আদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়্যাহ ২য় পত্র (Ad-Dawah Al-Islamiyyah 2nd Paper) – 429, আদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়্যাহ – ফাযিল পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

StudyBoi StudyBoi
September 26, 2026
৬১ মিনিট পড়ার সময়
১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন

ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – ২০২২
বিষয়: আদ-দাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ (ঐচ্ছিক) ২য় পত্র (বিষয় কোড: ৪২৯)
[ইসলামী দাওয়াহর ইতিহাস / তারিখুদ দাওয়াহ]
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২-এর আদ-দাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ ২য় পত্র (বিষয় কোড: ৪২৯) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণ্য অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির ২০ নম্বরের রচনামূলক প্রশ্নের উচ্চমান বজায় রেখে ভূমিকা, ঐতিহাসিক পটভূমি, কুরআন ও সুন্নাহর দলিল, বিশ্লেষণী পয়েন্ট এবং উপসংহার সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।

কন্টেন্ট তালিকা / প্রশ্নসূচি

  1. اكتب نبذة من حياة موسى عليه الصلاة والسلام ومخالفات قومه معه. [মূসা (আ)-এর জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও এবং তাঁর সঙ্গে তাঁর কওমের বিরোধিতার বিষয়গুলো উল্লেখ কর।]
  2. تحدث عن المشاكل التى واجهها رسول الله صلى الله عليه وسلم ايام دعوته فى مكة. [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দাওয়াত প্রচারকালীন যে সকল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন তা আলোচনা কর।]
  3. تحدث عن الاعمال الدعوية أيام خلافة عمر بن الخطاب رضى الله عنه. [ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর খেলাফতকালে ইসলামী দাওয়াহ এর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা কর।]
  4. ما هى الخطوات التى اتخذها معاوية رضى الله عنه لنشر الاسلام فى بلاد الأعاجم؟ بين مفصلا. [অনারব বিশ্বে ইসলাম প্রচারের জন্য মুআবিয়া (রা) কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
  5. اكتب نبذة من حياة عمر بن عبد العزيز (رح) – ثم تحدث عن مبادراته التجديدية وأعماله الدعوية. [ওমর ইবনু আবদুল আযীয (র)-এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ এবং তার সংস্কারমূলক উদ্যোগ ও দাওয়াতি কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা কর।]
  6. كيف كانت حالة الدعوة الاسلامية أيام الخلافة العباسية؟ بين موضحا. [আব্বাসী খেলাফত আমলে দাওয়াতি কার্যক্রমের অবস্থা কেমন ছিল? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]
  7. تحدث عن دور الخلافة العثمانية فى نشر دعوة الاسلام فى اوروبا. [ইউরোপে ইসলামের দাওয়াত প্রচারে উসমানি খেলাফতের অবদান আলোচনা কর।]
  8. من كان شرف الدين ابو توامة؟ بين مساهمته فى نشر علم الحديث فى بنغلاديশ. [শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ কে? বাংলাদেশে ইলমুল হাদীস বিস্তারে তাঁর অবদান বর্ণনা কর।]
  9. اذكر الوسائل الملائمة لنجاح الدعوة الاسلامية فى العصر الحاضر. [বর্তমান যুগে ইসলামী দাওয়াতের সফলতা লাভের উপযোগী পদ্ধতিসমূহ উল্লেখ কর।]
  10. علق على اثنين: نبى الله صالح عليه السلام, المدارس الاسلامية فى بنغلاديش, وسائل الدعوة فى العصر الحاضر, شاه جلال رحمه الله. [টীকা: হযরত সালেহ (আ.), বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা, আধুনিক দাওয়াত, হযরত শাহ জালাল (র.)]

প্রশ্নোত্তর ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান

১. اكتب نبذة من حياة موسى عليه الصلاة والسلام ومخالفات قومه معه. [মূসা (আ)-এর জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও এবং তাঁর সঙ্গে তাঁর কওমের বিরোধিতার বিষয়গুলো উল্লেখ কর।]

ভূমিকা:
হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) হলেন ‘আবুল আম্বিয়া’ বা নবীদের পিতা এবং তাওহীদের মহান রূপকার। তাঁর গোটা জীবনটাই ছিল শিরক, মূর্তিপূজা এবং নমরূদের অহংকারী শাসনের বিরুদ্ধে এক আপসহীন দাওয়াতি মহাকাব্য। অত্যন্ত শান্ত, যুক্তিনির্ভর ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপায়ে তিনি তাঁর কওম, পিতা এবং সম্রাটের সামনে তাওহীদের সত্যতা প্রমাণ করেছিলেন।

১. হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দাওয়াতি কৌশল ও বিভিন্ন ক্ষেত্র:

  1. ১. পিতার সাথে স্নেহশীল দাওয়াতি সংলাপ:
    তাঁর পিতা আযর ছিল রাজকীয় মূর্তির কারিগর। ইব্রাহিম (আ.) অত্যন্ত আদবের সাথে বললেন: يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنكَ شَيْئًا – “হে আমার পিতা! আপনি কেন এমন বস্তুর পূজা করেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না?” (সূরা মারিয়াম: ৪২)। পিতা তাঁকে পাথর মেরে হত্যার হুমকি দিলেও তিনি বললেন: “আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আমি আমার রবের নিকট আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব।”
  2. ২. কওমের সামনে যুক্তি দিয়ে মূর্তিপূজার অসারতা প্রমাণ:
    কওমের লোকেরা যখন মেলায় চলে গেল, তখন তিনি মন্দিরে ঢুকে প্রধান মূর্তিটি ছাড়া বাকি সব মূর্তি ভেঙে ফেললেন। লোকেরা তাঁকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে বললেন: “বরং এদের এই বড় মূর্তিটিই হয়তো একাজ করেছে, তাকেই জিজ্ঞেস কর যদি সে কথা বলতে পারে!” কাফিররা লজ্জিত হয়ে মাথা নিচু করে বলল: “তুমি তো জান এরা কথা বলে না।” তখন তিনি বললেন: “তবে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর পূজা কর যা তোমাদের উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না?”
  3. ৩. নক্ষত্রপূজারীদের সাথে যুক্তিভিত্তিক দাওয়াত:
    তিনি নক্ষত্র, চাঁদ ও সূর্যকে দেখে কওমকে দেখালেন যে, এগুলো উদিত হয় এবং অস্ত যায়। তিনি ঘোষণা করলেন: لَا أُحِبُّ الْآفِلِينَ – “যা অস্ত যায় আমি তা পছন্দ করি না।” অবশেষে বললেন: إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا – “নিশ্চয় আমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজের মুখ সেই সত্তার দিকে ফেরালাম যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আল-আন’আম: ৭৯)।
  4. ৪. নমরূদের দরবারে অকাট্য যুক্তির জয়:
    নমরূদ দাবি করল সে-ও জীবন ও মৃত্যু দেয়। ইব্রাহিম (আ.) বললেন: “নিশ্চয় আল্লাহ পূর্ব দিক থেকে সূর্য উদিত করেন, তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করে দেখাও!” এতে কাফির সম্রাট হতভম্ব হয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেল।

উপসংহার:
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দাওয়াত আমাদের শেখায় যে, চরম প্রতিকূল পরিবেশেও সত্যের দাঈকে হতে হবে যুক্তিবাদী, পরম ধৈর্যশীল এবং একমাত্র আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থাশীল।

২. تحدث عن المشاكل التى واجهها رسول الله صلى الله عليه وسلم ايام دعوته فى مكة. [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দাওয়াত প্রচারকালীন যে সকল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন তা আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
ইসলামি দাওয়াত কোনো আকস্মিক বিপ্লব ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সুবিন্যস্ত এক ঐতিহাসিক মহাবিপ্লব। মক্কার চরম বৈরি পরিবেশ থেকে শুরু করে মদিনার ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম পর্যন্ত দাওয়াহর প্রতিটি পর্যায় ছিল বিজ্ঞানসম্মত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশল দ্বারা পরিচালিত।

১. দাওয়াহর সংজ্ঞা ও মূল চেতনা:
আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনবিধানের দিকে মানুষকে আহ্বান জানানোর নামই দাওয়াত। এই দাওয়াহর মূল ভিত্তি ছিল তিনটি বিষয়: তাওহীদ প্রতিষ্ঠা, শিরক নির্মূল এবং উত্তম চরিত্রের বিকাশ।

২. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দাওয়াতি জীবনের মৌলিক পর্যায়সমূহ (مراحل الدعوة الإسلامية):

  1. ১. প্রথম পর্যায়: গোপন দাওয়াত (الدعوة السرية – প্রথম ৩ বছর):
    হেরা গুহায় প্রথম অহী লাভের পর সূরা আল-মুদ্দাসসিরের নির্দেশ পেয়ে নবীজী (সা.) তাঁর নিকটতম ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের গোপনে দাওয়াত দেন। এ পর্যায়ে হযরত খাদিজা, আবু বকর, আলী ও যায়েদ বিন হারেসা (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। দারুল আরক্বাম ছিল এ যুগের মূল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
  2. ২. দ্বিতীয় পর্যায়: নিকটাত্মীয়দের মাঝে প্রকাশ্য দাওয়াত (دعوة العشيرة والأقربين):
    আল্লাহর নির্দেশ নাজিল হলো: وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ – “আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।” (সূরা আশ-শুআরা: ২১৪)। নবীজী সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে কুরাইশদের এক আল্লাহর প্রতি ঈমানের আহ্বান জানান, যেখানে আবু লাহাব প্রকাশ্যে চরম শত্রুতা শুরু করে।
  3. ৩. তৃতীয় পর্যায়: মক্কায় সর্বজনীন প্রকাশ্য দাওয়াত ও প্রতিরোধ (الدعوة الجهرية العامة):
    আল্লাহর নির্দেশ আসল: فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ – “আপনাকে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করুন।” (সূরা আল-হিজর: ৯৪)। কুরাইশরা সাহাবীদের ওপর চরম নির্যাতন চালায়, শিআবে আবি তালিবে ৩ বছর বয়কট করে এবং সাহাবীদের আবিসিনিয়ায় হিজরত করতে হয়।
  4. ৪. চতুর্থ পর্যায়: মক্কার বাইরে হজের মৌসুমে গোত্রভিত্তিক দাওয়াত:
    তায়েফে রক্তঝরা দাওয়াতি সফর এবং হজের মৌসুমে আগত বিভিন্ন বহিরাগত গোত্রের সাথে যোগাযোগ। অবশেষে মদিনার খাজরাজ ও আওস গোত্রের সাথে ঐতিহাসিক আক্বাবার প্রথম ও দ্বিতীয় বাইয়াত সম্পাদিত হয়।
  5. ৫. পঞ্চম পর্যায়: হিজরত ও মদিনায় দাওয়াহর রাষ্ট্রীয় রূপ (المرحلة المدنية):
    মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববী নির্মাণ, আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, মদিনা সনদ স্বাক্ষর এবং ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। এ পর্যায়ে প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ এবং বিশ্বের সম্রাটদের (রোম, পারস্য, মিশর) কাছে দূত মারফত দাওয়াতি পত্র প্রেরণ করে দাওয়াতকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়া হয়।

উপসংহার:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই পর্যায়ক্রমিক দাওয়াতি কৌশল বর্তমান যুগের দাঈদের জন্য অনুপম আদর্শ। পরিস্থিতি ও পরিবেশ বুঝে ধারাবাহিক পরিকল্পনা প্রণয়নই দাওয়াহর সফলতার মূল চাবিকাঠি।

৩. تحدث عن الاعمال الدعوية أيام خلافة عمر بن الخطاب رضى الله عنه. [ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর খেলাফতকালে ইসলামী দাওয়াহ এর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন মুসলিম ইতিহাসের এক অপরাজেয় ও দূরদর্শী খলিফা। তাঁর খেলাফতকালে (১৩ – ২৩ হিজরী) ইসলামি দাওয়াহ আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি রোমান (বাইজেন্টাইন) ও পারস্য (সাসানীয়) সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে যায় এবং অনারব বিশ্বে দাওয়াহর এক অভূতপূর্ব জাগরণ সূচিত হয়।

১. অনারব বিশ্বে ইসলাম প্রসারে উমর (রা.)-এর দাওয়াতি পদক্ষেপের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. ১. ইনসাফ ও সুবিচারের মাধ্যমে মন জয়:
    হযরত উমর (রা.) সেনাপতিদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, কোনো নিরস্ত্র নাগরিক, কৃষক, নারী, শিশু বা ধর্মীয় পুরোহিতকে হত্যা করা যাবে না। সিরিয়া ও মিশরের খ্রিস্টান নাগরিকরা রোমান শাসকদের কর ও ধর্মীয় নির্যাতনের চেয়ে মুসলিম শাসকদের ইনসাফপূর্ণ শাসনকে স্বাগত জানিয়েছিল। সেনাপতি আবু উবাইদাহ যখন হিমসের অমুসলিম প্রজাদের নিরাপত্তা দিতে পারলেন না, তখন তিনি তাদের থেকে গৃহীত জিজিয়া করের সমস্ত অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন—যা দেখে শত শত অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে।
  2. ২. জোরপূর্বক ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ:
    কুরআনের নির্দেশ لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ (“দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই”) হুবহু কার্যকর করা হয়। জেরুজালেমের খ্রিস্টানদের সাথে সম্পাদিত ‘আহদে উমরিয়া’ (উমরের সন্ধিপত্র) ধর্মীয় স্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক সনদ, যার ফলে কোনো গির্জা ভাঙা হয়নি।
  3. ৩. বিজিত অঞ্চলে সাহাবীদের শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ:
    হযরত উমর কেবল ভূখণ্ড জয় করেই ক্ষান্ত হননি; বরং কুফা, বসরা, দামেস্ক ও মিশরে মানুষকে কুরআন ও হাদিস শিক্ষার জন্য হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, মুআজ ইবনে জাবাল ও আবু দারদা (রা.)-এর মতো প্রখ্যাত সাহাবীদের শিক্ষক হিসেবে স্থায়ীভাবে পাঠিয়েছিলেন।
  4. ৪. নতুন সেনানগরী ও মসজিদ নির্মাণ:
    বিজিত এলাকায় ইসলামের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কুফা, বসরা ও ফুসতাত (কায়রো) নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিটি সেনানিবাসে জামে মসজিদ নির্মাণ করে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র গড়ে তোলেন।
  5. ৫. দাস ও অনারবদের সামাজিক মর্যাদা দান:
    হযরত উমর ঘোষণা করেছিলেন: “তোমরা কবে থেকে মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মায়েরা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছিল!” অনারবদের সাথে বৈষম্যহীন আচরণ তাদের দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে টেনে এনেছিল।

উপসংহার:
হযরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালে ইসলামের যে বিস্তার ঘটেছিল, তা কোনো তলোয়ারের শক্তিতে নয়; বরং শরিয়তের ইনসাফ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রভাবেই অনারব জাতিগুলো ইসলামকে পরম আগ্রহে আলিঙ্গন করেছিল।

৪. ما هى الخطوات التى اتخذها معاوية رضى الله عنه لنشر الاسلام فى بلاد الأعاجم؟ بين مفصلا. [অনারব বিশ্বে ইসলাম প্রচারের জন্য মুআবিয়া (রা) কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
হিজরী ৪১ সনে হযরত মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে উমাইয়া খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তা হিজরী ১৩২ সন পর্যন্ত সুদীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দীকাল স্থায়ী ছিল। উমাইয়া খেলাফতকালে মুসলিম খেলাফত দামেস্ককে রাজধানী করে পশ্চিমে স্পেন (আন্দালুসিয়া) ও আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পূর্বে সিন্ধু ও মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক সাম্রাজ্যে রূপ নেয়। এ যুগে ভৌগোলিক বিজয়ের সাথে সাথে ইসলামি দাওয়াহ বিশ্বজনীন বিস্তৃতি লাভ করে।

১. উমাইয়া খেলাফতের দাওয়াতি অগ্রযাত্রার প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
১. ইউরোপের স্পেনে ইসলামের প্রবেশ (৭১১ খ্রি.): উমাইয়া সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে ইউরোপের স্পেনে ইসলামি শরিয়তের ইনসাফ কায়েম করেন। এর ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার নবজাগরণ সূচিত হয়।
২. মধ্য এশিয়ায় দাওয়াত ও বিজয়: অপরাজেয় সেনাপতি কুতাইবা বিন মুসলিম সমরকন্দ, বুখারা ও খোয়ারিজম জয় করে সেখানে ইসলামি দাওয়াহর সুদৃঢ় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যেখান থেকে পরবর্তীতে ইমাম বুখারী ও ইমাম তিরমিযীর মতো মহামনীষীদের জন্ম হয়।
৩. সিন্ধু ও ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন (৭১২ খ্রি.): মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আলোকবর্তিকা প্রবেশ করে।
৪. হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয (র.)-এর মুজাদ্দিদসুলভ দাওয়াতি বিপ্লব: তিনি খলিফা হয়ে অমুসলিমদের ওপর থেকে অন্যায় জিজিয়া প্রত্যাহার করেন এবং সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী অমুসলিম রাজাদের কাছে দাওয়াতি চিঠি পাঠান। তাঁর ইনসাফ দেখে মাত্র আড়াই বছরের শাসনামলে ভারত, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার লাখ লাখ অমুসলিম স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে।
৫. আরবি ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ: খলিফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ান রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে আরবি বাধ্যতামূলক করেন, ফলে কুরআন ও হাদিসের ভাষা সমগ্র সাম্রাজ্যে সাধারণ জনতার ভাষায় পরিণত হয়।

২. উমাইয়া যুগের দাওয়াতি সীমাবদ্ধতা ও সংকটসমূহ:
১. রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের পরোক্ষ শুরা ব্যবস্থা বিলোপ।
২. কোনো কোনো উমাইয়া শাসকের মধ্যে অনারব মুসলমানদের (মাওয়ালী) ওপর আরবদের জাত্যাভিমান প্রকাশের দুর্বলতা।
৩. রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে কিছু চরমপন্থী ফিরকা (শিয়া ও খারেজী)-এর উত্থান ও বিভ্রান্তি ছড়ানো।

উপসংহার:
উমাইয়া খেলাফতের কিছু রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভৌগোলিক বিস্তার এবং বিশ্বব্যাপী ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ যুগের ঐতিহাসিক অবদান মানব সভ্যতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৫. اكتب نبذة من حياة عمر بن عبد العزيز (رح) – ثم تحدث عن مبادراته التجديدية وأعماله الدعوية. [ওমর ইবনু আবদুল আযীয (র)-এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ এবং তার সংস্কারমূলক উদ্যোগ ও দাওয়াতি কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
হিজরী ৪১ সনে হযরত মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে উমাইয়া খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তা হিজরী ১৩২ সন পর্যন্ত সুদীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দীকাল স্থায়ী ছিল। উমাইয়া খেলাফতকালে মুসলিম খেলাফত দামেস্ককে রাজধানী করে পশ্চিমে স্পেন (আন্দালুসিয়া) ও আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পূর্বে সিন্ধু ও মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক সাম্রাজ্যে রূপ নেয়। এ যুগে ভৌগোলিক বিজয়ের সাথে সাথে ইসলামি দাওয়াহ বিশ্বজনীন বিস্তৃতি লাভ করে।

১. উমাইয়া খেলাফতের দাওয়াতি অগ্রযাত্রার প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
১. ইউরোপের স্পেনে ইসলামের প্রবেশ (৭১১ খ্রি.): উমাইয়া সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে ইউরোপের স্পেনে ইসলামি শরিয়তের ইনসাফ কায়েম করেন। এর ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার নবজাগরণ সূচিত হয়।
২. মধ্য এশিয়ায় দাওয়াত ও বিজয়: অপরাজেয় সেনাপতি কুতাইবা বিন মুসলিম সমরকন্দ, বুখারা ও খোয়ারিজম জয় করে সেখানে ইসলামি দাওয়াহর সুদৃঢ় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যেখান থেকে পরবর্তীতে ইমাম বুখারী ও ইমাম তিরমিযীর মতো মহামনীষীদের জন্ম হয়।
৩. সিন্ধু ও ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন (৭১২ খ্রি.): মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আলোকবর্তিকা প্রবেশ করে।
৪. হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয (র.)-এর মুজাদ্দিদসুলভ দাওয়াতি বিপ্লব: তিনি খলিফা হয়ে অমুসলিমদের ওপর থেকে অন্যায় জিজিয়া প্রত্যাহার করেন এবং সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী অমুসলিম রাজাদের কাছে দাওয়াতি চিঠি পাঠান। তাঁর ইনসাফ দেখে মাত্র আড়াই বছরের শাসনামলে ভারত, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার লাখ লাখ অমুসলিম স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে।
৫. আরবি ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ: খলিফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ান রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে আরবি বাধ্যতামূলক করেন, ফলে কুরআন ও হাদিসের ভাষা সমগ্র সাম্রাজ্যে সাধারণ জনতার ভাষায় পরিণত হয়।

২. উমাইয়া যুগের দাওয়াতি সীমাবদ্ধতা ও সংকটসমূহ:
১. রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের পরোক্ষ শুরা ব্যবস্থা বিলোপ।
২. কোনো কোনো উমাইয়া শাসকের মধ্যে অনারব মুসলমানদের (মাওয়ালী) ওপর আরবদের জাত্যাভিমান প্রকাশের দুর্বলতা।
৩. রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে কিছু চরমপন্থী ফিরকা (শিয়া ও খারেজী)-এর উত্থান ও বিভ্রান্তি ছড়ানো।

উপসংহার:
উমাইয়া খেলাফতের কিছু রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভৌগোলিক বিস্তার এবং বিশ্বব্যাপী ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ যুগের ঐতিহাসিক অবদান মানব সভ্যতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৬. كيف كانت حالة الدعوة الاسلامية أيام الخلافة العباسية؟ بين موضحا. [আব্বাসী খেলাফত আমলে দাওয়াতি কার্যক্রমের অবস্থা কেমন ছিল? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
হিজরী ৪১ সনে হযরত মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে উমাইয়া খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তা হিজরী ১৩২ সন পর্যন্ত সুদীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দীকাল স্থায়ী ছিল। উমাইয়া খেলাফতকালে মুসলিম খেলাফত দামেস্ককে রাজধানী করে পশ্চিমে স্পেন (আন্দালুসিয়া) ও আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পূর্বে সিন্ধু ও মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক সাম্রাজ্যে রূপ নেয়। এ যুগে ভৌগোলিক বিজয়ের সাথে সাথে ইসলামি দাওয়াহ বিশ্বজনীন বিস্তৃতি লাভ করে।

১. উমাইয়া খেলাফতের দাওয়াতি অগ্রযাত্রার প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
১. ইউরোপের স্পেনে ইসলামের প্রবেশ (৭১১ খ্রি.): উমাইয়া সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদ জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে ইউরোপের স্পেনে ইসলামি শরিয়তের ইনসাফ কায়েম করেন। এর ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার নবজাগরণ সূচিত হয়।
২. মধ্য এশিয়ায় দাওয়াত ও বিজয়: অপরাজেয় সেনাপতি কুতাইবা বিন মুসলিম সমরকন্দ, বুখারা ও খোয়ারিজম জয় করে সেখানে ইসলামি দাওয়াহর সুদৃঢ় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যেখান থেকে পরবর্তীতে ইমাম বুখারী ও ইমাম তিরমিযীর মতো মহামনীষীদের জন্ম হয়।
৩. সিন্ধু ও ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন (৭১২ খ্রি.): মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আলোকবর্তিকা প্রবেশ করে।
৪. হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয (র.)-এর মুজাদ্দিদসুলভ দাওয়াতি বিপ্লব: তিনি খলিফা হয়ে অমুসলিমদের ওপর থেকে অন্যায় জিজিয়া প্রত্যাহার করেন এবং সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী অমুসলিম রাজাদের কাছে দাওয়াতি চিঠি পাঠান। তাঁর ইনসাফ দেখে মাত্র আড়াই বছরের শাসনামলে ভারত, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার লাখ লাখ অমুসলিম স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে।
৫. আরবি ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ: খলিফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ান রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে আরবি বাধ্যতামূলক করেন, ফলে কুরআন ও হাদিসের ভাষা সমগ্র সাম্রাজ্যে সাধারণ জনতার ভাষায় পরিণত হয়।

২. উমাইয়া যুগের দাওয়াতি সীমাবদ্ধতা ও সংকটসমূহ:
১. রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের পরোক্ষ শুরা ব্যবস্থা বিলোপ।
২. কোনো কোনো উমাইয়া শাসকের মধ্যে অনারব মুসলমানদের (মাওয়ালী) ওপর আরবদের জাত্যাভিমান প্রকাশের দুর্বলতা।
৩. রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে কিছু চরমপন্থী ফিরকা (শিয়া ও খারেজী)-এর উত্থান ও বিভ্রান্তি ছড়ানো।

উপসংহার:
উমাইয়া খেলাফতের কিছু রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভৌগোলিক বিস্তার এবং বিশ্বব্যাপী ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ যুগের ঐতিহাসিক অবদান মানব সভ্যতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৭. تحدث عن دور الخلافة العثمانية فى نشر دعوة الاسلام فى اوروبا. [ইউরোপে ইসলামের দাওয়াত প্রচারে উসমানি খেলাফতের অবদান আলোচনা কর।]

ভূমিকা:
আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন মুসলিম ইতিহাসের এক অপরাজেয় ও দূরদর্শী খলিফা। তাঁর খেলাফতকালে (১৩ – ২৩ হিজরী) ইসলামি দাওয়াহ আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি রোমান (বাইজেন্টাইন) ও পারস্য (সাসানীয়) সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে যায় এবং অনারব বিশ্বে দাওয়াহর এক অভূতপূর্ব জাগরণ সূচিত হয়।

১. অনারব বিশ্বে ইসলাম প্রসারে উমর (রা.)-এর দাওয়াতি পদক্ষেপের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. ১. ইনসাফ ও সুবিচারের মাধ্যমে মন জয়:
    হযরত উমর (রা.) সেনাপতিদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, কোনো নিরস্ত্র নাগরিক, কৃষক, নারী, শিশু বা ধর্মীয় পুরোহিতকে হত্যা করা যাবে না। সিরিয়া ও মিশরের খ্রিস্টান নাগরিকরা রোমান শাসকদের কর ও ধর্মীয় নির্যাতনের চেয়ে মুসলিম শাসকদের ইনসাফপূর্ণ শাসনকে স্বাগত জানিয়েছিল। সেনাপতি আবু উবাইদাহ যখন হিমসের অমুসলিম প্রজাদের নিরাপত্তা দিতে পারলেন না, তখন তিনি তাদের থেকে গৃহীত জিজিয়া করের সমস্ত অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন—যা দেখে শত শত অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে।
  2. ২. জোরপূর্বক ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ:
    কুরআনের নির্দেশ لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ (“দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই”) হুবহু কার্যকর করা হয়। জেরুজালেমের খ্রিস্টানদের সাথে সম্পাদিত ‘আহদে উমরিয়া’ (উমরের সন্ধিপত্র) ধর্মীয় স্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক সনদ, যার ফলে কোনো গির্জা ভাঙা হয়নি।
  3. ৩. বিজিত অঞ্চলে সাহাবীদের শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ:
    হযরত উমর কেবল ভূখণ্ড জয় করেই ক্ষান্ত হননি; বরং কুফা, বসরা, দামেস্ক ও মিশরে মানুষকে কুরআন ও হাদিস শিক্ষার জন্য হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, মুআজ ইবনে জাবাল ও আবু দারদা (রা.)-এর মতো প্রখ্যাত সাহাবীদের শিক্ষক হিসেবে স্থায়ীভাবে পাঠিয়েছিলেন।
  4. ৪. নতুন সেনানগরী ও মসজিদ নির্মাণ:
    বিজিত এলাকায় ইসলামের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কুফা, বসরা ও ফুসতাত (কায়রো) নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিটি সেনানিবাসে জামে মসজিদ নির্মাণ করে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র গড়ে তোলেন।
  5. ৫. দাস ও অনারবদের সামাজিক মর্যাদা দান:
    হযরত উমর ঘোষণা করেছিলেন: “তোমরা কবে থেকে মানুষকে দাসে পরিণত করলে, অথচ তাদের মায়েরা তাদের স্বাধীন হিসেবে জন্ম দিয়েছিল!” অনারবদের সাথে বৈষম্যহীন আচরণ তাদের দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে টেনে এনেছিল।

উপসংহার:
হযরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালে ইসলামের যে বিস্তার ঘটেছিল, তা কোনো তলোয়ারের শক্তিতে নয়; বরং শরিয়তের ইনসাফ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রভাবেই অনারব জাতিগুলো ইসলামকে পরম আগ্রহে আলিঙ্গন করেছিল।

৮. من كان شرف الدين ابو توامة؟ بين مساهمته فى نشر علم الحديث فى بنغلاديশ. [শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাহ কে? বাংলাদেশে ইলমুল হাদীস বিস্তারে তাঁর অবদান বর্ণনা কর।]

ভূমিকা:
বাংলাদেশ আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। এই ভূখণ্ডে ইসলামের আগমন কোনো সামরিক বাহিনীর অগ্রাভিযানের পূর্বে সুফী, দরবেশ ও ইসলামি দাঈগণের অক্লান্ত ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ দাওয়াহর মাধ্যমেই সাধিত হয়েছিল। প্রাচীন বাংলার সামাজিক শোষণ ও ধর্মীয় নিপীড়নের মুখে ইসলামি দাওয়াত ছিল সাধারণ জনতার মুক্তির মহাসনদ।

১. বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের পথিকৃৎ আউলিয়া ও দাঈগণ:

  1. ১. হযরত শাহ জালাল ইয়ামেনী (র.) (সিলেট):
    তিনি ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ জন আউলিয়াকে সাথে নিয়ে অত্যাচারী রাজা গৌরগোবিন্দের জুলুমের অবসান ঘটিয়ে সিলেটে ইসলামি দাওয়াহর ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব ও মানবিক আচরণে মুগ্ধ হয়ে সুরমা উপত্যকার হাজার হাজার অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে।
  2. ২. হযরত খান জাহান আলী (র.) (বাগেরহাট):
    দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় তিনি একাধারে ইসলামি দাওয়াত ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। শত শত দিঘি খনন, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং সুবিশাল ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে তিনি ইসলামের সামাজিক কল্যাণমুখী রূপ তুলে ধরেন।
  3. ৩. শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (র.) (সোনারগাঁও):
    তিনি সোনারগাঁওয়ে একটি সুবিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (মাদরাসা) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল সমগ্র পূর্ব ভারতে হাদিস ও ইসলামি ইলমের প্রধান কেন্দ্র। বিহারের বিখ্যাত দাঈ হযরত মখদুম শারফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী তাঁরই ছাত্র ছিলেন।
  4. ৪. শাহ মাখদুম রূপোশ (র.) (রাজশাহী): বরেন্দ্র অঞ্চলে তিনি ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেন।
  5. ৫. আধুনিক যুগের দাঈ: মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ (র.):
    ব্রিটিশ আমলে খ্রিস্টান মিশনারিরা যখন দরিদ্র মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করছিল, তখন তিনি তাঁর অসাধারণ বাকপটুতা ও লিখনীর মাধ্যমে খ্রিস্টান পাদ্রিদের প্রকাশ্যে বাহাসে পরাজিত করে বাংলার মুসলমানদের ঈমান রক্ষা করেন।
  6. ৬. মাওলানা নেছারুদ্দীন আহমদ (র.) (ছারছীনা): তিনি মাদরাসা শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন।

উপসংহার:
বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয় এই মহান দাঈ ও সুফীদের পবিত্র রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শ আমাদের জাতীয় জীবনের চিরন্তন আলোকবর্তিকা।

৯. اذكر الوسائل الملائمة لنجاح الدعوة الاسلامية فى العصر الحاضر. [বর্তমান যুগে ইসলামী দাওয়াতের সফলতা লাভের উপযোগী পদ্ধতিসমূহ উল্লেখ কর।]

ভূমিকা:
ইসলামি দাওয়াত কোনো আকস্মিক বিপ্লব ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সুবিন্যস্ত এক ঐতিহাসিক মহাবিপ্লব। মক্কার চরম বৈরি পরিবেশ থেকে শুরু করে মদিনার ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম পর্যন্ত দাওয়াহর প্রতিটি পর্যায় ছিল বিজ্ঞানসম্মত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌশল দ্বারা পরিচালিত।

১. দাওয়াহর সংজ্ঞা ও মূল চেতনা:
আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনবিধানের দিকে মানুষকে আহ্বান জানানোর নামই দাওয়াত। এই দাওয়াহর মূল ভিত্তি ছিল তিনটি বিষয়: তাওহীদ প্রতিষ্ঠা, শিরক নির্মূল এবং উত্তম চরিত্রের বিকাশ।

২. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দাওয়াতি জীবনের মৌলিক পর্যায়সমূহ (مراحل الدعوة الإسلامية):

  1. ১. প্রথম পর্যায়: গোপন দাওয়াত (الدعوة السرية – প্রথম ৩ বছর):
    হেরা গুহায় প্রথম অহী লাভের পর সূরা আল-মুদ্দাসসিরের নির্দেশ পেয়ে নবীজী (সা.) তাঁর নিকটতম ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের গোপনে দাওয়াত দেন। এ পর্যায়ে হযরত খাদিজা, আবু বকর, আলী ও যায়েদ বিন হারেসা (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। দারুল আরক্বাম ছিল এ যুগের মূল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
  2. ২. দ্বিতীয় পর্যায়: নিকটাত্মীয়দের মাঝে প্রকাশ্য দাওয়াত (دعوة العشيرة والأقربين):
    আল্লাহর নির্দেশ নাজিল হলো: وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ – “আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।” (সূরা আশ-শুআরা: ২১৪)। নবীজী সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে কুরাইশদের এক আল্লাহর প্রতি ঈমানের আহ্বান জানান, যেখানে আবু লাহাব প্রকাশ্যে চরম শত্রুতা শুরু করে।
  3. ৩. তৃতীয় পর্যায়: মক্কায় সর্বজনীন প্রকাশ্য দাওয়াত ও প্রতিরোধ (الدعوة الجهرية العامة):
    আল্লাহর নির্দেশ আসল: فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ – “আপনাকে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করুন।” (সূরা আল-হিজর: ৯৪)। কুরাইশরা সাহাবীদের ওপর চরম নির্যাতন চালায়, শিআবে আবি তালিবে ৩ বছর বয়কট করে এবং সাহাবীদের আবিসিনিয়ায় হিজরত করতে হয়।
  4. ৪. চতুর্থ পর্যায়: মক্কার বাইরে হজের মৌসুমে গোত্রভিত্তিক দাওয়াত:
    তায়েফে রক্তঝরা দাওয়াতি সফর এবং হজের মৌসুমে আগত বিভিন্ন বহিরাগত গোত্রের সাথে যোগাযোগ। অবশেষে মদিনার খাজরাজ ও আওস গোত্রের সাথে ঐতিহাসিক আক্বাবার প্রথম ও দ্বিতীয় বাইয়াত সম্পাদিত হয়।
  5. ৫. পঞ্চম পর্যায়: হিজরত ও মদিনায় দাওয়াহর রাষ্ট্রীয় রূপ (المرحلة المدنية):
    মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববী নির্মাণ, আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, মদিনা সনদ স্বাক্ষর এবং ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। এ পর্যায়ে প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ এবং বিশ্বের সম্রাটদের (রোম, পারস্য, মিশর) কাছে দূত মারফত দাওয়াতি পত্র প্রেরণ করে দাওয়াতকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়া হয়।

উপসংহার:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই পর্যায়ক্রমিক দাওয়াতি কৌশল বর্তমান যুগের দাঈদের জন্য অনুপম আদর্শ। পরিস্থিতি ও পরিবেশ বুঝে ধারাবাহিক পরিকল্পনা প্রণয়নই দাওয়াহর সফলতার মূল চাবিকাঠি।

১০. علق على اثنين: نبى الله صالح عليه السلام, المدارس الاسلامية فى بنغلاديش, وسائل الدعوة فى العصر الحاضر, شاه جلال رحمه الله. [টীকা: হযরত সালেহ (আ.), বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা, আধুনিক দাওয়াত, হযরত শাহ জালাল (র.)]

ভূমিকা:
বাংলাদেশ আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। এই ভূখণ্ডে ইসলামের আগমন কোনো সামরিক বাহিনীর অগ্রাভিযানের পূর্বে সুফী, দরবেশ ও ইসলামি দাঈগণের অক্লান্ত ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ দাওয়াহর মাধ্যমেই সাধিত হয়েছিল। প্রাচীন বাংলার সামাজিক শোষণ ও ধর্মীয় নিপীড়নের মুখে ইসলামি দাওয়াত ছিল সাধারণ জনতার মুক্তির মহাসনদ।

১. বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের পথিকৃৎ আউলিয়া ও দাঈগণ:

  1. ১. হযরত শাহ জালাল ইয়ামেনী (র.) (সিলেট):
    তিনি ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ জন আউলিয়াকে সাথে নিয়ে অত্যাচারী রাজা গৌরগোবিন্দের জুলুমের অবসান ঘটিয়ে সিলেটে ইসলামি দাওয়াহর ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব ও মানবিক আচরণে মুগ্ধ হয়ে সুরমা উপত্যকার হাজার হাজার অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে।
  2. ২. হযরত খান জাহান আলী (র.) (বাগেরহাট):
    দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় তিনি একাধারে ইসলামি দাওয়াত ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। শত শত দিঘি খনন, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং সুবিশাল ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে তিনি ইসলামের সামাজিক কল্যাণমুখী রূপ তুলে ধরেন।
  3. ৩. শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (র.) (সোনারগাঁও):
    তিনি সোনারগাঁওয়ে একটি সুবিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (মাদরাসা) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল সমগ্র পূর্ব ভারতে হাদিস ও ইসলামি ইলমের প্রধান কেন্দ্র। বিহারের বিখ্যাত দাঈ হযরত মখদুম শারফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী তাঁরই ছাত্র ছিলেন।
  4. ৪. শাহ মাখদুম রূপোশ (র.) (রাজশাহী): বরেন্দ্র অঞ্চলে তিনি ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেন।
  5. ৫. আধুনিক যুগের দাঈ: মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ (র.):
    ব্রিটিশ আমলে খ্রিস্টান মিশনারিরা যখন দরিদ্র মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করছিল, তখন তিনি তাঁর অসাধারণ বাকপটুতা ও লিখনীর মাধ্যমে খ্রিস্টান পাদ্রিদের প্রকাশ্যে বাহাসে পরাজিত করে বাংলার মুসলমানদের ঈমান রক্ষা করেন।
  6. ৬. মাওলানা নেছারুদ্দীন আহমদ (র.) (ছারছীনা): তিনি মাদরাসা শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন।

উপসংহার:
বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয় এই মহান দাঈ ও সুফীদের পবিত্র রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শ আমাদের জাতীয় জীবনের চিরন্তন আলোকবর্তিকা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

ফাযিল ৩য় বর্ষ আদ-দাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ ২য় পত্রের মূল বিষয়বস্তু কী?

আদ-দাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ ২য় পত্রের (বিষয় কোড: ৪২৯) সিলেবাস মূলত দাওয়াহর ইতিহাস (তারিখুদ দাওয়াহ)-এর ওপর রচিত। এতে আম্বিয়ায়ে কেরামের দাওয়াতি কৌশল, রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবাদের দাওয়াত, খোলাফায়ে রাশেদীন, উমাইয়া-আব্বাসী যুগ এবং ভারতীয় উপমহাদেশ ও বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত।

ফাযিল পরীক্ষায় ২০ নম্বরের প্রশ্নের আদর্শ উত্তরের পরিধি কতটুকু হওয়া উচিত?

ডিগ্রি ও অনার্স মানবণ্টন অনুযায়ী প্রতিটি ২০ নম্বরের প্রশ্নের জন্য ভূমিকা, ঐতিহাসিক পটভূমি, কুরআন ও সুন্নাহর প্রামাণ্য দলিল, ৫-৮টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট, সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা এবং উপসংহার সহযোগে কমপক্ষে ৩৫০ থেকে ৫০০+ শব্দে উত্তর লেখা কাম্য।

হযরত নূহ (আ.) কত বছর তাঁর কওমকে দাওয়াত দিয়েছিলেন?

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আনকাবূতের ১৪ নম্বর আয়াত অনুযায়ী হযরত নূহ (আ.) তাঁর অবাধ্য জাতিকে সুদীর্ঘ সাড়ে নয়শত (৯৫০) বছর ধরে অবিরাম তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছিলেন।

অনারব বিশ্বে ইসলাম প্রসারে হযরত উমর (রা.)-এর মূল নীতি কী ছিল?

হযরত উমর (রা.) সেনাপতিদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন কোনো নিরস্ত্র নাগরিক ও ধর্মগুরুকে আঘাত না করতে, জোরপূর্বক ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করেছিলেন, এবং ইনসাফ ও সুবিচারের মাধ্যমে অমুসলিমদের মন জয় করে শিক্ষক সাহাবীদের মাধ্যমে দ্বীন শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন।

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে কোন সুফী-সাধকের ভূমিকা প্রধান ছিল?

হযরত শাহ জালাল (র.) ৩৬০ জন আউলিয়া নিয়ে সিলেটে এবং হযরত খান জাহান আলী (র.) দক্ষিণাঞ্চলে সমাজসেবা ও মসজিদভিত্তিক দাওয়াহর মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের প্রধান পথিকৃৎ ছিলেন।

মক্কী জীবনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দাওয়াহর কয়টি পর্যায় ছিল?

মক্কী জীবনে দাওয়াহর প্রধানত তিনটি পর্যায় ছিল: ১. প্রথম ৩ বছর সম্পূর্ণ গোপন দাওয়াত, ২. নিকটাত্মীয়দের মাঝে প্রকাশ্য দাওয়াত এবং ৩. সাফা পাহাড়ে ঘোষণার মাধ্যমে মক্কায় সর্বজনীন প্রকাশ্য দাওয়াত ও প্রতিরোধ মোকাবেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *