জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন (Political Science and Public Administration) – 201307, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬৭ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৭

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۲ م

ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২

القرآن والدراسات الإسلامية (আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)

علم السياسة والإدارة العامة (ইলমুস সিয়াসাহ ওয়াল ইদারাতুল আম্মাহ / রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন)

বিষয় কোড: ২০১৩০৭

সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

علم السياسة [রাষ্ট্রবিজ্ঞান] (মান: ৪০) | الإدارة العامة [লোক প্রশাসন] (মান: ৪০)

الملاحظة: أجب عن اثنين من مجموعة (الف) وعن اثنين من مجموعة (ب) وعن اثنين من مجموعة (ج) وعن اثنين من مجموعة (د)-

[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে দুটি, (খ) অংশ থেকে দুটি, (গ) অংশ থেকে দুটি এবং (ঘ) অংশ থেকে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


علم السياسة [রাষ্ট্রবিজ্ঞান]

مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ২ × ১৫ = ৩০)

১ নম্বর প্রশ্ন

ما المراد بالمجتمع الإسلامي؟ تحدث عن أوصاف المجتمع الإسلامي في ضوء القرآن والسنة—

[১. ইসলামি সমাজ বলতে কী বুঝ? কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামি সমাজের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।]

ইসলামি সমাজের ধারণা ও পরিচিতি

ইসলামি সমাজ হলো এমন একটি সুসংগঠিত মানবসমাজ যা মহান আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহিদ), রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেসালাত এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিধিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি কেবল নিছক কোনো ভৌগোলিক বা জাতিগত জনসমষ্টি নয়; বরং এক সুদৃঢ় আদর্শিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের সমষ্টি।

সমাজবিজ্ঞানী ও ফকিহগণের মতে, ইসলামি সমাজ এমন এক সামষ্টিক পরিবেশ নিশ্চিত করে যেখানে ব্যক্তি ও সমাজের প্রতিটি স্তরে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব কার্যকর হয় এবং মানুষের সার্বিক জীবনের নিরাপত্তা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত থাকে।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামি সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্যাবলি

  1. তাওহিদভিত্তিক একক আদর্শিক ভিত্তি: ইসলামি সমাজের মূল ভিত্তি হলো কালিমাতু তাওহিদ। এ সমাজে মানুষ কোনো বংশ, বর্ণ বা ভূখণ্ডের ভিত্তিতে বিভক্ত হয় না; বরং আল্লাহর আনুগত্যের সূত্রে একতাবদ্ধ হয়। মহান আল্লাহ বলেন: إِنَّ هَٰذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ (নিশ্চয় তোমাদের এই উম্মাহ তো একই উম্মাহ, আর আমি তোমাদের রব, অতএব আমারই ইবাদত কর)।
  2. ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা (عدل ও قسط): ইসলামি সমাজের প্রাণশক্তি হলো সর্বজনীন ন্যায়বিচার। ধনী-দরিদ্র, শাসক-প্রজা নির্বিশেষে আইনের চোখে সবাই সমান। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন: إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ (নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের নির্দেশ দেন)।
  3. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের প্রতিরোধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر): ইসলামি সমাজের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ হলো সামাজিক সংস্কার ও কল্যাণকামী ভূমিকা। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ (তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অন্যায়কাজে বাধা দাও)।
  4. সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সংহতি: এ সমাজে রক্তসম্পর্কের চেয়ে ঈমানি ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব অধিক। আল্লাহ বলেন: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ (মুমিনগণ তো পরস্পর ভাই ভাই)। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا (এক মুমিন আরেক মুমিনের জন্য ইমারতের মতো, যার এক অংশ অপর অংশকে সুদৃঢ় করে)।
  5. সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য: বিত্তশালীদের সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিতদের সুনির্দিষ্ট অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যাকাত, সদকা ও ওয়াকফের মাধ্যমে সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সুদ ও শোষণমূলক ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করা হয়।
  6. নৈতিক পবিত্রতা ও পারিবারিক সুদৃঢ়তা: অশ্লীলতা, ব্যভিচার, মাদক ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে সমাজকে চারিত্রিক কলুষমুক্ত রাখা হয়। বিবাহব্যবস্থাকে সহজ ও পবিত্র করে পরিবারের মর্যাদা সুরক্ষিত রাখা হয়।
  7. পরামর্শভিত্তিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো (الشورى): পারস্পরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরামর্শের নীতি অবলম্বন করা ইসলামি সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য: وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ (এবং তাদের পারস্পরিক কর্ম সম্পাদন হয় পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে)।

২ নম্বর প্রশ্ন

عرف الدستور— وكم قسما له؟ بين طرق وضع الدستور مع ذكر الخصائص الدستور الجيد—

[২. دستور এর পরিচয় দাও। উহা কত প্রকার? উত্তম সংবিধানের পরিচয় উল্লেখপূর্বক সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি আলোচনা কর।]

دستور (সংবিধান)-এর সংজ্ঞা

সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি ও বিধানাবলির সমন্বিত রূপ। আরবি ভাষায় একে বলা হয় ‘দস্তুর’ (الدستور)। এটি মূলত ফারসি শব্দ থেকে আরবিতে গৃহীত হয়েছে, যার অর্থ বিধিমালা বা মূল ভিত্তি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ব্রাইস (Lord Bryce)-এর মতে: “সংবিধান হলো এমন সব আইন ও রীতিনীতির সমষ্টি যা দ্বারা সরকারের কাঠামো ও তার কার্যাবলি পরিচালিত হয়।” আরিস্টটলের ভাষায়: “সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সেই পদ্ধতি ও জীবনব্যবস্থা যা রাষ্ট্র নিজের জন্য বেছে নিয়েছে।” ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মদিনা সনদ হলো বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত ইসলামি সংবিধান।

সংবিধানের প্রকারভেদ

সংবিধানকে মূলত দুটি প্রধান দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবিভাগ করা হয়:

  1. নথিবদ্ধকরণের ভিত্তিতে:
    • লিখিত সংবিধান (Written Constitution): যে সংবিধানের অধিকাংশ ধারা ও নিয়মাবলি লিখিত দলিলে সুবিন্যস্ত থাকে (যেমন: বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান)।
    • অলিখিত সংবিধান (Unwritten Constitution): যে সংবিধান কোনো একক নথিতে লিপিবদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রথা, রীতি ও বিচারালয়ের রায়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় (যেমন: ব্রিটেনের সংবিধান)।
  2. সংশোধন পদ্ধতির ভিত্তিতে:
    • সুপরিবর্তনীয় সংবিধান (Flexible Constitution): যা সাধারণ আইন পাশের ন্যায় অতি সহজে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা সংশোধন করা যায় (যেমন: ব্রিটেনের সংবিধান)।
    • দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান (Rigid Constitution): যা সংশোধন করতে হলে বিশেষ জটিল পদ্ধতি ও আইনসভার বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (যেমন দুই-তৃতীয়াংশ) প্রয়োজন হয় (যেমন: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান)।

সংবিধান প্রণয়নের প্রধান পদ্ধতিসমূহ

ইতিহাসে বিভিন্ন রাষ্ট্রে সংবিধান মূলত চারটি প্রধান প্রক্রিয়ায় প্রণীত ও কার্যকর হয়েছে:

  • ১. স্বেচ্ছাপ্রণয়ন বা রাজকীয় মঞ্জুরি (By Grant): যখন কোনো পরম ক্ষমতার অধিকারী শাসক স্বেচ্ছায় বা গণদাবির মুখে জনগণের অধিকার স্বীকার করে সংবিধান ঘোষণা করেন (যেমন: ১২১৫ সালের ম্যাগনা কার্টা)।
  • ২. ধারাবাহিক ক্রমবিবর্তন (By Evolution): দীর্ঘকাল ধরে চলমান সামাজিক রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও প্রথার ক্রমান্বয়ে আইনি রূপ ধারণের মাধ্যমে সংবিধান তৈরি হয় (যেমন: ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থা)।
  • ৩. গণপরিষদ বা সংবিধান সভা (By Constituent Assembly): জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত গণপরিষদ আলোচনার মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত সংবিধান রচনা ও অনুমোদন করে (যেমন: ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন)।
  • ৪. বিপ্লব বা সশস্ত্র অভ্যুত্থান (By Revolution): চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিপ্লবের ফলে পূর্বের শাসনকাঠামো ভেঙে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে নতুন সংবিধান জারি করে (যেমন: ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব পরবর্তী সংবিধান)।

উত্তম সংবিধানের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যাবলি

বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ও গুরুত্ব
স্পষ্টতা ও প্রাঞ্জলতা ভাষা সহজ, সরল ও দ্ব্যর্থহীন হতে হবে যাতে আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি না হয়।
পরিমিত দৈর্ঘ্য ও সংক্ষিপ্ততা অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত খুঁটিনাটি পরিহার করে মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিসমূহ সংক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট সন্নিবেশ নাগরিকের চিন্তা, বিবেক, বাকস্বাধীনতা ও জীবনের নিরাপত্তার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা থাকবে।
স্বাধীন বিচার বিভাগ শাসন বিভাগের অন্যায় হস্তক্ষেপ থেকে সংবিধান ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
অনমনীয়তা ও গতিশীলতার ভারসাম্য সংবিধান এমন হবে যা অতি সহজ সংশোধনে খেলার পুতুলে পরিণত না হয়, আবার সময়ের প্রয়োজনে সংস্কারের পথও রুদ্ধ না করে।

৩ নম্বর প্রশ্ন

ما المراد بالقانون الإسلامي؟ بين مصادره مفصلا—

[৩. ইসলামি আইন বলতে কী বোঝায়? এর উৎসসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ইসলামি আইন (القانون الإسلامي)-এর সংজ্ঞা ও স্বরূপ

ইসলামি আইন বা শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর রসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে মানবজাতির সার্বিক হেদায়াত ও পরিচালনার জন্য নাযিলকৃত ঐশী আদেশ-নিষেধ ও জীবনবিধির সমষ্টি। এটি মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইসলামি আইনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি শাশ্বত, ইনসাফভিত্তিক এবং ইহলৌকিক শান্তির পাশাপাশি পরকালীন মুক্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে।

ইসলামি আইনের উৎসসমূহ

উসুলুল ফিকহের পরিভাষায় ইসলামি আইনের উৎসগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: (ক) মৌলিক উৎস (চারটি) এবং (খ) সম্পূরক বা অপ্রধান উৎস।

১. মৌলিক ও ঐকমত্যভিত্তিক চারটি উৎস (الأدلة المتفق عليها)

  1. আল-কুরআনুল কারীম (القرآن الكريم): ইসলামি আইনের সর্বপ্রথম, প্রধান ও অকাট্য উৎস। এটি সরাসরি মহান আল্লাহর কালাম। কুরআনে বিশ্বাসগত মূলনীতির পাশাপাশি পাঁচ শতাধিক প্রত্যক্ষ আইনি আয়াত (আয়াতুল আহকাম) বিদ্যমান যা জীবনের সকল ক্ষেত্রে মৌলিক বিধান প্রদান করে।
  2. সুন্নাহ বা হাদিস (السنة النبوية): দ্বিতীয় প্রধান উৎস। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে সুন্নাহ বলা হয়। সুন্নাহ কুরআনের সাধারণ বিধানকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে এবং কুরআনে সরাসরি উল্লেখ নেই এমন অনেক বিষয়ে সরাসরি বিধান প্রদান করে।
  3. ইজমা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (الإجماع): তৃতীয় উৎস। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর কোনো যুগের মুসলিম মুজতাহিদগণের কোনো ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় বিধানে একমত হওয়াকে ইজমা বলে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: لا تجتمع أمتي على ضلالة (আমার উম্মত কখনো ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না)।
  4. কিয়াস বা যুক্তিভিত্তিক অনুমান (القياس): চতুর্থ মৌলিক উৎস। কুরআন বা সুন্নাহর কোনো বিদ্যমান বিধানের অভিন্ন কার্যকর কারণ (ইল্লত)-এর ভিত্তিতে নতুন উদীয়মান সমস্যার ওপর সমরূপ হুকুম আরোপ করাকে কিয়াস বলে।

২. সম্পূরক ও গবেষণামূলক উৎসসমূহ (الأدلة المختلف فيها)

  • ইসতিহসান (الاستحسان): বৃহত্তর সুবিচার ও জনস্বার্থের খাতিরে আপাত কিয়াসের জটিলতা ত্যাগ করে সহজতর ও কল্যাণকর বিধান গ্রহণ করা।
  • মাসালিহে মুরসালাহ (المصالح المرسلة): শরিয়তে যার পক্ষে বা বিপক্ষে সরাসরি সুনির্দিষ্ট কোনো পাঠ নেই, কিন্তু সামগ্রিক মানবকল্যাণ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অপরিহার্য এমন বিধান নির্ধারণ (যেমন: ট্রাফিক আইন বা সরকারি দপ্তরের নিয়মাবলি)।
  • উরফ বা শুভ প্রথা (العرف): সমাজের প্রচলিত এমন প্রথা বা রীতিনীতি যা কুরআন ও সুন্নাহর কোনো অকাট্য মূলনীতির বিরোধী নয়।
  • সদ্দে যারায়ে (سد الذرائع): কোনো নিশ্চিত পাপ বা ক্ষতিকর কাজে পৌঁছার পথ ও উপায়সমূহকে আগেই রুদ্ধ করে দেওয়া।

৪ নম্বর প্রশ্ন

ما هى الخلافة؟ تحدث عن مسئوليات الخليفة في الدولة الإسلامية—

[৪. খিলাফত কী? ইসলামি রাষ্ট্রে খলিফার দায়িত্ব ও কর্তব্য আলোচনা কর।]

খিলাফত (الخلافة)-এর সংজ্ঞা ও তাৎপর্য

আভিধানিক দিক থেকে আরবি ‘খিলাফত’ শব্দের অর্থ প্রতিনিধিত্ব, উত্তরাধিকার বা একের পর অন্যের স্থলাভিষিক্ত হওয়া। ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায়, দ্বীন সংরক্ষণ এবং দ্বীনের আলোকে দুনিয়াবি শাসনকার্য পরিচালনার জন্য রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সার্বিক প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র ও উম্মাহ পরিচালনার পদ বা প্রতিষ্ঠানকে খিলাফত বলা হয়।

আল্লামা মাওয়ার্দী (র.) তাঁর ‘আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেন: الخلافة موضوعة لخلافة النبوة في حراسة الدين وسياسة الدنيا (দ্বীনের সুরক্ষা ও পার্থিব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নবুয়তের প্রতিনিধিত্ব করার জন্যই খিলাফতের প্রতিষ্ঠা)।

ইসলামি রাষ্ট্রে খলিফার দায়িত্ব ও কর্তব্য

ইসলামি রাষ্ট্রে খলিফা কোনো নিরঙ্কুশ স্বেচ্ছাচারী শাসক নন; তিনি আল্লাহর বান্দা এবং জনগণের সেবক ও আমানতদার। তাঁর প্রধান দায়িত্বসমূহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

  1. দ্বীন ও শরিয়তের যথাযথ সংরক্ষণ: সালাফদের অনুসৃত মূলনীতির ওপর ইসলামি আকীদা ও শরিয়তের বিধানসমূহকে বিকৃতি থেকে রক্ষা করা এবং কোনো ধরনের বিদআতের অনুপ্রবেশ রোধ করা।
  2. আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা: শরিয়তের আইন কার্যকর করা এবং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমাজে আদল ও ইনসাফ কায়েম করা। বিরোধ নিষ্পত্তিতে যোগ্য বিচারক নিয়োগ করা।
  3. রাষ্ট্রীয় সীমান্ত ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষা: বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে মুসলিম ভূখণ্ডের সীমানা পাহারা দেওয়া এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনগণের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা দেওয়া।
  4. সৎকাজের নির্দেশ ও অন্যায়ের নির্মূল: সমাজে ইসলামি অনুশাসন, সালাত, সাওম ইত্যাদির পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং অপরাধ, অশ্লীলতা ও দুর্নীতি শক্তহাতে দমন করা।
  5. শুরা বা পরামর্শের অনুসরণ: খলিফা একক কর্তৃত্বে দেশ চালাতে পারেন না। গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে যোগ্য আলেম, ফকিহ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত মজলিসে শূরার পরামর্শ গ্রহণ করা তাঁর আবশ্যিক কর্তব্য।
  6. বাইতুল মাল ও অর্থনৈতিক সম্পদের সুষম বণ্টন: রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও বাইতুল মালের অর্থ আমানতদারির সাথে সংগ্রহ করা এবং বিধিবদ্ধ হকদার ও জনকল্যাণমূলক খাতে বৈষম্যহীনভাবে বণ্টন করা।
  7. জনকল্যাণ ও সামাজিক সেবা নিশ্চিতকরণ: রাস্তাঘাট, চিকিৎসালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং অনাথ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সামাজিক ভাতার ব্যবস্থা করা। হযরত উমর (রা.) বলতেন: “ফোরাত নদীর তীরে একটি কুকুরও যদি না খেয়ে মারা যায়, তবে কিয়ামতের দিন উমরকে তার জবাবদিহি করতে হবে।”

مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ২ × ৫ = ১০)

৫ নম্বর প্রশ্ন

بين جوانب المساواة في الدولة المثالية—

[৫. আদর্শ রাষ্ট্রে সমতার দিকসমূহ বর্ণনা কর।]

একটি আদর্শ রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি হলো সর্বজনীন সমতা (Equality)। আদর্শ রাষ্ট্রে সমতার প্রধান প্রধান দিকগুলো হলো:

  • আইনের দৃষ্টিতে সমতা: শাসক ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে কোনো আইনগত পার্থক্য থাকবে না। অপরাধ করলে যে কারও শাস্তি নিশ্চিত হবে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: “মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করত, তবে আমি তার হাতও কেটে দিতাম।”
  • রাজনৈতিক সমতা: বর্ণ, বংশ বা আভিজাত্যের বিবেচনা ছাড়া প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও শুরায় অংশ নেওয়ার সমান অধিকার থাকে।
  • সামাজিক মর্যাদা ও অধিকারের সমতা: মানুষের মাঝে কোনো জাতপাত বা কৃত্রিম শ্রেণিভেদের স্থান নেই। কুরআন ঘোষণা করে: إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ (তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তি সর্বাধিক সম্মানিত, যে সর্বাধিক মুত্তাকী)।
  • অর্থনৈতিক সুযোগের সমতা: জীবিকা অর্জন, সম্পদের মালিকানা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদে ন্যায্য অংশীদারিত্বের সমান সুযোগ সকল নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

৬ নম্বর প্রশ্ন

ما المراد بالمسئولية الإجتماعية؟ بين موجزا—

[৬. সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে কী বোঝায়? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারণা: সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সামগ্রিক সমাজের কল্যাণ, শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি সচেতন থাকা ও দায়িত্বশীল আচরণ করার অঙ্গীকারকে সামাজিক দায়বদ্ধতা (Social Responsibility) বলা হয়।

ইসলামে সামাজিক দায়বদ্ধতা ঈমানের অন্যতম অঙ্গ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চমৎকার নীতির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছেন: كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ অর্থাৎ “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।” সমাজের অভাবগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায় কাজে বাধা দেওয়া, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য রক্ষা করা সামাজিক দায়বদ্ধতার বাস্তব দৃষ্টান্ত।

৭ নম্বর প্রশ্ন

بين مزايا دستور العام ۱۹۷۲م بإيجاز—

[৭. ১৯৭২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যাবলি সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ গণপরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়। এর উল্লেখযোগ্য প্রধান বৈশিষ্ট্যাবলি হলো:

  • লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় দলিল: এটি একটি সুস্পষ্ট লিখিত সংবিধান, যার সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের আবশ্যকীয়তা রাখা হয়।
  • রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি: সংবিধানের মূলভিত্তি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভাশাসিত গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
  • মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের চিন্তা, বাকস্বাধীনতা, সমাবেশ ও জীবনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ১৮টি মৌলিক অধিকার সুস্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত হয়।
  • এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও স্বাধীন বিচার বিভাগ: ৩০০ সদস্যের এককক্ষবিশিষ্ট ‘জাতীয় সংসদ’ এবং সাংবিধানিক প্রাধান্য সুরক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।

৮ নম্বর প্রশ্ন

اذكر صفات أهل الشورى موجزا—

[৮. أهل الشورى এর গুণাবলি সংক্ষেপে উল্লেখ কর।]

ইসলামি শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানকে নীতিনির্ধারণে পরামর্শ প্রদানের জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ পরিষদকে ‘আহলুশ শূরা’ (মজলিসে শূরার সদস্যবৃন্দ) বলা হয়। তাঁদের প্রধান গুণাবলি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  1. তাকওয়া ও খোদাভীতি: সদস্যবৃন্দকে অবশ্যই খাঁটি মুমিন ও আল্লাহর বিধিমালার অনুসারী হতে হবে, যাতে তাঁরা কোনো পার্থিব লোভে অন্যায় সিদ্ধান্তের পক্ষে না যান।
  2. ন্যায়পরায়ণতা (العدالة): তাঁদের ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনে সৎ, আমানতদার এবং চারিত্রিক দুর্বলতামুক্ত হতে হবে।
  3. শরিয়তের প্রাজ্ঞ জ্ঞান (العلم والاجتهاد): কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামি ফিকহের ওপর পর্যাপ্ত দখল থাকতে হবে যাতে সমসাময়িক বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি অনুধাবন করতে পারেন।
  4. রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা (الحكمة والخبرة): দেশ পরিচালনা, সমাজব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন হওয়া।
  5. সাহসিকতা ও স্পষ্টবাদিতা: খলিফা বা যে কারও সামনে কোনো ভয় বা সংকোচ ছাড়া সত্য ও ইনসাফপূর্ণ মতামত তুলে ধরার অটল মানসিকতা থাকা।

الإدارة العامة [লোক প্রশাসন]

مجموعة (ج) – গ বিভাগ (মান: ২ × ১৫ = ৩০)

৯ নম্বর প্রশ্ন

ما النظرية الإسلامية في الإدارة العامة؟ تحدث عن الهيكل الإداري لخلافة أبي بكر رضى الله تعالى عنه—

[৯. লোক প্রশাসন সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি কী? হযরত আবু বকর (রা) এর খেলাফতের প্রশাসনিক কাঠামো আলোচনা কর।]

লোকপ্রশাসনে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি বা তত্ত্ব

ইসলামে লোকপ্রশাসন নিছক কোনো ক্ষমতার চর্চা বা বৈষয়িক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নয়; বরং এটি একটি পবিত্র আমানত এবং ইবাদতের অংশ। ইসলামি প্রশাসনিক তত্ত্বের মূল উপাদানসমূহ হলো:

  • আমানতদারি ও খেদমত: প্রশাসনিক পদ কোনো বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্র নয়, বরং তা জনগণের সেবা ও আল্লাহর আমানত।
  • আখিরাতে জবাবদিহিতা: প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য কর্মকর্তা শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেই নয়, বরং সর্বদ্রষ্টা আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
  • পরামর্শমূলক কর্মপদ্ধতি (শূরা): অহংকার বা স্বেচ্ছাচারিতার বদলে যৌথ পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন।
  • মেধা ও যোগ্যতার অগ্রাধিকার: আত্মীয়তোষণ পরিহার করে তাকওয়া ও দক্ষতার ভিত্তিতে দায়িত্ব অর্পণ করা। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযোগ্যকে পদ দেওয়াকে কিয়ামতের আলামত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

হযরত আবু বকর (রা.)-এর খেলাফতের প্রশাসনিক কাঠামো

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর প্রথম খলিফা হিসেবে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) যে প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন তা ছিল অত্যন্ত কার্যকর, সাদামাটা ও ইনসাফভিত্তিক:

  1. কেন্দ্রীয় প্রশাসন: খলিফা স্বয়ং ছিলেন রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বাধিনায়ক। তাঁর প্রধান কার্যালয় ছিল মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ। হযরত উমর (রা.) বিচার ও অভ্যন্তরীণ সার্বিক বিষয়ে প্রধান সহকারী ছিলেন এবং হযরত আলী (রা.) ও যায়েদ বিন সাবিত (রা.) দলিল ও চিঠি লেখার দায়িত্ব পালন করতেন। আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ (রা.) বাইতুল মালের দায়িত্বে ছিলেন।
  2. প্রাদেশিক শাসন ও গভর্নর (উমারা) নিয়োগ: বিশাল ইসলামি সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে বিভক্ত করা হয় (যেমন: মক্কা, তায়েফ, সানআ, বাহরাইন, ওমান ও কুফা অঞ্চল)। প্রতিটি প্রদেশে একজন গভর্নর (আমিল বা ওয়ালী) নিয়োগ দেওয়া হয় যিনি ছিলেন একাধারে প্রশাসক ও ইমাম।
  3. বাইতুল মাল ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা: যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেন। বাইতুল মালে জমাকৃত যাবতীয় অর্থ ও সম্পদ তিনি জমিয়ে না রেখে দ্রুততম সময়ে মুসলিমদের মাঝে সমবণ্টন করে দিতেন।
  4. সামরিক ও সীমান্ত প্রতিরক্ষা প্রশাসন: পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তে তিনি মুসলিম বাহিনীকে সুসংগঠিত করেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ, আমর বিন আস, আবু উবায়দাহ (রা.)-এর মতো শ্রেষ্ঠ সেনানায়কদের নেতৃত্বে বাহিনী পরিচালনা ও লজিস্টিক নিয়ন্ত্রণ করতেন।
  5. কঠোর জবাবদিহিতা ও প্রজাহিতৈষী আচরণ: খলিফা হওয়ার পর তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন: “আমি যতক্ষণ আল্লাহর আনুগত্য করি ততক্ষণ তোমরা আমার আনুগত্য কর; আর আমি বিচ্যুত হলে আমাকে সোজা করে দিও।” তিনি বৃদ্ধা নারীর ঘরে গিয়ে নিজ হাতে ঘর পরিষ্কার ও ছাগলের দুধ দোয়ানোর মতো অনন্য মানবিক সেবায় ব্রতী ছিলেন।

১০ নম্বর প্রশ্ন

ما السيادة؟ وما صفاتها؟ وما الفرق بين القيادة الإستبدادية والقيادة الجمهورية؟ بين—

[১০. নেতৃত্ব কী? নেতৃত্বের গুণাবলি কী কী? একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]

নেতৃত্ব (القيادة)-এর সংজ্ঞা

নেতৃত্ব হলো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একদল মানুষকে অনুপ্রাণিত, পরিচালিত ও প্রভাবিত করার কলাকৌশল ও যোগ্যতা। প্রশাসন বিজ্ঞানে জর্জ আর. টেরি (George R. Terry) বলেন: “Leadership is the activity of influencing people to strive willingly for group objectives.”

ইসলামে নেতৃত্ব হলো এক সুমহান দায়িত্ব যা সমাজকে কল্যাণ, ইনসাফ ও আল্লাহর আনুগত্যের পথে পরিচালিত করে।

নেতৃত্বের অপরিহার্য গুণাবলি

গুণাবলি ব্যাখ্যা ও গুরুত্ব
চারিত্রিক সততা ও বিশ্বস্ততা নেতার সততা ও বিশ্বস্ততা অনুসারীদের মাঝে গভীর আস্থা তৈরি করে; সত্যনিষ্ঠ নেতৃত্ব ছাড়া সংগঠন টেকে না।
দূরদর্শিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সংকট আগে থেকেই উপলব্ধি করে সঠিক সময়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।
ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রতিকূল পরিস্থিতি, সমালোচনা ও মতভিন্নতাকে শান্ত মাথায় মোকাবেলা করার মানসিকতা।
যোগাযোগ দক্ষতা ও অনুপ্রেরণা সহজ-সাবলীল ভাষায় কর্মীদের কাছে লক্ষ্য বুঝিয়ে দেওয়া এবং তাদের ভেতর কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তোলা।
ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতা সকল কর্মীকে সমান চোখে দেখা এবং পক্ষপাতহীনভাবে দায়িত্ব বণ্টন ও মূল্যায়ন করা।

একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের মধ্যকার পার্থক্য

তুলনার বিষয় একনায়কতান্ত্রিক নেতৃত্ব (Autocratic Leadership) গণতান্ত্রিক বা প্রজাতন্ত্রীয় নেতৃত্ব (Democratic Leadership)
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নেতা এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন; কারও মতামত বা পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। অধীনস্থ কর্মী ও জনগণের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যৌথ ও পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ক্ষমতার উৎস নেতা নিজেকে সব ক্ষমতার একমাত্র উৎস ও আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। ক্ষমতার মূল ভিত্তি হলো জনগণের সমর্থন, সংবিধান ও সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম।
কর্মীদের স্বাধীনতা কর্মীদের কোনো স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকে না; ভীতি ও অন্ধ আনুগত্যের পরিবেশ থাকে। কর্মীরা মুক্তভাবে মতামত দিতে পারেন এবং সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত হন।
জবাবদিহিতা নেতা কারও কাছে কোনো কাজের জবাবদিহি করেন না। নেতা সংসদ, জনগণ ও সংবিধানের কাছে প্রতিটি কাজের জন্য প্রত্যক্ষভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
স্থায়িত্ব ও পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে চরম অসন্তোষ, জনবিচ্ছিন্নতা ও পরিণামে বিদ্রোহের জন্ম দেয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সন্তুষ্টি এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

১১ নম্বর প্রশ্ন

اكتب الشروط اللازمة للقضاة المسلمين والإداريين في منظور الشريعة الإسلامية مفصلا—

[১১. মুসলিম বিচারক ও প্রশাসকবৃন্দের আবশ্যক শর্তাবলি ইসলামি শরিয়াহর আলোকে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ কর।]

মুসলিম বিচারক (কাজি)-এর আবশ্যকীয় শর্তাবলি

ইসলামি বিচারব্যবস্থায় একজন কাজি বা বিচারক সমাজের ইনসাফের অতন্দ্র প্রহরী। ফিকহবিদগণের সর্বসম্মত মতে বিচারকের প্রধান শর্তসমূহ হলো:

  1. মুসলিম হওয়া: ইসলামি শরিয়তের আইন দ্বারা বিচার পরিচালনার জন্য বিচারককে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে।
  2. প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন হওয়া (البلوغ والعقل): কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি বিচারক হতে পারে না।
  3. ন্যায়পরায়ণ ও বিশ্বস্ত হওয়া (العدالة): বিচারককে অবশ্যই তাকওয়াবান, কবীরা গুনাহ থেকে মুক্ত এবং জনসমক্ষে প্রশংসনীয় চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। ফাসিক ব্যক্তির সাক্ষ্য যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি তার বিচারিক রায়ও গ্রহণযোগ্য নয়।
  4. শরিয়তের পর্যাপ্ত জ্ঞান ও ইজতিহাদের যোগ্যতা: বিচারককে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস ও আরবি ভাষার গভীর জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে হবে যাতে তিনি জটিল মামলার সঠিক শরয়ি সমাধান বের করতে পারেন।
  5. শারীরিক সক্ষমতা: অন্ধ বা বধির ব্যক্তি বিচারক হতে পারেন না; কারণ উভয়পক্ষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সাক্ষ্য শোনার জন্য দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি অপরিহার্য।
  6. নিরপেক্ষতা ও প্রজ্ঞা: বিচারক রাগ, ক্ষুধা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা পারিবারিক চাপের মধ্যে কোনো রায় প্রদান করবেন না।

মুসলিম প্রশাসকদের আবশ্যকীয় গুণাবলি ও শর্তাবলি

ইসলামি শরিয়তে প্রশাসনিক পদমর্যাদার ক্ষেত্রে দুটি প্রধান মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কুরআনের ভাষায়: إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ (নিশ্চয় আপনার মজুর হিসেবে সেই ব্যক্তিই উত্তম যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত):

  • ১. সামর্থ্য ও প্রশাসনিক দক্ষতা (القوة / الكفاءة): দায়িত্ব পালনের মানসিক দৃঢ়তা, কারিগরি জ্ঞান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণের সহজাত যোগ্যতা থাকতে হবে।
  • ২. আমানতদারি ও বিশ্বস্ততা (الأمانة): সরকারি অর্থ, সুযোগ-সুবিধা ও গোপনীয়তার পূর্ণ হেফাজতকারী হতে হবে; কোনো প্রকার ঘুষ, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা যাবে না।
  • ৩. কল্যাণকামিতা ও নম্রতা (الرفق والنصيحة): জনগণের প্রতি সদয় হওয়া এবং সেবার মনোভাব নিয়ে প্রশাসনিক দপ্তর পরিচালনা করা। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছেন: “হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো কাজের দায়িত্ব নিয়ে তাদের কষ্ট দেয়, আপনিও তাকে কষ্টে ফেলুন।”
  • ৪. আইন মান্য করার মানসিকতা: শাসক বা কর্মকর্তা নিজেই রাষ্ট্রের বিদ্যমান শরয়ি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন এবং কোনো স্বেচ্ছাচারিতা করবেন না।

১২ নম্বর প্রশ্ন

اكتب مزايا الخلافة لأمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضى الله عنه مفصلا—

[১২. আমিরুল মু’মিনীন ওমর বিন খাত্তাব (রা) এর খিলাফতের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশদভাবে লেখ।]

আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর (রা.)-এর খেলাফতের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সাড়ে দশ বছরের খেলাফতকাল ছিল বিশ্ব ইতিহাসের এক স্বর্ণযুগ। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রবক্তা হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর শাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

  1. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রদেশ বিভাজন: বিশাল সাম্রাজ্যকে সুষ্ঠু পরিচালনার লক্ষ্যে তিনি আটটি বৃহৎ প্রদেশে বিভক্ত করেন। প্রতিটি প্রদেশে ওয়ালী (গভর্নর), আমিল (রাজস্ব কর্মকর্তা), কাজি (বিচারক) এবং কাতিব (সচিব) নিয়োগ দেন।
  2. স্বতন্ত্র ও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা: শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তিনি কাজিদের বিশেষ মর্যাদা ও উপযুক্ত বেতন নির্ধারণ করেন। এমনকি খলিফা বা গভর্নরদের বিরুদ্ধেও সাধারণ নাগরিক নির্ভয়ে কাজির আদালতে মামলা করতে পারত।
  3. দিওয়ান (রেজিস্ট্রি বিভাগ) ও প্রাতিষ্ঠানিক বাইতুল মাল: তিনি রাজস্ব ও সামরিক বাহিনীর জন্য নিয়মিত খাতা বা ‘দিওয়ান’ প্রবর্তন করেন। বাইতুল মালের অর্থ সুবিন্যস্ত করে বিধবা, এতিম ও নবজাতকদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা চালু করেন।
  4. পুলিশ ব্যবস্থা ও নৈশ প্রহরা (হিজবাহ ও আসাস): নাগরিক জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তিনি সর্বপ্রথম নিয়মিত পুলিশ বাহিনী গঠন করেন এবং অপরাধ দমনে ‘মুহতাসিব’ (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগ করেন। তিনি স্বয়ং রাতে ছদ্মবেশে মদিনার অলিতে-গলিতে প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট প্রত্যক্ষ করতে বের হতেন।
  5. জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো ও কৃষি বিপ্লব: পানির সংকট দূরীকরণে খাল খনন (যেমন: নাহরে মা’কিল, নাহরে আমীরুল মুমিনীন), সরাইখানা, নতুন পরিকল্পিত শহর (বসরহ, কুফা, ফুসতাত) নির্মাণ করেন এবং কৃষকদের অধিকার সংরক্ষণ করেন।
  6. হিজরি সনের প্রবর্তন ও ডাক বিভাগ: রাষ্ট্রীয় কাজকর্মে তারিখ ও সময়ের নির্ভুল রেকর্ডের জন্য হযরত আলী (রা.)-এর পরামর্শে হিজরি সন গণনা শুরু করেন এবং সামরিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের জন্য বিশেষ অশ্বারোহী ডাকব্যবস্থা (বারিদ) চালু করেন।
  7. গভর্নরদের কঠোর জবাবদিহিতা: প্রতি বছর হজের মৌসুমে সকল গভর্নরদের হাজির করে সাধারণ জনগণের সামনে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না তা সরাসরি খতিয়ে দেখতেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে ও পরে তাঁদের সম্পদের হিসাব নিতেন।

مجموعة (د) – ঘ বিভাগ (মান: ২ × ৫ = ১০)

১৩ নম্বর প্রশ্ন

أوضح الفرق بين الإدارة العامة الإسلامية والإدارة العامة الغربية—

[১৩. ইসলামি লোক প্রশাসন ও পশ্চিমা লোক প্রশাসনের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় কর।]

তুলনার বিষয় ইসলামি লোক প্রশাসন পশ্চিমা সেকুলার লোক প্রশাসন
ক্ষমতা ও আইনের উৎস মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিধিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত। জনগণ বা মানুষের তৈরি আইন ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
প্রশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জনসেবার মাধ্যমে ইহলৌকিক কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি অর্জন। শুধুমাত্র বস্তুগত উন্নয়ন, কার্যকারিতা ও পার্থিব লক্ষ্য হাসিল করা।
জবাবদিহিতার ক্ষেত্র রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি সর্বদ্রষ্টা মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অন্তর্মুখী অনুভূতি বিদ্যমান। শুধুমাত্র দৃশ্যমান পার্থিব কর্তৃপক্ষ ও আইনের কাছে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা।
মূল্যবোধের গুরুত্ব নৈতিকতা, আমানতদারি ও তাকওয়ার সাথে বস্তুগত দক্ষতার সমন্বয় ঘটানো হয়। যান্ত্রিক দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও নিয়মের আনুষ্ঠানিক আনুগত্যকে প্রধান মনে করা হয়।

১৪ নম্বর প্রশ্ন

اكتب مزايا الإدارة في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم—

[১৪. রসুল (স) এর যুগে প্রশাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় যে অনন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসন গড়ে তুলেছিলেন তার প্রধান বৈশিষ্ট্যাবলি হলো:

  • মদিনা সনদের মাধ্যমে সাংবিধানিক শাসন: বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন গোত্র ও অমুসলিমদের নাগরিক মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হয়।
  • শূরাভিত্তিক পরামর্শমূলক ব্যবস্থা: রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহি ব্যতীত প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন।
  • মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ: তিনি রক্তসম্পর্ক বা বংশমর্যাদা না দেখে মেধা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে গভর্নর ও সেনাপতি নিয়োগ দিতেন (যেমন: উসামা বিন যায়েদকে সেনাপতি নিয়োগ)।
  • ইনসাফ ও চরম নিরপেক্ষতা: আইন প্রয়োগে কোনো পক্ষপাত ছিল না; শত্রুর ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখার নির্দেশ ছিল।
  • কল্যাণমুখী ও অহিংস দৃষ্টিভঙ্গি: প্রশাসনিক কর্মচারীদের তিনি জনগণের প্রতি কোমল আচরণ এবং সুসংবাদ দেওয়ার নির্দেশ দিতেন।

১৫ নম্বর প্রশ্ন

ما هى أهمية المنظمة فى تكوين المجتمع الصالح؟ بين بالإيجاز—

[১৫. সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে সংগঠনের গুরুত্ব কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও গতিশীল সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংগঠনের (Organization) গুরুত্ব অপরিসীম:

  • বিশৃঙ্খলা ও অনৈক্য দূরীকরণ: সংগঠন ছাড়া মানুষ বিচ্ছিন্ন শক্তিতে পরিণত হয়। সুসংগঠিত সমাজ মানুষের বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করে।
  • সৎকাজ বিস্তার ও অন্যায় প্রতিরোধ: একক প্রচেষ্টায় বড় কোনো সামাজিক ব্যাধি দূর করা যায় না। ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমেই সমাজে মাদক, দুর্নীতি ও শোষণ বন্ধ করা সম্ভব।
  • যৌথ মানবকল্যাণ সাধন: দরিদ্র পুনর্বাসন, দুর্যোগ মোকাবেলা ও শিক্ষার আলো বিস্তারে প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই।
  • যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি: একটি আদর্শ সংগঠন প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাজের ভবিষ্যৎ সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব উপহার দেয়।

১৬ নম্বর প্রশ্ন

بين تطور الإدارة العامة موجزًا—

[১৬. লোক প্রশাসনের ক্রমবিকাশ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যবিষয় হিসেবে লোকপ্রশাসনের বিকাশ কয়েকটি ঐতিহাসিক ধাপের মধ্য দিয়ে ঘটেছে:

  1. উড্রো উইলসনের সূচনা পর্ব (১৮৮৭-১৯২৬): ১৮৮৭ সালে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উড্রো উইলসনের “The Study of Administration” প্রবন্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে আলাদা হয়ে লোকপ্রশাসনের স্বতন্ত্র যাত্রা শুরু হয়।
  2. প্রশাসনিক নীতিমালার স্বর্ণযুগ (১৯২৭-১৯৩৭): এ সময় গুলিক, উরউইক প্রমুখ তাত্ত্বিকগণ প্রশাসন পরিচালনার সর্বজনীন নীতিমালা (যেমন: POSDCORB) প্রণয়ন করেন।
  3. চ্যালেঞ্জ ও মানবিক সম্পর্ক আন্দোলন (১৯৩৮-১৯৪৭): এলটন মায়ো প্রমুখের গবেষণায় প্রশাসনের কর্মীদের নিছক যন্ত্র না দেখে তাদের আবেগ, সন্তুষ্টি ও মানবিক সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়।
  4. পরিচয়ের সংকট ও আচরণবাদী ধারা (১৯৪৮-১৯৭০): হারবার্ট সাইমন প্রমুখের বাস্তবমুখী আচরণবাদী গবেষণা লোকপ্রশাসনকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সাথে একীভূত করে।
  5. আধুনিক নব-লোকপ্রশাসন ও সুশাসন যুগ (১৯৭১-বর্তমান): বর্তমান যুগে লোকপ্রশাসন জনসেবা, নৈতিকতা, সামাজিক সমতা, স্বচ্ছতা, ই-গভর্ন্যান্স এবং জনমুখী সুশাসনের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ইসলামি রাষ্ট্রচিন্তায় সার্বভৌমত্বের প্রকৃত উৎস কে?

ইসলামি শাসনব্যবস্থায় নিরঙ্কুশ ও চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার একক মালিক মহান আল্লাহ; রাষ্ট্রনায়ক ও আইনপ্রণেতাগণ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে শাসন পরিচালনা করেন।

২. আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধানে কোন কোন মৌলিক বিষয় থাকা বাঞ্ছনীয়?

একটি আধুনিক সংবিধানে সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও বণ্টন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবিধান সংশোধনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকা আবশ্যক।

৩. খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে প্রশাসনের মূল ভিত্তি কী ছিল?

খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রশাসনের মূল ভিত্তি ছিল ওহির নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য, মজলিসে শূরার পরামর্শ, কঠোর আমানতদারি, স্বজনপ্রীতিহীন নিয়োগ এবং জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ।

৪. ইসলামি বিচারব্যবস্থায় কাজির স্বাধীনতার তাৎপর্য কী?

ইসলামি বিচারব্যবস্থায় কাজি বা বিচারক সম্পূর্ণ স্বাধীন; রাষ্ট্রপ্রধান বা কোনো শক্তিশালী ব্যক্তিবর্গ বিচারের নিরপেক্ষ রায়কে প্রভাবিত করতে পারেন না।

৫. লোকপ্রশাসন পাঠের আধুনিক উপযোগিতা কী?

সরকারের নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, জনকল্যাণমূলক সেবার গতিশীলতা বৃদ্ধি, সম্পদের অপচয় রোধ এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন বিনির্মাণে লোকপ্রশাসনের জ্ঞান অপরিহার্য।

৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোকপ্রশাসন অংশ কীভাবে প্রস্তুত করা উচিত?

কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নির্দেশনার পাশাপাশি পাশ্চাত্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ধারণা এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের বাস্তব প্রশাসনিক দৃষ্টান্তসমূহ পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে উপস্থাপন করলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *