশিদ রেজা ‘তাফসিরুল মানার’ নামে সংকলন করেন, যা আধুনিক যুগে তাফসির সাহিত্যের এক অনন্য মাইলফলক।
  4. শরীয়তি ফতোয়ায় উদার ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে তিনি সংকীর্ণ মাযহাবি গোঁড়ামিমুক্ত হয়ে যুগোপযোগী ও গবেষণালব্ধ বহু ফতোয়া প্রদান করেন, যা সাধারণ শিক্ষিত মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে।

٨- من الشيخ جمال الدين الأفغاني؟ اكتب مناهج دعوته-

[৮. শায়খ জামাল উদ্দীন আফগানী কে? তাঁর দাওয়াতের পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর:

পরিচয়: সাইয়্যেদ জামালুদ্দীন আল-আফগানী (১৮৩৮–১৮৯৭ খ্রি.) ছিলেন মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক সংস্কারক, দার্শনিক এবং ‘প্যান-ইসলামিজম’ বা মুসলিম বিশ্বজনীন ঐক্যের (الجامعة الإسلامية) অগ্রদূত। তিনি আফগানিস্তান, ভারত, মিসর, তুরস্ক, ফ্রান্স ও রাশিয়াসহ বহু দেশে পরিভ্রমণ করে মুসলিম জাগরণ সৃষ্টি করেন।

তাঁর দাওয়াতের প্রধান পদ্ধতি ও কর্মপন্থা (مناهج دعوته):

  1. সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বিপ্লবী চেতনা জাগ্রত করা: তিনি ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ (বিশেষত ব্রিটিশদের) বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
  2. আল-উরওয়াতুল উসকা (العروة الوثقى) পত্রিকা প্রকাশ: প্যারিস থেকে তাঁর শিষ্য মুহাম্মদ আবদুহকে নিয়ে আরবি পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের মাঝে স্বাধীনতার স্পৃহা ছড়িয়ে দেন।
  3. রাজনৈতিক সংস্কার ও স্বৈরাচারী শাসকদের জবাবদিহিতা: তিনি মুসলিম শাসকদের অজ্ঞতা ও স্বেচ্ছাচারিতা দূর করে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক ও ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন শাসন কায়েমের ডাক দেন।
  4. অন্ধ অনুকরণ (তাকলিদ) পরিহার ও ইজতিহাদের পুনরুজ্জীবন: তিনি স্থবিরতা ভেঙে ইসলামি চিন্তার পুনর্গঠন ও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে ইজতিহাদ চর্চার তাগিদ দেন।

٩- من الحاجي شريعة الله؟ تحدث عن حركته الفرائضية-

[৯. হাজী শরীয়তুল্লাহ কে ছিলেন? তাঁর ফারায়েজি আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর:

পরিচয়: হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১–১৮৪০ খ্রি.) ছিলেন অবিভক্ত বাংলার একজন মহান ইসলামি সংস্কারক ও ফারায়েজি আন্দোলনের জনক। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের (বর্তমান মাদারীপুর জেলা) শ্যামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ২০ বছর মক্কা মুকাররামায় অবস্থান করে গভীর ইসলামি জ্ঞান অর্জন শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

ফারায়েজি আন্দোলন (الحركة الفرائضية):

  1. আন্দোলনের নামকরণ ও মূল ভিত্তি: ‘ফারায়েজি’ শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (الفرض) শব্দের বহুবচন। সমাজে প্রচলিত শিরক, বেদাত ও কুসংস্কার ত্যাগ করে প্রতিটি মুসলিম যাতে দ্বীনের অবশ্যপালনীয় ফরজ বিধানসমূহ যথাযথভাবে আদায় করে, সে উদ্দেশ্যে তিনি এ আন্দোলনের সূচনা করেন।
  2. কুসংস্কার ও বেদাত উচ্ছেদ: পীরপূজা, মাজারপূজা, ফাতেহা পাঠ ও অনৈসলামিক সামাজিক প্রথা বন্ধে তিনি কঠোর সংগ্রাম পরিচালনা করেন।
  3. ব্রিটিশ শাসনকে ‘দারুল হরব’ ঘোষণা: ইংরেজদের গোলামির অধীনে জুমার ও ঈদের নামাজ স্থগিত ঘোষণা করে তিনি সাধারণ মুসলিম কৃষকদের মাঝে রাজনৈতিক স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত করেন।
  4. জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ: তিনি অত্যাচারী হিন্দু জমিদারদের চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় আবওয়াব ও দাড়ি রাখার ওপর কর দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর সুযোগ্য পুত্র দুদু মিয়া (মুহসিন উদ্দীন আহমদ) এ আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত গণসংগ্রামে রূপ দেন।

١٠- اكتب خدمات مولانا كرامت علی جونبوری في دعوة الإسلام في بنغلاديش-

[১০. বাংলাদেশে ইসলামের দাওয়াতে মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরীর অবদানসমূহ লেখ।]

উত্তর:

মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) (১৮০০–১৮৭৩ খ্রি.): ভারতের জৌনপুরে জন্মগ্রহণকারী এই মহান সাধক ছিলেন সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ ব্রেলভী (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা। জীবনের শেষ চল্লিশ বছর তিনি অবিভক্ত বাংলা ও আসামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জলপথে পরিভ্রমণ করে ইসলামি দাওয়াতের যে ইতিহাস রচনা করেছেন, তা অতুলনীয়।

বাংলাদেশে তাঁর দাওয়াতি অবদানসমূহ:

  1. জলপথে ভাসমান মাদ্রাসা ও দাওয়াতি সফর: তিনি একটি বড় বজরা নৌকাকে নিজের বাসস্থান ও মাদ্রাসায় রূপান্তর করে পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রের নদী অববাহিকায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের বিশুদ্ধ দাওয়াত পৌঁছে দেন।
  2. তা’য়ুনি সংস্কার আন্দোলন: তিনি মানুষের মাঝে সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন ঘটাতে ‘তা’য়ুনি’ (تعيني) জামায়াত গঠন করেন। শিরক, বিদআত ও হিন্দুয়ানি কুসংস্কার নির্মূলে তিনি আপসহীন ছিলেন।
  3. জুমার নামাজ পুনঃপ্রবর্তন: ফারায়েজি আন্দোলনের জুমার নামাজ স্থগিত রাখার ফতোয়ার বিপরীতে তিনি প্রমাণ করেন যে, বাংলা সম্পূর্ণ দারুল হরব নয়; ফলে তিনি সর্বত্র জামায়াতের সাথে জুমা ও ঈদের নামাজ চালু করে মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করেন।
  4. বিশাল গ্রন্থাবলী রচনা: সাধারণ মানুষের হেদায়েতের জন্য তিনি উর্দু ও ফার্সি ভাষায় অর্ধশতাধিক অমূল্য গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে ‘মিফতাহুল জান্নাত’ ও ‘নুরুল হুদা’ অন্যতম।
  5. চিরনিদ্রায় শায়িত: তাঁর মহান দাওয়াতি মিশনের কারণে তিনি রংপুরে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁর মাজার অবস্থিত।

١١- تحدث عن دور المؤسسة الإسلامية بنغلاديش في نشر الإسلام مختصراً-

[১১. ইসলাম প্রচারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর ভূমিকা সংক্ষেপে লেখ।]

উত্তর:

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফাবা): ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় সরকারি অনুদানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার, গবেষণা ও প্রকাশনায় এটি একক বৃহত্তম জাতীয় প্রতিষ্ঠান।

ইসলাম প্রচারে এর প্রধান ভূমিকাসমূহ:

  1. কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামি সাহিত্যের প্রকাশনা: পবিত্র কুরআনের প্রামাণ্য বাংলা অনুবাদ, বুখারি, মুসলিমসহ সিহাহ সিত্তার সকল হাদিসগ্রন্থ, বিশ্বকোষীয় ‘সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ’ এবং শত শত মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।
  2. মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মসজিদগুলোতে লাখ লাখ নিরক্ষর শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও পবিত্র কুরআন সহিহভাবে পাঠদানের সফলতম প্রকল্প পরিচালনা করছে।
  3. ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি (ITA): দেশের লক্ষাধিক মসজিদের ইমামদের ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি কম্পিউটার, প্রাথমিক চিকিৎসা, কৃষি ও সমাজসেবামূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করছে।
  4. ইসলামিক মিশন ও স্বাস্থ্যসেবা: দেশের অসচ্ছল এলাকায় ইসলামিক মিশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করে দাওয়াতকে মানবসেবায় রূপান্তর করেছে।
  5. জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ও হেফজ প্রতিযোগিতা: জাতীয় পর্যায়ে শরীয়তসম্মতভাবে হিজরি সন নির্ধারণ এবং প্রতিবছর জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করছে।

١٢- علّق على اثنين مما يلى: (الف) محمد أحمد رضا خان البريلوى (ب) المؤسسات الإسلامية في أندونيسيا (ج) المسلمون في الهند (د) السيد أبو الحسن الندوي

[১২. যেকোনো দুটির ওপর টীকা লেখ: (ক) মুহাম্মদ আহমদ রেজা খাঁন বেরেলভী (খ) ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি প্রতিষ্ঠানসমূহ (গ) ভারতে মুসলিমগণ (ঘ) সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী।]

(ক) ইমাম আহমদ রেজা খাঁন বেরেলভী (رحمه الله)

আহমদ রেজা খাঁন (১৮৫৬–১৯২১ খ্রি.) ব্রিটিশ ভারতের বেরেলিতে জন্মগ্রহণকারী সুপ্রসিদ্ধ হানাফি ফকিহ, মুহাদ্দিস ও কবি। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ (বেরেলভি সিলসিলা)-এর প্রতিষ্ঠাতা পথপ্রদর্শক। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শান-মান, নূরিয়াত ও এলমে গায়েব সংক্রান্ত বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর সুবিশাল ফতোয়ার সংকলন ‘ফাতাওয়া-ই-রেজভিয়া’ (فتاوى رضوية) ৩০ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর উর্দু না’ত সংকলন ‘হাদায়েকে বখশিশ’ মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত।

(খ) ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি প্রতিষ্ঠানসমূহ (المؤسسات الإسلامية في أندونيسيا)

বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামের মূল চালিকাশক্তি হলো তাদের সুসংগঠিত বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহ। এর মধ্যে প্রধান দুটি হলো:

  • মুহাম্মাদিয়া (Muhammadiyah): ১৯১২ সালে আহমাদ দাহলান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আধুনিক সংস্কারবাদী সংগঠন। এটি ইন্দোনেশিয়াজুড়ে শত শত আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়, হাজার হাজার স্কুল এবং আধুনিক হাসপাতাল পরিচালনা করে দাওয়াতি মডেল সৃষ্টি করেছে।
  • নাহদাতুল উলামা (Nahdlatul Ulama – NU): ১৯২৬ সালে হাশিম আশয়ারি কর্তৃক গঠিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাদী ইসলামি সংগঠন। এটি প্রায় ৯ কোটি অনুসারী নিয়ে গ্রামীণ মাদ্রাসা (পেসানত্রেন) ও সামাজিক সম্প্রীতির দাওয়াতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

(গ) ভারতে মুসলিমগণ (المسلمون في الهند)

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল (প্রায় ২০ কোটি)। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে ভারতীয় মুসলিমরা শিক্ষা, চাকরি ও রাজনীতিতে নানা প্রতিকূলতার মুখে রয়েছে। সাচার কমিটির রিপোর্টে ভারতীয় মুসলিমদের অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বর্তমান উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কারণে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার, মসজিদ ও ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার জন্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ও মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দ ও আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।

(ঘ) সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (رحمه الله)

মাওলানা আলী মিয়া নদভী (১৯১৪–১৯৯৯ খ্রি.) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক ইসলামি চিন্তাবিদ, ঐতিহাসিক ও দায়ী। তিনি দীর্ঘকাল ভারতের লখনউয়ের বিশ্বখ্যাত ‘দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা’র মহাপরিচালক এবং রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তাঁর কালজয়ী আরবি গ্রন্থ ‘মা জা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমিন’ (ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين) বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ইসলামের সৌন্দর্য ও দাওয়াতি বার্তা পৌঁছে দিতে আজীবন নিরলস কাজ করেছেন।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ‘আদ-দা’ওয়াহ ওয়া আদ-দুয়াত ফিল আসরিল হাদিস’ বিষয়ের মূল প্রতিপাদ্য কী?

আধুনিক যুগে ইসলামি দাওয়াতের গতি-প্রকৃতি, আধুনিক চিন্তাধারা ও মতবাদের প্রেক্ষাপটে দায়ীদের কর্মপদ্ধতি এবং সমকালীন বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ইসলামি আন্দোলন ও দায়ীদের ইতিহাস ও ভূমিকা পর্যালোচনা করাই এ কোর্সের মূল লক্ষ্য।

২. আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক ইসলামি দাওয়াতে কী অবদান রাখছে?

আল-আজহার বিশ্বব্যাপী মধ্যমপন্থী ইসলাম (Wasatiyyah) প্রচার, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা নিরসন, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং শত শত দেশের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ও দাওয়াতি প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।

৩. বাংলায় ফারায়েজি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কী ছিল?

হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রবর্তিত ফারায়েজি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম সমাজ থেকে অনৈসলামিক বেদাত ও কুসংস্কার দূর করে ইসলামের ফরজ বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠা করা এবং শোষক জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের অধিকার আদায় করা।

৪. প্যান-ইসলামিজম বা বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের ক্ষেত্রে জামালুদ্দীন আফগানীর ভূমিকা কী ছিল?

শায়খ জামালুদ্দীন আফগানী মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার অনৈক্য দূর করে এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে খিলাফতের পতাকাতলে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সর্বপ্রথম সুসংহত বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক ডাক দিয়েছিলেন।

৫. ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম প্রচারে মুহাম্মাদিয়া সংগঠনের বৈশিষ্ট্য কী?

মুহাম্মাদিয়া সংগঠনটি ইসলামি সমাজকল্যাণ, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উচ্চশিক্ষার বিশাল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বে একটি কার্যকর দাওয়াতি মডেল উপস্থাপন করেছে।

৬. ফাজিল ৪র্থ বর্ষের দাওয়াহ বিষয়ের পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার উপায় কী?

কুরআন ও হাদিসের নির্ভুল আরবি উদ্ধৃতিসহ ব্যাখ্যা লেখা, ঐতিহাসিক তথ্য ও সাল-তারিখের যথার্থতা বজায় রাখা এবং পয়েন্ট আকারে বিশ্লেষণমূলক উত্তর উপস্থাপন করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *