اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۰ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علوم الحديث
[উলূমুল হাদিস]
বিষয় কোড: ২০১৩০৩ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: اجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن اربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٥ × ٤ = ٦٠
[যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
١- عَرِّفْ عِلْمَ مُصْطَلَحِ الْحَدِيثِ مَعَ بَيَانِ مَوْضُوعِهِ وَغَرَضِهِ وَنَشْأَتِهِ وَتَطَوُّرِهِ –
[১. ইলমু মুসতালাহিল হাদিসের সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামের দ্বিতীয় প্রধান উৎস হলো রাসূলুল্লাহ (স.)-এর পবিত্র হাদিস। জাল ও দুর্বল হাদিসের সংমিশ্রণ থেকে নববী বাণীকে অবিকৃত ও সুরক্ষিত রাখার জন্য মুসলিম উম্মাহ যে অনন্য বিজ্ঞান উদ্ভাবন করেছে তাকে ‘ইলমু মুসতালাহিল হাদিস’ বলা হয়। এটি মুসলিম উম্মাহর এক অতুলনীয় ঐতিহাসিক কীর্তি।
ইলমু মুসতালাহিল হাদিসের সংজ্ঞা
- শাব্দিক অর্থ: ‘মুসতালাহ’ অর্থ পারিভাষিক শব্দ বা নিয়মাবলী, আর হাদিস হলো রাসূল (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতি।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন: “ইলমু মুসতালাহিল হাদিস হলো এমন কিছু নিয়ম-কানুন ও মূলনীতির জ্ঞান, যার সাহায্যে হাদিসের সনদ (বর্ণনাকারী পরম্পরা) এবং মতন (মূল বক্তব্য)-এর গ্রহণযোগ্যতা (কবুল) ও বর্জনযোগ্যতা (রদ্দ) নিরূপণ করা যায়।”
আলোচ্য বিষয় (موضوعه) ও উদ্দেশ্য (غرضه)
- আলোচ্য বিষয়: হাদিসের সনদ ও মতন—গ্রহণযোগ্য বা বর্জনীয় হওয়ার দিক থেকে এদের অবস্থা পর্যালোচনা করা।
- উদ্দেশ্য: সহীহ হাদিসকে দুর্বল ও জাল হাদিস থেকে পৃথক করা এবং রাসূলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ থেকে শরিয়তকে হেফাজত করা।
উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
- সাহাবী ও তাবেয়ী যুগ: হিজরি প্রথম শতকে ফেতনার আত্মপ্রকাশ ঘটলে বর্ণনাকারীদের পরিচয় অনুসন্ধান শুরু হয়। হযরত ইবনে সিরীন (রহ.) বলেন: “পূর্বে সনদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হতো না, কিন্তু ফেতনা শুরু হওয়ার পর বলা হলো—তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বল।”
- মৌলিক নীতিমালা প্রণয়ন: ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তাঁর অমর গ্রন্থ ‘আর-রিসালাহ’-তে সর্বপ্রথম সহীহ হাদিস ও রাবীর গ্রহণযোগ্যতার নিয়ম লিপিবদ্ধ করেন।
- স্বতন্ত্র গ্রন্থ প্রণয়ন: হিজরি ৪র্থ শতকে কাযী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুযী (রহ.) সর্বপ্রথম ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়ায়ী’ নামক স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন। পরবর্তীতে হাকিম নিশাপুরী, খতীব বাগদাদী, ইবনুস সালাহ এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর ‘নুখবাতুল ফিকার’ দ্বারা এ শাস্ত্র পূর্ণতা লাভ করে।
٢- مَا الْخَبَرُ؟ وَكَمْ قِسْمًا لَهُ؟ تَحَدَّثْ عَنْ خَبَرِ الْآحَادِ مُفَصَّلًا –
[২. খবর কাকে বলে? উহা কত প্রকার? খববুল আহাদ সম্পর্কে সবিস্তারে আলোচনা কর।]
খবরের পরিচয় ও শ্রেণিবিভাগ
খবরের সংজ্ঞা: মুহাদ্দিসগণের মতে, ‘খবর’ হলো হাদিসের সমার্থক—অর্থাৎ যা রাসূলুল্লাহ (স.), সাহাবী বা তাবেয়ীগণের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে খবর মূলত দুই প্রকার: ১. খবরুল মুতাওয়াতির (ধারাবাহিক বহু সূত্রে বর্ণিত), এবং ২. খবরুল আহাদ (একক বা সীমিত সূত্রে বর্ণিত)।
খবরুল আহাদ (خبر الآحاد)-এর বিস্তারিত আলোচনা
সংজ্ঞা: যে হাদিসে মুতাওয়াতিরের শর্তাবলি পূর্ণ হয় না, অর্থাৎ যা প্রতিটি স্তরে এমন সংখ্যক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত হয়নি যা মিথ্যা রটনায় একমত হওয়া অসম্ভব করে তোলে, তাকে খবরুল আহাদ বলে।
খবরুল আহাদের শ্রেণিবিভাগ (বর্ণনাকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে)
- মাশহূর (المشهور): যে হাদিসের বর্ণনাকারী সনদের প্রতিটি স্তরে কমপক্ষে তিনজন বা তদূর্ধ্ব, তবে তা মুতাওয়াতিরের সীমায় পৌঁছেনি।
- আযীয (العزيز): সনদের কোনো স্তরে বর্ণনাকারীর সংখ্যা কোনোক্রমেই দুজনের কম নয়।
- গারীব (الغريب): সনদের যেকোনো এক স্তরে কেবল একজনমাত্র বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণিত হাদিস।
গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে খবরুল আহাদের হুকুম
খবরুল আহাদকে গ্রহণযোগ্যতার বিচারে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: মাকবুল (সহীহ ও হাসান) এবং মারদুদ (যঈফ ও মওজু)। বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত খবরুল আহাদের ওপর আমল করা উম্মতের সর্বসম্মত ঐকমত্য অনুযায়ী ওয়াজিব।
٣- عَرِّفِ الْخَبَرَ الْمَرْدُودَ مَعَ ذِكْرِ أَقْسَامِهِ مُفَصَّلًا –
[৩. আল-খাবারুল মারদূদের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
আল-খাবারুল মারদূদের সংজ্ঞা
যে হাদিসে গ্রহণযোগ্যতার আবশ্যকীয় শর্তসমূহ (যেমন: সনদের অবিচ্ছিন্নতা, রাবীর আদালত ও যবত ইত্যাদি) বিদ্যমান থাকে না এবং যা প্রামাণ্য দলীল হিসেবে বাতিল বলে গণ্য হয় তাকে খাবারুল মারদূদ (বর্জনীয় বা প্রত্যাখ্যাত হাদিস) বলা হয়। এর সাধারণ নাম হলো ‘হাদিসে যঈফ’ (দুর্বল হাদিস)।
খাবারুল মারদূদের প্রধান কারণ ও প্রকারভেদ
হাদিস প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রধান কারণ দুটি: ১. সনদে বিচ্যুতি বা রাবী বাদ পড়া (السقط في الإسناد), ২. রাবীর ওপর দোষারোপ বা আপত্তি (الطعن في الراوي)।
ক. সনদে বিচ্যুতির কারণে প্রত্যাখ্যাত হাদিস
- মু’আল্লাক (المعلق): সনদের শুরু থেকে একজন বা একাধিক রাবী বাদ পড়লে।
- মুরসাল (المرسل): তাবেয়ীর পর সাহাবীর নাম বাদ দিয়ে সরাসরি রাসূল (স.)-এর উদ্ধৃতি দিলে।
- মু’দ্বাল (المعضل): সনদের মাঝখান থেকে পরপর দুইজন বা ততোধিক রাবী বাদ পড়লে।
- মুনকাত্বি’ (المنقطع): সনদের যেকোনো স্থান থেকে বিচ্ছিন্নভাবে একজন রাবী বাদ পড়লে।
- মুদাল্লাস ও মুরসালে খাফী: সনদের কোনো ত্রুটি লুকিয়ে রেখে শ্রুতিযোগ্য দেখানো।
খ. রাবীর ওপর আপত্তির কারণে প্রত্যাখ্যাত হাদিস
- মওজু (الموضوع): রাবীর মিথ্যাবাদী হওয়ার কারণে মনগড়া বা বানোয়াট হাদিস (মারদূদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট)।
- মাতরূক (المتروك): যে বর্ণনাকারী সাধারণ জীবনে মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত।
- মুনকার (المنكر): দুর্বল রাবী যখন নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত কোনো বর্ণনা করে।
- মুআল্লাল (المعلل): আপাতদৃষ্টিতে সহীহ মনে হলেও সূক্ষ্ম কোনো ধ্বংসাত্মক ত্রুটি (ইল্লত) বিদ্যমান থাকা।
٤- عَرِّفِ الرَّاوِيَ – ثُمَّ تَحَدَّثْ عَنْ شُرُوطِ قَبُولِهِ مَعَ ذِكْرِ أَلْفَاظِ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ –
[৪. রাবীর পরিচয় দাও। রাবী গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তাবলি আলোচনামূলক আল-জারহু ওয়াত-তা’দীলের শব্দগুলো বর্ণনা কর।]
রাবীর পরিচয়
যে ব্যক্তি নিজের শ্রবণ ও স্মৃতিশক্তির মাধ্যমে হাদিস ধারণ করে পরবর্তী প্রজন্মের নিকট সনদসহ তা বর্ণনা করে তাকে রাবী (الراوي বা বর্ণনাকারী) বলা হয়।
রাবীর গ্রহণযোগ্যতার মৌলিক শর্তাবলি
- আল-আদালাহ (العدالة – চারিত্রিক ন্যায়পরায়ণতা): রাবীকে অবশ্যই মুসলিম, বালেগ, সুস্থ বিবেকবান, তাকওয়াবান এবং ফাসেকী ও মানুষের দৃষ্টিতে মর্যাদাহানিকর কাজ থেকে মুক্ত হতে হবে।
- আয-যাবত (الضبط – সংরক্ষণ ক্ষমতা): হাদিস নির্ভুলভাবে স্মৃতিতে মুখস্থ রাখা (যবতুস সদর) অথবা নির্ভরযোগ্য কিতাবে সংরক্ষণ করা (যবতুল কিতাব) এবং অন্যকে হুবহু পৌঁছে দেওয়ার নির্ভুল সক্ষমতা থাকা।
আল-জারহু ওয়াত-তা’দীলের পারিভাষিক শব্দসমূহ (مراتب ألفاظ الجرح والتعديل)
| বিভাগ | স্তর | ব্যবহৃত পারিভাষিক শব্দ (আরবি ও অর্থ) |
|---|---|---|
| আত-তা’দীল (প্রশংসাসূচক শব্দাবলি) | সর্বোচ্চ স্তর | أوثق الناس (সর্বাধিক বিশ্বস্ত), ثقة ثقة (পরম নির্ভরযোগ্য)। |
| মধ্যম স্তর | ثقة (নির্ভরযোগ্য), ثبت (দৃঢ়), متقن (নিখুঁত)। | |
| সর্বনিম্ন স্তর | صدوق (সত্যবাদী), لا بأس به (কোনো সমস্যা নেই)। | |
| আল-জারহ (সমালোচনাসূচক শব্দাবলি) | সর্বনিম্ন স্তর | لين الحديث (হাদিস কিছুটা নরম), فيه مقال (কিছু কথা রয়েছে)। |
| মধ্যম স্তর | ضعيف (দুর্বল), ردوا حديثه (তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে)। | |
| চরম স্তর | كذاب (চরম মিথ্যাবাদী), يضع الحديث (হাদিস জাল করে)। |
٥- مَا الرِّوَايَةُ؟ وَمَا الْمُرَادُ بِضَبْطِ الرِّوَايَةِ؟ تَحَدَّثْ عَنْ كَيْفِيَّتِهِ بِالْإِيضَاحِ –
[৫. রেওয়ায়াত কী? যবতে রেওয়ায়াত দ্বারা কী বোঝায়? এর পদ্ধতি বিশদভাবে আলোচনা কর।]
রেওয়ায়াত ও যবতে রেওয়ায়াতের পরিচয়
- রেওয়ায়াত (الرواية): শায়খের নিকট থেকে শুনে বা পড়ে হাদিস গ্রহণ করা এবং তা পরবর্তী শিক্ষার্থীদের নিকট সুনির্দিষ্ট সনদের সাথে বর্ণনা করাকে রেওয়ায়েত বলে।
- যবতে রেওয়ায়াত (ضبط الرواية): হাদিসটি যেভাবে উস্তাদের কাছ থেকে শোনা হয়েছে, কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি বা অর্থ বিকৃতি ছাড়া হুবহু সেভাবে সংরক্ষণ ও পরিবেশন করার পূর্ণ মানসিক ও লিখিত দক্ষতাকে যবতে রেওয়ায়েত বলে।
যবতে রেওয়ায়াতের প্রকারভেদ ও পদ্ধতি
- যবতুস সদর (حفظ الصدر – স্মৃতিতে সংরক্ষণ): শায়খের কাছ থেকে হাদিস শোনার পর থেকে তা অপরের নিকট বর্ণনা করা পর্যন্ত অন্তরে এমন দৃঢ়ভাবে মুখস্থ রাখা, যেন যেকোনো সময় তা অবিকল বর্ণনা করা সম্ভব হয়।
- যবতুল কিতাব (حفظ الكتاب – পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষণ): হাদিস শ্রবণের পর নিজের সহীহ পাণ্ডুলিপিতে তা সতর্কতার সাথে লিপিবদ্ধ করা, ভুলত্রুটি সংশোধন করা এবং অন্যের অবৈধ পরিবর্তন বা কাটছাঁট থেকে কিতাবকে আজীবন নিরাপদ রাখা।
٦- عَرِّفِ الْمُصْطَلَحَاتِ الْآتِيَةَ: السُّنَّةُ، السَّنَدُ، الْحَافِظُ، الْحُجَّةُ، الْحَاكِمُ –
[৬. নিম্নোক্ত পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞা দাও: আস-সুন্নাহ, আস-সানাদ, আল-হাফিজ, আল-হুজ্জাহ, আল-হাকিম।]
- আস-সুন্নাহ (السنة): রাসূলুল্লাহ (স.) থেকে বর্ণিত সকল কথা, কাজ, মৌন সমর্থন এবং তাঁর চারিত্রিক ও শারীরিক গুণাবলিকে সুন্নাহ বলা হয়।
- আস-সানাদ (السند): হাদিসের মূল বক্তব্য (মতন) পর্যন্ত পৌঁছানোর বর্ণনাকারীগণের ধারাবাহিক পরম্পরা বা শৃঙ্খলকে সানাদ বলে।
- আল-হাফিজ (الحافظ): যিনি সনদ, মতন, ইল্লত এবং রাবীগণের জীবনবৃত্তান্তসহ কমপক্ষে এক লক্ষ হাদিস স্মৃতিতে ধারণ ও আত্মস্থ করেছেন তাঁকে হাফিজ বলা হয়।
- আল-হুজ্জাহ (الحجة): যিনি সনদ ও মতনের গভীর বিশ্লেষণসহ কমপক্ষে তিন লক্ষ হাদিসের পূর্ণাঙ্গ ইলম সংরক্ষণ করেন তাঁকে হুজ্জাতুল ইসলাম বলা হয়।
- আল-হাকিম (الحاكم): যিনি প্রায় সকল বর্ণিত হাদিসের সনদ, মতন, দোষ-গুণ এবং ইতিহাস আয়ত্ত করেছেন, যার জ্ঞান থেকে খুব সামান্য হাদিসই বাদ পড়েছে, তাঁকে হাদিস শাস্ত্রে হাকিম বলা হয়।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ٥ × ٤ = ٢٠
[যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
٧- تَحَدَّثْ عَنْ أَهَمِّيَّةِ الْإِسْنَادِ –
[৭. আল-ইসনাত-এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]
ইসলামি শরিয়তে ইসনাদ (সনদ পরম্পরা) হলো সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী প্রাচীর। এর গুরুত্ব অপরিসীম:
- বিখ্যাত তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন: «الْإِسْنَادُ مِنَ الدِّينِ، وَلَوْلَا الْإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ» — “সনদ হলো দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; সনদ না থাকলে যার যা ইচ্ছা তা-ই দ্বীনের নামে বলে বেড়াত।” (সহীহ মুসলিমের ভূমিকা)।
- ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহ.) বলেন: “সনদ হলো মুমিনের অস্ত্র; অস্ত্র না থাকলে সে লড়াই করবে কী দিয়ে?”
- সনদ ব্যবস্থার কারণেই কুরআন ও সুন্নাহ বিগত চৌদ্দশত বছর ধরে অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্য কোনো ধর্মে নেই।
٨- تَحَدَّثْ عَنِ السَّقْطِ الظَّاهِرِ مُمَثَّلًا –
[৮. উদাহরণসহ আস-সাক্বতুয যাহির সম্পর্কে আলোচনা কর।]
আস-সাক্বতুয যাহির (السقط الظاهر): যে হাদিসের সনদের মধ্য থেকে কোনো বর্ণনাকারীর বাদ পড়া সাধারণ মুহাদ্দিসগণের নিকট সহজেই ধরা পড়ে তাকে সাক্বতুয যাহির (প্রকাশ্য বিচ্যুতি) বলে। এটি সাধারণত রাবী ও শায়খের জন্ম-মৃত্যুর তারিখ এবং সাক্ষাতের অসম্ভবতা পর্যালোচনা করে জানা যায়।
চারটি প্রকাশ্য প্রকার: মু’আল্লাক, মুরসাল, মু’দ্বাল এবং মুনকাত্বি’।
উদাহরণ: ইমাম মালিক যদি কোনো সাহাবীর নাম উল্লেখ না করে সরাসরি বলেন “রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন”—তবে স্পষ্ট বোঝা যায় ইমাম মালিক তাবেয়ীও নন, মাঝখানের বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন। এটি প্রকাশ্য বিচ্যুতি (মুরসাল)।
٩- اكْتُبْ أَسْبَابَ الطَّعْنِ الَّتِي تَتَعَلَّقُ بِالضَّبْطِ –
[৯. হাদিস বর্ণনাকারীর যবত প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কারণগুলো লিপিবদ্ধ কর।]
রাবীর ধারণক্ষমতা বা ‘যবত’ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ৫টি প্রধান কারণ রয়েছে:
- ফুহশুল গালাত (فحش الغلط): বর্ণনায় মাত্রাতিরিক্ত ভুলত্রুটি করা।
- কাসরাতুল গাফলাহ (كثرة الغفلة): অমনোযোগিতা ও অসতর্কতা বৃদ্ধি পাওয়া।
- আল-অহম (الوهم): ধারণার বশবর্তী হয়ে সনদ বা মতনে বিভ্রম সৃষ্টি করা।
- মুখালাফাতুস সিক্বাত (مخالفة الثقات): অধিকতর নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিরোধিতা করা।
- সুউল হিফয (سوء الحفظ): স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা বা বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রম ঘটা।
١٠- مَا الْفَرْقُ بَيْنَ الْحَدِيثِ الْمَوْقُوفِ وَالْمَقْطُوعِ؟
[১০. হাদিস মাওকুফ ও মাকতু-এর মধ্যকার পার্থক্য কী?]
| তুলনার বিষয় | হাদিসে মাওকুফ (الحديث الموقوف) | হাদিসে মাকতু (الحديث المقطوع) |
|---|---|---|
| সম্পৃক্ততা | যা কোনো সাহাবীর বাণী, কর্ম বা সম্মতি হিসেবে বর্ণিত। | যা কোনো তাবেয়ী বা তাবা-তাবেয়ীর কথা বা কাজ হিসেবে বর্ণিত। |
| সনদের সমাপ্তি | সনদ সাহাবী পর্যন্ত গিয়ে থেমে যায়, রাসূল (স.) পর্যন্ত পৌঁছে না। | সনদ তাবেয়ী পর্যন্ত গিয়ে থেমে যায়। |
| দলীল হিসেবে মর্যাদা | সাহাবীর ইজতিহাদ হিসেবে শরিয়তে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। | শরিয়তের বিধান সাব্যস্তে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে গণ্য নয়। |
١١- اكْتُبْ خَمْسَةَ كُتُبٍ فِي الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ –
[১১. আল-জারহু ওয়াত-তা’দীল বিষয়ে রচিত পাঁচটি গ্রন্থের নাম লেখ।]
হাদিস বর্ণনাকারীদের গুণাগুণ ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ে রচিত বিশ্ববিখ্যাত ৫টি প্রামাণ্য গ্রন্থ:
- কিতাবুত তারীখিল কাবীর — ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.)।
- কিতাবুল জারহি ওয়াত তা’দীল — ইমাম ইবনে আবি হাতিম আর-রাযী (রহ.)।
- মিযানুল ইতিদাল ফী নাক্বদির রিজাল — ইমাম শামসুদ্দীন আয-যাহাবী (রহ.)।
- তাহযীবুত তাহযীব — হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)।
- আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল — হাফেজ আব্দুল গণী আল-মাকদিসী (রহ.)।
١٢- تَحَدَّثْ عَنْ طُرُقِ تَحَمُّلِ الْحَدِيثِ –
[১২. হাদিস গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ (তুরুকু তাহাম্মুলিল হাদিস) আলোচনা কর।]
মুহাদ্দিসগণের নিকট উস্তাদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করার প্রধান ৮টি স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে:
- আস-সামা’ (السماع): উস্তাদের মুখ থেকে সরাসরি হাদিসের শব্দাবলি শ্রবণ করা (সর্বোচ্চ মর্যাদা)।
- আল-ক্বিরাআহ আলাশ শায়খ বা আরয (القراءة على الشيخ): উস্তাদের সামনে ছাত্র নিজে হাদিস পাঠ করে শোনানো।
- আল-ইজাযাহ (الإجازة): শায়খ কর্তৃক মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো ছাত্রকে তাঁর হাদিস বর্ণনার অনুমতি প্রদান।
- আল-মুনাওয়ালাহ (المناولة): শায়খ কর্তৃক ছাত্রের হাতে নিজের মূল কিতাব অর্পণ করে বর্ণনার অনুমতি দেওয়া।
- আল-কিতাবাহ (المكاتبة): শায়খ কর্তৃক দূরবর্তী ছাত্রের নিকট নিজের হস্তাক্ষরে হাদিস লিখে পাঠানো।
- আল-ই’লাম (الإعلام): শায়খ ছাত্রকে অবহিত করলেন যে অমুক হাদিসটি তিনি অমুকের নিকট থেকে শুনেছেন।
- আল-ওয়াসিয়্যাহ (الوصية): মৃত্যুর পূর্বে বা সফরের সময় কোনো ছাত্রের অনুকূলে কিতাব অসিয়ত করা।
- আল-বিজাদাহ (الوجادة): শায়খের সাথে সাক্ষাৎ ছাড়া তাঁর নির্ভরযোগ্য হস্তাক্ষরের কিতাব খুঁজে পাওয়া।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. উলূমুল হাদিস পত্রটির বিষয় কোড ও মানবণ্টন কী?
উলূমুল হাদিস বিষয়ের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৩। এতে ক-বিভাগ থেকে ৪টি রচনামূলক (১৫×৪=৬০) এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত (৫×৪=২০) প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। মোট পূর্ণমান ৮০।
২. হাদিসের সনদ ও মতনের মধ্যে পার্থক্য কী?
সনদ হলো রাসূল (স.) পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক নাম বা পরম্পরা, আর মতন হলো সেই বর্ণনার মূল বাণী বা বক্তব্য অংশ।
৩. সহীহ হাদিসের প্রধান পাঁচটি শর্ত কী কী?
সহীহ হাদিসের ৫টি শর্ত হলো: ১. সনদের অবিচ্ছিন্নতা (ইত্তিসালুস সানাদ), ২. রাবীর ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত), ৩. নির্ভুল স্মৃতিশক্তি (যবত), ৪. শায বা ব্যতিক্রম না হওয়া, এবং ৫. কোনো সূক্ষ্ম দোষ বা ইল্লত না থাকা।
৪. জারহ ও তা’দীল বলতে কী বোঝায়?
হাদিস শাস্ত্রের যে বিজ্ঞানের মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি (জারহ) এবং সততা ও নির্ভরযোগ্যতা (তা’দীল) নিরূপণ করে হাদিসের মান নির্ধারণ করা হয় তাকে ইলমুল জারহি ওয়াত তা’দীল বলে।
৫. হাদিস বিশারদদের পদমর্যাদার ক্রম কী?
হাদিসবিদদের ইলমের গভীরতা অনুযায়ী সাধারণ ক্রম হলো: মুহাদ্দিস, হাফিজ (১ লক্ষ হাদিস), হুজ্জাত (৩ লক্ষ হাদিস), এবং হাকিম (প্রায় সকল হাদিস মুখস্থকারী)।
৬. ২০২০ সালের পরীক্ষার জন্য কোন প্রশ্নগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
ইলমু মুসতালাহিল হাদিসের ইতিহাস, খবরুল আহাদ ও খবরুল মারদূদের প্রকারভেদ, রাবীর শর্তাবলি, জারহ-তা’দীলের স্তর এবং তাহাম্মুলুল হাদিসের পদ্ধতিসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।