জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল হাদীস (Ulumul Hadith) – 204202, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪৬ মিনিট পড়ার সময়
১০ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৫৮
اختبار السنة الثانية للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢١م
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
علوم الحديث
[উলূমুল হাদীস]
বিষয় কোড: ২০৪২০২
الوقت — ٤ ساعات | الدرجات الكاملة — ٨٠
[সময় — ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) / ক-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ١٥ = ٦٠)

(أجب عن أربعة من الأسئلة الآتية)

١- مَا المُرَادُ بِعُلُومِ الحَدِيثِ؟ اذْكُرْ مَوْضُوعَ عُلُومِ الحَدِيثِ وَغَرَضَهَا وَأَهَمِّيَّتَهَا-

[১. উলূমুল হাদিস বলতে কী বোঝায়? উলূমুল হাদিসের আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব উল্লেখ করো।]

ভূমিকা: মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের পর ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় মৌলিক উৎস হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ ও হাদিস। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণীর বিশুদ্ধতা সংরক্ষণ, জাল-ভেজাল থেকে একে পবিত্র রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের নিকট নিখুঁতভাবে হস্তান্তরের লক্ষ্যে যে সুশৃঙ্খল শাস্ত্র উদ্ভাবিত হয়েছে, তাকে উলূমুল হাদিস বলা হয়।

১. উলূমুল হাদিসের পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘উলূম’ (علوم) শব্দটি ‘ইলম’ (علم)-এর বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞান বা শাস্ত্রসমূহ। আর ‘হাদিস’ (الحديث) অর্থ কথা, বাণী বা সংবাদ। অতএব উলূমুল হাদিস অর্থ হাদিস সংক্রান্ত শাস্ত্রসমূহ।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: হাফিজ ইবনে হাজার আসক্বালানী (র.) বলেন: علوم الحديث هي القواعد والمعارف التي يُتوصل بها إلى معرفة حال الراوي والمروي من حيث القبول والرد — অর্থাৎ উলূমুল হাদিস হলো এমন সব নিয়ম-কানুন ও মূলনীতি সমষ্টি, যার মাধ্যমে হাদিসের বর্ণনাকারী (সনদ) এবং বর্ণিত বিষয়বস্তুর (মতন) গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনীয়তা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করা যায়।

২. উলূমুল হাদিসের আলোচ্য বিষয় (الموضوع):

উলূমুল হাদিসের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো সনদ (السند) ও মতন (المتن)—তাদের গ্রহণযোগ্য হওয়া বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দিক থেকে (من حيث القبول والرد)। অর্থাৎ সনদের রাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা, স্মৃতিশক্তি এবং মতনের নির্ভরযোগ্যতা ও ত্রুটিমুক্ততা যাচাই করাই এর মূল লক্ষ্য।

৩. উলূমুল হাদিসের উদ্দেশ্য (الغرض والغاية):

  1. সহীহ ও গ্রহণযোগ্য হাদিসকে দুর্বল ও বানোয়াট হাদিস থেকে পৃথক করা।
  2. নবী করীম ﷺ-এর ওপর মিথ্যা অপবাদ ও বিকৃতি আরোপ প্রতিহত করা।
  3. শরীয়তের হুকুম-আহকাম প্রণয়নে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য দলিলের সন্ধান লাভ করা।
  4. দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর খাঁটি আনুগত্যের মাধ্যমে চরম সাফল্য অর্জন করা।

৪. উলূমুল হাদিসের গুরুত্ব (الأهمية):

  • কুরআনুল কারীমের সঠিক তাফসীর ও ব্যাখ্যা হাদিসের বিশুদ্ধ জ্ঞানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
  • ফিক্বহী ইজতিহাদ ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে উলূমুল হাদিসের জ্ঞান অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
  • ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য শাস্ত্রীয় অবদান, যা বিশ্বের অন্য কোনো ধর্ম বা সভ্যতায় বিদ্যমান নেই। বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (র.) যথার্থই বলেছেন: الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء (সনদ ব্যবস্থা দ্বীনের অংশ, সনদ না থাকলে যে যা খুশি তাই বলে দিত)।

٢- تَحَدَّثْ عَنْ عِلْمِ عِلَلِ الحَدِيثِ، ثُمَّ بَيِّنْ نَشْأَتَهُ وَتَطَوُّرَهُ وَطُرُقَهُ مُفَصَّلاً-

[২. ইলমে ইলালুল হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করো। এর উৎপত্তি, বিকাশ ও অনুসন্ধান পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: উলূমুল হাদিসের সর্বাধিক সূক্ষ্ম, জটিল ও মর্যাদাপূর্ণ শাখা হলো ‘ইলমু ইলালিল হাদিস’ (علم علل الحديث)। এটি এমন এক সূক্ষ্ম শাস্ত্র যা আয়ত্ত করতে প্রখর মেধা, দীর্ঘ সাধনা এবং হাদিসের সনদে পূর্ণ পারদর্শিতা প্রয়োজন হয়।

১. ইলমে ইলালুল হাদিসের পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘ইলাল’ (علل) শব্দটি ‘ইল্লত’ (علة)-এর বহুবচন, যার অর্থ রোগ, ব্যাধি বা অন্তর্নিহিত দোষত্রুটি।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম ইবনুস সালাহ (র.)-এর মতে: العلة عبارة عن سبب غامض خفي قادح في صحة الحديث مع أن الظاهر السلامة منه — অর্থাৎ এমন এক অদৃশ্য ও গোপন ত্রুটি যা দৃশ্যত হাদিসটি ত্রুটিমুক্ত মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তার বিশুদ্ধতাকে বিনষ্ট ও অকেজো করে দেয়। আর যে শাস্ত্রে এই সূক্ষ্ম ত্রুটি সনাক্ত করা হয় তাকে ইলমু ইলালিল হাদিস বলে।

২. উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক বিকাশ (النشأة والتطور):

  • সাহাবা ও তাবেয়ীগণের যুগ: সাহাবায়ে কেরামের যুগে হযরত উমর (রা.) ও আলী (রা.)-এর মতো মুজতাহিদ সাহাবীগণ হাদিসের বর্ণনা সতর্কতার সাথে গ্রহণ করতেন। পরবর্তীতে তাবেয়ীদের যুগে ইবনে সীরীন, শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ প্রমুখ ইমামগণ হাদিসের গোপন ত্রুটি যাচাই শুরু করেন।
  • স্বর্ণযুগ (২য় ও ৩য় হিজরী শতাব্দী): এই শাস্ত্রের প্রকৃত বিকাশ ঘটে ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী এবং আহমদ ইবনে হাম্বল (র.)-এর হাতে। ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী সর্বপ্রথম ‘কিতাবুল ইলাল’ রচনা করেন। পরবর্তীতে ইমাম বুখারী, ইমাম তিরমিযী, ইমাম আবু হাতিম আর-রাযী এবং ইমাম দারাকুতনী (র.) এই শাস্ত্রে অবিস্মরণীয় কীর্তি স্থাপন করেন।

৩. ইল্লত অনুসন্ধানের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি (طرق الكشف عن العلة):

  1. সমস্ত সনদের সমাবেশ ও তুলনা (جمع طرق الحديث ومقارنتها): একটি নির্দিষ্ট হাদিসের যতগুলো সনদ ও সূত্র রয়েছে সেগুলোকে একত্রিত করে তুলনামূলক পর্যালোচনা করা। ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী বলেন: الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبين خطؤه (একটি হাদিসের সমস্ত সনদ একত্রিত না করা পর্যন্ত তার ত্রুটি স্পষ্ট হয় না)।
  2. রাবীর স্তরের বিচার (مراتب الرواة): কোন রাবী অন্য রাবীর চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, কার স্মৃতিশক্তি কখন দুর্বল হয়েছিল তা গভীর অভিনিবেশ সহকারে যাচাই করা।
  3. ওয়াকফ ও রফ’-এর দ্বন্দ্ব পরীক্ষা (التعارض بين الرفع والوقف): কোনো রাবী মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আবার অন্য কেউ মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কিনা তা বিশ্লেষণ করা।
  4. ইত্তিহাদ ও ইরসাল সনাক্তকরণ (الوصل والإرسال): হাদিসটি কোনো বর্ণনায় বিচ্ছিন্ন (মুরসাল) কিন্তু বাহ্যত যুক্ত (মাওসূল) কিনা তা নিরূপণ করা।

٣- مَا المُرْسَلُ؟ بَيِّنْ حُكْمَ رِوَايَتِهِ مَعَ اخْتِلاَفِ الأَئِمَّةِ فِيهِ-

[৩. মুরসাল হাদিস কী? এ ব্যাপারে ইমামদের মতভেদসহ এর বর্ণনার বিধান বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: সনদের ধারাবাহিকতা ছিন্ন হওয়ার ভিত্তিতে হাদিসের যে শ্রেণিবিভাগ হয়, তার মধ্যে সর্বাধিক আলোচিত ও ফিক্বহীভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রকার হলো ‘আল-হাদিসুল মুরসাল’ (الحديث المرسل)।

১. মুরসালের পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘মুরসাল’ (المرسل) শব্দটি ‘ইরসাল’ (الإرسال) থেকে আগত, যার অর্থ বন্ধনমুক্ত করা, ছেড়ে দেওয়া বা বাঁধাহীনভাবে প্রেরণ করা।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: মুহাদ্দিসীনদের নিকট সর্বাধিক বিশুদ্ধ সংজ্ঞায়: هو ما سقط من آخر إسناده من بعد التابعي — অর্থাৎ যে হাদিসের সনদের শেষাংশে তাবেয়ীর পরবর্তী বর্ণনাকারী (অর্থাৎ সাহাবীর নাম) বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তাবেয়ী সরাসরি রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। যেমন: বিশিষ্ট তাবেয়ী সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (র.) বললেন: “রাসুলুল্লাহ ﷺ এমনটি বলেছেন।”

২. মুরসাল হাদিসের হুকুম ও ইমামদের মতপার্থক্য:

মুরসাল হাদিসের দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে ফুক্বাহা ও মুহাদ্দিসগণের মাঝে তিনটি প্রসিদ্ধ মাযহাব রয়েছে:

মাযহাব / ইমামগণ হুকুম ও মূল বক্তব্য দলিল ও যুক্তি
১. ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদ (এক বর্ণনায়) মুরসাল হাদিস শরীয়তের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য ও সহীহ, যদি তাবেয়ী নিজে নির্ভরযোগ্য ও প্রবীণ হন। বিশ্বস্ত তাবেয়ী যখন মধ্যবর্তী সূত্র উল্লেখ না করে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর কথা আরোপ করেন, তখন তা নিশ্চয়তা ছাড়া অসম্ভব। আর সাহাবায়ে কেরাম সকলেই ন্যায়পরায়ণ (الصحابة كلهم عدول)।
২. জমহুর মুহাদ্দিসীন (ইমাম মুসলিম, ইবনুস সালাহ ও নওয়াবী) মুরসাল হাদিস মূলত যঈফ বা দুর্বল এবং এককভাবে দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। সনদে অজ্ঞাত ব্যক্তি কে ছিলেন তা নিশ্চিত নয়; তিনি কোনো সাহাবী হতে পারেন, আবার কোনো দুর্বল তাবেয়ীও হতে পারেন। অজ্ঞাত রাবীর বর্ণনা শরীয়তে দলিল হতে পারে না।
৩. ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মধ্যপন্থা শর্তসাপেক্ষে দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (যদি সহায়ক অন্য দলিল পাওয়া যায়)। ইমাম শাফেয়ীর মতে প্রবীণ তাবেয়ীর মুরসাল গ্রহণযোগ্য হবে যদি: ক. অন্য সূত্রে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়, অথবা খ. অন্য কোনো মুরসাল দ্বারা সমর্থিত হয়, অথবা গ. সাহাবায়ে কেরামের আমল বা ফতোয়ার সাথে মিলে যায়।

٤- عَرِّفِ الحَدِيثَ الصَّحِيحَ، ثُمَّ بَيِّنْ شُرُوطَهُ وَأَقْسَامَهُ وَحُكْمَهُ بِالأَمْثِلَةِ-

[৪. হাদিসে সহীহের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর উদাহরণসহ এর শর্তাবলী, প্রকারভেদ ও হুকুম বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে হাদিসের সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক বিশুদ্ধ স্তর হলো হাদিসে সহীহ। দ্বীনের বিধিবিধান প্রমাণের প্রধান ভিত্তি হলো সহীহ হাদিস।

১. হাদিসে সহীহের পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘সহীহ’ (الصحيح) শব্দের অর্থ সুস্থ, রোগমুক্ত, নির্ভুল বা সঠিক।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম ইবনুস সালাহ (র.) বলেন: الحديث الصحيح هو الحديث المسند الذي يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه، ولا يكون شاذاً ولا معللاً — অর্থাৎ যে মুসনাদ হাদিসের সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত হয়, এবং যা কোনো প্রকার শায (বিরোধপূর্ণ) ও মু’আল্লাল (গোপন ত্রুটিযুক্ত) হওয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

২. হাদিসে সহীহের ৫টি আবশ্যিক শর্ত:

  1. ইত্তিসালুস সানাদ (اتصال السند): সনদের প্রতিটি রাবী তাঁর উস্তাদের কাছ থেকে সরাসরি হাদিস গ্রহণ করেছেন—শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সনদ বিচ্ছিন্ন না হওয়া।
  2. আদালাতুর রুয়াত (عدالة الرواة): প্রতিটি রাবীকে মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, আল্লাহভীরু এবং ফাসেক্বী ও ব্যক্তিত্বহীন আচরণ থেকে মুক্ত হতে হবে।
  3. যাবতুর রুয়াত (ضبط الرواة): প্রতিটি রাবীর পূর্ণ স্মৃতিশক্তি বা নির্ভুল লিখন সংরক্ষণ ক্ষমতা থাকা।
  4. অ-শায হওয়া (عدم الشذوذ): কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী যেন নিজের চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত কোনো কথা বর্ণনা না করেন।
  5. অ-মু’আল্লাল হওয়া (عدم العلة): হাদিসটি এমন কোনো সূক্ষ্ম দোষত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া যা এর বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

৩. সহীহের প্রকারভেদ: হাদিসে সহীহ দুই প্রকার:

  • ক. সহীহ লি-যাতিহী (صحيح لذاته): যা উপরোক্ত পাঁচটি শর্ত স্বকীয়ভাবেই পরিপূর্ণরূপে পূরণ করে। যেমন: إنما الأعمال بالنيات।
  • খ. সহীহ লি-গায়রিহী (صحيح لغيره): মূলত হাদিসটি ছিল হাসান লি-যাতিহী (স্মৃতিশক্তি সামান্য দুর্বল ছিল), কিন্তু একাধিক নির্ভরযোগ্য সনদের মাধ্যমে সমর্থিত হয়ে সহীহর স্তরে উন্নীত হয়েছে।

৪. শরয়ী হুকুম: হাদিসে সহীহের ওপর আক্বীদাহ ও শরীয়তের সমস্ত আহকামে আমল করা সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব ও ফরয।


٥- عَرِّفْ عِلْمَ غَرِيبِ الحَدِيثِ، ثُمَّ اذْكُرْ أَشْهَرَ المُؤَلَّفَاتِ فِي هَذَا العِلْمِ-

[৫. ইলমে গারীবুল হাদিসের পরিচয় দাও। অতঃপর এই শাস্ত্রের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের নাম উল্লেখ করো।]

ভূমিকা: রাসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন সমগ্র আরবের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ, প্রাঞ্জল ও সমৃদ্ধ ভাষার অধিকারী (أفصح العرب)। হাদিসের কিছু কিছু শব্দ ছিল অতি মার্জিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, যা কালক্রমে সাধারণ মানুষের নিকট দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। এই দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যায় যে শাস্ত্র গড়ে উঠেছে তাকে ‘ইলমু গারীবিল হাদিস’ বলা হয়।

১. ইলমে গারীবুল হাদিসের পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘গারীব’ (غريب) অর্থ দূরবর্তী, বিরল, অপ্রচলিত বা অপরিচিত।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: علم غريب الحديث هو علم يبحث فيه عما وقع في متون الأحاديث من ألفاظ غامضة بعيدة عن الفهم لقلة استعمالها في لغة العامة — অর্থাৎ উলূমুল হাদিসের যে শাখায় হাদিসের মতনসমূহে ব্যবহৃত অপ্রচলিত, বিরল ও দুর্বোধ্য শব্দের ভাষাগত ও ব্যাকরণগত সঠিক অর্থ উন্মোচন করা হয়, তাকে ইলমে গারীবুল হাদিস বলা হয়।
  • গুরুত্ব: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র.) বলতেন, কোনো হাদিসের অপরিচিত শব্দের ওপর নিজস্ব অনুমানে মন্তব্য করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এজন্যই বিশেষজ্ঞ ভাষাবিদ ও মুহাদ্দিসগণের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

২. এই শাস্ত্রের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ:

  1. গারীবুল হাদিস (غريب الحديث): ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম (ওফাত: ২২৪ হিজরী)। এটি এ শাস্ত্রের প্রথম দিককার সবচেয়ে প্রামাণ্য ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব।
  2. গারীবুল হাদিস: ইমাম ইবনুল কুতাইবাহ আদ-দীনূরী (ওফাত: ২৭৬ হিজরী)।
  3. আল-ফাইক্ব ফী গারীবিল হাদিস (الفائق في غريب الحديث): আল্লামা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে উমর আয-যামাখশারী (ওফাত: ৫৩৮ হিজরী)।
  4. আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদিস ওয়াল আসার (النهاية في غريب الحديث والأثر): ইমাম মাজদুদ্দীন ইবনুল আসীর আল-জাযারী (ওফাত: ৬০৬ হিজরী)। এটি সমগ্র বিশ্বের সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনস্বীকৃত বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ।
  5. মাজমাউ বাহরাইন: মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারী।

٦- عَرِّفِ المُتَوَاتِرَ، ثُمَّ بَيِّنْ شُرُوطَ المُتَوَاتِرِ وَحُكْمَهُ وَأَقْسَامَهُ-

[৬. মুতাওয়াতিরের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর শর্তাবলী, হুকুম ও প্রকারভেদ বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: সনদ পরম্পরায় রাবীর সংখ্যার প্রাচুর্য ও নিশ্চয়তার দিক থেকে হাদিস শাস্ত্রে মুতাওয়াতিরকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে।

১. মুতাওয়াতিরের পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: একাদিক্রমে আসা, অবিচ্ছিন্ন ধারা।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: الحديث المتواتر هو ما رواه جمع كثير يستحيل في العادة تواطؤهم على الكذب، عن مثلهم إلى منتهاه، ويكون مستند خبرهم الحس — অর্থাৎ যে হাদিস সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন বিরাট সংখ্যক রাবী বর্ণনা করেছেন যাদের পক্ষে মিথ্যা উদ্ভাবনে একজোট হওয়া অসম্ভব এবং তাদের সংবাদ চাক্ষুষ ইন্দ্রিয়লব্ধ।

২. মুতাওয়াতিরের ৪টি অপরিহার্য শর্ত:

  1. সনদের প্রতিটি স্তরে বিপুল সংখ্যক রাবী বিদ্যমান থাকা।
  2. স্বাভাবিক নিয়ম ও অভ্যাসের আলোকে তাদের মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব হওয়া।
  3. সনদের শুরু (সাহাবী স্তর) থেকে শেষ স্তর (সংকলক) পর্যন্ত সর্বত্র এই সংখ্যা অক্ষুণ্ণ থাকা।
  4. সংবাদের উৎস কোনো দার্শনিক বা যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত না হয়ে পঞ্চইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (যেমন: ‘আমরা শুনেছি’ বা ‘আমরা দেখেছি’) হওয়া।

৩. মুতাওয়াতিরের প্রকারভেদ: এটি প্রধানত দুই প্রকার:

  • ক. মুতাওয়াতিরে লাফযী (المتواتر اللفظي): যার শব্দ ও অর্থ সনদের সমস্ত সূত্রে হুবহু এক। যেমন: مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ (এ হাদিসটি ৬২ জনেরও বেশি সাহাবী হুবহু বর্ণনা করেছেন)।
  • খ. মুতাওয়াতিরে মা’নাবী (المتواتر المعنوي): যার মূল অর্থ অভিন্ন কিন্তু বর্ণনাকারীদের শব্দমালা ভিন্ন। যেমন: দোয়ায় হাত তোলার হাদিস, যা বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় একশত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

৪. শরয়ী হুকুম: মুতাওয়াতির হাদিস নিশ্চিত ও সংশয়হীন অকাট্য জ্ঞান (العلم الضروري القطعي) প্রদান করে। এর ওপর আমল করা ফরয এবং তা অস্বীকারকারী কাফির হিসেবে গণ্য হয়।


مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ٥ = ٢٠)

(أجب عن أربعة من الأسئلة الآتية)

٧- عَرِّفِ السَّنَدَ وَالمَتْنَ، ثُمَّ بَيِّنْ الفَرْقَ بَيْنَهُمَا-

[৭. সনদ ও মতনের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: প্রতিটি হাদিস মূলত দুটি অপরিহার্য কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে: সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) এবং মতন (মূল বক্তব্য)।

১. সনদ ও মতনের পরিচয়:

  • সনদ (السند):
    • আভিধানিক অর্থ: ঠেস দেওয়ার বস্তু বা অবলম্বন।
    • পারিভাষিক সংজ্ঞা: هو سلسلة الرجال الموصلة للمتن — হাদিসের মূল বক্তব্য পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য যে বর্ণনাকারী পরম্পরা বা রাবীগণের ধারাবাহিক তালিকা বিদ্যমান থাকে, তাকে সনদ বলা হয়।
  • মতন (المتن):
    • আভিধানিক অর্থ: ভূমির শক্ত ও উঁচু অংশ।
    • পারিভাষিক সংজ্ঞা: هو ما ينتهي إليه السند من الكلام — সনদের বর্ণনাকারী পরম্পরা যেখানে গিয়ে সমাপ্ত হয় এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ বা সাহাবীর যে মূল কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি প্রকাশিত হয়, তাকে মতন বলে।

২. সনদ ও মতনের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য:

পার্থক্যসূচক বিষয় সনদ (السند) মতন (المتن)
প্রকৃতি এটি বাহন বা মাধ্যম (الوسيلة والطريق)। এটি মূল লক্ষ্য ও প্রতিপাদ্য (الغاية والمقصود)।
উপাদান রাবীগণের ধারাবাহিক নামের তালিকা। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র বাণী, আদেশ বা বিবরণ।
যাচাইয়ের শাস্ত্র ইলমুর রিজাল ও জারহ-তা’দীল দ্বারা সনদ যাচাই করা হয়। ইলমে দিরায়াহ ও আরবির ফিক্বহী নিয়ম দ্বারা মতন বিশ্লেষণ করা হয়।

٨- عَلِّقْ عَلَى رِوَايَةِ الحَدِيثِ وَدِرَايَةِ الحَدِيثِ مُخْتَصَرًا-

[৮. রিওয়ায়াতুল হাদিস ও দিরায়াতুল হাদিস সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করো।]

ভূমিকা: হাদিস শাস্ত্রের সামগ্রিক আলোচনাকে দুটি মৌলিক ধারায় বিভক্ত করা হয়েছে: ‘ইলমুর রিওয়ায়াহ’ এবং ‘ইলমুদ দিরায়াহ’।

১. রিওয়ায়াতুল হাদিস (علم رواية الحديث):

  • সংজ্ঞা: هو علم يشتمل على نقل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة، وروايتها وضبط ألفاظها — অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী, কর্ম, সম্মতি ও গুণাবলীকে নির্ভুলভাবে স্থানান্তর, শব্দের সংরক্ষণ এবং সনদের ধারাবাহিকতা লিপিবদ্ধ করার শাস্ত্রকে রিওয়ায়াতুল হাদিস বলে।
  • মূল লক্ষ্য: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণীর বিশুদ্ধ পাঠ কোনো বিকৃতি ছাড়া হুবহু পৌঁছে দেওয়া।

২. দিরায়াতুল হাদিস (علم دراية الحديث / مصطلح الحديث):

  • সংজ্ঞা: هو علم يعرف به حقيقة الرواية وشروطها وأنواعها وأحكامها، وحال الرواة وشروطهم، وأصناف المرويات — অর্থাৎ যে শাস্ত্রে সনদ ও মতনের প্রকৃতি, রাবীর শর্তাবলী, গ্রহণযোগ্যতা-বর্জনীয়তার নিয়মাবলী এবং হাদিসের গভীর মর্ম উপলব্ধি করা হয়, তাকে দিরায়াতুল হাদিস বলে।
  • মূল লক্ষ্য: সহীহ ও যঈফ হাদিস পৃথক করা এবং হাদিসের মর্মার্থ থেকে ফিক্বহী বিধান উদ্ভাবন করা।

٩- عَرِّفِ الرَّاوِيَ ثُمَّ اكْتُبْ شُرُوطَ قَبُولِهِ مُخْتَصَرًا-

[৯. রাবীর পরিচয় দাও এবং রাবীর গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলী সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করো।]

ভূমিকা: হাদিসের বর্ণনাকারীকে ‘রাবী’ বলা হয়। হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা পুরোপুরি রাবীর বিশ্বস্ততা ও সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।

১. রাবীর পরিচয়:

  • যে ব্যক্তি নিজের উস্তাদ বা শায়খের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করে তা পরবর্তী উম্মত বা ছাত্রদের নিকট সনদসহ পৌঁছে দেয়, তাকে হাদিসের পরিভাষায় ‘রাবী’ (الراوي) বলে।

২. রাবীর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হওয়ার মৌলিক দুটি শর্ত:

মুহাদ্দিসীনদের সর্বসম্মত নীতি অনুযায়ী একজন রাবী গ্রহণযোগ্য হতে হলে দুটি মূল গুণ আবশ্যক:

  1. ন্যায়পরায়ণতা (العدالة): এর অন্তর্ভুক্ত শর্তসমূহ হলো:
    • ইসলাম: রাবীকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে।
    • বুলূগ ও আকল: প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া।
    • তাক্বওয়া: কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত এবং সগিরা গুনাহর ওপর অবিচল না থাকা।
    • মুরাওয়াত (ব্যক্তিত্ব): ভদ্রতা ও সমাজের চোখে অনৈতিক আচরণ থেকে মুক্ত থাকা।
  2. সংরক্ষণ ক্ষমতা (الضبط): এর অর্থ হলো হাদিস সঠিকভাবে ধারণ করার সক্ষমতা। এটি দুই প্রকার:
    • যাবতুস সাদর (স্মৃতিশক্তি): শ্রবণের পর থেকে বর্ণনা করা পর্যন্ত মুখস্থ শক্তি প্রখর থাকা।
    • যাবতুল কিতাব (লিখন সংরক্ষণ): লিখিত পাণ্ডুলিপিকে ভুল ও বিকৃতি থেকে যথাযথ পাহারায় রাখা।

١٠- مَا مَعْنَى الإِسْنَادِ؟ بَيِّنْ أَهَمِّيَّتَهُ-

[১০. ইসনাদ বলতে কী বোঝায়? এর গুরুত্ব বর্ণনা করো।]

১. ইসনাদের পরিচয়:

  • অর্থ: ‘ইসনাদ’ (الإسناد) শব্দের অর্থ হাদিসকে তার প্রকৃত বক্তা বা উৎসের দিকে সম্পর্কিত করা (رفع الحديث إلى قائله)। পারিভাষিক অর্থে এটি ‘সনদ’ (السند)-এর প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ রাবীগণের পরম্পরা।

২. ইসনাদের অপরিসীম গুরুত্ব:

  1. উম্মতে মুহাম্মদীর বিশেষ ঐশ্বরিক বৈশিষ্ট্য: সনদ পরম্পরা কেবল মুসলিম উম্মাহর জন্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ খাস নেয়ামত। পূর্ববর্তী কোনো জাতি (ইহুদি বা খ্রিস্টান) তাদের কিতাবের প্রতিটি শব্দের বিশুদ্ধ সনদ রক্ষা করতে পারেনি।
  2. ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা: বিশিষ্ট তাবেয়ী মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (র.) বলেন: إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم (নিশ্চয় এই ইলম হলো দ্বীন; অতএব তোমরা লক্ষ্য করো কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো)।
  3. মিথ্যা অপবাদ রোধ: ইমাম সুফিয়ান সাওরী (র.) বলেন: الإسناد سلاح المؤمن (ইসনাদ হলো মুমিনের অস্ত্র; অস্ত্র না থাকলে সে কীভাবে যুদ্ধ করবে?)। এর মাধ্যমেই হাদিস জালকারীদের ষড়যন্ত্র ধূলিসাৎ করা সম্ভব হয়েছে।

١١- عَرِّفْ عِلْمَ نَاسِخِ الحَدِيثِ وَمَنْسُوخِهِ-

[১১. ইলমে নাসিখুল হাদিস ওয়া মানসূখিহীর সংজ্ঞা দাও।]

ভূমিকা: শরীয়তের বিধানাবলির মধ্যে পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন আল্লাহর এক বিশেষ প্রজ্ঞা। এই রূপান্তরকে জানা হাদিসের প্রতিটি ফক্বীহের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব।

১. নাসিখ ও মানসূখের পরিচয়:

  • নাসখ (النسخ)-এর অর্থ: দূর করা, পরিবর্তন করা বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: هو رفع حكم شرعي سابق بدليل شرعي لاحق متراخٍ عنه — অর্থাৎ শরীয়তের কোনো পূর্ববর্তী হুকুমকে পরবর্তীতে নাযিলকৃত কোনো শরয়ী দলিল দ্বারা রহিত বা বাতিল করাকে নাসখ বলা হয়। যে দলিল রহিত করে তাকে নাসিখ (الناسخ) এবং যা রহিত হয় তাকে মানসূখ (المنسوخ) বলা হয়।

২. উদাহরণ ও গুরুত্ব:

  • হাদিস থেকে উদাহরণ: রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছিলেন: كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ القُبُورِ، فَزُورُوهَا (পূর্বে আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম; এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো)। এখানে দ্বিতীয় বাণীটি হলো নাসিখ এবং পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞাটি মানসূখ।
  • গুরুত্ব: ইমাম যুহরী (র.) বলেন, যে ব্যক্তি নাসিখ ও মানসূখ জানে না, তার জন্য ফতোয়া দেওয়া বা হাদিসের ওপর চূড়ান্ত রায় দেওয়া জায়েজ নয়।

١٢- بَيِّنْ آدَابَ طَالِبِ الحَدِيثِ-

[১২. হাদিসের তালেবে ইলমের আদব বা শিষ্টাচার বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র হাদিসের জ্ঞান অর্জন করা এক মহান সাওয়াব ও মর্যাদার কাজ। এ মহৎ জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীকে কিছু বিশেষ আত্মিক ও ব্যবহারিক আদব মেনে চলতে হয়।

হাদিসের তালেবে ইলমের প্রধান আদবসমূহ:

  1. নিয়তের একনিষ্ঠতা (إخلاص النية): দুনিয়াবী স্বার্থ, খ্যাতি বা পদমর্যাদার লোভ ত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ও সুন্নাহর হেফাজতের নিয়তে ইলম হাসিল করা।
  2. সুন্নাহর ওপর আমল করা (العمل بالحديث): যা শিখবে নিজের জীবনে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা। সুফিয়ান সাওরী (র.) বলতেন: “হাদিসের যাকাত হলো প্রতি দুইশত হাদিস শিখলে অন্তত পাঁচটির ওপর আমল করা।”
  3. উস্তাদ ও শায়খের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা (احترام الشيوخ): হাদিসের শিক্ষকের সামনে অত্যন্ত বিনম্র, ধৈর্যশীল ও শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং কোনো অবস্থাতেই বেয়াদবি না করা।
  4. পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: ওযু সহকারে পবিত্র পোশাকে হাদিসের মজলিসে বসা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা, যেমনটি ইমাম মালেক (র.) করতেন।
  5. হাদিসের সংরক্ষণ ও নির্ভুল লিপিবদ্ধকরণ: যা শুনবে তা সাথে সাথে শুদ্ধভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন (তাসহীহ) করা।
  6. ইলম প্রচারে কার্পণ্য না করা: অর্জিত ইলম যোগ্য ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেওয়া এবং কোনো অহংকার না করা। মুজাহিদ (র.) বলেন: لا يتعلم العلم مستحي ولا مستكبر (লজ্জাশীল এবং অহংকারী কখনো ইলম শিখতে পারে না)।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উলূমুল হাদিস শাস্ত্রের মূল আলোচ্য বিষয় কী?

উলূমুল হাদিসের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো হাদিসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) এবং মতন (মূল বক্তব্য)—তাদের গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনীয়তা নির্ধারণের দৃষ্টিকোণ থেকে।

২. ইলমে ইলালুল হাদিস কেন অত্যন্ত কঠিন শাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত?

কারণ এই শাস্ত্রে হাদিসের এমন সব অদৃশ্য ও সূক্ষ্ম গোপন ত্রুটি উদ্ঘাটন করা হয়, যা বাহ্যত সনদ ও মতন সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত মনে হলেও অভিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে।

৩. মুরসাল হাদিস কি সর্বাবস্থায় বাতিল?

না, ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক (র.)-এর মতে প্রবীণ তাবেয়ীর মুরসাল নির্ভরযোগ্য দলিল; আর ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে অন্যান্য সহায়ক সনদ দ্বারা সমর্থিত হলে তা গ্রহণযোগ্য হয়।

৪. হাদিসে সহীহের মৌলিক পাঁচটি শর্ত কী কী?

শর্ত পাঁচটি হলো: সনদের অবিচ্ছিন্নতা, সকল রাবীর ন্যায়পরায়ণতা, রাবীগণের প্রখর স্মৃতিশক্তি বা নির্ভুল সংরক্ষণ, হাদিসটি শায না হওয়া এবং কোনো গোপন ত্রুটি (ইল্লত) না থাকা।

৫. আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদিস কিতাবটির লেখক কে?

এই বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থের লেখক হলেন বিখ্যাত হাদিস ও ভাষাবিদ ইমাম মাজদুদ্দীন ইবনুল আসীর আল-জাযারী (র.)।

৬. হাদিস বর্ণনায় সনদ বা ইসনাদের গুরুত্ব কী?

সনদ ব্যবস্থা উম্মতে মুহাম্মদীর এক অনন্য ঐশ্বরিক বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র বাণীর সত্যতা ও নির্ভুলতা যাচাই করা হয় এবং মিথ্যা অপবাদ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *