ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2020
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: আত-তাফসীরুল মুয়াসসির (التفسير المعاصر)
বিষয় কোড: 201202 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ হতে যে কোনো পাঁচটি এবং (খ) অংশ হতে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) – ক বিভাগ: আয়াতভিত্তিক তাফসির ও প্রশ্নোত্তর
١- ﴿وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ آيَةٍ مِّنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ فَقَدْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ ۖ فَسَوْفَ يَأْتِيهِمْ أَنبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ﴾
[১. মহান আল্লাহর বাণী: “আর তাদের রবের নিদর্শনাবলির মধ্য হতে এমন কোনো নিদর্শন তাদের কাছে আসে না যা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় না। বস্তুত সত্য যখন তাদের কাছে আসল, তখন তারা তাকে অস্বীকার করল; কাজেই তারা যে বিষয়ে উপহাস করত, তার সংবাদ শীঘ্রই তাদের কাছে আসবে।” (সূরা আল-আন’আম: ৪-৫)]
আয়াতদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত তাফসির:
মক্কার মুশরিকদের চরম সত্যবিমুখতা, উদ্ধত আচরণ ও হেদায়েতের নিদর্শনসমূহ উপেক্ষা করার মানসিকতা এখানে চিত্রিত হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রেরিত নবী ও মো’জেযাসমূহ পাঠিয়ে মানুষের জন্য সত্য স্পষ্ট করেছেন, কিন্তু কাফিররা সত্যকে উপহাস করেছে। আল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যে সত্য নিয়ে তারা আজ বিদ্রূপ করছে, অচিরেই দুনিয়া ও আখিরাতে তার ভয়াবহ পরিণতি তাদের গ্রাস করবে।
(أ) ما معنى الآية لغة واصطلاحا؟ بيّن-
[(ক) ‘আয়াত’ শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? বর্ণনা কর।]
- শাব্দিক অর্থ: ‘আল-আয়াহ’ (الآية) একটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ: নিদর্শন (العلامة), অলৌকিক প্রমাণ বা মো’জেযা (المعجزة), শিক্ষা ও উপদেশ (العبرة) এবং দল বা সমষ্টি (الجماعة)।
- পারিভাষিক অর্থ: ইসলামি পরিভাষায় এবং উলূমুল কুরআনের দৃষ্টিতে, কুরআনের একাধিক শব্দ ও বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত যে সুনির্দিষ্ট খণ্ডাংশের প্রারম্ভ ও সমাপ্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) কর্তৃক তাওকিফীভাবে (ঐশী নির্দেশনায়) নির্ধারিত হয়েছে, তাকে ‘আয়াত’ বলা হয়।
(ب) ما معنى الاستهزاء؟ كيف يستهزء الكفار؟
[(খ) ‘আল-ইসতিহযা’ শব্দের অর্থ কী? কাফেররা কীভাবে উপহাস করত?]
- অর্থ: ‘আল-ইসতিহযা’ (الاستهزاء) অর্থ উপহাস করা, বিদ্রূপ করা, ঠাট্টা-তামাশা করা বা কোনো সত্য বিষয়কে হালকাভাবে উড়িয়ে দেওয়া।
- কাফিরদের উপহাসের ধরন:
- কুরআন নিয়ে ঠাট্টা: তারা কুরআনকে ‘প্রাচীন রূপকথা’ (আসাতিরুল আউয়ালিন) বলে উপহাস করত।
- নবী করীম (সা.)-এর পবিত্র ব্যক্তিত্ব নিয়ে বিদ্রূপ: তারা তাঁকে যাদুকর, উন্মাদ বা কবি বলে কটাক্ষ করত।
- পুনরুত্থান ও পরকালকে অস্বীকার: তারা বলত, হাড়গোড় পচে গলে মাটিতে মিশে যাওয়ার পর কীভাবে আবার জীবিত করা সম্ভব?
٢- ﴿وَقَالُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ ۖ وَلَوْ أَنزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِيَ الْأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنظَرُونَ وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكًا لَّجَعَلْنَاهُ رَجُلًا وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِم مَّا يَلْبِسُونَ﴾
[২. আল্লাহ তা’আলার বাণী: “আর তারা বলে: তাঁর নিকট কোনো ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলো না? যদি আমি কোনো ফেরেশতা পাঠাতাম, তবে তো সমস্ত বিষয়ের মীমাংসাই হয়ে যেত, অতঃপর তাদেরকে আর কোনো অবকাশ দেওয়া হতো না। আর যদি আমি কোনো ফেরেশতাকে রাসূল করতাম, তবে তাকে পুরুষের রূপেই পাঠাতাম এবং তারা যে সন্দেহে লিপ্ত আছে, তাদেরকে সেই সন্দেহের মধ্যেই ফেলে রাখতাম।” (সূরা আল-আন’আম: ৮-৯)]
(أ) بيّن معنى قوله تعالى: “وللبسنا عليهم ما يلبسون”-
[(ক) আল্লাহ তা’আলার বাণী: “ওয়া লালাবাসনা আলাইহিম মা ইয়ালবিসুন”-এর মর্মার্থ বর্ণনা কর।]
- মর্মার্থ ও প্রজ্ঞা: ফেরেশতাদের তাদের আসল নূরানী আকৃতিতে সরাসরি দেখার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নেই। তাই আল্লাহ তা’আলা যদি কোনো ফেরেশতাকে রাসূল হিসেবে মানবজাতির কাছে পাঠাতেন, তবে মানুষের সাথে কথা বলা ও মেলামেশার জন্য তাকে অবশ্যই মানুষের আকৃতিতেই পাঠাতে হতো (যেমন জিবরাইল আ. প্রায়ই সাহাবী দিহইয়া কালবী রা.-এর আকৃতিতে আসতেন)। কিন্তু ফেরেশতা যদি মানুষের বেশে আসত, তবে এই কাফিররা আবার নতুন সন্দেহে লিপ্ত হয়ে বলত—”ইনি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ, ফেরেশতা কোথায়?” ফলে তারা যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের পোশাক নিজেরা পরে বসে আছে, সেই বিভ্রান্তিতেই ঘুরপাক খেত। তাই মানুষের মধ্য থেকেই রাসূল পাঠানোই হলো আল্লাহর অপার প্রজ্ঞার প্রকাশ।
(ب) حقّق الكلمات التالية: لقضي، لا ينظرون، لجعلنا، للبَسنا-
[(খ) নিম্নোক্ত শব্দাবলির তাহকীক কর: لقضي – لا ينظرون – لجعلنا – للبَسنا]
| শব্দ | সীগাহ ও বাহাস | বাব ও মাদ্দাহ | অর্থ |
|---|---|---|---|
| لَقُضِيَ | واحد مذكر غائب – فعل ماض مجهول | ضرب (ق ض ي – ناقص يائي) | অবশ্যই ফয়সালা হয়ে যেত |
| لَا يُنظَرُونَ | جمع مذكر غائب – فعل مضارع مجهول منفي | إفعال (ن ظ ر – صحيح) | তাদের অবকাশ দেওয়া হতো না |
| لَجَعَلْنَاهُ | متكلم مع الغير – فعل ماض معروف (مع ضمير) | فتح (ج ع ل – صحيح) | অবশ্যই আমি তাকে বানাতাম |
| لَلَبَسْنَا | متكلم مع الغير – فعل ماض معروف | ضرب (ل ب س – صحيح) | অবশ্যই আমি তাদের সংশয়ে ফেলতাম |
٣- ﴿وَكَم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا فَجَاءَهَا بَأْسُنَا بَيَاتًا أَوْ هُمْ قَائِلُونَ فَمَا كَانَ دَعْوَاهُمْ إِذْ جَاءَهُم بَأْسُنَا إِلَّا أَن قَالُوا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ﴾
[৩. মহান আল্লাহর বাণী: “আর কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি! ফলে আমার আযাব তাদের ওপর রাতে অথবা দুপুরে যখন তারা বিশ্রাম নিচ্ছিল তখন আপতিত হয়েছিল। অতঃপর যখন আমার শাস্তি তাদের ওপর উপস্থিত হলো, তখন তাদের আর কোনো দাবি ছিল না কেবল এ ছাড়া যে, তারা বলল: নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম।” (সূরা আল-আ’রাফ: ৪-৫)]
(أ) اذكر القصة المتعلقة بالآيات الكريمة-
[(ক) আয়াতদ্বয়ের সংশ্লিষ্ট ঘটনা বর্ণনা কর।]
- ঐতিহাসিক পটভূমি: অতীত যুগের অবাধ্য জাতিসমূহ—যেমন কওমে নূহ, কওমে আদ, কওমে সামূদ এবং লূত (আ.)-এর কওমের ওপর আল্লাহর গজব নাজিল হওয়ার ভয়াবহ বাস্তবতা এখানে বিবৃত হয়েছে। তারা যখন নিজেদের আরাম-আয়েশ, নিরাপত্তা ও পার্থিব আনন্দে বিভোর ছিল—গভীর রাতে ঘুমে অচেতন কিংবা দ্বিপ্রহরে অলস বিশ্রামে মগ্ন—ঠিক তখনই অতর্কিতভাবে আল্লাহর ঐশী গজব তাদের সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। গজব প্রত্যক্ষ করার পর তাদের অহংকার চূর্ণ হয়ে যায় এবং তারা নিজেদের পাপ স্বীকার করতে বাধ্য হয়; কিন্তু শাস্তি দেখে তওবা করার আর কোনো সুযোগ থাকে না।
(ب) ماذا وقع في التركيب: هم قائلون؟ بيّن-
[(খ) ‘হুম ক্বা-ইলুন’ তারকীবে কী হয়েছে? বর্ণনা কর।]
- তারকীব ও বালাগাত বিশ্লেষণ: ‘أَوْ هُمْ قَائِلُونَ’ বাক্যটি পূর্ববর্তী ‘بَيَاتًا’ (হাল বা অবস্থা)-এর ওপর মা’তুফ হয়েছে। ‘হুম’ (هُمْ) হলো মুবতাদা এবং ‘ক্বা-ইলুন’ (قَائِلُونَ) হলো তার খবর। পুরো জুমলায়ে ইসমিয়্যাহটি হাল (حال) হিসেবে কার্যকর। এখানে ‘বাইয়াতান’ শব্দে মাসদার এবং ‘হুম ক্বা-ইলুন’ অংশে জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ এনে বালাগাতের অপূর্ব বৈচিত্র্য তৈরি করা হয়েছে, যা মধ্যাহ্নকালীন দ্বিপ্রহরের গভীর নিশ্চিন্ততা ও উদাসীনতার অবস্থাকে চিত্রিত করে।
٤- ﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ﴾
[৪. আল্লাহ তা’আলার বাণী: “প্রকৃত মুমিন তো তারাই, আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে যাদের অন্তর প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা কেবল তাদের রবের ওপরই ভরসা করে। যারা নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।” (সূরা আল-আনফাল: ২-৩)]
(أ) ما الاختلاف في القراءة خلف الإمام؟ بيّن-
[(ক) ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ (القراءة خلف الإمام) সম্পর্কে মতভেদ বর্ণনা কর।]
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অভিমত: ইমামের পেছনে মুক্তাদীর জন্য যেকোনো নামাযে (জেহরী হোক বা সিররী) কিরাত পাঠ করা মাকরূহে তাহরীমী। দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—“যার ইমাম আছে, ইমামের কিরাতই তার কিরাত।” (ইবনে মাজাহ) এবং কুরআনের নির্দেশ: “যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক।” (সূরা আল-আ’রাফ: ২০৪)।
- ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর অভিমত: সকল নামাযে ইমাম ও মুক্তাদী প্রত্যেকের জন্যই সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ। দলিল: নবীজী (সা.) ইরশাদ করেছেন—“যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়ল না, তার নামায হলো না।” (সহীহ বুখারী)।
- ইমাম মালিক ও আহমদ (রহ.)-এর মধ্যপন্থী অভিমত: সিররী নামাযে (যোহর ও আসর) মুক্তাদী সূরা ফাতিহা পাঠ করবে, কিন্তু জেহরী নামাযে (ফজর, মাগরিব, ইশা) ইমামের কিরাত মনোযোগ দিয়ে শুনবে, পাঠ করবে না।
(ب) بيّن معنى قوله تعالى: “ومما رزقناهم ينفقون”-
[(খ) আল্লাহ তা’আলার বাণী: “ওয়া মিম্মা রাযাক্বনাহুম ইউনফিক্বূন”-এর মর্মার্থ বর্ণনা কর।]
- মর্মার্থ: মুমিনদের অন্যতম চারিত্রিক গুণ হলো তারা আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে কৃপণতা বর্জন করে আল্লাহর পথে দান করে। এর মধ্যে প্রথমত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ফরয যাকাত এবং সদকাতুল ফিতর; দ্বিতীয়ত আত্মীয়স্বজন ও পিতামাতার ভরণপোষণ এবং তৃতীয়ত সমাজের অসহায়-দরিদ্র মানুষের কল্যাণ ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নফল দান-সদকা। মুমিনরা বিশ্বাস করে রিজিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ, তারা কেবল তাঁর আমানতদার।
٥- ﴿إِذْ يُغَشِّيكُمُ النُّعَاسَ أَمَنَةً مِّنْهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُم مِّنَ السَّمَاءِ مَاءً لِّيُطَهِّرَكُم بِهِ وَيُذْهِبَ عَنكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَانِ وَلِيَرْبِطَ عَلَىٰ قُلُوبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ الْأَقْدَامَ﴾
[৫. মহান আল্লাহর বাণী: “স্মরণ কর, যখন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য তোমাদের তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেছিলেন এবং আকাশ থেকে তোমাদের ওপর বারি বর্ষণ করেছিলেন তোমাদেরকে পবিত্র করার জন্য, তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করার জন্য, তোমাদের অন্তরসমূহকে সুদৃঢ় করার জন্য এবং তোমাদের পদযুগলকে অবিচল রাখার জন্য।” (সূরা আল-আনফাল: ১১)]
(أ) اذكر القصة المتعلقة بالآيات الكريمة-
[(ক) আয়াত সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনাটি বর্ণনা কর।]
- বদর যুদ্ধের অলৌকিক পটভূমি: দ্বিতীয় হিজরীর বদর প্রান্তরে ৩১৩ জন নিরস্ত্র মুসলিম সৈন্য যখন এক হাজার সুসজ্জিত কাফির সেনার মুখোমুখি হন, তখন সাহাবীগণ কিছুটা মানসিক উদ্বেগে ছিলেন। তাছাড়া মুসলিমরা যেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন সেখানকার বালুময় মাটিতে পা দেবে যাচ্ছিল এবং পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। শয়তান তাদের অন্তরে সংশয় সৃষ্টি করছিল। ঠিক তখনই আল্লাহ তা’আলা তাঁদের ওপর প্রশান্তিময় তন্দ্রা (নু’আস) অবতীর্ণ করেন, যা তাঁদের সকল ক্লান্তি ও ভয় দূর করে পরম মানসিক শান্তি দেয়। এরপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করে পানির সংকট দূর করেন, যা বালুময় মাটিকে শক্ত করে মুসলিমদের চলার পথ সুদৃঢ় করে দেয় এবং বিপরীতে কাফিরদের অংশের মাটি পিচ্ছিল কর্দমাক্ত করে দেয়।
(ب) ما الفرق بين النعاس والسنة والنوم؟ بيّن-
[(খ) ‘নু’আস’, ‘সিনাহ’ এবং ‘নাউম’-এর মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]
- সিনাহ (السِّنَةُ): চোখের প্রাথমিক তন্দ্রাচ্ছন্নতা বা ঝিমুনি, যা অন্তরে প্রবেশ করে না। আয়াতুল কুরসীতে বলা হয়েছে: “লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাওম” (তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না)।
- নু’আস (النُّعَاسُ): সিনাহর চেয়ে কিছুটা গভীর তন্দ্রা, যা মস্তিষ্ক ও চেতনাকে স্পর্শ করে কিন্তু সম্পূর্ণ সংজ্ঞাহীন করে না। আশেপাশের কথাবার্তা অস্পষ্ট শোনা যায়। এটি ভয়ের সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ আসে।
- নাউম (النَّوْمُ): পূর্ণাঙ্গ গভীর নিদ্রা, যার ফলে বাহ্যিক অনুভূতি ও ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় হয়ে যায় এবং মানুষ পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসচেতন হয়ে পড়ে।
٦- ﴿إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ﴾
[৬. আল্লাহ তা’আলার বাণী: “নিশ্চয় আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে কেবল তারাই, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান এনেছে, নামায কায়েম করেছে, যাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনি; অতএব আশা করা যায় এরাই সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আত-তাওবাহ: ১৮)]
(أ) بيّن الفرق بين أداء الصلاة وإقامة الصلاة-
[(ক) ‘ইক্বামাতুস সালাত’ এবং ‘আদাউস সালাত’-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।]
- আদাউস সালাত (أداء الصلاة): নামাযের বাহ্যিক রুকন ও আরকানগুলো কোনোমতে আদায় করাকে ‘আদাউস সালাত’ বলা হয়। এটি কেবল নামাযের দায়মুক্তির স্তর।
- ইক্বামাতুস সালাত (إقامة الصلاة): নামাযকে তার সমস্ত শর্ত, রুকন, ওয়াজিব, সুন্নাত ও আদবসহ খুশু-খুজুর (একনিষ্ঠ বিনয় ও একাগ্রতা) সাথে সুপ্রতিষ্ঠিত করাকে ‘ইক্বামাতুস সালাত’ বলে। তাছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে নামাযের শিক্ষা প্রতিফলন করা এবং সমাজে জামা’আতের সাথে নিয়মিত নামায প্রতিষ্ঠার সামগ্রিক প্রচেষ্টাও ইক্বামাতুস সালাতের অন্তর্ভুক্ত।
(ب) بيّن أهمية المساجد في الاجتماع الإسلامي-
[(খ) ইসলামি সমাজব্যবস্থায় মসজিদের গুরুত্ব বর্ণনা কর।]
- সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের মিলনকেন্দ্র: মসজিদে ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে সমাজের সকল বৈষম্য দূর করে এক অভিন্ন ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।
- শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র: ইসলামের সোনালী যুগে মসজিদ ছিল প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র।
- শাসনকার্য ও পরামর্শের কেন্দ্র: মদীনায় মসজিদে নববী ছিল নবীন ইসলামি রাষ্ট্রের সচিবালয়, বিচারালয় ও প্রতিরক্ষার সর্বোচ্চ পরামর্শকেন্দ্র।
٧- ﴿إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُم بِإِيمَانِهِمْ ۖ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ ۚ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ লِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ﴾
[৭. আল্লাহ তা’আলার বাণী: “নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের রব তাদের ঈমানের কারণে তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন; আরাম-আয়েশের জান্নাতে তাদের তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে। সেখানে তাদের ধ্বনি হবে: ‘হে আল্লাহ! আপনি পরম পবিত্র’ এবং তাদের পারস্পরিক সম্ভাষণ হবে ‘সালাম’; আর তাদের শেষ প্রার্থনা হবে: ‘সকল প্রশংসা একমাত্র বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য’।” (সূরা ইউনুস: ৯-১০)]
(أ) ما معنى الجنة؟ كم عددا لها؟ بيّن-
[(ক) জান্নাতের অর্থ কী? জান্নাত কয়টি ও কী কী? বর্ণনা কর।]
- অর্থ: ‘আল-জান্নাহ’ (الجنة) শব্দের শাব্দিক অর্থ বাগান বা ঘন তরুলতার উদ্যান। পরিভাষায়, পরকালে নেককার মুমিন বান্দাদের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি ও অফুরন্ত নেয়ামত ভোগের জন্য আল্লাহ যে আবাস প্রস্তুত রেখেছেন তাকে জান্নাত বলা হয়।
- জান্নাতের সংখ্যা ও নাম: কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে জান্নাতের বিভিন্ন স্তর ও নামের উল্লেখ এসেছে। প্রধান জান্নাতসমূহ হলো:
- জান্নাতুল ফিরদাউস (সর্বোচ্চ জান্নাত)
- জান্নাতু আদন
- জান্নাতুন নাঈম
- জান্নাতুল মা’ওয়া
- দারুস সালাম
- দারুল খুলদ
- দারুল মুক্বামাহ
- আল-মাক্বামুল আমীন
(ب) اشرح قوله تعالى: آخر دعواهم ان الحمد لله رب العالمين-
[(খ) ﴿آخر دعواهم ان الحمد لله رب العالمين﴾ আয়াতাংশের ব্যাখ্যা কর।]
- ব্যাখ্যা ও মহিমা: জান্নাতী ব্যক্তিরা জান্নাতের অফুরন্ত নিয়ামত ও আল্লাহর পরম দীদার লাভ করে কৃতজ্ঞতায় আত্মহারা হয়ে আল্লাহর প্রশংসায় মুখরিত হবেন। তাদের সকল নিবেদন ও কথার শেষ বাক্য হবে আল্লাহর রবুবিয়্যাত ও শ্রেষ্ঠত্বের শুকরিয়া জ্ঞাপন। এটি নির্দেশ করে যে, মুমিনের জীবনের শুরুও হয় ‘আলহামদু লিল্লাহ’ দিয়ে এবং পরকালীন জান্নাতে চূড়ান্ত সমাপ্তিও ঘটে ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ দিয়ে।
٨- ﴿وَيَقُولُونَ لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِّن رَّبِّهِ ۖ فَقُلْ إِنَّمَا الْغَيْبُ لِلَّهِ فَانتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُم مِّنَ الْمُنتَظِرِينَ﴾
[৮. মহান আল্লাহর বাণী: “আর তারা বলে: তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কোনো অলৌকিক নিদর্শন কেন নাজিল হলো না? সুতরাং আপনি বলুন: অদৃশ্যের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই নিকট; অতএব তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।” (সূরা ইউনুস: ২০)]
(أ) اذكر القصة المتعلقة بالآية الكريمة-
[(ক) আয়াত সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর।]
- মুশরিকদের অন্যায় দাবি: মক্কার কাফিররা কুরআনুল কারীমের অনন্য অলৌকিকত্বকে অগ্রাহ্য করে মহানবী (সা.)-এর কাছে দাবি জানাত যে, সাফা পাহাড়কে সোনায় পরিণত করে দেখানো হোক কিংবা পূর্ববর্তী নবীদের মতো প্রকাশ্য কোনো পার্থিব মু’জিযা দেখানো হোক। তাদের জবাবে আল্লাহ তা’আলা রাসূল (সা.)-কে জানিয়ে দিতে বলেন যে, মো’জেযা দেখানো বা না দেখানোর সমস্ত রহস্য অদৃশ্যের বিষয়, যার পূর্ণ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতে।
(ب) ما معنى الغيب؟ هل يعلم غيبا احد غير الله؟ بيّن-
[(খ) ‘গায়েব’ শব্দের অর্থ কী? আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কি গায়েব জানে? বর্ণনা কর।]
- গায়েব (الغيب)-এর অর্থ: মানুষের পঞ্চইন্দ্রিয় ও চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার বহির্ভূত অদৃশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল বিষয়কে গায়েব বলা হয়। যেমন—আল্লাহর সত্তা, ফেরেশতাকুল, জান্নাত, জাহান্নাম এবং ভবিষ্যতের ঘটনা।
- আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কি গায়েব জানে:
- মৌলিক ও নিজস্ব গায়েব (গায়েবে মুতলাক্ব): আল্লাহ ছাড়া সৃষ্টিজগতের কেউই নিজস্ব ক্ষমতায় অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না। পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করা হয়েছে: “বলুন, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া কেউই অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না।” (সূরা আন-নামল: ৬৫)।
- ওহীর মাধ্যমে প্রদত্ত জ্ঞান: তবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর নির্বাচিত নবী ও রাসূলগণকে ওহীর মাধ্যমে অদৃশ্যের যতটুকু সংবাদ জানাতে ইচ্ছা করেন, ততটুকু জানান। এটি নিজস্ব জ্ঞান নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত সংবাদ।
مجموعة (ب) – খ বিভাগ: আধুনিক তাফসির চর্চার বিকাশ
٩- اكتب نبذة من حياة محمد على الصابوني وخصائص تفسيره “صفوة التفاسير”-
[৯. মুহাম্মদ আলী আস-সাবূনীর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং তাঁর ‘সফওয়াতুত তাফাসীর’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]
ক. শায়খ মুহাম্মদ আলী আস-সাবূনী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:
- জন্ম ও পরিচয়: বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রখ্যাত সিরীয় বংশোদ্ভূত মুফাসসির ও আলেম শায়খ মুহাম্মদ আলী আস-সাবূনী ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে সিরিয়ার আলেপ্পোয় এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা ও কর্মজীবন: তিনি মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরীয়াহ ও ইসলামি আইনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। অতঃপর সুদীর্ঘ তিন দশক সৌদি আরবের মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাফসির ও উলূমুল কুরআনের অধ্যাপক হিসেবে পাঠদান করেন। তিনি ২০২১ খ্রিস্টাব্দে তুরস্কে ইন্তেকাল করেন।
খ. ‘সফওয়াতুত তাফাসীর’ (صفوة التفاسير)-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- প্রধান তাফসিরসমূহের নির্যাস সংকলন: প্রাচীন ও আধুনিক যুগের প্রধান তাফসির গ্রন্থসমূহ—যেমন তাবারী, কাশশাফ, রাযী, কুরতুবী, ইবনে কাসির ও আলূসীর সারসংক্ষেপ অত্যন্ত সহজ-সরল ও পরিশীলিত ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাষা ও সাহিত্যের প্রাঞ্জলতা: প্রতিটি সূরার শুরুর আগে ভূমিকা, আয়াতসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক (মুনাসাবাত), শব্দার্থ, বালাগাতীয় সৌন্দর্য এবং আয়াতের সারনির্যাস পৃথক শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- ইসরাঈলি বর্ণনামুক্ত: বিভ্রান্তিকর ইসরাঈলি রেওয়ায়েত পরিহার করে সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে বিশুদ্ধ তাফসির পরিবেশন করা হয়েছে।
١٠- بيّن خصائص التفسير الجديد والتفسير القديم-
[১০. আধুনিক তাফসির এবং প্রাচীন তাফসিরের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।]
| তুলনার ক্ষেত্র | প্রাচীন তাফসির (التفسير القديم) | আধুনিক তাফসির (التفسير الجديد / المعاصر) |
|---|---|---|
| পদ্ধতি ও শৈলী | প্রতিটি শব্দের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, দীর্ঘ সনদ এবং বিপুল রেওয়ায়েতভিত্তিক বর্ণনা। | সনদ পরিহার করে প্রাঞ্জল সাহিত্যিক ভাষা, সহজ উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ ব্যাখ্যা। |
| বিষয়বস্তুর কেন্দ্রবিন্দু | ফিকহি মতভেদ, কালামশাস্ত্রের জটিল বিতর্ক এবং প্রাচীন ভাষাতত্ত্ব। | কুরআনের সার্বজনীন হেদায়েত, আধুনিক সমাজ সংস্কার, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক সমস্যার সমাধান। |
| ইসরাঈলিয়্যাত | অনেক ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অপ্রমাণিত ইসরাঈলি রেওয়ায়েত স্থান পেত। | ইসরাঈলি বর্ণনা কঠোরভাবে বর্জন এবং বিজ্ঞান ও যুক্তিভিত্তিক প্রামাণিকতা বজায় রাখা। |
| উদাহরণ | তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে ইবনে কাসির। | ফি যিলালিল কুরআন (সৈয়দ কুতুব), তাফহীমুল কুরআন (মাওদূদী), সফওয়াতুত তাফাসীর (আস-সাবূনী)। |
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ‘আত-তাফসীরুল মুয়াসসির’ বলতে কোন ধরনের তাফসিরকে বোঝায়?
সমসাময়িক যুগের মানুষের ভাষা, মানসিকতা, আধুনিক বিজ্ঞান ও সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে সহজ ও সাবলীল ভঙ্গিতে কুরআনের যে জীবনমুখী ব্যাখ্যা রচিত হয় তাকে আত-তাফসীরুল মুয়াসসির বা আধুনিক তাফসির বলে।
২. ফেরেশতা কেন মানুষের আকৃতিতেই রাসূল হিসেবে প্রেরিত হতে পারেন?
মানুষ সরাসরি ফেরেশতার মূল নূরানী রূপ দেখার ক্ষমতা রাখে না; তাই মানুষের সাথে মেলামেশা ও সহজে শিক্ষা দেওয়ার সুবিধার্থে ফেরেশতাকে মানুষের সুরতেই পাঠাতে হতো।
৩. ইমামের পেছনে কিরাত পড়ার হুকুম কী?
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী ইমামের পেছনে মুক্তাদীর কিরাত পড়া নিষেধ; শাফিয়ী মাযহাবে সূরা ফাতিহা পড়া আবশ্যক এবং মালেকী-হাম্বলী মাযহাবে কেবল নিঃশব্দ নামাযে পড়া মুস্তাহাব।
৪. ‘সিনাহ’ ও ‘নু’আস’-এর মৌলিক পার্থক্য কী?
‘সিনাহ’ হলো চোখের প্রাথমিক হালকা ঝিমুনি, আর ‘নু’আস’ হলো কিছুটা গভীর তন্দ্রা যা মস্তিষ্কে পৌঁছালেও পুরোপুরি সংজ্ঞাহীন করে না।
৫. শায়খ মুহাম্মদ আলী আস-সাবূনীর বিখ্যাত তাফসির কোনটি?
তাঁর সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বিশ্বখ্যাত তাফসির গ্রন্থ হলো ‘সফওয়াতুত তাফাসীর’ (صفوة التفاسير), যা প্রধান প্রধান প্রামাণ্য তাফসিরের সারনির্যাস সংকলন।
৬. আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কি অদৃশ্যের জ্ঞান (ইলমে গায়েব) রাখে?
মৌলিক ও নিজস্ব ক্ষমতায় আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েবের জ্ঞান রাখে না; তবে আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে তাঁর নবীদেরকে যতটুকু সংবাদ জানান, তাঁরা ততটুকুই জানতে পারেন।