জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

মুসলিম স্থাপত্য ও প্রত্নতত্ত্ব (Muslim Architecture and Archaeology) – 205306, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2021

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৪ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2021
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: মুসলিম স্থাপত্য ও প্রত্নতত্ত্ব (Muslim Architecture and Archaeology)
বিষয় কোড: 205306 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

১. প্রাচীন ফুসতাত জামে মসজিদের (আমর ইবনুল আস মসজিদ) স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।

[Discuss the architectural characteristics and development of the ancient Jami Mosque of Fustat (Mosque of Amr ibn al-Aas).]

ক. ঐতিহাসিক পটভূমি ও প্রথম নির্মাণ (৬৪১-৬৪২ খ্রি.):

মিশর বিজয়ের পর হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) ৬৪১-৬৪২ খ্রিস্টাব্দে (২১ হিজরি) নতুন প্রতিষ্ঠিত সেনানিবাসী শহর ফুসতাতে (বর্তমান প্রাচীন কায়রো) আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম মসজিদ হিসেবে ‘ফুসতাত জামে মসজিদ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ইতিহাসে ‘তাজ আল-জাওয়ামি’ (মসজিদসমূহের মুকুট) নামেও পরিচিত।

খ. আদি গঠন ও প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য:

  1. পরিমাপ ও উপাদান: আদি মসজিদটি ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫০ হাত (প্রায় ২৯ মিটার) এবং প্রস্থ ৩০ হাত (প্রায় ১৭ মিটার)। দেয়ালগুলো ছিল কাঁচা মাটির ইটের তৈরি।
  2. ছাদ ও স্তম্ভ: খেজুর গাছের গুঁড়িকে স্তম্ভ (Pillars) হিসেবে ব্যবহার করে খেজুর পাতা ও কাদামাটি দিয়ে ছাদ তৈরি করা হয়েছিল। মেঝেতে কোনো পাকা মেঝে ছিল না, কেবল নুড়িপাথর বিছানো ছিল।
  3. মিহরাব ও মিনারের অনুপস্থিতি: প্রাথমিক এ মসজিদে কোনো অবতল বা অর্ধগোলাকার মিহরাব ছিল না এবং কোনো মিনার ছিল না। ছাদ থেকে আযান দেওয়া হতো।

গ. স্থাপত্যিক রূপান্তর ও ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ:

  1. মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদের সংস্কার (৬৭৩ খ্রি.): উমাইয়া খলিফা প্রথম মুয়াবিয়ার আমলে গভর্নর মাসলামা মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন এবং প্রথমবারের মতো মসজিদের চার কোণে চারটি মিনার (Sawami) যুক্ত করেন। এটি ছিল ইসলামি স্থাপত্যে মিনারের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন।
  2. আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ানের সম্প্রসারণ (৬৯৮ খ্রি.): মসজিদের আয়তন চারদিকে বর্ধিত করা হয়।
  3. কুরা ইবনে শারিকের সংস্কার (৭১১ খ্রি.): খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের নির্দেশে গভর্নর কুরা মসজিদটি সম্পূর্ণ ভেঙে বৃহৎ পরিসরে নির্মাণ করেন এবং প্রথমবারের মতো এতে অবতল মিহরাব (Concave Niche) এবং পাথরের স্তম্ভ যুক্ত করেন।
  4. আব্দুল্লাহ ইবনে তাহিরের সম্প্রসারণ (৮২৭ খ্রি.): আব্বাসীয় আমলে গভর্নর আব্দুল্লাহ ইবনে তাহির মসজিদের আয়তন দ্বিগুণ করেন এবং বর্তমান রূপরেখার কাঠামো নির্ধারিত হয় (দৈর্ঘ্য ১১০ মিটার × প্রস্থ ১২০ মিটার)।
  5. সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর পুনর্গঠন (১১৭২ খ্রি.): ফুসতাত অগ্নিকাণ্ডের পর সালাহউদ্দিন আইয়ুবী মসজিদটির ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন।

ঘ. বর্তমান স্থাপত্যিক গুরুত্ব:

যুগে যুগে বহু সংস্কারের ফলে আদি কাঠামোর উপকরণ সংরক্ষিত না থাকলেও ফুসতাত মসজিদটি একটি উন্মুক্ত সাহন (Courtyard) এবং চারপাশের স্তম্ভযুক্ত আর্কেড বা রিওয়াক (Arcade/Riwaq) সম্বলিত ক্লাসিক্যাল আরবীয় হাইপোস্টাইল (Hypostyle) মসজিদ কাঠামোর এক অনন্য ঐতিহাসিক স্মারক।


২. জেরুজালেমের কুব্বাতুস সাখরা (ডোম অব দ্য রক)-এর স্থাপত্যরীতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বর্ণনা কর।

[Describe the architectural style and historical significance of the Dome of the Rock (Qubbat al-Sakhrah) in Jerusalem.]

ক. নির্মাণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ৬৮৮ থেকে ৬৯১-৯২ খ্রিস্টাব্দে (৬৯-৭২ হিজরি) জেরুজালেমের হারাম আল-শরীফে পবিত্র মি’রাজের স্মৃতিবিজড়িত সেই পবিত্র পাথরের (সাখরা) ওপর এক অবিস্মরণীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন, যা ‘কুব্বাতুস সাখরা’ বা Dome of the Rock নামে পরিচিত। এটি ইসলামি স্থাপত্যকলার টিকে থাকা প্রাচীনতম অক্ষত মাস্টারপিস।

খ. নকশা ও স্থাপত্য শৈলী:

  1. অষ্টভুজাকার কাঠামো (Octagonal Plan): কুব্বাতুস সাখরা কোনো প্রচলিত জামে মসজিদ নয়, বরং একটি কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ। এর মূল পরিকল্পনা অষ্টভুজাকার। বাইরের প্রতিটি দেয়ালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০.৬ মিটার এবং উচ্চতা ৯.৫ মিটার। চারদিকে চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে।
  2. দ্বৈত প্রদক্ষিণ পথ (Double Ambulatory): কেন্দ্রের পবিত্র পাথরকে ঘিরে দুটি চক্রাকার বা অষ্টভুজাকার গলিপথ বা প্রদক্ষিণ পথ রয়েছে, যা ভক্তদের তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণের জন্য সুবিধাজনক। এ পথগুলো ১৬টি মার্বেল স্তম্ভ এবং ৮টি চতুষ্কোণ পিলারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
  3. কেন্দ্রীয় গম্বুজ (Central Dome): পবিত্র পাথরের ঠিক ওপরে ২০.৪৪ মিটার ব্যাসের এবং ৩০ মিটারেরও বেশি উঁচু সুবিশাল একটি দ্বৈত কাঠের গম্বুজ অবস্থিত। গম্বুজটির অভ্যন্তরীণ অংশ প্লাস্টার ও রঙিন গিল্টি করা খোদাই এবং বাইরের অংশ স্বর্ণমণ্ডিত অ্যালুমিনিয়াম পাতে আবৃত।

গ. অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গের অলঙ্করণ:

  1. মোজাইক শিল্প (Glass Mosaics): দেয়ালের অভ্যন্তরীণ অংশে বাইজেন্টাইন রীতির চেয়েও উন্নত প্রায় ১,২০০ বর্গমিটার কাঁচের উজ্জ্বল রঙিন মোজাইক রয়েছে। এতে সোনা, সবুজ ও নীল রঙের চমৎকার সংমিশ্রণে লতাপাতা, ফলমূল ও রাজকীয় রত্নখচিত প্রতীক আঁকা হয়েছে। তবে কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি ব্যবহার করা হয়নি।
  2. কুরআনিক লিপিকলা (Calligraphy): স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরীণ আর্কেডের ওপর প্রায় ২৪০ মিটার দীর্ঘ কুরআনের আয়াত কুফি লিপিতে খোদাই করা হয়েছে। এটি ইসলামি স্থাপত্যে শিলালিপির প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ ব্যবহার।

ঘ. ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব:

কুব্বাতুস সাখরা নির্মাণের মাধ্যমে খলিফা আব্দুল মালিক খ্রিস্টান চার্চ অব দ্য হলি সেপালকারের সাথে টেক্কা দিয়ে মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ও স্থাপত্যিক আত্মবিশ্বাস তুলে ধরেন। এটি জেরুজালেমের পবিত্রতা ও মুসলমানদের শাশ্বত অধিকারের চিরন্তন প্রতীক।


৩. কায়রোর জামে আল-আজহার মসজিদের ফাতেমীয় স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা কর।

[Review the Fatimid architectural characteristics of the Jami al-Azhar Mosque in Cairo.]

ক. প্রতিষ্ঠা ও নামকরণ:

ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইয লি-দীনিল্লাহর মিশর বিজয়ের পর তাঁর সেনাপতি জওহর আস-সাকালী ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে নতুন রাজধানী কায়রো পত্তন করেন এবং ৯৭২ খ্রিস্টাব্দে (৩৬১ হিজরি) জামে আল-আজহারের নির্মাণ সম্পন্ন করেন। হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.)-এর উপাধি ‘জাহরা’ থেকে এর নামকরণ করা হয় ‘আল-আজহার’। এটি পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

খ. ফাতেমীয় স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. হাইপোস্টাইল পরিকল্পনা ও খোলা সাহন: মূল আল-আজহার মসজিদটি ছিল একটি উন্মুক্ত কেন্দ্রীয় প্রাঙ্গণ (Sahn) এবং এর চারদিকে মার্বেল পাথরের সুদৃশ্য স্তম্ভযুক্ত ছাদ বিশিষ্ট বারান্দা (Riwaq)। কিবলা দেওয়ালের দিকে ছিল পাঁচটি সমান্তরাল আইল (Aisles)।
  2. কীল আকৃতির খিলান (Keel Arches): ফাতেমীয় স্থাপত্যের প্রধান স্বাক্ষর হলো নৌকার তলার মতো কীল-খিলান (Keel Arch)। স্তম্ভগুলোর ওপর স্থাপিত এ খিলানগুলো কাঠামোর উচ্চতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে।
  3. স্টুকো বা প্লাস্টার অলঙ্করণ (Stucco Carvings): আল-আজহারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাতেমীয় বৈশিষ্ট্য হলো দেয়াল ও খিলানের ওপর জিপসাম প্লাস্টারের অত্যন্ত সূক্ষ্ম জ্যামিতিক ও উদ্ভিজ্জ অলঙ্করণ (Arabesque)। খিলানের স্প্যান্ড্রেল ও রোজেটে গভীর খোদাই করা নকশা দেখা যায়।
  4. কুফি লিপির শিলালিপি ব্যান্ড (Floliated Kufic Inscriptions): জানালার সীমানা ও দেয়ালের কার্নিশে কুরআনিক আয়াত সমৃদ্ধ সুদৃশ্য পাতার মতো বিস্তৃত ফুলের কুফি লিপি (Foliated Kufic) অত্যন্ত চমৎকারভাবে উৎকীর্ণ করা হয়।
  5. মিহরাব ও মাখসুরা গম্বুজ: প্রধান মিহরাবের সামনে একটি মার্বেল পাথরের ছোট গম্বুজ স্থাপন করা হয়, যা কিবলা দেয়ালের গুরুত্ব প্রকাশ করে। খলিফা আল-হাফিজের আমলে পরবর্তীতে সাহনের চারপাশে অন্ধ খিলান (Blind Niches) বিশিষ্ট প্রাচীর যুক্ত করা হয়।

গ. পরবর্তী রূপান্তর ও আধুনিক মহিমা:

পরবর্তীতে আইয়ুবী, মামলুক ও উসমানীয় যুগে মসজিদে বহু সুবিশাল মিনার, মাদ্রাসা ও ফটক (যেমন মামলুক সুলতান কাইতবে ও কাংসুহ আল-গৌরীর নির্মিত মিনার) যুক্ত হলেও মূল প্রাঙ্গণ ও কিবলা হলের প্রাচীন ফাতেমীয় শৈলী আজ অবধি টিকে রয়েছে।


৪. কায়রোস্থ আহমদ ইবনে তুলুন মসজিদের স্থাপত্যিক রূপরেখা ও বিশিষ্টতা তুলে ধর।

[Highlight the architectural outline and distinctiveness of the Ahmad ibn Tulun Mosque in Cairo.]

ক. পরিচিতি ও নির্মাণকাল:

মিশরের তুলুনীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ ইবনে তুলুন ৮৭৬ থেকে ৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নতুন রাজধানী আল-কাতায়ে’র জাবাল ইয়াশকুরে এক সুবিশাল জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। এটি সমগ্র কায়রো শহরের আদি রূপে সংরক্ষিত সবচেয়ে প্রাচীন এবং আয়তনের দিক থেকে সর্ববৃহৎ মসজিদ (প্রায় ৬.৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত)।

খ. স্থাপত্যিক রূপরেখা ও প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. পোড়ামাটির ইট ও প্লাস্টার প্রযুক্তি: ইবনে তুলুন তাঁর জন্মভূমি ইরাকের সামারার স্থাপত্যশৈলী দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি পাথরের স্তম্ভের বদলে শতভাগ পোড়ামাটির ইট (Baked Red Bricks) দিয়ে সম্পূর্ণ মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং এর ওপর সূক্ষ্ম পলেস্তারা (Plaster/Stucco) দিয়ে অলঙ্কৃত করেন। কলামের পরিবর্তে বিশাল ইটের পিলার (Piers) ব্যবহার করা হয়।
  2. জিয়াদা বা বহিঃপ্রাঙ্গণ (Ziyadah): মূল মসজিদের চারদিকে একটি ফাঁকা বাফার জোন বা বহিঃপ্রাঙ্গণ রয়েছে, যাকে ‘জিয়াদা’ বলা হয়। এটি বাইরের বাজারের কোলাহল ও ধুলোবালি থেকে অভ্যন্তরীণ প্রার্থনাকক্ষকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও প্রশান্ত রাখে।
  3. পয়েন্টেড খিলান (Pointed Horseshoe Arches): ইউরোপে গথিক পয়েন্টেড খিলান ব্যবহারের অন্ততঃ দুই শতাব্দী পূর্বে ইবনে তুলুন মসজিদে অগ্রভাগ চোখা পয়েন্টেড আর্চ নিখুঁতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। পিলারের কোণে সংযুক্ত ছোট ছোট খিলানযুক্ত নকশা দেখা যায়।
  4. সার্পিল মিনার (Spiral Minaret): মসজিদের উত্তর-পশ্চিম জিয়াদাতে অবস্থিত বাইরের দিকে সিঁড়িওয়ালা সর্পিলাকার বা প্যাঁচানো চুনাপাথরের মিনারটি ইরাকের সামারার বিখ্যাত ‘মালবিয়া’ মিনারের অনুকরণে নির্মিত। পরবর্তীতে মামলুক সুলতান লাজিন এটি সংস্কার করেন।
  5. কার্নিশের ওপেনওয়ার্ক জালি নকশা: মসজিদের বাইরের দেওয়ালের শীর্ষে মানবদেহের মতো পরস্পরের হাত ধরা অনন্য জ্যামিতিক নকশার ওপেনওয়ার্ক ক্রেনেলেশন (Crenellations) রয়েছে, যা স্থাপত্যটিকে দূর থেকে দুর্গের মতো রাজকীয় রূপ দেয়।

৫. দিল্লির কুয়াতুল ইসলাম মসজিদ কমপ্লেক্স ও কুতুব মিনারের স্থাপত্য শৈলী বিশ্লেষণ কর।

[Analyze the architectural style of the Quwwat-ul-Islam Mosque Complex and the Qutb Minar in Delhi.]

ক. কুয়াতুল ইসলাম মসজিদ কমপ্লেক্স:

  1. নির্মাণকাল ও ইন্দো-ইসলামিক রূপরেখা: দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯২-১১৯৮ খ্রিস্টাব্দে রায় পিথোরার কেল্লায় উত্তর ভারতের প্রথম জামে মসজিদ ‘কুয়াতুল ইসলাম’ (ইসলামের শক্তি) প্রতিষ্ঠা করেন।
  2. উপাদানের পুনর্ব্যবহার (Spolia): আদি মসজিদটি ২৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত হিন্দু ও জৈন মন্দিরের কারুকার্যখচিত পাথরের স্তম্ভ ও উপকরণ পুনঃব্যবহার করে নির্মিত হয়। স্থানীয় ভারতীয় ভাস্করদের দিয়ে মুসলিম পরিকল্পনার সমন্বয়ে এটি নির্মিত হওয়ায় এটি ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের প্রথম আদি মেলবন্ধন।
  3. মাকসুরা আর্কেড (১১৯৯ খ্রি.): আইবেক কিবলা দেওয়ালের সামনে লাল বেলেপাথরের পাঁচটি চোখা ওগী খিলান (Ogee Arches) সম্বলিত একটি বিশাল পাথরের স্ক্রিন বা মাকসুরা প্রাচীর নির্মাণ করেন, যাতে চমৎকার লতাপাতা ও আরবি কুফি ক্যালিগ্রাফি খোদাই করা হয়।
  4. ইলতুতমিশ ও আলাউদ্দিন খলজীর সম্প্রসারণ: পরবর্তীতে সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ মসজিদের আয়তন তিনগুণ বাড়ান এবং আলাউদ্দিন খলজী এতে সুদৃশ্য আলাই তোরণ (Alai Darwaza) যুক্ত করেন।

খ. কুতুব মিনারের স্থাপত্য শৈলী:

  1. উচ্চতা ও স্তর বিন্যাস: কুতুব মিনার বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম একক পাথরের মিনার (উচ্চতা প্রায় ৭২.৫ মিটার বা ২৩৮ ফুট)। এটি মোট পাঁচটি সুস্পষ্ট স্তরে বিভক্ত। ভিত্তি থেকে শীর্ষ পর্যন্ত এটি ক্রমশ সরু হয়ে উঠেছে (ভিত্তি ব্যাস ১৪.৩ মিটার এবং শীর্ষ ব্যাস ২.৭ মিটার)।
  2. নির্মাণ ইতিহাস: কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯৯ সালে মিনারের প্রথম তলা নির্মাণ করেন। পরবর্তী তিনটি তলা নির্মাণ সম্পন্ন করেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ (১২২০ খ্রি.)। পরবর্তীতে ফিরোজ শাহ তুঘলক বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ তলা মেরামত করে দুটি তলা যুক্ত করেন এবং সাদা মার্বেল পাথরের ব্যবহার করেন।
  3. স্তম্ভের বাঁক ও ঝুলন্ত ব্যালকনি (Balconies): প্রতিটি তলার মাঝে সুদৃশ্য ঝুলন্ত ঝুলন-বারান্দা রয়েছে, যা স্ট্যালাকটাইট ব্র্যাকেট (Stalactite Brackets) দ্বারা মজবুতভাবে সমর্থিত। নিচতলায় খিলান ও গোলাকার বাঁকের পর্যায়ক্রমিক খাঁজকাটা (Fluted) নকশা রয়েছে।
  4. শিলালিপি ও অলঙ্করণ: পুরো মিনার জুড়ে লাল ও হালকা হলুদাভ বেলেপাথরে নাস্তালিক ও কুফি লিপিতে কুরআনিক আয়াত এবং সুলতানদের প্রশস্তি লতাপাতার আবহে খোদাই করা হয়েছে।

৬. ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের সম্পর্ক এবং মুসলিম স্থাপত্যের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।

[Evaluate the relationship between history and archaeology and the archaeological significance of Muslim architecture.]

ক. ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক:

ইতিহাস হলো মানব সমাজের অতীত কর্মকাণ্ড ও বিবর্তনের লিখিত ও প্রামাণ্য বিবরণ। পক্ষান্তরে, প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology) হলো অতীতের মানব বসতি, বস্তুগত ধ্বংসাবশেষ, স্মৃতিসৌধ, মুদ্রা ও মাটির নিচ থেকে প্রাপ্ত প্রত্নসম্পদ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খনন, পরীক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাস রচনার এক প্রত্যক্ষ বিজ্ঞান।

  • পরিপূরক ভূমিকা: যেখানে লিখিত ঐতিহাসিক নথিপত্র পাওয়া যায় না বা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও অনুসন্ধান নীরব কিন্তু অভ্রান্ত সাক্ষ্য প্রদান করে। লিখিত ইতিহাসের সত্যতা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ দ্বারা যাচাই করা হয়।
  • কালনির্ধারণ প্রযুক্তি: কার্বন-১৪ ডেটিং, স্ট্র্যাটিগ্রাফি ও এপিগ্রাফির মাধ্যমে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের সঠিক সময়কাল নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।

খ. মুসলিম স্থাপত্যের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব:

  1. ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের বস্তুগত সাক্ষ্য: মসজিদ, কেল্লা, রাজপ্রাসাদ, সরাইখানা ও হাম্মামখানা কেবল স্থাপত্যকর্ম নয়, বরং তা তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, রাজকীয় অর্থনীতি ও শাসন কাঠামোর দৃশ্যমান দলিল। উদাহরণস্বরূপ, উমাইয়া মরুপ্রাসাদগুলো (কুসায়র আমরা, খিরবাত আল-মাফজার) প্রাক-ইসলামি ও ইসলামি সভ্যতার রূপান্তরকে স্পষ্ট করে।
  2. এপিগ্রাফি বা শিলালিপির গুরুত্ব: মুসলিম স্থাপত্যের প্রতিটি প্রধান ভবনে স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ও শিলালিপি তৎকালীন শাসক, বিজয়ের বছর, প্রকৌশলী এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে নিশ্চিত প্রাথমিক তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করে।
  3. মুদ্রাতত্ত্ব (Numismatics) ও সিলমোহর: প্রাচীন মুসলিম নগরী (যেমন ফুসতাত, সামারা, বাগদাদ, গৌড়) খনন করে প্রাপ্ত মুদ্রা তৎকালীন মুদ্রা ব্যবস্থা, বাণিজ্যের বিস্তার ও সুলতানি সার্বভৌমত্বের সঠিক কালপঞ্জি পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
  4. স্থাপত্যিক প্রকৌশলবিদ্যার বিবর্তন: খিলান, গম্বুজ, পেন্ডেন্টিভ ও স্কুইঞ্চের ব্যবহার বিশ্লেষণ করে মধ্যযুগের মুসলিম প্রকৌশলীদের জ্যামিতিক জ্ঞান ও গণিতবিদ্যার বিস্ময়কর উৎকর্ষ প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে উন্মোচিত হয়।

খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

৭. মদিনার মসজিদে নববীর আদি রূপরেখা ও স্থাপত্যিক রূপান্তর বর্ণনা কর।

[Describe the original layout and architectural transformation of the Prophet’s Mosque in Medina.]

৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরতের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় প্রথম যে মসজিদটি নির্মাণ করেন, তা-ই পরবর্তীকালে বিশ্বজুড়ে ইসলামি মসজিদ স্থাপত্যের মূল নকশা বা আর্কিটাইপ (Archetype) হিসেবে কাজ করেছে।

  • আদি রূপরেখা (১ম হিজরি): এটি ছিল চার দেওয়াল ঘেরা প্রায় ১০০ হাত × ১০০ হাত পরিমাপের একটি উন্মুক্ত চত্বর। দেওয়ালগুলো কাঁচা ইট ও পাথরের ভিত্তির ওপর তৈরি। উত্তর দিকে (তৎকালীন কিবলা জেরুজালেমের দিকে) খেজুরের কাণ্ডের ওপর খেজুরের পাতা ও কাদার ছাউনিযুক্ত একটি ছায়াঘেরা নামাজের স্থান (জুফফা বা মুসাল্লা) ছিল। দেওয়ালের একপাশে সাহাবায়ে সুফফাদের থাকার ছাউনি ছিল।
  • কিবলা পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ: ২য় হিজরিতে কিবলা মক্কার দিকে নির্ধারিত হলে দক্ষিণ দিকে নতুন ছাউনি দেওয়া হয়। ৭ম হিজরিতে খায়বার বিজয়ের পর মহানবী (সা.) এর আয়তন বর্ধিত করেন।
  • উমাইয়া ও মামলুক রূপান্তর: খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের নির্দেশে গভর্নর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (৭০৭ খ্রি.) প্রথমবারের মতো মসজিদে অবতল মিহরাব এবং চারটি কোণে চারটি মিনার যুক্ত করেন। মামলুক সুলতান কাইতবে ও পরবর্তীতে উসমানীয় ও আধুনিক সৌদি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি আজকের সুবিশাল বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যে রূপ লাভ করে।

৮. মুসলিম স্থাপত্যে মিহরাবের উৎপত্তি ও গুরুত্ব আলোচনা কর।

[Discuss the origin and significance of the Mihrab in Muslim architecture.]

মিহরাব (Mihrab) হলো মসজিদের কিবলা দেওয়ালের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত একটি অর্ধগোলাকার বা অবতল কুলুঙ্গি (Concave Niche), যা নামাজের সময় ইমামের দাঁড়ানোর স্থান এবং মক্কার কাবাঘরের দিক নির্দেশ করে।

  1. উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: প্রাথমিক যুগে মসজিদে কেবল একটি পাথরের দাগ বা কাঠের তক্তা দিয়ে কিবলার দিক চিহ্নিত করা হতো। ৭০৭-৭০৯ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল-ওয়ালিদের আমলে মদিনার মসজিদে নববীর সংস্কারকালে গভর্নর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ প্রথমবারের মতো একটি অবতল খিলানযুক্ত মিহরাব প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে এটি প্রতিটি মসজিদের অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়।
  2. শব্দার্থ ও গুরুত্ব: ‘মিহরাব’ শব্দের মূল অর্থ যুদ্ধক্ষেত্র বা সম্মানের স্থান—যেখানে শয়তান ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। এর প্রধান গুরুত্বসমূহ:
    • কিবলা নির্দেশ: দিক নির্ণয়ে অক্ষম মুসল্লিদের নিখুঁতভাবে কাবার দিক চিনিয়ে দেওয়া।
    • শব্দ বিস্তার (Acoustics): প্রাচীনকালে মাইক ছিল না; মিহরাবের অবতল খিলান কাঠামো ইমামের গলার স্বরকে স্বাভাবিক লাউডস্পিকারের মতো প্রতিফলিত করে সমগ্র জামাতে ছড়িয়ে দিত।
    • শিল্পকলার কেন্দ্রবিন্দু: টেরাকোটা, মার্বেল পাথর, মোজাইক ও ক্যালিগ্রাফিক নকশার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শিত হয় মিহরাবের চারপাশে।

৯. বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলী সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

[Briefly describe the architectural style of the Sixty Dome Mosque in Bagerhat.]

পঞ্চদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে (১৪৫৯ খ্রি.) মহান সুফি সাধক ও শাসক হযরত খান জাহান আলী (রহ.) সুন্দরবনের প্রান্তে খলিফাতাবাদে (বর্তমান বাগেরহাট) বাংলার বৃহত্তম ও সবচেয়ে জমকালো সুলতানি মসজিদ হিসেবে ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।

  • পরিমাপ ও দেওয়াল: মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরে প্রায় ১৬০ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১০৮ ফুট। দেওয়ালগুলো অত্যন্ত পুরু (প্রায় ৮ ফুট ৮ ইঞ্চি), যা তুঘলকি ঢালু রীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটি লাল পোড়ামাটির ইট দিয়ে নির্মিত।
  • গম্বুজ বিন্যাস (মোট ৮১টি গম্বুজ): সাধারণ বিশ্বাসে একে ‘ষাটগম্বুজ’ বলা হলেও এতে মোট ৮১টি গম্বুজ রয়েছে। ৬০টি পাথরের স্তম্ভের ওপর ছাদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় হয়তো একে ‘ষাটখাম্বাজ’ থেকে ‘ষাটগম্বুজ’ বলা হয়েছে। মসজিদের ভেতরে ১১টি সারিতে মোট ৭৭টি নিম্ন উচ্চতার গোলাকার গম্বুজ এবং মাঝখানের প্রধান আইলে ৭টি সুদৃশ্য বাংলার ঐতিহ্যবাহী চৌচালা গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া চার কোণের চারটি মিনারের ওপর ৪টি গম্বুজসহ মোট গম্বুজ সংখ্যা ৭৭ + ৪ = ৮১টি।
  • টেরাকোটা অলঙ্করণ: মসজিদের পূর্ব দেওয়ালের ১১টি চোখা খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার এবং পশ্চিমের প্রধান মিহরাবগুলোতে অনুপম দেশীয় ফুল, লতাপাতা ও জ্যামিতিক নকশার পোড়ামাটির ফলক (Terracotta) দ্বারা সুসজ্জিত। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site)।

১০. খিলান (Arch) কী? মুসলিম স্থাপত্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার খিলানের পরিচয় দাও।

[What is an Arch? Introduce the different types of arches used in Muslim architecture.]

খিলান (Arch): খিলান হলো দুটি স্তম্ভ, দেয়াল বা পিলারের মধ্যবর্তী শূন্যস্থানকে সংযুক্তকারী একটি বাঁকানো বা অর্ধবৃত্তাকার ভারবহনকারী স্থাপত্যিক কাঠামো, যা ছাদ বা দেওয়ালের ওপরের বিপুল ওজনকে পাশের স্তম্ভগুলোতে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।

মুসলিম স্থপতিরা প্রাচীন রোমান ও পারস্যের বৃত্তাকার খিলানকে রূপান্তর করে বিভিন্ন জ্যামিতিক ও নান্দনিক রূপ দান করেন:

  1. পয়েন্টেড খিলান (Pointed Arch): শীর্ষবিন্দুতে কোণ বা চোখা আকৃতির খিলান। এটি ইবনে তুলুন মসজিদ এবং পরবর্তীতে ইউরোপীয় গথিক স্থাপত্যের প্রধান ভিত্তি।
  2. ঘোড়ার নাল খিলান (Horseshoe Arch): অর্ধবৃত্তের চেয়ে বেশি বাঁকানো খিলান, যা দেখতে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো। এটি আন্দালুসিয়া (স্পেন) এবং মাগরেবের মুসলিম স্থাপত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য (যেমন কর্ডোভা জামে মসজিদ)।
  3. ওগী খিলান (Ogee Arch): এস-আকৃতির দ্বৈত বক্ররেখা সম্বলিত খিলান। দিল্লি সালতানাত ও বাংলায় (যেমন কুয়াতুল ইসলাম ও গৌড় স্থাপত্যে) এর প্রচুর ব্যবহার দেখা যায়।
  4. কীল খিলান (Keel Arch): নৌকার তলদেশের মতো তীক্ষ্ণ চোখা খিলান, যা মিশরের ফাতেমীয় স্থাপত্যের প্রধান প্রতীক।
  5. মাল্টিফয়েল বা বহুভাঁজ খিলান (Multifoil/Polylobed Arch): খিলানের ভেতরের সীমানায় অনেকগুলো ছোট ছোট বৃত্তাকার খাঁজ বা ভাঁজ কাটা থাকে, যা উমাইয়া ও মুরিশ স্থাপত্যে ব্যাপকভাবে দেখা যায়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম মসজিদ কোনটি?

মিশরের প্রাচীন ফুসতাত শহরে হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) কর্তৃক ৬৪১-৬৪২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ফুসতাত জামে মসজিদটি হলো আফ্রিকা মহাদেশের সর্বপ্রথম মসজিদ।

২. কুব্বাতুস সাখরা কোন উমাইয়া খলিফা কত সালে নির্মাণ করেন?

উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ৬৮৮ থেকে ৬৯১-৯২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জেরুজালেমে ঐতিহাসিক কুব্বাতুস সাখরা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন।

৩. কায়রোস্থ আল-আজহার মসজিদ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইযের সেনাপতি জওহর আস-সাকালী ৯৭০ থেকে ৯৭২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জামে আল-আজহার মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।

৪. ইবনে তুলুন মসজিদের প্রধান স্থাপত্যিক বিশিষ্টতা কী?

শতভাগ পোড়ামাটির ইট ও স্টুকো প্লাস্টারের ব্যবহার, চারপাশের নিরিবিলি বহিঃপ্রাঙ্গণ (জিয়াদা), পয়েন্টেড খিলান এবং সামারার অনুকরণে নির্মিত সর্পিলাকার বা প্যাঁচানো মিনার।

৫. দিল্লির কুতুব মিনারের উচ্চতা কত এবং এর নির্মাতা কারা?

কুতুব মিনারের উচ্চতা প্রায় ৭২.৫ মিটার (২৩৮ ফুট)। এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন কুতুবউদ্দিন আইবেক (১১৯৯ খ্রি.) এবং সম্পন্ন করেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ।

৬. বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে মোট কতটি গম্বুজ রয়েছে?

বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে মোট ৮১টি গম্বুজ রয়েছে (ছাদে ৭৭টি গম্বুজ যার মধ্যে ৭টি চৌচালা এবং চার কোণের মিনারের ওপর ৪টি ছোট গম্বুজ)।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *