পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৬
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف ، لعام ۲۰۲۲ م
ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২
القرآن والدراسات الإسلامية (আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
دفع الشبهات المزعومة حول القرآن الكريم (দাফ’উশ শুবুহাতিল মায’ঊমাহ হাওলাল কুরআনিল কারীম)
বিষয় কোড: ২০১৩০৬
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান সমান।]
مجموعة (الف) – ক বিভাগ (মান: ৪ × ১৫ = ৬০)
১ নম্বর প্রশ্ন
عرّف الشبهة حول القران الكريم- ثم اكتب نشأتها وتطورها عبر العصور-
[১. الشبهة حول القران الكريم এর পরিচয় দাও। কালপরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে লেখ।]
الشبهة حول القرآن (কুরআন বিষয়ক সংশয়)-এর সংজ্ঞা
‘শুবহাহ’ (شبهة) শব্দের আভিধানিক অর্থ সন্দেহ, সংশয়, দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা এমন কোনো অস্পষ্ট বিষয় যা আপাতদৃষ্টিতে সত্যের সাদৃশ্যযুক্ত মনে হলেও মূলত মিথ্যা। পারিভাষিক অর্থে মহান আল্লাহর চিরন্তন কালাম আল-কুরআনুল কারীমের সত্যতা, অলৌকিকত্ব, সংকলন ও ঐতিহাসিক বিশুদ্ধতা সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অসৎ উদ্দেশ্যে কাফির, মুনাফিক, প্রাচীন দার্শনিক ও পশ্চিমা প্রাচ্যবিদদের উদ্ভাবিত যাবতীয় অমূলক যুক্তি ও অপপ্রচারকেই ‘আশ-শুবহাহ হাওলাল কুরআন’ বলা হয়।
কালপরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
- মাক্কী ও মাদানী নবুওয়াতী যুগ: কুরাইশ কাফিররা কুরআন শুনে পরাভূত হয়ে একে কবিতা (شعر), জাদু (سحر), বানোয়াট প্রলাপ বা পূর্ববর্তীদের রূপকথা (
أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ
) বলে অবান্তর অপবাদ দেয়। মাদানী যুগে ইহুদি পণ্ডিত ও মুনাফিকরা কিবলা পরিবর্তন ও শরীয়তের বিধান নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। - খোলাফায়ে রাশেদীন ও উমাইয়া যুগ: হযরত উসমান (রা.) যখন মুসলিমদের উপভাষাগত মতভেদ দূর করতে কুরাইশ রীতিতে একক মুসহাফ জারি করেন, তখন সাবায়ী ও রাজনৈতিক ফিতনাবাজরা কুরআন সংকলন নিয়ে মিথ্যা সন্দেহ ছড়াতে চেয়েছিল।
- আব্বাসীয় যুগ ও দর্শন চর্চার প্রভাব: গ্রিক দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার প্রভাবে মু’তাযিলাদের আবির্ভাব ঘটে এবং তারা কুরআনকে সৃষ্ট বস্তু (খালকে কুরআন) আখ্যা দিয়ে ধর্মতাত্ত্বিক সংকট তৈরি করে। সুন্নি উলামাগণ লিখনীর মাধ্যমে এর দাঁতভাঙা জবাব দেন।
- আধুনিক যুগ ও প্রাচ্যবিদদের (Orientalists) আক্রমণ: পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের যুগে নোল্ডেকে, গোল্ডজিহার ও মার্গোলিউথের মতো প্রাচ্যবিদরা পরিকল্পিতভাবে কুরআনকে বিকৃত প্রমাণ করতে গবেষণা নামে বিষবাষ্প ছড়ায়। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব বানোয়াট সংশয় নতুনভাবে তরুণদের মাঝে ছড়ানো হচ্ছে।
২ নম্বর প্রশ্ন
يزعم المستشرقون أن القرآن الكريم جُمع فى عهد عثمان رضى الله عنه- لذا فيه مجال الشبهة، فما جوابك؟
[২. প্রাচ্যবিদরা ধারণা করেন যে, পবিত্র কুরআন হযরত উসমান (রা) এর আমলে সংকলিত হয়েছে। তাই এতে সংশয়ের অবকাশ আছে। তোমার উত্তর কী?]
প্রাচ্যবিদদের দাবির স্বরূপ ও তার অকাট্য খণ্ডন
প্রাচ্যবিদরা প্রচার করতে চায় যে, নবীজি (সা.) ও আবু বকর (রা.)-এর যুগে কোনো লিখিত কুরআন ছিল না; উসমান (রা.) তাঁর খেলাফতকালে রাজনৈতিক প্রয়োজনে কুরআন সংকলন করেছেন এবং ব্যক্তিগত পছন্দমতো আয়াত সংযোজন ও বিয়োজন করেছেন (নাউযুবিল্লাহ)।
দালিলিক জবাব
- নবীজির জীবদ্দশাতেই লিখিত সংরক্ষণ: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে প্রতিটি আয়াত নাযিলের পর কাতিবানে ওহী তা হুবহু লিপিবদ্ধ করতেন এবং জিবরাঈল (আ.)-এর নির্দেশে সূরার ধারাবাহিকতায় তা সুনির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা হতো। শত শত সাহাবী পূর্ণ কুরআন মুখস্থ ধারণ করতেন। সুতরাং উসমান (রা.)-এর বহু পূর্বেই কুরআন সুসংরক্ষিত ছিল।
- আবু বকর (রা.)-এর প্রামাণ্য সংকলন: ইয়ামামার যুদ্ধের পর হযরত আবু বকর (রা.) যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে কঠোর বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিক্ষিপ্ত লিখিত খণ্ডগুলোকে একটি বাঁধাইকৃত মুসহাফে সংকলন করেন।
- উসমান (রা.)-এর পদক্ষেপ কেবল লিপির ঐক্য রক্ষা: হযরত উসমান (রা.) কোনো নতুন কুরআন আবিষ্কার বা সংকলন করেননি; বরং তিনি আবু বকর (রা.)-এর আমলের সেই মূল মুসহাফটি আনিয়ে হুবহু তার অনুলিপি প্রস্তুত করান। অনারব বিজিত অঞ্চলে উপভাষাগত ভুল উচ্চারণ দূর করে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে কুরাইশ ভাষার প্রামাণ্য পাঠের ওপর ঐক্যবদ্ধ করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য। সমস্ত সাহাবী তাঁর এই মহৎ পদক্ষেপে একমত ও সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। অতএব এতে সংশয়ের সামান্যতম অবকাশও নেই।
৩ নম্বর প্রশ্ন
هل الاختلاف فى قراءة القرآن الكريم ينكر كونه كتابًا إلهيًا؟ أجب مدللا-
[৩. পবিত্র কুরআনের পঠনপদ্ধতির ভিন্নতা কি এর আল্লাহর কিতাব হওয়াকে অস্বীকার করে? দলিলভিত্তিক উত্তর দাও।]
পঠনপদ্ধতির ভিন্নতা (ইখতিলাফুল কিরাআত) কি ঐশী গ্রন্থ হওয়াকে ক্ষুণ্ণ করে?
সংশয়বাদীরা দাবি করে যে, কুরআনে বিভিন্ন কেরাত বা পঠনরীতি থাকা প্রমাণ করে যে এটি মানবীয় হস্তক্ষেপের শিকার। এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অজ্ঞতাপ্রসূত। কেরাতের এই ভিন্নতা কুরআনের ঐশী মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না; বরং তা কুরআনের অন্যতম অলৌকিক মুজিযা।
দলিলভিত্তিক প্রমাণাদি
- সাত হরফে কুরআন নাযিলের ঘোষণা: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:
أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ، فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ
অর্থাৎ “কুরআন সাতটি হরফ বা রীতিতে নাযিল হয়েছে; সুতরাং তোমাদের জন্য যা সহজ তা তিলাওয়াত কর” (সহীহ বুখারী)। তৎকালীন বিভিন্ন আরব গোত্রের উচ্চারণের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আল্লাহ তাআলাই জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে এই বৈচিত্র্য অনুমোদন করেছিলেন। - মুতাওয়াতির সনদে সংরক্ষিত: সাব’আ বা আশারায়ে কিরাআতের প্রতিটি পাঠরীতি নবীজি (সা.) থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে অবিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত। কোনো মনগড়া উচ্চারণ এখানে স্থান পায়নি।
- অর্থের সমৃদ্ধি ও অলৌকিকত্ব: কেরাতের পরিবর্তনের কারণে কোনো আয়াতে সাংঘর্ষিক অর্থ তৈরি হয় না; বরং একটি বিধানের একাধিক দিক সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। যেমন সূরা মায়িদাহর ওযুর আয়াতে
أَرْجُلَكُمْ
(নসবসহ পাঠ) দ্বারা পা ধোয়ার নির্দেশ এবংأَرْجُلِكُمْ
(জেরসহ পাঠ) দ্বারা মোজার ওপর মাসেহ করার বৈধতা সাব্যস্ত হয়। সুতরাং এটি কুরআনের ঐশী অলৌকিকত্ব ও ব্যাপকতার অনুপম নিদর্শন।
৪ নম্বর প্রশ্ন
يزعم المستشرقون بأن ايات فى القران الكريم متناقضة، فاذكر خمسة منها ثم أثبت أنها ليست متناقضة فى الحقيقة-
[৪. প্রাচ্যবিদরা ধারণা করেন যে, পবিত্র কুরআনে অনেক বিপরীতার্থক আয়াত আছে। সেগুলো থেকে পাঁচটি আয়াত উল্লেখপূর্বক প্রমাণ কর যে, এগুলো বাস্তবে বিপরীতার্থক নয়।]
১. মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময়সীমা সংক্রান্ত তথাকথিত বিরোধ
দাবি: সূরা আরাফের ৫৪ আয়াতে সৃষ্টি ৬ দিনে বলা হলেও সূরা ফুসসিলাতের ৯-১২ আয়াতে দিন যোগ করলে ৮ দিন মনে হয়।
প্রমাণ: ফুসসিলাতের ৪ দিন পৃথক অতিরিক্ত কোনো দিন নয়; বরং পৃথিবীর সৃষ্টি (২ দিন) এবং তাতে খাদ্য ও পর্বতমালা স্থাপনসহ সর্বমোট ৪ দিন। যেমন: ঢাকা থেকে কুমিল্লা ২ ঘণ্টা ও ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ৪ ঘণ্টা লাগার অর্থ মোট সফর ৪ ঘণ্টা, ৬ ঘণ্টা নয়। সুতরাং সৃষ্টি সর্বমোট ৬ দিনেই সম্পন্ন হয়েছে।
২. কিয়ামতের দিনে কথা বলা সংক্রান্ত সংশয়
দাবি: সূরা আর-রহমানে বলা হয়েছে অপরাধীদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না (আয়াত ৩৯); আবার সূরা হিজরে বলা হয়েছে রবের শপথ সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে (আয়াত ৯২)।
প্রমাণ: কিয়ামতের দিন হবে পঞ্চাশ হাজার বছর দীর্ঘ এবং এতে থাকবে বহু মনজিল। এক মনজিলে তাদের মুখে মোহর মেরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাক্ষ্য নেওয়া হবে, ফলে তারা কথা বলার সুযোগ পাবে না। অন্য মনজিলে তিরস্কার ও হুজ্জত কায়েমের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৩. মানব সৃষ্টির উপাদান
দাবি: কোথাও মাটি (تراب), কোথাও কাদা (طين), কোথাও পোড়া মাটির মতো শুষ্ক মাটি (صلصال) এবং কোথাও শুক্রবিন্দু (نطفة) বলা হয়েছে।
প্রমাণ: এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং মাটি থেকে মানবরূপ ধারণের পর্যায়ক্রমিক বিভিন্ন ধাপ। আদম (আ.)-কে ধূলিকণা থেকে কাদা ও পরে রূপ দেওয়া হয়, আর তাঁর বংশধরকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করা হয়।
৪. শাফাআত বা সুপারিশ
দাবি: কোথাও বলা হয়েছে কোনো সুপারিশ চলবে না (বাকারা: ৪৮); আবার কোথাও সুপারিশের কথা আছে (ত্বাহা: ১০৯)।
প্রমাণ: বাতিল করা হয়েছে পৌত্তলিকদের কল্পিত জোরপূর্বক সুপারিশ; আর সাব্যস্ত করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে মুমিনদের জন্য নবীদের সুপারিশ।
৫. গোত্র ও বংশপরিচয়
দাবি: সূরা মুমিনুনে বলা হয়েছে কিয়ামতের দিন কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না (আয়াত ১০১); আবার সূরা তূরে বলা হয়েছে মুমিনদের সন্তানদের তাদের সাথে একত্র করা হবে (আয়াত ২১)।
প্রমাণ: শিঙ্গায় ফুঁৎকারের ভয়াবহ আতঙ্কের মুহূর্তে মানুষ নিজ সন্তান-পিতার কথা ভুলে যাবে; আর জান্নাতে প্রবেশের পর সম্মান প্রদর্শনে মুমিনদের বংশধরকে তাদের সাথে মিলিত করা হবে।
৫ নম্বর প্রশ্ন
يذكر المستشرقون الشبهات حول التكرار- هل التكرار عيب؟ بين حكمة التكرار-
[৫. প্রাচ্যবিদরা উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র কুরআনে এক আয়াত বার বার এসেছে। বারবার আসা কি দোষ? বারবার উল্লেখ করার রহস্য বর্ণনা কর।]
পুনরাবৃত্তি (التكرار) কি সাহিত্যের কোনো দোষ?
আরবি অলংকারশাস্ত্র (বালাগাত)-এর দৃষ্টিতে পুনরাবৃত্তি কোনো ত্রুটি বা দুর্বলতা নয়; বরং তা কথার গুরুত্ব বৃদ্ধি (التأكيد), ভীতি প্রদর্শন (التهويل), বিষয়বস্তুকে অন্তরে প্রোথিত করা এবং পরম শ্রুতিমধুরতা সৃষ্টির এক উচ্চাঙ্গের শৈল্পিক অলংকার। প্রাচ্যবিদরা আরবি ভাষার গতিপ্রকৃতি না বুঝে একে দোষ হিসেবে চিহ্নিত করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে।
কুরআনে পুনরাবৃত্তির অন্তর্নিহিত ঐশী হিকমতসমূহ
- প্রসঙ্গভেদে নতুন মর্ম প্রদান: সূরা আর-রহমানে
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
৩১ বার উচ্চারিত হয়েছে। প্রতিটি আয়াত তার পূর্ববর্তী সুনির্দিষ্ট নেয়ামতের দিকে নির্দেশ করে। ফলে শব্দ এক হলেও প্রতিবার তার ভাব ও তাৎপর্য সম্পূর্ণ নতুন। - হেদায়েতের সার্বক্ষণিক স্মরণ: কুরআন কেবল ইতিহাস গ্রন্থ নয়; এটি মানবজীবনের সংবিধান। অপরাধপ্রবণ মানব মনকে সঠিক পথে অবিচল রাখতে তাওহীদ, তাকওয়া ও জাহান্নামের ভয় বারবার বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে স্মরণ করিয়ে দেওয়া অপরিহার্য।
- ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ঐতিহাসিক ঘটনা উপস্থাপন: হযরত মূসা (আ.)-এর ঘটনা কুরআনে বহুবার এসেছে; কিন্তু প্রতিবারই ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন দিক ও বিশেষ শিক্ষার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে যা পূর্বের আলোচনায় ছিল না।
- শৈল্পিক ছন্দ ও আত্মিক অনুরণন: বারবার উচ্চারিত ছন্দময় আয়াতসমূহ তিলাওয়াতকারীর অন্তরে এক স্বর্গীয় শিহরণ ও গভীর অনুভূতির সৃষ্টি করে।
৬ নম্বর প্রশ্ন
يدعى المستشرقون الخطأ النحوى فى القرآن الكريم، هات خمسًا من الأخطاء النحوية التى ذكروها، ثم أثبت أنها ليست بخطاء-
[৬. প্রাচ্যবিদরা দাবি করেন যে, পবিত্র কুরআনে নাহুভি ভুল আছে। তাদের উল্লেখিত এমন পাঁচটি ভুল উল্লেখ করে প্রমাণ কর যে, এগুলো ভুল নয়।]
১. সূরা আল-মায়িদাহর ৬৯ আয়াতের وَالصَّابِئُونَ
শব্দ
আপত্তি: ‘ইন্না’ (إنّ)-এর ইসমে আতফ হওয়ার কারণে শব্দটি ‘মানসূব’ হয়ে ‘আস-সাবিঈন’ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এটি ‘মারফূ’ হলো কেন?
খণ্ডন: বালাগাতের নিয়ম অনুযায়ী এটি ‘মু مبتدا مؤخر’ হিসেবে মারফূ হয়েছে। এর মর্ম হলো: সাবিঈনদের মতো বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ও যদি খাঁটি ঈমান আনে তবে তাদেরও কোনো ভয় নেই। তাদের বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নাহুর উচ্চাঙ্গ নিয়মে একে মারফূ করা হয়েছে।
২. সূরা আন-নিসার ১৬২ আয়াতের وَالْمُقِيمِينَ الصَّلَاةَ
আপত্তি: পূর্বাপর সকল গুণ মারফূ হওয়া সত্ত্বেও সালাত কায়েমকারীদের ক্ষেত্রে মানসূব হলো কেন?
খণ্ডন: এটি আরবী বালাগাত শাস্ত্রের نصب على المدح والاختصاص
(প্রশংসা ও বিশেষ গুরুত্বের কারণে নসব দেওয়া)। অর্থাৎ এখানে ক্রিয়া ‘আ’নী’ (أعني – আমি বিশেষভাবে তাদের প্রশংসা করছি) ঊহ্য রয়েছে। সালাতের সর্বোচ্চ মর্যাদাকে বিশেষভাবে তুলে ধরার জন্য ভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
৩. সূরা আল-বাকারার ১৭৭ আয়াতের وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ
আপত্তি: পূর্বের অন্যান্য শব্দ মারফূ হওয়া সত্ত্বেও ‘আস-সাবিরীন’ মানসূব কেন?
খণ্ডন: এটিও নসব আলাল মাদাহ। চরম দুঃখ ও যুদ্ধের ময়দানে ধৈর্য ধারণ করা ঈমানের কঠিনতম পরীক্ষা হওয়ায় ধৈর্যশীলদের মহত্ত্বকে বিশেষভাবে স্পষ্ট করার জন্য একে নসব দেওয়া হয়েছে।
৪. সূরা ত্বাহার ৬৩ আয়াতের إِنْ هَٰذَانِ لَسَاحِرَانِ
আপত্তি: ‘ইন্না’-এর পর ‘হাযাইনি’ মানসূব না হয়ে দ্বিবচনে আলিফ সহকারে মারফূ হলো কেন?
খণ্ডন: এটি বনু হারেস ইবনে কা’ব গোত্রের বিশুদ্ধ কুরাইশী উপভাষা অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে দ্বিবচনের সর্বাবস্থায় আলিফ বহাল থাকে। তদুপরি এখানে ‘ইন’ হলো ‘মুখাফফাফা মিনাস সাক্বিলাহ’, যার কারণে এটি অপ্রভাবিত রয়েছে।
৫. সূরা আল-হুজুরাতের ৯ আয়াতের وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا
আপত্তি: ‘ত্বায়িফাতান’ দ্বিবচন হওয়া সত্ত্বেও ক্রিয়া ‘ইক্বতাতালূ’ বহুবচনে আনা হলো কেন?
খণ্ডন: শব্দের বাহ্যিক রূপ (লাফয) দ্বিবচন হলেও তার অর্থ (মা’না) হলো উভয় দলের অন্তর্ভুক্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ। তাই অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে বহুবচনের ক্রিয়া আনা হয়েছে, যা আরবি ভাষার অত্যন্ত সমাদৃত রীতি।
৭ নম্বর প্রশ্ন
اذكر الشبهات حول عصمة الأنبياء للمستشرقين ثم فندها-
[৭. عصمة الأنبياء সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের সংশয়গুলো উল্লেখপূর্বক এগুলো খণ্ডন কর।]
ইসমাতুল আম্বিয়া (নবীগণের নিষ্পাপত্ব) নিয়ে প্রাচ্যবিদদের সংশয়
প্রাচ্যবিদরা দাবি করে যে নবীরাও সাধারণ মানুষের মতো পাপে লিপ্ত হতেন। তারা আদম (আ.)-এর নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ, ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেটে যাওয়া, দাউদ (আ.) ও সুলাইমান (আ.)-এর প্রতি মিথ্যা অপবাদ এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশকে পাপের প্রমাণ হিসেবে পেশ করে।
সংশয়সমূহের দালিলিক খণ্ডন
- নবীগণের কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে পবিত্রতা: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অকাট্য আকিদা হলো সকল নবী নবুওয়াতের পূর্বে ও পরে যাবতীয় কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত (মা’সূম)। তাঁদের পবিত্র না রাখলে ঐশী ওহীর বিশুদ্ধতা ধ্বংস হয়ে যেত।
- আদম (আ.)-এর ঘটনা: আদম (আ.) কোনো অবাধ্যতার উদ্দেশ্যে ফল খাননি; বরং শয়তানের প্ররোচনায় ভুলবশত (নিসইয়ান) খেয়েছিলেন। কুরআনেই বলা হয়েছে:
فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا
(সে ভুলে গিয়েছিল, তার কোনো পাপের সংকল্প ছিল না)। ভুলে কোনো কাজ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে পাপ নয়। - ইউনুস (আ.)-এর ঘটনা: ইউনুস (আ.) কোনো কুফরি বা গুনাহ করেননি; তিনি আল্লাহর চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় কিছুটা অগ্রবর্তী হয়ে কওম ছেড়ে প্রস্থান করেছিলেন যা ছিল ‘খিলাফে আওলা’ বা অপেক্ষাকৃত উত্তম কর্মের ব্যত্যয় মাত্র।
- নবীজির ইস্তিগফার: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমা প্রার্থনা গুনাহের কারণে ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর প্রতি চরম দাসত্ব (উবূদিয়্যাত), কৃতজ্ঞতা ও উম্মতকে তাওবার শিক্ষা দেওয়ার জন্য।
৮ নম্বর প্রশ্ন
اكتب شبهات الزاعمين حول العلوم الكونية فى القران الكريم، ثم فندها بالدلائل-
[৮. আল-কুরআনে বর্ণিত বিশ্বজগৎ সৃষ্টির বিষয়ে সন্দেহবাদীদের সংশয়সমূহ উল্লেখ করে তাদের সংশয়ের দলিলভিত্তিক খণ্ডন কর।]
সংশয়বাদীদের আপত্তি
নাস্তিক্যবাদী ও প্রাচ্যবিদরা দাবি করে যে কুরআনের সৃষ্টিতত্ত্বের বিবরণ আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন: পৃথিবী সমতল বলা হয়েছে, সূর্য কোনো কর্দমাক্ত জলাশয়ে অস্ত যায় বলা হয়েছে (যুলকারনাইনের ঘটনা), এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি রয়েছে।
দলিলভিত্তিক বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক খণ্ডন
- পৃথিবীর আকৃতি: কুরআন কোথাও পৃথিবীকে সমতল থালার মতো বলেনি। আয়াতে
وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا
দ্বারা বোঝানো হয়েছে মানুষের দৃষ্টির সামনে ভূপৃষ্ঠকে বিস্তৃত ও বসবাসের উপযোগী করা। তদুপরি সূরা আয-যুমারের ৫ আয়াতে বলা হয়েছে:يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ
(তিনি রাত দিয়ে দিনকে গোলাকারভাবে আবৃত করেন)। ‘ইউকাউয়িরু’ শব্দটি ‘কূরাহ’ (গোলক বা বল) থেকে উদ্ভূত, যা পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। - সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্য: যুলকারনাইনের ঘটনায় বলা হয়েছে:
وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَمِئَةٍ
অর্থাৎ “তিনি সূর্যকে এক কর্দমাক্ত জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন।” এটি ছিল দর্শকের চাক্ষুষ দৃষ্টির অনুভূতি (Optical Illusion); যেমন সমুদ্র সৈকতে দাঁড়ালে মনে হয় সূর্য সাগরের পানির ভেতর ডুবে যাচ্ছে। এটি বিজ্ঞানসম্মত বর্ণনাভঙ্গি। - মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান: বিগ ব্যাং তত্ত্বের বহু পূর্বে কুরআন ঘোষণা করেছে যে আকাশ ও জমিন এক সাথে সংযুক্ত ছিল, অতঃপর আল্লাহ এদের পৃথক করেছেন (আম্বিয়া: ৩০)। মহাবিশ্বের ক্রমাগত সম্প্রসারণের তথ্য কুরআনেই রয়েছে:
وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ
(সূরা যারিয়াত: ৪৭)। সুতরাং কুরআনের বক্তব্য আধুনিক বিজ্ঞানের পরীক্ষিত সত্যের সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ (মান: ৪ × ৫ = ২০)
৯ নম্বর প্রশ্ন
ما المراد باعجاز القران الكريم؟ اذكر ثلاثة أوجه من الإعجاز-
[৯. اعجاز القران الكريم বলতে কী বোঝায়? وجوه الإعجاز এর তিনটি উল্লেখ কর।]
সংজ্ঞা: আল-কুরআন মহান আল্লাহর এমন এক চিরন্তন ঐশী মোজেজা যা মানব ও জিন জাতিকে এর সমকক্ষ একটি সূরাও রচনার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে চিরতরে অক্ষম ও পরাভূত করে রেখেছে।
অলৌকিকত্বের তিনটি প্রধান দিক:
- ভাষাগত ও বালাগাতগত অলৌকিকত্ব: সুর, মাধুর্য ও শব্দের এমন অলৌকিক বিন্যাস যার সমকক্ষ সাহিত্য রচনায় তৎকালীন আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিরাও ব্যর্থ হয়েছিল।
- অদৃষ্টের নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী (الإعجاز الغيبي): রোমানদের ঐতিহাসিক বিজয় (সূরা আর-রূম) এবং মক্কা বিজয়ের মতো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী যা হুবহু সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।
- চিরন্তন ভারসাম্যপূর্ণ আইনব্যবস্থা (الإعجاز التشريعي): মানবজাতির সার্বিক মুক্তির জন্য এমন নিখুঁত ও ন্যায়ভিত্তিক বিধান যার সমকক্ষ বিধান কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রণয়ন করতে পারেনি।
১০ নম্বর প্রশ্ন
“أنزل القران على سبعة أحرف” لمن هذا القول؟ وما المراد به؟
[১০. ‘أنزل القران على سبعة أحرف’ এটি কার উক্তি? এর দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]
উক্তিটির প্রবক্তা: এটি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক মুতাওয়াতির সহীহ হাদীস (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।
তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য: ‘সাবআতু আহরুফ’ (সাত হরফ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তৎকালীন আরবের প্রধান সাতটি গোত্রের (যেমন কুরাইশ, হুযাইল, সাকীফ, হাওয়াযিন, তামীম ইত্যাদি) বিশুদ্ধ আঞ্চলিক ভাষার উচ্চারণরীতির ওপর কুরআন নাযিল হওয়া। সাধারণ বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের তিলাওয়াত সহজ করার জন্য মহান আল্লাহ রহমতস্বরূপ এই সুবিধা প্রদান করেছিলেন। এর দ্বারা অর্থ বা শরীয়তের কোনো মৌলিক বিধানের পরিবর্তন ঘটে না; বরং শব্দের উচ্চারণে কিছুটা বৈচিত্র্য সাধিত হয়।
১১ নম্বর প্রশ্ন
“ما أعطى القران الكريم حقوق النساء المناسبة” فند هذا الزعم للمستشرقين باختصار-
[১১. ‘পবিত্র কুরআন নারীদের যথাযথ অধিকার দেয়নি’—প্রাচ্যবিদদের এই ধারণা খণ্ডন কর।]
প্রাচ্যবিদদের এ দাবি চরম মিথ্যা ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার বিপরীত। ইসলাম পূর্ব জাহেলী যুগে নারীদের পশুর মতো বিবেচনা করা হতো এবং কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। কুরআনই সর্বপ্রথম নারী জাতিকে মানবীয় মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে:
- জীবনের অধিকার ও মাতৃত্বের মর্যাদা: কন্যাশিশুর হত্যা নিষিদ্ধ করেছে এবং মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত ঘোষণা করেছে।
- স্বাধীন অর্থনৈতিক ও সম্পত্তির অধিকার: পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে নারীর সুনির্দিষ্ট উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেছে। নিজের উপার্জিত অর্থে নারীর নিরঙ্কুশ মালিকানা দিয়েছে।
- পারিবারিক ও সামাজিক অধিকার: দেনমোহর নারীর ব্যক্তিগত অধিকার করেছে এবং সম্মানের সাথে বসবাসের নির্দেশ দিয়েছে (
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
)। পুরুষের দ্বিগুণ সম্পত্তির কারণ হলো সংসারের সকল আর্থিক দায়িত্ব পুরুষের, নারীর ওপর কোনো খরচের বোঝা নেই।
১২ নম্বর প্রশ্ন
اذكر مزعومات المستشرقين حول الناسخ والمنسوخ، ثم رددها باختصار-
[১২. الناسخ والمنسوخ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের ধারণা উল্লেখ করে সেগুলোর সংক্ষেপে উত্তর দাও।]
প্রাচ্যবিদদের দাবি: নাসখ প্রমাণ করে যে আল্লাহর জ্ঞানের অপূর্ণতা ছিল এবং কুরআন নবীর মনগড়া রচনা, যা তিনি পরিস্থিতি দেখে পরিবর্তন করতেন।
সংক্ষিপ্ত জবাব: নাসখ আল্লাহর অজ্ঞতা নয়; বরং এটি বান্দার প্রতি প্রজ্ঞাপূর্ণ তারবিয়াত ও পর্যায়ক্রমিক সহজীকরণ নীতি। যেমন একজন দক্ষ চিকিৎসক রোগীর রোগের তীব্রতা কমার সাথে সাথে পূর্বের ঔষধ বদলে নতুন বলবর্ধক ঔষধ দেন। জাহেলী সমাজকে রাতারাতি মদ্যপান থেকে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব ছিল, তাই তিন স্তরে নাসখের মাধ্যমে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নাসখ আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনারই অংশ।
১৩ নম্বর প্রশ্ন
اكتب خمسة أسماء الكتب التى ألفت فى رد الشبهات حول القران الكريم مع ذكر مؤلفيها-
[১৩. পবিত্র কুরআন বিষয়ক সংশয় খণ্ডন করেছে এমন পাঁচটি গ্রন্থ এবং এগুলোর লেখকের নাম লেখ।]
| ক্রম | গ্রন্থের নাম | লেখকের নাম |
|---|---|---|
| ১ | শুবুহাতুন হাওলাল কুরআন ওয়া রুদূদুহা | ড. মুহাম্মদ আস-সায়্যিদ আলী বালায়াত |
| ২ | দাফউশ শুবুহাত আনিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ | ড. আবদুল আজীম আল-মাতআনী |
| ৩ | আল-ইসলাম ফী ক্বাফাসিল ইত্তিহাম | ড. শওকত আলী আলিয়ান |
| ৪ | মুফহামাতুল আক্বApiResponse ফিল বালাগাত | ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (র.) |
| ৫ | আল-মুস্তাশরিকূন ওয়াল কুরআন | ড. মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু শাহবাহ |
১৪ নম্বর প্রশ্ন
علق على اثنين مما يلى: (الف) الاستشراق والمستشرقون (ب) تواتر القرآن والمستشرقون (ج) عصمة الرسول صلى الله عليه وسلم والمستشرقون (د) عصمة الملائكة وزعم المستشرقين-
[১৪. নিচের যে কোনো দুটি বিষয়ে টীকা লেখ:]
(ক) প্রাচ্যবাদ ও প্রাচ্যবিদগণ (الاستشراق والمستشرقون):
পশ্চিমা খ্রিষ্টান ও ইহুদি পণ্ডিতদের দ্বারা প্রাচ্যের বিশেষ করে ইসলাম, কুরআন, সুন্নাহ ও মুসলিম সভ্যতার ওপর গবেষণা পরিচালনার আন্দোলনকে ‘ইসতিশরাক্ব’ (Orientalism) এবং গবেষকদের ‘মুসতাশরিক’ বলা হয়। এদের মূল উদ্দেশ্য সত্য উদ্ঘাটন নয়; বরং ইসলামি ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ঔপনিবেশিক আধিপত্য বিস্তার করা।
(খ) কুরআনের তাওয়াতুর ও প্রাচ্যবিদগণ (تواتر القرآن والمستشرقون):
প্রাচ্যবিদরা একক সূত্রের বানোয়াট রেওয়ায়েতের ওপর ভিত্তি করে কুরআনের তাওয়াতুরকে ক্ষুণ্ণ করতে চায়। অথচ আল-কুরআনের প্রতিটি হরফ প্রতিটি প্রজন্মে লাখ লাখ হাফেজের অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতায় মুখস্থ ও লিখিতভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে, যার প্রামাণিকতা ইতিহাসের যেকোনো দলিলের চেয়ে শতগুণ শক্তিশালী।
(গ) রাসূলের নিষ্পাপত্ব ও প্রাচ্যবিদগণ (عصمة الرسول والمستشرقون):
তারা কুরআনের ক্ষমা চাওয়ার আয়াতগুলোর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রমাণ করতে চায় যে নবীজি পাপে লিপ্ত ছিলেন। অথচ নবীজির ক্ষমা প্রার্থনা ছিল দাসত্বের পরাকাষ্ঠা ও উম্মতের শিক্ষার জন্য; কোনো চারিত্রিক অপরাধের কারণে নয়।
(ঘ) ফেরেশতাদের নিষ্পাপত্ব ও প্রাচ্যবিদদের দাবি (عصمة الملائكة وزعم المستشرقين):
হারুত-মারুতের ভিত্তিহীন ইসরাঈলী কিসসা ও ইবলিসের অবাধ্যতার ঘটনা টেনে এনে তারা ফেরেশতাদের নিষ্পাপ সত্তা অস্বীকার করতে চায়। অথচ কুরআন স্পষ্ট করেছে যে ফেরেশতারা পাপ করতে সক্ষমই নন (لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ
) এবং ইবলিস ফেরেশতা ছিল না, সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত।
১৫ নম্বর প্রশ্ন
ماذا قال المستشرقون فى نسيان النبى صلى الله عليه وسلم؟
[১৫. রসূল (স) এর ভুলে যাওয়ার সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের মন্তব্য কী?]
প্রাচ্যবিদদের অপবাদ: তারা সূরা আ’লার ৬ আয়াত سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰ إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ
এবং সালাতে নবীজির সাহু সিজদার ঘটনাকে অপব্যাখ্যা করে দাবি করে যে, নবীজি ওহীর বাণীও ভুলে যেতেন; ফলে বর্তমান কুরআন অসম্পূর্ণ।
দালিলিক খণ্ডন: ওহী পৌঁছানো এবং দ্বীনের তাবলীগের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনোই কোনো কিছু বিস্মৃত হননি; আল্লাহ স্বয়ং তাঁর বক্ষে কুরআন গেঁথে রাখার গ্যারান্টি দিয়েছেন (إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ
)। আর সালাতে বা সাধারণ মানবীয় জীবনে সাময়িক ভুল বা বিস্মৃতি ছিল উম্মতের জন্য শরীয়তের বিধান (যেমন সাহু সিজদা) শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর হিকমতের অংশ। নবীজি (সা.) নিজেই বলেছিলেন: “আমি ভুলি না; বরং আমাকে ভুলানো হয় যাতে আমি তোমাদের জন্য বিধান কায়েম করতে পারি।”
১৬ নম্বর প্রশ্ন
اذكر الشبهات حول الزيادة والنقصان فى القران الكريم ثم فندها باختصار-
[১৬. পবিত্র কুরআনে সংযোজন-বিয়োজন সম্পর্কে সংশয়গুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করে খণ্ডন কর।]
সংশয়: প্রাচ্যবিদরা কিছু বাতিল শিয়া রেওয়ায়েত টেনে এনে দাবি করে যে, কুরআনে কোনো কোনো আয়াত বাদ পড়েছে অথবা উসমান (রা.) কিছু অতিরিক্ত অংশ যোগ করেছেন।
সংক্ষিপ্ত খণ্ডন: এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর ও অবাস্তব দাবি। মহান আল্লাহ স্বয়ং কুরআনের প্রতিটি শব্দের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের ওপর নিয়েছেন (إِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
)। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের পূর্ব থেকে পশ্চিমের লাখ লাখ হাফেজে কুরআনের মুখস্থ তেলাওয়াত ও লিখিত মুসহাফে একটি হরফ বা যের-যবরেরও পার্থক্য নেই। যেসব বর্ণনায় আয়াত বাদ পড়ার কথা বলা হয়, সেগুলো হয় সনদের দিক থেকে মিথ্যা ও জাল অথবা সেগুলো ছিল তিলাওয়াত রহিত (মানসূখুত তিলাওয়াত) আয়াত। সুতরাং কুরআন সর্বপ্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি থেকে শতভাগ পবিত্র।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. কুরআন সংকলন নিয়ে হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে প্রাচ্যবিদদের অপবাদ কী?
তারা দাবি করে উসমান (রা.) নিজের খুশিমতো কুরআন সংকলন ও পরিবর্তন করেছেন; অথচ তিনি কেবল আবু বকর (রা.)-এর মূল প্রামাণ্য কপি থেকেই কুরাইশ ভাষার নুসখা অনুলিপি করেছিলেন।
২. কুরআনে পুনরাবৃত্তি কি সাহিত্যের কোনো ত্রুটি?
না, আরবি অলংকারশাস্ত্রে পুনরাবৃত্তি কোনো ত্রুটি নয়; বরং তা গুরুত্বারোপ, হেদায়েতের গভীর আবেদন সৃষ্টি এবং অলংকারিক সৌন্দর্যের পরম পরাকাষ্ঠা।
৩. সাত হরফে কুরআন নাযিলের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
তৎকালীন বিভিন্ন আরব গোত্রের মানুষের জন্য নিজস্ব উচ্চারণের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে কুরআনের তিলাওয়াত ও মর্ম অনুধাবন সহজতর করা।
৪. ইসলামে নারীর অধিকার বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের অপপ্রচার কেন ভিত্তিহীন?
কারণ ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা জাহেলী যুগে নির্যাতিত নারীকে মায়ের আসনে বসিয়ে জান্নাত ঘোষণা করেছে এবং সম্পত্তিতে তাঁর স্বাধীন আইনি অধিকার নিশ্চিত করেছে।
৫. কুরআনে আপাতদৃষ্টিতে বৈপরীত্য দেখা যাওয়ার কারণ কী?
কারণ মানুষ গভীর প্রেক্ষাপট ও শানে নুযূল না বুঝে বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করে; সমন্বয় করলে দেখা যায় প্রতিটি আয়াত একে অপরের সাথে পরম সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহর প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?
প্রাচ্যবিদদের প্রতিটি যুক্তির মূল দুর্বলতা চিহ্নিত করে কুরআন, সুন্নাহ ও যুক্তিভিত্তিক প্রামাণ্য খণ্ডনগুলো পয়েন্ট আকারে লিখে অনুশীলন করা প্রয়োজন।