জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল কুরআন (Ulumul Quran) – 201205, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2021

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৩০ মিনিট পড়ার সময়
১১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2021
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن)
বিষয় কোড: 201205 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি (মান: ১৫ × ৪ = ৬০)

١- عرّف علوم القرآن ثم بيّن تاريخ تدوينها مفصلاً-

[১. علوم القرآن এর সংজ্ঞা দাও। এ বিষয় রচনার ইতিহাস সবিস্তারে বর্ণনা কর।]

১. উলূমুল কুরআনের সংজ্ঞা:

  • শাব্দিক অর্থ: ‘উলূম’ (علوم) হলো ‘ইলম’-এর বহুবচন, অর্থ জ্ঞানসমূহ। আর ‘কুরআন’ হলো আল্লাহর অবতীর্ণ কালাম। সুতরাং উলূমুল কুরআন অর্থ কুরআন সম্পর্কিত জ্ঞানবিজ্ঞান।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা বদরুদ্দীন যারকাশী ও ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর মতে, উলূমুল কুরআন হলো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্র যাতে পবিত্র কুরআনের নুযূল (অবতরণ), সংকলন, তারতীব, মাক্কী ও মাদানী, আসবাবুন নুযূল, নাসিখ-মানসূখ, মুহকাম-মুতাশাবিহ, ই’জাযুল কুরআন এবং তাফসীর পদ্ধতির সমুদয় নিয়মাবলি বিশদভাবে আলোচিত হয়।

২. উলূমুল কুরআন সংকলনের ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ:

  1. নবুওয়াত ও সাহাবা যুগ: এ যুগে উলূমুল কুরআন লিপিবদ্ধ আকারে ছিল না, বরং সাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিতে সংরক্ষিত ছিল। হযরত আলী, ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ ও উবাই ইবনে কা’ব (রা.) ছিলেন এ শাস্ত্রের পথিকৃৎ। হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে কুরআনের প্রামাণ্য প্রতিলিপি প্রস্তুতকরণ (রসমুল উসমানী) ছিল এ শাস্ত্রের প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ।
  2. তাবেঈ যুগ: মুজাহিদ, ইকরামা, হাসান বসরী ও আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহ.) কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক বক্তব্য সংকলন শুরু করেন।
  3. তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দী (স্বতন্ত্র অধ্যায় ও গ্রন্থ প্রণয়ন): ইমাম বুখারী স্বীয় গ্রন্থে কিতাবুত তাফসীর ও ফাযায়িলুল কুরআন যুক্ত করেন। পরবর্তীতে আলী ইবনুল মাদীনী ‘আসবাবুন নুযূল’ এবং আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম ‘নাসিখ-মানসূখ’ নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ লেখেন।
  4. সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্র হিসেবে রূপদান:
    • ইবনুল জাওযী (মৃ. ৫৯৭ হি.) রচনা করেন ‘ফুনূনুল আফনান ফী আজায়িবি উলূমিল কুরআন’।
    • আল্লামা বদরুদ্দীন যারকাশী (মৃ. ৭৯৪ হি.) রচনা করেন কালজয়ী বিশ্বকোষ ‘আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন’।
    • ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.) প্রণয়ন করেন উলূমুল কুরআনের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ ‘আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন’।

٢- عرّف سبب النزول ثم بيّن فوائده وطرق معرفته بالإيضاح-

[২. سبب النزول এর সংজ্ঞা দাও। সাবাবুন নুযূল সম্পর্কে জানার উপকারিতা ও উপায়সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

১. সাবাবুন নুযূল (আসবাবুন নুযূল)-এর সংজ্ঞা:

পবিত্র কুরআনের কোনো আয়াত বা সূরা যে বিশেষ ঘটনা, প্রেক্ষাপট কিংবা কোনো জিজ্ঞাসার জবাবে সরাসরি অবতীর্ণ হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক পটভূমিকে ‘সাবাবুন নুযূল’ (অবতরণের কারণ) বলা হয়। যেমন: কাব ইবনে আশরাফের কুৎসার জবাবে সূরা আল-কাউসার অবতীর্ণ হওয়া।

২. সাবাবুন নুযূল জানার উপকারিতা:

  • আয়াতের নির্ভুল অর্থ অনুধাবন: প্রেক্ষাপট না জানলে আয়াতের মর্মার্থ বুঝতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইমাম ওয়াহিদী (রহ.) বলেন: “আয়াত নাযিলের কারণ ও ঘটনা না জেনে তার তাফসির করা অসম্ভব।”
  • সংশয় ও বিভ্রান্তি দূরীকরণ: আয়াত কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাযিল হলেও তার সাধারণ বিধান স্পষ্ট হয়। যেমন: কিবলা পরিবর্তনের বিভ্রান্তি নিরসন।
  • হিকমত ও শরীয়তের রহস্য উন্মোচন: আল্লাহ তা’আলা কোনো বিধান কখন এবং কেন জারি করেছেন, তার অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা জানা যায়।
  • স্মরণে রাখা সহজ হওয়া: ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা থাকলে আয়াত সহজে মুখস্থ ও স্মৃতিতে ধারণ করা যায়।

৩. সাবাবুন নুযূল জানার উপায়:

সাবাবুন নুযূল কেবল বুদ্ধি বা কিয়াসের মাধ্যমে জানার কোনো সুযোগ নেই। এটি জানার একমাত্র উপায় হলো—

  1. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রত্যক্ষ নির্ভরযোগ্য হাদীস।
  2. যে সকল সাহাবায়ে কেরাম ওহী নাযিলের সময় স্বচক্ষে উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তাঁদের প্রামাণ্য ও বিশুদ্ধ বর্ণনা (আছারুস সাহাবাহ)।

٣- ما المراد بنزول القرآن على سبعة أحرف؟ وما حكمته؟ بيّن مفصلاً-

[৩. على سبعة أحرف কুরআন নাযিল হওয়ার মর্মার্থ কী? এভাবে নাযিল হওয়ার হিকমত কী? বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

১. ‘সাব’আতু আহরুফ’ (সাত হরফ)-এর মর্মার্থ:

সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ» — “কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হয়েছে।” (সহীহ বুখারী)। মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরগণের মতে ‘সাত হরফ’ বলতে বোঝায় আরবের প্রধান সাতটি গোত্রের (যেমন: কুরাইশ, হুযাইল, সাক্বীফ, হাওয়াযিন, তামীম, কিনানাহ ও ইয়ামান) বিশুদ্ধ উপভাষা (লুগাত)। শব্দ ও উচ্চারণে বৈচিত্র্য থাকলেও অর্থের কোনো বিরোধ ছিল না। ইমাম ইবনে কুতায়বাহ্ ও জাযারীর মতে এতে শব্দরূপ, ই’রাব, তাক্বদীম-তা’খীর এবং সমার্থক শব্দের চমৎকার সমন্বয় ছিল।

২. সাত হরফে কুরআন নাযিল হওয়ার হিকমত:

  • উম্মতের জন্য সহজীকরণ (তাতখফীফ): তৎকালীন আরবের বিভিন্ন গোত্রের ভাষা ও উচ্চারণে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ছিল। বৃদ্ধ, নারী, রাখাল ও শিশুদের পক্ষে রাতারাতি নিজ উপভাষা ত্যাগ করে কুরাইশ উপভাষা গ্রহণ করা অসম্ভব ছিল। তাদের পাঠ সহজ করতে আল্লাহ সাত হরফে পাঠের অনুমতি দেন।
  • আরব জাতির একীকরণ: কুরআনের এই উদারতার ফলে সকল গোত্র কুরআনকে আপন করে গ্রহণ করে এবং তারা একটি একক আদর্শিক উম্মাহতে পরিণত হয়।
  • কুরআনের অলৌকিকত্ব প্রমাণ: বিভিন্ন উপভাষায় পঠিত হওয়া সত্ত্বেও কুরআনের সাহিত্যিক মান, ছন্দ ও মর্মার্থের এক বিন্দু বিকৃতি ঘটেনি।

٤- ما معنى جدل القرآن؟ بيّن أنواع جدل القرآن بذكر الآيات مفصلاً-

[৪. جدل القرآن অর্থ কী? جدل القرآن এর প্রকারসমূহ আয়াত উল্লেখপূর্বক বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

১. জাদালুল কুরআন (جدل القرآن)-এর অর্থ:

‘জাদাল’ শব্দের অর্থ বিতর্ক, যুক্তি-তর্ক বা সংলাপ। কুরআনিক পরিভাষায়, সত্য প্রতিষ্ঠা ও বাতিলকে পরাভূত করতে কুরআনুল কারীমে মুশরিক, আহলে কিতাব ও কাফেরদের বিভিন্ন অযৌক্তিক প্রশ্নের বিপরীতে যে অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি ও বিতর্কের উপস্থাপন করা হয়েছে, তাকে ‘জাদালুল কুরআন’ বলা হয়।

২. জাদালুল কুরআনের প্রধান প্রকারভেদ ও আয়াতসমূহ:

  1. তাওহীদের পক্ষে ও শিরকের খণ্ডনে বিতর্ক: বহু উপাস্যের ধারণাকে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করা হয়েছে:
    ﴿لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا﴾ — “যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ২২)।
  2. পুনরুত্থান ও পরকাল অস্বীকারকারীদের খণ্ডন: যারা বলে গলিত হাড় কীভাবে জীবিত হবে, তাদের জবাবে বলা হয়েছে:
    ﴿قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ﴾ — “বলুন: তিনিই একে পুনরুজ্জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন।” (সূরা ইয়াসীন: ৭৯)।
  3. আল্লাহর সন্তান গ্রহণের দাবি খণ্ডন:
    ﴿مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَٰهٍ﴾ — “আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো উপাস্যও নেই।” (সূরা আল-মু’মিনূন: ৯১)।

٥- ما معنى المنطوق والمفهوم فى القرآن؟ بيّن أقسام المنطوق مفصلا وممثلا-

[৫. المنطوق والمفهوم في القرآن এর অর্থ কী? এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ সবিস্তারে বর্ণনা কর।]

১. মানতূক্ব ও মাফহূম-এর সংজ্ঞা:

  • আল-মানতূক্ব (المنطوق): কোনো বাক্যের উচ্চারিত শব্দের বাহ্যিক প্রকাশ থেকে সরাসরি যে অর্থ বোঝা যায়।
  • আল-মাফহূম (المفهوم): উচ্চারিত শব্দের বাইরে উহ্য ভাবার্থ বা আনুষঙ্গিক নির্দেশনা থেকে যে অর্থ গৃহীত হয়।

২. মানতূক্ব-এর প্রকারভেদ:

  1. মানতূকে সারীহ (المنطوق الصريح): যে অর্থ শব্দের মূল গঠন থেকেই সুস্পষ্ট। এটি দুই ভাগে বিভক্ত:
    • নাস্স (النص): যে শব্দের কেবল একটিই সুনির্দিষ্ট অর্থ হয়, অন্য কোনো ব্যাখ্যার সম্ভাবনা নেই। যেমন: «فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ» — এখানে ৩ দিন রোজা রাখা সুস্পষ্ট।
    • যাহির (الظاهر): যে শব্দের একাধিক অর্থ হওয়ার সুযোগ থাকলেও একটি অর্থ প্রবলভাবে প্রাধান্য পায়।
  2. মানতূকে গায়রে সারীহ (المنطوق غير الصريح): যা শব্দের বাহ্যিক স্পষ্ট রূপ নয় বরং বাক্যের অনিবার্য দাবি অনুযায়ী গৃহীত হয়:
    • দিলালাতুল ইক্বতিযা (دلالة الاقتضاء): বাক্য সত্য করতে কোনো উহ্য শব্দ আবশ্যক হওয়া, যেমন: «حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ» (তোমাদের জন্য তোমাদের মাতাদের সাথে বিবাহ হারাম করা হয়েছে)।
    • দিলালাতুল ইশারা (دلالة الإشارة): বাক্যের মূল উদ্দেশ্য নয়, তবে আনুষঙ্গিক দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়। যেমন: গর্ভধারণ ও স্তন্যপানের মোট সময় ৩০ মাস থেকে সর্বনিম্ন গর্ভধারণকাল ৬ মাস প্রমাণ করা।

٦- عرّف المجاز- وهل فى القرآن مجاز؟ بيّن آراء العلماء بالأدلة-

[৬. مجاز এর সংজ্ঞা দাও। কুরআনে কি মাজায আছে? আলেমদের মতামত দলিলসহ বর্ণনা কর।]

১. মাজায (المجاز)-এর সংজ্ঞা:

যে শব্দকে তার মূল আভিধানিক অর্থে ব্যবহার না করে কোনো সাদৃশ্য বা সম্পর্কের ভিত্তিতে রূপক বা পরোক্ষ অর্থে ব্যবহার করা হয়, তাকে মাজায বলে।

২. কুরআনে মাজায থাকার বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতামত:

  • জমহুর আলেম ও মুফাসসিরগণের মত (অধিকাংশ ওলামা): কুরআনে মাজায বিদ্যমান। তাঁদের মতে মাজায হলো আরবি ভাষার সর্বোচ্চ সাহিত্যিক সৌন্দর্য ও অলংকার। কুরআন আরবের অনুপম ভাষারীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এতে মাজায থাকা স্বাভাবিক। দলিল:
    • ﴿جِدَارًا يُرِيدُ أَن يَنقَضَّ﴾ — “একটি প্রাচীর, যা পড়ে যেতে চাচ্ছিল।” (সূরা আল-কাহফ: ৭৭)। প্রাচীর জড় পদার্থ, তার কোনো ইচ্ছা নেই; পতনোন্মুখ অবস্থাকে রূপকার্থে ‘ইচ্ছা’ বলা হয়েছে।
    • ﴿وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ﴾ — “জনপদকে জিজ্ঞাসা কর।” প্রকৃতপক্ষে জনপদের অধিবাসীদের জিজ্ঞাসা করার কথা বলা হয়েছে।
  • ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কায়্যিম (রহ.)-এর মত: তাঁরা কুরআনে মাজায থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের যুক্তি হলো—মাজায মানেই অস্বীকারের সম্ভাবনা থাকা, অথচ আল্লাহর কালামের কোনো কিছুই অসত্য বা অস্বীকারযোগ্য নয়। তবে তাঁরাও রূপক বা ভাবার্থের উপস্থিতি স্বীকার করেন কিন্তু তাকে ‘মাজায’ পরিভাষা দিতে অপছন্দ করেন।

مجموعة (ب) – খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি (মান: ৫ × ৪ = ২০)

٧- اشرح العبارة: العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب-

[৭. العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب কথাটি ব্যাখ্যা কর।]

উসূলে ফিক্বহ ও উলূমুল কুরআনের এটি এক অবিসংবাদিত মূলনীতি। এর অর্থ হলো: “বিধান নির্ধারিত হবে শব্দের সার্বজনীনতার ভিত্তিতে, ঘটনার নির্দিষ্টতার ভিত্তিতে নয়।” পবিত্র কুরআনের কোনো আয়াত যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির ঘটনা বা প্রশ্নে নাযিল হয়, তবে তার হুকুম কেবল সেই ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমজাতীয় সকল ঘটনার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। যেমন: লি’আন, যিহার ও চুরির শাস্তির আয়াতগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ঘটনায় নাযিল হলেও তা সমগ্র উম্মতের জন্য সাধারণ আইন হিসেবে কার্যকর।


٨- اكتب عشر مميّزات للرسم العثمانى-

[৮. রসমে উসমানীর দশটি বৈশিষ্ট্য লেখ।]

  1. সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে লিপিবদ্ধ।
  2. সাত হরফের বিভিন্ন বিশুদ্ধ কিরাআত ধারণ করার অপূর্ব সক্ষমতা।
  3. তৎকালীন সময়ে নুকতা ও হরকতবিহীন হওয়ায় একাধিক কিরাআত পড়ার সুযোগ ছিল।
  4. বর্ণ বিলোপকরণ (হযফ), যেমন: ক্বা-ল-এর আলিফ বাদ দিয়ে লেখা।
  5. অতিরিক্ত বর্ণ সংযোজন (যিয়াদাহ), যেমন: ‘বা-নু’ শব্দের পর অতিরিক্ত আলিফ।
  6. হামযার রূপান্তর বা প্রতিস্থাপন (হামযাহ কখনো ওয়াও বা ইয়া আকারে লেখা)।
  7. পৃথকীকরণ ও সংযোজন (ফাসল ও ওছল), যেমন: ‘ইন মা’ বা ‘আন লা’।
  8. তা’ (ت) মারবূতাহকে তা’ মাবসূতাহ (লম্বা তা) আকারে লেখা (যেমন: رَحْمَتَ)।
  9. পবিত্র কুরআনের অলৌকিক সাহিত্যিক কাঠামোর চিরন্তন সংরক্ষণ।
  10. শরীয়তের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত এই রসম পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

٩- اكتب فوائد أمثال القرآن-

[৯. أمثال القرآن এর উপকারিতাসমূহ লেখ।]

  • বিমূর্ত ও সূক্ষ্ম বিষয়কে মূর্ত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উপমার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করা।
  • সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের বাস্তব দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলা (যেমন: আলোর সাথে অন্ধকারের উপমা)।
  • ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান (যেমন: শস্যদানার সাথে আল্লাহর রাস্তায় দানের উপমা)।
  • খারাপ কাজের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা (যেমন: গীবতকারীকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণকারীর সাথে তুলনা)।
  • মানুষের অন্তরকে নাড়া দেওয়া এবং চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করা।

١٠- اكتب أنواع قصص القرآن-

[১০. ক্বাসাসুল কুরআন এর প্রকারসমূহ লেখ।]

  1. নবী ও রাসূলগণের কাহিনী: যেমন হযরত ইব্রাহীম, মূসা, ইউসুফ ও ঈসা (আ.)-এর দাওয়াত ও সংগ্রাম।
  2. অতীত জাতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের কাহিনী: যেমন আদ, সামূদ, ফিরাউন ও আসহাবুল কাহাফের ইতিবৃত্ত।
  3. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সমকালীন ঐতিহাসিক ঘটনাবলি: যেমন বদর, ওহুদ, হুনায়েন, তাবূক ও ইসরা-মে’রাজের ঘটনা।

١١- اكتب خمس آيات وجدت فيها الكناية-

[১১. الكناية বিদ্যমান আছে এমন পাঁচটি আয়াত লেখ।]

  1. «أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ» (সূরা আন-নিসা: ৪৩) — এখানে ‘লামাসতুম’ শব্দটি বৈবাহিক শারীরিক মিলনের কিনায়া।
  2. «وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَىٰ عُنُقِكَ» (সূরা আল-ইসরা: ২৯) — হাত কাঁধের সাথে বেঁধে রাখা চরম কৃপণতার কিনায়া।
  3. «وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ» (সূরা আল-ইসরা: ২৯) — হাত সম্পূর্ণ প্রসারিত করা অমিতব্যয়িতা ও অপচয়ের কিনায়া।
  4. «فَأَصْبَحَ يُقَلِّبُ كَفَّيْهِ» (সূরা আল-কাহফ: ৪২) — দুই হাত মর্দন করা গভীর অনুশোচনা ও হতাশার কিনায়া।
  5. «وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَىٰ يَدَيْهِ» (সূরা আল-ফুরক্বান: ২৭) — হাত কামড়ানো চরম আফসোস ও আক্ষেপের কিনায়া।

١٢- عرّف المحكم والمتشابه بالأمثلة-

[১২. উদাহরণসহ মুহকাম ও মুতাশাবিহ এর সংজ্ঞা দাও।]

  • মুহকাম (المحكم): যে আয়াতের অর্থ সুস্পষ্ট, নির্দিষ্ট এবং যাতে ব্যাখ্যার কোনো সংশয় নেই। উদাহরণ: «وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ» (সালাত কায়েম কর এবং যাকাত দাও)।
  • মুতাশাবিহ (المتشابه): যে আয়াতের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করলে বিভ্রান্তি হতে পারে এবং যার প্রকৃত রহস্য একমাত্র আল্লাহ জানেন। উদাহরণ: «الرَّحْمَٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ» (পরম করুণাময় আরশে সমাসীন হয়েছেন) এবং হুরুফে মুকাত্তা’আত যেমন «الم»।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উলূমুল কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্লাসিক্যাল বিশ্বকোষ কোনটি?

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) রচিত ‘আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন’ এবং আল্লামা যারকাশী রচিত ‘আল-বুরহান’।

২. সাত হরফে কুরআন নাযিলের মূল তাৎপর্য কী?

তৎকালীন আরবের প্রধান প্রধান গোত্রের বিশুদ্ধ উপভাষায় পাঠের অনুমতি দিয়ে তিলাওয়াতকে সহজতর করা।

৩. সাবাবুন নুযূল জানার প্রামাণ্য মাধ্যম কী?

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্ভরযোগ্য হাদীস এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবায়ে কেরামের প্রামাণ্য ঐতিহাসিক বর্ণনা।

৪. রসমে উসমানী বলতে কী বোঝায়?

তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে সাহাবাদের সর্বসম্মত ঐকমত্যের ভিত্তিতে কুরআনের যে মূল লিপিরীতি সংকলিত হয়েছিল।

৫. কুরআনে কিনায়ার ব্যবহার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শালীনতা রক্ষা, আত্মমর্যাদা এবং সাহিত্যিক অলংকার ও ভাবগাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলতে কিনায়া এক অনুপম শৈলী।

৬. ফাজিল ২য় বর্ষ উলূমুল কুরআন পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জনের কৌশল কী?

কুরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াত, সহীহ হাদীসের দলিল এবং মুফাসসিরগণের প্রামাণ্য উক্তি পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *