জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

দিরাসাতুল হাদীস (Dirasatul Hadith) – 201304, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬২ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۳ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة الحديث النبوي
[দিরাসাতুল হাদীস]
বিষয় কোড: ২০১৩০৪ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: اجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٤ × ٥ = ٧٠
(ترجم الأحاديث الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)

١- عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ! كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ، وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ، فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِيَ الْمَلَكُ رَجُلًا فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ، قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ، فَيُفْصَمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا –

[১. উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, হযরত হারিছ ইবনে হিশাম (রা.) রাসূলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওহি কীভাবে আসে? রাসূলুল্লাহ (স.) বললেন: কখনো কখনো ওহি আমার নিকট ঘণ্টার অবিরাম টুংটাং শব্দের মতো আসে, আর এটি আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টদায়ক হয়; অতঃপর যখন তা সমাপ্ত হয় তখন তিনি যা বলেছেন আমি তা পরিপূর্ণভাবে মুখস্থ ও আত্মস্থ করে ফেলি। আর কখনো কখনো ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধারণ করে আমার সামনে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা ধারণ করে নেই। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন: আমি তীব্র শীতের দিনেও তাঁর ওপর ওহি অবতীর্ণ হতে দেখেছি; ওহি সমাপ্ত হলে তাঁর কপাল থেকে টপ টপ করে ঘাম ঝরে পড়ত।]

(أ) مَا مَعْنَى الْوَحْيِ لُغَةً وَشَرْعًا؟ بَيِّنْ أَقْسَامَ الْوَحْيِ مُفَصَّلًا –

[(ক) ওহির শাব্দিক ও শরয়ী অর্থ কী? ওহির প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ওহি হলো নবুওয়ত ও রিসালাতের মূল ভিত্তি। মহান আল্লাহ বিশ্বমানবতার হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে ওহির মাধ্যমেই আসমানী কিতাব ও শরিয়ত অবতীর্ণ করেছেন।

ওহির শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ

শাব্দিক অর্থ: ‘ওহি’ (الوحي) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দ্রুত ও গোপনে ইশারা বা সংকেত দেওয়া, ইলহাম করা, অন্তরে গোপনে কোনো ভাব বা কথা জাগ্রত করে দেওয়া।

পারিভাষিক অর্থ: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, “আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর কোনো মনোনীত নবী ও রাসূলের ওপর শরিয়তের কোনো আদেশ-নিষেধ বা হেদায়াত বাণীকে অলৌকিক ও নিশ্চিতভাবে প্রেরণ করাকে ওহি বলা হয়।”

ওহির প্রকারভেদ

  1. ওহি মাতলূ (الوحي المتلو): যে ওহির শব্দ ও অর্থ উভয়টিই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং যা নিয়মিত তিলাওয়াত করা হয় ও নামাজে পাঠ করা ফরজ; অর্থাৎ পবিত্র কুরআনুল কারীম।
  2. ওহি গায়রে মাতলূ (الوحي غير المتلو): যে ওহির মর্ম ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কিন্তু ভাষা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর নিজস্ব এবং যা নামাজে তিলাওয়াত করা হয় না; অর্থাৎ পবিত্র হাদিস শরিফ।

(ب) مَاذَا تَعْرِفُ عَنْ كَيْفِيَّاتِ نُزُولِ الْوَحْيِ؟ بَيِّنْ مُمَثَّلًا –

[(খ) ওহি নাযিল হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে কী জানো? উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

ওহি নাজিল হওয়ার প্রধান পদ্ধতিসমূহ

  1. ঘণ্টাধ্বনির ন্যায় আসা (مثل صلصلة الجرس): ওহি আসার সময় এক প্রচণ্ড ঝনঝনানি বা গম্ভীর ঘণ্টার মতো আওয়াজ হতো। এটি ছিল রাসূল (স.)-এর জন্য সবচেয়ে কঠিন ও শারীরিক কষ্টের সময়। এর প্রভাবে প্রচণ্ড শীতেও তিনি ঘর্মাক্ত হতেন এবং উটের ওপর উপবিষ্ট থাকলে উটটি মাটির সাথে মিশে যেত।
  2. মানুষের আকৃতিতে ফেরেশতার আগমন: হযরত জিবরীল (আ.) মানুষের রূপ ধরে আসতেন। অধিকাংশ সময় তিনি বিশিষ্ট সাহাবী হযরত দিহইয়াতুল কালবী (রা.)-এর সুরতে আসতেন। কখনো অপরিচিত মুসাফিরের বেশে আসতেন (যেমন হাদীসে জিবরীলের ঘটনা)।
  3. স্বপ্নের মাধ্যমে ওহি (الرؤيا الصالحة): নবুওয়তের সূচনালগ্নে রাসূল (স.) যা স্বপ্নে দেখতেন সকালে তা ভোরের আলোর মতো সত্য প্রমাণিত হতো।
  4. সরাসরি অন্তরে ভাব প্রক্ষেপণ (النفث في الروع): রাসূল (স.) ইরশাদ করেন: “জিবরীল আমার অন্তরে ফুঁকে দিয়েছেন যে কোনো প্রাণী তার রিজিক পূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না।”
  5. জিবরীল (আ.)-এর আসল আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ: সমগ্র দিগন্ত বিস্তৃত ছয়শত ডানা বিশিষ্ট আসল রূপে জিবরীল (আ.)-কে রাসূল (স.) জীবনে দুইবার প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
  6. পর্দার অন্তরাল থেকে সরাসরি বাক্যালাপ: মেরাজের রাতে কোনো ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহ তাআলা রাসূল (স.)-কে সরাসরি সম্বোধন করেছিলেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান দিয়েছিলেন।

٢- عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ قَالَ : سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَخْطُبُ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَاللَّهُ يُعْطِي، وَلَنْ يَزَالَ أَمْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ مُسْتَقِيمًا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، أَوْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ –

[২. ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, হুমাইদ আমাকে জানিয়েছেন: আমি হযরত মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.)-কে খুতবা দিতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী করীম (স.)-কে বলতে শুনেছি: যার প্রতি আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন। আর নিশ্চয় আমি কেবল বণ্টনকারী এবং প্রকৃত দাতা হলেন আল্লাহ। আর এই উম্মতের বিষযাবলী সর্বদা সত্যের ওপর সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত থাকবে কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত, অথবা আল্লাহর চূড়ান্ত নির্দেশ আসা পর্যন্ত।]

(أ) عَرِّفِ الْعِلْمَ لُغَةً وَشَرْعًا، ثُمَّ بَيِّنْ أَقْسَامَ الْعِلْمِ بِالْإِيجَازِ –

[(ক) ইলম-এর শাব্দিক ও শরয়ী অর্থ কী? অতঃপর ইলমের প্রকারভেদ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

ইলমের সংজ্ঞা

শাব্দিক অর্থ: ‘ইলম’ (العلم) অর্থ জানা, উপলব্ধি করা, স্পষ্ট হওয়া। অজ্ঞতা বা জাহালাতের বিপরীত অবস্থাকে ইলম বলে।

শরয়ী সংজ্ঞা: ইসলামি শরিয়তে ইলম হলো—”পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে আল্লাহ তাআলার মারেফত, তাঁর আদেশ-নিষেধ এবং পরলৌকিক মুক্তির সঠিক জ্ঞান অর্জন করা।”

ইলমের প্রকারভেদ

  1. ফরযে আইন (فرض عين): যে পরিমাণ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরজ। যেমন: ঈমান-আকিদার বুনিয়াদী জ্ঞান, পবিত্রতা, নামাজ, রোজার নিয়ম ইত্যাদি।
  2. ফরযে কিফায়াহ (فرض كفاية): শরিয়তের গভীর গবেষণা, ফতোয়া প্রদান, উসূলে দ্বীন এবং মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাবিদ্যা, গণিত ইত্যাদি ইলম সমাজের কিছু লোক অর্জন করলে বাকিরা দায়মুক্ত হয়।
  3. মুস্তাহাব ও মুবাহ: বিভিন্ন কল্যাণকর ব্যবহারিক জ্ঞান।
  4. হারাম ইলম: জাদুবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং পথভ্রষ্টকারী দর্শনের জ্ঞান।

(ب) اشْرَحْ قَوْلَهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ : “مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ” –

[(খ) রাসূল (স.)-এর বাণী: “যার প্রতি আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন”—ব্যাখ্যা কর।]

ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য

  • ‘তাফাক্কুহ ফিদ দ্বীন’ (الْفِقْهُ فِي الدِّينِ)-এর অর্থ: ফিকহ কেবল সাধারণ জ্ঞান নয়, বরং কোনো বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করে তার সূক্ষ্ম তাৎপর্য, হিকমত ও কার্যকারণ অনুধাবন করা। দ্বীনের বিধিবিধানের অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা অনুধাবন করাই হলো ফিকহ।
  • আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের মাপকাঠি: পার্থিব ধনসম্পদ, ক্ষমতা বা সামাজিক প্রতিপত্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির মাপকাঠি নয়; কারণ তিনি এগুলো মুমিন ও কাফের উভয়কেই দেন। কিন্তু খাঁটি দ্বীনি ইলম ও প্রজ্ঞা আল্লাহ কেবল তাঁর মনোনীত প্রিয় বান্দাদেরই দান করেন।
  • মাফহূমে মুখালাফ (বিপরীত ভাবার্থ): যে ব্যক্তি দ্বীনের ইলম অন্বেষণ করে না এবং ইসলামের হালাল-হারাম সম্পর্কে উদাসীন থাকে, আল্লাহ তার জন্য কোনো কল্যাণ ও মঙ্গলের ইচ্ছা করেননি—যা এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা।

٣- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، قَالَ : تَعْبُدُ اللَّهَ لَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ – قَالَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا، فَلَمَّا وَلَّى، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا –

[৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন নবী করীম (স.)-এর নিকট এসে আরজ করল: আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যা সম্পাদন করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরজ নামাজ আদায় করবে, নির্ধারিত যাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের রোজা পালন করবে। সে বলল: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি এর চেয়ে কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না (কোনো নফল করব না)। অতঃপর সে যখন চলে গেল, তখন নবী করীম (স.) বললেন: যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতী ব্যক্তিকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই লোকটিকে দেখে।]

(أ) مَا الْإِيمَانُ؟ وَمَا الْفَرْقُ بَيْنَ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ؟ بَيِّنْ –

[(ক) ঈমান কী? ঈমান ও ইসলামের মাঝে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]

ঈমানের সংজ্ঞা

শাব্দিক অর্থ: সত্যায়ন করা (التصديق) ও মনেপ্রাণে বিশ্বাস স্থাপন করা।

শরয়ী সংজ্ঞা: অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস, মুখে মৌখিক স্বীকৃতি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা।

ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার পার্থক্য

  • ইসলাম: মূলত মানুষের বাহ্যিক আত্মসমর্পণ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আনুগত্য ও দৃশ্যমান আমল (যেমন নামাজ, রোজা, হজ)।
  • ঈমান: মূলত অন্তরের বিশ্বাস, আন্তরিক প্রত্যয় ও গোপনীয় নিষ্ঠা (যেমন আল্লাহ, পরকাল ও তকদীরের ওপর বিশ্বাস)।
  • উভয়ের সমন্বিত রূপ: মুহাদ্দিসীনগণ বলেন—”যখন এ দুটি পরিভাষা আলাদাভাবে উল্লেখিত হয় তখন একটি অপরটির অন্তর্ভুক্ত থাকে; আর যখন একসাথে উল্লেখিত হয় তখন ইসলাম অর্থ বাহ্যিক আমল এবং ঈমান অর্থ আন্তরিক বিশ্বাস।”

(ب) اكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ سِيرَةِ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ –

[(খ) হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]

হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর জীবনী

  • নাম ও উপাধি: ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নাম ছিল আবদুশ শামস। ইসলাম গ্রহণের পর রাসূল (স.) তাঁর নাম রাখেন আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। বিড়ালের ছানার প্রতি অতিরিক্ত স্নেহের কারণে রাসূল (স.) পরম স্নেহে তাঁকে ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়ালছানার পিতা) উপাধিতে ভূষিত করেন।
  • ইসলাম গ্রহণ ও আসহাবুস্ সুফফাহ: হিজরী ৭ম সনে খায়বার বিজয়ের বছর তিনি ইয়ামেন থেকে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি মসজিদের নববীর ‘সুফফাহ’ চত্বরে দারিদ্র্য বরণ করে দিনরাত রাসূল (স.)-এর সান্নিধ্যে অবস্থান করতেন।
  • সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী: সাহাবাদের মধ্যে তিনি সর্বাধিক ৫,৩৭৪টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসূল (স.) তাঁর জন্য স্মৃতিশক্তির বিশেষ দোয়া করেছিলেন, ফলে তিনি কখনো কোনো হাদীস বিস্মৃত হতেন না।
  • ইনতিকাল: হিজরী ৫৯ সনে মদীনা মুনাওয়ারায় ৭৮ বছর বয়সে তিনি ইনতিকাল করেন।

٤- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا كَانَتْ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ، وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ، وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ، وَيُنَادِي مُنَادٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ، وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ –

[৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন: যখন রমজান মাসের প্রথম রাত উপস্থিত হয়, তখন শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শিকলবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর একটি দরজাও খোলা রাখা হয় না, এবং জান্নাতের সমস্ত দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং এর একটি দরজাও বন্ধ রাখা হয় না। আর একজন ঘোষণাকারী আহ্বান করতে থাকেন: হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও; আর হে অকল্যাণ ও পাপাচারের অন্বেষী! থেমে যাও। আর জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দেওয়া আল্লাহর দায়িত্ব এবং তা প্রতিটি রাতেই সম্পন্ন হয়।]

(أ) عَرِّفِ الصَّوْمَ ثُمَّ بَيِّنْ أَهَمِّيَّةَ الصَّوْمِ فِي الشَّرِيعَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ –

[(ক) সাওম (রোজার) পরিচয় দাও। অতঃপর ইসলামি শরিয়তে রোজার গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

সাওমের সংজ্ঞা

শাব্দিক অর্থ: বিরত থাকা (الإمساك)।

শরয়ী সংজ্ঞা: আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌন মিলন ও সমস্ত গুনাহ থেকে আত্মসংযমী থাকাকে সাওম বলে।

রোজার ধর্মীয় ও আত্মিক গুরুত্ব

  1. তাকওয়া অর্জন: কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে: لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ — যাতে তোমরা মুত্তাকী ও পরহেজগার হতে পারো।
  2. আল্লাহর নিজস্ব পুরস্কার: হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ ইরশাদ করেন: الصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ — “রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”
  3. আত্মশুদ্ধি ও সহমর্মিতা: ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধির মাধ্যমে ধনীদের অন্তরে দরিদ্রের প্রতি দানশীলতা ও সহানুভূতি জাগ্রত হয়।

(ب) حَقِّقِ الْكَلِمَاتِ الْآتِيَةِ : غُلِّقَتْ، بَاغِيَ، لَيْلَةٌ، لَمْ يُغْلَقْ –

[(খ) নিম্নোক্ত শব্দগুলোর তাহকীক কর: غُلِّقَتْ، بَاغِيَ، لَيْلَةٌ، لَمْ يُغْلَقْ]

শব্দ বিশ্লেষণ ও তাহকীক

শব্দ সীগাহ ও বাহাস বাব ও মূলধাতু অর্থ
غُلِّقَتْ واحد مؤنث غائب، فعل ماض مجهول التفعيل (غ – ل – ق) দৃঢ়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো
بَاغِيَ واحد مذكر، اسم فاعل (منصوب بالنداء) الضرب (ب – غ – ي) অন্বেষণকারী / সন্ধানী
لَيْلَةٌ اسم ذات / اسم زمان (مفرد مؤنث) (ل – ي – ل) এক রাত
لَمْ يُغْلَقْ واحد مذكر غائب، نفي جحد بلم مجهول الإفعال (غ – ل – ق) বন্ধ করা হয়নি

٥- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ الْمُغَفَّلِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ، ثُمَّ قَالَ : مَا لَهُمْ وَ لِلْكِلَابِ؟ رَخَّصَ فِي كَلْبِ الصَّيْدِ وَكَلْبِ الْغَنَمِ وَقَالَ : إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الْإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ فِي التُّرَابِ –

[৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স.) কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর বললেন: লোকদের সাথে কুকুরের কী সম্পর্ক? অতঃপর তিনি শিকারী কুকুর ও পশুপালের পাহারাদার কুকুর পালনের অনুমতি দিলেন এবং বললেন: কুকুর যদি পাত্রে মুখ দেয়, তবে তোমরা তা সাতবার ধৌত করবে এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে মেজে নেবে।]

(أ) كَيْفَ يُطَهَّرُ الْإِنَاءُ إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِيهِ؟ بَيِّنِ اخْتِلَافَ الْعُلَمَاءِ فِيهِ –

[(ক) কুকুর পাত্রে মুখ দিলে তা কীভাবে পবিত্র করবে? এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ বর্ণনা কর।]

আলেমগণের ফিকহী মতভেদ

  1. ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদ (রহ.): কুকুর পাত্রে মুখ দিলে তা পবিত্র করার জন্য পানি দিয়ে মোট সাতবার ধৌত করা ফরজ এবং এর মধ্যে অন্তত একবার বিশুদ্ধ মাটি দিয়ে ঘষা বাধ্যতামূলক। মাটি ছাড়া কেবল পানিতে পবিত্রতা অর্জিত হবে না।
  2. ইমাম আবু হানিফা (রহ.): অন্যান্য নাপাকির মতো তিনবার উত্তমরূপে ধৌত করলেই পাত্রটি পবিত্র হয়ে যাবে। তবে হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী সাতবার ও মাটি দিয়ে ধৌত করা মুস্তাহাব ও উত্তম।
  3. ইমাম মালেক (রহ.): তাঁর মতে কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র নাপাক হওয়ার কারণে নয় বরং এটি একটি তাওক্বীফী ইবাদত হিসেবে সাতবার ধৌত করা বিধিবদ্ধ।

(ب) عَرِّفِ الْكَلْبَ الْمُعَلَّمَ وَمَا هِيَ شُرُوطُ الْكَلْبِ الْمُعَلَّمِ؟ هَلْ يَجُوزُ قَتْلُ الْكِلَابِ؟

[(খ) প্রশিক্ষিত কুকুরের পরিচয় দাও এবং এর শর্তগুলো কী? কুকুর হত্যা করা কি জায়েজ?]

আল-কালবুল মু’আল্লাম (প্রশিক্ষিত কুকুর)-এর সংজ্ঞা ও শর্ত

সংজ্ঞা: যে শিকারী কুকুরকে শিকারের শরিয়তসম্মত নিয়মাবলিতে অভ্যস্ত ও সুশিক্ষিত করা হয়েছে, তাকে প্রশিক্ষিত কুকুর বলা হয়।

শর্তাবলি:

  • মালিক শিকারের জন্য নির্দেশ বা প্রেরণ করলেই সে ছুটবে।
  • মালিক তাকে নিবৃত্ত বা থামতে বললে সে সাথে সাথে থেমে যাবে।
  • শিকার করা পশুর মাংস সে নিজে খাবে না, বরং অক্ষত অবস্থায় মালিকের জন্য সংরক্ষণ করবে।
  • প্রেরণের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পাঠাতে হবে।

কুকুর হত্যার বিধান

ইসলামের প্রাথমিক যুগে পাগলা ও ক্ষতিকর কুকুরের প্রাদুর্ভাবের কারণে হত্যার নির্দেশ ছিল। পরবর্তীতে তা রহিত করা হয়। বর্তমান শরিয়ত মোতাবেক পাগলা, বিষাক্ত ও আক্রমণকারী ক্ষতিকর কুকুর ছাড়া অহেতুক কোনো কুকুর হত্যা করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও নিষিদ্ধ


٦- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلَاةٍ –

[৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন: আমি যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রতি নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করার হুকুম দিতাম (ফরজ করে দিতাম)।]

(أ) مَا مَعْنَى السِّوَاكِ؟ وَمَا هِيَ الْأَحْوَالُ الَّتِي يُسْتَحَبُّ فِيهَا السِّوَاكُ؟ بَيِّنْ بِالْإِيجَازِ –

[(ক) মিসওয়াকের অর্থ কী? এবং মিসওয়াক করার মুস্তাহাব অবস্থাসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

মিসওয়াকের পরিচয় ও মুস্তাহাব অবস্থাসমূহ

অর্থ: দাঁত পরিষ্কার করার কাষ্ঠখণ্ড এবং দাঁত মাজার কার্য উভয়কেই মিসওয়াক বলা হয়।

মুস্তাহাব অবস্থাসমূহ: ওযুর সময়, নামাজের প্রাক্কালে, কুরআন তিলাওয়াতের পূর্বে, ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে, মুখ দুর্গন্ধযুক্ত হলে এবং ঘরে প্রবেশের সময় মিসওয়াক করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় সুন্নাত।


(ب) هَلِ السِّوَاكُ سُنَنُ الْوُضُوءِ أَمْ سُنَنُ الصَّلَاةِ؟ بَيِّنْ –

[(খ) মিসওয়াক করা কি ওযুর সুন্নত নাকি নামাজের? এর ফজিলতসমূহ আলোচনা কর।]

ফিকহী পর্যালোচনা ও ফজিলত

  • ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি: হানাফী মাজহাব অনুযায়ী মিসওয়াক করা মূলত ওযুর সুন্নাত। তবে নামাজের পূর্বে মুখে দুর্গন্ধ দূর করতে পুনরায় মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর মতে এটি নামাজের একটি স্বতন্ত্র সুন্নাত।
  • ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন: السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ — “মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা অর্জন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রধান মাধ্যম।” (সহীহ বুখারী)। অপর হাদীসে বর্ণিত, মিসওয়াকযুক্ত ওযু দ্বারা আদায়কৃত নামাজের সওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি পায়।

٧- عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيِّ يَقُولُ : سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ –

[৭. হযরত আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়ছী বলেন: আমি হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (স.)-কে বলতে শুনেছি: নিশ্চয় সকল আমলের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রতিটি ব্যক্তি কেবল তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। অতএব যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।]

(أ) بَيِّنْ سَبَبَ الْوُرُودِ لِهَذَا الْحَدِيثِ –

[(ক) এই হাদীসের শানে উরূদ (আগমনের কারণ) বর্ণনা কর।]

শানে উরূদ (سبب الورود)

ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, মক্কা থেকে মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরতের সময় উম্মে কায়েস নাম্নী এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম নারী হিজরত করেছিলেন। মক্কার এক ব্যক্তি তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তিনি শর্ত দেন যে, মদীনায় হিজরত না করলে তিনি বিবাহ করবেন না। তখন ওই ব্যক্তি একমাত্র উম্মে কায়েসকে বিবাহের নিয়তে মদীনায় হিজরত করেন। সাহাবীদের মাঝে তিনি ‘মুহাজিরে উম্মে কায়েস’ (উম্মে কায়েসের মুহাজির) নামে পরিচিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেন যে দ্বীনের খাতিরে ব্যতীত ব্যক্তিগত বৈষয়িক স্বার্থে হিজরত করলে সে হিজরতের সাওয়াব পাবে না, কেবল নিয়তকৃত উদ্দেশ্যই হাসিল হবে।


(ب) هَلِ النِّيَّةُ شَرْطٌ لِكُلِّ عَمَلٍ؟ وَمَا الْفَرْقُ بَيْنَ النِّيَّةِ وَالْإِرَادَةِ؟ بَيِّنْ –

[(খ) প্রতিটি কাজের জন্য কি নিয়ত শর্ত? নিয়ত ও ইরাদার মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]

নিয়ত কি প্রতিটি কাজের জন্য শর্ত?

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী ইবাদতসমূহের বিশুদ্ধতা ও সাওয়াবের জন্য নিয়ত অপরিহার্য শর্ত। তবে যে সমস্ত কাজে কোনো নিজস্ব ইবাদতের উদ্দেশ্য নেই বরং মাধ্যম হিসেবে কাজ করে (যেমন নাপাকি পানি দ্বারা ধৌত করে ফেলা), তাতে নিয়ত ছাড়াই বস্তুটি পবিত্র হয়ে যায়, কিন্তু সাওয়াব লাভের জন্য নিয়ত শর্ত।

নিয়ত ও ইরাদার মধ্যকার পার্থক্য

  • ইরাদা (الإرادة): অন্তরের যেকোনো সাধারণ ইচ্ছা বা কামনাকে ইরাদা বলে, চাই তা তাৎক্ষণিক কাজের জন্য হোক বা ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনার জন্য হোক।
  • নিয়ত (النية): কোনো নেক কাজ বা ইবাদতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ও তাৎক্ষণিক সংকল্পকে নিয়ত বলে। নিয়ত ইরাদার চেয়ে অধিক খাস ও সুনির্দিষ্ট।

٨- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ : لَا هِجْرَةَ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا –

[৮. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছিলেন: মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে বাকি রয়েছে জিহাদ ও নিয়ত; আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের জন্য ডাক দেওয়া হবে, তখন তোমরা বের হয়ে পড়বে।]

(أ) اكْتُبْ وَاقِعَةَ فَتْحِ مَكَّةَ بِالْإِيجَازِ –

[(ক) সংক্ষেপে মক্কা বিজয়ের ঘটনা লেখ।]

মক্কা বিজয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তি কুরাইশদের মিত্র বনু বকর কর্তৃক মুসলমানদের মিত্র বনু খুযায়ার ওপর অতর্কিত হামলার মাধ্যমে ভঙ্গ হয়। ফলে হিজরী অষ্টম সনের রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ (স.) দশ হাজার সাহাবীর এক বিশাল সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কুরাইশরা বিনা প্রতিরোধে আত্মসমর্পণ করে। রক্তপাতহীন এই বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (স.) পরম বিনম্রভাবে বিজয়ী বেশে কাবা শরিফে প্রবেশ করে ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করেন এবং ঐতিহাসিক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন: لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ اذْهَبُوا فَأَنْتُمُ الطُّلَقَاءُ (আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত)।


(ب) اكْتُبْ تَعْرِيفَ الْجِهَادِ لُغَةً وَشَرْعًا، ثُمَّ بَيِّنْ أَقْسَامَهُ وَحُكْمَهُ وَمَشْرُوعِيَّتَهُ فِي الْإِسْلَامِ –

[(খ) জিহাদের শাব্দিক ও শরয়ী সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ, হুকুম এবং ইসলামে এর বৈধতার কারণ বর্ণনা কর।]

জিহাদের সংজ্ঞা

শাব্দিক অর্থ: চরম প্রচেষ্টা বা প্রাণান্তকর সাধনা করা (بذل الجهد)।

শরয়ী সংজ্ঞা: আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করা, মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ফিতনা দমনের উদ্দেশ্যে জান-মাল দিয়ে সর্বাত্মক সংগ্রাম করাকে জিহাদ বলে।

প্রকারভেদ ও হুকুম

  • প্রকারভেদ: নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ (জিহাদে আকবর), শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ, লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে জিহাদ এবং সশস্ত্র কিতাল ফী সাবীলিল্লাহ।
  • হুকুম: সাধারণ অবস্থায় ফরযে কিফায়াহ; তবে শত্রুবাহিনী মুসলিম ভূখণ্ড আক্রমণ করলে তা ফরযে আইন (সার্বজনীন বাধ্যতামূলক) হয়ে দাঁড়ায়।
  • বৈধতার হিকমত: ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা, উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা এবং সমাজে শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা।

٩- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ الْمَنَازِلِ وَلِأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ، قَالَ : فَهُنَّ لَهُنَّ وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ مِمَّنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَمَنْ كَانَ دُونَهُنَّ فَمِنْ أَهْلِهِ وَكَذَا فَلِذَلِكَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ يُهِلُّونَ مِنْهَا –

[৯. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স.) মদীনার অধিবাসীদের জন্য ‘যুল হুলায়ফা’, সিরিয়াবাসীদের জন্য ‘জুহফাহ’, নজদবাসীদের জন্য ‘ক্বারনুল মানাযিল’ এবং ইয়ামেনবাসীদের জন্য ‘ইয়ালামলাম’-কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন। তিনি বললেন: এগুলো এই অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য এবং যারা হজ্জ বা উমরার নিয়তে এই পথ অতিক্রম করবে তাদের সকলের জন্য নির্ধারিত মীকাত। আর যারা এর অভ্যন্তরে বসবাস করে, তাদের নিজ বাড়ি থেকেই ইহরাম বাঁধবে; এমনকি মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে।]

(أ) مَا مَعْنَى الْحَجِّ لُغَةً وَشَرْعًا؟ وَكَمْ قِسْمًا لَهُ؟ وَمَتَى فُرِضَ الْحَجُّ؟

[(ক) হজের শাব্দিক ও শরয়ী অর্থ কী? এবং তা কত প্রকার? কখন হজ ফরজ হয়?]

হজের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

শাব্দিক অর্থ: সংকল্প করা (القصد)।

শরয়ী সংজ্ঞা: নির্দিষ্ট দিনসমূহে নির্ধারিত আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পবিত্র কা’বা ও নির্দিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত করাকে হজ বলে।

প্রকারভেদ: হজ মূলত তিন প্রকার—১. হজে ইফরাদ, ২. হজে ক্বিরান এবং ৩. হজে তামাত্তু।

কখন ফরজ হয়: বিশুদ্ধতম মতানুযায়ী হিজরী ৯ম সনে সূরা আলে ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে হজ ফরজ হয়।


(ب) مَا مَعْنَى الْمِيقَاتِ؟ وَكَمْ هِيَ؟ وَأَيُّ مِيقَاتٍ لِأَهْلِ بَنْغَلَادِيشَ؟

[(খ) মীকাত অর্থ কী? তা কয়টি? এবং বাংলাদেশীদের মীকাত কোনটি?]

মীকাতের পরিচয় ও বাংলাদেশীদের মীকাত

অর্থ: শরিয়তের নির্ধারিত সীমানা যা অতিক্রম করার পূর্বে হজ ও উমরা পালনকারীর জন্য ইহরাম বাঁধা বাধ্যতামূলক।

সংখ্যা: ঐতিহাসিক প্রধান ভৌগোলিক মীকাত পাঁচটি: যুল হুলায়ফা, জুহফাহ, ক্বারনুল মানাযিল, ইয়ালামলাম এবং যাতু ইরক্ব।

বাংলাদেশীদের মীকাত: বাংলাদেশীরা বিমান বা সমুদ্রপথে সাধারণত ইয়ালামলাম বা জুহফাহ বরাবর অতিক্রম করে। বিশেষ করে আকাশপথে সরাসরি জেদ্দা যাওয়ার সময় বিমানের ক্রুগণ যখন ‘ইয়ালামলাম’ বা সমান্তরাল সীমানা ঘোষণা করেন, তার পূর্বেই ইহরাম পরিধান সম্পন্ন করতে হয়।


١٠- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَا فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ –

[১০. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (স.) ইরশাদ করেন: পাঁচ ওসাক্ব-এর কম ফসলে কোনো যাকাত (উশর) নেই, পাঁচটির কম উটে কোনো যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়া (৫২.৫ তোলা)-এর কম রৌপ্যে কোনো যাকাত নেই।]

(أ) مَا مَعْنَى الزَّكَاةِ لُغَةً وَشَرْعًا؟ وَمَا الْمُرَادُ بِالصَّدَقَةِ هَهُنَا؟

[(ক) যাকাতের শাব্দিক ও শরয়ী অর্থ কী? এখানে সাদকা দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

সংজ্ঞা ও তাৎপর্য

শাব্দিক অর্থ: পবিত্রতা (الطهور) এবং প্রবৃদ্ধি লাভ করা (النماء)।

শরয়ী সংজ্ঞা: নেসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির ওপর শরিয়তের নির্ধারিত অংশ কোনো উপযুক্ত হকদারকে মালিক বানিয়ে দেওয়াকে যাকাত বলে।

আলোচ্য হাদীসে সাদকার অর্থ: এখানে সাদকা দ্বারা নফল দান নয়, বরং ফরজ যাকাত উদ্দেশ্য।


(ب) هَلْ تَجُوبُ الزَّكَاةُ عَلَى الصَّبِيِّ وَالْمَجْنُونِ إِذَا كَانَا مُتَمَوِّلَيْنِ؟ ثُمَّ بَيِّنْ مَصَارِفَ الزَّكَاةِ مُفَصَّلًا –

[(খ) নাবালক ও পাগলের ওপর কি যাকাত ফরজ হবে যদি তারা সামর্থ্যবান হয়? অতঃপর যাকাতের খাতগুলো বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

নাবালক ও পাগলের সম্পদে যাকাত

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.): তাদের সম্পদে যাকাত ওয়াজিব নয়, কারণ তারা শরয়ী দায়িত্বমুক্ত (গায়রে মুকাল্লাফ)।
  • ইমাম মালেক, শাফেঈ ও আহমাদ (রহ.): যাকাত মূলত সম্পদের অধিকার, তাই অভিভাবক তাদের সম্পদ থেকে যাকাত পরিশোধ করবেন।

যাকাতের আটটি খাত (সূরা আত-তাওবা: ৬০)

১. ফকীর, ২. মিসকীন, ৩. যাকাত কর্মকর্তা ও কর্মচারী, ৪. নওমুসলিমদের মন জয় করা, ৫. ক্রীতদাস মুক্তি, ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, ৭. আল্লাহর পথে (জিহাদ ও দ্বীনের প্রচার), এবং ৮. নিঃস্ব মুসাফির।


مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত ও তাত্ত্বিক প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٠ × ١ = ١٠
(أجب عن سؤال واحد فقط)

١١- اكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاةِ الْإِمَامِ التِّرْمِذِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى مَعَ بَيَانِ خَصَائِصِ سُنَنِهِ وَمَنْزِلَتِهِ بَيْنَ الصِّحَاحِ –

[১১. ইমাম তিরমিযী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখপূর্বক তাঁর সুনানের বৈশিষ্ট্য ও সিহাহর মাঝে এর অবস্থান লেখ।]

ইমাম তিরমিযী (রহ.)-এর জীবনী

  • নাম ও বংশ: আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ আত-তিরমিযী।
  • জন্ম ও জ্ঞানার্জন: হিজরী ২০৯ সনে উজবেকিস্তানের তিরমিয নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম বুখারী, মুসলিম ও আবু দাউদ (রহ.)-এর কাছে দীর্ঘকাল হাদিস শিক্ষা লাভ করেন। শেষ জীবনে অতিরিক্ত রোদনের কারণে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। হিজরী ২৭৯ সনে তিনি ইনতিকাল করেন।

জামে আত-তিরমিযীর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও স্থান

  1. হাদীসের হুকুম বর্ণনা: প্রতিটি হাদীসের পর তিনি তার স্তর (সহীহ, হাসান, গরীব বা যয়ীফ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
  2. ফুকাহাদের মাজহাব ও মতভেদ উল্লেখ: আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীনদের ফিকহী ইজতিহাদ ও দলিল তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ কিতাব অতুলনীয়।
  3. সিহাহ সিত্তাহর মাঝে স্থান: বুখারী ও মুসলিমের পরই এর স্থান এবং ব্যবহারিক ফিকহের জন্য এটি সর্বাধিক উপযোগী কিতাব।

١٢- وَازِنْ بَيْنَ الصَّحِيحِ لِلْبُخَارِيِّ وَالصَّحِيحِ لِمُسْلِمٍ –

[১২. সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মাঝে তুলনামূলক পর্যালোচনা কর।]

বুখারী ও মুসলিমের তুলনামূলক বিশ্লেষণ

মানদণ্ড সহীহ বুখারী (ইমাম বুখারী রহ.) সহীহ মুসলিম (ইমাম মুসলিম রহ.)
বিশুদ্ধতার মান জমহুর মুহাদ্দিসীনদের মতে বুখারীর সনদ ও রাবীদের স্তর সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও সুকঠিন। বুখারীর শর্তের কাছাকাছি কিন্তু বিন্যাসে অত্যন্ত সূক্ষ্ম।
সাক্ষাতের শর্ত রাবী ও উস্তাদের মাঝে সরাসরি সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক। সমসাময়িক হওয়া এবং সাক্ষাৎ সম্ভবপর হওয়াই যথেষ্ট।
অধ্যায় ও বিন্যাস ফিকহী মাসআলা উদঘাটনে তারাজিমুল আবওয়াব বা অধ্যায় বিন্যাস অত্যন্ত গভীর। একটি হাদীসের সমস্ত সনদ ও পাঠ এক স্থানে সন্নিবেশিত, ফলে হাদীস অন্বেষণ অত্যন্ত সহজ।
সামগ্রিক অবস্থান আল-কুরআনের পর আসমান ও জমিনের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধতম গ্রন্থ। বুখারীর ঠিক পরেই এর সর্বোচ্চ আসন ও মর্যাদা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. দিরাসাতুল হাদীস বিষয়ের বিষয় কোড কত?

আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দিরাসাতুল হাদীস বিষয়ের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৪ এবং পরীক্ষা কোড হলো ২০৩।

২. ওহির কোন পদ্ধতিটি রাসূল (স.)-এর জন্য সর্বাধিক কষ্টকর ছিল?

ঘণ্টাধ্বনির মতো অবিরাম ঝনঝনানি শব্দের সাথে ওহি নাজিল হওয়ার পদ্ধতিটি রাসূলুল্লাহ (স.)-এর জন্য সবচেয়ে কষ্টদায়ক ছিল।

৩. সাহাবীদের মধ্যে কে সর্বাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন?

বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) সর্বমোট ৫,৩৭৪টি হাদীস বর্ণনা করে সাহাবাদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

৪. বাংলাদেশীদের জন্য হজের মীকাত কোনটি?

বাংলাদেশী হাজীদের জন্য আকাশ ও সমুদ্রপথে অতিক্রম করার সময় ‘ইয়ালামলাম’ বা এর সমান্তরাল সীমানা হলো নির্ধারিত মীকাত।

৫. রমজানের রোজা কত হিজরীতে ফরজ হয়?

দ্বিতীয় হিজরীর শাবান মাসে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনার মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়।

৬. সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে কোনটি অধিক বিশুদ্ধ?

উম্মতের আলিম ও মুহাদ্দিসীনদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সনদের কঠোরতা ও বিশুদ্ধতায় সহীহ বুখারী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম কিতাব।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *