উচ্চতর আরবি ১ম পত্র (Higher Arabic 1st Paper) – 407, উচ্চতর আরবি – ফাযিল পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

StudyBoi StudyBoi
September 26, 2026
৮২ মিনিট পড়ার সময়
২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – 2024
বিষয়: উচ্চতর আরবি (ঐচ্ছিক) প্রথম পত্র (বিষয় কোড: ৪০৭)
[আরবি গদ্য (النثر العربي)]
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০

ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2024-এর উচ্চতর আরবি ১ম পত্র (বিষয় কোড: ৪০৭ – আরবি গদ্য) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির ২০ নম্বরের রচনামূলক ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উচ্চমান বজায় রেখে ভূমিকা, মূল আরবি পাঠ, প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর, শাব্দিক ও ব্যাকরণিক তাহকিক, আলঙ্কারিক বিশ্লেষণ এবং শিক্ষণীয় দিকসমূহ সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।

কন্টেন্ট তালিকা / প্রশ্নসূচি

  1. ১. অনুবাদ ও সাহিত্যিক পাঠ বিশ্লেষণ: ترجم ثلاثا من القطعات الاتية
  2. ২. আরবিতে ব্যাখ্যা: اشرح قطعة من القطعات الاتية بالعربية
  3. ৩ (الف). اكتب خلاصة قصة ‘اليتيم’ للمنفلوطى [আল-ইয়াতীম গল্পের সারসংক্ষেপ]
  4. ৩ (ب). اكتب خصائص خطبة على بن أبى طالب رضى الله عنه [হযরত আলী (রা)-এর ভাষণের বৈশিষ্ট্য]
  5. ৩ (ج). عرف المقامة ثم تحدث عن نشأتها وتطورها [মাকামার সংজ্ঞা, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ]
  6. ৩ (د). خدمات الدكتور نجيب الكيلانى وخلاصة رواية ‘اليوم الموعود’ [নাজীব কিলানী ও আল-ইয়াওমুল মাওউদ]
  7. ৪. সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্নমালা: الحكم والأمثال، القصة والمسرحية، النثر الجاهلي
  8. ৫ (الف). اكتب نبذة عن حياة ‘على أحمد باكثير’ ومسرحياته [আলী আহমদ বাকাসীর ও নাট্যসাহিত্য]
  9. ৫ (ب). ما الرواية لغة واصطلاحا؟ نشأتها وتطورها [আরবি উপন্যাসের উৎপত্তি ও বিকাশ]
  10. ৫ (ج). جهود ‘بطرس البستانى’ فى المقالة وخلاصة مقال ‘انتقال التمدن’ [বুত্রুস আল-বুস্তানী]
  11. ৫ (د). بين خصائص ومزايا الأدب العربى الحديث [আধুনিক আরবি সাহিত্যের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য]

প্রশ্নোত্তর ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. অনুবাদ ও সাহিত্যিক পাঠ বিশ্লেষণ: ترجم ثلاثا من القطعات الاتية [নির্ধারিত গদ্যাংশের বাংলা ভাবার্থ ও পাঠ-বিশ্লেষণ]

ভূমিকা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

দশম হিজরির ৯ জিলহজ ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতের পাদদেশে দাঁড়িয়ে মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা ইসলামের ইতিহাসে ‘খুতবায়ে হাজ্জাতুল বিদা’ (বিদায় হজের ভাষণ) নামে চিরস্মরণীয়। এটি কেবল একটি ধর্মীয় উপদেশমালা ছিল না, বরং মানবাধিকারের প্রথম সার্বজনীন ও পূর্ণাঙ্গ সনদ। জাহেলী যুগে আরবরা যুদ্ধবিগ্রহ, লুণ্ঠন ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য আল্লাহ প্রদত্ত পবিত্র মাসগুলোকে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো পরিবর্তন ও পেছানো-এগোনোর যে কুপ্রথা চালু করেছিল (যাকে ‘নাসী’ বলা হতো), রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ভাষণে তা চিরতরে বাতিল ঘোষণা করেন।

মূল আরবি পাঠ

«أَيُّهَا النَّاسُ! إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ، يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا، يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ، فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَيُحَرِّمُوا مَا أَحَلَّ اللَّهُ. وَإِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَإِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ: ثَلَاثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ وَوَاحِدٌ فَرْدٌ…»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল অর্থ

হে মানবমণ্ডলী! নিশ্চয়ই মাস পিছিয়ে দেওয়া (নাসী প্রথা) কুফরির মাত্রা বৃদ্ধি করা বৈ কিছু নয়। এর দ্বারা কাফেরদের চরম বিভ্রান্তিতে ফেলা হতো। তারা এক বছর একে হালাল করত এবং অন্য বছর একে হারাম করত, যাতে তারা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার গণনা পূর্ণ করতে পারে; পরিণামে তারা আল্লাহর হারামকৃত বস্তুকে হালাল করত এবং হালালকৃত বস্তুকে হারাম করত। আর সময় আজ ঠিক সেই আদি আবর্তনে ফিরে এসেছে, যে রূপ বিন্যাসে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন আল্লাহ তা নির্ধারণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধানে মাসের সংখ্যা বারোটি, যেদিন তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; এর মধ্যে চারটি মাস অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ। তিনটি মাস ধারাবাহিক—জিলকদ, জিলহজ ও মুহাররম; এবং একটি স্বতন্ত্র মাস—মুযার গোত্রের রজব মাস, যা জমাদিউস সানী ও শাবানের মধ্যবর্তী।

শাব্দিক ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ

আরবি শব্দ মূলধাতু ও রূপ আভিধানিক অর্থ প্রাসঙ্গিক তাৎপর্য
النَّسِيءُ ن – س – أ (মাসদার) বিলম্বিত করা, পিছিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ পবিত্র মাসকে লুণ্ঠনের সুবিধার জন্য পিছিয়ে দেওয়ার প্রথা।
لِيُوَاطِئُوا و – ط – أ (মুফায়ালাহ) মিলানো, গণনা সমন্বয় করা আল্লাহর নির্ধারিত মাসের সংখ্যার সাথে বাহ্যিক মিল দেখানো।
اسْتَدَارَ د – و – ر (ইস্তিফ’আল) ঘুরে পূর্বের স্থানে ফিরে আসা মহাজাগতিক সৌর ও চান্দ্র হিসাবের আদি ও নিখুঁত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন।
مُتَوَالِيَاتٌ و – ل – ي (ইসমুল ফা’ইল) ধারাবাহিক, একের পর এক জিলকদ, জিলহজ ও মুহাররম মাসের পরস্পর অনুক্রমিক অবস্থান।

ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক মূল্যায়ন

  • জাহেলী কুপ্রথার সমূলে উৎপাটন: আরবরা পবিত্র চার মাসে যুদ্ধ হারাম থাকা সত্ত্বেও দস্যুবৃত্তি ও গোত্রীয় সংঘাত বজায় রাখতে লিপ-ইয়ার বা অতিরিক্ত মাস গণনা করত। মহানবী (সা.) এই বিভ্রান্তি দূর করে প্রকৃত পঞ্জিকা পুনরুজ্জীবিত করেন।
  • আলঙ্কারিক ও ধ্বনিগত সৌন্দর্য: বাক্যটিতে ‘ইন্নামা’ (حصر বা সীমাবদ্ধকরণ), ‘যিয়াদাতুন ফিল কুফর’ (গর্হিত রূপক) এবং চমৎকার অন্ত্যমিল ও তৌজিহ অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে ফুটে উঠেছে।
  • বিশ্বজনীন শিক্ষা: ইসলাম মানুষের খেয়ালখুশিমতো দ্বীন ও সময়ের বিকৃতি নিষিদ্ধ করেছে। ইবাদতের শুদ্ধতা সময় ও শৃঙ্খলার ওপর নির্ভরশীল।

২. আরবিতে ব্যাখ্যা: اشرح قطعة من القطعات الاتية بالعربية [বালাগত ও সাহিত্যের আলোকে আরবিতে বিশদ ব্যাখ্যা]

المقدمة التحليلية للشرح

تشتمل هذه العبارات النبوية والقرآنية الجليلة على أسرار بلاغية عميقة وحقائق تشريعية وتربوية خالدة. إن إيضاح هذه العبارات بالعربية يقتضي تبيين المعنى الإجمالي، وفك المفردات اللغوية، واستخراج النكات البلاغية والدروس التربوية المستفادة منها للأمة الإسلامية.

أولاً: شرح قوله ﷺ : «إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ لَسِحْرًا»

المعنى الإجمالي : يُبين النبي الكريم ﷺ في هذا الحديث الشريف الأثر البالغ والقوة الخارقة التي يمتلكها اللسان الفصيح والكلام البليغ في جذب القلوب واستمﺎلة العقول. فالبيان الرائع والأسلوب المتقن يستطيع أن يُقلب الحقائق في نظر السامع حتى يكاد يفعل في النفس فعل السحر الخارق للعادة.

التحليل البلاغي واللغوي :

  • التوكيد بـ (إنّ) و (اللام المزحلقة) : يُفيد تقرير الحقيقة وتثبيتها في ذهن المخاطب تأكيداً جازماً.
  • التشبيه البليغ / الاستعارة : شبّه البلاغة وقوة التعبير بالسحر بجامع التأثير الخفي والسريع في النفوس وسلب الإرادة.
  • المغزى والتوجيه النبوي : يوجهنا الحديث الشريف إلى تسخير هذه النعمة البيانية العظيمة في نصرة الحق، والدعوة إلى الله تعالى، ومحاربة الباطل، والتحذير من استخدام البلاغة في تزيين المنكر والدفاع عن الظلم.

ثانياً: شرح قوله ﷺ : «وَإِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ»

المعنى الإجمالي : هذه فقرة جليلة من خطبة حجة الوداع يُقرر فيها الرسول ﷺ عقيدة البعث والجزاء والحساب الأخروي، ويُنبه البشرية جمعاء إلى حتمية الوقوف بين يدي الله تعالى في يوم القيامة، حيث لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.

التحليل البلاغي واللغوي :

  • السين في (ستلقون) : تدل على تحقق الوقوع في المستقبل القريب؛ إذ إن كل ما هو آتٍ قريب.
  • فاء العاطفة والسببية في (فيسألكم) : تفيد الترتيب والتعقيب المباشر، فاللقاء يعقبه الحساب والمساءلة الدقيقة عن كل صغيرة وكبيرة.
  • الأثر الإيماني والتربوي : غرس روح المراقبة الذاتية والمسؤولية الفردية في قلب المؤمن، مما يجعله مستقيماً في سلوكه وأماناته ومعاملاته مع سائر العباد.

ثالثاً: شرح قوله ﷺ : «وَإِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ»

المعنى الإجمالي : يُعلن النبي ﷺ في هذا المقطع التاريخي العظيم إبطال بدعة ‘النسيء’ التي كان يمارسها أهل الجاهلية بالتلاعب في الشهور الحرم تقديماً وتأخيراً وفق أهوائهم، مؤكداً أن الحساب الزمني الكوني قد عاد إلى وضعه الفطري الأصلي المستقيم كما خلقه الله عز وجل أول مرة.

التحليل البلاغي واللغوي :

  • التشبيه التمثيلي البديع : شبه دورة الزمان في عام حجة الوداع بالهيئة الأولى التي بدأ الله بها خلق الكون، وهو تصوير لعودة الحق إلى نصابه ونقاء الشريعة من أدران التغيير والتبديل الجاهلي.
  • استخدام الفعل الماضي الدال على الاستقرار (استدار) : إشعارٌ بأن أحكام الشريعة الإسلامية ومواقيتها قد بلغت الكمال والتمام الأبدي الذي لا يقبل نسخاً ولا تحريفاً إلى يوم الدين.

বাংলা তাৎপর্য ও শিক্ষা

এই তিনটি হাদিসাংশে ভাষার প্রাঞ্জলতা ও আলঙ্কারিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইসলামের তিনটি মৌলিক ভিত্তি উপস্থাপিত হয়েছে: প্রথমত, সত্যের প্রসারে সুন্দর ও যুক্তিনিষ্ঠ ভাষার অপরিহার্যতা; দ্বিতীয়ত, আখিরাতে জবাবদিহিতা ও আল্লাহর দরবারে কৃতকর্মের বিচারের অনুভূতি; এবং তৃতীয়ত, ধর্মীয় বিধান ও সময়গণনায় জাহেলী বিকৃতি রদ করে আল্লাহ প্রদত্ত ফিতরাত ও নিখুঁত ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পুনঃপ্রতিষ্ঠা।


৩ (الف). اكتب خلاصة قصة ‘اليتيم’ للمنفلوطى. [মুস্তফা লুৎফী আল-মানফালূতির ‘আল-ইয়াতীম’ গল্পের পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ]

ভূমিকা ও লেখক পরিচিতি

আধুনিক আরবি সাহিত্যের রোমান্টিক ও বাস্তববাদী ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থপতি হলেন মিসরের প্রখ্যাত সাহিত্যিক মুস্তফা লুৎফী আল-মানফালূতি (Mustafa Lutfi al-Manfaluti, ১৮৭৬-১৯২৪ খ্রি.)। তাঁর রচিত বিশ্বখ্যাত প্রবন্ধ ও ছোটগল্প সংকলন ‘আল-ইবারাত’ (العبرات – অশ্রুমালা)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও হৃদয়স্পর্শী গল্প হলো ‘আল-ইয়াতীম’ (اليتيم – এতিম)। এতে তিনি পিতৃহীন এক এতিম যুবকের বঞ্চনা, নিঃশব্দ প্রেম, আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন প্রাচ্য সমাজের সুবিধাবাদী শোষক মানসিকতার এক অনন্য বাস্তববাদী চিত্র অঙ্কন করেছেন।

গল্পের পটভূমি ও মূল কাহিনী সংক্ষেপ

  • এতিম জীবনের সূচনা ও আশ্রয়: গল্পের মূল চরিত্র এক দরিদ্র এতিম বালক, যার পিতা শৈশবেই মৃত্যুবরণ করেন। বালকটির পিতৃদায়িত্ব গ্রহণ করেন তার ধনী চাচা। চাচার সুরম্য প্রাসাদে এতিম বালকটি বড় হতে থাকে এবং চাচার অপরূপা কন্যা ‘ইফফাত’ (عفت)-এর সাথে তার শৈশবের নিষ্পাপ বন্ধুত্ব ও নিবিড় ভালোবাসার বন্ধন গড়ে ওঠে।
  • প্রেম ও শ্রেণীগত বৈষম্যের সংঘাত: বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের মধ্যকার এই অনুরাগ পবিত্র ভালোবাসায় রূপ নেয়। কিন্তু চাচার পরিবারে সম্পদ ও আভিজাত্যের প্রাচীর তাদের সম্পর্কের মাঝে কাল হয়ে দাঁড়ায়। এতিম যুবকের মনে কোনো অহংকার বা স্বার্থপরতা ছিল না; সে ইফফাতকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসত।
  • নির্মম বহিষ্কার ও বিচ্ছেদ: যখন চাচা জানতে পারেন যে এই নিঃস্ব এতিম ভাইপো তাঁর কন্যার প্রতি অনুরাগী, তখন তিনি চরম ক্রোধে অন্ধ হয়ে যান। তিনি এতিম যুবককে অকৃতজ্ঞ আখ্যা দিয়ে গৃহ থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেন এবং ইফফাতকে এক ধনবান উচ্চাভিলাষী ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
  • ইফফাতের ট্র্যাজেডি ও মৃত্যু: ইফফাত এই অমিল ও জোরপূর্বক বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। সে গভীর মানসিক শোকে আক্রান্ত হয় এবং দিন দিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে থাকে। অন্তিম মুহূর্তে সে তার শৈশবের প্রিয় এতিম সঙ্গীকে এক নজর দেখার ব্যাকুল প্রার্থনা জানায়।
  • কবরস্থানের মিলন: এতিম যুবক যখন জানতে পারে তার প্রিয়তমা ইফফাত গুরুতর অসুস্থ, তখন সে ব্যাকুল হয়ে ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে—ইফফাত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। গল্পটির সমাপ্তি ঘটে ইফফাতের নির্জন কবরের পাশে এতিম যুবকের অশ্রুসিক্ত বিলাপ এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

চরিত্রায়ন ও প্রধান চরিত্রসমূহের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক

চরিত্রের নাম সামাজিক অবস্থান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য
এতিম যুবক (اليتيم) নিঃস্ব, আশ্রয়হীন ভাইপো পবিত্র প্রেম, অসীম ধৈর্য, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও সমাজের নির্মম অবিচারের শিকার।
ইফফাত (عفت) ধনী চাচার একমাত্র কন্যা কোমলহৃদয়, বিশ্বস্ত প্রেমিকা ও পুরুষতান্ত্রিক ধনলোভী ব্যবস্থার অসহায় শিকার।
চাচা (العم) ধনাঢ্য অভিজাত ব্যক্তি বস্তুবাদী, অহংকারী ও আত্মীয়তার চেয়ে সামাজিক পদমর্যাদাকে প্রাধান্য দেওয়া নিষ্ঠুর পিতা।

গল্পের সামাজিক বার্তা ও সাহিত্যিক মূল্যায়ন

  • এতিমদের প্রতি সহানুভূতি: পবিত্র কুরআনে এতিমদের অধিকার সুরক্ষার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তৎকালীন মুসলিম সমাজে তার চরম অবক্ষয় মানফালূতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন।
  • আল-মানফালূতির ভাষা ও শৈলী: তাঁর বাক্যরীতি অত্যন্ত মেলোড্রামাটিক, হৃদয়স্পর্শী এবং করুণ রসে সমৃদ্ধ। আরবি শব্দচয়ন এত জীবন্ত যে পাঠক প্রতিটি লাইনে বেদনার অশ্রু অনুভব করে। এই গল্পটি আধুনিক আরবি ছোটগল্প ধারার ক্লাসিক মাইলফলক।

৩ (ب). اكتب خصائص خطبة على بن أبى طالب رضى الله عنه موضحا. [হযরত আলী (রা)-এর ভাষণের আলঙ্কারিক ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ]

ভূমিকা ও পটভূমি

আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী ইবনে আবী طالب (রা.) (মৃ. ৪০ হি.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাগ্মী, প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ক এবং আরবি সাহিত্যের অনন্য দিকপাল। তাঁর প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণসমূহ, পত্রাবলী এবং জ্ঞানগর্ভ বাণীসমূহ চতুর্থ হিজরিতে শরীফ আর-রাজী (الشريف الرضي) কর্তৃক ‘নাহজুল বালাগা’ (نهج البلاغة – বাগ্মীতার রাজপথ) নামে সংকলিত হয়। হযরত আলী (রা.)-এর ভাষণসমূহে কুরআনী প্রজ্ঞার নূর, আরব্য ক্লাসিক্যাল সাহিত্যের গাম্ভীর্য এবং গভীর দার্শনিক চিন্তার এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

হযরত আলী (রা)-এর ভাষণের প্রধান সাহিত্যিক ও আলঙ্কারিক বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • ১. অনুপম শব্দচয়ন ও ভাষার গাম্ভীর্য (جزالة الألفاظ وفخامتها): হযরত আলী (রা.)-এর ভাষণের ভাষা ছিল অত্যন্ত গম্ভীর, তেজস্বী ও হৃদয়গ্রাহী। তাঁর একেকটি শব্দ যেন তীরের ফলার মতো শ্রোতার হৃদয়ে বিদ্ধ হতো। কৃত্রিম অলঙ্কারের ধার না ধেরেও তাঁর বাক্যরীতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও ওজস্বী।
  • ২. কুরআনী উপমা ও প্রভাব (التأثر البالغ بالقرآن الكريم): তিনি বাল্যকাল থেকেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রত্যক্ষ সান্নিধ্যে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। ফলে তাঁর ভাষণের প্রতিটি রন্ধ্রে পবিত্র কুরআনের আয়াত, কিয়ামত, মৃত্যু ও তাওহিদের ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে। যেমন তিনি বলেন: «أَيُّهَا النَّاسُ! إِنَّمَا الدُّنْيَا دَارُ مَجَازٍ، وَالْآخِرَةُ دَارُ قَرَارٍ…» (হে লোকসকল! এই পৃথিবী তো কেবল এক ক্ষণস্থায়ী পারাপারের পথ, আর আখিরাতই হলো চিরস্থায়ী আবাসস্থল)।
  • ৩. অন্ত্যমিল ও ভারসাম্যপূর্ণ বাক্যবিন্যাস (السجع غير المتكلف والموازنة): তাঁর ভাষণে কোনো প্রকার জোরপূর্বক ছন্দের অনুকরণ ছিল না; বরং তাঁর বাক্যগুলো প্রাকৃতিকভাবেই ছন্দোবদ্ধ ও সুষম সমান্তরালে প্রবাহিত হতো। শ্রোতার কান জুড়িয়ে যেত তাঁর ধ্বনিমাধুর্যে।
  • ৪. উপমা ও রূপকের নিখুঁত ব্যবহার (روعة التشبيه والاستعارة): তিনি বিমূর্ত আত্মিক সত্যকে মূর্ত রূপকের মাধ্যমে প্রকাশে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্বকে তিনি বাতাসের দোলাচলে উড়ে যাওয়া ধূলিকণা বা বিষধর মসৃণ সাপের সাথে তুলনা করতেন—যা স্পর্শে নরম কিন্তু ভেতরে প্রাণঘাতী বিষে পূর্ণ।
  • ৫. মনস্তাত্ত্বিক আলোড়ন ও তাওহীদী চেতনা: তাঁর ভাষণ মানুষকে রণক্ষেত্রে যেমন অপরাজেয় বীরে পরিণত করত, তেমনি নির্জন রাতে আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনরত সাধকে রূপান্তরিত করত। তাঁর একেকটি খুতবা সমাজসংস্কার, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের জীবন্ত ঘোষণাপত্র ছিল।

ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব

আরবি সাহিত্যের শীর্ষস্থানীয় গবেষক ও পণ্ডিতদের মতে, হযরত আলী (রা.)-এর বক্তব্য সম্পর্কে বলা হয়: «كَلَامُهُ دُونَ كَلَامِ الْخَالِقِ وَفَوْقَ كَلَامِ الْمَخْلُوقِ» অর্থাৎ—‘তাঁর বাণী মহান স্রষ্টার বাণীর নিচে কিন্তু সমগ্র সৃষ্টির বাণীর ওপরে অবস্থান করে।’ নাহজুল বালাগায় সংরক্ষিত তাঁর ভাষণসমূহ আজ পর্যন্ত আরবি ভাষা, সাহিত্য ও রাষ্ট্রনীতির গবেষকদের জন্য এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা।


৩ (ج). عرف المقامة ثم تحدث عن نشأتها وتطورها عبر العصور. [মাকামার পরিচয়, উৎপত্তি ও যুগপরম্পরায় এর ক্রমবিকাশ]

ভূমিকা ও মাকামার সংজ্ঞা

আরবি সাহিত্যের ক্লাসিক্যাল যুগে আবির্ভূত সর্বাধিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, অভিনব ও অলঙ্কারবহুল গদ্যধারা হলো ‘মাকামা’ (المقامة), যার বহুবচন হলো ‘মাকামাত’ (مقامات)। এটি আরবি কথাসাহিত্যের এক অনুপম রূপ যা পরবর্তীতে পশ্চিমা সাহিত্যের ‘পিকারেস্ক উপন্যাস’ (Picaresque Novel)-এর জন্মলগ্নে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল।

শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ

  • আভিধানিক অর্থ: ‘মাকামা’ শব্দটি আরবি ‘ক্বামা’ (قام – দাঁড়ানো) ধাতু থেকে ‘মাফ’আল’ (مفعل) ওজনে স্থানবাচক বিশেষ্য (ইসমুল মাকান)। এর মূল অর্থ বসার স্থান, অধিবেশন, মজলিস বা সমাবেশ। জাহেলী যুগে গোত্রপ্রধানদের মজলিস বা বৈঠককে মাকামা বলা হতো।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: সাহিত্য পরিভাষায় মাকামা হলো—“সাজ’ বা অন্ত্যমিলযুক্ত ছন্দোময় গদ্যে রচিত এবং আলঙ্কারিক কবিতায় অলঙ্কৃত একটি সংক্ষিপ্ত নাটকীয় গল্প, যার কেন্দ্রে থাকেন একজন নির্দিষ্ট কথক (راوٍ) এবং একজন ছদ্মবেশী, বাগ্মী ও চতুর ভবঘুরে নায়ক (بطل), যিনি তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও ভাষার কারুকার্য প্রদর্শন করে মানুষের কাছ থেকে অর্থোপার্জন করেন।”

মাকামার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস

বিকাশের স্তর কালখণ্ড ও প্রধান রূপকার প্রধান বৈশিষ্ট্য ও অবদান
১. আদি স্তর ও ভিত্তি ইবনে দুরাইদ (م. ৩২১ হি.) ও আবু বকর আল-খাওয়ারিজমি মজলিসে মজার মজার গল্প ও আরবি শব্দকোষের ব্যবহারিক আলোচনা দিয়ে এর গোড়াপত্তন হয়।
২. সৃষ্টির স্বর্ণযুগ (উদ্ভাবক) বদিউজ্জামান আল-হামাদানী (ম. ৩৯৮ হি.) তিনিই সর্বপ্রথম ‘ঈসা ইবনে হিশাম’কে কথক এবং ‘আবু ফাতহ আল-ইসকান্দারী’কে নায়ক বানিয়ে ৪০০ মাকামা রচনা করে এই শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন।
৩. চরম উৎকর্ষ ও পরাকাষ্ঠা আল-কাসিম ইবনে আলী আল-হারীরি (ম. ৫১৬ হি.) তিনি ‘আল-হারিস ইবনে হাম্মাম’ ও ‘আবু যায়েদ আস-সারুজী’র মাধ্যমে ৫০টি মাকামা রচনা করেন যা ভাষাতাত্ত্বিক জটিলতা ও অলঙ্কারের চূড়ান্তে পৌঁছায়।
৪. পরবর্তী বিস্তার ও আধুনিকায়ন জালালুদ্দিন সুয়ূতী (ম. ৯১১ হি.) ও নাসিফ আল-ইয়াযিজী (আধুনিক যুগ) সুয়ূতী ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বিষয়ে মাকামা লেখেন; আর আধুনিক যুগে ইয়াযিজী ‘মাজমাউল বাহরাইন’ রচনা করে ক্লাসিক ধারার পুনরুজ্জীবন ঘটান।

মাকামা সাহিত্যের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • নির্দিষ্ট কথক ও নায়কের উপস্থিতি: প্রতিটি মাকামায় একজন বিশ্বস্ত কথক থাকেন যিনি ঘটনা বর্ণনা করেন এবং একজন ছদ্মবেশী পণ্ডিত নায়ক থাকেন যিনি বিভিন্ন বেশ ধারণ করে উপস্থিত হন।
  • সাজ’ ও বাদি’রীতির প্রাচুর্য: মাকামার প্রধান প্রাণ হলো ছন্দোময় গদ্য (السجع), শব্দালঙ্কার (الجناس) এবং বিরল আরবি শব্দের সমাবেশ।
  • সামাজিক চিত্রায়ণ: বাহ্যত এটি চাতুর্য মনে হলেও এর গভীরে ছিল তৎকালীন আব্বাসীয় সমাজের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বুদ্ধিজীবীদের বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয়ের তীব্র রূপক প্রতিবাদ।

৩ (د). اذكر مساعى وخدمات الدكتور نجيب الكيلانى فى الأدب الإسلامى مع بيان خلاصة رواية ‘اليوم الموعود’. [ইসলামি সাহিত্যে ড. নাজীব কিলানীর অবদান ও ‘আল-ইয়াওমুল মাওউদ’ উপন্যাসের মূল্যায়ন]

ভূমিকা ও লেখক পরিচিতি

বিংশ শতাব্দীতে ইসলামি জীবনাদর্শ, বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধকে উপজীব্য করে আধুনিক সাহিত্যের ধারায় যে বৈপ্লবিক জাগরণ সৃষ্টি হয়, তার অবিসংবাদিত নেতা ও রূপকার হলেন মিসরীয় চিকিৎসক ও কালজয়ী সাহিত্যিক ড. নাজীব আল-কিলানী (Dr. Najib al-Kailani, ১৯৩১-১৯৯৫ খ্রি.)। তিনি চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি প্রায় চল্লিশটিরও অধিক কালজয়ী উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ এবং সাহিত্যতাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করে ‘ইসলামি সাহিত্য তত্ত্ব’ (الإسلامية الأدبية)-এর সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন।

ইসলামি সাহিত্যে ড. নাজীব কিলানীর অবদান

  • ইসলামি সাহিত্যের তাত্ত্বিক বিন্যাস: তিনি ‘ইসলামিয়াতুল আদাব’ (ইসলামি সাহিত্য) নামক তাত্ত্বিক গ্রন্থে প্রমাণ করেন যে, সাহিত্য কেবল শিল্পকলার অন্ধ চর্চা বা অনৈতিক বিনোদনের মাধ্যম হতে পারে না; বরং সাহিত্য হবে তাওহিদভিত্তিক মানবমুক্তি, নৈতিক জাগরণ এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এক অপরাজেয় অস্ত্র।
  • বিশ্ব মুসলিমের সংকট নিয়ে উপন্যাস রচনা: কিলানী কেবল মিসরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি আফ্রিকার মুসলমানদের সংগ্রাম নিয়ে ‘উমারুন ইয়াযহারু ফি ইফরিকিয়া’, ইন্দোনেশিয়ার কমিউনিস্টবিরোধী বিপ্লব নিয়ে ‘আজরাউ জাকার্তা’, এবং ফিলিস্তিনের রক্তঝরা প্রতিরোধ নিয়ে বহু অমর উপন্যাস রচনা করেন।
  • ইতিহাসের জীবন্ত পুনর্নির্মাণ: তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় মুসলিম ইতিহাসকে সমকালীন সংকট উত্তরণের অনুপ্রেরণা হিসেবে তাঁর উপন্যাসের পাতায় জীবন্ত করে তোলেন।

উপন্যাস ‘আল-ইয়াওমুল মাওউদ’ (اليوم الموعود)-এর মূল উপজীব্য ও সারসংক্ষেপ

ড. নাজীব কিলানীর ঐতিহাসিক মাস্টারপিস উপন্যাসগুলোর অন্যতম হলো ‘আল-ইয়াওমুল মাওউদ’ (প্রতিশ্রুত দিন)। এই উপন্যাসটির পটভূমি রচিত হয়েছে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ঐতিহাসিক ‘মানসুরা যুদ্ধ’ (معركة المنصورة)-এর রক্তাক্ত বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে।

  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ফ্রান্সের রাজা নবম লুই (Louis IX) এক বিশাল ক্রুসেডার বাহিনী নিয়ে মিসরের নীল নদ উপকূলবর্তী শহর দামিয়েত্তা দখল করে কায়রোর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই মহাবিপদের মুহূর্তে মিসরের আপামর জনগণ, সেনাদল এবং বীর নারীরা কীভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
  • কাহিনী সংক্ষেপ: উপন্যাসের নায়ক ও চরিত্রগুলো কেবল রাজকীয় সৈন্য ছিল না; বরং সাধারণ কৃষক, ছাত্র, দরবেশ ও নারীরা দেশমাতৃকা ও ইসলাম রক্ষায় নিজেদের রক্ত সঁপে দেয়। সুলতান সালিহ আইয়ূবের মৃত্যুর পর তাঁর দূরদর্শী স্ত্রী শাজরাতুদ দুর চরম বুদ্ধিমত্তায় খবর গোপন রেখে সৈন্যদের মনোবল অটুট রাখেন। অতঃপর ‘মানসুরা’ শহরের প্রতিটি অলিগলিতে ক্রুসেডার বাহিনীকে ফাঁদে ফেলে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করা হয় এবং স্বঘোষিত ফরাসি সম্রাট লুইকে বন্দী করা হয়।
  • ‘প্রতিশ্রুত দিন’-এর রূপক অর্থ: কিলানী দেখিয়েছেন যে ঈমান, ঐক্য এবং আত্মত্যাগের সমন্বয় ঘটলে জালিম যতই পরাক্রমশালী হোক না কেন, বিজয়ের সেই ‘প্রতিশ্রুত দিন’ (اليوم الموعود) অবশ্যই ঘনিয়ে আসে। এটি আধুনিক যুগের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন ও নির্যাতিত মুসলিম বিশ্বের মুক্তির এক অমর রূপক।

উপসংহার

ড. নাজীব কিলানী প্রমাণ করেছেন যে অশ্লীলতা, ধর্মহীনতা ও নিরাশাবাদের চর্চা ছাড়াই ইসলামি বিশ্বাসের গভীরতা দিয়ে বিশ্বমানের কথাসাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব। ‘আল-ইয়াওমুল মাওউদ’ তাঁর সেই অনন্য শিল্পকুশলতার এক অমর স্বাক্ষর।


৪. সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্নমালা: أجب عن الاسئلة التالية (الحكم والأمثال، القصة والمسرحية، النثر الجاهلي، وصية معاوية)

সংক্ষিপ্ত ও বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্নমালা (أجب عن الأسئلة التالية)

ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ১ম পত্রের ৪র্থ প্রশ্নে আরবি সাহিত্যের মৌলিক পরিভাষা, রূপতত্ত্ব ও ঐতিহাসিক দিকগুলো বিশ্লেষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিচে প্রতিটি প্রশ্নের প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

(ক) عرف الحكم والأمثال مفصلا [হিকমত ও প্রবাদের বিশদ সংজ্ঞা ও পার্থক্য]

১. হিকমত (الحكمة – Wisdom): আরবি ভাষায় হিকমতের আভিধানিক অর্থ প্রজ্ঞা, পরিপক্বতা এবং কল্যাণকর জ্ঞান। সাহিত্য পরিভাষায় হিকমত হলো—এমন সংক্ষিপ্ত, তাৎপর্যপূর্ণ ও নীতিগর্ভ বাক্য, যা কোনো জ্ঞানী, দার্শনিক বা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির দীর্ঘ জীবনঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা ও সত্যোপলব্ধির নির্যাস হিসেবে উচ্চারিত হয় (যেমন: «رَأْسُ الْحِكْمَةِ مَخَافَةُ اللَّهِ» – প্রজ্ঞার মূল হলো আল্লাহর ভয়; অথবা «خَيْرُ الْأُمُورِ أَوْسَاطُهَا» – উত্তম পন্থা হলো মধ্যমপন্থা)। হিকমতের কোনো ঐতিহাসিক গল্প বা নির্দিষ্ট ঘটনার সাথে যুক্ত থাকা আবশ্যক নয়।

২. আমসাল বা প্রবাদ (المثل – Proverb): ‘মাসাল’-এর আভিধানিক অর্থ উপমা, সাদৃশ্য বা দৃষ্টান্ত। পরিভাষায়—অতীতের কোনো ঐতিহাসিক বা আকস্মিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তির মুখ থেকে নিঃসৃত এমন এক সার্থক, সংক্ষিপ্ত ও রূপক বাক্য, যা পরবর্তীতে অভিন্ন যেকোনো ঘটনা বা পরিস্থিতিতে মানুষের মুখে মুখে প্রবাদ হিসেবে প্রচলিত হয়ে যায়। প্রবাদের জন্য দুটি উপাদান অপরিহার্য: (ক) ‘মাওরিদ’ (المورد) অর্থাৎ যে মূল ঐতিহাসিক পটভূমিতে বাক্যটি প্রথম বলা হয়েছিল; এবং (খ) ‘মাদারিব’ (المضرب) অর্থাৎ সমজাতীয় পরবর্তী যে নতুন পরিস্থিতিতে প্রবাদটি প্রয়োগ করা হয় (যেমন: «جَزَاءُ سِنِمَّارَ» – সিনেম্মারের পুরস্কার)।

(খ) ما الفرق بين القصة والمسرحية؟ [গল্প ও নাটকের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য]

কথাসাহিত্য ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে গল্প (Story/Fiction) এবং নাটক (Play/Drama) অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি ধারা হলেও উভয়ের মধ্যে কাঠামোগত গভীর পার্থক্য বিদ্যমান:

পার্থক্যের ক্ষেত্র গল্প / ছোটগল্প (القصة) নাটক (المسرحية)
উপস্থাপনা মাধ্যম লেখক বা বর্ণনাকারীর (Narrator) জবানিতে মূলত পাঠের জন্য লিখিত হয়। মঞ্চে জীবন্ত পাত্র-পাত্রীর সংলাপ (Dialogue) ও অভিনয়ের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়।
বর্ণনাকারীর উপস্থিতি বর্ণনাকারী ঘটনার বিবরণ দেন এবং চরিত্রের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন। কোনো মধ্যস্থতাকারী বর্ণনাকারী থাকেন না; চরিত্ররা নিজেরাই সংলাপের মাধ্যমে কাহিনী ফুটিয়ে তোলে।
স্থান ও কালের সীমাবদ্ধতা লেখক স্থান ও কালের বর্ণনায় পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করেন। মঞ্চের সীমাবদ্ধতা ও দৃশ্যপটের (Stage Setting) কারণে স্থান-কালের কঠোর শৃঙ্খলা মানতে হয়।
দ্বন্দ্ব ও ক্লাইম্যাক্স দ্বন্দ্ব মৃদু বা পরোক্ষ হতে পারে; বর্ণনামূলক সুর প্রাধান্য পায়। তীব্র বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ সংঘাত (Conflict) এবং দ্রুত ক্লাইম্যাক্স নাটকের প্রাণ।

(গ) بين خصائص النثر فى العصر الجاهلى بالإيجاز [জাহেলী যুগের গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য]

ইসলামপূর্ব জাহেলী যুগে কবিতা সর্বাধিক প্রাধান্য পেলেও গদ্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল। জাহেলী গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: (১) সংক্ষিপ্ততা ও ভাবের গভীরতা (الإيجاز والتركيز): স্বল্প কথায় বিশাল অর্থ প্রকাশ করা ছিল তাদের বৈশিষ্ট্য; (২) সাজ’ বা অন্ত্যমিলের প্রাচুর্য (الاعتماد على السجع): গণক (কাহিন) ও গোত্রপ্রধানদের বক্তব্যে ছন্দের দোলা থাকত; (৩) প্রবাদ ও হিকমতের প্রাধান্য: প্রাত্যহিক মরুজীবনের অভিজ্ঞতা উপমার মাধ্যমে প্রকাশ পেত; (৪) ভাষার বিশুদ্ধতা ও ওজস্বিতা: অনারব প্রভাবমুক্ত নিখুঁত বেদুইন ভাষার তেজ বিদ্যমান ছিল; এবং (৫) গোত্রীয় গৌরব ও উদ্দীপনামূলক ভাষণ: যুদ্ধ পরিচালনা ও শান্তিচুক্তির জন্য ওজস্বী ভাষণ ব্যবহৃত হতো (যেমন কুস ইবনে সায়েদাহ আল-ইয়াদীর ভাষণ)।

(ঘ) اكتب نبذة عن “مقدمة فى ظلال القرآن” للسيد قطب [ফি যিলালিল কুরআনের ভূমিকার গুরুত্ব]

শহীদ সাইয়েদ কুতুব তাঁর তাফসিরের শুরুতে যে দীর্ঘ ভূমিকাটি লিখেছেন, তা আধুনিক আরবি সাহিত্যের অন্যতম সেরা রত্ন। তিনি এতে তুলে ধরেছেন যে: (১) কুরআন কোনো জড় অক্ষরের অতীত ইতিহাস নয়, বরং মানবজাতির আত্মিক রোগমুক্তির জীবন্ত পথপ্রদর্শক; (২) কুরআনের আস্বাদন কেবল তারাই পায় যারা ময়দানে বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত থাকে; (৩) জাহেলিয়াত কেবল প্রাচীন যুগের বিষয় নয়, আল্লাহর আইন অমান্যকারী যেকোনো আধুনিক সমাজব্যবস্থাও আধুনিক জাহেলিয়াত; এবং (৪) মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নিহিত রয়েছে আল্লাহর খলিফা হিসেবে তাঁর বিধান বাস্তবায়নের মধ্যে। এই ভূমিকাটি প্রতিটি মুমিনের অন্তরে এক বৈপ্লবিক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

(ঙ) اكتب مثالين من حكم العرب مع الشرح [আরবদের দুটি দৃষ্টান্তমূলক প্রবচনের ব্যাখ্যা]

  • ১. «مَصَارِعُ الرِّجَالِ تَحْتَ بُرُوقِ الطَّمَعِ» (লোভের চকচকে ঔজ্জ্বল্যের নিচেই মানুষের পতন লুকায়িত থাকে): লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। দূর থেকে লোভনীয় বস্তুর চমক দেখে মানুষ ব্যাকুল হয়ে ছুটে যায়, কিন্তু অবশেষে সেই সীমাহীন লোভই তার ধ্বংস ও অপমানের কারণ হয়। এটি অল্পেতুষ্টি ও আত্মসংযমের চিরন্তন শিক্ষা দেয়।
  • ২. «رُبَّ رَمْيَةٍ مِنْ غَيْرِ رَامٍ» (কতই না নিখুঁত তীর লক্ষ্যভেদ করে যা কোনো সুদক্ষ ধনুর্ধর নিক্ষেপ করেনি): এর দ্বারা বোঝানো হয় যে, মাঝে মাঝে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ বা অজ্ঞ ব্যক্তিও দৈবক্রমে এমন সঠিক কথা বলে ফেলে বা সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে বসে, যা অভিজ্ঞ পণ্ডিতরাও চিন্তা করতে পারেন না। এটি বিনয় ও অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার প্রেরণা জোগায়।

(চ) اذكر أهمية حجة الوداع فى حياة المسلمين [মুসলিম জীবনে বিদায় হজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব]

দশম হিজরির বিদায় হজের ভাষণ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অবিনাশী আলোকবর্তিকা: (১) ধর্মের পূর্ণাঙ্গতা: এই সফরেই সূরা মায়িদার ৩ নম্বর আয়াত নাযিল হয়ে দ্বীনের পরিপূর্ণতা ঘোষিত হয়; (২) বিশ্বজনীন মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠা: মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রমকে অলঙ্ঘনীয় পবিত্র ঘোষণা করা হয়; (৩) বর্ণবাদ ও আঞ্চলিকতার সমূলে বিনাশ: আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি তাকওয়া ঘোষণা করা হয়; (৪) অর্থনৈতিক শোষণের অবসান: জাহেলী যুগের সমস্ত সুদের লেনদেন চিরতরে বাতিল করা হয়; এবং (৫) কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা: কিয়ামত পর্যন্ত পথভ্রষ্ট না হওয়ার উপায় হিসেবে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়।

(ছ) عرف الخطبة مع ذكر أنواعها موجزا [ভাষণের সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ]

সংজ্ঞা: الخطبة (আল-খুতবাহ) হলো—“কোনো নির্দিষ্ট জনসমাবেশের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কোনো ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যে শ্রোতাদের আবেগ ও যুক্তিকে প্রভাবিত করে কোনো মহৎ কর্মে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রদত্ত সুসংহত ও ওজস্বী বক্তব্য।”

ভাষণের প্রধান প্রকারভেদ:

  • ১. ধর্মীয় ভাষণ (الخطابة الدينية): জুমার খুতবা, ঈদের খুতবা, হজ ও সালাতুল ইস্তিস্কার ভাষণ—যার উদ্দেশ্য তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্য সৃষ্টি।
  • ২. রাজনৈতিক ভাষণ (الخطابة السياسية): রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ, যুদ্ধ পরিচালনা, খলিফাদের অভিষেক ও জাতীয় সংকট উত্তরণে প্রদত্ত ভাষণ।
  • ৩. সামাজিক ও আনুষ্ঠানিক ভাষণ (الخطابة الاجتماعية): বিবাহ অনুষ্ঠান, শোকসভা, পারস্পরিক বিবাদ মীমাংসা ও সামাজিক সংহতির ভাষণ।
  • ৪. যুদ্ধকালীন উদ্দীপনামূলক ভাষণ (الخطابة الحربية): সৈন্যদের রণক্ষেত্রে বীরত্ব প্রদর্শন ও শাহাদাতের অনুপ্রেরণা জোগাতে সেনাপতিদের ভাষণ।

(জ) ماذا أوصى معاوية لابنه؟ اشرح [ইয়াজিদের প্রতি মুয়াবিয়া (রা)-এর রাজনৈতিক অসিয়ত]

উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুয়াবিয়া (রা.) তাঁর অন্তিম শয্যায় পুত্র ইয়াজিদকে খেলাফতের স্থায়িত্ব ও সংকট মোকাবেলার জন্য সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উপদেশ প্রদান করেন। তিনি বিশেষ চারজন শীর্ষ ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন: (১) হযরত হোসাইন ইবনে আলী (রা.): তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম দৌহিত্র। ইরাকবাসী হয়তো তাঁকে ডেকে আনবে; কিন্তু তিনি যদি তোমার মুখোমুখি হন, তবে তুমি তাঁকে ক্ষমা করে দেবে এবং তাঁর রক্তের মর্যাদা রক্ষা করবে; (২) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.): তিনি দুনিয়াত্যাগী আবেদ, ক্ষমতা চান না, তাঁর আনুগত্য নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই; (৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.): তিনি বিচক্ষণ আলেম, তাঁর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে; এবং (৪) আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.): তিনি বাঘের মতো শিকারের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকবেন; তিনি যদি তোমার বিরোধিতা করেন তবে অত্যন্ত কঠোরতার সাথে সেই বিদ্রোহ দমন করবে। এটি তৎকালীন উমাইয়া রাষ্ট্রনীতির বাস্তববাদী ও মনস্তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রকাশ করে।


৫ (الف). اكتب نبذة عن حياة ‘على أحمد باكثير’ مع ذكر مساهمته فى الأدب العربى الحديث مفصلا. [আলী আহমদ বাকাসীরের জীবন ও আধুনিক আরবি সাহিত্যে তাঁর অবদান]

ভূমিকা ও লেখক পরিচিতি

আধুনিক আরবি সাহিত্যের আকাশে অন্যতম উজ্জ্বলতম নক্ষত্র এবং আধুনিক আরবি ঐতিহাসিক ও কাব্যনাট্যের অবিসংবাদিত সম্রাট হলেন আলী আহমদ বাকাসীর (Ali Ahmad Bakathir, ১৯১০-১৯৬৯ খ্রি.)। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে জন্মগ্রহণকারী এই হাদরামি বংশোদ্ভূত লেখক পরবর্তীতে মক্কা ও মিসরে শিক্ষা ও কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, অনুবাদক, কবি এবং আরবি নাট্যসাহিত্যের সফলতম রূপকার ছিলেন।

আধুনিক আরবি সাহিত্যে বাকাসীরের বৈপ্লবিক অবদানসমূহ

  • ১. আরবি মুক্তছন্দ কবিতার পথিকৃৎ (شعر التفعيلة): অনেকের ধারণা বদর শাকির আস-সাইয়্যাব মুক্তছন্দের জনক; কিন্তু বাস্তবে আলী আহমদ বাকাসীর ১৯৪৭ সালে শেক্সপিয়রের নাটক ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ আরবিতে অনুবাদ করতে গিয়ে সর্বপ্রথম আরবিতে প্রচলিত কাসিদার দ্বিপদী কাঠামো ভেঙে মুক্তছন্দ বা ‘শে’রে মুরসাল’-এর সফল প্রবর্তন করেন।
  • ২. ইসলামি ঐতিহাসিক উপন্যাসের নবজাগরণ: তিনি তাতারি আক্রমণের বিরুদ্ধে মামলুকদের বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে রচনা করেন বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়া ইসলামাহ’ (وا إسلاماه), যা আরবি সাহিত্যের এক অমর সৃষ্টি এবং পরবর্তীকালে সফল চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।
  • ৩. রাজনৈতিক ও ব্যঙ্গাত্মক নাটক: সমকালীন আরব বিশ্বের জাতীয়তাবাদী সংকট, ফিলিস্তিন ট্র্যাজেডি এবং পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচনে তিনি নাট্যমঞ্চকে সর্বোচ্চ শিল্পিত মাধ্যমে পরিণত করেছিলেন।

নাটক ‘আল-খুরুজ’ (مسرحية الخروج)-এর পরিচয় ও বিশ্লেষণ

আলী আহমদ বাকাসীরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাস্টারপিস নাটক হলো ‘আল-খুরুজ’ (প্রস্থান / The Exit)। এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপক নাটক।

  • মূল কাহিনী ও প্রতীকী ব্যঞ্জনা: নাটকটিতে তিনি প্রাচীন মিসরের ফারাওদের আমল এবং হযরত মুসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলের অত্যাচারী ফেরাউনের হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য যে ঐতিহাসিক দেশত্যাগ বা ‘প্রস্থান’ ঘটেছিল, তাকে রূপক ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বাকাসীর এতে অত্যন্ত নিপুণভাবে আধুনিক মিসরের রাজনৈতিক একনায়কতন্ত্র, দাসত্ব ও মুক্তির সংগ্রামকে চিত্রিত করেছেন।
  • মূল বার্তা: বাহ্যিক স্বাধীনতা মিললেও যদি আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্বাধীনতা অর্জিত না হয়, তবে জাতি অন্য কোনো নতুন জালিমের অধীনে শৃঙ্খলিত হয়ে পড়ে। প্রকৃত ‘খুরুজ’ বা মুক্তি হলো আল্লাহর দাসত্ব বরণ করে সব রকমের মানবীয় খোদায়ী ও স্বৈরতন্ত্রের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসা।

উপসংহার

আলী আহমদ বাকাসীর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নাট্যকলাকে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে ধারণ করে ইসলামি বিশ্ববীক্ষার সাথে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। আরবি সাহিত্যের নাট্যধারায় তাঁর অবদান চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।


৫ (ب). ما الرواية لغة واصطلاحا؟ ثم تحدث عن نشأتها وتطورها عبر العصور. [উপন্যাসের সংজ্ঞা এবং আরবি উপন্যাসের উৎপত্তি ও বিকাশ]

ভূমিকা ও উপন্যাসের সংজ্ঞা

আধুনিক কথাসাহিত্যের সবচেয়ে বিস্তৃত, জনপ্রিয় ও বহুমাত্রিক শিল্পমাধ্যম হলো ‘উপন্যাস’ (الرواية – আর-রিওয়ায়াহ)। মানবজীবনের জটিল অনুভূতি, সামাজিক বাস্তবতার ঘাত-প্রতিঘাত এবং সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমাকে একটি সুনির্দিষ্ট আখ্যান কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরার নামই হলো উপন্যাস।

আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ

  • আভিধানিক অর্থ: ‘রিওয়ায়াহ’ (رواية) শব্দটি আরবি ‘রাওয়া’ (روى – বর্ণনা করা, পানি বহন করা বা সেচ দেওয়া) ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ কোনো ঘটনা বর্ণনা করা, ঐতিহ্যবাহী রূপকথা বা আখ্যান রিওয়ায়েত করা।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: আধুনিক সাহিত্যতত্ত্বে রিওয়ায়াহ বা উপন্যাস হলো—“একটি দীর্ঘায়িত কাল্পনিক বা বাস্তবধর্মী গদ্য আখ্যান, যেখানে সুনির্দিষ্ট প্লট, স্থান-কালের বিস্তার, চরিত্রসমূহের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দ্বন্দ্ব এবং মানবিক জীবনের নানামুখী সংকটের এক শৈল্পিক উপস্থাপন ঘটে।”

যুগপরম্পরায় আরবি উপন্যাসের উৎপত্তি ও বিকাশধারা

বিকাশের পর্যায় ঐতিহাসিক পরিক্রমা প্রধান সাহিত্যিক ও সৃষ্টি
১. ঐতিহ্যবাহী ভিত্তিপ্রস্তর ক্লাসিক্যাল ও মধ্যযুগ মাকামাত সাহিত্য, কিতাবুল আগানী, সীরাত আন্তারা এবং বিশ্ববিখ্যাত ‘আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা’ (সহস্র এক রজনী)।
২. আধুনিক উপন্যাসের জন্ম ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ (আল-নাহদা যুগ) ড. মুহাম্মদ হুসাইন হাইকাল রচিত ‘যয়নাব’ (زينب)—যাকে আধুনিক আরবি সাহিত্যের প্রথম শিল্পসফল উপন্যাস বিবেচনা করা হয়।
৩. ঐতিহাসিক ও রোমান্টিক উপন্যাস ১৯২০-১৯৪০-এর দশক জুরজী যায়দান (ঐতিহাসিক উপন্যাসমালা) এবং আল-মাযিনী ও তাহা হুসাইন (আদীব ও দুআউল কারওয়ান)।
৪. উপন্যাসের স্বর্ণযুগ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ১৯৫০-১৯৮০-এর দশক নজীব মাহফুজ (Naguib Mahfouz)—তাঁর বিখ্যাত ‘কায়রো ট্রিলজি’ (বাইনাল কাসরাইন, কাসরুশ শাওক, সুক্কারিয়া) তাঁকে ১৯৮৮ সালে আরবি সাহিত্যের প্রথম নোবেল পুরস্কার এনে দেয়।
৫. উত্তর-আধুনিক ও ইসলামি উপন্যাস সমকালীন যুগ ড. নাজীব কিলানী, আব্দুল রহমান মুনীফ (মাদাইনুল মিলহ), গাসসান কানাফানী এবং তৈয়ব সালিহ (মাওসিমুল হিজরা ইলাশ শামাল)।

উপসংহার

পাশ্চাত্য সাহিত্যিক ধারার প্রভাবে আধুনিক উপন্যাসের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা ঘটলেও আরবি উপন্যাস খুব দ্রুতই আরব সমাজের দারিদ্র্য, ঔপনিবেশিক শোষণ, ফিলিস্তিনের ক্ষত এবং সামাজিক রূপান্তরের সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।


৫ (ج). بين جهود ‘بطرس البستانى’ فى المقالة العربية ثم اذكر خلاصة مقال ‘انتقال التمدن بين الشرق والغرب’. [আরবি প্রবন্ধে বুত্রুস আল-বুস্তানীর অবদান ও ‘ইনতিকালুত তামাদুদ্দুন’]

ভূমিকা ও বুত্রুস আল-বুস্তানীর পরিচয়

উনবিংশ শতাব্দীতে আরব বিশ্বের আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ বা ‘আল-নাহদা’ (النهضة العربية)-এর অন্যতম প্রধান দিশারী ও স্থপতি ছিলেন লেবাননের প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও ভাষাবিদ মুআল্লিম বুত্রুস আল-বুস্তানী (Butrus al-Bustani, ১৮১৯-১৮৮৩ খ্রি.)। তিনি আরবি ভাষার আধুনিকায়ন, প্রথম আরবি বিশ্বকোষ ‘দাইরাতুল মাআরিফ’ প্রণয়ন এবং আরবি অভিধান ‘মুহিতুল মুহিত’ রচনার মাধ্যমে আরবি গদ্যকে প্রাচীন যুগের স্থবিরতা থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের উপযোগী প্রাঞ্জল ভাষায় রূপান্তর করেন।

আরবি প্রবন্ধে বুস্তানীর ভূমিকা ও ‘আল-জিনান’ পত্রিকা

বুস্তানী ১৮৭০ সালে বিখ্যাত সাময়িকী ‘আল-জিনান’ (الجنان) প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল স্লোগান ছিল—“স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ” (حب الوطن من الإيمان)। তিনি আরবি প্রবন্ধ সাহিত্যকে অলঙ্কারসর্বস্ব শব্দের কচকচানি থেকে মুক্ত করে সমাজসংস্কার, বিজ্ঞানচর্চা, যুক্তিবাদ এবং আন্তর্জাতিক সভ্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণের শক্তিশালী বাহন হিসেবে গড়ে তোলেন।

প্রবন্ধ ‘ইনতিকালুত তামাদুদ্দুন বাইনাশ শারক ওয়াল গারব’-এর মূল প্রতিপাদ্য

বুত্রুস আল-বুস্তানীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক প্রবন্ধ হলো ‘ইনতিকালুত তামাদুদ্দুন বাইনাশ শারক ওয়াল গারব’ (انتقال التمدن بين الشرق والغرب – প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সভ্যতার স্থানান্তর)।

  • সভ্যতার আবর্তনশীলতা: বুস্তানী যুক্তি তুলে ধরেন যে, মানবসভ্যতা কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা মহাদেশের একক সম্পত্তি নয়; বরং এটি এক বহমান নদীর মতো, যা যুগে যুগে স্থান পরিবর্তন করে। প্রাচ্য (বিশেষত আরব ও মুসলিম বিশ্ব) একসময় গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্য জ্ঞানভাণ্ডার গ্রহণ করে মধ্যযুগে বিশ্বসভ্যতার শীর্ষস্থান অধিকার করেছিল।
  • পাশ্চাত্যে সভ্যতার অভিপ্রয়াণ: রেনেসাঁর যুগে ইউরোপ বাগদাদ, কর্ডোবা এবং টলেডোর আরবি পাণ্ডুলিপি ও বিজ্ঞানের আলো গ্রহণ করে আধুনিক শিল্পবিপ্লব ও প্রগতির শিখরে পৌঁছেছে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং প্রাচ্যের রোপণ করা জ্ঞানেরই পরবর্তী ফসল।
  • আরবদের প্রতি আহ্বান: বুস্তানী অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে বলেন, পাশ্চাত্যের আধুনিক বিজ্ঞান, যুক্তি ও প্রযুক্তি গ্রহণ করা প্রাচ্যের জন্য কোনো লজ্জার বিষয় নয়; কারণ এর শিকড় প্রাচ্যের মুসলিম মনীষীদের হাতেই প্রোথিত হয়েছিল। তবে অন্ধ অনুকরণ না করে আত্মমর্যাদা বজায় রেখে পুনরায় জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

উপসংহার

বুত্রুস আল-বুস্তানী প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও উদার দৃষ্টিতে বিচার করেছেন। তাঁর এই প্রবন্ধটি আধুনিক আরবি চিন্তাশীল প্রবন্ধের এক অমর মাইলফলক।


৫ (د). بين خصائص ومزايا الأدب العربى الحديث بالتفصيل. [আধুনিক আরবি গদ্য সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বৈপ্লবিক দিকসমূহ]

ভূমিকা ও আল-নাহদার প্রেক্ষাপট

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে নেপোলিয়নের মিসর অভিযান (১৭৯৮ খ্রি.) এবং পরবর্তীতে মুহাম্মাদ আলী পাশার আধুনিকীকরণ সংস্কারের মধ্য দিয়ে স্থবির আরব বিশ্বে এক নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক মহাজাগরণ শুরু হয়, যা আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে ‘আল-নাহদা’ (النهضة – পুনর্জাগরণ যুগ) নামে পরিচিত। মামলুক ও উসমানীয় যুগের স্থবির, কৃত্রিম ও প্রাণহীন ছন্দোবদ্ধ অলঙ্কারের শৃঙ্খল ভেঙে আধুনিক আরবি সাহিত্য একটি সতেজ, প্রগতিশীল ও বিশ্বজনীন রূপ পরিগ্রহ করে।

আধুনিক আরবি গদ্য সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বৈপ্লবিক দিকসমূহ

  • ১. কৃত্রিম অলঙ্কার বর্জন ও ভাষার প্রাঞ্জলতা (التخلص من السجع والتكلف): প্রাচীন মাকামা বা দরবারি রীতির অতিরিক্ত ‘সাজ’ (السجع) ও শব্দের কৃত্রিম কারসাজি বর্জন করে সহজ, সাবলীল, প্রাঞ্জল ও গতিশীল গদ্যশৈলী প্রবর্তিত হয়।
  • ২. নতুন সাহিত্য ধারার আত্মীকরণ (اقتباس الأجناس الأدبية الغربية): আধুনিক যুগে আরবি সাহিত্যে ইতিপূর্বে অনুপস্থিত একাধিক নতুন আঙ্গিকের সফল সংযোজন ঘটে—যেমন: উপন্যাস (الرواية), আধুনিক ছোটগল্প (القصة القصيرة), নাটক (المسرحية), এবং চিন্তাশীল প্রবন্ধ (المقالة)।
  • ৩. জাতীয়তাবাদী ও উপনিবেশবাদবিরোধী চেতনা: পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম, ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলন এবং আরব জাতির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের ব্যাকুলতা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়।
  • ৪. সাংবাদিকতা ও মুদ্রণযন্ত্রের প্রভাব (أثر الصحافة والطباعة): কায়রোর ‘আল-আহরাম’, বৈরুতের ‘আল-জিনান’ ইত্যাদি পত্রিকা এবং বুলাক প্রেসের প্রতিষ্ঠার ফলে সাহিত্য রাজদরবার থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
  • ৫. রোমান্টিকতাবাদ ও সামাজিক বাস্তবতা: মনফালূতির মতো লেখকদের হাত ধরে রোমান্টিক ভাবাবেগ এবং নজীব মাহফুজ ও তাহা হুসাইনের হাত ধরে কঠোর সামাজিক বাস্তবতা ও শোষিত মানুষের জীবনকথা সাহিত্যে স্থান পায়।
  • ৬. ইসলামি সাহিত্য চেতনার বিকাশ: ড. নাজীব কিলানী ও সাইয়েদ কুতুবের মতো চিন্তাবিদদের মাধ্যমে আধুনিক ধারার সাথে ইসলামি আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের এক চমৎকার সমন্বয় সাধিত হয়।

উপসংহার

সংক্ষেপে, আধুনিক আরবি সাহিত্য প্রাচীন ঐতিহ্যের শিকড়ে দাঁড়িয়েও আধুনিক যুগের বৈজ্ঞানিক চিন্তা ও বিশ্বমানবতার দাবিকে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা একে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সমৃদ্ধতম ভাষারূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ১ম পত্রের বিষয় কোড ও পূর্ণমান কত?

বিষয় কোড ৪০৭ এবং পূর্ণমান ১০০ নম্বর। সময় ৩ ঘণ্টা।

আরবি মাকামা সাহিত্যের উদ্ভাবক কে?

বদিউজ্জামান আল-হামাদানী (মৃ. ৩৯৮ হি.) আরবি মাকামা সাহিত্যের জনক।

আধুনিক আরবি সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কোনটি?

মুহাম্মদ হুসাইন হাইকাল রচিত ‘যয়নাব’ (১৯১৪ খ্রি.)।

বিদায় হজের ভাষণে ‘নাসী’ প্রথা বাতিলের তাৎপর্য কী?

জাহেলী যুগে যুদ্ধ ও লুণ্ঠনের সুবিধার জন্য পবিত্র মাসগুলোকে স্বেচ্ছায় পিছিয়ে দেওয়ার যে কুপ্রথা ছিল, তা চিরতরে বাতিল করা।

‘আল-ইকদুল ফারীদ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

আন্দালুসের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দে রাব্বিহী (২৪৬-৩২৮ হি.)।

হযরত আলী (রা)-এর ভাষণ সংকলনের নাম কী?

শরীফ আর-রাজী কর্তৃক সংকলিত ‘নাহজুল বালাগা’ (نهج البلاغة)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *