জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

ইলমুস সিয়াসাহ ওয়াল ইদারাতুল আম্মাহ (Ilmus Siyasah wal Idaratul Ammah) – 203308, দাওয়াহ্ ও ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৯ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: 203 | প্রশ্নপত্র কোড: 094
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢٢
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علم السياسة والإدارة العامة
[ইলমুস সিয়াসাহ ওয়াল ইদারাতুল আম্মাহ]
বিষয় কোড: 203308
الوقت — ٤ ساعات [সময় — ৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة — ٨٠ [পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة : أجب عن سؤالين من كل من المجموعتين (أ، ج) وعن أربعة من كل من المجموعتين (ب، د)
[দ্রষ্টব্য: (أ) ও (ج) প্রত্যেক গ্রুপ থেকে দুটি করে এবং (ب) ও (د) প্রত্যেক গ্রুপ থেকে চারটি করে মোট ১২টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) [علم السياسة – أسئلة موسعة / বিভাগ ‘ক’ – রাষ্ট্রবিজ্ঞান রচনামূলক]

মান: ১০ × ২ = ২০ (যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

١- عرّف المجتمع وبيّن خصائصه ومكوناته والعلاقة بين الأفراد والمجتمع-

[১. সমাজের সংজ্ঞা দাও, এর বৈশিষ্ট্য ও উপাদানসমূহ উল্লেখ কর এবং ব্যক্তি ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

মানুষ একা বাস করতে পারে না; পারস্পরিক নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও অভাব পূরণের তাগিদে মানুষ সমবেত হয়ে বসবাস করে। এই পারস্পরিক সম্পর্কের সুসংগঠিত রূপই হলো সমাজ। ইসলাম এমন এক আদর্শিক সমাজের রূপরেখা দেয় যা খোদাভীতি, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

সমাজের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উপাদান

সংজ্ঞা: সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার (MacIver)-এর মতে: “সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের এক নিরবচ্ছিন্ন জাল (web of social relationships), যা সর্বদা পরিবর্তনশীল।”
সহজ কথায়, যখন বহু মানুষ সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একত্রিত হয়ে বসবাস করে, তখন তাকে সমাজ বলে।

সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও উপাদান:

  • পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতা: সমাজের সদস্যরা একে অপরের শ্রম ও দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।
  • অভিন্ন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ: সমাজের নির্দিষ্ট নৈতিক মানদণ্ড ও ঐতিহ্য থাকে।
  • শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: আইন, প্রথা ও ধর্মের মাধ্যমে মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা।
  • স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা: সমাজ কোনো সাময়িক সমাবেশ নয়; এটি যুগ পরম্পরায় টিকে থাকে।

ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক (العلاقة بين الفرد والمجتمع)

  1. সমাজ ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়: সমাজ ছাড়া মানুষ কথা বলতে শিখত না, শিক্ষা ও সংস্কৃতি পেত না। বন্য পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানবশিশু পশুর মতো আচরণ করে। সমাজই মানুষকে সুসভ্য মানবে রূপান্তরিত করে।
  2. ব্যক্তির ত্যাগে সমাজের স্থায়িত্ব: ব্যক্তি যদি কেবল নিজের স্বার্থ দেখত, তবে সমাজ ভেঙে পড়ত। ব্যক্তির কর প্রদান, আইন মান্য করা এবং নৈতিক ত্যাগের মাধ্যমেই সমাজ টিকে থাকে।
  3. ইসলামি ভারসাম্যের দৃষ্টিভঙ্গি:
    পশ্চিমা পুঁজিবাদ ব্যক্তিকে চরম প্রাধান্য দিয়ে সমাজকে ধ্বংস করেছে এবং সমাজতন্ত্র সমাজকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যক্তির স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু ইসলাম এক অনন্য ভারসাম্য তৈরি করেছে:

    • ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সম্পত্তির অধিকারকে ইসলাম সম্মান দিয়েছে।
    • আবার সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে যাকাত প্রদান, সৎকাজের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধকে বাধ্যতামূলক করে এক চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করেছে। রাসূল (সা.) সমাজকে একটি জাহাজের সাথে তুলনা করেছেন—কেউ যদি জাহাজের তলায় ছিদ্র করতে চায়, তবে পুরো জাহাজ রক্ষার্থে তাকে হাত ধরে থামানো সমাজের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব।

উপসংহার

ব্যক্তি ও সমাজ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সুষম সম্পর্কের ওপরই একটি জাতির সার্বিক সমৃদ্ধি নির্ভর করে।


٢- ما هي الدولة الإسلامية؟ واشرح خصائصها وأسسها في ضوء القرآن والسنة-

[২. ইসলামি রাষ্ট্র কী? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামি রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

ইসলাম কেবল একটি ব্যক্তিগত উপাসনার নাম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের সামষ্টিক ইনসাফ ও আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রক্ষমতা একটি অপরিহার্য মাধ্যম। মদিনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফত ব্যবস্থা হলো বিশ্ব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণ রাষ্ট্রের নমুনা।

ইসলামি রাষ্ট্রের সংজ্ঞা (ما هي الدولة الإسلامية)

যে রাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান মহান আল্লাহর চরম সার্বভৌমত্ব (হাকিমিয়্যাত) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং যার মৌলিক দায়িত্ব হলো আমর বিল মারূফ, নাহি আনিল মুনকার এবং সর্বজনীন ইনসাফ কায়েম করা, তাকে ইসলামি রাষ্ট্র বলে।

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামি রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তিসমূহ

  1. আল্লাহর পরম সার্বভৌমত্ব (الحاكمية لله):
    ইসলামি রাষ্ট্রে চরম ক্ষমতার মালিক কোনো রাজা বা জনগণ নয়; বরং একমাত্র মহান আল্লাহ: “জেনে রাখ! সৃষ্টি যাঁর, হুকুম ও কর্তৃত্বও চলবে কেবল তাঁরই।” (সূরা আল-আ’রাফ: ৫৪)
  2. খেলাফত ও প্রতিনিধিত্ব (الخلافة):
    শাসক কোনো খোদা নন; তিনি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইনের অনুগত নির্বাহী প্রতিনিধি এবং জনগণের সেবক।
  3. পরামর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থা (الشورى):
    রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও শাসক নির্বাচন বিজ্ঞ পরামর্শদাতাদের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে হবে: “এবং তাদের পারস্পরিক কার্যাবলী সম্পাদিত হয় পরামর্শের ভিত্তিতে।” (সূরা আশ-শুরা: ৩৮)
  4. আইনের শাসন ও সামাজিক ইনসাফ (العدالة والمساواة):
    রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে অতি সাধারণ নাগরিক—সকলের জন্য আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকার নিশ্চিত করা। এমনকি অমুসলিম নাগরিকদের জান-মালের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া।
  5. আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার:
    কুরআনের সূরা আল-হাজ্জের ৪১ নম্বর আয়াত অনুযায়ী নামাজ কায়েম করা, যাকাত আদায় করা এবং সমাজ থেকে পাপাচার দূর করা ইসলামি রাষ্ট্রের মূল সাংবিধানিক উদ্দেশ্য।
  6. বায়তুল মাল ও শোষণমুক্ত অর্থনীতি:
    সুদ নিষিদ্ধ করে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা, যাতে রাষ্ট্রে কোনো নাগরিক মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) থেকে বঞ্চিত না থাকে।

উপসংহার

ইসলামি রাষ্ট্র হলো ধর্ম, রাজনীতি, নৈতিকতা ও সার্বজনীন মানবাধিকারের এক অনুপম সমন্বয়, যা মানবতার মুক্তি নিশ্চিত করে।


٣- تحدث عن الحرية في نظر الإسلام وأنواعها وضوابطها-

[৩. ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাধীনতার ধারণা আলোচনা কর এবং এর বিভিন্ন প্রকার ও আবশ্যকীয় নীতিমালা ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

স্বাধীনতা মানুষের সহজাত মৌলিক অধিকার। বর্তমান বিশ্ব স্বাধীনতার নামে উগ্র স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়েছে। কিন্তু ইসলাম চৌদ্দশত বছর পূর্বে মানুষকে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ ও অর্থবহ স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে যা মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

ইসলামে স্বাধীনতার ধারণা (مفهوم الحرية)

ইসলামে স্বাধীনতার মূল অর্থ হলো: মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে একমাত্র আল্লাহর দাসত্বে আবদ্ধ করা। হযরত ওমর (রা.) তৎকালীন মিসরের গভর্নর আমর ইবনুল আসের ছেলেকে এক সাধারণ নাগরিকের চড় মারার ঘটনায় ঐতিহাসিক উক্তি করেছিলেন:

مَتَى اسْتَعْبَدْتُمُ النَّاسَ وَقَدْ وَلَدَتْهُمْ أُمَّهَاتُهُمْ أَحْرَارًا؟

“তোমরা কবে থেকে মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মায়েরা তাদের স্বাধীন মানুষ হিসেবে জন্ম দিয়েছে?”

ইসলামে স্বাধীনতার বিভিন্ন প্রকার (أنواع الحرية)

  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা (الحرية الدينية): ইসলামে কাউকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: “দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।” (সূরা আল-বাকারা: ২৫৬)। অমুসলিমদের নিজস্ব ধর্মপালন ও উপাসনালয়ের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
  2. চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা (حرية الرأي والتفكير): সত্য কথা বলা, অন্যায় দেখলে শাসকের সামনে প্রতিবাদ করাকে ইসলাম শ্রেষ্ঠ জিহাদ বলেছে।
  3. ব্যক্তিগত ও চলাচলের স্বাধীনতা: বিনা বিচারে কাউকে আটক রাখা নিষিদ্ধ এবং মানুষের গোপন দোষ খোঁজা ও কারও ঘরে অনুমতি ছাড়া ঢোকা হারাম।
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: হালাল উপায়ে স্বাধীনভাবে ব্যবসা, চাকরি ও সম্পদের মালিকানা ভোগের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

স্বাধীনতার শরয়ি নীতিমালা ও সীমারেখা (ضوابط الحرية)

ইসলামে স্বাধীনতা মানে অবাধ স্বেচ্ছাচারিতা (Absolutism) নয়। স্বাধীনতার অপরিহার্য সীমারেখাসমূহ:

  • নিজের স্বাধীনতা উপভোগ করতে গিয়ে অপরের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বা ক্ষতি করা যাবে না। নীতি হলো: “লা যারারা ওয়ালা যিরার” (ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না, ক্ষতি সওয়াও যাবে না)।
  • আল্লাহর নির্ধারিত হালাল-হারামের সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না (যেমন: মতপ্রকাশের নামে ধর্মের অবমাননা বা অশ্লীলতা ছড়ানো নিষিদ্ধ)।
  • সামাজিক শান্তি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী কর্মকাণ্ড বর্জন করা।

উপসংহার

ইসলামি স্বাধীনতা মানুষকে পশুর মতো স্বেচ্ছাচারী বানায় না; বরং তা তাকে সুসভ্য, দায়িত্বশীল ও আত্মমর্যাদাবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।


٤- عرّف القانون وبيّن مصادره في الشريعة الإسلامية مقارنة بالقانون الوضعي-

[৪. আইনের সংজ্ঞা দাও, ইসলামি শরীয়তের আইনের উৎসসমূহ উল্লেখ কর এবং মানব রচিত আইনের সাথে এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।]

ভূমিকা

একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের প্রধান মাধ্যম হলো আইন। মানব রচিত আইন এবং ইসলামি ঐশী আইনের মধ্যে দর্শন, উৎস ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

আইনের সংজ্ঞা (تعريف القانون)

আইনবিজ্ঞানী স্যালমন্ড (Salmond)-এর মতে: “আইন হলো এমন সব মূলনীতির সমষ্টি যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং বিচার পরিচালনায় আদালতে কার্যকর হয়।”
ইসলামি পরিভাষায় আইন (আশ-শরীয়াহ) হলো: মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) কর্তৃক নির্ধারিত অলঙ্ঘনীয় জীবনবিধান।

ইসলামি আইনের চারটি মৌলিক উৎস (مصادر الشريعة)

  1. পবিত্র কুরআনুল কারীম: আইনের সর্বোচ্চ ও অপরিবর্তনীয় ঐশী উৎস।
  2. সুন্নাতে নাবাবিয়্যাহ: কুরআনের বাস্তব ব্যাখ্যা এবং নতুন বিধিবদ্ধ বিধানের দ্বিতীয় ভিত্তি।
  3. ইজমা (ঐক্যমত): সমকালীন মুজতাহিদ ফকিহদের সর্বসম্মত ফতোয়া ও সিদ্ধান্ত।
  4. কিয়াস (যৌক্তিক গবেষণা): পূর্ববর্তী নসের অভিন্ন কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে নতুন সমস্যার আইনি সমাধান।

মানব রচিত আইন (Positive Law) বনাম ইসলামি আইনের তুলনামূলক পর্যালোচনা

তুলনার ক্ষেত্র ইসলামি আইন (শরীয়ত) মানব রচিত আইন
আইনদাতা ও উৎস পরম স্রষ্টা মহান আল্লাহর ওহী নির্দেশিত শাশ্বত আইন। মানুষের দুর্বল মস্তিষ্ক, পার্লামেন্ট বা শাসকের স্বার্থভিত্তিক।
ত্রুটিহীনতা ও স্থায়িত্ব সর্বপ্রকার ত্রুটি, পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যমুক্ত চিরন্তন। নিয়ত পরিবর্তনশীল, ত্রুটিপূর্ণ ও শাসক দলের সুবিধাজনক।
মান্য করার প্রেরণা ঈমানি তাগিদ ও পরকালীন জবাবদিহিতার ভয়ে অন্তরের সন্তুষ্টিতে পালন। কেবল পুলিশ, আদালত ও পার্থিব শাস্তির ভয়ে বাহ্যিকভাবে পালন।
নৈতিকতা আইন ও নৈতিকতা অবিচ্ছেদ্য। আইন ও নৈতিকতা সম্পূর্ণ আলাদা।

উপসংহার

ইসলামি আইন মানুষের আত্মাকে পবিত্র করে এমন এক অপরাধমুক্ত সমাজের নিশ্চয়তা দেয় যা মানব রচিত কোনো আইনের মাধ্যমে কখনো সম্ভব নয়।


مجموعة (ب) [علم السياسة – أسئلة موجزة / বিভাগ ‘খ’ – রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংক্ষিপ্ত]

মান: ৫ × ৪ = ২০ (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

٥- ما هي حقوق المواطنين الأساسية في الدستور البنغلاديشي؟

[৫. বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ কী কী?]

উত্তর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪) নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে:

  1. আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ২৭): সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
  2. ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে বৈষম্যহীনতা (অনুচ্ছেদ ২৮)।
  3. জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা (অনুচ্ছেদ ৩২)।
  4. চলাফেরা, সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬, ৩৭ ও ৩৮)।
  5. চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯)।
  6. ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১): প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার।

٦- اذكر المشاكل الاجتماعية البارزة في بنغلاديش وسبل علاجها-

[৬. বাংলাদেশের প্রধান প্রধান সামাজিক সমস্যা এবং এর সমাধানের উপায় সংক্ষেপে লেখ।]

উত্তর

প্রধান সমস্যাসমূহ: ১. তীব্র বেকারত্ব ও দারিদ্র্য, ২. সরকারি-বেসরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, ৩. যুবসমাজের মাঝে মাদকাসক্তি, ৪. যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতা এবং ৫. মানসম্মত শিক্ষার অভাব।

সমাধানের উপায়:

  • কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
  • আইনের কঠোর প্রয়োগ ও দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
  • ইসলামি নৈতিক মূল্যবোধ ও কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
  • যাকাত ও ওশরের অর্থ সুপরিকল্পিতভাবে বিতরণ করে দারিদ্র্য দূর করা।

٧- ما هو مفهوم السيادة في الإسلام؟

[৭. ইসলামে সার্বভৌমত্বের (আস-সিয়াদাহ / আল-হাকিমিয়্যাহ) ধারণা ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর

আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সার্বভৌমত্ব বলতে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত, পরম ও অসীম ক্ষমতাকে বোঝায়, যা সাধারণ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পার্লামেন্ট বা জনগণের হাতে থাকে।

ইসলামি ধারণা: ইসলামে পরম সার্বভৌমত্বের একমাত্র একক মালিক হলেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন:

إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ

“হুকুম বা সার্বভৌম কর্তৃত্বের অধিকার কেবল আল্লাহর।” (সূরা ইউসুফ: ৪০)
রাষ্ট্র বা পার্লামেন্ট কেবল আল্লাহর নাযিলকৃত শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে আইন প্রয়োগের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব (Authority) পালন করে; তারা আল্লাহর হালালকে হারাম কিংবা হারামকে হালাল করার কোনো সার্বভৌম অধিকার রাখে না।


٨- بيّن مفهوم ‘الأمة’ في الإسلام وخصائصها-

[৮. ইসলামে ‘উম্মাহ’ (বিশ্ব মুসলিম জাতিসত্তা)-র ধারণা ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।]

উত্তর

উম্মাহর ধারণা: ইসলামে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি কোনো রক্ত, ভাষা বা ভৌগোলিক সীমানা নয়; বরং আকিদা ও কালিমায়ে তাওহিদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমগ্র বিশ্বের তামাম মুসলমানদের বৈশ্বিক জাতিসত্তাকে ‘উম্মাতে মুসলিমা’ বলা হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • আকিদাগত ঐক্য: পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মুসলিম ভাই একে অপরের আত্মার আত্মীয়।
  • মধ্যমপন্থী জাতি (উম্মাতে ওয়াসাত): চরমপন্থা ও শৈথিল্যবাদের ঊর্ধ্বে ভারসাম্যপূর্ণ জাতি।
  • সাক্ষ্যদাতা জাতি (শুহাদা আলান নাস): সমগ্র মানবজাতির কাছে সত্যের সাক্ষ্য তুলে ধরা উম্মাহর দায়িত্ব।

مجموعة (ج) [الإدارة العامة – أسئلة موسعة / বিভাগ ‘গ’ – লোকপ্রশাসন রচনামূলক]

মান: ১০ × ২ = ২০ (যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

٩- عرّف الإدارة العامة وبيّن أهميتها ووظائفها في الدولة الحديثة-

[৯. লোকপ্রশাসনের সংজ্ঞা দাও এবং আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রে এর গুরুত্ব ও কার্যাবলী বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

আধুনিক রাষ্ট্রের প্রাণভোমরা হলো ‘লোকপ্রশাসন’ (Public Administration)। আইনসভা যে আইন পাস করে এবং সরকার যে জনকল্যাণমূলক নীতিমালা তৈরি করে, তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াই হলো লোকপ্রশাসনের কাজ।

লোকপ্রশাসনের সংজ্ঞা

লুথার গুলিক (Luther Gulick)-এর মতে: “লোকপ্রশাসন হলো সরকারি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিজ্ঞানের সেই অংশ, যা মূলত সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য অর্জন করে।”

লোকপ্রশাসনের প্রধান কার্যাবলী (POSDCORB তত্ত্ব)

লুথার গুলিক লোকপ্রশাসনের মৌলিক ৭টি কাজকে এক সূত্রে গেঁথেছেন, যা POSDCORB নামে পরিচিত:

  1. Planning (পরিকল্পনা – P): ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা।
  2. Organizing (সংগঠন – O): কাজের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুষমভাবে বিন্যস্ত করা।
  3. Staffing (কর্মী ব্যবস্থাপনা – S): যোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণ।
  4. Directing (নির্দেশনা – D): কাজের ধারাবাহিক আদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদান।
  5. Coordinating (সমন্বয়সাধন – CO): বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের মাঝে কাজের সামঞ্জস্য রক্ষা করা।
  6. Reporting (প্রতিবেদন তৈরি – R): কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।
  7. Budgeting (বাজেট প্রণয়ন – B): আয়-ব্যয়ের নিখুঁত হিসাব ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ।

আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রে লোকপ্রশাসনের গুরুত্ব

  • আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা: পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মাধ্যমে সমাজে শান্তি বজায় রাখা।
  • জরুরি নাগরিক সেবা: শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিচালনা।
  • দুর্যোগ ও মহামারি ব্যবস্থাপনা: জরুরি সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা।

উপসংহার

একটি সৎ, নিরপেক্ষ ও দক্ষ লোকপ্রশাসনই একটি রাষ্ট্রকে আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে পারে।


١٠- ما هي القيادة الإدارية؟ واشرح مواصفات القائد الناجح في الإدارة الإسلامية-

[১০. প্রশাসনিক নেতৃত্ব কী? ইসলামি প্রশাসনিক ব্যবস্থার আলোকে একজন সফল নেতার গুণাবলী আলোচনা কর।]

ভূমিকা

যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র পরিচালনার চালিকাশক্তি হলো নেতৃত্ব (القيادة الإدارية)। নেতৃত্বহীন জনসমষ্টি লক্ষ্যহীন তরঙ্গের মতো। ইসলামে নেতৃত্ব কোনো ক্ষমতা বা ভোগের পদমর্যাদা নয়; এটি এক পবিত্র আমানত এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার চরম মাধ্যম।

প্রশাসনিক নেতৃত্বের সংজ্ঞা

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মীদের উদ্বুদ্ধ, পরিচালিত, প্রভাবিত ও সুসংগঠিত করার দক্ষতাকে প্রশাসনিক নেতৃত্ব বলে।

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন সফল প্রশাসনিক নেতার আবশ্যকীয় গুণাবলী

  1. তাকওয়া ও খোদাভীতি: নেতা অন্তরে বিশ্বাস করবেন যে তাঁর প্রতিটি গোপন ও প্রকাশ্য কাজের হিসাব কিয়ামতের দিন দিতে হবে।
  2. যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা (আল-কুওয়াহ): কাজের গভীর জ্ঞান, দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো অসাধারণ প্রশাসনিক যোগ্যতা থাকা। কুরআনে এসেছে: “নিশ্চয় আপনার কর্মী হিসেবে সে-ই উত্তম যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।” (সূরা আল-কাসাস: ২৬)
  3. নিখুঁত আমানতদারি (আল-আমানাহ): দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় থেকে শতভাগ মুক্ত থাকা।
  4. পরামর্শমূলক শাসন (শুরা): অধস্তনদের মতামতকে শ্রদ্ধা করা এবং একনায়কতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতা পরিহার করা।
  5. নম্রতা ও ক্ষমাশীল আচরণ: কর্মীদের প্রতি অভিভাবকসুলভ স্নেহ ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করা।
  6. সবার আগে নিজের ওপর আমল: নিজে যে নির্দেশ দেবেন, ব্যক্তিগত জীবনে তার বাস্তব উদাহরণ স্থাপন করা।

উপসংহার

রাসূলুল্লাহ (সা.) নেতৃত্বের মূল দর্শন সংক্ষেপে ঘোষণা করেছেন: “সায়্যিদুল কাওমি খাদিমুহুম”—জাতির প্রকৃত নেতা হলেন তিনি যিনি জনগণের সবচেয়ে বড় সেবক।


١١- اشرح الرقابة الإدارية في الإسلام في ضوء خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه-

[১১. হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খেলাফতের আলোকে ইসলামি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (হিসবাহ) ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর দশ বছরের শাসনকাল বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা সুশাসন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের স্বর্ণযুগ। তিনি এমন এক নিখুঁত জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক তদারকি (الرقابة الإدارية) কায়েম করেছিলেন যা আধুনিক বিশ্বেও নজিরবিহীন।

হযরত ওমর (রা.)-এর প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহিতার রূপরেখা

  1. গভর্নর ও কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ:
    কোনো গভর্নর বা প্রশাসক নিয়োগের পূর্বে তাঁর যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা তৈরি করা হতো। দায়িত্ব শেষে অতিরিক্ত সম্পদ দেখা গেলে তা বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার বায়তুল মালে জমা করা হতো।
  2. হজের মৌসুমে প্রকাশ্য গণশুনানি:
    প্রতি বছর হজের সময় তিনি সকল প্রদেশের গভর্নরকে মক্কায় তলব করতেন এবং সমগ্র মুসলিম জনতার সামনে ঘোষণা করতেন: “কারও কোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি দাঁড়িয়ে বল।” অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি শীর্ষ গভর্নরদেরও শাস্তি দিতেন।
  3. গোপন গোয়েন্দা সংস্থা ও তদারকি:
    তিনি হযরত মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল গঠন করেছিলেন, যারা আকস্মিকভাবে বিভিন্ন প্রদেশে গিয়ে প্রশাসকদের কাজের নিরপেক্ষ তদন্ত করত।
  4. রাতে ছদ্মবেশে প্রজা পরিদর্শন:
    তিনি রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে মদিনার অলিতে-গলিতে ঘুরে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে অভাব-অনটনের খোঁজ নিতেন। বিখ্যাত ঘটনায় এক তাঁবুতে শিশুদের ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদতে দেখে তিনি নিজ পিঠে আটার বস্তা বহন করে এনে তাদের খাবার রান্না করে খাইয়েছিলেন।
  5. বিলাসবহুল জীবন নিষিদ্ধকরণ:
    তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য তুর্কি ঘোড়ায় চড়া, মিহি পোশাক পরা, ছাঁকা আটা খাওয়া এবং নিজের দরজায় দ্বাররক্ষী রাখা নিষিদ্ধ করেছিলেন।

উপসংহার

হযরত ওমর (রা.)-এর এই জবাবদিহিতা ব্যবস্থা প্রমাণ করেছে যে অন্তরে আল্লাহর ভয় এবং কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারি থাকলে সমাজ থেকে দুর্নীতি ও জুলুম শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব।


١٢- ما هو التخطيط الإداري وما هي أهميته في إدارة الدولة والمنظمات؟

[১২. প্রশাসনিক পরিকল্পনা কী? এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিভিন্ন সংস্থায় পরিকল্পনার গুরুত্ব আলোচনা কর।]

ভূমিকা

যেকোনো কাজের সাফল্যের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো পূর্বপরিকল্পনা। সুপরিকল্পিত কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার সমতুল্য। ইসলামও মানুষকে যেকোনো কাজ করার পূর্বে গভীর চিন্তা ও পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রশাসনিক পরিকল্পনার সংজ্ঞা (تعريف التخطيط الإداري)

ভবিষ্যতে কী কাজ করা হবে, কে করবে, কীভাবে করবে এবং কখন সম্পন্ন হবে—তা পূর্ব থেকেই সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করার বৌদ্ধিক প্রক্রিয়াকে পরিকল্পনা (Planning) বলা হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনা ও সংস্থায় পরিকল্পনার অপরিহার্য গুরুত্ব

  1. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সুস্পষ্টতা: সংস্থা বা রাষ্ট্রের সকল কর্মপ্রচেষ্টা কোন দিকে পরিচালিত হবে তার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে।
  2. সম্পদের অপচয় রোধ: সীমিত মানবসম্পদ ও অর্থের সর্বোত্তম ও অপচয়হীন ব্যবহার নিশ্চিত করে।
  3. ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি হ্রাস: অর্থনৈতিক সংকট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগে থেকে আঁচ করে বিকল্প প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
  4. কাজের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ: বিভিন্ন বিভাগের কাজের মাঝে সংঘাত দূর করে সমন্বয় রক্ষা করা যায়।

উপসংহার

পরিকল্পনাহীন রাষ্ট্র বা সংগঠন দিগভ্রান্ত জাহাজের মতো। বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পরিকল্পনাই হলো টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।


مجموعة (د) [الإدارة العامة – أسئلة موجزة / বিভাগ ‘ঘ’ – লোকপ্রশাসন সংক্ষিপ্ত]

মান: ৫ × ৪ = ২০ (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

١٣- ما الفرق بين المركزية واللامركزية في التنظيم الإداري؟

[১৩. প্রশাসনিক সংগঠনে কেন্দ্রীকরণ (Centralization) এবং বিকেন্দ্রীকরণের (Decentralization) মধ্যে পার্থক্য কী?]

উত্তর

পার্থক্যের ক্ষেত্র প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
ক্ষমতার অবস্থান যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে কুক্ষিগত থাকে। মাঠপর্যায় ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।
কাজের গতি ফাইল চালাচালি ও দীর্ঘসূত্রিতা (লাল ফিতা) বেশি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
জনগণের অংশগ্রহণ স্থানীয় জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয় না। স্থানীয় জনগণের সমস্যা ও চাহিদা সহজে পূরণ হয়।

١٤- اذكر أهم الأخلاق الإدارية في الإسلام-

[১৪. ইসলামি প্রশাসনের প্রধান প্রধান নৈতিক মূল্যবোধসমূহ উল্লেখ কর।]

উত্তর

ইসলামি প্রশাসনিক কর্মচারীদের প্রধান নৈতিক গুণাবলী:

  • আমানতদারি ও সততা: রাষ্ট্রীয় প্রতিটি পয়সা ও সময়কে আমানত মনে করা; ঘুষ ও দুর্নীতি বর্জন করা।
  • ন্যায়পরায়ণতা (আদল): কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষভাবে নাগরিক সেবা প্রদান করা।
  • সময়ানুবর্তিতা: নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি করা।
  • জনবান্ধব মিষ্টি ভাষা ও নম্রতা: সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনা।

١٥- ما هو التنسيق الإداري (Coordination) وما هي وسائله؟

[১৫. প্রশাসনিক সমন্বয়সাধন কী এবং এর প্রধান প্রধান মাধ্যমসমূহ উল্লেখ কর।]

উত্তর

সংজ্ঞা: সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ, শাখা ও কর্মীদের বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডকে একত্রিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রক্রিয়াকে ‘সমন্বয়সাধন’ (Coordination) বলে।

প্রধান মাধ্যমসমূহ:

  1. নিয়মিত আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠান।
  2. লিখিত নিয়মাবলী ও কাজের স্পষ্ট বিবরণ (Job Description)।
  3. শক্তিশালী চেইন অব কমান্ড ও পদসোপান ব্যবস্থা।
  4. আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, ই-মেইল ও সফটওয়্যারভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান।

١٦- ما الفرق بين الإدارة العامة (Public Admin) وإدارة الأعمال (Business Admin)؟

[১৬. লোকপ্রশাসন এবং ব্যবসায় প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।]

উত্তর

পার্থক্যের ক্ষেত্র লোকপ্রশাসন (Public Administration) ব্যবসায় প্রশাসন (Business Administration)
মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ ও নাগরিকদের সেবা প্রদান। সর্বোচ্চ আর্থিক মুনাফা অর্জন করা।
আওতা ও পরিধি সমগ্র দেশের সকল নাগরিক এর আওতাভুক্ত। কেবল নির্দিষ্ট ক্রেতা বা গ্রাহক শ্রেণি।
জবাবদিহিতা জনগণ, সংসদ ও গণমাধ্যমের কাছে জবাবদিহিতা থাকে। কেবল কোম্পানির মালিক বা পরিচালনা পর্ষদের কাছে।
অর্থায়ন জনগণের ট্যাক্স ও সরকারি রাজস্ব থেকে পরিচালিত। ব্যক্তিগত বা শেয়ারহোল্ডারদের পুঁজি থেকে পরিচালিত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় চূড়ান্ত সার্বভৌমত্বের মালিক কে?

ইসলামি রাষ্ট্রে চরম ও নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক হলেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন; সরকার বা পার্লামেন্ট কেবল ওহীর বিধানের অধীনে নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী।

২. হযরত ওমর (রা.)-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য কোনটি ছিল?

গভর্নর ও কর্মকর্তাদের কঠোর হিসাব গ্রহণ, হজের মৌসুমে প্রকাশ্য গণশুনানি এবং রাতে ছদ্মবেশে প্রজা পরিদর্শনের মাধ্যমে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

৩. লোকপ্রশাসনের বিখ্যাত ‘POSDCORB’ তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

লুথার গুলিক (Luther Gulick) লোকপ্রশাসনের মৌলিক সাতটি কার্যাবলীকে নির্দেশ করতে এই যুগান্তকারী সংক্ষিপ্ত শব্দটি প্রবর্তন করেন।

৪. ইসলামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমারেখা কী?

সত্য ও ন্যায়ের কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে; তবে এর নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা দ্বীনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৫. প্রশাসনিক ‘বিকেন্দ্রীকরণ’ বলতে কী বুঝায়?

সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নয়ন কাজের ক্ষমতা কেবল রাজধানী বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাতে না রেখে স্থানীয় জেলা ও উপজেলার কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করাকে বিকেন্দ্রীকরণ বলে।

৬. লোকপ্রশাসন ও ব্যবসায় প্রশাসনের প্রধান পার্থক্য কী?

লোকপ্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো লাভ-লোকসান ছাড়া নিঃস্বার্থ জনসেবা প্রদান; পক্ষান্তরে ব্যবসায় প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো আর্থিক মুনাফা অর্জন করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *