জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলুমুল হাদিস (Ulumul Hadith) – 202103, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

Abswer.com Abswer.com
22 September, 2026
৪১ মিনিট পড়ার সময়
১৩ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২০
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: উলুমুল হাদিস (Ulumul Hadith)
বিষয় কোড: 202103 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

২০২০ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উলুমুল হাদিস (Ulumul Hadith, বিষয় কোড: 202103) পরীক্ষাটি উলুমুল হাদিসের মৌলিক শাখা, জারহ ও তা’দিল শাস্ত্র, নাসিখ-মানসুখ, আতরাফুল হাদিস, তাখরীজ ও যাওয়াইদুল হাদিসের গভীর প্রায়োগিক পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিচে সকল প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণ্য সমাধান উপস্থাপন করা হলো।

مجموعة (أ) [ক-অংশ: রচনামূলক প্রশ্ন]

١- ما المراد بعلوم الحديث؟ اذكر موضوع علوم الحديث وغرضها وأهميتها-

[১. علوم الحديث বলতে কী বোঝায়? এর আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় মৌলিক উৎস হলো হাদিস ও সুন্নাহ। আর হাদিসের বিশুদ্ধতা নিরূপণ ও এর বহুমাত্রিক তত্ত্ব বিশ্লেষণের জন্য যে শাস্ত্রীয় শাখাগুলো গড়ে উঠেছে, তাকে সম্মিলিতভাবে ‘উলুমুল হাদিস’ (علوم الحديث) বলা হয়।

উলুমুল হাদিসের পরিচয়

আভিধানিক অর্থ: ‘উলূম’ (علوم) শব্দটি ‘ইলম’ (علم)-এর বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞানসমূহ বা শাস্ত্রসমূহ। আর ‘আল-হাদিস’ (الحديث) অর্থ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণী, কর্ম ও অনুমোদন।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম ইবনুস সালাহ (রহ.) বলেন:
«علم الحديث يشتمل على علم الرواية وعلم الدراية، وهو القواعد والمعارف المتعلقة بالمتن والسند»
(উলুমুল হাদিস হলো রিওয়ায়াহ ও দিরায়াহ শাস্ত্রের সমন্বিত রূপ, যা হাদিসের মতন ও সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি ও জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে)। সংক্ষেপে, যে শাস্ত্রের মাধ্যমে হাদিসের সনদ ও মতনের অবস্থা, রাবিদের বিশ্বস্ততা ও হাদিস গ্রহণের শর্তাবলি নির্ণয় করা যায়, তাকে উলুমুল হাদিস বলে।

আলোচ্য বিষয় (موضوعه)

উলুমুল হাদিসের মূল আলোচ্য বিষয় হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাদিসের ‘সনদ’ (বর্ণনাকারী পরম্পরা) এবং ‘মতন’ (মূল বক্তব্য), যাতে গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনীয়তার মানদণ্ড নির্ধারিত হয়।

উদ্দেশ্য (غرضه)

১. বিশুদ্ধ হাদিসকে দুর্বল ও বানোয়াট বর্ণনা থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে পৃথক করা।
২. দ্বীনের বিধান নির্ধারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃত সুন্নাহর ওপর আস্থা রাখা।
৩. মুসলিম উম্মাহর মধ্যে হাদিস চর্চায় সার্বিক বিকৃতি ও বিভ্রান্তি রোধ করা।
৪. আল্লাহর রাসুলের নামে মিথ্যা আরোপের মহাঅপরাধ থেকে সমাজকে রক্ষা করা।

গুরুত্ব ও তাৎপর্য (أهميتها)

১. কুরআনের তাফসীর রক্ষা: কুরআন মাজীদের বহু বিধানের ব্যাখ্যা হাদিসে নিহিত। হাদিসের বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ ছাড়া কুরআনের সঠিক প্রায়োগিক রূপ অনুধাবন অসম্ভব।
২. শরীয়তের বুনিয়াদ: সালাত, সাওম, যাকাত ও হজের ব্যবহারিক পূর্ণাঙ্গ রূপ হাদিসের মাধ্যমেই উম্মত লাভ করেছে।
৩. ঐতিহাসিক বস্তুনিষ্ঠতা: সনদের যাচাই-বাছাইয়ের এই বিজ্ঞান পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্ম বা প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে নেই। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও উলুমুল হাদিস মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ।


٢- ماذا تفهم من علم أطراف الحديث؟ اكتب أهم الكتب المؤلفة في الأطراف مع إيراد تعريف موجز عن واحد منها-

[২. علم أطراف الحديث বলতে তুমি কী বোঝ? এ বিষয়ে রচিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের নাম লেখ এবং একটি গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধর।]

ইলমু আতরাফিল হাদিসের ধারণা

সংজ্ঞা: ‘আহরাফ’ (أطراف) শব্দটি ‘তারাফ’ (طرف)-এর বহুবচন, যার অর্থ প্রান্ত, অংশ বা টুকরো। পরিভাষায় ‘ইলমু আতরাফিল হাদিস’ হলো হাদিস সংকলনের এমন একটি বিশেষ পদ্ধতি, যেখানে হাদিসের পূর্ণ মতন উল্লেখ না করে শুধু মতনের একটি অংশ বা প্রান্তসীমা এমনভাবে উল্লেখ করা হয় যা দ্বারা পাঠক পুরো হাদিসটি চিনতে পারেন এবং এর সাথে হাদিসটির বিভিন্ন কিতাবের সকল সনদ একত্রিত করে উল্লেখ করা হয়।

আতরাফুল হাদিসের উপকারিতা

১. কোনো হাদিস হাদিসের কোন্ কোন্ কিতাবে এসেছে তা এক নজরে জানা যায়।
২. হাদিসের বিভিন্ন সনদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও রাবিদের পার্থক্য নির্ণয় সহজ হয়।
৩. কোনো সনদের গোপন দোষ (ইল্লাত) বা বিচ্ছিন্নতা উদঘাটন করা যায়।

আতরাফ শাস্ত্রের প্রধান প্রধান গ্রন্থাবলি

১. আতরাফুস সুনানিল আরবা’আ: ইমাম আবুল কাসিম ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকী (মৃ. ৫৭১ হি.)।
২. তুহফাতুল আশরাফ বি-মা’রিফাতিল আতরাফ (تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف): ইমাম জামালুদ্দীন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিযযী (মৃ. ৭৪২ হি.)।
৩. ইতহাফুল মাহারা বি-আতরাফিল আশারা (إتحاف المهرة بأطراف العشرة): হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃ. ৮৫২ হি.)।
৪. আতরাফুস সহীহাইন: ইমাম আবু মাসউদ দামেশকী ও আবু মুহাম্মদ আল-বাসতী।

‘তুহফাতুল আশরাফ’ গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

ইমাম জামালুদ্দীন আল-মিযযী (রহ.) সংকলিত ‘তুহফাতুল আশরাফ বি-মা’রিফাতিল আতরাফ’ হলো এ শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠতম ও সর্বাধিক প্রামাণ্য বিশ্বকোষ।
– বিন্যাস পদ্ধতি: গ্রন্থটি সাহাবায়ে কেরামের নামের বর্ণানুক্রমিক (হুরূফুল মু’জাম) অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। প্রথমে আশারায়ে মুবাশশারা, এরপর অন্যান্য পুরুষ সাহাবি, এরপর মহিলা সাহাবিদের রেওয়ায়েত সন্নিবেশিত হয়েছে।
– অন্তর্ভুক্ত কিতাব: সিহাহ সিত্তাহ (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ) এবং ইমাম নাসাঈর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’-এর হাদিসসমূহ এতে সংকলিত হয়েছে।
– সাংকেতিক চিহ্নের ব্যবহার: ইমাম মিযযী কিতাবগুলোর জন্য বিশেষ সংকেত ব্যবহার করেছেন (যেমন বুখারীর জন্য ‘خ’, মুসলিমের জন্য ‘م’, আবু দাউদের জন্য ‘د’)। এতে মোট ১৯,৬২৬টি হাদিসের সনদ একত্রিত হয়েছে, যা হাদিস গবেষকদের জন্য অপরিহার্য এক আকরগ্রন্থ।


٣- ما المراد بعلم الجرح والتعديل؟ تحدث عن أهميته ونشأته وتطوره-

[৩. علم الجرح والتعديل বলতে কী বোঝায়? এর গুরুত্ব, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।]

ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দিলের ধারণা

আভিধানিক অর্থ: ‘জারহ’ (جرح) অর্থ আহত করা বা ত্রুটি প্রকাশ করা। আর ‘তা’দিল’ (تعديل) অর্থ ভারসাম্যপূর্ণ করা বা ন্যায়পরায়ণ ও বিশ্বস্ত ঘোষণা করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষায়, যে জ্ঞানের মাধ্যমে হাদিসের বর্ণনাকারীদের (রাবিদের) চারিত্রিক সততা, বিশ্বস্ততা ও স্মৃতিশক্তির গুণাবলি পর্যালোচনা করে তাঁদের গ্রহণযোগ্য (মু’আদ্দাল) অথবা অগ্রহণযোগ্য (মাজরূহ) বলে নিরপেক্ষ রায় প্রদান করা হয়, তাকে ‘ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দিল’ বলে।

জারহ ও তা’দিলের গুরুত্ব

১. শরীয়তের হেফাযত: বর্ণনাকারীর দোষ-ত্রুটি উদঘাটন না করলে জাল ও বিভ্রান্তিকর কথা দ্বীনের অংশ বলে গণ্য হতো।
২. গীবতের অপবাদমুক্ত বৈধতা: সাধারণ অবস্থায় মানুষের দোষ চর্চা গীবত ও হারাম হলেও, দ্বীন রক্ষার স্বার্থে রাবিদের দোষ বর্ণনা করা মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্যে ওয়াজিব। ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “আপনি কি ভয় পান না যে এই রাবিরা কিয়ামতের দিন আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবে?” তিনি বলেছিলেন: “তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক—এটা আমার কাছে অধিক প্রিয় এর চেয়ে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলবেন—’তুমি আমার হাদিসের ওপর কেন এই মিথ্যাবাদীদের প্রতিরোধ করোনি?'”

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

১. সাহাবা যুগ: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত পরবর্তী সময়ে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার পর হযরত আলী (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও আয়েশা (রা.) বর্ণনাকারীদের যাচাই শুরু করেন।
২. তাবেয়ী যুগ: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, আমির আশ-শা’বী এবং মুহাম্মদ ইবনে সিরীন কঠোরভাবে সনদ ও রাবি যাচাই করেন।
৩. তাবে-তাবেয়ী যুগ: শু’বা ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরী, ইমাম মালিক এবং বিশেষত ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও আলী ইবনুল মাদীনী এ শাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট পরিভাষা তৈরি করেন।
৪. গ্রন্থ সংকলন পর্ব: ইমাম বুখারী রচনা করেন ‘আত-তারীখুল কাবীর’, ইমাম ইবনে আবি হাতিম রচনা করেন বিশ্ববিখ্যাত ‘আল-জারহু ওয়াত তা’দিল’ (৯ খণ্ডে)। পরবর্তীতে ইমাম মিযযীর ‘তাহযীবুল কামাল’, ইমাম যাহাবীর ‘মীযানুল ই’তিদাল’ এবং হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানীর ‘তাহযীবুত তাহযীব’ ও ‘তাকরীবুত তাহযীব’ এ শাস্ত্রকে অমরত্ব দান করে।


٤- ناسخ الحديث ومنسوخه ما هما؟ وكيف يعرف الناسخ من المنسوخ؟ بين حكم النسخ وشرائطه-

[৪. ناسخ الحديث ও منسوخ الحديث কাকে বলে? নাসিখ ও মানসুখ কীভাবে চেনা যায়? নাসখ এর হুকুম ও শর্তাবলি বর্ণনা কর।]

নাসিখ ও মানসুখের পরিচয়

আভিধানিক অর্থ: ‘নাসখ’ (نسخ) অর্থ রহিত করা, অপসারিত করা বা পরিবর্তন করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: শরীয়তের কোনো পূর্ববর্তী নির্ভরযোগ্য দলিলের দ্বারা প্রমাণিত হুকুমকে পরবর্তীতে অবতীর্ণ অন্য কোনো দলিলের মাধ্যমে স্থগিত বা রহিত করে নতুন হুকুম প্রতিস্থাপন করাকে ‘নাসখ’ বলে। যে দলিল দ্বারা হুকুম রহিত হয় তা ‘নাসিখ’ (ناسخ), আর যার হুকুম রহিত হয় তা ‘মানসুখ’ (منسوخ)।
হাদিসের উদাহরণ: কবর জিয়ারত সম্পর্কিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষণা:
«كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ، أَلَا فَزُورُوهَا»
“আমি পূর্বে তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম; এখন শোন, তোমরা কবর জিয়ারত করো।” (সহীহ মুসলিম)। এখানে পূর্বের নিষেধাজ্ঞা মানসুখ এবং অনুমতি প্রদানকারী নির্দেশ নাসিখ।

নাসিখ ও মানসুখ চেনার উপায়

মুহাদ্দিস ও ফকীহগণ চারটি উপায়ে নাসিখ ও মানসুখ চিহ্নিত করেন:
১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্পষ্ট বক্তব্য: হাদিসের মধ্যে নবীজী (সা.) নিজে পূর্বের নির্দেশ রহিত হওয়ার কথা ঘোষণা করলে (যেমন কবর জিয়ারতের হাদিস)।
২. সাহাবির সুস্পষ্ট বিবৃতি: সাহাবি যদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেষ আমল এটি ছিল (যেমন জাবের রা. বলেন: “রাসুলুল্লাহ সা.-এর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ছিল আগুনে রান্না করা খাবার গ্রহণের পর নতুন ওযু না করা”)।
৩. ঐতিহাসিক সময়ক্রম (তারীখ): যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে দুটি সাংঘর্ষিক সহীহ হাদিসের একটি মক্কী জীবনের এবং অপরটি হিজরত পরবর্তী বা বিদায় হজের আমল, তবে পরবর্তী হাদিসটি পূর্ববর্তী হাদিসের নাসিখ গণ্য হবে।
৪. ইজমায়ে উম্মত: উম্মতের আলিমগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দ্বারা প্রমাণিত হওয়া যে একটি নির্দিষ্ট বিধান পরিত্যক্ত হয়েছে।

নাসখের হুকুম ও শর্তাবলি

হুকুম: নাসিখ হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব এবং মানসুখ হাদিসের ওপর আমল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
শর্তাবলি:
১. দুটি হাদিসের মধ্যে অর্থগত পূর্ণ বৈপরীত্য থাকতে হবে, যাতে উভয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় (তাওফীক) সম্ভব না হয়।
২. উভয় হাদিসই বিশুদ্ধ ও প্রামাণ্য হতে হবে (যয়ীফ বর্ণনা সহীহ বর্ণনার নাসিখ হতে পারে না)।
৩. পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়কাল নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হতে হবে।
৪. নাসখ কেবল আদেশ-নিষেধ ও ফিকহি বিধানে প্রযোজ্য; ইসলামি আকিদা, ঈমান ও ঐতিহাসিক সংবাদের ক্ষেত্রে নাসখ প্রযোজ্য নয়।


٥- عرف زوائد الحديث – ثم اذكر أنواعها وفوائدها وأهم الكتب فيها-

[৫. زوائد الحديث এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ, উপকারিতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির বর্ণনা দাও।]

যাওয়াঈদুল হাদিসের পরিচয়

আভিধানিক অর্থ: ‘যাওয়াঈদ’ (زوائد) শব্দটি ‘যাইদাহ’ (زائدة)-এর বহুবচন, যার অর্থ অতিরিক্ত বা বর্ধিত বিষয়।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: কোনো এক বা একাধিক মূল হাদিস গ্রন্থের তুলনায় অপর কোনো হাদিস গ্রন্থে অতিরিক্ত যে হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে, অথবা মূল গ্রন্থে হাদিসটি থাকলেও অতিরিক্ত কোনো সহীহ সনদে বা অতিরিক্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ শব্দে বর্ণিত হয়েছে—সেই অতিরিক্ত হাদিসসমূহকে ‘যাওয়াঈদুল হাদিস’ (زوائد الحديث) বলা হয়। সাধারণত সিহাহ সিত্তাহ বা কুতুবে আরবা’আকে ভিত্তি ধরে অন্যান্য মুসনাদ, মু’জাম ও মুসান্নাফের অতিরিক্ত হাদিস সংকলন করা হয়।

যাওয়াঈদের প্রকারভেদ

১. যাওয়াইদে মুতলাক (زوائد مطلقة): মূল কিতাবে হাদিসের কোনো অস্তিত্বই নেই, সম্পূর্ণ নতুন একটি হাদিস সংকলিত হয়েছে।
২. যাওয়াইদে নিসবী (زوائد نسبية): মূল কিতাবে হাদিসটি আছে, কিন্তু অন্য কিতাবে এমন নতুন সনদে বর্ণিত হয়েছে যা মূল সনদের তুলনায় অধিকতর মজবুত, অথবা মতনে অতিরিক্ত কোনো নতুন শিক্ষণীয় বাক্য যুক্ত আছে।

যাওয়াঈদুল হাদিসের উপকারিতা

১. দুর্লভ ও অপ্রচলিত হাদিস এক জায়গায় পাওয়া সহজ হয়।
২. একটি হাদিসের বহুবিধ সনদ ও মতনের বিভিন্ন রূপ তুলনামূলক অধ্যয়নের সুযোগ ঘটে।
৩. মূল কিতাবে যে হাদিস দুর্বল সনদে ছিল, যাওয়াঈদের অতিরিক্ত সনদের মাধ্যমে তা হাসান বা সহীহ লি-গাইরিহীর মর্যাদায় উন্নীত হতে পারে।

যাওয়াঈদের প্রধান কিতাবসমূহ

১. মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ (مجمع الزوائد ومنبع الفوائد): হাফিজ নুরউদ্দীন আল-হাইসামী (রহ.)। এটি আহমদ, বাযযার, আবু ইয়া’লা ও তাবারানীর তিন মু’জামের যাওয়াঈদ নিয়ে রচিত এ শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ।
২. ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারাহ বি-যাওয়াঈদিল মাসানিদিল আশারাহ: ইমাম শিহাবুদ্দীন আল-বুসীরী (রহ.)।
৩. আল-মাতালিবুল আলিয়াহ বি-যাওয়াঈদিল মাসানিদিস সামানিয়াহ: হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.)।


٦- ماذا تفهم من علم تخريج الحديث؟ اكتب نشأته وتطوره وطرقه-

[৬. علم تخريج الحديث বলতে তুমি কী বোঝ? এর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও পদ্ধতিসমূহ লেখ।]

ইলমু তাখরীজিল হাদিসের ধারণা

আভিধানিক অর্থ: ‘তাখরীজ’ (تخريج) অর্থ বের করা, উন্মোচন করা বা প্রকাশ করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: যে শাস্ত্রের সাহায্যে কোনো কিতাবে উল্লিখিত সনদবিহীন বা অজ্ঞাত হাদিসের মূল উৎস ও আকরগ্রন্থ (যেমন বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ) খুঁজে বের করা হয়, সনদের শৃঙ্খল অনুসন্ধান করে হাদিসটির বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার স্তর নির্ধারণ করা হয়, তাকে ‘ইলমু তাখরীজিল হাদিস’ বলে।

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

প্রাথমিক যুগে মুহাদ্দিসগণের স্মৃতিশক্তি এত প্রখর ছিল যে কোনো হাদিস শুনলেই তাঁরা বলে দিতে পারতেন এটি কোন্ কিতাবের কোন্ সনদে বর্ণিত। কিন্তু পরবর্তী যুগে যখন ফিকহ, তাফসীর ও সাহিত্যের কিতাবসমূহে সনদবিহীন ঢালাওভাবে হাদিস উদ্ধৃত হতে লাগল, তখন সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ ও দুর্বল হাদিস গুলিয়ে ফেলতে শুরু করে। এ প্রেক্ষিতে সপ্তম-অষ্টম হিজরী শতক থেকে ইমাম যাইলাঈ (নাসবুর রায়াহ), ইমাম ইবনে কাছীর (তুহফাতুত তালেব) এবং হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (তালখীসুল হাবীর) প্রমূখ উম্মাহর বিভ্রান্তি দূর করতে স্বতন্ত্র তাখরীজ গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।

তাখরীজের ৫টি আধুনিক ও প্রাচীন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

১. হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবির নামানুসারে: সাহাবির নাম জানা থাকলে মুসনাদ (যেমন মুসনাদে আহমদ) বা আতরাফের কিতাব দেখে তাখরীজ করা।
২. হাদিসের প্রথম শব্দের ক্রমানুসারে: হাদিসের প্রথমাংশ জানা থাকলে বর্ণানুক্রমিক গ্রন্থাবলি (যেমন সুয়ূতীর ‘আল-জামেউস সগীর’) ব্যবহার করা।
৩. হাদিসের অপ্রচলিত বা বিরল কোনো শব্দের মাধ্যমে: কনকর্ডেন্স (المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي) অভিধান ব্যবহারের মাধ্যমে হাদিসের কিতাব ও অনুচ্ছেদ খুঁজে নেওয়া।
৪. হাদিসের ফিকহি বিষয়বস্তুর মাধ্যমে: হাদিসের বিষয় (যেমন সালাত, রোজা, ব্যবসা) অনুযায়ী সুনান ও মুসান্নাফের নির্দিষ্ট অধ্যায়ে অনুসন্ধান করা।
৫. হাদিসের সনদের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে: সনদে কোনো মুরসাল, মুদাল বা বিশেষ রাবির সূত্রে বর্ণনা থাকলে নির্দিষ্ট সনদী কিতাবে অনুসন্ধান করা।

مجموعة (ب) [খ-অংশ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন]

٧- اكتب مراتب الجرح والتعديل مع ذكر ألفاظهما-

[৭. الجرح والتعديل এর স্তরসমূহ ও শব্দাবলি লেখ।]

মুহাদ্দিসগণের নিকট তা’দিল (গ্রহণযোগ্যতা) ও জারহ (অগ্রহণযোগ্যতা)-এর স্তরগুলো সুনির্দিষ্ট শব্দাবলি দ্বারা নির্ধারিত:

তা’দিলের প্রধান স্তরসমূহ ও শব্দাবলি:
১. সর্বোচ্চ স্তর: أَوْثَقُ النَّاسِ (সর্বশ্রেষ্ঠ নির্ভরযোগ্য), ثِقَةٌ ثَبْتٌ (বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ়)।
২. দ্বিতীয় স্তর: ثِقَةٌ (বিশ্বস্ত), حُجَّةٌ (প্রমাণযোগ্য)।
৩. তৃতীয় স্তর: صَدُوقٌ (সত্যবাদী), لا بَأْسَ بِهِ (বর্ণনায় কোনো দোষ নেই)।
৪. চতুর্থ স্তর: صَالِحُ الْحَدِيثِ (হাদিস মোটামুটি ভালো)।

জারহের প্রধান স্তরসমূহ ও শব্দাবলি:
১. লঘুতর জারহ: فِيهِ مَقَالٌ (তার ব্যাপারে কিছু আপত্তি আছে), لَيِّنُ الْحَدِيثِ (স্মৃতিতে কিছুটা শৈথিল্য আছে)।
২. দ্বিতীয় স্তর: ضَعِيفٌ (দুর্বল), لا يُحْتَجُّ بِهِ (দলিলযোগ্য নয়)।
৩. তৃতীয় স্তর: مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ (হাদিস পরিত্যক্ত), وَاهٍ جِدًّا (চরম দুর্বল)।
৪. চরমতম জারহ: كَذَّابٌ (চরম মিথ্যাবাদী), يَضَعُ الْحَدِيثَ (হাদিস জাল করে)।


٨- عرف علم مشكل الحديث ثم اكتب أسباب الاشكال-

[৮. علم مشكل الحديث এর পরিচয় দাও এবং اشکال এর কারণগুলো লেখ।]

সংজ্ঞা: যে শাস্ত্রের মাধ্যমে আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী বা যুক্তি ও স্বাভাবিক বিবেচনার পরিপন্থী মনে হওয়া সহীহ হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সংশয় দূর করা হয়, তাকে ‘ইলমু মুশকিলিল হাদিস’ বলে (যেমন ইমাম তাহাবীর ‘শারহু মুশকিলিল আসার’)।
ইশকালাত বা সংশয়ের কারণসমূহ:
১. সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও বোধশক্তির সীমাবদ্ধতা।
২. আপাতদৃষ্টিতে কুরআনের কোনো স্পষ্ট আয়াতের সাথে হাদিসের বিরোধের ভ্রম তৈরি হওয়া।
৩. একই বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুটি ভিন্ন পরিস্থিতির স্বতন্ত্র আমল ও বক্তব্য থাকা।
৪. রূপক বা অলঙ্কারপূর্ণ আরবি ভাষার অন্তর্নিহিত মর্ম অনুধাবনে ব্যর্থতা।


٩- تحدث عن وجوه الترجيح بين الأحاديث المتعارضة-

[৯. الأحاديث المتعارضة এর মধ্যে প্রাধান্য দেওয়ার পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

দুটি সহীহ হাদিসের মধ্যে বাহ্যিক বিরোধ দেখা দিলে মুহাদ্দিসগণ নিম্নোক্ত ক্রমানুসারে সমাধান করেন:
১. আল-জাম’ ওয়াত তাওফীক (الجمع والتوفيق): উভয় হাদিসকে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি বা বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করে সমন্বয় করা।
২. নাসখ অনুসন্ধান (معرفة التاريخ للنسخ): সমন্বয় অসম্ভব হলে পূর্বের হাদিস মানসুখ এবং পরের হাদিস নাসিখ সাব্যস্ত করা।
৩. তারজীহ বা প্রাধান্য প্রদান (الترجيح): সময় নিশ্চিত না হলে সনদের শক্তি ও মতনের বলিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রাধান্য দেওয়া:
– যে হাদিসের রাবি অধিকতর ফকীহ ও স্মৃতিধর তাকে প্রাধান্য দেওয়া।
– যা সিহাহ সিত্তাহ বা বুখারী-মুসলিমে এসেছে তাকে অন্য কিতাবের ওপর প্রাধান্য দেওয়া।
– প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবির হাদিসকে পরোক্ষ সাহাবির ওপর প্রাধান্য দেওয়া।
৪. তাওয়াক্কুফ (التوقف): কোনোভাবেই সমাধান না হলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা।


١٠- اذكر ما تعرف عن الكتاب ‘عمدة القارئ’ وصاحبها موجزا-

[১০. عمدة القارئ গ্রন্থ ও এর লেখক সম্পর্কে যা জান, সংক্ষেপে লেখ।]

লেখক পরিচিতি: ‘উমদাতুল ক্বারী’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত ইমাম ও ফকীহ আল্লামা বদরুদ্দীন আবু মুহাম্মদ মাহমুদ ইবনে আহমদ আল-আইনী (মৃ. ৮৫৫ হি.)। তিনি একাধারে মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুফাসসির ও ঐতিহাসিক ছিলেন।
গ্রন্থ পরিচিতি: ‘উমদাতুল ক্বারী ফী শারহি সহীহিল বুখারী’ (عمدة القاري في شرح صحيح البخاري) সহীহ বুখারীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুবিশাল তাফসীর ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি ২৫টি খণ্ডে মুদ্রিত। গ্রন্থটিতে সহীহ বুখারীর প্রতিটি হাদিসের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাব), শব্দের বিশ্লেষণ (লুগাত), রাবিদের বিস্তারিত জীবনী, ফিকহি মতভেদ এবং হানাফী দৃষ্টিভঙ্গির প্রামাণ্য দলিলের চমৎকার অবতারণা করা হয়েছে।


١١- ما الفرق بين زوائد الحديث وبين المستدركات والمستخرجات؟ بيّن-

[১১. زوائد الحديث এবং المستدركات ও المستخرجات এর মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]

১. মুসতাদরাক (المستدرك): কোনো মূল কিতাবের সংকলক যে সকল শর্ত মেনে হাদিস সংকলন করেছিলেন, সেই শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও যেসব হাদিস তাঁর কিতাবে স্থান পায়নি, সেগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে একত্রিত করা (যেমন হাকিম নিশাপুরীর ‘আল-মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন’)।
২. মুসতাখরাজ (المستخرج): কোনো মূল কিতাবের হাদিসগুলোকে স্ব স্ব মতনে বহাল রেখে, মূল কিতাবের সংকলকের সনদের পথ এড়িয়ে অন্য সনদে রাসুল (সা.) পর্যন্ত পৌঁছানো (যেমন আবু নুআইমের ‘মুসতাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম’)।
৩. যাওয়াঈদ (الزوائد): এক কিতাবের তুলনায় অন্য কিতাবের অতিরিক্ত সম্পূর্ণ নতুন হাদিস বা সনদের সমষ্টি।


١٢- علق على رواية الحديث ودراية الحديث مختصرا-

[১২. رواية الحديث ও دراية الحديث সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ।]

১. ইলমু রিওয়ায়াতিল হাদিস (علم رواية الحديث): হাদিসের বাহ্যিক রূপ সংরক্ষণ ও প্রচারের শাস্ত্র। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণী, কর্ম, সম্মতি ও শারীরিক গুণাবলি নির্ভুলভাবে মুখস্থ করা, লিপিবদ্ধ করা এবং সনদসহ অবিকৃতভাবে পরবর্তী প্রজন্মের নিকট বর্ণনা করার জ্ঞানই হলো ইলমুর রিওয়ায়াহ।
২. ইলমু দিরায়াতিল হাদিস (علم دراية الحديث): হাদিসের অন্তর্নিহিত দর্শন, সত্যতা ও ফিকহি তত্ত্ব বিশ্লেষণের শাস্ত্র। হাদিসের শব্দাবলির গভীর অর্থ, ফিকহি আহকাম, আদেশ-নিষেধের হেকমত এবং যুক্তিসিদ্ধ বিশ্লেষণ হলো ইলমুদ দিরায়াহ। ইমাম ইবনুল আসীর বলেন, “রিওয়ায়াহ হলো বৃক্ষের ডালপালা আর দিরায়াহ হলো তার সুমিষ্ট ফল।”

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উলুমুল হাদিসের মূল বিষয়বস্তু কী?

উলুমুল হাদিসের মূল আলোচ্য বিষয় হলো হাদিসের সনদ (বর্ণনাকারী পরম্পরা) এবং মতন (মূল বক্তব্য), যাতে এদের বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ণয় করা যায়।

২. জারহ ও তা’দিল শাস্ত্রের মূল উপকারিতা কী?

এ শাস্ত্রের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতা ও স্মৃতিশক্তি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সহীহ হাদিসকে দুর্বল ও বানোয়াট বর্ণনা থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।

৩. আতরাফুল হাদিস গ্রন্থাবলি গবেষকদের কীভাবে সহায়তা করে?

কোনো হাদিস সিহাহ সিত্তাহসহ বিভিন্ন মূল গ্রন্থে কোন্ কোন্ সনদে বর্ণিত হয়েছে, তা এক নজরে দ্রুত খুঁজে বের করতে আতরাফ শাস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর।

৪. তাখরীজ বলতে কী বোঝায়?

যেকোনো অনির্ভরযোগ্য বা সনদবিহীন হাদিসের মূল আকরগ্রন্থ খুঁজে বের করে সনদের মান যাচাই করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে তাখরীজ বলে।

৫. নাসখ কি আকিদাগত বিষয়ে হতে পারে?

না, তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত বা আকিদাগত মৌলিক বিশ্বাসে কোনো নাসখ নেই; নাসখ কেবল শরীয়তের আমল ও ফিকহি আদেশ-নিষেধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৬. উমদাতুল ক্বারীর অনন্য বৈশিষ্ট্য কী?

সহীহ বুখারীর সুবিশাল এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে আল্লামা আইনী (রহ.) ব্যাকরণ, আভিধানিক অর্থ ও ফিকহি তুলনামূলক বিশ্লেষণের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *