জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (Qawaidul Lughatil Arabiyyah) – 203203, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2022

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৭২ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (قواعد اللغة العربية)
বিষয় কোড: ২০৩২০৩
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

القسم الأول: علم النحو (১ম অংশ: ইলমুন নাহু)

١- أجب عن ثلاثة من الأسئلة التالية:

[১. ইলমুন নাহু থেকে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর পূর্ণাঙ্গ সমাধান:]

(الف) عرف الاسم ثم بين علاماته مع ذكر أقسامه من حيث التذكير والتأنيث والتعريف والتنكير مفصلا وممثلا –

[১. (ক) ইসমের পরিচয় দাও এবং এর আলামতসমূহ উল্লেখ কর। অতঃপর পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ ও নির্দিষ্ট-অনির্দিষ্ট হিসেবে এর প্রকারভেদ উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. ইসমের পারিভাষিক সংজ্ঞা (تعريف الاسم):
ইলমুন নাহুর পরিভাষায়, “الِاسْمُ هُوَ كَلِمَةٌ دَلَّتْ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهَا غَيْرِ مُقْتَرِنَةٍ بِأَحَدِ الأَزْمِنَةِ الثَّلَاثَةِ” অর্থাৎ, ইসম বা বিশেষ্য হলো এমন অর্থপূর্ণ শব্দ যা অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ—এই তিন কালের কোনো একটির সাথে যুক্ত না হয়ে নিজের অর্থ নিজে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে। যেমন: رَجُلٌ (একজন পুরুষ), كِتَابٌ (বই), مَكَّةُ (মক্কা)।

২. ইসম চেনার আলামতসমূহ (علامات الاسم):
ইবনে মালিক (রহ.) তাঁর আলফিয়্যাহতে উল্লেখ করেছেন: “بِالْجَرِّ وَالتَّنْوِينِ وَالنِّدَا وَأَلْ ¤ وَمُسْنَدٍ لِلِاسْمِ تَمْيِيزٌ حَصَلْ”। ইসমের প্রধান আলামতগুলো নিম্নরূপ:

  1. জের বা হরফে জার গ্রহণ করা (الجر): শব্দের পূর্বে হরফে জার আসা বা শব্দটির মাজরুর হওয়া (যেমন: فِي المَسْجِدِ)।
  2. তানবীন গ্রহণ করা (التنوين): শব্দের শেষে দুই পেশ, দুই যবর বা দুই জের হওয়া (যেমন: كِتَابٌ، مُحَمَّدًا)।
  3. আলিফ-লাম (ال) যুক্ত হওয়া: নির্দিষ্টকারী ‘আল’ গৃহীত হওয়া (যেমন: القَلَمُ)।
  4. হরফে নিদা গ্রহণ করা (النداء): সম্বোধন পদ গ্রহণ করা (যেমন: يَا رَسُولَ اللَّـهِ)।
  5. মুসনাদ ইলাইহ হওয়া (الإسناد إليه): বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্য হওয়া (যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ)।

৩. পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গভেদে ইসমের প্রকারভেদ (من حيث التذكير والتأنيث):

  • মুযাক্কার (المذكر – পুংলিঙ্গ): যে শব্দে নারীবাচকতার কোনো আলামত নেই এবং যা পুরুষ জাতীয় সত্তা বোঝায়। যেমন: رَجُلٌ (পুরুষ), غُلَامٌ (বালক)। এটি আবার দুই প্রকার: হাক্বিক্বী (প্রাকৃতিক পুরুষ, যেমন: أَسَدٌ) এবং মাজাযী (ব্যাকরণগত পুরুষ, যেমন: بَابٌ)।
  • মুয়ান্নাস (المؤنث – স্ত্রীলিঙ্গ): যে শব্দে স্ত্রীলিঙ্গের কোনো আলামত থাকে বা যা নারীবাচক সত্তা নির্দেশ করে। আলামত তিনটি: গোল তা (ة), আলিফে মাকসুরাহ (ى), এবং আলিফে মামদুদা (اء)। প্রকারভেদ:
    • হাক্বিক্বী: বাস্তবে যার বিপরীতে পুরুষ জোড়া আছে (যেমন: امْرَأَةٌ – নারী, نَاقَةٌ – উষ্ট্রী)।
    • লাফযী: যাতে তা বা অন্য আলামত আছে কিন্তু পুরুষবাচক সত্তা বোঝায় (যেমন: طَلْحَةُ، حَمْزَةُ)।
    • মা’নাবী: আলামত দৃশ্যমান নয় কিন্তু অর্থে নারীবাচক (যেমন: أُمٌّ، مَرْيَمُ)।
    • সামাঈ: কোনো নিয়ম ছাড়া আরবদের উচ্চারণের সূত্রে যা স্ত্রীলিঙ্গ গণ্য হয় (যেমন: شَمْسٌ، نَارٌ، أَرْضٌ)।

৪. নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট হিসেবে ইসমের প্রকারভেদ (من حيث التعريف والتنكير):

  • নাকিরাহ (النكرة – অনির্দিষ্ট): যে শব্দ অনির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে বোঝায়। যেমন: رَجُلٌ (যেকোনো লোক), مَدِينَةٌ (একটি শহর)।
  • মারেফা (المعرفة – নির্দিষ্ট): যে শব্দ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ধারণাকে বোঝায়। মারেফা সাত প্রকার:
    1. যমীর বা সর্বনাম (الضمير): যেমন—هُوَ، أَنْتَ، أَنَا
    2. ইসমে আলাম বা নামবাচক বিশেষ্য (العَلَم): যেমন—مُحَمَّدٌ، مَكَّةُ
    3. ইসমে ইশারা বা নির্দেশক সর্বনাম (اسم الإشارة): যেমন—هَٰذَا، تِلْكَ
    4. ইসমে মাউসুল বা সম্বন্ধপদ (اسم الموصول): যেমন—الَّذِي، الَّتِي
    5. মু’আররাফ বিল-লাম বা ‘আল’ যুক্ত শব্দ (المعرَّف بأل): যেমন—الكِتَابُ
    6. মুদাফ ইলাল মারেফা বা নির্দিষ্ট শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (المضاف إلى معرفة): যেমন—كِتَابُ زَيْدٍ
    7. মুনাদা মাকসুদ বা নির্দিষ্ট করে ডাকা ব্যক্তি (المنادى المعين): যেমন—يَا رَجُلُ

(ب) عرف جمع التكسير ثم بين أقسامه مع ذكر أوزان جمع القلة وجمع الكثرة مسندا وموضحا –

[১. (খ) জমায়ে তাকসিরের পরিচয় দাও। অতঃপর জমায়ে কিল্লাত ও জমায়ে কাসরাতের ওজনসমূহ উল্লেখপূর্বক এর প্রকারভেদ বিশদভাবে আলোচনা কর।]

১. জমায়ে তাকসিরের সংজ্ঞা (تعريف جمع التكسير):
আরবি ব্যাকরণে, “جَمْعُ التَّكْسِيرِ هُوَ مَا تَغَيَّرَ فِيهِ بِنَاءُ مُفْرَدِهِ عِنْدَ الْجَمْعِ” অর্থাৎ, একবচন (মুফরাদ) থেকে বহুবচনে রূপান্তরের সময় মূল শব্দটির গঠন কাঠামো বা হরকত যদি ভেঙে পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তাকে ‘জমায়ে তাকসির’ বা ভগ্ন বহুবচন বলে। যেমন: كِتَابٌ (মুফরাদ) থেকে كُتُبٌ, رَجُلٌ থেকে رِجَالٌ

২. জমায়ে তাকসিরের প্রধান প্রকারভেদ:
জমায়ে তাকসির অর্থ ও পরিমাণের দিক থেকে দুই ভাগে বিভক্ত: ১. জমা কিল্লাত (جمع القلة) এবং ২. জমা কাসরাত (جمع الكثرة)।

৩. জমা কিল্লাতের পরিচয় ও ওযানসমূহ (جمع القلة):
জমা কিল্লাত হলো এমন বহুবচন যা ৩ থেকে ১০ পর্যন্ত সীমিত সংখ্যা নির্দেশ করে। এর নির্ধারিত ওযান (ছন্দ) ৪টি:

  1. أَفْعُلٌ: যেমন—أَنْفُسٌ (কয়েকটি প্রাণ), أَعْيُنٌ (কয়েকটি চোখ)।
  2. أَفْعَالٌ: যেমন—أَقْلَامٌ (কয়েকটি কলম), أَوْلَادٌ (কয়েকটি সন্তান)।
  3. أَفْعِلَةٌ: যেমন—أَطْعِمَةٌ (কয়েক প্রকার খাবার), أَمْثِلَةٌ (কতিপয় উদাহরণ)।
  4. فِعْلَةٌ: যেমন—فِتْيَةٌ (কয়েকজন যুবক), صِبْيَةٌ (কয়েকজন শিশু)।

৪. জমা কাসরাতের পরিচয় ও প্রধান ওযানসমূহ (جمع الكثرة):
জমা কাসরাত হলো এমন বহুবচন যা ৩ থেকে শুরু করে অসীম বা বিপুল সংখ্যা (১০-এর অধিক) নির্দেশ করে। এর প্রসিদ্ধ ওযান প্রায় ১৭টি। প্রধান কয়েকটি ওযান নিচে তুলে ধরা হলো:

  • فُعُلٌ: যেমন—كُتُبٌ (বহু বই), رُسُلٌ (রাসূলগণ)।
  • فُعَلٌ: যেমন—غُرَفٌ (অনেক কক্ষ), قُرًى (অনেক গ্রাম)।
  • فِعَلٌ: যেমন—قِطَعٌ (খণ্ডসমূহ), حِكَمٌ (প্রজ্ঞামালা)।
  • فُعَّالٌ: যেমন—كُتَّابٌ (বহু লেখক), طُلَّابٌ (বহু ছাত্র)।
  • فُعُولٌ: যেমন—قُلُوبٌ (হৃদয়সমূহ), شُهُودٌ (সাক্ষীগণ)।
  • فِعَالٌ: যেমন—رِجَالٌ (অনেক পুরুষ), جِبَالٌ (পাহাড়সমূহ)।
  • فَعَلَةٌ: যেমন—طَلَبَةٌ (শিক্ষার্থীবৃন্দ), كَفَرَةٌ (কাফেররা)।
  • مَفَاعِلُ ও مَفَاعِيلُ (সিগায়ে মুনতাহাল জুমূ’): যেমন—مَسَاجِدُ (অনেক মসজিদ), مَصَابِيحُ (প্রদীপমালা)।

(ج) عرف الجملة الاسمية واذكر جزأيها ثم بين أحوال تقديم الخبر على المبتدأ وجوبا بالتفصيل –

[১. (গ) জুমলায়ে ইসমিয়ার পরিচয় দাও এবং এর দুটি অংশের বিবরণ দাও। অতঃপর মুবতাদার ওপর খবরকে বাধ্যতামূলকভাবে (উজুবান) আগে আনার ক্ষেত্রসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. জুমলায়ে ইসমিয়ার সংজ্ঞা ও অংশদ্বয়:
যে বাক্যটি মূলত একটি ইসম বা বিশেষ্য পদ দ্বারা আরম্ভ হয় তাকে জুমলায়ে ইসমিয়্যাহ (الجملة الاسمية) বলে। এর প্রধান দুটি মৌলিক অংশ রয়েছে:

  • মুবতাদা (المبتدأ – উদ্দেশ্য): বাক্যের শুরুর মূল বিশেষ্য পদ যার সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেওয়া হয়। এটি মূলত মারফু বা পেশযুক্ত হয় এবং সাধারণ নিয়মে মারেফা হয় (যেমন: اللَّـهُ رَبُّنَا—এখানে ‘আল্লাহ’ মুবতাদা)।
  • খবর (الخبر – বিধেয়): মুবতাদা সম্পর্কে যে সংবাদ বা তথ্য পরিবেশন করা হয়। এটিও মারফু হয় এবং পূর্ণাঙ্গ বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করে (যেমন: رَبُّنَا—এখানে খবর)।

২. মুবতাদার পূর্বে খবরকে বাধ্যতামূলকভাবে (উজুবান) আগে আনার ক্ষেত্রসমূহ:
সাধারণ নিয়ম হলো প্রথমে মুবতাদা এবং পরে খবর আসবে। কিন্তু নিম্নোক্ত চারটি প্রধান ক্ষেত্রে খবরকে অবশ্যই মুবতাদার আগে আনতে হয় (وجوب تقديم الخبر):

  1. খবর যদি এমন শব্দের অন্তর্ভুক্ত হয় যা বাক্যের শুরুতে আসা বাধ্যতামূলক (الصدارة): যেমন প্রশ্নবোধক শব্দাবলী। উদাহরণ: أَيْنَ زَيْدٌ؟ (যায়েদ কোথায়?) এবং مَتَى نَصْرُ اللَّـهِ؟। এখানে ‘আইনা’ ও ‘মাতা’ খবর হলেও শুরুতে আসা ওয়াজিব।
  2. মুবতাদার সাথে এমন সর্বনাম যুক্ত থাকা যা খবরের দিকে প্রত্যাবর্তন করে: খবরের পরে যদি কোনো সর্বনামের মারজি বা উৎস পিছিয়ে যায় তবে ব্যাকরণে তা নিষিদ্ধ। তাই খবর আগে আসে। উদাহরণ: فِي الدَّارِ صَاحِبُهَا (ঘরে রয়েছে ঘরের মালিক)। এখানে ‘হা’ সর্বনামটি ঘরের দিকে ফিরছে।
  3. মুবতাদা যখন নাকিরাহ (অনির্দিষ্ট) এবং খবর হয় জার-মাজরুর বা যারফ (শুবহু জুমলাহ): যদি মুবতাদা নাকিরায়ে মাহযা হয় এবং খবরের অংশটি জার-মাজরুর হয়। উদাহরণ: فِي البَيْتِ رَجُلٌ (ঘরে একজন লোক আছে), عِنْدِي مَالٌ (আমার নিকট অর্থ আছে)।
  4. খবরের মধ্যে যদি অর্থকে সীমাবদ্ধ (হসর/ক্বসর) করা উদ্দেশ্য হয়: অর্থাৎ ‘ইল্লা’ (إلا) বা ‘ইন্নামা’ (إنما) দ্বারা খবরকে খাস করা হয়। উদাহরণ: إِنَّمَا الشَّاعِرُ حَسَّانُ (কবি তো কেবল হাসসানই) বা مَا فِي الدَّارِ إِلَّا عَلِيٌّ (ঘরে কেবল আলীই আছে)।

(د) ما هي الأفعال الناقصة؟ كم هي؟ وما عملها؟ مثلها مع إعراب جملها موضحا ومفصلا –

[১. (ঘ) আফআলে নাকাisah বা অসম্পূর্ণ ক্রিয়াপদ কী? এগুলো কয়টি ও কী কী? এদের আমল বা কার্যাবলি কী? উদাহরণসহ বাক্য বিশ্লেষণপূর্বক বিস্তারিত আলোচনা কর।]

১. আফআলে নাকায়েসার সংজ্ঞা (تعريف الأفعال الناقصة):
যে সকল ফেল বা ক্রিয়াপদ শুধুমাত্র ফায়েল (কর্তা) নিয়ে পূর্ণ বাক্য গঠন করতে পারে না, বরং পূর্ণাঙ্গ ভাব প্রকাশের জন্য একটি অতিরিক্ত খবরের মুখাপেক্ষী হয়, সেগুলোকে ‘আফআলে নাক্বিসাহ’ (أفعال ناقصة) বলে। এগুলো জুমলায়ে ইসমিয়ার শুরুতে প্রবেশ করে।

২. সংখ্যা ও তালিকা:
প্রসিদ্ধ আফআলে নাক্বিসাহ মোট ১৩টি (যাদেরকে কানা ও তার সমগোত্রীয় ফেল বলা হয়):
كَانَ، صَارَ، لَيْسَ، أَصْبَحَ، أَمْسَى، أَضْحَى، ظَلَّ، بَاتَ، مَا زَالَ، مَا بَرِحَ، مَا فَتِئَ، مَا انْفَكَّ، مَا دَامَ

৩. এদের আমল বা ব্যাকরণগত কার্যকারিতা (عملها):
এগুলো জুমলায়ে ইসমিয়ার ওপর প্রবেশ করে মুবতাদাকে রফা (পেশ) দেয় এবং তখন সেই মুবতাদাকে বলা হয় ‘ইসমে কানা’ (اسم كان); আর খবরকে নাসব (যবর) দেয় এবং তাকে বলা হয় ‘খবরে কানা’ (خبر كان)। নিয়ম: “تَرْفَعُ الِاسْمَ وَتَنْصِبُ الخَبَرَ”

৪. উদাহরণ ও বাক্য বিশ্লেষণ (التمثيل والإعراب):
উদাহরণ বাক্য: كَانَ اللَّـهُ غَفُورًا رَّحِيمًا (আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও দয়াময়)।

  • كَانَ: فِعْلٌ مَاضٍ نَاقِصٌ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ (অতীতকালীন অসম্পূর্ণ ক্রিয়া, ফাতহার ওপর মাবনী)।
  • اللَّـهُ: اسْمُ كَانَ مَرْفُوعٌ، وَعَلَامَةُ رَفْعِهِ الضَّمَّةُ الظَّاهِرَةُ عَلَى آخِرِهِ (কানা-এর ইসম, রফার আলামত হলো শেষাক্ষরে সুস্পষ্ট পেশ)।
  • غَفُورًا: خَبَرُ كَانَ أَوَّلُ مَنْصُوبٌ، وَعَلَامَةُ نَصْبِهِ الفَتْحَةُ الظَّاهِرَةُ عَلَى آخِرِهِ (কানা-এর ১ম খবর, নাসবের আলামত শেষাক্ষরে সুস্পষ্ট যবর)।
  • رَّحِيمًا: خَبَرُ كَانَ ثَانٍ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ (কানা-এর ২য় খবর, ফাতহাযুক্ত)।

(هـ) عرف الإضافة ثم بين أقسامها مع ذكر المعاني والإعراب وحكم كل قسم مفصلا –

[১. (ঙ) ইজাফতের পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ, অর্থগত বৈশিষ্ট্য এবং প্রত্যেক প্রকারের এরাবের হুকুম বিস্তারিত আলোচনা কর।]

১. ইজাফতের সংজ্ঞা (تعريف الإضافة):
দুটি ইসম বা বিশেষ্যকে এমনভাবে পরস্পরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা যার ফলে দ্বিতীয় শব্দটির কারণে প্রথম শব্দের একটি বিশেষ পরিচয় বা অর্থ স্পষ্ট হয়, তাকে ইজাফত (الإضافة) বলে। প্রথম অংশকে মুদাফ (المضاف) এবং দ্বিতীয় অংশকে মুদাফ ইলাইহ (المضاف إليه) বলা হয়। যেমন: كِتَابُ زَيْدٍ (যায়েদের বই)।

২. ইজাফতের প্রধান প্রকারভেদ:
ইজাফত মূলত দুই প্রকার: ১. ইজাফতে মা’নাবিয়্যাহ বা হাক্বিক্বিয়্যাহ, এবং ২. ইজাফতে লাফযিয়্যাহ বা গায়রে হাক্বিক্বিয়্যাহ।

  1. ইজাফতে মা’নাবিয়্যাহ (الإضافة المعنوية):
    মুদাফ শব্দটি যখন কোনো সিফাত (ইসমে ফায়েল, মাফউল বা সিফাতে মুশাব্বাহা) ব্যতীত সাধারণ ইসম হয়। এটি মুদাফকে মারেফার সাথে সম্বন্ধের মাধ্যমে মারেফা (নির্দিষ্টতা) অথবা নাকিরাহর সাথে সম্বন্ধের মাধ্যমে তাখসীস (বিশেষ অর্থ) প্রদান করে। এটি অন্তর্নিহিতভাবে তিনটি হরফে জারের অর্থ প্রকাশ করে:

    • লাম (لِـ) এর অর্থ (মালিকানা প্রকাশে): যেমন—غُلَامُ زَيْدٍ (যায়েদের গোলাম, অর্থাৎ গোলামটি যায়েদের মালিকানাধীন)।
    • মিন (مِنْ) এর অর্থ (উপাদান প্রকাশে): যখন মুদাফ ইলাইহটি মুদাফের উপাদান বা জাত হয়। যেমন—خَاتَمُ فِضَّةٍ (রৌপ্যনির্মিত আংটি, অর্থাৎ আংটিটি রূপার তৈরি)।
    • ফী (فِي) এর অর্থ (স্থান বা কাল প্রকাশে): যখন মুদাফ ইলাইহটি সময় বা স্থান হয়। যেমন—صَلَاةُ اللَّيْلِ (রাতের নামায), مَكْرُ اللَّيْلِ
  2. ইজাফতে লাফযিয়্যাহ (الإضافة اللفظية):
    মুদাফ শব্দটি যখন ইসমে ফায়েল, ইসমে মাফউল বা সিফাতে মুশাব্বাহা হয় এবং তা স্বীয় মামূলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়। এর উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্টতা তৈরি করা নয়, বরং উচ্চারণে হালকা করা (লাফযী সহজীকরণ)। যেমন: ضَارِبُ زَيْدٍ (যায়েদকে প্রহারকারী), حَسَنُ الوَجْهِ (সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট)।

৩. এরাবের হুকুম (أحكام الإعراب):

  • মুদাফের হুকুম: মুদাফ বাক্যের অবস্থান ও আমিল অনুযায়ী মারফু, মানসুব বা মাজরুর যেকোনো হরকত গ্রহণ করতে পারে (যেমন: جَاءَ غُلَامُ زَيْدٍ، رَأَيْتُ غُلَامَ زَيْدٍ)। তবে মুদাফে কখনোই ‘তানবীন’ এবং দ্বিবচন ও জমা মুযাক্কার সালেমের ‘নূন’ যুক্ত হতে পারে না (যেমন: مُسْلِمُو البَلَدِ—নূন বিলুপ্ত হয়েছে)।
  • মুদাফ ইলাইহ-এর হুকুম: মুদাফ ইলাইহ সর্বদা বাধ্যতামূলকভাবে মাজরুর (مجرور বা যেরযুক্ত) হবে (যেমন: زَيْدٍ)।

(و) ما هو المستثنى؟ واذكر أنواعه مع بيان حكم إعراب كل نوع ممثلا ومفصلا –

[১. (চ) মুসতাসনা কী? এর প্রকারভেদসমূহ উল্লেখ কর এবং প্রত্যেক প্রকারের এরাবের হুকুম উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. মুসতাসনার সংজ্ঞা (تعريف المستثنى):
মুসতাসনা হলো এমন বিশেষ্য পদ যা ‘ইল্লা’ (إِلَّا) বা এর সমগোত্রীয় কোনো এস্তেসনা সূচক হরফের পরে বসে এবং তার পূর্ববর্তী সমষ্টিবাচক শব্দ (মুসতাসনা মিনহু) থেকে বহির্ভূত বা পৃথক হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: قَامَ القَوْمُ إِلَّا زَيْدًا (যায়েদ ব্যতীত গোটা সম্প্রদায় দণ্ডায়মান হলো)।

২. মুসতাসনার প্রধান প্রকারভেদ ও এদের এরাবের হুকুম:

  1. মুসতাসনা মুত্তাসিল (المستثنى المتصل):
    মুসতাসনা যদি মুসতাসনা মিনহুর স্বজাতীয় বা একই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন: جَاءَ الطُّلَّابُ إِلَّا خَالِدًا (ছাত্ররা আসল খালিদ ছাড়া—খালিদ ছাত্রদেরই একজন)।
    হুকুম: বাক্য যদি হাঁ-বোধক পূর্ণাঙ্গ (কালম তাম মুজাব) হয়, তবে মুসতাসনা মানসুব (যবরযুক্ত) হওয়া বাধ্যতামূলক।
  2. মুসতাসনা মুনক্বাতি’ (المستثنى المنقطع):
    মুসতাসনা যদি মুসতাসনা মিনহুর স্বজাতীয় না হয়ে ভিন্ন কোনো প্রজাতির হয়। যেমন: وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ (ইবলিস ফেরেশতাদের প্রজাতির ছিল না)।
    হুকুম: অধিকাংশ নাহুবিদের মতে মুসতাসনা মুনক্বাতি’ সর্বদা মানসুব (নাসবযুক্ত) হয়।
  3. ইসতিসনা মুফাররাগ (الاستثناء المفرغ):
    বাক্যে যদি মুসতাসনা মিনহু উল্লেখিত না থাকে এবং বাক্যটি না-বোধক (মানফী) হয়। যেমন: مَا قَامَ إِلَّا زَيْدٌ (যায়েদ ব্যতীত কেউ দাঁড়ায়নি)।
    হুকুম: এখানে ‘ইল্লা’ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং মুসতাসনা আমিল অনুযায়ী এরাব গ্রহণ করে। এখানে ফায়েল হিসেবে ‘যায়েদুন’ মারফু হয়েছে।

(ز) ما هي الكلمة وما أقسامها؟ عرف كل قسم مع ذكر علامات كل قسم مفصلا وممثلا –

[১. (ছ) কালিমা কী এবং এর প্রকারভেদ কী কী? প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা ও স্বকীয় আলামতসমূহ উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. কালিমার সংজ্ঞা:
অভিধান মতে কালিমা অর্থ কথা বা শব্দ। ব্যাকরণের পরিভাষায়: “الكَلِمَةُ لَفْظٌ وُضِعَ لِمَعْنًى مُفْرَدٍ” অর্থাৎ, কোনো একক ও স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশের জন্য মানবমুখ থেকে নিঃসৃত অর্থবোধক ধ্বনিকেই কালিমা (শব্দ বা পদ) বলে।

২. কালিমার প্রকারভেদ ও সংজ্ঞা:
আরবি ভাষায় কালিমা প্রধানত তিন প্রকার: ১. ইসম (বিশেষ্য), ২. ফেল (ক্রিয়া), এবং ৩. হরফ (অব্যয়)।

  1. ইসম (الاسم): যা অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজের অর্থ প্রকাশ করে এবং যার অর্থের মধ্যে তিন কালের কোনো কাল পাওয়া যায় না। যেমন: قَلَمٌ (কলম), شَجَرَةٌ (গাছ)।
    আলামত: আলিফ-লাম গ্রহণ করা, তানবীন হওয়া, শেষাক্ষরে জের হওয়া, মুসনাদ ইলাইহ হওয়া।
  2. ফেল (الفعل): যা নিজস্ব অর্থ নিজে প্রকাশ করে এবং যার অর্থের সাথে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ—এই তিন কালের কোনো একটি সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে। যেমন: كَتَبَ (সে লিখেছে – অতীত), يَكْتُبُ (সে লিখছে বা লিখবে – বর্তমান/ভবিষ্যৎ)।
    আলামত: পূর্বে ‘ক্বাদ’ (قَدْ) বসা, ‘সীন’ (سَـ) বা ‘সাওফা’ (سَوْفَ) যুক্ত হওয়া, জাযম দানকারী আমিল (لَمْ) বসা, এবং সাকিন তায়ে তানিস (تْ) গ্রহণ করা (যেমন: قَالَتْ)।
  3. হরফ (الحرف): যা ইসম বা ফেলের সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়া নিজে এককভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করতে পারে না। যেমন: مِنْ، إِلَى، عَنْ، عَلَى، فِي
    আলামত: যার নিজস্ব কোনো আলামত নেই; অর্থাৎ ইসম ও ফেলের কোনো আলামত গ্রহণ না করাই হলো হরফের প্রধান আলামত।

(ح) اذكر الحروف المشبهة بالفعل واذكر أقسامها وعملها مع إعراب جملها مفصلا وممثلا –

[১. (জ) হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফেল কী কী? বাক্যে এদের আমল বা কার্যকারিতা কী? উদাহরণ ও এরাবসহ বিশদভাবে আলোচনা কর।]

১. হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফেলের পরিচয় ও তালিকা:
যে সকল অব্যয় অর্থের দিক থেকে এবং গঠনের দিক থেকে (ফেলে মাঝির মতো শেষাক্ষর ফাতহাযুক্ত হওয়ায়) ফেলের সাথে সাদৃশ্য রাখে, সেগুলোকে হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফেল (الحروف المشبهة بالفعل) বলা হয়। এগুলো মোট ৬টি:

  1. إِنَّ (ইন্না): নিশ্চয়ই (দৃঢ়তা ও নিশ্চয়তা বোঝাতে বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত হয়)।
  2. أَنَّ (আন্না): যে/নিশ্চয়ই (বাক্যের মাঝখানে সংযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়)।
  3. كَأَنَّ (কা-আন্না): যেন/সাদৃশ্য প্রকাশে (উপমা ও সাদৃশ্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়)।
  4. لَكِنَّ (লাকিন্না): কিন্তু (পূর্ববর্তী কথার ভুল ধারণা দূর করতে ও সংশোধন করতে ব্যবহৃত হয়)।
  5. لَيْتَ (লাইতা): হায় যদি! (অসম্ভব বা সুদূরপরাহত আকাঙ্ক্ষা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়)।
  6. لَعَلَّ (লা’আল্লা): হয়তো বা আশা করা যায় (সম্ভাবনা ও প্রত্যাশা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়)।

২. এদের আমল বা ব্যাকরণগত কার্যকারিতা (عملها):
এগুলো জুমলায়ে ইসমিয়ার শুরুতে প্রবেশ করে মুবতাদাকে নাসব (যবর) দেয় এবং সেই মুবতাদাকে বলা হয় ‘ইসমে ইন্না’ (اسم إنّ); আর খবরকে রফা (পেশ) দেয় এবং তাকে বলা হয় ‘খবরে ইন্না’ (خبر إنّ)। মূলনীতি: “تَنْصِبُ الِاسْمَ وَتَرْفَعُ الخَبَرَ”

৩. উদাহরণ ও পূর্ণ বাক্য বিশ্লেষণ (الإعراب النموذجي):
উদাহরণ বাক্য: إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ (নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম প্রজ্ঞাবান)।

  • إِنَّ: حَرْفُ تَوْكِيدٍ وَنَصْبٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ (দৃঢ়তাবোধক ও নাসব প্রদানকারী হরফ, ফাতহার ওপর মাবনী)।
  • اللَّـهَ: اسْمُ الجَلَالَةِ اسْمُ إِنَّ مَنْصُوبٌ، وَعَلَامَةُ نَصْبِهِ الفَتْحَةُ الظَّاهِرَةُ عَلَى آخِرِهِ (ইন্না-এর ইসম, শেষাক্ষরে সুস্পষ্ট যবর দ্বারা মানসুব)।
  • عَلِيمٌ: خَبَرُ إِنَّ مَرْفُوعٌ، وَعَلَامَةُ رَفْعِهِ الضَّمَّةُ الظَّاهِرَةُ عَلَى آخِرِهِ (ইন্না-এর ১ম খবর, শেষাক্ষরে সুস্পষ্ট পেশ দ্বারা মারফু)।
  • حَكِيمٌ: خَبَرٌ ثَانٍ لِإِنَّ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ (ইন্না-এর ২য় খবর, পেশযুক্ত)।

القسم الثاني: علم الصرف (২য় অংশ: ইলমুস সরফ)

٢- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية:

[২. ইলমুস সরফ থেকে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর পূর্ণাঙ্গ সমাধান:]

(الف) تحدث عن مبادئ علم الصرف مركزا على النقاط التالية: تعريف علم الصرف؛ واضع علم الصرف؛ ثمرة علم الصرف؛ المراد بالميزان الصرفي –

[২. (ক) নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের আলোকে ইলমুস সরফের মৌলিক নীতিসমূহ আলোচনা কর: ইলমুস সরফের সংজ্ঞা; এর প্রতিষ্ঠাতা; এর সুফল ও উদ্দেশ্য; এবং মীযানে সরফী বা রূপমূল ওজন বলতে কী বোঝায়।]

১. ইলমুস সরফের সংজ্ঞা (تعريف علم الصرف):
অভিধানে ‘সরফ’ (الصرف) শব্দের অর্থ রূপান্তর, পরিবর্তন বা বিনিময়। পরিভাষায়: “عِلْمُ الصَّرْفِ هُوَ عِلْمٌ بِأُصُولٍ يُعْرَفُ بِهَا صِيَغُ الكَلِمِ وَأَحْوَالُهَا الَّتِي لَيْسَتْ بِإِعْرَابٍ وَلَا بِنَاءٍ” অর্থাৎ, ইলমুস সরফ হলো এমন শাস্ত্রীয় মূলনীতি যার সাহায্যে আরবি শব্দের গঠনরূপ, অক্ষর রূপান্তর, বৃদ্ধি, বিলুপ্তি এবং অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন জানা যায়, যা এরাব বা বিনার সাথে সম্পৃক্ত নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো একটি মূলধাতু (মাসদার) থেকে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশের উপযোগী অগণিত শব্দ তৈরি করা।

২. ইলমুস সরফের প্রতিষ্ঠাতা (واضع علم الصرف):
সর্বসম্মত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী ইলমুস সরফের প্রতিষ্ঠাতা হলেন প্রখ্যাত তাবেয়ী ও ভাষাবিদ মু’আয ইবনে মুসলিম আল-হাররা (معاذ بن مسلم الهرّاء الكوفي)। কারও মতে হযরত আলী (রা.)-এর নির্দেশনায় আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (রহ.) যৌথভাবে নাহু ও সরফের ভিত্তি স্থাপন করেন, তবে পরবর্তীতে মু’আয ইবনে মুসলিম সরফকে একটি পৃথক ও সুসংহত শাস্ত্রীয় রূপ দান করেন।

৩. ইলমুস সরফ শিক্ষার সুফল ও ফলাফল (ثمرة علم الصرف):

  • শব্দের অভ্যন্তরীণ গঠন এবং এক শব্দ থেকে অন্য শব্দের রূপান্তর প্রক্রিয়া নির্ভুলভাবে শেখা যায়।
  • উচ্চারণ ও শব্দ রচনার সময় জিহ্বাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল (লহন) থেকে রক্ষা করা যায়।
  • পবিত্র কুরআন ও হাদিসের শব্দমালার সূক্ষ্ম রূপান্তর ও গভীর অর্থ উপলব্ধি করা সম্ভব হয়।
  • অভিধান দেখে কঠিন শব্দের মূল অক্ষর ও অর্থ বের করার যোগ্যতা অর্জিত হয়।

৪. মীযানে সরফী বা রূপমূল ওজন (الميزان الصرفي):
আরবি ভাষার শব্দসমূহকে পরিমাপ করার জন্য ব্যাকরণবিদগণ তিনটি মৌলিক অক্ষরের সমন্বয়ে একটি বিশ্বজনীন মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন, যাকে ‘মীযানে সরফী’ বলা হয়। সেই তিনটি মৌলিক অক্ষর হলো: ف – ع – ل (ফা, আইন, লাম)
– শব্দের ১ম মূল অক্ষরকে বলা হয় ফা-কালিমা (فاء الكلمة);
– ২য় মূল অক্ষরকে বলা হয় আইন-কালিমা (عين الكلمة);
– ৩য় মূল অক্ষরকে বলা হয় লাম-কালিমা (لام الكلمة)
উদাহরণ: ضَرَبَ শব্দটি فَعَلَ ওজনে গঠিত; এখানে যদ (ض) ফা-কালিমা, রা (ر) আইন-কালিমা এবং বা (ب) লাম-কালিমা। মূল অক্ষরের সাথে অতিরিক্ত হরফ বাড়লে ওজনেও অতিরিক্ত হরফ যুক্ত হয় (যেমন: أَكْرَمَ এর ওজন أَفْعَلَ)।


(ب) عرف الفعل ثم بين أقسامه من حيث التجرد والزيادة والجمود والاشتقاق مفصلا –

[২. (খ) ফেলের পরিচয় দাও। অতঃপর মুজাররাদ ও মাযীদ এবং জামিদ ও মুশতাক্ব হিসেবে এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. ফেলের সংজ্ঞা (تعريف الفعل):
যে শব্দ নিজে নিজের অর্থ প্রকাশ করতে পারে এবং অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—এই তিন কালের কোনো একটির সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত থাকে, তাকে ফেল (الفعل – ক্রিয়া) বলে। যেমন: عَلِمَ (সে জানল), يَنْصُرُ (সে সাহায্য করছে/করবে)।

২. মুজাররাদ ও মাযীদ হিসেবে প্রকারভেদ (من حيث التجرد والزيادة):

  • মুজাররাদ (المجرد): যার মূল শব্দে কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে না, অর্থাৎ সবগুলো অক্ষরই মূল অক্ষর। এটি দুই প্রকার:
    1. সুলাসী মুজাররাদ (الثلاثي المجرد): যার মূল গঠন তিন অক্ষরের। এর ছয়টি প্রসিদ্ধ বাব রয়েছে (যেমন: نَصَرَ، ضَرَبَ، فَتَحَ، سَمِعَ، كَرُمَ، حَسِبَ)।
    2. রুবায়ী মুজাররাদ (الرباعي المجرد): যার মূল বর্ণ চারটি। এর একটিমাত্র বাব রয়েছে—فَعْلَلَ – يُفَعْلِلُ (যেমন: دَحْرَجَ – يُدَحْرِجُ)।
  • মাযীদ ফীহ (المزيد فيه): যার মূল অক্ষরের সাথে এক বা একাধিক অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়ে অর্থ সম্প্রসারিত হয়।
    1. সুলাসী মাযীদ ফীহ: তিন মূল অক্ষরের সাথে ১, ২ বা ৩টি অতিরিক্ত অক্ষর যোগ হয়। এর সুপরিচিত বাবগুলো হলো—ইফ’আল (أَكْرَمَ), তাফঈল (عَلَّمَ), মুফা’আলাহ (جَاهَدَ), তাফা’উল (تَعَلَّمَ), ইফতি’আল (اجْتَمَعَ), ইনফি’আল (انْكَسَرَ), এবং ইসতিফ’আল (اسْتَغْفَرَ)।
    2. রুবায়ী মাযীদ ফীহ: চার মূল অক্ষরের সাথে অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হওয়া (যেমন: تَدَحْرَجَ)।

৩. জামিদ ও মুশতাক্ব হিসেবে প্রকারভেদ (من حيث الجمود والاشتقاق):

  • ফেলুল জামিদ (الفعل الجامد – অপরিবর্তনশীল ক্রিয়া): যে ক্রিয়াপদের কোনো রূপান্তর হয় না, অর্থাৎ যা কেবল একটিমাত্র অবস্থায় বা কালের সিগাহতে স্থির থাকে। যেমন: لَيْسَ (না হওয়া সূচক), عَسَى (সম্ভাবনা সূচক), نِعْمَ (প্রশংসাসূচক), بِئْسَ (নিন্দাসূচক)। এগুলোর মুযারি বা আমর গঠিত হয় না।
  • ফেলুল মুশতাক্ব বা মুতাসাররিফ (الفعل المشتق المتصرف – রূপান্তরশীল ক্রিয়া): যে ক্রিয়াপদের পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর সাধিত হয়, অর্থাৎ যা থেকে মাঝি, মুযারি, আমর, ইসমে ফায়েল ও মাফউল গঠিত হয়। যেমন: كَتَبَ – يَكْتُبُ – اكْتُبْ – كَاتِبٌ – مَكْتُوبٌ

(ج) عرف الإعلال ثم اذكر أقسامه مفصلا –

[২. (গ) এলালের পরিচয় দাও এবং এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. এলালের সংজ্ঞা (تعريف الإعلال):
ইলমুস সরফের পরিভাষায়, “الإِعْلَالُ هُوَ تَغْيِيرُ حَرْفِ العِلَّةِ بِالقَلْبِ أَوِ الإِسْكَانِ أَوِ الحَذْفِ لِلتَّخْفِيفِ” অর্থাৎ, উচ্চারণের জটিলতা দূর করে বাক্য উচ্চারণে সহজ ও হালকা করার উদ্দেশ্যে হরফে ইল্লাতকে (واو، ألف، ياء) রূপান্তর করা, সুকুনযুক্ত (সাকিন) করা অথবা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেওয়ার নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এলাল (الإعلال) বলে।

২. এলালের প্রকারভেদ (أقسام الإعلال):
এলাল প্রধানত তিন প্রকার:

  1. ১. এলাল বিল-ক্বলব (الإعلال بالقلب – পরিবর্তন বা রূপান্তরকরণ):
    একটি হরফে ইল্লাতকে উচ্চারণের সুবিধার জন্য অন্য একটি হরফে রূপান্তর করা।
    উদাহরণ: ওয়াও (و) বা ইয়া (ي) হরকতযুক্ত হলে এবং তার পূর্ববর্তী হরফ যবরযুক্ত (মুফাত্তাহ) হলে ওয়াও/ইয়া আলিফে রূপান্তরিত হয়। যেমন: قَوَلَ থেকে হয়েছে قَالَ; بَيَعَ থেকে হয়েছে بَاعَ। অনুরূপভাবে دَعَوَ থেকে হয়েছে دَعَا
  2. ২. এলাল বিল-ইসকান বা আন-নাক্বল (الإعلال بالإسكان أو النقل – হরকত স্থানান্তর বা সাকিনকরণ):
    হরফে ইল্লাতের ভারী হরকতটি দূর করে তাকে সুকুনযুক্ত করা অথবা তার হরকতটিকে তার পূর্ববর্তী সহীহ সাকিন হরফে স্থানান্তর করা।
    উদাহরণ: يَقْوُلُ শব্দে ওয়াও-এর ওপর পেশ উচ্চারণ করা অত্যন্ত ভারী। তাই ওয়াও-এর পেশটি পূর্বের সাকিন ক্বাফ (ق)-এ স্থানান্তর করে শব্দটিকে হালকা করা হয়েছে يَقُولُ। অনুরূপভাবে يَبْيِعُ থেকে হয়েছে يَبِيعُ
  3. ৩. এলাল বিল-হযফ (الإعلال بالحذف – বিলুপ্তিকরণ):
    উচ্চারণের সংক্ষেপণ বা দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার (ইলতিক্বাউস সাকিনাইন) কারণে হরফে ইল্লাতকে সম্পূর্ণ ফেলে দেওয়া বা বিলুপ্ত করা।
    উদাহরণ: قَالَ শব্দের আমরের শুরুতে قُولْ হয়; এখানে ওয়াও সাকিন এবং লামও সাকিন হওয়ায় ওয়াও বিলুপ্ত হয়ে হয়েছে قُلْ (বলো)। অনুরূপভাবে وَعَدَ এর মুযারি يَوْعِدُ থেকে ওয়াও বিলুপ্ত হয়ে হয়েছে يَعِدُ

(د) اكتب مواضع استخدام همزة القطع وهمزة الوصل ممثلا –

[২. (ঘ) উদাহরণসহ হামযাতুল ক্বাত্ব’ এবং হামযাতুল ওয়াসল ব্যবহারের স্থানসমূহ বর্ণনা কর।]

১. হামযাতুল ক্বাত্ব’ (همزة القطع):
যে হামযাহ শব্দের শুরুতে বা মাঝখানে যেকোনো অবস্থায় সুস্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয় এবং লেখার সময় আলিফের ওপর বা নিচে প্রকাশ্য চিহ্ন (أ / إ) দেওয়া হয়, তাকে হামযাতুল ক্বাত্ব’ বলে।
ব্যবহারের প্রধান স্থানসমূহ:

  • ইসমের ক্ষেত্রে: কতিপয় নির্ধারিত ব্যতিক্রমী শব্দ ব্যতীত সকল ইসমের শুরুর হামযাহ ক্বাত্বঈ। যেমন: أَبٌ، أُمٌّ، أَخٌ، إِبْرَاهِيمُ، أَحْمَدُ
  • হরফের ক্ষেত্রে: ‘আল’ (ال) ব্যতীত সকল হরফের শুরুর হামযাহ ক্বাত্বঈ। যেমন: إِنَّ، أَنَّ، إِلَى، إِذَا، أَوْ، أَمْ
  • ফেলের ক্ষেত্রে:
    1. সুলাসী মুজাররাদের মাঝির হামযাহ: যেমন—أَخَذَ، أَمَرَ، أَكَلَ
    2. মুজাররাদের মুযারির ওয়াহেদ মুতাকাল্লিমের হামযাহ: যেমন—أَكْتُبُ، أَقْرَأُ
    3. রুবায়ী বা বাবুল ইফ’আলের মাঝি, আমর ও মাসদারের হামযাহ: যেমন—أَكْرَمَ، أَكْرِمْ، إِكْرَامٌ

২. হামযাতুল ওয়াসল (همزة الوصل):
যে হামযাহ শব্দের শুরুতে এককভাবে পড়লে উচ্চারিত হয়, কিন্তু পূর্ববর্তী শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়ার সময় উচ্চারণ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং লেখার সময় কেবল আলিফ (ا) লেখা হয়, তাকে হামযাতুল ওয়াসল বলে।
ব্যবহারের প্রধান স্থানসমূহ:

  • হরফে: নির্দিষ্টকারী ‘আল’ (ال) এর হামযাহ। যেমন: الكِتَابُ (কিন্তু মিলিয়ে পড়লে: بِالْكِتَابِ)।
  • দশটি বিশেষ ইসমে: আরবি ভাষার নির্ধারিত ১০টি ইসমের হামযাহ সর্বদা ওয়াসলী। যেমন: اسْمٌ، ابْنٌ، ابْنَةٌ، امْرُؤٌ، امْرَأَةٌ، اثْنَانِ، اثْنَتَانِ، ايْمُنُ اللَّـهِ
  • ফেলের ক্ষেত্রে:
    1. সুলাসী মুজাররাদের আমর হাযেরের শুরুর হামযাহ: যেমন—انْصُرْ، اضْرِبْ، افْتَحْ
    2. খুমাসী (পাঁচ অক্ষরের) বাবসমূহের মাঝি, আমর ও মাসদার: যেমন—انْطَلَقَ، انْطَلِقْ، انْطِلَاقٌ
    3. সুদাসী (ছয় অক্ষরের) বাবসমূহের মাঝি, আমর ও মাসদার: যেমন—اسْتَغْفَرَ، اسْتَغْفِرْ، اسْتِغْفَارٌ

القسم الثالث: الترجمة والإنشاء (৩য় অংশ: ভাষান্তর ও রচনা)

٣- ترجم النص الآتي إلى العربية الفصحى:

[৩. নিম্নোক্ত বাংলা অনুচ্ছেদটির বিশুদ্ধ আরবি রূপান্তর:]

মূল বাংলা পাঠ:
“মসজিদে আকসা মুসলমানদের প্রথম কেবলা ও ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। এটি বর্তমান ফিলিস্তিনে অবস্থিত। মুসলমানরা ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে হযরত উমর (রা) এর শাসনামলে ফিলিস্তিন বিজয় করেন। ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডাররা ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী ফিলিস্তিন পুনরুদ্ধার করেন। ১৯৪৭ সালে ফিলিস্তিনের ভূমিতে অবৈধ ইসরাঈল প্রতিষ্ঠিত হয়।”

বিশুদ্ধ আরবি রূপান্তর (الترجمة إلى العربية الفصحى):

“المَسْجِدُ الأَقْصَى هُوَ قِبْلَةُ المُسْلِمِينَ الأُولَى وَثَالِثُ أَقْدَسِ مَسَاجِدِ الإِسْلَامِ، وَيَقَعُ حَالِيًّا فِي أَرْضِ فِلَسْطِينَ. فَتَحَ المُسْلِمُونَ فِلَسْطِينَ عَامَ ٦٣٧م فِي عَهْدِ الخَلِيفَةِ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّـهُ عَنْهُ. وَفِي عَامِ ١٠٩٩م احْتَلَّ الصَّلِيبِيُّونَ فِلَسْطِينَ، ثُمَّ اسْتَعَادَهَا السُّلْطَانُ صَلَاحُ الدِّينِ الأَيُّوبِيُّ رَحِمَهُ اللَّـهُ عَامَ ١١٨৭م. وَفِي عَامِ ١٩٤٧م أُقِيمَتْ دَوْلَةُ إِسْرَائِيلَ غَيْرُ الشَّرْعِيَّةِ عَلَى أَرْضِ فِلَسْطِينَ.”

শব্দার্থ ও ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা (المفردات والتحليل):

  • المَسْجِدُ الأَقْصَى: মুবতাদা ও তার সিফাত।
  • قِبْلَةُ المُسْلِمِينَ الأُولَى: প্রথম খবর, ইজাফত এবং মুদাফ ইলাইহ।
  • ثَالِثُ أَقْدَسِ المَسَاجِدِ: ইসমুত তাফদীল দ্বারা আতিশয্য প্রকাশ।
  • فَتَحَ المُسْلِمُونَ: ফেল ও ফায়েলের মারফু রূপ।
  • الصَّلِيبِيُّونَ: ক্রুসেডারগণ, ফায়েল হওয়ায় ওয়াও দ্বারা মারফু।
  • اسْتَعَادَهَا: বাবুল ইসতিফ’আল থেকে অতীত ক্রিয়া (পুনরুদ্ধার করলেন)।
  • غَيْرُ الشَّرْعِيَّةِ: অবৈধ বা অন্যায্য সত্তা।

٤- اكتب رسالة تهنئة إلى صديق لك قد نجح في الاختبار – أو: اكتب طلباً إلى مدير المدرسة تطلب منه المنحة الدراسية –

[৪. পরীক্ষায় সফলতায় বন্ধুকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্র অথবা মেধা বৃত্তির জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট আবেদনপত্র:]

প্রথম বিষয়: পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যে বন্ধুকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্র (رسالة تهنئة بالنجاح في الاختبار)

التاريخ: ١٥ من ربيع الأول ١٤٤٤هـ / ١٢ أكتوبر ٢٠٢٢م
العنوان: دكا، بنغلاديش

أخي وصديقي الحبيب/ عبد الرحمن، حفظك الله ورعاك،
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد:

فقد غمرتني السعادة الغامرة وفاض فؤادي بالبهجة والسرور حينما تلقيتُ نبأ نجاحك الباهر والمتميز في اختبارات الشهادة بتقدير ممتاز وتفوق عظيم. إنه لإنجاز مستحق يكلل سهر الليالي وجهد الأيام والمثابرة الصادقة التي عرفتها فيك دوماً.

يا صديقي العزيز، إن هذا النجاح ليس نهاية المطاف، بل هو خطوة أولى نحو مستقبل مشرق زاهر، وأنت أهل لكل فضل وخير. وإنني إذ أبارك لك من أعماق قلبي هذا الفوز المستطاب، أرفع كفي إلى المولى القدير أن يرزقك دوام التفوق والسداد، وأن يجعلك ذخراً للإسلام والمسلمين ولخدمة أمتك ووطنك.

أرجو أن تنقل تهنئتي الخالصة وتبريكاتي الحارة إلى والديك الكريمين وسائر أفراد أسرتك المباركة.

والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.

المخلص لك في المحبة:
صديقك/ أحمد عبد الله
طالب بقسم الدعوة والدراسات الإسلامية

বিকল্প বিষয়: মেধা বৃত্তির জন্য মাদরাসা প্রধানের নিকট আবেদনপত্র (طلب الحصول على المنحة الدراسية)

التاريخ: ١٢ أكتوبر ٢٠٢٢م
إلى: فضيلة الشيخ مدير المدرسة الموقر
المعهد: المدرسة العالية الإسلامية، دكا
الموضوع: طلب الحصول على منحة دراسية للطلاب المتفوقين

فضيلة الشيخ المدير المحترم،
تحية طيبة مباركة، وبعد:

أتشرف بأن أرفع إلى فضيلتكم أنني طالب مقيد بالصف الثاني بقسم الدعوة والدراسات الإسلامية بمعهدكم العامر. وقد حصلتُ بحمد الله وتوفيقه على المرتبة الأولى في الاختبار السنوي السابق بتقدير ممتاز. غير أن والدي رجل مسن ومحدود الدخل، ويتحمل نفقات أسرة كبيرة، مما يجعل من الصعب الاستمرار في دفع الرسوم المدرسية وشراء المراجع والكتب المقررة بانتظام.

ولما كانت رغبتي ملحة في مواصلة مسيرتي العلمية وتحقيق التفوق العلمي لخدمة الدين والوطن، فإنني أتوجه إلى كرمكم ورعايتكم الكريمة بطلب التكرم بمنحي منحة دراسية جزئية أو إعفاء من الرسوم المدرسية المقررة.

أسأل الله تعالى أن يجزيكم خير الجزاء، وأن يجعل هذا الصرح العلمي منارة للهدى والرشاد.

وتفضلوا بقبول فائق الاحترام والتقدير.

مقدم الطلب:
الطالب: محمد رضوان الإسلام
الفرقة الثانية، قسم الدعوة والدراسات الإسلامية


٥- اكتب مقالة عربية حول أحد الموضوعات التالية:

[৫. নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের ওপর পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক আরবি প্রবন্ধাবলী:]

(الف) اليوم العالمي للغة العربية (আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস)

المقدمة:
اللغة العربية هي لغة القرآن الكريم الخالدة، ولغة خاتم الأنبياء والمرسلين محمد صلى الله عليه وسلم، ولسان الحضارة الإسلامية التي أنارت دياجير الظلام في العصور الوسطى. يحتفل العالم في الثامن عشر من ديسمبر من كل عام بـ “اليوم العالمي للغة العربية”، وهو اليوم الذي اعتمدت فيه الجمعية العامة للأمم المتحدة عام ١٩٧٣م اللغة العربية لغة عمل رسمية سادسة في منظومتها الدولية.

مكانة اللغة العربية وخصائصها:
تتميز اللغة العربية بثرائها اللغوي المدهش، ودقة اشتقاقاتها، وسعة مفرداتها، وجمال بيانها وبلاغتها. قال الله تبارك وتعالى: “إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ” (سورة يوسف: ٢). فاللغة العربية ليست مجرد وسيلة تواصل قومية، بل هي وعاء الرسالة الإلهية وجزء لا يتجزأ من هوية الأمة الإسلامية وعباداتها، فلا تصح الصلاة إلا بها، ولا يُفهم الوحي إلا بأسرارها.

أهمية الاحتفال بهذا اليوم ودورنا نحوه:
إن إحياء هذا اليوم العالمي يسلط الضوء على إسهامات لغة الضاد في الفلسفة والطب والفلك والرياضيات والأدب الإنساني. والواجب علينا كأبناء لهذه الأمة ولطلاب العلم الشرعي أن نحرص على تعلمها ونشرها، واستخدامها في أبحاثنا العلمية وكتاباتنا، ومواجهة محاولات التغريب، وتطوير تعليمها عبر الوسائل التكنولوجية والمنصات الرقمية المعاصرة لتظل لغة العلم والحياة.

الخاتمة:
ستظل اللغة العربية حية نابضة ما بقي القرآن الكريم محفوظاً في الصدور والسطور، مصداقاً لقوله تعالى: “إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ”.


(ب) فضل العلم والعلماء (জ্ঞান ও ওলামায়ে কেরামের মর্যাদা)

المقدمة:
العلم هو نور البصيرة، وضياء العقول، وأساس نهضة الأمم ورفعة الشعوب. وقد جاء ديننا الإسلامي الحنيف ليرفع راية العلم عالياً منذ اللحظة الأولى لنزول الوحي بأول كلمة نزلت على قلب النبي المصطفى صلى الله عليه وسلم: “اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ” (سورة العلق: ١).

فضل العلم في نصوص الشريعة:
بيّن القرآن الكريم التفاوت العظيم بين العالمين والجاهلين، فقال سبحانه: “قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ” (سورة الزمر: ٩). كما اعتبر النبي صلى الله عليه وسلم سلك طريق العلم من أعظم القربات وأيسر الطرق إلى الجنة، فقال: “مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّـهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الجَنَّةِ” (رواه مسلم).

مكانة العلماء ومسؤوليتهم في المجتمع:
إن العلماء هم ورثة الأنبياء، كما جاء في الحديث الشريف: “إِنَّ العُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ، وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا، وَإِنَّمَا وَرَّثُوا العِلْمَ”. وهم صمام الأمان للأمة في الفتن والنوازل، يرشدون الحيارى، ويدافعون عن العقيدة الصحيحة، ويقودون المجتمع نحو الفضيلة والصلاح. ولذلك أوجب الإسلام توقيرهم واحترامهم ومعرفة قدرهم.

الخاتمة:
إن بناء المستقبل المشرق لأمتنا لا يتحقق إلا بالتمسك بالعلم النافع، وتقدير علمائنا الأجلاء، وتطبيق المعرفة في ميادين البناء والتنمية الحضارية.


(ج) صفات الطالب المثالي (আদর্শ ছাত্রের বৈশিষ্ট্য)

المقدمة:
الشباب هم عماد الأمة وركيزة نهضتها المستقبلية، والطالب هو اللبنة الأساسية في بناء المجتمع الواعي. ولذا فإن “الطالب المثالي” ليس هو الذي يحصل على أعلى الدرجات في الامتحانات فحسب، بل هو الذي يجمع بين التفوق العلمي والخلق القويم والاستقامة الدينية.

أبرز صفات الطالب المثالي:

  1. الإخلاص وتقوى الله تعالى: يبتغي بطريقته العلمية وجه الله تعالى ورفع الجهل عن نفسه وعن مجتمعه، متأدباً بآداب الشريعة السمحة.
  2. الجد والاجتهاد وتنظيم الوقت: يحرص على استثمار ساعات يومه في التحصيل والمطالعة، ويبتعد عن مضيعات الأوقات، ويضع خطة محكمة لدراسته وأهدافه.
  3. احترام المعلمين وتوقيرهم: يدرك فضل معلميه وأساتذته، فيجلس بين أيديهم بأدب وتواضع، ويستمع لنصائحهم ويعترف بجميلهم.
  4. حسن الخلق والمعاملة الحسنة: يتصف بالصدق والأمانة والتواضع والإيثار، ويتعاون مع زملائه في نشر الخير والمعرفة.
  5. الوعي الوطني والمسؤولية المجتمعية: يمتلك حساً وطنياً رفيعاً، ويشعر بمسؤوليته تجاه قضايا أمته ومجتمعه، ويسعى ليكون عنصراً إيجابياً بنّاءً.

الخاتمة:
إذا تحلى طلابنا بهذه الصفات النبيلة، صلح الجيل القادم وتألقت أمتنا في مصاف الحضارات المتقدمة، وأضاءت شعلة الإيمان والمعرفة في كل مكان.


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: আফআলে নাকায়েসার মূল কাজ কী?

উত্তর: আফআলে নাকায়েসা জুমলায়ে ইসমিয়ার শুরুতে যুক্ত হয়ে মুবতাদাকে পেশ (রফা) প্রদান করে এবং খবরকে যবর (নাসব) প্রদান করে।

প্রশ্ন ২: জমা কিল্লাতের ওযান কয়টি ও কী কী?

উত্তর: জমা কিল্লাতের ওযান মোট চারটি—أَفْعُلٌ، أَفْعَالٌ، أَفْعِلَةٌ এবং فِعْلَةٌ।

প্রশ্ন ৩: আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস কত তারিখে উদযাপিত হয়?

উত্তর: প্রতি বছর ১৮ই ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

প্রশ্ন ৪: ইলমুস সরফের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তর: সর্বসম্মত বিবরণ মতে প্রখ্যাত ভাষাবিদ মু’আয ইবনে মুসলিম আল-হাররা (রহ.) হলেন ইলমুস সরফের প্রধান রূপকার।

প্রশ্ন ৫: হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফেল কয়টি?

উত্তর: হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফেল মোট ৬টি—إِنَّ، أَنَّ، كَأَنَّ، لَكِنَّ، لَيْتَ এবং لَعَلَّ।

প্রশ্ন ৬: মীযানে সরফীর মূল তিনটি অক্ষর কী কী?

উত্তর: মীযানে সরফীর মূল অক্ষর তিনটি হলো—ফা (ف), আইন (ع), এবং লাম (ل)।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *