উচ্চতর আরবি ৩য় পত্র (Higher Arabic 3rd Paper) – 409, উচ্চতর আরবি – ফাযিল পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০১৯

StudyBoi StudyBoi
September 26, 2026
১১৬ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – 2019
বিষয়: উচ্চতর আরবি (ঐচ্ছিক) তৃতীয় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৯)
[আরবি ব্যাকরণ, অনুবাদ ও রচনা (قواعد اللغة العربية والترجمة والمقالة)]
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০

ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2019-এর উচ্চতর আরবি ৩য় পত্র (বিষয় কোড: ৪০৯ – আরবি ব্যাকরণ, অনুবাদ ও রচনা) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের শতভাগ পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির উচ্চমান বজায় রেখে ইলমুন নাহু ও সরফের সুসংহত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, প্রামাণ্য ছক, কুরআনী নজির, সাহিত্যরসসমৃদ্ধ প্রাঞ্জল অনুবাদ এবং আন্তর্জাতিক ও ঐতিহ্যবাহী বিষয়ের ওপর উচ্চমানের আরবি প্রবন্ধ সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।

কন্টেন্ট তালিকা / প্রশ্নসূচি

  1. ১. ما معنى الكلام؟ وكم قسما له؟ بين كل قسم مفصلا وممثلا [কালামের সংজ্ঞা, শর্তাবলী ও কালিমার ৩টি প্রকারের বিশ্লেষণ]
  2. ২. عرف الاسم. ثم بين علاماته بالأمثلة [ইসমের সংজ্ঞা, নামকরণের কারণ ও বিশেষ আলামতসমূহ]
  3. ৩. ما المبتدأ؟ وكم نوعا له؟ بين المواضع التى يجب فيها تقديم الخبر على المبتدأ بالامثلة [মুবতাদা-খবর এবং খবরের তাকদীম ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী]
  4. ৪. عرف اللازم والمتعدى مع ذكر اقسام المتعدى بالامثلة [ফে’লে লাযিম ও মুতাআদ্দি: সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ]
  5. ৫. كم أداة لنواصب الفعل المضارع؟ بين بالتمثيل [ফে’লে মুদারের নসবকারী হরফসমূহ ও উহ্য আন-এর ক্ষেত্রসমূহ]
  6. ৬. عرف الضمير مع بيان اقسامه وكلماته مفصلا [জমির বা সর্বনাম: সংজ্ঞা, বারিজ-মুসতাতীর ও ৫টি ধারার রূপান্তর]
  7. ৭. ما معنى الاسم الموصول؟ بين اقسامه واستعماله بالامثلة [ইসমে মাওসুল: সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, সিলাহ ও আয়েদের শর্তাবলী]
  8. ৮. ما الاستفهام؟ وكم اداة له؟ وما اقسامه؟ بين بالامثلة [ইসতিফহাম: সংজ্ঞা, হরফ ও আসমাউল ইসতিফহামের বিশদ ছক]
  9. ৯. ما المراد بأسماء الإشارة؟ وكم قسما لها؟ اكتب مفصلا وممثلا [ইসমে ইশারা: দূরত্বভেদে প্রকারভেদ ও সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ তালিকা]
  10. ১০. ما الاستثناء؟ تحدث عن ادواته وانواعه ممثلا [ইসতিসনা: সংজ্ঞা, রুকনসমূহ, আদাত এবং মুসতাসনার এরাবের ৩টি সুরত]
  11. ১১. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর: মা ও মাতৃস্নেহ / মানুষের মিষ্টতা ও সৎসঙ্গ]
  12. ১২. ترجم العبارة الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে রূপান্তর: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) / একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস]
  13. ১৩. اكتب مقالة بالعربية من العناوين التالية [বিশদ আরবি প্রবন্ধ: সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত / ইসলামে মানবাধিকার / সন্ত্রাসবাদ ইসলামের বিরুদ্ধে এক নতুন ষড়যন্ত্র / নারী শিক্ষার গুরুত্ব]

প্রশ্নোত্তর ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. ما معنى الكلام؟ وكم قسما له؟ بين كل قسم مفصلا وممثلا [কালামের সংজ্ঞা, শর্তাবলী ও কালিমার ৩টি প্রকারের বিশ্লেষণ]

ভূমিকা ও কালিমার পরিচয়

আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানবমুখ নিঃসৃত প্রতিটি অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা শব্দকে ‘কালিমা’ (الكلمة – একক শব্দ) বলা হয়। বাক্য গঠনের প্রথম ও মৌলিক একক হলো কালিমা। সমস্ত আরবি ভাষার সুবিশাল শব্দভাণ্ডারকে ব্যাকরণবিদগণ অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মতভাবে তিনটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত করেছেন।

কালিমার সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

  • সংজ্ঞা: কালিমা হলো—«قَوْلٌ مُفْرَدٌ مَوْضُوعٌ لِمَعْنًى مُفْرَدٍ» অর্থাৎ—একটি একক অর্থ প্রকাশের জন্য মানবপ্রস্তুত একক অর্থপূর্ণ পদ।
  • প্রকারভেদ: কালিমা প্রধানত তিন প্রকার—(১) ইসম (الاسم – বিশেষ্য), (২) ফেল (الفعل – ক্রিয়া), এবং (৩) হরফ (الحرف – অব্যয়)।

কালিমার তিন প্রকারের নামকরণ ও তাদের বিশিষ্ট আলামতসমূহ

প্রকার নামকরণের কারণ (وجوه التسمية) প্রধান আলামত বা বৈশিষ্ট্য (العلامات) প্রামাণ্য উদাহরণ
১. ইসম (الاسم) ‘উসলু’ (উচ্চতা) অথবা ‘সিমা’ (চিহ্ন) ধাতু থেকে নির্গত; কেননা ইসম অন্য দুই প্রকারের ওপর মর্যাদা ও ব্যবহারে শীর্ষস্থান অধিকার করে। শুরুতে ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত হওয়া, তানভীন গ্রহণ করা, পূর্বে হরফে জার আসা, মুদাফ হওয়া, এবং মুসনাদ ইলাইহি হওয়া। كِتَابٌ (কিতাবুন), زَيْدٌ (যায়েদুন), الْقَلَمُ (আল-ক্বালামু)।
২. ফেল (الفعل) এর অর্থ কর্ম বা ক্রিয়া; কারণ এটি এমন অর্থ প্রকাশ করে যার সাথে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ তিনটি কালের যে কোনো একটি কাল সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকে। পূর্বে ‘ক্বাদ’ (قد), ‘সীন’ (س), ‘সাওফা’ (سوف) বসা, জযমকারী বা নসবকারী হরফ আসা, এবং সর্বনাম ‘তায়ে তা’নীস সাকিনাহ’ (تْ) গ্রহণ করা। كَتَبَ (সে লিখেছে), يَكْتُبُ (সে লিখছে/লিখবে), اِكْتُبْ (তুমি লেখো)।
৩. হরফ (الحرف) ‘তারফ’ বা প্রান্ত থেকে নির্গত; কারণ এটি বাক্যের মূল অঙ্গ নয়, বরং এক প্রান্ত বা মাধ্যম হিসেবে অন্য শব্দের সংযোগ ঘটায়। ইসম বা ফেলের কোনো আলামত বা চিহ্ন গ্রহণ না করা; এবং অন্য শব্দের সাথে যুক্ত না হলে নিজে নিজে কোনো স্বাধীন পূর্ণ অর্থ প্রকাশে অক্ষম হওয়া। مِنْ (হতে), فِي (মধ্যে), عَلَى (ওপর), إِلَى (দিকে)।

কালাম (الكلام)-এর সংজ্ঞা ও শর্তসমূহ

সাহিত্য ও ব্যাকরণশাস্ত্রে ‘কালাম’ হলো পূর্ণাঙ্গ বাক্য। ইমাম ইবনে মালিক বলেন: «كَلَامُنَا لَفْظٌ مُفِيدٌ كَاسْتَقِمْ»। কালাম হওয়ার জন্য চারটি মৌলিক শর্ত পূরণ হতে হবে:

  1. লাফজ (اللفظ): মানুষের মুখ নিঃসৃত ধ্বনি বা শব্দ হতে হবে।
  2. মুরাক্কাব (المركب): কমপক্ষে দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত যৌগিক রূপ হতে হবে (যেমন: মুবতাদা-খবর বা ফেল-ফায়েল)।
  3. মুফিদ (المفيد): এমন পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করতে হবে যাতে শ্রোতার মনে আর কোনো কিছু জানার ব্যাকুলতা বা অপেক্ষা অবশিষ্ট না থাকে।
  4. মওজু বিল ওয়াজ’য়ি (بالوضع): আরবি ভাষার ব্যাকরণিক রীতি ও শব্দবিন্যাস অনুসারে গঠিত হতে হবে।

উপসংহার

কালিমা ও কালামের এই সুষম বিভাজন প্রমাণ করে যে আরবি ভাষা কত নিখুঁত গাণিতিক ও কাঠামোগত শৃঙ্খলার ওপর প্রতিষ্ঠিত।


২. عرف الاسم. ثم بين علاماته بالأمثلة [ইসমের সংজ্ঞা, নামকরণের কারণ ও বিশেষ আলামতসমূহ]

ভূমিকা ও কালিমার পরিচয়

আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানবমুখ নিঃসৃত প্রতিটি অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা শব্দকে ‘কালিমা’ (الكلمة – একক শব্দ) বলা হয়। বাক্য গঠনের প্রথম ও মৌলিক একক হলো কালিমা। সমস্ত আরবি ভাষার সুবিশাল শব্দভাণ্ডারকে ব্যাকরণবিদগণ অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মতভাবে তিনটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত করেছেন।

কালিমার সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

  • সংজ্ঞা: কালিমা হলো—«قَوْلٌ مُفْرَدٌ مَوْضُوعٌ لِمَعْنًى مُفْرَدٍ» অর্থাৎ—একটি একক অর্থ প্রকাশের জন্য মানবপ্রস্তুত একক অর্থপূর্ণ পদ।
  • প্রকারভেদ: কালিমা প্রধানত তিন প্রকার—(১) ইসম (الاسم – বিশেষ্য), (২) ফেল (الفعل – ক্রিয়া), এবং (৩) হরফ (الحرف – অব্যয়)।

কালিমার তিন প্রকারের নামকরণ ও তাদের বিশিষ্ট আলামতসমূহ

প্রকার নামকরণের কারণ (وجوه التسمية) প্রধান আলামত বা বৈশিষ্ট্য (العلامات) প্রামাণ্য উদাহরণ
১. ইসম (الاسم) ‘উসলু’ (উচ্চতা) অথবা ‘সিমা’ (চিহ্ন) ধাতু থেকে নির্গত; কেননা ইসম অন্য দুই প্রকারের ওপর মর্যাদা ও ব্যবহারে শীর্ষস্থান অধিকার করে। শুরুতে ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত হওয়া, তানভীন গ্রহণ করা, পূর্বে হরফে জার আসা, মুদাফ হওয়া, এবং মুসনাদ ইলাইহি হওয়া। كِتَابٌ (কিতাবুন), زَيْدٌ (যায়েদুন), الْقَلَمُ (আল-ক্বালামু)।
২. ফেল (الفعل) এর অর্থ কর্ম বা ক্রিয়া; কারণ এটি এমন অর্থ প্রকাশ করে যার সাথে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ তিনটি কালের যে কোনো একটি কাল সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকে। পূর্বে ‘ক্বাদ’ (قد), ‘সীন’ (س), ‘সাওফা’ (سوف) বসা, জযমকারী বা নসবকারী হরফ আসা, এবং সর্বনাম ‘তায়ে তা’নীস সাকিনাহ’ (تْ) গ্রহণ করা। كَتَبَ (সে লিখেছে), يَكْتُبُ (সে লিখছে/লিখবে), اِكْتُبْ (তুমি লেখো)।
৩. হরফ (الحرف) ‘তারফ’ বা প্রান্ত থেকে নির্গত; কারণ এটি বাক্যের মূল অঙ্গ নয়, বরং এক প্রান্ত বা মাধ্যম হিসেবে অন্য শব্দের সংযোগ ঘটায়। ইসম বা ফেলের কোনো আলামত বা চিহ্ন গ্রহণ না করা; এবং অন্য শব্দের সাথে যুক্ত না হলে নিজে নিজে কোনো স্বাধীন পূর্ণ অর্থ প্রকাশে অক্ষম হওয়া। مِنْ (হতে), فِي (মধ্যে), عَلَى (ওপর), إِلَى (দিকে)।

কালাম (الكلام)-এর সংজ্ঞা ও শর্তসমূহ

সাহিত্য ও ব্যাকরণশাস্ত্রে ‘কালাম’ হলো পূর্ণাঙ্গ বাক্য। ইমাম ইবনে মালিক বলেন: «كَلَامُنَا لَفْظٌ مُفِيدٌ كَاسْتَقِمْ»। কালাম হওয়ার জন্য চারটি মৌলিক শর্ত পূরণ হতে হবে:

  1. লাফজ (اللفظ): মানুষের মুখ নিঃসৃত ধ্বনি বা শব্দ হতে হবে।
  2. মুরাক্কাব (المركب): কমপক্ষে দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত যৌগিক রূপ হতে হবে (যেমন: মুবতাদা-খবর বা ফেল-ফায়েল)।
  3. মুফিদ (المفيد): এমন পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করতে হবে যাতে শ্রোতার মনে আর কোনো কিছু জানার ব্যাকুলতা বা অপেক্ষা অবশিষ্ট না থাকে।
  4. মওজু বিল ওয়াজ’য়ি (بالوضع): আরবি ভাষার ব্যাকরণিক রীতি ও শব্দবিন্যাস অনুসারে গঠিত হতে হবে।

উপসংহার

কালিমা ও কালামের এই সুষম বিভাজন প্রমাণ করে যে আরবি ভাষা কত নিখুঁত গাণিতিক ও কাঠামোগত শৃঙ্খলার ওপর প্রতিষ্ঠিত।


৩. ما المبتدأ؟ وكم نوعا له؟ بين المواضع التى يجب فيها تقديم الخبر على المبتدأ بالامثلة [মুবতাদা-খবর এবং খবরের তাকদীম ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী]

ভূমিকা ও জুমলায়ে ইসমিয়্যাহর পরিচয়

আরবি জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ (বিশেষ্যপ্রধান বাক্য)-এর মূল ভিত্তি হলো দুটি পদ: ‘মুবতাদা’ (المبتدأ – উদ্দেশ্য) এবং ‘খবর’ (الخبر – বিধেয়)। সাধারণ নিয়ম অনুসারে মুবতাদা সর্বদা ‘মা’রেফাহ’ (المعرفة – নির্দিষ্ট) হয় এবং খবর সাধারণ ‘নাকারাহ’ (النكرة – অনির্দিষ্ট) হয় (যেমন: «اللَّهُ رَبُّنَا» – আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা; «الْعِلْمُ نُورٌ» – জ্ঞান হলো আলো)। কিন্তু কিছু বিশেষ ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যও (নাকারাহ) মুবতাদা হতে পারে, এবং কিছু ক্ষেত্রে খবরকে মুবতাদার পূর্বে আনা ওয়াজিব হয়।

মুবতাদা ও খবরের সংজ্ঞা

  • মুবতাদা: যে মারফু বিশেষ্য বাক্য সূচনা করে এবং যা কোনো শাব্দিক আমেল (যেমন ফেল বা হরফে মুসাব্বাহা) থেকে মুক্ত থাকে (مُجَرَّدٌ عَنِ الْعَوَامِلِ اللَّفْظِيَّةِ)।
  • খবর: যে মারফু পদ মুবতাদার সাথে মিলিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠন করে এবং বক্তব্যকে সম্পূর্ণ করে।

নাকারা বিশেষ্য মুবতাদা হওয়ার বৈধ ক্ষেত্রসমূহ (মুসাওউগাতে ইবতিদা বিন নাকারাহ)

ইমাম ইবনে মালিক বলেন: «وَلَا يَجُوزُ الِابْتِدَاءُ بِالنَّكِرَهْ * مَا لَمْ تُفِدْ كَعِنْدَ زَيْدٍ نَمِرَهْ» অর্থাৎ—অর্থপূর্ণ ফায়দা প্রদান না করলে নাকারাহ দ্বারা বাক্য শুরু করা যায় না। তবে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে নাকারাহ মুবতাদা হতে পারে:

শর্ত বা ক্ষেত্র ব্যাখ্যা ও কারণ প্রামাণ্য উদাহরণ
১. নাকারাহ বিশেষিত (মাওসূফ) হলে নাকারার পর কোনো সিফাত যুক্ত হলে তার সাধারণত্ব কমে নির্দিষ্টতার নিকটবর্তী হয়। «وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ» (সূরা বাকারা: ২২১)।
২. নাকারাহ ইজাফাতযুক্ত হলে অপর একটি নাকারার দিকে মুদাফ হলে বিশেষায়িত হয়। «خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ» (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ ফরজ করেছেন)।
৩. পূর্বে নাফি (নাবোধক) আসলে নাবোধক হরফের পর নাকারাহ আসলে তা সার্বজনীন অর্থ (আম) প্রকাশ করে। «مَا أَحَدٌ فِي الدَّارِ» (ঘরে কেউ নেই)।
৪. পূর্বে ইস্তেবহাম (প্রশ্নবোধক) আসলে প্রশ্নবোধক হরফের পর নাকারাহ সার্বজনীন অর্থ দেয়। «هَلْ رَجُلٌ فِيكُمْ؟» (তোমাদের মাঝে কি কোনো পুরুষ আছে?)।
৫. খবর যখন যার-মাজরুর বা জরফ হয়ে পূর্বে আসে খবর মুকাদ্দাম হলে নাকারাহ মুবতাদায়ে মুআখখার হতে পারে। «فِي الدَّارِ رَجُلٌ» (ঘরের মধ্যে একজন লোক আছে)।
৬. দুআ বা বদদুয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থনা বা অভিশাপ প্রকাশের ক্ষেত্রে নাকারাহ মুবতাদা হয়। «سَلَامٌ عَلَى إِلْ يَاسِينَ», «وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ»।

খবরকে মুবতাদার পূর্বে আনা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ (وجوب تقديم الخبر)

  1. খবর যখন প্রশ্নবোধক শব্দের মতো অগ্রবর্তী হওয়ার হকদার হয়: যেমন: «أَيْنَ الْمَفَرُّ؟» (পলায়নস্থল কোথায়?)। ‘আইনা’ প্রশ্নবোধক শব্দ হওয়ায় তা পূর্বে আনা ওয়াজিব।
  2. মুবতাদার সাথে এমন জমির থাকলে যা খবরের দিকে ফিরে: যেমন: «فِي الدَّارِ صَاحِبُهَا» (ঘরের ভেতরে রয়েছে তার মালিক)।
  3. মুবতাদা যখন খাটি নাকারাহ হয় এবং খবর জরফ বা যার-মাজরুর হয়: যেমন: «عِنْدِي مَالٌ» (আমার নিকট অর্থ আছে)।

উপসংহার

মুবতাদা ও খবরের এই নিয়মাবলী বাক্যের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং আরবি ভাষার অর্থের গভীরতাকে বহু স্তরে প্রস্ফুটিত করে।


৪. عرف اللازم والمتعدى مع ذكر اقسام المتعدى بالامثلة [ফে’লে লাযিম ও মুতাআদ্দি: সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ]

ভূমিকা ও ক্রিয়ার কর্মগ্রাহিতা

আরবি ব্যাকরণে ক্রিয়া তার বক্তব্য পূর্ণ করার জন্য কর্ম বা মাফউলের মুখাপেক্ষী কি না, সে বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়াকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়: ‘ফে’লে লাযিম’ (الفعل اللازم – অকর্মক ক্রিয়া) এবং ‘ফে’লে মুতাআদ্দি’ (الفعل المتعدي – সকর্মক ক্রিয়া)।

সংজ্ঞা ও মৌলিক পার্থক্য

  • ফে’লে লাযিম: যে ক্রিয়া কেবল তার ফায়েলকে (কর্তা) নিয়েই পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে এবং বক্তব্য সমাপ্তির জন্য কোনো মাফউলে বিহীর প্রয়োজন পড়ে না। যেমন: «قَامَ زَيْدٌ» (যায়েদ দাঁড়াল), «حَسُنَ الْوَلَدُ» (ছেলেটি ভালো হলো)।
  • ফে’লে মুতাআদ্দি: যে ক্রিয়া শুধু কর্তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে না, বরং অর্থের পূর্ণতার জন্য মাফউলে বিহীর দিকে অতিক্রম করে। যেমন: «كَتَبَ زَيْدٌ رِسَالَةً» (যায়েদ একটি চিঠি লিখল)।

ফে’লে মুতাআদ্দির শ্রেণিবিভাগ

কর্ম বা মাফউলের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে মুতাআদ্দি ক্রিয়া তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:

  1. একটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى مفعول واحد): যেমন—«خَلَقَ اللَّهُ الْأَرْضَ» (আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন)।
  2. দুটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى مفعولين):
    • যে দুটি মাফউল মূলত মুবতাদা ও খবর ছিল (আফ’আলুল কুলূব ও রুজহান): যেমন—ظَنَّ، عَلِمَ، رَأَى; যেমন: «ظَنَنْتُ زَيْدًا عَالِمًا» (আমি যায়েদকে আলেম ধারণা করেছিলাম)।
    • যে দুটি মাফউল মূলত মুবতাদা-খবর ছিল না (আফ’আলুল আতা): যেমন—أَعْطَى، سَأَلَ، كَسَا; যেমন: «أَعْطَيْتُ الْفَقِيرَ دِرْهَمًا» (আমি দরিদ্রকে রৌপ্যমুদ্রা দিলাম)।
  3. তিনটি মাফউল গ্রহণকারী (المتعدي إلى ثلاثة مفاعيل): যেমন—أَعْلَمَ، أَرَى، نَبَّأَ، أَخْبَرَ; যেমন: «أَعْلَمَ اللَّهُ النَّاسَ الْعِلْمَ نَافِعًا» (আল্লাহ মানুষকে জানিয়ে দিলেন যে জ্ঞান উপকারী)।

লাযিম ক্রিয়াকে মুতাআদ্দি বানানোর পদ্ধতিসমূহ

একটি লাযিম (অকর্মক) ক্রিয়াকে নিচের তিনটি প্রধান উপায়ে মুতাআদ্দি (সকর্মক) বানানো যায়:

  • ১. বাবে ইফ’আলে স্থানান্তর (হামযায়ে তা’দিয়াহ দ্বারা): যেমন: «خَرَجَ زَيْدٌ» (যায়েদ বের হলো) থেকে «أَخْرَجْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে বের করলাম)।
  • ২. বাবে তাফ’ঈলে স্থানান্তর (আইন বর্ণকে তাশদীদ দিয়ে): যেমন: «فَرِحَ زَيْدٌ» (যায়েদ আনন্দিত হলো) থেকে «فَرَّحْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে আনন্দিত করলাম)।
  • ৩. হরফে জার সহযোগে: যেমন: «ذَهَبَ زَيْدٌ بِالْمَالِ» (যায়েদ সম্পদ নিয়ে গেল)।

উপসংহার

লাযিম ও মুতাআদ্দির সঠিক জ্ঞান বাক্যের কর্মকারক এবং কুরআনের নির্দেশ ও প্রতিশ্রুতির গভীর ভাবার্থ অনুধাবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।


৫. كم أداة لنواصب الفعل المضارع؟ بين بالتمثيل [ফে’লে মুদারের নসবকারী হরফসমূহ ও উহ্য আন-এর ক্ষেত্রসমূহ]

ভূমিকা ও নওয়াসিবের পরিচিতি

আরবি ব্যাকরণে ফে’লে মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) স্বভাবগতভাবে মারফু বা পেশযুক্ত হয়ে থাকে (যেমন: يَكْتُبُ)। কিন্তু যখন ক্রিয়ার পূর্বে কিছু বিশেষ অব্যয় বা হরফ প্রবেশ করে, তখন তা মুদারের শেষাক্ষরে নসব (যবর) প্রদান করে। এদেরকে সম্মিলিতভাবে ‘নওয়াসিবুল ফে’লিল মুদারে’ (نواصب الفعل المضارع – মুদারে ক্রিয়ায় নসবকারী অব্যয়সমূহ) বলা হয়।

নওয়াসিবের সংখ্যা ও প্রকারভেদ

সর্বসম্মত বৈয়াকরণদের মতে, ফে’লে মুদারেয় নসব দানকারী প্রধান হরফ সর্বমোট ৪টি (যা সরাসরি নসব দেয়), এবং কিছু হরফের পর ‘আন’ (أَنْ) উহ্য বা মুক্বাদ্দার থাকার কারণে নসব হয়। নিম্নে এদের বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

১. সরাসরি নসব দানকারী ৪টি হরফের বিশ্লেষণ

হরফের নাম অর্থ ও ব্যাকরণিক ভূমিকা কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ
১. أَنْ (আন – মাসদারিয়্যাহ) ক্রিয়াপদকে মাসদারের (ভাববাচ্যের) অর্থে রূপান্তরিত করে এবং ভবিষ্যৎ কালের সাথে নির্দিষ্ট করে। «وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ» (সূরা বাকারা: ১৮৪ – অর্থাৎ তোমাদের রোজা রাখা উত্তম)।
২. لَنْ (লান – নাফিয়ে মুস্তাকবাল) ভবিষ্যতের জন্য কঠোর ও নিশ্চিত অস্বীকৃতি (তাকীদুন নাফি) জ্ঞাপন করে। «لَنْ نَبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ» (সূরা ত্বাহা: ৯১), «لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ» (আলে ইমরান: ৯২)।
৩. كَيْ (কাই – তা’লীল) কাজের কারণ, হেতুবাদ বা উদ্দেশ্য (হিকমত) প্রকাশ করে। «كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا» (সূরা ত্বাহা: ৩৩ – যাতে আমরা আপনার অধিক তাসবীহ পাঠ করতে পারি)।
৪. إِذَنْ (ইযান – জাযা ও জাওয়াব) কোনো কথার তাৎক্ষণিক প্রতিদান বা উত্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয় (শর্ত: বাক্যের শুরুতে বসতে হবে)। কেউ বললে ‘আমি আপনার সাথে দেখা করব’, উত্তরে বলা হয়: «إِذَنْ أُكْرِمَكَ» (তাহলে তো আমি তোমাকে আপ্যায়ন করব)।

২. উহ্য ‘আন’ (أَنْ مضمرة) দ্বারা নসব হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ

বসরার বৈয়াকরণদের মতে, নিচের ৬টি হরফের পর ‘আন’ উহ্য থেকে ফে’লে মুদারেয় নসব প্রদান করে:

  1. লামে কাই (لام كي – কারণসূচক লাম): যেমন—«وَأُمِرْنَا لِنُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ» (যাতে আমরা অনুগত হই)।
  2. লামে জুহুদ (لام الجحود – অস্বীকৃতিজ্ঞাপক লাম): পূর্বে ‘মা কানা’ বা ‘লাম ইয়াকুন’ আসার পর; যেমন—«وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ» (সূরা আনফাল: ৩৩)।
  3. হাত্তা (حَتَّى – পর্যন্ত বা উদ্দেশ্য): যেমন—«حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى»।
  4. ফায়ে সাবাবিয়্যাহ (فاء السببية): নফি বা তলবের (আদেশ, নিষেধ, প্রত্যাশা) পরে আসলে; যেমন—«لَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي»।
  5. ওয়াওয়ে মাইয়াত (واو المعية): যেমন—«لَا تَنْهَ عَنْ خُلُقٍ وَتَأْتِيَ مِثْلَهُ» (এমন চরিত্র নিষেধ করো না যা নিজেই করো)।
  6. আও (أَوْ – ‘ইল্লা আন’ বা ‘ইলা আন’ অর্থে): যেমন—«لَأَسْتَسْهِلَنَّ الصَّعْبَ أَوْ أُدْرِكَ الْمُنَى»।

উপসংহার

নওয়াসিবুল মুদারের এই নিয়মাবলী বাক্যের রূপান্তর এবং কুরআন ও আরবি কবিতার সূক্ষ্ম ভাবার্থ অনুধাবনের অপরিহার্য অঙ্গ।


৬. عرف الضمير مع بيان اقسامه وكلماته مفصلا [জমির বা সর্বনাম: সংজ্ঞা, বারিজ-মুসতাতীর ও ৫টি ধারার রূপান্তর]

ভূমিকা ও জমির বা সর্বনামের গুরুত্ব

আরবি ভাষায় বাক্যের লালিত্য রক্ষা, পুনরুক্তি পরিহার এবং ভাবকে সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী করার জন্য ‘জমির’ (الضمير – সর্বনাম) একটি অনন্য ব্যাকরণিক উপাদান। বিশেষ্যের পৌনঃপুনিক উচ্চারণ বাক্যকে শ্রুতিকটু করে তোলে, যার সমাধান দেয় এই জমির।

জমিরের সংজ্ঞা

ব্যাকরণশাস্ত্রের পরিভাষায় জমির হলো: «مَا وُضِعَ لِمُتَكَلِّمٍ أَوْ مُخَاطَبٍ أَوْ غَائِبٍ تَقَدَّمَ ذِكْرُهُ لَفْظًا أَوْ مَعْنًى أَوْ حُكْمًا» অর্থাৎ—যা উত্তম পুরুষ (মুসতাকাল্লিম – আমি/আমরা), মধ্যম পুরুষ (মুখাতাব – তুমি/তোমরা) অথবা পূর্বোল্লিখিত নাম পুরুষ (গায়েব – সে/তারা)-এর জন্য প্রস্তুতকৃত বিশেষ পদ।

জমিরের প্রধান দুটি রূপ: বারিজ ও মুসতাতীর

  • ১. জমিরে বারিজ (الضمير البارز – প্রকাশ্য সর্বনাম): যা উচ্চারণে ও বাক্যের লিখিত রূপান্তরে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়। যেমন—«أَنَا كَتَبْتُ»-এর মধ্যে ‘আনা’ ও ‘তু’।
  • ২. জমিরে মুসতাতীর (الضمير المستتر – অপ্রকাশ্য সর্বনাম): যা বাক্যে দৃশ্যমান নয় বরং ক্রিয়াপদের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে। যেমন—«زَيْدٌ كَتَبَ» (যায়েদ লিখেছে)-এর মধ্যে ‘হুওয়া’ (هُوَ) সর্বনামটি মুসতাতীর বা উহ্য রয়েছে।

জমিরে বারিজের বিশদ শ্রেণিবিভাগ

ব্যবহারিক দিক থেকে জমিরে বারিজ প্রধানত দুই প্রকার: মুত্তাসিল (সংযুক্ত) এবং মুনফাসিল (বিযুক্ত)। এরাবভেদে এগুলো মোট পাঁচটি ধারায় বিন্যস্ত:

জমিরের শ্রেণি সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য শব্দ রূপান্তর (আলফায) প্রামাণ্য উদাহরণ
১. মারফু মুত্তাসিল (مرفوع متصل) ক্রিয়াপদের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে এবং বাক্যে ফায়েল বা নায়েবে ফায়েল হয়। تَ، تِ، تُ، تُمَا، تُمْ، تُنَّ، نَا، نَ، وَا، ا (১৪টি সিগা) «ضَرَبْتُ زَيْدًا» (আমি যায়েদকে প্রহার করলাম)।
২. মারফু মুনফাসিল (مرفوع منفصل) স্বাধীনভাবে পৃথক বসে এবং সাধারণত মুবতাদা বা খবর হয়। هُوَ، هُمَا، هُمْ، هِيَ، هُمَا، هُنَّ، أَنْتَ، أَنْتُمَا، أَنْتُمْ، أَنْتِ، أَنْتُمَا، أَنْتُنَّ، أَنَا، نَحْنُ (১২টি) «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ», «نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ»।
৩. মানসুব মুত্তাসিল (منصوب متصل) ক্রিয়া বা হরফে মুসাব্বাহা বিল ফেলের সাথে যুক্ত হয়ে মাফউল বা ইন্নার ইসম হয়। هُ، هُمَا، هُمْ، هَا، كَ، كُمَا، كُمْ، كِ، ي، نَا «إِنَّهُ عَلِيمٌ», «أَكْرَمَنِي زَيْدٌ»।
৪. মানসুব মুনফাসিল (منصوب منفصل) স্বাধীনভাবে পৃথক বসে এবং কেবল মাফউলে বিহী হয়। إِيَّاهُ، إِيَّاهُمَا، إِيَّاهُمْ، إِيَّاكُمَا، إِيَّاكَ، إِيَّايَ، إِيَّانَا (১২টি) «إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ» (সূরা ফাতিহা: ৫)।
৫. মাজরুর মুত্তাসিল (مجرور متصل) হরফে জার বা মুদাফের সাথে যুক্ত হয়ে মাজরুর বা মুদাফ ইলাইহি হয়। কুরআনে হরফে জারের সাথে: لَهُ، بِهِ، فِيهِ; এবং মুদাফের সাথে: كِتَابُهُ، بَيْتُكُمْ «رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً»।

উপসংহার

জমিরের সঠিক প্রয়োগ ও তার মারজা’ (প্রত্যাবর্তনস্থল) নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারা কুরআনের তাফসির ও আরবি সাহিত্যের মর্মে প্রবেশের চাবিকাঠি।


৭. ما معنى الاسم الموصول؟ بين اقسامه واستعماله بالامثلة [ইসমে মাওসুল: সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, সিলাহ ও আয়েদের শর্তাবলী]

ভূমিকা ও ইসমে মাওসুলের পরিচয়

আরবি ব্যাকরণে যে অসম্পূর্ণ বিশেষ্য পদ তার পরবর্তী একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য (সিলাহ) এবং একটি সর্বনাম (আয়েদ)-এর সংযোগ ব্যতীত নিজের অর্থ পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারে না, তাকে ‘ইসমুল মাওসূল’ (الاسم الموصول – সম্বন্ধবাচক সর্বনাম) বলা হয়। ইংরেজিতে Relative Pronoun (who, which, that)-এর সমার্থক হলো এই রূপ।

ইসমে মাওসুলের সংজ্ঞা

ইমাম ইবনে মালিকের মতে: «مَوْصُولُ الْأَسْمَاءِ الَّذِي الْأُنْثَى الَّتِي»। বৈয়াকরণদের সাধারণ পরিভাষায়: «هُوَ اسْمٌ لَا يَتِمُّ مَعْنَاهُ إِلَّا بِجُمْلَةٍ تُذْكَرُ بَعْدَهُ تُسَمَّى صِلَةً وَعَائِدٍ يَعُودُ إِلَيْهِ» অর্থাৎ—যা এমন একটি অসম্পূর্ণ বিশেষ্য যার অর্থ তার পরবর্তী একটি বাক্য (যাকে সিলাহ বলে) এবং একটি সর্বনাম (আয়েদ) ছাড়া কখনোই পূর্ণ হয় না।

ইসমে মাওসুলের শ্রেণিবিভাগ

ইসমে মাওসূল প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: (১) আল-মাওসূসুল খাছ (সুনির্দিষ্ট রূপ) এবং (২) আল-মাওসূসুল মুশতাকার (সাধারণ বা অংশীদারী রূপ)।

১. সুনির্দিষ্ট ইসমে মাওসূল (الموصول الخاص)

বচন ও অবস্থা পুংলিঙ্গ (المذكر) স্ত্রীলিঙ্গ (المؤنث) কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ
একবচন (المفرد) الَّذِي (যিনি/যে) الَّتِي (যিনি/যা) «الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ» (সূরা মুলক: ২), «قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ»।
দ্বিবচন (المثنى) اللَّذَانِ (মারফু) / اللَّذَيْنِ اللَّتَانِ (মারফু) / اللَّتَيْنِ «وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنْكُمْ» (সূরা নিসা: ১৬)।
বহুবচন (الجمع) الَّذِينَ (যাঁরা) اللَّاتِي / اللَّائِي «صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ», «وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ»।

২. সাধারণ বা সর্বজনীন ইসমে মাওসূল (الموصول المشترك)

এগুলো লিঙ্গ ও বচনভেদে একক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়:

  • مَنْ (মান – যিনি/যাঁরা): বিবেকবান মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যেমন: «أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ»।
  • مَا (মা – যা/যেগুলো): নির্বোধ প্রাণী ও অচেতন বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যেমন: «مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ»।
  • أَيٌّ (আইয়ুন): উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; যেমন: «ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ»।

সিলাহ (الصلة) ও আয়েদ (العائد)-এর শর্তাবলী

  1. সিলাহ: ইসমে মাওসুলের পর এমন একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য (জুমলায়ে খবরিয়্যাহ) হতে হবে যা শ্রোতার নিকট পূর্বপরিচিত।
  2. আয়েদ: সিলাহর মধ্যে একটি জমির থাকতে হবে যা পূর্ববর্তী ইসমে মাওসুলের লিঙ্গ ও বচনের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়ে তার দিকে ফিরে আসবে। যেমন: «جَاءَ الَّذِي أَكْرَمْتُهُ»-তে ‘হু’ সর্বনামটি আয়েদ।

উপসংহার

ইসমে মাওসূল কুরআনের জটিল ও যৌগিক বাক্য গঠনের প্রধান মাধ্যম।


৮. ما الاستفهام؟ وكم اداة له؟ وما اقسامه؟ بين بالامثلة [ইসতিফহাম: সংজ্ঞা, হরফ ও আসমাউল ইসতিফহামের বিশদ ছক]

ভূমিকা ও ইসতিফহামের পরিচিতি

আরবি ব্যাকরণ ও অলঙ্কারশাস্ত্রে কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে অবগতি লাভ বা অনুসন্ধান করার প্রক্রিয়াকে ‘আল-ইসতিফহাম’ (الاستفهام – প্রশ্নবোধকতা) বলা হয়। এটি মানব যোগাযোগের সর্বাধিক মৌলিক মাধ্যম।

ইসতিফহামের সংজ্ঞা

আলঙ্কারিকদের পরিভাষায়: «هُوَ طَلَبُ الْعِلْمِ بِشَيْءٍ لَمْ يَكُنْ مَعْلُومًا مِنْ قَبْلُ بِأَدَاةٍ مِنْ أَدَوَاتِهِ» অর্থাৎ—নির্দিষ্ট প্রশ্নবোধক চিহ্নের সাহায্যে পূর্বে অজানা কোনো বিষয় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভের অনুসন্ধান করাকে ইসতিফহাম বলে।

আদাতুল ইসতিফহামের শ্রেণিবিভাগ

প্রশ্নবোধক অব্যয় ও নামপদগুলো প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত: (১) হরফ (الحرف) এবং (২) ইসম (الاسم)।

১. হরফুল ইসতিফহাম (حرفا الاستفهام – ২টি)

  • ১. হামযাহ (أَ): এটি তাসাদ্দিক্ব (সত্যতা যাচাই) এবং তাসবিয়াহ বা তা’য়ীন (নির্দিষ্টকরণ)-এর জন্য আসে। যেমন: «أَزَيْدٌ قَائِمٌ؟» (যায়েদ কি দাঁড়িয়ে আছে?) অথবা «أَزَيْدٌ فِي الدَّارِ أَمْ عَمْرٌو؟» (ঘরে কি যায়েদ নাকি আমর?)।
  • ২. হাল (هَلْ): এটি কেবল তাসাদ্দিক্বের জন্য আসে (যার উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দ্বারা দেওয়া হয়)। যেমন: «هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ» (সূরা গাশিয়াহ: ১)।

২. আসমাউল ইসতিফহাম (أسماء الاستفهام – ৯টি)

শব্দ প্রশ্ন করার বিষয়বস্তু ও ক্ষেত্র কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ
১. مَنْ (মান) বিবেকবান ব্যক্তির সত্তা সম্পর্কে জানতে। «مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ» (সূরা বাকারা: ২৫৫)।
২. مَا (মা) অচেতন বস্তু, প্রাণী বা বিশেষ্যের প্রকৃত সত্তা জানতে। «وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَى» (সূরা ত্বাহা: ১৭), «مَا الْقَارِعَةُ»।
৩. مَتَى (মাতা) অতীত ও ভবিষ্যতের সময় বা কাল জানতে। «مَتَى نَصْرُ اللَّهِ» (সূরা বাকারা: ২১৪ – আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?)।
৪. أَيَّانَ (আইয়ানা) ভবিষ্যতের ভয়াবহ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ সময় জানতে (কিয়ামতের জন্য)। «يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ» (সূরা কিয়ামাহ: ৬)।
৫. أَيْنَ (আইনা) স্থান বা দিক সম্পর্কে জানতে। «أَيْنَ الْمَفَرُّ» (সূরা কিয়ামাহ: ১০ – পলায়নস্থল কোথায়?)।
৬. كَيْفَ (কাইফা) অবস্থা বা প্রকৃতি (হাল) জানতে। «كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ» (সূরা বাকারা: ২৮), «كَيْفَ حَالُكَ؟»।
৭. كَمْ (কাম) সংখ্যা বা পরিমাণ জানতে (এর পর তাময়ীয মানসুব হয়)। «قَالَ كَمْ لَبِثْتَ» (সূরা বাকারা: ২৫৯ – তুমি কতকাল অবস্থান করলে?)।
৮. أَنَّى (আন্না) কীভাবে বা কোথা থেকে (কাইফা বা মিন আইনা অর্থে)। «قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّى لَكِ هَذَا» (সূরা আলে ইমরান: ৩৭)।
৯. أَيٌّ (আইয়ুন) অংশীদারদের মধ্য থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পৃথক করতে (মু’রাব)। «أَيُّ الْفَرِيقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ» (সূরা আনআম: ৮১)।

উপসংহার

ইসতিফহাম কখনো কখনো রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়ে অস্বীকার (ইনকার), বিস্ময় (তাআজ্জুব), ধমক (তাক্বরীর) ও তিরস্কারের গভীর আলঙ্কারিক দ্যোতনা সৃষ্টি করে।


৯. ما المراد بأسماء الإشارة؟ وكم قسما لها؟ اكتب مفصلا وممثلا [ইসমে ইশারা: দূরত্বভেদে প্রকারভেদ ও সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ তালিকা]

ভূমিকা ও ইসমে ইশারার পরিচিতি

আরবি ব্যাকরণে কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু বা ধারণাকে সরাসরি আঙুল বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে প্রদর্শন করার জন্য যে বিশেষ্য ব্যবহৃত হয়, তাকে ‘ইসমুল ইশারা’ (اسم الإشارة – নির্দেশক সর্বনাম) বলা হয়। এটি মা’রেফাহ বা নির্দিষ্ট বিশেষ্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শ্রেণি।

ইসমে ইশারার সংজ্ঞা

ইমাম ইবনে হিশামের মতে: «هُوَ مَا وُضِعَ لِمُشَارٍ إِلَيْهِ حِسِّيًّا أَوْ مَعْنَوِيًّا بِوَاسِطَةِ إِشَارَةٍ حِسِّيَّةٍ» অর্থাৎ—যা কোনো প্রত্যক্ষ বাহ্যিক বা ভাবগত নির্দেশিত বস্তুর (মুশারুন ইলাইহি) প্রতি প্রত্যক্ষ ইঙ্গিতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

দূরত্বভেদে ইসমে ইশারার প্রকারভেদ (দূর, নিকট ও মধ্যবর্তী)

দূরত্বের তারতম্য অনুসারে ইসমে ইশারা মূলত তিনটি প্রধান স্তরে বিন্যস্ত:

  1. আল-ক্বরীব (القريب – নিকটবর্তী): যার শুরুতে সতর্কীকরণ হরফ ‘হা’ (هَا التنبيه) যুক্ত হতে পারে। যেমন: هَذَا (ইহা), هَذِهِ (ইহা – স্ত্রীবাচক)।
  2. আল-মুতাওয়াস্সিত (المتوسط – মধ্যবর্তী দূরত্ব): যার শেষে কেবল সম্বোধনের ‘কাফ’ (ك) যুক্ত হয়। যেমন: ذَاكَ (ঐটি)।
  3. আল-বা’ঈদ (البعيد – দূরবর্তী): যার শেষে দূরত্বের ‘লাম’ (ل) এবং সম্বোধনের ‘কাফ’ (ك) উভয়টি যুক্ত হয়। যেমন: ذَلِكَ (ঐটি), تِلْكَ (ঐটি – স্ত্রীবাচক)।

লিঙ্গ ও বচনভেদে ইসমে ইশারার পরিপূর্ণ তালিকা ও সংখ্যা

স্তর ও লিঙ্গ একবচন (المفرد) দ্বিবচন (المثنى) বহুবচন (الجمع)
১. নিকটবর্তী পুংলিঙ্গ (مذكر قريب) هَذَا (ইনি/ইহা) هَذَانِ (মারফু) / هَذَيْنِ (মানসুব/মাজরুর) هَؤُلَاءِ (এঁরা/এগুলো – উভয় লিঙ্গে সমান)
২. নিকটবর্তী স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث قريب) هَذِهِ / هَاتِهِ / ذِي هَاتَانِ (মারফু) / هَاتَيْنِ (মানসুব/মাজরুর) هَؤُلَاءِ
৩. দূরবর্তী পুংলিঙ্গ (مذكر بعيد) ذَلِكَ (ঐটি/তিনি) ذَانِكَ / ذَيْنِكَ أُولَئِكَ (তাঁরা/ঐগুলো – উভয় লিঙ্গে সমান)
৪. দূরবর্তী স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث بعيد) تِلْكَ (ঐটি/তিনি) تَانِكَ / تَيْنِكَ أُولَئِكَ
৫. স্থানের জন্য নির্দেশক (للمكان) নিকটবর্তী: هُنَا (এখানে) / هَاهُنَا মধ্যবর্তী: هُنَاكَ (সেখানে) দূরবর্তী: هُنَالِكَ বা ثَمَّ (সুদূর ঐ স্থানে)

ইসমে ইশারার এরাবের হুকুম

ইসমে ইশারার সমস্ত রূপ মাবনী (المبني – অপরিবর্তনশীল)। তবে ব্যতিক্রম হলো দ্বিবচনের রূপ দুটি (هذان/هذين এবং هاتان/هاتين)—এগুলো মু’রাবের মতো আলিফ দ্বারা মারফু এবং ইয়া দ্বারা মানসুব ও মাজরুর হয়।

উপসংহার

ইসমে ইশারা আরবি ভাষায় সংক্ষেপণ ও নিখুঁত নির্দেশের অনন্য মাধ্যম। পবিত্র কুরআনের শুরুর বাণী—«ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ» এর শ্রেষ্ঠ আলঙ্কারিক নিদর্শন।


১০. ما الاستثناء؟ تحدث عن ادواته وانواعه ممثلا [ইসতিসনা: সংজ্ঞা, রুকনসমূহ, আদাত এবং মুসতাসনার এরাবের ৩টি সুরত]

ভূমিকা ও ইসতিসনার পরিচয়

আরবি ব্যাকরণশাস্ত্রে কোনো সাধারণ হুকুম বা বিধান থেকে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বাদ দেওয়ার বিশেষ প্রক্রিয়াকে ‘আল-ইসতিসনা’ (الاستثناء – ব্যতিক্রমকরণ) বলা হয়। এটি কালামের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী আলঙ্কারিক ও আইনি উপাদান।

ইসতিসনার রুকন ও উপাদানসমূহ

একটি পূর্ণাঙ্গ ইসতিসনা বাক্যে প্রধানত তিনটি অঙ্গ থাকে: (১) মুসতাসনা মিনহু (المستثنى منه): যে সাধারণ দল বা সমষ্টি থেকে বাদ দেওয়া হয়; (২) আদাতুল ইসতিসনা (أداة الاستثناء): ব্যতিক্রমকারী অব্যয় (যেমন: إِلَّا); (৩) মুসতাসনা (المستثنى): যাকে বাদ দেওয়া হলো। যেমন: «حَضَرَ الطُّلَّابُ إِلَّا زَيْدًا» (ছাত্ররা উপস্থিত হলো যায়েদ ছাড়া)।

আদাতুল ইসতিসনার শ্রেণিবিভাগ

ইসতিসনার অব্যয়সমূহ প্রধানত তিন প্রকার:

  • ১. হরফ: إِلَّا (ইল্লা)—এটি ইসতিসনার মূল ভিত্তি।
  • ২. ইসম: غَيْرُ (গায়রু), سِوَى (সিওয়া)—এদের পরবর্তী শব্দ সর্বদা মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাজরুর হয়।
  • ৩. হরফ বা ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত: خَلَا (খালা), عَدَا (আদা), حَاشَا (হাশা)—এদের পর মানসুব ও মাজরুর উভয়টি বৈধ। পূর্বে ‘মা’ আসলে (যেমন: ما خلا) এরা নিশ্চিত ক্রিয়া হয় এবং পরবর্তী পদ মানসুব হয়।

‘ইল্লা’ দ্বারা মুসতাসনার এরাবের ৩টি মৌলিক সুরত

সুরত বা ক্ষেত্র শর্ত ও পরিচয় এরাবের হুকুম কুরআনী / প্রামাণ্য উদাহরণ
১. কালামে তাম মুজাব (كلام تام موجب) বাক্যে মুসতাসনা মিনহু বিদ্যমান থাকে এবং বাক্যটি হ্যাঁ-বোধক হয়। মুসতাসনাকে নসব দেওয়া ওয়াজিব। «فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ إِلَّا إِبْلِيسَ» (সূরা হিজর: ৩০-৩১)।
২. কালামে তাম মানফী (كلام تام منفي) মুসতাসনা মিনহু আছে কিন্তু বাক্যটি নাফি বা নেতিবাচক হয়। দুটি সুরত বৈধ: (ক) মুসতাসনা মিনহুর ‘বদল’ হিসেবে তার এরাব পাওয়া; অথবা (খ) ইসতিসনার ভিত্তিতে নসব হওয়া। «مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِنْهُمْ» (সূরা নিসা: ৬৬ – বদল হিসেবে মারফু)।
৩. কালামে মুফাররাগ বা নাকিস (مفرغ / ناقص) মুসতাসনা মিনহু বিলুপ্ত থাকে এবং বাক্যটি নাফি হয়। আমেল অনুসারে এরাব হবে (ইল্লাকে বাদ দিয়ে বাক্য বিবেচনা করা হয়)। «وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ» (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪ – ‘রাসূলুন’ খবর হওয়ায় মারফু)।

মুত্তাসিল ও মুনক্বাতি’ ইসতিসনার পার্থক্য

মুসতাসনা যদি মুসতাসনা মিনহুর সমজাতীয় হয়, তাকে ‘মুত্তাসিল’ বলে (যেমন মানুষের মধ্য থেকে মানুষ বাদ দেওয়া)। আর যদি ভিন্নজাতীয় হয়, তাকে ‘মুনক্বাতি” বলে (যেমন: «فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ… إِلَّا إِبْلِيسَ»—ইবলিস ফেরেশতাদের প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল না)।

উপসংহার

ইসতিসনার নিয়মাবলী ইসলামি ফিকহের মূলনীতি ও আইনের ধারা বিশ্লেষণে সর্বাধিক প্রামাণ্য হাতিয়ার।


১১. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর: মা ও মাতৃস্নেহ / মানুষের মিষ্টতা ও সৎসঙ্গ]

মجموعه (ب) – অনুবাদ ও প্রায়োগিক অনুশীলন

ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের ২০১৯ সালের পরীক্ষার ‘খ’ বিভাগে নির্ধারিত অনুচ্ছেদসমূহের পূর্ণাঙ্গ ও উচ্চমানসম্পন্ন অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে উপস্থাপিত হলো:

১১. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [নির্বাচিত আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর]

«الأُمُّ كَلِمَةٌ صَغِيرَةٌ، خَفِيفَةٌ عَلَى اللِّسَانِ، لَذِيذَةٌ عَلَى الآذَانِ، تَحْتَوِي عَلَى أَكْبَرِ مَعَانِي التَّضْحِيَةِ وَالْحُبِّ وَالْحَنَانِ. هِيَ الَّتِي تُعْطِي وَلَا تَنْتَظِرُ أَنْ تَأْخُذَ مُقَابِلَ الْعَطَاءِ، وَهِيَ نَهْرٌ مُتَدَفِّقٌ بِالْعَطْفِ الْكَثِيرِ الَّذِي لَا يَنْتَهِي، وَهِيَ الَّتِي مَهْمَا حَاوَلْتَ أَنْ تَفْعَلَ وَتُقَدِّمَ لَهَا فَلَنْ تَسْتَطِيعَ أَنْ تَرُدَّ جَمِيلَهَا عَلَيْكَ وَلَوْ بِقَدْرِ ذَرَّةٍ صَغِيرَةٍ، فَهِيَ سَبَبُ وُجُودِكَ وَنَجَاحِكَ، تُعْطِي مِنْ دَمِهَا لِتَكْبُرَ وَتَنْشَأَ صَحِيحًا سَلِيمًا، هِيَ عَوْنُكَ فِي الدُّنْيَا، وَهِيَ الَّتِي تُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ.»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
‘মা’—এটি একটি অতীব ক্ষুদ্র শব্দ, উচ্চারণে জিহ্বায় অত্যন্ত হালকা ও সহজ, কিন্তু শ্রবণে কর্ণে পরম সুধাময়। অথচ এই ছোট্ট শব্দটির গর্ভে লুকিয়ে রয়েছে আত্মত্যাগ, অনুপম ভালোবাসা ও গভীর মমত্ববোধের সুবিশাল অর্থভাণ্ডার। মা হলেন সেই অনন্য সত্তা যিনি শুধু দিয়েই যান, দানের বিনিময়ে কখনো কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা করেন না। তিনি অফুরন্ত স্নেহের এক প্রবহমান নদী, যার স্রোতধারা কখনো শুষ্ক হয় না। আপনি তাঁর জন্য যত কিছুই করুন না কেন কিংবা যতই সেবা-যত্ন উপস্থাপন করুন না কেন, তাঁর অপরিসীম ঋণের এক অনুপরিমাণও শোধ করার সামর্থ্য আপনার কখনোই হবে না। তিনি আপনার পৃথিবীতে অস্তিত্ব লাভ ও সকল সাফল্যের প্রত্যক্ষ মাধ্যম; তিনি নিজের রক্ত ও জীবনীশক্তি ক্ষয় করে আপনাকে খাইয়েছেন যাতে আপনি পূর্ণাঙ্গ, সুস্থ ও সবল মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারেন। এই পার্থিব জীবনে তিনিই আপনার সবচেয়ে বিশ্বস্ত আশ্রয় ও সহায়ক, আর পরকালীন জীবনে তিনিই আপনার জান্নাত লাভের প্রত্যক্ষ সোপান।

[বিকল্প অনুচ্ছেদ (أو)]:

«لَا تُعْرَفُ حَلَاوَةُ الإِنْسَانِ بِحَلَاوَةِ اللِّسَانِ، فَكَمْ مِنْ كَلِمَاتٍ لِطَافٍ حِسَانٍ، يَكْمُنُ بَيْنَ حُرُوفِهَا سُمُّ الثُّعْبَانِ، فَلَا تَتْرُكْ شَخْصًا عَزِيزًا عَلَيْكَ بِسَبَبِ زَلَّةٍ أَوْ عَيْبٍ فِيهِ، فَلَا يُوجَدُ أَحَدٌ كَامِلٌ غَيْرَ اللَّهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى. وَالإِنْسَانُ خَلْقٌ عَجِيبٌ، وَمِنْ عَجَائِبِهِ أَنَّهُ قَدْ يَمْسَحُ كُلَّ تَارِيخِكَ الْجَمِيلِ مُقَابِلَ آخِرِ مَوْقِفٍ لَكَ لَمْ يُعْجِبْهُ. وَبَعْضُ الْبَشَرِ إِنِ احْتَرَمْتَهُمْ سَيَزِيدُونَ مِنْ إِسَاءَتِهِمْ إِلَيْكَ، وَيَتَمَرَّدُونَ عَلَيْكَ، فَعَلَيْكَ بِالصُّحْبَةِ الصَّالِحَةِ، وَهِيَ الَّتِي تَجْعَلُكَ تَعِيشُ حَيَاتَيْنِ: حَيَاةً طَيِّبَةً فِي الدُّنْيَا وَحَيَاةً مَرْضِيَّةً فِي الآخِرَةِ.»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
মানুষের অন্তরের মিষ্টতা কেবল তার মুখের মধুর কথার দ্বারা চেনা যায় না; কারণ এমন বহু শ্রুতিমধুর ও চমৎকার বাক্য রয়েছে যার অক্ষরের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে বিষধর সাপের হলাহল। সুতরাং সামান্য ভুলত্রুটি বা একটি দোষের কারণে আপনার কোনো প্রিয়জনকে পরিত্যাগ করবেন না; কারণ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত কোনো মানুষই শতভাগ ত্রুটিমুক্ত ও নিখুঁত নয়। মানুষ এক অদ্ভুত সৃষ্টি; তার আশ্চর্য স্বভাবের একটি হলো—সে হয়তো আপনার সামগ্রিক সুন্দর ইতিহাসকে চোখের পলকে মুছে দেবে কেবল শেষ একটি আচরণের কারণে যা তার মনমতো হয়নি। আবার কিছু মানুষ এমনও রয়েছে যাদের আপনি যতই সম্মান দেবেন, তারা আপনার সাথে তত বেশি অবিচার ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করবে। অতএব সর্বদা সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষের সান্নিধ্য (সোহবতে সালেহা) গ্রহণ করুন; কারণ সৎসঙ্গই আপনাকে উপহার দেবে দুটি সুন্দর জীবন—দুনিয়াতে একটি শান্তিময় পবিত্র জীবন এবং আখিরাতে রবের সন্তুষ্টিধন্য চিরস্থায়ী জীবন।

১২. ترجم العبارة الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা অনুচ্ছেদের বিশুদ্ধ আরবি রূপান্তর]

মূল বাংলা টেক্সট:
“আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) নবুয়তের দ্বিতীয় বর্ষে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর বাবা ওমরের সঙ্গে মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় চলে আসেন। বদরের যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। তিনি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কারণ যুদ্ধের বয়স না হওয়ায় নবী (স) তাঁকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি। তিনি পরবর্তীতে ইসলামের প্রতিটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক, পরহেযগার ও দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ ছিলেন।”

الترجمة إلى العربية الفصحى :
«وُلِدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا بِمَكَّةَ الْمُكَرَّمَةِ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ مِنَ الْبِعْثَةِ النَّبَوِيَّةِ، وَهَاجَرَ مَعَ أَبِيهِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِلَى الْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ. وَكَانَ عُمْرُهُ إِبَّانَ غَزْوَةِ بَدْرٍ الْكُبْرَى ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً فَقَطْ، فَلَمْ يَتَمَكَّنْ مِنَ الْمُشَارَكَةِ فِيهَا؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَأْذَنْ لَهُ لِصِغَرِ سِنِّهِ. وَلَكِنَّهُ شَهِدَ بَعْدَ ذَلِكَ سَائِرَ الْمَشَاهِدِ وَالْغَزَوَاتِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، وَكَانَ صَحَابِيًّا جَلِيلًا، شَدِيدَ التَّقْوَى وَالْوَرَعِ، حَرِيصًا عَلَى اتِّبَاعِ السُّنَّةِ، زَاهِدًا فِي حُطَامِ الدُّنْيَا.»

[বিকল্প বাংলা অনুচ্ছেদ (অথবা)]:
“পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতি এক অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে। বাংলা নামক একটি ভাষার দাবিতে পাকিস্তান আমলে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। তাদের সেই রক্ত বৃথা যায়নি। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৫৪ সালের ৭ই মে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেয়। অবশেষে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর বাংলা ভাষা একক রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা লাভ করে।”

الترجمة إلى العربية الفصحى :
«حَقَّقَ الشَّعْبُ الْبَنْغَالِيُّ مَأْثَرَةً تَارِيخِيَّةً فَرِيدَةً فِي تَارِيخِ الْبَشَرِيَّةِ؛ إِذْ جَادَ بِدِمَائِهِ الطَّاهِرَةِ فِي سَبِيلِ لُغَتِهِ الْأُمِّ. فَفِي الْحَادِي وَالْعِشْرِينَ مِنْ فِبْرَايِرَ عَامَ 1952م، إِبَّانَ الْحُكْمِ الْبَاكِسْتَانِيِّ، قَدَّمَ أَبْنَاءُ بَنْغَال الشَّجْعَانُ أَرْوَاحَهُمْ وَسَفَكُوا دِمَاءَهُمُ الزَّكِيَّةَ فِي شَوَارِعِ دَاكَا مُطَالِبِينَ بِجَعْلِ اللُّغَةِ الْبَنْغَالِيَّةِ لُغَةً رَسْمِيَّةً لِلدَّوْلَةِ. وَلَمْ تَذْهَبْ تِلْكَ التَّضْحِيَاتُ هَبَاءً، حَيْثُ اضْطُرَّتِ الْحُكُومَةُ الْبَاكِسْتَانِيَّةُ فِي السَّابِعِ مِنْ مَايُو 1954م إِلَى الِاعْتِرَافِ بِالْبَنْغَالِيَّةِ لُغَةً رَسْمِيَّةً إِلَى جَانِبِ الْأُرْدِيَّةِ. وَأَخِيرًا، بَعْدَ نَيْلِ بَنْغَلَادِيش اسْتِقْلَالَهَا الْمَجِيدَ عَامَ 1971م، تَبَوَّأَتِ اللُّغَةُ الْبَنْغَالِيَّةُ مَكَانَتَهَا كَلُغَةٍ رَسْمِيَّةٍ وَحِيدَةٍ لِلْجُمْهُورِيَّةِ.»


১২. ترجم العبارة الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা থেকে বিশুদ্ধ আরবিতে রূপান্তর: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) / একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস]

মجموعه (ب) – অনুবাদ ও প্রায়োগিক অনুশীলন

ফাযিল ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের ২০১৯ সালের পরীক্ষার ‘খ’ বিভাগে নির্ধারিত অনুচ্ছেদসমূহের পূর্ণাঙ্গ ও উচ্চমানসম্পন্ন অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে উপস্থাপিত হলো:

১১. ترجم العبارة الآتية باللغة البنغالية [নির্বাচিত আরবি অনুচ্ছেদের প্রাঞ্জল বাংলা রূপান্তর]

«الأُمُّ كَلِمَةٌ صَغِيرَةٌ، خَفِيفَةٌ عَلَى اللِّسَانِ، لَذِيذَةٌ عَلَى الآذَانِ، تَحْتَوِي عَلَى أَكْبَرِ مَعَانِي التَّضْحِيَةِ وَالْحُبِّ وَالْحَنَانِ. هِيَ الَّتِي تُعْطِي وَلَا تَنْتَظِرُ أَنْ تَأْخُذَ مُقَابِلَ الْعَطَاءِ، وَهِيَ نَهْرٌ مُتَدَفِّقٌ بِالْعَطْفِ الْكَثِيرِ الَّذِي لَا يَنْتَهِي، وَهِيَ الَّتِي مَهْمَا حَاوَلْتَ أَنْ تَفْعَلَ وَتُقَدِّمَ لَهَا فَلَنْ تَسْتَطِيعَ أَنْ تَرُدَّ جَمِيلَهَا عَلَيْكَ وَلَوْ بِقَدْرِ ذَرَّةٍ صَغِيرَةٍ، فَهِيَ سَبَبُ وُجُودِكَ وَنَجَاحِكَ، تُعْطِي مِنْ دَمِهَا لِتَكْبُرَ وَتَنْشَأَ صَحِيحًا سَلِيمًا، هِيَ عَوْنُكَ فِي الدُّنْيَا، وَهِيَ الَّتِي تُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ.»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
‘মা’—এটি একটি অতীব ক্ষুদ্র শব্দ, উচ্চারণে জিহ্বায় অত্যন্ত হালকা ও সহজ, কিন্তু শ্রবণে কর্ণে পরম সুধাময়। অথচ এই ছোট্ট শব্দটির গর্ভে লুকিয়ে রয়েছে আত্মত্যাগ, অনুপম ভালোবাসা ও গভীর মমত্ববোধের সুবিশাল অর্থভাণ্ডার। মা হলেন সেই অনন্য সত্তা যিনি শুধু দিয়েই যান, দানের বিনিময়ে কখনো কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা করেন না। তিনি অফুরন্ত স্নেহের এক প্রবহমান নদী, যার স্রোতধারা কখনো শুষ্ক হয় না। আপনি তাঁর জন্য যত কিছুই করুন না কেন কিংবা যতই সেবা-যত্ন উপস্থাপন করুন না কেন, তাঁর অপরিসীম ঋণের এক অনুপরিমাণও শোধ করার সামর্থ্য আপনার কখনোই হবে না। তিনি আপনার পৃথিবীতে অস্তিত্ব লাভ ও সকল সাফল্যের প্রত্যক্ষ মাধ্যম; তিনি নিজের রক্ত ও জীবনীশক্তি ক্ষয় করে আপনাকে খাইয়েছেন যাতে আপনি পূর্ণাঙ্গ, সুস্থ ও সবল মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারেন। এই পার্থিব জীবনে তিনিই আপনার সবচেয়ে বিশ্বস্ত আশ্রয় ও সহায়ক, আর পরকালীন জীবনে তিনিই আপনার জান্নাত লাভের প্রত্যক্ষ সোপান।

[বিকল্প অনুচ্ছেদ (أو)]:

«لَا تُعْرَفُ حَلَاوَةُ الإِنْسَانِ بِحَلَاوَةِ اللِّسَانِ، فَكَمْ مِنْ كَلِمَاتٍ لِطَافٍ حِسَانٍ، يَكْمُنُ بَيْنَ حُرُوفِهَا سُمُّ الثُّعْبَانِ، فَلَا تَتْرُكْ شَخْصًا عَزِيزًا عَلَيْكَ بِسَبَبِ زَلَّةٍ أَوْ عَيْبٍ فِيهِ، فَلَا يُوجَدُ أَحَدٌ كَامِلٌ غَيْرَ اللَّهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى. وَالإِنْسَانُ خَلْقٌ عَجِيبٌ، وَمِنْ عَجَائِبِهِ أَنَّهُ قَدْ يَمْسَحُ كُلَّ تَارِيخِكَ الْجَمِيلِ مُقَابِلَ آخِرِ مَوْقِفٍ لَكَ لَمْ يُعْجِبْهُ. وَبَعْضُ الْبَشَرِ إِنِ احْتَرَمْتَهُمْ سَيَزِيدُونَ مِنْ إِسَاءَتِهِمْ إِلَيْكَ، وَيَتَمَرَّدُونَ عَلَيْكَ، فَعَلَيْكَ بِالصُّحْبَةِ الصَّالِحَةِ، وَهِيَ الَّتِي تَجْعَلُكَ تَعِيشُ حَيَاتَيْنِ: حَيَاةً طَيِّبَةً فِي الدُّنْيَا وَحَيَاةً مَرْضِيَّةً فِي الآخِرَةِ.»

বাংলা ভাবার্থ ও প্রাঞ্জল রূপান্তর:
মানুষের অন্তরের মিষ্টতা কেবল তার মুখের মধুর কথার দ্বারা চেনা যায় না; কারণ এমন বহু শ্রুতিমধুর ও চমৎকার বাক্য রয়েছে যার অক্ষরের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে বিষধর সাপের হলাহল। সুতরাং সামান্য ভুলত্রুটি বা একটি দোষের কারণে আপনার কোনো প্রিয়জনকে পরিত্যাগ করবেন না; কারণ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত কোনো মানুষই শতভাগ ত্রুটিমুক্ত ও নিখুঁত নয়। মানুষ এক অদ্ভুত সৃষ্টি; তার আশ্চর্য স্বভাবের একটি হলো—সে হয়তো আপনার সামগ্রিক সুন্দর ইতিহাসকে চোখের পলকে মুছে দেবে কেবল শেষ একটি আচরণের কারণে যা তার মনমতো হয়নি। আবার কিছু মানুষ এমনও রয়েছে যাদের আপনি যতই সম্মান দেবেন, তারা আপনার সাথে তত বেশি অবিচার ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করবে। অতএব সর্বদা সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষের সান্নিধ্য (সোহবতে সালেহা) গ্রহণ করুন; কারণ সৎসঙ্গই আপনাকে উপহার দেবে দুটি সুন্দর জীবন—দুনিয়াতে একটি শান্তিময় পবিত্র জীবন এবং আখিরাতে রবের সন্তুষ্টিধন্য চিরস্থায়ী জীবন।

১২. ترجم العبارة الآتية بالعربية الفصحى [বাংলা অনুচ্ছেদের বিশুদ্ধ আরবি রূপান্তর]

মূল বাংলা টেক্সট:
“আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) নবুয়তের দ্বিতীয় বর্ষে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর বাবা ওমরের সঙ্গে মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় চলে আসেন। বদরের যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। তিনি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কারণ যুদ্ধের বয়স না হওয়ায় নবী (স) তাঁকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি। তিনি পরবর্তীতে ইসলামের প্রতিটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক, পরহেযগার ও দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ ছিলেন।”

الترجمة إلى العربية الفصحى :
«وُلِدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا بِمَكَّةَ الْمُكَرَّمَةِ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ مِنَ الْبِعْثَةِ النَّبَوِيَّةِ، وَهَاجَرَ مَعَ أَبِيهِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِلَى الْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ. وَكَانَ عُمْرُهُ إِبَّانَ غَزْوَةِ بَدْرٍ الْكُبْرَى ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً فَقَطْ، فَلَمْ يَتَمَكَّنْ مِنَ الْمُشَارَكَةِ فِيهَا؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَأْذَنْ لَهُ لِصِغَرِ سِنِّهِ. وَلَكِنَّهُ شَهِدَ بَعْدَ ذَلِكَ سَائِرَ الْمَشَاهِدِ وَالْغَزَوَاتِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، وَكَانَ صَحَابِيًّا جَلِيلًا، شَدِيدَ التَّقْوَى وَالْوَرَعِ، حَرِيصًا عَلَى اتِّبَاعِ السُّنَّةِ، زَاهِدًا فِي حُطَامِ الدُّنْيَا.»

[বিকল্প বাংলা অনুচ্ছেদ (অথবা)]:
“পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতি এক অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে। বাংলা নামক একটি ভাষার দাবিতে পাকিস্তান আমলে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। তাদের সেই রক্ত বৃথা যায়নি। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৫৪ সালের ৭ই মে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেয়। অবশেষে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করার পর বাংলা ভাষা একক রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা লাভ করে।”

الترجمة إلى العربية الفصحى :
«حَقَّقَ الشَّعْبُ الْبَنْغَالِيُّ مَأْثَرَةً تَارِيخِيَّةً فَرِيدَةً فِي تَارِيخِ الْبَشَرِيَّةِ؛ إِذْ جَادَ بِدِمَائِهِ الطَّاهِرَةِ فِي سَبِيلِ لُغَتِهِ الْأُمِّ. فَفِي الْحَادِي وَالْعِشْرِينَ مِنْ فِبْرَايِرَ عَامَ 1952م، إِبَّانَ الْحُكْمِ الْبَاكِسْتَانِيِّ، قَدَّمَ أَبْنَاءُ بَنْغَال الشَّجْعَانُ أَرْوَاحَهُمْ وَسَفَكُوا دِمَاءَهُمُ الزَّكِيَّةَ فِي شَوَارِعِ دَاكَا مُطَالِبِينَ بِجَعْلِ اللُّغَةِ الْبَنْغَالِيَّةِ لُغَةً رَسْمِيَّةً لِلدَّوْلَةِ. وَلَمْ تَذْهَبْ تِلْكَ التَّضْحِيَاتُ هَبَاءً، حَيْثُ اضْطُرَّتِ الْحُكُومَةُ الْبَاكِسْتَانِيَّةُ فِي السَّابِعِ مِنْ مَايُو 1954م إِلَى الِاعْتِرَافِ بِالْبَنْغَالِيَّةِ لُغَةً رَسْمِيَّةً إِلَى جَانِبِ الْأُرْدِيَّةِ. وَأَخِيرًا، بَعْدَ نَيْلِ بَنْغَلَادِيش اسْتِقْلَالَهَا الْمَجِيدَ عَامَ 1971م، تَبَوَّأَتِ اللُّغَةُ الْبَنْغَالِيَّةُ مَكَانَتَهَا كَلُغَةٍ رَسْمِيَّةٍ وَحِيدَةٍ لِلْجُمْهُورِيَّةِ.»


১৩. اكتب مقالة بالعربية من العناوين التالية [বিশদ আরবি প্রবন্ধ: সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত / ইসলামে মানবাধিকার / সন্ত্রাসবাদ ইসলামের বিরুদ্ধে এক নতুন ষড়যন্ত্র / নারী শিক্ষার গুরুত্ব]

১৭. اكتب مقالة عربية من إحدى الموضوعات التالية [বিশদ অ্যাকাডেমিক আরবি প্রবন্ধমালা]

ফাযিল ৩য় বর্ষের বিগত বছরসমূহের পরীক্ষায় বারবার পুনরাবৃত্ত প্রধান প্রধান প্রবন্ধগুলো ফাযিল স্নাতক স্তরের পূর্ণমান ১০-এর অ্যাকাডেমিক মানদণ্ডে আরবিতে উপস্থাপন করা হলো:

(أ) مقالة بعنوان : «الْأُخُوَّةُ فِي الْإِسْلَامِ» [ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধ]

المقدمة : تُعد الأخوة في الإسلام إحدى أسمى القيم الإنسانية والدينية التي شيدت عليها الشريعة صرح المجتمع المسلم المتماسك. فالإسلام لم يجعل رابطة الأخوة مجرد علاقة دم وقرابة عرقية، بل جعلها قائمة على وحدة العقيدة والإيمان؛ قال الله تعالى: ﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾ [الحجرات: 10].

أسس الأخوة الإيمانية وحقوقها الشرعية :

  • المحبة الخالصة لوجه الله : الأخوة الصادقة هي التي تنبع من الإخلاص لله؛ قال النبي ﷺ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ» [متفق عليه].
  • التعاون والتكافل الاجتماعي : المسلمون في توادهم وتراحمهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى.
  • النصرة ودفع الظلم : قال الرسول ﷺ: «انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا»؛ بنصحه وردعه عن الظلم إن كان ظالماً، والوقوف معه ورفع الأذى عنه إن كان مظلوماً.
  • طهارة القلوب ونبذ الشحناء : حرّم الإسلام الغيبة والنميمة وسوء الظن والحسد بين الإخوة؛ لأنها تهدم جسور الثقة والمحبة.

الخاتمة : إن إحياء روح المؤاخاة النبوية — كتلك التي آخى بها النبي ﷺ بين المهاجرين والأنصار في المدينة — هو السبيل الوحيد لنهضة الأمة الإسلامية واستعادة مجدها وعزتها.

(ب) مقالة بعنوان : «وَاجِبَاتُ الطُّلَّابِ وَمَسْؤُولِيَّاتُهُمْ» [শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য]

المقدمة : الطلاب هم عماد المستقبل، ورجال الغد المشرق، وأمل الأمة في صناعة نهضتها الحضارية. إن مرحلة الطلب هي ربيع العمر وأثمن فترات الحياة، وعليها يتوقف نجاح الفرد وسعادة المجتمع بأكمله.

أهم واجبات الطالب المسلم :

  • الإخلاص والجد في تحصيل العلم : أول واجبات الطالب أن يستشعر عظمة رسالة العلم، وأن يطلب العلم النافع لوجه الله تعالى ولنفع مجتمعه؛ قال تعالى: ﴿وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا﴾.
  • تنظيم الوقت واستثماره : الوقت هو رأس مال الطالب، وتضييعه في اللهو والبطالة انتحار علمي؛ لذا يجب وضع جدول يومي محكم بين المذاكرة والعبادة والرياضة النافعة.
  • احترام المعلمين وبرهم : المعلم هو الأب الروحي وصانع العقول، وبره وتوقيره مفتاح الفهم والتوفيق والبركة في العلم.
  • التحلي بالأخلاق والآداب الإسلامية : ينبغي أن يقرن الطالب علمه بالعمل الصالح، والصدق، والأمانة، والتواضع، ونبذ الغش والكسل.
  • المسؤولية الوطنية والمجتمعية : توظيف المعارف والعلوم لخدمة الوطن، ومكافحة الجهل والفساد، والنهوض بالمجتمع اقتصادياً وأخلاقياً.

الخاتمة : إذا أدرك الطلاب واجباتهم وأدوها بإخلاص وعزيمة، كانت أمتنا رائدة في مصاف الأمم المتقدمة؛ فالعلم يبني بيوتاً لا عماد لها، والجهل يهدم بيوت العز والشرف.

(ج) مقالة بعنوان : «بِرُّ الْوَالِدَيْنِ فِي ضَوْءِ الْإِسْلَامِ» [ইসলামের আলোকে পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার]

المقدمة : قرن الله تبارك وتعالى حقه في التوحيد والعبادة بحق الوالدين في البر والإحسان في مواضع كثيرة من القرآن الكريم، فقال عز وجل: ﴿وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا﴾ [الإسراء: 23]. وهذا يدل على عظم منزلتهما وجلال حقهما.

مظاهر البر والإحسان للوالدين :

  • الطاعة في غير معصية : طاعة الوالدين واجبة شرعاً في كل أمر مباح، وخفض الجناح لهما رحمة وتواضعاً.
  • الأدب في الخطاب والكلام : نهى القرآن الكريم عن أدنى درجات التضجر منهما؛ فقال تعالى: ﴿فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا﴾.
  • الرعاية المادية والخدمة عند الكبر : توفير النفقة والمسكن الملائم وتقديم الرعاية الصحية الكاملة لهما خاصة في مرحلة الشيخوخة والضعف.
  • البر بهما بعد وفاتهما : يستمر بر الوالدين حتى بعد رحيلهما عن الدنيا بالدعاء والاستغفار لهما، وإنفاذ وصيتهما، وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما، وإكرام صديقهما.

الخاتمة : إن بر الوالدين باب من أوسع أبواب الجنة ورضا الرب في رضا الوالد؛ وعقوقهما من أكبر الكبائر المحبطة للأعمال. فلنحرص على رضاهما لننال سعادة الدارين.

(د) مقالة بعنوان : «تَعْلِيمُ الْمَرْأَةِ فِي الْإِسْلَامِ» [ইসলামে নারী শিক্ষা]

المقدمة : كرّم الإسلام المرأة ورفع مكانتها بعد أن كانت مظلومة ومهمشة في الجاهلية الأولى، وجعل طلب العلم فريضة محكمة تشمل الرجل والمرأة على حد سواء دون تمييز أو إقصاء؛ فقال الرسول الأكرم ﷺ: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» [رواه ابن ماجه].

أهمية تعليم المرأة وآثاره الإيجابية :

  • صناعة الأجيال الصالحة : المرأة هي الأم والمربية الأولى؛ وكما قال الشاعر حافظ إبراهيم: الأُمُّ مَدْرَسَةٌ إِذَا أَعْدَدْتَهَا * أَعْدَدْتَ شَعْبًا طَيِّبَ الأَعْرَاقِ. إذا تعلمت الأم أثمرت بيئة واعية تقود الأجيال نحو النور.
  • النماذج التاريخية الرائدة : حفلت الحضارة الإسلامية بعالمات فقيهات وطبيبات ومحدثات؛ وعلى رأسهن أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها التي كانت مرجعاً لكبار الصحابة في الفقه والحديث والطب والأنساب.
  • المشاركة في تنمية المجتمع : يتيح التعليم للمرأة أداء دورها الحيوي في مجالات التعليم والطبابة والتمريض والخدمة الاجتماعية في إطار الحشمة والوقار والضوابط الشرعية.

الخاتمة : إن حرمان المرأة من التعليم مخالف لمقاصد الشريعة السمحة؛ فالأمة التي لا تتعلم نساؤها تبقى أمة عاجزة عن مسايرة ركب الحضارة والتقدم.

(هـ) مقالة بعنوان : «حُقُوقُ الْجِيرَانِ فِي الْإِسْلَامِ» [প্রতিবেশীর অধিকার]

المقدمة : اهتم الإسلام اهتماماً بالغاً برعاية حق الجار والإحسان إليه، لما لذلك من أثر عظيم في إشاعة الأمن والمحبة والسلام في المجتمع؛ حتى ظن النبي ﷺ أن جبريل سينزل بتوريث الجار من شدة وصيته به؛ قال ﷺ: «مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ» [متفق عليه].

أقسام الجيران وحقوقهم : الجيران ثلاثة: (১) جار له حق واحد: وهو الجار غير المسلم (حق الجوار)؛ (২) جار له حقان: وهو الجار المسلم (حق الجوار وحق الإسلام)؛ (৩) جار له ثلاثة حقوق: وهو الجار المسلم القريب (حق الجوار والإسلام والقرابة). ومن واجبات الجار: كف الأذى عنه، ومواساته في مصائبه، وإطعامه عند جوعه، وتهنئته في أفراحه، وحفظ سره وماله وعرضه.

الخاتمة : المجتمع الذي يحترم حقوق الجيران هو مجتمع فاضل تسوده الطمأنينة والأمان؛ والواجب علينا إحياء هذا الخلق النبيل في حياتنا المعاصرة.

(و) مقالة بعنوان : «الزَّكَاةُ تَمْحُو الْفَقْرَ مِنَ الْمُجْتَمَعِ» [সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত]

المقدمة : الزكاة هي الركن الثالث من أركان الإسلام، والنظام المالي الإلهي العادل الذي شرعه الله سبحانه لتحقيق التوازن الاقتصادي، والقضاء على التفاوت الطبقي، وتطهير النفوس والأموال من الشح والأنانية؛ قال تعالى: ﴿خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا﴾ [التوبة: 103].

دور الزكاة في القضاء على الفقر والبطالة :

  • إعادة توزيع الثروة بعدالة : تضمن الزكاة تدفق جزء محدد من أموال الأغنياء إلى الفقراء والمساكين، مما يمنع تكدس الثروات في أيدي فئة قليلة، عملاً بقوله تعالى: ﴿كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ﴾.
  • تنشيط القوة الشرائية والاقتصاد : عند إعطاء الزكاة للمحتاجين، تُوجّه فوراً نحو تلبية الحاجات الأساسية (الغذاء، الكساء، الدواء)، مما ينعش الأسواق ويزيد من حركة الإنتاج والاستهلاك.
  • تحويل الفقير إلى منتج ومستثمر : يجوز في الفقه إعطاء الفقير ما يكفيه لإقامة مشروع تجاري أو حرفي صغير يعينه على الكسب الذاتي والخروج الدائم من دائرة الفقر.
  • الشاهد التاريخي المجيد : حين طُبّق نظام الزكاة بإحكام في عهد الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز رحمه الله، فاض المال حتى كان المنادي يطوف في أرجاء الدولة بالزكاة فلا يجد أحداً يقبلها لعدم وجود فقير واحد.

الخاتمة : إن الزكاة ليست ضريبة بشرية، بل هي عبادة مالية مقدسة؛ وإذا التزم أثرياء العالم الإسلامي بإخراج زكاتهم كاملة فلن يبقى فقير واحد يتكفف الناس في بلادنا.

(ز) مقالة بعنوان : «حُقُوقُ الْإِنْسَانِ فِي الْإِسْلَامِ» [ইসলামে মানবাধিকার]

المقدمة : سبقت الشريعة الإسلامية كافة القوانين والمواثيق الوضعية المعاصرة بأكثر من أربعة عشر قرناً في تقرير حقوق الإنسان وحمايتها، وجعلها منحة ربانية ملزمة غير قابلة للمساومة أو الإلغاء، تقوم على كرامة بني آدم الأصيلة؛ قال تعالى: ﴿وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ﴾ [الإسراء: 70].

أهم الحقوق التي كفلها الإسلام : حق الحياة وحرمة الدماء (قتل النفس كقتل الناس جميعاً)، وحق الحرية الدينية والاعتقاد (﴿لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ﴾)، وحق المساواة التامة أمام القانون والقضاء دون تمييز بعرق أو لون أو نسب، وحق العدالة الاجتماعية وحرمة الأموال والأعراض، وحق التملك والعمل والتعليم.

الخاتمة : إن وثيقة ‘حجة الوداع’ النبوية الخالدة ستبقى أعظم إعلان عالمي لحقوق الإنسان عرفه التاريخ البشري، والتمسك بتعاليمها هو السبيل لتحقيق العدالة والسلام العالمي.

(ح) مقالة بعنوان : «الْإِرْهَابُ مُؤَامَرَةٌ جَدِيدَةٌ ضِدَّ الْإِسْلَامِ» [সন্ত্রাসবাদ ইসলামের বিরুদ্ধে এক নতুন ষড়যন্ত্র]

المقدمة : الإسلام هو دين السلام والرحمة والعدل، وشريعته جاءت لحفظ الضروريات الخمس: الدين والنفس والعقل والعرض والمال. إلا أن العالم يشهد اليوم ظاهرة الإرهاب المقيتة التي يُراد إلصاقها زوراً وبهتاناً بالإسلام، في مؤامرة إعلامية وفكرية خبيثة تهدف إلى تشويه صورته الناصعة وصرف البشرية عن رسالته الإنسانية السمحة.

موقف الإسلام الحاسم من الإرهاب والعنف : حرّم الإسلام إراقة دم أي إنسان بريء أياً كانت ديانته أو جنسيته، قال تعالى: ﴿مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا﴾. كما نهى الإسلام عن ترويع الآمنين، والغدر، وقتل النساء والأطفال والشيوخ، والاعتداء على دور العبادة في الحروب والسلم. إن الجماعات المتطرفة لا تمثل الإسلام بل هي أدوات مشبوهة تخدم مصالح أعدائه.

الخاتمة : إن مسؤولية العلماء والإعلاميين والدعاة اليوم هي كشف حقيقة هذا التآمر، وتبيان براءة الإسلام من كل صور التطرف والإرهاب، ونشر رسالة الحوار والوسطية والرحمة للعالمين.


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

ফাযিল স্নাতক ৩য় বর্ষ উচ্চতর আরবি ৩য় পত্রের সিলেবাসের প্রধান অংশগুলো কী কী?

সিলেবাসের প্রধান অংশ দুটি: ইলমুন নাহু ও সরফের ব্যাকরণ তত্ত্ব (৭০ নম্বর) এবং ব্যবহারিক অনুবাদ ও আরবি প্রবন্ধ রচনা (৩০ নম্বর)।

কালাম হওয়ার জন্য আরবি ব্যাকরণে কয়টি শর্ত পূরণ হতে হয়?

কালাম হওয়ার জন্য ৪টি শর্ত পূরণ হতে হয়: লাফজ (উচ্চারিত শব্দ), মুরাক্কাব (যৌগিক), মুফিদ (পরিপূর্ণ অর্থবোধক) এবং বিল ওয়াজ’য়ি (আরবি ব্যাকরণিক রীতি অনুসারে)।

ইসমে মাওসুলে ‘সিলাহ’ ও ‘আয়েদ’ বলতে কী বোঝায়?

ইসমে মাওসুলের পরে অর্থ পূর্ণ করার জন্য যে পূর্ণাঙ্গ বাক্যটি আসে তাকে ‘সিলাহ’ বলে; আর সিলাহর ভেতর যে সর্বনামটি মাওসুলের দিকে ফিরে আসে তাকে ‘আয়েদ’ বলে।

আসমাউল ইসতিফহামের মধ্যে বিবেকবান মানুষের জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?

বিবেকবান সত্তার জন্য ‘মান’ (مَنْ) ব্যবহৃত হয়, আর অবোধ প্রাণী ও বস্তুর জন্য ‘মা’ (مَا) ব্যবহৃত হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কী?

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে রক্তদানকারী শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

ইসলামে দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের ঐতিহাসিক ভূমিকা কেমন ছিল?

খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর আমলে জাকাত ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নের ফলে মুসলিম সমাজে একজনও জাকাত গ্রহণের মতো দরিদ্র অবশিষ্ট ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *