জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল বালাগাহ (Ulumul Balaghah) – 201206, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2023

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪৫ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: উলূমুল বালাগাহ (علوم البلاغة)
বিষয় কোড: 201206 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি সহ মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]


ক-বিভাগ (مجموعة أ)

١- عرف علم البلاغة مع بيان نشأته وتطوره وغايته وأهمية دراسته.

[১. علم البلاغة-এর সংজ্ঞা, উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, লক্ষ্য ও علم البلاغة পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর।]

১. উলূমুল বালাগাহর সংজ্ঞা (تعريف علم البلاغة):

  • আভিধানিক অর্থ: ‘বালাগাত’ (البلاغة) শব্দটি بَلَغَ (বালাগা) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পৌঁছা, সমাপ্ত হওয়া বা কোনো চরম লক্ষ্যে উপনীত হওয়া।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: বালাগাত বিশারদদের মতে:

    الْبَلَاغَةُ هِيَ مُطَابَقَةُ الْكَلَامِ الْفَصِيحِ لِمُقْتَضَى الْحَالِ مَعَ فَصَاحَتِهِ.

    অর্থাৎ, শ্রোতার মানসিক অবস্থা ও পরিবেশ-পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রাঞ্জল ও বিশুদ্ধ বাক্য উপস্থাপন করাকে বালাগাত বলে।

২. উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ:

  • জাহেলি যুগ: আরবরা স্বভাবজাতভাবে প্রাঞ্জল ও অলঙ্কারপূর্ণ ভাষায় কথা বলত; উকাযের মেলায় তাদের কাব্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো, তবে তখন কোনো শাস্ত্রীয় নিয়ম লিপিবদ্ধ ছিল না।
  • ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ: কুরআনের অতুলনীয় সাহিত্যিক অলৌকিকত্ব (ই’জায) প্রমাণের তাগিদে উলামায়ে কেরাম বালাগাত শাস্ত্রের ভিত্তিমূল স্থাপন করেন।
  • গ্রন্থায়ন যুগ:
    • আবু উবাইদাহ মা’মার ইবনুল মুসান্না (মৃত্যু ২০৮ হি.) ‘মাজাযুল কুরআন’ রচনা করেন।
    • ইবনুল মু’তাযয (মৃত্যু ২৯৬ হি.) ‘কিতাবুল বাদী’’ প্রণয়ন করে এর নামকরণ করেন।
    • আবু হিলাল আল-আসকারী (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) ‘কিতাবুস্ সিনায়াতাইন’ রচনা করেন।
    • ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানী (মৃত্যু ৪৭১ হি.) তাঁর অমর গ্রন্থ ‘দালাইলুল ই’জায’ ও ‘আসরারুল বালাগাহ’ রচনার মাধ্যমে ইলমুল মা’আনী ও ইলমুল বায়ানকে চূড়ান্ত রূপ দেন।
    • পরবর্তীতে আল্লামা সাক্কাকী তাঁর ‘মিফতাহুল উলূম’ এবং খতীব দিমাশক্বী আল-কাযভীনী তাঁর ‘তালখীসুল মিফতাহ’ ও ‘আল-ঈজাহ’ গ্রন্থে বালাগাতকে তিন শাখায় (মা’আনী, বায়ান ও বাদী’) সুবিন্যস্ত করেন।

৩. বালাগাত শাস্ত্রের লক্ষ্য ও অধ্যয়নের গুরুত্ব (غايته وأهميته):

  • পবিত্র কুরআনুল কারীমের অলৌকিকত্ব, বাচনভঙ্গির মাধুর্য ও সাহিত্যিক পরাকাষ্ঠা অনুধাবন করা।
  • রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জাওয়ামি’উল কালিম (অর্থগর্ভ হাদীস)-এর সূক্ষ্ম তাৎপর্য উপলব্ধি করা।
  • নিজের বক্তব্য ও লেখনীকে ত্রুটিমুক্ত, প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহী করে উপস্থাপন করার যোগ্যতা অর্জন করা।

٢- عرف الإنشاء – ثم بين أقسام الإنشاء بالأمثلة.

[২. الإنشاء-এর পরিচয় দাও। অতঃপর الإنشاء-এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

১. আল-ইনশা-এর পরিচয় (تعريف الإنشاء):

যে বাক্যকে সত্য বা মিথ্যা বলা যায় না এবং যার বক্তব্য বাহ্যিক বাস্তবতার সাথে মিল বা অমিল হওয়ার ওপর সত্য-মিথ্যা নির্ভরশীল নয়, তাকে আল-ইনশা (অনুরোধমূলক বা ভাবপ্রকাশক বাক্য) বলে। যেমন: আদিষ্ট হওয়া, নিষেধ করা, প্রশ্ন করা ইত্যাদি।

২. আল-ইনশার প্রকারভেদ (أقسام الإنشاء):

ইনশা প্রধানত দুই প্রকার:

  1. আল-ইনশাউত তলবী (الإنشاء الطلبي): যে বাক্যে এমন কোনো বস্তু কামনা করা হয় যা বক্তব্য প্রদানের সময় অর্জিত ছিল না। এর পাঁচটি রূপ রয়েছে:
    • আমর (الأمر – আদেশ): যেমন—﴿أَقِيمُوا الصَّلَاةَ﴾ (নামায কায়েম কর)।
    • নাহী (النهي – নিষেধ): যেমন—﴿وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا﴾ (ব্যভিচারের কাছেও যেও না)।
    • ইস্তিফহাম (الاستفهام – প্রশ্নবোধক): যেমন—﴿هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ﴾।
    • তামান্নী (التمني – অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা): যেমন—﴿يَا لَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا﴾ (হায়! আমি যদি মাটি হতাম)।
    • নিদা (النداء – আহ্বান): যেমন—يَا رَبِّ اغْفِرْ لِي (হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন)।
  2. আল-ইনশাউ গাইরুত তলবী (الإنشاء غير الطلبي): যে বাক্যে কোনো বস্তু অর্জনের কামনা করা হয় না। এর প্রধান রূপগুলো হলো:
    • মাদাহ ও যাম (المدح والذم – প্রশংসা ও নিন্দা): যেমন—نِعْمَ الرَّجُلُ زَيْدٌ (যায়েদ কতই না উত্তম পুরুষ!), بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ (পাপের নাম কতই না মন্দ!)।
    • উকূদ (العقود – কেনাবেচা ও চুক্তি): যেমন—بِعْتُ وَاشْتَرَيْتُ (আমি বিক্রি করলাম ও কিনলাম)।
    • কাসাম (القسم – শপথ): যেমন—وَاللهِ لَأَجْتَهِدَنَّ (আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই সাধনা করব)।
    • তা’আজ্জুব (التعجب – বিস্ময়): যেমন—مَا أَحْسَنَ الصِّدْقَ! (সত্যবাদিতা কতই না সুন্দর!)।
    • রাজা (الرجاء – সম্ভাব্য আশা): যেমন—عَسَى اللهُ أَنْ يَأْتِيَنِي بِهِمْ جَمِيعًا।

٣- ما هو الأمر؟ وكم صيغة له؟ تحدث عن المعاني التي يدل عليها الأمر بالأمثلة.

[৩. الأمر কাকে বলে? এর সীগাহ কয়টি? الأمر যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয় তা উদাহরণসহ আলোচনা কর।]

১. আল-আমরের সংজ্ঞা (تعريف الأمر):

উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি কর্তৃক অধস্তন বা সমান ব্যক্তির কাছে কোনো কাজ সম্পন্ন করার অপরিহার্য বা নিশ্চিত তলব বা আদেশকে আল-আমর বলে।

২. আমরের মূল চারটি সীগাহ (صيغ الأمر الأربع):

  1. ফেয়েলে আমর (فعل الأمر): যেমন—﴿خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ﴾।
  2. লামে আমরযুক্ত ফেয়েলে মুদারে (المضارع المقرون بلام الأمر): যেমন—﴿لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ﴾।
  3. ইসমু ফেয়েলিল আমর (اسم فعل الأمر): যেমন—عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ (তোমরা নিজেদের দায়িত্ব নাও), صَهْ (চুপ থাক)।
  4. ফেয়েলের স্থলাভিষিক্ত মাসদার (المصدر النائب عن فعل الأمر): যেমন—﴿فَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا﴾ (পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ কর)।

৩. আমরের রূপক ও অলঙ্কারিক অর্থসমূহ (المعاني البلاغية للأمر):

অলঙ্কারিক অর্থ আরবী পরিভাষা কুরআনী বা সাহিত্যের উদাহরণ
১. দুআ ও প্রার্থনা الدعاء ﴿رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ﴾ (হে রব! আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন)
২. উপদেশ ও সদুপদেশ الإرشاد ﴿وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ﴾ (লেনদেনের সময় সাক্ষী রাখ)
৩. অক্ষম বা পরাভূত করা التعجيز ﴿فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ﴾ (কুরআনের অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো)
৪. হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন التهديد ﴿اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ﴾ (তোমাদের যা ইচ্ছা কর)
৫. বৈধতা প্রদান الإباحة ﴿وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ﴾ (পানাহার কর ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত)
৬. অপমান ও তুচ্ছজ্ঞান الإهانة / التحقير ﴿ذُقْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ﴾ (আস্বাদন কর, তুমি তো ছিলে পরাক্রমশালী!)

٤- ما الإستفهام؟ وما أدواته؟ أذكر المعاني التي تخرج إليها ألفاظ الإستفهام من معناها الأصلى بالتمثيل.

[৪. الإستفهام কাকে বলে? তার أدوات-গুলো কী? ألفاظ الإستفهام তার মূল অর্থ ব্যতীত যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয় তা উদাহরণসহ উল্লেখ কর।]

১. আল-ইস্তিফহামের সংজ্ঞা ও হরফসমূহ (تعريف الاستفهام وأدواته):

অজ্ঞাত কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করাকে ইস্তিফহাম বলে। এর প্রধান উপকরণসমূহ হলো: হামযাহ (أ) ও হাল (هَلْ) এবং বিভিন্ন ইসম যেমন—مَنْ (কে), مَا (কী), مَتَى (কখন), أَيَّانَ (কখন), أَيْنَ (কোথায়), كَيْفَ (কেমন), كَمْ (কত), أَيّ (কোনটি) ইত্যাদি।

২. ইস্তিফহামের অলঙ্কারিক ও রূপক অর্থসমূহ:

  • ইনকার বা অস্বীকৃতি (الإنكار): ﴿أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ﴾ (আপনি কি মানুষকে বাধ্য করবেন যাতে তারা ঈমান আনে?)।
  • তাকরীর বা স্বীকৃতি আদায় (التقرير): ﴿أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى﴾ (আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল—অবশ্যই)।
  • নফী বা নেতিবাচক ভাব (النفي): ﴿هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ﴾ (উত্তম কাজের প্রতিফল উত্তম ব্যতীত আর কী হতে পারে?)।
  • তা’আজ্জুব বা বিস্ময় (التعجب): ﴿مَالِ هَذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ﴾ (এ কেমন রাসূল যিনি খাবার খায় ও বাজারে হাঁটে!)।
  • তাশক্বীর বা উৎসাহ প্রদান (التشويق): ﴿هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ﴾ (আমি কি তোমাদের এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান দেব যা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে?)।
  • তাহক্বীর বা তাচ্ছিল্য (التحقير): ﴿أَهَذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ﴾ (এ-ই কি সেই ব্যক্তি যে তোমাদের দেবতাদের সমালোচনা করে?)।

٥- عرف التشبيه – أكتب أركانه وأقسامه وأغراضه بالتفصيل.

[৫. التشبيه-এর সংজ্ঞা দাও। তার রুকন, প্রকারভেদ ও উদ্দেশ্যাবলি বিস্তারিতভাবে লেখ।]

১. তাশবীহের সংজ্ঞা (تعريف التشبيه):

এক বা একাধিক বিশেষ গুণে একটি বস্তুকে অপর একটি বস্তুর সমকক্ষ বা অনুরূপ বলে কোনো হরফের মাধ্যমে প্রকাশ করাকে তাশবীহ (উপমা) বলে।

২. তাশবীহের চারটি রুকন বা উপাদান (أركان التشبيه الأربعة):

  1. মুশাব্বাহ (المشبه): যাকে উপমা দেওয়া হয় (যেমন: যায়েদ)।
  2. মুশাব্বাহ বিহী (المشبه به): যার সাথে উপমা দেওয়া হয় (যেমন: সিংহ)। (এ দুটিকে তরফানে তাশবীহ বলে)।
  3. ওয়াজহুশ শাবাহ (وجه الشبه): যে সাধারণ গুণের ভিত্তিতে উপমা দেওয়া হয় (যেমন: বীরত্ব)।
  4. আদাতুত তাশবীহ (أداة التشبيه): উপমা প্রকাশের হরফ (যেমন: كَـ، كَأَنَّ، مِثْل)।

৩. তাশবীহের প্রধান প্রকারভেদ:

  • তাশবীহে মুরসাল: যাতে উপমার হরফ স্পষ্টভাবে উল্লেখিত থাকে। যেমন: زَيْدٌ كَالْأَسَدِ فِي الشَّجَاعَةِ।
  • তাশবীহে মুয়াক্কাদ: যাতে উপমার হরফ উহ্য থাকে। যেমন: زَيْدٌ أَسَدٌ فِي الشَّجَاعَةِ।
  • তাশবীহে মুজমাল: যাতে ওয়াজহুশ শাবাহ উহ্য থাকে। যেমন: زَيْدٌ كَالْأَسَدِ।
  • তাশবীহে মুফাসসাল: যাতে ওয়াজহুশ শাবাহ বিস্তারিত উল্লেখ থাকে।
  • তাশবীহে বালীগ: যাতে হরফ ও ওয়াজহুশ শাবাহ উভয়ই উহ্য থাকে। যেমন: زَيْدٌ أَسَدٌ (যায়েদ যেন এক সিংহ)। এটিই সাহিত্যের সর্বোচ্চ অলঙ্কার।

৪. তাশবীহের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ (أغراض التشبيه):

মুশাব্বার অবস্থা স্পষ্ট করা (بيان حال المشبه), তার সম্ভাবনা প্রমাণ করা (بيان إمكان المشبه), গুণের আধিক্য ফুটিয়ে তোলা (بيان مقدار حال المشبه) অথবা মুশাব্বাহর সৌন্দর্য বা কদর্যতা প্রদর্শন করা (تحسين المشبه أو تقبيحه)।


٦- عرف التمنى والترجى؟ ثم بين أدوات التمنى بالأمثلة.

[৬. التمنى ও الترجى-এর সংজ্ঞা দাও। التمنى-এর শব্দাবলি উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

১. তামান্নী ও তারাজ্জীর সংজ্ঞা:

  • তামান্নী (التمني): এমন কোনো প্রিয় বস্তু কামনা করা যা লাভ করা সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব কিংবা অত্যন্ত দুরূহ ও কষ্টসাধ্য। যেমন বৃদ্ধ ব্যক্তির যৌবন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
  • তারাজ্জী (الترجي): এমন কোনো কল্যাণকর বস্তু প্রত্যাশা করা যা অর্জন করা বাস্তবে সম্ভব ও সহজলভ্য। এর প্রধান শব্দ হলো لَعَلَّ ও عَسَى। যেমন: لَعَلَّ اللهَ يَرْحَمُنَا (হয়তো আল্লাহ আমাদের দয়া করবেন)।

২. তামান্নীর প্রধান শব্দাবলী ও উদাহরণ (أدوات التمني):

  1. লাইতা (لَيْتَ – মূল শব্দ): তামান্নী প্রকাশের মূল হরফ। যেমন: ﴿يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا﴾ (হায়! আমি যদি এর পূর্বেই মারা যেতাম!) এবং কবির উক্তি: «أَلَا لَيْتَ الشَّبَابَ يَعُودُ يَوْمًا» (হায়! যৌবন যদি একদিনের জন্যও ফিরে আসত!)।
  2. হাল (هَلْ – রূপক ব্যবহার): অসম্ভব আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবসম্মত রূপে ফুটিয়ে তুলতে প্রশ্নবোধক ‘হাল’ ব্যবহৃত হয়। যেমন: ﴿فَهَلْ لَنَا مِنْ شُفَعَاءَ فَيَشْفَعُوا لَنَا﴾ (আমাদের কি কোনো সুপারিশকারী আছে যে আমাদের সুপারিশ করবে?)।
  3. লাও (لَوْ): আক্ষেপ ও অসম্ভব কামনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ﴿فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾ (হায়! যদি আমাদের একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকত, তবে আমরা মুমিন হতাম!)।
  4. লা’আল্লা (لَعَلَّ): অতি দুর্লভ বস্তুকে নিকটে প্রতীয়মান করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ﴿لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ﴾।

٧- ما معنى النداء؟ أذكر أدواته مع ذكر طريقة إستعمالها.

[৭. النداء অর্থ কী? النداء-এর শব্দাবলি তার ব্যবহার বিধিসহ উল্লেখ কর।]

১. নিদার পরিচয় (معنى النداء):

হরফে নিদা ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রোতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং বক্তার অভিমুখে মনোনিবেশ করানোর আহ্বানমূলক বাক্যরীতিকে আল-নিদা বলে।

২. নিদার হরফসমূহ ও তাদের ব্যবহারের নিয়মাবলী:

হরফে নিদা দূরত্ব ও প্রয়োগ ক্ষেত্র ব্যবহার বিধি ও উদাহরণ
الْهَمْزَةُ (أَ) ও أَيْ নিকটবর্তী সম্বোধনের জন্য (للقريب) শ্রোতা যখন বক্তার একেবারে সন্নিকটে অবস্থান করে। যেমন: أَبُنَيَّ اجْتَهِدْ (হে বৎস! পরিশ্রম কর)।
يَا (ইয়া) উভয় ক্ষেত্রে (নিকট ও দূরবর্তী) সর্বাধিক ব্যবহৃত হরফ। কাছে ও দূরে উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেমন: يَا عَبْدَ اللهِ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ।
آ، آيْ، أَيَا، هَيَا দূরবর্তী সম্বোধনের জন্য (للبعيد) শ্রোতা যখন দূরে থাকে অথবা নিদ্রামগ্ন বা উদাসীন থাকে। যেমন: أَيَا غَافِلًا انْتَبِهْ (হে উদাসীন! সতর্ক হও)।
وَا (ওয়া) শোক ও হাহাকার প্রকাশে (للنُّدبة) বিপদ বা শোক প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন: وَامُصِيبَتَاهُ (হায় বিপদ!), وَاقَلْبَاهُ (হায় আমার হৃদয়!)।

٨- عرف المجاز المرسل – ثم بين علاقته ممثلا.

[৮. المجاز المرسل-এর পরিচয় দাও। এর علاقة-গুলো উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

১. মাজাযে মুরসালের পরিচয় (تعريف المجاز المرسل):

যে শব্দ স্বীয় মূল আভিধানিক অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং মূল অর্থ ও রূপক অর্থের মধ্যে তাশবীহ (সাদৃশ্য) ব্যতীত অন্য কোনো সম্পর্ক (علاقة) বিদ্যমান থাকে এবং মূল অর্থ গ্রহণে কোনো সুস্পষ্ট বাধা (قرينة) থাকে, তাকে আল-মাজাযুল মুরসাল বলে।

২. মাজাযে মুরসালের প্রধান আলাক্বাসমূহ ও উদাহরণ:

  • ১. জুযইয়্যাহ (অংশ উল্লেখ করে সমগ্র বোঝানো – السببية/الجزئية): যেমন—أَلْقَى الْخَطِيبُ كَلِمَةً (বক্তা একটি শব্দ বললেন)। এখানে ‘শব্দ’ বলে সম্পূর্ণ দীর্ঘ বক্তৃতা বুঝানো হয়েছে। কুরআনে এসেছে: ﴿فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ﴾ (একটি ঘাড় মুক্ত করা); অর্থাৎ পূর্ণ দাসকে মুক্ত করা।
  • ২. কুল্লিয়্যাহ (সমগ্র উল্লেখ করে অংশ বোঝানো – الكلية): যেমন—﴿يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ﴾ (তারা তাদের সমস্ত আঙুল কানের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়); বাস্তবে আঙুলের অগ্রভাগ (আনামিল) ঢোকানো হয়েছিল।
  • ৩. সাবাবিয়্যাহ (কারণ উল্লেখ করে কার্য বোঝানো – السببية): যেমন—رَعَتِ الْمَاشِيَةُ الْغَيْثَ (গবাদিপশু বৃষ্টি চরে খেল); বৃষ্টি মূলত ঘাস জন্মানোর কারণ, তাই বৃষ্টি বলে ঘাস বুঝানো হয়েছে।
  • ৪. মুসাব্বাবিয়্যাহ (কার্য উল্লেখ করে কারণ বোঝানো – المسببية): যেমন—﴿وَيُنَزِّلُ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ رِزْقًا﴾ (তিনি আকাশ থেকে তোমাদের জন্য রিযিক বর্ষণ করেন); আকাশ থেকে বৃষ্টি নাযিল হয় যা রিযিকের মাধ্যম।
  • ৫. ই’তিবারু মা কানা (অতীত অবস্থা উল্লেখ করা): যেমন—﴿وَآتُوا الْيَتَامَى أَمْوَالَهُمْ﴾ (এতিমদের সম্পদ তাদের দিয়ে দাও); প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তারা আর এতিম থাকে না, তবুও অতীত অবস্থা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • ৬. ই’তিবারু মা ইয়াকূনু (ভবিষ্যৎ অবস্থা উল্লেখ করা): যেমন—﴿إِنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْرًا﴾ (আমি দেখলাম আমি মদ নিংড়াচ্ছি); মূলত আঙুর নিংড়ানো হচ্ছিল যা ভবিষ্যতে মদে রূপান্তরিত হবে।

খ-বিভাগ (مجموعة ب)

٩- بين فصاحة الكلمة بالتفصيل.

[৯. فصاحة الكلمة-এর বিস্তারিত বর্ণনা দাও।]

‘ফাসাহাত’ অর্থ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা। একটি একক শব্দ তখনই ফাসীহ (প্রাঞ্জল) হতে পারে যখন তা তিনটি বড় ধরনের ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে:

  1. তানাফুরুল হুরূফ (تَنَافُرُ الْحُرُوفِ – বর্ণের কর্কশতা): শব্দের মধ্যে অক্ষরগুলোর উচ্চারণ এমন ভারী বা পরস্পরবিরোধী না হওয়া যা জিহ্বায় উচ্চারণ করতে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়। যেমন—‘আল-হু’খু’ (الْهُعْخُ – এক প্রকার তিক্ত ঘাস)।
  2. মুখালাফাতুল ক্বিয়াস (مُخَالَفَةُ الْقِيَاسِ – ব্যাকরণিক নিয়মের লঙ্ঘন): শব্দটি যেন ইলমুস সারফের প্রতিষ্ঠিত রূপতাত্ত্বিক নিয়মের বিপরীত না হয়। যেমন—’বুওয়াকাত’ (بُوقَات) বলা; অথচ নিয়মানুযায়ী ‘আবওয়াক্ব’ (أَبْوَاق) হওয়া আবশ্যক।
  3. গারাবাত (الْغَرَابَةُ – অপরিচিত ও অপ্রচলিত শব্দ): শব্দটি এমন অবোধ্য বা অপ্রচলিত না হওয়া যার অর্থ অভিধানেও সহজে মেলে না। যেমন—‘তাকাক্বাআতুম’ (تَكَأْكَأْتُمْ – তোমরা জমায়েত হলে)।

١٠- ما معنى مخالفة القياس والغرابة؟ بين بالأمثلة.

[১০. مخالفة القياس ও الغرابة অর্থ কী? উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

  • মুখালাফাতুল ক্বিয়াস: প্রচলিত আরবী ছরফ বা রূপতত্ত্বের প্রতিষ্ঠিত ব্যাকরণিক নিয়মের বাইরে গিয়ে শব্দ গঠন করা। যেমন কবি আবু নাজম বলেছেন: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْأَجْلَلِ»। এখানে ছরফের ক্বিয়াসী নিয়ম অনুযায়ী ইদগাম করে ‘আল-আজাল্ল’ (الأجلّ) বলা ওয়াজিব ছিল, কিন্তু কবি ইদগাম পরিহার করে ‘আল-আজলাল’ ব্যবহার করায় তা ফাসাহাত পরিপন্থী হয়েছে।
  • আল-গারাবাত: শব্দের অর্থ অস্পষ্ট ও অজ্ঞাত হওয়া, যার সঠিক মর্ম উদ্ধার করতে প্রাচীন বা দুষ্প্রাপ্য অভিধানের সাহায্য নিতে হয়। যেমন কবি ঈসা ইবনে উমরের উক্তি: «مَا لَكُمْ تَكَأْكَأْتُمْ عَلَيَّ كَتَكَأْكُئِكُمْ عَلَى ذِي جِنَّةٍ افْرَنْقِعُوا عَنِّي»। এখানে ‘তাকাক্বাআ’ অর্থ একত্রিত হওয়া এবং ‘ইফরানকি’ঊ’ অর্থ ছত্রভঙ্গ হওয়া—যা নিতান্তই অপ্রচলিত ও দুর্বোধ্য।

١١- بين أغراض الخبر بالإيجاز.

[১১. সংক্ষিপ্তরূপে خبر-এর উদ্দেশ্যগুলো বর্ণনা কর।]

খবর বা বর্ণনামূলক বাক্যের মূল উদ্দেশ্য প্রধানত দুটি:

  1. ফায়িদাতুল খবর (فائدة الخبر): শ্রোতাকে সম্পূর্ণ নতুন কোনো সংবাদ জানানো যা সে পূর্বে অবগত ছিল না। যেমন: وُلِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيلِ (হস্তী বর্ষে নবীজী সা. জন্মগ্রহণ করেন)।
  2. লাযিমুল ফায়িদাহ (لازم الفائدة): শ্রোতাকে এ কথা অবগত করানো যে বক্তা নিজেও বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। যেমন কোনো ছাত্রকে বলা: أَنْتَ سَهِرْتَ أَمْسِ فِي الْمُطَالَعَةِ (তুমি গতকাল রাতে অধ্যয়নে জেগে ছিলে)।

এছাড়া অলঙ্কারিক প্রয়োজনে খবর অন্যান্য উদ্দেশ্যেও আসে; যেমন—দুর্বলতা প্রকাশ (إظهار الضعف), শোক প্রকাশ (التحسر), রহমত প্রার্থনা (الاسترحام) ইত্যাদি।


١٢- ما هو المنادى؟ بين أقسام المنادى بالإيضاح.

[১২. المنادى কাকে বলে? المنادى-এর প্রকারসমূহ স্পষ্টরূপে বর্ণনা কর।]

হরফে নিদার পরে যে ব্যক্তিসত্তাকে সম্বোধন বা আহ্বান করা হয় তাকে আল-মুনাদা বলে। মুনাদা প্রধানত পাঁচ প্রকার:

  1. মুফরাদ আলাম (العلم المفرد): নির্দিষ্ট একক নাম; এটি পেশের ওপর মাবনী হয়। যেমন: يَا نُوحُ، يَا مُحَمَّدُ।
  2. নাকারা মাকসূদাহ (النكرة المقصودة): সাধারণ শব্দ যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়; এটিও মাবনী আলাদ দাম্ম। যেমন: يَا رَجُلُ (হে লোক!)।
  3. নাকারা গাইরে মাকসূদাহ (النكرة غير المقصودة): অনির্দিষ্ট সম্বোধন; এটি মানসূব হয়। যেমন অন্ধ ব্যক্তির উক্তি: يَا رَجُلًا خُذْ بِيَدِي (হে কোনো এক ব্যক্তি! আমার হাত ধর)।
  4. মুদাফ (المضاف): সম্বন্ধযুক্ত শব্দ; এটি মানসূব হয়। যেমন: يَا رَسُولَ اللهِ، يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ।
  5. শাবীহ বিল মুদাফ (الشبيه بالمضاف): মুদাফের ন্যায় পরবর্তী শব্দের সাথে সম্পৃক্ত শব্দ; এটিও মানসূব হয়। যেমন: يَا طَالِعًا جَبَلًا (হে পাহাড়ে আরোহণকারী!)।

١٣- عرف القصر – ثم بين طرقه بالأمثلة.

[১৩. قصر কাকে বলে? قصر-এর পদ্ধতিগুলো উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

১. কাসরের সংজ্ঞা (تعريف القصر):

নির্দিষ্ট কোনো উপায়ের মাধ্যমে একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করাকে কাসর (বা হাসর) বলে।

২. কাসরের প্রধান চারটি পদ্ধতি (طرق القصر الأربعة):

  1. নফী ও ইসতিসনা (النفي والاستثناء): না-বোধক অব্যয় ও বাদে-অব্যয় যোগে। যেমন: ﴿وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ﴾ (মুহাম্মদ রাসূল ছাড়া আর কিছুই নন)।
  2. ইন্নামা যোগে (إنّما): যেমন: ﴿إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ﴾ (আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে)।
  3. আত্বফ যোগে (العطف بـ لا، بل، لكن): যেমন: زَيْدٌ شَاعِرٌ لَا كَاتِبٌ (যায়েদ কবি, লেখক নয়)।
  4. তাকদীমু মা হাক্কুহু আত-তা’খীর (অগ্রবর্তী করা): বাক্যের স্বাভাবিক নিয়মে যা পরে আসার কথা তা আগে নিয়ে আসা। যেমন: ﴿إِيَّاكَ نَعْبُدُ﴾ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি)।

١٤- عرف الإطناب – ثم بين أقسامه بالإيجاز.

[১৪. الإطناب-এর সংজ্ঞা দাও। الإطناب-এর প্রকারগুলো সংক্ষিপ্তরূপে বর্ণনা কর।]

সংজ্ঞা: কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা অলঙ্কারিক ফায়দা হাসিলের নিমিত্তে অতিরিক্ত শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে মূল ভাবকে সম্প্রসারিত করে তুলে ধরাকে ইত্নাব বলে।

প্রধান প্রকারভেদ:

  • সাধারণের পর বিশেষের উল্লেখ (ذكر الخاص بعد العام): বিশেষ মর্যাদাবোধ সৃষ্টির জন্য। যেমন: ﴿تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا﴾ (ফেরেশতাগণ ও রূহ জিবরাঈল অবতীর্ণ হন)।
  • বিশেষের পর সাধারণের উল্লেখ (ذكر العام بعد الخاص): সর্বজনীনতা বোঝাতে। যেমন: ﴿رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ﴾।
  • ইযাহ বাদাল ইবহাম (অস্পষ্টতার পর স্পষ্টীকরণ): শ্রোতার আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য। যেমন: ﴿وَقَضَيْنَا إِلَيْهِ ذَلِكَ الْأَمْرَ أَنَّ دَابِرَ هَؤُلَاءِ مَقْطُوعٌ مُصْبِحِينَ﴾।
  • তাকরার বা পুনরাবৃত্তি (التكرار): বক্তব্যকে সুদৃঢ় করতে। যেমন: ﴿كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ * ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ﴾।

١٥- ما المجاز العقلى؟ بين بالتمثيل.

[১৫. المجاز العقلى কাকে বলে? উদাহরণসহ বর্ণনা দাও।]

সংজ্ঞা: কোনো ফেয়েল (ক্রিয়া) বা তার সমঅর্থবোধক শব্দকে তার প্রকৃত ফায়েল বা কর্তার দিকে সম্বন্ধ না করে বিবেক ও বুদ্ধির বিচারে রূপকভাবে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বস্তুর দিকে সম্পৃক্ত করাকে মাজাযে আকলী বলে।

উদাহরণ:
যেমন বলা হয়: بَنَى الْأَمِيرُ الْمَدِينَةَ (আমীর শহরটি নির্মাণ করলেন)। বাস্তবে আমীর নিজে ইট-পাথর দিয়ে শহর তৈরি করেননি, বরং শ্রমিকরা নির্মাণ করেছে; আমীর ছিলেন এর আদেশদাতা ও কারণ। অতএব নির্মাণ কাজটিকে রূপকভাবে আমীরের দিকে সম্পৃক্ত করা মাজাযে আকলীর দৃষ্টান্ত। পবিত্র কুরআনে এসেছে: ﴿يَوْمًا يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا﴾ (এমন একটি দিন যা শিশুদের বৃদ্ধ করে দেবে); এখানে মূলত কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা শিশুদের চুল সাদা করবে, কিন্তু রূপকভাবে সময়ের দিকে তা সম্বন্ধ করা হয়েছে।


١٦- عرف المحسنات اللفظية ممثلا.

[১৬. المحسنات اللفظية-এর সংজ্ঞা উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

সংজ্ঞা: ইলমুল বাদী’-এর যে অংশে বাক্যের অভ্যন্তরীণ অর্থ অপেক্ষা শব্দের বাহ্যিক সুর, ধ্বনিমাধুর্য এবং শ্রুতিসুখকর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়, তাকে আল-মুহাসসিনাতুল লাফযিয়্যাহ (শব্দালঙ্কার) বলে।

প্রধান রূপসমূহ ও উদাহরণ:

  • ১. জিনাস (الجناس): উচ্চারণে হুবহু মিল অথচ অর্থে ভিন্নতা। যেমন: ﴿وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ﴾ (যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, অপরাধীরা শপথ করবে যে তারা এক মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি)। এখানে প্রথম ‘আস-সাআহ’ অর্থ কিয়ামত এবং দ্বিতীয় ‘সাআহ’ অর্থ সময়ের মুহূর্ত।
  • ২. সাজা’ (السجع): গদ্যের একাধিক বাক্যের শেষাক্ষরে ছন্দময় মিল থাকা। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণী: «اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَأَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا» (হে আল্লাহ! দানকারীকে প্রতিদান দিন, আর কৃপণকে ধ্বংস দিন)।
  • ৩. রদ্দুল আজুয আলাস সদর (رد العجز على الصدر): বাক্যের শুরুর শব্দকে বাক্যের শেষে পুনরায় নিয়ে আসা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ২য় বর্ষের ‘উলূমুল বালাগাহ’ পরীক্ষার মানবণ্টন কীরূপ?

মোট পূর্ণমান ৮০। ক-বিভাগ থেকে ৪টি রচনামূলক (৪ × ১৫ = ৬০) এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত (৪ × ৫ = ২০) মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

২. বালাগাত শাস্ত্রের তিনটি প্রধান শাখা কী কী?

১. ইলমুল মা’আনী (বাক্যরীতি বিদ্যা), ২. ইলমুল বায়ান (বর্ণনারীতি বিদ্যা), এবং ৩. ইলমুল বাদী’ (শব্দ ও অর্থালঙ্কার বিদ্যা)।

৩. তাশবীহে বালীগ কাকে বলে?

যে তাশবীহে উপমার হরফ (আদাত) এবং উপমার সাধারণ গুণ (ওয়াজহুশ শাবাহ) উভয়ই উহ্য থাকে, তাকে তাশবীহে বালীগ বলে।

৪. ইনশায়ে তলবী ও ইনশায়ে গাইরে তলবীর পার্থক্য কী?

তলবীতে কোনো কিছু চাওয়া বা আদেশ-নিষেধ থাকে, আর গাইরে তলবীতে কোনো কিছু অর্জন বা বাস্তবায়নের طلب থাকে না।

৫. মাজাযে মুরসাল ও ইস্তিয়ারার মূল পার্থক্য কী?

ইস্তিয়ারার মধ্যে রূপক ও মূল অর্থের সম্পর্ক হয় তাশবীহ (সাদৃশ্যমূলক), কিন্তু মাজাযে মুরসালে সম্পর্ক তাশবীহ ছাড়া অন্য কিছু হয়।

৬. জিনাসে তাম কাকে বলে?

দুটি শব্দের বর্ণমালা, হরকত, অক্ষরের সংখ্যা ও তারতীব হুবহু এক হওয়া সত্ত্বেও অর্থে ভিন্নতা থাকাকে জিনাসে তাম বলে।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *