জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকরিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ (Al-Ittijahat al-Fikriyyah al-Muasirah) – 203403, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫০ মিনিট পড়ার সময়
১০ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: 204 | প্রশ্নপত্র কোড: 167
اختبار السنة الرابعة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الاتجاهات الفكرية المعاصرة
[আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকরিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ]
বিষয় কোড: 203403
الوقت: ٤ ساعات [সময়: ৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة: ٨٠ [পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য : (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) [বিভাগ ‘ক’ – রচনামূলক প্রশ্নাবলী]

মান: ১৫ × ৪ = ৬০

١- ما المراد بالاتجاهات الفكرية المعاصرة؟ بين أهمية دراستها مفصلاً-

[১. الاتجاهات الفكرية المعاصرة বলতে কী বোঝায়? তা পাঠের গুরুত্ব বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

মানব সভ্যতার ইতিহাসে দর্শন ও মতাদর্শ সবসময় মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। বর্তমান আধুনিক ও উত্তরাধুনিক যুগে বিভিন্ন মানবসৃষ্ট বস্তুবাদী মতবাদ বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে। একজন মুসলিম গবেষক ও দায়ীর জন্য সমকালীন বিশ্বের এই চিন্তাধারাসমূহকে জানা অপরিহার্য, যাতে ইসলামের মৌলিক আকিদা ও সমাজব্যবস্থাকে বিজাতীয় আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা যায়।

‘আল-ইত্তিজাহাতুল ফিকরিয়্যাহ আল-মুআসিরাহ’ (الاتجاهات الفكرية المعاصرة)-এর অর্থ ও মর্মার্থ

শব্দার্থ বিশ্লেষণ:

  • আল-ইত্তিজাহাত (الاتجاهات): এটি ‘ইত্তিজাহ’ (اتجاه)-এর বহুবচন। এর অর্থ—গতিমুখ, ধারা, প্রবণতা, দর্শন বা চিন্তাপদ্ধতি (Trends/Orientations)।
  • আল-ফিকরিয়্যাহ (الفكرية): ‘ফিকর’ (الفكر) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ—বুদ্ধিবৃত্তিক, চিন্তাগত বা মতাদর্শিক (Intellectual/Ideological)।
  • আল-মুআসিরাহ (المعاصرة): ‘আসর’ (العصر) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ—সমকালীন, বর্তমান যুগীয় (Contemporary/Modern)।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: অষ্টাদশ শতাব্দীর ইউরোপীয় রেনেসাঁ ও শিল্পবিপ্লবের পর থেকে বর্তমান আধুনিক যুগ পর্যন্ত মানবসমাজে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন বস্তুবাদী, ধর্মহীন, রাজনৈতিক, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও মতাদর্শকে (যেমন: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, জায়নবাদ, প্রাচ্যবাদ ইত্যাদি) সমষ্টিগতভাবে ‘সমকালীন চিন্তাধারা’ (الاتجاهات الفكرية المعاصرة) বলা হয়।

সমকালীন চিন্তাধারা পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

  1. বাতিল মতবাদের স্বরূপ উদ্ঘাটন (معرفة الباطل للوقاية منه): শত্রুর কৌশল না জানলে আত্মরক্ষা সম্ভব নয়। বিখ্যাত সাহাবি হুযাইফা (রা.) বলতেন: “লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত, আর আমি অমঙ্গল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম যাতে তা আমার ওপর চেপে না বসে।” (সহিহ বুখারি) বাতিল মতবাদের সূক্ষ্ম বিষবাষ্প বুঝতে এগুলো অধ্যয়ন করা জরুরি।
  2. ইসলামের আকিদা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ (حماية العقيدة والهوية الإسلامية): আধুনিক যুগে অনেক মুসলিম যুবক না জেনে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইমান হারাচ্ছে। এই বিষয় পাঠের মাধ্যমে মুসলিম তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি মজবুত করা যায়।
  3. বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের মোকাবেলা (مواجهة الغزو الفكري): বর্তমান যুদ্ধ তরবারির চেয়ে চিন্তার যুদ্ধ। অমুসলিম চিন্তাবিদদের আরোপিত সংশয় ও অভিযোগের বিজ্ঞানসম্মত ও দার্শনিক জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা যায়।
  4. ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ (إثبات شمولية الإسلام وصلاحيته): মানবসৃষ্ট প্রতিটি মতবাদ মানুষকে হতাশা, যুদ্ধ ও নৈতিক অবক্ষয় উপহার দিয়েছে। এগুলো পাঠ করলে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, একমাত্র ওহিভিত্তিক ইসলামই মানবজাতির ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ।
  5. যুগোপযোগী দাওয়াতি কর্মপন্থা নির্ধারণ: মাদউ বা শ্রোতার মানসিকতা ও সে কোন ভাবধারায় প্রভাবিত তা জেনে সে অনুযায়ী দাওয়াত উপস্থাপন করা সম্ভব হয়।

٢- ما الفرق بين الاشتراكية والشيوعية والماركسية؟ بين مبادئ كل منها-

[২. সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম এবং মার্কসবাদের মধ্যে পার্থক্য কী? প্রতিটির মূলনীতি বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

পুঁজিবাদের চরম শোষণ ও বৈষম্যের প্রতিক্রিয়ায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে বামপন্থী চিন্তাধারার উদ্ভব ঘটে। এই ধারার প্রধান তিনটি পরিভাষা হলো মার্কসবাদ, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম। সাধারণ দৃষ্টিতে সমার্থক মনে হলেও এদের মধ্যে ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

মার্কসবাদ, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের পরিচয় ও মূলনীতি

১. মার্কসবাদ (الماركسية – Marxism):
পরিচয়: জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩) এবং ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস কর্তৃক উপস্থাপিত অর্থনৈতিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক তত্ত্বই হলো মার্কসবাদ। এটি মূলত সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের তাত্ত্বিক ভিত্তি।
মৌলিক মূলনীতি:

  • দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ (Dialectical Materialism): জগত সম্পূর্ণরূপে বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত; কোনো আধ্যাত্মিক সত্তা নেই। বস্তুর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলেই ইতিহাসের পরিবর্তন ঘটে।
  • ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (Historical Materialism): মানব সমাজের ইতিহাস হলো মূলত অর্থনৈতিক উৎপাদন পদ্ধতি ও শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস।
  • উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব (Surplus Value Theory): পুঁজিপতিরা শ্রমিকদের রক্তজল করা অতিরিক্ত উৎপাদন মূল্য আত্মসাৎ করে ধনী হয়।
  • ধর্ম সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি: মার্কস ধর্মকে “জনগণের জন্য আফিম” (أفيون الشعوب) বলে আখ্যায়িত করেন।

২. সমাজতন্ত্র (الاشتراكية – Socialism):
পরিচয়: সমাজতন্ত্র হলো একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপাদানসমূহ (শিল্পকারখানা, জমি, খনিজ সম্পদ) ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে রাষ্ট্রের বা সমাজের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
মৌলিক মূলনীতি:

  • উৎপাদনের উপকরণের রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা।
  • ব্যক্তিগত মুনাফার বদলে সামাজিক কল্যাণে সম্পদ বণ্টন (“প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রত্যেকে তার অবদান অনুযায়ী পাবে”)।
  • পুঁজিবাদী একচেটিয়া শোষণের উচ্ছেদ ও প্রাথমিক সাম্য প্রতিষ্ঠা।

৩. সাম্যবাদ বা কমিউনিজম (الشيوعية – Communism):
পরিচয়: মার্কসীয় তত্ত্ব অনুযায়ী সমাজতন্ত্রের পরবর্তী চূড়ান্ত ও কাল্পনিক আদর্শিক স্তরই হলো কমিউনিজম। এটি একটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রহীন ও শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা।
মৌলিক মূলনীতি:

  • ব্যক্তিগত সম্পত্তির সম্পূর্ণ বিলোপ সাধন (এমনকি পরিবারব্যবস্থাও শিথিল)।
  • শ্রেণিহীন ও রাষ্ট্রহীন সমাজ গঠন (যেখানে কোনো সরকার, সেনাবাহিনী বা সীমানা থাকবে না)।
  • বণ্টনের চূড়ান্ত নীতি: “প্রত্যেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রত্যেকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করবে।”
  • সম্পূর্ণ ধর্মহীন ও নাস্তিক্যবাদী সমাজ।

তুলনামূলক পার্থক্যের সারসংক্ষেপ:

তুলনার বিষয় মার্কসবাদ (Marxism) সমাজতন্ত্র (Socialism) কমিউনিজম (Communism)
স্বরূপ তাত্ত্বিক দর্শন ও মতাদর্শ অন্তর্বর্তীকালীন প্রায়োগিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চূড়ান্ত কাল্পনিক স্তর
রাষ্ট্রের ভূমিকা সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি (Stateless)
বণ্টন নীতি শ্রম শোষণ মুক্তির মূলনীতি কাজের পরিমাণ ও দক্ষতা অনুযায়ী বণ্টন প্রয়োজন অনুযায়ী উন্মুক্ত ভোগ

٣- ما الرأسمالية؟ تحدث عن أسسها وأشكالها وجذورها الفكرية-

[৩. পুঁজিবাদ কী? উহার মূলনীতি, বিবিধরূপ ও বুদ্ধি বৃত্তিক শেকড় সম্পর্কে আলোচনা কর।]

ভূমিকা

বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে পুঁজিবাদ (Capitalism)। ইউরোপে সামন্তবাদের পতনের পর জন্ম নেওয়া এই মতাদর্শ ব্যক্তিকে অবাধ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিলেও এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও সাম্রাজ্যবাদী শোষণের সৃষ্টি হয়েছে।

পুঁজিবাদ (الرأسمالية)-এর সংজ্ঞা

পুঁজিবাদ এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহ (জমি, কলকারখানা, পুঁজি) ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হয় এবং পণ্যের উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারণ মুক্তবাজার ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুধুমাত্র সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়।

পুঁজিবাদের বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড় (الجذور الفكرية للرأسمالية)

  1. ইউরোপীয় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ (Individualism): সপ্তদশ শতাব্দীর জন লক ও রুশোর মতো দার্শনিকরা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে পরম অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
  2. অ্যাডাম স্মিথের ‘মুক্তবাজার তত্ত্ব’: ১৭৭৬ সালে রচিত অ্যাডাম স্মিথের ‘The Wealth of Nations’ গ্রন্থে “Laissez-faire” (অবাধ বাণিজ্য বা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপহীনতা) এবং “অদৃশ্য হাত” (Invisible Hand)-এর তত্ত্ব দেন।
  3. উপযোগিতাবাদ (Utilitarianism): জেরমি বেন্থাম ও জন স্টুয়ার্ট মিলের দর্শন, যা ব্যক্তির ইন্দ্রিয়সুখ ও মুনাফাকেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করে।

পুঁজিবাদের মৌলিক মূলনীতিসমূহ (أسس الرأسمالية)

  • ব্যক্তিগত মালিকানার নিরঙ্কুশ অধিকার (الملكية الفردية): যে কেউ বৈধ-অবৈধ যেকোনো উপায়ে যত ইচ্ছা সম্পদের পাহাড় গড়তে পারে।
  • সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য (دافع الربح): নৈতিকতা বা মানবকল্যাণ নয়, ব্যবসায়ের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগ থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা লাভ।
  • বাজার অর্থনীতি ও মুক্ত প্রতিযোগিতা (حرية المنافسة): চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে পণ্যের দাম নির্ধারিত হবে; রাষ্ট্র এতে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
  • সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা (النظام المصرفي الربوي): পুঁজিবাদী অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলো সুদ, যার মাধ্যমে ধনীরা আরও ধনী এবং দরিদ্ররা আরও নিঃস্ব হয়।

পুঁজিবাদের বিবিধ রূপ (أشكال الرأسمالية)

  1. বাণিজ্যিক পুঁজিবাদ (Commercial Capitalism): ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ঔপনিবেশিক বাণিজ্য ও মার mercantilism-এর মাধ্যমে গড়ে ওঠা রূপ।
  2. শিল্প পুঁজিবাদ (Industrial Capitalism): আঠারো ও উনিশ শতকে কলকারখানাভিত্তিক বৃহৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শ্রমিকদের শোষণের রূপ।
  3. আর্থিক বা করপোরেট পুঁজিবাদ (Financial Capitalism): ব্যাংক, শেয়ারবাজার, বহুজাতিক করপোরেট কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF/World Bank) মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের আধুনিক রূপ।

٤- ما هو مفهوم الديمقراطية وما هي مبادئها الأساسية وسماتها المميزة-

[৪. গণতন্ত্রের ধারণা কী এবং এর মূলনীতি ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?]

ভূমিকা

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সর্বাধিক আলোচিত ও চর্চিত শাসনব্যবস্থা হলো গণতন্ত্র। গ্রিক শব্দ ‘Demos’ (জনগণ) এবং ‘Kratos’ (শাসন বা ক্ষমতা) থেকে Democracy শব্দের উৎপত্তি, যার শাব্দিক অর্থ হলো ‘জনগণের শাসন’। আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত সংজ্ঞানুযায়ী: “Democracy is government of the people, by the people, for the people.”

গণতন্ত্রের মৌলিক মূলনীতিসমূহ (المبادئ الأساسية للديمقراطية)

  1. জনগণের সার্বভৌত্ব (سيادة الشعب): রাষ্ট্রক্ষমতার মূল উৎস জনগণ। আইন প্রণয়ন ও সরকার পরিবর্তনের চাবিকাঠি জনগণের ভোটের ওপর নির্ভরশীল।
  2. সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন (حكم الأغلبية): যেকোনো সিদ্ধান্ত বা আইন পাসে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
  3. রাজনৈতিক সমতা ও ভোটাধিকার (المساواة السياسية): বর্ণ, ধর্ম বা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের একটি করে ভোটের অধিকার (“One person, one vote”)।
  4. বহুদলীয় ব্যবস্থা ও বিরোধী দলের স্বীকৃতি (التعددية الحزبية): একাধিক রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা এবং বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার হিসেবে মর্যাদা প্রদান।
  5. আইনের শাসন ও ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ (سيادة القانون وفصل السلطات): বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

গণতন্ত্রের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ (السمات المميزة)

  • নিয়মিত পর্যায়ক্রমিক নির্বাচন: নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার পরিবর্তন।
  • মৌলিক মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: সংবিধানে নাগরিক অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিতকরণ।
  • সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ: সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন কায়েম হলেও সংখ্যালঘুদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অধিকারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা।

ইসলামের ‘শুরা’ (পরামর্শ) ব্যবস্থার সাথে গণতন্ত্রের মৌলিক পার্থক্য

ইসলামে পরমতসহিষ্ণুতা, শাসকদের জবাবদিহিতা ও জনগণের মতামত গ্রহণের বিধান রয়েছে, যাকে ‘শুরা’ (الشورى) বলা হয়। তবে পশ্চিমা গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের মৌলিক পার্থক্য হলো—গণতন্ত্রে সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ, তারা চাইলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সমকামিতা বা মদ্যপানের মতো হারাম বিষয়কেও বৈধ করতে পারে। কিন্তু ইসলামে সার্বভৌমত্বের নিরঙ্কুশ মালিক একমাত্র আল্লাহ (إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ)। কোনো সংসদ আল্লাহর হালালকে হারাম কিংবা হারামকে হালাল করার অধিকার রাখে না।


٥- ما هي دور وسائل الإعلام في المجتمع المعاصر؟ وكيف تؤثر على الرأي العام والاتجاهات الفكرية؟

[৫. আধুনিক সমাজে মিডিয়ার ভূমিকা কী? কীভাবে এটি জনমত ও চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে?]

ভূমিকা

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের ফলে গণমাধ্যম (Mass Media) সমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থায় পরিণত হয়েছে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং বিশেষত ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Facebook, X, YouTube, TikTok) মানুষের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই মিডিয়াকে বলা হয় রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ (The Fourth Estate)।

আধুনিক সমাজে মিডিয়ার বহুমুখী ভূমিকা

  1. তথ্য সরবরাহ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি: দেশ-বিদেশের ঘটে যাওয়া সংবাদ, আবহাওয়া, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির নিত্যনতুন তথ্য মানুষের কাছে পলকের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া।
  2. শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তার: তথ্যচিত্র, গবেষণাধর্মী আলোচনা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করা।
  3. বিনোদন ও মানসিক খোরাক প্রদান: নাটক, সিনেমা, সংগীত ও খেলাধুলার সম্প্রচারের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি দান (যদিও অনেক ক্ষেত্রে তা অপসংস্কৃতিতে রূপ নেয়)।
  4. সরকার ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: দুর্নীতি, অনিয়ম ও সামাজিক অবিচার মিডিয়ায় তুলে ধরে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

জনমত ও চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করার পদ্ধতিসমূহ

  • এজেন্ডা নির্ধারণ (Agenda Setting): মিডিয়া ঠিক করে দেয় মানুষ কোন বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে। যেকোনো ছোট ঘটনাকে বারবার প্রচার করে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে চেপে যাওয়া মিডিয়ার ক্ষমতা।
  • মাইন্ড ফ্রেইমিং ও ব্রেনওয়াশিং (Framing & Perception Shaping): একই ঘটনাকে শব্দের কারসাজিতে ভিন্ন রঙে উপস্থাপন করা। যেমন: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের ‘সন্ত্রাসী’ আর আগ্রাসনকারী ইসরাইলকে ‘আত্মরক্ষাকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করা।
  • সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন ও পশ্চিমা জীবনাচরণ চাপিয়ে দেওয়া: সিনেমা ও নাটকের মাধ্যমে পশ্চিমা নগ্নতা, ভোগবাদ ও সেক্যুলার মূল্যবোধকে প্রগতিশীল ফ্যাশন হিসেবে দেখিয়ে যুবসমাজকে স্বীয় ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত করা।
  • রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভোট প্রভাবিতকরণ: কৃত্রিম জরিপ, উদ্দেশ্যমূলক টকশো ও পেইড প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্বে জনমতকে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে ঘুরিয়ে দেওয়া।

উপসংহার

মিডিয়া একটি দ্বিধারী তলোয়ারের মতো। মুসলিম উম্মাহর উচিত নিজস্ব শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মানের তথ্যমাধ্যম গড়ে তুলে ইসলামের সঠিক রূপরেখা ও মানবাধিকার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।


٦- ما هي المنظومة الصهيونية؟ اذكر العقائد والممارسات التي تميزها-

[৬. জায়নবাদী ব্যবস্থা কী? এদের স্বতন্ত্র আক্বীদা ও কার্যক্রমগুলো আলোচনা কর।]

ভূমিকা

জায়নবাদ (Zionism / الصهيونية) হলো সমকালীন ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক উগ্রবাদী, বর্ণবাদী ও উপনিবেশবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে থিওডর হার্জেল (Theodor Herzl)-এর নেতৃত্বে এই আন্দোলনের সূচনা হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র ‘ইসরাইল’ প্রতিষ্ঠা।

জায়নবাদী ব্যবস্থার পরিচয়

জেরুজালেমের নিকটে অবস্থিত ‘জায়ন’ (Mount Zion) পাহাড়ের নামানুসারে এই আন্দোলনের নামকরণ হয়েছে। এটি একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী ও রাজনৈতিক মতবাদ, যার উদ্দেশ্য হলো সারা বিশ্বের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের একত্রিত করে ফিলিস্তিনের বুক চিরে একটি স্বতন্ত্র বর্ণবাদী ইহুদি রাষ্ট্র কায়েম করা এবং মসজিদুল আকসা ধ্বংস করে সেখানে তৃতীয় হাইকালে সুলাইমানি (Solomon’s Temple) পুনর্নির্মাণ করা।

জায়নবাদের স্বতন্ত্র ভ্রান্ত আকিদা ও বিশ্বাসসমূহ (العقائد الصهيونية)

  1. আল্লাহর মনোনীত শ্রেষ্ঠ জাতি (شعب الله المختار): তারা বিশ্বাস করে ইহুদিরাই হলো আল্লাহর একমাত্র প্রিয় ও শ্রেষ্ঠ জাতি, আর বাকি সমগ্র মানবজাতি তাদের দাসত্ব করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে।
  2. প্রতিশ্রুত ভূমির বিশ্বাস (أرض الميعাদ): তারা তাওরাতের বিকৃত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দাবি করে নীল নদ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত সমগ্র ভূখণ্ড ঈশ্বর আব্রাহাম ও তাঁর ইহুদি বংশধরদের দান করেছেন (বৃহত্তর ইসরাইল বা Greater Israel-এর রূপরেখা)।
  3. মসজিদুল আকসা ধ্বংস ও হাইকাল নির্মাণ: তারা বিশ্বাস করে দাউদ ও সুলাইমান (আ.)-এর প্রাচীন মন্দির পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত তাদের ত্রাণকর্তা (মসিহ) আগমন করবেন না।

জায়নবাদের নির্মম কার্যক্রম ও বৈশিষ্ট্যসমূহ (الممارسات الصهيونية)

  • জাতিগত নিধন ও গণহত্যা (التطهير العرقي والمجازر): ১৯৪৮ সালের দেইর ইয়াসিন গণহত্যা থেকে শুরু করে ২০২৩-২০২৪ সালের গাজায় ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ জায়নবাদের মূল চরিত্র।
  • জোরপূর্বক ভূমি দখল ও অবৈধ বসতি স্থাপন: ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা কট্টর ইহুদিদের জন্য বসতি নির্মাণ।
  • বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ: আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, পশ্চিমা পরাশক্তিগুলোর আইনসভা (যেমন আমেরিকার AIPAC লবি) এবং মিডিয়া সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের পক্ষে রাখা।

مجموعة (ب) [বিভাগ ‘খ’ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী]

মান: ৫ × ৪ = ২০

٧- عرف القومية- ثم بين تأثيرها على المجتمعات-

[৭. জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর সমাজে এর প্রভাব বর্ণনা কর।]

উত্তর

জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা (مفهوم القومية):
ভাষাগত, ভৌগোলিক, রক্তগত বা জাতিগত ঐক্যের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে গভীর আত্মীয়তাবোধ ও আত্মপরিচয় গড়ে ওঠে এবং যার ফলে তারা নিজেদেরকে অন্যান্য জাতি থেকে শ্রেষ্ঠ বা স্বতন্ত্র মনে করে রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, তাকে জাতীয়তাবাদ (Nationalism) বলে।

সমাজে জাতীয়তাবাদের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:

  • উগ্র অহমিকা ও যুদ্ধবিগ্রহ: উগ্র জাতীয়তাবাদের কারণেই মানবজাতি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেছে। হিটলার ও মুসোলিনির ফ্যাসিবাদের মূল ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ।
  • ইসলামি উম্মাহর ঐক্য ধ্বংস: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি খিলাফতের পতনে আরব জাতীয়তাবাদকে ব্রিটিশরা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে মুসলিম বিশ্বকে ৫০টির বেশি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত করে দিয়েছিল।
  • বর্ণবাদ ও বৈষম্য সৃষ্টি: নিজ জাতির বাইরে অন্য জাতিকে নিকৃষ্ট মনে করার ফলে অভিবাসী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বৃদ্ধি পায়।
  • ইসলামের অবস্থান: ইসলাম রক্তের সম্পর্ক নয়, বরং কালিমার ভ্রাতৃত্ব (الأخوة الإسلامية)-কে একমাত্র ঐক্যের ভিত্তি মনে করে। রাসূল (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি জাতীয়তাবাদের দিকে ডাকে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (সুনানে আবু দাউদ)

٨- ما هي مفهوم العلمانية؟ بين موقف الإسلام منها موجزاً-

[৮. ধর্মনিরপেক্ষতার মর্মার্থ কী? এ ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান কী? সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।]

উত্তর

ধর্মনিরপেক্ষতার মর্মার্থ (العلمانية – Secularism):
ইংরেজি ‘Secularism’ শব্দের আরবি হলো ‘আল-ইলমানিয়্যাহ’। এটি ল্যাটিন ‘Saeculum’ থেকে এসেছে যার অর্থ ইহজগত বা বস্তুগত যুগ। পরিভাষায়—রাষ্ট্র পরিচালনা, আইন প্রণয়ন, রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতি থেকে ধর্মকে সম্পূর্ণ পৃথক করে কেবল পার্থিব জ্ঞানের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনার মতবাদই হলো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। এর মূল স্লোগান: “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” বা “গির্জার দায়িত্ব পোপের, আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব রাজার”।

ইসলামের সুদৃঢ় অবস্থান:
ইসলাম একটি সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা (Comprehensive Code of Life)। ইসলামে ব্যক্তিগত ইবাদত, দেওয়ানি-ফৌজদারি আইন, রাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অবিভাজ্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২০৮)
ধর্মকে রাষ্ট্র ও আইন থেকে বিচ্ছিন্ন করা আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার নামান্তর। তাই ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে একটি সুস্পষ্ট কুফরি মতবাদ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।


٩- ما هي اهداف حركة تحرير المرأة؟

[৯. নারীমুক্তি আন্দোলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী?]

উত্তর

ইউরোপে শিল্পবিপ্লবের পর নারীদের অধিকার আদায়ের নামে ‘নারীমুক্তি আন্দোলন’ (Feminism / Women’s Liberation Movement) শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি চরম রূপ ধারণ করে পরিবারের ভিত্তি ধ্বংসের হাতিয়ারে পরিণত হয়। এর প্রধান লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসমূহ হলো:

  1. পুরুষের ওপর নারীর পূর্ণ স্বাধীনতা ও সমতা: প্রকৃতিগত ও জৈবিক ভিন্নতাকে অস্বীকার করে সকল ক্ষেত্রে অন্ধ ৫০-৫০ সমতা দাবি করা।
  2. ঐতিহ্যবাহী পরিবারব্যবস্থা বিলোপ: পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ও মাতৃত্বের দায়িত্বকে নারীদের বন্দিত্ব মনে করে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও লিভ-ইন সম্পর্কের বৈধতা দাবি।
  3. ইসলামি হিজাব ও শালীনতার বিরোধিতা: পর্দার বিধানকে প্রগতির অন্তরায় হিসেবে উপস্থাপন করা এবং নিজের দেহের ওপর পূর্ণ অধিকারের নামে খোলামেলা চলাফেরা ও গর্ভপাতের অবাধ অধিকার দাবি।
  4. শ্রমিক হিসেবে পুঁজিবাদী শোষণ: কর্পোরেট জগতে সস্তা শ্রম ও বিজ্ঞাপনের পণ্য হিসেবে নারীদের ঘরের বাইরে নিয়ে আসা।

উল্লেখ্য, ইসলাম নারীকে ১৪০০ বছর পূর্বেই মর্যাদা, সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার ও মৌলিক অধিকার দান করেছে, যা কোনো চরমপন্থী আন্দোলনের মুখাপেক্ষী নয়।


١٠- ما هو دور الصهيونية في الصراع بين اليهود والمسلمين؟

[১০. ইহুদি ও মুসলমানদের মধ্যে সংঘাতে জায়নবাদের ভূমিকা কী?]

উত্তর

ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বে ইহুদিরা দীর্ঘ শত শত বছর ধরে অত্যন্ত শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে বসবাস করেছিল (স্পেন, অটোমান সাম্রাজ্য ও বাগদাদে)। কিন্তু আধুনিক জায়নবাদের উত্থান এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে এক রক্তাক্ত চিরন্তন সংঘাতে রূপান্তর করেছে:

  • রাজনৈতিক আগ্রাসন ও ফিলিস্তিন জবরদখল: জায়নবাদ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে কলোনিয়াল সন্ত্রাসী শক্তিতে পরিণত করে ফিলিস্তিনের মুসলিমদের বাস্তুচ্যুত করেছে।
  • পবিত্র আল-আকসা অবমাননা: মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা দখল ও সেখানে প্রতিনিয়ত মুসল্লিদের ওপর হামলা মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
  • সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিশ্বায়ন: জায়নবাদী লবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্বজুড়ে মুসলিমবিরোধী মনোভাব তীব্রতর করেছে।
  • যুদ্ধের বিস্তার: মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে জায়নবাদী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্র কাজ করে।

١١- عرف الاستشراق والمستشرق موجزاً-

[১১. সংক্ষেপে প্রাচ্যবাদ ও প্রাচ্যবিদের পরিচয় দাও।]

উত্তর

১. প্রাচ্যবাদ (الاستشراق – Orientalism):
পাশ্চাত্য খ্রিষ্টান ও ইহুদি পণ্ডিতদের দ্বারা প্রাচ্যের ভাষা, ধর্ম, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সাহিত্য (বিশেষ করে ইসলাম ও আরবি ভাষা) নিয়ে পরিচালিত নিয়মতান্ত্রিক গবেষণাকে প্রাচ্যবাদ বা ওরিয়েন্টালিজম বলা হয়। ক্রুসেডের পরাজয়ের পর মুসলিম উম্মাহকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দুর্বল করা এবং মুসলিম বিশ্বে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করার গোপন উদ্দেশ্যে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

২. প্রাচ্যবিদ (المستشرق – Orientalist):
যেসব অমুসলিম পশ্চিমা গবেষক, ভাষাবিদ ও পণ্ডিত ব্যক্তি প্রাচ্য ও ইসলামি বিষয়াবলি নিয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেন, তাঁদের প্রাচ্যবিদ বলা হয়। যেমন: ইগনাজ গোল্ডজিহার, জোসেফ শাখট, উইলিয়াম মুর প্রমুখ। তাঁদের গবেষণার প্রধান লক্ষ্য ছিল হাদিস ও কুরআনের প্রামাণিকতা নিয়ে মুসলিমদের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া।


١٢- ما هي الماسونية والليونز؟ اكتب مختصراً-

[১২. ‘ফ্রিম্যাসনারি’ ও লায়ন্স কী? সংক্ষেপে লেখ।]

উত্তর

১. ফ্রিম্যাসনারি (الماسونية – Freemasonry):
ফ্রিম্যাসনারি হলো একটি অত্যন্ত গোপনীয়, বিপজ্জনক ও ইহুদি নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রমূলক সংস্থা। এর বাহ্যিক স্লোগান হলো “স্বাধীনতা, সমতা ও মানবকল্যাণ”, কিন্তু এর অন্তর্নিহিত আসল উদ্দেশ্য হলো সকল ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে জায়নবাদের সেবা করা এবং বৈশ্বিক একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এটি গোপন সাংকেতিক ভাষা, দীক্ষা ও ডিগ্রির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

২. লায়ন্স ক্লাব (أندية الليونز – Lions Club):
১৯১৭ সালে আমেরিকায় মেলভিন জোন্স কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত লায়ন্স ক্লাব হলো মূলত ফ্রিম্যাসনারির একটি প্রকাশ্য মুখপত্র ও সামাজিক শাখা। বাহ্যিকভাবে এরা বিনামূল্যে চক্ষু শিবির, সমাজসেবা ও শিক্ষাবৃত্তির কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু এর মূল লক্ষ্য হলো সমাজের বিত্তশালী ও বুদ্ধিজীবী উচ্চবিত্ত মুসলমানদের সদস্য বানিয়ে তাদের ভেতর থেকে ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবোধ বিলুপ্ত করা এবং তাদের জায়নবাদী বৈশ্বিক দর্শনের অনুগামী করে তোলা।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. সমকালীন চিন্তাধারা পাঠের সবচেয়ে বড় সুফল কী?

এর সবচেয়ে বড় সুফল হলো আধুনিক যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রাচ্যবাদ, সেক্যুলারিজম ও নাস্তিক্যবাদের মতো ভ্রান্ত মতবাদের অন্তঃসারশূন্যতা জেনে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রমাণ করা যায়।

২. ইসলাম ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে প্রধান মৌলিক পার্থক্য কী?

সমাজতন্ত্র হলো নাস্তিক্যবাদী দর্শন যা ব্যক্তিগত মালিকানা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে; আর ইসলাম ব্যক্তিগত মালিকানাকে স্বীকার করে তবে যাকাত, সাদাকাহ ও সুদমুক্ত নীতির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।

৩. পুঁজিবাদী অর্থনীতি কেন ইসলামে অগ্রহণযোগ্য?

কারণ পুঁজিবাদী অর্থনীতির ভিত্তি হলো সুদ, জুয়া, সীমাহীন ব্যক্তিগত মুনাফা এবং শোষণ; যা সমাজে চরম ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য তৈরি করে।

৪. ইসলাম ও পশ্চিমা গণতন্ত্রের মধ্যে আইন প্রণয়নের পার্থক্য কী?

গণতন্ত্রে আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ওপর ন্যস্ত; পক্ষান্তরে ইসলামে আইন প্রণয়নের সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ (কুরআন ও সুন্নাহ)।

৫. জায়নবাদ কি কেবল একটি ধর্মীয় আন্দোলন?

না, জায়নবাদ মূলত একটি উগ্র বর্ণবাদী ও উপনিবেশবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন, যা ফিলিস্তিন দখল ও বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে।

৬. ফাজিল ৪র্থ বর্ষের সমকালীন চিন্তাধারা বিষয়ে কীভাবে চমৎকার ফলাফল করা যায়?

প্রতিটি পাশ্চাত্য মতবাদের উৎপত্তি, ইতিহাস, তাত্ত্বিক দর্শন উল্লেখপূর্বক সেগুলোর বিপরীতে কুরআন ও সুন্নাহর ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান তুলনামূলক ছক ও স্পষ্ট পয়েন্ট আকারে তুলে ধরলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *