জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

মুসলিম স্থাপত্য ও প্রত্নতত্ত্ব (Muslim Architecture and Archaeology) – 205306, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2022

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৫ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা 2022
বিভাগ: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিষয়: মুসলিম স্থাপত্য ও প্রত্নতত্ত্ব (Muslim Architecture and Archaeology)
বিষয় কোড: 205306 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি

১. কাবা শরিফের স্থাপত্য ইতিহাসের একটি বিবরণ দাও।

[Give an account of the architectural history of the ‘Kaba’.]

ক. ভূমিকা ও আদি নির্মাণ:

পবিত্র কাবা শরীফ হলো পৃথিবীর সর্বপ্রথম ইবাদতখানা এবং মুসলিম উম্মাহর শাশ্বত কিবলা (সূরা আলে ইমরান: ৯৬)। ইসলামি ইতিহাস অনুসারে, হযরত আদম (আ.) সর্বপ্রথম এর ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবনে তা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কাবা ঘরের প্রাচীন ভিত্তির ওপর পুনরায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। ইব্রাহিম (আ.) যে পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে কাবা নির্মাণ করেছিলেন, তা-ই ‘মাকামে ইব্রাহিম’ এবং প্রাচীরের এক কোণে বেহেশতি পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’ স্থাপন করা হয়।

খ. কুরাইশদের পুনর্নির্মাণ ও নবীজির ভূমিকা (৬০৫ খ্রি.):

মহানবী (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের পাঁচ বছর পূর্বে (৩৫ বছর বয়সে) এক আকস্মিক বন্যায় ও অগ্নিকাণ্ডে কাবা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে কুরাইশরা তা পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। হালাল অর্থের অভাবে তারা মূল ইব্রাহিমী ভিত্তির উত্তর পাশের অংশ (হাতীমে কাবা বা হিজরে ইসমাইল) বাদ দিয়ে কাবা নির্মাণ করে এবং কাঠের ছাদ স্থাপন করে। হাজরে আসওয়াদ পুনঃস্থাপনের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বে বিশ্বনবী (সা.) তাঁর অনুপম বুদ্ধিমত্তায় চাদরে পাথর রেখে সকল গোত্রনেতাকে দিয়ে তা বহন করিয়ে গৃহযুদ্ধ রোধ করেন এবং নিজ হাতে তা যথাস্তানে স্থাপন করেন।

গ. আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সংস্কার:

  1. আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.)-এর পুনর্নির্মাণ (৬৮৪ খ্রি.): ইয়াজিদের বাহিনীর আক্রমণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর খলিফা আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) মহানবী (সা.)-এর অন্তিম ইচ্ছার আলোকে হাতীমের অংশটুকু কাবার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করে দুটি দরজা (একটি প্রবেশের, অপরটি নির্গমনের) রেখে সম্পূর্ণ ইব্রাহিমী মাপে কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করেন।
  2. হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পরিবর্তন (৬৯৩ খ্রি.): উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের সেনাপতি হাজ্জাজ মক্কা বিজয় করে ইবনে জুবায়েরের নির্মিত হাতীমের অংশটি ভেঙে পুনরায় কুরাইশদের আমলের চতুষ্কোণ রূপে ফিরিয়ে দেন এবং পূর্বের একটি দরজা উঁচু করে রেখে অপর দরজাটি বন্ধ করে দেন। বর্তমান কাবার কাঠামো মূলত এই রূপরেখার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

ঘ. উসমানীয় ও আধুনিক স্থাপত্যিক রূপ:

১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে বিধ্বংসী বন্যার পর উসমানীয় সুলতান চতুর্থ মুরাদ গ্রানাইট পাথর দিয়ে কাবার প্রাচীর মজবুতভাবে পুনর্নির্মাণ করেন। আধুনিক সৌদি যুগে কাবার ছাদ, ভেতরের মার্বেল, স্বর্ণের দরজা (বাব-ই কাবা) এবং মীযাবে রহমত (বৃষ্টির পানি নির্গমন নল) অপরূপ আধুনিক ও টেকসই রূপ দান করা হয়েছে।


২. মহানবী (সা.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মদীনা মসজিদের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর।

[Explain the features of Madina Mosque established by Prophet (Sm.).]

ক. নির্মাণকাল ও প্রাথমিক রূপরেখা:

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহল ও সুহাইল নামে দুই এতিম বালকের কাছ থেকে ক্রয়কৃত জমিতে নিজ হাতে মাটি ও ইট বহন করে নির্মাণ করেন পবিত্র ‘মসজিদে নববী’। এটিই পরবর্তীকালে সমগ্র ইসলামি মসজিদ স্থাপত্যের মূল আর্কিটাইপ (Archetype) বা আদি মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

খ. স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. আয়তন ও চতুষ্কোণ কাঠামো: আদি মসজিদটি ছিল অত্যন্ত অনাড়ম্বর। এটি ছিল প্রায় ১০০ হাত × ১০০ হাত পরিমাপের (প্রায় ৩৫ মিটার × ৩৫ মিটার) চার দেওয়াল বেষ্টিত চতুষ্কোণ চত্বর। ভিত্তিটি ছিল তিন হাত গভীর পাথরের এবং দেওয়াল ছিল রোদে শুকানো কাঁচা মাটির ইটের তৈরি।
  2. ছাদ ও স্তম্ভ (Zullah): মসজিদের দক্ষিণ দিকে (শুরুতে জেরুজালেমের দিকে, পরবর্তীতে মক্কার কিবলামুখী) খেজুর গাছের কাণ্ডকে স্তম্ভ (Pillars) হিসেবে ব্যবহার করে তার ওপর খেজুর পাতা ও কাদার প্রলেপ দিয়ে একটি ছায়াঘেরা নামাজের স্থান (জুল্লাহ বা মুসাল্লা) নির্মাণ করা হয়। বাকি অংশটি ছিল উন্মুক্ত সাহন (Courtyard)।
  3. সুফফা (আবাসিক পাঠশালা): মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোণে খেজুর পাতার ছাউনিযুক্ত একটি উঁচু স্থান বা চত্বর তৈরি করা হয়, যাকে ‘আস-সুফফা’ বলা হয়। এটি ছিল নিঃস্ব, গৃহহীন জ্ঞানান্বেষী সাহাবিদের (আসহাবুচ ছুফফাহ) সার্বক্ষণিক কুরআন ও হাদিস শিক্ষার বিশ্বের প্রথম আবাসিক ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র।
  4. হুজরাসমূহ (বাসগৃহ): মসজিদের পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন উম্মুল মুমিনীনগণের জন্য কাঁচা ইট ও খেজুর পাতার ছোট ছোট কুটির বা হুজরা নির্মাণ করা হয়, যার দরজা সরাসরি মসজিদের দিকে উন্মুক্ত ছিল। পরবর্তীতে বিশ্বনবী (সা.) হযরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরাতেই দাফন হন।
  5. বহুমুখী সামাজিক কেন্দ্র: এটি কেবল প্রার্থনার স্থান ছিল না; বরং একাধারে ছিল সংসদ ভবন, বিচারালয়, সামরিক হেডকোয়ার্টার, কূটনৈতিক অভ্যর্থনাকেন্দ্র এবং দরিদ্রদের পুনর্বাসন কেন্দ্র।

৩. দামেস্ক জামে মসজিদকে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মসজিদ কেন বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।

[Why the Jami mosque of Damascus is called the first full-fledged mosque? Explain it.]

ক. নির্মাণ ইতিহাস:

উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদ ৭০৫ থেকে ৭১৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে উমাইয়াদের রাজধানী দামেস্কে সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্টের প্রাচীন ব্যাসিলিকার স্থানে বিপুল অর্থ ও মেধা ব্যয় করে সুবিশাল দামেস্ক জামে মসজিদ (Umayyad Mosque of Damascus) নির্মাণ করেন। বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য ঐতিহাসিক কে. এ. সি. ক্রেসওয়েলসহ শীর্ষ পণ্ডিতগণ একে সর্বসম্মতিক্রমে ‘ইসলামের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জামে মসজিদ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

খ. প্রথম পূর্ণাঙ্গ মসজিদ বলার কারণসমূহ:

  1. মসজিদ স্থাপত্যের সকল অপরিহার্য উপাদানের যুগপৎ সমাবেশ: দামেস্ক মসজিদের মাধ্যমেই ইসলামি মসজিদ স্থাপত্যের পাঁচটি মৌলিক অঙ্গ—উন্মুক্ত সাহন (Courtyard), মিহরাব (Niche), মিম্বার (Pulpit), মিনার (Minaret) এবং মাকসুরা গম্বুজ (Dome)—প্রথমবারের মতো এক সুসমন্বিত, স্থায়ী ও রাজকীয় স্থাপত্য কাঠামোর রূপ লাভ করে।
  2. ট্রানসেপ্ট ও আইল বিশিষ্ট কিবলা হল: কিবলা দেওয়ালের সমান্তরালে তিনটি সুবিশাল আইল (Aisles) এবং ঠিক মাঝখানে কিবলামুখী একটি কেন্দ্রীয় ট্রানসেপ্ট (Transept) নির্মাণ করা হয়। ট্রানসেপ্টের সংযোগস্থলে সুবিশাল কাঠের গম্বুজ ‘কুব্বাতুন নিসর’ (Dome of the Eagle) স্থাপন করা হয়, যা দূর থেকে উড়ন্ত ঈগলের মতো দৃষ্টিনন্দন দেখায়।
  3. মিনার স্থাপত্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: এ মসজিদের চার কোণে প্রাচীন রোমান পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের ওপর ভিত্তি করে প্রথম সুউচ্চ মিনার নির্মিত হয়। এর মধ্যে ঈসা (আ.)-এর মিনার (মিনারাতু ঈসা), কাইতবে মিনার এবং কনের মিনার (মিনারাতুল আরূস) ইসলামি স্থাপত্যে মিনারের ক্লাসিক্যাল মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেয়।
  4. নান্দনিক মোজাইক অলঙ্করণ: দেয়াল ও তোরণগুলোতে স্বর্ণ, নীল ও সবুজ কাঁচের চমৎকার মোজাইক দিয়ে কুরআনিক জান্নাতের ধারণা ফুটিয়ে তুলে সুদৃশ্য প্রাসাদ, নদী ও গাছপালার মনোরম নকশা করা হয়।

৪. কর্ডোভা জামে মসজিদের স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

[Describe the architectural features of the Jami Mosque of Cordova.]

ক. পটভূমি ও ধারাবাহিক নির্মাণ:

স্পেনের (আন্দালুসিয়া) উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আব্দুর রহমান ৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে গুয়াদালকুইভির নদীর তীরে কর্ডোভা জামে মসজিদ (Mezquita de Cordoba) নির্মাণ শুরু করেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় আব্দুর রহমান (৮৩৩-৮৪৮), দ্বিতীয় আল-হাকাম (৯৬১-৯৭৬) এবং সেনাপতি আল-মনসুর (৯৮৭) এর ব্যাপক সম্প্রসারণ সাধন করে একে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদে রূপান্তর করেন।

খ. অনন্য স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. স্তম্ভের অরণ্য (Forest of Pillars): কর্ডোভা মসজিদের ভেতরে জ্যাসপার, ওনিক্স, মার্বেল ও গ্রানাইট পাথরের তৈরি প্রায় ৮৫৬টি মনোমুগ্ধকর খোদাইকৃত স্তম্ভ রয়েছে। মসজিদের ভেতরে দাঁড়ালে মনে হয় যেন এক অনন্ত পাথরের অরণ্য।
  2. দ্বি-স্তরবিশিষ্ট দ্বি-বর্ণের খিলান (Double-Tiered Bicolour Arches): কর্ডোভার সবচেয়ে বিখ্যাত বিস্ময় হলো এর খিলান রীতি। ছাদের উচ্চতা ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করতে স্থপতিরা পিলারের ওপর একটির মাথায় আরেকটি খিলান—দ্বি-স্তরবিশিষ্ট খিলান নির্মাণ করেন। খিলানগুলোতে পর্যায়ক্রমে লাল পোড়ামাটির ইট এবং সাদা চুনাপাথরের গাঢ় বৈসাদৃশ্যপূর্ণ ডোরাকাটা নকশা ব্যবহার করা হয়, যা মুরিশ স্থাপত্যের চিরন্তন প্রতীকে পরিণত হয়।
  3. ঘোড়ার নাল ও বহুভাঁজ খিলান (Horseshoe & Polylobed Arches): এতে নিখুঁত ঘোড়ার ক্ষুরাকৃতির খিলান এবং অত্যন্ত জটিল জ্যামিতিক নকশার ইন্টারসেক্টিং ও বহুভাঁজ খিলান ব্যবহার করা হয়েছে।
  4. দ্বিতীয় আল-হাকামের চোখধাঁধানো মিহরাব: কর্ডোভার মিহরাবটি কেবল দেওয়ালের একটি কুলুঙ্গি নয়, বরং এটি একটি ক্ষুদ্র সুসজ্জিত প্রার্থনা কক্ষ। বাইজেন্টাইন সম্রাট কর্তৃক প্রেরিত মাস্টার কারিগরদের দিয়ে তৈরি স্বর্ণমণ্ডিত কাঁচের মোজাইক এবং কুরআনিক কুফি ক্যালিগ্রাফি একে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে পরিণত করেছে। এর ওপরে রয়েছে অনন্য স্কুইঞ্চযুক্ত পাঁজরবিশিষ্ট গম্বুজ (Ribbed Dome)।

৫. উমাইয়া ও আব্বাসীয় মসজিদ স্থাপত্যের একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।

[Discuss a comparative study between the Umayyads and Abbasaids Mosque architecture.]

ক. ভূমিকা:

উমাইয়া (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) এবং আব্বাসীয় (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) খেলাফত ইসলামি স্থাপত্যের দুটি প্রধান স্বর্ণযুগ। তবে তাদের ভৌগোলিক কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং ব্যবহৃত উপকরণের মধ্যে সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক পার্থক্য বিদ্যমান।

খ. তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

বৈশিষ্ট্য উমাইয়া মসজিদ স্থাপত্য আব্বাসীয় মসজিদ স্থাপত্য
১. কেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক প্রভাব সিরিয়ার দামেস্ক কেন্দ্রিক; হেলেনীয়, রোমান ও বাইজেন্টাইন গ্রিক সংস্কৃতির গভীর প্রভাব। ইরাকের বাগদাদ ও সামারা কেন্দ্রিক; প্রাচীন পারস্য সাসানীয় ও মধ্য এশীয় সংস্কৃতির গভীর প্রভাব।
২. নির্মাণ উপকরণ প্রধানত কাটা সাদা চুনাপাথর, মার্বেল এবং কাঠের ছাদ ও গম্বুজ। প্রধানত পোড়ামাটির রোদে শুকানো ইট এবং গভীর পলেস্তারা (স্টুকো)। পাথরের বদলে ইটের বিশাল পিলার।
৩. অলঙ্করণ শৈলী স্বর্ণমণ্ডিত কাঁচের মোজাইক (Glass Mosaic) এবং প্রাকৃতিক বৃক্ষরাজির ছবি (দামেস্ক ও কুব্বাতুস সাখরা)। স্টুকো খোদাই (সামারার স্টাইল এ, বি, সি) এবং বিমূর্ত জ্যামিতিক নকশা ও চকচকে সিরামিক টাইলস।
৪. মিনার শৈলী চতুষ্কোণ টাওয়ার আকৃতির মিনার (Square Minarets – সিরীয় ও উত্তর আফ্রিকান রীতি)। সর্পিলাকার বা প্যাঁচানো বহিঃসিঁড়িযুক্ত মিনার (সামারার মালবিয়া ও আবু দুলাফ মিনার)।
৫. প্রধান নিদর্শন কুব্বাতুস সাখরা, দামেস্ক জামে মসজিদ, কর্ডোভা জামে মসজিদ। সামারা জামে মসজিদ, আবু দুলাফ মসজিদ, কায়রোস্থ ইবনে তুলুন মসজিদ।

৬. বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যিক ও অলংকারিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।

[Describe the architectural and decorative features of “Shat Gombuj Mosque” at Bagerhat.]

ক. ঐতিহাসিক পটভূমি:

পঞ্চদশ শতকের মধ্যভাগে (১৪৫৯ খ্রি.) মহান সুফি সাধক ও সেনানায়ক হযরত খান জাহান আলী (রহ.) সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খলিফাতাবাদ শহর পত্তন করে বাংলার সর্ববৃহৎ স্বাধীন সুলতানি স্থাপত্য হিসেবে ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।

খ. স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. পরিমাপ ও দুর্গসদৃশ দেওয়াল: মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরে প্রায় ১৬০ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১০৮ ফুট। দেওয়ালগুলো প্রায় ৮ ফুট ৮ ইঞ্চি পুরু এবং কিছুটা ঢালু (Battered Walls), যা দিল্লির তুঘলকি সামরিক দুর্গের স্থাপত্যশৈলীর সুস্পষ্ট স্মারক।
  2. প্রকৃত গম্বুজ সংখ্যা (৮১টি গম্বুজ): সাধারণ বিশ্বাসে একে ‘ষাটগম্বুজ’ বলা হলেও এর ছাদ ৬০টি সুদৃঢ় পাথরের স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে হয়তো ‘ষাটখাম্বাজ’ বা ৬০ স্তম্ভের মসজিদ বলা হতো। বাস্তবে এর ছাদে মোট ৭৭টি গম্বুজ রয়েছে—যার মধ্যে মাঝখানের আইলে ৭টি অপূর্ব বাংলার দোচালা/চৌচালা কুঁড়েঘরের অনুকরণে নির্মিত চৌচালা গম্বুজ এবং দুই পাশে ১১টি সারিতে ৭০টি সাধারণ গোলাকার গম্বুজ। এ ছাড়া চার কোণের চারটি মিনারের ওপরে ৪টি ছোট গম্বুজসহ মোট গম্বুজ সংখ্যা ৮১টি
  3. প্রবেশদ্বার ও তোরণ: পূর্ব দেওয়ালে ১১টি, উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে ৭টি করে চোখা পয়েন্টেড খিলানযুক্ত সুদৃশ্য প্রবেশদ্বার রয়েছে।
  4. চার কোণের মিনার: চার কোণে চারটি বৃত্তাকার মিনার রয়েছে, যার ভেতরে পেঁচানো সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠা যায়। সামনের মিনার দুটি (রওশন কোঠা ও আন্ধার কোঠা) দিয়ে আযান দেওয়া হতো।

গ. অলংকারিক বৈশিষ্ট্য (পোড়ামাটির টেরাকোটা):

মসজিদটিতে কোনো পাথর বা মার্বেল খোদাইয়ের মোজাইক নেই; বরং আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা (Terracotta) দ্বারা এটি সুসজ্জিত। পশ্চিম দেওয়ালের ১১টি অবতল পাথরের মিহরাবের চারপাশে পদ্মফুল, লতাপাতা, তারকাসদৃশ নকশা এবং ঝুলন্ত শিকলের অপূর্ব দেশীয় নকশা উৎকীর্ণ রয়েছে।


৭. প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝ? প্রত্নতত্ত্ব পাঠের গুরুত্ব বর্ণনা কর।

[What do you mean by Archaeology? Describe the importance of the study of archaeology.]

ক. প্রত্নতত্ত্বের সংজ্ঞা (Definition of Archaeology):

‘প্রত্নতত্ত্ব’ শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ—‘Archaios’ (প্রাচীন) এবং ‘Logos’ (জ্ঞান বা বিজ্ঞান)-এর সমন্বয়ে গঠিত। অর্থাৎ প্রত্নতত্ত্ব হলো এমন একটি বৈজ্ঞানিক শাস্ত্র যা অতীতের মানব বসতি, প্রাচীন বস্তুগত ধ্বংসাবশেষ, স্মৃতিস্তম্ভ, প্রাচীন লিপি, মুদ্রা ও মাটির নিচে প্রোথিত নিদর্শন বৈজ্ঞানিক খনন, জরিপ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানব সমাজের ধারাবাহিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির বাস্তব চিত্র পুনর্গঠন করে। প্রত্নতাত্ত্বিক গর্ডন চাইল্ডের ভাষায়: “Archaeology is the scientific study of past human culture through material remains.”

খ. প্রত্নতত্ত্ব পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

  1. প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকারের উন্মোচন: মানুষ যখন লিখতে শেখেনি (প্রাগৈতিহাসিক যুগ), সে সময়ের মানব সমাজের জীবনধারা, অস্ত্রশস্ত্র, খাদ্য ও সংস্কৃতি জানার একমাত্র মাধ্যম হলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
  2. লিখিত ইতিহাসের সত্যতা যাচাই: লিখিত ইতিহাস অনেক সময় রাজার তোষামোদি বা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। কিন্তু মাটির নিচে অক্ষত থাকা প্রাচীন ইট, সমাধি, হাতিয়ার ও শিলালিপি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অভ্রান্ত বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সাক্ষ্য প্রদান করে।
  3. কালপঞ্জি নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি: রেডিওকার্বন ডেটিং (C-14), পটাশিয়াম-আর্গন ডেটিং এবং স্ট্র্যাটিগ্রাফির মাধ্যমে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ও সভ্যতার সঠিক সময়কাল নিখুঁতভাবে নিরূপণ করা যায়।
  4. হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার পুনরাবিষ্কার: প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলেই বিশ্ববাসী হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো সিন্ধু সভ্যতা, মেসোপটেমিয়ার সুমেরীয়-ব্যাবিলনীয় নগরী, মিশরের ফারাওদের তুতেনখামেনের সমাধি এবং বাংলায় মহাস্থানগড়, ময়নামতী ও উয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতার অস্তিত্ব জানতে পেরেছে।
  5. মুসলিম সভ্যতার সমৃদ্ধি অনুধাবন: প্রাচীন মুসলিম নগরী (ফুসতাত, সামারা, আল-হাম্বরা, গৌড়) খনন করে মুসলিমদের উন্নত নগর পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক ও কারিগরি শিল্পের উৎকর্ষ উদঘাটিত হয়।

৮. প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে? আলোচনা কর।

[What are the initiatives taken to preserve archaeological sites? Describe it.]

ক. প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণের অপরিহার্যতা:

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলো একটি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের অমূল্য দৃশ্যমান স্মৃতি। রোদ, বৃষ্টি, ভূমিকম্প, আর্দ্রতা, লোনা ধরা এবং সর্বোপরি মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের হাত থেকে প্রাচীন নিদর্শনকে টিকিয়ে রাখার বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়াকে প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ (Archaeological Conservation) বলে।

খ. প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষণে গৃহীত প্রধান প্রধান পদক্ষেপসমূহ:

  1. প্রতিরোধমূলক সংরক্ষণ (Preventive Conservation):
    • সাইটের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে মানুষ ও গবাদিপশুর অবাধ প্রবেশ ও ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করা।
    • বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা, যাতে ভিত্তিমূলে জলাবদ্ধতা না জমে। ছাদ ও দেয়ালের ওপর বেড়ে ওঠা বট-পাকুড় জাতীয় ক্ষতিকারক পরজীবী আগাছা ও শেওলা রাসায়নিক প্রয়োগে গোড়াসহ বিনষ্ট করা।
  2. রাসায়নিক সংরক্ষণ (Chemical Treatment):
    • বাতাসের কার্বন ও অম্লবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পোড়ামাটির টেরাকোটা ও পাথরের ক্ষয় রোধে বিশেষ রাসায়নিক প্রলেপ (যেমন পলিভিনাইল অ্যাসিটেট বা সিলিকন ওয়াটার রিপেলেন্ট) প্রয়োগ করা। প্রাচীন ধাতব মুদ্রা ও অস্ত্রের মরিচা দূর করে জারণরোধী প্রলেপ দেওয়া।
  3. কাঠামোগত পুনরুদ্ধার ও সংস্কার (Restoration):
    • ভেনিস চার্টার (Venice Charter, 1964) অনুযায়ী স্মৃতিসৌধের আদি রূপ ও নির্মাণ উপকরণ বিকৃত না করে সম্পূর্ণ মূল নকশার সাথে সঙ্গতি রেখে একই মাপের চুন-সুরকি ও ইটের সাহায্যে ঝুঁকিপূর্ণ খিলান, দেওয়াল ও গম্বুজের ফাটল মেরামত করা। অতিরিক্ত নতুন আধুনিক কংক্রিট ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  4. আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা:
    • প্রাচীন প্রত্নসম্পদ আইন (Antiquities Act) প্রণয়ন ও কঠোরভাবে প্রয়োগ করে প্রত্নসামগ্রী চুরি, পাচার ও অবৈধ জমি দখলকে জামিনঅযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা করা।
    • সাইট মিউজিয়াম স্থাপন এবং স্থানীয় জনসাধারণ ও পর্যটকদের মধ্যে প্রত্নঐতিহ্য রক্ষার সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

৯. ‘কুসায়ের আমরা’ সম্পর্কে ধারণা দাও।

[Give an idea about the ‘Qusayr Amra’.]

কুসায়ের আমরা (Qusayr Amra): বর্তমান জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় আল-ওয়ালিদ কর্তৃক অষ্টম শতকের প্রথমার্ধে (৭১১-৭১৫ খ্রি.) নির্মিত একটি বিখ্যাত মরুপ্রাসাদ ও রাজকীয় হাম্মামখানা (Bathhouse)।

  • ফ্রেস্কো চিত্রকলার বিস্ময়: এটি কোনো মসজিদ নয়, বরং খলিফাদের বিশ্রাম ও শিকারের লজ ছিল। এর ভেতরের দেওয়াল ও ছাদে চমৎকার রঙিন ফ্রেস্কো চিত্র আঁকা রয়েছে। এতে তৎকালীন পরিচিত বিশ্বের ছয়জন মহান সম্রাট (বাইজেন্টাইন সিজার, পারস্যের কিসরা, স্পেনের রডারিক, আবিসিনিয়ার নাজ্জাশি প্রমুখ)-এর ছবি রয়েছে। হাম্মামের গম্বুজে রাশিচক্র ও তারকামণ্ডলের নিখুঁত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মানচিত্র আঁকা রয়েছে। এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।

১০. জুল্লাহ কী?

[What is Jullah?]

জুল্লাহ (Zullah/Liwan): ইসলামি মসজিদ স্থাপত্যের পরিভাষায় ‘জুল্লাহ’ হলো মসজিদের উন্মুক্ত চত্বরের (সাহন) কিবলা দেওয়ালের দিকে অবস্থিত মূল ছায়াঘেরা আচ্ছাদিত প্রার্থনাকক্ষ বা হলরুম (Prayer Hall)।

  • উৎপত্তি ও ব্যবহার: মদিনার আদি মসজিদে নববীতে রোদ ও গরম থেকে মুসল্লিদের রক্ষা করার জন্য কিবলার দিকে খেজুরের খুঁটির ওপর খেজুর পাতার ছাউনিযুক্ত যে স্থানটি করা হয়েছিল, তাকে জুল্লাহ বলা হতো। পরবর্তীকালের হাইপোস্টাইল মসজিদসমূহে (যেমন ফুসতাত, দামেস্ক, কর্ডোভা) স্তম্ভযুক্ত মূল ছাদবিশিষ্ট নামাজের অংশকেই জুল্লাহ বা লিওয়ান বলা হয়।

১১. ডোম অব দ্য রক এর স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

[Discuss the architectural features of the Dome of the Rock.]

উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ৬৮৮ থেকে ৬৯১-৯২ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেমের হারাম আল-শরীফে পবিত্র পাথরের ওপর কুব্বাতুস সাখরা (Dome of the Rock) নির্মাণ করেন। এর প্রধান স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • অষ্টভুজাকার কাঠামো: এর ভিত্তি ও বাইরের দেওয়াল সম্পূর্ণ অষ্টভুজাকার (Octagonal)। চারদিকে চারটি মার্বেল পাথরের প্রবেশদ্বার রয়েছে।
  • দ্বৈত প্রদক্ষিণ পথ: পবিত্র পাথরের চারদিকে বৃত্তাকারে দুটি হাঁটার পথ বা প্রদক্ষিণ গলি রয়েছে, যা মার্বেল কলাম ও পিলারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
  • স্বর্ণমণ্ডিত গম্বুজ: কেন্দ্রে ২০.৪৪ মিটার ব্যাসের সুবিশাল দ্বৈত কাঠের তৈরি সোনালী গম্বুজ রয়েছে। ভেতরের দেওয়াল অপরূপ কাঁচের মোজাইক এবং প্রাচীনতম কুরআনিক কুফি ক্যালিগ্রাফির শিলালিপিতে সুসজ্জিত।

১২. পুরাতত্ত্ব সংজ্ঞায়িত কর।

[Define Antiquity.]

পুরাতত্ত্ব (Antiquity): আইন ও প্রত্নতত্ত্বের পরিভাষায় ‘পুরাতত্ত্ব’ বা প্রত্নসম্পদ বলতে মানবজাতির অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান বা ধর্মীয় বিশ্বাসের সাক্ষ্য বহনকারী এমন কোনো প্রাচীন বস্তু, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, সমাধি, পাণ্ডুলিপি, মুদ্রা বা ধ্বংসাবশেষকে বোঝায়, যা অন্তত একশত বা ততোধিক বছর পূর্বে নির্মিত বা সৃষ্ট হয়েছে।

  • বাংলাদেশ পুরাতত্ত্ব আইন (Antiquities Act, 1968) অনুসারে, কোনো ঐতিহাসিক ভবন, প্রাচীন স্থাপনা, ঢিবি বা হস্তনির্মিত বস্তু যার ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক মূল্য রয়েছে এবং যার বয়স ন্যূনপক্ষে ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত পুরাতত্ত্ব হিসেবে গণ্য হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. পৃথিবীর সর্বপ্রথম উপাসনালয় কোনটি?

পবিত্র মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরীফ হলো মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্মিত পৃথিবীর সর্বপ্রথম গৃহ বা উপাসনালয় (সূরা আলে ইমরান: ৯৬)।

২. ইসলামের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মসজিদ কাকে বলা হয়?

সিরিয়ার দামেস্কে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদ কর্তৃক ৭১৫ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত দামেস্ক উমাইয়া জামে মসজিদকে ইসলামের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মসজিদ বলা হয়।

৩. কর্ডোভা জামে মসজিদে মোট কতটি পাথরের স্তম্ভ রয়েছে?

স্পেনের কর্ডোভা জামে মসজিদে বিভিন্ন জাতের মার্বেল, গ্রানাইট ও জ্যাসপার পাথরের তৈরি প্রায় ৮৫৬টি সুদৃশ্য স্তম্ভ বিদ্যমান রয়েছে।

৪. বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে মোট কতটি গম্বুজ রয়েছে?

বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে মোট ৮১টি গম্বুজ রয়েছে (ছাদে ৭৭টি গম্বুজ যার মধ্যে ৭টি চৌচালা এবং চার কোণের মিনারের ওপর ৪টি গম্বুজ)।

৫. কুসায়ের আমরা কোন দেশে অবস্থিত এবং এর বিশেষত্ব কী?

কুসায়ের আমরা জর্ডানে অবস্থিত একটি উমাইয়া মরুপ্রাসাদ, যা এর দেওয়াল ও গম্বুজে আঁকা প্রাচীন রাজন্যবর্গ ও রাশিচক্রের ফ্রেস্কো চিত্রকলার জন্য বিশ্বখ্যাত।

৬. প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সনদ কোনটি?

১৯৬৪ সালের ঐতিহাসিক ভেনিস চার্টার (Venice Charter) হলো ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ ও প্রত্নস্থল সংরক্ষণের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক সনদ।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *