ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: কম্পিউটার লিটারেসি (Computer Literacy)
বিষয় কোড: 201207 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: প্রত্যেক বিভাগ থেকে চারটি করে মোট আটটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]
ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্ন
১. কম্পিউটার বলতে কী বুঝ? এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।
[What do you mean by computer? Discuss its origin and development elaborately.]
ক. কম্পিউটারের সংজ্ঞা:
‘কম্পিউটার’ (Computer) শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Compute’ (কম্পিউট) থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ হিসাব বা গণনা করা। সাধারণ অর্থে কম্পিউটার হলো একটি দ্রুতগামী ও নির্ভুল ইলেকট্রনিক গণনাযন্ত্র। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার কেবল গণনাকারী যন্ত্র নয়; এটি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় বহুমুখী ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কাঁচা উপাত্ত (Data) ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে, স্মৃতিতে তা সংরক্ষণ করে, নির্দেশনানুযায়ী (Program) প্রক্রিয়াকরণ (Processing) করে এবং চূড়ান্ত ফলাফল বা তথ্য (Information) আউটপুট আকারে প্রদর্শন করে।
খ. কম্পিউটারের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ:
কম্পিউটারের ইতিহাস মানবজাতির গণনাযন্ত্র আবিষ্কারের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল:
- অ্যাবাকাস (Abacus – খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০): ব্যবিলন ও চীনে আবিষ্কৃত কাঠের ফ্রেমে পুঁতি সাজানো যন্ত্র, যা ইতিহাসের প্রাচীনতম গণনাযন্ত্র।
- নেপিয়ারের হাড় ও স্লাইড রুল (১৬১৪–১৬২০): জন নেপিয়ার লগারিদম ভিত্তিক রড আবিষ্কার করেন।
- প্যাসকেলাইন (১৬৪২): ফরাসি গণিতবিদ ব্লেইজ প্যাসকেল গিয়ার ও চাকা দিয়ে সর্বপ্রথম যান্ত্রিক গণনাযন্ত্র (প্যাসকেলাইন) তৈরি করেন, যা যোগ-বিয়োগ করতে পারত।
- লিবনিজ ক্যালকুলেটর (১৬৭১): গটফ্রিড ভন লিবনিজ প্যাসকেলের যন্ত্রের আধুনিকায়ন করে গুণ ও ভাগের ব্যবস্থা করেন।
- চার্লস ব্যাবেজ ও আধুনিক কম্পিউটারের ভিত্তি (১৮২২–১৮৩৪): কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ ১৮২২ সালে ‘ডিফারেন্স ইঞ্জিন’ এবং ১৮৩৪ সালে মেমরি ও প্রসেসর সমন্বিত ‘অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন’ নকশা করেন। আধুনিক কম্পিউটারের স্থাপত্য কাঠামোর মূল ভিত্তি স্থাপন করার কারণে চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়। আর লর্ড বায়রনের কন্যা অ্যাডা লাভলেস অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের জন্য প্রোগ্রাম রচনা করায় তাঁকে প্রথম প্রোগ্রামার বলা হয়।
- হারমান হলেরিথ ও পাঞ্চ কার্ড (১৮৯০): মার্কিন আদমশুমারির জন্য পাঞ্চ কার্ড ভিত্তিক যন্ত্র তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে আইবিএম (IBM) কোম্পানিতে রূপ নেয়।
- ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের সূচনা (১৯৪৬): জন মকলি ও প্রেসপার একার্ট পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাকুয়াম টিউব দিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল কম্পিউটার ‘ENIAC’ তৈরি করেন।
- প্রজন্মের বিকাশ: পরবর্তীতে ট্রানজিস্টর (২য় প্রজন্ম), আইসি (৩য় প্রজন্ম), মাইক্রোপ্রসেসর (৪র্থ প্রজন্ম) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং (৫ম প্রজন্ম)-এর মাধ্যমে আজকের আধুনিক ল্যাপটপ ও সুপার কম্পিউটারের বিকাশ ঘটে।
২. ডিভাইস কী? মাউস ও স্ক্যানার-এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত লেখ।
[What is device? Discuss in details about the uses of mouse and scanner.]
ক. ডিভাইসের সংজ্ঞা:
কম্পিউটার বিজ্ঞানে ‘ডিভাইস’ (Device) বলতে এমন সব বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ ইলেকট্রনিক ও মেকানিক্যাল হার্ডওয়্যার যন্ত্রপাতি বা উপাদানকে বোঝায়, যা কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের (CPU) সাথে সংযুক্ত হয়ে ডেটা গ্রহণ (ইনপুট), ফলাফল প্রদর্শন (আউটপুট), ডেটা সংরক্ষণ (স্টোরেজ) বা নেটওয়ার্ক সংযোগে সহায়তা করে। যেমন—কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদি।
খ. মাউসের ব্যবহার (Uses of Mouse):
মাউস হলো বহুল ব্যবহৃত একটি হ্যান্ড-হেল্ড পয়েন্ট অ্যান্ড ড্র ইনপুট ডিভাইস। ডগলাস এঙ্গেলবার্ট ১৯৬৪ সালে এটি উদ্ভাবন করেন। এর প্রধান ব্যবহারসমূহ:
- পয়েন্টিং ও সিলেক্ট করা: স্ক্রিনে কার্সর নাড়িয়ে যেকোনো আইকন, ফাইল, ফোল্ডার বা টেক্সট নির্বাচন করা।
- ক্লিক ও ডাবল ক্লিক: লেফট ক্লিকে আইটেম সিলেক্ট করা এবং দ্রুত ডাবল ক্লিকে কোনো সফটওয়্যার, ফাইল বা প্রোগ্রাম রান করা।
- রাইট ক্লিক ও কনটেক্সট মেন্যু: রাইট ক্লিকে নির্বাচিত ফাইলের প্রোপার্টিজ, কপি, পেস্ট, রিনেম প্রভৃতি অপশন বের করা।
- ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ (Drag and Drop): কোনো ফাইল চেপে ধরে এক ফোল্ডার থেকে অন্য ফোল্ডারে বা স্ক্রিনের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা।
- স্ক্রলিং: মাউসের মধ্যবর্তী স্ক্রল হুইল ঘুরিয়ে লম্বা ডকুমেন্ট বা ওয়েব পেজ সহজে উপরে-নিচে নামানো।
- গ্রাফিক্স ডিজাইন ও গেমিং: নিখুঁত ছবি আঁকা, ফটো এডিটিং ও কম্পিউটার গেম নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।
গ. স্ক্যানারের ব্যবহার (Uses of Scanner):
স্ক্যানার হলো একটি অপটিক্যাল ইনপুট ডিভাইস যা যেকোনো মুদ্রিত কাগজ, ছবি, বই বা হাতে লেখা নথিকে আলোকরশ্মির মাধ্যমে স্ক্যান করে হুবহু ডিজিটাল চিত্রে রূপান্তর করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে। এর ব্যবহারসমূহ:
- নথিপত্রের ডিজিটাইজেশন: প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও আইনি দলিল ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করা।
- ছবি ও গ্রাফিক্স ইনপুট: অ্যানালগ ফটোগ্রাফ স্ক্যান করে ফটোশপের মাধ্যমে এডিটিং বা মুদ্রণের উপযোগী করা।
- ওসিআর (OCR) প্রযুক্তি প্রয়োগ: স্ক্যান করা বইয়ের টেক্সটকে এডিটেবল ওয়ার্ড ফাইলে রূপান্তর করে পড়া ও সম্পাদনা করা।
- অনলাইন আবেদন ও যাচাইকরণ: জাতীয় পরিচয়পত্র, সনদপত্র, পাসপোর্ট ও স্বাক্ষর স্ক্যান করে ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড করা।
- মেডিকেল ইমেজিং ও ইঞ্জিনিয়ারিং: এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং জটিল ব্লুপ্রিন্ট ডিজিটালাইজড করা।
৩. ওয়ার্কশিট কী? কীভাবে একটি ওয়ার্কশিট তৈরি করা যায় বর্ণনা কর।
[What is worksheet? Describe how to make a worksheet.]
ক. ওয়ার্কশিটের সংজ্ঞা:
মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel) বা স্প্রেডশিট সফটওয়্যারে সারি (Row) এবং কলামের (Column) সমন্বয়ে গঠিত গ্রিডযুক্ত যে কার্যকরী পাতায় গাণিতিক হিসাব-নিকাশ, ডেটা এন্ট্রি, বাজেট তৈরি এবং চার্ট বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে ওয়ার্কশিট (Worksheet) বা স্প্রেডশিট বলা হয়। প্রতিটি কলাম ইংরেজি বর্ণ (A, B, C…) এবং প্রতিটি সারি সংখ্যা (1, 2, 3…) দ্বারা চিহ্নিত থাকে। সারি ও কলামের ছেদবিন্দুকে ‘সেল’ (Cell) বলা হয় (যেমন A1, B5)। একাধিক ওয়ার্কশিটের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ওয়ার্কবুক’ (Workbook) গঠিত হয়।
খ. একটি নতুন ওয়ার্কশিট তৈরি ও ব্যবহারের ধাপসমূহ:
- এক্সেল প্রোগ্রাম চালু করা: কম্পিউটারের Start মেন্যু থেকে Microsoft Office > Microsoft Excel ওপেন করতে হবে।
- নতুন ওয়ার্কবুক খোলা: File মেন্যু থেকে ‘New’ সিলেক্ট করে ‘Blank Workbook’-এ ক্লিক করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘Sheet1’ নামে একটি ওয়ার্কশিট তৈরি হবে। প্রয়োজনে নিচের ‘+’ চিহ্নে ক্লিক করে একাধিক নতুন শিট যুক্ত করা যায়।
- শিরোনাম ও হেডার তৈরি: প্রথম সারির সেলগুলোতে টেবিলের হেডার এন্ট্রি করতে হবে; যেমন—A1 সেলে “ক্রমিক নং”, B1 সেলে “শিক্ষার্থীর নাম”, C1 সেলে “কুরআন”, D1 সেলে “হাদিস”, E1 সেলে “মোট নম্বর”।
- ডেটা এন্ট্রি করা: নির্দিষ্ট সেলে ক্লিক করে কীবোর্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য, নাম ও সংখ্যা টাইপ করতে হবে। পরবর্তী সেলে যেতে Tab এবং নিচের সেলে যেতে Enter চাপতে হবে।
- ফর্মুলা ও ফাংশন প্রয়োগ: স্বয়ংক্রিয় হিসাবের জন্য সমান চিহ্ন (=) দিয়ে সূত্র লিখতে হবে; যেমন মোট নম্বরের জন্য E2 সেলে লিখতে হবে:
=SUM(C2:D2)এবং গড় বের করতে=AVERAGE(C2:D2)। এরপর Fill Handle ড্র্যাগ করে নিচের সব সেলে সূত্র প্রয়োগ করা যায়। - ফরম্যাটিং ও বর্ডার দেওয়া: সেলগুলো সিলেক্ট করে Home রিবন থেকে ফন্ট পরিবর্তন, বোল্ড করা, সেল কালার এবং ‘All Borders’ নির্বাচন করে টেবিলটি দৃষ্টিনন্দন করা যায়।
- ফাইল সংরক্ষণ (Save): File মেন্যুতে গিয়ে ‘Save As’-এ ক্লিক করে ফাইলের নাম লিখে নির্দিষ্ট ফোল্ডারে (.xlsx ফরম্যাটে) সেভ করতে হবে।
৪. কম্পিউটার সফটওয়্যার কী? এর প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা কর।
[What is computer software? Discuss its classification in brief.]
ক. সফটওয়্যারের সংজ্ঞা:
কম্পিউটার হার্ডওয়্যার নিজে কোনো চিন্তা করতে পারে না। হার্ডওয়্যারকে কার্যকর ও সচল করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষায় ধারাবাহিকভাবে রচিত নির্দেশনাবলী, প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলা হয়। সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের অদৃশ্য চালিকাশক্তি বা আত্মা স্বরূপ।
খ. সফটওয়্যারের শ্রেণীবিভাগ:
কম্পিউটার সফটওয়্যারকে প্রধানত দুটি মূল ভাগে ভাগ করা হয়:
| শ্রেণি | উপ-বিভাগ | সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software) | অপারেটিং সিস্টেম (OS) | হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মাঝে সংযোগ স্থাপনকারী মূল প্ল্যাটফর্ম। | Windows 11, Linux, macOS, Android |
| ডিভাইস ড্রাইভার | নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারকে ওএস-এর সাথে সচল রাখার সফটওয়্যার। | Graphics Driver, Printer Driver | |
| ইউটিলিটি সফটওয়্যার | কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির টুল। | Antivirus, Disk Cleanup, WinRAR | |
| ২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software) | সাধারণ / প্যাকেজ সফটওয়্যার | সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রাত্যহিক নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য তৈরি। | MS Word, Excel, Photoshop, Chrome |
| কাস্টমাইজড সফটওয়্যার | নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার বিশেষ চাহিদামতো অর্ডার দিয়ে তৈরি। | ব্যাংকিং সফটওয়্যার, বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম |
৫. সংখ্যা পদ্ধতি কী? ১-২০ পর্যন্ত ডেসিমেল সংখ্যাগুলো লেখ এবং তার সমমানের বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যাগুলোর চার্ট তৈরি কর।
[What is numbering system? Write 1 to 20 Decimal number and write the chart of similar Binary, Octal and Hexa-decimal numbers.]
ক. সংখ্যা পদ্ধতির সংজ্ঞা:
কোনো পরিমাণ বা গণনাকে প্রকাশ ও গণনা করার জন্য বিভিন্ন প্রতীক, অঙ্ক বা চিহ্নের সাহায্যে বিন্যস্ত সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলিকে সংখ্যা পদ্ধতি (Number System) বলে। ব্যবহৃত মৌলিক প্রতীকের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সংখ্যা পদ্ধতির বেস বা ভিত্তি নির্ধারিত হয়। ডিজিটাল কম্পিউটারে প্রধানত চারটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়: ডেসিমেল (বেস ১০), বাইনারি (বেস ২), অক্টাল (বেস ৮) এবং হেক্সাডেসিমেল (বেস ১৬)।
খ. ১ থেকে ২০ পর্যন্ত ডেসিমেল সংখ্যার সমমানের চার্ট:
| ডেসিমেল (Decimal – Base 10) | বাইনারি (Binary – Base 2) | অক্টাল (Octal – Base 8) | হেক্সাডেসিমেল (Hexadecimal – Base 16) |
|---|---|---|---|
| 1 | 0001 | 1 | 1 |
| 2 | 0010 | 2 | 2 |
| 3 | 0011 | 3 | 3 |
| 4 | 0100 | 4 | 4 |
| 5 | 0101 | 5 | 5 |
| 6 | 0110 | 6 | 6 |
| 7 | 0111 | 7 | 7 |
| 8 | 1000 | 10 | 8 |
| 9 | 1001 | 11 | 9 |
| 10 | 1010 | 12 | A |
| 11 | 1011 | 13 | B |
| 12 | 1100 | 14 | C |
| 13 | 1101 | 15 | D |
| 14 | 1110 | 16 | E |
| 15 | 1111 | 17 | F |
| 16 | 10000 | 20 | 10 |
| 17 | 10001 | 21 | 11 |
| 18 | 10010 | 22 | 12 |
| 19 | 10011 | 23 | 13 |
| 20 | 10100 | 24 | 14 |
৬. ফন্ট কী? ফন্টের গঠন ও প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।
[What is font? Discuss the sizes and types of fonts in detail.]
ক. ফন্টের সংজ্ঞা:
কম্পিউটার টাইপোগ্রাফি ও ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ে একটি নির্দিষ্ট ডিজাইন, উচ্চতা (Size), পুরুত্ব (Weight) এবং শৈলী (Style) বিশিষ্ট অক্ষরের সুসংহত সেট বা টাইপফেসের ডিজিটাল রূপকে ফন্ট (Font) বলা হয়। যেমন—Times New Roman, Arial, SutonnyMJ, Kalpurush ইত্যাদি।
খ. ফন্টের গঠন ও পরিমাপ (Font Structure & Size):
- বেসলাইন (Baseline): যে কাল্পনিক সমান্তরাল রেখার ওপর অক্ষরের মূল শরীর বসে থাকে।
- এক্স-হাইট (x-height): ছোট হাতের ‘x’ অক্ষরের উচ্চতা।
- এসেন্ডার (Ascender): অক্ষরের যে অংশ বেসলাইনের ওপরের অংশ ছাড়িয়ে উঁচুতে ওঠে (যেমন b, d, h)।
- ডিসেন্ডার (Descender): অক্ষরের যে অংশ বেসলাইনের নিচে নেমে যায় (যেমন p, q, y)।
- পয়েন্ট সাইজ (Point Size): ফন্টের মাপ পয়েন্টে (pt) প্রকাশ করা হয়। ১ ইঞ্চি = ৭২ পয়েন্ট। সাধারণ ডকুমেন্টে সাধারণত ১১ বা ১২ পয়েন্ট সাইজ ব্যবহৃত হয়।
গ. ফন্টের প্রকারভেদ (Types of Fonts):
- সেরিফ ফন্ট (Serif): অক্ষরের প্রান্তভাগে সূক্ষ্ম আলঙ্কারিক রেখা বা আঁচড় থাকে। এটি বই বা মুদ্রিত পত্রিকার জন্য পাঠযোগ্য। উদাহরণ: Times New Roman, Georgia।
- সান-সেরিফ ফন্ট (Sans-serif): ‘Sans’ অর্থ ছাড়া; অক্ষরের প্রান্তে কোনো আলঙ্কারিক আঁচড় থাকে না, সোজা ও পরিচ্ছন্ন। স্ক্রিনে পড়ার জন্য আদর্শ। উদাহরণ: Arial, Calibri, Roboto।
- স্ক্রিপ্ট ফন্ট (Script): হস্তলিপি বা ক্যালিগ্রাফির মতো টানা টানা পেঁচানো শৈলী। কার্ড বা সনদে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Brush Script, Lucida Calligraphy।
- মনোস্পেস ফন্ট (Monospace): প্রতিটি অক্ষর সমান প্রস্থের জায়গা দখল করে। প্রোগ্রামিং কোডিংয়ে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Courier New, Consolas।
- বাংলা ফন্টের প্রকার:
- অ্যান্সি/বিজয় ফন্ট: SutonnyMJ, Alpona (লেগাসি ফরম্যাট)।
- ইউনিকোড ফন্ট: Kalpurush, SolaimanLipi, Vrinda (ইন্টারনেট ও আধুনিক সিস্টেমে সর্বজনীন)।
৭. নেটওয়ার্ক টপোলজি বলতে কী বুঝ? বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক টপোলজির বর্ণনা দাও।
[What do you mean by network topology? Describe the kinds of network topology.]
ক. নেটওয়ার্ক টপোলজির সংজ্ঞা:
একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং অন্যান্য নোডগুলো (ডিভাইস) পরস্পরের সাথে কীভাবে ভৌগোলিক ও জ্যামিতিক নকশায় যুক্ত রয়েছে, তার ভৌত বা যৌক্তিক বিন্যাস কাঠামোকে নেটওয়ার্ক টপোলজি (Network Topology) বলা হয়।
খ. বিভিন্ন প্রকার নেটওয়ার্ক টপোলজি:
- বাস টপোলজি (Bus Topology): একটি মাত্র মূল ব্যাকবোন তারের (Backbone Cable) সাথে সবকটি কম্পিউটার ধারাবাহিকভাবে যুক্ত থাকে। মূল তার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়, তবে এটি স্থাপন অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী।
- স্টার টপোলজি (Star Topology): প্রতিটি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইস—হাব (Hub) বা সুইচের (Switch) সাথে পৃথক তার দিয়ে যুক্ত থাকে। কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও নেটওয়ার্ক সচল থাকে। তবে কেন্দ্রীয় সুইচ নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। এটি বর্তমানে সর্বাধিক ব্যবহৃত টপোলজি।
- রিং টপোলজি (Ring Topology): প্রতিটি কম্পিউটার তার পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃত্তাকার রিং তৈরি করে। ডেটা একমুখীভাবে পরিভ্রমণ করে। একটি নোড বিকল হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়।
- ট্রি টপোলজি (Tree Topology): বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট গাছের ন্যায় কাঠামো, যা মূলত একাধিক স্টার টপোলজির সমন্বয়ে গঠিত। এতে একটি মূল রুট সুইচ থাকে এবং তার অধীনে অন্যান্য হাব যুক্ত থাকে। বড় প্রতিষ্ঠানে এটি উপযোগী।
- মেশ টপোলজি (Mesh Topology): প্রতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অন্য প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি পৃথক কেবল দ্বারা যুক্ত থাকে। ফলে ডেটা চলাচলে কোনো বাধা থাকে না এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পাওয়া যায়, তবে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল।
- হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology): বাস, স্টার, রিং ইত্যাদি দুই বা ততোধিক ভিন্ন ধরনের টপোলজির সংমিশ্রণে গঠিত জটিল নেটওয়ার্ক কাঠামো (যেমন ইন্টারনেট)।
৮. ক্যাশ মেমোরি বলতে কী বুঝ? হার্ডডিস্ক ও ফ্লপি ডিস্কের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[What do you mean by cache memory? Write the difference between hard disk and floppy disk.]
ক. ক্যাশ মেমোরির সংজ্ঞা (Cache Memory):
সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU) এবং মূল মেমরির (RAM) মধ্যে গতির বিশাল ব্যবধান দূর করার জন্য প্রসেসরের খুব সন্নিকটে বা প্রসেসর চিপের ভেতরে স্থাপিত অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন বিশেষ স্ট্যাটিক র্যাম (SRAM) মেমরিকে ক্যাশ মেমোরি বলে। সিপিইউ যে ডেটা ও নির্দেশ বারবার ব্যবহার করে, তা সরাসরি র্যাম থেকে না এনে ক্যাশ মেমরিতে সাময়িকভাবে জমা রাখে, ফলে প্রসেসিংয়ের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এটি L1, L2 ও L3 ক্যাশে বিভক্ত থাকে।
খ. হার্ডডিস্ক ও ফ্লপি ডিস্কের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য:
| তুলনার বিষয় | হার্ডডিস্ক (Hard Disk Drive – HDD) | ফ্লপি ডিস্ক (Floppy Diskette) |
|---|---|---|
| ১. ধারণক্ষমতা | বিশাল ধারণক্ষমতা সম্পন্ন (যেমন ৫০০ জিবি, ১ টিবি থেকে বহু টেরাবাইট)। | অত্যন্ত সীমিত ধারণক্ষমতা (আদর্শ ৩.৫ ইঞ্চি ফ্লপির ক্ষমতা মাত্র ১.৪৪ এমবি)। |
| ২. গতি ও পারফরম্যান্স | উচ্চ গতিসম্পন্ন ডেটা ট্রান্সফার রেট (RPM ৫৪০০ বা ৭২০০)। | অত্যন্ত মন্থর গতিসম্পন্ন ডেটা রিড/রাইট পদ্ধতি। |
| ৩. গঠন উপাদান | ধাতব অ্যালুমিনিয়াম বা কাচের তৈরি শক্ত বৃত্তাকার প্লাটারের সমন্বয়ে গঠিত। | নমনীয় পাতলা প্লাস্টিক বা মাইলার শিটের ওপর চৌম্বক প্রলেপ দেওয়া। |
| ৪. বহনযোগ্যতা | সাধারণত সিপিইউ ক্যাসিংয়ের ভেতর স্থায়ীভাবে বসানো থাকে (ফিক্সড)। | সহজে পকেটে বহনযোগ্য ছিল (পোর্টেবল)। |
| ৫. বর্তমান স্থিতি | এখনও কম্পিউটারের মূল সেকেন্ডারি স্টোরেজ হিসেবে বহুল ব্যবহৃত। | বর্তমানে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ও অপ্রচলিত (পেনড্রাইভ ও ক্লাউড এর স্থান নিয়েছে)। |
খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
৯. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নাবলী
[Short Answer Questions]
(ক) কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
[How does computer work? Describe in brief.]
কম্পিউটার মূলত চারটি মৌলিক ধাপে চক্রাকারে কাজ সম্পন্ন করে, যাকে আইপিওএস (IPOS – Input, Processing, Output, Storage) সাইকেল বলা হয়:
- ১. ইনপুট (Input): কীবোর্ড, মাউস বা স্ক্যানারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কাঁচা ডেটা গ্রহণ করে।
- ২. প্রক্রিয়াকরণ (Processing): সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU) মেমোরি থেকে নির্দেশ নিয়ে ডেটাকে প্রসেস করে ও গাণিতিক-যৌক্তিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করে।
- ৩. আউটপুট (Output): প্রসেসকৃত অর্থপূর্ণ ফলাফলকে মনিটর, প্রিন্টার বা স্পিকারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সামনে প্রদর্শন করে।
- ৪. সংরক্ষণ (Storage): ফলাফল বা ভবিষ্যৎ কাজের ডেটাকে র্যাম, হার্ডডিস্ক বা এসএসডিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে।
(খ) সমাজে তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
[Describe briefly the impact of information technology in society.]
আধুনিক সমাজ গঠনে তথ্য প্রযুক্তির (IT) প্রভাব সুদূরপ্রসারী ও অপরিহার্য:
- যোগাযোগ ও গ্লোবাল ভিলেজ: ইন্টারনেট, ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবী একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে।
- শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন: ই-লার্নিং, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং দূরশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে।
- চিকিৎসাসেবা ও টেলিমেডিসিন: আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্র এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ লাভ সহজ হয়েছে।
- অর্থনীতি ও ই-কমার্স: অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ) এবং ঘরে বসে কেনাকাটা অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করেছে।
- ই-গভর্ন্যান্স: সরকারি সেবা, নাগরিক সনদ ও পাসপোর্ট প্রাপ্তি এখন সম্পূর্ণ অনলাইন ও হয়রানিমুক্ত।
(গ) OCR ও OMR এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[Write the difference between OCR and OMR.]
| তুলনার বিষয় | OCR (Optical Character Reader) | OMR (Optical Mark Reader) |
|---|---|---|
| পূর্ণরূপ | Optical Character Recognition / Reader | Optical Mark Recognition / Reader |
| কাজের প্রকৃতি | মুদ্রিত বা হাতে লেখা সাধারণ টেক্সট ও অক্ষরের আকৃতি চিনে রূপান্তর করে। | কাগজে পেন্সিল বা কালির বিশেষ বৃত্ত ভরাট চিহ্নের উপস্থিতি শনাক্ত করে। |
| ফলাফলের রূপ | টেক্সটকে এডিটেবল ডিজিটাল ডকুমেন্টে (Word ফাইল) পরিণত করে। | চিহ্নিত উত্তরের সত্যতা যাচাই করে স্কোর বা সংখ্যা তৈরি করে। |
| প্রধান ব্যবহার | পুরোনো বই ও নথিপত্র টাইপ না করে ডিজিটাইজেশনে ব্যবহৃত হয়। | পাবলিক পরীক্ষা ও চাকরির পরীক্ষার MCQ উত্তরপত্র মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়। |
(ঘ) ডিজিটাল টেক্সট কী? ডিজিটাল টেক্সট-এর বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।
[What is digital text? Mention the features of digital text.]
ডিজিটাল টেক্সট: যে টেক্সট বা লিখিত বয়ান কাগজে মুদ্রিত না হয়ে কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পড়ার উপযোগী বাইনারি কোডে (ASCII বা Unicode) সংরক্ষিত থাকে, তাকে ডিজিটাল টেক্সট বলা হয়। যেমন—ই-বুক, পিডিএফ, ওয়ার্ড ফাইল ও ওয়েব কনটেন্ট।
ডিজিটাল টেক্সটের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- সহজে সম্পাদনযোগ্য (Editable) ও সংশোধনযোগ্য।
- কীওয়ার্ড লিখে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো শব্দ বা পৃষ্ঠা অনুসন্ধান (Searchable) করা যায়।
- স্থান দখল করে না; কোটি কোটি শব্দ পেনড্রাইভ বা ক্লাউডে সংরক্ষণ করা যায়।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে চোখের পলকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কপি ও প্রেরণ করা যায়।
- হাইপারলিংক যুক্ত করে অন্যান্য ওয়েব পেজ বা রেফারেন্সের সাথে সংযুক্ত করা যায়।
(ঙ) CPU এর কাজ বর্ণনা কর।
[Discuss the functions of CPU.]
সিপিইউ (Central Processing Unit)-কে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়। এর প্রধান কার্যাবলী নিম্নরূপ:
- নির্দেশনা নিয়ন্ত্রণ (Control Unit – CU): ইনপুট, মেমরি ও আউটপুট ডিভাইসের মধ্যকার সমস্ত কার্যক্রমের সমন্বয় ও পরিচালনা করা।
- গাণিতিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত (ALU): যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং সত্য-মিথ্যা ও ছোট-বড় তুলনামূলক গাণিতিক-যৌক্তিক হিসাব সম্পাদন করা।
- মেমরি থেকে ডেটা ফেচিং ও ডিকোডিং: র্যাম থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রোগ্রাম নির্দেশ নিয়ে তা অনুধাবন ও বাস্তবায়ন করা।
- রেজিস্টারে সাময়িক ডেটা ধারণ: দ্রুত প্রসেসিংয়ের জন্য অভ্যন্তরীণ রেজিস্টারে ডেটা ধরে রাখা।
(চ) সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[Write the difference between system software and application software.]
| তুলনার বিষয় | সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software) | অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software) |
|---|---|---|
| ১. উদ্দেশ্য | কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পরিচালনা ও প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত রাখা। | ব্যবহারকারীর বিশেষ ব্যবহারিক কাজ (লেখা, হিসাব, ছবি আঁকা) সম্পন্ন করা। |
| ২. নির্ভরতা | অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ছাড়া একা চলতে পারে। | সিস্টেম সফটওয়্যার ছাড়া একা চলতে পারে না। |
| ৩. ব্যবহারকারীর মিথস্ক্রিয়া | ব্যবহারকারী সরাসরি এর সাথে কম যোগাযোগ করে, এটি নেপথ্যে কাজ করে। | ব্যবহারকারী সরাসরি ইন্টারফেস ব্যবহার করে কাজ করে। |
| ৪. উদাহরণ | Windows, Linux, macOS, BIOS। | MS Word, MS Excel, Adobe Photoshop, VLC Player। |
(ছ) (1001.101)₂ এবং (1101.01)₂ কে যোগ কর বাইনারি পদ্ধতি ব্যবহার করে।
[Adding to (1001.101)₂ and (1101.01)₂ using Binary system.]
বাইনারি যোগের মূল নিয়ম:
০ + ০ = ০
০ + ১ = ১
১ + ০ = ১
১ + ১ = ১০ (ফলাফল ০, ক্যারি ১)
১ + ১ + ১ = ১১ (ফলাফল ১, ক্যারি ১)
যোগ প্রক্রিয়া:
দশমিক বিন্দুর পর সমান সংখ্যক অঙ্ক করার জন্য দ্বিতীয় সংখ্যার শেষে একটি শূন্য বসিয়ে সাজাই:
১ ১ ১ ১ <-- ক্যারি (Carries)
১ ০ ০ ১ . ১ ০ ১
+ ১ ১ ০ ১ . ০ ১ ০
---------------------
১ ০ ১ ১ ০ . ১ ১ ১
ফলাফল:
অতএব, নির্ণেয় বাইনারি যোগফল = (10110.111)₂
শুদ্ধি পরীক্ষা (ডেসিমেল রূপান্তর):
(1001.101)₂ = ৯ + ০.৫ + ০.১২৫ = ৯.৬২৫
(1101.01)₂ = ১৩ + ০.২৫ = ১৩.২৫
মোট ডেসিমেল যোগফল = ৯.৬২৫ + ১৩.২৫ = ২২.৮৭৫
প্রাপ্ত বাইনারি (10110.111)₂ = ১৬ + ৪ + ২ + ০.৫ + ০.২৫ + ০.১২৫ = ২২.৮৭৫ (সঠিক)।
(জ) আল-মাকতাবাতুল আলফিয়া-এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
[Briefly discuss Al-Maktabatul Alfia.]
আল-মাকতাবাতুল আলফিয়া (المكتبة الألفية للسنة النبوية):
এটি ইসলামী গবেষণা ও হাদিস শাস্ত্রের এক যুগান্তকারী ডিজিটাল সফটওয়্যার এনসাইক্লোপিডিয়া। জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত ‘মারকাযুত তুরাস’ কর্তৃক সংকলিত এ সফটওয়্যারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সুন্নাহ ও হাদিস সংক্রান্ত প্রায় এক হাজার তিন শত (১৩০০+) মৌলিক ও দুর্লভ কিতাব ডিজিটালভাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- সিহাহ সিত্তাহ-সহ প্রাচীন হাদিসের প্রায় সকল মূলগ্রন্থ, মুসনাদ, মু’জাম, মুসান্নাফ ও তাফসীর গ্রন্থ এক ক্লিকে পাওয়া যায়।
- উন্নত সার্চ অপশনের মাধ্যমে রাবী (বর্ণনাকারী), হাদিসের মূল শব্দ, বিষয়বস্তু ও সনদের ভিত্তি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক হাদিস অনুসন্ধান করা যায়।
- হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইকরণে ‘আসমাউর রিজাল’ ও জারহ-তা’দীল শাস্ত্রের বিস্তারিত তথ্যাবলি সংযুক্ত রয়েছে।
- ইসলামিক স্কলার ও গবেষকদের জন্য রেফারেন্স যাচাইয়ের এক অনন্য সহায়ক মাধ্যম।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ২য় বর্ষের ‘কম্পিউটার লিটারেসি’ পরীক্ষার প্রশ্ন কাঠামো কেমন?
মোট পূর্ণমান ৮০। ক-বিভাগ থেকে ৪টি রচনামূলক (৪ × ১৫ = ৬০) এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত (৪ × ৫ = ২০) মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
২. কম্পিউটারের জনক কাকে বলা হয় এবং কেন?
চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়, কারণ তিনি প্রথম মেমরি ও প্রসেসরের সমন্বয়ে আধুনিক কম্পিউটারের স্থাপত্য কাঠামো নকশা করেছিলেন।
৩. সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মূল পার্থক্য কী?
সিস্টেম সফটওয়্যার হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মূল প্ল্যাটফর্ম, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করে।
৪. বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি কম্পিউটারে কেন ব্যবহৃত হয়?
কম্পিউটারের ডিজিটাল সার্কিট বিদ্যুৎ প্রবাহের দুটি অবস্থা—অন (১) এবং অফ (০) অতি সহজে ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে।
৫. স্টার টপোলজির প্রধান সুবিধা কী?
কেন্দ্রীয় সুইচের সাথে প্রতিটি পিসি পৃথকভাবে যুক্ত থাকায় একটি পিসি বিকল হলেও বাকি নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকে।
৬. ‘আল-মাকতাবাতুল আলফিয়া’ কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
এটি হাদিস গবেষণা, সনদের বিশুদ্ধতা যাচাই এবং প্রাচীন নির্ভরযোগ্য ইসলামী গ্রন্থের ডিজিটাল অনুসন্ধানের একটি সমৃদ্ধ সফটওয়্যার লাইব্রেরি।