জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আশ-শিরুল কাদিম-২ (Ash-Shirul-Qadim-2) – 204305, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৭ মিনিট পড়ার সময়
১০ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: প্রাচীন কবিতা-২ (الشعر القديم-٢)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৫ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

١- ترجم هذا الأبيات الآتية (ثلاثا فقط) :

[১. নিচের কবিতাংশগুলোর প্রাঞ্জল ভাবার্থ ও বিশদ ব্যাখ্যা উপস্থাপন কর:]


الجواب:

(ألف) الأبيات:
وورّكنَ في السوبان يعلون متنه * عليهن دلّ الناعم الممتنع
بكرن بكورا واستحرن بسحرة * فهن ووادي الرسّ كاليد للفم
وفيهن ملهى لللطيف ومنظر * انيق لعين الناظر المتوسم
كأن فتات العهن في كل منزل * نزلن به حبّ الفنا لم يحطّم

[১ (ক).
১. উটের পিঠে আরোহী সুন্দরীরা ‘সাওবান’ উপত্যকার মধ্য দিয়ে গমন করল এবং তার উচ্চ ভূমি অতিক্রম করল; তাদের মধ্যে ফুটে উঠছিল পরম রূপবতী ও সতী-সাধ্বী রমণীর লাবণ্যময় চালচলন ও গর্বিত অহংকার।
২. তারা প্রত্যুষে যাত্রা শুরু করেছিল এবং শেষ রাতের অন্ধকার থাকতেই পথ চলতে আরম্ভ করেছিল; অতঃপর সকালে তারা সুমিষ্ট ‘আর-রাস’ উপত্যকায় এমনভাবে পৌঁছাল যেন মুখের সাথে হাতের মেলবন্ধন।
৩. তাদের কাফেলার মাঝে সূক্ষ্মদর্শী ভাবুকের জন্য রয়েছে অনাবিল আনন্দ এবং রূপের সমঝদার গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন দর্শকের চোখের জন্য পরম তৃপ্তিদায়ক নয়নজুড়ানো দৃশ্য।
৪. কাফেলাটি যে যে মনজিলে যাত্রাবিরতি করেছিল, সেই সমস্ত মনজিলে তাদের ফেলে যাওয়া লাল পশমের টুকরোগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন অবিকল লাল ও রক্তিম বুনো ফল (আল-ফানা), যা এখনো পিষে ফেলা হয়নি।

(ب) الأبيات:
دع الألبان يشربها رجال * رقيق العيش بينهم غريب
إذا راب الحليب فبل عليه * ولا تحرج فما فى ذاك حوب
فأطيب منه صافية شمول * يطوف بكأسها ساق اديب
أقامت حقبة في قعر دنّ * تفور وما يحسّ لها لهيب

[১ (খ).
১. উট ও ছাগলের দুধ পান করা তাদেরই জন্য ছেড়ে দাও—যাদের সমাজে মার্জিত ও বিলাসবহুল নাগরিক জীবনযাপন একেবারেই অপরিচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এক বিষয়।
২. সেই দুধ যদি টক হয়ে জমে যায়, তবে তার ওপর প্রস্রাব করে দাও; এতে কোনো সংকোচবোধ করো না, কারণ এতে কোনো পাপ বা গুনাহ নেই!
৩. সেই দুধের চেয়ে শতগুণে সুস্বাদু হলো নির্মল স্নিগ্ধ প্রাচীন সুরা, যার পানপাত্র নিয়ে কোনো মার্জিত ও শিক্ষিত সাকী (পরিবেশনকারী) চতুর্দিকে ঘুরে বেড়ায়।
৪. যা সুদীর্ঘ কাল ধরে মাটির কলসীর তলদেশে সংরক্ষিত ছিল; যাতে অদৃশ্য বুদ্বুদ ফুটে উঠছে, অথচ সেখানে কোনো আগুনের শিখা দৃষ্টিগোচর হয় না!

(ج) الأبيات:
زاد عن مقتلى لذيذ المنام * شغلها عنه بالدموع السجام
أى نوم من بعد ما حل بالبصرة * من تلكم الهنات العظام
أى نوم من بعد ما انتهل الزنـ * ـج جهارًا محارم الإسلام
إن هذا من الأمور لأمر * كاد أن لا يقوم في الأوهام-

[১ (গ).
১. আমার দুচোখ থেকে মধুর ঘুম চিরতরে বিতাড়িত হয়ে গেছে; অবিরাম ধারায় প্রবাহিত অশ্রুবারি চোখ দুটিকে ঘুম থেকে সম্পূর্ণ উদাসীন ও ব্যস্ত করে রেখেছে।
২. কিভাবে আর ঘুম আসতে পারে বসরা নগরীতে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ও লোমহর্ষক বিপর্যয়ের পর?!
৩. কিভাবে আর শান্তি ও ঘুম সম্ভব, যখন বর্বর জাঞ্জ বিদ্রোহীরা প্রকাশ্য দিবালোকে ইসলামের সমস্ত পবিত্রতা ও সম্ভ্রমকে নির্মমভাবে পদদলিত ও লুণ্ঠিত করেছে?!
৪. নিশ্চয় এটি এমন এক অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক মহাঘটনা, যা মানুষের দুঃস্বপ্নের কল্পনায়ও কখনো উদিত হতে পারত না!

(د) الأبيات:
كيف ترجى الروم والروس هدمها * وذا الطعن أساس لها ودعائم
وقد حاكموها والمنايا حواكم * فما مات مظلوم ولا عاش ظالم
أتوك يجرون الحديد كأنهم * سروا بجياد ما لهن قوائم
إذا برقوا لم تعرف البيض منهم * ثيابهم من مثلها والعمائم-

[১ (ঘ).
১. রোমান (বাইজেন্টাইন) ও রুশ বাহিনী কীভাবে এই ‘আল-হাদাস’ দুর্গ ধ্বংসের আশা করতে পারে, যেখানে তোমার বর্শার রক্তক্ষয়ী আঘাতই এর মূল ভিত্তি ও মজবুত স্তম্ভ?!
২. তারা মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ের ফয়সালা চেয়েছিল, আর নির্ঘাত মৃত্যুই তাদের বিচারক হয়ে আবির্ভূত হলো; ফলে সেখানে কোনো মজলুম অন্যায়ভাবে মরেনি এবং কোনো জালেমও জীবিত বাঁচতে পারেনি!
৩. তারা লৌহবর্মের বিশাল বোঝা টেনে এনে তোমার দিকে এমনভাবে ধেয়ে এসেছিল, যেন মনে হচ্ছিল তারা এমন অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করে চলেছে যাদের কোনো পা নেই!
৪. যখন তাদের বর্ম ও অস্ত্র থেকে বিদ্যুৎ চমকাত, তখন তাদের সাদা চকচকে তরবারি ও বর্মের দ্যুতি থেকে তাদের শুভ্র পোশাক ও পাগড়িকে আলাদা করা যেত না!

(هـ) الأبيات:
ركبنا على الأعمار والدهر لجة * فما صبرت للموج تلك السفائن
لقد حمد الأبناء قوم وطالما * أتتك من الأهل الشرور الدفائن
كنائن صدق كثرت عدد الفتى * فهن بحقّ للسهام كنائن
تجىء الرزايا بالمنايا كأنما * نفوس البرايا للحمام رهائن-

[১ (ঙ).
১. আমরা আমাদের নশ্বর জীবন নিয়ে এই মহাকালের উত্তাল সমুদ্র তরঙ্গে আরোহণ করেছি; কিন্তু আমাদের এই জীবনের তরণীগুলো কালের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাত সহ্য করতে পারেনি।
২. বহু লোক তাদের সন্তানদের নিয়ে গর্ব ও প্রশংসা করেছে; অথচ কত শতবার সেই আপনজনদের মধ্য থেকেই মানুষের জীবনে গোপন অনিষ্ট ও শত্রুতা নেমে এসেছে!
৩. সন্তানেরা এমন অবিশ্বস্ত ধনুকের তূণীরের ন্যায়—যা দেখতে পুরুষের শক্তি ও সংখ্যা বৃদ্ধি করে, কিন্তু শত্রুর বিপদের সময় তা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়।
৪. পৃথিবীর সমস্ত বিপদাপদ নিশ্চিত মৃত্যুকে সাথে নিয়ে ধেয়ে আসে; যেন সৃষ্টির প্রতিটি মানবাত্মা মৃত্যুর অনিবার্য জিম্মি ও বন্ধক হয়ে আছে!

(و) الأبيات:
لعمرى لنعم الحى جر عليهم * بما لا يؤاتيهم حصين بن ضمضم
وكان طوى كشحًا على مستكنة * فلا هو أبداها ولم يتجمجم
وقال: سأقضى حاجتى ثم اتقى * عدوى بألف من ورائى ملجم
فشد ولم تفزع بيوت كثيرة * لدى حيث ألقت رحلها أم قشعم-

[১ (চ).
১. আমার জীবনের শপথ! সেই গোত্রটি কতই না সম্মানিত ও মহান ছিল, যাদের ওপর হুসাইন বিন দ্বামদ্বাম এমন এক অপ্রীতিকর যুদ্ধের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল যা তাদের কাম্য ছিল না।
২. সে তার অন্তরে চরম শত্রুতা ও প্রতিহিংসার আগুন লুকিয়ে রেখেছিল; সে তা মুখে স্পষ্টভাবে প্রকাশও করেনি, আবার ভয়ে চুপও থাকেনি।
৩. সে মনে মনে বলেছিল: আমি গোপনে আমার প্রতিশোধের বাসনা চরিতার্থ করব, তারপর হাজার অশ্বারোহী সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে আমার শত্রু থেকে আত্মরক্ষা করব।
৪. অতঃপর সে আচমকা আক্রমণ চালাল এবং বহু নিরীহ তাঁবু ও পরিবারকে চরম ভীতির মধ্যে নিক্ষেপ করল—যেখানে নিশ্চিত মৃত্যু ও ধ্বংসের শকুনি (উম্মু কাশ’আম) তার ডানা বিস্তার করেছিল!

٢- اشرح من الأبيات التالية (اثنين فقط) :

[২. নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলোর প্রেক্ষাপট ও সাহিত্যিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর:]


الجواب:

(الف) «أمن أم أوفى دمنة لم تكلم * بحومانة الدراج فالمتثلم-»:

[২ (ক). ব্যাখ্যা:]

উৎস ও কবি পরিচিতি: এটি জাহিলি যুগের শান্তি ও প্রজ্ঞার অমর কবি জুহাইর ইবনে আবি সুলমার বিখ্যাত মুয়াল্লাকার উদ্বোধনী পঙ্ক্তি।
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য: প্রাক-ইসলামিক আরবি কবিতার সনাতন রীতি অনুযায়ী কবিরা প্রেমিকার পরিত্যক্ত বসতভিটার ধ্বংসাবশেষ (আত্বলাল) দর্শনে বিরহ-বেদনা প্রকাশের মাধ্যমে কবিতা শুরু করতেন। এখানে উম্মে আওফা ছিলেন কবির প্রথম স্ত্রী, যাকে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসতেন কিন্তু সন্তান না বাঁচার কারণে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছিল। দীর্ঘ বিশ বছর পর কবি ‘হাওমানাতুদ্দুরাজ’ ও ‘আল-মুতাছাল্লাম’ নামক প্রান্তরে প্রেমিকার পরিত্যক্ত বিরান গৃহকোণে এসে বুকভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। তিনি যেন সেই নীরব মাটির কাছে প্রশ্ন করছেন, কিন্তু বোবা মাটি কোনো উত্তর দেয় না। এই চরণের মাধ্যমে কবি মানবজীবনের নশ্বরতা, ভালোবাসার স্মৃতি ও মহাকালের নিষ্ঠুরতাকে কাব্যিক রূপ দিয়েছেন।

(ب) «أرى الحيرة البيضاء حارت قصورها * خلاء ولم تثبت لكسرى المدائن-»:

[২ (খ). ব্যাখ্যা:]

উৎস ও কবি পরিচিতি: এটি আব্বাসীয় যুগের বিখ্যাত জুহদ বা বৈরাগ্যবাদের কবি আবুল আতাহিয়ার অমর দার্শনিক কবিতাংশ।
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য: কবি এখানে রাজপ্রাসাদ ও সাম্রাজ্যের চিরন্তন পতন এবং পার্থিব ক্ষমতার অন্তঃসারশূন্যতা ফুটিয়ে তুলেছেন। ‘আল-হিরা’ ছিল ইরাকের লখমীয় রাজাদের শ্বেতপাথরের বিলাসবহুল রাজধানী এবং ‘আল-মাদাইন’ ছিল পরাক্রমশালী পারসিক সম্রাট খসরু বা কিসরার রাজপ্রাসাদ তিসফুন। কবি বলছেন: আজ সেই শুভ্র হিরা নগরীর সুবিশাল অট্টালিকাগুলো জনমানবহীন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, এবং সম্রাট কিসরার সাম্রাজ্যও চিরস্থায়ী হয়নি। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক ও রাজপ্রাসাদও যদি ধূলিসাৎ হয়ে যায়, তবে সামান্য নশ্বর মানুষের অহংকারের আর কী মূল্য থাকতে পারে?!

(ج) «هل الحدث الحمراء تعرف لونها * وتعلم أى الساقين الغمائم-»:

[২ (গ). ব্যাখ্যা:]

উৎস ও কবি পরিচিতি: এটি আরবি সাহিত্যের মহাকবি আবু তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বির সাইফুদ্দৌলা আল-হামদানির বীরত্বগাঁথার অনন্য পঙ্ক্তি।
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য: বাইজেন্টাইন সীমান্তের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্রে ‘আল-হাদাস’ নামক দুর্গের লাল মাটি ও ধ্বংসাবশেষকে কেন্দ্র করে এই শ্লোক রচিত। আল-মুতানাব্বি এখানে এক অপূর্ব কাব্যিক রূপকের অবতারণা করেছেন। তিনি প্রশ্ন করছেন—এই লালচে মাটির হাদাস দুর্গ কি জানে কেন তার রং এমন রক্তিম? সে কি জানে যে তাকে তৃষ্ণা নিবারণকারী মেঘটি কোনো সাধারণ বৃষ্টির মেঘ নয়, বরং তা হলো বীর সাইফুদ্দৌলার রক্তক্ষয়ী তরবারি থেকে প্রবাহিত শত্রু রক্তের মেঘমালা?! এখানে বৃষ্টির পানির বদলে তরবারির রক্তের উপমা দিয়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বীরত্বের পরাকাষ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে।

(د) «لسان الفتى نصف ونصف فؤاده * فلم يبق إلا صورة اللحم والدم-»:

[২ (ঘ). ব্যাখ্যা:]

উৎস ও কবি পরিচিতি: এটি জুহাইর ইবনে আবি সুলমার মুয়াল্লাকার সমাপ্তি অংশের এক কালজয়ী নীতিবাক্য ও হিকমত।
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য: কবি মানুষের প্রকৃত পরিচয় ও মূল্যায়নের এক নির্ভুল মনস্তাত্ত্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন। একজন মানুষের বাহ্যিক রূপ-লাবণ্য, সৌন্দর্য বা স্বাস্থ্য তার আসল পরিচয় নয়। মানুষের মূল সত্তা নিহিত থাকে দুটি জিনিসের মধ্যে—তার জিহ্বা (বাকশক্তি, প্রজ্ঞা ও সত্যবাদিতা) এবং তার অন্তর (সততা, সাহস ও ঈমান)। যদি কারো এই দুটি ঠিক থাকে তবেই সে পরিপূর্ণ মানুষ; অন্যথায় সে রক্ত-মাংসের একটি প্রাণহীন কাঠামো বা পশুসম মূর্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।

٣- اشرح باللغة العربية من الأبيات التالية (اثنين فقط) :

[৩. নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলোর আরবিতে উচ্চাঙ্গের সাহিত্যিক ব্যাখ্যা দাও:]


الجواب:

(الف) «ذكر الصبوح بسحرة فارتاحا * وأمله ديك الصباح صياحا-»:
الشرح والتحليل الأدبي:
هذا البيت من خمريات أبي نواس الحسن بن هانئ، رائد التجديد الشعري في العصر العباسي. يصف فيه الشاعر شغفه الشديد بمجالس الخمر في السحر قبل طلوع الفجر؛ فحين يتذكر خمرة الصباح ينشرح صدره وتطرب نفسه طرباً شديداً، وكأنه يرى في صياح ديك الفجر رسولاً يدعوه إلى معانقة الكؤوس واستقبال النور بالنشوة والسرور. والبيت يمثل الثورة البوفاسية على البكاء على الأطلال والدعوة إلى الاستمتاع بلذائذ الحياة الحاضرة في الحواضر والمدن.

(ب) «على قدر اهل العزم تأتى العزائم * وتأتى على قدر الكرام المكارم-»:
الشرح والتحليل الأدبي:
مطلع القصيدة السيفية الخالدة لأبي الطيب المتنبي، وهو من أعظم حكم الشعر العربي على الإطلاق. يقرر الشاعر قاعدة نفسية وتاريخية مفادها: أن جلائل الأعمال والمهمات الكبرى لا تنهض إلا على أكتاف الرجال العظام أصحاب الهمم العالية والنفوس الأبية؛ فبقدر ما يحمل المرء من عزم وشجاعة تأتيه المعالي والانتصارات، وبقدر كرم النفس ومروءتها تفيض المكارم والمفاخر. فالصعاب تصغر أمام العظماء، والصغائر تكبر في عيون الضعفاء.

(ج) «يفدى أتم الطير عمرًا سلاحه * نسود الملا أحداثها والقشاعم-»:
الشرح والتحليل الأدبي:
البيت للمتنبي أيضاً في وصف بسالة سيف الدولة وجيشه في قتال الروم. يرمز بالطير المعمر إلى النسور والعقبان التي تطول أعمارها في السماء، ولكنها تفدي سلاح الممدوح وتتبعه في معاركه أينما حل، لأنها تعلم أن سيوفه ورماحه ستطعمها من لحوم الأعداء ودماء القتلى. فصغار النسور وكبارها المسنة (القشاعم) تسود الأرض وتستقر فيها آمنة شبعى بفضل كرم سلاح هذا القائد البطل.

(د) «إن هذا من الأمور لأمر * كاد أن لا يقوم فى الأوهام-»:
الشرح والتحليل الأدبي:
هذا البيت لابن الرومي من رائيته المشهورة في رثاء البصرة بعد فتنة الزنج سنة ٢٥٧ هـ. يعبر فيه الشاعر عن هول الفاجعة وعظم الكارثة التي حلت بمدينة البصرة؛ فقد بلغت المجازر والفظائع التي ارتكبها الزنج من قتل النساء والأطفال وإحراق المساجد وسفك الدماء حداً لا يمكن للعقل البشري أن يتصوره، ولا يقوى الخيال والوهم على استيعابه. فالمصيبة أعظم من كل وصف وأفظع من كل مأساة عرفتها الأمة.

٤- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية باللغة العربية:

[৪. নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর আরবিতে প্রাঞ্জল উত্তর দাও:]


الجواب:

(ألف) اكتب خصائص الشعر الجاهلى-
خصائص الشعر الجاهلي ومميزاته الفنية:
يعد الشعر الجاهلي الوثيقة التاريخية والأدبية الكبرى لحياة العرب (ديوان العرب)، ويتميز بالخصائص التالية:
١- الصدق والواقعية في التصوير: تصوير حياة الصحراء بحيواناتها (الناقة، الفرس، الصيد) وطبيعتها القاسية بصدق تام دون تكلف.
٢- جزالة الألفاظ وفخامتها: استخدام ألفاظ لغوية قوية وفصيحة تتناسب مع خشونة البيئة البدوية.
٣- وحدة البيت لا وحدة القصيدة: استقلال كل بيت تقريباً بمعناه، وتعدد أغراض القصيدة الواحدة (المقدمة الطللية، الغزل، رحلة الصحراء، ثم الغرض الرئيسي كالفخر أو المدح).
٤- الالتزام التام بالوزن والقافية: النظم على بحور الخليل العروضية الطويلة كـ (الطويل، البسيط، الكامل) بقافية موحدة تمتد لعشرات الأبيات.
٥- التصوير الحسي المباشر: الاعتماد على التشبيه والاستعارة الحسية المأخوذة من البيئة المحيطة.

(ب) كم عددًا للمعلقة؟ من هم أصحاب المعلقة؟ بين-
عدد المعلقات وأصحابها:
المشهور والمعتمد عند جمهور رواة الأدب ونقاده أن المعلقات سبع معلقات، وذهب بعض الأدباء كالتبريزي وابن الأنباري إلى أنها عشر معلقات.
أصحاب المعلقات السبع المشهورين هم:
١- امرؤ القيس: مطلعها: «قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل».
٢- طرفة بن العبد: مطلعها: «لخولة أطلال ببرقة ثهمد».
٣- زهير بن أبي سلمى: مطلعها: «أمن أم أوفى دمنة لم تكلم».
٤- لبيد بن ربيعة: مطلعها: «عفت الديار محلها فمقامها».
٥- عمرو بن كلثوم: مطلعها: «ألا هبي بصحنك فاصبحينا».
٦- عنترة بن شداد: مطلعها: «هل غادر الشعراء من متردم».
٧- الحارث بن حلزة اليشكري: مطلعها: «آذنتنا ببينها أسماء».
(ومن زادها عشراً أضاف إليهم: النابغة الذبياني، والأعشى ميمون، وعبيد بن الأبرص).

(ج) من ابو العلاء المعري؟ بين-
التعريف بأبي العلاء المعري:
هو أحمد بن عبد الله بن سليمان القضاعي التنوخي، المعروف بـ «أبي العلاء المعري» (٣٦٣ – ٤٤٩ هـ / ٩٧٣ – ١٠٥٧ م). شاعر وفيلسوف وأديب لغوي عباسي كبير، ولد في معرة النعمان بالشام، وفقد بصره في الرابعة من عمره بمرض الجدري، لكنه عوض ذلك بذاكرة خارقة وذكاء نادر.
رحل إلى بغداد وناظر علماءها ثم عاد إلى بلدته واعتزل الناس في بيته زهاء أربعين عاماً، ولذلك لقب بـ «رهين المحبسين» (محبس العمى ومحبس البيت).
أشهر آثاره الأدبية: ديوانه «سقط الزند» في شبابه، وديوانه الفلسفي الزهدي «اللزوميات» (لزوم ما لا يلزم)، ورسالته الخيالية العظيمة «رسالة الغفران» التي حاكى فيها رحلة الآخرة والجنة والنار.

(د) تحدث عن عبقرية ابن الرومى الشعرية-
عبقرية ابن الرومي الشعرية ومكانته:
علي بن العباس بن جريج، المعروف بـ «ابن الرومي» (٢٢١ – ٢٨٣ هـ)، شاعر عباسي فحل ولد ببغداد لأب رومي وأم فارسية. تميزت عبقريته بخصائص فريدة قل أن توجد عند غيره:
١- التوليد والتشقيق في المعاني: كان يغوص في أعماق المعنى الواحد ويولّد منه تفريعات دقيقة حتى يستوفيه تماماً ولا يترك لغيره فيه مقالاً.
٢- التصوير الدقيق ورسم اللوحات الحية: كان يرسم بالكلمات صوراً مرئية مجسمة وكأنه فنان تشكيلي، مثل وصفه البارع للخباز في دكانه، وللحدب.
٣- الصدق العاطفي وعمق الرثاء: كانت عاطفته ملتهبة وشديدة التأثير، وتجلى ذلك في رثائه المفجع لولده الأوسط محمد، وفي رثائه لمدينة البصرة المنكوبة.
٤- المزاج المتطير والتشاؤم: كان شديد الحساسية والتطير والتشاؤم، مما انعكس على هجائه اللاذع وشعره الفلسفي الحزين.

٥- أجب عن الأسئلة التالية (أربعة فقط) :

[৫. নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্লেষণমূলক উত্তর দাও:]


الجواب:

(ألف) أكتب أغراض الشعر العباسى الرئيسية-

[৫ (ক). আব্বাসীয় কবিতার প্রধান প্রধান বিষয়বস্তু ও ধারা:]

আব্বাসীয় যুগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং অনারব সংস্কৃতির মিশ্রণের ফলে কবিতায় বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটে। এর প্রধান ধারাগুলো হলো:
১. আল-মাদহ বা স্তুতিগান (المديح): খলিফা ও মন্ত্রীদের গুণগান, যা নিছক তোষামোদের সীমা পেরিয়ে রাষ্ট্রীয় দর্শন ও জিহাদের ঘোষণায় রূপ নেয় (যেমন আবু তাম্মাম ও আল-মুতানাব্বির কাব্য)।
২. আল-হিজা বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ (الهجاء): রাজনৈতিক ও সামাজিক অসঙ্গতিকে আক্রমণ করে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক কবিতা (যেমন ইবনুর রূমী ও বাশশার ইবনে বুরদ)।
৩. আল-খামরিয়্যাত বা সুরাকাব্য (الخمريات): প্রাসাদ জীবনের বিলাসিতা ও সুরার স্তুতিতে আবু নুওয়াস রচিত নবধারা।
৪. আয-যুহদ বা বৈরাগ্য ও নীতিবাদ (الزهد والحكمة): ভোগবাদের বিরুদ্ধে আখেরাতমুখী চেতনা ও নশ্বরতার কবিতা (যেমন আবুল আতাহিয়া)।
৫. আল-ওয়াসফ বা প্রকৃতি বর্ণনা (الوصف): মনোরম বাগান, ফোয়ারা, প্রাসাদ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের জীবন্ত চিত্রাঙ্কন (যেমন আল-বুহতুরী ও ইবনুল মু’তায)।
৬. আর-রিছা বা শোকগাথা (الرثاء): পরিবার ও ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরীর শোকে হৃদয়স্পর্শী বিলাপ।

(ب) من المتنبى؟ لماذا لقب به؟

[৫ (খ). আল-মুতানাব্বির পরিচয় ও তাঁর এই উপাধির কারণ:]

১. নাম ও পরিচয়: আবু তাইয়্যিব আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-জু’ফী আল-কিন্দি, যিনি ‘আল-মুতানাব্বি’ নামে বিশ্ববিখ্যাত (৩০৩-৩৫৪ হি./৯১৫-৯৬৫ খ্রি.)। তিনি কুফার কিন্দাহ মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন এবং আরবি সাহিত্যের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকবি হিসেবে স্বীকৃত।
২. ‘আল-মুতানাব্বি’ উপাধির কারণ: আরবি ‘মুতানাব্বি’ শব্দের অর্থ ‘নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার’। যৌবনে সিরিয়ার সামাওয়া মরুভূমির বেদুইনদের মাঝে বিপ্লবী রাজনৈতিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতা ও অনুসারীদের দাবির কারণে বিরোধী পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে নবুয়ত দাবির অভিযোগ তোলে এবং তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। তবে ঐতিহাসিক ও সাহিত্য সমালোচকদের মতে, তাঁর কবিতার অলৌকিক উচ্চমর্যাদা ও কাব্যিক অনন্যতার কারণেই রূপক অর্থে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছে।

(ج) اكتب خصائص أشعاره زهير بن ابى سلمى مختصرًا-

[৫ (গ). জুহাইর ইবনে আবি সুলমার কবিতার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:]

১. আল-হাওলিয়্যাত (الحوليات) বা পরিমার্জন: তিনি একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করে এক বছর ধরে তার শব্দ ও ছন্দ বারবার পরিমার্জন ও ঘষামাজা করতেন; ফলে তাঁর কবিতা ছিল ত্রুটিহীন ও নিখুঁত।
২. শান্তি ও মানবতার আহ্বান: তৎকালীন রক্তক্ষয়ী গোত্রযুদ্ধ বন্ধে তিনি শান্তির গান গেয়েছেন এবং শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতাকারী হারিস ও হারিমকে মহিমান্বিত করেছেন।
৩. প্রজ্ঞা ও গভীর হিকমত (الحكمة البالغة): তাঁর কবিতা ছিল নীতিবাক্য, মানবচরিত্রের বাস্তব বিশ্লেষণ ও গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশমালায় সমৃদ্ধ।
৪. অতিরঞ্জন ও মিথ্যা মুক্ত: তিনি চাটুকারিতা বা মিথ্যা অহংকার করতেন না, যা সত্য ও বাস্তব কেবল তাই রচনা করতেন।

(د) بين نبذة عن خمريات أبى نواس-

[৫ (ঘ). আবু নুওয়াসের খামরিয়্যাত বা সুরাকাব্যের বৈশিষ্ট্য:]

আবু নুওয়াস (আল-হাসান ইবনে হানি) আরবি কবিতায় মরুময় বেদুইন জীবনের প্রচলিত রীতি—প্রেমিকার পোড়ো ভিটা বা ‘আত্বলাল’ দেখে কান্নার সনাতন ধারার বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি বললেন: তাঁবুর ধ্বংসাবশেষ দেখে না কেঁদে বাগদাদের জীবন্ত নগরীতে সুরা ও আনন্দের গান গাও। তাঁর খামরিয়্যাতের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—সুরা ও পানপাত্রের স্ফটিক স্বচ্ছতার নিখুঁত রূপক বর্ণনা, পারসিক সংস্কৃতির স্নিগ্ধতা, আরবি ভাষার উচ্চাঙ্গের ব্যঙ্গ-রসিকতা এবং প্রচলিত সংস্কারের বিরুদ্ধে নির্ভীক স্বাতন্ত্র্য।

(هـ) اكتب موضوعات القصيدة النونية للشاعر ابن زيدون-

[৫ (ঙ). ইবনে যায়দুনের কালজয়ী ‘কাসিদা নুনিয়্যাহ’-এর মূল বিষয়বস্তু:]

আন্দালুসের প্রখ্যাত কবি ইবনে যায়দুন (৩৯৪-৪৬৩ হি.) তাঁর রাজকীয় প্রেমিকা উমাইয়্যা শাহজাদী ওয়াল্লাদা বিনতে আল-মুসতাকফির বিরহে এই বিখ্যাত নুন-ছন্দের কাসিদা রচনা করেন (مطلع: أضحى التنائي بديلاً من تدانينا):
১. মিলনের মধুর স্মৃতিচারণ: ওয়াল্লাদার সাথে অতীতের আনন্দঘন দিনগুলোর রোমন্থন।
২. বিরহের তীব্র হাহাকার: উভয়ের মধ্যকার দূরত্ব ও ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তে বিচ্ছেদের গভীর যন্ত্রণা প্রকাশ।
৩. অকৃত্রিম প্রেমের প্রতিশ্রুতি: দূরত্বের বাধা সত্ত্বেও প্রেমিকার প্রতি আজীবন বিশ্বস্ত ও নিবেদিত থাকার অঙ্গীকার।
৪. কুরতবার প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য: আন্দালুসের পুষ্পশোভিত উদ্যান ও বসন্তের রূপের সাথে কবির অন্তর্জ্বালার তুলনা।

(و) ما الفرق بين الشعر الجاهلى والشعر الإسلامى؟ بين بالاختصار-

[৫ (চ). জাহিলি কবিতা ও ইসলামি কবিতার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য:]

১. বিশ্বাস ও আকীদাহ: জাহিলি কবিতা ছিল পৌত্তলিকতা, ভাগ্যবাদ ও গোত্রীয় অন্ধ অহংকারে (আসাবিয়্যাহ) নিমজ্জিত; পক্ষান্তরে ইসলামি কবিতা তাওহিদ, তাকওয়া এবং পরকালের জবাবদিহিতায় উজ্জীবিত।
২. নৈতিক আদর্শ: জাহিলি কবিতায় অবাধ প্রেম, মদ্যপান ও প্রতিশোধের উন্মাদনা স্থান পেত; আর ইসলামি কবিতায় পবিত্র চরিত্র, সত্যের জিহাদ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ প্রাধান্য পায়।
৩. ভাষা ও শৈলী: জাহিলি কবিতার ভাষা ছিল মরুভূমির মতো কঠোর ও জটিল; পক্ষান্তরে কুরআনের প্রভাবে ইসলামি কবিতার ভাষা হয়ে ওঠে মার্জিত, কোমল ও আধ্যাত্মিক দীপ্তিতে সমুজ্জ্বল।

(ز) تحدث ابن الرومى فى قصيدته “أى نوم”؟

[৫ (ছ). ইবনুর রূমীর “আইয়্যু নাওম” (أي نوم) কবিতার মূল বক্তব্য:]

২৫৭ হিজরিতে বর্বর জাঞ্জ বিদ্রোহীরা যখন আব্বাসীয় খেলাফতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র বসরা নগরী আক্রমণ করে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, মসজিদ-গ্রন্থাগার ভস্মীভূত করে এবং মা-বোনদের সম্ভ্রম লুণ্ঠন করে—তখন ব্যথিত হৃদয়ে ইবনুর রূমী এই মর্মান্তিক শোকগাথা রচনা করেন। কবি চিৎকার করে প্রশ্ন তুলেছেন: এমন হৃদয়বিদারক ধ্বংসযজ্ঞের পর কোনো বিবেকবান মুসলমানের চোখে কি করে নিদ্রা আসতে পারে?! তিনি বসরার অতীত গৌরব এবং বর্তমানের রক্তস্নাত রূপের এমন জীবন্ত চিত্র তুলে ধরেছেন যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল।

(ح) من الشاعر المتشائم فى الشعراء العباسيين؟ ولم يقال هذا؟

[৫ (জ). আব্বাসীয় যুগের সবচেয়ে হতাশাবাদী কবি কে এবং কেন তাঁকে এমন বলা হয়?:]

আব্বাসীয় কবিতার ইতিহাসে ইবনুর রূমী (এবং পরবর্তী যুগে আবু আল-আলা আল-মা’আররি)-কে চরম নৈরাশ্যবাদী ও কুফা-বিশ্বাসী (متشائم) কবি বলা হয়। বিশেষত ইবনুর রূমীর ক্ষেত্রে এটি প্রবাদতুল্য।
কারণ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল অবর্ণনীয় ট্র্যাজেডিতে ভরা। একের পর এক তাঁর মাতা, স্ত্রী, ভাই এবং কোলের তিন পুত্রসন্তান অকালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর নিজের চেহারাও ছিল কিছুটা অস্বাভাবিক। এই ক্রমাগত শোক ও পারিবারিক বিপর্যয় তাঁর মনোজগতে চরম ভীতির জন্ম দেয়। তিনি প্রতিদিন সকালে বের হওয়ার সময় কোনো কানা বা কুৎসিত ব্যক্তি দেখলে সেদিনের জন্য সফর বাতিল করে ঘরে ফিরে আসতেন। পারিপার্শ্বিক মানুষের ওপর তাঁর কোনো আস্থা ছিল না, তিনি সমগ্র মানবজাতিকে স্বার্থপর ও শত্রু ভাবতেন—যা তাঁর কবিতার অক্ষরে অক্ষরে বিষাদ ও কান্নারূপে ফুটে উঠেছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. প্রাক-ইসলামিক আরবে কবি জুহাইর ইবনে আবি সুলমাকে কেন শান্তির কবি বলা হয়?

জুহাইর তাঁর বিখ্যাত মুয়াল্লাকায় দাহিস ও গাবরা যুদ্ধের মতো রক্তক্ষয়ী গোত্রীয় বিরোধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং শান্তি স্থাপনকারী দুই মহান নেতা হারিস ও হারিমকে কবিতায় অমর করে রেখেছিলেন।

২. আবু নুওয়াসের কবিতার প্রধান বৈপ্লবিক বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

আবু নুওয়াস মরুভূমির তাঁবুর ধ্বংসাবশেষ দেখে কান্নার প্রাচীন জাহিলি রীতি বর্জন করে নাগরিক জীবনের বিলাসবহুল আনন্দ ও সুরাকাব্যের (খামরিয়্যাত) আধুনিক ধারার সূচনা করেছিলেন।

৩. মহাকবি আল-মুতানাব্বির কাব্যের মূল প্রাণশক্তি কী?

আল-মুতানাব্বির কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো হিমালয়সম আত্মমর্যাদাবোধ, বীরত্বগাঁথা, নিখুঁত শব্দশৈলী এবং গভীর দার্শনিক প্রজ্ঞাপূর্ণ নীতিবাক্য যা আরবি সাহিত্যে প্রবাদতুল্য।

৪. অন্ধ দার্শনিক কবি আবু আল-আলা আল-মা’আররিকে কেন ‘রাহিনুল মাহবাসাইন’ বলা হয়?

তিনি অন্ধত্বের কারণে এবং প্রায় চল্লিশ বছর ধরে নিজ গৃহে নির্জনবাস করার কারণে নিজেকে দুটি কারাগারের বন্দী বা ‘রাহিনুল মাহবাসাইন’ (মহাসঙ্কট ও গৃহবন্দী) বলে অভিহিত করতেন।

৫. ইবনুর রূমীর বসরা ধ্বংসের শোকগাথা কেন আজও অনন্য?

জাঞ্জ বিদ্রোহীদের দ্বারা বসরা নগরীর গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের যে শিউরে ওঠা প্রত্যক্ষ বর্ণনা ও ব্যথিত হৃদয়ের হাহাকার তিনি কবিতায় এঁকেছেন, তা আরবি শোকগাথার ইতিহাসে বিরল।

৬. জাহিলি যুগের সাবআ মুয়াল্লাকাত কোথায় সংরক্ষিত হতো?

আরবের সাহিত্য সমঝদার পণ্ডিতরা জাহিলি যুগের শ্রেষ্ঠ সাতটি দীর্ঘ কাসিদাকে সোনার জলে লিখে পবিত্র কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন, তাই এগুলোকে ‘মুয়াল্লাকাত’ বলা হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *