ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা – ২০২৩
বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (ঐচ্ছিক) দ্বিতীয় পত্র (বিষয় কোড: ৪১৪)
[ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক ইতিহাস (৭১২-১৭০৭ খ্রিঃ পর্যন্ত)]
সময় : ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান : ১০০
[দ্রষ্টব্য : সকল প্রশ্নের মান সমান। যে কোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফাযিল (স্নাতক) পাস ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩-এর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র (বিষয় কোড: ৪১৪) পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও অ্যাকাডেমিক সমাধান নিচে দেওয়া হলো। ফাযিল ডিগ্রি ও অনার্স শ্রেণির ২০ নম্বরের রচনামূলক প্রশ্নের উচ্চমান বজায় রেখে ভূমিকা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রামাণ্য দলিল, বিশ্লেষণী ছক এবং ফলাফল সহযোগে প্রতিটি উত্তর প্রস্তুত করা হয়েছে।
১। সুলতানী আমলে ভারতের ইতিহাস অধ্যয়নের উৎসসমূহ আলোচনা কর।
[Discuss the sources for the study of Indian history during the Sultanate period.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
মধ্যযুগীয় ভারতের দিল্লি সালতানাতের (১২০৬-১৫২৬ খ্রি.) ইতিহাস বিনির্মাণে সমকালীন ঐতিহাসিক উৎসসমূহ অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। প্রাচীন ভারতের মতো সালতানাত যুগের ইতিহাস কেবল লোককথা বা পৌরাণিক কাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এ যুগের মুসলিম ঐতিহাসিকগণ আরব্য ও পারসিক ইতিহাস রচনার বস্তুনিষ্ঠ ধারা অনুসরণ করে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলি রচনা করেছিলেন। সাহিত্যিক বিবরণী, পর্যটকগণের ভ্রমণবৃত্তান্ত, শিলালিপি এবং স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষের সমন্বয়ে সুলতানী আমলের রাষ্ট্রীয় ও আর্থ-সামাজিক রূপরেখা পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়।
১. দিল্লি সালতানাতের প্রধান সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক গ্রন্থসমূহ:
| গ্রন্থের নাম | ঐতিহাসিক ও লেখক | মূল বিষয়বস্তু ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব |
|---|---|---|
| ১. তাজুল মাআসির (تاج المآثر) | হাসান নিজামী | দিল্লি সালতানাতের প্রাথমিক পর্ব, কুতুবউদ্দীন আইবেক এবং ইলতুতমিশের প্রাথমিক বিজয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজকীয় ইতিহাস। |
| ২. তবকাত-ই-নাসিরী (طبقات ناصري) | মিনহাজ-ই-সিরাজ জুযজানী | সুলতান নাসিরউদ্দীন মাহমুদকে উৎসর্গীকৃত। গজনী, ঘূর এবং মামলুক সুলতানদের ইতিহাস ও ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের একমাত্র প্রত্যক্ষ প্রামাণ্য দলিল। |
| ৩. তারিখ-ই-ফিরোজ শাহী (১ম) | জিয়াউদ্দীন বারানী | বলবন থেকে শুরু করে ফিরোজ শাহ তুগলকের প্রথম ছয় বছরের ইতিহাস। আলাউদ্দিন খলজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং মুহাম্মদ বিন তুগলকের পরিকল্পনা বিশ্লেষণের শ্রেষ্ঠ আকর। |
| ৪. তারিখ-ই-ফিরোজ শাহী (২য়) | শামস-ই-সিরাজ আফিফ | সুলতান ফিরোজ শাহ তুগলকের সমগ্র রাজত্বকাল, তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং সালতানাতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিশদ চিত্র। |
| ৫. আমির খসরুর ঐতিহাসিক কাব্যসমূহ | আমির খসরু দেহলভী | কিরানুস সাদাইন, মিফতাহুল ফুতুহ ও খাজাইনুল ফুতুহ গ্রন্থে জালালউদ্দীন ও আলাউদ্দিন খলজির সামরিক অভিযানের প্রত্যক্ষ বিবরণ। |
| ৬. কিতাবুর রেহলা (তুহফাতুন নুযযার) | ইবনে বতুতা (মরক্কোর পর্যটক) | মুহাম্মদ বিন তুগলকের রাজত্বকালের প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ, সুলতানের চরিত্র এবং চতুর্দশ শতকের ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল। |
২. প্রত্নতাত্ত্বিক ও মুদ্রা সংক্রান্ত উৎস (Archaeological Sources):
– মুদ্রাতত্ত্ব (Numismatics): সুলতান ইলতুতমিশ প্রবর্তিত রৌপ্য মুদ্রা ‘টঙ্কা’ এবং তাম্র মুদ্রা ‘জিতল’ থেকে শুরু করে মুহাম্মদ বিন তুগলকের প্রতীকী তাম্রমুদ্রা তৎকালীন অর্থনৈতিক অবস্থা, সাম্রাজ্যের পরিধি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অকাট্য প্রমাণ দেয়।
– শিলালিপি ও স্থাপত্য (Inscriptions & Architecture): কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ, কুতুব মিনার, আলাই দরওয়াজা এবং তুগলকাবাদ দুর্গের শিলালিপি থেকে সুলতানদের উপাধি, নির্মাণকাল ও ধর্মীয় ভাবধারা সুস্পষ্ট হয়।
৩. সমকালীন ঐতিহাসিক উৎসের সীমাবদ্ধতা:
বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ রাজদরবারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থানুকূল্যে কিতাব রচনা করায় বহু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনুরাগ, তোষামোদি এবং প্রতিপক্ষ সুলতানের প্রতি বিদ্বেষের ছাপ দেখা যায়। তথাপি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তুলনামূলক যাচাইয়ের মাধ্যমে এই উপাদানগুলো থেকে ইতিহাসের সত্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব।
উপসংহার:
দিল্লি সালতানাতের ইতিহাস অধ্যয়নের এই উপাদানগুলো কেবল রাজনৈতিক উত্থান-পতনের বিবরণ দেয় না; বরং মধ্যযুগীয় ভারতীয় সমাজের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও অর্থনৈতিক বিবর্তন অনুধাবনের অমূল্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।
২। দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কুতুবউদ্দীন আইবেকের মূল্যায়ন কর।
[Evaluate Qutbuddin Aibak as the founder of the Delhi Sultanate.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
সুলতান কুতুবউদ্দীন আইবেক (১২০৬-১২১০ খ্রি.) ছিলেন উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব এবং অবিসংবাদিত দিল্লি সালতানাতের আদি প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মধ্যযুগের ‘দাস বংশ’ বা মামলুক বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও খ্যাত। তুর্কি ভাষায় ‘আইবেক’ শব্দের অর্থ চন্দ্রের ন্যায় সুন্দর হলেও তিনি ছিলেন দৈহিক ত্রুটিযুক্ত; কিন্তু অসাধারণ বীরত্ব, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং নিঃস্বার্থ বিশ্বস্ততার কারণে তিনি তাঁর মনিব মুহাম্মদ ঘূরীর প্রিয়তম সেনাপতি এবং পরবর্তীতে ভারতের প্রথম স্বাধীন মুসলিম সুলতানে পরিণত হন।
১. দাসত্ব থেকে সিংহাসন ও ভারতের বিজয়সমূহ:
– শৈশবে নিশাপুরের কাজী ফখরুদ্দীন আবদুল আজিজের কাছে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি হন। পরে মুহাম্মদ ঘূরী তাঁকে ক্রয় করেন এবং তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে ‘আমির-ই-আখুর’ (অশ্বশালার অধ্যক্ষ) পদে উন্নীত করেন।
– তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) পৃথ্বীরাজ চৌহানের পরাজয়ের পর ঘূরী ভারতের বিজিত অঞ্চলের শাসনভার আইবেকের ওপর ন্যস্ত করেন। আইবেক মিরাট, দিল্লি, কনৌজ, রনথম্বোর ও গুজরাট জয় করে উত্তর ভারতে তুর্কি প্রাধান্য কায়েম করেন।
– ১২০৬ সালে ঘূরীর আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পর লাহোরের দরবার তাঁকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে বরণ করে নেয়।
২. সুলতান হিসেবে আইবেকের কৃতিত্ব ও স্থাপত্য অবদান:
| কৃতিত্বের ক্ষেত্র | সুনির্দিষ্ট রূপ ও ঐতিহাসিক নজির |
|---|---|
| ১. দিল্লি সালতানাতের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা | গজনীর তাজুদ্দীন ইয়ালদুজ ও সিন্ধুর নাসিরউদ্দীন কুবাচার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে ভারতকে গজনীর অধীনতামুক্ত এক স্বাধীন সালতানাতে রূপ দেন। |
| ২. ‘লাখবখশ’ বা দানশীলতা | তাঁর দানশীলতা ছিল কিংবদন্তীতুল্য। দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের তিনি মুক্তহস্তে লাখ লাখ মুদ্রা দান করতেন বিধায় সমকালীন ঐতিহাসিকগণ তাঁকে ‘লাখবখশ’ (লক্ষদাতা) উপাধিতে ভূষিত করেন। |
| ৩. কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ (দিল্লি) | ভারতের মাটিতে প্রথম সুবৃহৎ রাজকীয় জুমা মসজিদ নির্মাণ করেন। |
| ৪. কুতুব মিনার ও আড়াই দিন কা ঝোপড়া | দিল্লির বিশ্ববিখ্যাত কুতুব মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন (বিখ্যাত সূফী কুতুবউদ্দীন বখতিয়ার কাকীর স্মরণে) এবং আজমীরে মাত্র আড়াই দিনে তৈরি একটি অনন্য মসজিদ নির্মাণ করেন। |
৩. আকস্মিক মৃত্যু:
১২১০ খ্রিস্টাব্দে লাহোরে ঘোড়ায় চড়ে পোলো (চৌগান) খেলার সময় ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে এই ক্ষণজন্মা সুলতান মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। লাহোরের আনারকলি বাজারে তাঁর সমাধি অবস্থিত।
উপসংহার:
আইবেক মাত্র চার বছর রাজত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন; কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তিনি ভারতবর্ষে প্রায় সোয়া তিনশত বছরের স্থায়ী মুসলিম সালতানাতের রাজকীয় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গিয়েছিলেন।
৩। সুলতান ফিরোজ শাহ তুগলকের জনহিতকর কার্যাবলি বিশ্লেষণ কর।
[Analyze the public welfare activities of Sultan Firuz Shah Tughlaq.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
দিল্লি সালতানাতের তুগলক বংশের তৃতীয় শাসক সুলতান ফিরোজ শাহ তুগলক (১৩৫১-১৩৮৮ খ্রি.) সামরিক বিজয়ের জন্য নয়; বরং তাঁর যুগান্তকারী মানবকল্যাণমুখী প্রশাসনিক সংস্কার, গণপূর্ত নির্মাণ এবং ইসলামি শরীয়তভিত্তিক প্রজাবাৎসল্যের কারণে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তাঁর পূর্বসূরি মুহাম্মদ বিন তুগলকের চরম অস্থির ও বিতর্কিত নীতির ফলে বিক্ষুব্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া প্রজাদের তিনি দীর্ঘ সাইত্রিশ বছরের শান্তিপূর্ণ শাসনামলে অভাবনীয় স্বস্তি ও সমৃদ্ধি এনে দিয়েছিলেন।
১. ফিরোজ শাহ তুগলকের জনহিতকর ও প্রশাসনিক সংস্কারসমূহ:
| সংস্কারের ক্ষেত্র | গৃহীত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য |
|---|---|
| ১. নিষ্ঠুর শাস্তি ও নির্যাতন বিলোপ | তিনি হাত-পা কাটা, চোখ উপড়ানো, নখে পেরেক ঠোকা ইত্যাদি অমানবিক মধ্যযুগীয় শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন এবং তাঁর আত্মজীবনী ফুতুহাত-ই-ফিরোজ শাহী-তে তা লিপিবদ্ধ করেন। |
| ২. অন্যায় আবওয়াব ও কর মওকুফ | শরীয়ত-বহির্ভূত প্রায় চব্বিশ প্রকার শোষণমূলক স্থানীয় কর (আবওয়াব) রহিত করে কেবল কুরআনী চার প্রকার কর (খারাজ, যাকাত, জিজিয়া ও খুমস) বহাল রাখেন। কৃষকদের পূর্বের সমস্ত কৃষিঋণ (সোন্ধার) সম্পূর্ণ মাফ করে দেন। |
| ৩. কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়ন | ভারতে সর্বপ্রথম সুবৃহৎ সেচ খাল ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। যমুনা ও শতদ্রু নদী থেকে পাঁচটি বিশাল সেচ খাল খনন করে বিস্তীর্ণ অনাবাদী জমি চাষযোগ্য করেন এবং ১২০০ ফলের বাগান গড়ে তোলেন। |
| ৪. নতুন নগর ও জনপদ প্রতিষ্ঠা | তিনি ফিরোজাবাদ (নতুন দিল্লি), ফতেহাবাদ, হিসার, জৌনপুর (মুহাম্মদ জুনা খানের স্মরণে) এবং ফিরোজপুরের মতো আধুনিক শহর ও বাণিজ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। |
| ৫. দেওয়ান-ই-খয়রাত (দাতব্য বিভাগ) | দরিদ্র, বিধবা ও এতিম মেয়েদের বিবাহ এবং অসহায় পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার জন্য স্থায়ী কল্যাণ তহবিল ও সরকারি দপ্তর গড়ে তোলেন। |
| ৬. দারুশ শিফা (বিনামূল্যে হাসপাতাল) | দিল্লিতে সুবৃহৎ দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন, যেখানে অভিজ্ঞ হাকিম ও কবিরাজদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হতো। |
| ৭. দেওয়ান-ই-বন্দেগান (দাস কল্যাণ বিভাগ) | প্রায় ১,৮০,০০০ ক্রীতদাসকে বিভিন্ন কারিগরি ও ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে উৎপাদনশীল নাগরিকে রূপান্তর করেন। |
২. ফিরোজ শাহের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা:
প্রজাকল্যাণে অনন্য হলেও তাঁর অতিরিক্ত ধর্মীয় গোঁড়ামি, সৈন্যদের বংশানুক্রমিক জায়গীর প্রথা চালু করা এবং দাসদের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা নষ্ট করেছিল, যা পরবর্তীতে সালতানাতকে দুর্বল করে তৈমুরের আক্রমণের পথ সুগম করেছিল।
উপসংহার:
সামগ্রিক মূল্যায়নে সুলতান ফিরোজ শাহ তুগলক ছিলেন একজন মহান প্রজাদরদী শাসক। মধ্যযুগের রক্তক্ষয়ী সহিংসতার মাঝে তাঁর কল্যাণমুখী রাষ্ট্রচিন্তা এক সুশীতল পরশ বুলিয়ে দিয়েছিল।
৪। শাসক ও বিজেতা হিসেবে সুলতান আলাউদ্দীন খলজির কৃতিত্ব বিচার কর।
[Assess the achievements of Sultan Alauddin Khalji as a ruler and conqueror.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
দিল্লি সালতানাতের সর্বকালের সর্বাধিক প্রতাপশালী, দিগ্বিজয়ী এবং বাস্তববাদী সামরিক শাসক ছিলেন সুলতান আলাউদ্দীন খলজি (১২৯৬-১৩১৬ খ্রি.)। খলজি বংশের এই মহান সুলতানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল সীমাহীন; তিনি নিজেকে ‘দ্বিতীয় সিকান্দার’ (সিকান্দার-ই-সানী) হিসেবে দাবি করতেন এবং বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেন। তিনি প্রথম মুসলিম শাসক যিনি উত্তর ভারতের সীমানা পেরিয়ে দাক্ষিণাত্যের সুদূর দক্ষিণ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে দিল্লি সালতানাতকে এক সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেছিলেন। একই সাথে মঙ্গোলদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে ভারতকে রক্ষা করায় তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।
১. সাম্রাজ্য বিস্তার ও সামরিক বিজয়সমূহ:
| অভিযানের অঞ্চল | বিজিত রাজ্য ও দুর্গ | নেতৃত্ব ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য |
|---|---|---|
| ১. উত্তর ভারত বিজয় | গুজরাট (১২৯৯), রনথম্বোর (১৩০১), চিতোর দুর্গ (১৩০৩) এবং মালব ও জালোর। | চিতোরের রাজা রতন সিংকে পরাজিত করে পদ্মিনী উপাখ্যানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি। উত্তর ভারতে রাজপুত প্রতিরোধের অবসান। |
| ২. দক্ষিণ ভারত বা দাক্ষিণাত্য বিজয় | দেবগিরির যাদব রাজ্য, ওয়ারঙ্গলের কাকতীয়, দ্বারসমুদ্রের হোয়সল এবং পান্ড্যদের মাদুরাই। | বিশ্বস্ত সেনাপতি মালিক কাফুরের নেতৃত্বে অভিযান। আলাউদ্দীন দাক্ষিণাত্যকে সরাসরি যুক্ত না করে তাদের আনুগত্য ও নিয়মিত বিপুল কর প্রদানের শর্তে করদ রাজ্যে পরিণত করার বাস্তববাদী নীতি নেন। |
| ৩. মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহতকরণ | কাদের খান, কুতলুগ খাজা ও তর্গীর নেতৃত্বে উপর্যুপরি ৬টি বিধ্বংসী মঙ্গোল আক্রমণ চূর্ণ করেন। | সীমান্তে শক্তিশালী দুর্গ নির্মাণ, অভিজ্ঞ সেনাপতি জাফর খানের বীরত্ব এবং রক্তক্ষয়ী দমননীতির মাধ্যমে ভারতকে মঙ্গোল ধ্বংস থেকে রক্ষা করেন। |
২. সামরিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার:
বিশাল সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য তিনি ভারতের ইতিহাসে প্রথম স্থায়ী কেন্দ্রীয় বেতনভুক্ত সেনাবাহিনী গঠন করেন। ঘোড়া দাগ দেওয়ার প্রথা (দাগ) এবং সৈনিকদের পরিচয় নথিভুক্ত করার (হুলিয়া) ব্যবস্থা চালু করেন। তাঁর কালজয়ী ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রেখে স্বল্প বেতনে সেনাদের সচ্ছলভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছিল।
উপসংহার:
সুলতান আলাউদ্দীন খলজি ছিলেন একাধারে অকুতোভয় সেনাপতি ও দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক। মধ্যযুগীয় কঠোরতা থাকলেও বহিরাগত মঙ্গোলদের হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা রক্ষা এবং একচ্ছত্র সাম্রাজ্য কায়েম করায় তাঁর কৃতিত্ব চিরভাস্বর।
৫। দিল্লি সালতানাতের পতনের কারণগুলো বর্ণনা কর।
[Describe the causes of the downfall of the Delhi Sultanate.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
১২০৬ খ্রিস্টাব্দে কুতুবউদ্দীন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দিল্লি সালতানাত দীর্ঘ তিন শতকেরও বেশি সময় ধরে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল। মামলুক, খলজি, তুগলক, সাইয়্যেদ এবং লোদী—এই পাঁচটি রাজবংশের অধীনে সালতানাত চরম বৈভব ও ক্ষমতার শিখরে আরোহণ করে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অযোগ্যতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বাহ্যিক আক্রমণের মুখে অবশেষে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের কাছে ইব্রাহিম লোদীর শোচনীয় পরাজয়ের মাধ্যমে এই সুবিশাল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
১. দিল্লি সালতানাতের পতনের প্রধান প্রধান কারণসমূহ:
| পতনের মূল কারণ | ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা ও সুনির্দিষ্ট প্রভাব |
|---|---|
| ১. সুনির্দিষ্ট উত্তরাধিকার আইনের অভাব | সুলতানের মৃত্যুর পর তরবারির শক্তিতে সিংহাসন দখল করার রেওয়াজ চালু ছিল। ফলে প্রতিটি শাসকের মৃত্যুর পর রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ সালতানাতের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। |
| ২. বিশাল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীভূত দুর্বলতা | দক্ষিণ ভারত, বাংলা ও সিন্ধুর মতো দূরবর্তী প্রদেশগুলো নিয়ন্ত্রণ করার মতো আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে প্রাদেশিক শাসনকর্তারা সুযোগ পেলেই স্বাধীনতা ঘোষণা করত। |
| ৩. মুহাম্মদ বিন তুগলকের ভ্রান্ত নীতি | রাজধানী স্থানান্তর ও প্রতীকী তাম্রমুদ্রা প্রবর্তনের মতো অপরিপক্ব পরিকল্পনা রাজকোষ শূন্য করে এবং জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টি করে। |
| ৪. ফিরোজ তুগলকের সামরিক শিথিলতা | সেনাবাহিনীতে জায়গীর প্রথা ও বংশানুক্রমিক নিয়োগ চালু করায় যুদ্ধের দক্ষতা ধ্বংস হয়ে যায়। ক্রীতদাসদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ সালতানাতকে পঙ্গু করে। |
| ৫. তৈমুর লং-এর বিধ্বংসী আক্রমণ (১৩৯৮ খ্রি.) | তৈমুরের দিল্লি ধ্বংস ও গণহত্যার ফলে সালতানাতের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে এবং রাজনৈতিক মানচিত্র টুকরো টুকরো হয়ে যায়। |
| ৬. আমির-ওমরাহদের ষড়যন্ত্র ও দলীয় কোন্দল | তুর্কি, তাজিক, আফগান ও ভারতীয় মুসলিম অভিজাতদের পারস্পরিক হিংসা ও স্বার্থান্ধ দলাদলি রাষ্ট্রীয় ঐক্য ধ্বংস করে। |
| ৭. ইব্রাহিম লোদীর একগুঁয়েমি ও বাবরের আগমন | লোদী বংশের শেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীর উদ্ধত আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে দৌলত খান লোদী ও রানা সঙ্গ কাবুলের শাসক বাবরকে ভারত আক্রমণের আমন্ত্রণ জানান। |
২. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬ খ্রি.) ও চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি:
বাবরের উন্নত কামান, রুমি কৌশল (তুলঘুমা) এবং সুদক্ষ অশ্বারোহী বাহিনীর সামনে ইব্রাহিম লোদীর বিশাল কিন্তু বিশৃঙ্খল হস্তীবাহিনী পর্যুদস্ত হয়। ইব্রাহিম লোদী যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন এবং ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন ঘটে।
উপসংহার:
দিল্লি সালতানাতের পতন কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল না; শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ক্লান্তি, সামরিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবই এই পতনের কারণ হিসেবে কাজ করেছিল।
৬। শাসক ও বিজেতা হিসেবে বাবরের কৃতিত্ব বিচার কর।
[Assess the achievements of Babur as a ruler and conqueror.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
জহিরুদ্দীন মুহাম্মদ বাবর (১৪৮৩-১৫৩০ খ্রি.) ছিলেন মধ্যযুগীয় প্রাচ্যের অন্যতম রোমাঞ্চকর ব্যক্তিত্ব, রণকুশলী সমরনায়ক এবং ভারতবর্ষে মহান মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। পিতৃসূত্রে তিনি ছিলেন দুর্ধর্ষ দিগ্বিজয়ী তৈমুর লং-এর এবং মাতৃসূত্রে রক্তপিপাসু চেঙ্গিস খানের সরাসরি বংশধর। মধ্য এশিয়ার ফারগানার এক ক্ষুদ্র শাসক থেকে শুরু করে চরম প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ভারতবর্ষে এক নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা বাবরের অনন্য সামরিক মেধার সাক্ষ্য বহন করে।
১. প্রারম্ভিক জীবন ও ভারতে আগমনের পটভূমি:
মাত্র এগারো বছর বয়সে ফারগানার সিংহাসনে আরোহণ করেন। সমরকন্দ দখলের ব্যর্থ চেষ্টা এবং স্বদেশ হারিয়ে তিনি যাযাবরে পরিণত হন। ১৫০৪ সালে তিনি কাবুল দখল করেন। এরপর দৌলত খান লোদী ও রানা সঙ্গের আমন্ত্রণ এবং নিজের পূর্বপুরুষ তৈমুরের বিজিত হিন্দুস্তান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে তিনি ভারত অভিযানে অগ্রসর হন।
২. বিজেতা হিসেবে বাবরের যুগান্তকারী চারটি যুদ্ধ:
| যুদ্ধের নাম ও সন | প্রতিপক্ষ শক্তি | যুদ্ধের ফলাফল ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য |
|---|---|---|
| ১. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬ খ্রি.) | দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদী (১ লাখ সেনা ও ১০০০ হাতি) | বাবরের মাত্র ১২,০০০ সেনা ‘তুলঘুমা রণকৌশল’ ও আগ্নেয়াস্ত্র (কামান)-এর সাহায্যে লোদী বাহিনীকে ধ্বংস করে। দিল্লি সালতানাতের সমাপ্তি ও মুঘল শাসনের সূচনা। |
| ২. খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭ খ্রি.) | মেওয়ারের বীর রাজপুত রানা সঙ্গ ও রাজপুত জোট | ভারতের মাটিতে মুঘল অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। বাবর মদের পেয়ালা ভেঙে ‘জিহাদ’-এর ডাক দেন এবং রাজপুতদের চূর্ণ করে ‘গাজী’ উপাধি নেন। |
| ৩. চান্দেরীর যুদ্ধ (১৫২৮ খ্রি.) | রাজপুত সর্দার মেদিনী রায় | মালব অঞ্চলের শক্তিশালী চান্দেরী দুর্গ অধিকার করে মধ্য ভারতে মুঘল আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। |
| ৪. ঘর্ঘরার যুদ্ধ (১৫২৯ খ্রি.) | বাংলা ও বিহারের আফগান প্রধানদের সম্মিলিত জোট | গঙ্গার তীরে আফগান শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করে সিন্ধু থেকে বিহার পর্যন্ত সাম্রাজ্য সুরক্ষিত করেন। |
৩. শাসক, সাহিত্যিক ও মানবপ্রেমিক হিসেবে বাবর:
– তুজুক-ই-বাবরী (বাবরনামা): তুর্কি ভাষায় রচিত তাঁর আত্মজীবনী বিশ্বসাহিত্যের এক অনুপম ক্লাসিক, যেখানে ভারতের প্রকৃতি, ফলমূল ও সংস্কৃতি অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে বর্ণিত হয়েছে।
– বাগ-বাগিচা ও রুচিবোধ: কাবুলি বাগ এবং আগ্রায় জ্যামিতিক নকশার চারবাগ পদ্ধতির উদ্যান নির্মাণ করেন।
– পুত্রের জন্য আত্মত্যাগ: জ্যেষ্ঠ পুত্র হুমায়ুনের দুরারোগ্য ব্যাধির সময় নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের আরোগ্য কামনায় তাঁর ঐতিহাসিক প্রার্থনা বাবরের পরম পিতৃস্নেহের উজ্জ্বল নিদর্শন।
উপসংহার:
বাবর ভারতে স্থায়ী প্রশাসন গড়ে তোলার পর্যাপ্ত সময় পাননি; কিন্তু তিনি যে সাম্রাজ্যের বীজ রোপণ করেছিলেন, তা পরবর্তীতে আকবর ও শাহজাহানের হাতে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ঐশ্বর্যময় সাম্রাজ্যে রূপ লাভ করেছিল।
৭। মুঘল রাজনীতিতে নূরজাহানের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
[Evaluate the role of Nur Jahan in Mughal politics.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সম্রাজ্ঞী নূরজাহান (মেহেরুন্নিসা – ১৫৭৭-১৬৪৫ খ্রি.) ছিলেন সর্বাধিক প্রভাবশালী, বুদ্ধিমতী ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থানকারী মহীয়সী নারী। সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালের শেষ ষোলো বছর (১৬১১-১৬২৭ খ্রি.) মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত শাসনক্ষমতা কার্যত নূরজাহানের হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। তাঁর অসাধারণ সৌন্দর্য, প্রশাসনিক মেধা, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং শিল্পরুচি তাঁকে মধ্যযুগের ভারতের সবচেয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
১. প্রাথমিক জীবন ও বিয়ে:
পারস্য থেকে আগত অভিজাত মির্জা গিয়াস বেগের কন্যা ছিলেন মেহেরুন্নিসা। প্রথম স্বামী শের আফগানের মৃত্যুর পর ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর প্রেমে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিবাহ করেন এবং প্রথমে ‘নূর মহল’ (প্রাসাদের জ্যোতি) ও পরে ‘নূরজাহান’ (জগতের জ্যোতি) উপাধিতে ভূষিত করেন।
২. মুঘল রাজনীতিতে নূরজাহানের ভূমিকা ও প্রভাবের ক্ষেত্রসমূহ:
| প্রভাবের ক্ষেত্র | সুনির্দিষ্ট রূপ ও ঐতিহাসিক নজির |
|---|---|
| ১. নূরজাহান জান্তা বা কোটারি (Junta) গঠন | ১৬১১ থেকে ১৬২২ সাল পর্যন্ত নূরজাহান তাঁর পিতা ইতিমাদুদ্দৌলা (মির্জা গিয়াস বেগ), ভাই আসিফ খান এবং যুবরাজ খুররম (শাহজাহান)-কে নিয়ে এক শক্তিশালী দল গড়ে তোলেন, যা মুঘল দরবারের সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করত। |
| ২. সার্বভৌম ক্ষমতার প্রত্যক্ষ চর্চা | সম্রাট জাহাঙ্গীরের শারীরিক অসুস্থতা ও সুরাসক্তির সুযোগে নূরজাহান ঝরোকা দর্শন দিতেন, রাজকীয় ফরমান জারি করতেন এবং তাঁর নিজস্ব সিলমোহর ব্যবহৃত হতো। এমনকি মুঘল মুদ্রায় সম্রাটের নামের সাথে নূরজাহানের নামও খোদাই করা হয়েছিল। |
| ৩. সেনাপতি মহাব্বত খানের বন্দিত্ব থেকে উদ্ধার | ১৬২৬ সালে সেনাপতি মহাব্বত খান সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বন্দি করলে নূরজাহান হাতির পিঠে চড়ে স্বশরীরে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং কূটকৌশলে স্বামীকে মুক্ত করেন। |
| ৪. শিল্প ও সংস্কৃতির উৎকর্ষ | আগ্রায় পিতা ইতিমাদুদ্দৌলার অপূর্ব শ্বেতপাথরের সমাধি নির্মাণ করেন (যা পরবর্তীতে তাজমহলের নকশার অনুপ্রেরণা ছিল), আতর ও নতুন পোশাকের নকশা উদ্ভাবন করেন। |
৩. নূরজাহানের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার নেতিবাচক দিক:
নিজের জামাতা শাহরিয়ারকে সিংহাসনে বসানোর অন্ধ মোহে তিনি যোগ্যতম যুবরাজ খুররম (শাহজাহান)-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং সেনাপতি মহাব্বত খানকে বিদ্রোহী হতে বাধ্য করেন। এর ফলে সাম্রাজ্যের শেষ বছরগুলোতে চরম গৃহযুদ্ধ ও রক্তপাত ঘটে।
উপসংহার:
১৬২৭ সালে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর নূরজাহান রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং লাহোরে নির্বাসিত জীবন যাপন করেন। কিছু রাজনৈতিক ভুলভ্রান্তি সত্ত্বেও মুঘল ইতিহাসের পুরুষতান্ত্রিক দরবারে নূরজাহানের মতো তেজস্বী ও বিদুষী নারী ব্যক্তিত্ব এক কালজয়ী ব্যতিক্রম।
৮। মুঘল সাম্রাজ্যের সংহতি বিধানে সম্রাট আকবরের নীতিসমূহ ব্যাখ্যা কর।
[Explain the policies of Emperor Akbar in consolidating the Mughal Empire.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
জালালুদ্দীন মুহাম্মদ আকবর (১৫৫৬-১৬০৫ খ্রি.) কেবল মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানাই বিস্তার করেননি; বরং তিনি একটি ভঙ্গুর সামরিক বিজয়কে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সুদৃঢ়, সুসংহত ও বহুত্ববাদী আমলাতান্ত্রিক সাম্রাজ্যে রূপান্তর করেছিলেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে বৈরাম খানের অভিভাবকত্বে সিংহাসনে বসে পরবর্তী অর্ধ শতাব্দী ধরে তিনি যে সর্বজনীন সমঝোতা, প্রশাসনিক সংস্কার ও ধর্মীয় উদারতার নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তার ফলেই মুঘল সাম্রাজ্য শত শত বছর টিকে থাকার সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করেছিল।
১. সাম্রাজ্যের সংহতি বিধানে আকবরের গৃহিত বহুমুখী নীতিসমূহ:
| নীতির ক্ষেত্র | গৃহীত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য |
|---|---|
| ১. রাজপুত নীতি (মৈত্রী ও বৈবাহিক সম্পর্ক) | যুদ্ধ করে রাজপুতদের দমন করার চেয়ে তাদের সাথে সম্মানজনক বন্ধুত্ব করেন। অম্বরের রাজা ভারমালের কন্যা যোধাবাঈকে বিবাহ করেন এবং রাজা ভগবান দাস ও মানসিংহকে সর্বোচ্চ সামরিক সেনাপতি পদে আসীন করেন। |
| ২. মনসবদারী প্রথা প্রবর্তন (১৫৭৭ খ্রি.) | সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনকে মনসব (পদমর্যাদা) ও জাট-সাওয়ার পদ্ধতির সুশৃঙ্খল কাঠামোর অধীনে এনে সাম্রাজ্যের অভিজাতদের খোদ সম্রাটের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। |
| ৩. রাজস্ব সংস্কার (আইন-ই-দহশালা ও টোডরমল) | রাজস্ব সচিব রাজা টোডরমলের সহায়তায় সমগ্র সাম্রাজ্যের জমি জরিপ করে বিগত দশ বছরের গড় উৎপাদনের ওপর এক-তৃতীয়াংশ ন্যায্য খাজনা নির্ধারণ করেন। |
| ৪. সাম্রাজ্যের প্রদেশায়ন (সুবা শাসন) | সমগ্র সাম্রাজ্যকে ১৫টি সুবায় বিভক্ত করে সুবাদার, দিওয়ান, বখশী ও কোতোয়ালের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সুদৃঢ় প্রশাসনিক চেইন নিশ্চিত করেন। |
| ৫. সুলহ-ই-কুল বা সর্বজনীন সহনশীলতা | জিজিয়া কর ও তীর্থকর রহিত করেন। সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উপাসনার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে ভারতীয় হিন্দুদের আস্থা অর্জন করেন। |
২. দীন-ই-ইলাহী ও তার রাজনৈতিক মূল্যায়ন:
আকবর বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তু নিয়ে ‘তৌহিদ-ই-ইলাহী’ বা ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামে এক সমন্বয়বাদী নীতি চালু করেছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে এটি কোনো সফল ধর্ম ছিল না এবং এর অনুসারী ছিল মাত্র আঠারো জন; কিন্তু এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম ও অমুসলিম প্রজাদের মধ্যে সম্রাটকে পরম শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা।
উপসংহার:
আকবরের দূরদর্শী নীতিমালার ফলেই মুঘল সাম্রাজ্য একটি বিদেশি আক্রমণকারী শক্তি থেকে ভারতের জাতীয় ও মাটিঘেঁষা সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত হয়েছিল। এ কারণেই ঐতিহাসিকগণ তাঁকে ‘আকবর দ্য গ্রেট’ হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
৯। সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার সংগ্রামের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
[Give a brief account of the war of succession among the sons of Emperor Shah Jahan.]
[মান: ২০]
ভূমিকা:
১৬৫৭-১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহানের আকস্মিক গুরুতর অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে তাঁর চার পুত্রের মধ্যে সংঘটিত সিংহাসনের লড়াই মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ ও রক্তক্ষয়ী উত্তরাধিকার সংগ্রাম। মুঘলদের কোনো নির্দিষ্ট উত্তরাধিকার আইন না থাকায় “তখত ইয়া তখতা” (হয় সিংহাসন, নয় শবাধার)—এই নির্মম নীতির বাস্তবায়ন ঘটেছিল এই যুদ্ধে। একদিকে সম্রাটের প্রিয় জ্যেষ্ঠ পুত্র বহুত্ববাদী চিন্তার দারাশিকোহ এবং অন্যদিকে কঠোর রণকুশলী ও ধার্মিক আওরঙ্গজেবের মধ্যকার আদর্শিক ও সামরিক সংঘাত ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ চিরতরে বদলে দিয়েছিল।
১. চার পুত্রের চরিত্র ও অবস্থান:
– দারাশিকোহ: জ্যেষ্ঠ পুত্র ও শাহজাহানের মনোনীত যুবরাজ। উপনিষদ ও ইসলামি তাসাউফের সমন্বয়ক এবং উদার দার্শনিক মনোভাবাপন্ন; কিন্তু রণকৌশলে অনভিজ্ঞ ও অহংকারী।
– শাহ শুজা: দ্বিতীয় পুত্র, বাংলার সুবাদার। বিলাসপ্রিয় ও আরামপ্রিয়।
– আওরঙ্গজেব: তৃতীয় পুত্র, দাক্ষিণাত্যের সুবাদার। গভীর ধার্মিক, কূটনীতিতে সিদ্ধহস্ত, কঠোর সেনাপতি ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।
– মুরাদ বখশ: কনিষ্ঠ পুত্র, গুজরাটের সুবাদার। সাহসী কিন্তু অপরিণামদর্শী ও সরলমনা।
২. উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রধান যুদ্ধসমূহ:
| যুদ্ধের নাম ও সন | প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ | যুদ্ধের ফলাফল ও ঐতিহাসিক পরিণতি |
|---|---|---|
| ১. বাহাদুরপুরের যুদ্ধ (১৬৫৮ খ্রি.) | দারাশিকোহর পুত্র সুলাইমান শিকোহ বনাম শাহ শুজা | কাশীর নিকট শুজার পরাজয় ঘটে এবং তিনি বাংলায় পিছু হটতে বাধ্য হন। |
| ২. ধর্মতের যুদ্ধ (১৬৫৮ খ্রি.) | আওরঙ্গজেব ও মুরাদের যৌথ বাহিনী বনাম যশবন্ত সিং ও কাসিম খান (দারার বাহিনী) | উজ্জয়িনীর নিকট রাজকীয় বাহিনীর শোচনীয় পরাজয়। আওরঙ্গজেব আগ্রার দিকে অগ্রসর হন। |
| ৩. সামুগড়ের যুদ্ধ (১৬৫৮ খ্রি.) | আওরঙ্গজেব বনাম দারাশিকোহ | উত্তরাধিকার যুদ্ধের চূড়ান্ত ও ভাগ্যনির্ধারক যুদ্ধ। দারার চরম ভুল সিদ্ধান্তে ৫০,০০০ সেনা পরাস্ত হয়। দারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেন। |
| ৪. খাযওয়ার যুদ্ধ (১৬৫৯ খ্রি.) | আওরঙ্গজেব বনাম শাহ শুজা | এলাহাবাদের নিকট শুজার চূড়ান্ত পরাজয়। পরে শুজা আরাকানে পালিয়ে যান এবং সেখানে নিহত হন। |
৩. আওরঙ্গজেবের বিজয় ও শাহজাহানের বন্দিত্ব:
আগ্রা দুর্গ অবরোধ করে শাহজাহানের জল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে আওরঙ্গজেব পিতাকে দুর্গের মধ্যে বন্দি করেন। দারাকে গ্রেফতার করে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং মুরাদ বখশকে গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৬৫৮ সালের ২১ জুলাই আওরঙ্গজেব ‘আলমগীর’ উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
উপসংহার:
শাহজাহানের পুত্রদের এই যুদ্ধ প্রমাণ করে যে মুঘল দরবারে ভ্রাতৃত্বের চেয়ে ক্ষমতার মোহ ছিল বহুগুণ তীব্র। আওরঙ্গজেবের ব্যক্তিগত সামরিক মেধার কারণেই তিনি সমস্ত বাধা চূর্ণ করে ভারতের নিরঙ্কুশ বাদশাহ হতে পেরেছিলেন।
১০। টীকা লেখ (যে কোনো দুটি) : (ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (খ) নবরত্ন (গ) তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ (ঘ) আওরঙ্গজেব
[Write short notes on any two of the following: (a) First Battle of Panipat; (b) Navaratna; (c) Second Battle of Tarain; (d) Aurangzeb]
[মান: ২০]
(ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬ খ্রি.):
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল হরিয়ানার ঐতিহাসিক পানিপথ প্রান্তরে মোঘল প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর এবং দিল্লির লোদি সুলতান ইব্রাহিম লোদির মধ্যে এক চূড়ান্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বাবর মাত্র বারো হাজার অভিজ্ঞ যোদ্ধা নিয়ে ভারতের মাটিতে প্রথম কামানের কার্যকর ব্যবহার এবং ঐতিহ্যবাহী অটোমান ‘রুমি রণপদ্ধতি’ প্রয়োগ করেন। ইব্রাহিম লোদির বিশাল হস্তিবাহিনী বাবরের কামানের গর্জনে ভীত হয়ে নিজেদের সৈন্যদেরই পদদলিত করে। লোদির পরাজয় ও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দিল্লি সালতানাতের সমাপ্তি ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের পরাক্রমশালী যুগের অভ্যুদয় হয়।
(খ) সম্রাট আকবরের নবরত্ন:
তৃতীয় মুঘল সম্রাট জালালুদ্দীন মুহাম্মদ আকবরের রাজদরবার ছিল জ্ঞানের এক মিলনমেলা। তাঁর দরবারে নয়জন সর্বশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, সাহিত্যিক, সেনাপতি ও সংগীতজ্ঞের সমাবেশ ঘটেছিল, যাঁদের ‘নবরত্ন’ বা নয়টি রত্ন বলা হতো। এঁদের মধ্যে আবুল ফজল ছিলেন প্রধান চিন্তাবিদ ও আকবরের মতাদর্শের রূপকার; ফৈজী ছিলেন ধ্রুপদী সাহিত্যের কবি; তানসেন ছিলেন ভারতীয় সংগীতের অমর সুরস্রষ্টা; রাজা বীরবল উপস্থিত বুদ্ধি ও রসবোধের প্রতীক; রাজা টোডরমল ছিলেন সুদূরপ্রসারী ভূমি ও রাজস্ব ব্যবস্থার জনক; এবং রাজা মানসিংহ ছিলেন বিশ্বস্ত প্রধান সেনাপতি। এই নয়জন মহামনীষীর সক্রিয় সহযোগিতায় আকবর এক ধর্মনিরপেক্ষ, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী ভারতীয় সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
(গ) তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রি.):
১১৯২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের হরিয়ানার তরাইন প্রান্তরে ঘূরী সাম্রাজ্যের শাসক মুইজুদ্দীন মুহাম্মদ বিন সাম (মুহাম্মদ ঘূরী) এবং রাজপুত নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহানের মধ্যে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর ঠিক এক বছর পূর্বে (১১৯১ খ্রি.) তরাইনের প্রথম যুদ্ধে ঘূরী পৃথ্বীরাজের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু এক বছরের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ঘূরী ১,২০,০০০ দক্ষ অশ্বারোহী তীরন্দাজ বাহিনী সহকারে আক্রমণ চালান। প্রচণ্ড যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহান পরাজিত ও বন্দি হন। ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথের মতে, তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল ভারতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ণায়ক যুদ্ধ, যা ভারতে রাজপুত শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এবং স্থায়ী মুসলিম শাসনের রাজতোরণ উন্মুক্ত করে দেয়।
(ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর (১৬৫৮-১৭০৭ খ্রি.):
মুঘল সাম্রাজ্যের ষষ্ঠ ও শেষ শক্তিশালী সম্রাট ছিলেন মহিউদ্দীন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, চরিত্রবান ও ধর্মপরায়ণ, যার কারণে সমকালীন মুসলমানরা তাঁকে ‘জিন্দাপীর’ বা জীবন্ত সুফি সাধক বলে অভিহিত করত। তিনি রাজকোষ থেকে ব্যক্তিগত খরচ নিতেন না, বরং নিজের হাতে কুরআন নকল ও টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি অর্ধশতাব্দী ধরে শাসন করেন এবং উত্তর-পূর্ব ভারত (আসাম) থেকে শুরু করে সমগ্র দাক্ষিণাত্য (বিজাপুর ও গোলকুণ্ডা) জয় করে মুঘল সাম্রাজ্যকে তার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ভৌগোলিক সীমায় বিস্তৃত করেন। হানাফি ফিকহের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য বিশ্বকোষ ‘ফতোয়া-ই-আলমগীরী’ তাঁরই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংকলিত হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দীন আইবেককে কী উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
তাঁর প্রবাদপ্রতিম বদান্যতার জন্য তাঁকে ‘লাখবখশ’ (লক্ষদাতা) বলা হতো।
সুলতান আলাউদ্দীন খলজির বিশ্বস্ত সেনাপতি কে ছিলেন যিনি দক্ষিণ ভারত জয় করেন?
মালিক কাফুর (হাজার দিনারি)।
বাবরের আত্মজীবনীর নাম কী?
তুজুক-ই-বাবরী বা বাবরনামা (তুর্কি ভাষায় রচিত)।
শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে সামুগড়ের যুদ্ধ কত সালে হয়?
১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে দারাশিকোহ ও আওরঙ্গজেবের মধ্যে।
টোডরমল কোন মুঘল সম্রাটের অর্থমন্ত্রী ছিলেন?
সম্রাট আকবরের রাজস্ব সংস্কারক ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন।
দিল্লি সালতানাতের পতনে পানিপথের যুদ্ধে কোন নতুন অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছিল?
বাবর কর্তৃক কামানের (আগ্নেয়াস্ত্র) কার্যকর ব্যবহার।

