জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল কুরআন (Ulumul Quran) – 201205, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2020

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৩৫ মিনিট পড়ার সময়
১৪ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2020
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن)
বিষয় কোড: 201205 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ হতে যে কোনো চারটি এবং (খ) অংশ হতে যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

١- ماذا تفهم بعلوم القرآن؟ بيّن نشأة علوم القرآن وتطورها عبر العصور مع ذكر ثلاثة من اشهر المؤلفات فى علوم القرآن-

[১. ‘উলূমুল কুরআন’ বলতে কী বোঝায়? উলূমুল কুরআনের উৎপত্তি ও যুগের পরিক্রমায় এর ক্রমবিকাশ বর্ণনা কর। এ বিষয়ে তিনটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থের বর্ণনা দাও।]

ক. উলূমুল কুরআনের পরিচয়:

  1. শাব্দিক অর্থ: ‘উলূম’ (علوم) শব্দটি ‘ইলম’ (علم)-এর বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞান, বিজ্ঞান বা শাস্ত্রসমূহ। আর ‘আল-কুরআন’ (القرآن) হলো আল্লাহর কালাম। অতএব শাব্দিক অর্থ কুরআনিক জ্ঞান বা কুরআন সম্পর্কিত শাস্ত্রসমূহ।
  2. পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা বদরুদ্দীন যারকাশী (রহ.) ও ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর মতে:

    هُوَ عِلْمٌ يَتَنَاوَلُ الْأَبْحَاثَ الْمُتَعَلِّقَةَ بِالْقُرْآنِ الْكَرِيمِ مِنْ حَيْثُ نُزُولُهُ وَكِتَابَتُهُ وَجَمْعُهُ وَتَرْتِيبُهُ وَمَكِّيُّهُ وَمَدَنِيُّهُ وَنَاسِخُهُ وَمَنْسُوخُهُ وَمُحْكَمُهُ وَمُتَشَابِهُهُ وَإِعْجَازُهُ

    “উলূমুল কুরআন হলো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্র যা কুরআন মাজীদের অবতরণ, সংকলন, বিন্যাস, মক্কী-মাদানী, নাসিখ-মানসূখ, মুহকাম-মুতাশাবিহ, কিরাত, বালাগাত এবং অলৌকিকত্ব (ই’জায) সম্পর্কিত যাবতীয় মৌলিক গবেষণা ও জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে।”

খ. উলূমুল কুরআনের ক্রমবিকাশ:

  1. নবুওয়াতী ও সাহাবা যুগ: রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শাস্ত্র কোনো লিখিত পুস্তকরূপে ছিল না, বরং তা তাঁদের স্মৃতিতে ও আমলি জীবনে সংরক্ষিত ছিল। হযরত আলী (রা.), ইবনে আব্বাস (রা.), ইবনে মাসউদ (রা.) ও উবাই ইবনে কা’ব (রা.) ছিলেন এ জ্ঞানের প্রধান উৎস।
  2. তাবেয়ী ও সংকলন যুগ: হিজরী দ্বিতীয় শতক থেকে মুজাহিদ (রহ.), ক্বাতাদাহ (রহ.) ও হাসান বসরী (রহ.) প্রমুখ তাফসির ও উলূমুল কুরআনের বিচ্ছিন্ন অধ্যায়সমূহ লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন। হিজরী ৩য় ও ৪র্থ শতকে বিভিন্ন বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয় (যেমন নাসিখ-মানসূখ, মক্কী-মাদানী ইত্যাদি)।
  3. পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্রীয় যুগ: সপ্তম ও অষ্টম হিজরীতে সমস্ত শাখাকে একত্রিত করে একটি সামগ্রিক বিশ্বকোষীয় শাস্ত্রে রূপদান করা হয়।

গ. উলূমুল কুরআনের তিনটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ:

  • ১. আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন (البرهان في علوم القرآن): ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী (রহ. মৃত ৭৯৪ হি.) রচিত। এতে উলূমুল কুরআনের ৪৭টি মৌলিক শাখার গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে।
  • ২. আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন (الإتقان في علوم القرآن): ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ. মৃত ৯১১ হি.) রচিত। এটি উলূমুল কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক প্রামাণ্য ৮০টি অধ্যায়ে বিভক্ত বিশ্বকোষ।
  • ৩. মানাহিলুল ইরফান ফি উলূমিল কুরআন (مناهل العرفان في علوم القرآن): আধুনিক যুগের প্রখ্যাত মিশরীয় পণ্ডিত শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল আজিম আয-যারক্বানী (রহ.) রচিত। সমসাময়িক প্রাচ্যবিদদের অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব এবং যুক্তিভিত্তিক আলোচনা এ গ্রন্থের মূল বৈশিষ্ট্য।

٢- ما المراد بنزول القرآن على سبعة احرف؟ وما الاختلاف فيها؟ وما الحكمة فيها؟ بيّن-

[২. ‘কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ’ (نزول القرآن على سبعة أحرف) বলতে কী বোঝায়? এ সম্পর্কে ওলামাদের মতবিরোধ এবং এর হেকমত কী? বর্ণনা কর।]

ক. হাদিসের আলোকে পরিচয়:

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত উমর (রা.) ও উবাই ইবনে কা’ব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয় এ কুরআন সাত হরফে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে; অতএব তোমরা এর মধ্য থেকে যেভাবে সহজ হয় সেভাবে পাঠ কর।”

খ. ‘সাব’আতু আহরুফ’-এর মর্মার্থ নিয়ে মতভেদ:

আল্লামা সুয়ূতী (রহ.) এ বিষয়ে প্রায় ৪০টি অভিমত উল্লেখ করেছেন। প্রধান ও গ্রহণযোগ্য মতসমূহ:

  1. আরবের সাতটি প্রধান উপভাষা (লুগাত): অধিকাংশ ভাষাবিদ ও মুহাদ্দিসের মতে, তৎকালীন আরবের কুরাইশ, হুযাইল, সাক্বীফ, হাওয়াযিন, কিনানাহ, তামীম এবং ইয়েমেন—এই সাতটি প্রভাবশালী গোত্রের বাচনভঙ্গি ও উপভাষাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল।
  2. অর্থগত পরিবর্তনের সাতটি বৈচিত্র্য: ইবনুল জাযারী (রহ.) ও ইমাম বাযী (রহ.)-এর মতে, সাত হরফ দ্বারা সাত ধরনের ভাষাগত রূপভেদ বোঝায়: ইসমের পরিবর্তন (একবচন/দ্বিবচন/বহুবচন), ফিলের পরিবর্তন (মাদী/মুদারে/আমর), ইরাবের পরিবর্তন, হরফের হ্রাস-বৃদ্ধি, অগ্র-পশ্চাতকরণ, ইবদাল এবং লাহজা বা উচ্চারণের রূপভেদ (ইমালাহ, তাফখীম, তারকীক ইত্যাদি)।

গ. সাত হরফে অবতীর্ণের হেকমত বা গুরুত্ব:

  • উম্মতের জন্য সহজীকরণ: প্রাচীন আরবের বিভিন্ন গোত্রের উচ্চারণভঙ্গি ও বাচনরীতি ভিন্ন ছিল। বৃদ্ধ, নারী ও নিরক্ষর বেদুইনদের জন্য একই উপভাষায় কুরআন তিলাওয়াত কষ্টকর হতো। আল্লাহ তা’আলা রহমতস্বরূপ সাত উপভাষায় পড়ার অনুমতি দিয়ে কুরআন শিক্ষা সহজ করে দেন।
  • কুরআনের সাহিত্যিক মু’জিযা প্রমাণ: বিভিন্ন উপভাষায় পাঠের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আরবের কোনো কবি বা সাহিত্যিক কুরআনের একটি ছোট সূরার সমকক্ষ রচনা করতে পারেনি।

٣- عرف المجاز والكناية في القرآن- اكتب وجودهما فى القرآن بالدلائل مع ذكر الاجابة على من انكره-

[৩. কুরআনে ‘আল-মাজায’ ও ‘আল-কিনায়াহ’-এর পরিচয় দাও। দলিলসহ কুরআনে এদের অস্তিত্ব প্রমাণ কর এবং অস্বীকারকারীদের জবাব দাও।]

ক. পরিচয়:

  1. আল-মাজায (المجاز): কোনো শব্দকে তার মূল আভিধানিক অর্থে ব্যবহার না করে অন্য কোনো অর্থের সাথে সম্পর্কযুক্ত (ক্বারীনাহ) কারণে রূপক অর্থে ব্যবহার করাকে মাজায বলে। যেমন কুরআনের আয়াত: “ওয়াসআলিল ক্বারইয়াহ” (জনপদকে জিজ্ঞাসা কর—সূরা ইউসুফ: ৮২)। এখানে জনপদ নয়, বরং জনপদের অধিবাসীদের জিজ্ঞাসা করার কথা বলা হয়েছে।
  2. আল-কিনায়াহ (الكناية): কোনো শব্দকে এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে তার মূল অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হওয়ার পাশাপাশি তার পেছনের একটি প্রচ্ছন্ন বা ইঙ্গিতময় অর্থ প্রকাশ পায়। যেমন কুরআনে স্ত্রী সহবাস বোঝাতে স্পর্শ করা (লামাসতুমুন নিসা) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

খ. অস্বীকারকারীদের যুক্তি ও তার দাঁতভাঙা জবাব:

  • অস্বীকারকারীদের দাবি: ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর অনুসারী কতিপয় আলেম বলেন, মাজায মানে সত্যের বিপরীত (মিথ্যা); আর আল্লাহর কালাম সকল প্রকার অসত্য ও মিথ্যার বহু ঊর্ধ্বে, তাই কুরআনে মাজায নেই।
  • জমহুর ওলামাদের জবাব: আল্লামা যারকাশী ও ইমাম সুয়ূতী বলেন, মাজায কোনো মিথ্যা নয়, বরং এটি আরবি ভাষার সর্বোচ্চ অলংকার ও সাহিত্যিক সৌন্দর্য। যদি আরবি ভাষা থেকে মাজায উঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে ভাষার অর্ধেক সৌন্দর্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কুরআন সর্বোত্তম আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে; তাই কুরআনে ‘জিদারান ইউরিদু আইয়ানফাদ্বা’ (প্রাচীর যা ভেঙে পড়তে চায়—সূরা কাহফ) জাতীয় অসংখ্য আয়াত দ্ব্যর্থহীনভাবে মাজাযের জীবন্ত প্রমাণ।

٤- عرف المنطوق والمفهوم- وكم قسما لهما؟ وما الاختلاف فى الاحتجاج بالمفهوم؟ بيّن مفصلا-

[৪. ‘আল-মানতূক্ব’ এবং ‘আল-মাফহূম’-এর পরিচয় দাও। এরা কত প্রকার? মাফহূম দ্বারা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে মতবিরোধ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ক. পরিচয় ও প্রকারভেদ:

  1. আল-মানতূক্ব (المنطوق): কোনো বাক্যে উচ্চারিত সুস্পষ্ট শব্দের প্রত্যক্ষ অর্থকে মানতূক্ব বলা হয়। যেমন: “পিতামাতাকে ‘উফ’ শব্দটিও বলবে না।” এর প্রত্যক্ষ অর্থ হলো মুখ দিয়ে ‘উফ’ বা বিরক্তি প্রকাশ করা নিষেধ।
    • প্রকারভেদ: সরীহ (স্পষ্ট) ও গাইরে সরীহ (ইঙ্গিতময়—যেমন দালালাতুল ইশারা, ইক্তিদা ও তানবীহ)।
  2. আল-মাফহূম (المفهوم): উচ্চারিত শব্দের বাইরে অন্তর্নিহিত ভাব বা অনুচ্চারিত অর্থকে মাফহূম বলে। যেমন: ‘উফ’ বলা নিষেধ হলে পিতামাতাকে প্রহার করা বা গালি দেওয়া আরও বেশি কঠোরভাবে হারাম।
    • প্রকারভেদ:
      • মাফহূমে মুওয়াফাকাত (مفهوم الموافقة): যেখানে অনুচ্চারিত হুকুম উচ্চারিত হুকুমের অনুরূপ বা তার চেয়েও শক্তিশালী হয় (ফাহওয়াল খিতাব বা লাহনুল খিতাব)।
      • মাফহূমে মুখালাফাত (مفهوم المخالفة): যেখানে অনুচ্চারিত হুকুম উচ্চারিত হুকুমের বিপরীত হয়। যেমন: “তোমরা স্বাধীন মুমিন নারী বিয়ে কর” থেকে বোঝা যায় যে স্বাধীন অমুসলিম নারীকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ।

খ. মাফহূমে মুখালাফাত দ্বারা দলিল গ্রহণে ফুক্বাহাদের মতভেদ:

  • জমহুর ফুক্বাহায়ে কেরাম (শাফিয়ী, মালেকী, হাম্বলী): শর্তসাপেক্ষে শরীয়তের হুকুম প্রমাণের ক্ষেত্রে মাফহূমে মুখালাফাতকে অকাট্য প্রমাণ (হুজ্জাত) হিসেবে গ্রহণ করেন।
  • হানাফি ফুক্বাহায়ে কেরাম: শরীয়তের আইনি বিধান (আহকাম) প্রমাণের ক্ষেত্রে মাফহূমে মুখালাফাতকে স্বতন্ত্র দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন না; তবে আভিধানিক অর্থ স্পষ্টকরণে একে সহায়ক মনে করেন।

٥- ما معنى القسم لغة واصطلاحًا؟ وكم نوعًا للقسم وما صيغته؟ اذكر فوائد القسم في القرآن؟

[৫. ‘আল-ক্বাসাম’-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? ক্বাসাম কত প্রকার ও এর সীগাহ কী কী? কুরআনে ক্বাসামের উপকারিতা আলোচনা কর।]

ক. ক্বাসামের অর্থ ও প্রকারভেদ:

  1. শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ: ‘ক্বাসাম’ (القسم) অর্থ শপথ, হলফ বা কসম খাওয়া। পরিভাষায়, শপথের সুনির্দিষ্ট হরফ বা ক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো মহিমান্বিত সত্তা বা বস্তুকে সাক্ষী রেখে নিজের বক্তব্যকে শ্রোতার নিকট জোরালো ও সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করাকে ক্বাসাম বলা হয়।
  2. ক্বাসামের প্রকারভেদ:
    • ক্বাসামে যাহের (القسم الظاهر): যেখানে শপথের ক্রিয়া ও হরফ সুস্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়। যেমন: “ফালা উকসিমু বিমাওয়াকি’ইন নুজূম” (সূরা আল-ওয়াক্বিয়া)।
    • ক্বাসামে মুদমার (القسم المضمر): যেখানে শপথের হরফ গোপন থাকে কিন্তু লামে তাকীদ ও নূনে সাক্বীলাহ দ্বারা তা বোঝা যায়। যেমন: “লাতুবলাউন্না ফি আমওয়ালিকুম” (সূরা আলে ইমরান: ১৮৬)।
  3. ক্বাসামের সীগাহ ও হরফ: আরবিতে ক্বাসামের তিনটি প্রধান হরফ রয়েছে: ওয়াও (و), বা (ب), তা (ت)। যেমন: ওয়াল্লাহি, বিল্লাহি, তাল্লাহি।

খ. কুরআনে ক্বাসাম ব্যবহারের উপকারিতা:

  • দাবি ও বাণীর সত্যতা সুদৃঢ়করণ: সত্য অস্বীকারকারী ও সংশয়গ্রস্ত শ্রোতার অন্তরে সন্দেহ দূর করে আল্লাহর বাণীর অকাট্য সত্যতা গভীরভাবে প্রোথিত করা।
  • শপথকৃত বস্তুর মর্যাদা ও মহিমা প্রকাশ: আল্লাহ যখন ডুমুর, জয়তুন, আসর বা সময়ের শপথ করেন, তখন মানবজাতিকে সেই সৃষ্টির গভীর উপকারিতা ও মাহাত্ম্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করার তাগিদ দেন।

٦- عرف الجدل- اكتب انواع مناظرات القرآن وادلتها وطريقة القرآن فى المناظرة-

[৬. ‘আল-জাদাল’-এর পরিচয় দাও। কুরআনের বিতর্ক বা মুনাযারার প্রকারগুলো দলিলসহ লেখ। মুনাযারার ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি বর্ণনা কর।]

ক. আল-জাদালের পরিচয়:

‘আল-জাদাল’ (الجدل) শব্দের আভিধানিক অর্থ বিতর্ক করা বা রশি মজবুত করে পাকানো। পরিভাষায়, যুক্তি-প্রমাণ, তথ্য ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ভ্রান্ত আকিদা খণ্ডন করে সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার শাস্ত্রীয় তর্কপদ্ধতিকে জাদাল বা মুনাযারা বলা হয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “ওয়াজাদিলহুম বিল্লাতী হিয়া আহসান” (আর তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়—সূরা আন-নাহল: ১২৫)।

খ. কুরআনের মুনাযারার প্রকারভেদ:

  1. মুশরিকদের সাথে একত্ববাদের মুনাযারা: মূর্তিপূজার অসারতা প্রমাণের জন্য ইব্রাহিম (আ.)-এর ঐতিহাসিক যুক্তি: “তোমরা কি এমন বস্তুর পূজা কর যা শোনে না এবং দেখে না?” (সূরা মারইয়াম: ৪২)।
  2. পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের সাথে মুনাযারা: যারা বলে মাটিতে পচে যাওয়ার পর কে জীবিত করবে, তাদের জবাবে কুরআনের যুক্তি: “বলুন, তিনিই জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন।” (সূরা ইয়াসীন: ৭৯)।
  3. আহলে কিতাবদের সাথে মুনাযারা: খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদ খণ্ডন করে ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল হিসেবে প্রমাণের যুক্তিপূর্ণ সংলাপ।

গ. মুনাযারার ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি:

কুরআন কখনো গালাগালি বা বিদ্বেষমূলক তর্কে লিপ্ত হয় না; বরং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সৃষ্টিজগত, মানব সৃষ্টির রহস্য, ইতিহাস এবং বুদ্ধিভিত্তিক অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিবেককে জাগ্রত করে পরম সত্যের সামনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে।


مجموعة (ب) – খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

٧- ماذا تفهم باسباب النزول؟ بيّن فوائد معرفتها-

[৭. শানে নুযুল বা আসবাবুন নুযুল বলতে কী বোঝায়? আসবাবুন নুযুল জানার উপকারিতাসমূহ বর্ণনা কর।]

পরিচয়: যে নির্দিষ্ট ঘটনা, সমস্যা বা সাহাবীদের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে কুরআনের এক বা একাধিক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল, তাকে আসবাবুন নুযুল (أسباب النزول) বলে।

উপকারিতা:

  • আয়াতের সঠিক ও মূল অর্থ অনুধাবন করতে সাহায্য করে। ইমাম ওয়াহিদী (রহ.) বলেন: “আসবাবুন নুযুল জানা ব্যতীত কোনো আয়াতের তাফসির করা সম্ভব নয়।”
  • শরীয়তের কোনো হুকুমের পেছনে কী প্রজ্ঞা ও তাৎপর্য রয়েছে তা স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়।
  • আয়াতের হুকুম কি নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নাকি সমগ্র উম্মতের জন্য সাধারণ, তা নিরূপণ করা যায়।

٨- عرف الرسم العثمانى-

[৮. ‘আর-রাসমুল উসমানী’ বা উসমানি লিপিকলার পরিচয় দাও।]

তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত ঐকমত্যের (ইজমা) ভিত্তিতে কুরাইশ উপভাষার নিয়মে পবিত্র কুরআন যে সুনির্দিষ্ট বানানরীতি ও লিপিপদ্ধতিতে সংকলিত হয়েছিল, তাকে আর-রাসমুল উসমানী (الرسم العثماني) বলা হয়। ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান যুগেও কুরআন মুদ্রণ ও লেখার ক্ষেত্রে উসমানি বানানরীতি হুবহু সংরক্ষণ করা ওয়াজিব এবং এতে কোনো পরিবর্তন করা নাজায়েজ।


٩- عرف المتشابه فى القرآن- هل يعلم تأويله غير الله؟ بيّن-

[৯. কুরআনের ‘মুতাশাবিহ’-এর পরিচয় দাও। এর ব্যাখ্যা কি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে? বর্ণনা কর।]

  1. পরিচয়: যে সকল আয়াত বা শব্দের মূল অর্থ অস্পষ্ট, প্রচ্ছন্ন এবং মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির নাগালের বাইরে—যেমন হুরুফে মুকাত্তা’আত (الم، يس) এবং আল্লাহর সিফাত সংক্রান্ত বিষয়—তাকে মুতাশাবিহ (المتشابه) বলা হয়।
  2. তা’বীল জানার ক্ষেত্রে মতভেদ: সূরা আলে ইমরানের ৭ম আয়াতের ওয়াকফ নিয়ে মতভেদ রয়েছে:
    • সালফে সালেহীনগণের মত: ‘ইল্লাল্লাহ’ শব্দের ওপর ওয়াকফে লাযিম করে বলেন—মুতাশাবিহের প্রকৃত ব্যাখ্যা কেবলমাত্র আল্লাহ তা’আলাই জানেন; মানুষ কেবল এর ওপর ঈমান রাখবে।
    • মুজাহিদ ও গভীর জ্ঞানীদের মত: আয়াতে ‘ওয়ার রাসিখূনা ফিল ইলম’ শব্দকে আল্লাহর সাথে মা’তুফ করে বলেন—গভীর জ্ঞানের অধিকারী ওলামায়ে কেরামও আল্লাহর অনুগ্রহে মুতাশাবিহের সঠিক অর্থ অবগত হতে পারেন।

١٠- اذكر فوائد الامثال في القرآن-

[১০. কুরআনে দৃষ্টান্তসমূহ (আল-আমসাল) উল্লেখের উপকারিতা আলোচনা কর।]

  • কঠিন ও দূরবর্তী আধ্যাত্মিক সত্যকে মানুষের চাক্ষুষ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উপমার মাধ্যমে সহজবোধ্য করা।
  • উপমা মানুষের কল্পনা ও অনুভূতিতে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে নসীহত গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।
  • মানুষের স্মৃতিতে জ্ঞানকে দীর্ঘস্থায়ী করে রাখা।

١١- اذكر انواع قصص القرآن-

[১১. কুরআনের ঘটনাবলি বা ‘ক্বাসাসুল কুরআন’-এর প্রকারভেদ আলোচনা কর।]

কুরআনে বর্ণিত কাহিনীরীতি প্রধানত তিন প্রকার:

  1. পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরামের কাহিনী: হযরত আদম, নূহ, ইব্রাহিম, মুসা, ঈসা (আ.) প্রমুখ নবীদের দাওয়াত এবং তাঁদের উম্মতদের পরিণতির ইতিহাস।
  2. অতীত জাতি ও ব্যক্তিত্বের কাহিনী: আসহাবে কাহাফ, যুলকারনাইন, কারূন, লুকমান হাকীম, আসহাবুল ফীল প্রভৃতির ঘটনা।
  3. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগের সমকালীন ঘটনাবলি: বদর যুদ্ধ, ওহুদ যুদ্ধ, হুনাইন, হিজরত ও মিরাজের মতো বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনাবলি।

١٢- اكتب اسماء القراء السبعة-

[১২. সুপ্রসিদ্ধ সাতজন ক্বারীর (আল-কুররাউস সাব’আহ) নাম উল্লেখ কর।]

ইসলামের ইতিহাসে সাব’আহ কিরাতের প্রামাণ্য ৭ জন মহান ইমাম হলেন:

  1. ইমাম নাফি’ আল-মাদানী (রহ.) – মদীনা মুনাওয়ারা
  2. ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে কাসির আল-মাক্কী (রহ.) – মক্কা মুকাররমা
  3. ইমাম আবু আমর ইবনুল আলা আল-বাছরী (রহ.) – বাছরা
  4. ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে আমির আদ-দিমাশক্বী (রহ.) – দামেশক/সিরিয়া
  5. ইমাম আসিম ইবনে আবি আন-নাজূদ আল-কূফী (রহ.) – কূফা
  6. ইমাম হামযাহ ইবনে হাবীব আয-যাইয়্যাত আল-কূফী (রহ.) – কূফা
  7. ইমাম আলী ইবনে হামযাহ আল-কিসাঈ আল-কূফী (রহ.) – কূফা

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উলূমুল কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ কোনটি?

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) রচিত ‘আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন’ (الإتقان في علوم القرآن) হলো উলূমুল কুরআনের সর্বাধিক প্রামাণ্য ও পূর্ণাঙ্গ মৌলিক গ্রন্থ।

২. ‘সাব’আতু আহরুফ’ বলতে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত কোনটি?

সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী সাব’আতু আহরুফ হলো তৎকালীন আরবের সাতটি প্রধান গোত্রীয় উপভাষা এবং শব্দের অর্থগত পরিবর্তনের সাতটি ব্যাকরণিক রূপভেদ।

৩. কুরআনে কি রূপক অর্থ বা ‘মাজায’ বিদ্যমান?

হ্যাঁ, জমহুর ওলামা ও ভাষাবিদদের সর্বসম্মত অভিমত অনুযায়ী আরবি অলংকারশাস্ত্রের অনন্য প্রকাশ ও সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে কুরআনে মাজায ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।

৪. ‘আর-রাসমুল উসমানী’ রক্ষা করা কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ, সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যের (ইজমা) ভিত্তিতে সংরক্ষিত হযরত উসমান (রা.)-এর নির্ধারিত লিপিকলা অনুযায়ী কুরআন মুদ্রণ ও লিপিবদ্ধ করা অপরিহার্য।

৫. ‘মুহকাম’ ও ‘মুতাশাবিহ’-এর পার্থক্য কী?

‘মুহকাম’ হলো এমন আয়াত যার অর্থ সুস্পষ্ট ও অকাট্য; পক্ষান্তরে ‘মুতাশাবিহ’ হলো এমন আয়াত যার গভীর মর্ম প্রচ্ছন্ন ও মানুষের বাহ্যিক উপলব্ধির ঊর্ধ্বে।

৬. সাব’আ কিরাতের সবচেয়ে প্রচলিত কিরাত কোনটি?

বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে পঠিত ও অনুসৃত কিরাত হলো ইমাম আসিম আল-কূফীর সূত্রে তাঁর ছাত্র ইমাম হাফস (রহ.)-এর রেওয়ায়েত (কিরাতে আসিম বি রিওয়ায়াতি হাফস)।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *