اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۰ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بدون السند – ۲
[আত-তাফসীর বি-গায়রিস সানাদ-২]
বিষয় কোড: ২০১৩০২ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٤ × ٥ = ٧٠
(ترجم الآيات الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[যে-কোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
١- أَتَىٰ أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ – يُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ بِالرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ أَنْ أَنذِرُوا أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاتَّقُونِ –
[১. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
সরল অনুবাদ
“আল্লাহর আদেশ সমাগত, অতএব এর জন্য তাড়াহুড়ো করো না। তারা যাদেরকে আল্লাহর শরিক করে, তিনি তাদের থেকে অতীব পবিত্র ও অনেক ঊর্ধ্বে। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার প্রতি ইচ্ছা আপন নির্দেশে ওহি বা রূহসহ ফেরেশতা নাযিল করেন এই মর্মে যে, তোমরা মানুষকে সতর্ক কর যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব কেবল আমাকেই ভয় কর।” (সূরা আন-নাহল: ১-২)।
(أ) ما المراد بالروح؟ بين [রূহ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]
তাফসীরশাস্ত্রে «بِالرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ» বাক্যাংশে ‘রূহ’ দ্বারা মূলত **ওহি (ঐশী প্রত্যাদেশ) এবং নবুওয়াত** উদ্দেশ্য। এর কারণসমূহ নিম্নরূপ:
- দেহ যেমন রূহের মাধ্যমে প্রাণবন্ত ও জীবন্ত হয়ে ওঠে, তেমনি মানবজাতির মৃত ও অন্ধকার অন্তর আল্লাহর ওহির আলো ও নবুওয়াতের মাধ্যমে আত্মিক জীবন লাভ করে।
- ইমাম ইবনে কাসীর ও আল্লামা রাযী (রহ.) উল্লেখ করেন, এখানে রূহ দ্বারা জিবরাঈল (আ.)-কেও বোঝানো হতে পারে, যিনি ওহির বার্তা নিয়ে নবীদের নিকট অবতীর্ণ হতেন।
(ب) بين سبب نزول هذه الآيات الكريمة [শানে নুযুল]
মক্কার কাফেররা যখন রাসূলুল্লাহ (স.)-এর মুখ থেকে কিয়ামত এবং কাফেরদের ওপর আল্লাহর আজাব নাযিল হওয়ার সতর্কবার্তা শুনত, তখন তারা উপহাস করে বলত: “হে মুহাম্মদ! তোমার সেই আজাব কখন আসবে? তুমি আজাব নিয়ে আসছ না কেন?” তাদের এই ব্যঙ্গাত্মক তাড়াহুড়োর জবাবে আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন যে, আল্লাহর আজাব ও কিয়ামতের ফয়সালা সুনিশ্চিতভাবে নির্ধারিত সময়ে আসবেই; অতএব এর জন্য অহেতুক তাড়াহুড়ো করো না।
٢- سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ –
[২. উল্লিখিত আয়াতটির সরল অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
সরল অনুবাদ
“পরম পবিত্র ও মহিমাময় সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের বেলা ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায়, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি; যাতে আমি তাঁকে আমার কুদরতের নিদর্শনসমূহ প্রদর্শন করতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা আল-ইসরা: ১)।
(أ) بين سبب النزول لهذه الآيات الكريمة [শানে নুযুল]
নবুওয়াতের দশম বর্ষে রাসূল (স.)-এর পরম আশ্রয়দাতা চাচা আবু তালেব এবং প্রিয়তম সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.) ইন্তেকাল করেন। এ কারণে বছরটিকে ‘আমুল হুযন’ (শোকের বছর) বলা হয়। এরপর তায়েফে দাওয়াত দিতে গিয়ে নবীজী চরম নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হন। এই চরম শোক ও বেদনার মুহূর্তে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীবকে সান্ত্বনা দান এবং উর্ধ্বজগতের অলৌকিক নিদর্শন অবলোকন করানোর জন্য এই নৈশভ্রমণ (ইসরা ও মি’রাজ)-এর সৌভাগ্য দান করেন।
(ب) هل كان معراج النبي صلى الله عليه وسلم في اليقظة أم في المنام؟ بين [মি’রাজ কি জাগ্রত অবস্থায় না স্বপ্নে?]
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সর্বসম্মত ও অকাট্য আকিদা হলো:
- রাসূলুল্লাহ (স.)-এর ইসরা ও মি’রাজ জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে (রূহ ও শরীর উভয়ের সমন্বয়ে) সংঘটিত হয়েছিল।
- আয়াতে «بِعَبْدِهِ» (তাঁর বান্দা) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আরবি ভাষায় কেবল আত্মাকে ‘আবদ’ বলা হয় না, বরং দেহ ও আত্মার যৌথ রূপকেই ‘আবদ’ বলা হয়।
- এটি যদি স্বপ্নযোগে হতো, তবে মক্কার কাফেররা এত তীব্র বিতর্ক ও অস্বীকৃতি জানাত না; কারণ স্বপ্নে যে কেউ যেকোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারে, তাতে কোনো মুজিযা বা চ্যালেঞ্জ থাকে না। কাফেরদের অস্বীকারই প্রমাণ করে এটি জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে ঘটেছিল।
٣- أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ كَانُوا مِنْ آيَاتِنَا عَجَبًا – إِذْ أَوَى الْفِتْيَةُ إِلَى الْكَهْفِ فَقَالُوا رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا –
[৩. উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ের সরল অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
সরল অনুবাদ
“আপনি কি মনে করেন যে, গুহা ও পর্বতের ফলকের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল? যখন সেই যুবকদল গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করল, অতঃপর তারা প্রার্থনা করল: হে আমাদের রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করুন এবং আমাদের এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের সঠিক পথ সহজ করে দিন।” (সূরা আল-কাহাফ: ৯-১০)।
(أ) اذكر قصة أصحاب الكهف مختصرًا [আসহাবে কাহাফের ঘটনা সংক্ষেপে]
প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের অত্যাচারী পৌত্তলিক বাদশাহ দিকিয়ানূস (Decius)-এর আমলে কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ঈমানদার যুবক এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনেন। বাদশাহ তাদের মূর্তি পূজার নির্দেশ দিলে এবং হত্যা করার হুমকি দিলে তারা ঈমান রক্ষার খাতিরে এক গভীর পাহাড়ি গুহায় আত্মগোপন করেন। সেখানে তাদের সাথে একটি বিশস্ত কুকুরও ছিল। মহান আল্লাহ তাঁদের ওপর এক অলৌকিক সুদীর্ঘ নিদ্রা চাপিয়ে দেন। তাঁরা গুহায় ৩০৯ বছর ঘুমিয়ে থাকেন। শত শত বছর পর যখন তাঁদের ঘুম ভাঙে, তখন দেশটিতে তাওহিদের বিজয় সম্পন্ন হয়েছিল। এটি কিয়ামত ও পুনরুত্থানের এক অকাট্য নিদর্শন।
(ب) ما الفرق بين الكهف والرقيم؟ بين [কাহাফ ও রাক্বীমের পার্থক্য]
- আল-কাহাফ (الكهف): পাহাড়ের ভেতরে প্রশস্ত ও উন্মুক্ত গুহাকে কাহাফ বলা হয় (আর সংকীর্ণ গুহাকে গার বলা হয়)।
- আর-রাক্বীম (الرقيم): অধিকাংশ তাফসীরবিদের মতে, এটি ছিল সীসা বা পাথরের একটি ফলক (لوح বা ফলকলিপি), যাতে আসহাবে কাহাফের নাম, বংশপরিচয় এবং তাদের ঈমান রক্ষার ঐতিহাসিক ঘটনা লিখে গুহার প্রবেশদ্বারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। কেউ কেউ বলেন রাক্বীম হলো সেই জনপদ বা পর্বতের নাম।
٤- وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا – فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا –
[৪. উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ের সরল অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
সরল অনুবাদ
“আর এই কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকের এক নির্জন স্থানে নির্জনতা অবলম্বন করল। অতঃপর সে তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য পর্দা টেনে দিল; তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরাঈল)-কে প্রেরণ করলাম এবং সে তার সামনে এক পূর্ণাঙ্গ সুদর্শন মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।” (সূরা মারইয়াম: ১৬-১৭)।
(أ) اكتب فوائد إتيان الحروف المقطعات في بداية السورة [হুরুফে মুকাত্তা’আতের ফায়দা]
- শ্রোতার একাগ্রতা আকর্ষণ: পবিত্র ও অপরিচিত শব্দের আওয়াজে মনোযোগ আকৃষ্ট হওয়া।
- কুরআনের অলৌকিকত্ব প্রকাশ: মানুষের চেনা বর্ণমালা দিয়ে রচিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো সাহিত্যিকের এর সমকক্ষ বাণী রচনা করতে না পারা।
- গোপন রহস্যের অনুধাবন: আল্লাহ ও তাঁর হাবীবের মধ্যকার এমন আধ্যাত্মিক যোগসূত্র যা মুমিনের ঈমান বৃদ্ধি করে।
(ب) اكتب وجه تسمية السورة بـ ‘مريم’ [সূরার নাম মারইয়াম রাখার কারণ]
সূরা মারইয়াম পবিত্র কুরআনের ১৯তম সূরা। কুমারী মারইয়াম (আ.)-এর নিষ্কলুষ চরিত্র, তাঁর অলৌকিক সাধনা এবং কোনো পুরুষের স্পর্শ ছাড়া পিতা ব্যতিরেকে হযরত ঈসা (আ.)-এর অলৌকিক জন্মবৃত্তান্ত অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ ও প্রামাণ্যভাবে এ সূরায় বর্ণিত হয়েছে। একজন মহীয়সী নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠা ও খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদের ভ্রান্তি খণ্ডন করার কারণে এ সূরার নাম ‘সূরা মারইয়াম’ রাখা হয়েছে।
٥- طه – مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَىٰ – إِلَّا تَذْكِرَةً لِّمَن يَخْشَىٰ – تَنزِيلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَى – الرَّحْمَٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ –
[৫. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
সরল অনুবাদ
“ত্বা-হা। আমি আপনার ওপর কুরআন এজন্য অবতীর্ণ করিনি যে আপনি কষ্টে নিপতিত হবেন। বরং এটি কেবল তার জন্যই এক উপদেশ, যে ভয় করে। এটি এক ধারাবাহিক অবতরণ তাঁর পক্ষ থেকে, যিনি পৃথিবী এবং সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন। পরম দয়াময় আল্লাহ আরশে সমাসীন হয়েছেন।” (সূরা ত্বা-হা: ১-৫)।
(أ) كم قراءة في ‘طه’؟ وما المراد بـ ‘طه’؟ بين [ক্বিরাআত ও অর্থ]
- ক্বিরাআত: ‘ত্বা-হা’-এর উচ্চারণে মশহুর ক্বারীগণের মধ্যে দুটি প্রধান ক্বিরাআত রয়েছে: ১. ফাতহাহ বা স্বাভাবিক উচ্চারণে ‘ত্বা-হা’, ২. ইমালাহ (ই-কার মিশ্রিত ধ্বনি) যোগে ‘ত্বে-হে’।
- মর্মার্থ: ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে, হাবশী বা নাবাতি ভাষায় ‘ত্বা-হা’ শব্দের অর্থ: “হে পুরুষ!” বা “হে মানব!”। অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এটি রাসূলুল্লাহ (স.)-এর অন্যতম সম্মানসূচক নাম। কেউ কেউ একে হুরুফে মুকাত্তা’আত হিসেবে গণ্য করেছেন।
(ب) ما الفرق بين الإنزال والتنزيل؟ بين [ইনযাল ও তানযীলের পার্থক্য]
| শব্দ | ব্যাবহারিক অর্থ | কুরআনের প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| আল-ইনযাল (الإنزال) | একবারে বা এককালীন অবতীর্ণ করা। | লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানের বায়তুল ইযযাহতে কদরের রাতে পূর্ণ কুরআন একসাথে নাযিল হওয়া। |
| আত-তানযীল (التنزيل) | ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করা। | বায়তুল ইযযাহ থেকে সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে রাসূল (স.)-এর ওপর পর্যায়ক্রমে কুরআন অবতীর্ণ হওয়া। |
٦- وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ مُوسَىٰ – إِذْ رَأَىٰ نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى – فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ يَا مُوسَىٰ – إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ ۖ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى –
[৬. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
সরল অনুবাদ
“আর আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? যখন সে আগুন দেখতে পেল এবং তার পরিবারকে বলল: তোমরা এখানে অপেক্ষা কর; আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য সেখান থেকে কিছু জ্বলন্ত কয়লা আনতে পারব অথবা আগুনের কাছে কোনো পথপ্রদর্শক পাব। অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট পৌঁছাল, তখন আওয়াজ দিয়ে বলা হলো: হে মূসা! নিশ্চয়ই আমিই তোমার রব; অতএব তোমার জুতো জোড়া খুলে ফেল, কারণ তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছ।” (সূরা ত্বা-হা: ৯-১২)।
(أ) بين الواقعة المتعلقة بالآية [আয়াতের পটভূমি]
হযরত মূসা (আ.) মাদইয়ান থেকে দশ বছর শ্বশুর হযরত শুআইব (আ.)-এর নিকট মেষ চরানোর মেয়াদ শেষ করে সপরিবারে মিশরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ঘোর অন্ধকার ও শীতের রাতে সিনাই পর্বতের নিকটে এসে পথ হারিয়ে ফেলেন। আগুন জ্বালানোর পাথর ঘষেও কোনো স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছিল না। এমন সংকটময় মুহূর্তে তূর পর্বতের এক কোণে আলো দেখতে পেয়ে তিনি পরিবারের নিরাপত্তার জন্য আগুন ও পথের সন্ধানে যান এবং সেখানে মহান আল্লাহর সাথে সরাসরি বাক্যালাপের সৌভাগ্য অর্জন করেন ও নবুওয়াত লাভ করেন।
(ب) حقق الكلمات التالية: رأى، امكثوا، نودي [তাহকীক]
- رَأَىٰ (রা’আ): فعل ماض (একবচন, নামপুরুষ)। বাবে فتح। মূলধাতু: ر-أ-ي (দেখা)। অর্থ: সে দেখল।
- امْكُثُوا (উমকুছূ): فعل أمر (বহুবচন, মধ্যমপুরুষ)। বাবে نصر। মূলধাতু: م-ك-ث (অপেক্ষা বা অবস্থান করা)। অর্থ: তোমরা অপেক্ষা কর বা অবস্থান কর।
- نُودِيَ (নূদিয়া): فعل ماض مجهول (মাজহুল বা কর্মবাচ্য)। বাবে مفاعلة। মূলধাতু: ن-د-و (আহ্বান করা)। অর্থ: তাকে আওয়াজ দিয়ে ডাকা হলো।
٧- سُنَّةَ مَن قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِن رُّسُلِنَا ۖ وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا – أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا –
[৭. উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ের সরল অনুবাদ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]
সরল অনুবাদ
“আপনার পূর্বে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এটি তাদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত রীতি; আর আপনি আমার নিয়মের কোনো পরিবর্তন পাবেন না। সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করুন এবং ফজরের কুরআন পাঠ (নামাজ); নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ বিশেষভাবে প্রত্যক্ষ করা হয়।” (সূরা আল-ইসরা: ৭৭-৭৮)।
(أ) أعرب قوله “إن قرآن الفجر كان مشهودا” [তারকীব / ই’রাব]
- إِنَّ: حرف مشبه بالفعل (হরফে মুসাব্বাহা বিল-ফিল), যা ইসমে নাসব এবং খবরে রফা দেয়।
- قُرْآنَ: اسم إن منصوب بالفتحة الظاهرة (ইন্নাহ-এর ইসমে মানসূব)। এটি মুযাফ।
- الْفَجْرِ: مضاف إليه مجرور بالكسرة الظاهرة (মুযাফ ইলাইহি মাজরুর)।
- كَانَ: فعل ماض ناقص (ফে’লে নাকেস)। এর মধ্যে গোপন জমির ‘হুওয়া’ হলো তার ইসিম।
- مَشْهُودًا: خبر كان منصوب بالفتحة الظاهرة (কানা-এর খবরে মানসূব)।
- জুমলার স্বরূপ: ‘কানা মাশহূদা’ জুমলাটি ‘ইন্না’-এর খবর (মহল্লে রফা)।
(ب) ما معنى الصلاة؟ اكتب فضائل الصلاة مختصرًا [নামাজের অর্থ ও ফজিলত]
শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ: সালাতের শাব্দিক অর্থ দোয়া, রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। পরিভাষায়: তাকবীরে তাহরীমা দ্বারা শুরু হয়ে সুনির্দিষ্ট রুকন ও কেরাতসহ সালামের মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়া বিশেষ ইবাদতকে সালাত বলে।
সালাতের ফজিলত:
- সালাত হলো দ্বীনের খুঁটি; যে সালাত কায়েম করল সে দ্বীন কায়েম করল।
- কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে।
- নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে (إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ)।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (উসূল ও তাফসীর শাস্ত্র সংক্রান্ত প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٠ × ١ = ١٠
[যে-কোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
٨- اكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاةِ فَخْرِ الدِّينِ الرَّازِي (رح) وَمَزَايَا تَفْسِيرِهِ ‘مَفَاتِيحِ الْغَيْبِ’ –
[৮. ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং তাঁর বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘মাফাতিহুল গাইব’-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযীর সংক্ষিপ্ত জীবনী
- নাম ও উপাধি: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ওমর ইবনুল হাসান আত-তাবারী আর-রাযী। তিনি ‘ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী’ এবং ‘ইমামুল মুশাত্তিতীন’ নামে খ্যাত। তিনি হিজরি ৫৪৪ সনে পারস্যের ‘রে’ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য: তিনি ছিলেন উসূল, তাফসীর, কালামশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক শীর্ষস্থানীয় ইমাম। তিনি হিজরি ৬০৬ সনে হেরাতে ইন্তেকাল করেন।
তাফসীরে কাবীর বা মাফাতিহুল গাইবের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
- আয়াতের পারস্পরিক সঙ্গতি ও যোগসূত্র (মুনাসাবাত): এক আয়াতের সাথে অন্য আয়াতের এবং এক সূরার সাথে অন্য সূরার চমৎকার যৌক্তিক যোগসূত্র নির্ণয়ে তিনি অতুলনীয়।
- যুক্তি ও দর্শনের আলোকে বাতিল মতবাদ খণ্ডন: মু’তাজিলা, জাহমিয়্যা ও দার্শনিকদের বিভ্রান্তিকর মতবাদকে গভীর বৈজ্ঞানিক ও কালামশাস্ত্রীয় যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেছেন।
- প্রকৃতি ও সৃষ্টিতত্ত্বের বিশ্লেষণ: মহাবিশ্ব, গ্রহ-নক্ষত্র, উদ্ভিদ ও মানব অঙ্গসংস্থানবিদ্যার বিস্ময়কর বর্ণনা দিয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব ও কুদরত প্রমাণ করেছেন।
- ফিকহী আহকামের চুলচেরা বিশ্লেষণ: আহকাম সংক্রান্ত আয়াতের ক্ষেত্রে ইমাম শাফেয়ী ও অন্যান্য ইমামদের দলীলসমূহ নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।
٩- مَا مَعْنَى التَّفْسِيرِ؟ تَحَدَّثْ عَنِ التَّفْسِيرِ بِدُونِ السَّنَدِ مَعَ بَيَانِ أَقْسَامِهِ وَحُكْمِهِ –
[৯. তাফসীর বলতে কী বোঝায়? আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ (সনদহীন তাফসীর)-এর প্রকারভেদ ও বিধানসহ বিশদ আলোচনা কর।]
তাফসীরের সংজ্ঞা
মানবজাতির বোধগম্য করার জন্য আরবি ভাষা ও শরিয়তের উসূলের আলোকে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াতসমূহের অর্থ, মর্ম, বিধান ও অন্তর্নিহিত হিকমত বিশ্লেষণ করার শাস্ত্রকে তাফসীর বলে।
আত-তাফসীর বিগাইরিস সানাদ (সনদহীন তাফসীর)-এর স্বরূপ
যেসব তাফসীরগ্রন্থে বর্ণনাকারীদের দীর্ঘ সনদ (ইসনাত) উল্লেখ না করে সরাসরি নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতের সারসংক্ষেপ, ভাষা ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, যুক্তি এবং ভাবার্থ লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে ‘আত-তাফসীর বিগাইরিস সানাদ’ বা ‘আত-তাফসীর বির-রায়’ (চিন্তাপ্রসূত তাফসীর) বলা হয়।
এর শ্রেণিবিভাগ ও শরিয়তের হুকুম
- তাফসীর বির-রায় আল-মাহমূদ (প্রশংসনীয় তাফসীর):
- সংজ্ঞা: যে তাফসীর আরবি ভাষা, হাদিস ও উসূলের মূলনীতির অধীনে থেকে সুস্থ বিবেক ও গভীর চিন্তাশীলতার মাধ্যমে করা হয়।
- হুকুম: এটি সম্পূর্ণরূপে জায়েয ও প্রশংসনীয় (যেমন: তাফসীরে রাযী, তাফসীরে নাসাফী, তাফসীরে জালালাইন)।
- তাফসীর বির-রায় আল-মাযমুম (নিন্দনীয় তাফসীর):
- সংজ্ঞা: কোনো ইলম বা ব্যাকরণিক ভিত্তি ছাড়া কেবল মনগড়া মতামত বা বাতিল আকিদা প্রমাণের উদ্দেশ্যে কুরআন ব্যাখ্যা করা।
- হুকুম: এটি সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। রাসূল (স.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাখ্যায় মনগড়া কথা বলে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।” (তিরমিযী)।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ-২ পত্রটির বিষয় কোড কত এবং এতে কোন কোন সূরা অন্তর্ভুক্ত?
এ পত্রের বিষয় কোড ২০১৩০২। ফাজিল ৩য় বর্ষে এ পত্রে মূলত সূরা আন-নাহল, সূরা আল-ইসরা (বনি ইসরাঈল), সূরা আল-কাহাফ, সূরা মারইয়াম এবং সূরা ত্বা-হা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২. মি’রাজ জাগ্রত অবস্থায় হয়েছিল—এর অকাট্য দলীল কী?
কুরআনের সূরা বনি ইসরাঈলের প্রথম আয়াতে ‘বি-আবদিহী’ (তাঁর বান্দা) শব্দ এসেছে, যা দেহ ও আত্মার সমন্বিত রূপকে নির্দেশ করে। তাছাড়া কাফেরদের তীব্র প্রতিবাদই প্রমাণ করে এটি জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে ঘটেছিল।
৩. আসহাবে কাহাফ গুহায় কত বছর অবস্থান করেছিলেন?
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কাহাফের ২৫ নম্বর আয়াতের বিবরণ অনুযায়ী আসহাবে কাহাফ গুহায় সৌর হিসাব অনুযায়ী ৩০০ বছর এবং চান্দ্র হিসাব অনুযায়ী ৩০৯ বছর অলৌকিক নিদ্রায় অবস্থান করেছিলেন।
৪. কুরআনে বর্ণিত ‘কুরআনুল ফাজর’ বলতে কী বোঝায়?
‘কুরআনুল ফাজর’ বলতে মূলত ফজরের ফরজ নামাজকে বোঝানো হয়েছে, যে সময়ে রাত ও দিনের উভয় দলের ফেরেশতাগণ উপস্থিত হয়ে মুমিনের নামাজ ও তিলাওয়াত প্রত্যক্ষ করেন।
৫. তাফসীরে মাফাতিহুল গাইবের বিশেষ স্বাতন্ত্র্য কী?
ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রচিত এ তাফসীরগ্রন্থে এক আয়াতের সাথে অন্য আয়াতের চমৎকার যোগসূত্র, দর্শনের আলোকে বাতিল মতবাদ খণ্ডন এবং সৃষ্টিতত্ত্বের গভীর বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে।
৬. ২০২০ সালের পরীক্ষার উত্তরের জন্য কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
কুরআনের আয়াতের সরল বাংলা অর্থ, শানে নুযুল, গুরুত্বপূর্ণ শব্দের আরবি তাহকীক ও ব্যাকরণিক তারকীব এবং তাফসীর শাস্ত্রের ঐতিহাসিক প্রশ্নগুলোর প্রামাণ্য উত্তর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।