জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ-২ (At-Tafsir bi Ghayris-Sanad-2) – 201302, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬৪ মিনিট পড়ার সময়
১২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۴ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
التفسير بدون السند – ۲
[আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ-২]
বিষয় কোড: ২০১৩০২ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة: أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٤ × ٥ = ٧٠
(ترجم الآيات الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)

١- خَلَقَ الْإِنسَانَ مِن نُّطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُّبِينٌ – وَالْأَنْعَامَ خَلَقَهَا ۗ لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌ وَمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ – وَلَكُمْ فِيهَا جَمَالٌ حِينَ تُرِيحُونَ وَحِينَ تَسْرَحُونَ – وَتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ إِلَىٰ بَلَدٍ لَّمْ تَكُونُوا بَالِغِيهِ إِلَّا بِشِقِّ الْأَنفُسِ ۚ إِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ – وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً ۚ وَيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ –

[১. তিনি মানুষকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন, অথচ সহসাই সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হয়ে দাঁড়ায়। আর তিনি চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন; তোমাদের জন্য এতে রয়েছে শীতনিবারক বস্ত্র এবং বহু উপকারিতা, আর তা থেকে তোমরা আহার করে থাকো। আর এতে তোমাদের জন্য শোভা রয়েছে যখন তোমরা সন্ধ্যায় চারণভূমি থেকে ফিরিয়ে আনো এবং সকালে চারণে নিয়ে যাও। আর তারা তোমাদের ভারী বোঝাসমূহ এমন শহরে বহন করে নিয়ে যায় যেখানে তোমরা প্রাণান্তকর কষ্ট ছাড়া পৌঁছাতে পারতে না; নিশ্চয় তোমাদের রব পরম দয়ার্দ্র ও অসীম দয়ালু। আর তিনি সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা যাতে তোমরা সেগুলোতে আরোহণ করতে পারো এবং শোভা হিসেবে; আর তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করেন যা তোমরা জানো না।]

(أ) بَيِّنْ فَوَائِدَ الْأَنْعَامِ فِي ضَوْءِ سُورَةِ النَّحْلِ –

[(ক) সূরা আন-নাহলের আলোকে চতুষ্পদ জন্তুর উপকারিতাসমূহ বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

সূরা আন-নাহলকে ‘সূরাতুন নিআম’ (নেয়ামতের সূরা) বলা হয়, কারণ এতে মহান আল্লাহ মানবজাতির ওপর প্রদত্ত অসংখ্য অনুগ্রহের সবিস্তার বিবরণ পেশ করেছেন। গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু বা আনআম (উট, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া) মানব সভ্যতার বিকাশে আল্লাহর এক অনন্য অবদান। নিম্নে সূরা আন-নাহলের আলোকে এর বহুমুখী উপকারিতা আলোচনা করা হলো।

সূরা আন-নাহলে বর্ণিত চতুষ্পদ জন্তুর প্রধান উপকারিতাসমূহ

  1. শীতবস্ত্র ও আবরণ তৈরি (لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌ): পশুদের পশম, লোম ও চামড়া দ্বারা মানুষ শীতনিবারক কাপড়, কম্বল, তাঁবু ও সুরক্ষামূলক পোষাক তৈরি করে।
  2. অন্যান্য ব্যবহারিক সামগ্রী (وَمَنَافِعُ): এদের চামড়া ও হাড় দিয়ে গৃহস্থালি সামগ্রী, মশকের চামড়া, জুতা ও ঢাল ইত্যাদি তৈরি হয়।
  3. পুষ্টিকর আহার ও দুগ্ধ গ্রহণ (وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ): এদের তাজা মাংস এবং এদের পেট থেকে নির্গত সুপেয় ও খাঁটি দুধ মানবজাতির অন্যতম প্রধান খাদ্য উপাদান।
  4. মানসিক আনন্দ ও নান্দনিক সৌন্দর্য (وَلَكُمْ فِيهَا جَمَالٌ): সকালে যখন পশুর পাল মাঠে চড়তে যায় এবং সন্ধ্যায় যখন তৃপ্ত হয়ে খামারে ফিরে আসে, তখন তা মালিকের অন্তরে অনাবিল আনন্দ ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
  5. ভারী বোঝা ও মালামাল পরিবহন (وَتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ): প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত মরুভূমি ও পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে শত শত মণ ভারী মালামাল পরিবহন করে এরা মানুষের কষ্ট লাঘব করে আসছে।

উপসংহার

গৃহপালিত পশু আল্লাহর মহাদান। এগুলোর বহুমুখী উপযোগিতা মানুষকে পরম করুণাময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার পথ উন্মুক্ত করে দেয়।


(ب) فَسِّرْ قَوْلَهُ تَعَالَىٰ : “وَيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ” –

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “আর তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করেন যা তোমরা জানো না”—এর তাফসীর কর।]

ভূমিকা

আলোচ্য আয়াতটি পবিত্র কুরআনের এক অমর বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক মোজেজা। তৎকালীন আরবে প্রচলিত বাহন হিসেবে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার আলোচনা করার পর মহান আল্লাহ এক অলৌকিক ভবিষ্যৎবাণী উচ্চারণ করেছেন: وَيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ (আর তিনি এমন বস্তু সৃষ্টি করেন বা করবেন যা তোমরা জানো না)।

আয়াতটির গভীর তাফসীর ও আধুনিক বিশ্লেষণ

  1. আধুনিক যান্ত্রিক ও আধুনিক বাহনসমূহ: যুগশ্রেষ্ঠ মুফাসসিরীন যেমন আল্লামা আলূসী ও পরবর্তী আধুনিক তাফসীরকারকগণ বলেন, তৎকালীন মানুষ গাড়ি, ট্রেন, উড়োজাহাজ, মহাকাশযান কিংবা সাবমেরিনের কথা কল্পনাও করতে পারত না। আল্লাহ মানুষের মেধা ও বিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে এসব আধুনিক পরিবহন সৃষ্টির নেপথ্য শক্তি হিসেবে এই আয়াতের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
  2. অদৃশ্য ও মহাজাগতিক সৃষ্টিজগত: ইবনে আব্বাস (রা.) ও মুজাহিদ (রহ.)-এর মতে, এর দ্বারা জমিনের গভীরে, অতল সমুদ্রে এবং মহাশূন্যের কোটি কোটি ছায়াপথে বিদ্যমান এমন সব প্রাণী ও বস্তু বোঝানো হয়েছে যার সন্ধান মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে।
  3. আণুবীক্ষণিক জীবাণু ও পরজীবীকূল: খালি চোখে দেখা যায় না এমন কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও মাইক্রো-অর্গানিজমও এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত, যা আধুনিক যুগে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ আবিষ্কারের পর প্রমাণিত হয়েছে।

উপসংহার

উক্ত আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সৃষ্টিশীলতা কাল ও স্থানের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ প্রতিনিয়ত আল্লাহর নতুন নতুন বিস্ময়কর সৃষ্টির রহস্য অবলোকন করছে।


٢- وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُوا مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِن فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ – وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ – وَعَلَامَاتٍ ۚ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ –

[২. আর তিনিই সেই সত্তা যিনি সমুদ্রকে বশীভূত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা গোশত (মাছ) খেতে পারো এবং তা থেকে বের করতে পারো অলংকার যা তোমরা পরিধান করো। আর তোমরা দেখতে পাও তা চিরে নৌযান চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। আর তিনি জমিনে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন যেন তা তোমাদের নিয়ে হেলেদুলে না যায়, এবং নদ-নদী ও পথসমূহ তৈরি করেছেন যাতে তোমরা পথ পেতে পারো। এবং তিনি বহু দিকচিহ্ন স্থাপন করেছেন; আর নক্ষত্রপুঞ্জের সাহায্যেও তারা পথ পায়।]

(أ) فَسِّرْ قَوْلَهُ تَعَالَىٰ : “وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ” –

[(ক) মহান আল্লাহর বাণী: “আর তিনি জমিনে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন যেন তা তোমাদের নিয়ে হেলেদুলে না যায়”—এর তাফসীর কর।]

ভূমিকা

পবিত্র কুরআনে ভূ-প্রকৃতি ও পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টিতাত্ত্বিক উপযোগিতা সম্পর্কে বহু স্থানে আলোকপাত করা হয়েছে। সূরা আন-নাহলের ১৫ নম্বর আয়াতে পর্বতমালা স্থাপনের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের স্থায়িত্ব বিধানের এক অনুপম বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।

আয়াতটির বিস্তৃত ব্যাখ্যা

  • শব্দার্থ ও রূপক প্রয়োগ: ‘রাওয়াসি’ (رَوَاسِيَ) অর্থ সুউচ্চ, ভারী ও প্রোথিত পর্বতমালা। ‘আন তামীদা বিকুম’ (أَن تَمِيدَ بِكُمْ) অর্থ যেন জমিন তোমাদের নিয়ে হেলেদুলে অনিরাপদ না হয়।
  • তাফসীরিক বিশ্লষণ: ইমাম ইবনে জারীর তাবারী ও ইবনে কাসীর (রহ.) উল্লেখ করেন, পৃথিবী সৃষ্টির আদিপর্বে যখন ভূপৃষ্ঠ তরল ও পানির ওপর দোদুল্যমান অবস্থায় ছিল, তখন আল্লাহ তাআলা বিশাল বিশাল পর্বতমালা স্থাপন করে এর গতিকে স্থিতিশীল করেন।
  • ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের সাক্ষ্য: আধুনিক প্লেট টেকটোনিক্স থিওরি অনুযায়ী, পৃথিবীর মহাদেশীয় প্লেটগুলোর সংঘর্ষস্থলে পর্বতের সৃষ্টি হয় এবং ভূগর্ভের গভীরে এদের শিকড় (Roots) বিস্তৃত থাকে, যা পৃথিবীর ঘূর্ণন ও ভারসাম্য রক্ষায় মেগা-অ্যাঙ্করের কাজ করে।

উপসংহার

পর্বতমালা জমিনের ভারসাম্য রক্ষার এক সুদৃঢ় পেরেক বা কীলকস্বরূপ, যা পরম করুণাময় আল্লাহর সৃষ্টিশীল প্রজ্ঞার এক জীবন্ত নিদর্শন।


(ب) مَنِ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ؟ مَنْ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ؟ أَثْبِتْ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ –

[(খ) কে সমুদ্রকে বশীভূত করেছেন? সকল কিছুর স্রষ্টা কে? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রমাণ কর।]

ভূমিকা

সমুদ্রের অসীম জলরাশি মানুষের বশীভূত হওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু মহান আল্লাহ মানুষের কল্যাণে একে অনুগত করে দিয়েছেন। তিনিই আকাশমণ্ডল, পৃথিবী ও সমুদ্রের একমাত্র সার্বভৌম স্রষ্টা।

কুরআন ও সুন্নাহর প্রামাণ্য দলিল

  • পবিত্র কুরআন: আল্লাহ ইরশাদ করেন: وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا — “আর তিনিই সেই সত্তা যিনি সমুদ্রকে বশীভূত করেছেন।” (সূরা আন-নাহল: ১৪)। আরও ইরশাদ হয়েছে: اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ — “আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত বস্তুর তত্ত্বাবধায়ক।” (সূরা আয-যুমার: ৬২)।
  • হাদিস শরিফ: রাসূলুল্লাহ (স.) সমুদ্রের পানি ও প্রাণী সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: “সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল।” (আবু দাউদ, তিরমিযী)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে: “আল্লাহ বিদ্যমান ছিলেন এবং তিনি ছাড়া আর কিছুই ছিল না, তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।” (সহীহ বুখারী)।

উপসংহার

সমুদ্রের বশ্যতা এবং মহাবিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণুর সৃষ্টি একমাত্র পরাক্রমশালী আল্লাহর একক কর্তৃত্বাধীন।


٣- سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ – وَآتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَجَعَلْنَاهُ هُدًى لِّبَنِي إِسْرَائِيلَ أَلَّا تَتَّخِذُوا مِن دُونِي وَكِيلًا – ذُرِّيَّةَ مَنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ ۚ إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا –

[৩. পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাঁকে আমার কুদরতের নিদর্শন প্রদর্শন করি; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আর আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তা বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক করেছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা আমাকে ছাড়া কাউকে কর্মবিধায়ক গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের বংশধর যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম; নিশ্চয় তিনি ছিলেন পরম কৃতজ্ঞ বান্দা।]

(أ) لِمَاذَا لُقِّبَ الرَّسُولُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْعَبْدِ؟ بَيِّنْ –

[(ক) রাসূলুল্লাহ (স.)-কে কেন ‘আব্দ’ (বান্দা) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা ও কারণসমূহ

ইসরা ও মিরাজের অলৌকিক ভ্রমণের প্রারম্ভে আল্লাহ তাঁর হাবীবকে ‘আব্দিহী’ সম্বোধন করেছেন। এর প্রধান হিকমতসমূহ হলো:

  1. সর্বোচ্চ মর্যাদার মাকাম: আল্লাহর খাঁটি গোলামি বা বান্দা হওয়াই হলো সৃষ্টির জন্য সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদার শিখর।
  2. শিরকের পথ চিরতরে রুদ্ধ করা: মিরাজের মতো অলৌকিক ঘটনার কারণে উম্মত যাতে তাঁকে খ্রিস্টানদের মতো ‘আল্লাহর পুত্র’ বা খোদায়ী সত্তা দাবি না করে, সেজন্য দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘বান্দা’ বলা হয়েছে। তিনি আল্লাহর সর্বোচ্চ সম্মানিত বান্দা ও রাসূল।
  3. পরম নৈকট্য ও মহব্বত: কোনো বিশিষ্ট সত্তা কাউকে নিজের খাস বান্দা বা দাস বলে পরিচয় দেওয়া তাঁর প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতার পরিচায়ক।

(ب) هَلْ كَانَ مِعْرَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْيَقَظَةِ أَمْ فِي الْمَنَامِ؟ بَيِّنْ –

[(খ) নবী করীম (স.)-এর মিরাজ কি জাগ্রত অবস্থায় হয়েছিল নাকি স্বপ্নে? বর্ণনা কর।]

আহলে সুন্নতের অকাট্য আকিদা

জমহুর সাহাবা, তাবেঈন ও মুহাদ্দিসীনের মতে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর ইসরা ও মিরাজ সম্পূর্ণ জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে (بالروح والجسد يقظة لا مناما) সংঘটিত হয়েছিল।

  • ‘আব্দ’ শব্দটি আত্মা ও শরীর উভয়ের সমষ্টিকে বোঝায়।
  • ‘সুবহানা’ দ্বারা বিস্ময়কর ও অসম্ভবকে সম্ভব করার কথা বলা হয়েছে, সাধারণ স্বপ্নের জন্য এ শব্দের প্রয়োজন হতো না।
  • কুরাইশদের বিরোধিতা ও অস্বীকার প্রমাণ করে যে এটি শারীরিক ভ্রমণ ছিল, কারণ নিছক স্বপ্নকে কেউ অসম্ভব বলে অস্বীকার করত না।

٤- وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا – وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا –

[৪. আর আপনার প্রতিপালক আদেশ জারি করেছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ (বিরক্তি বা অবজ্ঞাসূচক কথা) পর্যন্ত বলবে না এবং তাদেরকে ধমক দেবে না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক ও বিনম্র ভাষায় কথা বলবে। আর তাদের প্রতি অনুকম্পায় বিনয়ের ডানা অবনমিত করো এবং দোয়া করো: হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে স্নেহভরে প্রতিপালন করেছিলেন।]

(أ) فَسِّرْ قَوْلَهُ تَعَالَىٰ : “وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا” –

[(ক) মহান আল্লাহর বাণী: “আর আপনার প্রতিপালক আদেশ জারি করেছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করবে”—এর তাফসীর কর।]

ভূমিকা

ইসলামি শরিয়তে মহান আল্লাহর হকের (হাক্কুল্লাহ) পরেই মানুষের মধ্যে পিতা-মাতার হকের (হাক্কুল ইবাদ) স্থান সর্বাধিক ও অলঙ্ঘনীয়। সূরা বনী ইসরাঈলের এই আয়াতটি দ্বীনি নৈতিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের সর্বোচ্চ সনদ।

আয়াতটির বিশ্লেষণ ও তাফসীর

  1. ‘ক্বাযা’ (قَضَىٰ)-এর অর্থ: মুফাসসিরীনের মতে এখানে ক্বাযা অর্থ হলো অকাট্য নির্দেশ জারি করা ও অবধারিত করা (أمر وأوجب وصى)। অর্থাৎ আল্লাহ এটি বান্দার জন্য ফরজ বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
  2. তাওহীদের সাথে পিতা-মাতার হকের সংযুক্তি: আল্লাহ তাআলা নিজের একক ইবাদতের নির্দেশের সাথে সাথেই পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ সংযুক্ত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহর প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্যের পর মানুষের প্রতি কর্তব্যের মধ্যে পিতা-মাতার সেবা সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ। যেমন সূরা লুকমানে বলা হয়েছে: أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ (আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং তোমার পিতা-মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করো)।
  3. ‘ইহসান’ (إِحْسَانًا)-এর মর্ম: ইহসান অর্থ কেবল দায়িত্ব পালন নয়, বরং পরম ভালোবাসা, সম্মান, আনুগত্য, ব্যয়ভার বহন এবং তাদের সন্তুষ্টি অর্জনে নিজের স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে সর্বোত্তম আচরণ করা।

উপসংহার

পিতা-মাতার খেদমত জান্নাত লাভের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি এবং তাওহীদের দাবির এক বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।


(ب) مَا مَعْنَى قَوْلِهِ تَعَالَىٰ : جَنَاحَ الذُّلِّ؟ وَكَمْ وَجْهًا فِيهِ؟

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: ‘জানাহায যুল্লি’ (جَنَاحَ الذُّلِّ)-এর অর্থ কী? এবং এতে কয়টি দিক বা ব্যঞ্জনা রয়েছে?]

ভূমিকা

পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি আরবি অলংকারশাস্ত্র (বালাগাত)-এর এক অনুপম রূপক উদাহরণ (ইস্তিআরাহ বা রূপক উপমা)। পিতা-মাতার সামনে সন্তানের আচরণ কেমন বিনম্র ও কোমল হওয়া উচিত, তা বোঝাতে এই হৃদয়গ্রাহী অলংকার ব্যবহৃত হয়েছে।

‘জানাহায যুল্লি’ (جَنَاحَ الذُّلِّ)-এর অর্থ ও তাৎপর্য

শব্দগত বিশ্লেষণ: ‘জানাহ’ (جَنَاحَ) অর্থ ডানা বা পাখা; ‘যুল্ল’ (الذُّلِّ) অর্থ বিনয়, কোমলতা, দীনতা ও আনুগত্য। শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায় ‘বিনয়ের ডানা’।

এতে বিদ্যমান দিক ও ব্যঞ্জনা (أوجه التفسير)

  1. পাখির শাবকস্নেহের উপমা: পাখি যেভাবে পরম মমতায় তার ডানা মেলে দিয়ে নিজের দুর্বল শাবকদের আগলে রাখে এবং শত্রুর সামনে বা শাবকদের স্নেহে ডানা অবনমিত করে, সন্তানকেও তেমনি বার্ধক্যে উপনীত পিতা-মাতার সামনে নিজের সমস্ত অহংকার বিসর্জন দিয়ে বিনম্র ডানা বিছিয়ে দিতে হবে।
  2. পরম আত্মসমর্পণ ও অহংকার বর্জন: সন্তান সমাজে যত বড় পদমর্যাদা, বিত্তবৈভব বা ক্ষমতার অধিকারীই হোক না কেন, পিতা-মাতার সম্মুখে সে নিজেকে পরম দীনহীন, অনুগত ও সেবক হিসেবে উপস্থাপন করবে। তাদের কোনো কথায় বিরক্তি বা কর্তৃত্ব প্রকাশ করবে না।
  3. দয়ার্দ্রচিত্তে সেবা করা (مِنَ الرَّحْمَةِ): এই বিনয় কোনো লোকদেখানো বা স্বার্থসিদ্ধির জন্য হবে না, বরং অন্তরের গভীর অনুকম্পা, দয়া ও ভালোবাসার তাড়নায় নিঃশর্তভাবে প্রকাশ পাবে।

উপসংহার

অতএব ‘জানাহায যুল্লি’ হলো পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের চূড়ান্ত আত্মনিবেদন, বিনয় এবং নিঃস্বার্থ শ্রদ্ধাশীলতার এক অনন্য রূপক প্রকাশ।


٥- سُنَّةَ مَن قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِن رُّسُلِنَا ۖ وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا – أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا –

[৫. আপনার পূর্বে আমি যেসব রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রেও এটিই ছিল চিরাচরিত নিয়ম; আর আপনি আমার নিয়মের কোনো পরিবর্তন পাবেন না। সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করুন এবং ফজরের কুরআন পাঠ (সালাত) কায়েম করুন; নিশ্চয় ফজরের কুরআন পাঠে ফেরেশতাদের সমাবেশ ঘটে।]

(أ) فَسِّرْ قَوْلَهُ تَعَالَىٰ : “إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا” –

[(ক) মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয় ফজরের কুরআন পাঠে ফেরেশতাদের সমাবেশ ঘটে”—এর তাফসীর কর।]

ভূমিকা

পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মধ্যে ফজরের সালাতের মর্যাদা অত্যন্ত স্বতন্ত্র ও বরকতময়। আলোচ্য আয়াতে ফজরের সালাতকে ‘কুরআনাল ফাজর’ (قُرْآنَ الْفَجْرِ) আখ্যা দিয়ে একে ‘মাশহূদ’ (مَشْهُودًا) বলা হয়েছে।

আয়াতটির বিস্তৃত তাফসীর

  1. ‘কুরআনাল ফাজর’ নামকরণের কারণ: ফজরের সালাতে দীর্ঘ সময় ধরে সুরা ও কেরাত তিলাওয়াত করা সুন্নত। কিরাতের এই প্রাচুর্যের কারণেই সালাতকে সরাসরি ‘কুরআন’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।
  2. ‘মাশহূদ’ (مَشْهُودًا)-এর মর্ম: ‘মাশহূদ’ অর্থ যাতে সাক্ষ্য প্রদান করা হয় বা যেখানে প্রত্যক্ষদর্শীদের সমাবেশ ঘটে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন: “রাতের ফেরেশতা এবং দিনের ফেরেশতারা ফজরের সালাতের সময় একত্রিত হন।” সালাত সমাপ্ত হলে রাতের ফেরেশতারা আকাশে আরোহণ করেন এবং আল্লাহ তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন—তোমরা আমার বান্দাদের কী অবস্থায় রেখে এসেছ? তাঁরা বলেন—আমরা যখন তাঁদের কাছে গিয়েছিলাম তখনো তাঁদের সালাতরত পেয়েছি এবং যখন ত্যাগ করেছি তখনো তাঁরা সালাত আদায় করছিলেন।
  3. আত্মিক প্রশান্তি ও বিশেষ দোয়া: ফজরের সময় পরিবেশ শান্ত ও কোলাহলমুক্ত থাকায় কুরআনের তিলাওয়াত অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলে এবং রহমতের ফেরেশতাদের দোয়ায় বান্দা ধন্য হয়।

উপসংহার

অতএব ফজরের সালাত হলো বান্দার জন্য দিনের সর্বোত্তম সূচনা এবং ফেরেশতাদের সম্মিলিত সাক্ষ্য ও রহমত লাভের এক অপূর্ব সুযোগ।


(ب) مَا مَوَاقِيتُ الصَّلَاةِ الْمُشَارُ إِلَيْهَا فِي الْآيَةِ الْكَرِيمَةِ؟ بَيِّنْ –

[(খ) পবিত্র আয়াতে সালাতের কোন কোন ওয়াক্তের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? আলোচনা কর।]

ভূমিকা

আলোচ্য আয়াতটিতে আল্লাহ তাআলা সংক্ষিপ্ত অথচ পরিপূর্ণভাবে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতের সময়সীমার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ফিকহ ও তাফসীরবিদগণ এই আয়াতের শব্দগুলো থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করেছেন।

আয়াতে ইঙ্গিতকৃত সালাতের ওয়াক্তসমূহ

  1. দুলূকুশ শামস (لِدُلُوكِ الشَّمْسِ): ‘দুলূক’ অর্থ হেলে পড়া। দ্বিপ্রহরের পর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া থেকে দুটি সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয়:
    • জোহর (الظهر): সূর্য ঢলে পড়ার ঠিক পরক্ষণেই জোহরের ওয়াক্ত আরম্ভ হয়।
    • আসর (العصر): প্রতিটি বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত আসরের ওয়াক্ত সম্প্রসারিত থাকে।
  2. গাসাকুল লাইল (إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ): ‘গাসাক’ অর্থ রাতের অন্ধকার ঘনীভূত হওয়া। এটি দ্বারা পরবর্তী দুটি সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারিত হয়:
    • মাগরিব (المغرب): সূর্যাস্তের সাথে সাথে গোধূলি লগ্নে মাগরিবের ওয়াক্ত।
    • ইশা (العشاء): পশ্চিমাকাশের লাল আভা দূরীভূত হয়ে পূর্ণ অন্ধকার নেমে এলে ইশার ওয়াক্ত প্রবেশ করে।
  3. কুরআনাল ফাজর (وَقُرْآنَ الْفَجْرِ): সুবহে সাদিক থেকে সূর্যােদয় পর্যন্ত সময়কাল হলো পঞ্চম ওয়াক্ত অর্থাৎ ফজর (الفجر)-এর সালাত।

উপসংহার

সুতরাং এই সংক্ষিপ্ত আয়াতের মধ্যে জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা এবং ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরিপূর্ণ রূপরেখা সন্নিবেশিত রয়েছে।


٦- فَضَرَبْنَا عَلَىٰ آذَانِهِمْ فِي الْكَهْفِ سِنِينَ عَدَدًا – ثُمَّ بَعَثْنَاهُمْ لِنَعْلَمَ أَيُّ الْحِزْبَيْنِ أَحْصَىٰ لِمَا لَبِثُوا أَمَدًا – نَّحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُم بِالْحَقِّ ۚ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى – وَرَبَطْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَن نَّدْعُوَ مِن دُونِهِ إِلَٰهًا ۖ لَّقَدْ قُلْنَا إِذًا شَطَطًا –

[৬. অতঃপর আমি গুহায় বহু বছরের জন্য তাদের কর্ণের ওপর নিশ্ছিদ্র পর্দা ফেলে দিলাম (গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করলাম)। অতঃপর আমি তাদেরকে জাগ্রত করলাম যাতে জেনে নেই দুই দলের মধ্যে কোনটি তাদের অবস্থানের কাল সঠিকভাবে গণনা করতে পারে। আমি আপনার কাছে তাদের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে বর্ণনা করছি; নিশ্চয় তারা ছিল কয়েকজন তরুণ যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেছিলাম। আর আমি তাদের চিত্ত সুদৃঢ় করেছিলাম যখন তারা উঠে দাঁড়িয়েছিল এবং ঘোষণা করেছিল: আমাদের রব তো আসমান ও জমিনের রব, আমরা কখনোই তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো উপাস্যকে আহ্বান করব না; যদি করি তবে অবশ্যই আমরা গর্হিত ও সীমালঙ্ঘনমূলক কথা বলব।]

(أ) فَسِّرْ قَوْلَهُ تَعَالَىٰ : “إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى” –

[(ক) মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয় তারা ছিল কয়েকজন তরুণ যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেছিলাম”—এর তাফসীর কর।]

ভূমিকা

আসহাবে কাহাফের অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল যে তাঁরা ছিলেন তরুণ যুবক। যৌবনের তাড়না ও সমাজের মূর্তিপূজার সার্বজনীন স্রোত উপেক্ষা করে তাঁরা এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান এনেছিলেন।

আয়াতটির গভীর তাৎপর্য

  1. ‘ফিতইয়াহ’ (فِتْيَةٌ)-এর তাৎপর্য: ‘ফাতা’ (فتى)-এর বহুবচন হলো ফিতইয়াহ, যার অর্থ যুবক বা তরুণ দল। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) উল্লেখ করেন, যুগে যুগে যুবকরাই সত্য ও হেদায়াত গ্রহণে বৃদ্ধ বা প্রবীণদের চেয়ে অধিক অগ্রগামী হয়েছে। রাসূল (স.)-এর দাওয়াতের সূচনাতেও যুবকরাই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
  2. ঈমানের কারণে হেদায়াত বৃদ্ধি (وَزِدْنَاهُمْ هُدًى): যখন বান্দা সত্যকে গ্রহণ করে তার ওপর আত্মত্যাগ করে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে প্রজ্ঞা, অবিচলতা এবং সঠিক পথের আলো বাড়িয়ে দেন। এটি আহলে সুন্নতের সেই আকিদাকে সমর্থন করে যে, সৎকাজের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

(ب) مَا الْفَرْقُ بَيْنَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ؟ بَيِّنْ –

[(খ) কাহাফ ও রাক্বীমের মধ্যে পার্থক্য কী? আলোচনা কর।]

পার্থক্য ও পরিচয়

  • আল-কাহাফ (الْكَهْف): পাহাড়ে অবস্থিত প্রশস্ত ও উন্মুক্ত গুহাকে ‘কাহাফ’ বলা হয় (যদি তা সংকীর্ণ হয় তবে তাকে ‘গার’ বলা হয়)। আসহাবে কাহাফ যে প্রশস্ত গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, তা-ই কাহাফ।
  • আর-রাক্বীম (الرَّقِيم): ‘রাকাম’ ধাতু থেকে এসেছে যার অর্থ লেখা বা খোদাই করা ফলক। অধিকাংশ মুফাসসির যেমন ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে, এটি ছিল সীসা বা পাথরের একটি খোদাই করা ফলক যাতে আসহাবে কাহাফের নাম, বংশপরিচয় এবং তাদের আত্মত্যাগের ঘটনা লিপিবদ্ধ করে গুহামুখে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারো কারো মতে এটি সেই পাহাড় বা অঞ্চলের নাম ছিল।

٧- وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَت تَّزَاوَرُ عَن كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَت تَّقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ وَهُمْ فِي فَجْوَةٍ مِّنْهُ ۚ ذَٰلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ ۗ مَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُّرْشِدًا –

[৭. আর আপনি দেখতে পাবেন সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তাদের গুহা থেকে ডান দিকে ঝুঁকে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তখন তাদের থেকে বাঁ দিকে কেটে যায়, আর তারা গুহার এক প্রশস্ত স্থানে ছিল। এটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, সে-ই সৎপথপ্রাপ্ত; আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনো তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না।]

(أ) فَسِّرْ قَوْلَهُ تَعَالَىٰ : “مَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُّرْشِدًا” –

[(ক) মহান আল্লাহর বাণী: “আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, সে-ই সৎপথপ্রাপ্ত; আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনো তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না”—এর তাফসীর কর।]

তাফসীর ও আকিদাগত বিশ্লেষণ

হেদায়াত ও গোমরাহির চূড়ান্ত মালিকানা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার হাতে।

  1. হেদায়াতের একক কর্তৃত্ব: আল্লাহ যাকে তাওফীক দেন ও যার অন্তরে সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা দেখেন, তাকে তিনি সুপথ প্রদর্শন করেন। সেই ব্যক্তিই প্রকৃত হেদায়াতপ্রাপ্ত।
  2. গোমরাহির পরিণতি: আর যে ব্যক্তি অহংকার ও হঠকারিতার কারণে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, আল্লাহ তার থেকে তাওফীক ছিনিয়ে নেন। আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন, দুনিয়ার কোনো শক্তি বা পথপ্রদর্শক (ওলি মুরশিদ) তাকে সৎপথে আনতে পারে না।

(ب) اكْتُبْ قِصَّةَ أَصْحَابِ الْكَهْفِ مُوجَزًا –

[(খ) সংক্ষেপে আসহাবে কাহাফের ঘটনাটি আলোচনা কর।]

আসহাবে কাহাফের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

  1. ঈমান রক্ষা ও গৃহত্যাগ: রোমান মূর্তিপূজক সম্রাট দিকয়ানুসের আমলে কতিপয় সম্ভ্রান্ত তরুণ এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়ন করেন। সম্রাটের অকথ্য নির্যাতনের হাত থেকে ঈমান রক্ষা করতে তাঁরা পরিবার ও সম্পদ ত্যাগ করে একটি পাহাড়ি গুহায় আশ্রয় নেন। সাথে ছিল একটি বিশ্বস্ত কুকুর।
  2. দীর্ঘ নিদ্রা: মহান আল্লাহ গুহার মুখে এক অলৌকিক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন এবং টানা ৩০৯ বছর তাঁদের গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন রাখেন। সূর্যের আলো যাতে তাঁদের শরীর নষ্ট না করে সেজন্য আল্লাহ সূর্যকে তাদের থেকে ডানে ও বাঁয়ে ঘুরিয়ে দিতেন এবং তাদের শরীর এপাশ-ওপাশ করাতেন।
  3. জাগরণ ও সত্য উন্মোচন: তিন শতাব্দী পর যখন তাঁরা জাগ্রত হন, তখন খাদ্য কেনার জন্য তাঁদের একজন রৌপ্যমুদ্রা নিয়ে শহরে যান। প্রাচীন মুদ্রা দেখে প্রকাশ পেয়ে যায় যে তাঁরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আল্লাহর আশ্রয়ে জীবিত ছিলেন। তৎকালীন তাওহীদপন্থী সম্রাট ও জনগণ এই মহা মোজেজা দেখে কিয়ামত ও পুনরুত্থানের বাস্তবতায় চূড়ান্ত বিশ্বাস স্থাপন করে।

٨- قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا – قَالَتْ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا – قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ ۖ وَلِنَجْعЕЛَهُ آيَةً لِّلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا ۚ وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا –

[৮. সে বলল: আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্রসন্তান উপহার দিতে পারি। তিনি বললেন: কেমন করে আমার পুত্র হবে যখন কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি কোনো ব্যভিচারিণীও নই? সে বলল: এভাবেই হবে, তোমার রব বলেছেন—এটি আমার জন্য অতি সহজ; এবং যেন আমি তাকে মানবজাতির জন্য এক নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত করতে পারি; আর এটি এক অবধারিত বিষয় ছিল।]

(أ) مَنْ هِيَ مَرْيَمُ عَلَيْهَا السَّلَامُ؟ بَيِّنِ الْوَاقِعَةَ الْمُتَعَلِّقَةَ بِالْآيَةِ –

[(ক) হযরত মারিয়াম (আ.) কে? এই আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি বর্ণনা কর।]

মারিয়াম (আ.)-এর পরিচয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা

  • পরিচয়: হযরত মারিয়াম (আ.) ছিলেন হযরত ইমরান ও হান্নার কন্যা এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর মহীয়সী মাতা। তিনি ছিলেন চিরকুমারী, পরম সাধ্বী ও জগতের শ্রেষ্ঠ পবিত্রতম নারীদের অন্যতমা।
  • সংশ্লিষ্ট ঘটনা: মারিয়াম (আ.) যখন বায়তুল মাকদিসের পূর্ব কোণে নিভৃতে আল্লাহর ইবাদতে রত ছিলেন, তখন ফেরেশতা জিবরীল (আ.) এক পূর্ণাঙ্গ সুপুরুষের বেশে তাঁর সামনে আবির্ভূত হন। মারিয়াম (আ.) শঙ্কিত হয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তখন জিবরীল (আ.) তাঁকে অভয় দিয়ে জানান যে তিনি কোনো মানুষ নন, বরং আল্লাহর দূত; তিনি তাঁকে পিতা ছাড়াই এক পরম পবিত্র পুত্রের সুসংবাদ দিতে এসেছেন।

(ب) فَسِّرْ قَوْلَهُ تَعَالَىٰ : “وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِّلنَّاسِ” –

[(খ) মহান আল্লাহর বাণী: “এবং যেন আমি তাকে মানবজাতির জন্য এক নিদর্শন করতে পারি”—এর তাফসীর কর।]

তাফসীর ও তাৎপর্য

পিতা ছাড়াই হযরত ঈসা (আ.)-এর অলৌকিক জন্ম মানবজাতির জন্য আল্লাহর অসীম কুদরত ও মহিমার এক অনন্য নিদর্শন (আয়াত)। আদম (আ.)-কে পিতা-মাতা ছাড়া, হাওয়া (আ.)-কে কেবল পুরুষ থেকে এবং ঈসা (আ.)-কে কেবল নারী থেকে পিতা ছাড়া সৃষ্টি করে আল্লাহ প্রমাণ করেছেন যে সৃষ্টির কোনো নিয়মেই তিনি বাঁধা নন; তিনি সার্বভৌম সৃষ্টিকর্তা।


مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত ও তাত্ত্বিক প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٠ × ١ = ١٠
(أجب عن سؤال واحد فقط)

٩- مَا الْفَرْقُ بَيْنَ التَّفْسِيرِ وَالتَّأْوِيلِ؟ تَحَدَّثْ عَنِ التَّفْسِيرِ بِدُونِ السَّنَدِ مَعَ بَيَانِ شُرُوطِهِ وَحُكْمِهِ –

[৯. তাফসীর ও তাবিলের মধ্যকার পার্থক্য কী? আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ (সনদহীন তাফসীর)-এর শর্তাবলি ও শরয়ী বিধান আলোচনা কর।]

ভূমিকা

উলূমুল কুরআনের অন্যতম প্রধান শাখা হলো তাফসীর ও তাবীলের সঠিক উপলব্ধি। এছাড়াও তাফসীর সাহিত্যে সনদের উল্লেখ ছাড়া কেবল ভাব ও সারসংক্ষেপ সম্বলিত তাফসীর (আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ)-এর গুরুত্ব ও শরয়ী অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তাফসীর ও তাবীলের মধ্যকার পার্থক্য

  1. অর্থের পরিধি: তাফসীর হলো কোনো শব্দের স্পষ্ট অর্থ ও বাহ্যিক মর্মোদ্ধার করা; আর তাবীল হলো গবেষণার মাধ্যমে শব্দের দূরবর্তী অথচ যুক্তিগ্রাহ্য ও সঙ্গত রূপক অর্থ নির্বাচন করা।
  2. উৎসগত পার্থক্য: তাফসীর মূলত সাহাবা ও তাবেঈনদের ঐতিহাসিক বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল (রেওয়ায়েতভিত্তিক); অপরদিকে তাবীল আরবির ব্যাকরণ, বালাগাত ও গবেষকের প্রজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল (দেরায়াতভিত্তিক)।

আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ (التفسير بدون السند)-এর পরিচয়, শর্তাবলি ও শরয়ী বিধান

পরিচয়: যে সমস্ত তাফসীর গ্রন্থে প্রতিটি ব্যাখ্যার পেছনে সনদের দীর্ঘ শৃঙ্খল (যেমন: অমুক থেকে বর্ণিত, তিনি অমুক থেকে…) উল্লেখ না করে সরাসরি মূল ব্যাখ্যা, ফিকহী হুকুম ও শানে নুযুল লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে ‘আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ’ বলা হয়। যেমন: তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে বায়যাবী, তাফসীরে মাদারিক ইত্যাদি।

আবশ্যকীয় শর্তাবলি:

  • লেখককে হাদিস ও রেওয়ায়েতের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সুগভীর আলেম হতে হবে।
  • কোনো মনগড়া ব্যাখ্যা না দিয়ে পূর্ববর্তী বিশ্বস্ত তাফসীরগ্রন্থসমূহের ওপর পূর্ণ নির্ভর করতে হবে।
  • ইসরাঈলী ও জাল রেওয়ায়েত পরিহার করতে হবে।

শরয়ী বিধান (حكمه): সনদ ছাড়া সংক্ষেপিত তাফসীর পাঠ করা ও রচনা করা সম্পূর্ণ জায়েজ ও প্রশংসনীয়, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকদের জন্য এটি অত্যন্ত কল্যাণকর ও সহজবোধ্য। তবে গভীর গবেষকদের জন্য মূল সনদভিত্তিক তাফসীরের দিকে প্রত্যাবর্তন করা বাঞ্ছনীয়।


١٠- اكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاةِ أَبِي حَيَّانَ الأَنْدَلُسِيِّ (رح) وَمَزَايَا تَفْسِيرِهِ “الْبَحْرِ الْمُحِيطِ” –

[১০. আবু হাইয়ান আন্দালুসী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং তাঁর তাফসীরগ্রন্থ ‘আল-বাহরুল মুহীত’-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]

আবু হাইয়ান আন্দালুসী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  • নাম ও পরিচয়: তাঁর পূর্ণ নাম মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে হাইয়ান আল-আন্দালুসী আল-গারনাতী। উপাধি ছিল ‘আসিরুদ্দীন’ এবং কুনিয়াত ছিল ‘আবু হাইয়ান’।
  • জন্ম ও শিক্ষা: তিনি হিজরী ৬৫৪ সনে মুসলিম স্পেনের ঐতিহাসিক গ্রানাডা (গারনাতা)-তে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন, ক্বিরাআত, আরবি ব্যাকরণ ও হাদিসে যুগশ্রেষ্ঠ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
  • কর্মজীবন ও খ্যাতি: পরবর্তী জীবনে তিনি মিসরের কায়রোতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং সেখানে তাফসীর ও নাহু শাস্ত্রের প্রধান উস্তাদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইবনে হিশাম আল-আনসারী ও তকীউদ্দীন সুবকী (রহ.) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
  • ইনতিকাল: হিজরী ৭৪৫ সনে (১৩৪৪ খ্রি.) তিনি কায়রোতে ইনতিকাল করেন।

তাফসীর ‘আল-বাহরুল মুহীত’ (البحر المحيط)-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. নাহু ও ব্যাকরণগত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ: এটি কুরআনের ব্যাকরণিক তাফসীরের শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ। প্রতিটি শব্দের এরাব, ধাতু ও বাক্যগঠন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
  2. ক্বিরাআতের বর্ণনা: তিনি দশটি মুতাওয়াতির ক্বিরাআত ছাড়াও শায ক্বিরাআতসমূহের বিশদ আলোচনা ও ব্যাকরণিক সমাধান পেশ করেছেন।
  3. আহলে সুন্নতের আকিদার প্রতিরক্ষা: মু’তাযিলা মতবাদের মুফাসসির যমখশরীবিরচিত কাশশাফ-এর বিভ্রান্তিগুলোকে তিনি যুক্তি ও ভাষাতাত্ত্বিক দলিল দিয়ে জোরালোভাবে খণ্ডন করেছেন।
  4. ফিকহী পর্যালোচনা: বিভিন্ন আয়াতের ফিকহী হুকুম ও মাজহাবসমূহের দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।

উপসংহার

ইমাম আবু হাইয়ান আন্দালুসী (রহ.)-এর ‘আল-বাহরুল মুহীত’ তাফসীর সাহিত্যে ব্যাকরণ ও ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার এক মহাসমুদ্রস্বরূপ।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ৩য় বর্ষের আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ-২ বিষয়ের কোড কত?

আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আত-তাফসীর বিগাইরিস-সানাদ-২ বিষয়ের বিষয় কোড হলো ২০১৩০২ এবং পরীক্ষা কোড হলো ২০৩।

২. চতুষ্পদ জন্তুর প্রধান উপকারিতাগুলো কী কী?

চতুষ্পদ জন্তু থেকে শীতবস্ত্রের উপকরণ, পুষ্টিকর মাংস ও দুধ, মালামাল পরিবহনের সুবিধা এবং মানসিক আনন্দ ও নান্দনিক শোভা লাভ করা যায়।

৩. পিতা-মাতার সামনে ‘উফ’ বলতে কেন নিষেধ করা হয়েছে?

পিতা-মাতার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং বিরক্তি বা ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষুদ্রতম অভিব্যক্তিও বর্জন করার নির্দেশ হিসেবে আল্লাহ ‘উফ’ বলতেও কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

৪. ফজরের সালাতকে কেন ‘কুরআনাল ফাজর’ বলা হয়েছে?

ফজরের সালাতে দীর্ঘ সময় ধরে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা সুন্নত এবং এ সময় রহমতের ফেরেশতাদের বিশেষ সমাবেশ ঘটে বলে একে ‘কুরআনাল ফাজর’ বলা হয়েছে।

৫. আসহাবে কাহাফ গুহায় কত বছর ঘুমিয়ে ছিলেন?

পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আসহাবে কাহাফ অলৌকিকভাবে সৌর হিসাবে তিনশত বছর এবং চান্দ্র হিসাবে তিনশত নয় বছর ঘুমিয়ে ছিলেন।

৬. তাফসীর ‘আল-বাহরুল মুহীত’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

আল্লামা আবু হাইয়ান আন্দালুসী (রহ.) রচিত ‘আল-বাহরুল মুহীত’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আরবি ব্যাকরণ (নাহু), বালাগাত এবং বিভিন্ন ক্বিরাআতের সূক্ষ্ম ও প্রামাণ্য বিশ্লেষণ।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *