জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-কুরআনুল কারীম ওয়াল উলূমুল হাদীসাহ (Al-Quran Wal Ulumul Hadithah) – 404, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৭৮ মিনিট পড়ার সময়
১৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২০
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আল-কুরআনুল কারীম ওয়াল উলূমুল হাদীসাহ (القرآن الكريم والعلوم الحديثة – কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান)
বিষয় কোড: ৪০৪ | প্রশ্নপত্র কোড: ১৬০ | পরীক্ষা কোড: ২০৪
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

[দ্রষ্টব্য: নিচের যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও। সকল প্রশ্নের মান সমান: ১৬ × ৫ = ৮০]


ভূমিকা ও পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৪র্থ বর্ষের আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আল-কুরআনুল কারীম ওয়াল উলূমুল হাদীসাহ’ (القرآن الكريم والعلوم الحديثة – কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান) একটি অত্যন্ত চমৎকার, বিস্ময়কর ও সমসাময়িক মৌলিক বিষয় (বিষয় কোড: ৪০৪)। পবিত্র কুরআন কোনো নিছক বিজ্ঞানের বই (Book of Science) নয়; বরং এটি স্পষ্ট নিদর্শনাবলির মহাবিস্ময় (Book of Signs)। এই বিষয়ে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান (মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ, সৌরজগৎ ও কক্ষপথ), জীববিজ্ঞানের মূলনীতি ও সৃষ্টির পানি-ভিত্তি, প্রাণিকুল ও পক্ষীবিজ্ঞান (Ornithology), সমুদ্রবিজ্ঞান (Oceanography), রসায়নে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান, বস্তুর যুগলতা (Duality/Pairing) এবং আধুনিক গণযোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করা হয়। ২০২০ সালের এই প্রশ্নপত্রে মোট ৯টি প্রশ্ন রয়েছে। নিম্নে সকল প্রশ্নের প্রামাণিক ও বিশদ সমাধান উপস্থাপন করা হলো।


١- “القرآن الكريم ليس هو كتاب دينى فقط بل هو مخزن العلوم والفنون أيضًا” أوضح-

[“আল-কুরআনুল কারীম শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় গ্রন্থই নয় বরং এটি সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধারও”—ব্যাখ্যা কর।]

১. ভূমিকা ও বক্তব্যের যথার্থতা

পবিত্র কুরআন মানবজাতির হেদায়েত ও মুক্তির চিরন্তন ঐশী সংবিধান। বহু শতাব্দী ধরে মানুষ কুরআনকে কেবল সালাত, সিয়াম ও কতিপয় ধর্মীয় আচারের গ্রন্থ মনে করত। কিন্তু গভীর অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয় যে, “আল-কুরআনুল কারীম কেবল একটি ধর্মীয় কিতাব নয়; বরং এটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত মৌলিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, শিল্প ও প্রযুক্তির এক অফুরন্ত জ্ঞানের আধার (مخزن العلوم والفنون)”। মহান আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন:

﴿مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ﴾ [الأنعام: ৩৮]

“আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ রাখিনি।”

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে: ﴿وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ﴾ [النحل: ৮৯] অর্থাৎ “আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ এবং হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ।”

২. কুরআনে সন্নিবেশিত বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের রূপরেখা

পবিত্র কুরআনে প্রায় ৭৫০-এর অধিক এমন আয়াত রয়েছে যা মানুষকে মহাবিশ্ব, সৃষ্টিজগৎ, মানবদেহ এবং প্রকৃতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনা করার নির্দেশ দেয় (আয়াতুল কাওনিয়্যাহ)। নিম্নে প্রধান প্রধান জ্ঞানশাখার কুরআনিক নির্দেশনা আলোচনা করা হলো:

  1. জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাবিশ্বতত্ত্ব (Astronomy & Cosmology):

    কুরআনে মহাবিশ্বের আদি মহাবিস্ফোরণ (Big Bang – সূরা আম্বিয়া: ৩০), মহাশূন্যের সম্প্রসারণ (Expanding Universe – সূরা যারিয়াত: ৪৭), সূর্য ও চন্দ্রের নিজস্ব কক্ষপথে সন্তরণ (সূরা ইয়াসীন: ৩৮-৪০) এবং বায়ুমণ্ডলের প্রতিরক্ষামূলক ছাদ (সূরা আম্বিয়া: ৩২) সম্পর্কে এমন নির্ভুল বিবরণ দেওয়া হয়েছে যা আধুনিক টেলিস্কোপ ও স্যাটেলাইট আবিষ্কারের মাত্র কয়েক দশক পূর্বে মানুষ জানতে পেরেছে।
  2. ভ্রূণতত্ত্ব ও মানব শরীরবিজ্ঞান (Embryology & Human Biology):

    সূরা আল-মু’মিনূনের ১২-১৪ নম্বর আয়াতে মাতৃগর্ভে মানব ভ্রূণের পর্যায়ক্রমিক রূপান্তর—নুৎফাহ (শুক্রবিন্দু), আলাক্বাহ (জোঁকের মতো ঝুলন্ত পিণ্ড), মুদগাহ (চিবানো গোশতের টুকরো), ইযাম (হাড়ের কাঠামো তৈরি) এবং লাহম (গোশতের আবরণ দ্বারা আবৃতকরণ)—এমন বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতায় বর্ণিত হয়েছে যা দেখে কানাডার বিখ্যাত ভ্রূণবিজ্ঞানী ড. কিথ এল. মুর (Prof. Keith L. Moore) বিস্মিত হয়ে স্বীকার করেছেন: “এই তথ্য কোনোভাবেই চতুর্দশ শতক পূর্বে মুহাম্মদ (ﷺ)-এর পক্ষে মানবীয় জ্ঞানে জানা সম্ভব ছিল না; এটি নিশ্চিতভাবেই ঐশী ওহী।”
  3. সমুদ্রবিজ্ঞান ও জলবায়ুবিদ্যা (Oceanography & Meteorology):

    কুরআনে মিষ্টি ও নোনা পানির মিলনস্থলে অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা (সূরা আর-রহমান: ১৯-২০), গভীর সমুদ্রের অভ্যন্তরীণ তরঙ্গ ও অন্ধকার (সূরা আন-নূর: ৪০) এবং মেঘমালা গঠন ও বৃষ্টিপাতের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া (সূরা আন-নূর: ৪৩) হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
  4. উদ্ভিদ ও প্রাণিবিদ্যা (Botany & Zoology):

    গাছপালা ও ফসলের পুরুষ-স্ত্রী পরাগায়ন (সূরা হিজর: ২২), মৌমাছির বিস্ময়কর জীবন ও মধু তৈরি (সূরা আন-নাহল: ৬৮-৬৯), পিঁপড়ার সমাজ ও যোগাযোগ (সূরা আন-নামল: ১৮) এবং মাকড়সার জালের ভঙ্গুরতা (সূরা আনকাবুত: ৪১) অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
  5. সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও রাজনীতি (Sociology & Governance):

    মানব ইতিহাসের সামাজিক উত্থান-পতনের কারণ, ইনসাফভিত্তিক অর্থনৈতিক বণ্টন (সুদ নিষিদ্ধ ও যাকাত প্রবর্তন), শাসনব্যবস্থায় পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক পরামর্শ (শূরা)—কুরআনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

উপসংহার: কুরআন কোনো ল্যাবরেটরির টেক্সটবুক নয়; কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের যেকোনো চূড়ান্ত ও প্রতিষ্ঠিত আবিষ্কারের সাথে কুরআনের কোনো বৈসাদৃশ্য নেই। বরং কুরআন হলো সেই শাশ্বত আলোকবর্তিকা যা মানব মেধা ও বিজ্ঞানকে সঠিক পথের দিশা দেয়।

٢- اثبت بالقرآن والساينس بأن الشمس والقمر والنجوم كلها يسبحون في فلك مستقل-

[আল-কুরআন ও বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণ কর যে, সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ ও নক্ষত্র সবই একটি স্বতন্ত্র কক্ষপথে সন্তরণ করছে।]

১. পবিত্র কুরআনের অকাট্য প্রমাণাদি

প্রাচীন যুগে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে পৃথিবী স্থির এবং সূর্য মহাবিশ্বের কেন্দ্র অথবা সূর্য স্থির ও অচল। কিন্তু পবিত্র কুরআন সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ ও নক্ষত্রমণ্ডলের প্রতিটিই মহাশূন্যে নিজ নিজ সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন ও সন্তরণ করছে:

  • ১. সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: ৩৩):

    ﴿وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ﴾

    “আর তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। এদের প্রত্যেকেই এক একটি কক্ষপথে সন্তরণ (বিচরণ) করছে।”
  • ২. সূরা ইয়াসীন (আয়াত: ৩৮-৪০):

    ﴿وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ۝ وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ ۝ لَا الشَّمْسُ يَنبَغِي لَهَا أَن تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ﴾

    “আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছে; এটি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ সত্তার সুনির্ধারিত পরিমাপ। আর চন্দ্রের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি বিভিন্ন মঞ্জিল (কক্ষপথের ধাপ); অবশেষে তা খেজুরের শুষ্ক বাঁকা শাখার মতো রূপ ধারণ করে। সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রকে ধরা, আর রাতের পক্ষেও সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটছে।”

২. কুরআনিক পরিভাষার ভাষাতাত্ত্বিক মু’জিযা

  1. ‘فَلَكٍ’ (ফালাক)-এর তাৎপর্য: আরবী অভিধানে ‘ফালাক’ বলা হয় বৃত্তাকার পথ বা ঘূর্ণনশীল কক্ষপথকে (Orbit)।
  2. ‘يَسْبَحُونَ’ (ইয়াসবাহূন)-এর তাৎপর্য: শব্দটি ‘السِّبَاحَة’ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ পানিতে সাঁতার কাটা বা ভাসমান অবস্থায় কোনো মাধ্যম ছাড়াই মসৃণভাবে অগ্রসর হওয়া। মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রে নক্ষত্র ও গ্রহগুলো যে শূন্যে ভেসে ভেসে নিজ কক্ষপথে আবর্তন করছে, তাকে বোঝানোর জন্য এর চেয়ে নিখুঁত শব্দ আর হতে পারে না। উপরন্তু এখানে ব্যাকরণগতভাবে ‘ইয়াসবাহূন’ (বুদ্ধিমান প্রাণীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বহুবচন) ব্যবহার করে এদের আবর্তনের পরম নিয়মানুবর্তিতাকে প্রকাশ করা হয়েছে।

৩. আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের (Modern Astronomy) প্রমাণ

বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কুরআনের এই আয়াতের সত্যতাকে অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করেছে:

  1. সূর্যের নিজস্ব গতি ও কক্ষপথ (Solar Orbit):

    বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা টলেমির জিওসেন্ট্রিক (পৃথিবীকেন্দ্রিক) এবং কোপার্নিকাসের হেলিওসেন্ট্রিক (সূর্যকেন্দ্রিক স্থির সূর্য) তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, সূর্য স্থির নয়। সূর্য নিজস্ব অক্ষের ওপর প্রতি ২৫ দিনে একবার ঘোরে এবং পুরো সৌরজগতকে সাথে নিয়ে আমাদের ছায়াপথ ‘মিল্কিওয়ে’ (Milky Way)-এর কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে।

    বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করেছেন যে, সূর্য প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২২০ কিলোমিটার (বা ঘণ্টায় প্রায় ৭,৯২,০০০ কিমি) বেগে মহাকাশের এক নির্দিষ্ট বিন্দুর (Solar Apex – যা ভেগা নক্ষত্রের দিকে অবস্থিত) দিকে ধাবিত হচ্ছে। কুরআনে একেই বলা হয়েছে: ﴿وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا﴾।
  2. চাঁদের স্বতন্ত্র কক্ষপথ ও মঞ্জিল (Moon’s Orbit & Phases):

    চাঁদ প্রতি ২৯.৫ দিনে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩,৮৪,৪০০ কিমি দূরত্বে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে। নিজ অক্ষে ঘূর্ণন এবং পৃথিবীকে প্রদক্ষিণের কারণে চাঁদের আলোকিত অংশের যে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে, তাকেই কুরআন ‘মানাযিল’ (মঞ্জিল) এবং শেষে ক্ষয়াটে চাঁদকে ‘উরজূনিল কাদীম’ (খেজুরের শুকনা ডাল) বলে অভিহিত করেছে।
  3. গ্রহ-নক্ষত্রের সংঘর্ষহীন শৃঙ্খলা:

    মহাকর্ষীয় বলের ভারসাম্যের কারণে কোটি কোটি বছর ধরে সূর্য কখনো চাঁদকে স্পর্শ করে না, পৃথিবী তার কক্ষপথচ্যুত হয় না। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব সুরক্ষিত কক্ষপথে (فَلَكٍ مُسْتَقِلٍّ) সন্তরণশীল।

٣- كيف كان هذا الكون فى بدايته؟ ثم اثبت تمدده وسعته بالقرآن والعلوم الحديثة-

[এ পৃথিবী/মহাবিশ্ব প্রাথমিক অবস্থায় কেমন ছিল? অতঃপর এর বিস্তৃতি ও সম্প্রসারণ আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণ কর।]

১. মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা: কুরআন ও বিজ্ঞানের আলো

আধুনিক মহাবিশ্বতত্ত্ববিদগণের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বের শুরুটা কেমন ছিল? আল-কুরআন আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বেই অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় মহাবিশ্বের আদি অবস্থা বর্ণনা করেছে:

  1. সবকিছু একসাথে পুঞ্জীভূত ছিল (رَتْقًا – প্রাথমিক সংযুক্ত অবস্থা):

    পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কাফেরদের চ্যালেঞ্জ করে ঘোষণা করেন:

    ﴿أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ﴾ [الأنبياء: ৩০]

    “অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে একাকার (সংযুক্ত) ছিল; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম? এবং প্রাণবান সমস্ত কিছুকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?”

    শব্দতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: আরবী ভাষায় ‘رَتْقًا’ (রাতক্বা) বলা হয় এমন বস্তুকে যা ঘন সন্নিবিষ্ট ও অবিভাজ্য পিণ্ড হিসেবে মিশ্রিত থাকে। আর ‘فَتَقْنَاهُمَا’ (ফাতাক্বনা) অর্থ হলো কোনো সংযুক্ত বস্তুকে বিদীর্ণ করে পৃথক করে দেওয়া।
  2. ধোঁয়াশা বা আদিম গ্যাসীয় অবস্থা (دُخَانٌ – Cosmic Smoke):

    মহাবিস্ফোরণের পরবর্তী গ্যাসীয় অবস্থা সম্পর্কে সূরা ফুসসিলাতের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

    ﴿ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ﴾

    “অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন, যখন তা ছিল ধূম্রকুঞ্জ (ধোঁয়া)। অতঃপর তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে বললেন: তোমরা উভয়ে অনুগত হয়ে বা অনিচ্ছায় আস; তারা বলল: আমরা স্বেচ্ছায় অনুগত হয়ে এলাম।”
  3. আধুনিক বিজ্ঞানের বিগ ব্যাং তত্ত্ব (The Big Bang Theory):

    বিংশ শতাব্দীর শীর্ষ পদার্থবিজ্ঞানী জর্জ লেমাইট্রে, এডউইন হাবল এবং পরবর্তীতে স্টিফেন হকিংদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে সমগ্র মহাবিশ্ব একটি অসীম ঘনত্ব ও পরম উত্তপ্ত ক্ষুদ্র বিন্দুতে (Singularity) পুঞ্জীভূত ছিল। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে (Big Bang) স্থান ও কালের সৃষ্টি হয় এবং প্রাথমিক গ্যাসীয় হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মেঘ (Nebula/Cosmic Dust/Smoke) থেকে পরবর্তীতে গ্যালাক্সি, নক্ষত্র ও পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে। কুরআনের ‘রাতক্বা’ ও ‘দুখান’ বিগ ব্যাং ও প্রাথমিক গ্যাসীয় অবস্থার অবিকল বর্ণনা।

২. মহাবিশ্বের অবিরাম বিস্তৃতি ও সম্প্রসারণ (Expanding Universe)

একসময় ধারণা করা হতো মহাবিশ্ব স্থির ও অপরিবর্তনীয় (Static Universe)। এমনকি বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনও প্রথমে মহাবিশ্বকে স্থির মনে করে তাঁর সমীকরণে ‘Cosmological Constant’ যোগ করেছিলেন। কিন্তু কুরআনুল কারীম সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগেই স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে:

  • কুরআনের অকাট্য দলীল:

    ﴿وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ﴾ [الذاريات: ৪৭]

    “আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ (মহাবিশ্ব) নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয়ই আমি একে ক্রমাগত সম্প্রসারিত করছি।”

    ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: আরবী ব্যাকরণে ‘لَمُوسِعُونَ’ শব্দটি ‘أَوْسَعَ – يُوسِعُ’ (আওসা’আ-ইউসি’উ) থেকে ‘ইসমে ফায়েল’ (Active Participle)-এর বহুবচন রূপ। এর অর্থ হলো: প্রতিনিয়ত সম্প্রসারণকারী (Continuously Expanding)।
  • বিজ্ঞানের অকাট্য আবিষ্কার (এডউইন হাবলের আবিষ্কার – ১৯২৯ খ্রি.):

    ১৯২৯ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল (Edwin Hubble) মাউন্ট উইলসন মানমন্দিরে শক্তিশালী ১০০ ইঞ্চি টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে আবিষ্কার করেন যে, দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো আমাদের থেকে তীব্র গতিতে দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি আলোর বর্ণালীতে ‘লোহিত বিচ্যুতি’ (Red Shift) পর্যবেক্ষণ করে প্রমাণ করেন যে, মহাবিশ্বের গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ সমগ্র মহাশূন্য একটি বেলুনের মতো প্রতিনিয়ত স্ফীত ও প্রসারিত হচ্ছে।

উপসংহার: যে বৈজ্ঞানিক সত্যটি মানুষ মাত্র বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এসে আবিষ্কার করতে পেরেছে, উম্মি নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর ওপর অবতীর্ণ আল-কুরআনে তা হুবহু লিপিবদ্ধ থাকা প্রমাণ করে যে কুরআন সর্বজ্ঞানী আল্লাহর শাশ্বত বাণী।

٤- اكتب مقالة علمية حول بيان الطيور في القرآن الكريم-

[আল-কুরআনে পাখির বর্ণনা সম্পর্কে একটি তাত্ত্বিক প্রবন্ধ লেখ।]

ভূমিকা

পাখি পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর ও বিস্ময়কর সৃষ্টি। আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হলো পক্ষীবিজ্ঞান (Ornithology) ও এরোডায়নামিক্স (Aerodynamics)। পবিত্র কুরআনে পাখি (الطير / طائر) শব্দটি একবচন ও বহুবচনে বহু আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে। পাখির উড়ালপ্রক্রিয়া, তাদের ভাষা ও সামাজিকতা, তাদের দ্বারা সংঘটিত অলৌকিক ঘটনা এবং মানবজাতির জন্য হিদায়াত গ্রহণের নিদর্শন হিসেবে কুরআনে পাখির উপস্থিতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও তাত্ত্বিক। নিম্নে এর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হলো:

১. পাখির উড়ালের বৈজ্ঞানিক ও বায়ুগতিবিদ্যাগত বিস্ময় (Aerodynamics)

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে পাখির উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করে তাঁর কুদরত প্রত্যক্ষ করার নির্দেশ দিয়েছেন:

  • সূরা আন-নাহল (আয়াত: ৭৯):

    ﴿أَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ مُسَخَّرَاتٍ فِي جَوِّ السَّمَاءِ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ﴾

    “তারা কি লক্ষ্য করে না আকাশের মহাশূন্যে নিয়ন্ত্রণাধীন পাখিদের প্রতি? আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তাদের শূন্যে ধরে রাখে না। নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।”
  • সূরা আল-মুলক (আয়াত: ১৯):

    ﴿أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَنُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ﴾

    “তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের মাথার ওপর ডানা বিস্তারকারী এবং ডানা গুটিয়ে নেওয়া পাখিদের দিকে? পরম দয়াময় আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদের ধরে রাখে না। নিশ্চয় তিনি সবকিছুর সম্যক দ্রষ্টা।”

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: পাখি যখন আকাশে ওড়ে তখন বাতাসের চাপ, বায়ুর প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মাধ্যাকর্ষণ বলের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। কুরআনে ব্যবহৃত দুটি শব্দ ‘صَافَّاتٍ’ (ডানা মেলে শূন্যে ভেসে থাকা – Gliding) এবং ‘يَقْبِضْنَ’ (ডানা গুটিয়ে বা ঝাপটিয়ে বল প্রয়োগ – Flapping) পাখির ওড়ার নিখুঁত বৈজ্ঞানিক নিয়মকে তুলে ধরে। পাখির ফাঁপা ও হালকা হাড়, বুকের শক্তিশালী পেশী এবং চোখের অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত কুদরতেরই প্রমাণ।

২. পাখিদের নিজস্ব সমাজ ও জাতিসত্তা (Animal Communities)

আধুনিক পক্ষীবিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে পাখিরা নিছক জীব নয়; তাদের নিজস্ব সমাজব্যবস্থা, দলনেতা এবং বংশরক্ষার সুসংবদ্ধ নিয়ম রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বহু পূর্বে ঘোষণা করেছেন:

﴿وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُم﴾ [الأنعام: ৩৮]

“পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী রয়েছে এবং ডানার সাহায্যে আকাশে ওড়ে এমন যত পাখি রয়েছে, তারা সবাই তোমাদের মতোই এক একটি উম্মত বা সম্প্রদায়।”

৩. পাখিদের ভাষা ও যোগাযোগ (Communication & Navigation)

হযরত সুলাইমান (আ.)-কে আল্লাহ তা‘আলা পাখিদের ভাষা বোঝার মু’জিযা দান করেছিলেন: ﴿وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ﴾ [النمل: ১৬]। হুদহুদ পাখির ঘটনা থেকে জানা যায় যে, পাখির মধ্যে ভৌগোলিক জ্ঞান, স্থান চেনার অসাধারণ ক্ষমতা (Navigation) এবং তথ্য আদান-প্রদানের বিস্ময়কর অনুভূতি কাজ করে। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, পরিযায়ী পাখিরা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ও তারার অবস্থান দেখে নির্ভুলভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।

৪. কুরআনে বর্ণিত ঐতিহাসিক ও শিক্ষণীয় পাখিসমূহ

  1. কাকের দৃষ্টান্ত ও মানবসভ্যতার প্রথম দাফন শিক্ষা: কাবিল যখন হাবিলকে হত্যা করে লাশ নিয়ে দিশেহারা ছিল, তখন আল্লাহ এক কাককে পাঠালেন মাটি খুঁড়ে অন্য মৃত কাককে দাফন করার দৃশ্য দেখাতে (সূরা মায়েদা: ৩১)। পাখি মানুষকে প্রথম সভ্যতার শিক্ষা দিয়েছিল।
  2. আবাবীল পাখি ও আসহাবুল ফীলের ধ্বংস: আবরাহার বিশাল হস্তিবাহিনী যখন কাবা ধ্বংস করতে আসে, তখন ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবীল পাখি পোড়ামাটির ক্ষুদ্র পাথর নিক্ষেপ করে গোটা বাহিনীকে চিবানো ভুসির মতো ধ্বংস করে দিয়েছিল (সূরা আল-ফীল)।
  3. হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর চার পাখির পুনরুজ্জীবন: মৃতদেহ কীভাবে জীবিত হবে তা চাক্ষুষ দেখতে আল্লাহ ইব্রাহীম (আ.)-কে চারটি পাখি জবাই করে পাহাড়ের চূড়ায় রেখে ডাক দিতে বললেন। ডাকামাত্রই পাখিগুলো জীবিত হয়ে উড়ে এল (সূরা বাকারাহ: ২৬০)।

٥- اكتب مقالة علمية حول بيان الحيوانات البحرية فى القرآن الكريم-

[আল-কুরআনে ‘সামুদ্রিক জীব’ সম্পর্কে একটি তাত্ত্বিক প্রবন্ধ লেখ।]

ভূমিকা

সমুদ্র হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীববৈচিত্র্যের আবাসভূমি। পৃথিবীর প্রায় ৭১ ভাগ পানি এবং এই পানির নিচে কোটি কোটি প্রজাতির জলজ প্রাণী বসবাস করে। পবিত্র কুরআন কোনো সমুদ্রবিজ্ঞানের বই না হওয়া সত্ত্বেও সামুদ্রিক প্রাণী, জলজ জীববৈচিত্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং সমুদ্রের গভীরতার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে অত্যন্ত তাত্ত্বিক ও অলৌকিক বিবরণ প্রদান করেছে। নিম্নে এ সম্পর্কিত বিশদ বৈজ্ঞানিক আলোচনা তুলে ধরা হলো:

১. সামুদ্রিক প্রাণী ও তাদের খাদ্যের হালাল হওয়া (حل صيد البحر وطعامه)

ইসলামের শারয়ী বিধান অনুযায়ী সামুদ্রিক প্রাণী মানুষের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রোটিন ও পুষ্টির আধার। আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেন:

﴿أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ مَتَاعًا لَّكُمْ وَلِلسَّيَّارَةِ﴾ [المائدة: ৯৬]

“তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার এবং তার খাদ্য হালাল করা হয়েছে তোমাদের এবং মুসাফিরদের উপকারের জন্য।”

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সমুদ্রের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ইরশাদ করেন:

«هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ، الْحِلُّ مَيْتَتُهُ»

“সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণীও হালাল।” (সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী)।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমর্থন: সামুদ্রিক মাছে রয়েছে উচ্চমানের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, আয়োডিন ও ভিটামিন-ডি, যা মানবদেহের হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

২. তাজা গোশত এবং মুক্তা-প্রবালের উৎস

পবিত্র কুরআনে মিষ্টি ও নোনা পানির উভয় সমুদ্রের প্রাণিসম্পদ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:

﴿وَمَا يَسْتَوِي الْبَحْرَانِ هَذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَائِغٌ شَرَابُهُ وَهَذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ وَمِن كُلٍّ تَأْكُلُونَ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُونَ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا﴾ [فاطر: ১২]

“উভয় সাগর সমান নয়: একটি সুমিষ্ট ও তৃষ্ণা নিবারক, যার পানীয় সুস্বাদু; আর অপরটি অতি লোনা ও ক্ষারযুক্ত। অথচ প্রতিটি সাগর থেকেই তোমরা আহার করো তাজা গোশত (মাছ) এবং আহরণ করো অলঙ্কার (মুক্তা ও প্রবাল), যা তোমরা পরিধান করো।”

সূরা আর-রহমানে এসেছে: ﴿يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ﴾। প্রবাল (Coral) এবং মুক্তা মূলত জীবিত সামুদ্রিক ঝিনুক ও পলিপ প্রাণীর শরীর থেকে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক রত্ন, যা কুরআনের বর্ণনার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৩. তিমি মাছের ঘটনা ও হযরত ইউনুস (আ.) (حوت يونس عليه السلام)

কুরআনে বিশালাকার সামুদ্রিক প্রাণী ‘হূত’ (الحوت – তিমি মাছ)-এর উল্লেখ এসেছে হযরত ইউনুস (আ.)-এর ঐতিহাসিক ঘটনায়:

﴿فَالْتَقَمَهُ الْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ ۝ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ ۝ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ﴾ [الصافات: ১৪২-১৪৪]

“অতঃপর এক বিশাল মাছ (তিমি) তাকে গিলে ফেলল, যখন তিনি ছিলেন নিজেকে তিরস্কারকারী। যদি তিনি আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতেন, তবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে সেই মাছের পেটেই অবস্থান করতে হতো।”

প্রাণিবিজ্ঞানের বিস্ময়: নীল তিমি বা স্পার্ম তিমির মতো বিশালাকার সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর খাদ্যনালী ও পাকস্থলী এতই বিশাল যে সেখানে কোনো মানুষ অক্ষত অবস্থায় প্রবেশ করা শারীরবৃত্তীয়ভাবে অসম্ভব নয়। তিমির পেটের অন্ধকার, সমুদ্রের অন্ধকার এবং রাতের অন্ধকারের মধ্যেও হযরত ইউনুস (আ.)-এর সেই অমর তাসবীহ—﴿لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ﴾ আজও বিশ্বজুড়ে মুমিনদের সংকট মুক্তির শ্রেষ্ঠ সম্বল।

৪. গভীর সমুদ্রের অন্ধকার ও জীববৈচিত্র্য (Internal Waves & Deep-Sea Life)

সূরা আন-নূরের ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ﴿أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُّجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ سَحَابٌ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ﴾। সমুদ্রবিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, ২০০ মিটারের নিচে সমুদ্রে আলোর তীব্র ঘাটতি হয় এবং ১০০০ মিটারের নিচে থাকে নিশ্ছিদ্র ঘুটঘুটে অন্ধকার। সেখানে রয়েছে অভ্যন্তরীণ ঢেউ (Internal Waves)। এই চরম অন্ধকারেও হাজার হাজার প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী রয়েছে যারা নিজস্ব দেহে বায়োলুমিনেসেন্স (Bioluminescence) প্রক্রিয়ায় আলো উৎপন্ন করে পথ চলে ও শিকার করে।

٦- عرف الكيمياء ثم اكتب مساهمة علماء المسلمين فى هذا العلم-

[الكيمياء এর সংজ্ঞা দাও। এ বিদ্যায় মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান লেখ।]

১. ‘আল-কীমিয়া’ (الكيمياء – রসায়ন / Chemistry)-এর সংজ্ঞা

  • নামকরণ ও আভিধানিক উৎপত্তি: ‘আল-কীমিয়া’ (الكيمياء) মূলত একটি খাঁটি আরবী পরিভাষা, যা ইউরোপে গিয়ে ‘Alchemy’ এবং পরবর্তীতে আধুনিক ‘Chemistry’ রূপ ধারণ করেছে। প্রাচীন আরবী ধাতু ‘কামা’ (كَمَى) থেকে এটি উদ্ভূত, যার অর্থ গোপন করা বা রূপান্তর করা। প্রাচীনকালে সাধারণ ধাতুকে মূল্যবান সোনা বা রূপায় রূপান্তরের গোপন বিদ্যা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।
  • আধুনিক বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা: রসায়ন বা আল-কীমিয়া হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সেই মৌলিক শাখা, যা পদার্থের গঠন, ধর্ম, বৈশিষ্ট্য, উপাদানের আনুপাতিক রূপান্তর এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন যৌগ সৃষ্টির নিয়মাবলি নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও ব্যবহারিক গবেষণা পরিচালনা করে।

২. রসায়নবিদ্যায় মুসলিম বিজ্ঞানীদের ঐতিহাসিক ও কালজয়ী অবদান

ইউরোপীয় রেনেসাঁর বহু শতাব্দী পূর্বে মুসলিম বিজ্ঞানীরাই রসায়নকে মধ্যযুগীয় অন্ধবিশ্বাস, যাদুবিদ্যা ও রূপকথা থেকে মুক্ত করে ল্যাবরেটরিভিত্তিক পরীক্ষণমূলক আধুনিক বিজ্ঞানের রূপ দান করেছিলেন। নিম্নে শীর্ষ মুসলিম রসায়নবিদগণের অবদান তুলে ধরা হলো:

  1. জাবির ইবনে হাইয়ান (৭২১–৮১৫ খ্রি.) – আধুনিক রসায়নের জনক (Father of Chemistry):

    পশ্চিমে তিনি ‘Geber’ নামে পরিচিত। তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি রসায়নে অন্ধ অনুমানের পরিবর্তে ল্যাবরেটরি ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন।

    • বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহ: তিনি সর্বপ্রথম পাতন (Distillation), স্ফটিকীকরণ (Crystallization), ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation), বাষ্পীভবন (Evaporation) এবং পরিস্রাবণ (Filtration) পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
    • অ্যাসিড ও রাসায়নিক যৌগ আবিষ্কার: তিনি সর্বপ্রথম হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এবং স্বর্ণ গলানোর মতো শক্তিশালী ‘একোয়া রেজিয়া’ (রাজঅম্ল – Aqua Regia) আবিষ্কার করেন।
    • ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি: তিনি পাতনের জন্য আধুনিক রিটর্ট ও ‘অ্যালেমবিক’ (Alembic / الانبيق) ফ্লাস্ক আবিষ্কার করেন, যা আজও ব্যবহৃত হয়। তিনি শত শত মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন; যেমন: ‘কিতাব আল-কিমিয়া’, ‘কিতাব আল-খামাসিন’।
  2. আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে যাকারিয়া আল-রাযী (৮৬৫–৯২৫ খ্রি.):

    পশ্চিমে ‘Rhazes’ নামে খ্যাত এই মহান চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ পদার্থের মৌলিক শ্রেণিবিন্যাস করেন।

    • তিনিই প্রথম সমগ্র পদার্থকে খনিজ (Mineral), উদ্ভিদ (Vegetable) ও প্রাণী (Animal)—এই তিন প্রধান ভাগে বিভক্ত করেন।
    • তিনি সর্বপ্রথম চিকিৎসার প্রয়োজনে পরিশোধিত অ্যালকোহল (Ethanol) এবং সালফিউরিক এসিড তৈরি করেন।
    • তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাবুল আসরার’ (The Book of Secrets) শত শত বছর ধরে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য ছিল।
  3. আল-মাজরিতী (ওফাত: ১০০৭ খ্রি.):

    আন্দালুসের এই মুসলিম বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ভরের নিত্যতা সূত্র (Law of Conservation of Mass)-এর প্রাথমিক ধারণা দেন। তিনি দেখান যে, পারদকে উত্তপ্ত করলে তার ওজন কমে না; বরং বাতাসে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
  4. ইবনুল হাইছাম ও আল-বিরুনী:

    তাঁরা বিভিন্ন কঠিন ও তরল পদার্থের আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific Gravity) নিখুঁতভাবে পরিমাপের রাসায়নিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন।

সারসংক্ষেপ: মুসলিম বিজ্ঞানীরা বারুদ তৈরি, কাঁচের শিল্প, কালি, সুগন্ধি (আতর), ঔষধ প্রস্তুত এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো শিল্প-রসায়নের ক্ষেত্রে মানব ইতিহাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন।

٧- ما هو علم الحياة؟ اثبته بالأدلة القرآنية-

[জীববিজ্ঞান কী? কুরআনিক প্রমাণ উল্লেখ কর।]

১. ‘ইলমুল হায়াত’ (علم الحياة – জীববিজ্ঞান / Biology)-এর সংজ্ঞা

জীববিজ্ঞান বা ‘ইলমুল হায়াত’ হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সেই মৌলিক শাখা যা জীবন, জীবন্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের উৎপত্তি, দৈহিক গঠন, শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি, প্রজনন, বৃদ্ধি, বংশগতি এবং পরিবেশের সাথে তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। এর প্রধান দুটি শাখা হলো প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology) এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany)।

২. জীববিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্বসমূহে পবিত্র কুরআনের অকাট্য প্রমাণাদি

পবিত্র কুরআন আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে জীববিজ্ঞানের এমন সব মৌলিক সত্য উন্মোচন করেছে যা আধুনিক বায়োলজির মূলভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত:

  1. জীবনের মূল ভিত্তি পানি (Water as the Basis of Life):

    আধুনিক কোষবিজ্ঞান (Cytology) প্রমাণ করেছে যে, যেকোনো জীবকোষের প্রোটোপ্লাজমের প্রায় ৭০% থেকে ৮৫% উপাদানই পানি। পানি ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব অসম্ভব। পবিত্র কুরআন এটিকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে:

    ﴿وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ﴾ [الأنبياء: ৩০]

    “এবং আমি প্রাণবান সমস্ত কিছুকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম; তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?”

    অন্যত্র প্রাণিজগতের সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: ﴿وَاللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَابَّةٍ مِّن مَّاءٍ﴾ [النور: ৪৫] অর্থাৎ “আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
  2. মানব ভ্রূণতত্ত্ব ও বংশবৃদ্ধি (Human Embryology):

    মানবজীবনের সূচনা ও মাতৃগর্ভে তার ৯ মাসের পর্যায়ক্রমিক রূপান্তর সম্পর্কে কুরআন যে নিখুঁত ধারা বর্ণনা করেছে তা আধুনিক ভ্রূণবিজ্ঞানের বিস্ময়:

    ﴿وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ ۝ ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ ۝ ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ﴾ [المؤمنون: ১২-১৪]

    “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু (নুৎফাহ) হিসেবে এক সুরক্ষিত আধারে (জরায়ুতে) স্থাপন করেছি। অতঃপর আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করেছি ঝুলন্ত রক্তপিণ্ডে (আলাক্বা), অতঃপর রক্তপিণ্ডকে মাংসপিণ্ডে (মুদগাহ), অতঃপর মাংসপিণ্ড থেকে হাড়ের কাঠামো (ইযাম) তৈরি করেছি, অতঃপর হাড়গুলোকে মাংস (লাহম) দ্বারা আবৃত করেছি; পরিশেষে তাকে এক নতুন সৃষ্টিরূপে দাঁড় করিয়েছি। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না বরকতময়!”
  3. উদ্ভিদের যুগলতা ও বংশবিস্তার (Plant Biology & Pollination):

    উদ্ভিদের মধ্যে যে পুরুষ ও স্ত্রী রয়েছে এবং বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে, তা কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে:

    ﴿وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّن نَّبَاتٍ شَتَّى﴾ [طه: ৫৩]

    “এবং তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তার সাহায্যে আমি বিভিন্ন জাতের জোড়ায় জোড়ায় উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।”

    বাতাসের পরাগায়ন সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে: ﴿وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ﴾ [الحجر: ২২] অর্থাৎ “আর আমি বাতাসকে গর্ভসঞ্চারকারী (পরাগায়নকারী) হিসেবে প্রেরণ করি।”
  4. ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপের স্বাতন্ত্র্য (Genetics & Dermatoglyphics):

    ১৮৮০ সালে স্যার ফ্রান্সিস গল্টন আঙুলের ছাপের স্বাতন্ত্র্য আবিষ্কারের বহু পূর্বে কুরআন বলেছিল:

    ﴿أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَّجْمَعَ عِظَامَهُ ۝ بَلَى قَادِرِينَ عَلَى أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ﴾ [القيامة: ৩-৪]

    “মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করতে পারব না? বরং আমি তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত অবিকল পুনর্গঠন করতে সক্ষম।”

٨- أثبت الزوجية فى كل شيء بأدلة من القرآن والعلوم-

[বিজ্ঞান ও কুরআনের দলিল সাপেক্ষে প্রতিটি বস্তুর যুগলতা প্রমাণ কর।]

১. পবিত্র কুরআনে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যুগলতার (Duality/Pairing) অকাট্য ঘোষণা

এক শতাব্দী আগেও মানুষ মনে করত ‘যুগলতা’ বা জোড়া কেবল মানুষ ও কতিপয় প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু পবিত্র কুরআন সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, বিশ্বজগতের প্রতিটি সৃষ্টিই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে এবং একমাত্র মহান আল্লাহ হলেন একক ও অদ্বিতীয় (Ahad):

  • সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত: ৪৯):

    ﴿وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ﴾

    “আর আমি প্রত্যেক বস্তুই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পার।”
  • সূরা ইয়াসীন (আয়াত: ৩৬):

    ﴿سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ﴾

    “পবিত্র ও মহান সেই সত্তা, যিনি সমস্ত জোড়া সৃষ্টি করেছেন—জমিন থেকে যা উৎপন্ন হয় তা থেকে, তাদের নিজেদের মধ্য থেকে এবং এমন বস্তু থেকেও যা তারা জানে না!”

    ‘وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ’ (এমন বস্তু যা তারা জানে না)—এই বাক্যটি ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানের জন্য এক মহা চ্যালেঞ্জ ছিল, যা আজ বাস্তবে উন্মোচিত হয়েছে।

২. আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগলতার প্রমাণ

  1. পদার্থবিজ্ঞান ও পরমাণুর স্তর (Matter and Antimatter):

    ১৯২৮ সালে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পল ডিরাক (Paul Dirac) প্রমাণ করেন যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি কণারই একটি বিপরীত কণা বা অ্যান্টি-পার্টিকেল রয়েছে। তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান।

    • পরমাণুর ভেতর রয়েছে ধনাত্মক প্রোটন (+) এবং ঋণাত্মক ইলেকট্রন (-)।
    • ইলেকট্রনের বিপরীতে রয়েছে পজিট্রন (Positron), প্রোটনের বিপরীতে অ্যান্টি-প্রোটন। একে বলা হয় ‘যুগ্ম উৎপাদন’ (Pair Production)। জড় পদার্থের ক্ষেত্রেও জোড়া বিদ্যমান।
  2. বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্ব (Electricity and Magnetism):

    বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জের মিলনে। কোনো একক পোলবিশিষ্ট চুম্বকের অস্তিত্ব নেই; প্রতিটি চুম্বকে উত্তর মেরু (North Pole) এবং দক্ষিণ মেরু (South Pole) অবিচ্ছেদ্য জোড়ায় অবস্থান করে।
  3. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany):

    লিঙ্কন ও সোয়াইনসহ আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, শৈবাল ও মস থেকে শুরু করে আম-কাঁঠাল পর্যন্ত প্রতিটি গাছের প্রজনন অঙ্গে পুং-স্তবক (Stamen) এবং স্ত্রী-স্তবক (Pistil) বিদ্যমান। বাতাসের বা কীটের পরাগায়নে জোড়া ছাড়া ফল উৎপন্ন হয় না।
  4. জেনেটিক্স ও ডিএনএ অণু (DNA Double Helix):

    মানুষ ও প্রাণিদেহের জীবনরহস্য বহনকারী ডিএনএ (DNA) অণুটি একটি দ্বি-সূত্রী পেঁচানো সিঁড়ির মতো (Double Helix)। এতে চারটি নাইট্রোজেন বেস জোড়ায় জোড়ায় থাকে: অ্যাডেনিন (A) সর্বদা থাইমিনের (T) সাথে এবং গুয়ানিন (G) সর্বদা সাইটোসিনের (C) সাথে জোড়া বাঁধে।
  5. মহাজাগতিক ও দার্শনিক স্তর:

    আলোর বিপরীতে অন্ধকার, উষ্ণতার বিপরীতে শীতলতা, জীবনের বিপরীতে মৃত্যু, মিষ্টির বিপরীতে তিক্ততা—মহান আল্লাহ মহাবিশ্বের সবকিছুকে জোড়ায় জোড়ায় মুখাপেক্ষী বানিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি স্বয়ং অমুখাপেক্ষী ও একক।

٩- بين عن فوائد اختراعة الاذاعة والتلفيزيون-

[টেলিভিশন ও রেডিও আবিষ্কারের উপকারসমূহ আলোচনা কর।]

ভূমিকা

বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার ফসল হলো গণযোগাযোগ প্রযুক্তির আবিষ্কার। ১৮৯৫ সালে বিজ্ঞানী গুলিয়েলমো মার্কনি ও জগদীশ চন্দ্র বসুর গবেষণায় আবিষ্কৃত ‘রেডিও’ (الإذاعة) এবং ১৯২৬ সালে জন লগি বেয়ার্ডের আবিষ্কৃত ‘টেলিভিশন’ (التلفزيون) মানবজাতির জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়; বরং দ্বীন ও মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গণ্য করে। নিম্নে রেডিও ও টেলিভিশনের প্রধান উপকারিতাসমূহ আলোচনা করা হলো:

  1. ইসলামের বৈশ্বিক দাওয়াত ও কুরআন প্রচার:

    রেডিও ও টিভির মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে কোটি কোটি মানুষের কাছে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, তাফসীর, হাদীসের পাঠ এবং ইসলামের সুমহান দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। মক্কা ও মদীনার পবিত্র হজ্জ ও তারাবীর নামায সরাসরি সম্প্রচার বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে আধ্যাত্মিক সংযোগ ও ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে।
  2. শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তার:

    দূরশিক্ষণ (Distance Learning) এবং ওপেন ইউনিভার্সিটির শিক্ষাকার্যক্রম রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিচ্ছে। বিজ্ঞান, ইতিহাস, কৃষি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যচিত্র মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
  3. দ্রুত সংবাদ ও বৈশ্বিক সংযোগ:

    বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সংঘটিত ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ঘরে বসে সরাসরি প্রত্যক্ষ করা যায়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ে এবং বিশ্ব একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ রূপান্তরিত হয়েছে।
  4. দুর্যোগ পূর্বাভাস ও জননিরাপত্তা:

    ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প বা সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা প্রচার করে উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের জান-মাল রক্ষা করার ক্ষেত্রে রেডিও সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
  5. কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়ন:

    কৃষি বিষয়ক সম্প্রচারের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদ, উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করে। এছাড়া ব্যবসায়ের পণ্যের বাজারমূল্য ও প্রচার অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করে।
  6. সুস্থ বিনোদন ও পারিবারিক মানসিক প্রশান্তি:

    শ্লীল ও অর্থবহ অনুষ্ঠান, হামদ-নাত, ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ও গঠনমূলক শিক্ষামূলক নাটিকা মানুষকে অশ্লীল অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত রেখে মানসিক প্রফুল্লতা দান করে।

সতর্কতা ও ইসলামী মূল্যায়ন: রেডিও ও টেলিভিশন নিজেই খারাপ নয়; এর উপকার বা অপকার নির্ভর করে ব্যবহারের ওপর। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও অপপ্রচারে ব্যবহার করলে এটি গুনাহের কারণ হবে; আর জ্ঞান, দাওয়াত ও জনকল্যাণে ব্যবহার করলে এটি বিপুল সওয়াব ও পার্থিব অগ্রগতির শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. কুরআন কি কোনো বিজ্ঞানের কিতাব?

পবিত্র কুরআন কোনো ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানের বই (Book of Science) নয়; বরং এটি মানবজাতির হিদায়াত ও মহা নিদর্শনের গ্রন্থ (Book of Signs)। তবে এতে সৃষ্টির যে সকল বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত রয়েছে, তা আধুনিক বিজ্ঞানের চূড়ান্ত সত্যের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২. মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য কী?

সূরা আয-যারিয়াতের ৪৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: ‘وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ’ অর্থাৎ আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমিই একে প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত করছি। এটি ১৯২৯ সালে এডউইন হাবলের আবিষ্কৃত Expanding Universe তত্ত্বের সুস্পষ্ট পূর্বাভাস।

৩. জাবির ইবনে হাইয়ানকে রসায়নের জনক বলা হয় কেন?

জাবির ইবনে হাইয়ান সর্বপ্রথম রসায়নকে অন্ধবিশ্বাস ও যাদুবিদ্যা থেকে মুক্ত করে ব্যবহারিক ল্যাবরেটরিভিত্তিক পরীক্ষণ চালু করেন। তিনি পাতন, স্ফটিকীকরণ এবং নাইট্রিক ও সালফিউরিক এসিডের মতো মৌলিক রাসায়নিক পদার্থ আবিষ্কার করায় তাঁকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়।

৪. জীববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হিসেবে কুরআনে কোন উপাদানটির কথা বলা হয়েছে?

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ‘وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ’ অর্থাৎ আমি প্রাণবান সমস্ত কিছুকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছি। আধুনিক সাইটোলজি অনুযায়ী জীবকোষের প্রোটোপ্লাজমের প্রধান অংশই পানি।

٥- ‘كل في فلك يسبحون’ আয়াতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী?

এই আয়াতের অর্থ হলো সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ ও নক্ষত্রমণ্ডলের প্রতিটিই নিজস্ব কক্ষপথে শূন্যে সন্তরণ করছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে সূর্য স্থির নয়, বরং প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২২০ কিমি বেগে পুরো সৌরজগত নিয়ে ছায়াপথ কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে।

৬. পদার্থবিজ্ঞানে ‘যুগলতা’ (Pairing in everything) কীভাবে প্রমাণিত হয়েছে?

পদার্থবিজ্ঞানী পল ডিরাক প্রমাণ করেছেন যে প্রতিটি কণারই একটি বিপরীত কণা (Antiparticle) রয়েছে। পরমাণুর ইলেকট্রনের বিপরীতে পজিট্রন এবং পদার্থের বিপরীতে অ্যান্টি-ম্যাটার রয়েছে, যা সূরা যারিয়াতের ৪৯ নম্বর আয়াতের (وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ) জীবন্ত বাস্তব রূপ।


উপসংহার ও পরীক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনা

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল সম্মান ৪র্থ বর্ষের ‘আল-কুরআনুল কারীম ওয়াল উলূমুল হাদীসাহ’ (৪০৪) প্রশ্নপত্রটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ও যুগোপযোগী। পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক পরিভাষা, বিজ্ঞানীদের নাম ও আবিষ্কারের সন, পবিত্র কুরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাশকীলসহ আরবী পাঠ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ ছক আকারে উপস্থাপন করতে হবে। ২০২০ সালের এই প্রশ্নপত্রের ৯টি প্রশ্নের বিশদ সমাধান নিয়মিত অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন নং আলোচ্য বিষয় কুরআনিক আয়াত / বৈজ্ঞানিক সূত্র মুখ্য তত্ত্ব
১ কুরআন সমস্ত জ্ঞানের আধার সূরা আনআম: ৩৮, সূরা নাহল: ৮৯ বিজ্ঞান, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সমাজের মৌলিক পথনির্দেশ।
২ সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রের নিজস্ব কক্ষপথ সূরা আম্বিয়া: ৩৩, সূরা ইয়াসীন: ৩৮-৪০ সৌরজগতের নিজস্ব গতি ও ছায়াপথ প্রদক্ষিণ।
৩ মহাবিশ্বের সূচনা ও ক্রমাগত সম্প্রসারণ সূরা আম্বিয়া: ৩০, সূরা যারিয়াত: ৪৭ বিগ ব্যাং তত্ত্ব ও এডউইন হাবলের Expanding Universe।
৪ কুরআনে পাখির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা সূরা নাহল: ৭৯, সূরা মুলক: ১৯ এরোডায়নামিক্স, নেভিগেশন ও পক্ষীকূলের সমাজ।
৫ কুরআনে সামুদ্রিক প্রাণিজগৎ সূরা মায়েদা: ৯৬, সূরা ফাত্বির: ১২ হালাল সামুদ্রিক খাদ্য, মুক্তা-প্রবাল ও অভ্যন্তরীণ ঢেউ।
৬ রসায়ন ও মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান জাবির ইবনে হাইয়ান, আর-রাযী, আল-মাজরিতী পাতন, নাইট্রিক এসিড, অ্যালকোহল ও আধুনিক ল্যাবরেটরি।
৭ জীববিজ্ঞান ও কুরআনিক প্রমাণ সূরা আম্বিয়া: ৩০, সূরা মুমিনূন: ১২-১৪ জীবনের ভিত্তি পানি, মানব ভ্রূণতত্ত্ব ও উদ্ভিদের পরাগায়ন।
৮ প্রতিটি সৃষ্টির যুগলতা বা জোড়া সূরা যারিয়াত: ৪৯, সূরা ইয়াসীন: ৩৬ ম্যাটার ও অ্যান্টি-ম্যাটার, ডিএনএ এবং উদ্ভিদজগতের যুগলতা।
৯ রেডিও ও টিভি আবিষ্কারের উপকারিতা মার্কনি, বেয়ার্ড, গণযোগাযোগ দ্বীনের দাওয়াত, বিশ্ব সংবাদ, শিক্ষা ও দুর্যোগ সতর্কতা।
টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜