জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর বিস-সানাদ (At-Tafsir bis-Sanad) – 201301, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৫ মিনিট পড়ার সময়
৬ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۰ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بالسند
[আত-তাফসীর বিস-সানাদ]
বিষয় কোড: ২০১৩০১ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٤ × ٥ = ٧٠
(ترجم الآيات الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[যে-কোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর দাও]

١- الر ۚ كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ – أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۚ إِنَّنِي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ – وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ ۖ وَإِن تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ – إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ –

[১. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

সরল অনুবাদ

“আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে, অতঃপর বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে। যেন তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না কর; নিশ্চয়ই আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। আর যেন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন (তওবা) কর; তাহলে তিনি তোমাদের এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত উত্তম জীবনোপভোগ করতে দেবেন এবং প্রত্যেক অনুগ্রহকারীকে তাঁর পূর্ণ অনুগ্রহ দান করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের আজাবের আশঙ্কা করছি। আল্লাহর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (সূরা হূদ: ১-৪)।

(أ) ما الوجه لتسمية سورة هود؟ [সূরা হূদের নামকরণের কারণ]

সূরা হূদ পবিত্র কুরআনের ১১তম সূরা। এর নামকরণের প্রধান কারণ হলো:

  • এ সূরায় হযরত হূদ (আ.) এবং তাঁর অবাধ্য কওম ‘আদ’-এর বিস্তারিত ঘটনা, তাদের অহংকার এবং আল্লাহর গজবে ধ্বংসের শিক্ষণীয় ইতিহাস অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে (আয়াত ৫০–৬০)।
  • অন্যান্য নবীদের কাহিনী এতে বর্ণিত হলেও হযরত হূদ (আ.)-এর দাওয়াত ও জাতি ধ্বংসের আলোচনা কেন্দ্রীয় গুরুত্ব পাওয়ায় এ সূরার নাম ‘সূরা হূদ’ রাখা হয়েছে।

(ب) لم قدم الاستغفار على التوبة؟ [তওবার পূর্বে ইস্তিগফারকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে?]

আয়াতে «اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ» অর্থাৎ তওবার আগে ইস্তিগফারের কথা বলা হয়েছে। তাফসীরবিদগণ এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন:

  1. তখলিয়া ও তহলিয়া (পবিত্রকরণ ও সুশোভিতকরণ): ইস্তিগফারের অর্থ হলো অতীতের গুনাহ ও শিরক থেকে ক্ষমা চেয়ে অন্তরকে কালিমাযুক্ত অবস্থা থেকে মুক্ত করা (تخلية)। আর তওবা হলো ভবিষ্যতে আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকার সংকল্প করে নেক আমল দিয়ে আত্মাকে সুশোভিত করা (تحلية)। অন্তরকে আগে পাপমুক্ত না করলে তাতে নেক আমল স্থান পায় না।
  2. ‘সুম্মা’ (ثم) অব্যয়ের ব্যবহার: এখানে ‘সুম্মা’ দ্বারা ধারাবাহিক অগ্রাধিকার বোঝানো হয়েছে; অর্থাৎ পূর্বকৃত অপরাধের ক্ষমা প্রার্থনা প্রথম ধাপ, আর আল্লাহর দিকে সার্বিক প্রত্যাবর্তন হলো তার চূড়ান্ত ফল।

٢- الر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ – إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ – نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَٰذَا الْقُرْآنَ وَإِن كُنتَ مِن قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ – إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سَاجِدِينَ –

[২. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

সরল অনুবাদ

“আলিফ-লাম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। নিশ্চয়ই আমি একে নাযিল করেছি আরবি ভাষায় কুরআনরূপে, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আমি আপনার নিকট এই কুরআন ওহির মাধ্যমে প্রেরণ করে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, যদিও আপনি এর পূর্বে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল: হে আমার পিতা! আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য এবং চন্দ্রকে; আমি তাদের দেখলাম আমার প্রতি সিজদারত অবস্থায়।” (সূরা ইউসুফ: ১-৪)।

(أ) بين حكمة ذكر الحروف المقطعات في القرآن الكريم [হুরুফে মুকাত্তা’আত উল্লেখের হেকমত]

পবিত্র কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে হুরুফে মুকাত্তা’আত এসেছে। এর প্রধান হিকমতসমূহ হলো:

  • আরব সাহিত্যের অহংকার চূর্ণ করা ও কুরআনের মুজিযা প্রমাণ: তৎকালীন আরবরা সাহিত্যের শীর্ষ চূড়ায় ছিল। আল্লাহ তাদের জানালেন—কুরআন তোমাদেরই ব্যবহৃত বর্ণমালা (আলিফ, লাম, রা ইত্যাদি) দিয়ে রচিত। পারলে তোমরা এর মতো একটি সূরা বানিয়ে দেখাও! কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে প্রমাণ করল এটি মানবীয় নয়, ঐশী বাণী।
  • মনোযোগ আকর্ষণ: মক্কার কাফেররা কুরআন তিলাওয়াতের সময় শোরগোল করত। এই রহস্যময় বিচ্ছিন্ন বর্ণমালা উচ্চারিত হলে তারা হতভম্ব হয়ে কান পেতে শুনত।
  • ঐশী গোপন রহস্য: এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মধ্যকার এমন রহস্য যার চূড়ান্ত মর্ম আল্লাহই সম্যক অবগত।

(ب) لم سميت قصة يوسف ‘أحسن القصص’؟ [ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনীকে ‘আহসানুল ক্বাসাস’ বলার কারণ]

ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনাকে কুরআনে ‘সর্বোত্তম কাহিনী’ বলার কারণ:

  1. এতে ঈর্ষা, ষড়যন্ত্র, কূপে নিক্ষেপ, দাসত্ব, মিথ্যা অপবাদ, কারাগার, রাজপ্রাসাদ, রাষ্ট্রক্ষমতা, পরিবারের পুনর্মিলন এবং পরম ক্ষমার এক অভূতপূর্ব নাটকীয় ও বাস্তব শিক্ষা রয়েছে।
  2. এতে নবীদের ধৈর্য, সতীত্ব রক্ষা, পিতা-পুত্রের আবেগ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে শত্রুদের ক্ষমা করার চরম নৈতিক মহত্ত্ব ফুটে উঠেছে।
  3. মানুষের জীবনের প্রতিটি অবস্থার (সুখ-দুঃখ, সংকট-সাফল্য) সমাধান একক ঘটনার মধ্যে সন্নিবেশিত হয়েছে।

٣- المر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ ۗ وَالَّذِي أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ الْحَقُّ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ – اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُم بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ –

[৩. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

সরল অনুবাদ

“আলিফ-লাম-মীম-রা; এগুলো কিতাবের আয়াত। আর যা আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস স্থাপন করে না। আল্লাহই তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলীকে কোনো দৃশ্যমান স্তম্ভ ছাড়াই ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত আবর্তন করবে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসী হতে পার।” (সূরা আর-রা’দ: ১-২)।

(أ) ما معنى الرعد؟ بين وجه التسمية لسورة الرعد؟ [রা’দ-এর অর্থ ও নামকরণের কারণ]

  • শাব্দিক অর্থ: ‘রা’দ’ (الرعد) শব্দের অর্থ মেঘের গর্জন বা মেঘমালার বজ্রধ্বনি। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রা’দ হলো মেঘমালা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত এক ফেরেশতার হাঁকডাক বা তাসবীহের ধ্বনি।
  • নামকরণের কারণ: এ সূরার ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ — “বজ্রধ্বনি তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাগণও তাঁর ভয়ে কম্পিত হয়ে তাসবীহ পাঠ করে।” মেঘের ভয়াল গর্জনও যে আল্লাহর অনুগত বান্দা এবং তাঁরই তাসবীহ পড়ে—এই মহিমান্বিত দৃশ্য চিত্রায়িত হওয়ার কারণে সূরার নাম ‘সূরা আর-রা’দ’ রাখা হয়েছে।

(ب) اشرح قوله تعالى “كل يجري لأجل مسمى” [ব্যাখ্যা]

আয়াতাংশের মর্ম হলো—সূর্য, চন্দ্র এবং গ্রহ-নক্ষত্রের এই যে কক্ষপথে নিরবচ্ছিন্ন পরিভ্রমণ, এটি অনন্তকাল চলবে না। এদের প্রত্যেকের জন্য একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ বা পরমায়ু (أجل مسمى) নির্ধারিত রয়েছে। কিয়ামতের দিন সেই মেয়াদ শেষ হবে; তখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে, চন্দ্র বিদীর্ণ হবে এবং সমগ্র মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে মহাপ্রলয় সংঘটিত হবে।


٤- اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنثَىٰ وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ ۖ وَكُلُّ شَيْءٍ عِندَهُ بِمِقْدَارٍ – عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ – سَوَاءٌ مِّنكُم مَّنْ أَسَرَّ الْقَوْلَ وَمَن جَهَرَ بِهِ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍ بِاللَّيْلِ وَسَارِبٌ بِالنَّهَارِ –

[৪. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

সরল অনুবাদ

“প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে আল্লাহ তা জানেন এবং জরায়ুতে যা কিছু সংকুচিত হয় বা বৃদ্ধি পায় তাও তিনি সম্যক অবগত। আর তাঁর নিকট প্রত্যেক বস্তুরই একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞাতা, পরম মহান ও সর্বোচ্চ মর্যাদাবান। তোমাদের মধ্যে যে কথা গোপনে বলে এবং যে প্রকাশ্যে বলে, আর যে রাতের আঁধারে লুকিয়ে থাকে এবং যে দিনের আলোতে চলাফেরা করে—সবাই তাঁর জ্ঞানের দৃষ্টিতে সমান।” (সূরা আর-রা’দ: ৮-১০)।

(أ) ما المراد بقوله تعالى “وما تغيض الأرحام وما تزداد”؟ [মর্মার্থ]

তাফসীরে বায়যাবী ও জালালাইন অনুযায়ী এর তিনটি প্রধান ব্যাখ্যা রয়েছে:

  1. গর্ভকাল হ্রাস-বৃদ্ধি: স্বাভাবিক গর্ভকাল ৯ মাস। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কমে ৬-৭ মাসে জন্ম নেয় (تغيض) অথবা কোনো ক্ষেত্রে তা বেড়ে ১০ মাস বা তদূর্ধ্ব হয় (تزداد)। আল্লাহ তা সম্পূর্ণ জানেন।
  2. গর্ভস্থ সন্তানের সংখ্যা ও অঙ্গের হ্রাস-বৃদ্ধি: গর্ভে একটি সন্তান না একাধিক সন্তান, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিখুঁত না ত্রুটিযুক্ত, তা কেবল আল্লাহই জানেন।
  3. রক্তস্রাব ও গর্ভপাত: গর্ভাশয়ের সংকোচন ও রক্তের অপচয় অথবা সন্তানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টি সাধন।

(ب) حقق الكلمات التالية: سارب، أسر، جهر [তাহকীক]

  • سَارِبٌ (সারিব): اسم فاعل (একবচন, পুংলিঙ্গ)। মূলধাতু: س-ر-ب (সীন্-রা-বা), বাবে ضرب। অর্থ: দিনের আলোতে প্রকাশ্যে পথচারী বা প্রকাশ্য বিচরণকারী।
  • أَسَرَّ (আসাররা): فعل ماض (একবচন, নামপুরুষ)। বাবে إفعال। মূলধাতু: س-ر-ر (গোপন করা)। অর্থ: সে গোপনে বলল।
  • جَهَرَ (জাহারা): فعل ماض (একবচন, নামপুরুষ)। বাবে فتح। মূলধাতু: ج-ه-ر (প্রকাশ করা)। অর্থ: সে উচ্চকণ্ঠে বা প্রকাশ্যে বলল।

٥- الر ۚ كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَىٰ صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ – اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ وَوَيْلٌ لِّلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ – الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا ۚ أُولَٰئِكَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ –

[৫. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

সরল অনুবাদ

“আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানবজাতিকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকারসমূহ থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসেন—মহামহিম, প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে। সেই আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিক। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির দুর্ভোগ। যারা পরকালের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করে; তারাই ঘোর বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত।” (সূরা ইবরাহীম: ১-৩)।

(أ) ما المراد بالظلمات في الآية؟ [‘জুলুমাত’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]

আয়াতে ‘জুলুমাত’ (الظلمات) দ্বারা কুফর, শিরক, অজ্ঞতা, অনৈতিকতা এবং পাপের বহুমুখী পথকে বোঝানো হয়েছে, যা মানুষের আত্মিক দৃষ্টিকে অন্ধ করে দেয়।

(ب) لم جمعت الظلمات وأفرد النور؟ [‘জুলুমাত’ বহুবচন ও ‘নূর’ একবচন কেন?]

বালাগাত ও তাফসীরের সূক্ষ্ম রহস্য হলো:

  • বাতিলের পথ ও গোমরাহীর শাখা-প্রশাখা বহু ও বিভিন্ন (যেমন: শিরক, কুফর, নাস্তিক্যবাদ, আত্মপূজা ইত্যাদি)। তাই বাতিলের প্রতীক ‘জুলুমাত’-কে বহুবচনে আনা হয়েছে।
  • পক্ষান্তরে সত্যের পথ ও তাওহিদের শিক্ষা কিয়ামত পর্যন্ত এক ও অভিন্ন। সত্যের কোনো বিভাজন নেই। এজন্য আলোর প্রতীক ‘নূর’-কে একবচনে উল্লেখ করা হয়েছে।

٦- وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا أَنْ أَخْرِجْ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَذَكِّرْهُم بِأَيَّامِ اللَّهِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ – وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ أَنجَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ وَيُذَبِّحُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ ۚ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَاءٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ –

[৬. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

সরল অনুবাদ

“আর আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ প্রেরণ করেছিলাম এই নির্দেশ দিয়ে যে, তুমি তোমার সম্প্রদায়কে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আন এবং তাদেরকে আল্লাহর বিশেষ দিবসসমূহ স্মরণ করিয়ে দাও। নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক পরম ধৈর্যশীল ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। আর যখন মূসা তার কওমকে বলল: তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই নিয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের ফেরাউনের লোকদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন; যারা তোমাদের মর্মান্তিক শাস্তি দিত, তোমাদের পুত্রদের জবাই করত এবং তোমাদের কন্যাদের জীবিত রাখত। আর এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ছিল এক মহাপরীক্ষা।” (সূরা ইবরাহীম: ৫-৬)।

(أ) ما المراد بقوله تعالى “وذكرهم بأيام الله”؟ [ব্যাখ্যা]

‘আইয়্যামিল্লাহ’ (أيام الله) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:

  1. পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ওপর আল্লাহর প্রেরিত ঐতিহাসিক নেয়ামত ও অনুগ্রহের দিনসমূহ (যেমন: বনি ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করে মুক্তি দেওয়া, মান্না ও সালওয়া নাযিল করা)।
  2. অবাধ্য জালিমদের ওপর আল্লাহর গজব ও ধ্বংসের দিনসমূহ (যেমন: কওমে নূহ, আদ ও সামূদ জাতিকে ধ্বংস করা এবং ফেরাউনকে নীল নদে ডুবিয়ে মারা)। এসব দিন স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় এবং তাঁর অবাধ্যতা বর্জন করে।

(ب) إلى أية واقعة أشيرت بقوله تعالى “إذ أنجاكم من آل فرعون”؟ [ঐতিহাসিক ঘটনা]

এখানে ঐতিহাসিক আশুরার দিনের সেই অবিস্মরণীয় মুজিযার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যখন হযরত মূসা (আ.) বনি ইসরাঈলকে নিয়ে মিশর ত্যাগ করছিলেন এবং ফেরাউন তার বিশাল সেনাবহর নিয়ে তাদের পেছনে ধাওয়া করেছিল। মহান আল্লাহ সাগরে ১২টি শুকনো রাস্তা তৈরি করে মূসা (আ.) ও তাঁর জাতিকে নিরাপদে পার করে দেন এবং ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনীকে চোখের পলকে সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করেন।


٧- الر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَقُرْآنٍ مُّبِينٍ – رُّبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ – ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الْأَمَلُ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ – وَمَا أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌ مَّعْلُومٌ – مَّا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ –

[৭. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

সরল অনুবাদ

“আলিফ-লাম-রা; এগুলো কিতাবের এবং সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত। এমন এক সময় আসবে যখন কাফেররা তীব্র আকাঙ্ক্ষা করবে যে, হায়! তারা যদি মুসলমান হতো! আপনি তাদের ছেড়ে দিন—তারা খেতে থাকুক, ভোগ করতে থাকুক এবং মিথ্যা আশা তাদের গাফেল রাখুক; শীঘ্রই তারা তাদের পরিণাম জানতে পারবে। আর আমি কোনো জনপদকে ধ্বংস করিনি যার জন্য এক নির্ধারিত মেয়াদ লিখিত ছিল না। কোনো জাতি তার নির্ধারিত মেয়াদের অগ্রবর্তী হতে পারে না এবং বিলম্বিতও করতে পারে না।” (সূরা আল-হিজর: ১-৫)।

(أ) ما معنى الحجر؟ وما المراد به؟ [হিজর-এর অর্থ ও উদ্দেশ্য]

  • শাব্দিক অর্থ: ‘হিজর’ (الحجر) শব্দের অর্থ পাথর, সুরক্ষিত প্রাচীর বা বাধা।
  • ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়: এটি মদিনা ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী ‘ওয়াদিউল কুরা’-এর একটি প্রাচীন পাথুরে উপত্যকা। এখানে হযরত সালেহ (আ.)-এর কওম ‘সামূদ’ জাতি বাস করত। তারা পাথুরে পাহাড় কেটে বিলাসবহুল দুর্গ ও অট্টালিকা নির্মাণ করত। নবীর অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ এক বিকট চিৎকারের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস করে দেন।

(ب) أوضح قوله تعالى “ذرهم يأكلوا ويتمتعوا ويلههم الأمل” [তাৎপর্য]

এটি কাফেরদের প্রতি চরম তিরস্কার ও হুঁশিয়ারি। কাফেররা পশুর মতো কেবল খাওয়া-দাওয়া ও ভোগবিলাসে মত্ত থাকে এবং দীর্ঘ জীবনের অলীক আশায় বিভোর হয়ে আখেরাতকে ভুলে থাকে। রাসূল (স.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা যখন সত্য গ্রহণ করতে নারাজ, তখন আপনি তাদের ওপর আক্ষেপ করবেন না; শীঘ্রই মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে তারা সত্যের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করবে।


٨- وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَزَيَّنَّاهَا لِلنَّاظِرِينَ – وَحَفِظْنَاهَا مِن كُلِّ شَيْطَانٍ رَّجِيمٍ – إِلَّا مَنِ اسْتَرَقَ السَّمْعَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ مُّبِينٌ – وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ شَيْءٍ مَّوْزُونٍ – وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ وَمَن لَّسْتُمْ لَهُ بِرَازِقِينَ –

[৮. উল্লিখিত আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ কর এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

সরল অনুবাদ

“আর নিশ্চয়ই আমি আকাশে গ্রহমণ্ডলী ও রাশিচক্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকদের জন্য সুশোভিত করেছি। আর আমি একে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে সংরক্ষিত রেখেছি। তবে যে গোপনে কান পেতে কিছু শুনে নেয়, এক উজ্জ্বল উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। আর জমিনকে আমি বিস্তৃত করেছি এবং তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু পরিমিত পরিমাণে উৎপন্ন করেছি। আর আমি তাতে তোমাদের জন্য এবং যাদের জীবিকাদাতা তোমরা নও—তাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি।” (সূরা আল-হিজর: ১৬-২০)।

(أ) ما معنى البروج؟ وما المراد به هنا؟ [বুরূজ-এর অর্থ]

‘বুরূজ’ (البروج) শব্দটি ‘বুরজ’-এর বহুবচন। এর শাব্দিক অর্থ সুরম্য প্রাসাদ বা দুর্গ। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও তাফসীরের পরিভাষায় আকাশে নক্ষত্র ও গ্রহসমূহের বিশেষ কক্ষপথ, অবস্থান বা বারোটি রাশিচক্রকে (Constellations) বুরূজ বলা হয়। এখানে আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রমণ্ডল ও গ্রহমণ্ডলকে বোঝানো হয়েছে।

(ب) اشرح قوله تعالى “وزيناها للناظرين”، “فأتبعه شهاب مبين” [ব্যাখ্যা]

  • وزيناها للناظرين: আল্লাহ রাতের আকাশে অগণিত ঝলমলে তারকারাজি স্থাপন করে আকাশমণ্ডলকে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে সুসজ্জিত করেছেন, যা দেখে চিন্তাশীল মানুষ আল্লাহর কুদরত প্রত্যক্ষ করে।
  • فأتبعه شهاب مبين: শয়তান ও জিনেরা যখন আকাশের ঊর্ধ্বজগতে গিয়ে ফেরেশতাদের কথোপকথন চুরি করে শোনার চেষ্টা করে, তখন জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ভস্মীভূত করা হয়।

مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (উসূল ও ইতিহাস সংক্রান্ত প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٠ × ١ = ١٠
[যে-কোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দাও]

٩- اكْتُبْ تَرْجَمَةً مُوجَزَةً لِلْإِمَامِ الْبَيْضَاوِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ مَعَ بَيَانِ مَنْهَجِهِ فِي تَفْسِيرِهِ “أَنْوَارُ التَّنْزِيلِ وَأَسْرَارُ التَّأْوِيلِ” –

[৯. ইমাম বায়যাবী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং তাঁর তাফসীরগ্রন্থ “আনওয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তা’বীল”-এর তাফসীর পদ্ধতি বর্ণনা কর।]

ইমাম বায়যাবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  • নাম ও পরিচয়: নাসিরুদ্দীন আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর আল-বায়যাবী আশ-শিরাজী। তিনি পারস্যের শিরাজ শহরের নিকটবর্তী বায়যা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
  • জ্ঞান ও মর্যাদা: তিনি ছিলেন একাধারে প্রধান বিচারপতি (কাযিউল কুযাত), প্রখ্যাত মুফাসসির, ফকীহ, মুতাকাল্লিম ও ব্যাকরণবিদ। তিনি হিজরি ৬৮৫ বা ৬৯১ সনে তাবরিযে ইন্তেকাল করেন।

তাফসীরে বায়যাবীর পদ্ধতি ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. সংক্ষিপ্ত অথচ সারগর্ভ রচনা: তিনি তাফসীরে কাশশাফের বালাগাত ও সাহিত্যের নির্যাস গ্রহণ করেছেন, কিন্তু কাশশাফের মু’তাজিলা মতবাদ সম্পূর্ণ বর্জন করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদায় তা উপস্থাপন করেছেন।
  2. ব্যাকরণ ও অলংকার শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ: নাহু, সরফ ও বালাগাতের নিখুঁত প্রয়োগে তিনি কুরআনকে অলৌকিক সাহিত্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
  3. ক্বিরাআত ও শরিয়তের হুকুম: তিনি মশহুর ক্বিরাআতসমূহের উল্লেখ করেছেন এবং শাফেয়ী ফিকহের আলোকে আহকাম সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
  4. দার্শনিক যুক্তি ও কালামশাস্ত্র: বিভ্রান্ত দলগুলোর যুক্তির দাঁতভাঙা জবাব দিতে কালামশাস্ত্রীয় যুক্তি প্রয়োগ করেছেন।

١٠- عَرِّفِ التَّفْسِيرَ وَالتَّأْوِيلَ لُغَةً وَاصْطِلَاحًا، وَاذْكُرِ الْفَرْقَ بَيْنَهُمَا مَعَ بَيَانِ شُرُوطِ الْمُفَسِّرِ –

[১০. তাফসীর ও তা’বীলের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও এবং এদের মধ্যকার পার্থক্য ও মুফাসসিরের আবশ্যকীয় শর্তাবলি উল্লেখ কর।]

তাফসীর ও তা’বীলের পরিচয়

  • তাফসীর: শাব্দিক অর্থ উন্মোচন করা, সুস্পষ্ট করা ও ব্যাখ্যা করা। পরিভাষায়: যে শাস্ত্রের মাধ্যমে মহান আল্লাহর বাণীর মর্ম, বিধি-বিধান ও হেকমত মানুষের বোধগম্য করা হয় তাকে তাফসীর বলে।
  • তা’বীল: শাব্দিক অর্থ মূল উৎসে ফিরে যাওয়া। পরিভাষায়: কোনো আয়াতের একাধিক সম্ভাব্য অর্থের মধ্যে যুক্তি ও দলিলের ভিত্তিতে সবচেয়ে উপযুক্ত ও শক্তিশালী অর্থ নির্ধারণ করাকে তা’বীল বলে।

তাফসীর ও তা’বীলের পার্থক্য

তুলনার ক্ষেত্র তাফসীর (Tafsir) তা’বীল (Tawil)
প্রকৃতি মূলত রেওয়ায়েত ও স্পষ্ট বাণীর প্রামাণ্য ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। ইজতিহাদ, গভীর চিন্তাশক্তি ও প্রজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল।
প্রয়োগ শব্দের বাহ্যিক অর্থ ও ঐতিহাসিক শানে নুযুল প্রকাশ করে। শব্দের অন্তর্নিহিত গভীর মর্মার্থ উন্মোচন করে।

মুফাসসিরের প্রধান শর্তাবলি

  1. বিশুদ্ধ ইসলামি আকিদা ও তাকওয়া থাকা।
  2. আরবি ভাষা, ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) ও অলংকার শাস্ত্রে (বালাগাত-ফাসাহাত) অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা।
  3. উলূমুল কুরআন, শানে নুযুল, নাসিখ-মানসূখ এবং হাদীস ও উসূলুল হাদীসের গভীর জ্ঞান থাকা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আত-তাফসীর বিস-সানাদ পত্রের বিষয় কোড ও নির্ধারিত সূরাগুলো কী কী?

এ পত্রের বিষয় কোড হলো ২০১৩০১। ফাজিল ৩য় বর্ষে এ পত্রে মূলত সূরা হূদ, সূরা ইউসুফ, সূরা আর-রা’দ, সূরা ইবরাহীম ও সূরা আল-হিজর অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. তাফসীর অধ্যয়নের প্রধান লক্ষ্য কী?

তাফসীর অধ্যয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কালামের সঠিক মর্মার্থ অনুধাবন করা, শরিয়তের বিধি-বিধান জানা এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুশাসন বাস্তবায়ন করা।

৩. হুরুফে মুকাত্তা’আত বলতে কী বোঝায়?

হুরুফে মুকাত্তা’আত হলো কুরআনের বিভিন্ন সূরার শুরুতে ব্যবহৃত বিচ্ছিন্ন বর্ণমালা (যেমন: আলিফ-লাম-মীম, আলিফ-লাম-রা), যার চূড়ান্ত রহস্য একমাত্র সর্বজ্ঞানী আল্লাহই অবগত।

৪. কুরআনে বর্ণিত ‘আইয়্যামিল্লাহ’ বা আল্লাহর দিনসমূহ কী?

‘আইয়্যামিল্লাহ’ হলো মানব ইতিহাসে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও নেয়ামতপ্রাপ্তির দিন অথবা অবাধ্য জাতিসমূহের ওপর গজব ও ধ্বংস নাযিল হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল দিবসসমূহ।

৫. তাফসীরে বায়যাবীর বিশেষ স্বাতন্ত্র্য কী?

তাফসীরে বায়যাবী বালাগাত ও আরবি ব্যাকরণের অনন্য সমন্বয়ে রচিত এক প্রামাণ্য গ্রন্থ, যা মু’তাজিলা মতবাদ খণ্ডন করে খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা প্রতিষ্ঠিত করেছে।

৬. ২০২০ সালের এ প্রশ্নপত্রের উত্তরের ক্ষেত্রে কোন দিকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

কুরআনের আয়াতের বিশুদ্ধ বাংলা অর্থ, শাব্দিক বিশ্লেষণ (তাহকীক), শানে নুযুল এবং সংশ্লিষ্ট তাফসীরি প্রশ্নের প্রামাণ্য উত্তর দেওয়া পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরের জন্য অপরিহার্য।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *