জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (As-Sirah An-Nabawiyyah) – 201204, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2020

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৩৫ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2020
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (السيرة النبوية)
বিষয় কোড: 201204 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ হতে যে কোনো চারটি এবং (খ) অংশ হতে যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

١- تحدث عن تعريف السيرة النبوية ومكانتها وأهمية دراستها-

[১. আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ-এর পরিচয়, মর্যাদা ও পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর।]

ভূমিকা: মানবজাতির মুক্তির দিশারী ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনচরিত ইসলামের দ্বিতীয় মৌলিক উৎসের মূল ভিত্তি। সিরাত কেবল সাধারণ কোনো ব্যক্তির জীবনী নয়, বরং তা হলো পবিত্র কুরআনের বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। হযরত আয়েশা (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: “তাঁর চরিত্র ছিল স্বয়ং কুরআন।” (সহীহ মুসলিম)।

ক. আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহর পরিচয়:

  1. শাব্দিক অর্থ: ‘আস-সীরাহ’ (السيرة) আরবি শব্দ, যার অর্থ পথ, পন্থা, স্বভাব-চরিত্র, আচরণবিধি বা জীবনপদ্ধতি। বহুবচনে একে ‘সিয়ার’ (السير) বলা হয়।
  2. পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইসলামি পরিভাষায়, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র বেলাদত (জন্ম) থেকে ওফাত পর্যন্ত তাঁর সমগ্র জীবনপরিক্রমা, নবুওয়াতী মিশন, চারিত্রিক ও শারীরিক গুণাবলি, মক্কী ও মাদানী যুগের দাওয়াতী সংগ্রাম এবং সামরিক ও রাষ্ট্রীয় ঘটনাবলির প্রামাণ্য ইতিহাসকে আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (السيرة النبوية) বলা হয়।

খ. সীরাতুন্নবীর মর্যাদা ও অধ্যয়নের গুরুত্ব:

  1. কুরআনকে বাস্তব জীবনে অনুধাবন: পবিত্র কুরআনের আদেশ-নিষেধ, আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও হুকুমত কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হয়, তা সীরাত ব্যতীত অনুধাবন করা অসম্ভব।
  2. উসওয়ায়ে হাসানাহ বা সর্বোত্তম আদর্শ অনুসরণ: আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেন: “নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।” (সূরা আল-আহযাব: ২১)। সীরাত পাঠের মাধ্যমেই একজন পিতা, স্বামী, নেতা, বিচারপতি ও রাষ্ট্রপ্রধানের পূর্ণাঙ্গ আদর্শ পাওয়া যায়।
  3. ঈমানের পূর্ণতা ও নবীর ভালোবাসা অর্জন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, সন্তান ও সমগ্র মানবজাতি অপেক্ষা অধিক প্রিয় হই।” (সহীহ বুখারী)। সীরাত অধ্যয়ন নবীর প্রতি খাঁটি প্রেম সৃষ্টি করে।

٢- اكتب الحالات السياسية والثقافية والاقتصادية للعرب الجاهلية-

[২. জাহেলী যুগের আরবদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা লিপিবদ্ধ কর।]

ক. জাহেলী আরবের রাজনৈতিক অবস্থা:

  • কেন্দ্রীয় শাসনের অনুপস্থিতি: প্রাক-ইসলামী আরবে কোনো একক কেন্দ্রীয় সরকার, আইন বা সংবিধান ছিল না। আরবরা গোত্রীয় স্বায়ত্তশাসনে বিভক্ত ছিল। গোত্রপ্রধানকে ‘শায়খ’ বলা হতো, কিন্তু তাঁর ক্ষমতা ছিল সীমিত।
  • রক্তক্ষয়ী গোত্রীয় সংঘাত: অন্ধ গোত্রীয় পক্ষপাতিত্বের (আসাবিয়্যাত) কারণে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে যুগ যুগ ধরে যুদ্ধ চলত। যেমন—৪০ বছরব্যাপী ‘বাসুস যুদ্ধ’ এবং ‘হরবুল ফিজার’। সমাজে প্রচলিত নীতি ছিল ‘জোর যার মুলুক তার’।

খ. সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক অবস্থা:

  • কাব্যচর্চা ও বাগ্মিতা: জাহেলি যুগের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল তাদের অসাধারণ কাব্যপ্রতিভা ও ভাষার অলংকারিতা। প্রতি বছর ‘উকাজ’ মেলায় বিখ্যাত কবিদের কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতা হতো। শ্রেষ্ঠ ৭টি কবিতাকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যাকে ‘সাব’আ মু’আল্লাকা’ বলা হয়। ইমরুল কায়েস, তারাফা ও যুহাইর ছিলেন এ যুগের অন্যতম কবি।

গ. অর্থনৈতিক অবস্থা:

  • বাণিজ্য ও উটের কাফেলা: মক্কার কুরাইশরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অত্যন্ত সফল ছিল। তারা গ্রীষ্মকালে সিরিয়ায় এবং শীতকালে ইয়েমেনে বাণিজ্যিক কাফেলা নিয়ে যেত (রিহলাতাশ শিতা-ই ওয়াস সাইফ)।
  • সুদ ও শোষণ: অর্থনীতি ছিল ভয়াবহ সুদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। চক্রবৃদ্ধি সুদের যাঁতাকলে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হতো। জুয়া ও মরুপথে দস্যুবৃত্তি (গাযওয়া) ছিল আয়ের অন্যতম নোংরা মাধ্যম।

٣- تحدث عن تجارة رسول الله صلى الله عليه وسلم لخديجة وزواجه بها-

[৩. খাদিজা (রা.)-এর পক্ষে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যবসা পরিচালনা ও তাঁর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্পর্কে আলোচনা কর।]

ক. খাদিজা (রা.)-এর পক্ষে বাণিজ্য পরিচালনা:

মক্কার সম্ভ্রান্ত, ধনাঢ্য ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী নারী হযরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (যাঁর উপাধি ছিল ‘ত্বাহিরা’) ব্যবসায়ী কাফেলার জন্য বিশ্বস্ত লোকের সন্ধান করছিলেন। যুবক মুহাম্মদ (সা.)-এর অসাধারণ সততা, আমানতদারী ও ‘আল-আমীন’ খ্যাতির কথা শুনে তিনি তাঁকে দ্বিগুণ মুনাফার চুক্তিতে সিরিয়ার বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্ব অর্পণ করেন। তিনি নিজের বিশ্বস্ত দাস মায়সারাকে সাথে পাঠান। সিরিয়ার বাছরা বাজারে বাণিজ্য চলাকালে ঐতিহাসিক বহিরা/নাসতুরা পাদ্রী তাঁর নবুওয়াতী আলামত প্রত্যক্ষ করেন। বাণিজ্যে অভূতপূর্ব বরকত ও বিপুল মুনাফা অর্জিত হয়।

খ. মায়সারার পর্যবেক্ষণ ও বিবাহ বন্ধন:

  1. চরিত্রের মুগ্ধতা: দাস মায়সারা মক্কায় ফিরে হযরত খাদিজা (রা.)-এর নিকট মুহাম্মদ (সা.)-এর অসাধারণ সততা, শিষ্টাচার এবং মেঘ কর্তৃক ছায়াদানের মতো অলৌকিক বরকতপূর্ণ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
  2. বিবাহের প্রস্তাব ও সম্পাদন: খাদিজা (রা.) তাঁর বান্ধবী নাফিসা বিনতে মুনাব্বিহের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। নবীজী (সা.) তাঁর অভিভাবক পিতৃব্য আবু তালিবের সাথে পরামর্শ করে সম্মতি দেন।
  3. ২৫ বছর বয়সী যুবক মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে ৪০ বছর বয়সী খাদিজা (রা.)-এর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। আবু তালিব বিয়ের ঐতিহাসিক খুতবা পাঠ করেন এবং ৫০০ রৌপ্য মুদ্রা বা ২০টি উট মোহরানা ধার্য করা হয়। হযরত খাদিজা (রা.)-এর জীবদ্দশায় রাসূল (সা.) দ্বিতীয় কোনো বিবাহ করেননি।

٤- متى وكيف نزل الوحى؟ وكيف أجرى الدعوة بعده؟ بيّن مفصلا-

[৪. কখন ও কীভাবে ওহী অবতীর্ণ হয়? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) দাওয়াতি কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করেন? সবিস্তারে বর্ণনা কর।]

ক. ওহী অবতরণের প্রেক্ষাপট ও সূচনা:

মহানবী (সা.)-এর বয়স যখন ৪০ বছর উপনীত হয়, তখন তিনি নির্জনতাপ্রিয় হয়ে পড়েন এবং মক্কার হেরা গুহায় আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন থাকতেন। ৬১০ খ্রিস্টাব্দের রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) নূরানী সুরতে আবির্ভূত হয়ে বলেন: “ইক্বরা” (পড়ুন)। নবীজী বললেন, “আমি তো পড়তে জানি না।” জিবরাইল (আ.) তাঁকে তিনবার সজোরে বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গন করেন এবং পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল করেন:

﴿اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ۝ خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ ۝ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ۝ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ۝ عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ﴾

খ. ওহী-পরবর্তী দাওয়াতি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা:

  1. গোপন দাওয়াত পর্ব (সুদীর্ঘ ৩ বছর): সূরা আল-মুদ্দাসসির নাজিলের পর তিনি অত্যন্ত সন্তর্পণে নিকটতম ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে তাওহীদের দাওয়াত দেন। সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন নারীদের মধ্যে খাদিজা (রা.), পুরুষদের মধ্যে আবু বকর (রা.), বালকদের মধ্যে আলী (রা.) এবং দাসদের মধ্যে যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.)। সাহাবী আরক্বাম (রা.)-এর গৃহ ছিল এ যুগের দাওয়াতের গোপন কেন্দ্র (দারুল আরক্বাম)।
  2. নিকটাত্মীয়দের মাঝে দাওয়াত: সূরা আশ-শু’আরার আয়াত নাজিল হওয়ার পর তিনি সাফা পর্বতে দাঁড়িয়ে বনু হাশিম ও মক্কার সকল গোত্রকে ডেকে প্রকাশ্যে একত্ববাদের দাওয়াত দেন। এতে আবু লাহাব চরম শত্রুতা শুরু করে।
  3. প্রকাশ্য দাওয়াত ও চরম প্রতিরোধ: “ফাসদা’ বিমা তু’মার” আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ্য দাওয়াতের হুকুম এলে তিনি কা’বা প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে তাওহীদের ঘোষণা দেন। এর ফলে কুরাইশদের পক্ষ থেকে বয়কট, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

٥- تحدث عن خلفية صلح الحديبية وأهم بنوده بالإيضاح-

[৫. হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ বিশদভাবে আলোচনা কর।]

ক. হুদায়বিয়া সন্ধির প্রেক্ষাপট (৬ষ্ঠ হিজরী / ৬২৮ খ্রি.):

রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বপ্নে দেখেন যে তিনি সাহাবীগণসহ নিরাপদে কা’বা তাওয়াফ করছেন। এ স্বপ্নের ভিত্তিতে ষষ্ঠ হিজরীর জিলকদ মাসে ১৪০০ জন নিরস্ত্র সাহাবী নিয়ে তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওনা হন। মক্কার অদূরে ‘হুদায়বিয়া’ নামক কূপে পৌঁছালে কুরাইশরা তাঁদের প্রবেশে বাধা দেয়। রাসূল (সা.) পরিস্থিতি আলোচনার জন্য হযরত উসমান (রা.)-কে দূত হিসেবে মক্কায় পাঠান। সেখানে উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের গুজব ছড়িয়ে পড়লে রাসূল (সা.) একটি বাবলা গাছের নিচে সাহাবীদের থেকে রক্তের শপথ গ্রহণ করেন, যা ইতিহাসে ‘বায়আতুর রিদওয়ান’ নামে খ্যাত। এতে আতঙ্কিত হয়ে কুরাইশরা সুহায়েল ইবনে আমরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে সন্ধির প্রস্তাব দেয়।

খ. হুদায়বিয়া সন্ধির প্রধান ধারাসমূহ:

  1. মুসলিমরা এ বছর ওমরাহ না করে মদীনায় ফিরে যাবে এবং আগামী বছর এসে মাত্র তিন দিন অবস্থান করে ওমরাহ পালন করবে।
  2. উভয় পক্ষের মধ্যে আগামী ১০ বছর যাবত সকল ধরনের যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
  3. কুরাইশদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া মদীনায় আশ্রয় নিলে তাকে ফেরত দিতে হবে; কিন্তু কোনো মুসলিম মক্কায় ফিরে এলে তাকে ফেরত দেওয়া হবে না।
  4. আরবের যেকোনো গোত্র কুরাইশ বা মুসলিমদের সাথে যেকোনো পক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে স্বাধীন থাকবে (বনু খুজাআ মুসলিমদের সাথে এবং বনু বকর কুরাইশদের সাথে মৈত্রী চুক্তি করে)।
  5. আগামী বছর মুসলিমরা কেবল খাপবদ্ধ তলোয়ার ছাড়া অন্য কোনো যুদ্ধাস্ত্র সাথে আনতে পারবে না।

বাহ্যত এ চুক্তি অপমানজনক মনে হলেও পবিত্র কুরআনে একে ‘ফাতহুম মুবীন’ (প্রকাশ্য বিজয়) বলে ঘোষণা করা হয়, কারণ এর মাধ্যমেই ইসলামের দাওয়াত সমগ্র আরবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল।


٦- اكتب شمائل رسول الله صلى الله عليه وسلم الخلقية مفصلا-

[৬. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক গঠন ও দৈহিক সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ সবিস্তারে আলোচনা কর।]

শারীরিক গঠনের অনুপম সৌন্দর্য (শামায়িলে নববী): সহীহ শামায়িল গ্রন্থসমূহে (বিশেষ করে ইমাম তিরমিযী বর্ণিত শামায়িলে তিরমিযী) সাহাবী আলী (রা.), আনাস (রা.) ও হিন্দ ইবনে আবি হালাহ (রা.) থেকে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী:

  • দৈহিক উচ্চতা: তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘদেহী ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না, বরং মধ্যমাকৃতির চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন। যখন তিনি লোকজনের সাথে হাঁটতেন, তখন তাঁকে সবার চেয়ে উজ্জ্বল ও মর্যাদাবান দেখাত।
  • গায়ের রং: তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল গৌরবর্ণ—ধবধবে সাদা বা তামাটে নয়, বরং লাবণ্যময় শুভ্রতার মাঝে রক্তিম আভা মেশানো।
  • পবিত্র মুখমণ্ডল: তাঁর চেহারা মুবারক ছিল পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল ও গোলাকার। যখন তিনি আনন্দিত হতেন, তখন মুখমণ্ডল থেকে নূরের ঝলক বিচ্ছুরিত হতো।
  • চোখ ও ভ্রু: তাঁর চোখযুগল ছিল ডাগর ডাগর, মণিদুটো ছিল কুচকুচে কালো এবং চোখের শিরাগুলো ছিল রক্তিম। তাঁর ভ্রু ছিল ঘন ও বাঁকানো, তবে দুই ভ্রুর মাঝে কোনো জোড়া ছিল না।
  • চুল ও দাড়ি মুবারক: তাঁর চুল ছিল সামান্য ঢেউ খেলানো, কখনো কানের লতি পর্যন্ত আবার কখনো কাঁধ ছুঁয়ে যেত। তাঁর দাড়ি মুবারক ছিল ঘন ও পূর্ণাঙ্গ। ওফাতের সময় তাঁর মাথার চুল ও দাড়িতে ২০টির বেশি পাকা চুল ছিল না।
  • সিলমোহর (মোহরে নবুওয়াত): তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে কবুতরের ডিমের ন্যায় একটি বিশেষ মাংসপিণ্ড ছিল, যা ছিল নবুওয়াতের চূড়ান্ত সিলমোহর (খাতামুন নবুওয়াত)।

مجموعة (ب) – খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

٧- تحدث عن الجهر بالدعوة-

[৭. প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার সম্পর্কে আলোচনা কর।]

নবুওয়াতের প্রথম তিন বছর গোপন দাওয়াতের পর মহান আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দেন: “অতএব আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।” (সূরা আল-হিজর: ৯৪)। এ নির্দেশের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) সাফা পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করে ‘ইয়া সাবাহা’ (বিপদের সতর্কবার্তা) ধ্বনি দিয়ে কুরাইশদের সকল গোত্রকে সমবেত করেন এবং প্রকাশ্যভাবে তাওহীদের দাওয়াত পেশ করেন। এতে আবু লাহাব অভিশাপ দিলে সূরা আল-লাহাব নাজিল হয় এবং প্রকাশ্যে দাওয়াতের এই পর্ব থেকেই মক্কায় বিরোধিতার তীব্র ঝড় শুরু হয়।


٨- عرف الهجرة مع بيان الهجرة إلى الحبشة بالإيجاز-

[৮. হিজরতের সংজ্ঞা দাও। আবিসিনিয়ার হিজরত সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

  1. হিজরতের পরিচয়: দ্বীন-ঈমান রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে স্বীয় জন্মভূমি ত্যাগ করে অন্য নিরাপদ স্থানে গমন করাকে হিজরত বলা হয়।
  2. আবিসিনিয়ায় হিজরত: মক্কার কাফিরদের অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নবুওয়াতের ৫ম বর্ষে রাসূল (সা.)-এর নির্দেশে সাহাবীগণ ন্যায়পরায়ণ খ্রিস্টান বাদশাহ নাজ্জাশীর দেশ আবিসিনিয়ায় (হাবশা) প্রথম হিজরত করেন। প্রথম দফায় ১২ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী (হযরত উসমান রা. ও রুকাইয়্যা রা. সহ) এবং দ্বিতীয় দফায় জাফর ইবনে আবি তালিবের নেতৃত্বে ৮৩ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী হিজরত করেছিলেন।

٩- بيّن المؤاخاة بين الأنصار والمهاجرين-

[৯. আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টির বর্ণনা দাও।]

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদীনায় হিজরতের পর সর্বস্বান্ত নিঃসম্বল মুহাজিরদের পুনর্বাসন এবং ইসলামি ঐক্যের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর গৃহে এক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্ব সম্মেলন আহ্বান করেন। সেখানে মক্কার একজন মুহাজিরের সাথে মদীনার একজন আনসারের মধ্যে রক্তের ভাইয়ের মতো আত্মিক ভ্রাতৃত্ব (মুআখাত) প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হয়। আনসার সাহাবীগণ তাঁদের ধন-সম্পদ, ঘরবাড়ি ও জমিজমার অর্ধেক সানন্দে মুহাজির ভাইদের লিখে দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে ত্যাগের এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।


١٠- تحدث عن غدر بني قريظة-

[১০. বনু কুরাইযার চুক্তি ভঙ্গকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

খন্দক যুদ্ধের সময় মদীনা রাষ্ট্রের জন্য চরম অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয়েছিল। মদীনা সনদের অন্তর্ভুক্ত মদীনার শক্তিশালী ইহুদি গোত্র বনু কুরাইযা পেছন থেকে মদীনা রক্ষা করার শপথবদ্ধ ছিল। কিন্তু তারা কুরাইশ ও শত্রুসেনাদের প্ররোচনায় এসে খন্দক যুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে বিশ্বাসঘাতকতা করে মুসলিমদের পেছন থেকে আক্রমণের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। খন্দক যুদ্ধ শেষে আল্লাহর নির্দেশে মুসলিম বাহিনী বনু কুরাইযার দুর্গ ২৫ দিন অবরুদ্ধ করে রাখে। অতঃপর তাদের সাবেক মিত্র সা’দ ইবনে মু’আয (রা.)-এর তাওরাতসম্মত ঐতিহাসিক ফয়সালা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধী পুরুষদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।


١١- اكتب أسماء أزواجه صلى الله عليه وسلم-

[১১. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র স্ত্রীগণের (উম্মাহাতুল মুমিনীন) নাম লেখ।]

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মানিতা ১১ জন পবিত্র স্ত্রী (উম্মাহাতুল মুমিনীন)-এর নাম ক্রমানুসারে নিম্নরূপ:

  1. হযরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)
  2. হযরত সাওদা বিনতে যাম’আহ (রা.)
  3. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা বিনতে আবি বকর (রা.)
  4. হযরত হাফসা বিনতে উমর (রা.)
  5. হযরত যাইনাব বিনতে খুযায়মাহ (রা.) [উম্মুল মাসাকীন]
  6. হযরত উম্মে সালামাহ হেন্দ বিনতে আবি উমাইয়্যা (রা.)
  7. হযরত যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা.)
  8. হযরত জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস (রা.)
  9. হযরত উম্মে হাবীবা রমলা বিনতে আবি সুফিয়ান (রা.)
  10. হযরত সফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রা.)
  11. হযরত মায়মূনা বিনতে আল-হারিস (রা.)

١٢- اكتب حادثة الطائف بالإيجاز-

[১২. তায়েফের ঐতিহাসিক ঘটনা সংক্ষেপে লেখ।]

নবুওয়াতের ১০ম বর্ষে তাঁর প্রধান দুই আশ্রয়দাতা আবু তালিব ও হযরত খাদিজা (রা.)-এর ওফাত ঘটে (আমুল হুযন বা শোকের বছর)। এ সময় কুরাইশদের অত্যাচার বেড়ে যাওয়ায় রাসূলুল্লাহ (সা.) আশ্রয়ের আশায় ও ইসলাম প্রচারের জন্য যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.)-কে সাথে নিয়ে তায়েফে গমন করেন। কিন্তু তায়েফের সর্দাররা (আব্দ ইয়ালীল প্রমুখ) তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে দুষ্ট বখাটে ছেলেদের লেলিয়ে দেয়। তারা পাথর নিক্ষেপ করে আল্লাহর রাসূলকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। রক্তে তাঁর জুতো মুবারক আটকে যায়। এই চরম নির্যাতনের পরও পাহাড়ের ফেরেশতা যখন তায়েফবাসীকে ধ্বংস করার অনুমতি চায়, তখন রহমাতুল্লিল আলামীন নবী ক্ষমা করে দিয়ে বলেন: “আমি আশা করি তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন মানুষ আসবে যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।”


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ অধ্যয়নের প্রধান গুরুত্ব কী?

সীরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা বাস্তব জীবনে অনুধাবন করা যায়, রাসূল (সা.)-এর পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ অর্জন করা যায় এবং খাঁটি ঈমানের ভিত্তি রচিত হয়।

২. হুদায়বিয়ার সন্ধিকে ‘ফাতহুম মুবীন’ (প্রকাশ্য বিজয়) বলা হয়েছে কেন?

এ চুক্তির ফলে মক্কার সাথে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়, মদীনা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হাজার হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে।

৩. ইসলামের সর্বপ্রথম ওহী কোন গুহায় অবতীর্ণ হয়েছিল?

নবুওয়াতের প্রাক্কালে ৬১০ খ্রিস্টাব্দের রমজান মাসে মক্কার জাবালে নূরের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘হেরা গুহায়’ জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত অবতীর্ণ হয়।

৪. ‘মুআখাত’ বলতে কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে বোঝায়?

মদীনায় হিজরতের পর স্বর্বস্বান্ত মুহাজিরদের পুনর্বাসন ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে মদীনার আনসার ও মক্কার মুহাজিরদের মাঝে রাসূল (সা.) যে আত্মিক ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন তাকে মুআখাত বলে।

৫. তায়েফের ঘটনায় মহানবী (সা.)-এর চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?

চরম শারীরিক নির্যাতন ও রক্তাক্ত হওয়ার পরও বদদোয়া না করে তায়েফবাসীর হেদায়েতের জন্য দু’আ করার মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর অনুপম ধৈর্য, ক্ষমা ও পরম দয়ালু চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

৬. উম্মাহাতুল মুমিনীন কারা?

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মানিতা স্ত্রীগণকে ইসলামি শরীয়াহ ও কুরআনের পরিভাষায় ‘উম্মাহাতুল মুমিনীন’ বা সকল মুমিনদের মাতা বলা হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *