ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: উলূমুল হাদীস (Ulumul Hadith)
বিষয় কোড: 202103 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
২০২৪ সালের ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ১ম বর্ষের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উলূমুল হাদীস (Ulumul Hadith – 202103) পরীক্ষাটি ইলমে হাদীস দিরায়াত, নাসিখ ও মানসূখ, হাদীসে মুআল্লাল, মুখতালিফুল হাদীস, ইসনাদের গুরুত্ব, জারহ ও তা’দীল শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, গারীবুল হাদীস, মুস্তাখরাজাত, মুস্তাদরাকাত, তাখরীজের পদ্ধতি এবং সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগণের পরিচয় মূল্যায়নের জন্য অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নপত্রটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত: مجموعة (أ) বা রচনামূলক অংশ (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, মান ৪ × ১৫ = ৬০) এবং مجموعة (ب) বা সংক্ষিপ্ত উত্তর অংশ (যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, মান ৪ × ৫ = ২০)। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নিচে প্রতিটি প্রশ্নের প্রামাণ্য ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান তুলে ধরা হলো।
مجموعة (أ): রচনামূলক প্রশ্ন (যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: মান ৪ × ১৫ = ৬০)
١- عرف علم الحديث دراية مع بيان موضوعه وغرضه وأهميته على ضوء القرآن والسنة-
[১. ইলমুল হাদীস দিরায়াত-এর পরিচয়, আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]
ইলমুল হাদীস দিরায়াতের পরিচয়
আভিধানিক অর্থ: ‘দিরায়াহ’ (دراية) শব্দের অর্থ গভীর জ্ঞান, অনুধাবন, বিশ্লেষণ ও তত্ত্বানুসন্ধান।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা ইবনু আকফানী (রহ.) বলেন:
“علم يعرف منه حقيقة الرواية وشروطها وأنواعها وأحكامها وحال الرواة وشروطهم وأصناف المرويات وما يتعلق بها”
(ইলমুল হাদীস দিরায়াত হলো এমন শাস্ত্র, যার মাধ্যমে হাদীস বর্ণনার প্রকৃত রূপ, শর্তাবলি, প্রকারভেদ, হুকুম, বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও যোগ্যতা এবং বর্ণিত বিষয়াবলির প্রাসঙ্গিক বিধান জানা যায়।)
আলোচ্য বিষয় (الموضوع) ও উদ্দেশ্য (الغرض)
আলোচ্য বিষয়: বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ণয়ের স্বার্থে হাদীসের সনদ (বর্ণনাকারী পরম্পরা) এবং মতন (মূল বক্তব্য)-এর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ অবস্থা।
উদ্দেশ্য: সহীহ ও প্রামাণ্য হাদীসকে জাল, বানোয়াট ও দুর্বল বর্ণনা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনের খাঁটি রূপ সংরক্ষণ করা।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর গুরুত্ব
- পবিত্র কুরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তায়ালা সংবাদ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়ে বলেন: “يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا” (হে মুমিনগণ! কোনো পাপাচারী সংবাদ নিয়ে আসলে তা যাচাই কর—সূরা হুজুরাত: ৬)। এই আয়াতই হাদীস যাচাই-বাছাই ও দিরায়াত শাস্ত্রের মূল ভিত্তি।
- পবিত্র সুন্নাহর সতর্কবাণী: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: “نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا شَيْئًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَهُ، فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ” (আল্লাহ সেই ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোনো কথা শুনল, অতঃপর যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিল—তিরমিযী)। এই বাণী অপরিবর্তিত ও নির্ভুলভাবে হাদীস সংরক্ষণ ও উপলব্ধির নির্দেশ বহন করে।
٢- ما المراد بعلم ناسخ الحديث ومنسوخه؟ وبما يعرف الناسخ والمنسوخ؟ بين أشهر المؤلفات فيه-
[২. ইলমে নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহ দ্বারা কী বোঝায়? নাসিখ ও মানসূখ কীভাবে চেনা যায়? এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ উল্লেখ কর।]
নাসিখ ও মানসূখের সংজ্ঞা
আভিধানিক অর্থ: ‘নাসখ’ (نسخ) শব্দের অর্থ দূর করা, পরিবর্তন করা বা প্রতিস্থাপন করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: শরীয়তের কোনো পূর্ববর্তী হুকুমকে পরবর্তী কোনো শক্তিশালী শরয়ী দলীল দ্বারা রহিত করাকে নাসখ বলে। যে হাদীস দ্বারা রহিত হয় তাকে ‘নাসিখ’ (الناسخ) এবং যার হুকুম রহিত হয় তাকে ‘মানসূখ’ (المنسوخ) বলে।
নাসিখ ও মানসূখ চেনার উপায় (طرق معرفة الناسخ والمنسوخ)
- রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুস্পষ্ট বক্তব্য দ্বারা: যেমন কবর জিয়ারতের ব্যাপারে নবীজি ﷺ নিজেই বলেছেন: “كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ، فَزُورُوهَا” (আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা কবর জিয়ারত কর—সহীহ মুসলিম)। এখানে প্রথম হুকুম মানসূখ এবং দ্বিতীয়টি নাসিখ।
- সাহাবীর সুস্পষ্ট সাক্ষ্য দ্বারা: যেমন হযরত জাবির (রাযি.) বলেন: “كَانَ آخِرَ الأَمْرَيْنِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ تَرْكُ الْوُضُوءِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ” (আগুনে রান্না করা খাবার খেলে অজু করার বিধানের বিপরীতে অজু না করাই ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সর্বশেষ আমল—আবু দাউদ)।
- ঐতিহাসিক তারিখ ও সময়ের অগ্রপশ্চাত দ্বারা: যদি দুটি সহীহ হাদীসের মাঝে আপাত বৈপরীত্য দেখা যায় এবং সমম্বয় অসম্ভব হয়, তবে ইতিহাসের সাহায্যে পরবর্তী সময়ের হাদীসটিকে নাসিখ গণ্য করা হয় (যেমন মক্কা বিজয়ের সময় রক্তমোক্ষণকারী ও মোক্ষণদাতার রোজা ভঙ্গের হাদীসের ওপর পরবর্তী বিদায় হজের আমল নাসিখ হওয়া)।
- উম্মাহর সুদৃঢ় ইজমা দ্বারা: উম্মতের নির্ভরযোগ্য আলেমগণের ঐকমত্য দ্বারাও নাসিখ চিহ্নিত হয়।
এ শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ
- ১. আল-ই’তিবার ফিন নাসিখ ওয়াল মানসূখ মিনাল আছার — ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল-হাযিমী (رحمه الله)।
- ২. নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহ — ইমাম ইবনে শাহীন (رحمه الله)।
- ৩. রসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাসিখ-মানসূখ হাদীস সংকলন — ইমাম আহমদ বিন হাম্বল ও ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর গবেষণা।
٣- عرف الحديث المععل- ثم بين الطرق التي تعرف بها المععل وأشهر المصنفات فيه-
[৩. হাদীসে মুআল্লাল-এর পরিচয় দাও। অতঃপর ত্রুটি (ইল্লাত) জানার পদ্ধতিসমূহ ও এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ বর্ণনা কর।]
হাদীসে মুআল্লালের সংজ্ঞা
মুআল্লাল (المعلل বা المعل): যে হাদীসের বাহ্যিক রূপটি সম্পূর্ণ সহীহ ও ত্রুটিহীন মনে হয়, কিন্তু দক্ষ ও অভিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের গভীর গবেষণায় এমন কোনো গোপন সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة قادحة) ধরা পড়ে যা হাদীসের গ্রহণযোগ্যতাকে নষ্ট করে দেয়, তাকে ‘হাদীসে মুআল্লাল’ বলে।
গোপন ত্রুটি (ইল্লাত) জানার পদ্ধতি
ইল্লাত জানার জন্য একজন মুহাদ্দিসকে হাদীসের সমুদ্রে ডুবুরি হতে হয়। মূল পদ্ধতিগুলো হলো:
১. সকল সনদের সংকলন ও তুলনা (جمع الطرق): একটি হাদীসের যতগুলো সনদ বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোকে একত্রিত করে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা।
২. রাবীগণের স্তরভেদ পর্যবেক্ষণ: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের পারস্পরিক মিল-অমিল যাচাই করা; যেমন কোনো রাবী ভুলবশত মুরসাল হাদীসকে মাওসূল বানিয়ে দিয়েছেন কি না, অথবা মওকূফকে মারফূ বানিয়েছেন কি না তা যাচাই করা।
৩. সুক্ষ্ম মেধা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা: জহুরির মতো নিখুঁত দৃষ্টি ও দীর্ঘকাল হাদীস চর্চার ফলে মুহাদ্দিসগণের অন্তরে যে সূক্ষ্ম ইলহাম বা অন্তর্দৃষ্টি সৃষ্টি হয়, তার আলোকে ত্রুটি নির্ণয় করা।
এ শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ
- ১. কিতাবুল ইলাল — ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (رحمه الله)।
- ২. আল-ইলাল ওয়া মা’রিফাতুর রিজাল — ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (رحمه الله)।
- ৩. আল-ইলালুল কাবীর ও আস-সগীর — ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী (رحمه الله)।
- ৪. আল-ইলালুল ওয়ারিদাহ ফিল আহাদীসিন নাবাবিয়্যাহ — ইমাম দারাকুতনী (رحمه الله)।
٤- ما المراد بعلم مختلف الحديث؟ ثم بين أهميته وأشهر المؤلفات فيه-
[৪. ইলমে মুখতালিফুল হাদীস দ্বারা কী উদ্দেশ্য? এর গুরুত্ব ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ আলোচনা কর।]
মুখতালিফুল হাদীসের পরিচয়
সংজ্ঞা: যে সকল সহীহ হাদীস আপাতদৃষ্টিতে একে অপরের সাথে বিরোধপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক মনে হয়, অথচ গভীর তাত্ত্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়, সেই শাস্ত্রীয় নিয়মাবলিকে ‘ইলমে মুখতালিফুল হাদীস’ (مختلف الحديث) বলে।
এর গুরুত্ব ও বিধান
এ শাস্ত্র মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ ক্ষেত্র। কারণ কোনো সহীহ হাদীসের মাঝে প্রকৃত অর্থে কখনোই বিরোধ থাকতে পারে না (নবীজির বাণী ওহি হওয়ায় তা স্ববিরোধী নয়)। সাধারণ মানুষ বা দুর্বল জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা বাহ্যিক দ্বন্দ্ব দেখে বিভ্রান্ত হতে পারে। মুহাদ্দিসগণ নিম্নোক্ত চার স্তরে এই দ্বন্দ্ব নিরসন করেন:
১. জমা’ ও তাতবীক (الجمع والتوفيق): উভয় হাদীসের প্রেক্ষাপট ভিন্ন গণ্য করে উভয়ের ওপর আমল করা।
২. নাসখ নির্ধারণ (النسخ): সময়কাল জেনে একটিকে নাসিখ ও অপরটিকে মানসূখ বলা।
৩. তারজীহ (الترجيح): সনদের শক্তির বিচারে একটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪. তাওয়াক্কুফ (التوقف): কোনো সমাধান না পেলে অপেক্ষায় থাকা।
প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ
- ১. ইখতিলাফুল হাদীস (اختلاف الحديث) — ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিয়ী (رحمه الله)।
- ২. তা’বীಲು মুখতালিফিল হাদীস (تأويل مختلف الحديث) — ইমাম ইবনে কুতাইবাহ আদ-দীনূরী (رحمه الله)।
- ৩. মুশকিলুল আছার (مشكل الآثار) — ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী (رحمه الله)।
٥- ما معنى الإسناد لغة واصطلاحا؟ ثم اذكر أقسامه وأهميته مع ذكر أقوال العلماء فيه-
[৫. ইসনাদ-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? এর প্রকারভেদ এবং উলামায়ে কেরামের উক্তি সহকারে এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]
ইসনাদের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
আভিধানিক অর্থ: ঠেস দেওয়া, নির্ভর করা বা সংযুক্ত করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: হাদীসকে তার প্রবক্তা (রাসূলুল্লাহ ﷺ, সাহাবী বা তাবেয়ী) পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক নাম পরম্পরা উল্লেখ করে পৌঁছানোকে ‘ইসনাদ’ বলে।
ইসনাদের প্রধান প্রকারভেদ:
১. ইসনাদে আলী (العالي): যাতে বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম এবং সান্নিধ্য বেশি।
২. ইসনাদে নাযিল (النازل): যাতে বর্ণনাকারীর সংখ্যা বেশি।
৩. ইসনাদে মুত্তাসিল (المتصل): সনদের ধারাবাহিকতা পূর্ণাঙ্গ থাকা।
৪. ইসনাদে মুনক্বাতি’ (المنقطع): সনদের মাঝে কোনো স্তর বিচ্ছিন্ন থাকা।
উলামায়ে কেরামের ঐতিহাসিক উক্তি ও গুরুত্ব
- ১. ইমাম ইবনুল মুবারক (রহ.): “الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء” (ইসনাদ দ্বীনের অংশ, যদি ইসনাদ না থাকত তবে যার যা ইচ্ছা তা-ই বলত)।
- ২. ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহ.): “الإسناد سلاح المؤمن، فإذا لم يكن معه سلاح فبأي شيء يقاتل؟” (ইসনাদ হলো মুমিনের হাতিয়ার; যদি তার কাছে হাতিয়ারই না থাকে, তবে সে কী দিয়ে যুদ্ধ করবে?)।
- ৩. ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.): “إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم” (নিশ্চয় এই ইলমে হাদীস হলো তোমাদের দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য রাখো কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ)।
٦- عرف علم الجرح والتعديل- ثم بين نشأته وتطوره عبر القرون-
[৬. ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীল-এর পরিচয় দাও। শতাব্দীভেদে এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বর্ণনা কর।]
জারহ ও তা’দীলের পরিচয়
জারহ (الجرح): রাবীর স্মৃতিশক্তি বা নৈতিক চরিত্রে এমন কোনো ত্রুটি বর্ণনা করা, যার কারণে তাঁর হাদীস দুর্বল বা অগ্রহণযোগ্য বলে সাব্যস্ত হয়।
তা’দীল (التعديل): রাবীর ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও নির্ভুল সংরক্ষণ ক্ষমতার সাক্ষ্য দিয়ে তাঁকে নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা।
শতাব্দীভেদে উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
- প্রথম শতাব্দী (সাহাবী ও তাবেয়ী যুগ): মিথ্যা বর্ণনাকারীদের প্রতিরোধে সতর্কতামূলক উক্তি দিয়ে এর সূচনা হয়। যেমন ইবনে আব্বাস (রাযি.) বুশাইর আল-আদাভীর বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
- দ্বিতীয় শতাব্দী (প্রতিষ্ঠার যুগ): এই যুগে ইমাম শু’বা ইবনুল হাজ্জাজ, সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান রাবীদের সমালোচনায় নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় মাপকাঠি গড়ে তোলেন।
- তৃতীয় শতাব্দী (স্বর্ণযুগ): ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী, আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম বুখারী (আত-তারীখুল কাবীর) এবং আবু হাতিম আর-রাযী রাবীদের ব্যক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা লিপিবদ্ধ করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- চতুর্থ শতাব্দী ও পরবর্তী যুগ: ইবনে আবি হাতিম (আল-জারহ ওয়াত তা’দীল), ইবনে হিব্বান (আছ-ছিকাত ও আল-মাজরূহীন), পরবর্তীতে হাফিজ মিযযী (তাহযীবুল কামাল), যাহাবী (মীযানুল ইতিদাল) এবং ইবনে হাজার (তাহযীবুত তাহযীব ও তাকরীবুত তাহযীব) রচনা করে শাস্ত্রটিকে অমরত্ব দান করেন।
٧- ما المراد بعلم غريب الحديث؟ اذكر أهميته وأشهر المصنفات فيه-
[৭. গারীবুল হাদীস দ্বারা কী উদ্দেশ্য? এর গুরুত্ব ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ উল্লেখ কর।]
গারীবুল হাদীসের পরিচয়
হাদীসের মতন বা পাঠে ব্যবহৃত এমন প্রাচীন, বিরল ও অপ্রচলিত আরবি শব্দাবলি—যা সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য এবং যা বুঝতে আরবের আদিম বিশুদ্ধ ভাষা ও অভিধানের সাহায্য নিতে হয়, সেই কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকারী শাস্ত্রকে ‘গারীবুল হাদীস’ (غريب الحديث) বলে।
এর গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন আরবের সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী (أفصح العرب)। তিনি বহু সময় এমন গভীর অর্থবহ ও শৈল্পিক শব্দ ব্যবহার করতেন যার মর্মোদ্ধার সাধারণ ব্যাকরণ দিয়ে সম্ভব নয়। গারীবুল হাদীসের সঠিক জ্ঞান না থাকলে শরীয়তের বিধান বিকৃত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। ইমাম আহমদ (রহ.) বলতেন: “হাদীসের অপ্রচলিত শব্দের ক্ষেত্রে সতর্ক হও, মনগড়া অর্থ করো না।”
প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ
- ১. গারীবুল হাদীস — ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম (رحمه الله)।
- ২. গারীবুল হাদীস — ইমাম ইবনুল কুতাইবাহ (رحمه الله)।
- ৩. আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীসি ওয়াল আছার — আল্লামা মাজদুদ্দীন ইবনুল আছীর (رحمه الله) (এ শাস্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ)।
٨- تحدث عن المستخرجات وفوائدها وأشهر المصنفات فيها-
[৮. মুস্তাখরাজাত, এর উপকারিতা ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ আলোচনা কর।]
মুস্তাখরাজাতের সংজ্ঞা
মুস্তাখরাজ (المستخرج): কোনো মুহাদ্দিস কর্তৃক অন্য কোনো পূর্ববর্তী প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থের (যেমন সহীহ বুখারী বা সহীহ মুসলিম) মূল হাদীসগুলোকে তাঁর নিজের সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নিজস্ব সনদের মাধ্যমে সংকলন করা, যাতে তিনি মূল গ্রন্থের সংকলকের উস্তাদ বা কোনো ঊর্ধ্বমুখী শায়খের সাথে মিলিত হন, কিন্তু মূল লেখকের মাধ্যম ব্যবহার না করেন।
মুস্তাখরাজাত রচনার প্রধান উপকারিতা (فوائد المستخرجات)
- ইসনাদে আলী অর্জন: কোনো কোনো সূত্রে মূল লেখকের চেয়ে কম মধ্যবর্তী রাবী দিয়ে উচ্চ সনদ লাভ করা যায়।
- মতন ও সনদের অতিরিক্ত তথ্য (زیادة الألفاظ): মূল কিতাবের সংক্ষিপ্ত শব্দের বিশদ ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত শব্দাবলী লাভ করা যায়।
- তাদলীসের সন্দেহ দূরীকরণ: মূল কিতাবের মুদাল্লিস রাবী যদি ‘আন’ (عن) দ্বারা বর্ণনা করে থাকেন, তবে মুস্তাখরাজে প্রায়ই তাঁর সরাসরি শোনার (حدثنا বা سمعت) প্রমাণ মিলে যায়।
- হাদীসের শক্তি বৃদ্ধি: একই হাদীস একাধিক স্বাধীন সূত্রে বর্ণিত হওয়ায় তা অধিকতর বিশুদ্ধতার মর্যাদা পায়।
প্রসিদ্ধ মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহ
- ১. মুস্তাখরাজ আবি নুআইম আলা সহীহিল বুখারী — ইমাম আবু নুআইম আল-ইসবাহানী (رحمه الله)।
- ২. মুস্তাখরাজ আবি আওয়ানাহ আলা সহীহ মুসলিম — ইমাম আবু আওয়ানাহ আল-ইসফারায়িনী (رحمه الله)।
- ৩. মুস্তাখরাজুল ইসমাঈলী আলা সহীহিল বুখারী — ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলী (رحمه الله)।
مجموعة (ب): সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন (যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও: মান ৪ × ৫ = ২০)
٩- عرف علم أطراف الحديث- ثم بين أهمية هذا العلم-
[৯. আতরাফুল হাদীস-এর পরিচয় দাও এবং এর গুরুত্ব উল্লেখ কর।]
সংজ্ঞা: কোনো হাদীসের সম্পূর্ণ বক্তব্য উল্লেখ না করে শুধু তার একটি পরিচিত অংশ বা শুরুর বাক্য উল্লেখ করা, অতঃপর সেই হাদীসের সমস্ত সনদ ও বিভিন্ন গ্রন্থে তার অবস্থান একযোগে লিপিবদ্ধ করার শাস্ত্রীয় পদ্ধতিকে ‘আতরাফুল হাদীস’ (أطراف الحديث) বলে।
গুরুত্ব: এর মাধ্যমে একজন গবেষক একটিমাত্র পৃষ্ঠায় হাদীসটির সমস্ত সনদ ও বিভিন্ন কিতাবের উৎস অতি দ্রুত খুঁজে পান।
বিখ্যাত গ্রন্থ: হাফিজ মিযযী (রহ.)-এর বিশ্ববিখ্যাত কিতাব তুহফাতুল আশরাফ বি মা’রিফাতিল আতরাফ (تحفة الأشراف)।
١٠- عرف زوائد الحديث مع ذكر أهم الكتب المؤلفة فيه-
[১০. যাওয়াইদুল হাদীস-এর পরিচয় এবং এর ওপর রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ আলোচনা কর।]
সংজ্ঞা: একটি নির্দিষ্ট মূল হাদীস সংকলনের (যেমন কুতুবে সিত্তাহ) তুলনায় অন্য কোনো কিতাবে (যেমন মুসনাদে আহমদ বা মুসনাদে বাযযার) যে সকল অতিরিক্ত সহীহ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলোকে একত্রিত করার নাম ‘যাওয়াইদুল হাদীস’।
প্রসিদ্ধ গ্রন্থ: হাফিজ নূরুদ্দীন আল-হাইছামী (রহ.)-এর মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ (مجمع الزوائد ومنبع الفوائد)।
١١- تحدث عن المستدركات وأشهر المؤلفة فيها-
[১১. মুস্তাদরাকাত ও এর ওপর রচিত প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ আলোচনা কর।]
মুস্তাদরাক (المستدرك): কোনো প্রখ্যাত সংকলকের (যেমন বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও যে সকল সহীহ হাদীস তাঁদের গ্রন্থে স্থান পায়নি, পরবর্তীতে অন্য কোনো মুহাদ্দিস কর্তৃক সেই শর্ত পূরণকারী বাদ পড়া হাদীসগুলো সংকলন করাকে মুস্তাদরাক বলে।
প্রসিদ্ধ গ্রন্থ: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী (রহ.) সংকলিত বিশ্ববিখ্যাত আল-মুস্তাদরাকু আলাস সাহীহাইন (المستدرك على الصحيحين)।
١٢- تحدث عن الأسباب التي تتعلق بالطعن في العدالة والضبط-
[১২. রাবীর আদালত ও যব্ত বিষয়ক সমালোচনার কারণসমূহ আলোচনা কর।]
হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানীর মতে রাবীর সমালোচনার মোট ১০টি কারণ রয়েছে (৫টি আদালত ও ৫টি যব্ত সংক্রান্ত):
| আদালত (সততা ও তাকওয়া) সংক্রান্ত ৫টি দোষ | যব্ত (স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতা) সংক্রান্ত ৫টি দোষ |
|---|---|
| ১. আল-কিযব (মিথ্যাবাদী হওয়া) | ১. ফাহশুল গালাত (মারাত্মক ভুল করা) |
| ২. তুহমাতুল কিযব (মিথ্যার অপবাদ থাকা) | ২. কাসরাতুল গাফলাহ (অমনোযোগিতা) |
| ৩. আল-ফিসক্ব (পাপাচারী হওয়া) | ৩. আল-ওয়াহাম (বিভ্রান্তি ও সন্দেহ) |
| ৪. আল-বিদয়াত (বিদআতী মতবাদের প্রচারক) | ৪. মুখালাফাতুস সিকাত (নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা) |
| ৫. আল-জাহালাত (অজ্ঞাত পরিচয় হওয়া) | ৫. সুউল হিফয (দুর্বল স্মৃতিশক্তি) |
١٣- عرف علم تخريج الحديث ثم بين طرقه-
[১৩. ইলমু তাখরীজিল হাদীস-এর পরিচয় এবং এর পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা কর।]
তাখরীজের সংজ্ঞা: মূল হাদীসের কিতাবসমূহে অনুসন্ধান চালিয়ে একটি নির্দিষ্ট হাদীসের সনদ, উৎস গ্রন্থ, রাবীর নাম এবং তার সহীহ-যয়ীফ হওয়ার হুকুম স্পষ্টভাবে তুলে ধরাকে ‘তাখরীজ’ বলে।
তাখরীজের ৫টি পদ্ধতি:
১. প্রথম রাবীর (সাহাবীর) নামের মাধ্যমে অনুসন্ধান (মুসনাদ ও আতরাফের সাহায্যে)।
২. হাদীসের প্রথম শব্দের সাহায্যে অনুসন্ধান (আল-জামেউস সাগীর ও অভিধানের সাহায্যে)।
৩. হাদীসের যেকোনো বিরল শব্দের মাধ্যমে অনুসন্ধান (মু’জামুল মুফাহাররাস-এর সাহায্যে)।
৪. হাদীসের মূল বিষয়ের (ফিকহী অধ্যায়ের) মাধ্যমে অনুসন্ধান।
৫. হাদীসের বিশেষ অবস্থা বা সনদের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অনুসন্ধান।
١٤- اكتب مراتب الجرح والتعديل-
[১৪. জারহ ও তা’দীলের স্তরসমূহ (মারাতিব) লেখ।]
ইমাম ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে হাজার (রহ.) জারহ ও তা’দীল উভয়টিকে ছয়টি করে স্তরে বিন্যস্ত করেছেন:
তা’দীলের উচ্চতম স্তরসমূহ: (১) সর্বোচ্চ আধিক্যসূচক শব্দ (যেমন: أثبت الناس), (২) দ্বিগুণের মাধ্যমে তাকীদ (ثقة ثقة), (৩) একক নির্ভরযোগ্যতা (ثقة বা حجة), (৪) সামান্য প্রশংসা (صدوق), (৫) গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত (محله الصدق), (৬) সর্বনিম্ন স্তর (صالح الحديث)।
জারহের স্তরসমূহ: (১) দুর্বলতম সমালোচনা (لين الحديث), (২) প্রমাণহীন গণ্য করা (لا يحتج به), (৩) দুর্বল ঘোষণা (ضعيف), (৪) হাদীস বাতিল (رديث الحديث বা واهٍ), (৫) মিথ্যায় অভিযুক্ত (متهم بالكذب), (৬) চরমতম মিথ্যাবাদী (دجال বা كذاب)।
١٥- عرف الصحابة- ثم بين مناقبهم على ضوء القرآن والسنة-
[১৫. সাহাবীর পরিচয় দাও এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও ফজিলত আলোচনা কর।]
সাহাবীর পরিচয়: হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন: “من لقي النبي ﷺ مؤمنا به ومات على الإسلام” (যিনি ঈমানের সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনিই সাহাবী)।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মর্যাদা:
১. আল্লাহ তায়ালা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টি ঘোষণা করে বলেন: “رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ” (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট—সূরা তাওবাহ: ১০০)।
২. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: “لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلاَ نَصِيفَهُ” (তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না; তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর রাস্তায় দান করে, তবে তাদের এক মুদ্দ বা অর্ধ মুদ্দ দানের সমকক্ষ হতে পারবে না—সহীহ বুখারী)।
١٦- من هم السبعة المكثرون في رواية الحديث؟ اذكر أسمائهم-
[১৬. হাদীস বর্ণনায় সর্বাধিক বর্ণনাকারী সাতজন সাহাবী (আস-সাবআতুল মুকছিরূন) কারা? তাঁদের নাম ও বর্ণনা সংখ্যা উল্লেখ কর।]
যে সকল মহান সাহাবী এক হাজারেরও বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁদেরকে ‘আল-মুকছিরূন’ বলা হয়। তাঁরা হলেন:
- ১. হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.): ৫,৩৭৪টি হাদীস।
- ২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.): ২,৬৩০টি হাদীস।
- ৩. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি.): ২,২৮৬টি হাদীস।
- ৪. উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযি.): ২,২১০টি হাদীস।
- ৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.): ১,৬৬০টি হাদীস।
- ৬. হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.): ১,৫৪০টি হাদীস।
- ৭. হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.): ১,১৭০টি হাদীস।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
ইলমুল হাদীস দিরায়াত শাস্ত্রের প্রধান কাজ কী?
হাদীসের সনদ ও মতনের গভীর গবেষণা করে হাদীসটির প্রামাণিকতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রয়োগযোগ্যতা নিরূপণ করাই দিরায়াত শাস্ত্রের মূল কাজ।
হাদীসের নাসিখ ও মানসূখ জানার গুরুত্ব কী?
ইসলামী শরীয়তের কোন বিধানটি বলবৎ আছে এবং কোনটি রহিত হয়ে গেছে তা নিখুঁতভাবে জানা এবং পরস্পরবিরোধী বিধানের সমাধান বের করার জন্য এ শাস্ত্র অপরিহার্য।
মুআল্লাল হাদীস কেন সাধারণের চোখে ধরা পড়ে না?
কারণ বাহ্যিকভাবে এর সনদ ও বর্ণনাকারীগণ সম্পূর্ণ সহীহ ও নির্ভরযোগ্য মনে হয়, কিন্তু সুগভীর অনুসন্ধানে কেবল প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ এর গোপন ত্রুটি উদঘাটন করতে পারেন।
কুতুবে সিত্তাহর মুস্তাখরাজ গ্রন্থ সংকলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
উচ্চমানের সনদ লাভ করা, মূল হাদীসের অতিরিক্ত সহায়ক পাঠ খুঁজে পাওয়া এবং বর্ণনাকারীর তাদলীসের সন্দেহ নিরসন করে হাদীসের বিশুদ্ধতা সুদৃঢ় করা।
হাদীস শাস্ত্রে জারহ ও তা’দীল বলতে কী বোঝায়?
রাবীর কোনো ত্রুটি তুলে ধরে তাঁকে অগ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করাকে জারহ বলে, আর তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণ করে গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করাকে তা’দীল বলে।
সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী কে এবং তাঁর বর্ণনা সংখ্যা কত?
সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী হলেন হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.), যাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৫,৩৭৪টি।