পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৮
اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۲ م
ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২
القرآن والدراسات الإسلامية (আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
الإسلام والأديان الأخرى (আল-ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা – ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম)
বিষয় কোড: ২০১৩০৮
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ৪ × ১৫ = ৬০)
১ নম্বর প্রশ্ন
ما معنى الدين لغة وإصطلاحًا؟ بين أهمية دراسة مقارنة الأديان مفصلا—
[১. الدين এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর।]
দ্বীন (الدين)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ
ভাষাগত দিক থেকে আরবি ‘দ্বীন’ (الدين) শব্দটি ‘দানা-ইয়াদীনু’ (دان – يدين) মূলধাতু থেকে উৎপন্ন। এর একাধিক আভিধানিক অর্থ রয়েছে; যেমন: আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করা (الطاعة والانقياد), প্রতিদান বা প্রতিফল (الجزاء والمكافأة), নিয়ম ও প্রথা (العادة), সংবিধান ও বিধিমালা (القانون والشريعة)। কুরআনে প্রতিদান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
(তিনি প্রতিদান দিবসের মালিক)।
পারিভাষিক অর্থে ‘দ্বীন’ হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক মানবজাতির হেদায়েত ও সার্বিক কল্যাণের জন্য নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে প্রেরিত এমন এক সার্বজনীন ঐশী বিশ্বাস ও বিধিমালার সমষ্টি, যা অনুসরণের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ায় শান্তি এবং আখেরাতে চিরস্থায়ী মুক্তি ও জান্নাত লাভ করতে পারে।
তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (مقارنة الأديان / Comparative Religion) পাঠের গুরুত্ব
বিশ্বে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস, ধর্মগ্রন্থ, বিশ্বাস ও আচারের নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানসম্মত পর্যালোচনাকে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বলা হয়। ইসলামি জ্ঞানচর্চায় ইমাম ইবনে হাযম, ইমাম শাহরাস্তানী ও ইমাম বিরুনীর মতো মনীষীগণ এ বিষয়ে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এ শাস্ত্র অধ্যয়নের অপরিহার্য গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:
- ইসলামের সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন: অন্যান্য মানবসৃষ্ট বা বিকৃত ধর্মের সীমাবদ্ধতা ও অসারতার বিপরীতে ইসলামের বিশুদ্ধ একত্ববাদ, বাস্তবসম্মত বিধান ও নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
- কার্যকর ও প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াত পরিচালনা: ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে হলে তাদের ধর্মের মূল বিশ্বাস, পরিভাষা ও ধর্মগ্রন্থের দুর্বলতা সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আল্লাহ নির্দেশ দেন:
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
(হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তোমার রবের পথে আহ্বান কর)। - প্রাচ্যবিদ ও ইসলামবিদ্বেষীদের অপপ্রচারের খণ্ডন: অমুসলিম প্রাচ্যবিদগণ (Orientalists) ইসলাম ও কুরআন সম্পর্কে যেসব বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ছড়ায়, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গভীর জ্ঞান দ্বারা সেগুলোর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া সম্ভব হয়।
- ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা: বহুত্ববাদী সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের মানসিকতা ও রীতিনীতি জানার ফলে সাম্প্রদায়িক উসকানি এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায়।
- ঐশীগ্রন্থের তুলনামূলক বিশুদ্ধতা নিরূপণ: তাওরাত, ইঞ্জিল প্রভৃতি বিকৃত আসমানি কিতাবের বিপরীতে আল-কুরআনের অবিকৃত ও অলৌকিক রূপ বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করা যায়।
২ নম্বর প্রশ্ন
عرف الإسلام— ثم تحدث عن محاسن الإسلام الأسرية والأقتصادية—
[২. الإسلام এর পরিচয় দাও। অতঃপর ইসলামে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সৌন্দর্য আলোচনা কর।]
ইসলাম (الإسلام)-এর সংজ্ঞা
শাব্দিক অর্থে ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ করা (الاستسلام), আনুগত্য করা এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় প্রবেশ করা (السلم والسلامة)। শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর তাওহিদ ও একক সার্বভৌমত্বের সামনে দ্বিধাহীনচিত্তে আত্মসমর্পণ করে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত সমুদয় বিধিবিধান সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ ও জীবনব্যাপী বাস্তবায়ন করার নামই ইসলাম।
ইসলামের পারিবারিক সৌন্দর্য (محاسن الإسلام الأسرية)
ইসলাম মানবসমাজের আদি ও ক্ষুদ্রতম ইউনিট হিসেবে পরিবারকে অত্যন্ত পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ কাঠামোর ওপর স্থাপন করেছে:
- পবিত্র বৈবাহিক বন্ধন: যৌনাচার ও অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করে ‘নিকাহ’-এর মাধ্যমে নারী ও পুরুষের মধ্যে পবিত্র, সম্মানজনক ও দায়বদ্ধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। আল্লাহ বলেন:
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً
(এবং তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি পাও এবং তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন)। - নারী ও স্ত্রীর মর্যাদা ও অধিকার: নারীকে ঘরের শোভা ও অর্ধাঙ্গিনী ঘোষণা করে মোহরানা প্রদান, ভরণপোষণ এবং সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে তার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।”
- পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার: বার্ধক্যে পিতামাতার প্রতি সামান্যতম বিরক্তি (‘উহ’) প্রকাশ করতেও নিষেধ করা হয়েছে এবং মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত ঘোষণা করা হয়েছে।
- সন্তানের অধিকার ও সুশিক্ষা: কন্যাশিশুর জন্মকে রহমত আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যা বা বৈষম্য করার জাহেলি প্রথা চিরতরে উচ্ছেদ করেছে এবং সন্তানদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষাদানের ওপর জোর দিয়েছে।
ইসলামের অর্থনৈতিক সৌন্দর্য (محاسن الإسلام الاقتصادية)
ইসলাম পুঁজিবাদী শোষণ ও সমাজতান্ত্রিক ব্যক্তিস্বাধীনতাহীনতা—উভয়ের চরমপন্থা পরিহার করে এক ইনসাফপূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে:
- সুদ ও শোষণের চিরস্থায়ী মূলোৎপাটন: ইসলাম সকল প্রকার সুদ (রিবা), জুয়া ও ফটকাবাজি সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করেছে (
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
– আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন)। - যাকাত ও সামাজিক নিরাপত্তা: ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদে আড়াই শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক যাকাত এবং উশর ধার্য করে বিত্তহীন, এতিম ও ঋণগ্রস্তদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করেছে।
- সম্পদের সুষম বণ্টন ও কেন্দ্রীভবন রোধ: যাতে সম্পদ কেবল ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না হয় (
كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنكُمْ
), সেজন্য ইসলাম ফারায়েয বা উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্পদ বহু স্তরে বণ্টিত করার বিধান দিয়েছে। - শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমের মর্যাদা: মেহনতি মানুষের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়ে শ্রমিকের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছে।
৩ নম্বর প্রশ্ন
أثبت أن الإسلام صالح لكل زمان ومكان—
[৩. প্রমাণ কর যে, ইসলাম প্রত্যেক যুগ ও স্থানের জন্য উপযুক্ত।]
ইসলাম সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী (صالح لكل زمان ومكان)
মানবজাতির জন্য ইসলামের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর শাশ্বত কালজয়িতা ও স্থানাতীত উপযোগিতা। ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা বিশেষ শতাব্দীতে সীমাবদ্ধ নয়; কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী প্রতিটি মানুষের জন্যই এটি একমাত্র মুক্তির পথ। নিম্নে যুক্তিসিদ্ধ ও প্রামাণ্য দলিলের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রমাণ করা হলো:
- ঐশী পূর্ণাঙ্গতা ও আল্লাহর ঘোষণা: মানুষের তৈরি মতবাদ মানুষের সীমিত জ্ঞানে গঠিত হওয়ায় তা যুগে যুগে অকার্যকর হয়ে পড়ে। কিন্তু ইসলাম সর্বজ্ঞানী আল্লাহর নাযিলকৃত শাশ্বত জীবনবিধান। আল্লাহ ঘোষণা করেন:
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
(আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম)। যে বিধান স্বয়ং আল্লাহ পূর্ণাঙ্গ করেছেন, তাতে নতুন কোনো সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন নেই। - রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সর্বজনীন রেসালাত: পূর্ববর্তী নবীগণ নির্দিষ্ট কওম বা সময়ের জন্য প্রেরিত হতেন; কিন্তু শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য প্রেরিত হয়েছেন:
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا
(আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি)। - মানবপ্রকৃতির (ফিতরাত) সাথে অবিচ্ছেদ্য সংগতি: ইসলামের প্রতিটি আদেশ ও নিষেধ মানুষের মৌলিক মানবিক স্বভাবের (فطرة الله) সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিজ্ঞান ও সভ্যতার যত অগ্রগতিই হোক না কেন, মানুষের ক্ষুধা, আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা, ন্যায়বিচারের আকুতি অপরিবর্তিত থাকে—যা একমাত্র ইসলামই পূরণ করে।
- মূলনীতির স্থায়িত্ব ও শাখা বিধানের গতিশীলতা (ইজতিহাদ): ইসলামের মৌলিক আকীদা, হালাল-হারামের সীমারেখা ও মূলনীতিসমূহ অপরিবর্তনীয় ও শাশ্বত। তবে যুগোপযোগী নতুন নতুন সমস্যার সমাধানের জন্য ইসলাম ‘ইজতিহাদ’-এর দরজা উন্মুক্ত রেখেছে, যা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও জটিল সংকটের শরয়ি সমাধান প্রদানে সক্ষম।
- সহজতা ও মধ্যমপন্থা (الوسطية واليسر): ইসলাম চরম বৈরাগ্যবাদ বা অনিয়ন্ত্রিত ভোগবাদ সমর্থন করে না। এটি মানবজাতির উপযোগী এক ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা নির্ধারণ করেছে। ফলে মরুভূমির যাযাবর থেকে শুরু করে আধুনিক মহাকাশ যুগের মানুষ—সবার জন্যই ইসলামের বিধান পালন করা সমানভাবে সম্ভব।
৪ নম্বর প্রশ্ন
أكتب خصائص الإسلام العقدية والشرعية بالتفصيل—
[৪. ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসগত ও বিধানগত সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা কর।]
১. ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসগত বৈশিষ্ট্য (الخصائص العقدية)
ইসলামের আকীদা বা বিশ্বাস অত্যন্ত শক্তিশালী, যৌক্তিক ও স্বচ্ছ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
- বিশুদ্ধ তাওহীদ ও শিরকমুক্ততা: ইসলামের কেন্দ্রীয় চেতনা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহ সত্তায়, গুণে ও কর্তৃত্বে এক ও একক। ত্রিত্ববাদ বা বহুঈশ্বরবাদের মতো কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা ইসলামে নেই।
- বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিক গ্রহণযোগ্যতা: ইসলাম অন্ধ বিশ্বাসকে প্রশ্রয় দেয় না; বরং মহাবিশ্ব, গ্রহ-নক্ষত্র ও মানুষের সৃষ্টির সূক্ষ্ম কারুকার্য দেখে চিন্তাভাবনা করে স্রষ্টাকে চেনার উদাত্ত আহ্বান জানায়।
- সুদৃঢ় আশাবাদ ও মানসিক প্রশান্তি: তাকদিরে বিশ্বাস মুমিনকে চরম বিপদেও ধৈর্যশীল রাখে এবং অহংকার ও হতাশা থেকে মুক্ত করে আত্মিক শক্তি জোগায়।
- পরকালীন জবাবদিহিতার স্পষ্ট ধারণা: মৃত্যুতেই সব শেষ নয়; প্রতিটি অণু পরিমাণ ভালো ও মন্দের বিচার আদালতে আখিরাতে হবে—এ বিশ্বাস মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে সৎপথে পরিচালিত করে।
২. ইসলাম ধর্মের বিধানগত বৈশিষ্ট্য (الخصائص الشرعية)
ইসলামি শরিয়তের ব্যবহারিক বিধানাবলিতে রয়েছে অপরিসীম প্রজ্ঞা ও মানবকল্যাণ। প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
- সহজতা ও সাধ্যের বিবেচনা (رفع الحرج والتيسير): শরিয়তের কোনো বিধান মানুষের সাধ্যের বাইরে চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। অসুস্থতার সময় তায়াম্মুম বা সফরে সালাত কসর করার মতো অসংখ্য শিথিলতা বিদ্যমান। আল্লাহ বলেন:
يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ
(আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না)। - সর্বজনীন ন্যায়বিচার ও ইনসাফ: শরিয়তের বিধানে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই। শাসক-প্রজা, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই আইনের অধীন।
- মাকাসিদুশ শরীয়াহ বা পঞ্চ-সুরক্ষা: শরিয়তের সকল বিধান মূলত মানুষের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভ রক্ষার জন্য প্রণীত: (১) দ্বীন সংরক্ষণ, (২) জীবন রক্ষা, (৩) বুদ্ধিমত্তার হেফাজত, (৪) বংশ ও সম্ভ্রমের পবিত্রতা এবং (৫) সম্পদের নিরাপত্তা।
- ইহকাল ও পরকালের সুষম সমন্বয়: ইসলাম সংসার ত্যাগকে সমর্থন করে না; বরং হালাল উপায়ে দুনিয়া উপভোগের পাশাপাশি পরকালীন পাথেয় সংগ্রহের ভারসাম্য শিক্ষা দেয়।
৫ নম্বর প্রশ্ন
أثبت بالأدلة بأن الإسلام هو الدين والدستور الوحيد للحياة الانسانية—
[৫. প্রমাণ কর যে, ইসলাম মানব জীবনের একমাত্র ধর্ম ও সংবিধান।]
ইসলাম একমাত্র ধর্ম ও শাশ্বত সংবিধান
মানবজাতির ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত সার্বিক পরিচালনার জন্য ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ঐশী সংবিধান। নিম্নে কুরআন, সুন্নাহ ও ঐতিহাসিক দলিলের আলোকে এটি প্রমাণ করা হলো:
- আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীন: মহান আল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর কাছে ইসলাম ছাড়া আর কোনো মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়:
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ
(নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম হলো ইসলাম – সূরা আলে ইমরান: ১৯)। অন্যত্র বলা হয়েছে:وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
(যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে)। - মানবজীবনের প্রতিটি শাখার সুস্পষ্ট রূপরেখা: অন্যান্য ধর্ম কেবল উপাসনালয়ের আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ইসলাম মানুষের রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, সমাজনীতি ও যুদ্ধনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত সাংবিধানিক নির্দেশনা প্রদান করেছে।
- বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’: ৬২২ খ্রিস্টাব্দে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করে ৫৩টি ধারার সমন্বয়ে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন, যা বিভিন্ন জাতি ও ধর্মগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার, পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তার ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা প্রদর্শন করেছিল।
- মনুষ্যরচিত মতবাদের ব্যর্থতা: পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রভৃতি মানবীয় মতাদর্শ সমাজে শোষণ, বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পক্ষান্তরে খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে ইসলামি সংবিধানের বাস্তবায়নে বিশ্বে অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন এমন এক স্বর্ণযুগ সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে যাকাত নেওয়ার মতো কোনো অভাবী লোক খুঁজে পাওয়া যেত না।
৬ নম্বর প্রশ্ন
عرف البوذية، ثم بين تاريخ نشأتها وعقائدها الأساسية—
[৬. বৌদ্ধ ধর্মের পরিচয় দাও। অতঃপর এর উৎপত্তি ও মৌলিক আকিদাসমূহ বর্ণনা কর।]
বৌদ্ধধর্মের পরিচয়
বৌদ্ধধর্ম (البوذية / Buddhism) হলো খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাচীন ভারতে গৌতম বুদ্ধ কর্তৃক প্রচারিত একটি অহিংসাবাদী ও নৈতিক দর্শনভিত্তিক ধর্ম। এটি মূলত হিন্দুধর্মের চরম জাতপাত, বৈদিক যজ্ঞের জটিলতা এবং পশু বলিদানের তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
ঐতিহাসিক উৎপত্তি
বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক সিদ্ধার্থ শাক্যসিংহ বর্তমান নেপালের কপিলাবস্তুর লুম্বিনী উদ্যানে এক ক্ষত্রিয় রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন (আনুমানিক ৫৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে)। রাজপ্রাসাদের অপরিসীম ভোগ-বিলাসের মধ্যে থেকেও তিনি জরা, ব্যাধি, মৃত্যু ও সন্ন্যাসী—এই চার দৃশ্য দেখে গভীরভাবে ব্যথিত হন। অতঃপর ২৯ বছর বয়সে স্ত্রী ও নবজাতক পুত্রকে রেখে সত্যের সন্ধানে গৃহত্যাগ করেন। দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর তপস্যা ও ধ্যানের পর বিহারের গয়ার এক অশ্বত্থ বৃক্ষের নিচে তিনি পরম জ্ঞান বা ‘বোধি’ লাভ করেন এবং ‘বুদ্ধ’ (জ্ঞানী) নামে পরিচিত হন। এরপর সারনাথে তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যের কাছে তিনি ধর্ম প্রচার শুরু করেন।
বৌদ্ধধর্মের মৌলিক আকিদা ও বিশ্বাসসমূহ
বৌদ্ধধর্ম মূলত চারটি আর্যসত্য এবং অষ্টাঙ্গিক মার্গের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
- চতুরার্য সত্য (Four Noble Truths):
- দুঃখ (Dukkha): সংসার দুঃখময়; জন্ম, জরা, ব্যাধি, মৃত্যু—সবকিছুই দুঃখের আধার।
- দুঃখসমুদয় (Samudaya): কামনা, বাসনা ও আসক্তিই হলো সকল দুঃখের মূল কারণ।
- দুঃখরোধ (Nirodha): কামনা-বাসনা চিরতরে বিনাশ করতে পারলে দুঃখ থেকে চিরমুক্তি সম্ভব।
- দুঃখরোধমার্গ (Magga): দুঃখ নিবৃত্তির সুনির্দিষ্ট পথ হলো ‘অষ্টাঙ্গিক মার্গ’।
- অষ্টাঙ্গিক মার্গ (Noble Eightfold Path): দুঃখ মুক্তির ৮টি উপায় হলো: সৎ দৃষ্টি, সৎ সংকল্প, সৎ বাক্য, সৎ কর্ম, সৎ জীবিকা, সৎ প্রচেষ্টা, সৎ স্মৃতি ও সৎ সমাধি।
- নির্বাণ (Nirvana): বৌদ্ধধর্মের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো নির্বাণ লাভ। নির্বাণ অর্থ সকল বাসনা ও অহংবোধের চিরতরে বিলুপ্তি ঘটিয়ে পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি লাভ করা।
- ঈশ্বরহীনতা ও কর্মফল: আদি বৌদ্ধধর্মে মহাবিশ্বের স্রষ্টা বা পরমেশ্বরের কোনো স্থান নেই; মানুষ তার নিজ কর্মফলের নিয়মেই পরিচালিত হয়।
৭ নম্বর প্রশ্ন
ماذا تعرف عن الكتب المقدسة عند النصرانية وما اعتراها من تحريف؟ بين مفصلا—
[৭. খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থসমূহ এবং এগুলোর বিকৃতি সম্পর্কে যা জান বিশদভাবে আলোচনা কর।]
খ্রিস্টধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ
খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ সামগ্রিকভাবে ‘বাইবেল’ (The Holy Bible) নামে পরিচিত। বাইবেল মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
- ওল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament / পুরাতন নিয়ম): এতে ৩৯টি পুস্তক রয়েছে (ক্যাথলিকদের মতে ৪৬টি)। এটি মূলত ইহুদিদের তাওরাত ও অন্যান্য ইসরাঈলী নবীদের কিতাবের সংকলন।
- নিউ টেস্টামেন্ট (New Testament / নতুন নিয়ম): এতে মোট ২৭টি পুস্তক অন্তর্ভুক্ত। যার মধ্যে প্রধান হলো চারটি প্রচলিত ইঞ্জিল:
- মথির সুসমাচার (Gospel of Matthew): খ্রিস্টের বংশতালিকা ও ইহুদিদের কাছে তাঁর আগমনবার্তা।
- মার্কের সুসমাচার (Gospel of Mark): প্রাচীনতম ইঞ্জিল হিসেবে বিবেচিত, খ্রিস্টের অলৌকিক কর্মের বিবরণ।
- লূকের সুসমাচার (Gospel of Luke): গ্রিক চিকিৎসক লূক কর্তৃক রচিত বিস্তারিত জীবনচরিত।
- যোহনের সুসমাচার (Gospel of John): দার্শনিক ভাষায় খ্রিস্টের ঈশ্বরত্ব ও দেবত্ব প্রমাণের প্রয়াস।
- এছাড়া এতে প্রেরিতদের কার্যবিবরণী (Acts), পৌলের ১৪টি পত্র, অন্যান্য পত্রাবলি এবং প্রকাশিত বাক্য (Revelation) রয়েছে।
খ্রিস্টীয় কিতাবসমূহের বিকৃতি (تحريف)-এর প্রামাণ্য বিশ্লেষণ
পবিত্র কুরআন স্পষ্ট ঘোষণা করে যে, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের আসমানি গ্রন্থ বিকৃত করেছে: فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَٰذَا مِنْ عِندِ اللَّهِ
(অতএব দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে আর বলে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে)। আধুনিক ঐতিহাসিক ও বাইবেল বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় বিকৃতির অকাট্য প্রমাণসমূহ:
- মূল মাতৃভাষার পাঠের অনুপস্থিতি: ঈসা (আ.) ও তাঁর শিষ্যদের মাতৃভাষা ছিল আরামাইক (Aramaic)। কিন্তু বাইবেলের কোনো ইঞ্জিলই মূল আরামাইক ভাষায় সংরক্ষিত নেই; বরং শতাব্দীকাল পর গ্রিক ও লাতিন ভাষায় সংকলিত হয়েছে।
- পরস্পরবিরোধী অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য: চার ইঞ্জিলের বর্ণনা, বিশেষ করে ঈসা (আ.)-এর বংশতালিকা (মথি ও লূকের বৈপরীত্য), ক্রুশবিদ্ধের সময় ও ঘটনাপ্রবাহে শত শত সুস্পষ্ট বৈপরীত্য বিদ্যমান।
- মানবীয় সংযোজন ও বাদ দেওয়া: ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট কনস্টানটাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিসিয়া কাউন্সিলে (Council of Nicaea) শত শত প্রচলিত ধর্মপুস্তকের মধ্য থেকে চার্চের যাজকগণ ভোটাভুটির মাধ্যমে মাত্র ৪টি ইঞ্জিলকে বৈধ ঘোষণা করে বাকি সব (যেমন: বার্নাবাসের ইঞ্জিল) পুড়িয়ে ধ্বংস করেন।
- সেন্ট পলের কাল্পনিক ধর্মতত্ত্ব: সেন্ট পল ঈসা (আ.)-এর আসমানি বিশুদ্ধ বাণী বদলে দিয়ে গ্রিক ও রোমান পৌত্তলিক দর্শনের আদলে ‘ত্রিত্ববাদ’ (Trinity), ‘ঈশ্বরের পুত্র’ এবং ‘আদিপাপের প্রায়শ্চিত্ত’ (Atonement)-এর মতো কাল্পনিক মতবাদ যুক্ত করেন।
৮ নম্বর প্রশ্ন
إلى كم فرقة افترقت اليهود؟ بين أشهرها وأظهرها مع بيان أهم معتقدات لتلك الفرق—
[৮. ইহুদি জাতি কতগুলো দলে বিভক্ত হয়েছে? তার মধ্য হতে প্রসিদ্ধ দলগুলো ও তাদের বিশ্বাসের বর্ণনা তুলে ধর।]
ইহুদিদের দলবিভক্তি
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সুপ্রসিদ্ধ হাদিসে ইরশাদ করেছেন: افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة
(ইহুদিরা ৭১টি দলে বিভক্ত হয়েছিল)। ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক বিবর্তনের ধারায় ইহুদি জাতি বহু ফিরকা ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
সুপ্রসিদ্ধ ইহুদি দলসমূহ ও তাদের মৌলিক বিশ্বাস
- ফারিশি বা ফরীশী সম্প্রদায় (الفريسيون / Pharisees):
- ইহুদিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল।
- তারা লিখিত তাওরাতের পাশাপাশি মৌখিক আইন (Oral Torah) ও রাব্বিদের ব্যাখ্যাকে সমান বাধ্যতামূলক মনে করে।
- তারা মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, ফেরেশতা ও শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস করে।
- সাদুসি সম্প্রদায় (الصدوقيون / Sadducees):
- তারা ছিল প্রধানত পুরোহিত ও ধনী অভিজাত শ্রেণির দল।
- তারা কোনো মৌখিক ঐতিহ্য বা রাব্বিদের তাফসীর মানত না; কেবল মূসা (আ.)-এর লিখিত তাওরাতের পাঁচ গ্রন্থকেই অভ্রান্ত মানত।
- তারা পুনরুত্থান, পরকাল, শেষ বিচার, জান্নাত-জাহান্নাম এবং ফেরেশতাদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করত।
- এসিনি সম্প্রদায় (الأسينيون / Essenes):
- তারা ছিল চরম বৈরাগ্যবাদী ও তপস্বী গোষ্ঠী। সমাজের কোলাহল ও শহরের দুর্নীতি থেকে দূরে মৃত সাগরের তীরে নির্জনে বাস করত।
- মৃত সাগরের পাণ্ডুলিপি (Dead Sea Scrolls) এই দলেরই ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত।
- কারায়িট বা কারায়ী সম্প্রদায় (القرّاؤون / Karaites):
- অষ্টম শতাব্দীতে আনান বিন দাউদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দল।
- তারা তালমুদের যাবতীয় মানবীয় ব্যাখ্যা ও বিধান কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং একমাত্র লিখিত তাওরাতকে ধর্মের একমাত্র উৎস গণ্য করে।
- আধুনিক দলসমূহ: আধুনিক যুগে ইহুদিরা প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত: (ক) অর্থোডক্স (সনাতন কঠোর ধার্মিক), (খ) কনজারভেটিভ (মধ্যপন্থী রক্ষণশীল), এবং (গ) রিফর্ম বা সংস্কারবাদী ইহুদি (উদারপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবাপন্ন)।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ৪ × ৫ = ২০)
৯ নম্বর প্রশ্ন
ما الفرق بين الدين والشريعة؟
[৯. الشريعة ও الدين এর মধ্যে পার্থক্য কী? আলোচনা কর।]
| তুলনার বিষয় | দ্বীন (الدين) | শরীয়ত (الشريعة) |
|---|---|---|
| অর্থ ও পরিধি | দ্বীন হলো সামগ্রিক বিশ্বাস ও মৌলিক জীবনব্যবস্থা; যা সকল নবীর ক্ষেত্রে অভিন্ন ছিল। | শরীয়ত হলো দ্বীন বাস্তবায়নের ব্যবহারিক কর্মপদ্ধতি, আইনি ধারা ও উপাসনার সুনির্দিষ্ট রূপ। |
| ঐতিহাসিক পরিবর্তনশীলতা | আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবীর দ্বীন এক ও অভিন্ন—তা হলো ইসলাম ও তাওহিদ। | যুগ ও কওমভেদে বিভিন্ন নবীর শরীয়ত ও শাখা বিধানে ভিন্নতা বা পরিবর্তন হয়েছে। |
| কুরআনের ঘোষণা | দ্বীন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ(দ্বীন কায়েম কর এবং তাতে বিভেদ করো না)। |
শরীয়ত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا(তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি স্বতন্ত্র শরীয়ত ও কর্মপন্থা দিয়েছি)। |
১০ নম্বর প্রশ্ন
ماذا تعرف عن الكتب المقدسة لليهودية؟ اكتب موجزا—
[১০. ইহুদি ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে তুমি কী জান সংক্ষেপে লেখ।]
ইহুদি ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ মূলত দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত:
- তানাক (Tanakh / হিব্রু বাইবেল): এটি ২৪টি গ্রন্থের সংকলন, যা তিনটি অংশে বিভক্ত:
- তোরাহ বা তাওরাত (Torah): মূসা (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ মূল পাঁচ খণ্ড (আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, লেবীয় পুস্তক, গণনা পুস্তক ও দ্বিতীয় বিবরণ)।
- নবিঈম (Nevi’im): প্রাচীন ইসরাঈলী নবীদের ঐতিহাসিক কিতাবসমূহ।
- কেতুভীম (Ketuvim): সঙ্গীত, প্রবচন ও ধর্মীয় সাহিত্যের সংকলন (যেমন: যুবুর বা সামস)।
- তালমুদ (The Talmud): এটি তাওরাতের মৌখিক বিধিবিধান ও রাব্বিদের তাফসীর সংকলন। এটি দুটি অংশে বিভক্ত: ‘মিশনাহ’ (আইনের মূল পাঠ) এবং ‘গেমারা’ (মিশনাহর ব্যাখ্যা)। ইহুদিরা তালমুদকে তাওরাতের চেয়েও অধিক প্রামাণ্য মনে করে।
১১ নম্বর প্রশ্ন
بين مؤامرات اليهود ضد الاسلام با لاختصار—
[১১. মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদি জাতির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই ইহুদি জাতি ইসলামের প্রচার ও মুসলমানদের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল:
- মদিনা সনদ লঙ্ঘন ও প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা: রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে মদিনা সনদ স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও বনু কায়নুকা, বনু নাযীর ও বনু কুরাইযা একের পর এক চুক্তি ভঙ্গ করে কাফেরদের পক্ষাবলম্বন করে।
- খন্দকের যুদ্ধে পেছন থেকে আক্রমণ: আহযাবের যুদ্ধে যখন মদিনা চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ, তখন বনু কুরাইযা গোপনে কুরাইশদের সাথে আঁতাত করে মুসলিমদের সমূলে বিনাশের চক্রান্ত করেছিল।
- রসুলুল্লাহ (সা.)-কে হত্যার প্রচেষ্টা: তারা রসুল (সা.)-এর ওপর পাথর ফেলে হত্যা করার চক্রান্ত করে এবং পরবর্তীতে খায়বারের যুদ্ধে এক ইহুদি নারী তাঁকে বিষমিশ্রিত বকরির মাংস খাইয়ে হত্যার অপচেষ্টা চালায়।
- মুনাফিকির মাধ্যমে ফিতনা সৃষ্টি: আব্দুল্লাহ বিন সাবার মতো ইহুদি চক্রান্তকারী প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে সাহাবিদের মধ্যে বিভেদ উসকে দেয়, যা পরবর্তীতে খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পথ তৈরি করে।
১২ নম্বর প্রশ্ন
ما المراد بالتناسخ عند الهندوسية؟ بين—
[১২. হিন্দুধর্মের নিকট পুনর্জন্মবাদ দ্বারা কী উদ্দেশ্য? আলোচনা কর।]
পুনর্জন্মবাদ (Tanasukh / Reincarnation / Samsara): হিন্দুধর্মের মৌলিক আকিদা হলো পুনর্জন্মবাদ বা আত্মার দেহান্তর গমন। এ বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আত্মা ধ্বংস হয় না; বরং ইহজীবনের শুভ ও অশুভ কর্মফল (Karma) ভোগের জন্য আত্মা বারবার নতুন কোনো মানবদেহে, পশু-পাখি বা কীট-পতঙ্গের দেহে জন্মগ্রহণ করে।
এর মূল উদ্দেশ্য: পুনর্জন্মবাদের উদ্দেশ্য হলো কর্মের ন্যায়সঙ্গত ফলভোগের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা। যখন আত্মা পাপের প্রায়শ্চিত্ত ও সাধনার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিষ্কলুষ হয়, তখন সে পুনর্জন্মের এই অনন্ত দুঃখের চক্র থেকে চিরতরে মুক্তি পেয়ে পরমাত্মা বা ব্রহ্মের সাথে লীন হয়ে যায়, যাকে ‘মোক্ষ’ (Moksha) বলা হয়।
১৩ নম্বর প্রশ্ন
من هم أشهر الرجال عند النصرانية؟ تحدث عنهم بإيجاز—
[১৩. খ্রিস্টানদের নিকট প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব কারা? তাদের সম্পর্কে আলোচনা কর।]
খ্রিস্টধর্মের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ববর্গ হলেন:
- সেন্ট পল বা পৌল (St. Paul): তিনি খ্রিস্টধর্মের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত। ঈসা (আ.)-এর ওফাতের পর তিনি খ্রিস্টধর্মকে ইহুদি গণ্ডি থেকে বের করে পৌত্তলিক রোমান দর্শনের সাথে মিলিয়ে ত্রিত্ববাদ ও প্রায়শ্চিত্তের কাল্পনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করান।
- সেন্ট পিটার বা পিতর (St. Peter): ঈসা (আ.)-এর প্রধান বারো শিষ্যের একজন। রোমান ক্যাথলিক চার্চ তাঁকে প্রথম পোপ হিসেবে শ্রদ্ধা করে।
- সেন্ট অগাস্টিন (St. Augustine): মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খ্রিস্টান ধর্মতাত্ত্বিক। তিনি আদিপাপ (Original Sin) এবং ঐশী কৃপার ওপর গভীর দার্শনিক ব্যাখ্যা তৈরি করেন।
- মার্টিন লুথার (Martin Luther): ষোড়শ শতাব্দীতে পোপের দুর্নীতি ও ইনডালজেন্স (পাপমুক্তির সনদ বিক্রি)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ‘প্রোটেস্ট্যান্ট’ সংস্কার আন্দোলনের জন্ম দেন।
১৪ নম্বর প্রশ্ন
ما هى عقيدة المسلمين فى عيسى بن مريم؟ بين موجزًا—
[১৪. ঈসা (আ) সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]
হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) সম্পর্কে মুসলমানদের আকীদা হলো কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক খাঁটি সত্য:
- আল্লাহর বান্দা ও উলুল আযম রসুল: ঈসা (আ.) কোনো ঈশ্বর নন, ঈশ্বরের পুত্রও নন; তিনি আল্লাহর বিশেষ মর্যাদাবান সৃষ্টি ও প্রিয় রসুল।
- পিতা ছাড়া অলৌকিক জন্ম: তিনি আল্লাহর কুদরতে কোনো মানবীয় পিতা ছাড়া সতী-সাধ্বী কুমারী মারইয়াম (আ.)-এর গর্ভে অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছেন।
- ক্রুশবিদ্ধ বা নিহত না হওয়া: ইহুদি বা রোমানরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি এবং শূলিতেও চড়াতে পারেনি; আল্লাহ তাআলা তাঁকে সশরীরে জীবিত আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন (
وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمْ
)। - কিয়ামতের পূর্বে পুনরাগমন: কিয়ামতের পূর্বে তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ও মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে পৃথিবীতে পুনরায় আগমন করবেন, দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং ইসলামি ইনসাফ কায়েম করবেন।
১৫ নম্বর প্রশ্ন
ماذا تعرف عن اليعقوبية عند النصرانية؟ بين—
[১৫. খ্রিস্টান ধর্মের নিকট يعقوبية সম্প্রদায় সম্পর্কে তুমি কী জান? আলোচনা কর।]
ইয়াকুবিয়া সম্প্রদায় (The Jacobites / اليعاقبة): এটি খ্রিস্টানদের মধ্যকার একটি সুপরিচিত ঐতিহাসিক প্রাচীন সম্প্রদায়। ষষ্ঠ শতাব্দীতে সিরিয়ার বিশপ ইয়াকুব বারাদায়ুস (Jacob Baradaeus)-এর নামানুসারে এ দলের নামকরণ করা হয়। বর্তমানে সিরিয়ান অর্থোডক্স চার্চের অনুসারীরা মূলত এই ধারার অন্তর্ভুক্ত।
মৌলিক বিশ্বাস: এ সম্প্রদায় হলো ‘এক-প্রকৃতিবাদী’ (Monophysite)। যেখানে অন্যান্য অর্থোডক্স বা ক্যাথলিকরা বিশ্বাস করত খ্রিস্টের মধ্যে ঈশ্বরীয় ও মানবীয় দুটি ভিন্ন প্রকৃতি রয়েছে, সেখানে ইয়াকুবীয়দের দাবি হলো—ঈশ্বরীয় প্রকৃতি ও মানবীয় প্রকৃতি একাকার হয়ে ঈসা (আ.)-এর মধ্যে একটি একক প্রকৃতি (One Divine-Human Nature) গঠিত হয়েছে। ৪৫১ খ্রিস্টাব্দের ক্যালসেডন কাউন্সিলে এ মতবাদকে ধর্মদ্রোহী ঘোষণা করা হয়েছিল।
১৬ নম্বর প্রশ্ন
كيف نشأت السيخية فى الهند؟ بين بالاختصار—
[১৬. ভারতবর্ষে কীভাবে শিখ ধর্মের উৎপত্তি হলো? সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
শিখ ধর্মের উৎপত্তি ও বিকাশ: পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে গুরু নানক (১৪৬৯-১৫৩৯ খ্রি.) কর্তৃক শিখ ধর্মের উৎপত্তি ঘটে। তৎকালীন ভারতে হিন্দুধর্মের চরম পৌত্তলিকতা ও বর্ণাশ্রম প্রথার অবিচার দেখে গুরু নানক ব্যথিত হন। একই সময়ে ভারতে ইসলামি সুফিবাদ ও ভক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে একেশ্বরবাদ ও সর্বজনীন সাম্যবাদের প্রসার ঘটছিল।
গুরু নানক এই দুই বিপরীতমুখী ধর্মীয় পরিবেশের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে এক নতুন মতবাদের প্রচার শুরু করেন। তিনি ঘোষণা করেন: “না কোনো হিন্দু, না কোনো মুসলমান।” তিনি একমাত্র অকাল মূর্তির (এক ওঙ্কার) উপাসনা এবং বর্ণভেদহীন লঙ্গরখানা (বিনামূল্যে সর্বজনীন ভোজনালয়) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিখ ধর্মের ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে আরও ৯ জন গুরুর ধারাবাহিক নেতৃত্বে শিখ ধর্ম একটি সংগঠিত সামরিক ও স্বতন্ত্র ধর্মীয় সত্তায় পরিণত হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পাঠে একজন মুসলিম শিক্ষার্থীর মূল লাভ কী?
ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের বিশ্বাস ও সীমাবদ্ধতা জেনে ইসলামের অকাট্য বিশুদ্ধতা অনুধাবন করা এবং সমকালীন বিশ্বে প্রজ্ঞাপূর্ণ উপায়ে দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করার সক্ষমতা অর্জন করা।
২. খ্রিস্টানদের বাইবেল কেন অবিকৃত আসমানি কিতাব নয়?
কারণ বাইবেলের মূল মাতৃভাষার পাঠ বিলুপ্ত, এটি মানুষের রচিত পরস্পরবিরোধী একাধিক সুসমাচারের সংকলন এবং বিভিন্ন কাউন্সিলে মানুষের ভোটাভুটিতে এতে বহু মতবাদ সংযোজন ও বর্জন করা হয়েছে।
৩. ইসলামে পারিবারিক জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
বৈবাহিক পবিত্রতার মাধ্যমে বংশের শুদ্ধতা রক্ষা, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রীতি ও মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টি এবং সন্তানদের নৈতিক ও দ্বীনি শিক্ষায় আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
৪. ইহুদিদের তালমুদ গ্রন্থটি মূলত কী?
তালমুদ হলো প্রাচীন ইহুদি পণ্ডিত ও রাব্বিদের রচিত মৌখিক আইন, প্রথা এবং তাওরাতের ব্যাখ্যার এক বিশাল সংকলন, যা ইহুদিরা মূল তাওরাতের চেয়েও বেশি মান্য করে।
৫. হিন্দুধর্মের পুনর্জন্মবাদের বিপরীতে ইসলামের পরকালতত্ত্বের মূল পার্থক্য কী?
হিন্দুধর্মে বারবার মৃত্যুর পর বিভিন্ন দেহে আত্মাকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে হয়; কিন্তু ইসলামে একজন মানুষের পার্থিব জীবন মাত্র একবারই, মৃত্যুর পর কিয়ামতের দিন শেষ বিচারের মাধ্যমে চিরস্থায়ী জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে।
৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য ‘ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম’ উত্তরপত্র কীভাবে লিখলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়?
অন্যান্য ধর্মের বিশ্বাস বর্ণনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং ইসলামের বিধানের ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট দলিলের সমন্বয়ে তুলনামূলক ছক ও পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করা শ্রেয়।