জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল কুরআন (Ulumul Quran) – 201205, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2023

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪৩ মিনিট পড়ার সময়
১১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: উলূমুল কুরআন (علوم القرآن)
বিষয় কোড: 201205 | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ থেকে ৪টি এবং (খ) বিভাগ থেকে ৪টি সহ মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।]


ক-বিভাগ (مجموعة أ)

١- ما المراد بعلوم القرآن؟ بين تاريخ تدوينها عبر العصور مفصلا.

[১. علوم القرآن দ্বারা উদ্দেশ্য কী? যুগে যুগে এর সংকলনের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

১. উলূমুল কুরআনের পরিচয় (المراد بعلوم القرآن):

‘উলূম’ (علوم) শব্দটি ‘ইলম’-এর বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞান বা শাস্ত্রসমূহ। পারিভাষিক অর্থে ড. সুবহী আস-সালেহ বলেন: “উলূমুল কুরআন হলো এমন একটি সমন্বিত জ্ঞানভাণ্ডার যা নাযিল, তারতীব (বিন্যাস), সংকলন, ক্বিরাআত, তাফসীর, নাসিখ-মানসূখ, মুহকাম-মুতাশাবিহ এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব (ই’জায) প্রভৃতি যাবতীয় কুরআন সংশ্লিষ্ট বিদ্যা আলোচনা করে।”

২. যুগে যুগে উলূমুল কুরআন সংকলনের ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ:

  • নবুওয়াত ও সাহাবা যুগ: এ যুগে উলূমুল কুরআন স্বতন্ত্র কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ ছিল না; সাহাবায়ে কেরাম সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সংস্পর্শ থেকে ওহীর প্রেক্ষাপট, শানে নুযূল এবং ব্যাখ্যা আত্মস্থ করতেন। পরবর্তীতে হযরত আবু বকর ও উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে কুরআন একত্রিত ও মাসহাফ আকারে সংকলন উলূমুল কুরআনের প্রথম ঐতিহাসিক ভিত্তি স্থাপন করে।
  • তাবিয়ী যুগ: তাবিয়ীগণের যুগে মক্কায় মুজাহিদ ও ইকরামা, মদীনায় যায়দ ইবনে আসলাম এবং ইরাকে হাসান আল-বসরী ও ক্বাতাদাহ (রহ.) কুরআন গবেষণার বিশেষ পাঠশালা গড়ে তোলেন। তাঁরা বিচ্ছিন্নভাবে তাফসীর ও শানে নুযূল বর্ণনা সংরক্ষণ করেন।
  • দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরী শতক (প্রাথমিক গ্রন্থায়ন): হাদিস সংকলনের পাশাপাশি উলূমুল কুরআনের বিভিন্ন অধ্যায় লিপিবদ্ধ হওয়া শুরু হয়। যেমন—আলী ইবনুল মাদীনীর ‘আসবাবুন্নুযূল’, আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লামের ‘ফাদায়িলুল কুরআন’ এবং ইবনে কুতাইবার ‘মুশকিলুল কুরআন’।
  • স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ (চতুর্থ থেকে নবম হিজরী শতক):
    • ইবনুল মারযাবান (মৃত্যু ৩০৯ হি.) ‘আল-হাবী ফী উলূমিল কুরআন’ রচনা করেন।
    • আল্লামা বুরহানুদ্দীন আয-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হি.) তাঁর জগদ্বিখ্যাত encyclopedic গ্রন্থ ‘আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন’ রচনা করেন, যেখানে ৪৭টি শাখা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
    • ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হি.) তাঁর অমর গ্রন্থ ‘আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন’ প্রণয়ন করেন, যাতে ৮০টি পৃথক শাখা অন্তর্ভুক্ত করে উলূমুল কুরআনকে চূড়ান্ত রূপ দেন।
  • আধুনিক যুগ: আধুনিক যুগে শায়খ মুহাম্মদ আয-যারক্বানীর ‘মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন’, মান্না আল-কাত্তানের ‘মাবাহিস ফী উলূমিল কুরআন’ এবং ড. সুবহী আস-সালেহের ‘মাবাহিস ফী উলূমিল কুরআন’ এই শাস্ত্রকে আধুনিক গবেষণাগারে উপস্থাপন করেছে।

٢- عرف سبب النزول – ثم تحدث عن فوائد معرفته وشروط قبوله موضحا.

[২. سبب النزول-এর সংজ্ঞা দাও। এটা জানার উপকারিতা ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্ত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে আলোচনা কর।]

১. শানে নুযূলের সংজ্ঞা (تعريف سبب النزول):

আল্লামা যারকানী বলেন: “শানে নুযূল বা আসবাবুন নুযূল হলো সেই পটভূমি বা ঘটনা যার প্রেক্ষিতে কোনো আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে কিংবা যা কোনো জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে নাযিল হয়েছে।”

২. শানে নুযূল জানার ফায়দা ও উপকারিতা (فوائد معرفته):

  • আয়াতের নির্ভুল মর্মোদ্ধার: অনেক সময় শানে নুযূল না জানলে আয়াতের বাহ্যিক অর্থ মারাত্মক ভুল বোঝার আশঙ্কা থাকে। যেমন—হযরত উরওয়া ইবনুয যুবায়ের (রা.) সাফা-মারওয়া সাঈ করার বিধান নিয়ে দ্বিধায় পড়েছিলেন, যা আয়েশা (রা.) শানে নুযূল উল্লেখ করে সমাধান করে দেন।
  • শরীয়তের হিকমত ও বিধানের রহস্য উন্মোচন: কোনো নির্দেশ কেন এবং কী পরিস্থিতিতে বিধিবদ্ধ হলো তা অনুধাবন করে ঈমান সুদৃঢ় হয়।
  • বিধানের সাধারণ ও বিশেষ রূপ স্পষ্ট হওয়া: আয়াতটি কি কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য ছিল নাকি সর্বসাধারণের জন্য, তা জানা যায়।
  • সংশয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিরসন: আপাতবিরোধী আয়াতের সমন্বয় সাধন সহজ হয়।

৩. শানে নুযূলের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তসমূহ (شروط قبوله):

  • বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হওয়া: শানে নুযূল কেবল ক্বিয়াস বা যুক্তি দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না; তা অবশ্যই রাসূল (সা.) বা প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবীর বিশুদ্ধ ও অবিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত হতে হবে।
  • বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা (আদালত ও দাবত): হাদিসের সনদের রাবীগণকে ন্যায়পরায়ণ ও নিখুঁত স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হতে হবে।
  • শব্দচয়ন সুনির্দিষ্ট হওয়া: বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে “نزلت هذه الآية في كذا” (এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে) অথবা প্রশ্নোত্তরের উল্লেখ থাকা কাম্য।

٣- عرف الجدل لغة واصطلاحا – ثم بين انواع مناظرة القران مفصلا.

[৩. الجدل-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। অতঃপর مناظرة القران-এর প্রকারগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

১. আল-জাদাল-এর সংজ্ঞা (تعريف الجدل):

  • আভিধানিক অর্থ: রশি শক্ত করে পাকানো, বিতর্ক করা, যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং মিথ্যার অসারতা প্রমাণের লক্ষ্যে প্রজ্ঞা ও অকাট্য দলিলের মাধ্যমে বিতর্কে লিপ্ত হওয়াকে জাদাল বা মুনাযারা বলে। কুরআনে বলা হয়েছে: ﴿وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ﴾ (উত্তম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর)।

২. কুরআনের বিতর্কের প্রকারভেদ (أنواع مناظرة القرآن):

  1. মুশরিক ও পৌত্তলিকদের সাথে বিতর্ক: মূর্তিপূজার অসারতা ও তাওহীদের অনিবার্যতা প্রমাণে কুরআন বিভিন্ন যৌক্তিক বিতর্ক উপস্থাপন করেছে। যেমন—সূরা আম্বিয়ায় বর্ণিত হয়েছে: “যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।”
  2. আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও খ্রিষ্টান) সাথে বিতর্ক: হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র ও ত্রিত্ববাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস খণ্ডনে সূরা আল-ইমরানে দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে: “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো, তাঁকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন।”
  3. নাস্তিক ও পরকাল অস্বীকারকারীদের সাথে বিতর্ক: মানুষের পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসীনে বলা হয়েছে: “বলুন, যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন তিনিই এদের জীবিত করবেন।”
  4. মুনাফিকদের সাথে বিতর্ক: তাদের দ্বিমুখী চরিত্র ও অন্তরের কপটতার স্বরূপ উন্মোচন করে অকাট্য যুক্তি তুলে ধরা।

٤- عرف مفهوم الموافقة والمخالفة – ثم بين انواعهما مفصلا وممثلا.

[৪. مفهوم الموافقة ও مفهوم المخالفة-এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর উভয়ের প্রকারগুলো উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. মাফহূমুল মুওয়াফাক্বাহ (مفهوم الموافقة):

সংজ্ঞা: উচ্চারিত শব্দের হুকুম এবং অনুচ্চারিত বিষয়ের হুকুম যদি একই অর্থ ও বিধানের অনুকূল হয়, তবে তাকে মাফহূমুল মুওয়াফাক্বাহ বলে। এটি দুই প্রকার:

  • ফাহওয়াল খিতাব (فحوى الخطاب): অনুচ্চারিত বিষয়ের হুকুমটি উচ্চারিত বিষয়ের চেয়েও অধিকতর জোরালো। যেমন পিতা-মাতাকে “উফ” শব্দ বলতে নিষেধ করা হয়েছে (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩); অতএব তাদেরকে প্রহার করা বা গালি দেওয়া আরও গুরুতরভাবে হারাম।
  • লাহনু খিতাব (لحن الخطاب): অনুচ্চারিত বিষয় উচ্চারিত বিষয়ের সমপর্যায়ের। যেমন এতিমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা হারাম; অতএব তা বিনষ্ট বা অপচয় করাও সমভাবে হারাম।

২. মাফহূমুল মুখালাফাহ (مفهوم المخالفة):

সংজ্ঞা: বাক্যে উল্লিখিত কোনো শর্ত বা গুণের অনুপস্থিতিতে অনুচ্চারিত বিষয়ের ক্ষেত্রে বিপরীত হুকুম সাব্যস্ত হওয়াকে মাফহূমুল মুখালাফাহ বলে। এর প্রধান প্রকারসমূহ:

প্রকার আরবী নাম ব্যাখ্যা ও কুরআনী উদাহরণ
শর্তের বিপরীত মর্ম مفهوم الشرط শর্ত পূরণ না হলে হুকুম প্রযোজ্য না হওয়া। যেমন: গর্ভবতী নারীদের তালাকের পর সন্তান প্রসব পর্যন্ত ভরণপোষণ দেওয়া ফরয (সূরা তালাক: ৬); গর্ভবতী না হলে এ বিশেষ ভরণপোষণ প্রযোজ্য নয়।
গুণের বিপরীত মর্ম مفهوم الوصف বিশেষ গুণের অনুপস্থিতিতে বিধান না থাকা। যেমন: দাসী মুক্ত করার ক্ষেত্রে “মুমিন দাসী” বলা হয়েছে; সুতরাং কাফির দাসী মুক্ত করলে কাফফারা আদায় হবে না।
সীমার বিপরীত মর্ম مفهوم الغاية সীমার পরে হুকুম সমাপ্ত হওয়া। যেমন: “অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর” (সূরা বাকারা: ১৮৭); রাতের সূচনা হলে রোযা রাখা নিষিদ্ধ।
সংখ্যার বিপরীত মর্ম مفهوم العدد নির্দিষ্ট সংখ্যার কম বা বেশি না হওয়া। যেমন: ব্যভিচারের অপবাদদাতাকে আশিটি বেত্রাঘাত কর; ৭৯ বা ৮১টি দেওয়া যাবে না।

٥- ما القسم؟ تحدث عن المقسم به واحوال المقسم عليه فى القران الكريم موضحا.

[৫. القسم কাকে বলে? আল কুরআনের مقسم به ও مقسم عليه-এর অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে আলোচনা কর।]

১. আল-কাসাম-এর পরিচয় (تعريف القسم):

কাসাম বা ইয়ামীন অর্থ শপথ করা। কোনো সম্মানিত বস্তু বা সত্তার নাম উল্লেখ করে বক্তব্যের গুরুত্ব বৃদ্ধি করা এবং শ্রোতার হৃদয়ে বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করার ব্যাকরণিক পদ্ধতিকে কাসাম বলে।

২. আল-মুকসাম বিহী (المقسم به – যা দ্বারা শপথ করা হয়):

  • আল্লাহর স্বীয় সত্তা ও গুণাবলীর শপথ: আল্লাহ তাআলা নিজের সত্তার শপথ করেছেন; যেমন: ﴿فَوَرَبِّ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ لَحَقٌّ﴾।
  • সৃষ্টির শপথ: আল্লাহ তাআলা স্বীয় সৃষ্টির গুরুত্ব ও মহিমা প্রকাশের জন্য বিভিন্ন সৃষ্টির শপথ করেছেন; যেমন—সময়ের শপথ (والعصر), সূর্যের শপথ (والشمس), নক্ষত্রের শপথ (والنجم), ফলের শপথ (والتين والزيتون) এবং পবিত্র নগরীর শপথ (وهذا البلد الأمين)। বান্দার জন্য কেবল আল্লাহর নামেই শপথ করা বৈধ, কোনো সৃষ্টির নামে নয়।

৩. আল-মুকসাম আলাইহি (المقسم عليه – যার ওপর শপথ করা হয় / জওয়াবুল কাসাম):

কুরআনে যে বিষয়ের সত্যতা প্রমাণের জন্য শপথ করা হয়েছে তাকে মুকসাম আলাইহি বলা হয়। এর প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:

  • তাওহীদের সত্যতা: ﴿وَالصَّافَّاتِ صَفًّا… إِنَّ إِلَهَكُمْ لَوَاحِدٌ﴾।
  • কুরআন ও নবুওয়াতের সত্যতা: ﴿يس * وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ * إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ﴾।
  • পরকাল ও কিয়ামতের অনিবার্যতা: ﴿وَالذَّارِيَاتِ ذَرْوًا… إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقٌ﴾।
  • মানুষের আত্মিক পরিণতি ও কর্মের ফল: ﴿وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا… قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا﴾।

٦- عرف المثل لغة واصطلاحا – وكم نوعا لامثال القران؟ بين مفصلا وممثلا.

[৬. المثل-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। أمثال القران কত প্রকার? উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. আল-মাছাল-এর পরিচয় (تعريف المثل):

  • আভিধানিক অর্থ: আল-মিছল (সাদৃশ্য), দৃষ্টান্ত, উপমা বা প্রতিচ্ছবি।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: কোনো বিমূর্ত, অদৃশ্য বা সূক্ষ্ম ভাবার্থকে মানুষের সহজে হৃদয়ঙ্গম করার স্বার্থে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও দৃশ্যমান বস্তুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করে চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে তুলে ধরাকে মাছাল বা উপমা বলে।

২. কুরআনের আমছালের প্রকারভেদ (أقسام أمثال القرآن الثلاثة):

  1. আল-আমছালুয যাহেরাহ (الأمثال الظاهرة – প্রকাশ্য উপমা): যাতে স্পষ্ট ভাষায় উপমার উপাদান (কাফ, মিছল প্রভৃতি) উল্লেখ থাকে। যেমন মুনাফিকদের দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলা হয়েছে: “তাদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে আগুন জ্বালালো…” (সূরা বাকারা: ১৭)। অপর আয়াতে সত্য ও অসত্যের উপমা দেওয়া হয়েছে বৃষ্টির পানি এবং তার ওপর ভাসমান আবর্জনা ও ফেনার সাথে।
  2. আল-আমছালুল কামেনাহ (الأمثال الكامنة – প্রচ্ছন্ন বা প্রবাদসদৃশ উপমা): যাতে উপমার শব্দ স্পষ্ট উল্লেখ থাকে না, কিন্তু এর ভাবার্থ আরবের প্রচলিত মহাবাক্য বা প্রবাদের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। যেমন—”অনিষ্টের শ্রেষ্ঠ নিরাময় মৃত্যু” এর মর্ম কুরআনে এসেছে: ﴿وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ﴾ (কিসাসের মধ্যে তোমাদের জীবন রয়েছে)।
  3. আল-আমছালুল মুরসালাহ (الأمثال المرسلة – উন্মুক্ত বা স্বতঃসিদ্ধ প্রবাদ বাক্য): কুরআনের এমন কিছু স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্য যা নিজেই প্রবাদবাক্যের মতো মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়। যেমন: ﴿هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ﴾ (উত্তম কাজের প্রতিফল উত্তম ছাড়া আর কি হতে পারে?), ﴿كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ﴾ (প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে)।

٧- ما المحكم والمتشابه؟ وهل يمكن معرفة المتشابه؟ بين اراء السلف والخلف مدللا.

[৭. মুহকাম ও মুতাশাবিহ কাকে বলে? মুতাশাবিহ-এর জ্ঞান অর্জন করা কি সম্ভব? পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণের দৃষ্টিভঙ্গি দলীলসহ বর্ণনা কর।]

১. মুহকাম ও মুতাশাবিহের সংজ্ঞা (تعريف المحكم والمتشابه):

  • মুহকাম (المحكم): যে আয়াতের অর্থ সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং যার মর্মোদ্ধারে কোনো সংশয় বা ব্যাখ্যার জটিলতা থাকে না। যেমন হালাল, হারাম ও শরীয়তের বিধিবিধান সংক্রান্ত আয়াত।
  • মুতাশাবিহ (المتشابه): যার অর্থ গভীর, একাধিক সম্ভাব্য অর্থবোধক এবং যার প্রকৃত রহস্য মানুষের সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধির অগম্য। যেমন হরূফে মুকাত্তাআত (আলিফ-লাম-মীম) এবং আল্লাহর সিফাত সংক্রান্ত আয়াত (হস্ত, চেহারা, আরশে সমাসীন হওয়া ইত্যাদি)।

২. মুতাশাবিহের জ্ঞান অর্জন কি সম্ভব? (সালাফ ও খালাফের দৃষ্টিভঙ্গি):

সূরা আল-ইমরানের ৭ম আয়াতের ওয়াকফ (থামা) নিয়ে এ বিষয়ে আলেমগণের দুটি প্রধান অভিমত রয়েছে:

  • ১. সালাফগণের অভিমত (জমহুর সাহাবা ও তাবেয়ী): তাঁরা ﴿وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ﴾ পর্যন্ত পূর্ণ ওয়াকফ করেন এবং পরবর্তী বাক্যকে নতুন শুরু মনে করেন: ﴿وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ﴾। তাঁদের মতে মুতাশাবিহের প্রকৃত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। গভীর জ্ঞানীরা শুধু বলে—আমরা এতে নির্দ্বিধায় ঈমান এনেছি। সালাফগণের নীতি ছিল ‘তাফউইদ’ (অর্থ আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা)।
  • ২. পরবর্তী গবেষক ও খালাফগণের অভিমত (ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ প্রমুখ): তাঁরা “ওয়াও”-কে হরফে আতফ ধরে পাঠ করেন: ﴿وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ﴾। তাঁদের মতে গভীর জ্ঞানের অধিকারী প্রজ্ঞাবান আলেমগণও আল্লাহর অনুগ্রহে মুতাশাবিহের তাবীলের গভীর তাৎপর্য ও রূপক অর্থ অনুধাবন করতে সক্ষম। খালাফগণ আল্লাহর শান অনুযায়ী উপযুক্ত ‘তাবীল’ (রূপক ব্যাখ্যা) প্রদান করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ তাশবীহ (সাদৃশ্য দেওয়া) ও তাজসীম (দেহধারী ভাবা) থেকে রক্ষা পায়।

٨- ما الاسرائيليات؟ وكيف دخلت فى التفاسير؟ بين موقف العلماء منها.

[৮. ইসরাঈলিয়াত কী? কীভাবে তা তাফসীরে প্রবেশ করল? এ বিষয়ে আলেমগণের অবস্থান বর্ণনা কর।]

১. ইসরাঈলিয়াতের পরিচয় (تعريف الإسرائيليات):

ইসলামের তাফসীর শাস্ত্রে ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ (তাওরাত, ইঞ্জিল, তালমুদ) ও তাদের পৌরাণিক উপকথা থেকে যেসব কিচ্ছা-কাহিনী মুসলিমদের ব্যাখ্যাগ্রন্থে অনুপ্রবেশ করেছে, তাকে ইসরাঈলিয়াত বলা হয়।

২. তাফসীরে ইসরাঈলিয়াতের অনুপ্রবেশের কারণ:

পবিত্র কুরআনে পূর্ববর্তী নবীগণের ইতিহাস ও বিভিন্ন শিক্ষণীয় ঘটনার মূল সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু মানুষের অপ্রয়োজনীয় কৌতূহল মেটানোর মতো খুঁটিনাটি বিবরণ (যেমন আসহাবে কাহাফের কুকুরের রঙ, ইউনুস (আ.)-এর মাছের দৈর্ঘ্য বা মূসা (আ.)-এর লাঠির মাপ) উল্লেখ করা হয়নি। তৎকালীন ইহুদী পণ্ডিতগণ (যেমন কা’ব আল-আহবার, ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ প্রমুখ) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন কিছু মুসলমান অতিরিক্ত জানার আগ্রহে তাঁদের কাছ থেকে এসব গল্প শুনে তা বর্ণনা করতেন। পরবর্তীতে কোনো কোনো বর্ণনাকারী সনদ যাচাই না করেই তাফসীর গ্রন্থে এগুলো লিপিবদ্ধ করে ফেলেন।

৩. ইসরাঈলিয়াতের ব্যাপারে আলেমগণের অবস্থান ও শরয়ী বিধান:

শ্রেণিবিভাগ শরয়ী মানদণ্ড আলেমদের অবস্থান ও হুকুম
১. কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী যার সত্যতা কুরআন বা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাস করা জায়েয (যেমন ফিরাউনের নিমজ্জিত হওয়া)।
২. কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী যা ইসলামী আক্বীদা বা আম্বিয়াগণের নিষ্পাপত্বের পরিপন্থী। সম্পূর্ণ বর্জনীয়, মিথ্যা ও বাতিল (যেমন দাউদ (আ.) বা ইউসুফ (আ.)-এর চরিত্রে অপবাদ দেওয়া)।
৩. নিরপেক্ষ ও অনুল্লিখিত যার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট শরয়ী দলীল নেই। বিশ্বাসও করা যাবে না, মিথ্যাও বলা যাবে না; রাসূল (সা.) বলেছেন: “তোমরা আহলে কিতাবদের সত্যও বলো না, মিথ্যাও বলো না।”

খ-বিভাগ (مجموعة ب)

٩- اكتب اسماء عشرة مؤلفات فى علوم القران.

[৯. উলূমুল কুরআন বিষয়ে রচিত দশটি গ্রন্থের নাম লেখ।]

  1. আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন – ইমাম বুরহানুদ্দীন আয-যারকাশী (রহ.)।
  2. আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন – ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.)।
  3. মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন – শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল আযীম আয-যারক্বানী।
  4. মাবাহিস ফী উলূমিল কুরআন – মান্না খলীল আল-কাত্তান।
  5. মাবাহিস ফী উলূমিল কুরআন – ড. সুবহী আস-সালেহ।
  6. আল-ফাউযুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর – শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.)।
  7. মুকাদ্দামাহ ফী উসূলিত তাফসীর – শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)।
  8. ফাদায়িলুল কুরআন – আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম।
  9. আস-তিবয়ান ফী উলূমিল কুরআন – শায়খ মুহাম্মদ আলী আস-সাবূনী।
  10. আল-মুহাযযাব ফী উলূমিল কুরআন – ড. মুহাম্মদ সালিম মুহাইসিন।

١٠- اشرح العبارة “العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب”.

[১০. “العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب”- কথাটি ব্যাখ্যা কর।]

এটি উসূলে তাফসীর ও উলূমুল কুরআনের একটি সর্বজনীন মূলনীতি। এর অর্থ হলো—“বিধান প্রযোজ্য হবে শব্দের ব্যাপকতার ভিত্তিতে, ঘটনার নির্দিষ্টতার ভিত্তিতে নয়।” অর্থাৎ, কোনো আয়াত যদি কোনো সাহাবী বা কাফির ব্যক্তির বিশেষ কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েও থাকে, তবুও আয়াতের শব্দাবলী যদি ব্যাপক ও সাধারণ হয়, তবে তার হুকুম কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। যেমন—হিলাল ইবনে উমাইয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে লিআনের আয়াত এবং হযরত আবু বকর (রা.)-এর ঘটনার প্রেক্ষিতে মিসতাহকে দান না করার প্রতিষেধক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল; কিন্তু এগুলোর বিধান সমস্ত মুমিনের জন্য সাধারণ।


١١- ما الحكمة فى نزول القران فى سبعة احرف؟

[১১. সাত হরফে আল কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার হেকমত কী?]

সাত হরফে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রধান হেকমত ও তাৎপর্যসমূহ হলো:

  • উম্মতের জন্য তিলাওয়াত সহজসাধ্য করা: তৎকালীন আরবের বিভিন্ন গোত্রের উপভাষা, উচ্চারণভঙ্গি ও বাচনভঙ্গিতে কিছুটা ভিন্নতা ছিল। সকল আরব যেন সহজে কোনো প্রকার কষ্ট ছাড়াই আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করতে পারে সেজন্য আল্লাহ এ রহমত দান করেছেন।
  • কুরআনের চিরন্তন অলৌকিকত্ব ও ই’জায প্রমাণ: ভাষার বৈচিত্র্য সত্ত্বেও অর্থের মধ্যে বিন্দুমাত্র বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি সৃষ্টি না হওয়া এক মহা অলৌকিক নিদর্শন।
  • উম্মতে মুহাম্মদীর প্রতি বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা: পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাব কেবল একটি উপভাষায় নাযিল হয়েছিল, কিন্তু কুরআন সাত উপভাষায় পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

١٢- عرف النص والظاهر ممثلا.

[১২. উদাহরণসহ নস ও যাহের-এর সংজ্ঞা দাও।]

  • যাহের (الظاهر): যে শব্দের মূল গঠনগত অর্থ স্পষ্ট এবং কোনো প্রকার চিন্তা ছাড়াই প্রাথমিক অর্থটি প্রকাশ পায়, তবে অন্য কোনো অর্থ হওয়ারও ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকে। যেমন: ﴿وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ﴾ (আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন)। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবসার বৈধতা স্পষ্ট করা।
  • নস (النص): যে শব্দ স্বয়ং বক্তার মূল বক্তব্যের প্রধান উদ্দেশ্য বোঝাতে প্রকাশ করা হয়েছে এবং যার অর্থ যাহেরের চেয়েও অধিকতর সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। যেমন পূর্বোক্ত আয়াতেই: ﴿وَحَرَّمَ الرِّبَا﴾ (এবং সুদকে হারাম করেছেন)। এটি স্পষ্টভাবে কাফিরদের দাবি “ব্যবসা তো সুদের মতোই”—তা খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে সরাসরি নাযিল হয়েছে।

١٣- بين اثار قصص القران فى التربية.

[১৩. তারবিয়াহ-এর ক্ষেত্রে আল কুরআনের ঘটনাবলীর প্রভাব বর্ণনা কর।]

কুরআনী কাহিনীর মূল লক্ষ্য কোনো সাহিত্যিক গল্প বলা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠন (তারবিয়াহ)। এর প্রভাবসমূহ:

  • নবী ও মুমিনদের হৃদয়ে অবিচলতা সৃষ্টি: রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামকে পূর্ববর্তী আম্বিয়াগণের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে ধৈর্য ও দৃঢ়তা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
  • সৎকাজের অনুপ্রেরণা ও পাপাচারের ভয়: সৎকর্মশীলদের চূড়ান্ত কামিয়াবী এবং অবাধ্য জাতিসমূহের (আদ, সামূদ, ফিরাউন) শোচনীয় ধ্বংসের ইতিহাস মানবজাতিকে পাপাচার থেকে ফিরিয়ে রাখে।
  • উচ্চ নৈতিকতা ও চারিত্রিক আদর্শ উপস্থাপন: হযরত ইউসুফ (আ.)-এর পবিত্রতা ও ক্ষমা, আইয়ুব (আ.)-এর ধৈর্য এবং ইবরাহীম (আ.)-এর অটুট তাওহীদের বাস্তব মডেল উপস্থাপন করা।

١٤- عرف بالرسم العثمانى.

[১৪. উসমানী লিপিকলার পরিচয় দাও।]

তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর খেলাফতকালে সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত ইজমার ভিত্তিতে কুরআনুল কারীম যে বিশেষ ঐতিহাসিক বানানরীতি ও হস্তলিপিতে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তাকে ‘রসমুল উসমানী’ (الرسم العثماني) বা ‘রসমুল মাসহাফ’ বলা হয়। এতে বেশ কিছু ব্যাকরণিক বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যেমন—শব্দ সংক্ষেপণ (হযফ), অতিরিক্ত অক্ষর সংযোজন (যিয়াদাত), বিশেষ হামযাহ লিখনরীতি এবং বাদাল বা রূপান্তর। জমহুর উলামায়ে কেরামের মতে মাসহাফে উসমানীর এই লিখনরীতি সংরক্ষণ করা তাওক্বীফী ও ওয়াজিব।


١٥- اكتب اسماء خمسة تفاسير توجد فيها الروايات الاسرائيلية.

[১৫. ইসরাঈলী বর্ণনা পাওয়া যায় এমন পাঁচটি তাফসীরের কিতাবের নাম লেখ।]

  1. জামি’উল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন – ইমাম ইবনে জারীর আত-তাবারী (রহ.)।
  2. মা’আলিমুত তানযীল – ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-বাগাবী (রহ.)।
  3. আল-কাশশাফ – আল্লামা জারুল্লাহ আয-যামাখশারী (রহ.)।
  4. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম – হাফিয ইবনে কাসীর (রহ.) (সতর্কীকরণের উদ্দেশ্যে অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন)।
  5. তাফসীরু আনওয়ারিত তানযীল – কাযী নাসিরুদ্দীন আল-বায়যাবী (রহ.)।

١٦- اكتب اسماء القراء السبعة.

[১৬. সাত ক্বারীর নামগুলো লেখ।]

  1. ইমাম নাফে’ আল-মাদানী (রহ.) (মদীনা মুনাওয়ারা)।
  2. ইমাম ইবনে কাসীর আল-মাক্কী (রহ.) (মক্কা মুকাররমা)।
  3. ইমাম আবু আমর আল-বাসরী (রহ.) (বসরা, ইরাক)।
  4. ইমাম ইবনে আমির আদ-দিমাশক্বী (রহ.) (সিরিয়া/দামেশক)।
  5. ইমাম আসিম ইবনে আবি নাজূদ আল-কূফী (রহ.) (কূফা, ইরাক – আমাদের দেশে প্রচলিত ক্বিরাআত)।
  6. ইমাম হামযাহ আল-কূফী (রহ.) (কূফা, ইরাক)।
  7. ইমাম কিসাঈ আল-কূফী (রহ.) (কূফা, ইরাক)।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ২য় বর্ষের ‘উলূমুল কুরআন’ পরীক্ষার মানবণ্টন কীরূপ?

মোট পূর্ণমান ৮০। ক-বিভাগ থেকে ৪টি রচনামূলক (৪ × ১৫ = ৬০) এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত (৪ × ৫ = ২০) মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

২. উলূমুল কুরআন বিষয়ে সর্বাধিক প্রামাণ্য দুটি প্রাচীন গ্রন্থ কী কী?

আল্লামা যারকাশী রচিত ‘আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন’ এবং আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রচিত ‘আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন’।

৩. মুহকাম ও মুতাশাবিহের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?

মুহকামের অর্থ সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন, আর মুতাশাবিহ হলো যার মর্ম গভীর ও রূপক যা অনুধাবনে বিশেষ হিকমত প্রয়োজন।

৪. তাফসীরে ইসরাঈলিয়াত গ্রহণের শরয়ী বিধান কী?

যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মিলে তা জায়েয, যা শরীয়তবিরোধী তা সম্পূর্ণ বাতিল ও বর্জনীয়।

৫. রসমুল উসমানী বলতে কী বুঝায়?

হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত ইজমার ভিত্তিতে কুরআন লিপিবব্ধ করার বিশেষ বানান ও হস্তলিপিপদ্ধতি।

৬. সাব’আতু আহরুফ বা সাত হরফে কুরআন নাযিলের প্রধান হিকমত কী?

আরবের বিভিন্ন গোত্রের মানুষের জন্য সহজসাধ্য করা এবং কুরআনের ভাষাগত অলৌকিকত্বকে প্রস্ফুটিত করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *