ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিষয়: ইসলামী দর্শন ও তাসাউফ (ঐচ্ছিক) তৃতীয় পত্র (বিষয় কোড: 424)
(তাসাউফ (সূফীদের ইতিহাস))
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০
[দ্রষ্টব্য : সকল প্রশ্নের মান সমান। যে-কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২-এর ইসলামী দর্শন ও তাসাউফ ৩য় পত্র (বিষয় কোড: ৪২৪) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির ২০ নম্বরের রচনামূলক প্রশ্নের উচ্চমান বজায় রেখে ভূমিকা, দার্শনিক পরিভাষা, প্রামাণ্য দলিল, বিশ্লেষণী ছক এবং সমকালীন মূল্যায়ন সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।
১। ইসলামী দর্শন ও নৈতিকতা সম্পর্কে আলোচনা কর।
[Discuss Islamic philosophy and ethics.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
নীতিদর্শন বা ইলমুল আখলাক (Ethics / علم الأخلاق) হলো ইসলামী দর্শনের সর্বাধিক ফলপ্রসূ ও মানবিক শাখা। নিছক জ্ঞানার্জন যদি মানুষের চরিত্রে কোনো ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাতে না পারে, তবে সেই জ্ঞানকে ইসলাম অর্থহীন গণ্য করে। অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ নীতিদর্শনে যেখানে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সামাজিক উপযোগিতা বা ব্যক্তিক স্বার্থ, ইসলামী দর্শনে নৈতিকতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ওহীর নির্দেশের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক শাশ্বত ও সার্বজনীন ঐশী অনুশাসন।
১. ইসলামী দর্শনে নৈতিকতার সংজ্ঞা ও মূলভিত্তি:
– ইমাম ইবনে মিসকাওয়াইহ (র)-এর মতে: তাঁর অমর গ্রন্থ তাহযীবুল আখলাক-এ তিনি লিখেছেন: “আখলাক হলো মানুষের অন্তরের এমন এক স্থায়ী মানসিক স্বভাব বা গুণ, যার মাধ্যমে কোনো প্রকার গভীর চিন্তা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকর্ম প্রকাশ পায়।”
– রাসূলুল্লাহ (সা)-এর মিশন: নবী করীম (সা) ইরশাদ করেছেন:
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الْأَخْلَاقِ
“উত্তম নৈতিক চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্যই কেবল আমি প্রেরিত হয়েছি।” (মুসনাদে আহমাদ: ৮৯৫২)।
– কুরআনের ঘোষণা: মহানবী (সা)-এর চরিত্র সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ (“আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।” – সূরা আল-কলম: ৪)।
২. ইসলামী নীতিদর্শনের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
| মৌলিক বৈশিষ্ট্য | বিশদ দার্শনিক বিশ্লেষণ |
|---|---|
| ১. ঐশী ও শাশ্বত ভিত্তি | ভালো ও মন্দের মানদণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে বা যুগের হাওয়ায় পরিবর্তিত হয় না। মিথ্যা, জুলুম ও ব্যভিচার সর্বদা মন্দ; সত্য, ইনসাফ ও পরোপকার সর্বাবস্থায় ভালো। |
| ২. অভ্যন্তরীণ নিয়তের পবিত্রতা | বাহ্যিক ভালো কাজের পাশাপাশি অন্তরের নিয়ত বিশুদ্ধ হতে হবে। হাদিস: “إنما الأعمال بالنيات” (সকল কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)। লোকদেখানো ভালো কাজও ইসলামে পাপ। |
| ৩. ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা (আল-ওয়াসাতিয়্যাহ) | চরম কাপুরুষতা ও নির্বোধ দুঃসাহসের মাঝে মধ্যপন্থা হলো ‘বীরত্ব’; চরম কৃপণতা ও অপব্যয়ের মাঝে মধ্যপন্থা হলো ‘মিতব্যয়িতা’। এই মধ্যপন্থাই ফজিলত। |
| ৪. ইহলৌকিক ও পরলৌকিক জবাবদিহিতা | মানুষের প্রতিটি কর্ম ফেরেশতারা লিপিবদ্ধ করছেন এবং কিয়ামতের দিন সরিষার দানা পরিমাণ ভালো বা মন্দেরও বিচার হবে। এই বিশ্বাস মানুষকে গোপনেও সৎ রাখে। |
৩. সমাজ সংস্কারে ইসলামী নীতিদর্শনের ভূমিকা:
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কেবল অপরাধ ঘটার পর শাস্তি দিতে পারে; কিন্তু ইসলামী নৈতিকতা মানুষের অন্তরে তাকওয়ার প্রহরী বসিয়ে অপরাধ সংঘটনের চিন্তাই নষ্ট করে দেয়। ফলে সমাজ দুর্নীতি, নারী নির্যাতন ও অবিচারমুক্ত এক নিরাপদ উদ্যানে পরিণত হয়।
উপসংহার:
ইসলামী দর্শন ও নৈতিকতা অবিচ্ছেদ্য। নৈতিকতাহীন দর্শন যেমন অন্ধ অহংকারের জন্ম দেয়, তেমনি দর্শনবিহীন নৈতিকতা তাত্ত্বিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলে। এই উভয়ের সমন্বয়েই রচিত হয় মানব জাতির শান্তি ও চিরমুক্তি।
২। মুতাজিলা দর্শন আলোচনা কর।
[Discuss the philosophy of Mutazila.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
দ্বিতীয় হিজরি শতকে উমাইয়া খেলাফতের শেষার্ধে মুসলিম ধর্মতত্ত্বে যে প্রথম প্রথাবদ্ধ ও কট্টর যুক্তিবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা ইতিহাসে ‘মুতাজিলা দর্শন’ (المعتزلة) নামে খ্যাত। বসরায় বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরি (র)-এর দরবার থেকে কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির পরিণতি সংক্রান্ত মতপার্থক্যের কারণে ওয়াসিল ইবনে আতা (৮০-১৩১ হিজরি) দলছুট (ই’তিযাল) হয়ে এই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রিক দর্শনের যুক্তিপদ্ধতি গ্রহণ করে তারা ইসলামের বিভিন্ন আকিদাকে আকলের মানদণ্ডে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বহু বিতর্কিত মতের জন্ম দিয়েছিল।
১. মুতাজিলা দর্শনের পঞ্চমূলনীতি (الأصول الخمسة):
| পঞ্চমূলনীতি | মুতাজিলাদের তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চরমপন্থী অবস্থান |
|---|---|
| ১. আত-তাওহীদ (একত্ববাদ) | আল্লাহর জাত ও সিফাতকে অভিন্ন মনে করা। আল্লাহর হাত, চোখ বা আরশে সমাসীন হওয়ার রূপক অস্বীকার করা এবং কুরআনকে ‘সৃষ্ট’ (খালকে কুরআন) দাবি করা। |
| ২. আল-আদল (ন্যায়বিচার) | আল্লাহ কোনো অন্যায় করতে পারেন না। অতএব মানুষ তার নিজের কাজের পূর্ণ স্বাধীন স্রষ্টা। মানুষের কাজের কোনো তকদির বা পূর্বনির্ধারণ নেই। |
| ৩. আল-ওয়াদ ওয়াল ওয়াইদ (প্রতিশ্রুতি ও হুমকি) | আল্লাহ নেককারকে জান্নাত এবং কবিরা গুনাহগারকে অনন্ত জাহান্নাম দিতে বাধ্য; তিনি কাউকে নিজ দয়ায় ক্ষমা করতে পারেন না। |
| ৪. আল-মানজিলা বাইনাল মানজিলাতাইন | কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি মুমিনও নয়, আবার কাফেরও নয়; সে মধ্যবর্তী এক স্তরে (ফাসিক) অবস্থান করে এবং তওবা না করে মরলে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। |
| ৫. আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার | সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও বলপ্রয়োগ করে চাপিয়ে দেওয়া। |
২. মিহনা বা রাষ্ট্রীয় নির্যাতন পর্ব:
আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন ও আল-মুতাসিমের আমলে মুতাজিলা মতবাদকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম ঘোষণা করা হয় এবং কুরআন যে সৃষ্ট (খালকে কুরআন)—তা জোরপূর্বক মানতে বাধ্য করার জন্য ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র)-সহ সুন্নি আলেমদের ওপর বর্বর নির্যাতন (মিহনা) চালানো হয়। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের অটল পাহাড়ের মতো ঈমানি প্রতিরোধের মুখে অবশেষে মুতাজিলাদের পতন ঘটে।
৩. মুতাজিলা দর্শনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক:
– ইতিবাচক অবদান: ভিন্ন ধর্মীয় বিতর্ককারী ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে যুক্তির মাধ্যমে ইসলামের প্রতিরক্ষায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং ইলমুল কালামের সূচনা ঘটিয়েছিল।
– ভয়াবহ বিচ্যুতি: ওহীকে বুদ্ধির অধীনস্থ করে ফেলা, আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করা এবং উম্মাহর ঐক্যে ফাটল ধরানো ছিল তাদের মারাত্মক ভ্রান্তি।
উপসংহার:
পরবর্তীতে ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (র) মুতাজিলাদের কট্টর যুক্তিবাদ এবং প্রাচীনপন্থীদের অনমনীয়তার মাঝে এক ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠা করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মূলধারা পুনর্গঠন করেন।
৩। জাবারিয়া ও কাদারিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।
[Make a comparative study between philosophy of the Qudaries and the Zabarites.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
ইসলামী ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের সূচনালগ্নে মানুষের ‘স্বাধীন ইচ্ছা’ (Free Will) এবং ‘আল্লাহর তকদির বা পূর্বনির্ধারণ’ (Predestination)-কে কেন্দ্র করে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী ও চরমপন্থী সম্প্রদায়ের জন্ম হয়েছিল। এর একটি হলো চরম অদৃষ্টবাদী ‘জাবারিয়া’ (الجبرية) সম্প্রদায় এবং অন্যটি হলো চরম স্বাধীনতাবাদী ‘কাদরিয়া’ (القدرية) সম্প্রদায়। এই দুটি দলই কুরআন ও হাদিসের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচ্যুত হয়ে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছিল।
১. জাবারিয়া ও কাদরিয়া সম্প্রদায়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
| তুলনার ক্ষেত্র | জাবারিয়া সম্প্রদায় (Determinists) | কাদরিয়া সম্প্রদায় (Libertarians) |
|---|---|---|
| ১. প্রবক্তা ও উৎপত্তি | জাহম ইবনে সাফওয়ান ও জাদ ইবনে দিরহাম। উমাইয়াদের রাজনৈতিক স্বার্থে এর বিস্তার ঘটে। | মাবাদ আল-জুহানী ও গায়লান দামেস্কী। উমাইয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ। |
| ২. মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা | মানুষের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা, শক্তি বা স্বাধীনতা নেই। মানুষ হলো বাতাসের মুখে শুকনো পালকের মতো বা কলের পুতুলের মতো বাধ্য (মাজবুর)। | মানুষ তার ভালো-মন্দ কাজের সম্পূর্ণ স্বাধীন স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক। মানুষের ইচ্ছার ওপর আল্লাহর কোনো পূর্বনির্ধারণ নেই। |
| ৩. তকদির বা ভাগ্যের ভূমিকা | ভাগ্যের নিরঙ্কুশ শাসন। পাপী ব্যক্তি পাপ করে কারণ আল্লাহ তাকে দিয়ে জোরপূর্বক তা করিয়েছেন। | তকদির বলতে কিছু নেই। আল্লাহ আগে থেকে জানেন না মানুষ কী করবে; মানুষ যখন কাজ করে তখনই কেবল আল্লাহ তা জানেন। |
| ৪. নৈতিক দায় ও ফলাফল | মানুষের কাজের কোনো নৈতিক পুরস্কার বা শাস্তির যৌক্তিকতা থাকে না; কারণ বাধ্য যন্ত্রের কোনো পাপ বা পুণ্য হতে পারে না। | আল্লাহর সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও সর্বময় কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন হয় এবং মানুষকে প্রায় স্রষ্টার সমকক্ষ কর্তা ভাবা হয়। |
২. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান (আল-কাসব তত্ত্ব):
সুন্নি ধর্মতাত্ত্বিকগণ (বিশেষত ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী ও ইমাম মাতুরিদী) প্রমাণ করেন যে সত্য এই দুই চরমপন্থার ঠিক মধ্যস্থলে অবস্থিত:
– আল্লাহ হলেন কাজের স্রষ্টা (খালিক): মহাবিশ্বের কোনো কিছুই আল্লাহর সৃষ্টি ও শক্তির বাইরে নয়।
– মানুষ হলো কাজের অর্জনকারী (কাসিব): আল্লাহ মানুষকে সীমিত স্বাধীন ইচ্ছা ও ভালো-মন্দ বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। মানুষ তার অর্জিত ইচ্ছার (কাসব) কারণেই পুরস্কার বা শাস্তি পাবে।
কুরআন স্পষ্ট ঘোষণা করে: لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ (“সে যা অর্জন করেছে তা তার জন্য, আর যে পাপ সে কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে।” – সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)।
উপসংহার:
জাবারিয়াবাদ মানুষকে কর্মবিমুখ ও আলস করে তোলে, আর কাদরিয়াবাদ মানুষকে চরম অহংকারী ও খোদাবিমুখ করে তোলে। ইসলামের সুষম মধ্যপন্থা মানুষকে তকদিরে বিশ্বাসী রেখেও কঠোর পরিশ্রম ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের অবিচল প্রেরণা জোগায়।
৪। ইবনে খালদুনের দর্শন আলোচনা কর।
[Discuss the philosophy of Ibn Khaldun.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
ওয়ালিউদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালদুন (১৩৩২-১৪০৬ খ্রি.) ছিলেন মুসলিম সভ্যতার অপরাহ্ণে আবির্ভূত এক অনন্য মহাপ্রতিভা। বিশ্ব পণ্ডিত সমাজ একবাক্যে স্বীকার করে যে, তিনি কেবল একজন ঐতিহাসিক ছিলেন না; বরং তিনিই ছিলেন আধুনিক সমাজবিজ্ঞান (Sociology), মানব সংস্কৃতি বিজ্ঞান (ইলমুল উমরান), রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং ইতিহাসের দর্শনের প্রকৃত জন্মদাতা। তাঁর অমর কালজয়ী গ্রন্থ আল-মুকাদ্দিমা (Muqaddimah) মানব সমাজ ও রাষ্ট্রের উত্থান-পতনের এক অতুলনীয় বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ উপহার দিয়েছে।
১. সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও অভিজ্ঞতা:
– জন্ম ও শিক্ষা: উত্তর আফ্রিকার তিউনিসে এক সম্ভ্রান্ত আন্দালুসীয় আরব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও দর্শনে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জনের পর তিনি তিউনিস, ফেজ, গ্রানাডা ও কায়রোর বিভিন্ন রাজদরবারে মন্ত্রী, কূটনীতিক ও প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
– ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা: রাজদরবারের ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার পালাবদল এবং যাযাবর বেদুইনদের সমাজ বাস্তবতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সমাজবিজ্ঞানের অমোঘ সূত্রাবলি আবিষ্কার করেন।
২. ইবনে খালদুনের দর্শনের প্রধান প্রধান স্তম্ভ ও তত্ত্বসমূহ:
| তত্ত্বের নাম | দার্শনিক ব্যাখ্যা ও যুগান্তকারী অন্তর্দৃষ্টি |
|---|---|
| ১. আসাবিয়াহ তত্ত্ব (Social Cohesion) | রক্তের টান, পারস্পরিক সংহতি ও সমষ্টিগত আত্মমর্যাদাবোধ। যাযাবর বা বেদুইনদের আসাবিয়াহ অত্যন্ত শক্তিশালী থাকে, যার জোরে তারা বিচ্ছিন্ন সভ্য শহর আক্রমণ করে নতুন রাজবংশ ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। |
| ২. রাষ্ট্রের জৈবিক চক্র তত্ত্ব (Cyclical Theory) | রাষ্ট্র মানুষের মতো জন্ম নেয়, যৌবনে পৌঁছায়, ভোগ-বিলাসের কারণে বার্ধক্যে উপনীত হয় এবং সাধারণত তিন বা চার প্রজন্মে (১২০ বছর) ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। |
| ৩. পরিবেশ ও ভৌগোলিক প্রভাব | আবহাওয়া, ভূপ্রকৃতি এবং খাদ্য মানুষের স্বভাব, সংস্কৃতি ও শারীরিক গঠন নির্ধারণ করে। |
| ৪. অর্থনীতির সমাজবিজ্ঞান | শ্রমই হলো মূল্যের উৎস। অতিরিক্ত করারোপ বাণিজ্যকে ধ্বংস করে এবং রাষ্ট্রের পতন ত্বরান্বিত করে। আধুনিক ‘সাপ্লাই-সাইড’ অর্থনীতির বহু পূর্বসূরি ছিলেন তিনি। |
| ৫. ইলমুল উমরান (মানব সমাজ বিজ্ঞান) | তিনি ঘোষণা করেন ইতিহাস নিছক যুদ্ধবিগ্রহের সন-তারিখ নয়; বরং মানব সমাজের বিবর্তন, পেশা, সংস্কৃতি ও নগরজীবনের কার্যকারণ অনুসন্ধান করাই আসল ইতিহাস। |
৩. পাশ্চাত্য মনীষীদের ভূয়সী প্রশংসা:
বিখ্যাত ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) লিখেছেন: “ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমায় এমন এক ইতিহাসের দর্শন উদ্ভাবন করেছেন, যা নিঃসন্দেহে যেকোনো যুগে যেকোনো দেশের যেকোনো মেধার দ্বারা সৃষ্ট একক সর্বশ্রেষ্ঠ মাস্টারপিস।”
উপসংহার:
ইবনে খালদুন মধ্যযুগীয় গতানুগতিকতার খোলস ভেঙে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কার্যকারণের আলোকে বিশ্লেষণ করেছিলেন। তাঁর সমাজদর্শন আজও বিশ্ব রাষ্ট্রনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের পাঠশালায় এক দীপ্তিমান আলোকবর্তিকা।
৫। ইবনে রুশদের দর্শন আলোচনা কর।
[Discuss the philosophy of Ibn Rushd.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রুশদ (১১২৬-১১৯৮ খ্রি.), পাশ্চাত্যে যিনি ‘অ্যাভেরোস’ (Averroes) নামে পরিচিত, ছিলেন মুসলিম আন্দালুসের (স্পেন) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, ফকীহ ও চিকিৎসাশাস্ত্রবিদ। দর্শনের ইতিহাসে তাঁকে বলা হয় ‘দ্য গ্রেট কমেন্টেটর’ (The Commentator বা শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার); কারণ তিনিই অ্যারিস্টটলের মূল দর্শনকে গ্রিক ও নিও-প্লাতোনিক বিকৃতি থেকে মুক্ত করে তার বিশুদ্ধ রূপ ব্যাখ্যা করেছিলেন। একই সাথে ধর্ম ও দর্শনের মাঝে যে কোনো মৌলিক বিরোধ নেই, তা প্রমাণে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।
১. সংক্ষিপ্ত জীবনী ও বিচারপতির জীবন:
– জন্ম ও শিক্ষা: স্পেনের কর্ডোভায় এক ঐতিহ্যবাহী প্রধান বিচারপতির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মালিকী ফিকহে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং তাঁর রচিত তুলনামূলক ফিকহ গ্রন্থ বিদায়াতুল মুজতাহিদ আজও বিশ্বব্যাপী ফিকহ বিশেষজ্ঞদের কাছে শ্রেষ্ঠ আকর গ্রন্থ।
– প্রধান বিচারপতি: তিনি সেভিল ও কর্ডোভার প্রধান কাজী (বিচারপতি) এবং খলিফা আবু ইয়াকুব ইউসুফের রাজদরবারের প্রধান চিকিৎসক ছিলেন।
২. ইবনে রুশদের দর্শনের কালজয়ী অবদানসমূহ:
| অবদানের ক্ষেত্র | সুনির্দিষ্ট রূপ ও কালজয়ী গ্রন্থ |
|---|---|
| ১. ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয়: ফাসলুল মাকাল | তাঁর অমর গ্রন্থ ফাসলুল মাকাল (فصل المقال)-এ তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করেন যে দর্শন চর্চা করা কেবল জায়েজই নয়, বরং কুরআনের আলোকে ওয়াজিব। কারণ সত্য কখনোই অন্য সত্যের বিরোধী হতে পারে না। ওহী এবং মানুষের বিশুদ্ধ বুদ্ধি একই পরম উৎসের দুটি প্রকাশ। |
| ২. তাহাফুতুত তাহাফুত (অসঙ্গতির অসঙ্গতি) | ইমাম গাযযালী তাঁর তাহাফুতুল ফালাসিফা গ্রন্থে মুসলিম দার্শনিকদের যেসব ভুল ধরেছিলেন, ইবনে রুশদ প্রায় এক শতাব্দী পর কঠোর যুক্তি দিয়ে গাযযালীর বক্তব্যের জবাব দেন এবং দর্শনের স্বাধীনতা রক্ষা করেন। |
| ৩. যুক্তির সার্বভৌমত্ব ও অ্যারিস্টটলীয় ভাষ্য | অ্যারিস্টটলের প্রায় প্রতিটি গ্রন্থের ওপর তিন ধরনের (সংক্ষিপ্ত, মধ্যম ও বৃহৎ) অনবদ্য ভাষ্য রচনা করেন, যা ইউরোপের অন্ধকার যুগ ঘোচাতে মূখ্য ভূমিকা রাখে। |
| ৪. দ্বৈত সত্যের অপবাদের খণ্ডন | পাশ্চাত্য পণ্ডিতরা অভিযোগ করেন ইবনে রুশদ ‘দ্বৈত সত্যে’ (Double Truth) বিশ্বাসী ছিলেন। অথচ তিনি কখনোই তা বলেননি; বরং সত্য যে এক ও অখণ্ড, তিনি সেটাই প্রমাণ করেছিলেন। |
৩. ইউরোপীয় রেনেসাঁসে ইবনে রুশদের ঐতিহাসিক প্রভাব:
ইউরোপে ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে ‘ল্যাটিন অ্যাভেরোইজম’ (Latin Averroism) নামক এক বিশাল বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব গড়ে ওঠে। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় ও পদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইবনে রুশদের দর্শন গির্জার অন্ধ গোঁড়ামি ভেঙে আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
উপসংহার:
ইবনে রুশদ ছিলেন মুসলিম মুক্তবুদ্ধি ও প্রজ্ঞার এক অপরাজেয় প্রতীক। অন্ধ অনুকরণ বর্জন করে ওহীর আলোয় যুক্তিকে সমুন্নত রাখার যে আদর্শ তিনি রেখে গেছেন, তা আধুনিক সভ্যতার জন্য এক অনন্য পাথেয়।
৬। আল্লাহর ধারণা সম্পর্কে মুসলিম দর্শনের ব্যাখ্যা লেখ।
[Write the explanation of Muslim philosophy about the conception of Allah.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
মুসলিম দর্শনের সামগ্রিক চিন্তার মূল কেন্দ্রবিন্দু ও পরম ভিত্তি হলো ‘আল্লাহর ধারণা’ (Concept of God / الألوهية)। বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর একত্ববাদ (তাওহীদ), তাঁর অসীম সত্তা ও গুণাবলির (জাত ও সিফাত) স্বরূপ উদ্ঘাটনে মুসলিম দার্শনিকগণ যে গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, তা দর্শনের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। এটি একদিকে নিছক গ্রিক দর্শনের নিঃস্পৃহ নির্লিপ্ত ঈশ্বর ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, অন্যদিকে অন্ধ নৃতাত্ত্বিক রূপকের অপব্যাখ্যা থেকেও মুক্ত থেকেছে।
১. মুসলিম দর্শনে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রামাণ্য দার্শনিক যুক্তিসমূহ:
– ওয়াজিবুল উজূদের প্রমাণ (Proof from Contingency): আল-ফারাবি ও ইবনে সিনা প্রমাণ করেন যে, বিশ্বের সমস্ত বস্তু হলো ‘মুমকিনুল উজূদ’ (সম্ভাব্য সত্তা), যার অস্তিত্ব অন্য কোনো কারণের ওপর নির্ভরশীল। কার্যকারণের এই শৃঙ্খল অসীম পর্যন্ত চলতে পারে না (تسلسل বা অনন্ত পশ্চাদপসরণ অসম্ভব)। অতএব এই শৃঙ্খলের শুরুতে এমন এক আদি সত্তা থাকা আবশ্যক যিনি স্বয়ংসিদ্ধ, চিরন্তন এবং কোনো কারণের ওপর নির্ভরশীল নন—তিনিই হলেন ‘ওয়াজিবুল উজূদ’ বা আল্লাহ।
– সৃষ্টিতাত্ত্বিক বা নব্য সৃষ্টির প্রমাণ (হুদূস তত্ত্ব): কালামবিদ ও দার্শনিকগণ বলেন: বিশ্বজগৎ পরিবর্তনশীল; আর যা পরিবর্তনশীল তা নশ্বর ও নতুন (হাদিস)। প্রতিটি নতুন সৃষ্টির একজন স্রষ্টা থাকা অপরিহার্য। অতএব মহাবিশ্বের একজন অনাদি স্রষ্টা বিদ্যমান।
– সুশৃঙ্খল নকশার প্রমাণ (Inayat বা Design Argument): ইবনে রুশদ ও গাযযালীর মতে, মহাবিশ্বের অনু-পরমাণু থেকে সুবিশাল নীহারিকা পর্যন্ত যে নিখুঁত শৃঙ্খলা ও মানুষের উপযোগী পরিবেশ বিদ্যমান, তা প্রমাণ করে এর পেছনে একজন পরম প্রজ্ঞাময় পরিকল্পনাকারী আল্লাহ রয়েছেন।
২. আল্লাহর জাত ও সিফাত (সত্তা ও গুণাবলি) সংক্রান্ত দার্শনিক বিতর্ক:
| দার্শনিক ধারা | আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) বিষয়ক দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি |
|---|---|
| ১. মুতাজিলা দর্শন | আল্লাহর একত্ববাদ রক্ষার অজুহাতে তারা আল্লাহর সিফাতসমূহকে জাত থেকে অতিরিক্ত মানতে অস্বীকার করে এবং বলে আল্লাহর জ্ঞান বা শক্তি তাঁর সত্তা থেকে পৃথক কোনো কিছু নয়। |
| ২. আশআরিয়া ও সুন্নি দর্শন | আল্লাহর গুণাবলি (জ্ঞান, কুদরত, হায়াত, কালাম) চিরন্তন এবং সত্য; তবে তা তাঁর জাতের সমরূপও নয়, আবার জাত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নও নয় (“لا هو ولا غيره”)। |
| ৩. মাশশাই (ইবনে সিনা) দর্শন | আল্লাহ পরম সরল সত্তা (Pure Actuality)। তিনি বিশ্বজগতের সার্বিক বিষয়াবলি অবলোকন করেন এবং তাঁর জ্ঞানই হলো সমস্ত সৃষ্টির সৃষ্টির মূল উৎস। |
৩. কুরআনের অকাট্য তাওহীদি ঘোষণা:
মুসলিম দার্শনিকদের সমস্ত যুক্তির মূল নির্যাস হলো পবিত্র কুরআনের এই বাণী:
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
“কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা আশ-শূরা: ১১)।
উপসংহার:
মুসলিম দর্শনে আল্লাহ নিছক কোনো দূরবর্তী বিমূর্ত ধারণা নন; তিনি পরম স্নেহময়, ইনসাফকারী, প্রার্থনা শ্রবণকারী এবং আসমান ও জমিনের একমাত্র চিরন্তন নুর।
৭। ইসলামী ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে আলোচনা কর।
[Discuss about Islamic Theology.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
ইসলামী জ্ঞানকাণ্ডে ধর্মতত্ত্বকে ‘ইলমুল কালাম’ (علم الكلام – Scholastic Theology) বা ‘ইলমুত তাওহীদ ওয়াল সিফাত’ বলা হয়। এটি এমন এক তাত্ত্বিক শাস্ত্র, যার মাধ্যমে যুক্তিতর্ক ও দার্শনিক প্রমাণের সাহায্যে ইসলামী আকিদা-বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ইসলামবিরোধীদের উত্থাপিত নানা সংশয় ও অভিযোগের সুসংহত জবাব প্রদান করা হয়। উমাইয়া ও আব্বাসীয় খেলাফতের আমলে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সাথে সংঘাতের মুখে এই শাস্ত্রটি অপরিহার্য প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর হিসেবে রূপ লাভ করে।
১. ইলমুল কালামের সংজ্ঞা ও নামকরণের কারণ:
– সংজ্ঞা: ইমাম ইবনে খালদুন (র)-এর মতে: “ইলমুল কালাম হলো এমন একটি জ্ঞান, যার মাধ্যমে আকলি যুক্তির সাহায্যে ঈমানি আকিদাসমূহ রক্ষা করা হয় এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মূলধারা থেকে বিচ্যুত বিদআতিদের সংশয় অপনোদন করা হয়।”
– নামকরণের কারণ: (ক) আল্লাহর বাণী বা কালাম (কুরআন কি সৃষ্ট নাকি অনাদি)—এই বিষয় নিয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ বিতর্ক হয়েছিল বিধায় একে ইলমুল কালাম বলা হয়; (খ) এটি মানুষের বাকপটুতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক তর্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
২. ইলমুল কালামের প্রধান প্রধান সম্প্রদায়সমূহ:
| সম্প্রদায়ের নাম | প্রতিষ্ঠাতা ও যুগ | প্রধান আকিদাগত দৃষ্টিভঙ্গি |
|---|---|---|
| ১. মুতাজিলা (যুক্তিবাদী ধারা) | ওয়াসিল ইবনে আতা (২য় হিজরি) | আকল বা মানবীয় বুদ্ধিকে প্রধান মানদণ্ড গণ্য করা, তকদির অস্বীকার এবং আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করা। |
| ২. আশআরিয়া (মূলধারা সুন্নি) | ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (৩য়-৪র্থ হিজরি) | ওহী ও যুক্তির ভারসাম্য রক্ষা। তকদিরে ‘কাসব’ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর সিফাতকে যথার্থ মর্যাদা দান। |
| ৩. মাতুরিদিয়া (মূলধারা সুন্নি) | ইমাম আবু মনসুর আল-মাতুরিদী (৪র্থ হিজরি) | ইমাম আবু হানিফার চিন্তার আলোকে মধ্য এশিয়ায় সুন্নি আকিদাকে দার্শনিক কাঠামোয় সুবিন্যস্ত করা। |
| ৪. জাবারিয়া ও কাদরিয়া | জাহম বিন সাফওয়ান ও মাবাদ | চরম ভাগ্যবাদ বনাম চরম স্বাধীন ইচ্ছাবাদের বিভ্রান্তি। |
৩. কালাম শাস্ত্রের প্রধান প্রধান আলোচ্য সমস্যাবলি:
– খালকে কুরআন বিতর্ক: কুরআন কি আল্লাহর অনাদি কালাম, নাকি কোনো সৃষ্ট বস্তু?
– রু’ইয়াতুল্লাহ (আল্লাহর দর্শন): পরকালে কি মুমিনরা স্বচক্ষে আল্লাহকে দেখতে পাবে?
– কবিরা গুনাহগারের পরিণতি: বড় গুনাহ করলে কি মানুষ ঈমান থেকে খারিজ হয়ে যায়?
– তকদির ও মানবীয় ইচ্ছা: মানুষের ভালো-মন্দ কাজের জন্য কতটুকু সে নিজে দায়ী?
উপসংহার:
ইলমুল কালাম ছিল ইসলামের আকিদাগত দুর্গ। সমকালীন বিশ্বে নাস্তিক্যবাদ, বস্তুবাদ ও অজ্ঞেয়বাদের যে নব্য বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন চলছে, তা মোকাবেলায় আধুনিক ইলমুল কালামের পুনর্গঠন অত্যন্ত জরুরি।
৮। খারেজী কারা? তাদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে বর্ণনা কর।
[Who are the Kharijites? Give a description about their rise and development.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
ইসলামের রাজনৈতিক ও ধর্মতাত্ত্বিক ইতিহাসে আত্মপ্রকাশকারী সর্বপ্রথম বিচ্যুত, চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী দলের নাম হলো ‘খারেজী সম্প্রদায়’ (الخوارج – আল-খাওয়ারিজ)। ‘খারাজু’ শব্দ থেকে খারেজী শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ দলত্যাগ করা বা বের হয়ে যাওয়া। সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী (রা) এবং হযরত মুয়াবিয়া (রা)-এর মধ্যকার সালিশি বা তাহকীম মেনে নেওয়ার প্রতিবাদে তারা হযরত আলীর মূল সৈন্যবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে যায়। তাদের উগ্র দৃষ্টিভঙ্গি, সংকীর্ণ তাকফির নীতি এবং মুসলমানদের রক্তপাত মুসলিম উম্মাহর বুকে প্রথম রক্তক্ষয়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে।
১. খারেজীদের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক পটভূমি:
– সিফফিনের যুদ্ধ ও তাহকীম (৩৭ হিজরি): হযরত আলী (রা) যখন পরিস্থিতির চাপে সালিশ মেনে নিতে বাধ্য হন, তখন প্রায় বারো হাজার উগ্র সেনা হারুরা নামক স্থানে একত্র হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তাদের স্লোগান ছিল:
إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ
“আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেওয়ার অধিকার নেই।”
– হযরত আলী (রা)-এর ঐতিহাসিক মন্তব্য: হযরত আলী তাদের এই স্লোগান শুনে বলেছিলেন: “كَلِمَةُ حَقٍّ أُرِيدَ بِهَا بَاطِلٌ” (“কথাটি সত্য, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য করা হয়েছে বাতিল ও ফিতনা।”)
– নাহরাওয়ানের যুদ্ধ ও হযরত আলীর শাহাদাত: হযরত আলী (রা) ৩৮ হিজরিতে নাহরাওয়ানের যুদ্ধে তাদের চরমভাবে দমন করেন। পরবর্তীতে এই খারেজীদেরই আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিম নামক ঘাতক ৪০ হিজরিতে কুফায় ফজরের নামাযের সময় হযরত আলী (রা)-কে নির্মমভাবে শহীদ করে।
২. খারেজীদের প্রধান প্রধান আকিদা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:
| আকিদাগত বৈশিষ্ট্য | চরমপন্থী ব্যাখ্যা ও ভ্রান্তি |
|---|---|
| ১. কবিরা গুনাহগারকে কাফের গণ্য করা | তাদের মতে যেকোনো কবিরা গুনাহ (যেমন মিথ্যা বলা, জিনা) করলেই ব্যক্তি চিরতরে কাফের হয়ে যায় এবং তার রক্ত হালাল। |
| ২. উম্মাহর শীর্ষ সাহাবীদের তাকফির | তারা হযরত আলী, উসমান, আয়েশা, মুয়াবিয়া, তালহা, জুবাইর (রা)-সহ অধিকাংশ মহান সাহাবীকে কাফের ফতোয়া দেয় (নাউযুবিল্লাহ)। |
| ৩. মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে জিহাদ মনে করা | কাফের-মুশরিকদের সাথে শান্তি বজায় রাখলেও নিজেদের মতের বিরোধী সাধারণ মুমিনদের হত্যা করা ও তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করাকে তারা সওয়াবের কাজ মনে করত। |
| ৪. কঠোর বাহ্যিক ইবাদত ও অন্তরের অন্ধত্ব | হাদিসের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী: তারা এত বেশি রোযা ও তাহাজ্জুদ পড়ত যে তাদের সামনে সাহাবীদের আমলও কম মনে হতো; কিন্তু ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করত না। |
৩. রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ভবিষ্যদ্বাণী:
রাসূলুল্লাহ (সা) স্পষ্ট ইরশাদ করেছিলেন: “শেষ যামানায় এমন এক তরুণ নির্বোধ দলের আবির্ভাব ঘটবে, যারা সুন্দর কথা বলবে কিন্তু ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়।” (সহীহ বুখারী: ৫০৫৭)।
উপসংহার:
খারেজীদের এই উগ্র তাকফিরি মানসিকতা আজও বিভিন্ন আধুনিক জঙ্গি গোষ্ঠীর মাঝে দেখা যায়। ইসলামে কট্টরপন্থা ও ধর্মান্ধতার কোনো স্থান নেই; শান্তির সুশীতল মধ্যপন্থাই ইসলামের একমাত্র পরিচয়।
৯। ইসলামী দর্শন ও সৌন্দর্য তত্ত্বের মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণ কর।
[Determine the relationship between Islamic philosophy and aesthetics.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
সৌন্দর্যতত্ত্ব (Aesthetics / علم الجمال – ইলমুল জামাল) হলো দর্শনের সেই শাখা যা সৌন্দর্য, শিল্পকলা, রুচিবোধ এবং নান্দনিক অনুভূতির স্বরূপ ও মানব মনের ওপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ দর্শনে সৌন্দর্যকে নিছক ইন্দ্রিয়সুখ বা নগ্ন রূপচর্চা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ইসলামী দর্শনে সৌন্দর্য হলো পরম স্রষ্টা আল্লাহ তাআলার অনন্ত কুদরত ও মহিমার এক অনুপম প্রকাশ। বিশ্বজগতের প্রতিটি সৃষ্টির নিখুঁত ভারসাম্য ও সুষম গঠনের অন্তরালে যে ঐশী সৌন্দর্যের হাতছানি রয়েছে, তাকে উপলব্ধি করাই ইসলামী সৌন্দর্যতত্ত্বের মূল উদ্দেশ্য।
১. ইসলামী সৌন্দর্যতত্ত্বের মূলভিত্তি ও দলিল:
– বিখ্যাত হাদিস শরীফ: রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম সুন্দর, এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।” (সহীহ মুসলিম: ৯১)।
– কুরআনুল কারীমের নান্দনিক দৃষ্টি: আল্লাহ তাআলা নিখিল সৃষ্টিকে পরম সৌন্দর্যে সজ্জিত করেছেন:
الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ
“যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে সর্বোত্তম সৌন্দর্যে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আস-সাজদাহ: ৭)। আসমানের নক্ষত্ররাজি, ময়ূরের পেখম, ফুলের সুবাস এবং পাহাড়-নদীর অপূর্ব রূপ মানুষের অন্তরে নান্দনিক আনন্দের শিহরণ জাগায়।
২. ইসলামী দর্শনে সৌন্দর্যতত্ত্বের প্রধান প্রধান প্রকাশ ক্ষেত্রসমূহ:
| শিল্প ও নান্দনিক ক্ষেত্র | ইসলামী সৌন্দর্যের অনন্য প্রকাশ ও বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| ১. ইসলামী ক্যালিগ্রাফি (আরবি চারুলিপি) | প্রতিমা ও মূর্তির নগ্নতা বর্জন করে আল্লাহর পবিত্র কালামকে অপরূপ শৈল্পিক রেখা ও নকশায় ফুটিয়ে তোলার এক স্বর্গীয় শিল্প। |
| ২. জ্যামিতিক নকশা ও অ্যারাবেস্ক (Arabesque) | মসজিদের গম্বুজ ও প্রাচীরে অনন্তের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত অসীম জ্যামিতিক নকশা, যা মানুষের মনকে নিখিল বিশ্বের একক নিয়ন্তার দিকে আকর্ষণ করে। |
| ৩. ইসলামী স্থাপত্যকলা | কর্ডোভার গ্র্যান্ড মসজিদ, দিল্লির তাজমহল ও ইস্তাম্বুলের সুলতান আহমদ মসজিদ—যেখানে আলো, ছায়া, পানি ও বাতাসের সুষম প্রয়োগে স্বর্গীয় প্রশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। |
| ৪. আধ্যাত্মিক সুফি কবিতা ও সঙ্গীত | জালালুদ্দীন রুমি, শেখ সাদী ও হাফিজের অমর কাব্যে পরম সুন্দরের প্রতি ভালোবাসার যে প্রকাশ ঘটেছে, তা আত্মাকে জাগতিক পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে। |
৩. ইসলামী সৌন্দর্যতত্ত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্য:
– নৈতিকতার সাথে অবিচ্ছেদ্য: যে শিল্পে অশ্লীলতা, নগ্নতা বা মানবতার অবমাননা রয়েছে, তা কখনো ইসলামী দৃষ্টিতে সৌন্দর্য হতে পারে না। পবিত্রতা ও শালীনতাই সৌন্দর্যের প্রাণ।
– তাওহীদের প্রতিফলন: শিল্প কখনোই স্রষ্টাকে ভুলিয়ে দেবে না; বরং সৃষ্টির সৌন্দর্য দেখে মানুষ যেন পরম সুন্দর স্রষ্টার সিজদায় লুটিয়ে পড়ে।
উপসংহার:
ইসলামী সৌন্দর্যতত্ত্ব মানুষকে ইন্দ্রিয়পরায়ণ পশু না বানিয়ে আত্মিক প্রজ্ঞাবান বানায়। পার্থিব সৌন্দর্যের আয়নায় অনন্ত পরম সুন্দরের অবলোকনই এই দর্শনের পরম লক্ষ্য।
১০। টীকা লেখ (যে-কোনো দুটি):
[Write short notes (any two):]
[মান: ১০ × ২ = ২০]
ভূমিকা:
ইসলামী চিন্তাধারা ও দর্শনের বিভিন্ন যুগে যেসকল যুগান্তকারী ধারণা ও মহান ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটেছে, তাঁরা মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। নিম্নে প্রদত্ত বিষয়াবলির বিশদ অ্যাকাডেমিক টীকা আলোচনা করা হলো:
(ক) সূফীবাদ (التصوف):
সূফীবাদ হলো ইসলামের অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক জীবনদর্শন। শরিয়তের আদেশ-নিষেধের বাহ্যিক অনুসরণের সাথে সাথে অন্তরের কলুষতা (অহংকার, লোভ, রিয়া) দূর করে আল্লাহর খাঁটি প্রেম ও নৈকট্য অর্জন করাই এর উদ্দেশ্য। সাহাবায়ে কেরামের যুহদ ও কৃচ্ছ্রসাধনার মধ্য দিয়ে এর সূচনা এবং পরবর্তীতে কাদেরিয়া, চিশতিয়া প্রভৃতি ত্বরীকার মাধ্যমে এটি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে। ইমাম গাযযালী সূফীবাদ ও শরীয়তের অপূর্ব সমন্বয় সাধন করেন।
(খ) আশআরিয়া সম্প্রদায় (الأشعرية):
ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (২৬০-৩২৪ হিজরি) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সুন্নি কালামশাস্ত্রের প্রধান ধারা। মুতাজিলাদের চরম যুক্তিবাদ এবং উগ্র জাহেরিয়াদের অন্ধ অনুকরণের মাঝে মধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এর কাজ। তারা ওহীর আধিপত্য অক্ষুণ্ণ রেখে দর্শনের যুক্তিকে আকিদার প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করে। আল্লাহর সিফাত, তকদিরে মানুষের ‘কাসব’ এবং পরকালে রু’ইয়াতুল্লাহর যৌক্তিক প্রমাণে আশআরিয়া মতবাদ সুন্নি মুসলিমদের প্রধান আকিদাগত ভিত্তিতে পরিণত হয়।
(গ) ইবনে সিনা (Avicenna):
মুসলিম দর্শনের শ্রেষ্ঠ মনীষী ও চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক (৯৮০-১০৩৭ খ্রি.)। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাঁর আল-কানুন ফিত তিব্ব এবং দর্শনে কিতাবুশ শিফা বিশ্ববিখ্যাত। তিনি সত্তাকে ওয়াজিবুল উজূদ, মুমকিনুল উজূদ ও মুমতানিউল উজূদে বিভক্ত করেন। মানুষের আত্মার অমরত্ব প্রমাণের জন্য তাঁর ‘ভাসমান মানব’ যুক্তি দর্শনের ইতিহাসে এক কালজয়ী মাইলফলক।
(ঘ) আল্লামা ইকবাল:
দার্শনিক কবি ড. মুহাম্মদ ইকবাল (১৮৭৭-১৯৩৮ খ্রি.) ছিলেন মুসলিম উম্মাহর নবজাগরণের অগ্রদূত। তিনি ইউরোপের জড়বাদী বস্তুবাদ ও প্রাচ্যের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করে ‘খুদি তত্ত্ব’ (আত্মসত্তার বিকাশ) প্রবর্তন করেন। তাঁর দ্য রিকনস্ট্রাকশন অব রিলিজিয়াস থট ইন ইসলাম গ্রন্থে তিনি সমকালীন দর্শনের আলোকে ইসলামী আইনের গতিশীলতা ও ইজতিহাদের পুনরুজ্জীবনের অমোঘ আহ্বান জানান।
উপসংহার:
উক্ত টীকাসমূহে বিধৃত মনীষী ও মতবাদগুলো ইসলামী দর্শনের গভীরতা, সমৃদ্ধি ও তার ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার উজ্জ্বল প্রতিফলন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃত জনক কে?
মুসলিম মনীষী ইবনে খালদুনকে তাঁর অমর গ্রন্থ ‘মুকাদ্দিমা’-র জন্য সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
ইবনে রুশদকে দর্শনের ইতিহাসে কী বলা হয়?
অ্যারিস্টটলের শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার (The Great Commentator)।
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বিচ্যুত দল কোনটি?
খারেজী সম্প্রদায় (সিফফিনের যুদ্ধের পর আত্মপ্রকাশ ঘটে)।
মুতাজিলাদের পঞ্চমূলনীতি কী কী?
তাওহীদ, আদল, ওয়াদ ও ওয়াইদ, আল-মানজিলা বাইনাল মানজিলাতাইন এবং আমর বিল মারুফ।
ইসলামী সৌন্দর্যতত্ত্বের মূল প্রেরণা কী?
হাদিসের বাণী: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।’
ওয়াজিবুল উজূদ বলতে কী বোঝায়?
আল্লাহর অপরিহার্য ও স্বয়ংসিদ্ধ সত্তা, যা চিরন্তন এবং যার কোনো কারণ নেই।

