জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (As-Sirah An-Nabawiyyah) – 201204, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2022

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪৬ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2022
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (السيرة النبوية)
বিষয় কোড: 201204 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: مجموعة (الف) হতে চারটি এবং مجموعة (ب) হতে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

١- عرف السيرة- وما المراد بالسيرة النبوية؟ وما مكانتها؟ ولم مست الحاجة إلى دراستها؟ بين-

[১. السيرة এর সংজ্ঞা দাও। السيرة النبوية বলতে কী বোঝায়? এর মর্যাদা কী ও তা পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী? বর্ণনা কর।]

ক. সীরাত ও সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ-এর পরিচয়:

  1. সীরাত (السيرة)-এর আভিধানিক অর্থ: চলার পথ (الطريقة), আচরণ (السلوك), চরিত্র, অবস্থা বা কারো সামগ্রিক জীবনবৃত্তান্ত।
  2. সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (السيرة النبوية)-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন্নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা ﷺ-এর জন্মপূর্ববর্তী অবস্থা, শুভ জন্ম, শৈশব, কৈশোর, চরিত্র, নবুওয়াত লাভ, মক্কী ও মাদানী জীবনের ঐতিহাসিক দাওয়াত, জিহাদ, রাজনৈতিক সন্ধি এবং ওফাত পর্যন্ত সমগ্র পবিত্র ও বাস্তব জীবনের প্রামাণ্য ইতিহাসকে আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ বলা হয়।

খ. সীরাতের মর্যাদা ও অবস্থান:

ইসলামী জ্ঞানের ভাণ্ডারে কুরআনে কারীম ও হাদীস শরীফের পরেই সীরাতের স্থান। কারণ কুরআন মাজীদ হলো ঐশী জীবনবিধানের মূল তত্ত্বকথা, আর সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ হলো সেই তত্ত্বকথার জীবন্ত ও বাস্তব রূপায়ণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন ছিল কুরআনের ব্যবহারিক প্রতিচ্ছবি (‘কা-না খুলুক্বুহুল কুরআন’)।

গ. সীরাত পাঠের প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতা:

  • কুরআন বোঝার অনিবার্য মাধ্যম: কুরআনের বহু আয়াত বিশেষ বিশেষ ঘটনা ও প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে (শানে নুযূল) অবতীর্ণ হয়েছে, যা সীরাত অধ্যয়ন ব্যতীত জানা অসম্ভব।
  • আদর্শিক জীবনের অনুসরণ (উসওয়াতুন হাসানাহ): ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সর্বোত্তম আদর্শ অনুসরণ করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।
  • ঈমানের গভীরতা ও প্রেম বৃদ্ধি: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ত্যাগ, কষ্ট ও ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করলে হৃদয়ে তাঁর প্রতি গভীর মহব্বত জাগ্রত হয়, যা ঈমানের অন্যতম শর্ত।
  • ইসলামী দাওয়াতের কর্মকৌশল নির্ধারণ: প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে দ্বীনের দাওয়াত বিস্তার করতে হয়, তা সীরাতের প্রতিটি বাঁকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

٢- اكتب الحالات الدينية والاجتماعية والثقافية قبل مبعث النبى صلى الله عليه وسلم فى العرب-

[২. আরবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা লিপিবদ্ধ কর।]

ভূমিকা: প্রাক-ইসলামী যুগকে আরবের ইতিহাসে ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত’ (অজ্ঞতার যুগ) বলা হয়। নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে আরবের সার্বিক অবস্থা ছিল চরম পঙ্কিলতাপূর্ণ ও ধ্বংসোন্মুখ।

ক. ধর্মীয় অবস্থা (الحالة الدينية):

  1. মূর্তিপূজার ব্যাপকতা: ইবরাহীমী তাওহীদের পথ পরিত্যাগ করে আরবরা চরম পৌত্তলিকতায় নিমজ্জিত ছিল। পবিত্র কা’বা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। প্রধান প্রধান দেবদেবী ছিল লাত, মানাত, উযযা ও হুবাল।
  2. কুসংস্কার ও ভাগ্য গণনা: তীর নিক্ষেপ (আযলাম) এবং পাখির উড়াউড়ির ওপর নির্ভর করে ভালো-মন্দ ভাগ্য নির্ধারণ করত। এছাড়া কোনো কোনো অঞ্চলে অগ্নিপূজা ও বিকৃত ইহুদি-খ্রিস্টান ধর্মের প্রচলন ছিল।

খ. সামাজিক অবস্থা (الحالة الاجتماعية):

  1. নারীদের চরম অবমাননা: সমাজে নারীদের কোনো মানবিক অধিকার বা মর্যাদা ছিল না। কন্যাসন্তানের জন্মকে চরম লজ্জাজনক মনে করে বহু পাষাণ পিতা তাদের জীবন্ত কবর দিত (ওয়া’দুল বানাত)।
  2. রক্তক্ষয়ী গোত্রীয় যুদ্ধ: তুচ্ছ কারণে (যেমন ঘোড়াদৌড় বা উটের পানি পান) গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ বেধে যেত এবং তা বংশপরম্পরায় শত বছর স্থায়ী হতো (যেমন বাসূস ও দাভিস-গাবরার যুদ্ধ)।
  3. মদ্যপান, ব্যভিচার ও জুয়া: মদ ও জুয়া ছিল আরবের নিত্যনৈমিত্তিক বিনোদন। বহু প্রকার নিকৃষ্ট বৈবাহিক কুপ্রথা ও দাস-দাসীদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।

গ. সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক অবস্থা (الحالة الثقافية):

নৈতিক ও ধর্মীয় অধঃপতন থাকা সত্ত্বেও আরবদের অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, সহজাত বাগ্মিতা ও কাব্যপ্রতিভা ছিল। তারা উকাজ ও অন্যান্য মেলায় বার্ষিক সাহিত্য আসর বসাত। যে সাতটি শ্রেষ্ঠ কবিতা কা’বার প্রাচীরে সোনালী হরফে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো তাকে ‘সাব’আ মু’আল্লাক্বা’ বলা হতো। তাদের মধ্যে মেহমানদারী, সাহসিকতা ও অঙ্গীকার রক্ষার কিছু প্রশংসনীয় ঐতিহ্যও বিদ্যমান ছিল।


٣- لم اختارت خديجة النبى صلى الله عليه وسلم لتجارتها؟ تحدث عن زواجها معه-

[৩. হযরত খাদীজা (রা) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেন ব্যবসার জন্য নির্বাচন করলেন? তাঁর সাথে তাঁর বিয়ে সম্পর্কে আলোচনা কর।]

ক. খাদীজা (রা.) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নির্বাচনের কারণ:

মক্কার কুরাইশ বংশের সম্ভ্রান্ত, বিদুষী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী নারী ছিলেন হযরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.), যাঁকে পবিত্র চরিত্রের কারণে ‘তাহিরা’ (পবিত্রা) বলা হতো। তিনি নিজের ব্যবসার কাফেলা পরিচালনার জন্য বিশ্বস্ত লোক খুঁজতেন। তিনি তরুণ মুহাম্মাদ ﷺ-কে নির্বাচন করার কারণগুলো হলো:

  • মক্কাবাসীর মুখে মুহাম্মাদ ﷺ-এর অতুলনীয় সত্যবাদিতা (আস-সাদিক্ব) এবং বিশ্বস্ততার (আল-আমীন) সার্বজনীন সুনাম শ্রবণ করেছিলেন।
  • তাঁর চরিত্রের পবিত্রতা, বিনয় ও আমানতদারী খাদীজা (রা.)-কে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
  • তিনি দ্বিগুণ পারিশ্রমিকের চুক্তিতে তাঁর বিশ্বস্ত ভৃত্য ‘মায়সারা’সহ মুহাম্মাদ ﷺ-কে সিরিয়ায় বাণিজ্যিক কাফেলা নিয়ে পাঠান। মায়সারা বাণিজ্য সফরে নবীজির অলৌকিক গুণাবলী, সততা ও অভূতপূর্ব মুনাফা অর্জন প্রত্যক্ষ করে ফিরে এসে খাদীজা (রা.)-কে তা সবিস্তার অবহিত করে।

খ. বরকতময় বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার বিবরণ:

  1. বিয়ের প্রস্তাব: নবীজির সততা ও অনুপম চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে খাদীজা (রা.) তাঁর বান্ধবী নাফিসা বিনতে মুনাব্বিহের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে পরামর্শ করে সানন্দে প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
  2. বিবাহ অনুষ্ঠান: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বয়স তখন ২৫ বছর এবং খাদীজা (রা.)-এর বয়স ছিল ৪০ বছর। আবু তালিব বিয়ের খুতবা পাঠ করেন এবং ৫০০ স্বর্ণমুদ্রা বা ২০টি উটের বিনিময়ে মোহর ধার্য করে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
  3. পারিবারিক জীবন: খাদীজা (রা.) ছিলেন নবীজির প্রথম স্ত্রী। যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন নবীজি আর কোনো বিয়ে করেননি। তিনি ছিলেন ইসলামের সর্বপ্রথম আশ্রয়দাত্রী ও শান্তিদায়িনী সঙ্গিনী। ইবরাহীম ছাড়া নবীজির সকল সন্তান (কাসিম, আব্দুল্লাহ, যাইনব, রুক্বাইয়্যাহ, উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা) খাদীজা (রা.)-এর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করেন।

٤- كيف كان بداية الوحى على رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ وما اسلوب الدعوة إلى العرب بعده؟ بين مفصلا-

[৪. রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ওহির সূচনা কীভাবে হয়েছিল? অতঃপর আরবদের নিকট দাওয়াতের পদ্ধতি কী ছিল? সবিস্তার বর্ণনা কর।]

ক. ওহী অবতীর্ণের শুভ সূচনা (হেরা গুহায় ওহী নাযিল):

  1. সত্য স্বপ্ন দর্শন (আর-রুইয়া আস-সালিহা): নবুওয়াত লাভের পূর্বে ৬ মাস পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ যে স্বপ্ন দেখতেন, তা প্রত্যুষের উজ্জ্বল আলোর মতো হুবহু সত্যে পরিণত হতো।
  2. হেরা গুহায় নির্জনতা ও ধ্যান: মক্কার কোলাহল ও মূর্তিপূজার কুসংস্কার থেকে দূরে সরে তিনি জাবালে নূরের নির্জন হেরা গুহায় দিন-রাত একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা’আলার ধ্যানে (তাহান্নুছ) মগ্ন থাকতেন।
  3. প্রথম ওহীর অবতরণ (রমযান মাস, ৬১০ খ্রিষ্টাব্দ): ৪০ বছর বয়সে একদিন প্রধান ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল (আ.) হেরা গুহায় আবির্ভূত হয়ে বললেন—‘ইক্বরা’ (পড়ুন)। নবীজি বললেন—‘মা আনা বিক্বারী’ (আমি পাঠ করতে জানি না)। জিবরাঈল (আ.) তাঁকে তিনবার সজোরে বুকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন এবং ছেড়ে দিয়ে সূরা আল-আলাক্বের প্রথম ৫টি আয়াত তিলাওয়াত করেন:
    ﴿اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ۞ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ۞ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ۞ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ۞ عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ﴾

খ. আরবদের নিকট দাওয়াতের পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি (اسلوب الدعوة):

ওহী অবতীর্ণের পর দাওয়াত প্রধানত দুটি পর্যায়ে পরিচালিত হয়:

  1. গোপন দাওয়াত পর্ব (الدعوة السرية – ৩ বছর): হেরা গুহা থেকে ফিরে নবীজি প্রথমে নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে গোপনে তাওহীদের বাণী প্রচার করেন। প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন খাদীজা (রা.), পুরুষদের মাঝে আবু বকর (রা.), শিশুদের মাঝে আলী (রা.), এবং দাসদের মাঝে যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.)। তাঁরা গোপনে ‘দারুল আরক্বাম’-এ একত্রিত হয়ে নামায ও দ্বীন শিখতেন।
  2. প্রকাশ্য ও সর্বজনীন দাওয়াত পর্ব (الدعوة الجهرية): আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দেন: “ওয়া আনযির ‘আশীরাতাকাল আক্বরাবীন” এবং “ফাসদা’ বিমা তু’মার”। রাসূলুল্লাহ ﷺ সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে কুরাইশদের সকল গোত্রকে ডেকে প্রকাশ্যে এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনার এবং মূর্তিপূজা বর্জনের আহ্বান জানান। এতে কুরাইশরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তীব্র বিরোধিতা শুরু করে।

٥- تحدث عن خلفية الهجرة إلى الحبشة- وما كان عددهم؟ بين بالإيضاح-

[৫. হাবশায় হিজরতের প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। তাদের সংখ্যা কতজন ছিল? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

ক. হাবশায় হিজরতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

প্রকাশ্য দাওয়াত শুরুর পর মক্কার কুরাইশরা নওমুসলিম ও দুর্বল সাহাবীদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন শুরু করে। বিলাল (রা.), খাব্বাব (রা.), আম্মার ও তাঁর মা সুমাইয়া (রা.)-এর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে ৫ম নববী বর্ষে রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীগণকে বলেন: “তোমরা যদি হাবশায় (আবিসিনিয়া/ইথিওপিয়া) চলে যেতে! কেননা সেখানে এমন একজন বাদশাহ (নাজ্জাশী) আছেন যাঁর রাজ্যে কারও ওপর জুলুম করা হয় না।” দ্বীন ও জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে সাহাবায়ে কেরাম হাবশায় হিজরত করেন।

খ. হিজরতকারীদের সংখ্যা ও বিবরণ:

  1. প্রথম হিজরত (৫ম নববী বর্ষের রজব মাস): এটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। এতে মোট ১৬ জন সাহাবী অংশগ্রহণ করেন—১২ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) এবং সাথে ছিলেন নবীজির কন্যা হযরত রুক্বাইয়্যাহ (রা.)।
  2. দ্বিতীয় হিজরত (পরবর্তী পর্যায়ে): মক্কার নির্যাতন আরও তীব্র রূপ নিলে হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি বড় কাফেলা হাবশায় হিজরত করে। এতে মোট ১০১ জন (বা মতান্তরে ১০২ জন) সদস্য ছিলেন—৮৩ জন পুরুষ এবং ১৮ বা ১৯ জন নারী।
  3. বাদশাহ নাজ্জাশীর দরবারে জাফর (রা.)-এর ভাষণ: কুরাইশরা হাবশায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে মুসলিমদের ফিরিয়ে আনতে চাইলে হযরত জাফর (রা.) বাদশাহ নাজ্জাশীর দরবারে জাহেলিয়াতের অন্ধকার এবং ইসলাম ও সূরা মারইয়ামের আয়াত তিলাওয়াত করে শোনান। বাদশাহ কেঁদে ফেলেন এবং মুসলিমদের পূর্ণ নিরাপত্তা দান করেন।

٦- عرف الاسراء والمعراج؟ أثبت بالدلائل أنهما وقعا فى اليقظة لا فى الرؤيا-

[৬. الاسراء ও المعراج এর সংজ্ঞা দাও। দলিলাদি দ্বারা প্রমাণ কর যে, ইসরা ও মিরাজ স্বপ্নযোগে নয়, বরং জাগ্রত অবস্থায় সম্পন্ন হয়েছে।]

ক. ইসরা ও মি’রাজ-এর পরিচয়:

  1. আল-ইসরা (الإسراء): নবুওয়াতের দশম বা একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে আল্লাহর কুদরতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস (মসজিদুল আক্বসা) পর্যন্ত রাত্রিকালীন অলৌকিক ভ্রমণকে ইসরা বলে।
  2. আল-মি’রাজ (المعراج): উর্ধ্বগমনের সিঁড়ি। বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে শুরু করে সপ্ত আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা অতিক্রম করে মহান আল্লাহর আরশে আযীমে সান্নিধ্য লাভ এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের উপহার নিয়ে প্রত্যাবর্তনের অলৌকিক ভ্রমণকে মি’রাজ বলা হয়।

খ. ইসরা ও মি’রাজ জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে সংঘটিত হওয়ার প্রমাণাদি:

জমহুর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের সর্বসম্মত আক্বীদা হলো ইসরা ও মি’রাজ স্বপ্নযোগে নয়; বরং জাগ্রত অবস্থায় শরীর ও আত্মার সমন্বয়ে (بالروح والجسد يقظة) সংঘটিত হয়েছিল। এর অকাট্য দলীলসমূহ:

  1. ‘আবদ’ (বান্দা) শব্দের প্রয়োগ: সূরা বনী ইসরাঈলের ১ম আয়াতে বলা হয়েছে: ﴿سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا﴾। আরবি ভাষায় ‘আবদ’ কেবল রুহ বা আত্মাকে বলে না; বরং শরীর ও আত্মার যৌথ রূপকেই ‘আবদ’ বলা হয়।
  2. কুরাইশদের বিস্ময় ও বিরোধিতা: মি’রাজ যদি কেবল স্বপ্ন হতো, তবে কুরাইশরা এত তীব্র প্রতিবাদ করত না এবং একে অসম্ভব বলে বিদ্রূপ করত না; কারণ স্বপ্নে যেকোনো মানুষ যেকোনো স্থানে যেতে পারে, তাতে কোনো বিস্ময় বা অস্বীকারের সুযোগ থাকে না। কুরাইশদের এই চরম বিরোধিতাই প্রমাণ করে নবীজি জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে ভ্রমণের দাবি করেছিলেন।
  3. বোরাক্ব নামক বাহনের ব্যবহার: আত্মিক বা স্বপ্নভ্রমণের জন্য কোনো বাহনের প্রয়োজন হয় না। বোরাক্বের পিঠে আরোহণ এবং তাতে জিন লাগানোর ঘটনা শারীরিক ভ্রমণের অকাট্য প্রমাণ।
  4. পবিত্র কা’বার চত্বরে প্রত্যক্ষ বর্ণনা দান: কুরাইশরা যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের দরজা-জানালার বর্ণনা জানতে চেয়েছিল, তখন আল্লাহ তা’আলা তা নবীজির চোখের সামনে উন্মোচন করেন এবং তিনি জাগ্রত অবস্থায় তা এক এক করে নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছিলেন।

٧- ما معنى الغزوة لغة واصطلاحًا؟ ثم تحدث عن غزوة تبوك ونتيجتها-

[৭. الغزوة শব্দের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? অতঃপর غزوة تبوك ও এর ফলাফল আলোচনা কর।]

ক. আল-গাযওয়াহ (الغزوة)-এর সংজ্ঞা:

  1. শাব্দিক অর্থ: শত্রু নিধনের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো বা কোনো লক্ষ্য অর্জনে যুদ্ধযাত্রা করা।
  2. পারিভাষিক সংজ্ঞা: রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বয়ং নিজে যে সকল সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দান করেছিলেন এবং ময়দানে উপস্থিত ছিলেন, তাকে ইসলামী পরিভাষায় গাযওয়াহ (غزوة) বলা হয়। এগুলোর সংখ্যা প্রায় ২৭টি।

খ. ঐতিহাসিক তাবূক যুদ্ধ (৯ম হিজরী):

  1. যুদ্ধের কারণ ও প্রেক্ষাপট: রোমান বাইজেন্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান শক্তি স্তব্ধ করতে মদীনা আক্রমণের জন্য সীমান্তে এক বিশাল খ্রিস্টান সেনা সমাবেশ করে। সংবাদ পেয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ তীব্র গরম ও দুর্ভিক্ষের সময়ে দূরবর্তী সিরিয়া সীমান্তে তাবূক অভিযানের ঘোষণা দেন। একে ‘জাইশুল উসরাহ’ (অনটনের সেনাবাহিনী) বলা হয়। হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর সমুদয় সম্পদ এবং উসমান (রা.) বিপুল পরিমাণ উট ও স্বর্ণ দান করেন।
  2. অভিযান ও অবস্থান: রাসূলুল্লাহ ﷺ ৩০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তাবূক প্রান্তরে পৌঁছান। প্রচণ্ড গরম সত্ত্বেও মুসলিম বাহিনীর শৃঙ্খলিত ও সুদৃঢ় প্রস্তুতি দেখে রোমান বাহিনী চরম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ময়দান ছেড়ে সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে যায়। কোনো রক্তক্ষয় ছাড়াই তাবূকে ২০ দিন অবস্থান করে নবীজি মদীনায় ফিরে আসেন।
  3. তাবূক যুদ্ধের ফলাফল:
    • সমগ্র আরবে মুসলিমদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রোমান সাম্রাজ্যের অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়।
    • সীমান্তবর্তী বহু খ্রিস্টান ও ইহুদি গোত্র জিযিয়া কর প্রদান করে মুসলিমদের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
    • মুনাফিকদের কপটতা ও অজুহাত সম্পূর্ণ খসে পড়ে এবং তারা সমাজে চরম লাঞ্ছিত হয়। এটিই ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবদ্দশার সর্বশেষ সামরিক অভিযান।

٨- تحدث عن فتح مكة بالتفصيل-

[৮. মক্কা বিজয় সম্পর্কে বিস্তারিত লেখ।]

ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় (৮ম হিজরীর ২০ রমযান):

  1. প্রেক্ষাপট: কুরাইশরা হুদায়বিয়ার শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করে মুসলিমদের মিত্র বনু খোযা’আর ওপর বনু বকরকে দিয়ে আক্রমণ চালায়। এতে চুক্তির শর্ত বাতিল হয়ে যায় এবং মক্কা অভিযানের পথ সুগম হয়।
  2. মক্কার পথে যাত্রা: ৮ম হিজরীর ১০ রমযান রাসূলুল্লাহ ﷺ ১০,০০০ সাহাবীর এক সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মক্কার নিকটে মাররুয যাহরানে পৌঁছে রাতে হাজার হাজার স্থানে আগুন জ্বালানো হয়, যা দেখে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ভীত হয়ে আত্মসমর্পণ করে ইসলাম গ্রহণ করে।
  3. রক্তপাতহীন মক্কায় প্রবেশ: ২০ রমযান রাসূলুল্লাহ ﷺ বিনম্র চিত্তে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে করতে মাথা নত করে মক্কায় প্রবেশ করেন। তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন: “যে আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ রাখবে সে নিরাপদ, এবং যে কা’বা ঘরে থাকবে সে নিরাপদ।” কেবল খালেদ বিন ওয়ালীদ (রা.)-এর দলের ওপর ইকরিমার দল হামলা করায় সামান্য সংঘর্ষ বাদে সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন বিজয় অর্জিত হয়।
  4. কা’বাকে মূর্তিমুক্তকরণ ও সাধারণ ক্ষমা: রাসূলুল্লাহ ﷺ কা’বা ঘরে প্রবেশ করে নিজের হাতের লাঠি দিয়ে ৩৬০টি মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং ঘোষণা করেন:
    ﴿جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا﴾
    অতঃপর ভীতসন্ত্রস্ত কুরাইশদের সামনে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন: “আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই; যাও, তোমরা সবাই মুক্ত!” এই মহানুভবতায় সমগ্র মক্কাবাসী স্বেচ্ছায় দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে।

مجموعة (ب) – খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

٩- تحدث عن تبليغ الدعوة بالخفية-

[৯. গোপনে ইসলাম প্রচার সম্পর্কে আলোচনা কর।]

নবুওয়াত প্রাপ্তির পর প্রথম ৩ বছর রাসূলুল্লাহ ﷺ গোপনে ইসলাম প্রচার করেন। মক্কার সমাজ ছিল মূর্তিপূজা ও গোত্রীয় অহমিকায় নিমজ্জিত। তাই হিকমত ও দূরদর্শিতার অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বিশ্বস্ত বন্ধুদের নিকট দাওয়াত পৌঁছান। এই সময়ে হযরত আরক্বাম ইবনে আবিল আরক্বামের বাড়ি ‘দারুল আরক্বাম’ ছিল ইসলামের প্রথম গোপন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও দাওয়াতী দুর্গ। এই সময়ে প্রায় ৪০ জন নারী-পুরুষ গোপনে ইসলাম গ্রহণ করে সুসংগঠিত জামা’আতে পরিণত হন।


١٠- ما المراد ببيعة الرضوان ولم سميت بها؟

[১০. بيعة الرضوان দ্বারা উদ্দেশ্য কী? কে এ নামে কেন নামকরণ করা হলো?]

  1. বাই’আতুর রিদওয়ানের পরিচয়: ৬ষ্ঠ হিজরীতে হুদায়বিয়ায় ওমরাহ পালনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে শান্তি আলোচনার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত উসমান (রা.)-কে মক্কায় পাঠান। কিন্তু সেখানে তাঁর শাহাদাতের গুজব ছড়িয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীগণকে একটি গাছের নিচে কাফেরদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াইয়ের শপথ গ্রহণ করান। এই ঐতিহাসিক শপথকে বাই’আতুর রিদওয়ান বলা হয়। এতে প্রায় ১৪০০ সাহাবী অংশগ্রহণ করেছিলেন।
  2. নামকরণের কারণ: আল্লাহ তা’আলা এই শপথে অংশগ্রহণকারী সকল সাহাবীর প্রতি তাঁর বিশেষ সন্তুষ্টি (রিদওয়ান) ঘোষণা করে সূরা আল-ফাতহের ১৮ নং আয়াতে ইরশাদ করেন: “আল্লাহ মুমিনদের ওপর সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়’আত গ্রহণ করল।” আল্লাহর সন্তুষ্টির স্মারক হিসেবে একে ‘বাই’আতুর রিদওয়ান’ বলা হয়।

١١- اكتب خلفية بناء المسجد النبوى-

[১১. মসজিদে নববী নির্মাণের প্রেক্ষাপট লেখ।]

মদীনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উটনী যেখানে প্রথম বসেছিল, সেই স্থানটি ছিল দুই এতিম বালক সাহল ও সুহাইলের খেজুর শুকানোর খোলা জায়গা। রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আবু বকর (রা.)-এর মাধ্যমে জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করে তা ক্রয় করেন এবং স্বহস্তে কাঁচা ইট ও খেজুরের ডালপালা বহন করে মসজিদে নববী নির্মাণ করেন। এটি ছিল একই সাথে নামাযের স্থান, মুসলিম উম্মাহর সংসদ ভবন, সামাজিক বিচারালয় এবং দরিদ্র নিঃস্ব সাহাবীদের শিক্ষাকেন্দ্র (আসহাবুস্ সুফফাহ)।


١٢- ما المراد بأهل البيت؟ ومن هم؟ بين-

[১২. اهل البيت বলতে কাদের উদ্দেশ্য করা হয়? তাঁরা কারা? বর্ণনা কর।]

  1. আহলুল বাইতের সংজ্ঞা: ‘আহলুল বাইত’ অর্থ ঘরের লোক বা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র পরিবারবর্গ।
  2. কারা আহলুল বাইতের অন্তর্ভুক্ত: কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে আহলুল বাইতের অন্তর্ভুক্ত হলেন:
    • রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সকল পবিত্র স্ত্রীগণ (উম্মাহাতুল মু’মিনীন)—সূরা আহযাবের ৩২-৩৩ নং আয়াতের আলোকে।
    • হযরত আলী (রা.), হযরত ফাতিমা (রা.), এবং তাঁদের দুই প্রিয় সন্তান ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (রা.)—হাদীসে কিসার আলোকে।
    • মুহতারাম বংশীয় স্বজনগণ যাঁদের জন্য যাকাত গ্রহণ চিরতরে হারাম—যেমন আলীর বংশধর, জাফরের বংশধর, আক্বীলের বংশধর এবং আব্বাসের বংশধর (আলে আলী, আলে জাফর, আলে আক্বীল ও আলে আব্বাস)।

١٣- تحدث عن أخلاق النبى صلى الله عليه وسلم مختصرًا-

[১৩. সংক্ষেপে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা কর।]

রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন অনুপম নৈতিকতা ও বিশ্বমানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শের মূর্ত প্রতীক। স্বয়ং মহান আল্লাহ কুরআনে সাক্ষ্য দেন: “নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত” (সূরা আল-ক্বলম: ৪)। হযরত আয়েশা (রা.)-কে তাঁর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: “কুরআনই ছিল তাঁর জীবন্ত চরিত্র।” তিনি ছিলেন পরম সত্যবাদী, নির্লোভ, ক্ষমাপরায়ণ, এতিম-দুঃস্থদের আশ্রয়দাতা এবং শত্রুর প্রতিও ক্ষমা প্রদর্শনকারী এক অনন্য মহামানব।


١٤- ما معنى الجهاد وما حكمه؟ بين-

[১৪. الجهاد অর্থ কী? এর হুকুম কী? বর্ণনা কর।]

  1. জিহাদের অর্থ: ‘জিহাদ’ (الجهاد) শব্দের অর্থ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো, আত্মনিয়োগ করা বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত রাখার জন্য এবং জুলুম-অবিচারের অবসানের লক্ষ্যে জান, মাল ও বাকশক্তি দিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোকে জিহাদ বলে।
  2. জিহাদের শরয়ী হুকুম: স্বাভাবিক অবস্থায় জিহাদ হলো ফরযে কিফায়াহ (কিছু মানুষ আদায় করলে অন্যরা দায়মুক্ত হয়)। তবে শত্রু যখন কোনো মুসলিম ভূখণ্ড আক্রমণ করে তখন সেখানে বসবাসরত সকলের জন্য তা ফরযে আইন (আবশ্যিক ব্যক্তিগত দায়িত্ব)-এ পরিণত হয়।

١٥- ما معنى السرية؟ وما الفرق بينها وبين الغزوة؟

[১৫. السرية অর্থ কী? السرية ও الغزوة এর মধ্যে পার্থক্য কী?]

  1. সারিয়্যাহ (السرية)-এর পরিচয়: যে সামরিক অভিযানে রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বয়ং নিজে সশরীরে অংশগ্রহণ করেননি; বরং কোনো বিশ্বস্ত সাহাবীকে সেনাপতি বা আমীর নিযুক্ত করে অভিযানে পাঠিয়েছেন, তাকে সারিয়্যাহ বলা হয়। এগুলোর সংখ্যা প্রায় ৪৭ থেকে ৬০টি।
  2. গাযওয়াহ ও সারিয়্যার পার্থক্য: যে সামরিক অভিযানে নবীজি নিজে স্বশরীরে নেতৃত্ব দিয়েছেন তা হলো গাযওয়াহ; আর যাতে তিনি স্বয়ং অংশ নেননি বরং প্রতিনিধি সেনাপতি পাঠিয়েছেন তা হলো সারিয়্যাহ

١٦- اكتب خطبة حجة الوداع مختصرًا-

[১৬. সংক্ষেপে বিদায় হজের ভাষণ লেখ।]

দশম হিজরীর ৯ই জিলহজ আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এক লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে মানবজাতির ঐতিহাসিক মানবাধিকার সনদ হিসেবে বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেন। এর প্রধান বিষয়বস্তু ছিল:

  • সকল মানুষের রক্ত, ধন-সম্পদ ও সম্মান পবিত্র কা’বার মতো সম্মানিত ও অলঙ্ঘনীয়।
  • জাহেলী যুগের সকল রক্তপণ ও সুদের কারবার চিরতরে বাতিল ঘোষণা।
  • নারীদের অধিকারের পূর্ণ নিশ্চয়তা দান এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ।
  • সকল মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই; অনারবের ওপর আরবের এবং আরবের ওপর অনারবের তাক্বওয়া ছাড়া কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
  • তোমাদের মাঝে দুটি ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি—আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ; যতদিন তা আঁকড়ে থাকবে পথভ্রষ্ট হবে না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ পাঠের মূল উদ্দেশ্য কী?

সীরাত পাঠের মূল উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সামগ্রিক জীবন থেকে বাস্তব শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে তাঁর সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত করা।

২. জাহেলী যুগে কোন কুপ্রথাটি সবচেয়ে বর্বর ছিল?

আইয়্যামে জাহেলিয়াতের সবচেয়ে বর্বর ও পৈশাচিক কুপ্রথা ছিল পারিবারিক ও সামাজিক লজ্জার ভয়ে ফুটফুটে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা।

৩. পবিত্র কা’বা ঘরে কতটি মূর্তি ছিল?

ইসলামের বিজয়ের পূর্বে জাহেলী যুগে কা’বা ঘরের ভেতরে ও চত্বরে মোট ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যা মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।

৪. মি’রাজ কি স্বপ্নযোগে হয়েছিল নাকি জাগ্রত অবস্থায়?

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের আক্বীদা অনুযায়ী ইসরা ও মি’রাজ স্বপ্নযোগে নয়; বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শরীর ও আত্মার সমন্বয়ে পূর্ণ জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে সম্পন্ন হয়েছিল।

৫. গাযওয়াহ ও সারিয়্যাহর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?

যে যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বয়ং নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাকে গাযওয়াহ বলা হয়; আর যে সামরিক অভিযানে তিনি নিজে যাননি বরং কোনো সাহাবীকে সেনাপতি বানিয়ে পাঠিয়েছেন তাকে সারিয়্যাহ বলে।

৬. বিদায় হজের ভাষণের প্রধান মূলনীতি কী?

বিদায় হজের ভাষণের প্রধান মূলনীতি হলো বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, বর্ণবাদ বিলোপ, নারীর মর্যাদা সুরক্ষা, সুদমুক্ত অর্থনীতি এবং কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *